All rights reserved.]{ মূল্য—আ-

. অষ্টম খণ্ড।

মহদারণ্যকোপনিষদ্

( প্রথম ভাগ)

মহামহোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত দুর্গাচরণ সাংখ্য-বেদান্ত-তী’ কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত।

। দ্বিতীয় সংস্করণ

প্রকাশক

শ্রীকীরোদচন্দ্র মজুমদার।

২১১, শাঁখাপুকুর লেন, কলিকাতা।

নম্বর ১৩৩৯ সাল।

ওম্ তৎ সৎ ব্রহ্মণে নমঃ। গুরু-যজুর্ব্বেদীয়- বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

আনন্দগিরিকৃত-টীকোপেত-শাঙ্করভাষ্যসমতা।

অথ শান্তিপাটঃ— ঔম্, পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পর্ণাৎ পূর্ণমুদ্যতে। পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ॥ ওম শান্তি, শান্তি, শান্তি ॥

ಅಕ್ಕರೆಯಿಂದ

অথ ভাষ্যভূমিকা। ওম নমো ব্রহ্মাদিত্যো ব্রহ্মবিদ্যাসম্প্রদানকভ্যো ন শশাবিভাং, নমো গুরুভ্যঃ।

অথ আনন্দগিরিকতা টীকা।

যদবিদ্যাবশাদ্বিশ্ব দৃশ্যতে রশনাহিবৎ। যদ্বিদ্যযা চ তদ্ধানিস্তং বন্দে পুরুষোত্তমম্ ॥ ১ নমস্বযান্তসন্দোহ সবসীরুহভানবে। গুববে পরপক্ষৌঘধ্বান্ত-ধ্বংসপটীযসে ॥ ২

অগবর্গপাদ-পাদাবয়বং ধন্বনিবর্দ্ধনম্। সুরবর্গবাদিসমভূজৈর্ব্বলং তস্মাৎকং॥ ৩

কৃষ্ণদাসঃ কহে তস্য নিরূপণমিতি সিদ্ধে। সুবোধবোলিমা॥ তা নিরূপণার্থসিদ্ধিঃ॥ ৪

কাণোপনিষদ্বিবরণব্যাজেন অশেষামের উপনিষদং শোধযিতুকামো ভগবান্ ভাষ্যকারো বিঘ্নোপশমাদিসমর্থং শিষ্টাচার প্রমাণকং পবাপরগুকনমস্বাবরূপ’ মঙ্গলমাচবতি-নমো ব্রহ্মাদিভ্য ইতি। বেদো হিরণ্যগর্ভো বা ব্রহ্ম, তন্নমঙ্কারেণ সর্ব্ব’ দেবতা নমস্কৃতা ভবন্তি, ‘তদর্থদ্বাৎ তদাত্মকত্বাচ্চ, “এব উ হ্যেব সর্ব্বে দেবাঃ” ইতি শ্রুতেঃ। আদিপদেন পরমেত্তিপ্রভৃতয়ো গৃহ্যন্তে। যদ্যপি তেষামুক্তো ব্রহ্মান্তর্ভাবঃ, তথাপি তেষু অনানন্তরনিবাসার্থং পৃথগগহণম্।

২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বংশব্রাহ্মণৎ প্রমাণয়তি—বংশঋষিভ্য ইতি। যদ্যপি তত্র পৌতিমায়্যাদয়ো ব্রহ্মান্তাঃ সম্প্রদায়- কর্তারঃ ক্রয়ন্তে, তথাপি গুরুশিষ্যক্রমেণ ব্রহ্মণঃ প্রাথম্যমিতি তদাদিত্বমিতিভাবঃ। সম্প্রতি অপরগুরুন্ নমস্করোতি—নমো গুরুভ্য ইতি। যদ্যপি ব্রহ্মবিদ্যাসম্প্রদায়কত্রস্তর্ভাবাৎ এতে প্রাগেব নমস্কৃতাঃ, তথাপি-শিষ্যাণাং গুরুবিষয়াদরাতিরেককাৰ্য্যার্থং পৃথগ্‌গুরুনমস্করণম্, “যস্য দেবে পরা ভক্তিঃ” ইত্যাদিশ্রুতেরিতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

ব্রহ্মবিদ্যাসম্প্রদায়প্রবর্ত্তক ব্রহ্মাদি বংশঋষিগণের উদ্দেশে নমস্কার এবং [শিক্ষাদাতা] গুরুগণের উদ্দেশে নমস্কার। ১।

ভাষ্যভূমিকা।

“উষা বা অশ্বস্থ্য” ইত্যেবমাদ্যা: বাজসনেয়িব্রাহ্মণোপনিষৎ। তস্যা ইয়মল্লগ্রন্থা বৃত্তিরারভ্যতে সংসার-ব্যাবিবংসুতাঃ সংসারহেতু-নিবৃত্তিসাধন-ব্রহ্মাত্মৈকত্ব- * বিদ্যা প্রতিপত্তয়ে।

টাকা। যদুদ্দিশ্য মঙ্গলমাচরিত, তৎ প্রতিজ্ঞাতু: প্রতীকমাদত্তে-উষা বা ইতি। এতেন চিকীষিতায়া বৃত্তেঃ ভর্তৃপ্রপঞ্চভাষ্যেণাগতার্থত্বমুক্তম্। তদ্ধি “দ্বয়াহ” ইত্যাদিমাধান্দিনশ্রুতিম অধিকৃত্য প্রবৃত্তম্, ইয় পুনঃ ‘উষা বা অশ্বস্য’ ইত্যাদিকাণুশ্রুতিমাশ্রিতোতি। অথ উদ্দেশ্য •নির্দিশতি-তস্যা ইতি। ভর্তৃপ্রপঞ্চভাষ্যাদ্ বিশেষান্তরমাহ-অল্পগ্রন্থেতি। অস্যা গ্রন্থতঃ অল্পত্বেহপি নার্থতঃ তথাহমিতি গ্রন্থস্য গ্রহণম্। বৃত্তিশব্দো ভাষ্যবিষয়ঃ। সূত্রানুকারিভির্ব্বাকৈঃ সূত্রার্থস্থ্য স্বপদানাং চ উপবর্ণনস্থ্য ভাষ্যলক্ষণস্তাত্র ভাবাদিতি। ননু কর্মকাণ্ডাধিকারিণো বিলক্ষণঃ অধিকারী ন জ্ঞানকাণ্ডে সম্ভবতি, অর্থিত্বাদেঃ সাধারণত্বাদ, বৈরাগ্যাদেশ দুর্বচনত্বাৎ। ন চ নিরধিকারং শাস্ত্রমারম্ভমহতি, ইত্যত আহ-সংসারেতি। কর্ম্মকাণ্ডে হি স্বর্গাদিকামঃ সংসারপরবশো নরপশুরধিকারী, ইহ তু সংসারাদ ব্যাবৃত্তিমিচ্ছবো বিরক্তাঃ। ন চ বৈরাগ্যং দুর্ব্বচং, শুদ্ধবুদ্ধের্বিবেকিনো ব্রহ্মলোকান্তে সংসারে তৎসম্ভবাৎ। উক্তং হি-

“শোষমানঃ তু তচ্চিত্তমীষরাপি তকর্ষতিঃ।

বৈরাগ্যং ব্রহ্মলোকাদ্ বনবাসোঽপি সুনিৰ্ম্মলম্।” ইতি।

(১) তাৎপর্য্য—এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দে বেদ বা হিরণ্যগর্ভ বুঝিতে হইবে; কারণ, প্রকৃত পক্ষে বেদই প্রথমে ব্রহ্মবিদ্যা প্রকাশ করিয়াছেন, পরে হিরণ্যগর্ভ তাহার প্রচার করিয়াছেন মাত্র; সুতরাং উভয়কেই ব্রহ্মবিদ্যাপ্রবর্ত্তক বলা যাইতে পারে। এই উপনিষদে ‘বংশব্রাহ্মণ’ নামে কয়েকটি অংশ আছে; তাহাতে ব্রহ্মবিদ্যাপ্রচারক আচার্য্যগণের নাম পারস্পর্য্য ক্রমে লিখিত আছে, অর্থাৎ পর পর যে যে আচার্যের উপদেশক্রমে জগতে ব্রহ্মবিদ্যা প্রচারিত হইয়া- ছিল, তাহার বিবরণ ঐ সমস্ত বংশব্রাহ্মণে প্রভূত হইয়াছে। সেই বংশব্রাহ্মণোক্ত আচার্য্যগণকেই এখানে ‘বংশ-ঋষি’ সংজ্ঞায় অভিহিত করা হইয়াছে।

ভাষ্যভূমিকা। ৩

অতো যথোক্তবিশিষ্টাধিকারিভ্যো বৃত্তেরারম্ভঃ সম্ভবতীত্যর্থঃ। তথাপি বিষয়-প্রয়োজন- সম্বন্ধানাম্ অভাবে কথং বৃত্তিরারভাতে, তত্রাহ-সংসারহেত্বিতি। প্রমাতৃতাপ্রমুখঃ কর্তৃ- ত্বাদিরনর্থ: সংসারঃ, তস্য হেতুঃ আত্মাবিদ্যা, তন্নিবৃত্তেঃ সাধনং ব্রহ্মাত্মেকত্ববিদ্যা, তস্যাঃ প্রতি- পত্তিঃ অপ্রতিবন্ধায়াঃ প্রাপ্তিঃ, তদর্থং বৃত্তিঃ আরভ্যত ইতি যোজনা। এতদুক্তং ভবতি- সনিদানানর্থনিবৃত্তিঃ শাস্ত্রস্য প্রয়োজনম্, ব্রহ্মাত্মৈকাবিদ্যা তদুপায়ঃ, তদৈকাং বিষয়ঃ, সম্বন্ধো জ্ঞানফলয়োঃ উপায়োপেয়ত্বম্, শাস্ত্র-তদ্বিষয়য়োঃ বিষয়-বিষয়িত্ব; হদারভ্যং শাস্ত্রমিতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

বাজসনেরি-ব্রাহ্মণে(১) “উষা বা অশ্বস্থ্য মেধ্যস্থ্য শিরঃ” ইত্যাদি উপনিষদ্ভাগ আরব্ধ হইয়াছে। যাহারা সংসারের হেতুভূত অবিদ্যানিবৃত্তির অতিলাষী; তাহাদের জন্য, সংসারের কারণীভূত অবিদ্যানিবৃত্তির উপায় ব্রহ্মাত্মৈকত্ববিদ্যা লাভের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ ব্রহ্ম ও আত্মা একই বস্তু, এইরূপ তত্ত্বজ্ঞান সমুৎপাদনের জন্য সেই উপনিষদের এই ক্ষুদ্রাবয়ব ব্যাখ্যা-গ্রন্থ বিরচিত হইতেছে।

ভাষ্যভূমিকা।

সের ব্রহ্মবিদ্যা উপনিষচ্ছব্দবাচ্যা, তৎপরাণা সহেতোঃ সংসারস্যাত্যুন্তা- বসাদনাং। উপ-নি-পূর্ব্বস্থ্য সদেন্তদর্থত্বাৎ, তাদর্থ্যাদ গ্রন্থোতপি উপনিষদুচ্যতে।

সেয়া গড়ধায়ী অরণ্যে অনুচ্যাননত্বাৎ আরণ্যকম্; নহত্বাৎ পরিমাণতো বৃহদারণ্যকম্। তস্যাস্য কর্ম্মকাণ্ডেন সম্বন্ধোহভিধীয়তে—

টীকা। প্রয়োগনাদিপ্রবৃত্তাঙ্গতয়া, উটৈকপিঃ সর্ব্বব্যাপারো, প্রয়োজনার্থত্বাৎ তস্য প্রাধান্যম্। উক্তং হি—

“সর্ব্বেষু হি শাশ্বত কস্মত্তো বাপি কস্মাৎ।

যাবৎ প্রয়াগবঃ নোক্তং তদ্বৎ তং কেন গৃহ্যতে। ইতি॥

তথাচ শাস্ত্রারম্ভৌপয়িকং প্রয়োজনমেব নামব্যুৎপাদনদ্বারা ব্যুৎপাদয়তি-সেয়মিতি। অধ্যাত্মশাস্তেষু প্রসিদ্ধা সন্নিহিতা চাত্র ব্রহ্মাত্মৈক্যবিদ্যা, তন্নিষ্ঠানা” সর্ব্বকৰ্ম্মসন্ন্যাসিনাং সনিদানস্থ্য সংসারস্য অত্যন্তনাশকত্বাৎ-ভবতি উপনিষচ্ছন্দ-বাচা! “উপনিষদং ভো ক্রহি” ইত্যাদ্যা চ শ্রুতিঃ। তস্মাৎ উপনিষচ্ছন্দবাচ্যত্বপ্রসিদ্ধেঃ, বিদ্যায়া, ততো যথোক্তফলসিদ্ধি- রিতার্থঃ। কথং তস্যাঃ তচ্ছন্দবাচাহ্বেঃপি এতাবানর্থো লভ্যতে, তত্রাহ-উপ-নি-পূর্ব্বস্যেতি। অস্যার্থ:-‘যদ বিশরণগত্যবসাদনেষু ইতি স্মর্য্যতে। সদেধাতোঃ উপ-নি-পূর্ব্বস্য কিবন্তস্য সহেতুসংসারনিবর্ত্তকব্রহ্মবিদ্যার্থত্বাৎ উপনিষচ্ছন্দবাচ্যা সা ভবত্যুক্তফলবতী। উপ-শব্দো হি সামীপ্যমাহ; তচ্চাসতি সঙ্কোচকে প্রতীচি পর্য্যবশ্যতি। নি-শব্দশ্চ নিশ্চয়ার্থঃ, তস্মাৎ ঐকান্ত্যং

(২) তাৎপর্য্য—গুরু যজুর্ব্বেদের অপর নাম ‘বাজসনের’। বাজসনের নাম যে, কেন হইল, তাহা ঈশোপনিষদের ভূমিকায় আমরা বলিয়া দিয়াছি।

৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নিশ্চিতং, তদ্বিদ্যা সহেতুং সংসারং সাদয়তীতি উপনিষদুচ্যতে। উক্তং হি—‘অবসাদনার্থস্ত চাবসাদাৎ’ ইতি। ব্রহ্মবিদ্যৈব চেৎ উপনিষদীয়তে, কথং তহি গ্রন্থে বৃদ্ধাঃ তচ্ছন্দং প্রযুজ্যতে? ন গলু একস্য শব্দস্যানেকার্থত্বং স্যায্যম্? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—তাদর্থ্যাদিতি। গ্রন্থস্য ব্রহ্মবিদ্যা- জনকত্বাদ উপচারাৎ তত্র উপবিৎপদমিত্যর্থঃ।

যথোক্তবিদ্যাজনকয়ে গ্রন্থস্ত কিমিতি তদধ্যেতৃণাং সর্ব্বেষাং বিদ্যা ন ভবতীত্যাশঙ্কা শ্রবণাদিপরাণামেব অরণ্যানুষচনাদি-নিয়মাধীতাক্ষরেতাঃ তজ্জন্ম, ইতি বৃহদারণ্যক- নামনিব্বচনপূর্ব্বকমাহ—সেরমিতি। অথ অরণ্যানুষচনাদি-নিয়মাধী তবেদান্তানামপি কেষাণিং বিদ্যানুপলম্ভাৎ কুতো যথোক্তাক্ষরেতাং তদুৎপত্তিঃ’ ইতত আহ--বৃহদ্বাদিতি। উপনিষদ্স্তুরেভ্যো গ্রন্থপরিমাণাতিরেকাদস্য বৃহত্বং প্রসিদ্ধম্, অর্থতোহপি তদন্তি, বক্ষণঃ অখণ্ডৈকরসস্তাত্র প্রতিপাদ্যবাৎ, তজ্ঞজ্ঞানহেতুনাং চ অন্তরঙ্গবহিরঙ্গাণা ভূয়সামিহ প্রতি পাদনাৎ। অতো বৃহদ্বাৎ আরণ্যকত্বাৎ চ বৃহদারণ্যকম্। ন চ এতৎ অশুদ্ধবুদ্ধেরধী ‘মপি বিদ্যামাদধাতি। “কষায়ে কর্ম্মভিঃ পকে ততো জ্ঞানম্’ ইতি স্মৃতেরিতার্থ। জ্ঞানকাণ্ডস্থ বিশিষ্টাধিকাধ্যাদি-বৈশিষ্ট্যেহপি কল্পকাভেন নিয়তপূর্ব্বাপরভাবানুপপতিলভ্যঃ সম্বন্ধে বক্তব্যঃ। ন চ পরীক্ষকবিপ্রতিপত্তেঃ অশকে। বিশেষতঃ জ্ঞাতুম্, ইত্যাশঙ্ক্যাহ—হংসতি।

ভাষ্যভূমিকামুবাদ।

যাহারা এই ব্রহ্মবিজ্ঞান অনুশলনে তৎপর, তাহাদের সসার জন্মমৃত্যু প্রবাহ ও তৎকারীভূত অবিদ্যার সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদসাধন করে বলিয়া সেই এই ব্রহ্মবিদ্যা উপনিষৎ-শব্দে অভিহিত হইয়া থাকে। কেন না, ‘উপ’ ও ‘নি’ পূর্ব্বক ‘সদ’, উপ-নি+সদ ধাতুর ঐরূপ অর্থই প্রসিদ্ধ। উল্লিখিত প্রয়োজন সিদ্ধির আনুকূল্য করে বলিয়া গ্রন্থও ‘উপনিষৎ’ নামে কথিত হইয়া থাকে।

ছয়টি অধ্যায়ে সম্পূর্ণ সেই এই উপনিষদগণ অরণামধ্যে পঠনীয় বলিয়া আরণ্যক, আর পরিমাণেও সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ বলিয়া ‘বৃহদারণ্যক’ নামে অভিহিত হয়। এখন কর্ম্মকাণ্ডের সহিত ইহার কিরূপ সম্বন্ধ, তাহা বর্ণিত হইতেছে।

ভাষভূমিকা।

সর্বোৎপায়ং বেদঃ প্রত্যক্ষানুমানাত্যাম্ অনবগতেষ্টানিষ্টপ্রাপ্তি-পরিহারোপায়- প্রকাশনপরঃ, সর্ব্বপুরুষাণাং নিসর্গত এব তৎপ্রাপ্তি-পরিহাররোরিষ্টত্বাৎ।

দৃষ্টবিষয়ে চ ইষ্টানিষ্টপ্রাপ্তি-পরিহারোপায়জ্ঞানস্য, প্রত্যক্ষানুধানাভ্যাসের সিদ্ধতাৎ ন আগমায়েরেষণা। ন চ অসতি জন্মান্তর-সমধ্যান্তাত্তিত্ববিজ্ঞানে জন্মান্তরেষ্টানিষ্টপ্রাপ্তি-পরিহারেচ্ছা স্যাৎ; স্বভাবব্যদি-দর্শনাৎ।

ভাষ্যভূমিকা। ৫

ভাষ্যভূমিকা।

তস্মাৎ জঘন্য-সম্বন্ধ্যাত্মাস্তিত্বে জন্মান্তরেষ্টানিষ্টপ্রাপ্তি পরিহারোপায়বিশেষে চ শাস্ত্রঃ প্রবর্ত্ততে;—

“যেয়ং প্রেতে বিচিকিৎসা মনুষ্যে, অন্তীতোকে ন’গমস্তীতি চৈকে” ইত্যুপক্রম্য “অস্তীত্যেবোপলব্ধব্যঃ” ইত্যেবমাদি-নির্ণয়দর্শনাৎ।

“যথা চ মরণ প্রোপা” ইত্যুপক্রম।—

“যোনিমধ্যে প্রপদ্যন্তে শরীরত্বান দেহিনঃ।

স্বাদুমাংশকং গণ্ডূষং বর্দ্ধয়ন্তি বর্দ্ধয়েৎ।।” ইতি চ;

“স্বয় জ্যোতিঃ” ইত্যুপক্রমা “ত বিদ্যা-কৰ্ম্মণী সমনাবভেতে” “পুণ্যো বৈ পুণ্যেন কৰ্ম্মণ’ ভবতি, পাপঃ পাপেন” ইতি চ;

“জপনিরামি” ইত্যুপক্রম্য “বিজ্ঞানময়ঃ” ইতি চ বাতিবৃত্তিসংখ্যায়।

টাকা। প্রতিজ্ঞাতং সম্বন্ধং প্রকটয়িতুম্ অসিদ্ধপ্রমাণভাবানা বেদান্তানাং সম্বন্ধাভিধানা- বসরাভাবাৎ তৎপ্রামাণাং প্রতিপাদ্য পশ্চাৎ তেষাং কল্পকাণ্ডেন সম্বন্ধবিশেষবচনমুচিতম্—ইতি মশ্বানঃ তৎপ্রামাণাং সাধয়তি—সর্ব্বোহ্পীতি। প্রত্যক্ষানুমানাভ্যাম্ হতাগমাতিরিক্ত-প্রমাণোপ- লক্ষণার্থম্। এবঃ অর্থঃ অধ্যয়ন-বিধ্যাপাত্তঃ সর্ব্বোহপি কাণ্ডদ্বয়াত্মকে বেদঃ--মানান্তরামধি- গত’ যদ ইষ্টোপাহাদি, তজ জ্ঞাপনপরঃ; তথাচ অজ্ঞাতজ্ঞাপকত্বাবিশোৎ তুল্যং প্রামাণং কাণ্ডয়োরিতি। অথবা বেদন’ বেদোঽনুভবঃ; স চ শব্দেতরমানযোগ্যঃ, রূপাদিহীনত্বাৎ, “এতদপ্রমেয়ম্” ইতি হি শতিঃ। স চ ইষ্টানিষ্ট-প্রাপ্তিপরিহারোপায়ঃ, তস্যৈব তত্তদাত্মনা- বস্থানাৎ, “সচ্চ তাচ্চাভবৎ” ইত্যাদিশতেঃ। স চ প্রকাশনঃ, সব্বপ্রকাশকত্বাৎ; “তমেব তান্তমনুভাতি সর্ব্বম্” ইতি শ্রুতেঃ। স চ পরঃ, অবিদ্যা-তৎকায্যাতীতত্বাৎ; “বিরজঃ পর আকাশাৎ” ইত্যাদিশতেঃ। এবংরূপো বেদপদ-বেদনীয়ঃ চিদেকবসঃ প্রত্যগধাতুরেব সর্ব্বোহপি কার্য্যকারণাত্মক: প্রপঞ্চঃ, “আত্মৈবেদ’ সর্ব্বম্” ইতি শ্রুতেঃ। তথাচ যথোক্তং বস্তু প্রকাশরস্তো বেদান্তা বিধিবাক্যবৎ প্রমাণমিতি। অথবা প্রত্যক্ষাদিনা অনবণতো যোহসৌ ইষ্টপ্রাপ্তা- ছাপায়ো ব্রহ্মায়া, তস্য প্রকাশনপরঃ সর্ব্বোহপি অয়ং বেদ, তস্যৈব অজ্ঞাতত্বাৎ। তত্র কর্মকাণ্ডং কর্ম্মানুষ্ঠানপ্রযুক্ত বুদ্ধিশুদ্ধিদ্বারা ব্রহ্মাধিগত্যৌ আরাদ্ উপকারকম্, “বিবিদিষন্তি যজ্ঞেন” ইতি শ্রুতেঃ। জ্ঞানকাণ্ডং তু সাক্ষাদেব তত্রোপযুক্তম্, পরমপুরুষস্য ঔপনিষদত্বশবণাৎ, “সর্ব্বে বেদা যৎ পদমামনন্তি” ইতি চ শ্রুতেঃ। তদ যুক্তং কর্ম্মকাণ্ডবৎ জ্ঞানকাণ্ডস্যাপি প্রামাণ্যমিতি। অধিকারিসৌলভ্য-প্রতিপাদনদ্বারা জ্ঞানকাণ্ডপ্রামাণ্যমের স্ফুটয়তি—সন্দপুরুষাণামিতি। অয়মর্থঃ —‘সুখং যে স্যাৎ, দুঃখং মা ভূৎ’ ইতি স্বভাবতঃ শাস্ত্রঃ বিনা সন্দেহ। পুরুষাণাম্ অনুষচ্ছিন্ন- সুখাদিমাত্রে অভিলাষোপলম্ভাৎ তন্মাত্রস্য চ মোক্ষদ্বাৎ তৎকামিনঃ জ্ঞানকাতাধিকারিণঃ সুলভত্বাৎ তস্মিন্ প্রমার্থব্যবিষয়াম্ আদধৎ কথং তদপ্রমাণমিতি।

৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ননু বেদস্ত কায্যপরতয়া প্রামাণ্যাৎ কৰ্ম্মকাণ্ডবৎ কাণ্ডান্তরস্যাপি কাষাপরতয়া প্রামাণ্য- মেষ্টবমিতি, নেত্যাহ-দৃষ্টবিষয় ইতি। ক্রিয়া-কারক ফলেতিকর্তব্যতানাম্ অন্ততমস্মিন্ কাধ্যে সমীহিত-প্রাপ্ত্যাদ্যুপায়ভূতে ব্যুৎপত্তিকালে প্রত্যক্ষাদিসিন্ধে তথাবিধকাধ্যয়ঃ অন্যথা- লব্ধদ্বাৎ তত্র নাগমঃ অনুসন্ধেয়ঃ। ন হি লোকবেদয়োস্তদ্ভিত্যতে; অলৌকিকে তস্মিন্ অব্যাৎ- পত্তিপ্রসঙ্গাৎ। ন চ অব্যুৎপন্নানি পদানি বোধকানি, অতিপ্রসঙ্গাৎ। নচ ব্রহ্মণাপি তুল্যা ব্যুৎপত্তানুপপত্তিঃ; তস্মিন্ ব্রহ্মত্বেন আত্মত্বেন চ প্রসিদ্ধেঃ। তত্তৎসামান্যোপাধৌ বিজ্ঞানাদি- প্রদানা’ ব্যুৎপত্তেঃ সুকরত্বাৎ। ‘তানি চ অলৌকিকম্ অপও’ প্রত্যগ্রহ্ম নির্লুঠিত-সামান্যবিশেষ লক্ষণরা যোধয়স্তি। তস্মাদ ব্রহ্মৈব বেদপ্রমাণক’, ন কায্যমিতি ভাবঃ। কিঞ্চ, তিষ্ঠতু বেদাস্ত প্রামাণ্য’, কর্মকাণ্ডেংপি বাতিরিক্তান্তিস্থালৌ সিদ্ধেহথে প্রামাণ্যমাবশ্য কম্; তদভাবে তৎ প্রামাণ্যাযোগাৎ। ন হি ভবিষদদেহ-সম্বন্ধ্যান্ন সম্ভাবানধিগমে পারলৌকিক-প্রবৃত্তিবিশ্রন্তঃ। তস্মাৎ কৰ্ম্মকাণ্ড প্রামাণ্যমিচ্ছতা সিদ্ধেহর্থে ভবিষদ্দেহ-সম্বন্ধিনি আত্মনি স্বর্গাদৌ চ তৎপ্রামাণ্য অভ্যাপেরত্বাৎ কাধ্যে বেদপ্রামাণ্যানিয়মাদ বেদাস্তানামপি স্বার্থে মানত্ব’ সিদ্ধতীত্যাহ-ন চেতি। ননু দেহান্তর সম্বন্ধান্নজ্ঞান’ বিনাপি বিধিবশাৎ অদৃষ্টার্থক্রিয়াশু প্রবৃত্তি’ স্যাদিতি, নেহ - স্বভাবেতি। যদা আত্মা দেহান্তরসম্পদী শাস্থাৎ মানানুর’চ্চ ন প্রমিতাঃ, তদা ভোক, রনসগমাং ন প্রেক্ষাপূর্বকারী বাগাদি অনুতিষ্ঠেৎ; লোকায়তস্ত ব্যতিরিক্তান্তিস্থিম্ অজানতে জন্মান্তরেই নিষ্ট-প্রাপ্তি হানীচ্ছয়া বৈদিকক্রিয়াসু অপ্রবৃত্তেদশনাৎ: অতো’ ন অতিরিক্তান্তজ্ঞান বিন সাম্পয়ারিকে প্রবৃত্তিরিতার্থঃ।

ননু বিষয়: সাধনবিশেষ বোধয়ন্তো ন অতিরিক্তাত্মাস্তিত্বাদৌ মান’, বাকভেদপ্রসঙ্গাৎ, ইত্যত আহ-তন্ত্রাদিতি। অতিরিক্তাত্মস্থিয়’ বিন পারলৌকিক প্রবৃত্তসুপপত্ত’ কল্পকও প্রামাণ্যযোগানিতি যাবৎ। বিধীনা’ শ্রুতার্থাত’ম উভয়ার্থত্ববিরুদ্ধম্ ইত্যর্থ। ন কেবল বিধিভিরেষ অর্থাদাক্ষিপ্তম্ অতিরিক্তাত্মাস্তিত্ব’, কিন্তু তথাপি স্বমুনেনোক্তম, ইতাহ- যেয়মিতি। নির্ণয়দর্শনাদ বাতিরিক্তাত্মাস্তিত্বমিতি সম্বন্ধঃ। এত্রৈব প্রকৃতোপযোগিতেন উপ- ক্রমোপসংহারান্তরে দর্শয়তি-যথা চেতি। পূর্ব্ববদেব সম্বতদ্যোতনার্থে চকারঃ। উপক্রমোপ- সংহারৈকরূপ্যাৎ কঠবলীনাম্ অতিরিক্তাত্মাস্তিত্বে তাৎপর্য্যযুক্ত। বৃহদারণ্যক বাক্যাপি ‘তত্র তৎ- পর্য্যাহ-স্বয়মিতি। স হি প্রসিদ্ধজড়দ্বস্ত দেহাদে: স্বয়ংজ্যোতির্ম্মিতি জ্যোতির্ব্রাহ্মণগতোপ ক্রমঃ তদ্বিষয়ো দেহাদিবাতিরিক্তাত্মানম্ অধিকয়োতি। ত’ প্রেত’ বিজ্ঞাকর্ণুণী পুরুষোপার্জিতে ফলদানায় অনুগচ্ছতঃ। স চ গত্বা জ্ঞানকর্ম্মানুগুণ’ ফলমনুভবতীতি শারীরিকব্রাহ্মণগতোপ- সংহারোঽপি জন্মান্তরসম্বন্ধবিষয়ঃ। ন চ অত্রেব ভগ্নীভষতো দেহাদে: জন্মান্তরসম্বন্ধো যুক্তঃ। ‘চেন আত্ম’ দেহাদিবাতিরিক্তো জন্মান্তরসম্বন্ধী সিদ্ধে। ব্রাহ্মণাভ্যামিতার্থঃ। অজাতশত্রুব্রাহ্মণে চ “যোর দ্বা অপ্রিয়ার্থামি” ইত্যুপক্রম্যে ব্যতিরিক্তাত্মাস্তিত্ব বিষয়ঃ। ন হি প্রত্যক্ষে দেহাদৌ জিজ্ঞাসা অতি। তত্রৈব উপসংহারে “ব এব বিজ্ঞানময়ঃ পুরুষ” ইতি বিজ্ঞাবময়-বিশেষণাদ অতিরিক্তাত্মাস্তিত্বং দর্শিতম্। ন হি দেহাদে: বিজ্ঞানময়ত্বম্ অস্তি, তস্মাৎ তদপি উপক্রমোপ- সংহারাজ্যাং ব্যতিরিক্তাত্মাস্তিত্বং গময়তীতায়-অপরিয়ান্তি ইত্যুপক্রমোতি। ন চ উদাহৃতানাং বাক্যানার অপ্রামাণ্যত্ব; তৎপ্রামাণ্যত্বে উৎপত্তিকরণে দেববিশেষাদ অপ্রাপেরস্বাস্তিত্বি ভাষাঃ।

ভাষ্যভূমিকা। ৭

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

অভাষ্ট বিষয়ের প্রাপ্তি ও অনিষ্ট বিষয়ের পরিহার করা। ‘পরিত্যাগ করা) মনুষ্যমাত্রেরই অভিপ্রেত ও নৈসর্গিক ধর্ম্ম, অথচ কি উপায়ে যে, সেই ইষ্টপ্রাপ্তি ও অনিষ্টপরিহার করা যাইতে পারে, তাহা কেবল প্রত্যক্ষ ও অনুমানের সাহায্যেই অবধারণ করা যাইতে পারে না, এইজন্য লোকপ্রসিদ্ধ সমস্ত বেদশাস্ত্রই সেই উপায় প্রকাশনে আগ্রহান্বিত।

বিশেষ এই যে, যাহা দৃষ্ট বা ইহলৌকিক ইষ্টপ্রাপ্তি ও অনিষ্ট-পরিহাব, তাহা সাধারণতঃ প্রত্যক্ষ ও অনুমান-প্রমাণ দ্ব’বাত নিরূপিত হইতে পাবে, এই কারণে তদ্বিষয়ে আব বেদশাস্ত্র অন্বেষণ কবিবাব প্রয়োজন হব না,[সুতবা অদৃষ্ট বা অলৌকিক বিষয়েই শাস্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন হয়]। কিন্তু জন্মান্তরভাগী আত্মার অস্তিত্ববিষযে জ্ঞান না থাকিলে অর্থাৎ দেহাতিবিক্ত আত্মাব জন্মান্তব-সত্তা বিষয়ে স্থিববিশ্বাস না থাকিলে কখনই জন্মান্তনীয় ইষ্টপ্রাপি ও অনিষ্টপবিহাবেব জন্য কাহাবও ইচ্ছ হইতে পারে না, যেহেতু, ‘স্বভাবাদী’ লোকও দেখিতে পাওযা যাষ, অর্থাৎ এরূপ একশ্রেণীর লোক দেখিতে পাওয়া যায়, যাঁহাবা বলেন,- দেহের অতিবিক্ত ও জন্মান্তরভাগী আত্মা বলিয়া কোন পদার্থ নাই, পৃথিব্যাদি ভূতবগেবই স্বভাব এই যে, পব স্পবেব সহিত সম্মিলিত হইয়া-দেহাকাবে পরিণত হইল চৈতন্যসঞ্চাব করিয়া থাকে(৩), সুতবা’ পাবলৌকিক শুভাশুভপ্রাপ্তির প্রয়াস অনাবশ্যক, ইত্যাদি।

বস্তুতঃ এই কারণেই আত্মার জন্মান্তবাস্তিত্ব প্রতিপাদনে এব জন্মান্তরীণ ইষ্ট- প্রাপ্তি ও অনিষ্টপরিহারের উপযুক্ত উপায় প্রকাশনেই বেদাদিশাস্ত্রের প্রধানতঃ প্রবৃত্তি বা যত্ন। কেন না,। কঠোপনিষদে] ‘মনুষ্য মরিলে পর, কেহ কেহ বলেন, [আত্মা] থাকে, অর্থাৎ পরলোকগামী আত্মা আছে আবার কেহ কেহ বলেন,—

(৩) তাৎপৰ্য্য—নাস্তিক সম্প্রদায়কে ‘স্বভাববাদী বলা হয়ব থাকে। তাঁহারা বলেন— দুস্তমান স্কুলদেহের অতিরিক্ত জন্মান্তরগামী নিত্যচৈতন্যস্বরূপ আত্মা’ বলিয়া কোন পদার্থ; নাই। চৈতন্য দেহেরই ধর্ম্ম; স্বভাবশুত্র চুণ ও স্বভাবগীত হরিদ্রা যেমন একত্র মিশ্রিত হইলে’ তাহাতে অভিনব রুক্মিমাকার উদ্ভুত হয়, তেমনি পৃথিব্যাদি জড পদার্থেরও পরস্পর বিলক্ষণ সংযোগে সমুৎপন্ন এই স্কুলদেহেই এক অভিনব চৈতন্যধর্ম্মের আবির্ভাব হওয়া থাকে; সুতরাং, অনুভূয়মান চৈতন্যগুণটা দেহেরই ধর্ম্ম। দেহের সঙ্গেই—তাহার সম্পত্তি আবার দেহের সঙ্গেই তাহার বিনাশ হইয়া যায়; এখানেই স্বর্গ-নরক-ভোগ, লোকান্তর ‘বা জন্মান্তর কল্পনা, এবং দেহাতিরিক্ত নিত্য আত্মার জন্মান্তরলাভ—এ সমস্ত মিথ্যা, কল্পিত কথা মাত্র।

৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

না-মৃত্যুর পর এই আত্মা আর থাকে না, দেহের ধ্বংসেই আত্মার ধ্বংস হইয়া যায়, এইরূপ যে একটা সংশয়বাদ আছে-‘এইরূপ বাক্যোপক্রমের পর ‘নিশ্চয়ই আছে’ অর্থাৎ[জন্মান্তরগামী আত্মা] নিশ্চয়ই আছে বলিয়া বুঝিতে হইবে’ এই প্রকার অবধারণপ্রকাশার্থক শ্রুতি দেখিতে পাওয়া যায়।[তন্মধ্যে] ‘জীব মৃত্যুর পর যে প্রকারে থাকে’ এইরূপ উপক্রম করিয়া ‘কোন কোন দেহী নিজ নিজ জ্ঞান ও কৰ্ম্মানুসারে শরীরলাভের জন্য মনুষ্যাদি যোনি(মনুষ্যাদি জন্ম) প্রাপ্ত হয়, আবার অন্য দেহীরা স্থাণু(বৃক্ষাদি দেহ) লাভ করে’, এই কথা বলা হইয়াছে। তাহার পর [বৃহদারণ্যকে] ‘আত্মা স্বয়ংজ্যোতিঃ বা স্বপ্রকাশ’, এইরূপ উপক্রম করিয়া ‘বিদ্যা ও কৰ্ম্ম অর্থাৎ জ্ঞান ও কৰ্ম্মসংস্কার তাহার(মৃতব্যক্তির) সমাক্ অনুগমন করিয়া পাকে’, ‘পুণ্যকৰ্ম্ম দ্বারা পুণ্য(স্বর্গাদিগামী) হয়, আর পাপকর্ম দ্বারা পাপ (নরকাদিগামী) হয়’, এই কথা বলা হইয়াছে। পুনশ ‘তোমাকে বুঝাইব’ এইরূপ উপক্রমের পর[আত্মা] ‘বিজ্ঞানময়’(অলুপ্তচৈতন্যস্বভাব) এইরূপ বলা হইয়াছে;[ফলতঃ, এতদ্দ্বারা শাস্ত্রই] দেহাতিরিক্ত আত্মার অস্তিত্ব প্রতিপাদন করিয়াছেন।

ভাষ্যভূমিকা।

তং প্রত্যক্ষবিষয়মেবেতি চেৎ; ন; বাদি-বিপ্রতিপত্তি-দর্শনাৎ। ন হি দেহান্তরসম্বন্ধিন আত্মনঃ প্রত্যক্ষেণ অস্তিত্ববিজ্ঞানে লোকায়তিকা বৌদ্ধাশ্চ নঃ প্রতিকুলাঃ স্যুঃ—নাস্ত্যাম্যেতি বদন্তঃ। ন হি ঘটাদৌ প্রত্যক্ষবিষয়ে কশ্চিদ বিপ্রতিপদ্যতে—নাস্তি ঘট ইতি।

টাকা। যথোক্তাত্মনি অহংপ্রতারো মান’, তত্র দেহাকারাস্ফুরণাৎ অতিরিক্তাত্মাস্তিত্বস্ত তেনৈব স্ফূর্ত্তিপত্তেঃ, অতো ন তত্র শ্রুতিপ্রামাণ্যমিতি শঙ্কতে-তৎ প্রত্যক্ষেতি। প্রত্যক্ষস্য বিষয়: অবকাশঃ যস্মিন্ ইত্যতিরিক্তাত্মাস্তিত্বম্ উচ্যতে। যদ্যপি বাতিরিক্তাত্মাস্তিত্বং স্বদভিপ্রায়েণ অহংধীগোচরঃ, তথাপি ন সা ব্যতিরেকমাত্রনো গোচরয়তি; যুক্ত্যাগমবিষেকশূন্তানাম্ অহং- প্রত্যয়ভাজাং ব্যতিরেকপ্রত্যয়প্রাপ্তৌ বিপশ্চিতাং বিপ্রতিপত্ত্যভাবপ্রসঙ্গাদিতি পরিহরতি-ন, বাদীতি। বেদপ্রতিকুলা বাদিনে: নাস্তিকা নৈষ বিবাদং মুকন্তীতাহ-ন হীতি। তেষু প্রাতিকুল্যসম্ভাবনার্থ বিশেষণ’ নেত্যাদি। ইতি বদন্তঃ সন্তো নোঽস্মাকং প্রতিকূলা নহি স্যাঃ, এবং বদনস্তৈষ অসম্ভবাৎ অধ্যক্ষবিরোধাদিতি যোজনা। প্রত্যক্ষে বিষয়ে বিপ্রতিপত্ত্যভাবে দৃষ্টান্তমাহ-ন হীতি।

ভাষ্যভূমিকামূত্রাদ।

যদি বল, সেই আত্মা যে দেহাতিরিক্ত, ইহা ত প্রত্যক্ষসিদ্ধই বটে;[সুতরাং সে বিষয়ে বলিবার আর কি আছে?] না,—তাহা বলিতে পার না; যেহেতু

ভাষ্যভূমিকা। ৯

এ বিষয়ে বাদিগণের মতভেদ দেখিতে পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারাই যদি দেহান্তরগামী আত্মার অস্তিত্ববিজ্ঞান স্থির হইত, তাহা হইলে লোকায়তিক (নাস্তিক) ও বৌদ্ধগণ কখনই ‘আত্মা নাই’ বলিয়া আমাদের প্রতিপক্ষ হইত না, কেন না, প্রত্যক্ষের বিষয়ীভূত ঘটাদি বস্তুর অস্তিত্ববিষয়ে ত ‘ঘট নাই’ বলিয়া কেহই বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করে না।

ভাষ্যভূমিকা।

স্থাগাদৌ পুরুষাদিদর্শনাৎ নেতি চেং, ন, নিরূপিতে অভাবাৎ। নহি প্রত্যক্ষেণ নিরূপিতে স্থাগাদৌ বিপ্রতিপত্তির্ভবতি। বৈনাশিকাস্তু অহমিতি প্রত্যয়ে জায়মানেহপি দেহান্তবব্যতিবিক্তস্য নাস্তিত্বমের প্রতিজানতে। তস্মাৎ প্রত্যক্ষবিষয়বৈলক্ষণ্যাৎ প্রত্যক্ষাৎ ন আত্মাস্তিত্বসিদ্ধিঃ।

টাকা। তত্র ব্যভিচারং শঙ্কতে--স্থাণাদাবিতি। প্রত্যক্ষে ধম্মিণি স্থাণুর্ব্বা পুরুষো বেতি বিপ্রতিপত্তেরুপলম্ভাৎ ন প্রত্যক্ষে বিপ্রতিপত্যভাবো ব্যভিচারাদিতি শঙ্কার্থঃ। আদিপদেন পাষাণাদৌ গজাদি-বিপ্রতিপত্তিঃ সংগৃহ্যতে। কিং প্রত্যক্ষমাত্রে বিপ্রাতপত্তি? কিং বা তেন বিবিক্তে প্রতিপন্ন? নাদ্যঃ, অঙ্গীকারাৎ। ন চৈবমাত্মনি প্রত্যক্ষ বিপ্রতিপত্তৌ অপি ন আগমান্বেষণা, তেনৈব তন্নিরাসেন তন্নিণয়াৎ, ইতি মম্বানে’ দ্বিতীয় দূষযতি-নেত্যাদিনা। প্রত্যক্ষতো বিবিক্তেহর্থে বিপ্রতিপত্যভাব প্রপঞ্চযতি-ন হাঁতি। শ্মুন স্কুলদেহ-ব্যতি- রিক্তত্ব’ ন প্রত্যক্ষমিতি প্রতিপাদ্য সুক্ষ্মদেহ ব্যতিরিক্তত্বমপি ন অহ প্রত যগ্রাহ্যমিত্যাহ- বৈনাশিকান্তিতি। তে খবহমিতি ধিয়ম্ অনুভবস্তি; তথাপি দেহান্ন অ-দহাতিরিক্তং সুক্ষ্মং, তত্র প্রধানভূতায়া যুদ্ধেরতিরিক্তস্য আত্মনো নাস্তিত্বমেব পশ্যন্তি। তৎন তধিয়া সুক্ষ্মদেহাতি- রিক্তাত্মসিদ্ধিরিতার্থঃ। কিং চ, প্রত্যক্ষস্য বিষয়ো রূপাদিঃ, তদ্গ্রহ তদ্গেলক্ষণ্যং, তদাত্ম- নোহস্তি, “অশব্দমস্পর্শমরূপম্” ইত্যাদিশ্রুতেঃ। ন হি রূপাদি তদাবাস বিন প্রত্যক্ষং ক্রমতে। অতো ন দেহাদ্যতিরিক্তাত্মাস্তিত্ব প্রত্যক্ষাৎ প্রসিদ্ধিরিত্যাহ-তস্মাদিতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

যদি বল,[প্রত্যক্ষসিদ্ধ] স্থাণু(-শাখাদিশূন্য বৃক্ষ প্রভৃতিতেও যখন মনুষ্যাদি-ভ্রম দেখিতে পাওয়া যায়, তখন এ কথা সঙ্গত হইতে পাবে না। না,-যেহেতু সেখানেও স্থাণুত্বের নিশ্চয় নাই, কারণ, প্রত্যক্ষ দ্বারা স্থাণু নিশ্চিত হইলে, কখনই তাহাতে মনুষ্যাদিভ্রম উৎপন্ন হইতে পারে না। বৈনাশি- কেরা(বৌদ্ধগণ) কিন্তু ‘অহং’ প্রতীতিসত্ত্বেও দেহাতিরিক্ত আত্মার নাস্তিত্ব বা অভাবই স্বীকার করেন,(অস্তিত্ব স্বীকার করেন না)। অতএব লৌকিক প্রত্যক্ষবিষয়ের সঙ্গে বৈলক্ষণ্য থাকায় প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা আত্মার অস্তিত্ব সিদ্ধ বা প্রমাণিত হইতেছে না।

১০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যভূমিকা।

তথা অনুমানাদপি। শ্রুত্যা আত্মাস্তিত্বে লিঙ্গস্য দর্শিতত্বাৎ, লিঙ্গস্য চ প্রত্যক্ষবিষয়ত্বাৎ নেতি চেৎ; ন; জন্মান্তরসম্বন্ধস্য অগ্রহণাৎ। আগমনেন তু আত্মাস্তিত্বে অবগতে বেদপ্রদর্শিত-লৌকিক-লিঙ্গবিশেষৈশ্চ, তদনুসারিণো মীমাংসকাস্তাকিকাশ্চ অহং-প্রত্যয়লিঙ্গানি চ বৈদিকান্যেব স্ব-মতিপ্রভবাণি— ইতি কল্পয়ন্তো বদন্তি—প্রত্যক্ষশ্চ অনুমেয়শ্চ আত্মা ইতি।

সর্ব্বথাপি অন্ত্যাত্মা দেহান্তরসম্বন্ধীত্যেবং প্রতিপতুঃ দেহান্তরগতেষ্টানিষ্ট- প্রাপ্তিপরিহারোপায়বিশেষার্থিনঃ তদ্বিশেষজ্ঞাপনায় কর্মকাণ্ড সমারব্ধম্। ন তু আত্মন ইষ্টানিষ্ট-প্রাপ্তি-পরিহারেচ্ছাকারণম্ আত্মবিষয়মজ্ঞানং কর্তৃভোক্তৃ- স্বরূপাভিমানলক্ষণঃ তদ্বিপরীতব্রহ্মাত্মস্বরূপবিজ্ঞানেন অপনীতম্। যাবৎ হি তৎ ন অপনীয়তে, তাবদয়ঃ কর্মফল-রাগদ্বেষাদি স্বাভাবিকদোষপ্রযুক্তঃ শাস্ত্র- বিহিত-প্রতিষিদ্ধাতিক্রমেণ্যপি প্রবর্ত্তমানে; মনোবাক্কায়ৈঃ দৃষ্টাদৃষ্টানিষ্টসাধনানি অধর্মসংজ্ঞকানি কর্মাণি উপচিনোতি বাহুলোন, স্বাভাবিকদোষবলীয়স্বাৎ; ততঃ স্থাবরান্তাধোগতিঃ।

টাকা। প্রত্যক্ষতো বিবিক্তে বিপ্রতিপত্তযোগাৎ; প্রকৃততে চ তদ্দর্শনাদিতি যাবৎ। অথ ইচ্ছাদয়ঃ কচিদাশ্রিতাঃ, গুণত্বাৎ, রূপবৎ; ইত্যনুমানাৎ অতিরিক্তাত্মসিদ্ধিরিতি; নেত্যাহ- তথেতি। ন আত্মাস্তিত্বপ্রসিদ্ধি’ ইতিসংবদ্ধার্থ: ‘তথা‘শব্দঃ। অয়ং ভাবঃ-উচ্ছাদীনা’ স্বাতন্ত্র্যে স্বরূপাসিদ্ধি, পারতয়ে। পরস্পরাশ্রয়ত্বম্, আধারস্থ্য ইদানীমেব সাধ্যমানহাৎ। কচিৎ- শব্দেন চ আশ্রয়মাত্রবচনে সিদ্ধসাধনত্ব’, মনসঃ তদাশ্রয়স্ত সিদ্ধহাৎ, আরোক্রৌ চ দৃষ্টান্তঙ্গ সাধ্যবিকলতেতি। “যঃ প্রাণেন প্রাণিতি” ইত্যাদিশ্রুত্যা প্রাণনাদিব্যাপারাখ্যস্ত লিঙ্গস্থ আত্মাস্থিতে প্রদর্শিতত্বাৎ, তস্য চ ব্যাপ্তিসাপেক্ষন্ত প্রত্যক্ষাদিসিদ্ধাত্মবিষয়ত্বাৎ ন তস্য শব্দৈক- গম্যতা, ইতি শঙ্কতে-ক্রুতোতি। আত্মনঃ স্বাতন্ত্র্যেণ লিঙ্গগম্যত্বাভিপ্রায়েণ শ্রুত্যা লিঙ্গং ন উপহ্যস্তমিতি পরিহরতি-নেতি। যোংচেতনব্যাপারঃ, স চেতনাধিষ্ঠানপূর্ব্বকঃ, যথা রণাদিক্যাপারঃ। প্রাণনাদিব্যাপারস্যাপি অচেতনব্যাপারত্বাৎ চেতনাধিষ্ঠানপূর্ব্বকত্বমিতি সম্ভাবনামাত্রেণ লিঙ্গোপন্যাসঃ। নহি নিশ্চায়কত্বেন তদুপন্যস্তুতে। আত্মনো জন্মান্তরসম্বন্ধস্থ প্রমাণান্তরেণ অগ্রহণাৎ তদ্ব্যাণ্ডলিঙ্গাযোগাদিত্যাহ-জন্মান্তরেতি। ননু ব্যতিরিক্তাত্মাস্তিত্বম্ আগমৈকগমাং চেৎ, কথং তৎ প্রত্যক্ষম্ অনুমেয়ং চ-ইতি বাদিনো বদন্তীতি, তত্রাহ-আগমেন স্থিতি। “যেয়ং প্রেতে বিচিকিৎসা” ইত্যাদ্যাগমেন “কো হেবাস্তাৎ” ইত্যাদিবেদোক্তৈশ্চ প্রাণনাদিভিঃ লৌকিকৈলিঙ্গবিশেষৈঃ আত্মাস্তিত্বে সিন্ধে যথোক্তাত্মসিদ্ধম্ অনুসরন্তো বাদিনো বৈদিকমের অহংপ্রত্যয়ং প্রতিভূমানা বৈদিকান্তের চ লিঙ্গানি পদ্যন্তঃ ঘোৎপ্রেক্ষানিমিতানি দানি-ইতি. কল্পয়স্তো দ্বিধা আত্মানং বদন্তি। বস্তুতন্ত আত্মা যথোরুপ্রত্যেকসমধিগম্য ইত্যর্থঃ।

ভাষ্যভূমিকা। ১১

‘তস্যাস্থ্য’ ইত্যাদিনা কাওয়োঃ সম্বন্ধং প্রতিজ্ঞায় তাদর্থোন সিদ্ধেহর্থে বেদান্ত- প্রামাণ্যং ‘সর্ব্বোহপি’ ইত্যাদি! প্রসাধ্য, অধুনা কৰ্ম্মভিঃ শুদ্ধবৃদ্ধেঃ বৈরাগ্যাদিদ্বারা জ্ঞানোৎ- পত্তিরিতি তয়োঃ সম্বন্ধং কথয়তি-সর্ব্বথাপীতি। আগমাৎ মানান্তরাদ্বা ব্যতিরিক্তাত্মাসিত্ব:- প্রতিপত্তাবপি ইত্যর্থঃ। পুরুষার্থোপায়-বিশেষার্থিনঃ তজজ্ঞাপনার্থ: কর্মকাণ্ডমারন্ধং চেৎ, তহি তত্রোক্তকৰ্ম্মভিরেব বিবক্ষিতপুমর্থসিদ্ধেঃ বেদান্তারম্ভ-বৈয়র্থ্যাৎ ন সম্বন্ধোক্তিঃ সাবকাশা, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-নত্বিতি। আত্মাজ্ঞানং গলনর্থকারণম্, অন্বয়-বাতিরেক-শাস্ত্রগম্যং মিথ্যাজ্ঞান- কাৰ্য্যলিঙ্গকং চ; তচ্চ অকর্তৃ-ভোক্তৃ-ব্রহ্মাত্মজ্ঞানাদ অপনেয়ম্। ন হি তৎ কর্মকাণ্ডোক্তৈরেব কর্মভিঃ শক্যমপনেতুং, বিরোধাভাবাৎ। তস্মাৎ তদবাধনার্থ: জ্ঞানসিদ্ধয়ে বেদান্তারম্ভ-সম্ভবাৎ উক্তসম্বন্ধসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। যদি কৰ্ম্মভিঃ অজ্ঞানং ন নিবর্ততে, মা নিবর্তিষ্ট, সত্যেব তস্মিন্ কৰ্ম্মবশাৎ মোক্ষঃ স্যাৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-যাবন্ধীতি। সমাগজ্ঞানমের সাক্ষান্মোক্ষহেতুঃ, ন কৰ্ম্ম; তৎ তু প্রনাড্যা তদুপযোগি। ন হি সত্যের অজ্ঞানে মুক্তিঃ; তস্মিন্ সতি সংসারস্য দুর্ব্বারত্বাৎ। তস্মাৎ কর্মকাণ্ডস্য বৈরাগদ্বারা প্রবেশো মুক্তাবিতি ভাবঃ। ‘অয়ম্’ ইতি অজ্ঞো নির্দ্দিশ্যতে। ‘রাগদ্বেষাদি’-ইত্যাদিশব্দেন অবিদ্যাস্মিতাভিনিবেশাদয়ো গৃহান্তে। দোষানাং স্বাভাবিকত্বং শাস্ত্রানপেক্ষত্বম্। ‘অপি’ কারঃ সম্ভাবনার্থাঃ। ‘দৃষ্টহম্’ অন্বয়বাতিরেকসিদ্ধত্বম্। ‘অদৃষ্টত্ব’ শাস্ত্রমাত্রগম্যত্বম্। অধর্মোপচরপ্রাচুর্য্যে হেতুমাহ-স্বাভাবিকেতি। অথ বৈরাগ্যার্থং কৰ্ম্মফলং প্রপঞ্চয়ন্ অধর্মফলমাহ-তত ইতি। উক্তং হি “পরীরত্নঃ কর্ম্মদোষেতি স্থাবরতাং নরঃ” উঃ।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

প্রত্যক্ষের ন্যায় অনুমান দ্বারাও আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণিত হইতে পারে না। যদি বল, শ্রুতি নিজেই আত্মার অস্তিত্বজ্ঞাপক সুখদুঃখাদি ধম্ম প্রদর্শন করিয়া- ছেন, এবং ঐ সমস্ত লিঙ্গ বা অস্তিত্বজ্ঞাপক ধৰ্ম্ম যখন প্রত্যক্ষগ্রাহ্য, তখন আত্মাকে আর প্রত্যক্ষাদির অবিষয় বলা যাইতে পারে না। না,-একথাও বলিতে পার না; কারণ, আত্মার যে জন্মান্তরের সহিত সম্বন্ধ আছে, তাহা প্রত্যক্ষগম্য নহে। বস্তুতঃ, শাস্ত্রপ্রমাণ ও বেদোক্ত লৌকিক হেতুবিশেষ, অহং প্রতীতি- রূপ হেতু) দ্বারা আত্মার অস্তিত্ব অবগত হইয়া তদনুসারে মীমাংসকগণ ও তাকিকগণ বেদোক্ত ‘অহং’-প্রতীতিরূপ হেতুকেই আপনাদের উদ্ভাবিত হেতু বলিয়া কল্পনা করত আত্মাকে প্রত্যক্ষ ও অনুমানগম্য বলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন(৪)।

(৪) তাৎপর্য্য—তার্কিকদিগের অনুমানপ্রণালী এইরূপ—জীবদ্দেহে ইচ্ছা দ্বেষ ও সুখ দুঃখ প্রভৃতি কতকগুলি অভ্যন্তরস্থ গুণ আছে; গুণমাত্রই দ্রব্যাশ্রিত; সুতরাং ঐ সমস্ত গুণের আশ্রয়রূপে দেহাতিরিক্ত আত্মারই অস্তিত্ব সিদ্ধ হইতেছে। বস্তুতঃ এরূপ অনুমান দ্বারাও

১২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

ফল কথা, যে কোন প্রকারেই হউক, যিনি দেহান্তরসম্বন্ধী আত্মার অস্তিত্ব অবগত আছেন, এবং দেহান্তরগত(ভবিষ্যৎদেহে) ইষ্টপ্রাপ্তি ও অনিষ্টপরিহার- প্রার্থী হন; তাহার পক্ষেই সেই উপায়বিশেষ-জ্ঞাপনের জন্য বৈদিক কর্মকাণ্ড আরদ্ধ হইয়াছে। কিন্তু[তাহাতেও জীবের প্রকৃত ইষ্টসিদ্ধি হইতে পারে না; কারণ,] আত্মার ইষ্টপ্রাপ্তি ও অনিষ্টপরিহারের কারণীভূত কর্তৃত্বভোক্তৃত্বরূপ (আমি কর্তা, আমি ভোক্তা ইত্যাদিরূপ) অভিমান যাহার লক্ষণ বা পরিচায়ক, আত্মবিষয়ক সেই অজ্ঞান ত তখনও কড়ত্বাদিবুদ্ধির বিপরীত ব্রহ্মাত্ম-স্বরূপ বিজ্ঞান(আত্মা ব্রহ্মস্বরূপই বটে, এইরূপ নিশ্চয়াত্মক জ্ঞান) দ্বারা অপনীত হয় নাই। আর যতকাল তাহা অপনীত না হয়, ততকাল সংসারী জীব স্বভাবসিদ্ধ রাগদ্বেষাদি দোষ বশতঃ কর্মফলে আসক্তই থাকে, এব স্বভাবসিদ্ধ সেই রাগদ্বেষাদি দোষের প্রাবল্য বশতঃ শাস্ত্রের বিধি-নিষেধও লঙ্ঘন করিতে প্রবৃত্ত হয়, এবং মন, বাক্য ও শরীর দ্বারা ঐহিক ও পাবলৌকিক অনিষ্টসাধক রাশি রাশি পাপকর্ম ও সঞ্চয় করিতে থাকে; আর তাহার ফলে স্থাবরত্বপর্য্যন্ত অধোগতি প্রাপ্ত হয়(৫)।

আত্মাস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না; কারণ, মনকে ইচ্ছাদির আশ্রয় বলিলেও ঐপ্রকার অনুমানসার্থক হইতে পারে। তাহার পর, তাঁহারা যে, এইরূপ প্রমাণ প্রদর্শন করেন, তাহারও মূল—শাস্ত্র। কারণ, পূর্ব্বোক্ত “যেয়’ প্রেতে বিচিকিৎসা মনুষ্যে” ইত্যাদি শ্রুতি ও প্রত্যুক্ত “কো হেবান্যাৎ কঃ প্রাণ্যাৎ” অর্থাৎ ‘কেই বা শ্বাস ছাড়িত, কেই বা চেষ্টা করিত’ ইত্যাদি লোকপ্রসিদ্ধ শ্বাস- প্রশ্বাসাদি লিঙ্গ বা হেতু দ্বারা শাস্ত্রই আত্মার অস্তিত্বে যে সমস্ত প্রমাণ প্রদর্শন করিয়াছেন, তার্কিকগণ সেই সমস্ত হেতুকেই আপনাদের বুদ্ধি দ্বারা সমুদ্ভাবিত হেতু বলিয়া প্রকাশ করেন, এবং তাহার সাহায্যে আত্মাকে প্রত্যক্ষ ও অনুমানগম্য বলিয়া ঘোষণা করেন মাত্র। বস্তুতঃ, ঐ সমস্ত হেতু যখন শাশ্ববহির্ভূত নহে, তখন আত্মার অস্তিত্বকে একমাত্র আগম- গমাই বলিতে হইবে।

(৫) তাৎপর্য্য—অধর্ম্মাপ পাপকর্ম্মের ফলে জীবের যেরূপ অধোগতি হইয়া থাকে, মনুস্মৃতিতে তাহার একটা মোটামোটা হিসাব প্রদত্ত হইয়াছে। তিনি বলিয়াছেন,—

“শত্রুঘ্নঃ কর্ম্মণোঽপি স্থাবরতাং নরঃ। ১

পাচিটেঃ পিত্তশূলনিবাঃ মানসৈবমহাভিজাতঃ।

অর্থাৎ মানুষ শারীরিক ব্যাপার দ্বারা পাপ কর্ম্ম করিলে, বৃক্ষলতাদি স্থাবর-দেহ লাভ করে, বাক্য দ্বারা পাপ করিলে পক্ষিযোনি গ্রহণ করে, আর মানসিক চিন্তা দ্বারা পাপ করিলে

ভাষ্যভূমিকা। ১৩

ভাষ্যভূমিকা।

কদাচিৎ শাস্ত্রকৃতসংস্কারবলীয়ত্বম্। ততো মনআদিভিঃ ইষ্টসাধনং বাহু- ল্যেন উপচিনোতি ধৰ্ম্মাখ্যম্। তদ্ দ্বিবিধম্—জ্ঞানপূর্ব্বকং কেবলঞ্চ। তত্র কেবলং পিতৃলোকাদি-প্রাপ্তিফলম্; জ্ঞানপূর্ব্বকং দেবলোকাদি-ব্রহ্মলোকান্ত- প্রাপ্তিফলম্। তথা চ শাস্ত্রং—“আত্মযাজী শ্রেয়ান্ দেবযাজিনঃ” ইত্যাদি। স্মৃতিশ্চ—“দ্বিবিধং কৰ্ম্ম বৈদিকম্” ইত্যাদ্যা। সাম্যে চ ধর্ম্মাধর্ম্ময়োঃ মনুষ্যত্ব- ‘প্রাপ্তিঃ। এবং ব্রহ্মাদ্যা স্থাবরান্তা স্বাভাবিকবিদ্যাদি-দোষবতো ধর্ম্মাধর্ম্মসাধন- কৃতা সংসারগতির্নামরূপকর্মাশ্রয়া।

টাকা। তৎ কিং পুণ্যোপচয়াভাবাদ অনবকাশং স্বর্গাদিফলমিতি, নেত্যাহ-কদাচিদিতি। শাস্ত্রীয়সংস্কারস্য বলীয়স্থে ফলিতমাহ-তত ইতি। ‘আদি’-শব্দো বাগদেহবিষয়ঃ। ফলবিভাগং বক্তুং কন্ম ভিনত্তি-তদ্ দ্বিবিধমিতি। তস্য মুক্তিফলত্বং নিরসিতু: ফলং বিভজতে-তত্রেতি। কেবলমিষ্টাদিকর্ম্মেতি শেষঃ। “কর্মণা পিতৃলোকঃ” ইতি হি বক্ষ্যতি। তস্মিন্ ফলে নানাত্বম্ অভিপ্রেত্য আদিশব্দঃ। ‘বিদ্যয়া দেবলোকঃ’ ইতি শ্রুতিম্ আশ্রিত্যাহ-জ্ঞানেতি। দেবলোকো যস্য আদিঃ, ব্রহ্মলোকো যস্য অন্তঃ, তস্যার্থস্য প্রাপ্তিরেব ফলমস্তেতি বিগ্রহঃ। উত্তেহর্থে শাতপখীং শ্রুতিং প্রমাণয়তি-তথা চেতি। সর্ব্বত্র পরমাত্ম-ভাবনাপুরঃসরং নিত্যং কৰ্ম্মানুতিষ্ঠন্ আত্মযাজী। কামনাপুরঃসরং দেবান্ যজমানো দেবযাজী। তয়োৰ্ম্মধ্যে কতরঃ শ্রেয়ানিতি বিচারে সতি আত্মযাজী শ্রেয়ানিতি নির্ণয়ঃ কৃতঃ; অতো জ্ঞানপূর্ব্বকং কৰ্ম্ম দেবলোকস্য, কামনা- পূর্ব্বং তু পিতৃলোকস্য প্রাপকমিত্যর্থঃ।

“প্রবৃত্তং চ নিবৃত্তং চ দ্বিবিধং কৰ্ম্ম বৈদিকম্। ইহ বামূত্র বা কাম্যং প্রবৃত্তং কৰ্ম্ম কার্ত্ততে। নিষ্কামং জ্ঞানপূর্ব্বং তু নিবৃত্তমভিধীয়তে।” ইত্যাদিমনুস্মৃতিং চ অত্রৈব উদাহরতি-স্মৃতিশ্চেতি। ধৰ্মাধর্ময়োঃ একৈকস্য ফলম্ উক্ত। মিশ্রয়োঃ ফলমাহ-সাম্যে চেতি। উক্তং হি “উভয়ং পুণ্যপাপোঽপি মানুষঃ লভতেহবশঃ” ইতি।

অস্ত্যজত্ব—হীনজাতিত্ব প্রাপ্ত হয়। ঐরূপ স্বানুষ্ঠিত কর্ম্মের ফল যে, কতদিনে উৎপন্ন হয়, তাহারও নির্দেশ করিয়াছেন,—

ত্রিতিকৈব ত্রীভির্ম্মাণিভিঃ পঠ্যৈব ত্রীভিদিনৈঃ।

অত্যুৎকটেঃ পুণ্যপাপৈরিহব ফলমঘ্নতে ॥” কর্মকালীন মানসিক অভিনিবেশের তীব্রতানুসারে কর্মফল তিন বৎসরে, তিন মাসে, তিন পক্ষে কিংবা তিন দিনের মধ্যেও প্রকাশ পাইয়া থাকে। কিন্তু তীব্রতার পরিমাণ অত্যন্ত অধিক হইলে তৎক্ষণাৎও ফল প্রকাশ পাইতে পারে। যেমন—মহারাজ নহুষ অগস্ত্য ঋরিকে পদাঘাত করায় মুহূর্ত্তেই সর্পদেহ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কর্মফলগত এই প্রকার বৈচিত্র্য পুরাণশাস্ত্রে বহুল্লর বর্ণিত আছে।

১৪ ভাষ্যভূমিকা।

টীকা। ত্রিবিধমপি কর্ম্মফলং বৈরাগ্যার্থং সংক্ষিপ্ত্য উপসংহরতি—এবমিতি। সা চ অবিদ্যা কৃতত্বাৎ অনর্থরূপা, ইত্যাহ—স্বাভাবিকেতি। বিচিত্রকর্ম্মজন্যতয়া তস্যা বৈচিত্র্যমাহ—ধৰ্ম্ম্মা ধর্ম্মেতি। তর্হি ধৰ্ম্মাধর্ম্মাত্যামেব তন্নিৰ্ম্মাণসম্ভবাৎ কৃতম্ অবিদ্যয়া, ইত্যত আহ—নামেতি। তেরষাং সূক্ষ্মাবস্থা অবিদ্যা, তদালম্বনেতি যাবৎ। ধম্মাদে, অবিদ্যায়ান্ত নিমিত্তত্বোপাদানত্বা ভ্যাম্ উপযোগ ইতি ভাবঃ।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

কখনও বা শাস্ত্রানুশীলনজাত স স্বাবও প্রবল হইয থাকে। তখন মানসিক বাচিক ও কাষিক চষ্টায় আপনার অভীষ্টসিদ্ধির জন্য বহুলপরিমাণে ধৰ্ম্মকর্ম্ম ও সঞ্চয় করিয়া থাকে। সেই ধৰ্ম্মকর্ম্ম আবার দুই প্রকার ১ জ্ঞানপূরক ও (২ কেবল জ্ঞানবহিত। তন্মধ্যে কেবল ধৰ্ম্মকর্ম্ম দ্বারা ‘পিতৃলোকাদি লাভ হয়, আর জ্ঞানপূর্ব্বক ধর্ম্মকর্ম্মের ফলে দেবলোক স্বর্গ হইতে আরম্ভ করিয়া ব্রহ্মলোক পর্য্যন্ত লাভ হয়। তদ্বোধক শক্তি এই ‘দেবরাজী’ অর্থাৎ যাহারা কেবল দেবতার आराधना করেন, তাহাদের অপেক্ষা আত্মরাজী আত্মজ্ঞানসম্পন্ন লোক শ্রেষ্ঠ’ ইত্যাদি। স্মৃতিও আছে ‘বেদোক্ত কর্ম্ম দ্বিবিধ’ ইত্যাদি। ধর্ম্ম ও অধর্ম্ম অর্থাৎ পাপ ও পুণ্য সমান হইলে মনুষ্যদেহ প্রাপ্তি হয়। ৬। এইরূপে স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যাদি দোষসম্পন্ন ব্যক্তির ধর্ম্মাধর্ম্ম কর্ম্মানুষ্ঠানের ফলে বন্ধাদি স্থাববত্ব প্রাপ্তি পর্য্যন্ত গতি হয়, কিন্তু ঐ সমস্তই স সার দশার অন্তর্গত এবং নাম রূপ ও কর্ম্মাশ্রিত।

ভাষাভূমিকা।

তদেব ইদ ব্যাকৃত সাধ্য সাধনরূপ জগৎ প্রাগুৎপত্তেঃ অব্যাকৃতমাসীং। স এষ বীজাঙ্কুবাদ অবিদ্যাকৃতঃ সংসার আত্মনি ক্রিয়া-কাবক ফলাধ্যাবোপ

(৬) তাৎপদ্য—বেদোক্ত কর্ম্ম সাধারণতঃ দুই ভাগে বিভক্ত,(১) প্রবৃত্ত কর্ম্ম ও (২) নিবৃত্ত কর্ম্ম। তন্মধ্যে ঐহিক ২ পারলৌকিক ফলোদ্দেশে যে কর্ম্ম অনুস্থিত হয়, তাহার নাম ‘প্রবৃত্ত’ ব ‘কাম কর্ম্ম। নিত নেমিত্তিকাদি কর্ম্মও এক ‘প্রবৃত্ত’ কর্ম্মেরই অন্তনিবিষ্ট, আর কোন প্রকার ফল উদ্দেশ্য ন করিয়া কেবল জ্ঞানের জন্য যে কর্ম্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাহার নাম ‘নিবৃত্ত’ বা ‘নিষ্কাম কর্ম্ম। প্রবৃত্ত কর্ম্মের ফল যতই উৎকৃষ্ট হউক না কেন, কখনই উহা সংসারের বাহিরে যাইতে পারে না, এবং ভাবী বিনাশের হস্ত হইতেও পরিত্রাণ করিতে পারে না; এই জন্য মুমুক্ষু পুরুষ-প্রবৃত্ত কর্ম্ম পরিত্যাগপূর্ব্বক নিবৃত্ত কর্ম্মের আশ্রয় লইয়া থাকেন, এবং তাহা দ্বারাই ক্রমে চিত্রশুদ্ধি ও জ্ঞানোৎকর্ষ লাভ করিয়া ব্রহ্মাত্মতার সাক্ষাৎ করিতে সমর্থ হন।

ভাষ্যভূমিকা। ১৫

ভাষ্যভূমিকা।

লক্ষণঃ অনাদিবনন্তঃ অনর্থঃ-ইতি, এতস্মাদ্ নিবক্তস্য অবিদ্যা-নিবৃত্তয়ে তদ্বিপরীত-ব্রহ্মবিদ্যা-প্রতিপত্ত্যর্থা উপনিষদ্ আরভাতে।

টীকা। ননু সংসারগতেঃ আবিদ্যত্বম্ অযুক্ত’, প্রত্যক্ষাদিপ্রতিপন্নহাৎ, “তৎ নামরূপা- ভ্যামেব ব্যাক্রিয়ত” ইতি শ্রুতৌ চ নামরূপাত্মনো জগতঃ অভিব্যক্তিশ্রবণাৎ। নচ প্রামাণি- কস্য অবিদ্যাকৃতত্বম্; অত আহ-তদেবেদমিতি। জগত স্বরূপমাত্মা, তত্র অধ্যস্তত্বাৎ; তস্মাৎ আত্মতত্ত্বে অনভিব্যক্তে প্রত্যক্ষাদিনা শ্রুতা চ অভিব্যত্তমিব দৃশ্যমানমপি জগদনভিব্যক্ত- মেষেতি, ন তস্য অবিদ্যাকৃতত্ব ক্ষতি: ইতিভাব। অবিদ্যাকৃতং স সাবগতিম্ অনুভাষতে-স এব ইতি। ননু অবিদ্যাকৃতত্বে কথম্ অনাদিত্বম‘- হতামঙ্গ) তস্য প্রবাহরূপেণেত্যাহ- বাঁজাঙ্কুরাদিলদিতি। তহি কাদাচিৎকতয়া সাধনাপেক্ষামস্তবেণ নাশো ভবিষ্যতি, ইত্যা- শঙ্ক্যাহ -অনাদিরিতি। চৈতন্যবদাত্মনি তস্য অবিদ্যাকৃতত্বানুপপত্তিম আশঙ্ক্য নানারূপত্বেন ততো বিলক্ষণত্বাৎ একরূপে যুক্ত’ তস্য কল্পিতত্বম্, ইতাহ-লিয়েতি। অনাদেরপি সংসা- রস্য প্রাগভাববৎ নিবৃত্তিঃ স্যাদিতি চেৎ, তথাপি বক্ষবিদ্যামন্তবেণ নাশো নাস্তি, ইত্যাহ- অনন্ত ইতি। প্রযত্নতা হেয়ত্ব’ দ্যোতয়িতুম্ ‘অনর্থ’ ইতি বিশেষণম। ‘নৈসর্গিক’ ইতি পাঠে তু কারণরূপেণ তত্ত্বম্ উন্নেয়ম্। যস্মাৎ কস্ম সংসারফল’, ন মোক্ষ ফলযতি; তস্মাৎ সনিদান সংসাব নিবর্ত্তকাত্মজ্ঞানার্থত্বেন সাধনচতুষ্টবসম্পন্নম্ অধিকাবিণম্ অধিবৃত বেদান্তাবস্তুঃ সম্ভবতি, ইত্যুপসংহরতি-ইত্যেতস্মাদিতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

সেই এই নাম-রূপাত্মক সাধ্য সাধনরূপ অর্থাৎ কার্য্য কাবণ-প্রবাহরূপে অভিব্যক্ত পরিদৃশ্যমান এই সমস্ত জগৎই উৎপত্তির পূর্ব্বে অব্যাকৃত বা অনভিব্যক্ত ছিল। বীজ ও অঙ্কুরের কার্য্যকারণভাব যেমন অনাদি অনন্ত, তেমনি অবিদ্যা দ্বারা আত্মাতে আরোপিত ক্রিয়া, কারক(কর্তৃত্বাদি’ ও কৰ্ম্মফলাত্মক অনর্থময় এই সংসাবও অনাদিকাল হইতে অনন্তকাল পর্য্যন্ত প্রবাহক্রমে বর্তমান রহিয়াছে ও থাকিবে। যে লোক এই স সার হইতে বিবক্ত বা বৈরাগ্যসম্পন্ন হইয়াছে, তাহার অবিদ্যানিবৃত্তির জন্য এব-অবিদ্যাবিবোধ’ বন্ধবিদ্যা লাভের উদ্দেশ্যে উপনিষৎ শাস্ত্র আরব্ধ হইতেছে।

ভাষ্যভূমিকা।

অন্য তু অশ্বমেধ-কৰ্ম্ম-সম্বন্ধিনো বিজ্ঞানস্য প্রয়োজন যেষাম্ অশ্বমেধে নাধিকারঃ, তেষাম্ অস্মাদেব বিজ্ঞানাৎ তৎফলপ্রাপ্তিঃ, “বিদ্যয়া বা কৰ্ম্মণা বা” “তদ্ধৈতল্লোকজিদেব” ইত্যেবমাদিশ্রুতিভ্যঃ।

কর্ম্মবিবর্জ্জিতো বিজ্ঞানোঽপি চেৎ; ন; যোহহমেয়েন যজতে, বা উ

১৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যভূমিকা।

চৈনমেবং বেদ” ইতি বিকল্পশ্রুতেঃ। বিদ্যাপ্রকরণে চ আয়ানাৎ, কর্মান্তরে চ সম্পাদন-দর্শনাৎ বিজ্ঞানাৎ তৎফলপ্রাপ্তিঃ অন্তীতি অবগম্যতে। সর্ব্বেষাঞ্চ কর্মণাং পবং কৰ্ম্ম অশ্বমেধঃ, সমষ্টি-ব্যষ্টি-প্রাপ্তি-ফলত্বাৎ।

তস্য চ ইহ ব্রহ্মবিদ্যাপ্রারম্ভে আয়ানং সর্ব্বকর্মণাং সংসারবিষয়ত্বপ্রদর্শ- নার্থম্। তথা চ দর্শয়িষ্যতি ফলম্—অশনায়াং মৃত্যুভাবম্।

টাকা। যথোক্তজ্ঞানার্থত্বেন উপনিষদারন্তে ‘ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” ইতারব্ধয্যং, তস্মাদাবভ্য জ্ঞানোপদেশাৎ; ‘উষা বা অম্বস্য’ ইত্যারম্ভস্তু ন যুক্তঃ, সাক্ষাদ অত্র তদনুত্তেঃ, ইত্যাশঙ্কা অম্মাদারভ্য উপনিষদারন্তে অভীষ্ট ফলম্ অভিধিৎসমানঃ প্রথমস্ অশ্বমেধোপাসন- ফলমাহ—অন্য দ্বিতি। রাজযজ্ঞত্বাদ্ অশ্বমেধস্থ্য তদনধিকারিণামপি ব্রাহ্মণাদীনাং তৎ- ফলার্থিনাম্ অম্মাদেব উপাসনাৎ তদাপ্তিরিতি মহত্ত্বা শ্রুতৌ তদুপাসনোক্তিরিত্যর্থঃ। কিমত্র নিযামকম্? ইত্যাশঙ্ক্য বিকল্পশ্রবণ’ কেবলস্যাপি জ্ঞানস্ত সাধনত্ব’ সূচরতি, ইত্যর্থতো বিকল্প- শ্রুতিমুদাহরতি—বিদ্যয়েতি। ‘তৎফলপ্রাপ্তি’রিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। তত্রৈব শ্রুত্যন্তরমাহ— তদ্ধেতি। তদেতৎ প্রাণদর্শনং লোকপ্রাপ্তিসাধন’ প্রসিদ্ধমিতি যাবৎ। ‘আদি‘-শব্দেন কেবলোপান্ত্যা ব্রহ্মলোকান্তিবাদিস্তঃ শ্রুতয়ো গৃহন্তে।

অশ্বমেধে বন্ধুপাসন’, তস্যাপি অশ্বাদিবৎ তচ্ছেযত্বেন ফলবদ্বাৎ ন স্বাতন্ত্র্যেণ তদ্বস্বম্, অঙ্গেযু স্বতন্ত্রফলাভাবাদিতি শঙ্কতে-কর্মবিষয়ত্বমিতি। জ্ঞানস্য ক্রত্বর্থত্ব দূষয়তি-নেতি। পূর্ব্বত্র অর্থতো দর্শিতা’ বিকল্পশ্রুতিম্ অত্র হেতুতয়া স্বরূপতঃ অনুক্রামতি-যোহশ্বমেধেনেতি। “স সব্বং পাপ্যানং তরতি, তরতি ব্রহ্মকৃত্যাম্” ইতি সম্বন্ধঃ। জ্ঞানকৰ্ম্মণোঃ তুলাফলত্বস্ত ন্যায্যবাদিতি শেষঃ। উপাস্তিকলপ্রুতে: অর্থবাদত্বমাশঙ্ক্য অস্বমেধবৎ উপান্তেরপি কর্ম্মহাৎ বিহিতত্বাৎ কৰ্ম্মপ্রকরণাদ ব্যুত্থিতত্বাচ্চ মৈবম্, ইত্যাহ-বিয়েতি। ফলশ্রুতেঃ অর্থবাদত্বাভাবে হেদ্বন্তরমাহ-কর্মান্তরে চেতি। অশ্বমেধাতিরিক্তে কর্মণি “অয়’ বাব লোকোহগ্নিঃ” ইত্যাদৌ চিত্যাগ্যাদৌ এতন্নোকাদিসম্পাদনস্থ স্বতন্ত্রফলোপাসনস্ত দর্শনাৎ ন ফলশ্রুতেঃ অর্থবাদতা ইত্যর্থঃ। অশ্বমেধোপাসন’ ন ক্রত্বর্থ, কি’ তু পুরুষার্থ; তত্র চ অধিকার: অশ্বমেধক্রত্বনধি কারিণামপীতি এতাবদেব ইষ্ট’ চেৎ, উপাসনে কর্মপ্রকরণস্থেপি তল্লাভাৎ বিদ্যাপ্রকরণে ন অস্যাধ্যয়নমর্থবৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-সর্ব্বেযা’ চেতি। পরত্বে হেতুঃ-সমষ্টীতি। অনুবৃত্তব্যাবৃত্তরূপ কিরণ্যগর্ভ-প্রাপ্তিহেতুত্বাৎ তন্য শ্রেষ্ঠতা ইত্যর্থঃ। তস্য পুণ্যশ্রেষ্ঠত্বেহপি প্রকৃত্তে কিমায়াতং, তদাছ-ভস্ত চেতি। যদা ক্রতুপ্রধানস্থ অশ্বমেধস্থ্য উপাস্তিসহিতস্তাপি সংসারফলত্বং, তদা অম্লীয়সাম্ অগ্নিহোত্রাদীনাঃ সংসারফলত্বং কিং বাচ্যম্, ইত্যস্মিন্ কর্মরাশৌ বন্ধহেতৌ বিরক্তাঃ সাধনচতুষ্টয়বিশিষ্ট। জ্ঞানমপেক্ষমাণাঃ তদুপায়ে শ্রবণাদৌ এব সর্ব্বকর্মসংস্থাসপূর্বকে কথং প্রবর্ত্তেরন্-ইত্যাশয়বতী শ্রুতিরুপাসনাং বিস্তারতে অভিদধাতি। তেন “উষা বা অশ্ব” ইত্যাদ্যপনিষদারতো যুক্তঃ, অন্ত বিশিষ্টাধি- ‘কারিসমর্পকত্বাদ ইত্যর্থঃ। উপাসনফলন্ত সংসারগোচরদ্বমেব কুতঃ সিদ্ধস্? অন্ত আহ-তথা

ভাষ্যভূমিকা। ১৭

চেতি। অশনায়া হি মৃত্যুঃ, “স বৈ নৈব রেমে, সঃ অবিভেৎ”ইতি ভযারত্যাদিশ্রবণাৎ উপাস্তি- যুক্তক্রতুফলস্য সূত্রস্য বন্ধমধ্যপাতিত্বাৎ বিশিষ্টোহপি ক্রতুঃ ন-মুক্তযে পর্য্যাপ্নোতীত্যর্থঃ।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

এই অশ্বমেধ কৰ্ম্মসম্বন্ধী বিজ্ঞানের(অর্থাৎ এই বৃহদারণ্যকোপনিষদের প্রথমে উপদিষ্ট অশ্বমেধ যজ্ঞেব রূপক-কল্পনার) উদ্দেশ্য এই যে, অশ্বমেধ যজ্ঞে যাহাদের অধিকার নাই, সেই ব্রাহ্মণপ্রভৃতিও যে, এব বিধ বিজ্ঞান হইতেই প্রকৃত অশ্বমেধ যজ্ঞের যথাযথ ফল লাভ করিতে পাবিবে,(৭) তাহা ‘বিদ্যা অথবা কৰ্ম্ম’ দ্বারা[যথোক্ত ফলপ্রাপ্তি হয়’] এবং ‘সেই এই প্রাণবিজ্ঞান নিশ্চয়ই লোক- প্রাপ্তির সাধন’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে[জানা যায়]।

যদি বল, কর্মই উক্ত বিজ্ঞানের বিষয়,(অর্থাৎ শাস্ত্রোক্ত অশ্বমেধ যজ্ঞেরই অঙ্গ- রূপে ঐরূপ উপাসনার বিধান করা হইয়াছে, স্বতন্ত্র ভাবে নহে;) না,—তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘যে লোক অশ্বমেধ যজ্ঞ করে, অথবা যে লোক যথোক্ত প্রকারে ইহা চিন্তা করে(=বিজ্ঞানসম্পন্ন হয়)’ এই শ্রুতিতে যজ্ঞ ও যজ্ঞ-বিজ্ঞানের বিকল্প(পৃথক্ অনুষ্টেয়ত্ব) কথিত হইয়াছে। বিশেষতঃ, উপাসনা-প্রকরণে পঠিত হওয়ার, এব অশ্বমেধাতিরিক্ত কর্ম্মেও এইপ্রকার বিজ্ঞানের উপদেশ দৃষ্ট হওয়ার বুঝা যাইতেছে যে, কেবল বিজ্ঞান হইতেও অশ্বমেধ যজ্ঞের ফললাভ হইয়া থাকে। অশ্বমেধ যজ্ঞ সর্ব্বকর্ম্মাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কর্ম্ম; কারণ, ইহা দ্বারা সমষ্টি-ব্যষ্টি—সমস্ত ফলই প্রাপ্ত হওয়া যায়।

ব্রহ্ম-বিদ্যার প্রারম্ভে যে, ইহার উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহার প্রধান উদ্দেশ্য হইতেছে—কর্মমাত্রেরই সংসার-বিষয়কত্ব(অর্থাৎ সা সাবিক ফলসাধকত্ব) প্রদর্শন করা। আর ফলভোগের ইচ্ছায় বা সকাম ভাবে কৃত কর্ম্মেব ফল যে মৃত্যু- প্রাপ্তি, তাহা পরেও প্রদর্শন করিবেন।

ভাষ্যভূমিকা।

ন নিত্যানাং সংসারবিষয়-ফলত্বমিতি চেৎ; ন; সব্বকৰ্ম্মফলোপসংহার- শ্রুতেঃ। সর্ব্বং হি পত্নীসম্বন্ধং কৰ্ম্ম; “জায়া, মে স্যাৎ, এতাবান্ বৈ কামঃ” ইতি নিসর্গত এব সর্ব্বকৰ্ম্মণাং কাম্যত্বং দশয়িত্বা, পুত্র-কর্মাপর- বিদ্যানাঞ্চ “অয়ং লোকঃ পিতৃলোকো দেবলোকঃ” ইতি ফল দর্শয়িত্বা,

(৭) তাৎপর্য্য—কর্ম্মকাণ্ডোক্ত অশ্বমেধযজ্ঞে একমাত্র ক্ষত্রিয় রাজাবই অধিকার; সুতরাং, ব্রাহ্মণাদি জাতি ঐ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে ও ফললাভে অধিকারী নহে। সেই জন্যই শ্রুতি কৃপাপরবশ হইয়া রূপক-যজ্ঞের উপদেশ দিয়াছেন। ব্রাহ্মণাদি জাতি ঐরূপ ভাবনার দ্বারাই— অশ্বমেধের ফললাভে সমর্থ হইবেন।

১৮. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যভূমিকা।

ত্রান্নাত্মকতাঞ্চ অন্তে উপসংহরিষ্যতি—“এয়ং বা ইদং নাম রূপং কৰ্ম্ম” ইতি। সর্ব্বকৰ্ম্মণাং ফলং ব্যাকৃতং সংসার এবেতি।

টাকা। উক্তে সর্ব্বকর্মণা’ বন্ধফলত্বে নিতানৈমিত্তিকানাং ন তৎফলত্ব, তেষাং বিধুদ্দেশে ফলাশ্রুতে: নষ্টাম্ব-দগ্ধরখস্তায়েন মুক্তিফলত্বলাভাদিতি শঙ্কতে-ন নিত্যানামিতি। “এতাবান্ বৈ কাম,” ইতি সর্ব্বকৰ্ম্মণাম্ অবিশেষেণ ফলসম্বন্ধশ্রবণাৎ পন্থাদেশ কাম্যফলত্বস্য তদ্বিধুদ্দেশবশাৎ সিদ্ধত্বাৎ “কৰ্ম্মণা পিতৃলোকঃ” ইতি বাক্যস্য কিত্যাদিকর্ম্মফলবিষয়ত্বাৎ ন মোক্ষফলদ্বাশঙ্কা, ইতি পরিহরতি-নেতি। উক্তমেব স্ফুটয়তি-সর্ব্বং হীতি। পত্নীসম্বন্ধে মানমাহ--জায়েতি। তথাপি কথ’ কৰ্ম্মণ: সর্বস্থ্য কামোপায়ত্বং, তত্রাহ-এতাবান্ বৈ কাম ইতি। কথং তর্হি তেষা ফলভেদো লভাতে, তত্রাহ-পুত্রেতি। অথৈব’ ফলবিভাগে কথং সমষ্টিব্যষ্টিপ্রাপ্তিফলত্বম্ অশ্ব মেধস্যোক্তম্, অত আহ-ত্রান্নাত্মকতাং চেতি। অস্যাধ্যায়স্য অবসানে কর্ম্মফলস্য হিরণ্যগর্ভ- রূপতা’ ত্রয়মিত্যাখ্যা শ্রুতিঃ উপসংহরিষ্কৃতীতার্থ। উপসংহারশ্রুতেঃ তাৎপয্যমাহ- সর্ব্বকৰ্ম্মণামিতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

যদি বল, না-নিত্যকর্ম্মেবও ফল সংসারবিষয়ক নহে, অর্থাৎ নিত্যকর্ম দ্বারা যে ফল লাভ হয়, তাহা সাংসারিক ফলাপেক্ষা উৎকৃষ্টও হইতে পারে। না,--তাহাও বলিতে প’র না; কেন না, এই অধ্যায়েরই শেষভাগে সমস্ত কর্মফলের যেরূপ উপস’হার করা হইয়াছে, তাহাতে দেখা যায় যে, কর্মের সর্ব্বোচ্চ ফল হইতেছে- হিরণ্যগর্ভত্ব-প্রাপ্তি পর্য্যন্ত, সেই হিরণ্যগর্ভও ত সংসারের বাহিরে নহেন। বিশে ষতঃ, কৰ্ম্মমাত্রই পত্নী-সম্বন্ধ, কাবণ, ‘আমার পত্নী হউক’, ‘এই পর্য্যন্তই আমার কামনার বিষয়’, এই সকল স্থলে কাম্য ফলবিবয়েই সমস্ত কর্মের প্রবৃত্তি প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং পুত্র, কৰ্ম্ম ও অপসা বিদ্যার[--ব্রহ্মবিদ্যাভিন্ন বিস্তার] আবার ইহলোক, পিতৃলোক ও দেবলোকরূপ ফল নির্দেশ করিয়াছেন, (অর্থাৎ পুত্রের ফল ইহলোক, কর্মের ফল পিতৃলোক আর অপরা বিস্তার ফল দেবলোকপ্রাপ্তি, এইরূপে ফলবিভাগ প্রদর্শন করিয়াছেন)। তাহার পর উপসংহারকালেও ‘স্থূলসূক্ষ্মাত্মক এই জগৎ ত্রিবিধ-নাম, রূপ(আকৃতি) ও কর্মাত্মক’; এই কথা বলিয়া জগতের এ্যন্নাত্মকতা অর্থাৎ ত্রিবিধ অন্নরূপত্ব প্রদর্শন করিবেন(৮)। অতএব, নামরূপাভিব্যক্ত এই সংসারই যে, সমস্ত কর্মের প্রাপ্তব্য ফল, তাহা বেশ বুঝা যাইতেছে।

ভাষ্যভূমিকা। ১৯

ভাষ্যভূমিকা।

ইদমেব ত্রয়ং প্রাগুৎপত্তেঃ তহি অব্যাকৃতমাসীৎ। তদেব পুনঃ সর্ব্ব- প্রাণিকৰ্ম্মবশাদ ব্যাক্রিয়তে বীজাদিব বৃক্ষঃ। সোহরং ব্যাক্বতাব্যাকৃতরূপঃ সংসারঃ অবিদ্যাবিষয়ঃ। ক্রিয়াকারক-ফলাত্মকতয়া আত্মরূপত্বেন অধ্যা- রোপিতঃ অবিদ্যরৈব মূর্তামূর্ত-তদ্বাসনাত্মকঃ, অতো বিলক্ষণঃ, অনাম-রূপ- কর্মাত্মকঃ অন্বয়ঃ নিত্যশুদ্ধবুদ্ধমুক্তস্বভাবোহপি ক্রিয়াকারক-ফলভেদাদি- বিপর্যয়েণ অবভাসতে। অতঃ অগ্নাৎ ক্রিয়াকারক-ফলভেদস্বরূপাৎ ‘এতাবৎ ইদম্’ ইতি সাধ্য-সাধনরূপাদ বিরক্তস্য কামাদিদোষ-কর্মবীজভূতাবিদ্যা- নিবৃত্তয়ে রজ্জামির সর্পবিজ্ঞানাপনয়ার ব্রহ্মবিদ্যারভ্যতে।

টাকা। কৰ্ম্মফলং সংসারশ্চেৎ, প্রাক্ তদনুষ্ঠানাৎ তদভাবাৎ মুক্তানাং পুনর্বন্ধঃ স্যাৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-ইদমেবেতি। ‘তহি’ তস্যামবস্থায়ামিতি যাবৎ। তন্য পুনর্ব্যাকরণে কারণমাহ- তদেবেতি। ব্যাকৃতাব্যাকৃতাত্মনঃ সংসারস্ত প্রামাণিকত্বেন সতাহমাশঙ্ক্য অবিদ্যাকৃতত্বেন তস্মিখ্যাত্বমুক্তং স্মারয়তি-সোহয়মিতি। স এব হি ভ্রান্তিবিষয়ো ন প্রামাণিকঃ, তৎ কুতোহস্য সত্যতা ইত্যর্থঃ। কথমস্যাত্মনি অদ্বয়ে কুটন্থে প্রাপ্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ক্রিয়েতি। সমারোপে মূলকারণমাহ-অবিদ্যয়েতি। আত্মনি অবিদ্যারোপিতং দ্বৈতম্, ইতত্র “দ্বে বাব ব্রহ্মণো রূপে মূর্ত্তং চৈবামূর্ত্তং চ” ইত্যাদিবাকাং প্রমাণয়তি-মূর্ত্তেতি। নমু আত্মন্যারোপো ন উপপদ্যতে, তন্ত নিত্যশুদ্ধবুদ্ধমুক্তস্বভাবস্ত দ্বৈতবিলক্ষণত্বাৎ, অসতি সাদৃশ্যে অধ্যাসাসিদ্ধেঃ; অত আহ- অত ইতি। সংসারাদ্বৈলক্ষণ্যমেব প্রকটয়তি-অনামেতি। ‘আদি’-পদেন অন্যেহপি বিপর্যয়- ভেদাঃ সংগৃহন্তে। আরোপে ‘প্রমিণোমি করোমি ভুঞ্জে চ’ ইতামুভব’ প্রমাণয়তি-অবভাসত- ইতি। আত্মন্যধ্যাস: সাদৃশ্যাদ্যভাবেহপি নজসি মলিনত্বাদিবৎ যতোহনুভূয়তে, অতঃ মবিলাসা- বিজ্ঞানিবর্তক-ব্রহ্মবিদ্যার্থত্বেন উপনিষদারম্ভঃ সম্ভবতি, ইত্যুপসংহরতি-অত্র ইতি। এতাব- দিতি অনর্থাত্মত্বোক্তিঃ। তত্ত্বজ্ঞানাৎ অজ্ঞাননিবৃত্তৌ দৃষ্টান্তমাহ-রজ্জামিবেতি।

ভাষ্যভূমিকানুবাদ।

এই তিনটিই অর্থাৎ উক্ত নাম, রূপ ও কৰ্ম্মই উৎপত্তির পূর্ব্বে অব্যাকৃত বা অনভিব্যক্ত অবস্থায় ছিল; বীজ হইতে যেরূপ বৃক্ষ বহির্গত হয়, তদ্রূপ

ভোগ্য; এই জন্য অন্নসংজ্ঞার পরিচিত। কর্ম্মের চূড়ান্ত ফল হইতেছে—হিরণ্যগর্ভত্ব প্রাপ্তি, সেই হিরণ্যগর্ভও যখন নামরূপকর্ম্মাত্মক সংসারের অতীত নহে, তখন অপরের আর কথা কি? বিশেষ এই যে, পুত্র দ্বারা ইহলোকে প্রতিষ্ঠাদি লাভ হয়, জ্ঞানরহিত কর্ম্ম দ্বারা পিতৃলোক লাভ হয়, আর অপরা বিদ্যা দ্বারা—যাহা ব্রহ্মবিদ্যা নহে, সেই বিদ্যা দ্বারা—দেবলোক লাভ হয়, কিন্তু কোনবস্তুই কর্ম্ম দ্বারা সাক্ষার সম্বন্ধে মুক্তিলাভ সম্ভব হয় না।

২০. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যভূমিকামূত্রাদঃ।

সেই তিনটিই জীবগণের প্রাক্তন কর্ম বা অদৃষ্ট বশতঃ স্থূলরূপে অভি- ব্যক্ত হইল। সেই এই সংসারের(জগতের) অবস্থা দুইপ্রকার-ব্যাকৃত (স্থূল) ও অব্যাকৃত(সূক্ষ্ম)। এই উভয়াবস্থার সংসারই অবিদ্যার অধিকারে বর্তমান, অথচ অবিদ্যাকর্তৃকই আত্মাতে ক্রিয়া, কারক ও ফলরূপে অধ্যারোপিত (আরোপিত),(৯) এবং মূর্ত্ত(স্থূল-আকৃতিসম্পন্ন), অমুর্ত্ত(সূক্ষ্ম- স্থূলাবয়বরহিত) ও তদ্বিষয়ক সংস্কারময়। পরব্রহ্ম ঠিক ইহার বিপরীত-নাম‘- রূপ-কর্ম-সম্বন্ধশূন্য অদ্বিতীয় এবং স্বভাবতই নিত্যশুদ্ধমুক্তস্বরূপ; কিন্তু তথাপি (১০) অবিদ্যা-বিভ্রমে ক্রিয়া, কারক ও ফলাদিভেদে বিভিন্নাকারে প্রতিভাসমান হইয়া থাকেন। এইজন্য ‘ইহা এই পর্য্যন্তই’, অর্থাৎ ক্রিয়াদি সমস্তই পরিচ্ছিন্ন ও বিনাশাদি-দোষগ্রস্ত, এইরূপ ভাবনাবশে যাহারা সাধ্য-সাধনাত্মক বা কার্য্য- কারণভাবাত্মক ক্রিয়া-কারক-ফলাদিবিভাগময় সংসার হইতে বিরক্ত বা অনাসক্ত, বৈরাগ্যসম্পন্ন সেই সমস্ত পুরুষেরই রঞ্জুতে সর্পভ্রম-নিবৃত্তির ন্যায়, কামাদি দোষের ও কর্ম্মের বীজভূত অবিদ্যানিবৃত্তির জন্য এই ব্রহ্মবিদ্যা(উপনিষৎ) আরব্ধ হইতেছে।

(৯) তাৎপর্য্য—‘অধ্যারোপ’ কথাটি বেদান্তশাস্ত্রে বিশেষার্থে পরিভাষিত, ‘অধ্যাস’ ইহার নামান্তর। ইহার পরিচয় এই প্রকার;—‘বস্তুস্থাবস্থারোপোহধ্যারোপঃ’(বেদান্তসার)। অর্থাৎ কোন একটি সত্য পদার্থের উপর অপর কোন অসত্য পদার্থের যে, আরোপ বা অজ্ঞানমূলক কল্পনা, তাহাই অধ্যারোপ। যেমন—ব্যবহারজগতে রজ্জু একটি সত্য পদার্থ; অজ্ঞানের ফলে তাহাকে সর্পরূপে মনে করা হয়। এই রজ্জুতে যে সর্পজ্ঞান, ইহাই অধ্যারোপ; সুতরাং সর্প সেখানে অধ্যারোপিত। এই প্রকার, ব্রহ্ম নিত্য নিষ্পাপ ও মুক্তস্বভাব এবং অদ্বিতীয়, কিন্তু অজ্ঞান তাহাতে ভ্রান্তিময় অনিত্য জগৎ-ভেদ অধ্যারোপিত করিয়া দেয়। স্মরণ রাখিতে হইবে যে, অধ্যারোপ যতই হউক না কেন, সেই আরোপিতের দোষগুণে আরোপাধার সত্য বস্তুটি কখনও বিকৃত বা পরিবর্তিত হয় না, প্রকৃত পক্ষে অবিকৃত নিজ স্বভাবেই থাকে। অতএব এই বিশাল জগৎপ্র’ঞ্চের আরোপেও ব্রহ্মের কিছুমাত্র ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না।

(১০) তাৎপর্য্য—নিত্য অর্থ কোন কালে বা কোন দেশে কোনও রূপে যাহার বিনাশ বা পরিবর্তন না ঘটে। কিন্তু সাংখ্যবাদীরা বলেন,—বিকার বা পরিবর্তন হইলেও যাহার অত্যন্ত উচ্ছেদ না হয়, তাহাও নিত্য। এই নিয়মানুসারে তাঁহারা চিরবিকারশীলা প্রকৃতিকেও নিত্য বলেন: কারণ, প্রকৃতির বিকার হয় সত্য, কিন্তু একেবারে ধ্বংস বা উচ্ছেদ হয় না; সুতরাং তাহাদের মতে নিত্য পদার্থ দুই প্রকার;—(১) পরিণামী নিত্য, ও(২) কূটস্থ নিত্য। চাহাদের মতেপুরুষ(আত্মা) ভিন্ন আর কিছুই কূটস্থ নিত্য নাই; আর বেদান্তমতে কূটস্থ নিত্য প্রকৃতির আর কিছুমাত্রই নিত্য পদার্থ নাই; অপর সকলের নিত্যতা কেবল আপেক্ষিক মাত্র।

ভাষ্যভূমিকা। ২১

ভাষ্যভূমিকা।

তত্র তাবদ্ অশ্বমেধবিজ্ঞানায় “উবা বা অশ্বস্য” ইত্যাদি। তত্র অশ্ববিষয়মের দর্শনমুচ্যতে, প্রাধান্যাদশ্বস্য। প্রাধান্যঞ্চ তন্নামাঙ্কিতত্বাৎ ক্রতোঃ প্রাজাপত্যত্বাচ্চ।

টাকা। এবম্ উপনিষদারম্ভে স্থিতে প্রাথমিকব্রাহ্মণয়োঃ অবান্তরতাৎপর্য্যমাহ-তত্র তাবদিতি। আদ্যন্য পুনঃ অবান্তরতাৎপৰ্য্যং দর্শয়তি-তত্রেতি। ননু অশ্বমেধস্য অঙ্গবাহুল্যে কস্মাৎ অশ্বাখ্যাঙ্গবিষয়মের উপাসনমুচাতে, তত্রাহ-প্রাধান্যাদিতি। তদেব কথমিতি, তদাহ- প্রাধান্যং চেতি। প্রজাপতিদেবতাকত্বাচ্চ অশ্বস্য প্রাধান্যমিত্যাহ-প্রাজাপত্যত্বাচ্চেতি।

ভাষ্য ভূমিকানুবাদ।

অশ্বমেধ যজ্ঞবিষয়ে বিজ্ঞান সমুৎপাদনার্থ প্রথমে “উবা বা অশ্বস্য” ইত্যাদি বাক্য আরব্ধ হইতেছে। তন্মধ্যেও আবার সর্ব্বপ্রথমে অশ্ববিষয়ক দৃষ্টির (রূপক-বিজ্ঞানের বিষয়) কথিত হইতেছে; কারণ, অশ্বই অশ্বমেধ যজ্ঞের প্রধান অঙ্গ। ঐ যজ্ঞটি অশ্বের নামে পরিচিত, এবং প্রজাপতি উহার দেবতা; এই উভয় কারণে অশ্বের প্রাধান্য বুঝিতে হইবে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ।

[ ব্রাহ্মণক্রমেণ তু তৃতীয়োহধ্যায়ঃ।]

[ উপনিষ্দারম্ভঃ।]

প্রথমং ব্রাহ্মণম্।

ওঁম্ উষা বা অশ্বস্য মেধ্যস্য শিরঃ সূর্য্যশ্চক্ষুর্বাতঃ প্রাণো ব্যাত্তমগ্নির্বৈশ্বানরঃ সংবৎসর আত্মা অশ্বস্য মেধ্যস্য। দ্যৌঃ পৃষ্ঠমন্তরীক্ষমুদরং পৃথিবী পাজস্যম্ দিশঃ পার্শ্বে অবান্তরদিশঃ পর্শব ঋতবোহঙ্গানি মাসাশ্চার্দ্ধমাসাশ্চ পর্ব্বাণ্যহোরাত্রাণি প্রতিষ্ঠা নক্ষত্রাণ্যস্থীনি নভো মাংসানি। উবধ্য সিকতাঃ সিন্ধবো গুদা যকৃচ্চ ক্লোমানশ্চ পর্ব্বতা ওষধয়শ্চ বনস্পতয়শ্চ লোমানি উদ্যন্ পূর্ব্বার্দ্ধো নিম্নোচন্ জঘনার্দ্ধো যদ্বিজৃম্ভতে তদ্বিদ্যোততে যদ্বিধূনুতে তৎ স্তনয়তি যম্মেহতি তদ্ বর্ষতি বাগেবাস্য বাক্ ॥ ১ ॥

সরলার্থঃ।

সচ্চিদানন্দ-সন্দোহ-সন্দীপিত-কলেবরম্। সানন্দং জগদানন্দং বন্দে শ্রীনন্দ-নন্দনম্ ॥ প্রণম্য গুরুপাদাজং স্বত্বা শঙ্করভাষিতম্। বৃহদারণ্যকে ব্যাখ্যা সরলাখ্যা বিতন্যতে ॥

সরলার্থঃ—অনান্যবিদ্যাসমুখ-জন্মমরণপ্রবাহ প্রসার-সংসার-সাগর-নিমগ্নান্ জীবান্ ব্রহ্মজ্ঞানোপদেশেন সমুদ্দিধীর্ষু: শ্রুতিয়ারাদুপকারায় সুখবোধায় চ প্রথমং কর্মাঙ্গাশ্রয়মুপাসনং বক্তৃমুপক্রমতে। তত্রাপি যজ্ঞেষু অশ্বমেধস্য শ্রেষ্ঠত্বাৎ, তদঙ্গস্থ্য চ অশ্বস্থ্য প্রজাপতিদৈবতত্ত্বাদ্ অশ্ববিষয়কমেব বিজ্ঞানং প্রথমং প্রস্তৌতি “উষা বৈ” ইত্যাদিভিঃ।

উষাঃ(ব্রাহ্মো মুহূর্ত্তঃ)। বৈ-শব্দঃ(স্মারণার্থকঃ—প্রসিদ্ধকালমারকঃ)। যেধ্যন্ত(পবিত্রস্ত যজ্ঞীয়স্ত) অমৃত শিরঃ(মস্তকং) উষাঃ;(অশ্বশিরসি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ২৩

উষোবুদ্ধিঃ করণীয়া, শ্রেষ্ঠত্বসাম্যাদিত্যর্থঃ)। চক্ষুঃ সূর্য্যঃ(শিরঃসান্নিধ্যাৎ); প্রাণঃ(পঞ্চবৃত্ত্যাত্মকঃ) বাতঃ,(বায়ুস্বরূপত্বাৎ প্রাণস্য); ব্যাত্তং(মুখবিষরং) বৈশ্বানরঃ অগ্নিঃ,(মুখস্যাগ্নিদেবতাকত্বাৎ); আত্মা(শরীরং) সংবৎসরঃ (দ্বাদশাদিমাসাত্মকঃ কালঃ, অবয়বসমষ্টিরূপত্বাৎ); পৃষ্ঠ, দ্যৌঃ(দ্যুলোকঃ, উদ্ধত্বসাম্যাৎ); উদরম্ অন্তরীক্ষং(আকাশম্, অবকাশরূপত্বাৎ); পাজন্তং (পাদস্যং পাদাধারস্থান,) পৃথিবী; পার্শ্বে দিশঃ, পর্শব’(পার্থাস্থীনি) অবান্তর- “দিশঃ; অঙ্গানি(অবয়বাঃ) ঋতরঃ(বসন্তাদ্যা, ১ বৎসবাঙ্গত্বাৎ); পর্ব্বাণি (অঙ্গসন্ধরঃ) নাসাঃ চ অন্ধমাসাঃ(পক্ষাঃ) চ, প্রতিষ্ঠাঃ(পাদাঃ) অহো- বাত্রাণি; অস্থানি নক্ষত্রাণি; মা সানি নভঃ(আকাশস্থাঃ মেঘাঃ); উবধাং (উদরস্থমর্দ্ধজীর্ণমন্ন) সিকতাঃ(বালুকাঃ, বিশীর্ণতাসাম্যাৎ); গুদাঃ(মলদ্বারং. বদ্বা বহুবচনসামর্থ্যাৎ স্যন্দনসামান্যাচ্চ নাড্যঃ) সিন্ধব’(নদ্যঃ); যকৃৎ চ ক্লোমানঃ(প্লীহা) চ পর্ব্বতাঃ; লোমানি ওষধযঃ ১ বনস্পতয়ঃ চ; পূর্ব্বার্দ্ধঃ (দেহস্য পূর্বভাগঃ) উদ্যন্(উদগচ্ছন্ সূর্য্যঃ); জঘনাদ্ধ’(উত্তরার্দ্ধঃ) নিম্নোচন্ (অন্তং গচ্ছন্ সূর্য্যঃ), যৎ বিজৃম্ভতে(অশ্বঃ গাত্রাণি বিক্ষিপতি), তৎ বিদ্যো- ততে,(বিজৃণস্থ্য বিদ্যোতনসাম্যাৎ); যৎ বিধুনুতে। গাত্রাণি কম্পয়তি), তৎ স্তনয়তি,(মেঘগর্জনসাম্যাং বিধূননস্থ্য), যৎ মেহতি অশ্ব. মুত্রং ত্যজতি), তং বর্ষতি(জলবর্ষসাম্যাং মেহনস্থ্য); অন্য(অশ্বস্থ্য) বাক(শব্দঃ) এব বাক্ (নাত্র পৃথক্ কল্পনমিত্যর্থঃ)। অত্রেদং বোধ্য‘-স খলু শাস্ত্রোক্তাশ্বমেধযজ্ঞাধিকারিণ, তেষামের যজ্ঞাঙ্গে অশ্বে সংস্কারাধানস্য আবশ্যকত্বাৎ অশ্বাঙ্গেষু উষ, প্রভৃতিদৃষ্টয়’ কর্তব্যাঃ, যে পুনর- শ্বমেধে অনধিকারিণ, বাহ্মণাদয়ঃ, তেষান্ত উযঃপ্রভৃতিঘের অশ্বাঙ্গদৃষ্টয়ঃ করণীয়- তরা বিধীয়ন্তে; অতএব তে জ্ঞানযজ্ঞা ইত্যভিধীয়ন্তে ॥ ১

মূলানুবাদ—অশ্বমেধ-যজ্ঞীয় অশ্বের মস্তকাদি অঙ্গে উষাকাল প্রভৃতি চিন্তার বিধান হইতেছে,—যজ্ঞীয় অশ্বের মস্তক হইতেছে উষা অর্থাৎ ব্রাহ্ম মুহূর্ত্ত; চক্ষু হইতেছে সূর্য্য; প্রাণ হইতেছে বায়ু; ব্যাত্ত মুখবিবর হই- তেছে বৈশ্বানরনামক অগ্নি; দেহ হইতেছে সংবৎসর; পৃষ্ঠ হইতেছে দ্যুলোক (স্বর্গ); উদর হইতেছে অন্তরিক্ষ; পাদাধিষ্ঠান(খুর) হইতেছে পৃথিবী; পার্শ্ব- দ্বয় হইতেছে দিক্সমূহ; পার্শ্বস্থ অস্থিসমূহ হইতেছে অবান্তর দিক্সমূহ(কোণ- সমূহ); অন্যান্য অঙ্গ হইতেছে ছয় ঋতু; অঙ্গসন্ধিসমূহ হইতেছে মাস ও অর্দ্ধ- মাস(এক এক পক্ষ); প্রতিষ্ঠা বা পদসমূহ হইতেছে দিনরাত; অস্থিসমূহ

২৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

হইতেছে নক্ষত্রমণ্ডল; মাংস হইতেছে আকাশস্থ মেঘমালা; উদরস্থ অর্দ্ধজীর্ণ ভুক্তান্ন হইতেছে বালুকারাশি; নাড়ীসমূহ হইতেছে নদীসংঘ; যকৃৎ ও গ্লীহা হইতেছে পর্বতরাশি; লোমসমূহ হইতেছে তৃণ ও বৃক্ষরাজি; পূর্ব্বার্দ্ধ হইতেছে উদীয়মান সূর্য্য; আর পশ্বাদভাগ হইতেছে অস্তগামী সূর্য্য; অশ্ব যে জৃন্তন করে—শরীরবিক্ষেপ করে, তাহা হইতেছে মেঘের বিদ্যুৎসঞ্চার; আর অশ্ব যে শরীর কম্পন করে, তাহা হইতেছে মেঘ গর্জন, এবং অশ্ব যে মূত্রত্যাগ করে, তাহাই মেঘের বারিবর্ষণ; অশ্বের শব্দই মেঘের শব্দ ॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—‘উষা’ ইতি। ব্রাহ্মো মুহূর্ত্ত উষাঃ; বৈ-শব্দঃ স্মার- ণার্থঃ, প্রসিদ্ধং কালং স্মারয়তি। শিরঃ, প্রাধান্যাৎ; শিরশ্চ প্রধানং শরীরা- বয়বানাম্। অশ্বস্থ্য মেধ্যস্তু মেধাইস্থ্য যজ্ঞিয়স্য উষাঃ শির ইতি সম্বন্ধঃ। কর্ম্মাঙ্গস্থ্য পশোঃ সংস্কর্তব্যত্বাৎ কালাদিদৃষ্টয়ঃ শিরআদিষু ক্ষিপান্তে। প্রাজাপত্যত্বঞ্চ প্রজা- পতিদৃষ্ট্যধ্যারোপণাৎ। কাল-লোক-দেবতাত্বাধ্যারোপণঞ্চ প্রজাপতিত্বকরণং পশোঃ। এবংরূপো হি প্রজাপতিঃ; বিষ্ণুত্বাদিকরণমিব প্রতিমাদৌ।

সূর্য্যশ্চক্ষুঃ, শিরসোহনন্তরত্বাৎ সূর্য্যাধিদৈবতত্ত্বাচ্চ; বাতঃ প্রাণঃ, বায়ু- স্বাভাব্যাৎ; ব্যাত্তং বিবৃত মুখম্ অগ্নির্ব্বৈশ্বানরঃ; বৈশ্বানর ইত্যগ্নেব্বিশেষণম্; বৈশ্বানরো নামাগ্নিঃ বিবৃতমুখমিত্যর্থঃ, মুখস্যাগ্নিদৈবতত্ত্বাৎ। সা বৎসর আত্মা; সংবৎসরে দ্বাদশমাস স্বরোদশমাসো বা। আত্মা শরীরম্; কালাবয়বানাঞ্চ সংবৎসরঃ শরীরং, শরীরঞ্চাত্মা, “মধ্যং হেযামঙ্গানামাত্মা” ইতি শ্রুতেঃ। অশ্বস্ত মেধ্যস্তেতি সর্ব্বত্রানুষঙ্গার্থং পুনর্বচনম্।

দ্যৌঃ পৃষ্ঠম্, উর্দ্ধত্ব-সামান্যাৎ। অন্তরিক্ষমুদরম, সুবিরত্ব-সামান্যাৎ। পৃথিবী পাজস্তম্; পাদস্তমিতি বর্ণব্যত্যয়েন, পাদাসনস্থানমিত্যর্থঃ। দিশ- শ্চতস্রোহপি পার্শ্বে, পার্শ্বেন দিশাং সম্বন্ধাৎ। পার্শ্বয়োদ্দিশাঞ্চ সংখ্যাবৈষম্যাৎ অযুক্তমিতি চেং; ন; সর্বমুখত্বোপপত্তেঃ; অশ্বস্ত পার্শ্বাভ্যামেব সর্ব্বদিশাং সম্বন্ধাদ অদোষঃ। অবান্তরদিশঃ আগ্নেয্যাদাঃ পর্শবঃ পার্শ্বাস্থীনি; ঋভবঃ অঙ্গানি, সংবৎসরাবয়বদ্বাৎ অঙ্গলাধৰ্য্যাৎ। মাসাশ্চার্দ্ধমাসাশ্চ পর্ব্বাণি সন্ধয়ঃ, সন্ধি- সামান্তাৎ। অহোরাত্রাণি প্রতিষ্ঠাঃ; বহুবচনাৎ প্রাজাপত্য-দৈব-পিত্র্য মানুষানি; প্রতিষ্ঠাঃ পাদাঃ, প্রতিষ্ঠিততি এতৈরিতি; অহোরাত্রৈঃ হি কালাত্মা প্রতিনিষ্ঠতি, অশ্বশ্চ পাদৈঃ। নক্ষত্রাণি অস্থীনি, গুরুত্বসামান্যাৎ। নড়ঃ নভঃস্থাঃ -মেঘাঃ, অন্তরিক্ষ উদয়তোক্তেঃ; মাংসানি, উদক-রুধির-সেচেন-সামান্যাৎ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ২৫

উবধ্যাম্ উদরস্থম্ অর্দ্ধজীর্ণমশনং সিকতাঃ, বিশ্লিষ্টাবয়বত্ব-সামান্যাৎ। সিন্ধবঃ হৃন্দনসামান্যাৎ নদ্যঃ গুদাঃ নাড্যঃ, বহুবচনাচ্চ। যকৃচ্চ ক্লোমানশ্চ হৃদয়স্যাধস্তাৎ দক্ষিণোত্তরো মাংসখণ্ডৌ; ক্লোমান ইতি নিত্যং বহুবচনমেকস্মিন্নেব; পর্ব্বতাঃ, কাঠিন্যাদচ্ছিতত্বাচ্চ। ওষধয়শ্চ ক্ষুদ্রাঃ স্থাবরাঃ, বনস্পতয়ো মহান্তঃ, লোমানি কেশাশ্চ যথাসম্ভবম্। উদ্যন্ উদগচ্ছন্ ভবতি সবিতা আ মধ্যাহ্নাদশ্বস্য পূর্ব্বাদ্ধঃ নাভেরূর্দ্ধমিত্যর্থঃ। নিম্নোচন্ অস্তং যন্ আ মধ্যাহ্নাং জঘনার্দ্ধোহপরাদ্ধঃ, পূর্ব্বাপাতসাধর্ম্ম্যাং। যদ্ বিজৃম্ভতে গাত্রাণি বিনামরতি বিক্ষিপতি, তৎ বিদ্যোততে, বিদ্যোতনং মুখ-ঘনবিদারণসামান্যাৎ। যৎ বিধুনুতে গাত্রাণি কম্পয়তি, তং স্তনয়তি, গর্জনশব্দসামান্যাৎ। যৎ মেহতি মূত্রং করোত্যশ্বঃ, তদ্ বর্ষতি, বর্ষণ তৎ সেচনসামান্যাৎ। বাগেন শব্দ এবাস্থ্য অশ্বস্য বাক্, ইতি নাত্র কল্পনেত্যর্থঃ ॥ ১ ॥

টাকা। প্রত কমাদায় ব্যাচষ্টে-উষা ইত্যাদি। স্মরণার্থহমেব নিপাতস্থ্য স্ফুটয়তি- প্রসিদ্ধমিতি। শান্ত্রয়ে লৌকিকে চ ব্যবহারে প্রসিদ্ধো ব্রাহ্মো মুহূর্ত্তঃ, তং কালমিতি যাবৎ। ঊষসি শিরঃশব্দ প্রয়োগে দিনাবয়বেষু তস্য প্রাধান্যং হেতুমাহ-প্রাধান্যাদিতি। তথাপি কথং তত্র তচ্ছব্দ প্রয়োগঃ, তত্রাহ-শিরশ্চেতি। আশ্বমেধিকাশ্বশিরসুষসো দৃষ্টিঃ কর্তব্যা, ইত্যাহ- অশ্বস্তেতি। কালাদিদৃষ্টিরস্বাঙ্গেষু কিমিতি ক্ষিপতে, অশ্বাঙ্গদৃষ্টিরের তেষু কিং ন স্যাৎ, ইত্যা- শঙ্ক্যাহ-কর্মাঙ্গস্যেতি। অঙ্গেষু অনঙ্গমিতি ক্ষেপে হেত্বস্তরমাহ-প্রাচাপত্যত্বঞ্চেতি। অশ্বস্থ্য সেংস্ততীতি শেষঃ। তত্র হেতুঃ-প্রজাপতীতি। ননু কালাদিদৃষ্টয়ঃ অশ্বাবয়বেষু আরোপ্যন্তে, ন তস্য প্রজাপতিত্বং ক্রিয়তে, তত্রাহ-কালেতি। কালাদ্যাত্মকো হি প্রজাপতিঃ। তথাচ যথা প্রতিমায়াং বিষ্ণুত্বকরণং তদৃষ্টিঃ, তথা কালাদিদৃষ্টিঃ অশ্বাবয়বেষু তস্য প্রজাপতিত্বকরণম্। অশ্বমেধাধিকারী হি সতি অশ্বে কর্ম্মণে। বীৰ্য্যবত্তরদ্বার্থং কালাদিদৃষ্টিঃ অশ্বাবয়বেষু কুৰ্য্যাৎ, তদনধি- কারী তু অশ্বাভাবে স্বাত্মানম্ অশ্ব’ কল্পয়িত্বা স্বশিরঃপ্রভৃতিষু কালাদিদৃষ্টিকরণেন প্রজাপতিত্বং সম্পাদ্য প্রজাপতিঃ অশ্মীতি জ্ঞানাৎ তদ্ভাবং প্রতিপদ্যেত ইতি ভাবাঃ।

চক্ষুষি সুযাদৃষ্টৌ হেতুমাহ-শিরস ইতি। উষসোহনন্তরত্বং সুযে দৃষ্ট, চক্ষুসি চ শিরসো অনন্তরত্বং দৃশ্যতে, তস্মাৎ তত্র তদদৃষ্টিযুক্তা ইত্যর্থঃ। তত্রৈব হেত্বন্তরমাহ--সূযোতি। “আদিত্য- চক্ষুভূত্বা অক্ষিণী প্রাবিশৎ” ইতি শ্রুতেঃ, চক্ষুষি সূর্য্যোহধিষ্ঠাত্রী দেবতা, তেন সামীপ্যাৎ তত্র তদৃষ্টিরিত্যর্থঃ। অশ্বপ্রাণে বায়ুদৃষ্টৌ চলনস্বাভাবাং হেতুঃ। অশ্বস্য বিদারিতে মুখে ভবতু অগ্নিদৃষ্টিঃ, তথাপি পর্যায়োপাদানং ব্যর্থম্, ইত্যাশঙ্ক্য ক্রব্যাদাদিব্যাবৃত্তার্থ বিশেষণম্-ইত্যাহ- বৈশ্বানর ইত্যগ্নেরিতি। “অগ্নির্ব্বাগ্ ভূত্বা মুখং প্রাবিশৎ” ইতি শ্রুতিমাশ্রিতা মুখে তদদৃষ্টৌ হেতুমাহ-মুখস্থ্যেতি। অধিকমাসম্ অনুসৃত্য ত্রয়োদশমাসে বা ইত্যুক্তম্। শরীরে সংবৎসর- দৃষ্টিরিত্যত্র আত্মত্বং হেতুমাহ-কালেতি। আত্মা হস্তাদীনাম্ অঙ্গানামিতি শেষঃ। কালা- বয়বানাং সংবৎসরস্য আত্মত্ববৎ অঙ্গানাং শরীরস্য আত্মত্বে প্রমাণমাহ-মধ্যং হীতি। পুনরুক্তেং অর্থবদ্বমাহ-অন্বস্থ্যেতি।

২৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পৃষ্ঠে দুলোকদৃষ্টৌ হেতুমাহ-উর্দ্ধতেতি। উদরে অন্তরিক্ষদৃষ্টৌ নিমিত্তমাহ-সুষিরত্বেতি। পাদা অস্যন্তে যস্মিন্ ইতি ব্যুৎপত্তিম্ আশ্রিতা বিবক্ষিতমাহ-পাদেতি। অশ্বস্থ্য হি পুরে পাদাসনত্বসামান্যাৎ পৃথিবীদৃষ্টিঃ ইত্যর্থঃ। পার্শ্বয়োঃ দিক্চতুষ্টয়দৃষ্টৌ হেতুমাহ-পার্শ্বেনেতি। দ্বে পার্শ্বে, চতস্রশ্চ দিশঃ, তত্র কথং তয়োঃ তদারোপণং?-দ্বাভ্যাম্ এব দ্বয়োঃ সম্বন্ধাৎ, ইতি শঙ্কতে-পার্শ্বয়োরিতি। যদ্যপি যে দিশৌ দ্বাভ্যাং পার্শ্বাভ্যাং সম্বধ্যেতে, তথাপি অশ্বস্থ্য প্রানুখত্বে প্রত্যমুখত্বে চ দক্ষিণোত্তরয়োঃ তন্মুখত্বে চ প্রাক্-প্রতীচ্যোঃ দিশোঃ তাভ্যাং সম্বন্ধসন্তবাৎ তত্র ‘তদদৃষ্টিঃ অবিরুদ্ধেতি পরিহরতি-নেত্যাদিনা। তদুপপত্তৌ চ অশ্বস্থ্য চরিত্রত্বা হেতুকর্তব্যম্। পার্শ্বান্বিষু অষান্তরদিশাম্ আরোপে পার্শ্বদিক্সম্বন্ধো হেতুঃ।

ঋতবঃ সংবৎসরস্য অঙ্গানি, হস্তাদীনি চ দেহস্য অবয়বাঃ, তস্মাদ ঋতুদৃষ্টিঃ অঙ্গেযু কর্ত্তব্য, ইত্যাহ-ঋতব ইতি। অস্তি মাসাদীনাং সাবৎসরসন্ধিত্বম্, অস্তি চ শরীরসন্ধিত্বং পর্ব্বণাম্, অতঃ তেষু মাসাদিদৃষ্টিঃ, ইত্যাহ-সন্ধীতি। যুগসহস্রাভ্যাঃ প্রাজাপতামেকম্ অহোরাত্রম্, অয়নাভ্যাং দৈবম্, পক্ষাভ্যাং পিত্রাম্, যষ্টঘটিকাভিঃ মানুষমিতি ভেদঃ। প্রতিষ্ঠাশঙ্কস্থ্য পাদবিষয়ত্বং ব্যুৎপাদয়তি-প্রতিনিষ্ঠতীতি। পাদ্মেহ অহোরাত্রদৃষ্টিসিদ্ধার্থ যুক্তিমুপপাদয়তি-- অহোরাত্রৈরিতি। অস্থিষু নক্ষত্রদৃষ্টৌ হেতুমাহ-শুরুতেতি। নভঃশব্দেন অন্তরিখ কিমিতি ন গৃহতে? মুখে সতি উপচারাযোগাৎ, ইত্যাশঙ্কা পুনরুক্তিং পরিহর্তুম্ ইত্যাদি--অন্তরিক্ষস্তেতি। উদ্‌কং সিঞ্চন্তি মেঘাঃ, মাংসানি রুধিরম্, অত’ সেককর্তৃত্বসামান্যাৎ মাংসের মেঘদৃষ্টরিত্যাহ-- উদকেতি।

অগ্‌জয়ারবিপরিবর্তিনি অন্ধজীনে সিকতাদৃষ্ঠো হেতুমা-ব্লিষ্টেতি। কিমিতি গুদশকেন পায়ুরেব ন গৃঙ্গতে? শিরাগ্রহণে হি মুখার্থাতিক্রম: স্থাৎ, তত্রাহ-বহবচনাচ্চেতি। চকারো অবধারণার্থঃ। যদ্যপি বহুক্তা শিরাতো অর্থান্তরমপি গুদশজমর্হতি, তথাপি সুন্দনসাদৃক্ষ্যৎ ত্যন্ত এব সিন্ধুদৃষ্টরিতি তাসামিহ গ্রহণমিতি ভাবঃ। কৃতে মাসণগুয়ো: দ্বিম্’ একত্র বহুবচনাৎ বহুত্বপ্রতীতো ইত্যাশা দ্বারা ইতিবৎ বহুক্রেগতিমাহ-ক্রোমান ইতি। তয়োঃ পর্ব্বতদৃষ্টৌ হেতুষয়মাহ কাঠিন্যাদিত্যাদিনা। ক্ষুদ্রসাধর্ম্মাৎ ওষধিদৃষ্টিলোমসু, মহত্বসামান্যাৎ বনস্পতিদৃষ্টিশ্চ অশ্বকেশেব কর্তব্যা, ইত্যাহ-যথাসম্ভবমিতি। পূর্ব্বসামান্যাৎ মধ্যাহ্নাৎ প্রাগ- বস্থাদিতাদৃষ্টিঃ অশ্বস্ত নাতে; উর্দ্ধভাগে কর্তব্যা, ইত্যক-উচ্চরিত্যাদিনা। অপরত্বসাদৃক্ষ্যাৎ অশ্বস্ত নাতে; অপরাদ্ধে মধ্যাহ্নাৎ অনন্তরভাবাৎ আদিতদৃষ্টঃ কায্যা, ইত্যাহ-নিয়োচন্নিত্যাদিনা। বিজস্তুত ইত্যাদৌ প্রত্যার্থো ন বিষক্ষিতঃ, বিজৃষ্ণণ মুখ বিদারয়তি, বিদ্যোতন: পুনর্ম্মেষম্; অতো বিদ্যোতনদৃষ্টিঃ জ,ক্ষণে কর্তব্যা ইত্যাহ-মুখেতি। স্তনয়তি ইতি শুনিতমুচ্যতে, তদৃষ্টঃ পাত্রকম্পে কর্তব্যা, ইত্যত্র হেতুমাহ-গর্জনেতি। মূত্রকরণে বর্ষণদৃষ্টৌ কারণমাধ-সেচমেতি। অন্বস্ত ভূষিতশব্দে নাস্তি আরোপনমিতি অতো ন সাদৃশ্য: বক্তব্যামিত্যাহ-মাত্রেতি। ১।

ভাবানুবাদ। ‘উষা’ ইত্যাদি। ব্রাহ্ম মুহূর্ত্তের নাম ‘উষা’(১১)।

(১১) তাৎপর্য্য—সূর্যোদয়ের পূর্ব্ববর্তী দুইদণ্ড সময়ের নাম ‘ব্রাহ্ম মুহূর্ত্ত’। “রাত্রেক পশ্চিমে যামে মুহূর্ত্তো ব্রাহ্ম উচ্যতেঃ(আহিকতদ্বয়ত পিতামহবচন)। এখানে ‘পশ্চিমে

শ্রী

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ২৭

‘বৈ’ শব্দটিস্মারণার্থক; লোকপ্রসিদ্ধ কালের কথা স্মরণ করিয়া দিতেছে। শরীরের যতগুলি অবয়ব আছে, তন্মধ্যে শিরই প্রধান; কালাবয়বের মধ্যেও উষা কালই প্রধান; এইরূপ প্রাধান্যসাম্যনিবন্ধন উষাকে শিরঃ বলা হইয়াছে। বাক্যযোজনা এইরূপ,—উবাই যজ্ঞীয় পবিত্র অগ্নের মস্তক। এখানে বুঝিতে হইবে যে, অশ্বমেধযজ্ঞের অঙ্গস্বরূপ অশ্বের সংস্কার বা বিশোধন করা আবশ্যক হয়; এই কারণে অশ্বের মস্তকাদি অবয়বসমূহে উষা প্রভৃতি কালদৃষ্টির, আরোপ করা হইতেছে,[ কিন্তু কালপ্রভৃতিতে অশ্বাঙ্গদৃষ্টি নহে)। কালরূপী প্রজাপতিদৃষ্টি কল্পিত হয় বলিয়াই অশ্বের প্রাজাপত্যতা সম্পন্ন হয়। প্রজা- পতিও কালাদির সমষ্টিস্বরূপ; সেইজন্য প্রতিমা প্রভৃতিতে যেরূপ বিষ্ণুত্বাদি সম্পাদন করা হয়, তদ্রূপ কাল, লোক ও দেবভাব সমারোপণ দ্বারা যজ্ঞীর পশুরও প্রাজাপত্যত্ব অর্থাৎ প্রজাপতিদৈবতভাব সম্পাদন করা হইয়া থাকে। [ বুঝিতে হইবে, এইরূপ ভাবনা দ্বারাই যজ্ঞীয় পশুর একপ্রকার সংস্কার বা শুদ্ধি সম্পন্ন হইয়া থাকে](১২)।

সূর্য্য তাহার চক্ষুঃ; চক্ষুঃ স্বভাবতই মস্তকের সন্নিহিত এবং সূর্য্য তাহার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা; এইজন্য চক্ষুকে সূর্য্যরূপে ভাবনা করিবে। প্রাণ সাধা- রণতঃ বায়ুস্বভাব, এই নিমিত্ত প্রাণকে বায়ুস্বরূপ চিন্তা করিবে; কারণ, প্রাণ ও বায়ু, উভয়ই তুল্যস্বভাব। অগ্নি মুখের দেবতা, এই কারণে তাহার ব্যাত্ত অর্থাৎ বিবৃত মুখই বৈশ্বানর অগ্নি। ‘বৈশ্বানর’ শব্দটি অগ্নির বিশেষণ; সুতরাং

যামে’ কথায় রাত্রির শেষ দুই দণ্ডই বুঝিতে হইবে; মদনপারিজাত গ্রন্থেও এইরূপ অর্থই লিখিত আছে; সুতরাং ‘অরুণোদয়কাল’ আর ‘ব্রাহ্মমুহূর্ত্ত’ একই সময়ের বিভিন্ন সংজ্ঞামাত্র বুঝিতে হইবে।

(১২) তাৎপর্য্যঃ—এখানে সংস্কার অর্থ—শোধন বা শক্তিবিশেষ আধান করা। জাগতিক যে সমস্ত পদার্থ অহরহঃ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার সম্পাদন করিতেছে, সেই সমস্ত পদার্থই আবার সংস্কার বা শক্তিবিশেষ লাভ করিলে অলৌকিক কার্য্য সম্পাদনেও সমর্থ হইতে পারে। প্রক্রিয়াবিশেষে যে, বস্তুবিশেষে বিশেষশক্তির আবির্ভাব হয়, তাহা আমরা প্রত্যক্ষ দ্বারাও উপলব্ধি করিতে পারি। বেতস-বীজ অগ্নিতে কিঞ্চিৎ উত্তপ্ত করিয়া বপন করিলে, তাহা হইতে কদলীবৃক্ষের উৎপত্তি হইয়া থাকে। আর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ সবলে টিপিয়া ধরিলে, ছিনে জাঁক নিকটে আসিয়াও অঙ্গস্পর্শ করিতে পারে না। কচ্ছপী ডিম্ব প্রসব করিয়া তদ্বিষয়ক ভাবনা দ্বারা ডিম্বের পরিপোষণ করিয়া থাকে, তাহাকে আর ডিম্বে তাপ দিতে হয় না। তমনি যজমানও ক্রিয়া ও ভাবনা-বিশেষের সাহায্যে যজ্ঞীয় দ্রব্যে এমনই একপ্রকার শক্তি সমাবেশ করে, যাহার ফলে ঐ দ্রব্য ঐহিক ও পারলৌকিক ফলবিশেষ সমুৎপাদনে সমর্থ হয়।

২৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অর্থ হইতেছে যে, বৈশ্বানরনামক অগ্নি তাহার মুখ। পবিত্র অশ্বের আত্মা হইতেছে সংবৎসর; সংবৎসর অর্থ—দ্বাদশ কিংবা[মলমাস হইলে] ত্রয়োদশ মাসাত্মক কাল; আত্মা অর্থ—শরীর: সংবৎসর হইতেছে মাসাদি কালাবয়বের শরীর(সমষ্টিভূত দেহ), আর শরীরও তদ্রূপ হস্তাদি অবয়বসমূহের আত্মা (সমষ্টিভূত)। শ্রুতি বলিয়াছেন ‘আত্মাই এই সমস্ত অঙ্গের ‘মধ্য’ অর্থাৎ সমষ্টি- স্বরূপ। প্রত্যেকের সহিত সম্বন্ধসূচনার্থ এখানে ‘অশ্ব’ শব্দের পুনরুল্লেখ করা হইয়াছে।

ইহার পৃষ্ঠ হইতেছে দ্যুলোক; কেন না, ঊর্দ্ধত্বরূপ ধর্মটি উভয়েরই সমান। উদর হইতেছে অন্তরীক্ষ; কারণ, ছিদ্রত্ব বা অবকাশ ধৰ্ম্মটা উভয়েরই সমান; ‘পাদস্থ্য’ শব্দের অক্ষর পরিবর্তন করিয়া অর্থাৎ ‘দ’ স্থানে ‘জ’ বসাইয়া ‘পাজন্য’ করা হইয়াছে;[প্রকৃত শব্দ-পাদস্থ্য।] পাদস্থ্য অর্থ-পাদন্যাসের স্থান; সেই পাদস্থ্য হইতেছে পৃথিবী। উভয় পার্শ্বের সহিত সর্বদিকের সম্বন্ধ আছে; এইজন্য ইহার পার্শ্বদ্বয় হইতেছে চতুর্দিক্। ভাল, পার্শ্ব হইতেছে মাত্র দুইটি; আর দিক্ হইতেছে চারিটি; সুতরাং সংখ্যার সাম্য না থাকায় পার্শ্বদ্বয়ে চতু- র্দিক্ কল্পনা করা যুক্তিবিরুদ্ধ হইতেছে? না-এরূপ আপত্তি হইতে পারে না; কারণ, অশ্বের মুখ যখন চতুর্দিকেই থাকিতে পারে, তখন তাহার পাশ্বদ্বয়ের সহিত ক্রমে চতুর্দিকেরই সম্বন্ধ ঘটিতে পারে; সুতরাং পার্শ্বে দিকদৃষ্টি দোষা- বহ হইতে পারে না। অবান্তর দিক্ সকল, অর্থাৎ আগ্নেয়ী প্রভৃতি কোণসমূহ পশু অর্থাৎ পার্শ্বাস্থিসমূহ। অঙ্গ বা অবয়বসমূহ ঋতুস্বরূপ; কেন না, হৃদয়াদি ছয়টি অঙ্গ যেমন শরীরের প্রধান অবয়ব, ছয়টি ঋতুও তেমনি সংবৎসরের প্রধান অবয়ব। মাস ও অর্দ্ধমাস(এক এক পক্ষ) তাহার পর্ব্ব-অবয়বসন্ধি; কারণ, দৈহিক পর্ব্বের ন্যায় মাস ও অর্দ্ধমাসই ঋতুসমূহের সংযোজক সন্ধিস্বরূপ। অহো- রাত্র তাহার প্রতিষ্ঠা; এখানে ‘অহোরাত্রাণি’ পদে বহুবচন থাকায় প্রাজাপত্য, দৈব, পিত্র্য ও মনুষ্যসম্বন্ধী সর্বপ্রকার দিবারাত্র গ্রহণ করিতে হইবে(১৩)। প্রতিষ্ঠা অর্থ-পদ,-যাহা দ্বারা দাঁড়ান যায়। অশ্ব যেমন চারি পায়ে দাঁড়ায়,

(১১) তাৎপর্য্য—প্রাজাপত্যাদি দিবারাত্র-বিভাগ এইরূপ;— “মাসেন স্যাদহোরাত্রঃ পৈত্রঃ, বর্ষেণ দৈবতঃ। দৈবে যুগসহস্রে যে ব্রাহ্মঃ, কল্লৌ তু তৌ নৃণাম্।”

অর্থাৎ মনুষ্যের একমাসে পিতৃগণের এক দিবারাত্র—‘পৈত্র’, মনুত্বের একবৎসরে দেবগণের এক দিবারাত্র—‘দৈব’, আর দেবগণের দুইহাজার যুগে ব্রহ্মার এক দিবারাত্র—

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ২৯
প্রাজাপত্য’ এবং ব্রহ্মার দিবারাত্রে মনুষ্যগণের দুই ‘কল্প’ হয়। পুরাণশাস্ত্রে ইহার বিস্তৃত বিবরণ আছে, বিশেষ জানিতে হইলে, তাহাতে অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

কালাত্মাও তেমনি অহোরাত্রের উপর নির্ভর করিয়া অবস্থান করিতেছে। অস্থি সমূহ নক্ষত্রমণ্ডল; কারণ, উভয়ই শুক্লবর্ণ; তাহার ম্যসসমূহ নভঃ অর্থাৎ নভত্ব মেঘমালা। পূর্ব্বে অন্তরিক্ষকে উদর বলায় এখানে ‘নভঃ’ পদে আকাশস্থ মেঘ- মালাই বুঝিতে হইবে; জলরূপ রুধির সেচন করে বলিয়া মেঘসমূহ মাংসস্থানীয়। উবধ্য অর্থ—উদরস্থ অর্দ্ধজীর্ণ ভুক্তদ্রব্য, তাহা বালুকারাশিস্বরূপ; কারণ, উভয়েরই অংশগুলি পরস্পর বিশ্লিষ্ট অর্থাৎ শিথিলভাবে সংযুক্ত। গুদ অর্থাৎ নাড়ীসমূহই সিন্ধু—নদীসমূহ; নদী হইতে জলক্ষরণ হয়, নাড়ীসমূহ ‘হইতেও রসরুধিরাদি ক্ষরিত হয়; এইরূপ সাদৃশ্য থাকায় এবং ‘গুদ’-শব্দের পর বহুবচন থাকার এখানে ‘গুদ’ শব্দে নাড়ীসমূহই বুঝিতে হইবে। যকৃৎ ও ক্লোমন্ অর্থাৎ হৃদয়ের নিম্নে দক্ষিণ ও বামভাগে অবস্থিত দুইটি মাঃ সখণ্ড হইতেছে পর্ব্বত- স্বরূপ; কেন না, কাঠিন্য ও ঔন্নতা উভয়েরই সমানধৰ্ম্ম। ‘ক্লোমন্(প্লীহা) একটি হইলেও নিত্যবহুবচনান্ত বলিয়া তাহার উত্তর বহুবচন হইয়াছে(ক্লোমানঃ)। তাহার লোম ও কেশরাশি যথাসম্ভব ওবধি ও বনস্পতিসমূহ অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্থাবরসমূহ। উদ্যন্ অর্থাৎ উদয়াবধি মধ্যাহ্নপর্য্যন্ত-কালব্যাপী সূর্যদেব অশ্বের পূর্ব্বদ্ধ--নাভির উদ্ধভাগ; আর নিম্নোচন্ অর্থাৎ মধ্যাহ্নের পর অস্তগমন পর্যন্ত কালব্যাপী সূর্য্যদেব তাহার উত্তরাদ্ধ—নাভির নিম্নভাগ; কেন না, উভয়েরই পূর্ব্বদ্ধত্ব ও পরাদ্ধত্ব-সাম্য রহিয়াছে। অশ্ব যে বিজৃম্ভণ করে—শরীর বিক্ষেপ পূর্বক হাই তোলে, তাহাই তাহার বিদ্যোতন, অর্থাৎ অশ্বের সেই বিজৃ- ম্ভণই বিদ্যুতের স্থানপাতী; কারণ, বিদ্যুৎও মেঘমণ্ডল বিদারণপূর্ব্বক প্রকাশিত হয়, অশ্বের বিজৃম্ভণও মুখব্যাদানসাপেক্ষ। আর অশ্ব যে শরীর কম্পন করে, তাহাই মেঘগর্জনস্থানীয়; কারণ, উভয় স্থলেই গর্জন-শব্দের সাদৃশ্য রহিয়াছে। আর অশ্ব যে মুত্রত্যাগ করে, তাহাই বারিবর্ষণস্থানীয়। অশ্বের শব্দই শব্দ; এখানে আর পৃথক্ শব্দ-কল্পনা নাই ॥ ১ ॥

অহর্ব্বা অশ্বং পুরস্তান্মহিমান্বজায়ত, তস্য পূর্ব্বে সমুদ্রে যোনী রাত্রিরেনং পশ্চান্মহিমান্বজায়ত, তস্যাপরে সমুদ্রে যোনিরেতৌ বা অশ্বং মহিমানাবভিতঃ সম্বভূবতুঃ।

৩০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

হয়ো ভূত্বা দেবানবহৎ বাজী গন্ধর্ব্বানর্ব্বাসুরানশ্বো মনুষ্যান, সমুদ্র এবাস্য বন্ধুঃ সমুদ্রো যোনিঃ ॥ ২ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়ঃ প্রথমঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ১ ॥ ১ ॥

সরলার্থঃ—অশ্বাবদানস্থ্য অগ্রতঃ পৃষ্ঠতশ্চ মতিমাখো সৌবণ রাজতে গ্রহে।(হবনাধারপাত্রবিশেষে) স্থাপ্যেতে, তদ্বিষয় দর্শনমিদানীমুচ্যতে— ‘অহঃ’ ইত্যাদি।

পুরস্তাৎ(অশ্বাবদানস্থ্য অগ্রে স্থাপামানঃ মহিমা তদাখ্যাঃ সুবর্ণমরঃ গ্রহঃ, বৈ অশ্বং(লক্ষীকৃত্য) অহঃ ‘দিবসোপলক্ষিতঃ সূর্য্যাঃ অন্বজায়ত জাতঃ); তস্য (সৌবর্ণগ্রহস্থ্য) পূর্ব্বে সমুদ্রে পূর্ব্বঃ সমুদ্রঃ যোনিঃ আসাদনস্থানম উৎপত্তিস্তান- বা)। পশ্চাৎ(পশ্চাদ্ভাগে স্থাপামানঃ) মহিমা তদাখ্যা, রজতময়ঃ গ্রহঃ এন- (অশ্বং প্রতি) রাত্রিঃ রাত্র্যপলক্ষিতঃ চন্দ্রঃ অন্বজায়ত। তস্য রাজতগ্রহস্থ্য। অপরে সমুদ্রে পশ্চিমঃ সমুদ্রঃ যোনিঃ আসাদনস্থানঃ। এতে, যথোক্তে মহিমানে অশ্বম্ অভিতঃ ‘অগ্রতঃ পশ্চাৎ চ স-বভূবতুঃ। হয়: বিশিষ্টগতি- সম্পন্নঃ। ভূত্বা অশ্বরূপ পরিগৃহ্য। দেবান্ অবহৎ; বাজা জাতিবিশেষঃ ভূত্বা গন্ধর্ব্মান্[অবহৎ]: অপাঃ(জাতিবিশেষঃ) ভূত্বা অসুরান্[অবহৎ]; অশ্বঃ[ভূহা] মনুষ্যান্[অবহৎ]। সমুদ্রঃ পরমাত্মা, প্রসিদ্ধঃ সাগরো বাঃ এব অন্য(অশ্বস্য) বন্ধুঃ(বধ্যতে অস্মিন্ ইতি বন্ধুঃ—স্থিতিহেতুঃ, সমুদ এব যোনিঃ(উৎপত্তিকারণম্)। এবং সর্ব্বতঃ শুদ্ধরূপত্বমন্বস্যেতি ভাবঃ।]

মুলাদুবাদ—এখন যজ্ঞীয় অশ্বের অগ্রে ও পশ্চাতে যে দুইটা সুবর্ণময় ও রজতময় মহিমানামক গ্রহ অর্থাৎ হোমারার পাত্র স্থাপন করিতে হয়, তদ্বিষয়ে চিন্তার উপদেশ করা হইতেছে—

অশ্বের অগ্রে যে ‘মহিমা’নামক সুবর্ণময় গ্রহ স্থাপিত হয়, তাহাই অহঃ অর্থাৎ দিবসাধিপতি সূর্য্য; পূর্ব্ব সমুদ্র তাহার উৎপত্তিস্থান; আর পরবর্তী রজতময় যে গ্রহ, তাহাই রাত্রি, অর্থাৎ রাত্রির অধিপতি চন্দ্র; পশ্চিম সমুদ্র তাহার উৎপত্তিস্থান। এই দুইটি মহিমা অশ্বাবদানের পূর্ব্বে ও পরে সংস্থাপিত হইয়া থাকে। হয় অর্থাৎ গমনশীল, অথবা জাতিবিশেষ। ‘হয়’ হইয়া, দেবতাগণকে বহন করিয়াছিলেন; ‘বাজী’

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ৩১

(একজাতীয় অশ্ব) হইয়া গন্ধর্ব্বগণকে বহন করিয়াছিলেন, আর অশ্ব হইয়া মনুষ্যগণকে বহন করিয়াছিলেন। সমুদ্র ইহার(অশ্বের) বন্ধ অর্থাৎ রক্ষাহেতু, এবং সমুদ্রই ইহার উৎপত্তিস্থান ॥ ২ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে প্রথম ব্রাহ্মণ ব্যাখ্যা। ॥ ১ ॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। অহর্ব্বা ইতি। সৌবর্ণ-রাজতে মহিমাখ্যৌ গ্রহৌ অশ্বস্যাগ্রতঃ পৃষ্ঠতশ্চ স্থাপ্যেতে, তদ্বিষয়মিদং দর্শনম্,—

অহঃ সৌবর্ণো গ্রহঃ, দীপ্তিসামান্যাৎ বৈ। অহরস্ব পুরস্তান্মহিমাম্বজারতেতি কথম্? অশ্বস্থ্য প্রজাপতিত্বাৎ; প্রজাপতিহি আদিতাদিলক্ষণোহহা লক্ষ্যতে; অশ্বং লক্ষয়িত্বা অজায়ত সৌবর্ণো মহিমা গ্রহঃ, বৃক্ষমন্ত বিশ্বোততে বিদ্যুদিতি যদ্বৎ। তস্য গ্রহস্য পূর্ব্বে পূর্ব্বঃ, সমুদ্রে সমুদ্রঃ যোনিঃ বিভক্তিবত্যয়েন; যোনিরিত্যা- সাদনস্থানম্। তথা রাত্রিঃ রাজতো গ্রহঃ, বর্ণসামান্যাৎ জঘন্যত্বসামান্যাদ্বা। এনম্ অশ্ব পশ্চাৎ পৃষ্ঠতো মহিমা অন্বজায়ত; তস্যাপরে সমুদ্রে যোনিঃ। মহিমা মহত্ত্বাৎ; অশ্বস্থ্য হি বিভূতিরেষা, যৎ সৌবর্ণো রাজতশ্চ গ্রহাবুভয়তঃ স্থাপ্যেতে; তাবেতো বৈ মহিমানে, মহিমাখ্যো গ্রহৌ অশ্বমভিতঃ সম্বভূবতুঃ উক্তলক্ষণাবের সম্ভূতৌ। ইথমস’বখো মহত্বযুক্ত ইতি পুনর্ব্বচন: স্বত্যর্থম্। তথা চ হয়ো ভূত্বেত্যাদি স্বত্যথমের। হয়ো হিনোতের্গতিকৰ্ম্মণঃ, বিশিষ্টগতিরিত্যর্থঃ; জাতি- বিশেষো বা; দেবানবহৎ দেবত্বমগময়ৎ, প্রজাপতিত্বাৎ; দেবানা বা বোঢ়াভবৎ।

ননু নিন্দৈব বাহনত্বম্? নৈষ দোষঃ; বাহনত্ব: স্বাভাবিকমশ্বস্য, স্বাভাবিকত্বাৎ উচ্চারপ্রাপ্তিদ্দেবাদিসম্বন্ধোহশ্বস্যেতি স্তুতিরেবৈধা। তথা বাজ্যাদয়ো জাতি- বিশেষাঃ। বাজী ভূত্বা গন্ধর্ব্বান্ অবহদিত্যনুষঙ্গঃ। তথা অব্দা ভূত্বা অসুরান্, অশ্বো ভূত্বা মনুষ্যান্। সমুদ্র এবেতি পরমাত্মা; বন্ধুবন্ধনম্ বধ্যতেহস্মিন্নিতি। সমুদ্রো যোনিঃ কারণমুৎপত্তিং প্রতি। এবমসৌ শুদ্ধযোনিঃ শুদ্ধস্থিতিরিতি স্থূয়তে; “অপ্সু যোনিবা অশ্বঃ” ইতি শ্রুতেঃ। প্রসিদ্ধ এব বা সমুদ্রো যোনিঃ ॥ ২ ॥

ইতি প্রথমোহধ্যায়ে প্রথম-ব্রাহ্মণভাষ্যম্ ॥ ১ ॥ ১

টাকা। অশ্বাবয়বেষু কালাদিদৃষ্টীর্বিধার অশ্বং প্রজাপতিরূপ’ বিবক্ষিত্বা কণ্ডিকান্তরং গৃহাত্বা তাৎপর্য্যমাহ-অহরিত্যাদিনা। গ্রহৌ হবনীয়দ্রব্যাধারৌ পাত্রবিশেষৌ অগ্রতঃ পৃষ্ঠত- শ্চেতি সংজ্ঞপনাৎ প্রাগূর্দ্ধং চেতি যাবৎ। প্রসিদ্ধা তাবদহ্নি দীপ্তি, সৌবর্ণে চ গ্রহে সা অস্তি, অতঃ তস্মিন্ অহর্দৃষ্টিরিতি দর্শনং বিভজতে-অহয়িতি। অশ্বসংজ্ঞপনাৎ পূর্ব্বং যো মহিমাখ্যো, গ্রহঃ স্থাপ্যতে, স চেৎ অহর্দৃষ্টোপাস্তুতে, কথং সোহক্ষম্ অশ্বজায়তেতি পশ্চাদ অশ্বস্য তজ্জন্ম-

৩২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বাচোযুক্তিরিতি শঙ্কতে-অহরশ্বমিতি। নায়ং পশ্চাদর্থোহনুশব্দ, কিন্তু লক্ষণার্থঃ। তথাচ অশ্বস্য প্রজাপতিরূপত্বাৎ তং লক্ষয়িত্বা গ্রহস্য যথোক্তস্থ্য প্রবৃত্তেরুপদেশাদ অশ্বম্ অন্বজায়ত ইত্য- বিরুদ্ধমিতি পরিহরতি-অন্বস্যেতি। তদেব স্ফুটয়তি--প্রজাপতিরিতি। কাল-লোব-দেবতাত্মা প্রজাপতিরস্বাত্মনা দৃশ্যমানোহত্র অহর্দৃষ্টান দৃষ্টেন গ্রহণে লক্ষাতে। তথা চ অশ্বম্ অন্বজায়তেতি শ্রুতিরবিরুদ্ধেতার্থঃ। অনু-শব্দো ন পশ্চাদ্বাচী, ইতাত্র দৃষ্টান্তমাহ--বৃক্ষমিতি। যদা বৃক্ষঃ লক্ষয়িত্বা তস্যাগ্রে বিদ্যাদ্বিদ্যোততে, তদা বৃক্ষমনুবিদ্যোততে সেতি প্রযুজাতে। তথাহত্রাপি অনুশব্দে। ন পশ্চাদর্থ ইত্যর্থঃ। যত্র চ স্থানে গ্রহঃ স্থাপ্যতে, তৎপুষ্পসমুদ্রদৃষ্টি। ধ্যেয়মিত্যাৎ-- তস্যেতি। পূর্ব্বত্বমত্র সাদৃশ্যম্। কথ’ সপ্তমী প্রথমার্থে যোজাতে, ছন্দস্যর্থানুসারেণ ব্যত্যয়- সম্ভবাদিত্যাহ-বিভক্তীতি। যথা সৌবর্ণে গ্রহেহদৃষ্টিরুপদিষ্টা, তথা রাজতে গ্রহে রাত্রিদৃষ্টিঃ কর্ত্তব্য, ইত্যাহ-তথেতি। অস্তি হি চন্দ্রাতপবদ্বাদরাত্রেঃ শৌন্লাম্, অস্তি চ রাজতস্য গ্রহস্য, তদযুক্তং তত্র রাত্রিদর্শনমিত্যাহ--বর্ণেতি। রজত সুবর্ণাচ্ছযন্যমহশ্চ রাত্রি, অতো বা সাদৃশ্যাৎ তত্র রাত্রিদৃষ্টিরিত্যাহ-জঘন্যেতি। প্রজাপতিরূপং প্রকৃতমশ্বঃ লক্ষয়িত্বা তৎসাজ্ঞপনাৎ পশ্চাৎ অন্য প্রবৃত্তি’ দর্শয়তি-এনমিতি। তদাসাদনস্থানে পশ্চিমসমুদ্রদৃষ্টিবিধেয়া ইত্যাহ--তস্যেতি। কথমেতৌ গ্রহৌ মহিমাখৌ উত্তে? মহয়োপেতত্বাদিত্যাহ-মহিমেতি। ‘অণ্যশ্ববিসয় দশনমাদিশ্য গ্রহবিষয়ং তদাদিশতো‘বাকাভেদ: স্তান্নেত্যাহ-অশ্বস্যেতি। কিমত্র নিয়ামকম্ “ ইত্যাশঙ্কা পুনরুক্তিরিতি মহাহ-তাবিতাদিন। বৈ-শব্দার্থকথনম্-এবেতি।

বাকাশেযোৎপাত্রানুগুণী ভবর্ত্তিতাহ-তপ চেতি। হয় শব্দনিষ্পত্তিপুর সর’ তদর্থ- মাহ-হয় ইতি। বাজাদিশ্বানা জাতিবিশেষবাচিত্বাদ অত্রাপি হদেব গ্রাতমিতি পক্ষান্তরমাহ-জাতীতি। দেবানা’ দেবত্বপ্রাপকত্ব কথমস্ত ইত্যাদি--প্রজাপাতিত্বাদিতি। অস্বা স্তোতৃমারভ্য কল্পান্তরোক্ত্যা তন্নিন্দাবচনমনুচিতমিতি শঙ্গতে-নন্বিতি। উপক্রমবিরোধো নাস্তীতি পরিহরতি-নেত্যাদিনা। সমুৎপদ্য ভূতানি দ্রবস্তামিন্নিতি ব্যুৎপত্তয়া পরম- গম্ভীরস্তেশ্বরস্য সমুদ্রশব্দতামাহ-পরমাত্মেতি। তত্র যোনিত্বমুৎপাদকত্ব, বন্ধুত্ব স্থাপকত্ব, সমুদ্রত্ব বিলাপকত্বমিতি ভেদঃ। অন পরমাত্মযোনিহাদিবচনমুপাস্তাশ্বস্য কোপযুজাতে তত্রাহ-এবমিতি। শ্রত্যন্তরানুরোধেন সমুদ্রে যোনিরিত্যত্র সমুদ্রশব্দস্য রুঢ়িমনুষ্কাশাতি- অপস্তু যোনিরিতি। ১॥

ইতি প্রথম ব্রাহ্মণ্যঃ ১ ॥ ১ ॥ ১ ॥

ভাষ্যানুবাদ—অশ্বমেধযজ্ঞে অশ্বের অগ্রে ও পশ্চাতে দুইটা গ্রহ অর্থাৎ হবনীয়দ্রব্যাধার পাত্র স্থাপন করিতে হয়; তন্মধ্যে প্রথম গ্রহটী সুবর্ণময়, আর দ্বিতীয় গ্রহটী রজতময়; এখন তদুভর বিষয়ে বিজ্ঞানোপদেশ করা হইতেছে;—

পূর্ব্বের সুবর্ণময় গ্রহ ও দিবস, উভয়ই দাপ্তিমান্—উজ্জ্বল; এইজন্য অশ্বের অগ্রবর্তী সুবর্ণময় মহিমানামক গ্রহটী হইতেছে অহঃ—দিনাধিপতি সূর্য্যস্বরূপ। ভাল, দিবস অশ্বের সম্মুখবর্ত্তী মহিমাগ্য গ্রহ হইল কিরূপে?[উত্তর—] যেহেতু ঐ অশ্ব প্রজাপতিস্বরূপ; এবং যেহেতু আদিত্যরূপী প্রজাপতিই এখানে ‘অহঃ’ শব্দে লক্ষিত হইয়াছেন; সেইহেতু ‘বৃক্ষকে লক্ষ্য করিয়া বিদ্যুৎ প্রকাশ পাইতেছে’

প্রথমোহধ্যায়ঃ—প্রথমং ব্রাহ্মণম্। ৩৩

কথার ন্যায় এখানে অশ্বকে লক্ষ্য করিয়া সুবর্ণময় মহিমানামক গ্রহ সমুৎপন্ন হইয়াছে, এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। ইহার যোনি পূর্বদিকের সমুদ্র; ‘পূর্ব্বে সমুদ্রে’ পদদ্বয়ে প্রথমাবিভক্তির স্থানে সপ্তমী বিভক্তি হইয়াছে। যোনি অর্থ— যে স্থান হইতে উহা গ্রহণ করিতে হয়, সেই গ্রহণস্থান। সেইরূপ রজতময় গ্রহটা [জ্যোৎস্নাপূর্ণ] রাত্রিস্বরূপ; কারণ, উভয়ের মধ্যে বর্ণগত সাম্য রহিয়াছে, এবং সুবর্ণ ও দিবস অপেক্ষা হীনত্বাংশেও ঐ উভয়ের সাদৃশ্য রহিয়াছে। এই রজতময় গ্রাহটী অশ্বের পশ্চাদ্বর্তী মহিমারূপে কল্পিত হইয়াছে। ইহার আহরণস্থান পশ্চিম সমুদ্র। মহিমা অর্থ—মহত্ত্ব; কেন না, ইহাই হইতেছে অশ্বের বিভূতি বা মহিমা যে, তাহার উভয়দিকে(অগ্রে ও পশ্চাতে) সুবর্ণময় ও রজতময় দুইটী পাত্র স্থাপিত হয়। সেই এই দুইটা গ্রহ অশ্বের অগ্রে ও পশ্চাতে মহিমা প্রকটিত করিতেছে। অশ্বের এবংবিধ মহিমাস্তুতির জন্যই “অশ্বম্ অভিতঃ” ইত্যাদি কথার পুনরুল্লেখ করা হইয়াছে। সেইরূপ “হয়ো ভূত্বা” ইত্যাদি বাক্যও তাহারই প্রশংসার্থ উপন্যস্ত হইয়াছে। ‘হয়’ শব্দটা গত্যর্থক ‘হি’-ধাতু হইতে নিষ্পন্ন, [ইহার] অর্থ—বিলক্ষণ গতিসম্পন্ন, অথবা ‘হয়’ একপ্রকার জাতিবিশেষ। ‘দেবগণকে বহন করিয়াছিলেন’ অর্থ—দেবগণের দেবত্ব সম্পাদন করিয়াছিলেন; কারণ, প্রজাপতিস্বরূপ অশ্বের পক্ষে এরূপ কার্য্যসাধন করা সম্ভবপরই বটে; অথবা, ‘হয়’ রূপে দেবগণের বাহন হইয়াছিলেন।

ভাল কথা, বাহনত্ব ত নিন্দারই বিষয়, ইহা স্তুতি হয় কিরূপে? না,-ইহাও দোষাবহ অর্থাৎ নিন্দার কথা হয় না; কারণ, বাহনত্ব ধম্মটা অশ্বের স্বভাবসিদ্ধ’; তাহাতে যে উৎকর্ষলাভ, অথবা দেবতা প্রভৃতির সহিত সম্বন্ধলাভ, ইহা ত অশ্বের প্রশংসার কথাই বটে। পরবর্তী বাজী প্রভৃতিও জাতিবিশেষ; বাজী হইয়া গন্ধর্ব্বগণকে বহন করিয়াছিলেন; সেইরূপ অর্বা(জাতিবিশেষ) হইয়া অসুর- গণকে এবং অশ্ব হইয়া মনুষ্যগণকে বহন করিয়াছিলেন। ‘সমুদ এব’ এই সমুদ্র শব্দের অর্থ-পরমাত্মা; বন্ধু অর্থ-বন্ধন,--যাহাতে জনসমূহ স্বতই আবদ্ধ হয়। সমুদ্রই ইহার বন্ধু এবং সমুদ্রই ইহার উৎপত্তির কারণ। এইরূপে অশ্বের স্তুতি করা হইতেছে যে, এই অশ্বের উৎপত্তি ও আশ্রয় স্থান, উভয়ই পরম পবিত্র; অথবা ‘জলের মধ্যেই অশ্বের উৎপত্তি’, এই শ্রুতিপ্রসিদ্ধি অনুসারে প্রসিদ্ধ সমুদ্রকেই অশ্বের যোনি বলিয়া বুঝিতে হইবে ॥ ২ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে প্রথম ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুবাদ ॥ ১ ॥ : ইতি প্রথমাধ্যায়স্য প্রথমং ব্রাহ্মণম্ ॥.

দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

.. নৈবেহ কিঞ্চনাগ্র আসীৎ মৃত্যুনৈবেদমাবৃতমাসীদশনায়য়া, অশনায়া হি মৃত্যুস্তন্মনোহকুরুতাত্মন্বী স্যামিতি।

সোহর্চ্চন্নচরৎ তস্যার্চ্চত আপোহজায়ন্তার্চ্চতে বৈ মে কমভূদিতি তদেবার্কস্যার্কত্বম্ কঙ্ হ বা অস্মৈ ভবতি, য এবমেতদর্কস্যার্কত্বং বেদ ॥ ৩ ॥ ১ ॥

সরলার্থঃ-[অথেদানীম্ অশ্বমেধীয়াগ্নেরুৎপত্তিরুচাতে-তদ্বিজ্ঞানার্থং তৎস্বত্যর্থঞ্চ-।] ইহ(সংসারে) অগ্রে(সৃষ্টেঃ প্রাক্) কিঞ্চন(নামরূপাত্মক, কিঞ্চিদপি) নৈব আসীৎ;[অপি তু] ইদং(জগৎ) অশনায়য়া(ভোজনেচ্ছা- লক্ষণেন) মৃত্যুনা আবৃতম্(আচ্ছাদিতম্) আসীৎ; হি(যস্মাৎ) অশনায়া (অশিতুম্ ইচ্ছা)[এব] মৃত্যুঃ,[অশনেচ্ছানন্তর: হি-সাপ্রবৃত্তেঃ]।[সঃ মৃত্যুঃ] আত্মনী(আত্মবান্) স্যাম্(ভবেয়ম্) ইতি(এবম্ অভিপ্রেত্য) তৎ (প্রসিদ্ধং) মনঃ(অন্তঃকরণ) অকুরুত(জগৎ-সিসৃক্ষরা সকল্পাদিধৰ্ম্মকম্ অন্তঃকরণং সৃষ্টবান্)। সঃ(সমানস্কঃ মৃত্যুরূপঃ প্রজাপতিঃ) অর্চ্চন্(সফলকামতয়া আত্মানং পূজয়ন্) অচরং(তদনুরূপম্ আচচায়)। অর্চ্চতঃ(আত্মান, পূজয়তঃ) তস্য(প্রজাপতেঃ)[সকাশাৎ] আপঃ(জলানি) অজায়ন্ত(উৎপন্না বভূবুঃ)। অর্চ্চতে যে(মহাং) বৈ কম্(জল:) অভূৎ ইতি[যৎ অমন্যত প্রজাপতিঃ], তৎ এব(মননমেব) অর্কস্য(অশ্বমেধীয়স্যাগ্নেঃ) অর্কত্বং(অর্কত্বে হেতুঃ); [অর্চ্চনাদ্ উৎপন্নং কং-সুখহেতুভূতা জলম্ ইতি হি অর্ক-শব্দস্য ব্যুৎপত্তিঃ]। অম্মৈ(উপাসকায়) কং(জল সুখ বা) হ বৈ(অবধারণে) ভবতি; যঃ (জনঃ) অর্কশ্য(অশ্বমেধাগ্নেঃ) এতৎ অর্কত্বম্ এবং(যথোক্তপ্রকারেণ) বেদ (জানাতি)। তস্যৈতৎ ফলমিতি বিদ্যা স্থূয়তে ॥ ৩॥ ১ ॥

মূলানুবাদ—[ অতঃপর অশ্বমেধ যজ্ঞীয় অগ্নির বিজ্ঞান ও স্তুতির নিমিত্ত তাহার উৎপত্তি-প্রণালী বর্ণিত হইতেছে,—] সৃষ্টির পূর্ব্বে এ সংসারে কিছুই ছিল না; এই জগৎ অশনায়ারূপ মৃত্যু দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। অশনায়া অর্থাৎ ভোজনেচ্ছাই লোকপ্রসিদ্ধ মৃত্যু। সেই মৃত্যুরূপী প্রজাপতি ‘আমি আত্মস্বী—অন্তঃকরণযুক্ত

বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।, ৩৫

হইব’ ইচ্ছা করিয়া প্রসিদ্ধ অন্তঃকরণ সৃষ্টি করিলেন। তিনি অন্তঃকরণ-সম্পন্ন হইয়া আপনাকে অভিনন্দিত করত অবস্থান করিলেন। আত্মপূজাকারী সেই প্রজাপতি হইতে অপ্(জল) প্রাদুর্ভূত হইল। তিনি যে, ‘আত্মপূজাশীল আমার উদ্দেশে জল উৎপন্ন হইল’ মনে করিয়াছিলেন, তাহাই অর্কের অর্কত্ব, অর্থাৎ অশ্বমেধীয় অগ্নির ‘অর্ক’ সংজ্ঞার হেতু।[‘অর্চ্চ’ ধাতু, এবং জল ও সুখবাচক ‘ক’ শব্দের যোগে’ ‘অর্ক’ শব্দ নিষ্পন্ন হইয়াছে। এখনও, যে লোক অশ্বমেধীয় অগ্নির, যথোক্তপ্রকার অর্কত্ব জানেন, তাহার সম্বন্ধেও নিশ্চয়ই ‘ক’(জল বা সুখ) সমুৎপন্ন হয় ॥ ৩॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্—অথ অগ্নেঃ অশ্বমেধোপযোগিকণ্ড উৎপত্তিরুচ্যতে। তদ্বিষয়-দর্শনবিবক্ষয়া এবোৎপত্তিঃ স্বত্যর্থ। নৈবেহ কিঞ্চনাগ্র আসীৎ—ইহ সংসারমণ্ডলে, কিঞ্চন কিঞ্চিদপি নাম-রূপপ্রবিভক্তবিশেষম্, নৈবাসীৎ ন বভূব, অগ্রে প্রাগুৎপত্তের্মনআদেঃ।

কিং শূন্যমেব বভূব? শূন্যমের স্যাৎ; “নৈবেহ কিঞ্চন” ইতি শ্রুতেঃ ন কার্য্যং কারণ, বা আসাৎ উৎপত্তেঃ, উৎপদ্যতে হি ঘটঃ; অতঃ প্রাগুৎপত্তের্ঘটস্য নাস্তিত্বম্! ননু কারণস্থ্য ন নাস্তিত্ব, মৃৎপিণ্ডাদিদর্শনাৎ; যৎ নোপলভ্যতে, তস্যৈব নাস্তিতা অণু কার্য্যস্থ্য, ন তু কারণস্থ্য, উপলভ্যমানত্বাৎ। ন, প্রাগুৎপত্তেঃ সধানুপলম্ভাৎ। অনুপলব্ধিশ্চেদভাবে হেতুঃ, সর্ব্বস্থ্য জগতঃ প্রাগুৎপত্তেন কারণং কাৰ্য্য: বা উপলব্ধাতে, তস্মাৎ সর্ব্বস্যৈবাভাবোহস্তু।

ন; ‘মৃত্যুনৈবেদমাবৃতমাসীৎ’ ইতি শ্রুতেঃ। যদি হি কিঞ্চিদপি নাসীৎ— যেন আব্রিয়তে, যচ্চ আবিয়তে, তদা নাবক্ষ্যং ‘মৃত্যুনৈবেদমাবৃতম্’ ইতি; ন হি ভবতি গগনকুসুমচ্ছন্নো বন্ধ্যাপুত্র ইতি; এবীতি চ মৃত্যুনৈবেদমাবৃতমাসীদিতি। তয়াৎ যেনাবৃত, কারণেন, যচ্চাবৃত, কার্য্য, প্রাগুৎপত্তেঃ তদুভয়মাসীৎ, শ্রুতেঃ- প্রামাণ্যাৎ, অনুমেয়ত্বাচ্চ। অনুমীয়তে চ প্রাগুৎপত্তেঃ কার্য্যকারণয়োরস্তিত্বম্। কার্য্যস্থ্য হি সতো জায়মানস্য কারণে সত্যুৎপত্তিদর্শনাৎ, অসতি চাদর্শনাৎ, জগতোহপি প্রাগুৎপত্তেঃ কারণাস্তিত্বমনুমীয়তে, ঘটাদিকারণাস্তিত্ববৎ।

ঘটাদিকারণস্যাপি অসত্বমেব, অনুপমৃদ্য মৃৎপিণ্ডাদিকং ঘটাদ্যনুৎপত্তেরিতি চেং; ন; মৃদাদেঃ কারণত্বাৎ। মৃৎসুবর্ণাদি হি তত্র কারণং ঘট-রুচকাদেঃ, ন পিণ্ডাকারবিশেষঃ, তদভাবে ভাবাৎ। অসত্যপি পিণ্ডাকারবিশেষে মৃৎসুবর্ণাদি-কারণদ্রব্যমাত্রাদেব ঘটরুচকাদি-কার্য্যোৎপত্তিদৃশ্যতে। তস্মাৎ ন

৩৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পিণ্ডাকারবিশেষো ঘটরুচকাদিকারণম্। অসতি তু মৃৎসুবর্ণাদিদ্রব্যে ঘটরুচ- কাদির্ন জায়তে, ইতি মৃৎসুবর্ণাদিদ্রব্যমেব কারণম্, নতু পিণ্ডাকারবিশেষঃ। সর্বং হি কারণ; কার্য্যমুৎপাদয়ং পূর্ব্বোৎপন্নস্যাত্মকার্য্যস্য তিরোধানং কুর্ব্বৎ কাৰ্য্যান্তরমুৎপাদয়তি; একস্মিন্ কারণে যুগপদনেক-কার্যবিরোধাৎ। ন চ পূর্ব্বকার্যোপমদ্দে কারণস্থ্য স্বাত্মোপমদ্দো ভবতি; তস্মাৎ পিণ্ডাদ্যপমদ্দে কার্য্যোৎপত্তিদর্শনম্ অহেতুঃ প্রাগুৎপত্তেঃ কারণাসত্ত্বে।

পিণ্ডাদিব্যতিরেকেণ মৃদাদেঃ অসত্ত্বাদ্ আক্তমিতি চেৎ, --পিণ্ডাদি- পূর্ব্বকার্য্যোপমদে মৃদাদিকারণ, নোপমৃদ্যতে, ঘটাদিকার্য্যান্তরেহপ্যনুবর্ত্ততে, ইত্যেতদযুক্তম্, পিণ্ডঘটাদিব্যতিরেকেণ মৃদাদিকারণস্থ্য অনুপলম্ভাদিতি চেৎ; ন; মৃদাদিকারণানাং ঘটাদ্যুৎপত্তো পিণ্ডাদিনিবৃত্তৌ অনুবৃত্তিদর্শনাৎ। সাদৃশ্যাদ্ অন্বয়দর্শনম্, ন কারণানুবৃত্তেরিতি চেৎ; ন; পিণ্ডাদিগতানা, মৃদাদ্যবয়বানামের ঘটাদৌ প্রত্যক্ষত্বে অনুমানাভাসাৎ সাদৃশ্যাদিকল্পনানুপপত্তেঃ।

ন চ প্রত্যক্ষানুমানয়োরিরুদ্ধা ব্যভিচারিতা, প্রত্যক্ষপূরকত্বাদনুমানস্থ্য; সর্ব্বত্রৈব অনাশ্বাসপ্রসঙ্গাৎ,—যদি চ ক্ষণিকং সদ্, ‘তদেবেদম্’ ইতি গম্যমানং, তদ্বুদ্ধেরপি অন্য-তদ্বুদ্ধাপেক্ষত্বে তস্যা অপি অন্য-তদ্বুদ্ধাপেক্ষত্বম্,—ইত্যনবস্থায়াং তৎসদৃশমিদম্ ইত্যস্যা অপি বুদ্ধেন্নাহাত্মাৎ সর্ব্বত্র অনাশ্বাসতৈব। তদিদবুদ্ধ্যেরপি কর্ত্রভাবে সম্বন্ধানুপপত্তিঃ।

সাদৃশ্যাৎ তৎসম্বন্ধ ইতি চেং; ন; তদিদ বুদ্ধ্যোঃ ইতরেতরবিষয়া ত্বানুপপত্তেঃ। অসতি চ ইতরেতরবিষয়ত্বে সাদৃশ্যগ্রহণানুপপত্তিঃ। অসত্যেব সাদৃশ্যে তদ্বুদ্ধি- রিতি চেং; ন; তদিদংবুদ্ধ্যেরপি সাদৃশ্যবুদ্ধিবদ্ অসদ্বিষয়ত্বপ্রসঙ্গাৎ। অসদ্বিষয়ত্ব- মেব সর্ব্ববুদ্ধীনামস্তু ইতি চেং; ন; বুদ্ধি-বুদ্ধেরপি অসদ্বিষয়ত্বপ্রসঙ্গাৎ। তদপ্যস্ত ইতি চেং; ন; সর্ব্ববুদ্ধীনা, মুসাতে অসত্যবুদ্ধ্যনুপপত্তেঃ। তস্মাদসদেতৎ— সাদৃশ্যাৎ তদ্বুদ্ধিরিতি। অতঃ সিদ্ধঃ প্রাক্কার্য্যোৎপত্তেঃ কারণসদ্ভাবঃ; কার্য্যস্য চাভিব্যক্তিলিঙ্গহাৎ।

কার্য্যস্য চ সম্ভাবঃ প্রাগুৎপত্তেঃ সিদ্ধঃ; কথম? অভিব্যক্তি-লিঙ্গত্বাৎ, অভিব্যক্তিলিঙ্গমস্থ্যেতি? অভিব্যক্তিঃ সাক্ষাৎ বিজ্ঞানালম্বনত্বপ্রাপ্তিঃ। যদি লোকে প্রাবৃতং তমআদিনা ঘটাদি বস্তু, তদ্ আলোকাদিনা প্রাবরণতিরস্কারেণ বিজ্ঞানবিষয়ত্বং প্রাপ্নুবৎ প্রাক্সম্ভাবং ন ব্যভিচরতি; তথেদমপি জগৎ প্রাগুৎ- পত্তেরিত্যবগচ্ছামঃ। ন হি অবিদ্যমানো ঘট উদিতেহপ্যাদিত্যে উপলব্ধ্যতে। ন; তে অবিদ্যমানত্বাভাবাদ উপলভ্যেতৈব ইতি চেৎ,-ন হি তব ঘটাদি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৩৭

কার্য্যং কদাচিদপি অবিদ্যমানম্, ইত্যুদিতে আদিত্যে উপলভ্যেতৈব, মৃৎপিণ্ডে অসন্নিহিতে তমআদ্যাবরণে চাসতি বিদ্যমানত্বাদিতি চেৎ; ন; দ্বিবিধত্বাদ আবরণস্থ্য। ঘটাদিকার্য্যস্য দ্বিবিধং হি আবরণং--মৃদাদেরভিব্যক্তস্য তমঃ-কুড্যাদি, প্রাম্মদোহভিব্যক্তেমৃদাদ্যবয়বানাং পিণ্ডাদিকার্য্যান্তররূপেণ সংস্থানম্। তস্মাৎ প্রাগুংপত্তের্বিদ্যমানস্যৈব ঘটাদিকার্য্যস্য আবৃতত্বাৎ অনুপলব্ধিঃ। নষ্টোৎপন্নভাবা- ভাবশব্দ-প্রত্যয়ভেদস্তু অভিব্যক্তিতিরোভাবয়োদ্বিবিধত্বাপেক্ষঃ।

• পিণ্ডকপালাদেঃ আবরণবৈলক্ষণ্যাৎ অযুক্তমিতি চেং, —তমঃকুড্যাদি হি ঘটাদ্যাবরণ: ঘটাদিভিন্নদেশ, দৃষ্টম্, ন তথা ঘটাদিভিন্নদেশে দৃষ্টে পিণ্ড-কপালে; তস্মাৎ পিণ্ড-কপালসংস্থানয়োঃ বিদ্যমানস্যৈব ঘটস্থ্য আবৃতত্বাদনুপলব্ধিরিত্যযুক্তম্, আবরণধৰ্ম্ম-বৈলক্ষণ্যাদিতি চেং; ন; ক্ষীরোদকাদেঃ ক্ষীরাদ্যাবরণেন এক- দেশত্বদর্শনাৎ। ঘটাদিকার্যে কপাল-চূর্ণাদ্যবরবানামন্তভাবাদনাবরণত্বমিতি চেং; ন, বিভক্তানাং কাৰ্য্যান্তরত্বাদ্ আবরণত্বোপপত্তেঃ।

আবরণাভাব এব যত্নঃ কর্ত্তব্য ইতি চেং-পিণ্ড কপালাবস্থয়োবিদ্যমানমেব ঘটাদিকার্য্যমাবৃতত্বাৎ নোপলভ্যত ইতি চেৎ; ঘটাদিকার্য্যাপিনা তদাবরণ-বিনাশ এব যত্নঃ কর্তব্যঃ, ন ঘটাঢ্যৎপত্তৌ; ন চৈতদন্তি। তস্মাদযুক্তং বিদ্যমানস্যৈব আবৃতত্বাদনুপলব্ধিরিতি চেৎ; ন; অনিয়মাৎ।—ন হি বিনাশমাত্রপ্রযত্নাদেব ঘটাদ্যভিব্যক্তিনিয়তা; তম-আদ্যাবৃতে ঘটাদৌ প্রদীপাদ্যৎপত্তৌ প্রযত্নদর্শনাৎ। সোহপি তমোনাশায়ৈব ইতি চেৎ,—দীপাদ্যুৎপত্তাবপি যঃ প্রযত্নঃ, সোহপি তমস্তিরস্করণায়; তস্মিন্ নষ্টে ঘটঃ স্বয়মেরোপলভ্যতে; ন হি ঘটে কিঞ্চিদাধীয়ত- ইতি চেৎ; ন; প্রকাশবতো ঘটস্যোপলভ্যমানত্বাৎ। যথা প্রকাশবিশিষ্টো ঘট উপলভ্যতে প্রদীপকরণে, ন তথা প্রাক্ প্রদীপকরণাৎ। তস্মাৎ ন তমন্তির- স্কারায়ৈব প্রদীপকরণন্; কিং তর্হি? প্রকাশবত্ত্বায়; প্রকাশবত্ত্বেনৈব উপলভ্য- মানত্বাৎ। কচিদাবরণবিনাশেহপি যত্নঃ স্যাৎ, যথা কুড্যাদি-বিনাশে। তস্মাৎ ন নিয়মোহস্তি—অভিব্যক্তার্থিনা আবরণবিনাশ এব যত্নঃ কার্য্য ইতি।

নিয়মার্থবত্ত্বাচ্চ।—কারণে বর্তমানং কার্য্যং কার্য্যান্তরাণামাবরণম্, ইত্য- বোচাম। তত্র যদি পূর্ব্বাভিব্যক্তস্য কার্যাস্য পিণ্ডস্য ব্যবহিতস্য বা কপালস্য বিনাশে এব যত্নঃ ক্রিয়ত, তদা বিদলচূর্ণাদ্যপি কার্য্যং জায়েত; তেনাপি আবৃতো ঘটো নোপলভ্যত ইতি পুনঃ প্রযত্নান্তরাপেক্ষৈব। তস্মাদ্ ঘটাদ্য- ভিব্যক্ত্যর্থিনো নিয়ত এব কারকব্যাপারোহর্থবান্। তস্মাৎ প্রাগুৎপত্তেরপি সদেব কার্য্যম্।

৩৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অতীতানাগতপ্রত্যয়ভেদাচ্চ।—‘অতীতো ঘটঃ অনাগতো ঘট,’ ইত্যেতয়োশ্চ প্রত্যয়য়োঃ বর্তমানঘটপ্রত্যয়বৎ ন নির্বিষরত্বং যুক্তম্। অনাগতার্থি-প্রবৃত্তেশ্চ।— ন হি অসতি অর্থিতয়া প্রবৃত্তির্লোকে দৃষ্টা। যোগিনাং চ অতীতানাগত-জ্ঞানস্য সত্যত্বাৎ। অসংশ্লেষ্যভবিষ্যদঘটঃ, ঐশ্বর্য্য ভবিষ্যদঘটবিষয়ং প্রত্যক্ষজ্ঞানং মিথ্যা স্যাৎ। ন চ প্রত্যক্ষমুপচর্য্যতে; ঘটসদ্ভাবে হি অনুমানস্ অবোচাম্। বিপ্রতিষেধাচ্চ।—যদি ঘটো ভবিষ্যতীতি-কুলালাদিষু ব্যাপিয়মাণেষু ঘটাথঃ প্রমাণেন নিশ্চিতম্; যেন চ কালেন ঘটস্য সম্বন্ধঃ—ভবিষ্যতাত্যুচ্যতে, তস্মিন্নেব কালে ঘটোহসন্নিতি বিপ্রতিষেধমভিধীয়তে; ভবিষ্যৎ ঘটোহসন্নিতি-- ন ভবিষ্যতীত্যর্থঃ, অয়ং ঘটো ন বর্ত্ততে ইতি যদ্বৎ।

অথ প্রাগুৎপত্তের্ঘটোঽসন্নিত্যুচ্যেত, ---ঘটার্থ প্রবৃত্তেষু কুলালাদিষু তত্র যথা ব্যাপাররূপেণ বর্তমানাস্তাবৎকুলালাদয়ঃ, তথা ঘটো‘ন বর্ত্ততে ইত্যাসচ্ছদ- স্থ্যর্থশ্চেং, ন বিরুধ্যতে। কস্মাৎ? স্বেন হি ভবিষ্যদ্রূপেণ ঘটো বর্ত্ততে; ন হি পিগুহ্য বর্ত্তমানতা কপালস্য বা ঘটস্থ্য ভবতি, ন চ তয়োভবিষ্যত্তা ঘটস্থ্য। তস্মাৎ কুলালাদি-ব্যাপারবর্তমানতায়া- প্রাগুৎপত্তের্ঘটোঽসন্নিতি ন বিরুধ্যতে। যদি ঘটস্থ্য যৎ স্বং ভবিষ্যত্তাকাৰ্য্যরূপম্, তৎ প্রতিবিদ্যেত; তৎপ্রতিবেদে বিরোধঃ স্যাৎ; ন তু তদ্‌ ভবান্ প্রতিষেধতি; ন চ সর্ব্বেনা ক্রিয়াবতাম একৈক বর্ত্তমানতা ভবিষ্যত্ব বা।

অপি চ, চতুর্বিধানামভাবানা: ঘটস্য ইতরেতরাভাবো ঘটাদন্যো দৃষ্ট, ঘটাভাবঃ পটাদিরেব, ন ঘটস্বরূপমেব। ন চ ঘটাভাব; সনপটোহভাবাত্মক, কি তহি? ভাবরূপ এব, এবং ঘটস্থ্য প্রাক্-প্রধ্ব সাতান্তাভাবানামপি ঘটাদন্যত্ব স্যাৎ, ঘটেন ব্যপদিশ্যমানত্বাৎ, ঘটস্থ্যেতরেতরাভাবসং; তথৈব ভাবাত্মকতা অভা বানাম্। এবঞ্চ সতি, ‘ঘটস্থ্য প্রাগভাবঃ’ ইতি -ন ঘটস্বরূপমের প্রাপ্তৎপত্তেনাস্তি। অপ ঘটস্য প্রাগভাব ইতি--ঘটস্য যং স্বরূপা তদেবোচ্যেত; ঘটস্ত্রেতি ব্যপদেশানুপপত্তিঃ। অপ কল্পয়িত্বা ব্যপদিশ্যেত, ‘শিলাপুত্রকস্য শরীরম্’ ইতি যদ্বৎ; তথাপি ঘটস্থ্য প্রাগভার ইতি কল্পিতস্যৈবাভাবস্থ্য ঘটন বাপদেশো ন ঘটস্বরূপস্যৈব। অপরার্থান্তরং, ঘটাদ ঘটস্যাভাব ইতি, উক্তোত্তরমেতং। কিঞ্চান্যৎ, প্রাগুংপত্তেঃ শশবিবাণবদ্ অভাবভূতস্য ঘটস্থ্য স্বকারণসত্তাসম্বন্ধানু পপত্তিঃ, দ্বি-নিষ্ঠত্বাৎ সম্বন্ধস্য। আতসিদ্ধানামদোষ ইতি চেং ন; ভাবাভাবয়োঃ অগতসিদ্ধত্বানুপপত্তেঃ। ভাবভূতরোর্হি যতসিদ্ধতা আতসিদ্ধতা বা হ্যাৎ, ন তু ভাবাভাবয়োঃ অভাবয়োর্ধা; তস্যাৎ সদেব কার্য্যং প্রাগুংপত্তেরিতি সিদ্ধম্।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৩৯

কিংলক্ষণেন মৃত্যুনা আবৃতম্, ইত্যত আহ--অশনায়য়া, অশিতুমিচ্ছা অশনায়া, সৈব মৃত্যুঃ, সা হি মৃত্যোল ক্ষণম্; তরা লক্ষিতেন মৃত্যুনা অশনায়য়া। কথমশনায়া মৃত্যুরিতি? উচ্যতে--অশনায়া হি মৃত্যুঃ। হি-শব্দেন প্রসিদ্ধং হেতুমবদ্যোতরতি। যো হি অশিতুমিচ্ছতি, সোহশনায়ানন্তরমেব হন্তি জন্তুন; তেনাসৌ অশনায়য়া লক্ষ্যতে মৃত্যুঃ, ইতি অশনায়া হি--ইত্যাত। বুদ্ধ্যাত্মনোহ- শনায়া ধর্ম্মঃ, ইতি স এষ বুদ্ধ্যবস্থে। হিরণ্যগর্ভো মৃত্যুরিত্যচ্যতে; তেন মৃত্যুনেদং কার্য্যমাবৃতমাসীৎ; যথা পিণ্ডাবস্থয়া মৃদা ঘটাদয় আবৃতাঃ স্যরিতি, তদ্বৎ।

তন্মনোহকুরুত। তদিতি মনসো নির্দেশঃ। স প্রকৃতো মৃত্যুর্বক্ষ্যমাণ- কার্য্য-সিসৃক্ষয়া তৎকাৰ্য্যালোচনক্ষমং মনঃশব্দবাচ্য সঙ্কল্পাদিলক্ষণমন্তঃকরণম্ অকুরুত কৃতবান্। কেনাভিপ্রায়েণ মনোহকরোৎ ইতি? উচ্যতে—আত্মস্বী আত্মবান্ স্যাং ভবেয়ম্; অহমনেনাত্মনা মনসা মনস্বী স্যামিত্যভিপ্রায়ঃ।

স প্রজাপতিঃ অভিব্যক্তেন মনসা সমনঙ্কঃ সন্ অর্চ্চন্ অর্চ্চয়ন্ পূজয়ন্ আত্মান- মেব—কৃতার্থোহম্মীতি, অচরং চরণমকরোৎ। তস্য প্রজাপতেরর্চ্চতঃ পূজয়ত আপঃ রসাত্মিকাঃ পূজাঙ্গভূতা অজায়ন্ত উৎপন্নাঃ। অত্রাকাশপ্রভৃতীনাং ত্রয়াণামুৎ- পত্ত্যনন্তরমিতি বক্তব্যম্, শ্রুত্যন্তরসামর্থ্যাৎ, বিকল্পাসম্ভবাচ্চ সৃষ্টিক্রমস্য। অর্চ্চতে পূজাং কুর্ব্বতে বৈ মে মহা কম্ উদকমভূৎ ইতি এবমমন্যত যস্মাৎ মৃত্যুঃ, তদেব তম্মাদেব হেতোরর্কস্যাগ্নেঃ অশ্বমেধক্রতুপযোগিকস্টার্কত্বম্—অর্কত্বে হেতু- রিত্যর্থঃ। অগ্নেরর্কনামনিবচনমেতৎ—অর্চ্চনাৎ সুখহেতুপূজাকরণাৎ অপ্সম্বন্ধাচ্চ আগ্নেরেতদ্ গৌণঃ নাম ‘অর্কঃ’ ইতি। য এবং যথোক্তমর্কস্যার্কত্বং বেদ জানাতি, কম্ উদকং সুখং বা নামসামান্যাং; হ বা ইত্যবধারণার্থে; ভবত্যেবেতি, অস্মৈ এবংবিদে এবংবিদর্থ, ভবতি ॥ ৩॥ ১॥

টাকা। অশ্বাদিদর্শনোক্তানন্তরম্ অগ্নিদর্শনং বক্তুং ব্রাহ্মণান্তরম্ অবতারয়তি-অথেতি নৈবেহ-ইত্যাদৌ, তদ্‌দৃষ্টিনান্তীতি চেৎ, সত্যং, তত্র অগ্নেজন্ম বক্তঃ ভূমিকা ক্রিয়তে ইত্যাহ- আগ্নেরিতি। বায়োরগ্নিরিত্যাদৌ প্রসিদ্ধং তজ্জন্মেতি চেৎ, সত্যং, তদ্বিশেষস্যাত্র জন্মোক্তিঃ ইত্যাহ-অশ্বমেধেতি। দর্শনে বিধিৎসিতে কিং জন্মোক্ত্যেতি চেৎ, তত্রাহ-তদ্বিষয়েতি অগ্নিদর্শনস্য বিধাতুমিষ্টস্য সিন্ধ্যর্থমুপাস্ত্যাগ্নিস্তুতিফলা তদুৎপত্তিরিষ্টা শুদ্ধজন্মত্বাদুৎকৃষ্টত্বেনায়- মুপাস্যো রাজাদিবদিত্যর্থঃ। তাৎপর্য্যমুক্ত। বাক্যমাদায় অক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-নৈবেত্যাদিনা

নামরূপাভ্যাং বিভক্তো বিশেষো যস্মিন্নিতি বহুরীহিঃ। অত্র শূন্যবাদী লব্ধাবকাশোহবিমৃশ পরেষ্টশ্রু তাবষ্টন্তেন স্বপক্ষমাহ-কিমিত্যাদিনা। কাৰ্য্যস্ত প্রা সত্বে হেত্বন্তরমাহ-উৎপত্তেশ্চেতি বিমতং প্রাগসদুৎপদ্যমানত্বাৎ, যন্নৈবং ন তদেবং, যথা পরেষ্টং ব্রহ্মেতার্থঃ। হেত্বসিদ্ধিং শঙ্কিত্ব উত্তরমাহ--উৎপদ্যতে হীতি। ঘটগ্রহণং কার্য্যমাত্রস্য উপলক্ষণার্থম্। উত্তম্ অনুমান নিগময়তি--অত.ইতি। তত্র তার্কিকো ক্রতে-নম্বিতি। মছুক্তং ন কাযং কারণং বা আসী

৪০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দিতি, তত্র ভাগে বাধঃ,ভাগে চ অনুমতিঃ ইত্যর্থঃ। কার্যাস্যাপি কথং প্রাগসত্ত্বোপপত্তিঃ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—যন্ত্রেতি। এতেন অনুমানস্য সিদ্ধসাধ্যতা উক্তা। কার্য্যবৎ কারণস্যাপি প্রাগসত্ত্বং কিং ন স্যাৎ ইত্যাশঙ্কা উক্তহেত্বভাবাৎ মৈবমিত্যাহ—ন ত্বিতি। শূন্যবাদী আহ—ন প্রাগুৎ- পত্তেরিতি। বিমতং প্রাগসদ্ যোগত্বে সতি তদা অনুপলব্ধত্বাৎ, সম্মতবৎ। ন চ অসিদ্ধো হেতুঃ, শ্রুতেঃ অনতিশঙ্ক্যত্বাৎ। তদ্বিরোধে সতি উপলক্ষেঃ আভাসত্বাদিত্যর্থঃ। তদেব প্রপঞ্চয়তি—অনুপলব্ধিশ্চেদিতি।

• কাৰ্য্যবৎ কারণস্যাপি প্রাগসত্ত্বে প্রাপ্তে সিদ্ধান্তয়তি-নেত্যাদিনা। “নৈব”-ইত্যাদি- শ্রুতিরব্যক্তনামরূপাদিবিষয়া ন প্রাগসত্ত্বং কার্য্যকারণয়োরাহ; অন্যথা বাক্যশেষবিরোধাদ ইত্যর্থঃ। শ্রুতিং বিবৃণোতি-যদি হীতি। দ্বয়োরসত্ত্বে কা বাচোযুক্তেরনুপপত্তিঃ, তত্রাহ- ন হীতি। মা তহি বাক্যমেব ভূৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রবীতি চেতি। “মৃত্যুনা”-ইত্যাদিবাক্যার্থ- মুপসংহরতি-তস্মাদিতি। শ্রুতেঃ প্রামাণ্যাদিতি। তৎপ্রামাণ্যস্য প্রমাণলক্ষণে স্থিতত্বাদিতি যাবৎ। পরকীয়ে অনুমানে শ্রুতিবিরোধম্ অভিধায় অনুমানবিরোধমাহ-অনুমেয়ত্বাচ্চেতি। কার্য্যকারণয়োঃ সত্ত্বস্য অনুমেয়তয়া তদসত্ত্বম্ অনুমাতুমশকাম্। উপজীব্যবিষয়তয়া সত্ত্বমনু- মানস্য বলীয়স্থাদিত্যর্থঃ। কায্যকারণয়োঃ সত্ত্বানুমানং প্রতিজ্ঞায় প্রথমং কারণসত্ত্বম্ অনু- মিনোতি-অনুমীয়তে চেতাদিনা। কারণস্য সত্ত্বে অনুমানমাহ-কাৰ্য্যস্য হীতি। বিমতং সৎপূর্ব্বং, কাৰ্য্যত্বাৎ, কুম্ভবদিত্যর্থঃ।

ন অনুপমৃদ্য প্রাদুর্ভাবাদিতি ন্যায়েন দৃষ্টান্তস্য সাধবৈকল্য চোদয়তি-ঘটাদীতি। ন তাবদসিদ্ধো ঘটঃ স্বকারণমুপমৃদাতি, অসতোৎকারকত্বাৎ, সিদ্ধস্য তু উপমদ্দকত্বেন অসৎপূর্ব্বকত্ব মিতি কুতঃ সাধাবিকলতা ইত্যাঃ-নেতি। কিং চ অন্বয়িদ্রব্যমেব সর্বত্র কারণ, ন পিণ্ডাকার- বিশেষঃ, অনন্বয়াদনবস্থানাচ্চেতি কুতঃ সাধ্যবৈকল্যমিত্যাহ-মৃদাদেরিতি। তদেব স্ফুটয়তি-- মৃংসুবর্ণাদীতি। তত্রেতি দৃষ্টান্তোক্তিঃ। কিং চান্বয়ব্যতিরেকাভ্যা’ কারণমবধেয়ম্। ন চ পিণ্ডাভাবে ঘটো ন ভবতীতি ব্যতিরেকোহস্তি। পিণ্ডাভাবেংপি শকলাদিভ্যোংপি ঘটাদুস্তবো পলম্ভাদিত্যাহ-তদভাব ইতি। তদেব স্ফুটয়তি--অসত্যপীতি। ত্বন্মতেহপি ব্যতিরেক- রাহিতাং তুল্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অসতীতি। মৃদাদ্যের ঘটাদিকরণ চেৎ, কিমিতি পিণ্ডাদৌ সত্যের ততো ঘটাদ্যনুৎপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-সন্দমিতি। ব্রহ্মণি হবিদ্যাবশাদুপপত্তিরিতি ভাবঃ। অন্বয়িদ্রব্যং পূর্ব্বোৎপন্ন-স্বকার্য্যতিরোধানেন কায্যান্তর’ জনয়তি চেৎ, কাৰ্য্যতাদাত্মোন স্বয়মপি নশ্যেৎ, তত্রোত্তরকার্য্যোৎপত্তিহেত্বভাবাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। কাৰ্য্যাান্তরেহপি অনুবৃত্তিদর্শনাৎ কাৰ্য্যান্তরাত্মনা ভাবাচ্চেত্যর্থঃ। অন্বয়িদ্রব্যস্যৈব কারণত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি।

অন্বয়িনো মৃদাদেৰ্মানাভাবেনাভাবাৎ ন কারণতেতি শঙ্কতে-পিণ্ডাদীতি। তদেব চোদ্য: বিবৃণোতি-পিণ্ডাদীত্যাদিনা। মৃদঘটঃ সুবর্ণকুণ্ডলমিত্যাদি-তাদাত্মপ্রত্যয়স্য পিণ্ডাদ্যতি রিক্তমৃদাদ্যভাবে অনুপপত্তেরনুগতং মৃদাদ্যপেয়মিতি পরিহরতি-নেতি। কিং চ, যা পিণ্ডক্সনা পূর্ব্বেদ্যামৃদাসীৎ, সৈব ঘটাদ্যভূদিতি প্রত্যভিজ্ঞয়া মৃদো অন্বয়িন্যাঃ সিদ্ধেস্তৎকারণত্বং দুরপহ্নব- মিত্যাহ-মৃদাদীতি। যৎ সৎ তৎ ক্ষণিকং, যথা দীপঃ, সন্তশ্চেমে ভাবাঃ, ইত্যনুমানাৎ সর্বার্থানাং ক্ষণিকত্বসিদ্ধেরন্বয়দৃষ্টিঃ। সাদৃশ্যাৎ ভ্রান্তিরিতি শঙ্কতে-সাদৃশ্যাদিতি। প্রতাভিজ্ঞা-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৪১

সিদ্ধ-স্থায্যর্থ-বিরুদ্ধং ক্ষণিকার্থবোধলিঙ্গম্[ অগ্নেঃ] অনুক্তানুমানবৎ ন মানমিতি দূষয়তি— নেত্যাদিনা। সাদৃশ্যাদীত্যাদিশব্দেন প্রত্যভিজ্ঞাত্রান্তিত্বাদি গৃহতে।

প্রত্যক্ষাৎ কারণৈক্যং গম্যতে, অনুমানাত্তস্তেদঃ। অতো দ্বয়োবিরুদ্ধত্বস্যাব্যভিচারিত্বাৎ ন অধ্যক্ষেণানুমানবাধঃ, বৈপরীত্যসম্ভবাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি! প্রত্যভিজ্ঞামুপজীব্য ক্ষণিক- ত্বানুমানাপ্রবৃত্তাবপি উপজীব্যজাতীয়ত্বাৎ তৎপ্রাবল্যাদুপজীবকজাতীয়কমুক্তানুমানং দুর্ব্বলং তদ্বাধ্যমিতার্থঃ। প্রত্যভিজ্ঞা স্বার্থে স্বতো ন মান’, বৃদ্ধান্তরসবাদাদেব বুদ্ধীনাং মানস্থস্য বৌদ্ধৈরিষ্টত্বাৎ। ন চ বৃদ্ধান্তরং স্থায়িত্বসাধকমস্তীতি প্রত্যভিজ্ঞায়মানস্যাপি ক্ষণিকত্বমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-সর্বত্রেতি। প্রসঙ্গমেব প্রকটয়তি-যদি চেতি। ক্ষণিকত্বাদবুদ্ধেরপি স্বার্থে স্বতো- মানহাভাবাৎ তাদৃগবুধ্যন্তরাপেক্ষায়াং তস্যাপি তথাহেন অনবস্থানাদ বুদ্ধেঃ স্বতঃ প্রামাণ্য- মুপেয়ম্। তথা চ প্রত্যভিজ্ঞানং সর্ব্বং তথৈবাবাধাদিত্যর্থঃ। কিং চ, প্রত্যভিজ্ঞায়া ভ্রান্তিত্বং বদতা স্বরূপানপঙ্গবাৎ তদিদংবুদ্ধ্যোঃ সামানাধিকরণ্যেন সম্বন্ধো বাচঃ, স চ বক্তুং ন শক্যতে, ক্ষণদ্বয়সম্বন্ধিনে। দ্রষ্টুরভাবাদিত্যাহ-তদিদমিতি।

অসতি সম্বন্ধে বুদ্ধ্যোঃ সাদৃশ্যাৎ তদ্‌বুদ্ধিরিতি শঙ্কতে-সাদৃশ্যাদিতি। তয়োঃ স্বসংবেদ্যত্বাদ্ গ্রাহকান্তরস্য চাওবান্ন সাদৃশ্যসিদ্ধিরিতি দূষয়তি-ন তদিদঃবুদ্ধোরিতি। তথাপি. কিমিতি সাদৃশ্যাসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অসতি চেতি।

সাদৃশ্যাসিদ্ধিমভূপেত্য শঙ্কতে-অসতোবেতি। যত্র সত্যেবার্থে ধীস্তত্রৈব সাধকাপেক্ষা, নান্যত্রেতি ভাবঃ। এ বাহ্যার্থবাদিনং প্রত্যাহ-ন তদিদবুদ্ধোরিতি। বিজ্ঞানবাদ্যাহ- অসদিতি। তথা সত্যানালম্বনং ক্ষণিকবিজ্ঞানমিতাস্যাপি জ্ঞানস্যাসদ্বিষয়তয়া বিজ্ঞানবাদাসিদ্ধি- রিতাহ-নেতি। শূন্যবাদ্যাহ-তদপীতি। সর্ব্বা ধারসদ্বিষয়েতোষা ধীরসদ্বিষয়া স্যাৎ, ততশ্চ সর্ববুদ্ধেরসদ্বিষয়ত্বাসিদ্ধিরিতি দূষয়তি-নেত্যাদিনা। পরপক্ষাসম্ভবাত্তৎপ্রতাভিজ্ঞায়াঃ স্থায়ি- হেতুসিন্ধৌ দৃষ্টান্তস্য সাধ্যবৈকল্যং পরিহৃত্যাবান্তর প্রকৃতমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। সম্প্রতি কারণসত্ত্বানুমানং নিগময়তি-অত ইতি। কার্য্যকারণয়োদ্বয়োরপি প্রাগুৎপত্তেঃ সত্ত্বমনু- মেয়মিতি প্রতিজ্ঞায় কারণাস্তিত্বং প্রপঞ্চিতম্, ইদানীং কাৰ্য্যাস্তিত্বানুমানং দর্শয়তি-কার্য্যস্য চেতি। প্রাগুৎপত্তেঃ সম্ভাবঃ প্রসিদ্ধ ইতি চকারার্থঃ।

প্রতিজ্ঞাভাগং বিভজতে-কার্যাস্যেতি। হেতুভাগমাক্ষিপতি-কথমিতি। অভি- ব্যক্তিলিঙ্গমন্যেতি ব্যুৎপত্যা, কথমভিব্যক্তিলিঙ্গত্বাদিতি কার্যাসত্ত্বে হেতুরুচাতে? সিদ্ধে হি সয়ে অভিব্যক্তিলিঙ্গমস্যেতি সিধ্যতি, তম্বলাচ্চ সত্ত্বসিদ্ধিরিত্যন্যোহ্যাশ্রয়াদিত্যর্থঃ। সংপ্রতিপন্নয়া অভিব্যক্ত্যা বিপ্রতিপন্নং সত্ত্বং সাধ্যতে, তন্নান্যোশ্যাশ্রয়ত্বমিতি পরিহরতি-অভিব্যক্তিরিতি। কথং তহীহানুমানং প্রযোক্তব্যমিত্যাশঙ্ক্য প্রথমং ব্যাপ্তিমাহ-যদ্ধীতি। যদ্যভিব্যজ্যমানং তৎপ্রাগভিব্যক্তেরস্তি, যথা তমোন্তঃস্থং ঘটাদীত্যর্থঃ। সম্প্রতানুমিনোতি-তথেতি। বিমতং প্রাগভিব্যক্তেঃ সৎ, অভিব্যক্তিবিষয়ত্বাদ, যদ্ধ্যভিব্যজ্যতে, তৎ প্রাক্সৎ, সংপ্রতিপন্নবদিত্যর্থঃ। ননু তমোহন্তঃস্থো ঘটঃ অভিব্যঞ্জকসামীপ্যাডভিব্যজ্যতে, ন তত্র প্রাক্কালীনং সত্ত্বং প্রয়োঃ কমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-ন হীতি।

উক্তে অনুমানে কার্য্য সপুষ্পকবিধিসমঃ, বিসর্গ, বাচন, প্রবৃত্তি—নেত্যাদি।

৪২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উক্তানুমাননিষেধো নঞর্থঃ। অবিদ্যমানত্বাতাবাদিতি চ্ছেদঃ। অনুমানে বাধকোপন্যাসং বিবৃণোতি-ন হীতি। বর্তমানবদতীতমাগামি চ ঘটাদি সদেব চেছুপলবিসামগ্র্যাং সত্যাং, তদ্বৎ প্রাগ্জনের্নাশাচ্চোর্দ্ধম্ উপলভ্যেত, ন চৈবমুপলভ্যতে, তস্মাদযুক্তং কার্য্যস্থ্য সদা সত্ত্বমিত্যর্থঃ। মৃৎপিণ্ডগ্রহণং বিরোধিকার্য্যান্তরোপলক্ষণার্থম্। অসন্নিহিতে সতীতি চ্ছেদঃ। ন তাবদ্বিদ্যমানস্ব- মাত্রং কাৰ্য্যস্থ্য সদোপলস্তাপাদকং, সতোহপি ঘটাদেঃ অভিব্যক্তানভিব্যক্তোরুপলব্ধত্বাদিতি সমাধত্তে-নেতি। অভিব্যক্তিসামগ্রীসত্ত্বং ত্বভিব্যক্তিসাধকং, ন তু সতন্তৎসামগ্রীনিয়মোহস্তি ইত্যভিপ্রেত্যাহ-দ্বিবিধত্বাদিতি। উৎপন্নস্য কুড্যাদ্যাবরণমনুৎপন্নস্য বিশিষ্টং কারণমিতি দ্বৈবিধমেব প্রতিজ্ঞাপূর্ব্বকং সাধয়তি-ঘটাদীতি। যদোপলভ্যমানকারণাবরবানাং কাৰ্য্যান্তরা- কারেণ স্থিতিঃ, তদা নেদং কাৰ্য্যমুপলভ্যতে, তত্রান্যথা চোপলভ্যত ইত্যন্বয়ব্যতিরেকসিদ্ধং কারণস্থ্য কাৰ্য্যান্তররূপেণ স্থিতস্য কাৰ্য্যাবরকত্বমিতি দ্রষ্টব্যম্। বিশিষ্টস্য কারণস্থ্য আবরকত্বাসিন্ধৌ সিন্ধমর্থমাহ-তস্মাদিতি। প্রাক্কায্যাস্তিত্বে সিদ্ধে সদা তদুপলব্ধিপ্রসঙ্গবাধকং নিরাকৃত্য, নষ্টো ঘটো নাস্তীত্যাদিপ্রয়োগপ্রত্যয়ভেদানুপপত্তিং বাধকান্তরমাশঙ্ক্যাহ-নষ্টেতি। কপালাদিনা তিরোভাবে নষ্টব্যবহারঃ, পিণ্ডাদ্যাবরণভঙ্গেন অভিব্যক্তাবুৎপন্নব্যবহারঃ, দীপাদিনা তমোনিরা- সেনাভিবাক্তৌ ভাবব্যবহারঃ, পিণ্ডাদিনা তিরোভাবে অভাবব্যবহারঃ। তদেবং কাৰ্য্যস্থ্য সদা সত্ত্বেংপি প্রয়োগপ্রত্যয়ভেদসিদ্ধিরিত্যর্থঃ।

পিণ্ডাদি ন ঘটাদ্যাবরণং, তেন সমানদেশত্বাৎ। যদ যস্য আবরণং, ন তৎ তেন সমানদেশ’, যথা কুড্যাদীতি-শঙ্কতে-পিণ্ডেতি। বাতিরেকানুমানং বিদৃণেতি-তম ইত্যাদিনা। অনুমান ফলং নিগময়তি-তস্মাদিতি। কিমিদ’ সমানদেশত্বম্। কিমেকাশ্রয়ত্বং কিংবৈককারণত্বমিতি বিকল্প্যাদ্যং বিরুদ্ধত্বেন দুষয়তি-নেত্যাদিনা। ক্ষীরেণ সংকীর্ণস্যোদকাদেরাত্রিয়মানস্থেতি যাবৎ। দ্বিতীয়মুখাপয়তি-ঘটাদীতি। যস্যেদ কার্য্য, তস্মিন্মদাত্মনি তেষামবস্থানাৎ তদ্বৎ তেষানাবরণত্বমিত্যর্থঃ। ঘটাবস্থমৃন্মাত্রবৃত্তিকপালাদেঃ ঘটানাবরণত্বমিষ্টমেবেতি সিদ্ধ- সাধ্যতা, অব্যক্তঘটাবস্থমৃদবৃত্তিকপালাদেঃ অনাবরণত্বসাধনে হেত্বসিদ্ধিঘটস্ত কপালাদেশ আশ্রয়মৃদবয়বভেদাদিতি দূষয়তি-ন বিভক্তানামিতি।

বিদ্যমানস্যৈব আবৃতত্বাৎ অনুপলব্ধিশ্চেৎ, আবরণতিরস্কারে যত্নঃ স্যাৎ, ন ঘটাদেরুৎপত্তৌ, অতোহনুভববিরোধঃ সৎকার্য্যবাদিনঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-আবরণেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি... পিণ্ডেতি। যত্র আবৃতং বস্তু ব্যজাতে, তত্র আবরণভঙ্গ এব যত্নঃ, ইতি ব্যাপ্তাভাবান্নানুভব- বিরোধোহস্তীতি দূষয়তি-ন অনিয়মাদিতি। অনিয়মঃ সাধয়তি-ন হীতি। তমসা আবৃতে ঘটাদো দীপোৎপত্তৌ যত্নোহস্তাত্যত্র চোদয়তি-সোংপীতি। অনুভববিরোধমাশঙ্ক্যোক্তমেব ব্যনক্তি-দীপাদীতি। দীপস্তমস্তিরয়তি চেৎ, কথং রন্তোপলব্ধিরত আহ-তস্মিন্নিতি। তত্র হেতুমাহ-ন হীতি। অনুভবমনুসূত্য পরিহরতি-নেত্যাদিনা। কিমিদানীমাবরণভঙ্গে প্রযত্নো নেত্যেব নিয়মোহস্তু, নেত্যাহ-কচিদিতি। অনিয়মং নিগময়ন্ননুভববিরোধাভাবমুপসংহরতি- তস্মাদিতি। কিঞ্চ, অভিব্যঞ্জকব্যাপারে সতি নিয়মেন ঘটো বাজ্যতে, তদভাবে বেত্যন্বয়ব্যতিরেকা- বধারিতো ঘটার্থঃ কুলালাদিব্যাপারঃ, তস্যার্থবস্ত্বার্থমভিব্যক্ত্যর্থ এব প্রযত্নো বক্তব্যঃ, আবরণ-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৪৩

ভঙ্গস্বার্থিক ইত্যাহ-নিয়মেতি। উক্তং স্মারয়ন্নেতদেব বিবৃণোতি-কারণ ইত্যাদিনা। আবৃতিভঙ্গার্থে যত্নে যতো ঘটানুপলব্ধিঃ, অতস্তদুপলব্ধ্যর্থত্বেন নিয়তঃ সন্ যত্নঃ সফলঃ স্যাদিতি ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। প্রকৃতমভিব্যক্তিলিঙ্গকমনুমানং নির্দোষত্বাদাদেয়ং মম্বানস্তৎফলমুপ- সংহরতি-তস্মাৎ প্রাগিতি।

কাৰ্য্যস্য সতে যুক্ত্যন্তরমাহ-অতীতেতি। বিমতং সদর্থং প্রমাণত্বাৎ প্রতিপন্নবদিত্যর্থঃ। তদেবাসুমানং বিশদয়তি-অতীত ইতি। অত্রৈবোপপত্ত্যস্তরমাহ-অনাগতেতি। আগামিনি ঘটে তদর্থিত্বেন লোকে প্রবৃত্তিদুষ্টা, ন চাতান্তাসতি না যুক্তা, তেন তস্যাসদ্বিলক্ষণতেত্যর্থঃ। কিং চ যোগিনামীশস্য চাতীতাদিবিষয়ং প্রত্যক্ষজ্ঞানমিষ্টং, তচ্চ বিদ্যমানোপলম্ভনম্, অতো ঘটস্ত সদা সত্ত্বমিত্যাহ-যোগিনাং চেতি। ঈশ্বরসমুচ্চয়ার্থশ্চকারঃ। ভবিষ্যদগ্রহণমতীতোপলক্ষণার্থম্। ঐশ্বরং যৌগিকং চেতি দ্রষ্টব্যম্। প্রসঙ্গস্যেষ্টত্বমাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। অধিকবলং হি বাধকং, ন চানতিশয়াদৈশাদিজ্ঞানাৎ অধিকবলং জ্ঞানং দৃষ্টম্, অতো বাধকাভাবাৎ ন তন্মিথ্যেত্যর্থঃ। তন্য সম্যক্ত্বেহপি পূর্বোত্তরকালয়োরসদঘটবিষয়ত্বং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ঘটেতি। পূর্বোত্তর- কালয়োরিতি শেষঃ।

ঘটস্য প্রাগসত্ত্বাভাবে হেত্বন্তরমাহ—বিপ্রতিষেধাদিতি। স হি কারকব্যাপারদশায়ামসন্নিতি কোহর্থঃ? কি’ তস্য ভবিষ্যত্বাদি তদ! নাস্তি? কিং বাংর্থক্রিয়াসামর্থ্যম্? আদ্যে ব্যাহতিং সাধয়তি —যদীতি। ঘটার্থং কুলালাদিষু ব্যাপ্রিয়মাণেষু সৎসু ঘটো। ভবিষ্যতীতি প্রমাণেন নিশ্চিতং চেৎ, কথং তদ্বিরুদ্ধং প্রাগসত্ত্বমুচ্যতে। কারকব্যাপারাবচ্ছিন্নেন হি কালেন ঘটস্য ভবিষ্যত্বেনাতীতত্বেন বা ভবিষ্যত্যভূদিতি বা সম্বন্ধো বিবক্ষাতে। তথা চ তস্মিন্নেব কালে ঘটস্য তথাবিধসত্ত্বনিষেধে ব্যাহতিরতিব্যক্তেত্যর্থঃ। তামেরাভিনয়তি—ভবিষ্যন্নিতি। যো হি কারকব্যাপারদশায়াং ভবিষ্যত্বাদিরূপেণান্তি, স তদা নাস্তীভুক্তে তস্য তস্যামবস্থায়াং তেনাকারেণাসত্ত্বমর্থো ভবতি। তথা চ ঘটো যদা যেন আকারেণান্তি, স তদা তেন আকারেণ নাস্তীতি ব্যাহতিরিত্যর্থঃ।

দ্বিতীয়মুখাপয়তি-অথেতি। প্রাগুৎপত্তেঘটার্থং কুলালাদিষু প্রবৃত্তেষু সোহসন্নিত্যসচ্ছদার্থং স্বয়নেব বিবেচয়তি-তত্রেত্যাদিনা। তত্র সিদ্ধান্তী ক্রতে-ন বিরুধাত ইতি। কথং পুনঃ সৎ- কাৰ্য্যবাদিনস্তদসমবিরুদ্ধমিত্যাহ-কস্মাদিতি। প্রাগুৎপত্তেস্তচ্ছব্যাবৃত্তিরূপং সত্ত্বং ঘটস্য সিযাধয়িষিতং, তচ্চেদ্ ভবানপি তস্য সদাতনমর্থক্রিয়াসামর্থং নিষেধমনুমন্যতে, নাবয়োর্বিপ্রতি- পত্তিরিত্যভিপ্রেত্যাহ-স্বেন হীতি। ননু ত্বন্মতে সর্বস্থ্য মৃন্মাত্রত্বাবিশেষাৎ পিণ্ডাদেবর্ত্তমানতা ঘটস্য স্যাৎ, তস্য চ অতীততা ভবিষ্যত্তা চ পিণ্ডকপালয়োঃ স্যাদিতি সাঙ্কর্য্যমাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। ব্যবহারদশায়াং যথা প্রতিভাসমনির্ব্বাচসংস্থানভেদাশ্রয়ণাদিতার্থঃ। প্রাগবস্থায়াঃ ঘটস্যার্থক্রিয়া- সামর্থ্যলক্ষণসত্ত্বনিষেধে বিরোধাভাবমুপপাদিতমুপসংহরতি-তন্মাদিতি। উক্তমেব বাতিরেক- দ্বারা বিবৃণোতি-যদীত্যাদিনা। যদা কারকাণি ব্যাপ্রিয়ন্তে, তদা ঘটোহসন্নিতি তস্য ভবিষ্যত্বাদিরূপং তৎকালে নিষিদ্ধতে চেদুক্তবিধয়া ব্যাঘাতঃ স্যাৎ। ন চ তস্য তস্মিন্ কালে ভবিষ্যত্বাদিরূপং সত্ত্বং নিষিদ্ধতে, অর্থক্রিয়াসামর্থ্যস্যৈব নিষেধাৎ, তৎ ন বিরোধাবকাশো- হস্তীতার্থঃ। নাহি পিওন্যেত্যাদিনা সাঙ্কর্য্যসমাধিরুক্তস্তমিদানীং সর্ব্বতন্ত্রসিদ্ধান্ততয়া স্ফুটয়তি- ন চেতি। ভবিষ্যত্বমতীতত্বং চেতি শেষঃ।

৪৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কাৰ্য্যস্য প্রাগুৎপত্তের্নাশ্চোর্দ্ধমসত্ত্বাভাবে হেত্বন্তরমাহ-অপি চেতি। তদেবানুমানতয়া স্পষ্টয়িতুং দৃষ্টান্তং সাধয়তি-চতুর্বিধানামিতি। ষষ্ঠী নির্দ্ধারণে। ঘটান্যোন্যাভাবস্থ্য ঘটাদন্যত্বে তত্রাপি অন্যোন্যাভাবান্তরাঙ্গ। কারাৎ অনবস্থেত্যাশঙ্ক্যাহ-দৃষ্ট ইতি। ন যৌক্তিকমন্যত্বং, কিন্তু ঘটে। ন ভবতি পট ইতি প্রাতীতিকং, তথাচ ঘটাভাবঃ ঘটাদিরেবেতি পটাদেস্ততোহন্যত্বাদ- ঘটান্যোন্যাভাবস্যাপি ঘটাদন্যত্বসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। ননু ঘটাভাবঃ পটাদিরিত্যযুক্তং, বিশেষণত্বেন ঘটস্যাপি পটাদাবন্তর্ভাবপ্রসঙ্গাদিতি চেন্মৈবং, দৃষ্টপদেন ক্রোড়ীকৃতত্বাৎ; ঘটাভাবস্য পটাদিত্বা- ভাবেহপি ন স্বাতন্ত্র্যম্, অভাবত্ববিরোধাৎ। নাপি ‘তদন্যোন্যাভাবঃ পটাদেধৰ্ম্মঃ, সংসর্গাভাবান্ত- ভাবাপাতাৎ। ন চ স ঘটস্যৈব ধৰ্ম্ম: স্বরূপং বা, ঘটো ঘটো ন ভবতীতিপ্রতীত্যভাবাদিত্যভি- প্রেত্যাহ-ন ঘটস্বরূপমেবেতি। যদি প্রতীতিমাশ্রিতা ঘটান্যোন্যাভাবঃ পটাদিরিষ্যতে, তদা পটাদের্ভাবস্যাভাবত্ববিধানাদব্যাঘাত ইত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। “স্বরূপপররূপাভ্যাং সর্ব্বং সদসদাত্মকম্” ইতি হি বৃদ্ধাঃ। তথা চ পটাদেঃ স্বেনাত্মনা ভাবত্বং ঘটতাদাত্ম্যাভাবাৎ তদ- ভাবত্বং চেত্যব্যাহতিরিত্যর্থঃ। সিদ্ধে প্রতীত্যনুসারণি দৃষ্টান্তে বিবক্ষিতমনুমানমাহ-এবমিতি। কিং চ, তেষামভাবানাং ঘটাত্তিন্নত্বাৎ পটবদেব সত্ত্বমেষ্টব্যমিতানুমানাস্তরমাহ-তথেতি। অনু- মানফলং কথয়তি-এবং চেতি। তেষাং ঘটাদন্যত্বে তস্য অনাদ্যনন্তত্বমদ্বয়ত্বং সম্বন্ধাত্মত্বং চ প্রাপ্নোতি। সত্ত্বে চ তেষামভাবাভাবান্ন ভাবাভাবয়োমিথঃ সঙ্গতিরিত্যর্থঃ।

ননু প্রসিদ্ধোহভাবো ভাববৎ অশক্যোংপঙ্কোতুমিতি চেৎ, স তহি ঘটস্য স্বরূপমর্থান্তরং বেতি বিকল্প্যাদ্যমনুদ্য দূষয়তি-অথেত্যাদিনা। প্রাগভাবাদেঘটত্বেংপি সম্বন্ধং কল্পয়িত্বা ঘটস্তেত্যুক্তি- রিতি শঙ্কতে-অথেতি। সম্বন্ধস্য কল্পিতত্বে সম্বন্ধিনোংপ্যভাবাদস্য তথাত্বং স্যাদিতি দূষয়তি- তথা সতি। যত্র সম্বন্ধং কল্পয়িত্বা ব্যপদেশস্তত্র ন বাস্তবো ভেদঃ, যথা রাহুশিরসো, তথাত্রাপি কল্পিতে সম্বন্ধে ভেদস্য তথাত্বাদ বাস্তবত্বং সম্বন্ধিনোরন্যতরস্য স্যাৎ। ন চাভাবস্তথা সাপেক্ষত্বা- দতো ঘটন্তখেত্যর্থঃ। কল্পান্তরমনুবদতি-অথেতি। অনুমানফলং বদদ্ভিঘটস্য কারণাত্মনা ধ্রুবত্ববচনেন সমাহিতমেতদিত্যাহ-উক্তোত্তরমিতি। অসৎকার্য্যবাদে দোষান্তরমাহ-কিং চেতি। স্বহেতুসম্বন্ধঃ সত্তাসম্বন্ধো বা জন্মেতি তার্কিকাঃ। ন চ প্রাগুৎপত্তেরসতঃ সম্বন্ধস্তস্য সতোবৃত্তেরিত্যর্থঃ। যুতসিদ্ধয়োঃ রজ্জুঘটয়োমিথঃসংযোগে পৃথসিদ্ধিরপেক্ষ্যতে, অযুত- সিন্ধানাং পরস্পরপরিহারেণ প্রতীত্যনহানাং কার্যকারণাদীনাং মিথোযোগে পৃথসিদ্ধ্যভাবো ন দোষমাবহতীতি শঙ্কতে-অযুতেতি; পরিহরতি-নেতি। উক্তমেব ক্ষোরয়তি-ভাবেতি। ব্যবহারদৃষ্ট্যা কার্যকারণয়োঃ সাধিতাং তুচ্ছব্যাবৃত্তিমুপসংহরতি-তস্মাদিতি।

নৈবেহেত্যত্র সর্বস্থ্য প্রাগুৎপত্তেরসত্বশঙ্কা মৃত্যুনেত্যাদিবাক্যব্যাখ্যানেন নিরস্তা। সংপ্রতি মৃত্যুশব্দস্যার্থান্তরে রূঢ়ত্বাৎ ন তেনাবরণং জগতঃ সম্ভবতীত্যাক্ষিপতি-কিংলক্ষণেনেতি। অনভিব্যক্তনামরূপম্ অধ্যক্ষাদ্যযোগ্যম্ অপঞ্চীকৃতপঞ্চমহাভূতাবস্থাতিরিক্তং মায়ারূপং সাভাসং মৃত্যুরিত্যুচ্যতে। ন হি সর্ব্বং কাৰ্য্যম্ অবান্তরকারণাদুৎপত্তুমর্হতি, ইত্যভিপ্রেত্যাহ-অত আহেতি। কথং যথোক্তো মৃত্যুরশনায়য়া লক্ষ্যতে? ন হি মূলকারণস্য অশনায়াদিমওম্, অশনায়াপিপাসে প্রাণস্যেতি স্থিতেঃ, ইতি শঙ্কতে-কথমিতি। মূলকারণস্যৈব: সূত্রত্বং প্রাপ্তস্য সর্বসংহর্তৃত্বান্ম ত্যুত্বে সতি বাক্যশেষোপপত্তিরিতি পরিহরতি-উচ্যত ‘ইতি। প্রসিদ্ধমেব

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৪৫

প্রকটয়তি-যো হাঁতি। তথাপি প্রসিদ্ধং মৃত্যুং হিত্বা কথং হিরণ্যগর্ভোপাদানমত আহ- বুদ্ধ্যাত্মন ইতি। উক্তং হেতুং কৃত্বা ফলিতমাহ-স ইতি। ননু ন তেন জগদাব্রিয়তে, মূলকারণেনৈব তদাবরণাৎ, তৎকথং বাক্যোপক্রমোপপত্তিরত আহ-তেনেতি। ননু হিরণ্য- গর্ভে প্রকৃত্তে কথং স্রষ্টরি নপুংসক প্রয়োগস্তত্রাহ-তদিতি মনস ইতি। ব্যক্যার্থমধুনা কথয়তি- স প্রকৃত ইতি। ভূতসৃষ্ট্যতিরেকেণ ভৌতিকস্য মনসঃ সৃষ্টিরযুক্তেতি মহা পৃচ্ছতি-কেনেতি। অপঞ্চীকৃতানাং ভূতানাং হিরণ্যগর্ভদেহভূতানাং প্রাগেব লব্ধাত্মকত্বাৎ তেভ্যো মনোব্যক্তির- বিরুদ্ধেতি মম্বানো ক্রতে-উচ্যতে ইতি। স্বাত্মবত্ত্বস্য স্বাভাবিকত্বাৎ ন তদাশংসনীয়মিত্যাশঙ্ক্য বাক্যার্থমাহ-অহমিতি।

মনসো ব্যক্তস্যোপযোগমাহ-স প্রজাপতিরিতি। ননু তৈত্তিরীয়কাণাম্ আকাশাদি- সৃষ্টরুচাতে, তৎ কথমিহাপামাদৌ সৃষ্টিবচনং, তত্রাহ-অত্রেতি। সপ্তম্যা হিরণ্যগর্ভকর্তৃক- সর্গোক্তিঃ। ত্রয়াণাং পঞ্চীকৃতানামিতি যাবৎ। নম্বাকাশাদ্যা তৈত্তিরীয়ে সৃষ্টিরিহ ত্ববাদ্যেত্যু- দিতানুদিতহোমবদ্বিকল্পো ভবিষ্যতি, নেত্যাহ-বিকল্পেতি। পুরুষতন্ত্রত্বাৎ ক্রিয়ায়া যুক্তো বিকল্পঃ সিদ্ধেহর্থে তু পুরুষানধীনে নাসৌ সম্ভবত্যতঃ সৃষ্টিবিবক্ষিতা চেৎ, আকাশাদ্যৈব সা যুক্তা, বিদ্যাপ্রধানত্বাৎ তু নাদরঃ সৃষ্টাবিতিভাবঃ। অপামত্র সৃষ্টিবচনমনুপযুক্তং, ন স্রষ্টুস্তাভিরেব পূজা সিধ্যতীত্যাশঙ্কা আশ্বমেধিকাগ্নেরকনামসিদ্ধার্থং তদুপযোগমুপন্যস্যতি- অচ্চত ইতি। কোৎসৌ হেতুরিত্যপেক্ষায়াম্ অর্চ্চতিপদাবয়বস্য অকশব্দেন সঙ্গতিরিতি মম্বানঃ সন্নাহ-অকত্বমিতি। এবং মৃত্যোরকত্বেইপি কথমগ্নেরকত্বমিত্যাশঙ্কা মৃত্যুসম্বন্ধাদিত্যাহ- অগ্নেরিতি। কিমর্থমগ্নেরকনামনির্বচনমিত্যাশঙ্ক। অপূর্বসংজ্ঞাযোগস্য ফলন্তরাভাবাদুপাসনার্থ- মিত্যাহ-অগ্নেরিতি। নির্বচনমের ক্ষোরয়তি-অর্চ্চনাদিতি। ফলবত্ত্বাচ্চ যথোক্তনামবতো- হগ্নেরুপাস্তিরত্র বিবক্ষিত। ইত্যাহ-য এবমিতি ৫৩।১।

ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর অশ্বমেধযজ্ঞোপযোগী অগ্নির উৎপত্তিপ্রণালী কথিত হইতেছে। তদ্বিষয়ক উপাসনাবিজ্ঞানোপদেশই শ্রুতির অভিপ্রেত; সুতরাং, অগ্নির উৎপত্তি-বর্ণনা কেবল তাহার স্তুতির জন্য, অর্থাৎ গুণপ্রকাশনার্থ মাত্র বুঝিতে হইবে। “নৈবেহ কিঞ্চনাগ্র আসীৎ”, ইহার অর্থ—এই সংসার- মণ্ডলে অন্তঃকরণ প্রভৃতি সৃষ্টির পূর্ব্বে—নাম ও আকৃতি-সম্পন্ন কিছুমাত্রও ছিল না।

[ সংকারণবাদের বিপক্ষে বৌদ্ধের আপত্তি ও তাহার খণ্ডন।—]

[শূন্যবাদী বলিতেছেন—] ভাল, তবে কি শূন্যই ছিল? সবই শূন্য হইবে? “নৈবেহ কিঞ্চন” শ্রুতি অনুসারে জানা যায় যে, কার্য্য বা কারণ—কিছুই ছিল না; বিশেষতঃ, শূন্যবাদের পক্ষে কার্য্যেৎপত্তিও অপর একটা হেতু; কেন না, ঘট ত (ঘটাদি পদার্থ ত) উৎপন্ন হইয়া থাকে; উৎপত্তির পূর্ব্বে তাহার(কার্য্য- পদার্থের) অস্তিত্ব থাকে না।[তার্কিক মতে] আপত্তি হইতে পারে যে, ঘটোৎপত্তির পূর্ব্বে যখন পিণ্ডাকার মৃত্তিকা দৃষ্ট হয়, তখন মৃত্তিকা প্রভৃতি

৪৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্

কারণ-বস্তুর ত আর অস্তিত্বাভাব হইতেছে না(১৪); যাহা প্রত্যক্ষাদি জ্ঞানের বিষয় হয় না, তাহারই অস্তিত্ব না থাকিতে পারে; অতএব কার্য্যের বরং অস্তিত্বাভাব হয় হউক, কিন্তু তাহার কারণ যখন পূর্ব্বেও উপলব্ধির বিষয়ীভূত হয়, তখন তাহার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হইবে কেন? ইত্যাদি। না—এ কথাও হইতে পারে না; কেন না, উৎপত্তির পূর্ব্বে ত কোন বস্তুরই উপলব্ধি বা প্রত্যক্ষ হয় না। অনুপলব্ধি বা অপ্রত্যক্ষই যদি: অস্তিত্বাভাবের কারণ হয়, তাহা হইলে জগদুৎপত্তির পূর্ব্বে যখন কার্য্য বা কারণ—কাহারো উপলব্ধি থাকে না; তখন কার্য্য কারণ—সমস্তেরই অভাব সিদ্ধ হইতে পারে।[ইহাই শূন্যবাদিকর্তৃক তার্কিকমতের খণ্ডন।]

[এতদুত্তরে সিদ্ধান্তবাদী বলেন-] না,-এরূপও সিদ্ধান্ত হইতে পারে না, কারণ, “মৃত্যুনৈবেদম্ আবৃতম্ আসীৎ”(‘ইহা মৃত্যুকর্তৃকই আবৃত ছিল’) এইরূপ শ্রুতি রহিয়াছে। যদি কিছুই না থাকিত, তাহা হইলে শ্রুতি কখনই ‘যাহা দ্বারা আবৃত হয়’, এবং ‘যাহা আবৃত হয়’, এই আবৃত ও আবরণ- হেতুর উল্লেখ করিতেন না; কারণ, অত্যন্ত অসং বন্ধ্যাপুত্র কখনও অলীক আকাশ-কুসুমে শোভিত হয় না। অথচ শ্রুতি স্পষ্টাক্ষরেই বলিতেছেন যে, ‘ইহা পূর্ব্বে মৃত্যুকর্তৃকই সমাবৃত ছিল’। অতএব শ্রুতি-প্রামাণ্য অনুসারে বুঝা যাইতেছে যে, যাহা দ্বারা অর্থাৎ যে কারণ দ্বারা আবৃত, এবং যাহা অর্থাৎ যে কার্য্য আবৃত, তদুভয়ই উৎপত্তির পূর্ব্বেও বর্তমান ছিল। এ বিষয়ে অনুমানও অপর প্রমাণ; কেন না, উৎপত্তির পূর্ব্বে কার্য্য ও কারণ এতদুভয়েরই অস্তিত্বে অনুমান করা যাইতে পারে। যেহেতু, কারণ বিদ্যমান থাকিলেই কার্য্যের উৎপত্তি দৃষ্ট হয়, এবং কারণের অভাবে কার্য্যোৎপত্তি কোথাও দৃষ্ট হয় না। ইহা দ্বারা উৎপত্তির পূর্ব্বে এই জগতেরও কারণের অস্তিত্ব অনুমান করা যাইতে পারে। দৃষ্টান্ত যেমন-ঘটাদি কারণের অস্তিত্ব(১৫)।

(১৪) উৎপত্তির পূর্ব্বেও যাহারা জন্য পদার্থের অস্তিত্ব অঙ্গীকার করে, তাহারা সৎকার্য্য- বাদী, যেমন কপিল। আচার্য্য শঙ্কর সংকারণবাদী, কিন্তু তিনি কার্য্যকারণের অভেদ স্বীকার করেন বলিয়া তিনি ও কপিল—উভয়েই সৎকার্য্যবাদী; নৈয়ায়িক ও বৈশেষিক অ-সৎকার্য্য- বাদী। তাঁহারা উৎপত্তির পূর্ব্বে কার্য্যের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। এখানে “কিং শূন্যমেব বস্তুব?” এই আপত্তিটা শূন্যবাদীর: তাহার পর, শূন্যবাদীর উপরে আরোপিত “ননু কারণস্য ন’ নাস্তিত্বং” ইত্যাদি আপত্তিটী নৈয়ায়িকের বুঝিতে হইবে।

(১৫) তাৎপর্য্য—শূন্যবাদী বৌদ্ধ বলিয়াছিলেন—উৎপত্তির পূর্ব্বে যেমন কার্য্য বা জন্য বস্তুর অভাব থাকে, তেমনি তৎকারণেরও অভাব থাকে; সুতরাং ‘সর্ব্বশূন্যবাদ’ই সত্য।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৪৭

যদি বল, কারণস্বরূপ মৃৎপিণ্ডাদিকে বিমৰ্দ্দিত না করিয়া যখন ঘটাদি কার্য্য উৎপন্ন হয় না, তখন ঘটাদির কারণ মৃৎপিণ্ডাদিও অসৎ-অস্তিত্বহীন। না,- যেহেতু মৃত্তিকা প্রভৃতিই ঘটাদি কার্য্যের প্রকৃত কারণ, মৃত্তিকাপিণ্ডাদি নহে, সেই হেতুই ঐ প্রকার আপত্তি করিতে পার না। দৃষ্টান্তস্থলে মৃত্তিকা ও সুবর্ণ প্রভৃতিই ঘট ও স্বর্ণহার প্রভৃতির কারণ, কিন্তু পিণ্ডাকার আকৃতিবিশেষ উহাদের কারণ নহে; কেন না, পিণ্ডাদি আকারের অভাবেও ঘট ও রুচকাদি কার্য্যের সদ্‌ভাব অক্ষুণ্ণ থাকে,(কিন্তু মৃত্তিকাদির অভাবে থাকে না;) পিণ্ডাকার না থাকিলেও কেবল মৃত্তিকা ও সুবর্ণাদি কারণ-দ্রব্য হইতেই ঘট ও রুচকাদি কার্য্যের উৎপত্তি দৃষ্ট হইয়া থাকে। অতএব মৃত্তিকা প্রভৃতির পিণ্ডাদি আকারবিশেষ কখনই ঘট ‘ও রুচকাদি কার্য্যের কারণ হইতে পারে না। পক্ষান্তরে, মৃত্তিকা ও সুবর্ণাদি দ্রব্যের অসদ্ভাবে কস্মিন্ কালেও ঘট ও রুচকাদি কার্য্যের উৎপত্তি দেখিতে পাওয়া যায় না; অতএব মৃত্তিকা ও সুবর্ণাদিই প্রকৃতপক্ষে কারণ-দ্রব্য, কিন্তু পিণ্ডাদি আকারবিশেষ কারণ নহে। যেহেতু কারণমাত্রই কার্য্যোৎপাদনের সময়ে পূর্ব্বতন স্বীয় কার্য্যের তিরোধান(অব্যক্তভাব-ধারণ) করিয়া অবশেষে অপর কোনও কার্য্য সমুৎপাদন করিয়া থাকে; কারণ, একই সময়ে বহুকার্য্য সমুৎপাদন করা একটা কারণের স্বভাববিরুদ্ধ। বিশেষতঃ, পূর্ব্বোৎ- পন্ন কার্য্যের তিরোধান হইলেই যে, কারণেরও তিরোধান বা বিনাশ হইয়া যায়, তাহাও কখনই যুক্তিসিদ্ধ কথা নহে। অতএব পিণ্ডাদিরূপ কারণাবস্থার অপ-

তদুত্তরে নৈয়ায়িক বলিতেছেন,-না, সর্ব্বশূন্যতা হইতে পারে না; কেন না, সর্বত্রই কাৰ্য্যোৎপত্তির পূর্ব্বে তৎকারণের অস্তিত্ব দেখিতে পাওয়া যায়। যেমন ঘট একটি কার্য্য বা জন্য পদার্থ; সেই ঘটোৎপত্তির পূর্ব্বে তৎকারণ মৃত্তিকার অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ দেখিতে পাওয়া যায়। সুতরাং, এই জগৎ-কাৰ্য্য উৎপন্ন হইবার পূর্ব্বেও তৎকারণ(ন্যায়মতে পরমাণু) নিশ্চয়ই ছিল; সুতরাং ‘সর্ব্বশূন্যবাদ’ অসিদ্ধ। শূন্যবাদী পুনশ্চ বলিতেছেন যে, মৃত্তিকা প্রভৃতির যে, পিণ্ডাদিরূপ বিশেষ বিশেষ আকার, তাহাই ঘটাদি কার্য্যের প্রকৃত কারণ; যেহেতু সেই সেই পিণ্ডাদি আকারের ধ্বংস না হইলে কখনই ঘটাদি কার্য্যের উৎপত্তি হয় না, সুতরাং কারণের সম্ভাবও প্রমাণিত হইতেছে না। তদুত্তরে বলিতেছেন যে, না-মৃত্তিকা প্রভৃতি দ্রব্যসমূহই ঘটাদি কার্য্যের প্রকৃত কারণ, তাহাদের পিণ্ডাদি আকারবিশেষ কারণ নহে। যাহার সম্ভাবে যে কার্য্যের সম্ভাব, তাহাই সেই কার্য্যের উপাদান-কারণ। মৃত্তিকার সম্ভাবেই ঘটের সম্ভাব; সুতরাং মৃত্তিকাই ঘটের কারণ। পক্ষান্তরে, যাহার অসদ্ভাবেও কার্য্য থাকে, তাহা তাহার কারণ: নহে. পিণ্ডাদি আকারের অভাবেও ঘটাদি কায্য বিদ্যমানই’ থাকে, সুতরাং মৃত্তিকার পিণ্ডাদি অবস্থা কখনই ঘট-কার্য্যের উপাদান-কারণ হইতে পারে না।

৪৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

গমে যে কার্য্যোৎপত্তি হইতে দেখা যায়, তাহা উৎপত্তির পূর্ব্বকালে কারণের অসম্ভবের হেতু হইতে পারে না।

.. যদি বল, “পিণ্ডাদি আকারবিশেষ পরিত্যাগ করিলে যখন মৃত্তিকা প্রভৃতি কারণ-দ্রব্যের অস্তিত্বই থাকে না, তখন কেবলই মৃত্তিকা প্রভৃতির উপাদান- কারণত্ব যুক্তিসম্মত হইতে পারে না, অর্থাৎ যদি বল, পূর্ব্বতন পিণ্ডাদি আকারের বিনাশেও তৎকারণ মৃত্তিকা প্রভৃতির বিনাশ হয় না, পরন্তু ঘটাদি কার্য্যান্তরেও তাহার অনুবৃত্তি হইয়া থাকে—একথা যুক্তিসহ হইতে পারে না; কারণ, পিণ্ড বা ঘটাদি কাৰ্য্যাবস্থার অতিরিক্ত শুধু মৃত্তিকা ত কোথাও দেখিতে পাওয়া যায় না; অতএব মৃত্তিকা-প্রভৃতি- কারণানুবৃত্তির কথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।” তাহা হইলে বলিব, “না,—তাহাও হইতে পারে না; যেহেতু, মৃত্তিকা প্রভৃতি কারণের পিণ্ডাদি অবস্থা নিবৃত্ত হইলেও ঘটাদি কার্য্যের উৎপত্তিতে তাহাদের অনুবৃত্তি দেখিতে পাওয়া যায়।” যদি বল, “ঘটাদি কার্য্যের সহিত তৎকারণ মৃত্তিকা প্রভৃতিরও সাদৃশ্য রহিয়াছে, সেই জন্যই ঐরূপ কারণানুবৃত্তি হয় বলিয়া বোধ হয় মাত্র, বস্তুতঃ কোথাও কারণানুবৃত্তি হয় না।” তাহা হইলে বলিব; “না, এ কথাও সঙ্গত নহে; কারণ, ঘটাদিকার্যে যখন পিণ্ডাদি কার্য্যগত মৃত্তিকা প্রভৃতির অবয়বসমূহেরই প্রত্যক্ষতঃ উপলব্ধি হইয়া থাকে, তখন অনুমানাভাস বা অসত্য অনুমানের সাহায্যে সাদৃশ্যাদি কল্পনা করা কখনই সঙ্গত হইতে পারে না।[অতএব উক্ত শূন্যবাদী বৌদ্ধের মত ঠিক নহে।]

[ ক্ষণিক বিজ্ঞানবাদি বৌদ্ধের মত শুল্ক—]

বিশেষতঃ, অনুমানমাত্রই যখন প্রত্যক্ষমূলক, তখন কারণের একত্ব- প্রত্যক্ষের বিরুদ্ধে কারণের ভেদানুমান কখনই গ্রাহ্য হইতে পারে না; কারণ, তাহা হইলে কোন বিষয়েই লোকের বিশ্বাস বা স্থিরতা থাকিতে পারে না।— যদি চ ‘ইহা সেই বস্তু’ এইরূপ প্রতীতিগম্য সমস্ত বস্তুই ক্ষণিক হয়, অর্থাৎ যে ক্ষণে উৎপন্ন হয়, তাহার পরক্ষণেই আবার বিনষ্ট হইয়া যায়, কেবল পূর্ব্ব বস্তুর সহিত সাদৃশ্য থাকায়, ‘ইহা সেই বস্তু’ ইত্যাকার অভেদবুদ্ধি হইয়া থাকে মাত্র, বস্তুতঃ পরদৃষ্ট বস্তুটী পূর্ব্বদৃষ্ট বস্তু হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, সুতরাং ঘটাদি কার্য্যে মৃত্তিকাদি দৃষ্ট হইলেও বুঝিতে হইবে যে, পূর্ব্বদৃষ্ট মৃত্তিকা প্রভৃতির অনুভবজাত সংস্কার বশতই এইরূপ মৃত্তিকাদির অনুবৃত্তি-বুদ্ধি হইয়া থাকে, বস্তুতঃ কারণরূপে কল্পিত মৃত্তিকার সহিত উহার কোনরূপ সম্বন্ধ নাই, ইত্যাদি;” তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, “ইহা সেই, মৃত্তিকা’, এই বুদ্ধিটা যদি প্রাথমিক বুদ্ধিরই ফল হয়

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৪৯

তাহা হইলে সেই প্রাথমিক মৃত্তিকাবুদ্ধিটাকেও তৎপূর্ববর্তী মৃত্তিকা-বুদ্ধির ফল বলিতে হইবে, আবার সে বুদ্ধিকেও তৎপূর্ব্বতন মৃত্তিকা-বুদ্ধির ফল বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে; এইরূপে বুদ্ধিধারার কোথাও বিশ্রাম না হওয়ায় ‘অনবস্থা’ দোষ উপস্থিত হইতে পারে; সুতরাং ‘ইহা তাহার সদৃশ’ এই বুদ্ধিটারও সত্যতা সিদ্ধ হইতে পারে না। অতএব কোন বিষয়েই লোকের স্থিরতর বিশ্বাস বা সত্যতা-প্রতীতি জন্মিতে পারে না। বিশেষতঃ, স্থিরতর একজন কর্তা না থাকিলে, ‘তৎ’ ও ‘ইদম্’ বুদ্ধির সম্বন্ধও উপপন্ন হইতে পারে না।(১৬)।

। সাধারণভাবে বৌদ্ধমত খণ্ডন।

যদি বল, “কর্তার অভাবে ‘তং’ ও ‘ইদং’ বুদ্ধির সম্বন্ধ অনুপপন্ন হইলেও ‘তং’ ও ‘ইদং’ বুদ্ধিদ্বয়ের সাদৃশ্যবশতঃ উক্ত সম্বন্ধ উপপন্ন হইতে পারে”, না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, ‘তং’ ও ‘ইদং’-বুদ্ধির পরস্পর- বিষয়তা অনুপপন্ন হইবে। আর উক্ত বুদ্ধিদ্বয় পরস্পর বিষয়ীভূত না হইলে উক্ত বুদ্ধিদ্বয়ের সাদৃশ্য-গ্রহণও অনুপপন্ন হইবে। যদি বাহ্যার্থবাদী বৌদ্ধ- মতের অনুসরণ করিয়া) বল, “অসৎ-সাদৃশ্যেই তদ্‌বুদ্ধি হইয়া থাকে,(অর্থাৎ সাদৃশ্য নিজে অসং হইলেও ‘তং’ বলিয়া যে জ্ঞান হয়, তাহা অসৎ নহে;”)”

(১৬) তাৎপর্য্য-এস্থলে শূন্যবাদীর পুনশ্চ আপত্তি হইল যে, মৃত্তিকা প্রভৃতি যে সমস্ত বস্তুকে উপাদান বলা হয়, অগ্রে সে সমুদয়ের ধ্বংস হয়, পরে ঘটাদি কার্য্যের উৎপত্তি হয়,- অগ্রে বাজটি বিনষ্ট হয়-পচিয়া যায়, পরে অঙ্কুরের উৎপত্তি হয়: সুতরাং, কারণ-বস্তুর ধ্বংসই কাৰ্য্যোৎপত্তির হেতু, কারণ-বস্তু নহে। এই জগৎও তদ্রূপ কোনরূপ সংপদার্থ হইতে উৎপন্ন হয় নাই। এই পক্ষ খণ্ডনের পর, ক্ষণিকবাদী বৌদ্ধ বলিলেন-জগতের সমস্ত পদার্থই ক্ষণিক-প্রতিক্ষণে উৎপন্ন হয়, আবার পরক্ষণেই বিনষ্ট হইয়া যায়। তবে যে, পূর্ব্বদৃষ্ট বস্তুকে পরে দর্শন করিলে, ‘ইহা সেই বস্তু’ বলিয়া মনে হয়, তাহার কারণ-পূর্ব্বদৃষ্ট বস্তুর সহিত পরদৃষ্ট বস্তুর সাদৃশ্য-সম্বন্ধ। যেমন, প্রথম বার যে ঔষধ সেবন করা হয়, দ্বিতীয় বার তজ্জাতীয় ঔষধ দেখিয়া ‘ইহা সেই ঔষধ’ বলিয়া মনে হয়, ‘ইহা সেই বস্তু’ ইত্যাদিরূপে উল্লেখও ঠিক তেমনি উক্ত সাদৃশ্যমূলক; সুতরাং মৃত্তিকা প্রভৃতি কোন কারণই ঘটাদি কার্য্যে অনুবৃত্ত হয় না; কাজেই সৎকার্য্যবাদও সিদ্ধ হয় না। তদুত্তরে আচাৰ্য্য বলিতেছেন যে, পূর্ব্বোক্ত অভেদ- প্রতীতিকে সাদৃশ্যমূলক বলিয়া কেবল অনুমানের সাহায্যে ক্ষণিকবাদ স্থাপন করিতে পারা যায় না। কারণ, অনুমান অপেক্ষাও প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলবান, বিশেষতঃ, ক্ষণিকবাদে আত্মাও যখন ক্ষণিক, তখন ‘ইহা সেই বস্তু’ বলিয়া পূর্ব্বদৃষ্ট বস্তুর সহিত পরদৃষ্ট বস্তুর সাদৃশ্য(তুলনা) করিবে কে? কারণ, পূর্ব্বদ্রষ্টা আত্মা ত দৃষ্ট বস্তুর সঙ্গে সঙ্গেই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে; অতএব এই ক্ষণিকবাদ বিচারসহ নহে।

৫০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

“না,—তাহাও বলা চলে না; কেন না, সাদৃশ্যবুদ্ধির বিষয়(সাদৃশ্য) যেমন অসং, তেমনি ‘তং’ ও ‘ইদম্’ বুদ্ধির বিষয়ও অসং হইতে পারে। আর যদি[বিজ্ঞান- বাদীর মতাবলম্বনে] সমস্ত বুদ্ধির বিষয়গুলিকেই অসং বলিয়া স্বীকার করিতে ইচ্ছা কর, তাহাও পার না; কারণ, তাহা হইলে বুদ্ধিবিষয়ক যে বুদ্ধি, অর্থাৎ যে বুদ্ধির সাহায্যে সাদৃশ্যবিষয়ক বুদ্ধির সত্যতা উপলব্ধি করিতেছ, সেই বুদ্ধিরও অসত্যতা অনিবার্য্য হইয়া পড়ে। আর যদি[শূন্যবাদীর মতানুসারে] বল— তাহাই হউক। তাহা হইলেও বলিব, না—তাহাও হইতে পারে না: কারণ, সমস্ত বুদ্ধিই মিথ্যা হইলে, অসত্যতা-বুদ্ধিও সত্য হইতে পারে না। অতএব, সাদৃশ্যবশতঃ যে, তদ্বুদ্ধি হইয়া থাকে বলা হইয়াছে, সে কথা সঙ্গত হয় নাই। অতএব কার্য্যোৎপত্তির পূর্ব্বেও কারণের সদ্ভাব সিদ্ধ হইল; এবং অভিব্যক্তিই যখন কার্য্যের(জন্য পদার্থের) একমাত্র লিঙ্গ বা পরিচায়ক, তখন উৎপত্তির পূর্ব্বে কার্য্যের সদ্ভাবও প্রমাণিত হইল।

[ সংকার্য্যাবলম্বন।]

এইরূপে উৎপত্তির পূর্ব্বে জন্য-পদার্থের অস্তিত্ব সিদ্ধ হইল। যদি বল—! কি প্রকারে?[তবে শুন,—] যেহেতু, কার্য্য মাত্রই অভিব্যক্তিলিঙ্গক; অর্থাৎ অভিব্যক্তিই সেই কার্য্যের লিঙ্গ(অস্তিত্ব-জ্ঞাপক),[সেই হেতু ইহা সিদ্ধ হইল।] অভিব্যক্তি অর্থ—সাক্ষাৎ সম্বন্ধে বুদ্ধির বিষয় হওয়া, অর্থাৎ প্রত্যক্ষতঃ জ্ঞানের বিষয় হওয়া; কেন না, জগতে ঘটাদি যে কোনও বস্তু অন্ধকারাদি দ্বারা আবৃত অবস্থায় অজ্ঞাত থাকে, আবার আলোক প্রভৃতি দ্বারা সেই অন্ধকারাবরণ অপনয়ন করিলে জ্ঞানের বিষয়ীভূত হয়, কিন্তু কখনও আপনার পূর্ব্বসত্তা (অন্ধকারাবস্থায় সত্তা) ত্যাগ করে না। উৎপত্তির পূর্ব্বে এই জগৎ-সম্বন্ধেও আমরা সেইরূপ অবস্থাই বুঝি। কেন না, যে ঘটের বাস্তবিকই সত্তা নাই, সূর্যোদরে তাহা কখনই প্রত্যক্ষ হয় না।

যদি বল, “না,—এ কথাও-বলিতে পার না’; কারণ, তোমার(সংকার্য্যবাদী বৈদান্তিকের) মতে যখন কোন পদার্থেরই অবিদ্যমানতা বা অভাব নাই, তখন নিশ্চয়ই তাহা প্রত্যক্ষ হইতে পারে, অর্থাৎ যদি বল যে, তোমার(সংকার্য্য- বাদী বৈদান্তিক আমাদের) মতে ঘটাদি কোন জন্য পদার্থই যখন অবিদ্যমান (অসং) নহে, তখন, যে সময় মৃৎপিণ্ড সন্নিহিত রহিয়াছে এবং জ্ঞানপ্রতিবন্ধক অন্ধকারাদি কিছুই নাই, সেই সময় আদিত্যোদয়ে অবশ্যই ঘটাদি জন্য-পদার্থের উপলব্ধি হইতে পারে? কারণ, ঘট তখনও বিদ্যমান।” তাহা হইলে বলিব,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৫১

“না,—সে কথাও বলা চলে না; কেন না, আবরণের প্রভেদ আছে; অর্থাৎ ঘটাদি জন্য-পদার্থ মাত্রেরই আবরণ দুই প্রকার—এক প্রকার হইতেছে, অভিব্যক্ত বা ঘটাদিকার্য্যভাবাপন্ন মৃত্তিকা প্রভৃতির সম্বন্ধে অন্ধকার ও প্রাচীর প্রভৃতি; অপর প্রকার—কার্য্যাকারে অভিব্যক্ত হইবার পূর্ব্বে, মৃত্তিকা প্রভৃতির অবয়বসমূহের পিণ্ডাদি কার্য্যান্তররূপে অবস্থিতি। সেই কারণেই উৎপত্তির পূর্ব্বে ঘটাদি কার্য্য, স্বরূপতঃ বিদ্যমান থাকিলেও পিণ্ডাদি আকারে আবৃত থাকায় উপলব্ধির বিষয় হয় না। তবে যে, ‘নষ্ট’, ‘উৎপন্ন’, ‘ভাব’ ও ‘অভাব’ প্রভৃতি শব্দ ও তদনুযায়ী প্রতীতিভেদ হইয়া থাকে, তাহার কারণ—আবির্ভাব ও তিরোভাবের দ্বৈবিধ্য। অর্থাৎ আবির্ভাবের পর, ‘উৎপন্ন’ ও ‘ভাব’ প্রভৃতি বিদ্যমানতাবোধক শব্দের ব্যবহার ও তদনুরূপ প্রতীতি হয়, আর সেই অবস্থারই যখন তিরোভাব হয়, তখন ‘নষ্ট’ ও ‘অভাব’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার এবং তদনুযায়ী প্রতীতি হয়, এই মাত্র বিশেষ।”

যদি বল, ‘অপরাপর আবরণের সঙ্গে পিণ্ড ও কপালাদি আবরণের বৈলক্ষণ্য থাকায় উক্ত সিদ্ধান্তটা সঙ্গত নহে, অর্থাৎ লোকপ্রসিদ্ধ অন্ধকার ও প্রাচীরাদি আবরণ এবং আবরণীয় ঘটাদি পদার্থকে বিভিন্নস্থানবর্তী দেখিতে পাওয়া যায়, কিন্তু কপাল(ঘটের অংশ) ও পিণ্ডাদি আবরণকে ত কখনও ঘট ছাড়িয়া অন্যত্র থাকিতে দেখা যায় না; অতএব পিণ্ড ও কপালাদি অবস্থায় ঘট বিদ্যমানই থাকে, কেবল আবৃত থাকায় তাহার উপলব্ধি হয় না,-একথা বলা যুক্তিযুক্ত হইতে পারে না; কারণ, প্রসিদ্ধ আবরণ অন্ধকারাদির সহিত ইহার ধর্মগত বৈলক্ষণ্য রহিয়াছে।’ ‘না, এ কথাও বলা যায় না; কেন না, দুগ্ধমিশ্রিত জল দুগ্ধ দ্বারা আবৃত হয়, অথচ সেই আবরক দুগ্ধ ও আবৃত জল, উভয়কেই এক-অভিন্ন স্থানবর্ত্তী দেখিতে পাওয়া যায়।’ যদি বল, ‘কপাল ও মৃত্তিকাচূর্ণ প্রভৃতি ঘটাবয়বসমূহ যখন ঘটেরই অন্তর্ভূত, অর্থাৎ ঘট হইতে পৃথক্ পদার্থ নহে, তখন কপাল ও চূর্ণাদি অংশগুলিত ঘটাবরক হইতে পারে না।’ ‘না, তাহাও নহে। কারণ, বিভক্ত অর্থাৎ মৃত্তিকা হইতে পৃথগভাবাপন্ন কপালাদি অংশগুলি যখন স্বতন্ত্র জন্য-পদার্থ বলিয়াই স্বীকৃত হইয়াছে, তখন উহাদের আবরকত্বে কোনই বাধা হইতে পারে না।’

যদি বল, ‘তাহা হইলে কেবল আবরণ বিনাশেই যত্ন করা কর্তব্য; অর্থাৎ চূর্ণ কপালাদি অবস্থায়ও যখন ঘটের অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণই থাকে, কেবল আবরণবশতঃ তাহার উপলব্ধি হয় না, তখন ঘটার্থী পুরুষের কেবল আবরণভঙ্গেই অর্থাৎ কেবল চূর্ণ-কপা-

৫৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বর্তমান সময়ে এই ঘটটী বিদ্যমান নাই বলাও যেরূপ, উক্ত কথাও ঠিক তদ্রূপ(১)।

আর যদি উৎপত্তির পূর্ব্বসময়ে ঘটকে অসৎ বলিতে ইচ্ছা কর, অর্থাৎ ‘কুম্ভকার প্রভৃতি ঘটের জন্য প্রবৃত্ত হইলে পর, সেখানে কুম্ভকার প্রভৃতি যেরূপ সব্যাপাররূপে বর্তমান থাকে, ঠিক সেইরূপে জন্য-বস্তু বর্তমান না থাকাই যদি তোমার ‘অসৎ’ শব্দের অর্থ হয়, তাহা হইলে ত আমাদের মতের সহিত কিছু- মাত্র বিরোধ হইতেছে না। কারণ? -যেহেতু স্বীয় ‘ভবিষ্যত্তা’ রূপে তখনও ঘট বর্তমানই থাকে; কারণ, পিণ্ড ও কপালের(ঘটাবয়বের) যে বর্তমানতা, তাহা কখনই ঘটের বর্তমানতা হইতে পারে না, এবং তদুভয়ের যে ভবিষ্যত্তা, তাহাও ঘটের ভবিষ্যত্তা হইতে পারে না। সুতরাং, কুম্ভকার প্রভৃতির ব্যাপার বা চেষ্টা বর্তমান সত্ত্বেও যে, ‘উৎপত্তির পূর্ব্বে ঘট অসৎ’ বলা হয়, তাহা ত কোন মতেই বিরুদ্ধ হইতেছে না। ঘটের ভবিষ্যতের যাহা কার্য্য বা ফল(বর্তমানতা- লাভ), তাহার যদি নিষেধ করা হয়, তাহা হইলেই বিরোধ উপস্থিত হইতে পারে; কিন্তু কেহই ত তাহার ভাবী সম্ভাবের প্রতিষেধ করিতেছে না; আর ক্রিয়াবান্ বা উৎপাদনাদি ব্যাপার-বিশিষ্ট নিখিল বস্তুর বর্তমানতা বা ভবিষ্যত্তা যে, একই হইবে, তাহাও নহে;[সুতরাং বিভিন্নপ্রকার অস্তিত্ব স্বীকারেও সংকার্য্যবাদের কোনও বাধা ঘটিতে পারে না।

আরো এক কথা,[অসৎকার্য্যবাদীর অভিমত। চতুর্বিধ অভাবের মধ্যে,(২) ঘটের যে ইতরেতরাভাব বা ভেদ, তাহা ঘট হইতে পৃথক্ দেখা গিয়াছে; যেমন—‘ঘটাভাব বা ঘটের অন্য’ বলিলে, পটাদি বস্তুই বুঝায়, কিন্তু নিশ্চয়ই তাহা ঘটস্বরূপ নহে; অধিকন্তু ঐ পট বস্তুটা ঘটাভাবস্বরূপ হয়

(১) তাৎপর্য্য—পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে যে, যাহা অসৎ—বন্ধ্যাপুত্রের ন্যায় অস্তিত্ববিহীন, কস্মিন্ কালেও কোন রকমেও তাহার উৎপত্তি হয় না ও হইতে পারে না। ভাবী ঘটও যদি অস্তিত্ববিহীনই হয়, তাহা হইলে, তাহাকেও আর ‘ভবিষ্যতি’(সত্তাবান্ হইবে) বলিয়া নির্দেশ করা যাইতে পারে না। অতএব বর্তমানে উপস্থিত ঘটকে ‘ন বর্ত্ততে’(নাই) বলাও যেমন, - ‘ভাবী—অসৎ ঘট উৎপন্ন হইবে’ বলাও ঠিক তেমনি প্রমাণবিরুদ্ধ কথা হয়; সুতরাং অসৎকার্য্য- বাদটা অযৌক্তিক—উপেক্ষার যোগ্য।

(২) তাৎপর্য্য—অসৎকার্য্যবাদী নৈয়ায়িকের মতে অভাব চতুর্বিধ, এবং দ্রব্যাদি প্রভৃতির ন্যায় অভাবও পদার্থশ্রেণীর মধ্যেপরিগণিত। প্রথমতঃ, তাঁহারা অভাবকে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন—(১) ইতরেতরাভাব, ও(২) সংসর্গাভাব। ইতরেতরাভাব, অন্যোন্যাভাব ও ভেদ,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৫৫

বলিয়া যে, অভাবাত্মক অর্থাৎ কিছুই নহে, তাহা নহে; তবে কি? না, তাহা ভাবস্বরূপই বটে। ঘটের এই ইতরেতরাভাব যেমন ঘট হইতে স্বতন্ত্র বস্তু, ধ্বংস, প্রাগভাব এবং অত্যন্তাভাবও তেমনই ঘট হইতে স্বতন্ত্র বস্তুই হইবে;- কারণ, ঘটের ইতরেতরাভাবের ন্যায় এই সমস্ত অভাবও যখন ঘটাদি বস্তু দ্বারা উল্লিখিত হইয়া থাকে, তখন ইতরেতরাভাবের ন্যায় সমস্ত অভাবেরই ভাবরূপতা সিদ্ধ হইতেছে। আর এরূপ সিদ্ধান্তই যখন স্থির হইল, তখন “ঘটস্য. প্রাগভাবঃ”(ঘটের প্রাগভাব) বলিলে, উৎপত্তির পূর্ব্বে যে, ঘটের স্বরূপই ছিল না, তাহা নহে; পরন্তু বর্তমানে যেরূপ আছে, সেরূপ ছিল না, ইহাই বুঝিতে হইবে।

পক্ষান্তরে, ঘটের যাহা প্রকৃত স্বরূপ, তাহাকেই যদি ঘটের প্রাগভাব বল, তাহা হইলে আর ‘ঘটের’ বলা সঙ্গত হয় না;[কারণ, তখন ত ঘটের অস্তিত্বই নাই; সুতরাং তাহার সহিত সম্বন্ধ-নির্দেশই হইতে পারে না]। আর যদি বল, ‘শিলাপুত্রের শরীর’[শিলাপুত্র অর্থ—নোড়া,] ইত্যাদি স্থলে যেরূপ অভেদেও ভেদ কল্পনা করিয়া ব্যবহার করা হইয়া থাকে, তদ্রূপ ‘ঘটের প্রাগভাব‘-স্থলেও ভেদ কল্পনা করিয়া ঐরূপ ব্যবহার করা হয়; তাহা হইলেও বুঝিতে হইবে যে, কল্পিত,(সুতরাং অবস্তু) অভাবেরই ‘ঘট’ শব্দ দ্বারা

এই তিনই একার্থবোধক পর্যায় শব্দ। প্রত্যেক অভাবের লক্ষণই বড় জটিল; এইজন্য সাধারণভাবে কেবল উহাদের স্বরূপটা বুঝাইবার চেষ্টা করিব মাত্র। ইতরেতরাভাব-এক বস্তুর সহিত যে অন্য বস্তুর ভেদ-কতকটা পার্থক্যেরই মত; কিন্তু তাই বলিয়া পার্থক্য ও ভেদ এক নহে। যেমন-ঘটাদন্যঃ-পটঃ: অর্থাৎ ঘট হইতে পট বস্তুটী ভিন্ন। এখানে ঘট হইতে পটের ভেদ মাত্র বুঝাইতেছে। বলা আবশ্যক যে, এখানে ভাষ্যকার ধরিয়া লইয়াছেন যে, নৈয়ায়িকেরা ঘটের ভেদকে পটস্বরূপ বলিয়াই যেন স্বীকার করিয়া থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁহারা অভাবকে কোনও স্বস্তুর স্বরূপ বলিয়া স্বীকার করেন না; পরন্তু পটাদিকে ঘটাদির অভাববিশিষ্ট বলেন। সে যাহা হউক, এখানে সে কথা অনালোচ্য মনে করি। দ্বিতীয় সংসর্গাভাবটি তিন প্রকার:-(১) প্রাগভাব,(২) ধ্বংস ও(৩) অত্যন্তাভাব। তন্মধ্যে উৎপত্তির পূর্বকালীন যে, বস্তুর অভাব, তাহা প্রাগভাব, যেমন-ঘটোৎপত্তির পূর্ব্বে ঘটের অভাব। উৎপন্ন বস্তুর বিনাশে যে, অভাব, তাহা ধ্বংসাভাব। যেমন ঘটনাশের পরবর্তী অভাব। আর ত্রৈকালিক যে, অভাব, তাহা অত্যন্তাভাব; যেমন-‘এখানে ঘট নাই’ বলিলে ঘটের যে, অভাব বুঝা যায়, তাহাই অত্যন্তাভাব; কিন্তু যে বস্তুর কস্মিন্ কালেও অস্তিত্ব নাই, তাহার অভাবও স্বীকার করা হয় না। যেমন-‘বন্ধ্যাপুত্রের অভাব, আকাশ- কুসুমের অভাব’ ইত্যাদি।

৫৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নির্দেশ করা হইতেছে মাত্র, কিন্তু ঘটের স্বরূপ-সত্তাকেই নির্দেশ করা হইতেছে না। আর যদি বল, ঘটের অভাব ঘট হইতে সম্পূর্ণ পৃথক পদার্থ, তাহা হইলে বলিব,—এ কথারও উত্তর পূর্ব্বেই প্রদত্ত হইয়াছে। ১। আরও এক কথা, উৎপত্তির পূর্ব্বে জন্মপদার্থমাত্রই যখন শণশৃঙ্গের ন্যায় অভাবাত্মক—অসৎ, এবং সম্বন্ধমাত্রই যখন উভয়নিশ্চিত না উভয়াপেক্ষিত, তখন ভাবী ঘটে সত্তাসম্বন্ধই(উৎপত্তিই) উপপন্ন হয় না। কেন না, তংকালে যখন ঘটের অস্তিত্বই নাই, তখন সত্তার সহিত সম্বন্ধ হইবে কাহার? যে, অমৃতসিদ্ধ পদার্থের অর্থাৎ যে সমস্ত পদার্থ স যোগ ভ নহে, পরয় সমবায় সম্বন্ধজন, সে সমস্ত পদার্থের সম্বন্ধে ইহা দোষাবর্ত্ত হয় না। তাহা হইলেও বলিব; না; তাহাও হইতে পারে না; কারণ, সৎ ও অসতের অমৃতসিদ্ধত্বই হইতে পারে না। ১। যুতসিদ্ধতা বা অমৃতসিদ্ধতা দুইটি ভাবপদার্থেরই হইতে পারে, কিন্তু ভাব ও অভাবের, অথবা দুইটী অভাবের হয় না। অতএব প্রমাণিত হইতেছে যে, উৎপত্তির পূর্ব্বেও জন্য পদার্থ সং-- বিদ্যমানই থাকে।

এই জগৎ কিরূপ মৃত্যুকর্তৃক আবৃত ছিল? এই আকাঙ্ক্ষার শ্রুতি বলিতে- ছেন—“অশনায়য়”। অণনায় অর্থ—অশনের ভোজনের ইচ্ছা, তাহাই মৃত্যুর লক্ষণ বা স্বরূপ। তাদৃশ লক্ষণান্বিত মৃত্যুরূপী অণনায়াদ্বারা আবৃত ছিল। ভাল, এই অণনারাই মৃত্যু কি প্রকারে? তত্তত্তরে শ্রুতি বলিতেছেন—অণনায়াই প্রসিদ্ধ মৃত্যু। শ্রুতির “হি” পদটী অণায়ার মৃত্যুরূপে প্রসিদ্ধি জ্ঞাপন করিতেছে।

(১) তাৎপসা—অসৎকারাবাদে ঘটের প্রাগভাবকে ঘট হইতে পৃথক পদার্থ বলিলেও তাহ অসং-অবস্তু হইল না, পরস্থ প্রকারান্তরে কারণস্বরূপে সত্য বলিয়াই স্বীকার করিতে হইল; সুতরাং এ মতেও ফলতঃ সংকারবাদই সিদ্ধ হইতেছে।

(২) তাৎপর্য্য:-‘যুতসিদ্ধ’ ও ‘অযুতসিদ্ধ’ কথার অর্থ এইরূপ যে সমস্ত পদার্থ পরস্পর সম্বন্ধ হইবার পূর্ব্বেও সিদ্ধ বা বর্তমান থাকে, সে সমস্ত পদার্থকে বলে ‘যুতসিদ্ধ’, আর যে সমস্ত পদার্থ সম্বন্ধ-বিশেষ লাভের পূর্ব্বে অসিদ্ধ থাকে--বিদ্যমান থাকে না, সে সমস্ত পদার্থকে বলে ‘অযুতসিদ্ধ’। যুতসিন্ধের সম্বন্ধ--সংযোগ, আর অযুতসিন্ধের সম্বন্ধ--সমবায়। উদাহরণ-- যেমন একটা রাশি; ‘রাশি’ বলিলেই কতকগুলি বস্তুর একত্র সংযোগ মাত্র বুঝায়, কিন্তু সেই বস্তুগুলি ঐ সংযোগের পূর্ব্বেও সিদ্ধ ছিল; অতএব ঐ রাশিটা হইল যুতসিন্ধ। আর দুইটী কপালের(ঘটাংশের) সমবায়ে যে ঘট উৎপন্ন হয়, তাহা অযুতসিদ্ধ; কারণ, এইরূপ সমবায়- সম্বন্ধের পূর্ব্বে ঘটের অস্তিত্বই ছিল না, সমবায়-সম্পর্কই অবিদ্যমান ঘটের বিদ্যমানতা সাধন করিয়া দেয়। উহা নৈয়ায়িকদিগের অভিমত কথা, বৈদ্যস্বিকের সম্মত নহে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৫৭

কেন না, যে ব্যক্তি ভোজন করিতে ইচ্ছা করে—ক্ষুধার্ত্ত হয়, সে তাহার পরেই অপর প্রাণিগণকে বধ করিয়া থাকে; সেইজন্যই মৃত্যুর লক্ষণ—অশনায়া; এই অভিপ্রায়ই “অশনায়া হি” এই শ্রুতি প্রকাশ করিতেছে। বুদ্ধ্যাত্মার(বুদ্ধি- দর্পণে প্রতিবিম্বিত চিদাত্মার) ধৰ্ম্ম অশনায়া: এই কারণে বুদ্ধি-সমষ্টিতে প্রতি- বিম্বিত চৈতন্যস্বরূপ হিরণ্যগর্ভকে এখানে মৃত্যু বলা হইতেছে। সেই হিরণ্য গর্ভরূপী মৃত্যু দ্বারা এই কার্য্য-জগৎ সমাবৃত ছিল: পিণ্ডান্ত মৃত্তিকা দ্বারা যেরূপ তৎকার্য্য ঘট সমাবৃত থাকে, ঠিক সেইরূপ।

“তং মনঃ অকরুত”—‘তং’-পদে মনের নির্দেশ হইয়াছে, ‘তৎ’-পদটি মনের বিশেষণ। সেই মৃত্যু(তিরণ্যগর্ভ বক্ষ্যমান কাম্য সৃষ্টির’ অভিলাষে কার্য্যপর্যালোচন-সমর্থ সেই মনের অর্থাৎ সঙ্কল্পবিকল্পাদিলক্ষণান্বিত মনঃশব্দবাচ্য অন্তঃকরণের সৃষ্টি করিয়াছিলেন। কি অভিপ্রায়ে মনের সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাহা বলিতেছেন—আমি আত্মনী—আত্মবান হইব, অর্থাৎ আমি এই আত্মশব্দবাচ্য মনঃ দ্বারা মনস্বী হইব, এই অভিপ্রায়ে[সৃষ্টি করিয়াছিলেন।]

সেই প্রজাপতি হিরণ্যগর্ভ অভিব্যক্ত মনের সাহায্যে সমনস্ক(অন্তঃকরণ- বিশিষ্ট হইয়া অর্চ্চনা করত, অর্থাৎ ‘আমি কৃতার্থ হইয়াছি বলিয়া আপনাকেই পূজা করত তদুপযুক্ত ব্যবহার করিয়াছিলেন। প্রজাপতি আত্ম-পূজা করিতেছেন, এমন সময়ে তাঁহা হইতে পূজার অঙ্গভূত রসাত্মক জল প্রাদুর্ভূত হইল। অন্য শ্রুতিতে পঞ্চভূতোৎপত্তির কথা বর্ণিত থাকায়, এবং সৃষ্টির প্রণালীতে বিকল্প বাঁ প্রকারভেদেরও সম্ভাবনা না থাকায়, এখানে বলিতে হইবে যে, অগ্রে আকাশ, বায়ু, তেজঃ,-এই ভূতত্রয়ের উৎপত্তি, তাহার পর জলের উৎপত্তি হইয়াছিল(১)। যেহেতু মৃত্যুরূপী প্রজাপতি মনে করিয়াছিলেন যে, পূজা করিতে করিতে আমার উদ্দেশে ‘ক’-জল হইয়াছে, সেই হেতুই অর্কের-অশ্বমেধ যজ্ঞোপযোগী অগ্নির ‘অর্কত্ব’ অর্থাৎ অর্ক সংজ্ঞা হইয়াছে; অগ্নির ‘অর্ক’ নামের ব্যুৎপত্তি বা যোগার্থ এইরূপ-যেহেতু অর্চ্চনা-সুখকর পূজা ও জলের সহিত সম্বন্ধ আছে, সেই হেতুই

(১) তাৎপর্য্য—তৈত্তিরীয় উপনিষদে “তস্মাদ্ব! এতস্মাদাত্মন আকাশ: সম্ভূতঃ, আকাশাদ বায়ুঃ, বায়োরগ্নিঃ, অগ্নেরাপঃ, অন্ত্যঃ পৃথিবী” এই শ্রুতিবাকে। আকাশাদি পঞ্চভূতেরই উৎপত্তির কথা আছে; সুতরাং এখানে প্রথমেই জলসৃষ্টির কথা থাকিলেও ইহার পূর্ব্বে আকাশ, বায়ু ও তেজের উৎপত্তির কথা ধরিয়া লইতে হইবে।

৫৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অগ্নির গুণানুযায়ী নাম হইতেছে—‘অর্ক’(১)। যে লোক অগ্নির যথোক্তপ্রকার অর্কত্ব অবগত হয়, সেই অর্কত্ববিদ্ লোকের নিশ্চয়ই ‘ক’(সুখ) সম্পন্ন হয়। এখানে ‘ক’ অর্থে—সুখ ও জল উভয়ই বুঝা যাইতে পারে; কারণ, ‘ক’ নামটি উভয়েরই তুল্য। ‘হ’ ও ‘বৈ’ পদ দুইটীর অর্থ অবধারণ—নিশ্চয় করা ॥ ৩॥ ১॥

আপো বা অর্কস্তদ্ যদপাৎ শর আসীৎ, তৎ সমহন্যত। সা পৃথিব্যভবৎ তস্যামশ্রাম্যৎ, তস্য শ্রান্তস্য তপ্তস্য তেজোরসো নিরবর্ত্ততাগ্নিঃ ॥ ৪ ॥ ২ ॥

সরলার্থঃ—আপঃ(পূর্ব্বোক্তানি অর্চ্চনাঙ্গভূতানি জলানি) বৈ অর্কঃ (অর্কসংজ্ঞকাগ্নিহেতুত্বাৎ অর্কঃ); তৎ(তত্র) যৎ(যঃ) অপাং শরঃ(দগ্নীব মণ্ডভাবঃ) আসীৎ, তং(সঃ শরঃ) সমহন্যত(তেজঃসম্বন্ধাৎ কঠিনতাং প্রাপ), সা(সঃ কঠিনতাপন্নঃ শরঃ) পৃথিবী অভবং। তস্যাম্(পৃথিব্যাম্ উৎপাদিতায়াম্, পৃথিবীসৃষ্ট্যনন্তরং) অশ্রাম্যং(শ্রমযুক্তঃ অভবৎ)[সঃ প্রজাপতিরিতি শেষঃ]। শ্রান্তস্য তপ্তস্য(তাপযুক্তস্য উন্মুক্তস্য) তস্য(প্রজাপতেঃ) তেজোরসঃ(রসঃ— সারঃ, সারভূতঃ তেজ এব) অগ্নিঃ(ব্রহ্মাণ্ডান্তর্গতো বিরাট্ পুরুষঃ, “স বৈ শরীরী প্রথমঃ স বৈ পুরুষ উচ্যতে” ইতি শ্রুত্যন্তরাৎ) নিরবর্ত্তত(জাতঃ)।

মূলানুবাদ—অর্চ্চনার অঙ্গভূত যে জল সৃষ্ট হইল, তাহাই অর্ক,[কারণ, উহাই অর্কসংজ্ঞক অগ্নির হেতু স্বরূপ]। তাহাতে যে, জলীয় শর অর্থাৎ দধির মণ্ডের ন্যায় শর—ঘনীভাব ছিল, তাহাই[উত্তাপ- সহযোগে] সংহতভাব বা কঠিনতা প্রাপ্ত হইল; তাহাই পৃথিবীরূপে পরিণত হইল। পৃথিবী-সৃষ্টির পর প্রজাপতির পরিশ্রম বোধ হইল, পরিশ্রমের ফলে প্রজাপতির শরীরে সন্তাপ বা উষ্মা উপস্থিত হইল; সেই সন্তপ্ত শরীর হইতে তেজের সারভূত অগ্নি প্রাদুর্ভূত হইল। [ভাষ্যকার এই অগ্নিকে প্রথমণরীরধারী ব্রহ্মাণ্ডান্তর্গত বিরাট্ পুরুষ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন] ॥ ৪ ॥ ২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।--আপো বা অর্কঃ। কঃ পুনরসৌ অর্কঃ? ইতি; উচ্যতে-আপো বা যা অর্চ্চনাঙ্গভূতাঃ, তা এবার্কঃ, অগ্নেরর্কস্য হেতুত্বাৎ,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ৫৯

অপ্সু চাগ্নিঃ প্রতিষ্ঠিত ইতি; ন পুনঃ সাক্ষাদেবার্কস্তাঃ, তাসামপ্রকরণাৎ। অগ্নেশ্চ প্রকরণম্। বক্ষ্যতি চ “অরমগ্নিরকঃ” ইতি। তৎ তত্র যৎ অপাং শর ইব শরো দধ্ন ইব মণ্ডভূতম্ আসীং, তৎ সমহন্যত সঙ্ঘাতমাপদ্যত তেজসা বাহ্যান্তঃপচ্য- মানম্; লিঙ্গব্যত্যয়েন বা, যোহপার শরঃ, স সমহন্যতেতি। সা পৃথিব্যভবৎ, স সঙ্ঘাতঃ যেয়ং পৃথিবী, সা অভবৎ। তাভ্যঃ অন্ত্যঃ অণ্ডমভিনিবৃত্তমিত্যর্থঃ। তস্যাং পৃথিব্যামুৎপাদিতায়াং স মৃত্যুঃ প্রজাপতিঃ অশ্রাম্যৎ শ্রমযুক্তো বভূব। সর্ব্বো হি লোকঃ কার্য্যং কৃত্বা শ্রাম্যতি; প্রজাপতেশ্চ তন্মহং কার্য্যম্, যং পৃথিবীসর্গঃ। কিং তস্য শ্রান্তস্য? ইতি; উচ্যতে-তস্য শ্রান্তস্য তপ্তস্থ্য খিন্নস্য তেজোরসঃ, তেজ এব রসঃ, তেজোরসঃ, রসঃ-সারঃ, নিরবর্তত প্রজাপতিশরীরাৎ নিষ্ক্রান্ত ইত্যর্থঃ। কোহসৌ নিক্রান্তঃ? অগ্নিঃ সোহগুস্যান্তর্বিরাট্ প্রজাপতিঃ প্রথমজঃ কার্য্যকরণসঙ্ঘাতবান জাতঃ; “স বৈ শরীরী প্রথমঃ” ইতি স্মরণাৎ ॥ ৪ ॥ ২ ॥

টীকা।--অপামকত্বশ্রবণান্নাগ্নেরকত্বমিতি শঙ্কতে-কঃ পুনরিতি। প্রকরণমাশ্রিত্য তাসা- মকত্বমৌপচারিকম্, ইত্যুত্তরমাহ--উচ্যত ইতি। তাসু অন্তহিরন্ময়মণ্ড’ সংবভূবেতি শ্রুতিমনু- সরন্ উপচারে হেত্বন্তরমাহ--অপস্থ চেতি। মুখ্যমকত্বম। বারয়তি-ন পুনরিতি। ননু “শ্রুতিলিঙ্গবাক্যপ্রকরণস্থানসমাখ্যানাং সমবায়ে পারদৌন্দলামর্থবিপ্রকসাৎ” ইতিন্দায়াৎ প্রকরণাৎ “আপো বা অকঃ” ইতি বাক্যং বলবদিত্যাশঙ্ক বাক্যসহকৃতঃ প্রকরণমেব কেবলবাক্যাদ্ বল- বদিত্যাশয়বানাহ-বক্ষাতি চেতি। ভূতান্তরসহিতাস্বপু কারণভূতানু পৃথিবীদ্বারা পার্থিবোহগ্নিঃ প্রতিষ্ঠিত ইত্যুক্তম্, ইদানীং পৃথিবিবাসগং তাভ্যো দর্শয়তি-তদিত্যাদিনা। অপ্সু ভূতান্তর- সহিতাসুৎপন্নাসু সতীধিতি সপ্তমার্থঃ। শর ইব শর ইত্যুক্তমেব ব্যাচন্তে-দধু ইবেতি। সংঘাতে সহকারিকারণমাহ-তেজসেতি। যত্তাদিতি পদে নপুংসকত্বেন শ্রুতে, কথং তয়োঃ শর-শব্দেন কারণস্যোচ্ছ নত্ববাচিন। পুংলিঙ্গেনান্বয়ঃ, তত্রাহ-লিঙ্গব্যত্যয়েনেতি। উক্তানুপপত্তিদ্যোতনার্থো বা-শব্দঃ। ব্যতায়েনান্বয়মেবাভিনয়তি--যোহপামিতি। বাক্যতাৎপয্যমাহ-তাভ্য ইতি। মূলপ্রপঞ্চাত্মকবিরাজঃ সুক্ষ্মপ্রপঞ্চাত্মকসূত্রাদুৎপত্তিঃ বক্তৃঃ পাতনিকামাহ-তস্যামিতি। উক্তেহর্থে লোকপ্রসিদ্ধিমনুকুলয়তি-সর্ব্বে। ভীতি। উদানীং বিরাডুৎপত্তিমুপদিশতি-কিং অস্যেত্যাদিনা। অগ্নিশব্দার্থঃ স্ফুটয়তি-সোহণ্ডস্যেতি। তস্য প্রথমশরীরিত্বে মানমাহ-স বাইতি॥ ৪॥২॥

ভাষ্যানুবাদ।—“আপঃ বৈ অর্কঃ” ইত্যাদি। এই অর্ক পদার্থটী কে? তাহা বলা হইতেছে—অপ্(জল), যাহা অর্চ্চনার অঙ্গরূপে প্রাদুর্ভূত হইয়াছিল, তাহাই এখানে অগ্নিরূপ অর্কের হেতু বলিয়া, এবং জলের মধ্যে অগ্নির অবস্থান হয় বলিয়াও অর্ক-পদবাচ্য; কিন্তু সাক্ষাৎ সম্বন্ধেই জল অর্ক-পদবাচ্য নহে। কেন না, ইহা জলের প্রকরণ বা প্রস্তাব নহে, অধিকন্তু অগ্নিরই প্রকরণ; [সুতরাং, এখানে অপ্রাকরণিক জল অর্করূপে গৃহীত হইতে পারে না।]

৬০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

শ্রুতি নিজেও বলিবেন—‘এই অগ্নিই অর্ক’ ইতি। তাহাতে যে জলীয় শর- শরের ন্যায় মণ্ড, অর্থাৎ দধির মণ্ডের মত ঘনীভূত ভাব ছিল, তাহাই ভিতরে ও বাহিরে তেজঃসংযোগ বশতঃ পক্কতা প্রাপ্ত হইয়া[যেরূপ উত্তাপকৃত পাকের ফলে এখনও মৃত্তিকা প্রভৃতিকে ইষ্টকাদিরূপে পরিণত করা হইয়া থাকে, ঠিক সেইরূপ পাকের] দ্বারা সংঘাতরূপ প্রাপ্ত হইল, অর্থাৎ কঠিন হইল। [এখানে ‘শর’ শব্দটি পুংলিঙ্গ, তাহার বিশেষণ ‘যৎ’ পদটা ক্লীবলিঙ্গ থাকা অনু- চিত হয়; এইজন্য বলিতেছেন—] অথবা, লিঙ্গপরিবর্ত্তন করিয়া অর্থাৎ ক্লীব- লিঙ্গ ‘যৎ’ শব্দটাকে পুংলিঙ্গ করিয়া(‘যৎ’কে ‘যঃ’ করিয়া) অর্থ করিতে হইবে, অর্থাৎ[সেই জলে] যে শর—ঘনীভাব, তাহাই সংঘাত প্রাপ্ত হইয়াছিল; এবং তাহাই পৃথিবী হইয়াছিল—সেই সংঘাতই—এই পৃথিবী—যাহা দৃষ্ট হইতেছে, সেই পৃথিবীরূপে পরিণত হইয়াছিল। অভিপ্রায় এই যে, সেই ঘনীভূত জল হইতে ‘অণ্ড’(ব্রহ্মাণ্ড) উৎপন্ন হইল(১)। পৃথিবী উৎপন্ন হইলে পর, সেই মৃত্যুরূপী প্রজাপতি পরিশ্রান্ত হইয়াছিলেন। সমস্ত লোকই কার্য্য করিয়া শ্রমযুক্ত হয়, প্রজাপতিরও ইহা অতি মহৎ কার্য্য, যাহা পৃথিবী সৃষ্টি;[সুতরাং, তাঁহারও পরিশ্রম হওয়া সম্ভব।] প্রজাপতির সেই পরি- শ্রমের ফল কি হইল, তাহা বলিতেছেন—প্রজাপতি শ্রান্ত—তাপযুক্ত অর্থাৎ ক্লান্ত হইলে পর তাঁহার শরীর হইতে তেজোরস অর্থাৎ তেজের সার, রস অর্থসার(শ্রেষ্ঠ অংশ), অর্থাৎ সারভূত তেজই নির্গত হইল। এই নিষ্ক্রান্ত সার পদার্থটী কি? না, অগ্নি; অর্থাৎ অণ্ডের অভ্যন্তরস্থ বিরাট্স-জ্ঞক প্রথমজ দেহেন্দ্রিয়সম্পন্ন প্রজাপতি জন্মিলেন; কারণ, স্মৃতিতে আছে,—‘তিনিই প্রথম শরীরী—দেহেন্দ্রিয়াদিসম্পন্ন পুরুষ’ ইত্যাদি ॥ ৪॥ ১॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৬১

স ত্রেধাত্মানং ব্যকুরুতাদিত্যং তৃতীয়ং বায়ুং তৃতীয়ং স এব প্রাণস্ত্রেধা বিহিতঃ, তস্য প্রাচী দিক্ শিরোহসৌ চাসৌ চের্ম্মৌ। অথাস্য প্রতীচী দিক্ পুচ্ছমসৌ চাসৌ চ সক্খ্যো, দক্ষিণা চোদীচী চ পার্শ্বে, দ্যৌঃ পৃষ্ঠমন্তরিক্ষমুদরমিয়মুরঃ; স এষোহপ্সু প্রতিষ্ঠিতো যত্র ক্ব চৈতি, তদেব প্রতিষ্ঠত্যেবং বিদ্বান্ ॥ ৫ ॥ ৩ ॥

সরলার্থঃ।—স ইতি। সঃ(প্রথমজঃ প্রজাপতিঃ আত্মানং ত্রেধা(ত্রি- প্রকারেণ)—আদিত্যং(সূর্য্যং) তৃতীয়ং(অগ্নিবায়ুপেক্ষয়া ত্রয়াণাং পূরণং) [তথা] বায়ুং তৃতীয়ং(অগ্ন্যাদিতাপেক্ষয়া ত্রয়াণাং পূরণ) ব্যকুরুত(স্বমেব আত্মানঃ অগ্নি-সূর্য্য-বায়ুরূপেণ বিভক্তং কৃতবানিত্যর্থঃ)। অত্র রাঘ্বাদিতাপেক্ষয়া অগ্নিরপি তৃতীয়োঃ দ্রষ্টব্যঃ।] সঃ(পূর্ব্বোক্তঃ) এষঃ প্রাণঃ(প্রজাপতিঃ) ত্রেধা ‘অগ্ন্যাদিতাব্যুরূপেণ, বিহিতঃ(বিভক্তঃ বভূব)। ইদানীমেতদ্বিষয়ে দর্শন- মুচ্যতে—! তস্য(প্রথমজন্য অগ্নেঃ) প্রাচী(পূর্ব্বা) দিক্ শিরঃ(মস্তকং, শ্রেষ্ঠ- ত্বাৎ); অসৌ চ(ঐশানা দিক্), অসৌ চ(আগ্নেয়ী দিক্ চ) ঈর্ম্মৌ(বাহু)। অথ অস্থ্য(অগ্নেঃ) প্রতীচী(পশ্চিমা দিক্) পুচ্ছম্; অসৌ চ(বায়বী দিক্) অসৌ চ নৈঋতী দিক্। সখ্যৌ(সকথিনী—পৃষ্ঠকোণাস্থিদ্বয়ম্); দক্ষিণা চ উদীচী চ(দিক্ পার্শ্বে; দ্যৌ(ছালোকঃ) পৃষ্ঠম্: অন্তরিক্ষম্ উদরম্; ইয়ং (পৃথিবী) উরঃ[বক্ষঃ]। সঃ এবঃ(প্রজাপতিরূপঃ অগ্নিঃ) অপসু(জলেষু) প্রতিষ্ঠিতঃ(অবস্থিতঃ বভূব)। এবং(যথোক্তম্ অগ্নেরপ-প্রতিষ্ঠত্বং) বিদ্বান্(জানন্ জনঃ) যত্র ক চ(যস্মিন্ কম্মিংশ্চিৎ স্থানে) এটি(গচ্ছতি), তৎ(তস্মিন্ এব স্থানে) প্রতিনিষ্ঠতি(প্রতিষ্ঠাঃ—স্থিতিং লভতে ইত্যর্থঃ)। অশ্বমেধোপযোগিনাং দ্রব্যাণাং পবিত্রতা প্রদর্শনার্থমের জন্মাদিকথনম্, নতু তত্র শ্রুতেস্তাৎপর্য্যমিতি স্মর্ত্তব্যম্।

মূলানুবাদ—সেই প্রথমজ প্রজাপতি নিজেই আপনাকে তিন ভাগে—[অগ্নি] আদিত্য ও বায়ুরূপে বিভক্ত করিলেন। সেই প্রাণসংজ্ঞক প্রজাপতি এইরূপে ত্রিবিধ ভাবাপন্ন হইলেন। পূর্বদিক্ তাঁহার মস্তক;

৬২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এবং ঈশান কোণ ও অগ্নি কোণ তাঁহার বাহুদ্বয়; পশ্চিম দিক্ তাঁহার পুচ্ছ; এবং বায়ু কোণ ও অগ্নি কোণ তাঁহার উরুদ্বয়; দক্ষিণ ‘ও উত্তর- দিক্ তাঁহার দুই পার্শ্ব; দ্যুলোক তাঁহার পৃষ্ঠ; অন্তরিক্ষ(আকাশ) তাঁহার উদর, এবং এই পৃথিবী তাঁহার বক্ষঃ। সেই এই অগ্নি, জলের মধ্যে প্রতি- ষ্ঠিত বা অবস্থিত আছেন। যে ব্যক্তি অগ্নির এই জলে অবস্থিতি জানেন, ‘তিনি যে কোন স্থানে গমন করেন, সেখানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া থাকেন ॥ ৫ ॥ ৩॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্। স চ জাতঃ প্রজাপতিঃ ত্রেধা ত্রিপ্রকারমাত্মান, স্বয়মেব কার্যকরণসঙ্ঘাত, ব্যকুরুত ব্যভজদিত্যেতং। কথঃ ত্রেধেত্যাহ-- আদিত্যং তৃতীয়ম্ অগ্নিবায়ুপেক্ষয়া ত্রয়াণাং পূরণম, অকরুতেত্যনুবত্ততে। তথা অগ্ন্যাদিত্যাপেক্ষয়া বায়ুং তৃতীয়ম্। তথা বায়্বাদিত্যাপেক্ষয়া অগ্নিং তৃতীয়- মিতি দ্রষ্টব্যম্; সামর্থ্যস্য তুল্যত্বাৎ ত্রয়াণাং সংখ্যাপূরণত্বে। স এষ প্রাণঃ সব্বভূতা- নামাত্মাপি অগ্নিবায়াদিতারূপেণ বিশেষতঃ স্বেনৈব মৃত্যাত্মনা ত্রেধা বিহিতঃ বিভক্তঃ, ন বিরাট্স্বরূপোপমদ্দনেন।

তস্যাস্থ্য প্রথমজস্যাগ্নেঃ অশ্বমেধোপযোগিকস্যাকস্য বিরাজশ্চিত্যাত্মকস্য অশ্বস্যেব দর্শনমুচ্যতে। সর্ব্বা হি পূর্ব্বোক্তোৎপত্তিরস্য স্তুত্যর্থেত্যবোচাম-ইথ- মসৌ শুদ্ধজন্মেতি। তস্য প্রাচী দিক্ শিরঃ বিশিষ্টত্বসামান্যাৎ। অসৌ চাসৌ চ ঐশান্যাগ্নেয্যো ঈর্ম্মো বাহু; ঈরয়তের্গতিকৰ্ম্মণঃ।

অথ অস্যাগ্নেঃ, প্রতীচী দিক্ পুচ্ছং জঘন্যো ভাগঃ, প্রামুখস্থ্য প্রত্যন্দিক্- সম্বন্ধাৎ। অসৌ চাসৌ চ বায়ব্য-নৈঋতো। সখ্যো সথিনী, পৃষ্ঠকোণত্বসামা- ন্যাৎ। দক্ষিণা চ উদীচী চ পার্শ্বে, উভয়দিক্-সম্বন্ধ-সামান্যাৎ। দ্যোঃ পৃষ্ঠমন্তরিক্ষ- মুদরমিতি পূর্ব্ববৎ। ইয়ম্ উরঃ, অধোভাগসামান্যাৎ। স এযঃ অগ্নিঃ প্রজাপতি- রূপে। লোকাদ্যাত্মকোহগ্নিঃ অপ্সু প্রতিষ্ঠিতঃ, “এবমিমে লোকা অপ্সু স্বন্তঃ” ইতি শ্রুতেঃ। যত্র ক্বচ যস্মিন্ কস্মিংশ্চিৎ এতি গচ্ছতি, তদেব তত্রৈব প্রতিষ্ঠতি স্থিতিং লভতে। কোহসৌ? এবং যথোক্তমপ্সু প্রতিষ্ঠিতত্বম্ অগ্নের্বিদ্বান্ বিজানন্, গুণফলমেতৎ ॥ ৫॥৩॥

টীকা। বিরাজো ধ্যানার্থমবচ্ছেদভেদমাহ—স চেতি। কোহস্য ত্রৈবাভাবস্য কর্ত্তেতি বীক্ষায়া- মাহ—স্বয়মেবেতি। কথমেকস্য ত্রিধাত্বমন্যথা কথমেকত্বমিত্যাহ—কথমিতি। মৃদো ঘটশরা- বাদ্যনেকরূপত্ববদ্ বিরাজো বহুরূপত্ব সাধয়তি—আহেত্যাদিনা। কথমগ্নি’ তৃতীয়মিত্যশ্রুতং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৬৩

কল্পাতে, তত্রাহ--সামর্থ্যস্যেতি। বাষ্বাদিতায়োরিবাগ্নেরপি সংখ্যাপূরণত্বশক্তেরবিশিষ্টত্বাৎ অগ্নিং তৃতীয়মকরুত ইত্যুপসংখ্যায়তে, স ত্রেধা আত্মানমিতি চোপক্রমাদিত্যর্থঃ। ননু কিময়ং ত্রেধাভাবে। বিরাটস্বরূপে। পমর্দ্দেন ক্রিয়তে, ন হি স তস্মিন্ সত্যেব যুক্তো বিরোধাদিত্যাহ-স এষ ইতি। যথা তত্ত্ববস্থানুপমদনেন মূলকারণাৎ পটো জায়তে, তথ। সর্ব্বেষাং ভূতানাং প্রাণতয়া সাধারণোহপায়: স্বেনৈব স্বতম্বেণানুগতেন মৃত্যুরূপেণ ত্রেধাবিভাগস্থ কর্ত্তা। ন চৈকস্য বহুরূপত্ব- বিরোধঃ, মায়াবিবদুপপত্তেরিত্যর্থঃ।

তস্য প্রাচীত্যাদেস্তাৎপয্যমাহ-তস্যেতি। উক্তানি বিশেষণানি পকরণাবিচ্ছেদার্থমনুদ্যন্তে। অগ্নিবিষয়ং দর্শনমিদানীমুচাতে চেৎ, নৈবেহেত্যাদি পূর্ব্বোক্তমনর্থকমিত্যাশঙ্ক্যাহ-সর্ব্বা হীতি। স্তুতিমেবাভিনয়তি-ইথমিতি। কর্ম্মাঙ্গস্যাগ্নেঃ সংস্কর্তব্যত্বাৎ চিত্যাগ্নিশিরসি প্রাচীদৃষ্টিঃ কর্তব্যেতাতহ-তস্যেতি। আরোপে সাদৃশ্যমাহ--বিশিষ্টত্বেতি। শিরসঃ অনন্তরভাবিত্বাৎ। তদ্বাহোরৈশান্যাদিদৃষ্টমাহ-অসৌ চেতি। কথমীন্দুশব্দো বাহুবাচীত্যাশঙ্কা তদুৎপত্তিমাহ- ঈরয়তেরিতি। গত্যর্থযোগাদীস্মশব্দো বাহুমধিকরোতীত্যর্থঃ।

তৎপুচ্ছাদিস্ প্রতীচ্যাদিদৃষ্টিরধাস্যতি—অপেত্যাদিনা। চিতাস্যাগ্নে শিরসি বাহ্বোঃ প্রাচ্যাদিদৃষ্টিকরণানন্তরমিত্যর্থঃ। সখি-পদং পৃষ্ঠনিষ্ঠোন্নতাস্থিদ্বয়বিষয়ম্। উভয়শব্দেন প্রাচী- প্রতীচীদ্বয়ং গৃহ্যতে। উরসি পৃথিবীদৃষ্টিমাহ—ইয়মিতি। উপাস্যমগ্নিমুক্তমনুবদতি—স এব ইতি। এস্য উপাদানার্থমেবাপু প্রতিষ্ঠিতত্বং গুণমুপদিশতি অগ্নিরিতি। ভূতান্তরসহিতা- নামপা সর্ব্বলোককারণহাদ অশেষলোকাত্মকোহগ্নিস্তত্র প্রতিষ্ঠিত সম্ভবতীত্যত্র শ্রুত্যন্তরং সংবাদয়তি--এবমিতি। যথৈতেষু লোকেয় সর্ব্ব কার্য্য প্রতিষ্ঠিত, তথেতি যাবৎ। লোকশব্দেন স্থূলানা ভূতানাং সন্নিবেশবিশেষা গৃহ্যন্তে। অপসু ভূতান্তরসহিতাস্য কারণভূতাস্থিতি যাবৎ। ফলশ্রুতিং ব্যাচষ্টে—যত্রোতি। অথোপাস্তিফলম্ অপ পুনমৃত্যু হয়তি ইত্যাদিনা বক্ষাতে। কিমিদমস্থানে ফলসঙ্কীর্ত্তনমত আহ—গুণেতি ॥ ৫ ॥ ৩ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—সেই প্রথমজ[বিরাটূপ! প্রজাপতি আপনাকে— স্বীয় দেহেন্দ্রিয়-সমষ্টিকেই ত্রেধা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ তিন প্রকারে বিভক্ত করিয়াছিলেন। কি কি প্রকারে, তাহাই বলিতেছেন—আদিত্য তৃতীয়, অর্থাৎ অগ্নি ও বায়ু অপেক্ষা তিনের পূরণ। এখানেও ‘অকুরুত’ ক্রিয়ার অনুবর্তন হইতেছে। সেইরূপ, অগ্নিও আদিত্য অপেক্ষায় তৃতীয় বায়ু; এইরূপ বায়ুও আদিত্য অপেক্ষা তৃতীয় অগ্নির দৃষ্টিও বুঝিতে হইবে; কেন না, ত্রিত্বসংখ্যা পূরণে ইহারও তুল্য অপেক্ষা রহিয়াছে। সেই এই প্রাণ সর্ব্বভূতের আত্মস্বরূপ হইয়াও নিজ ‘মৃত্যু’রূপী আত্মার কর্তৃত্বে আবার বিশেষভাবে অগ্নি, বায়ু ও আদিত্যরূপে ত্রিধা বিহিত হইলেন, অর্থাৎ স্বীয় অখণ্ড বিরাট্ স্বরূপটা বিদলিত না করিয়াই তিন ভাগে বিভক্ত হইলেন।

সেই যে, এই অশ্বমেধ-যজ্ঞোপযোগী বিরাটরূপী অর্কনামক প্রজাপতি অগ্নি,

৬৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাঁহার সম্বন্ধেও, পূর্ব্বোক্ত জ্ঞানাত্মক অশ্বের ন্যায়, দর্শন বা উপাসনা কথিত হইতেছে। পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে যে, পূর্ব্বোক্ত উৎপত্তির সমস্ত কথাই ইহার স্তুতির জন্য, অর্থাৎ কেবলই ইহার জন্মগত বিশুদ্ধি খ্যাপনের জন্য। পূর্ব্ব দিক্ তাহার মস্তক; কারণ, উভয়েরই শ্রেষ্ঠত্ব ধৰ্ম্ম সমান। ‘এই—এই’ দিক্, অর্থাৎ ঈশান ও অগ্নি কোণ ইহার দুইটী ঈৰ্ম্ম, অর্থাৎ বাহুদ্বয়। ঈৰ্ম্ম পদটী গত্যর্থক ঈরি ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে।

তাহার পর, পশ্চিম দিক হইতেছে এই অগ্নির পচ্ছ অর্থাৎ পশ্চাদ্ভাগ; কেন না, পূর্ব্বাভিমুখে স্থিত ব্যক্তির পশ্চাদ্ভাগের সহিতই পশ্চিম দিকের সম্বন্ধ হইয়া থাকে। আর ‘এই-এই’ দিক্ অর্থাৎ বায়ু ও নৈঋত কোণ ইহার সখি- দ্বয়(পৃষ্ঠের পার্শ্ববর্তী অস্তিদ্বয়); কারণ, পৃষ্ঠকোণের সহিত ইহার সাদৃশ্য রহিয়াছে। দক্ষিণ ও উত্তর দিক্ ইহার পার্শ্বদ্বয়; কারণ, উভয় দিকের সহিত ইহার সম্বন্ধগত সাম্য আছে। ছালোক ইহার পৃষ্ঠ; অন্তরিক্ষ(আকাশ) ইহার উদর; এখানেও পূর্ব্বোক্ত অশ্বদৃষ্টির ন্যায় সাদৃশ্য বুঝিতে হইবে। এই অর্থাৎ পৃথিবী ইহার বক্ষঃস্থল; কারণ, ইহারও অধোভাগত্বরূপ সাদৃশ্য রহিয়াছে। সেই এই অগ্নি--সর্ব্বলোকাত্মক প্রজাপতিরূপ অগ্নি জলের মধ্যে অবস্থিত; কারণ, অন্য শ্রুতিতে আছে--এই প্রকারে এই সমস্ত জগৎ জলের মধ্যে প্রতি- ষ্ঠিত আছে‘। যে লোক এই অগ্নির যথোক্তপ্রকার জলপ্রতিষ্ঠিতত্ব জানেন, তিনি যে কোনও স্থানে গমন করেন, তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ইহা হইতেছে উপাসনার গুণফল আনুষঙ্গিক ফল মাত্র; ইহার প্রকৃত ফল হইতেছে চিত্তশুদ্ধি ॥ ৫। ৩ ॥

সোহকাময়ত দ্বিতায়ো ম আত্মা জায়েতেতি; স মনসা বাচং মিথুনং সমভবৎ, অশনায়া। মৃত্যুস্তদদ্যদ্ রেত আসীৎ, স সংবৎ- সরোহভবৎ। ন হ পুরা ততঃ সংবৎসর আস, তমেতাবন্তং কালমবিভঃ। যাবান্ সংবৎসরস্তমেতাবতঃ কালস্য পরস্তাদ- সৃজত। তং জাতমভিব্যাদদাৎ, স ভাণকরোৎ, সৈব বাগ- ভবৎ ॥ ৬ ॥ ৪ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ(অবাদিক্রমেণ স্রষ্টা মৃত্যুঃ) অকাময়ত(কামনাং কৃতবান্)—মে(মম) দ্বিতীয়ঃ আত্মা(শরীরং) জায়েত(জায়তাম্) ইতি। সঃ অশনায়া(তদুপলক্ষিতঃ) মৃত্যুঃ[এবমিচ্ছন্] মনসা(অন্তঃকরণেন) বাচং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৮৫

(বাণীং বেদরূপাং) মিথুনং(অন্যোন্যসংযোগলক্ষণং) সমভবৎ(সম্ভবৎ কৃত- বান্-মনসা বেদার্থমালোচিতবান্)। তৎ(তত্র-মিথুনে) যৎ রেতঃ(বীজং) আসীৎ(বেদার্থ-পর্যালোচনয়া প্রথমশরীরিণঃ প্রজাপতেঃ সমুৎপত্যনুকূলং, জ্ঞানকৰ্ম্ম-সংস্কাররূপং যৎ কারণং দৃষ্টমাসীৎ), সঃ(তৎ রেতঃ) সংবৎসরঃ অভবৎ, ততঃ(তস্মাৎ সংবৎসরাখ্য-প্রজাপতেঃ) পুরা(উৎপত্তেঃ পূর্ব্বং) সংবৎসরঃ(দ্বাদশ- মাসাত্মকঃ কালঃ) ন হ(নৈব) আস(আসীৎ)। তং(সংবৎসরনির্মাতারং প্রজাপতিং) এতাবন্তং(সংবৎসরপরিমিতং) কালং[ব্যাপ্য] অবিভঃ(অশুগর্ভে ধৃতবান্), যাবান্(যৎপরিমাণঃ) সংবৎসরঃ(লোকপ্রসিদ্ধঃ, এতাবন্তং কালমিতি সম্পন্ধঃ)। এতাবতঃ(সংবৎসরাত্মকস্য) কালস্য(কল্পস্থ্য) পরস্তাৎ(পশ্চাৎ) তদ্(অণ্ডমধ্যস্তম্) অসৃজত(অণ্ডং বিদারিতবান্)[মৃত্যুরিতি শেষঃ]। তং জাতং(প্রজাপতিঃ) অভিব্যাদদাৎ(ভোজনার্থং মুখব্যাদানং কৃতবান্); সঃ (জাতঃ) ভাণ্(ইতি অব্যক্তং শব্দং) অকরোৎ(কৃতবান্), সা এব (স এব) বাক্(শব্দঃ) অভবৎ,[ততঃ পূর্ব্বং শব্দো নাসীদিতি ভাবঃ]॥

মূলানুবাদ। জলাদি-স্রষ্টা সেই অশনায়া-লক্ষণান্বিত মৃত্যু ইচ্ছা করিলেন—আমার দ্বিতীয় একটি আত্মা(শরীর) উৎপন্ন হউক। [অনন্তর] তিনি মনের সহিত বাক্যের সংযোজনা করিলেন,(অর্থাৎ মনে মনে বেদবাক্য চিন্তা করিলেন।) তাহার মধ্যে যে বীজশক্তি নিহিত ছিল, অর্থাৎ তাদৃশ বেদ-চিন্তার ফলে, প্রথমোৎপন্ন পুরুষ প্রজাপতি স্বকার্য্যোপ- যোগী যে, প্রাক্তন জ্ঞান-কৰ্ম্মসংস্কার-বীজ দর্শন করিয়াছিলেন, তাহাই সংবৎসর হইল; তৎপূর্ব্বে সংবৎসর বলিয়া কোন কালবিভাগ ছিল না। জগতে যাহা সংবৎসর বলিয়া প্রসিদ্ধ,[তিনি] প্রজাপতিকে অণ্ডের অভ্যন্তরে ততকাল ধারণ করিয়াছিলেন। এই পরিমাণ কালের (সংবৎসরের) পরে তাহাকে সৃষ্টি করিলেন; অর্থাৎ এক বৎসরান্তে সেই অণ্ডটী বিদীর্ণ করিলেন;[এবং] জন্মের পর তিনি তাহাকে ভক্ষণ করিবার নিমিত্ত মুখব্যাদান করিলেন। সেই নবজাত পুরুষ [ভয়ে] ‘ভাণ’ শব্দ করিলেন, তাহাই জগতে প্রথম ‘শব্দ’ হইল ॥ ৬॥ ৪ ॥ শাঙ্কর-ভাষ্যম্। সোহকাময়ত—যোহসৌ মৃত্যুঃ; সঃ অবাদি- ক্রমে। আত্মনা আত্মানমণ্ডস্যান্তঃ কার্য্য-করণসঙ্ঘাতবন্তং বিরাজমগ্নিম্ অসৃজত, ‘ত্রেধা চাত্মানমকরুতেত্যক্তম। স কিংব্যাপার: সন অসৃজতেতি? উচ্যতে—স

*

৬৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মৃত্যুঃ অকাময়ত কামিতবান্। কিম্? দ্বিতীয়ো মে মম আত্মা শরীরম্, যেনাহং শরীরী স্যাম্, স জায়েত উৎপদ্যেত, ইতি এবমেতদ্ অকাময়ত। স এবং কাময়িত্বা, মনসা পূর্ব্বোৎপন্নেন, বাচং ত্রয়ীলক্ষণাং, মিথুনং দ্বন্দ্বভাবম্, সমভবৎ সম্ভবনং কৃতবান্, মনসা ত্রয়ীমালোচিতবান্; ত্রয়ীবিহিতং সৃষ্টিক্রমং মনসা অন্বা- লোচয়দিত্যর্থঃ। কোহসৌ? অশনায়য়া লক্ষিতো মৃত্যুঃ; অশনায়া মৃত্যুরিত্যু- ক্তম্; তমেব পরামৃশতি অন্যত্র প্রসঙ্গো মা ভূদিতি।

তদ্ যদ্রেত আসীৎ,-তং তত্র মিথুনে যৎ রেত আসীৎ-প্রথমশরীরিণঃ প্রজাপতেরুৎপত্তৌ কারণং রেতো বীজং জ্ঞান-কৰ্ম্মরূপং ত্রয্যালোচনায়াং যৎ দৃষ্টবানাসীৎ জন্মান্তরকৃতম্, তদ্ভাবভাবিতোহপঃ সৃষ্ট। তেন রেতসা বীজেনাস্পু অনুপ্রবিশ্য অণ্ডরূপেণ গর্ভীভূতঃ সঃ সংবৎসরোহভবৎ, সংবৎসর-কালনির্মাতা সংবৎসরঃ প্রজাপতিরভবৎ। নহ পুরা পূর্ব্ব, ততঃ তস্মাৎ সংবৎসরকালনিৰ্ম্মাতুঃ প্রজাপতেঃ, সংরৎসরঃ কালো নাম, ন আস ন বভূব হ। তং সংবৎসরকাল- নির্মাতারম্ অন্তর্গর্ভং প্রজাপতিম্, যাবানিহ প্রসিদ্ধঃ কালঃ, এতাবন্তম্ এতাবং- সংবৎসরপরিমাণং কালম্, অবিভঃ ভূতবান্ মৃত্যুঃ, যাবান্ সংবৎসর ইহ প্রসিদ্ধঃ। ততঃ পরস্তাৎ কিং কৃতবান? তম্ এতাবতঃ কালস্য সংবৎসরমাত্রস্থ্য পরস্তাদূদ্ধম্ অসৃজত সৃষ্টবান, অণ্ডম্ অভিনৎ ইত্যর্থঃ। তমেব কুমার জাতমগ্নি প্রথমশরীরিণম্, অশনায়াবত্ত্বাৎ মৃত্যুঃ অভিব্যাদদাং মুখবিদারণ, কৃতবান্ অভুম্। স চ কুমারো ভীতঃ স্বাভাবিকা। অবিদ্যয়া যুক্তো ভাণিত্যেব শব্দমকরোৎ। সৈব বাগভবৎ, বাক্ শব্দোহভবৎ ॥ ৬।৪ ॥

টীকা। উত্তরগ্রন্থম্ অবতাৰ্য্য তস্য পূর্ব্বগ্রন্থেন সম্বন্ধং বক্তঃ বৃত্তং কীর্তয়তি-সোহকাময়তে- ত্যাদিনা। অবান্তরব্যাপারমস্তরেণ কর্তৃত্বানুপপত্তিরিতি মত্বা পৃচ্ছতি-স কিংব্যাপার ইতি। কামনাদিরূপমবাস্তবব্যাপারম্ উত্তরবাক্যাবষ্টম্ভেন দর্শয়তি--উচ্যত ইতি। কামনাকাৰ্য্যং মনঃ- সংযোগমুপন্যস্থতি-স এবমিতি। কোহয়ং মনসা সহ বাচো দ্বন্দ্বভাবঃ, তত্রাহ-মনসেতি। বাক্যার্থমেব স্ফুটয়তি-ত্রয়াবিহিতমিতি। বেদোক্তসৃষ্টিক্রমালোচন’ প্রজাপতের্নেদং প্রথমং, সংসারস্থ্য অনাদিত্বাদিতি বক্তুম্ অনু-শব্দঃ। ‘সোহকাময়ত’ ইত্যাদৌ সর্ব্বনায়ঃ অব্যবহিত- বিরাডবিষয়ত্বমাশঙ্ক্য পরিহরতি-কোৎসাবিত্যাদিনা। কথং তয়া মৃত্যুলক্ষ্যতে, তত্রাহ- অশনায়েতি। কিমিতি তর্হি পুনরুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-তমেবেতি। অন্যত্রানন্তরপ্রকৃতে বিরাড়াত্মনীতি যাবৎ।

অবান্তরব্যাপারান্তরমাহ—তদিত্যাদিনা। প্রসিদ্ধং রেতো ব্যাবর্তয়তি—জ্ঞানেতি। ননু প্রজাপতেন জ্ঞানং কৰ্ম্ম বা সম্ভবতি, তত্রানধিকারাদিত্যাশঙ্ক্য আসীদিত্যার্থমাহ— জন্মান্তরেতি। বাক্যস্যাপেক্ষিতং পূরয়িত্বা বাক্যান্তরমাদায় ব্যাকরোতি—তত্তাবেত্যাদিনা।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৬৭

ননু সংবৎসরস্য প্রাগেব সিদ্ধহান্ন প্রজাপতেস্তন্নির্মাণেন তদাত্মত্বমিত্যাশঙ্ক্যোত্তরং বাক্যমুপাদত্তে- ন হ পুরেতি। তদ্‌ ব্যাচষ্টে-পূর্বমিতি। প্রজাপতেরাদিত্যাত্মকত্বাৎ তদধীনত্বাচ্চ সংবৎসর- ব্যবহারস্থ্য, আদিত্যাৎ পূর্ব্বং তদ্ব্যবহারো নাসীদেবেত্যর্থঃ। কিয়ন্তং কালমণ্ডরূপেণ গর্ভো বভূবেত্যপেক্ষায়ামাহ-তমিত্যাদিনা। অবান্তরব্যাপারম্ অনেকবিধমভিষায় বিরাড়ুৎপত্তি- মাকাঙ্ক্ষাদ্বারোপসংহরতি-যাবানিত্যাদিনা। কেয়ং পূর্বমেব ভতয়া বিদ্যমানস্য বিরাজঃ সৃষ্টিঃ? তত্রাহ--অণ্ডমিতি। বিরাড়ুৎপত্তিম্ উক্ত্বা শব্দমাত্রস্য সৃষ্টং বিবক্ষুর্ভূমিকাং করোতি- তমেবমিতি। অযোগ্যেহপি পুত্রভক্ষণে প্রবর্ত্তকং দর্শয়তি--অশনায়াবয়াদিতি। বিরাজো ভয়- কারণমাহ-স্বাভাবিক্যেতি। ইন্দ্রিয়ং দেবতাং চ ব্যাবর্ত্তয়তি--বাক শব্দ ইতি ॥ ৬॥৪॥

ভাষ্যানুবাদ।—তিনি কামনা(ইচ্ছা) করিয়াছিলেন; তিনি অর্থাৎ যিনি পূর্ব্বোক্ত মৃত্যু। তিনি নিজেই নিজকে জলাদিক্রমে অণ্ডমধ্যে দেহেন্দ্রি- য়াদিবিশিষ্ট বিরাট্স জ্ঞক অগ্নিরূপে সৃষ্টি করিয়াছিলেন; এবং আপনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করিয়াছিলেন, এ কথা পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে। তিনি যে, কি প্রকার চেষ্টায় সৃষ্টি করিয়াছিলেন, এখন তাহাই কথিত হইতেছে—সেই মৃত্যু কামনা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ ইচ্ছা করিয়াছিলেন। কি ইচ্ছা করিয়াছিলেন]? আমার দ্বিতীয় একটি আত্মা—শরীর হউক; আমি যাহা দ্বারা শরীরবান্ হইতে পারি, সেরূপ একটি শরীর উৎপন্ন হউক, এইরূপ কামনা করিয়াছিলেন। তিনি এইরূপ কামনা করিয়া পূর্ব্বোৎপন্ন মনের সহিত বাক্যের—ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব বেদরূপ বাণীর মিথুন—দ্বন্দ্বভাব(সংযোগ) ঘটাইয়াছিলেন,— মনে মনে বেদ-চিন্তা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ বেদোক্ত সৃষ্টিক্রম মনে মনে আলো- চনা করিয়াছিলেন(১)। ইনি কে?[উত্তর—] ইনি অশনায়ালক্ষিত(ভোজনেচ্ছা- বিশিষ্ট) মৃত্যু; অশনারা যে মৃত্যুস্বরূপ, ইহা পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে, এখানে অব্যব- হিত পূর্ব্বোক্ত বিরাটের কামনাকর্তৃত্ব আশঙ্কিত হইতে পারিত, তন্নিবৃত্তির জন্য পুনশ্চ “অশনারা মৃত্যুঃ” কথায় প্রথমোক্ত মৃত্যুর সম্বন্ধ গ্রহণ করা হইয়াছে।

৬২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাহাতে যে রেতঃ ছিল, অর্থাৎ সেই মিথুনমধ্যে যে বীজশক্তি নিহিত ছিল; অভিপ্রায় এই যে, বেদ-পর্যালোচনার ফলে প্রথমশরীরী প্রজাপতির শরীর- সমুৎপত্তির নিমিত্তীভূত জন্মান্তরকৃত জ্ঞানকৰ্ম্ম-সংস্কাররূপ যে বীজ বর্তমান ছিল, তিনি তদ্ভাবভাবিত হইয়া অর্থাৎ সেই সংস্কারে অনুপ্রাণিত হইয়া জল সৃষ্টি করিয়া, সেই জলের অভ্যন্তরে প্রবেশপূর্ব্বক রেতোরূপ বীজ দ্বারা ডিম্বাকারে গর্ভ- রূপী হইয়া তিনিই সংবৎসর হইলেন, অর্থাৎ সংবৎসরাত্মক কালের প্রবর্ত্তক প্রজাপতি হইলেন। সংবৎসরকাল-নির্মাতা সেই প্রজাপতির প্রাদুর্ভাবের পূর্ব্বে-নিশ্চয়ই সংবৎসর নামে কোন সময় প্রসিদ্ধ ছিল না। মৃত্যু সেই সংবৎ- সর-নির্মাতা অণ্ডাভ্যন্তরস্থ প্রজাপতিকে, জগতে যে পরিমাণ কাল সংবৎসর নামে প্রসিদ্ধ, সেই প্রসিদ্ধ সংবৎসর কাল পর্যন্ত ধারণ বা পোষণ করিয়াছিলেন। আচ্ছা, লোকপ্রসিদ্ধ এই সংবৎসর কাল পর্যন্ত ধারণের পরে কি করিয়াছিলেন?- এই সংবৎসর পরিমিত কালের পরেই-সংবৎসর পূর্ণ হইবা মাত্রই তাহাকে সৃষ্টি করি- লেন, অর্থাৎ সেই ডিম্বটী ভাঙ্গিয়া ফেলিলেন। সেই আদিশরীরী অগ্নি, কুমার বা শিশুরূপে সমুৎপন্ন হইলেন। পরে, ভোজনেচ্ছুক বা ক্ষুধার্ত্ত মৃত্যু তাহাকে ভক্ষণ করিবার নিমিত্ত মুখ-বিদারণ(মুখ-ব্যাদান) করিলেন; তখন সেই নবজাত শিশু স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যাসম্বন্ধবশতঃ ভীত হইয়া ‘ভাণ’ ইত্যাকার ভীতিসূচক শব্দ করিয়াছিলেন; তাহাই হইল বাক্-তাহাই ব্যবহারোপযোগী শব্দরূপে পরিণত হইল ॥ ৬ ॥ ৪ ॥

স ঐক্ষত যদি বা ইমমভিমস্যে, কনীয়োহন্নং করিষ্য- ইতি, স তয়া বাচা তেনাত্মনেদং সর্ব্বমসৃজত যদিদং কিঞ্চ—ঋচো যজুসি সামানি ছন্দাসি যজ্ঞান্ প্রজাঃ পশূন্। স যদ্যদেবাসৃজত তত্তদত্তুমধ্রিয়ত, সর্ব্বং বা অভীতি তদদিতেরদিতিত্বং সর্ব্বস্যৈ- তস্যাত্তা ভবতি সর্ব্বমস্যান্নং ভবতি, য এবমেতদদিতেরদিতিত্বং বেদ ॥ ৭ ॥ ৫ ॥

সরলার্থঃ—সঃ(মৃত্যুঃ) ঐক্ষত(চিন্তয়ামাস);[কি?] যদি(সম্ভা- বনায়াং) বৈ[কদাচিৎ][ক্ষুধাবশাৎ অহং] ইমঃ(কুমারং) অভিমংস্যে(মারয়িয্যে,) [তর্হি এতস্য ভক্ষণে কৃতে,] অন্নং(মম ভক্ষ্যং) কনীয়ঃ(অত্যল্পং) করিষ্যে,[অতঃ প্রভূতান্নসৃষ্টৌ যতিয্যে ইতি ভাবঃ] ইতি। সঃ(এবং কৃতনিশ্চয়ঃ মৃত্যুঃ) তয়া (পূর্ব্বোক্তয়া বেদরূপয়া), বাচা, তেন(পূর্ব্বোক্তেন) আত্মনা(মনসা চ)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয় উক্তিঃ।

৬৯

[ মনঃসংকল্পিতমর্থং বাচা সমুচ্চার্য্য] ইদ, সপ্রম্ অসৎ-সং ইদ, কিঞ্চ--ঋচঃ ( ঋগ্বেদান্), যজুনি(যজুর্ব্বেদান্), সামানি(সামবেদান্, ছন্দাৎসি(গায়ত্র্যা- দানি সপ্ত), যজ্ঞান্(যাগান্), প্রজাঃ(মনুষ্যান্, পশন্(গ্রাম্যান্ আরণ্যান্ চ জন্তুন)[অসৃজত ইতি সম্বন্ধঃ]। সঃ(মৃত্যুঃ, ধনং এব,(বস্তু) অসৃজত (সৃষ্টবান্), তৎ তৎ(বস্তু)[এব] অতুং(ভক্ষয়িত্ব, অবিরত(মনঃ কৃতবান্); [অন্নবাহুল্যং দৃষ্টা তদানীং তদ্ভক্ষণে প্রবৃত্তঃ বভূব হতাভিপ্রায়ঃ]। যৎ[সঃ] সারঃ(সৃষ্ট, বস্তু) বৈ অত্তি(ভক্ষয়তি) ইতি, তৎ(তদেব) অদিতেঃ(অদিতি- নারো মৃত্যোঃ) অদিতিত্বম্(অদিতিনামোদ্ভব হেতুঃ)। অন্যোহপি] যঃ(জনঃ) অদিতেঃ(অদিতিনায়ো মৃত্যোঃ) এতৎ(উক্ত) অদিতিত্বম্ এবং(যথোক্তেন রূপেণ) বেদ(জানাতি), সঃ(জ্ঞাতাপি) এতস্য সঙ্গস্থ্য জগতঃ) অত্তা(ভোক্তা) ভবতি, সর্ব্ব[বস্তু] অস্য(জ্ঞাতুঃ) অন্ন,(ভক্ষ্য, অধান) ভবতি ইত্যর্থঃ ॥

মূলানুবাদ। সেই মৃত্যুরূপী প্রজাপতি চিন্তা করিলেন- আমি যদি ক্ষুধাবশতঃ কখনও এই শিশুকে ভক্ষণ করিয়া ফেলি, তাহা হইলে আমার খাদ্য বস্তু অতি অল্প করিয়া ফেলিব, অর্থাৎ ইহাকে ভক্ষণ করিলেও আমার দীর্ঘকাল চলিবে না। তিনি এইরূপ চিন্তার পর, সেই পূর্ব্বোক্ত বাক্য ও মনের সহযোগে এই সমস্ত সৃষ্টি করিলেন-এই যাহা কিছু-ঋগ্বেদ, যজুর্ব্বেদ, সামবেদ, গায়ত্রী প্রভৃতি ছন্দঃ, সমস্ত যজ্ঞ, সমস্ত প্রজা(মনুষ্যাদি) ও সমস্ত পশু। তিনি যাহা সৃষ্টি করিলেন, তৎসমস্তই ভক্ষণ করিতে মনঃস্থ করিলেন, অর্থাৎ সৃষ্ট সমস্তই তাঁহার ভক্ষ্য হইল। যেহেতু তিনি সমস্ত বস্তু অদন করেন(ভক্ষণ করেন), সেই হেতুই তাঁহার ‘অদিতি’ নাম প্রসিদ্ধ। যে লোক অদিতির এই অদিতিত্ব যথোক্তপ্রকারে অবগত হন, তিনিও সমস্ত বস্তুর ‘ভোক্তা হন-সমস্ত বস্তুই তাঁহার অন্ন বা ভোগারূপে উপস্থিত হয় ॥ ৭॥৫৷৷

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—স ঐক্ষত—সঃ এবং ভাত কৃতরবং কুমারং দৃষ্টা মৃত্যুঃ ঐক্ষত ঈক্ষিতবান্ অননারাবানপি—যদি কদাচিদে ইম কুমারম্ অভি- মন্যে, অভিপূর্ব্বো মন্যতিহিংসার্থঃ, হিংসিষ্যে ইত্যর্থঃ। কর্মীয়োহন্নং করিষ্যে ---কনীয়ঃ অল্পমন্নং করিষ্যে ইতি; এবমাক্ষিত্বা তদ্ভক্ষণাদুররাম। বহু হ্যন্নং কর্ত্তব্যং দীর্ঘকালভক্ষণায়, ন কনীয়ঃ; তদ্ভক্ষণে হি কনীরোহন্নং স্যাৎ, বীজভক্ষণ- ইব সন্ত্যাভাবঃ। স এবং প্রয়োজনম্ অন্নবাহুল্যমালোচ্য, তয়ৈব ত্রয্যা বাচা

৭০. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পূর্ব্বোক্তয়া, তেনৈব চ আত্মনা মনসা, মিথুনীভাবমালোচনম্ উপগম্যোপগম্য ইদং সর্ব্বং স্থাবরং জঙ্গমঞ্চ অসৃজত,-যদিদং কিঞ্চ যৎকিঞ্চেদম্। কিং তৎ? ঋচঃ, যজুংবি, সামানি, ছন্দাংসি চ সপ্ত গায়ত্র্যাদীনি-স্তোত্রশস্ত্রাদিকৰ্মাঙ্গভূতান্ ত্রিবিধান্মন্ত্রান্ গায়ত্র্যাদিচ্ছন্দোবিশিষ্টান্, যজ্ঞাংশ তৎসাধ্যান, প্রজাঃ তৎকর্ত্রীঃ, পশূংশ্চ গ্রাম্যানারণ্যান্ কৰ্ম্মসাধনভূতান্।

ননু ত্রয্যা মিথুনীভূতয়াসৃজতেত্যুক্তম্, ঋগাদীনি ইহ কথমসৃজতেতি? নৈষ দোষঃ; মনসস্তু অব্যক্তোহয়ং মিথুনীভাবস্ত্রয্যা; বাহ্যস্তু ঋগাদীনাং বিদ্যমানানামের কৰ্ম্মসু বিনিয়োগভাবেন ব্যক্তীভাবঃ সর্গ ইতি।

স প্রজাপতিরেবমন্নবৃদ্ধি, বুদ্ধা, যদ্যদেব ক্রিয়াং ক্রিয়াসাধনং ফলং বা কিঞ্চিদ- সৃজত, তত্তৎ অদ্ভুং ভক্ষয়িতুম্ অধিয়ত ধৃতবান্ মনঃ। সর্ব্বং কৃৎস্নং বৈ যম্মাদত্তি ইতি, তৎ তস্মাৎ অদিতেঃ অদিতিনান্নো মৃত্যোরদিতিত্ব প্রসিদ্ধম্। তথা চ মন্ত্রঃ—“অদিতির্দ্যৌরদিতিরন্তরিক্ষমদিতিৰ্মাতা স পিতা” ইত্যাদিঃ। সব্বস্যৈতস্য জগতোহন্নভূতস্য অত্তা সর্বাত্মনৈব ভবতি; অন্যথা বিরোধাৎ; ন হি কশ্চিৎ সর্ব্বস্যৈকোহত্তা দৃশ্যতে; তস্মাৎ সর্বাত্মা ভবতীত্যর্থঃ। সর্ব্বমস্যান্নং ভবতি; অতএব সর্বাত্মনো হ্যতুঃ সর্ব্বমন্নং ভবতীত্যুপপদ্যতে। য এবমেতদ্ যথোক্ত- মদিতেম্মৃত্যোঃ প্রজাপতেঃ সর্বস্যাদিনাং অদিতিত্বং বেদ, তস্যৈতৎ ফলম্ ॥৭॥৫৷৷

টাকা। -ইদান মৃগাদিসৃষ্টমুপদেষ্টং পাতনিকাং করোতি-স ইত্যাদিনা। ঈক্ষণপ্রতিবন্ধক- সদ্ভাবং দর্শয়তি-অশনায়াবানপীতি। অভিপূর্ব্বো মন্যতিরিতি। “রুদ্রোহস্য পশুনভিমন্যেত নাস্য রুদ্রঃ পশুনভিমন্যতে” ইত্যাদি শাস্ত্রমত্র প্রমাণয়িতব্যম্। অন্নস্য কনীয়স্থে কা হানিরিত্যা- শঙ্ক্যাহ-বহু হাঁতি। তথাপি বিরাজো ভক্ষণে কা ক্ষতিগ্রস্ত্রাহ-তদ্ভক্ষণে হীতি। তস্যান্নাত্ম- কত্বাত্তদুৎপাদকত্বাচ্চেতি শেষঃ। কারণনিবৃত্তৌ কার্য্যনিবৃত্তিরিত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-বীজেতি। যথোক্তেক্ষণানন্তরং মিথুনভাবদ্বারা ত্রয়ীসৃষ্টিং প্রস্তৌতি-স এবমিতি। ননু বিরাজঃ সৃষ্ট্যা স্থাবর ঙ্গমাত্মনো জগতঃ সৃষ্টেরুক্তত্বাৎ কিং পুনরুক্ত্যেত্যাশয়েন পৃষ্টা পরিহরতি-কিং তদিতি। গায়্যাদীনীত্যাদিপদেনোকিশনুষ্টব্ বৃহত, পংক্তিত্রিষ্ট, বজগতীচ্ছন্দাংস্যুক্তানি। কেবলানাং চন্দসাং সর্গাসংভবাত্তদারূঢ়ানামৃগ্যজুঃসামাত্মনাং মন্ত্রাণাং সৃষ্টিরত্র বিবক্ষিতেত্যাহ-স্তোত্রেতি‘। উদ্‌গাত্রাদিনা গীয়মানমৃগ্‌জাতং স্তোত্রং, তদেব হোত্রাদিনা শস্যমানং শস্ত্রন্। স্তুতমনুশংসতীতি হি শ্রুতিঃ। যৎ ন গীয়তে ন চ শস্যতে অধ্বর্য্যপ্রভৃতিভিশ্চ প্রযুজ্যতে, তদপ্যত্র গ্রাহ্যমিত্যভি-- প্রেত্য আদিপদম্, অত এব ত্রিবিধানিত্যুক্তম্। অজাদয়ো গ্রাম্যাঃ পশবঃ, গবয়াদয়স্থারণ্যা ইতি ভেদঃ। কর্মসাধনভূতানহজতেতি সম্বন্ধঃ।

স মনসা বাচং মিথুনং সমভবদিত্যুক্তত্বাৎ প্রাগেব ত্রয্যাঃ সিদ্ধহাৎ, ন তস্যাঃ সৃষ্টিঃ শ্লিষ্টেতি শঙ্কতে-নন্বিতি। ব্যক্তাব্যক্তবিভাগেন পরিহরতি-নেত্যাদিনা। ইতি মিথুনীভাবসর্গয়োরুপ- পত্তিরিতি শেষঃ। অন্তুসর্গশ্চ অন্নসর্গশ্চেতি‘দ্বয়মুক্তম্।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৭১

ইদানীমুপাস্যস্ত প্রজাপতেগুণান্তরং নিৰ্দ্দিশতি-স প্রজাপতিরিত্যাদিনা। কথং মৃত্যোর- দিতিনামত্বং সিদ্ধবহুচ্যতে, তত্রাহ-তথা চেতি। অদিতেঃ সর্বাত্মহং বদতা মন্ত্রেণ সর্ব্বকারণস্য মৃত্যোরদিতিনামত্বং সূচিতমিতি ভাবঃ। মৃত্যুরদিতিত্ববিজ্ঞানবতঃ অবান্তরফলমাহ-সর্ব্ব- দ্যেতি। সর্ব্বাত্মনেতি কুতো বিশিষ্যতে, তত্রাহ-অন্যণেতি। সর্ব্বরূপেণাবস্থানাভাবে সর্ব্বান্ন- ভক্ষণস্যাশক্যত্বাদিত্যর্থঃ। বিরোধমেব সাধয়তি-ন হীতি। ফলন্তোপাসনাধীনত্বাৎ প্রজাপতিম্ অদিতিনামানম্ আত্মত্বেন ধ্যায়ন্ ধ্যেয়াত্মা ভূত্বা তৎতদ্রূপত্বমাপন্ন: সর্ব্বস্যান্নস্যাত্তা স্যাদিত্যর্থঃ। অন্নমন্নমেবাস্য সদা, ন কদাচিৎ তদস্যাত্ত ভবতীতি বক্ত মনন্তরবাক্যমাদত্তে-সর্ব্বমিতি। অত এবেত্যুক্তং ব্যক্ত করোতি-সর্বাত্মনো হীতি ॥ ৭॥৫॥

ভাষ্যানুবাদ।—“স ঐক্ষত” ইত্যাদি। তিনি(মৃত্যুলক্ষণ প্রজাপতি) সেই নবজাত শিশুকে এইরূপে ভীত ও ভয়ে শব্দ করিতেছে দর্শন করিয়া চিন্তা করিলেন—যদিও আমি ক্ষুধার্ত্ত বলিয়া এখন এই শিশুকে হিংসা করি, অর্থাৎ ভক্ষণ করি,[তাহা হইলে] আমি আমার অন্ন অতি অল্প করিয়া ফেলিব, অর্থাৎ এই একটা মাত্র শিশু ভক্ষণে আমার আর কতদিন চলিবে—এইরূপ বিবেচনা করিয়া তাহার ভক্ষণ হইতে নিবৃত্ত হইলেন। এখানে “অভিমংস্যে” এই অভিপূর্ব্বক ‘মন্’ ধাতুর অর্থ—হিংসা বুঝিতে হইবে। উদ্দেশ্য এই যে, দীর্ঘ- কাল ভক্ষণের জন্য আমাকে প্রচুর পরিমাণে অন্ন সঞ্চয় করিতে হইবে, অল্প অন্নে হইবে না; বীজ ভক্ষণে যেমন শস্যাভাব ঘটে, তেমনি ইহাকে ভক্ষণ করিলেও আমার অন্ন কমিয়া যাইবে। তিনি এই উদ্দেশ্যে অন্নবাহুল্যের আবশ্যকতা চিন্তা করিয়া পূর্ব্বকথিত সেই বেদরূপ বাক্যের সহিত পূর্ব্বোক্ত আত্মার—মনের সহ- যোগে পুনঃপুনঃ আলোচনা করিয়া এই স্থাবর-জঙ্গমাত্মক যাহা কিছু দৃষ্ট হয়, তৎসমস্ত সৃষ্টি করিলেন। সেই সমস্ত বস্তু কি কি? না, ঋক্সমূহ, সামসমূহ এবং গায়ত্রী প্রভৃতি সপ্ত ছন্দঃ অর্থাৎ গায়ত্রী, উষ্ণিক্, অনুষ্টুপ্, বৃহতী, পংক্তি, ত্রিষ্টুপ্ ও জগতী প্রভৃতি ছন্দোবিশিষ্ট স্তোত্র, শস্ত্রাদিস্বরূপ তিন প্রকার কর্মাঙ্গ মন্ত্র, মন্ত্রসাধ্য যজ্ঞসমূহ, যজ্ঞাধিকারী জনসমূহ এবং কর্ম্মোপযোগী গ্রাম্য ও অরণ্যচর পশুসমূহ[সৃষ্টি করিলেন]।

এখন আপত্তি হইতেছে যে, প্রথমে বলা হইয়াছে মিথুনীভূত ত্রয়ীবিদ্যার সাহাব্যে সৃষ্টি করিয়াছিলেন; এখানে আবার ঋগ্বেদাদির সৃষ্টি করিলেন, বলা হইল কি প্রকারে? অর্থাৎ ঋগ্বেদাদি সৃষ্টি যদি পরেই হইল, তবে তৎপূর্ব্বে সেই বেদের সাহায্যে সৃষ্টি করা সম্ভব হয় কি প্রকারে? না—ইহা দোষাবহ হয় না; কারণ, মনের যে, ত্রয়ীর সহিত মিথুনীভাব, তাহা অব্যক্ত সৃষ্টি, অর্থাৎ মানসিক চিন্তামাত্র, কিন্তু বহিরিকাশ নহে, এখানে হৃদয়-

৭২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নিহিত সেই ঋগ্বেদাদিরই যে, বিভিন্ন কর্ম্মে বিনিয়োগ বা ব্যবহার, তাহাই উহাদের সৃষ্টি বলা হইয়াছে, কিন্তু অভিনব উৎপত্তি নহে;[সুতরাং পূর্ব্বের কথা দোষাবহ হইতেছে না।]

সেই প্রজাপতি যখন বুঝিতে পারিলেন যে, আমার প্রচুর পরিমাণে অন্ন হইয়াছে; তাহার পর হইতেই, ক্রিয়া ও ক্রিয়াসাধন প্রভৃতি যাহা যাহা-যাহা কিছু সৃষ্টি করিলেন, তৎসমস্তই ভক্ষণ করিতে(সংহার করিতে) ধারণ করিলেন অর্থাৎ মনোনিবেশ করিলেন। যেহেতু সেই সমস্তই অদন- ভক্ষণ করেন, সেই হেতুই ‘অদিতি’র অর্থাৎ অদিতিনামক মৃত্যুর অদিতিত্ব প্রসিদ্ধ হইয়াছে। এতদনুরূপ মন্ত্রও আছে-‘অদিতিই দ্যুলোক, অদিতিই অন্তরিক্ষ(আকাশ), অদিতিই মাতা এবং প্রসিদ্ধ পিতা’ ইত্যাদি। তিনি সর্ব্বাত্মভাবদ্বারাই অন্নস্বরূপ এই সমস্ত জগতের অত্তা(ভোক্তা) হন, কিন্তু সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নহে; কারণ, তাহা না হইলে সর্ব্বভোক্তৃত্ব কথা সঙ্গত হইতে পারে না; কেন না, জগতে কোথাও একজনকে সর্ব্ব বস্তুর ভোক্তা দেখিতে পাওয়া যায় না; অতএব নিশ্চয়ই তাঁহার সর্বাত্মভাবও সিদ্ধ হইতেছে। সমস্ত বস্তুই ইঁহার অন্নস্থানীয় হইয়া থাকে; যেহেতু ভোক্তৃস্বরূপ তিনি সর্বাত্মক, সেই হেতুই তাঁহার সম্বন্ধে সর্ব্ব বস্তুর অন্নত্বলাভ উপপন্ন হইতেছে। যে লোক এই অদিতির অর্থাৎ মৃত্যুসংজ্ঞক প্রজাপতির সর্ব্বান্নভক্ষণনিমিত্ত এইরূপ অদিতিত্ব যথাসথরূপে অবগত হন, তাঁহারও উল্লিখিত ফললাভ হয়। ৭॥৫॥

সোহকাময়ত ভূয়সা যজ্ঞেন ভূয়ো যজেয়েতি। সোহশ্রাম্যৎ, স তপোহিতপ্যত, তস্য শ্রান্তস্য তপ্তস্য যশো বীর্য্যমুদক্রামং। প্রাণা বৈ যশো বীর্য্যং; তৎ প্রাণেষুৎক্রান্তেষু শরীরং শ্বয়িতু- মধ্রিয়ত, তস্য শরীর এব মন আসীৎ ॥ ৮ ॥ ৬ ॥

সরলার্থঃ-সঃ(প্রজাপতিঃ) অকাময়ত(কামনাং কৃতবান্)- ভূয়সা(মহতা) যজ্ঞেন ভূয়ঃ(পুনরপি)[পূর্ব্বকল্পবৎ অস্মিন্ কল্পেহপি ইত্যর্থঃ] যজেয়(সঙ্কল্পং কুৰ্য্যাম্) ইতি। সঃ(প্রজাপতিঃ) অশ্রাম্যৎ(শ্রান্তঃ অভবং); সঃ(প্রজাপতিঃ) তপঃ অতপ্যত(জ্ঞানরূপাং তপস্যাং কৃতবান্); শ্রান্তস্য তপুস্য[চ] তস্য(প্রজাপতেঃ) যশঃ বীর্য্যং(পূর্ব্ববৎ) উদক্রামৎ(নির্গতম্ অভূৎ)।[.অত্র যশোবীর্য্যয়োঃ স্বরূপমাহ-] প্রাণাঃ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) যশঃ বীর্য্যম্;[যশোবীর্য্যভূতেষু] প্রাণেষু উৎক্রান্তেষু(শরীরাৎ নির্গতেষু সৎসু)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৭৩

তৎ শরীরং শ্বয়িতুং(উচ্ছুনতাং গন্তুম্) অধ্রিয়ত(মৃতবৎ অভবৎ); তস্য(প্রজা- পতেঃ) মনঃ[পুনঃ] শরীরে এব আসীৎ(ন নির্গতমভূৎ ইত্যর্থঃ) ॥

মূলানুবাদ। তিনি(প্রজাপতি) কামনা করিলেন—আমি, পুনরপি অর্থাৎ পূর্বকল্পের ন্যায় এই কল্পেও মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করিব। তিনি[যজ্ঞানুষ্ঠান করিয়া] পরিশ্রান্ত হইলেন। তখন তিনি তপস্যা আরম্ভ করিলেন; শ্রান্ত ও তপঃপ্রবৃত্ত প্রজাপতির যশঃপ্রকাশক. বীর্য্য বহির্গত হইল। প্রাণসমূহই যশঃপ্রকাশক বীর্য্য(শরীর-স্থিতির হেতুভূত); সেই প্রাণসমূহ দেহ হইতে বহির্গত হইলে পর, সেই শরীর স্ফীত(পূতিভাবপ্রাপ্ত) হইবার মত হইল, কিন্তু তাঁহার মনঃ তখনও শরীরের মধ্যেই বর্তমান রহিল ॥৮॥৬॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সোহকাময়তেতি অশ্বাশ্বমেধয়োনির্ব্বচনার্থমিদমাহ। ভূয়সা মহতা যজ্ঞেন ভূয়ঃ পুনরপি যজেয়েতি; জন্মান্তরকরণাপেক্ষয়া ভূয়ঃশব্দঃ। স প্রজাপতির্জন্মান্তরে অশ্বমেধেনাযজত; স তদ্ভাবভাবিত এব কল্পাদৌ ব্যাবর্ত্তত। সঃ অশ্বমেধক্রিয়া-কারক-ফলাত্মত্বেন নিবৃত্তঃ সন্ অকাময়ত---ভূয়সা যজ্ঞেন ভূয়ো যজেয়েতি।

এবং মহৎ কার্য্য কাময়িত্বা লোকবদশ্রম্যং; স তপোহতপ্যত। তস্য শ্রান্তস্থ্য তপ্তস্থ্যেতি পূর্ব্ববৎ; যশোবীর্য্যম্ উদক্রামদিতি স্বয়মের পদার্থমাহ প্রাণাঃ চক্ষুরাদরঃ, নৈ যশঃ-যশোহেতুত্বাৎ; তেষু হি সংসু খ্যাতির্ভবতি, তথা বীর্য্য, বলমস্মিন্ শরীরে। ন হ্যৎক্রান্তপ্রাণো যশস্বী বলবান্ বা ভবতি। তস্মাৎ প্রাণা এব যশো বীর্য্য, চাস্মিন্ শরীরে। তদেব, প্রাণলক্ষণং যশো বীর্য্যমুদ্রাক্রামং উৎক্রান্তবং। তদেব, যশোবীর্য্যভূতেষু প্রাণেষু উৎক্রান্তেষু শরীরান্নিষ্ক্রান্তেষু তৎ শরীর, প্রজাপতেঃ শয়িতুম্ উচ্ছনভাব, গন্তুম্ অধ্রিয়ত, অমেধ্য: চাভবৎ। তস্য প্রজাপতেঃ শরীরান্নির্গতস্যাপি তস্মিন্নেব শরীরে মন আসীৎ; যথা কস্যচিৎ প্রিয়ে বিষয়ে দূরং গতস্যাপি মনো ভবতি, তদ্বৎ ॥৮॥ ৬॥

টাকা। উপাস্তিবিধৌ সফলে সতি সমাপ্তিরেব ব্রাহ্মণস্যোচিতা, কিমুত্তরগ্রন্থেন? ইত্যাশঙ্ক্য প্রতীকমাদায় তাৎপর্য্যমাহ---সোহকাময়তেত্যাদিনা। তদেব অশ্বমেধস্য অশ্বমেধত্বমিত্যেতদন্তং বাক্যমিদমা নিৰ্দ্দিশ্যতে। ভূয়োদক্ষিণকত্বাদশ্বমেধস্য ভূয়স্থম্। ইতিশব্দো অকাময়তেত্যনেন সংবধ্যতে। কথং পুনস্তেন যক্ষামানস্য প্রজাপতেঃ ভূয়ঃ-শব্দোক্তিঃ। ন হি স পূর্ব্বমশ্বমেধমন্বতিষ্ঠৎ কর্মানধিকারত্বাৎ, তত্রাহ--জন্মান্তরেতি। তদেব স্পষ্টয়তি--স প্রজাপতিরিতি। অথাতীতে’ জন্মনি যজমানঃ অশ্বমেধস্য কর্ত্তাহভূৎ। অধুন্য হিরণ্যগর্ভো ভূয়ো যজেয়েত্যাহ। তথাচ

৭৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কর্তৃভেদান্তুয়ঃশব্দাসামঞ্জস্যমত আহ-স তদ্ভাবেতি। স প্রজাপতিরশ্বমেধবাসনাবিশিষ্টো জ্ঞানকৰ্ম্মফলত্বেন কল্পাদৌ নিবৃত্তো ভুয়ো যজেয়েত্যাহ, কর্তৃভোক্তোরৈক্যেন সাধকফলাবস্থয়োঃ যজমানসূত্রয়োঃ ভেদাভাবাদিত্যর্থঃ। প্রজাপতিরীশ্বরঃ, ন তস্য দুঃখাত্মকক্রত্বনুষ্ঠানেচ্ছা যুক্তেত্যাশঙ্ক্য প্রকৃতিবশাৎ তদুপপত্তিমভিপ্রেত্যাহ-সোহশ্বমেধেতি।

কথমেতাবতা বিবক্ষিতা স্তুতিঃ সিদ্ধেত্যাশঙ্ক্যাহ-এবমিতি। শ্রমকাৰ্য্যমাহ-স তপ ইতি। চক্ষুরাদীনাং যশন্তে হেতুমাহ-যশোহেতুত্বাদিতি। তদেব সাধয়তি-তেষু হাঁতি। প্রাণা এবেতি তথাশব্দার্থঃ। সৎসু হি তেষু শরীরে বলং ভবতীতি পূর্ব্ববদেব হেতুরুন্নেয়ঃ। উত্তমর্থং ব্যতিরেকদ্বারা ক্ষোরয়তি-ন হীতি। প্রজানাং যশস্থং বীযাত্বং চোপসংহৃত্য বাক্যার্থং নিগময়তি -তদেবমিতি। তৎ প্রাণেষু ইত্যাদি ব্যাচষ্টে-তদেবমিত্যাদিনা। শরীরান্নির্গতস্য প্রজাপতে- মুক্তত্বমাশঙ্ক্যাহ-তস্যেতি ॥৮॥৬॥

ভাষ্যানুবাদ।—অশ্ব ও অশ্বমেধের স্বরূপনিরূপণার্থ এই কথা বলিতেছেন যে, তিনি(প্রজাপতি) কামনা করিলেন,—পুনরপি মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করিব। এখানে এই ‘ভূয়ঃ’ শব্দে প্রজাপতির জন্মান্তর-সম্বন্ধ সূচিত হইয়াছে, অর্থাৎ পূর্ব্বজন্ম অপেক্ষা করিয়া ‘ভূয়ঃ’ শব্দের প্রয়োগ হইয়াছে। অভিপ্রায় এই যে, সেই প্রজাপতি পূর্ব্বজন্মেও(পূর্ব্বকল্পেও) অশ্বমেধ যজ্ঞ করিয়াছিলেন; তিনি সেই ভাবে ভাবিত হইয়াই—পূর্ব্ব জন্মের সেই সংস্কার লইয়াই কল্পের প্রথমে প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন। তিনি সেই অশ্বমেধ যজ্ঞের ক্রিয়া বা অনুষ্ঠান-পদ্ধতি, এবং তাহার কারক(কর্ত্তাপ্রভৃতি) ও ফলবিষয়ক সংস্কারসহকারে প্রাদুর্ভূত হইয়া কামনা করিয়াছিলেন যে, আমি পুনশ্চ বৃহৎ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করিব।

তিনি এই প্রকার মহৎ কার্য্যের কামনা করিয়া সাধারণ লোকের ন্যায় পরিশ্রান্ত হইলেন; তিনি তপস্যা করিতে লাগিলেন। সেই শ্রান্ত ও তপস্যাযুক্ত প্রজাপতির পূর্ববৎ যশঃ বীর্য্য প্রাদুর্ভূত হইল। শ্রুতি নিজেই যশঃ ও বীর্য্য কথার অর্থ বলিতেছেন, প্রাণ ও চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়সমূহ যশোলাভের হেতু বলিয়া যশঃ-পদবাচ্য; কেন না, সেই ইন্দ্রিয়গণ বিদ্যমান থাকিলেই লোকের প্রতিষ্ঠা হইয়া থাকে; সেইরূপ প্রাণই বীর্য্য, অর্থাৎ এই শরীরে ‘বলস্বরূপ; কেন না, যাহার প্রাণ বহির্গত হইয়া যায়, সে কখনও যশস্বী বা বলবান্ হইতে পারে না; অতএব প্রাণসমূহই এই শরীরে যশঃ, ও বলস্বরূপ। উক্ত প্রকার প্রাণরূপ যশো বীর্য্য এই শরীর হইতে বহির্গত হইল, তখন প্রজাপতির সেই শরীর স্ফীতভাব প্রাপ্ত হইবার উপক্রম করিল, অর্থাৎ অমেধ্য বা অপবিত্রের ন্যায় হইল। সেই প্রজাপতি শরীর হইতে বহির্গত হইলেও তাঁহার মনটী কিন্তু সেই

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

.৭৫

শরীরেই রহিল। যেমন কোন ব্যক্তি দূরগত হইলেও তাহার মনটী সেই প্রিয়- বিষয়েই নিবিষ্ট থাকে, ইহাও তদ্রূপ ॥ ৮ ॥ ৬ ॥

সোহকাময়ত মেধ্যং ম ইদং স্যাদাত্মন্যনেন স্যামিতি। ততোহশ্বঃ সমভবদ্, যদশ্বৎ, তন্মেধ্যমভূদিতি তদেবাশ্বমেধস্যাশ্ব- মেধত্বম্। এষ হ বা অশ্বমেধং বেদ য এনমেরং বেদ।

তমনবরুদ্ব্যৈবামন্যত। তং সংবৎসরস্য পরস্তাদাত্মন- আলভত। পশূন্ দেবতাভ্যঃ প্রত্যোহৎ। তস্মাৎ সর্ব্বদেবত্যং প্রোক্ষিতং প্রাজাপত্যমালভন্তে।

এষ হ বা অশ্বমেধো য এষ তপতি, তস্য সংবৎসর আত্মাহয়- মগ্নিরর্কস্তস্যেমে লোক। আত্মানঃ, তাবেতাবর্কাশ্বমেধৌ। সো পুনরেকৈব দেবতা ভবতি মৃত্যুরেবাপ পুনর্মৃত্যুং জয়তি, নৈনং মৃত্যুরাপ্নোতি মৃত্যুরস্যাত্মা ভবতি এতাসাং দেবতানামেকো ভবতি ॥ ৯ ॥ ৭ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়ঃ দ্বিতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ১ ॥ ২ ॥

সরলার্থঃ। -সঃ(প্রজাপতিঃ) অকাময়ত, মে(মম) ইদং(শরীরং) মেধ্যৎ(পবিত্রং যজ্ঞার্হ) স্যাৎ, অনেন(শরীরেণ) আত্মন্বী(শরীরবান্ চ) স্যাম্(ভবেয়ম্), ইতি | কৃত্বা তত্র প্রবিবেশ]। যৎ(যস্মাৎ তদ্বিয়োগাৎ)[শরীর- মিদং] অশ্বৎ(অশ্বয়ং-স্ফাতমভবৎ), ততঃ(তস্মাৎ হেতোঃ) অশ্বঃ(অশ্ব- সংজ্ঞকঃ) সমভবৎ,[যস্মাচ্চ তৎপ্রবেশাৎ] তৎ(তদেব শরীরং পুনঃ) মেধ্যম্ অভূৎ ইতি, তদ্‌এব(তস্মাদেব) অশ্বমেধস্থ্য(অশ্বমেধনায়ো যজ্ঞস্য) অশ্বমেধত্বম্ (অশ্বমেধনামলাভে হেতুঃ)। এবঃ(স এব জনঃ) হ বৈ(অবধারণে) অশ্ব- মেধং(অশ্বমেধনামরহস্য) বেদ(জানাতি),[কঃ?---] যঃ(জনঃ) এবম্ (যথোক্তপ্রকারেণ) এনং(অশ্বমেধং) বেদ(জানাতি)।[প্রজাপতিরেব সাক্ষাদশ্বমেধস্য ক্রতোরশ্বঃ অভবদিতি অশ্বঃ স্থূরতে ইতি ভাবঃ।]

[ প্রজাপতিঃ আত্মানমেব পশুরূপেণ কল্পয়িত্বা] তম্(পশুম্) অনবরুধ্য (অবরোধম্ বন্ধনম্ অকৃত্বা) এব অমন্যত(অচিন্তয়ৎ)। সংবৎসরস্য পরস্তাৎ(সংবৎসরান্তে) তম্[পশুম্] আত্মনে(আত্মতৃপ্ত্যর্থং) আলভত’(হিংসিত-

৭৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বান্); পশূন্[অন্যান্] দেবতাভ্যঃ প্রত্যৌহং(তত্তদ্দেবতাভ্যঃ প্রেরিতবান্)। [অশ্বমেধীয়োহশ্বঃ প্রজাপতিদৈবতঃ, ইতরে তু পশবঃ অন্যান্যদৈবতকাঃ চিন্তনীয়া ইতি ভাবঃ]। তস্মাৎ[হেতোঃ, সর্ব্বদেবত্যং(সর্ব্বদৈবতং) প্রোক্ষিতং (মন্ত্রপূতং)[পশুং] প্রাজাপত্যং(প্রজাপতিদেবতাকং) আলভন্তে(উৎ- সৃজন্তি)[যাজ্ঞিকাঃ]।

[কোহসৌ অশ্বমেধঃ? ইত্যাহ—] এবঃ হ বৈ অশ্বমেধঃ, যঃ এযঃ (আদিত্যঃ) তপতি(জগৎ প্রকাশয়তি)। সংবৎসরঃ(লোকপ্রসিদ্ধঃ বৎসরঃ) তস্য (অশ্বমেধরূপিণঃ) আত্মা(শরীরং, তন্নির্ব্বর্ত্যত্বাৎ)। অয়ম্(পার্থিবঃ) অগ্নিঃ (তৎসাধনভূতঃ) অর্কঃ; ইমে লোকাঃ(স্বর্গাদয়ঃ) তস্য আত্মানঃ(শরীরা- বয়বাঃ)। তৌ এতৌ(যথোক্তো) অর্কাশ্বমেধে।(অর্কঃ সাধনভূতঃ, অশ্ব- মেধশ্চ সাধ্যরূপঃ); সা উ পুনঃ(বাক্যালঙ্কারে) একা এব দেবতা ভবতি; [কা সা দেবতা? ইত্যাহ--] মৃত্যুঃ(মৃত্যুসাজ্ঞকঃ প্রজাপতিঃ) এব(অব- ধারণে)।[ইদানীং বিদ্যাফলমুচ্যতে—][এবংবিদ জনঃ] পুনঃ মৃত্যুম্ অপ- জয়তি(সকৃৎ মৃত্বা পুনর্মরণায় ন যজাতে ইত্যর্থঃ)। মৃত্যুঃ এনং(বিদ্বাৎসং) ন আপ্নোতি(ন প্রাপ্নোতি; মৃত্যুঃ অন্য। বিদুষঃ) আত্মা ভবতি।[কিঞ্চ, মৃত্যুঃ এব] এতাসাং দেবতানাং একঃ ভবতি[নাস্য কদাচিদপি মৃত্যুভয়মস্তীতিভাবঃ। বিদ্যাফললেতৎ॥]

মূলানুবাদ?—সেই প্রজাপতি তখন কামনা করিলেন—আমার এই শরীর মেধ্য(পবিত্র) হউক; আমি এই শরীর দ্বারা শরীরবান্ হইব।[এইরূপ চিন্তা করিয়া তন্মধ্যে প্রবেশ করিলেন]। যেহেতু, [এই শরীর প্রাণাভাবে] ‘অশ্বৎ’=স্ফীত হইয়াছিল,[এবং প্রজাপতির প্রবেশে] আবার মেধ্য(পবিত্র) হইল, সেই হেতুই[উহা ‘অশ্ব’ ও ‘মেধ’ শব্দযোগে অশ্বমেধ নামে অভিহিত হইল; ইহাই] অশ্বমেধের অশ্বমেধত্ব। যিনি অশ্বমেধকে যথোক্তপ্রকারে জানেন, তিনিই প্রকৃতপক্ষে অশ্বমেধ-রহস্য জানেন,(অপরে জানে না)।

প্রজাপতি সেই অশ্বকে আবদ্ধ না করিয়াই চিন্তা করিয়াছিলেন। তিনি সংবৎসরান্তে সেই অশ্বকে আপনার উদ্দেশে(প্রজাপতির উদ্দেশে) হিংসা করিয়াছিলেন, এবং অপরাপর পশুকে অপরাপর দেবতার উদ্দেশে উৎসর্গ করিয়াছিলেন; এই জন্যই যাজ্ঞিকগণ সর্ব-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৭৭

দৈবতক প্রোক্ষিত( মন্ত্রপূত) পশুকে প্রাজাপত্যরূপে উৎসর্গ করিয়া থাকেন।

এখন এই অশ্বমেধের দৈবত রূপ কথিত হইতেছে—যিনি এই আদিত্যরূপে তাপ দিতেছেন, তিনিই সেই অশ্বমেধ। সংবৎসরকাল তাহার আত্মা বা শরীরাবয়ব; আর এই পৃথিবীগত অগ্নি হইতেছে অর্ক; স্বর্গাদি লোকত্রয় হইতেছে তাহার আত্মা বা অবয়ব। সেই এই, অর্ক ও অশ্বমেধ নামতঃ ভিন্ন হইলেও বস্তুতঃ তাহারা একই দেবতা— মৃত্যুস্বরূপ। অশ্বমেধ-রহস্যবিৎ ব্যক্তি পুনর্মৃত্যুকে জয় করেন, মৃত্যু ইহাকে প্রাপ্ত হয় না; মৃত্যু ইহার আত্মস্বরূপ হইয়া থাকে, এবং এই সমস্ত দেবতার একজন হন;[ ইহাই অশ্বমেধবিজ্ঞানের ফল] ॥ ৯ ॥ ৭ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে দ্বিতীয় ব্রাহ্মণের ব্যাখ্যা ॥ ১ ॥ ২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—স তস্মিন্নেব শরীরে গতমনাঃ সন্ কিম্ অকরোদিতি, উচ্যতে--সোহকাময়ত। কথন্? মেধ্যং মেধাইং যজ্ঞিয়া, মে মম ইদং শরীরং স্যাৎ। কিঞ্চ, আত্মন্বী আত্মবাংশ অনেন শরীরেণ শরীরবান্ স্যামিতি--প্রবিবেশ। যস্মাৎ তচ্ছরারং মদ্বিয়োগাৎ গতযশোবীর্য্যং সং ‘অশ্বৎ অশ্বরং, ততঃ তস্মাদশ্বঃ সম- ভবৎ; ততোহশ্বনামা প্রজাপতিরেব সাক্ষাদিতি স্থূয়তে। যস্মাচ্চ পুনস্তৎপ্রবে- শাং গতযশোবার্য্যত্বাদমেধ্য, সং মেধ্যমভূৎ, তদেব তম্মাদের অশ্বমেধস্য অশ্বমেধ- নারঃ ক্রতোঃ অশ্বমেধত্বম্ অশ্বমেধনামলাভঃ। ক্রিয়াকারকফলাত্মকো হি ক্রতুঃ; স চ প্রজাপতিরেবেতি স্থূয়তে।

ক্রতুনিবর্ত্তকস্যাশ্বস্য প্রজাপতিহমুক্তম্ -“উবা বা অশ্বস্য মেধ্যস্য” ইত্যা- দিনা। তস্যৈবাশ্বস্য মেধ্যস্য প্রজাপতিস্বরূপস্য অগ্নেশ্চ যথোক্তস্য ক্রতুফলাত্ম- রূপতরা সমস্যোপাসনং বিধাতব্যমিত্যারভ্যতে। পূর্ব্বত্র ক্রিয়াপদস্য বিধায়কস্যা- শ্রুতত্বাৎ, ক্রিয়াপদাপেক্ষত্বাচ্চ প্রকরণস্য অয়মর্থোহবগম্যতে।

এধ হ বৈ অশ্বমেধং ক্রতুং বেদ—যঃ কশ্চিৎ, এনমশ্বম্ অগ্নিরূপমর্কং চ যথোক্তম্ এবং বক্ষ্যমাণেন সমাসেন প্রদর্শ্যমানেন বিশেষণেন বিশিষ্টং বেদ, স এষো- হশ্বমেধং বেদ, নান্যঃ; তস্মাদেবং বেদিতব্য ইত্যর্থঃ। কথম্? তত্র পশুবিষয়- মেব তাবদ্দর্শনমাহ,—তত্র প্রজাপতিঃ “ভূয়সা যজ্ঞেন ভূয়ো যজেয়” ইতি কাময়িত্বা আত্মানমেব পশুং মেধ্যং কল্পয়িত্বা, তং পশুম্ অনবরুদ্ধ্যৈব উৎসৃষ্টং পশুমব-. রোধমকৃত্বৈব মুক্তপ্রগ্রহম্, অমন্যত অচিন্তয়ৎ। তং সংবৎসরস্য পূর্ণস্য পরস্তাৎ

৭৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উর্দ্ধম্ আত্মনে আত্মার্থম্ আলভত-প্রজাপতিদেবতাকত্বেন ইত্যেতৎ, আলভত আলন্তং কৃতবান্, পশূন্ অন্যান্ গ্রাম্যানারণ্যাংশ্চ দেবতাভ্যঃ যথাদৈবতং প্রত্যোহৎ প্রতিগমিতবান্। যস্মাচ্চৈবং প্রজাপতিরমন্যত, তম্মাদেবম্ অন্যোহপ্যুক্তেন বিধিনা আত্মানং পশুমশ্বং মেধ্যং কল্পয়িত্বা, ‘সর্ব্বদেবত্যোহং প্রোক্ষ্যমাণঃ; আলভ্য- মানস্তহং মদ্দেবতা এব স্যাম্; অন্য ইতরে পশবো গ্রাম্যারণ্যা যথাদৈবতম্ অন্যাভ্যো দেবতাভ্য আলভ্যন্তে মদবয়ভূতাভ্য এব ইতি বিদ্যাৎ। অতএবেদানীং সর্ব্বদেবত্যং প্রোক্ষিতং প্রাজাপত্যমালভন্তে যাজ্ঞিকা।

এবমেয হ বা অশ্বমেধো য এষ তপতি, যত্ত্বেবং পশুসাধনকঃ ক্রতুঃ, স এষ সাক্ষাৎ ফলভূতো নিৰ্দ্দিশ্যতে—‘এষ হ বা অশ্বমেধঃ।’ কোহসৌ? য এষ সবিতা তপতি জগদবভাসয়তি তেজসা; তস্যাস্য ক্রতুফলাত্মনঃ সংবৎসরঃ কালবিশেষ আত্মা শরীরম্, তন্নির্ব্বর্ত্ত্যত্বাৎ সংবৎসরস্য। তস্যৈব ক্রত্বাত্মনঃ অগ্নিসাধ্যত্বাৎ চ ফলস্য ক্রতুত্বরূপেণ এব নির্দেশঃ। অরং পার্থিবোহগ্নিঃ অর্কঃ সাধনভূতঃ; তস্য চার্কস্য ক্রতো চিত্যস্য ইমে লোকাস্ত্রয়োহপি আত্মানঃ শরীরাবয়বাঃ। তথাচ ব্যাখ্যাত,—“তস্য প্রাচী দিক্” ইত্যাদিনা। তৌ অগ্ন্যা- দিত্যাবেতৌ যথাবিশেষিতে। অর্কাশ্বমেধৌ ক্রতু-ফলে। অর্কো যঃ পার্থিবোহগ্নিঃ, স সাক্ষাৎ ক্রতুরূপঃ ক্রিয়াাত্মকঃ; ক্রতোরগ্নিসাধ্যত্বাৎ তদ্রূপেণৈব নির্দ্দেশঃ। ক্রতুসাধ্যত্বাচ্চ ফলস্য ক্রতুরূপেণৈব নির্দ্দেশঃ—‘আদিত্যোহশ্বমেধঃ’ ইতি।

তৌ সাধ্য-সাধনৌ ক্রতু-ফলভূতাবগ্ন্যাদিত্যো—সা উ, পুনঃভূয়ঃ, একৈব দেবতা ভবতি। কা সা? মৃত্যুরেব; পূর্ব্বমপি একৈবাসীৎ, ক্রিয়া-সাধন-ফল- ভেদার বিভক্তা। তথাচোক্তম্—“স ত্রেধাত্মানং ব্যকুরুত” ইতি। সা পুনরপি ক্রিয়ানির্ব্বৃত্যুত্তরকালম্ একৈব দেবতা ভবতি—মৃত্যুরেব ফলরূপঃ। যঃ পুনরেবম্ এনশ্বমেধ, মৃত্যুমেকাং দেবতাং বেদ—অহমের মৃত্যুরস্মি অশ্বমেধ- একা দেবতা মদ্রূপাশ্বাগ্নি-সাধনসাধ্যা—ইতি; সোহপজয়তি, পুনঃ মৃত্যুং পুন- র্ম্মরণম্, সকৃৎ মৃত্বা পুনর্ম্মরণায় ন জায়ত ইত্যর্থঃ। অপজিতোহপি মৃত্যুরেনং পুনরাপ্পুয়াৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ—নৈনং মৃত্যুরাপ্নোতি। কস্মাৎ? মৃত্যুঃ অস্যৈবংবিদঃ আত্মা ভবতি। কিঞ্চ, মৃত্যুরেব ফলরূপঃ সন্ এতাসাং দেবতানামেকো ভবতি; তস্যৈতৎ ফলম্ ॥ ৯ ॥ ৭ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়স্য দ্বিতীয়-ব্রাহ্মণভাষ্যম্ ॥ ১ ॥ ২ ॥

টাকা। সম্যগ্বজানাভাবাদাসঙ্গে সত্যপি ন পুনস্তস্মিন্ প্রবেশো যুক্তঃ, পরিত্যক্তপরিগ্রহা- যোগাৎ, ইতি শঙ্কতে—স তস্মিন্নিতি। অজ্ঞানবশাৎ পরিত্যক্তপরিগ্রহোহপি সম্ভবতীত্যাহ—

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৭৯

উচ্যত ইতি। বীতদেহস্য কামনা অযুক্তেতি শঙ্কতে-কথমিতি। সামর্থ্যাতিশয়াৎ অশরীরস্যাপি প্রজাপতেস্তদুপপত্তিরিতি মম্বানো ক্রতে-মেধ্যমিতি। কামনাফলমাহ-ইতি প্রবিবেশেতি। তথাপি কথং প্রকৃতনিরুক্তিসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যম্মাদিতি। যচ্ছব্দো যম্মাদিতি ব্যাখ্যাতঃ। দেহস্যাশ্বত্বেংপি কথং প্রজাপতেস্তথাত্বম্, ইত্যাশঙ্ক্য তত্তাদাত্ম্যাদিত্যাহ-তত ইতি। অশ্বস্থ্য প্রজাপতিত্বেন স্তুতত্বাৎ তস্যোপাস্যত্বং ফলতীতি ভাবঃ। তথাপি কথমশ্বমেধনামনির্বচনমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-যস্মাচ্চেতি। ক্রতোস্তদাত্মকস্য প্রজাপতেরিতি যাবৎ। দেহো হি প্রাণবিয়োগাদশ্বয়ৎ, পুনস্তৎপ্রবেশাচ্চ মেধার্হোহভূৎ, অতঃ সোহশ্বমেধঃ, তত্তাদাত্ম্যাৎ প্রজাপতিরপি তথেত্যর্থঃ। ননু প্রজাপতিত্বেনাশ্বমেধস্য স্তুতির্নোপযোগিনী, অগ্নেরুপাস্যত্বেন প্রস্তুতত্বাৎ ক্রতুপাসনাভাবাৎ; অত আহ-ক্রিয়েতি।

ননু ক্রত্বঙ্গস্য অশ্বস্য অশ্বমেধক্রত্বাত্মনশ্চ অগ্নেরুক্তরীত্যা স্তুতত্বাৎ তদুপান্তেশ্চ প্রাগেবোক্তত্বা- দেষ হ বা ‘অশ্বমেধম্’ ইত্যাদিবাক্যং নোপযুজ্যতে, তত্রাহ-ক্রতুনিব্বর্তকস্যেতি। উক্তং চ চিত্যস্যাগ্নেস্তস্য প্রাচী দিগিত্যাদিনা, প্রজাপতিত্বমিতি শেষঃ। অশ্বোপাসনমগ্নুপাসনং চৈকমে- বেতি বক্তমুত্তরং বাক্যমিত্যাহ-তস্যৈবেতি। য এবমেতৎ অদিতেরদিতিত্বং বেদেত্যাদৌ প্রাগের বিহিতমুপাসনং, কিং পুনরারম্ভেণেত্যাশঙ্ক্যাহ-পূর্বত্রেতি। যদ্যপি বিধিরদিতিত্বং বেদেতি শ্রুতঃ, তথাপি সগুণোপাস্তিবিধির্ন প্রধানবিধিঃ; অত্র তু প্রধানবিধিরুপাস্তিপ্রকরণত্বাদ পেক্ষ্যতে; অতোহশ্বমেধং বেদেতি প্রধানবিধিরিতি ভাবঃ। তাৎপর্য্যমুক্ত। বাক্যমাদায় অক্ষরাণি ব্যাকরোতি-এষ ইতি। যথোক্তমিত্যুত্তরত্র প্রজাপতিত্বমনুকুষ্যতে। তমনবরুধ্যেত্যাদি প্রদর্শমানবিশেষণম্। বিধিরত্র স্পষ্টো ন ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ-তস্মাদিতি। অশ্বমেধো বিশেষ্যত্বেন সংবধাতে।

এবং-শব্দাৎ প্রসিদ্ধার্থত্বং ভাতি, কুতো বিধিরিত্যাহ-কপমিতি। “এষ হ বা অশ্বমেধং বেদ” ইত্যাদৌ বিবক্ষিতস্য বিধেভূমিকাং করোতি-তত্রেত্যাদিনা। উপাস্তিবিধিপ্রস্তাবঃ সপ্তম্যর্থঃ। কথং নু পশুবিষয়ং দর্শনং, তদ্দর্শয়তি-তত্রেতি। এবমনন্তরবাক্যে প্রবৃত্তে সতীতি যাবৎ। অথ বিবক্ষিতবিধিমভিদধাতি-যস্মাচ্চেতি। প্রজাপতিরিখং ফলাবস্থায়াম্ অমন্যতেত্যত্র কিং প্রমাণম্? ইত্যাশঙ্ক্য সম্প্রতি তৎকার্য্যভূতাসু প্রজাসু তথাবিধচেষ্টাদৃষ্টিরিত্যাহ-অত এবেতি। প্রোক্ষিতং মন্ত্রসংস্কৃতং পশুমিতি যাবৎ।

ফলাবস্থ-প্রজাপতিবদিতি এবং-শব্দার্থঃ। উপাসনবিধিরুক্তঃ, সম্প্রতি প্রতীকমাদায় তাৎ- পর্য্যমাহ-এষ ইতি। দ্বিবিধো হি ক্রতুঃ-কল্পিতপশুহেতুকো বাহ্যতদ্ধেতুকশ্চ; স চ দ্বিপ্রকারোহপি ফলরূপেণ স্থিতঃ সবিতৈব, ইত্যুপাস্তিফলং বক্তুমেতদ্বাকামিত্যর্থঃ। বিশেষোক্তিং বিনা নাস্তি বুভুৎসোপশান্তিরিত্যাহ-কোৎসাবিতি। ক্রতুফলাত্মকঃ সবিতা মণ্ডলং দেবতা ব! ইতি সন্দেহে দ্বিতীয়ং গৃহীত্বা তস্যেত্যাদি ব্যাচষ্টে-তস্যাস্যেতি। আদিত্যোদয়ানুদয়াভ্যাম্ অহোরাত্রদ্বারা সংবৎসরব্যবস্থানাৎ, তন্নিৰ্মাতুস্তস্য যুক্তং তত্তাদাত্মমিত্যর্থঃ। ক্রতোরাদিত্য- ত্বমুক্ত। তদঙ্গস্যাগ্নেস্তদ্বক্তুম্ অয়মগ্নিরর্ক ইতি বাক্যম্, তস্যার্থমাহ-তস্যৈবেতি। ননু পূর্ব্বোক্তস্যৈবাগ্নেরাদিত্যত্বং কুতো নিয়ম্যতে? অন্যশ্চিত্যোহগ্নিঃ অন্যশ্চাগ্নিরাদিত্যঃ কিং ন স্যাৎ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ-তস্য চেতি। তথাপি কথং তস্যৈবাদিত্যত্বং, তত্রাহ-তথা চেতি।

৮০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তস্য প্রাচীত্যাদিনা লোকাত্মকত্বং চিত্যাগ্নেরুক্তং, তদিহাপ্যুচ্যতে, তস্মাৎ তস্যৈবাত্রাদিত্যত্বম্ ইষ্টমিত্যর্থঃ। অগ্ন্যাদিতাভেদস্য লোকবেদসিদ্ধত্বাৎ ন তয়োরেকেন ক্রতুনা তাদাত্ম্যমিত্যা- শঙ্ক্যাহ—তাবিতি। যথাবিশেষিতত্বমাদিতারূপত্বম্। কৃতস্তস্য চার্কস্য ক্রতুরূপত্বং, সাধনত্বেন ভেদাদিত্যাশঙ্ক্য উপচারাদিত্যাহ—ক্রিয়াত্মক ইতি। তথাপি কথমাদিত্যস্য ক্রুতাতাদাত্ম্যোক্তি- রিত্যাশঙ্ক্যাহ—ক্রতুসাধ্যত্বাদিতি।

নম্বাদিত্যস্য ক্রতুফলত্বেন ক্রতুত্বে তদ্ধেতোরগ্নেস্তাদাত্ম্যাযোগাৎ অযুক্তমগ্নেরাদিত্যত্বম্, ইত্যা- শঙ্ক্যাহ—তাবিতি। ক্রতুফলত্বাৎ তদাত্মা সবিতা, তদ্ধেতুশ্চিত্যোঽগ্নিঃ, তৌ উক্তবিভাগাদ ব্যুৎপাদিতোপাসনাদিব্যাপারো সন্তৌ একৈব প্রাণাখ্যা দেবতেতি তয়োরৈক্যক্তিরিত্যর্থঃ। একৈবেত্যুক্তে প্রকৃতয়োরগ্ন্যাদিত্যয়োঃ অন্যতরপরিশেষং শঙ্কতে—কা সেতি। কথং দ্বয়োরে- কত্বম্? একত্বে বা কথং দ্বিত্বম্? তত্রাহ—পূর্ব্বমপীতি। উক্তেহর্থে বাক্যোপক্রমমনুকুলয়তি— তথা চেতি। পুনরিত্যাদেরর্থং নিগময়তি—সা পুনরিতি। ননু ফলকথনার্থমুপক্রম্য প্রাণাত্মনা অগ্ন্যাদিত্যায়োরেকত্বং বদতা প্রক্রান্তং বিস্মৃতমিতি, নেত্যাহ—যঃ পুনরিতি। একত্ব- মভিন্নত্বম্ ॥ ৯ ॥ ৭ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়ঃ দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ॥ ১ ॥ ২ ॥

ভাষ্যানুবাদ। প্রজাপতি সেই শরীরেই নিবিষ্টচিত্ত হইয়া কি করিয়াছিলেন, তাহা বলা হইতেছে—তিনি কামনা করিয়াছিলেন। কি প্রকার? না, আমার এই শরীরটি মেধ্য--মেধার যোগ্য, অর্থাৎ যজ্ঞোপযোগী হউক; অপিচ, আমি এই শরীর দ্বারা আত্মবী আত্মবান্ অর্থাৎ সশরীর হইব; এইরূপ চিন্তা করিয়া তিনি তন্মধ্যে প্রবেশ করিলেন। যেহেতু তাঁহার বিয়োগে যশোবীর্য্যবিহীন হইয়া সেই শরীরটি স্ফীত হইয়াছিল (“অশ্বং‘-পূতিভাবাপনের মত হইয়াছিল), সেই হেতু ঐ শরীর ‘অশ্ব’(অশ্ব নামে অভিহিত) হইল; সেই কারণে স্বয়ং প্রজাপতিও অশ্ব-নামে অভিহিত হইলেন; ইহা দ্বারা অশ্বেরও প্রশংসা করা হইল। পুনশ্চ প্রশংসার কথা এই যে, যেহেতু যশোবীর্য্যের অভাবে যে শরীর অমেধ্য বা অপবিত্র ছিল, সেই শরীরই আবার প্রজাপতির প্রবেশের ফলে মেধ্য(পবিত্র) হইল, সেই হেতুই অশ্বমেধের অর্থাৎ অশ্বমেধনামক যজ্ঞের অশ্বমেধত্ব—অশ্বমেধ-সংজ্ঞা লাভ হইয়াছে। ক্রিয়া, ক্রিয়াসাধন ও ফল, সমস্তই ক্রতুর স্বরূপ; সেই ক্রতু আবার প্রজাপতিস্বরূপ, এই বলিয়া যজ্ঞের প্রশংসা করা হইতেছে।

“উষা বা অশ্বস্য মেধ্যস্য” এই স্থলে যজ্ঞনির্ব্বাহক অশ্বকে প্রজাপতিরূপ বলা হইয়াছে। সেই মেধ্য অশ্বে এবং প্রজাপতিস্বরূপ যথোক্ত অগ্নিতে যজ্ঞ-ফল- রূপে উপাসনা-বিধানের নিমিত্ত এই প্রকরণ আরব্ধ হইতেছে। কেন না,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—দ্বিতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৮১

অতীত শ্রুতিতে উপাসনা-বিধায়ক কোন ক্রিয়ার উল্লেখ নাই, অথচ এই প্রকরণটা ক্রিয়াপদ-সাপেক্ষ; কাজেই এখানে ঐরূপই বাক্য-তাৎপর্য্য গ্রহণ করা হইতেছে।

তিনিই যথার্থ অশ্বমেধ যজ্ঞ জানেন, যিনি যথোক্তপ্রকারে এই তত্ত্ব অবগত আছেন। একথার অর্থ এই যে, যে কোন লোক এই অশ্বমেধকে এবং অগ্নিরূপী অর্ককে এইপ্রকারে অর্থাৎ পরে সংক্ষিপ্তরূপে যে সকল বিশেষণ ‘প্রদর্শন করা হইবে, সেই সকল বিশেষণ-বিশিষ্টরূপে অবগত হন, সেই বিদ্বান্ পুরুষই প্রকৃতপক্ষে অশ্বমেধ যজ্ঞের রহস্য জানেন, অপরে জানে না; অতএব যথোক্তপ্রকারে অশ্বমেধরহস্য জানা আবশ্যক। কি প্রকারে জানিতে হইবে? এই আকাঙ্ক্ষায় প্রথমতঃ অশ্ববিষয়ক উপাসনাই বলিতেছেন,- প্রজাপতি প্রথমতঃ ‘আমি প্রভৃত পরিমাণে যজ্ঞ করিব’ এইরূপ কামনা করিয়া, আপনাকেই যজ্ঞীয় পবিত্র পশুরূপে কল্পনা করিয়া, সেই পশুকে অবরুদ্ধ না করিয়াই—উৎসর্গীকৃত সেই পশুকে না বাঁধিয়াই; অর্থাৎ প্রগ্রহশূন্য(লাগামরহিত) রাখিয়াই চিন্তা করিয়াছিলেন। সম্পূর্ণ এক বৎসরের পর সেই পশুকে আপনার উদ্দেশে, অর্থাৎ প্রজাপতি-দৈবতক- রূপে আলম্ভন(বধ) করিয়াছিলেন। গ্রাম্য ও অরণ্যজাত অন্যান্য পশুকে নিদ্দিষ্ট দেবতাগণের উদ্দেশে প্রেরণ করিয়াছিলেন। যেহেতু স্বয়ং প্রজাপতি ঐরূপ চিন্তা করিয়াছিলেন, সেই হেতুই অন্য লোকও এইপ্রকার যথোক্ত প্রণালীতে আপনাকে মেধ্য অশ্ব-পশুরূপে কল্পনা করিয়া, আমি প্রোক্ষ্যমাণ (সংস্কারসম্পন্ন) সর্ব্বদৈবতক; আমি আমাকে আলম্ভন করিলে আত্ম- দৈবতকই হইব, এবং গ্রাম্য ও আরণ্য অপরাপর পশুগণকে আমারই অবয়ব- স্বরূপ অন্যান্য নিদ্দিষ্ট দেবতার উদ্দেশে আলম্ভন করিব’ এইরূপ চিন্তা করিবে। এইজন্যই যাজ্ঞিকগণ এখনও প্রোক্ষিত(উৎসর্গকৃত) পশুকে প্রজাপতির উদ্দেশে আলম্ভন করিয়া থাকেন।

এই যিনি তাপ দিতেছেন, ইনিই সেই অশ্বমেধ; অশ্ব পশু দ্বারা যে যজ্ঞ সম্পাদন করিতে হয়, “এষ হ বা অশ্বমেধঃ” কথায় সেই যজ্ঞই সাক্ষাৎ ফলস্বরূপে নিদ্দিষ্ট হইতেছে। ইনি কে? না, এই যে সূর্য্যদেব স্বীয় তেজঃপ্রভাবে জগৎ উদ্ভাসিত করিতেছেন। সংবৎসাত্মক কালই যজ্ঞফলরূপী সেই সূর্য্যের আত্মা—শরীর; কেন না, সূর্য্য দ্বারাই সংবৎসর সম্পাদিত হইয়া থাকে। এই পৃথিবীগত সেই যজ্ঞসাধন অগ্নিই অর্ক অর্থাৎ অর্করূপে উপাস্য, আর স্বর্গাদি লোকত্রয়ই যজ্ঞে আহরণীয় সেই অর্কনামক অগ্নির আত্মা—শরীরাবয়ব, ‘পূর্ব্বদিক্

১১

৮২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাহার শিরঃ’ ইত্যাদি বাক্যেও একথাই বর্ণিত হইয়াছে। সেই অগ্নি ও আদিত্য, এই উভয়ই পূর্ব্বোক্ত বিশেষণে বিশেষিত যজ্ঞ ও তৎফলস্বরূপ অর্ক ও অশ্বমেধ। অর্কনামক যে পার্থিব অগ্নি, তাহাই সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ক্রিয়াত্মক যজ্ঞস্বরূপ। যজ্ঞ সাধারণতঃ অগ্নিসাধ্য, এই কারণে এখানে যজ্ঞরূপেই তাহার নির্দেশ করা হইয়াছে; এবং ফলও যজ্ঞসাধ্য; এই কারণে যজ্ঞফল আদিত্যকেও এখানে অশ্বমেধরূপে নির্দেশ করা হইয়াছে(১)।

সাধ্য ও সাধন স্বরূপ এবং ক্রিয়া ও তৎফলাত্মক সেই অগ্নি ও আদিত্য, উভয়ে আবার একই দেবতা। সেই দেবতাটী কে? মৃত্যুই সেই দেবতা। পূর্ব্বেও ইঁহারা একই ছিলেন, কেবল ক্রিয়া, ক্রিয়াসাধন ও তাহার ফলভেদ সম্পাদনের নিমিত্ত বিভক্ত বা পৃথক্ হইয়াছেন মাত্র; ‘তিনি আপনাকে তিন প্রকারে বিভক্ত করিলেন’ এই শ্রুতিও ঠিক এইরূপই বলিয়াছেন। তিনি ক্রিয়া সম্পাদনের পর পুনরপি সেই একই দেবতা হন-ক্রিয়াফলাত্মক মৃত্যুই (প্রজাপতিস্বরূপই) হন। যে ব্যক্তি এই অশ্বমেধকে মৃত্যুরূপী একই দেবতা বলিয়া জানেন-আমিই মদাত্মক অশ্ব ও অগ্নিরূপ সাধন এবং সাধ্য ও অশ্বমেধস্বরূপ এক দেবতা, এইরূপ অবগত হন; তিনি পুনমৃত্যু অর্থাৎ পুনর্ব্বার মরণকে জয় করেন। অভিপ্রায় এই যে, তিনি একবার মৃত্যুর পর আর মৃত্যুভোগের জন্য জন্ম পরিগ্রহ করেন না। মৃত্যু একবার বিজিত হইলেও পুনর্ব্বার তাহাকে প্রাপ্ত হইতে পারে, এই আশঙ্কায় বলিতেছেন যে, মৃত্যু ইহাকে আর অধিকার করিতে পারে না। কারণ? মৃত্যুই এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন পুরুষের আত্মস্বরূপ হইয়া থাকে;[সুতরাং তাহার আর মৃত্যু সম্ভাবনা থাকে না]। অপিচ, মৃত্যুই যজ্ঞফলস্বরূপে উক্ত দেবতাগণের মধ্যে অন্যতম দেবতা হইয়া থাকেন। ইহাই অশ্বমেধযজ্ঞ-বিদ্যাসম্পন্ন পুরুষের প্রাপ্তব্য ফল ॥ ৯ ॥ ৭ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়ে দ্বিতীয় ব্রাহ্মণের ভাষ্যঅনুবাদ ॥ ১ ॥ ২ ॥

(১) তাৎপর্য্য—অগ্নি দ্বারা অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদিত হয়, এইজন্য অগ্নিকে ‘অশ্বমেধ’ বলা হইয়াছে, আর আদিত্যই অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল, অর্থাৎ পূর্ব্বকল্পে অশ্বমেধ যজ্ঞ করিয়া বর্তমানকল্পে আদিত্যপদ লাভ করিয়াছে; এই কারণে অশ্বমেধের ফলস্বরূপ আদিত্যকেও এখানে ‘অশ্বমেধ’ নামে অভিহিত করা হইয়াছে। প্রথমস্থলে ক্রিয়াসাধনে ক্রিয়াপদের আরোপ, আর দ্বিতীয়স্থলে ক্রিয়াফলে ক্রিয়ার আরোপ করা হইয়াছে, এবং পরিশেষে তদু- ভয়কেই আবার প্রাণরূপে এক অভিন্ন দেবতারূপে নির্দেশ করা হইয়াছে।

তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

[ উদ্দীপ্ত-ব্রাহ্মণম্।]

আভাষ-ভাষ্যম্।—“দ্বয়া হ” ইত্যাদ্যস্য কঃ সম্বন্ধঃ? কর্মণাং জ্ঞান- সহিতানাং পরা গতিরুক্তা মৃত্য্যাত্মভাবঃ—অশ্বমেধ-গত্যুক্ত্যা। অথেদানীং. মৃত্য্যাত্মভাব-সাধনভূতয়োঃ কৰ্ম্ম-জ্ঞানয়োর্যত উদ্ভবঃ, তৎপ্রকাশনার্থমুদগীথ- ব্রাহ্মণমারভ্যতে।

ননু মৃত্ব্যাত্মভাবঃ পূর্বত্র জ্ঞান-কর্মণোঃ ফলমুক্তম। উদগীথজ্ঞান-কৰ্ম্মণোস্ত মৃত্য্যাত্মভাবাতিক্রমণং ফলং বক্ষ্যতি। অতো ভিন্নবিষয়ত্বাৎ ফলস্য ন পূর্ব্বকৰ্ম্ম- জ্ঞানোদ্ভব-প্রকাশনার্থম্, ইতি চেৎ; নায়ং দোষঃ; অগ্ন্যাদিত্যাত্মভাবত্বাদুগীথ- ফলস্য পূর্বত্রাপ্যেতদেব ফলমুক্তম্—“এতাসাং দেবতানামেকো ভবতি” ইতি। ননু ‘মৃত্যুমতিক্রান্তঃ’ ইত্যাদি বিরুদ্ধম্; ন; স্বাভাবিক-পাপ্মাসঙ্গবিষয়ত্বাদতি- ক্রমণস্থ্য।

কোহসৌ স্বাভাবিকঃ পাপ্মাসঙ্গো মৃত্যুঃ? কুতো বা তস্যোদ্ভবঃ? কেন বা তস্যাতিক্রমণম্, কথং বা?—ইত্যেতস্যার্থস্য প্রকাশনায় আখ্যায়িকা- রভাতে। কথম্?—

টাকা। ব্রাহ্মণান্তরমবতার্য্য তস্য পূর্ব্বেণ সম্বন্ধাপ্রতীতেন সোংস্তীত্যাক্ষিপতি-দ্বয়: হেত্যাদ্যন্যেতি। বিবক্ষিতং সম্বন্ধং বক্তুং বৃত্ত’ কর্ত্তয়তি-কৰ্ম্মণামিতি। “সা কাষ্ঠা সা পরা গতিঃ” ইতি শ্রুতেরুক্তা পরা গতিমুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-মৃত্যাত্মভাব ইতি। অশ্বমেধোপাসনস্থ্য সাগ্মমেধন্য কেবলস্য বা ফলমুক্তং, নোপাস্ত্যন্তরাণাং কৰ্ম্মান্তরাণাং চ, ইত্যাশঙ্কা অশ্বমেধফলোক্ত্যো- পাস্ত্যন্তরাণাং কেবলানাং সমুচ্চিতানাং চ ফলমুপলক্ষিতমিত্যাহ-অশ্বমেধেতি। বৃত্তমনুদ্যোত্তর- ব্রাহ্মণস্য তাৎপর্য্যমাহ-অপেতি। জ্ঞানযুক্তানাং কৰ্ম্মণাং সংসারফলত্বপ্রদর্শনানন্তরমিতি যাবৎ। জ্ঞানকৰ্ম্মণোরুদ্ভাবকস্য প্রাণস্য স্বরূপং নিরূপয়িতুং ব্রাহ্মণমিত্যুথাপ্যোত্থাপকত্বং সম্বন্ধমুক্তমাক্ষি- পতি-নম্বিতি। মৃত্যুমতিক্রান্তো দীপাত ইতি মৃত্যোরতিক্রমস্য বক্ষ্যমাণজ্ঞানকর্মফলত্বাৎ পূর্ব্বত্র চ তদ্ভাবস্থ্য তৎফলস্যোক্তত্বাৎ উভয়স্যাপি ফলস্য ভেদাৎ পূর্ব্বোত্তরয়োজ্ঞানকর্মণোঃ বিষয়- শব্দিতোদ্দেশ্যভেদাৎ ন পূর্ব্বোক্তয়োস্তয়োঃ উদ্ভবকারণ-প্রকাশনার্থং ব্রাহ্মণমিত্যর্থঃ। পূর্ব্বোত্তর- জ্ঞানকৰ্ম্মফলভেদাভাবাৎ একবিষয়ত্বাৎ তদুদ্ভাবকপ্রকাশনার্থং ব্রাহ্মণং যুক্তমিতি পরিহরতি- নায়মিতি। বাক্যশেষবিরোধং শঙ্কিত্বা দূষয়তি-নম্বিত্যাদিনা। স্বাভাবিকঃ শাস্ত্রানাধেরো যোহয়ং পাপ্মা বিষয়াসঙ্গরূপঃ, স মৃত্যুঃ, তস্যাতিক্রমণং বাক্যশেষে কথ্যতে, ন হি হিরণ্যগর্ভাখ্য- মৃত্যোঃ, অতঃ পূর্ব্বোক্তজ্ঞানকৰ্ম্মভ্যাং তুল্যবিষয়ত্বমেব উত্তরজ্ঞানকৰ্ম্মণোরিত্যর্থঃ।

জ্ঞানকর্ম্মণোঽস্তু কৃত্বা, ব্রাহ্মণমারভতাম্, আখ্যায়িকা তু কিমর্থ্যা, ইত্যশঙ্ক্য তস্যাস্তাৎ-

৮৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পর্য্যমাহ—কোৎসাবিতি। কথং যথোক্তো ব্রাহ্মণাখ্যায়িকয়োরর্থঃ শক্যো জ্ঞাতুমিত্যাকঙ্ক্ষাং নিক্ষিপ্যাক্ষরাণি ব্যাকরোতি—কথমিত্যাদিনা।

আভাষ-ভাষ্যানুবাদ।—বক্ষ্যমাণ “দ্বয়া হ” ইত্যাদি শ্রুতির সহিত পূর্ব্বোক্ত শ্রুতির সম্বন্ধ কি?—অর্থাৎ কোন্ প্রসঙ্গে “দ্বয়া হ” ইত্যাদি বাক্যের আরম্ভ হইল,[ তাহা কথিত হইতেছে—](২)। অশ্বমেধের ফল-কথনের দ্বারা জ্ঞানসহ অনুষ্ঠিত কর্ম্মের চরম ফল যে, মৃত্যু-রূপতা প্রাপ্তি, তাহা কথিত হইয়াছে। অতঃপর এখন যাহা হইতে মৃত্যুরূপতা-প্রাপ্তির সাধনভূত কৰ্ম্ম ও জ্ঞানের উৎপত্তি হইয়াছে, তাহা প্রকাশ করিবার জন্য এই “উদ্‌গীথ ব্রাহ্মণ”(‘দ্বয়া হ’ ইত্যাদি প্রকরণ) আরব্ধ হইতেছে—

ভাল, ইতঃপূর্ব্বে জ্ঞান ও কর্মের ফল বলা হইয়াছে-মৃত্যুস্বরূপতাপ্রাপ্তি, আর উদগীথ-প্রকরণে জ্ঞান ও কর্মের ফল বলা হইবে-মৃত্যুভাব অতিক্রম করা; অতএব বিভিন্নপ্রকার ফলের উল্লেখ থাকায় পূর্ব্বপ্রকরণীয় জ্ঞান- কর্মের ফল প্রকাশনার্থ এই প্রকরণের আরম্ভ কি করিয়া হইতে পারে? [তদুত্তরে বলা যাইতেছে যে,] না-ইহা দোষাবহ নহে; কেন না, উদগীথের যাহা ফল-অগ্নি ও আদিত্যস্বরূপতা লাভ, পূর্ব্বেও “এতাসাং দেবতানাম্ একো ভবতি”(এই সমস্ত দেবতার মধ্যে এক জন হয়) -এই বাক্যে সেই ফলই উক্ত হইয়াছে;[সুতরাং উভয় প্রকরণে ফলভেদ ঘটিতেছে না]। ভাল, উদগীথপ্রকরণের ‘মৃত্যু অতিক্রম করা’ ফলোল্লেখ ত বিরুদ্ধই থাকিতেছে? না, তাহাও নহে; কারণ, এই ‘মৃত্যু অতিক্রম’ অর্থ-- স্বভাবসিদ্ধ পাপাসক্তিনিবৃত্তি মাত্র,(কিন্তু যথার্থ ই মৃত্যুর অতিক্রম নহে)।

এই স্বাভাবিক পাপাসক্তিরূপ মৃত্যুটা কি? কোথা হইতেই বা তাহার উদ্ভব হয়? এবং কি উপায়ে ও কি প্রকারেই বা তাহার অতিক্রম(নিবৃত্তি) করা হইতে পারে? কেনই বা এই সমস্ত বিষয় প্রকাশনার্থ আখ্যায়িকা আরব্ধ হইতেছে? এবং[সেই আখ্যায়িকাটি] কি প্রকার?[তাহা বলা হইতেছে—

(২) তাৎপর্য্য—শাস্ত্রের উপদেশ এই যে, “নাসঙ্গতং বাকাং প্রযুঞ্জীত,” অর্থাৎ অসঙ্গত যা সম্বন্ধহীন বাক্য প্রয়োগ করিবে না; কাজেই এক প্রকরণের পর অন্য প্রকরণ আরম্ভ করিতে হইলেই পূর্ব্বপ্রকরণের সঙ্গে পরবর্তী প্রকরণের সম্বন্ধ কিরূপ, তাহা নির্দেশ করিতে হয়। তাই ভাষ্যকার এখানে দ্বিতীয় ব্রাহ্মণের সহিত তৃতীয় ব্রাহ্মণের একটা সম্বন্ধ বা উপযোগিতা প্রদর্শন করিতেছেন। নচেৎ সম্বন্ধশূন্য বাক্য পণ্ডিতগণের নিকট বাতুলোক্তির ন্যায়-উপেক্ষণীয় হইতে পারে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৮৫

দ্বয়া হ প্রাজাপত্যা দেবাশ্চাসুরাশ্চ, ততঃ কানীয়সা এব দেবা জ্যায়না অসুরাঃ, ত এষু লোকেষস্পর্দ্ধন্ত, তেহ দেবা উচু- ইন্তাসুরান্ যজ্ঞ উদ্গীথেনাত্যয়ামেতি ১০

সরলার্থঃ।—প্রাজাপত্যাঃ(পূর্ব্বোক্তস্য প্রজাপতেঃ অপত্যানি) হ (প্রসিদ্ধৌ) দ্বয়াঃ(দ্বিপ্রকারাঃ)—দেবাঃ চ অসুরাঃ চ।[অত্র দেবাসুর- শব্দাভ্যাং প্রজাপতেঃ বাক্প্রভৃতয়ঃ প্রাণা উচ্যন্তে।] ততঃ(তয়োমধ্যে) কানীয়সাঃ(কনীয়াংস এব কানীয়সাঃ কনিষ্ঠা ইত্যর্থঃ) এব দেবাঃ(দ্যোতমানাঃ সাত্ত্বিকবৃত্তয়ঃ), জ্যায়সাঃ(জ্যায়াংস এব জ্যায়সাঃ জ্যেষ্ঠা মহত্তরা ইত্যর্থঃ) চ অসুরাঃ(অসুযু প্রাণেষু রমমাণাঃ রাজসবৃত্তয় এব;[বভূবুঃ]। তে(দেবাঃ অসুরাশ) এষু লোকেষু(ভোগ্যবিষয়েযু, তন্নিমিত্তমিত্যর্থঃ) অস্পর্দ্ধন্ত(স্পর্দ্ধাং— জিগীষাং কৃতবন্তঃ)। তে দেবাঃ হ(ঐতিহ্যে) উঁচুঃ(উক্তবন্তঃ)—হন্ত(হর্ষে) যজ্ঞে(জ্যোতিষ্টোমাখ্যে) উদগীথেন(উদগীথকর্মণা) অসুরান্ অত্যয়ামঃ(অতি- ক্রমামঃ, তান্ অভিভূয় স্বং দেবভাবং লভেমহি) ইতি ॥ ১০॥ ১॥

মূলানুবাদ:-প্রজাপতির সন্তান দুই-শ্রেণীতে বিভক্ত-(১) দেবতা ও(২) অসুর। তন্মধ্যে কনিষ্ঠ সন্তানগণ হইল দেবতা, আর জ্যেষ্ঠ সন্তানগণ হইল অসুর। তাঁহারা এই ভোগরাজ্যে পরস্পর স্পর্দ্ধা করিতে লাগিলেন।[তখন] সেই দেবতাগণ পরস্পরকে বলিলেন,-ভাল, আমরা জ্যোতিষ্টোমনামক যজ্ঞে উদগীথানুষ্ঠান দ্বারা অসুরগণকে পরাজিত করিব, অর্থাৎ তাহাদিগকে পরাস্ত করিয়া নিজেদের স্বাভাবিক দেবভাব লাভ করিব ॥ ১০ ॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—দ্বয়া দ্বিপ্রকারাঃ। ‘হ’ ইতি পূর্ব্ববৃত্তাবদ্যোতকো নিপাতঃ; বর্তমানপ্রজাপতেঃ পূর্ব্বজন্মনি যদু বৃত্তম, তদেব দ্যোতয়তি হ-শব্দেন। প্রাজাপত্যাঃ প্রজাপতেঃ বৃত্তজন্মাবস্থস্য অপত্যানি—প্রাজাপত্যাঃ। কে তে? দেবাশ্চাসুরাশ,—তস্যৈব প্রজাপতেঃ প্রাণা বাগাদয়ঃ। কথং পুনস্তেষাৎ দেবাসুরত্বম্? উচ্যতে—শাস্ত্রজনিতজ্ঞান-কর্মভাবিতা দ্যোতনাদ্ দেবা ভবন্তি; ত এব স্বাভাবিক-প্রত্যক্ষানুমানজনিত-দৃষ্টপ্রয়োজন-কর্মজ্ঞানভাবিতা অসুরাঃ, স্বেঘেব অসুখু রমণাৎ; সুরেভ্যো বা দেবেভ্যোহন্যত্বাৎ। যস্মাচ্চ দৃষ্টপ্রয়োজন- জ্ঞান-কৰ্ম্মভাবিতা অসুরাঃ, ততস্তস্মাৎ কানীয়সাঃ; কনীয়াংস এব কানীয়সাঃ

, ৮৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

স্বার্থেহণি বৃদ্ধিঃ; কনীয়াংসোহল্লা এব দেবাঃ; জ্যায়সা অসুরা জ্যায়াংসোহ- সুরাঃ; স্বাভাবিকী হি কৰ্ম্ম-জ্ঞান-প্রবৃত্তির্মহত্তরা প্রাণানাং শাস্ত্রজনিতায়াঃ কৰ্ম্ম-জ্ঞানপ্রবৃত্তেঃ, দৃষ্টপ্রয়োজনত্বাৎ; অতএব কনীয়ত্বং দেবানাম্, শাস্ত্রজনিত- প্রবৃত্তেরল্পত্বাৎ; অত্যন্তযত্নসাধ্যা হি সা। ১।

তে দেবাশ্চাসুরাশ প্রজাপতিশরীরস্থাঃ এষু লোকেষু নিমিত্তভূতেযু স্বাভাবিকেতর-কৰ্ম্মজ্ঞানসাধ্যেষু অস্পদ্ধন্ত স্পর্দ্ধাং কৃতবন্তঃ। দেবানাঞ্চাসুরা- ণাঞ্চ বৃত্ত্যুদ্ভবাভিভবৌ স্পর্দ্ধা; কদাচিচ্ছাস্ত্রজনিত-কর্মজ্ঞানভাবনারূপা বৃত্তিঃ প্রাণানামুদ্ভবতি, যদা চোদ্ভবতি, তদা দৃষ্টপ্রয়োজনা প্রত্যক্ষানুমানজনিত- কৰ্ম্মজ্ঞানভাবনারূপা তেষামের প্রাণানাং বৃত্তিরাসূর্য্যভিভূয়তে; স দেবানা- জয়ঃ, অসুরাণাৎ পরাজয়ঃ। কদাচিৎ তদ্বিপর্যায়েণ দেবানাং বৃত্তিরভিভূয়তে, আসুৰ্য্যা উদ্ভবঃ; সোহসুরাণাং জয়ঃ, দেবানাং পরাজয়ঃ। এবং দেবানাং জরে ধৰ্ম্মভূরস্বাদুৎকর্ষ আ প্রজাপতিত্বপ্রাপ্তেঃ। অসুরজয়েহধর্মভূয়ত্বাদপকর্ষ আ স্থাবরত্ব- প্রাপ্তেঃ। উভয়সাম্যে মনুষ্যত্বপ্রাপ্তিঃ। ২।

তে এবং কনীয়স্থাদভিভূয়মানা অসুরৈর্দেবা বাহুল্যাদসুরাণা, কিং কৃতবন্তঃ? ইতি উচ্যতে—তে দেবা অসুরৈরভিভূয়মানা হ কিল উচুরুক্তবন্তঃ: কথম্? হন্ত ইদানীমস্মিন্ যজ্ঞে জ্যোতিষ্টোমে উদ্‌গীথেন উদ্‌গীথকর্ম্মপদাথকতুস্বরূপাশ্রয়ণেন অত্যরাম অতিগচ্ছামঃ; অসুরানভিভূয় স্বং দেবভাবঃ শাস্ত্রপ্রকাশিতং প্রতিপদ্যা- মহে--ইত্যুক্তবন্তোহন্যোন্যম্। উদ্‌গীথকর্ম্ম-পদার্থকতুস্বরূপাশ্রয়ণঞ্চ জ্ঞান-কর্মভ্যাম্; কর্ম্ম বক্ষ্যমাণং, মন্ত্রজপলক্ষণম্—বিধিৎস্যমান, “তদেতানি জপেৎ” ইতি। জ্ঞানন্তু ইদমেব নিরূপ্যমাণম্। ৩।

ননু ইদমভ্যারোহ-জপবিধিশেষঃ অর্থবাদঃ? ন জ্ঞাননিরূপণপরম্? ন; “য এবং বেদ” ইতি বচনাৎ। উদ্গীথপ্রস্তাবে পুরাকল্পশ্রবণাদুদ্গীথবিধিপরমিতি চেং; ন, অপ্রকরণাৎ; উদ্গীথস্য চান্যত্র বিহিতত্বাৎ; বিদ্যাপ্রকরণত্বাচ্চাস্য; অভ্যারোহজপস্থ্য চানিত্যত্বাৎ, এবংবিং-প্রযোজ্যত্বাৎ, বিজ্ঞানস্থ্য চ নিত্যবৎ শ্রবণাৎ; “তদ্ধৈতল্লোকজিদেব” ইতি চ শ্রুতেঃ; প্রাণস্য বাগাদীনাঞ্চ শুদ্ধ্যশুদ্ধিবচনাৎ। ‘ন হানুপাস্যত্বে প্রাণস্য শুদ্ধিবচনম্, বাগাদীনাঃ চ সহোপন্যস্তানামশুদ্ধি- বচনম্, বাগাদিনিন্দয়া মুখ্যপ্রাণ-স্তুতিশ্চাভিপ্রেতোপপদ্যতে,-“মৃত্যুমতিক্রান্তো দীপ্যতে” ইত্যাদিফলবচনঞ্চ। প্রাণস্বরূপাপত্তেহি ফলং তৎ, যদবাগাদ্যগ্যাদি- ভাবঃ। ৪।

ভবতু নাম প্রাণস্যোপাসনম্, ন তু বিশুদ্ধাদি গুণবত্তেতি। ননু স্যাৎ, শ্রুত-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৮৭

ত্বাৎ; ন স্যাৎ, উপাস্যত্বে স্তুত্যর্থত্বোপপত্তেঃ। ন; অবিপরীতার্থপ্রতিপত্তেঃ শ্রেয়ঃ- প্রাপ্ত্যুপপত্তেল্লোকবৎ। যো হ্যবিপরীতমর্থং প্রতিপদ্যতে লোকে, স ইষ্টং প্রাপ্নোতি, অনিষ্টাদ্ বা নিবর্ত্ততে, ন বিপরীতার্থপ্রতিপত্তা; তথেহাপি শ্রৌত- শব্দ-জনিতার্থপ্রতিপত্তৌ শ্রেয়ঃ প্রাপ্তিরুপপন্না, ন বিপর্যয়ে। ন চোপাসনার্থ- শ্রুতশব্দোত্থবিজ্ঞানবিষয়স্যাযথার্থত্বে প্রমাণমস্তি। ন চ তদ্বিজ্ঞানস্যাপবাদঃ শ্রূয়তে। ততঃ শ্রেয়ঃপ্রাপ্তিদর্শনাৎ যথার্থতাং প্রতিপদ্যামহে; বিপর্যয়ে চানর্থপ্রাপ্তিদর্শনাৎ;-যো হি বিপর্যয়েনার্থং প্রতিপদ্যতে লোকে-পুরুষং স্থাণুরিতি, অমিত্রং মিত্রমিতি বা, সোহনর্থং প্রাপ্তবন্ দৃশ্যতে। আত্মেশ্বর- দেবতাদীনামপ্যযথার্থানামের চেদ গ্রহণং শ্রুতিতঃ, অনর্থপ্রাপ্ত্যর্থং শাস্ত্রমিতি ধ্রুবং প্রাপ্তুয়াৎ, লোকবদেব; ন চৈতদিষ্টম্। তস্মাদ্ যথাভূতানের আত্মেশ্বর- দেবতাদীন্ গ্রাহয়ত্যুপাসনার্থং শাস্ত্রম্। ৫।

নামাদৌ ব্রহ্মদৃষ্টিদর্শনাদযুক্তমিতি চেৎ; স্ফুটং নামাদেরব্রহ্মত্বম্; তত্র ব্রহ্মদৃষ্টিং স্থাণ্বাদাবিব পুরুষদৃষ্টিং বিপরীতাং গ্রাহয়ৎ শাস্ত্রং দৃশ্যতে; তম্মাদ্ যথার্থমেব শাস্ত্রতঃ প্রতিপত্তেঃ শ্রেয়ঃ-ইত্যযুক্তমিতি চেৎ; ন; প্রতিমাবদ্- ভেদপ্রতিপত্তেঃ। নামাদাবব্রহ্মণি ব্রহ্মদৃষ্টিং বিপরীতাং গ্রাহয়তি শাস্ত্রম্- স্থান্বাদাবিব পুরুষদৃষ্টিম্-ইতি, নৈতং সাধ্ববোচঃ। কস্মাৎ? ভেদেন হি ব্রহ্মণো নামাদিবস্তু-প্রতিপন্নস্য নামাদৌ বিধীয়তে ব্রহ্মদৃষ্টিঃ-প্রতিমাদাবিব বিষ্ণুদৃষ্টিঃ। আলম্বনত্বেন হি নামাদি-প্রতিপত্তিঃ, প্রতিমাদিবদেব, নতু নামাদ্যেব ব্রহ্মেতি। যথা স্থাণাবনিজ্ঞাতে, ন স্থাণুরিতি-পুরুষ এবায়মিতি প্রতিপদ্যতে বিপরীতম্, ন তু তথা নামাদৌ ব্রহ্মদৃষ্টির্বিপরীতা। ৬।

ব্রহ্মদৃষ্টিরেব কেবলা, নাস্তি ব্রহ্মেতি চেৎ;—এতেন প্রতিমা-ব্রাহ্মণাদিষু বিষ্ণাদি-দেবপিত্রাদিদৃষ্টীনাং তুলাতা। ন; ঋগাদিযু পৃথিব্যাদিদৃষ্টিদর্শনাৎ; বিদ্যমান-পৃথিব্যাদিবস্তুদৃষ্টীনামের ঋগাদিবিষয়ে ক্ষেপদর্শনাৎ। তস্মাৎ তৎসামান্যাং নামাদিষু ব্রহ্মাদিদৃষ্টীনাং বিদ্যমানব্রহ্মাদিবিষয়ত্বসিদ্ধিঃ। এতেন প্রতিমা-ব্রাহ্মণাদিষু বিষ্ণাদিদেব-পিত্রাদিবুদ্ধীনাঞ্চ সত্যবস্তুবিষয়ত্বসিদ্ধিঃ। মুখ্যাপেক্ষত্বাচ্চ গৌণত্বস্য; পঞ্চাগ্ন্যাদিষু চ অগ্নিত্বাদেগৌণত্বাৎ মুখ্যাগ্ন্যাদিসদ্ভাববৎ নামাদিষু ব্রহ্মত্বস্য গৌণত্বাৎ মুখ্যব্রহ্মসদ্ভাবোপপত্তিঃ। ৭।

ক্রিয়ার্থৈশ্চাবিশেষাদ বিদ্যার্থানাম্। যথা চ দর্শপৌর্ণমাসাদিক্রিয়া ইদস্ফলা বিশিষ্টেতিকর্তব্যতাকা এবংক্রমপ্রযুক্তাঙ্গা চ—ইত্যেতদলৌকিকং বস্তু প্রত্য- ক্ষাদ্যবিষয়ং তথাভূতঞ্চ বেদবাক্যের জ্ঞাপাতে; তথা পরমাত্মেশ্বর-

৮৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দেবতাদি বস্তু অস্থুলাদিধৰ্ম্মকমশনায়াদ্যতীতং চ—ইত্যেবমাদিবিশিষ্টমিতি বেদ- বাক্যৈরেব জ্ঞাপ্যতে,—ইত্যলৌকিকত্বাৎ তথাভূতমেব ভবিতুমর্হতীতি। ন চ ক্রিয়ার্থৈর্ব্বাক্যৈজ্ঞানবাক্যানাং বুদ্ধ্যুৎপাদকত্বে বিশেষোহস্তি। ন চানিশ্চিতা বিপর্য্যাস্তা বা পরমাত্মাদিবস্তুবিষয়া বুদ্ধিরুৎপদ্যতে। ৮।

অনুষ্ঠেয়াভাবাদযুক্তমিতি চেৎ; ক্রিয়ার্থৈর্ব্বাক্যৈন্স্যংশা ভাবনা অনুষ্ঠেয়া জ্ঞাপ্যতেহলৌকিক্যপি; ন তথা পরমাত্মেশ্বরাদিবিজ্ঞানেহনুষ্ঠেয়ং কিঞ্চিদস্তি; অতঃ ক্রিয়ার্থৈঃ সাধর্ম্যমিত্যযুক্তমিতি চেৎ; ন; জ্ঞানস্থ্য তথাভূতার্থবিষয়ত্বাৎ। ন হি অনুষ্ঠেয়স্য এ্যংশস্য ভাবনাখ্যস্য অনুষ্ঠেয়ত্বাৎ তথাত্বম্; কিং তর্হি? প্রমাণ- সমধিগতত্ত্বাৎ; ন চ তদ্বিষয়ায়া বুদ্ধেরনুষ্ঠের বিষয়ত্বাৎ তথার্থত্বম্; কিং তর্হি? বেদবাক্যজনিতত্বাদেব। বেদবাক্যাধিগতস্য বস্তুনস্তথাত্বে সতি, অনুষ্ঠেয়ত্ববিশিষ্টং চেৎ, অনুতিষ্ঠতি; নো চেদ্ অনুষ্ঠেয়ত্ববিশিষ্টম্, নানুতিষ্ঠতি। অননুষ্ঠেরত্বে বাক্যপ্রমাণত্বানুপপত্তিরিতি চেৎ,-ন হানুষ্ঠেয়েহসতি পদানাং সংহতিরুপপদ্যতে; অনুষ্ঠেরত্বে তু সতি তাদর্থ্যেন পদানি সংহন্যন্তে; তত্রানুষ্ঠেয়নিষ্ঠং, বাক্যং প্রমাণং ভবতি-ইদমনেনৈবং কর্তব্যমিতি, ন তু ইদমনেনৈবম্-ইত্যেবম্প্রকারাণাং পদশ- তানামপি বাক্যত্বমস্তি-“কুৰ্য্যাৎ ক্রিয়েত কর্তব্যং ভবেৎ স্যাদিতি পঞ্চমম্” ইত্যো- বমাদীনামন্যতমেহসতি; অতঃ পরমাত্মেশ্বরাদীনাম্ অনাক্যপ্রমাণত্বম্। ৯।

পদার্থত্বে চ প্রমাণান্তরবিষয়ত্বম্, অতোহসদেতদিতি চেৎ; ন; ‘অস্তি মের- র্ব্বর্ণচতুষ্টয়োপেতঃ’ ইত্যেবমাদ্যননুষ্ঠেরেহপি বাক্যদর্শনাং। ন চ ‘মেরুব্বর্ণ- চতুষ্টরোপেতঃ’ ইত্যেবমাদিবাক্যশ্রবণে মের্বাদৌ অনুষ্ঠেয়ত্ববুদ্ধিরুৎপদ্যতে। তথা অস্তি-পদসহিতানাং পরমাত্মেশ্বরাদিপ্রতিপাদক-বাক্যপদানার বিশেষণ- বিশেষ্যভাবেন সংহতিঃ কেন বাৰ্য্যতে। মের্ব্বাদিজ্ঞানবৎ পরমাত্ম-জ্ঞানে প্রয়ো- জনাভাবাদযুক্তমিতি চেৎ; ন; “ব্রহ্মবিদাপ্নোতি পরম্।” “ভিদ্যতে হৃদয়গ্রন্থিঃ” ইতি ফলশ্রবণাৎ, সংসার-বীজাবিদ্যাদিদোষনিবৃত্তিদর্শনাচ্চ। অনন্যশেষত্বাচ্চ তজ- জ্ঞানস্য, জুহ্বামিব ফলশ্রুতেরর্থবাদত্বানুপপত্তিঃ। ১০।

প্রতিষিদ্ধানিষ্টফলসম্বন্ধশ্চ বেদাদেব বিজ্ঞায়তে; ন চানুষ্ঠেয়ঃ সঃ। ন চ প্রতি- সিদ্ধবিষয়ে প্রবৃত্তক্রিয়স্য অকরণাদন্যদনুষ্ঠেয়মস্তি। অকর্তব্যতা-জ্ঞাননিষ্ঠতৈব হি পর- মার্থতঃ প্রতিষেধবিধীনাং স্যাৎ। ক্ষুধার্তস্য প্রতিষেধজ্ঞানসংস্কৃতস্য অভক্ষ্যেহভোজ্যে বা প্রত্যুপস্থিতে কলঞ্জাভিশস্তান্নাদৌ ‘ইদং ভক্ষ্যম্, অদো ভোজ্যম্’ ইতি বা জ্ঞান- মুৎপন্নম্, তদ্বিষয়য়া প্রতিষেধজ্ঞানস্মৃত্যা বাধ্যতে; মৃগতৃষ্ণিকায়ামিব পেয়জ্ঞানং তদ্বিষয়-যাপাত্ম্য-বিজ্ঞানেন। তস্মিন্ বাধিতে স্বাভাবিকবিপরীতজ্ঞানে অনর্থকরী

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।
বউ

তন্তক্ষণভোজনপ্রবৃত্তির্ন ভবতি। বিপরীতজ্ঞাননিমিত্তায়াঃ প্রবৃত্তেনিবৃত্তিরেব, ন পুনর্যত্বঃ কার্য্যস্তদভাবে। তস্মাৎ প্রতিষেধবিধীনাং বস্তু-যথাত্ম্যজ্ঞাননিষ্ঠভৈব, ম পুরুষ-ব্যাপারনিষ্ঠতা-গন্ধোহপ্যন্তি। তথেহাপি পরমাত্মাদি-যাথাত্ম্যজ্ঞানবিধীনাং তাবন্মাত্রপর্য্যবসানতৈব স্যাৎ। তথা তদ্বিজ্ঞানসংস্কৃতস্য তদ্বিপরীতার্থজ্ঞাননিমি- ত্তানাং প্রবৃত্তীনাম্ অনর্থার্থত্বেন জ্ঞায়মানত্বাৎ, পরমাত্মাদি-যাথাত্ম্য-জ্ঞানস্বত্যা স্বাভাবিকে তন্নিমিত্তবিজ্ঞানে বাধিতে, অভাবঃ স্যাৎ। ১১।

ননু কলঞ্জাদিভক্ষণাদেঃ অনর্থার্থত্ব-যস্তযাতাত্ম্যজ্ঞানস্মৃত্যা স্বাভাবিকে তদ্ভক্ষ্যত্বাদি-বিপরীতজ্ঞানে নিবর্ত্তিতে, তদ্ভক্ষণাদ্যনর্থপ্রবৃত্ত্যভাববৎ অপ্রতিষেধ- বিষয়ত্বাৎ শাস্ত্রবিহিতপ্রবৃত্ত্যভাবো ন যুক্ত ইতি চেৎ; ন; বিপরীতজ্ঞাননিমিত্ত- ত্বানর্থার্থত্বাভ্যাং তুল্যত্বাৎ। কলঞ্জভক্ষণাদিপ্রবৃত্তেঃ মিথ্যাজ্ঞাননিমিত্তত্বমনর্থার্থত্বঞ্চ যথা, তথা শাস্ত্রবিহিতপ্রবৃত্তীনামপি। তস্মাৎ পরমাত্ম-যথাত্ম্যবিজ্ঞানবতঃ শাস্ত্র- বিহিতপ্রবৃত্তীনামপি, মিথ্যাজ্ঞাননিমিত্তত্বেন অনর্থার্থত্বেন চ তুল্যত্বাৎ পরমাত্ম- জ্ঞানেন বিপরীতজ্ঞানে নিবর্ত্তিতে যুক্ত এবাভাবঃ। ১২।

ননু তত্র যুক্তঃ, নিত্যানান্ত কেবলশাস্ত্রনিমিত্তত্বাৎ অনর্থার্থত্বাভাবাচ্চ অভাবো ন যুক্তঃ? ইতি চেং; ন; অবিদ্যারাগদ্বেবাদিদোষবতো বিহিতত্ত্বাৎ। যথা স্বর্গকামাদি দোষবতো দর্শপৌর্ণমাসাদীনি কাম্যানি কর্মাণি বিহিতানি, তথা সর্ব্বানর্থ-বীজাবিদ্যাদিদোষবতঃ তজ্জনিতেষ্টানিষ্ট-প্রাপ্তি-পরিহার-রাগদ্বেষাদিদোষ- বতশ্চ তৎপ্রেরিতাবিশেষ-প্রবৃত্তেঃ ইষ্টানিষ্ট-প্রাপ্তি-পরিহারার্থিনো নিত্যানি কর্মাণি বিধীয়ন্তে, ন কেবলং শাস্ত্রনিমিত্তান্যেব। ন চ অগ্নিহোত্র-দর্শপৌর্ণমাস-চাতুর্মাস্য- পণ্ডবন্ধ-সোমানা, কৰ্ম্মণাং স্বতঃ কাম্যনিত্যত্ববিবেকোহস্তি। কর্তৃগতেন হি স্বর্গাদিকাম-দোষেণ কামার্থতা; তথা অবিদ্যাদিদোষবতঃ স্বভাবপ্রাপ্তেষ্টানিষ্ট- প্রাপ্তিপরিহারার্থিনঃ তদর্থান্যের নিত্যানি—ইতি যুক্তম্, তং প্রতি বিহিতত্বাৎ। ন পরমাত্ম-যাথাত্ম্য-বিজ্ঞানবতঃ শমোপায়ব্যতিরেকেণ কিঞ্চিৎ কৰ্ম্ম বিহিতমুপ- লভ্যতে। কর্মনিমিত্ত-দেবতাদি-সর্ব্বসাধন-বিজ্ঞানোপমর্দ্দেন হি আত্মজ্ঞানং বিধীয়তে। ন চ উপমৰ্দ্দিতক্রিয়াকারকাদিবিজ্ঞানস্য কৰ্ম্মপ্রবৃত্তিরুপপদ্যতে, বিশিষ্টক্রিয়াসাধনাদিজ্ঞানপূর্ব্বকত্বাৎ ক্রিয়াপ্রবৃত্তেঃ। ন হি দেশকালাদ্যনবচ্ছিনা- স্থূলাদ্বয়াদিব্রহ্ম-প্রত্যয়ধারিণঃ কর্মাবসরোহস্তি। ভোজনাদিপ্রবৃত্ত্যবসরবৎ স্যাদিতি চেৎ; ন, অবিদ্যাদিকেবলদোষনিমিত্তত্বাৎ ভোজনাদিপ্রবৃত্তেঃ আবশ্য- কত্বানুপপত্তেঃ। ন তু, তথাহনিয়তং কদাচিৎ ক্রিয়তে, কদাচিন্ন ক্রিয়তে চেতি নিত্যং, কর্মোপপদ্যতে। কেবলদোষনিমিত্তত্বাৎ তু ভোজনাদি-

১২

৯০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কর্ম্মণোহনিয়তত্ত্বং স্যাৎ, দোষোদ্ভবাভিভবয়োঃ অনিয়তত্ত্বাৎ কামানামিব কাম্যেযু। ১৩।

শাস্ত্রনিমিত্ত-কালাদ্যপেক্ষত্বাচ্চ নিত্যানামনিয়তত্বানুপপত্তিঃ, দোবনিমিত্তত্বে সত্যপি যথা কাম্যাগ্নিহোত্রস্য শাস্ত্রবিহিতিত্বাৎ সায়ংপ্রাতঃকালাদ্যপেক্ষত্বম্, এবম্ তন্তোজনাদিপ্রবৃত্তৌ নিয়মবৎ স্যাদিতি চেৎ; ন; নিয়মস্য অক্রিয়াত্বাৎ ক্রিয়ায়াশ্চ অপ্রযোজকত্বাৎ নাসৌ জ্ঞানস্য অপবাদকরঃ। তস্মাৎ পরমাত্ম-যাথাত্ম্য-জ্ঞান- বিধেরপি তদ্বিপরীত-স্থূলদ্বৈতাদিজ্ঞান-নিবর্তকত্বাৎ সামর্থ্যাৎ সর্ব্বকৰ্ম্মপ্রতিষেধ- বিধ্যর্থত্বং সম্পদ্যতে, কৰ্ম্মপ্রবৃত্ত্যভাবস্থ্য তুল্যত্বাৎ, যথা প্রতিষেধবিষয়ে। তস্মাৎ প্রতিষেধবিধিবচ্চ বস্তু-প্রতিপাদনং তৎপরত্বঞ্চ সিদ্ধং শাস্ত্রস্য ॥ ১০ ॥ ১॥

টীকা।—নিপাতার্থমেব স্ফুটয়তি—বর্ত্তমানেতি। প্রজাপতিশব্দো ভবিষ্যদ্বৃত্ত্যা যজমানং গোচরয়তীত্যাহ—বৃত্তেতি। ইন্দ্রাদয়ে; দেবাঃ বিরোচনাদয়শ্চাসুরাঃ, ইত্যাশঙ্কাং বারয়তি— তস্যৈবেতি। যাজমানেষু প্রাণেষু দেবত্বমসুরত্বং চ বিরুদ্ধং ন সিধ্যতীতি শঙ্কতে—কপমিতি। তেষু তদুভয়মৌপাধিকং সাধয়তি—উচ্যতে ইতি। শাস্ত্রানপেক্ষয়োজ্ঞানকর্ম্মণোঃ উৎপাদকমাহ —প্রত্যক্ষেতি। সন্নিধানাসন্নিধানাভ্যাং প্রমাণদ্বয়োক্তিঃ। স্বেষেবাসুষু রমণং নাম আত্মস্তরিত্বম্। তত ইত্যাদিবাক্যদ্বয়ং ব্যাচষ্টে—যস্মাচ্চেতি। দেবানামল্পত্বং প্রপঞ্চয়তি—স্বাভাবিকী হীতি। মহত্তবত্বে হেতুৰ্দ্দষ্টপ্রয়োজনত্বাদিতি। অসুরাণাং বহুত্বং প্রপঞ্চয়তি—শাস্ত্রজনিতেতি। অসুরাণাং বাহুলামিতি শেষঃ। তদেব সাধয়তি—অত্যন্তেতি। ১।

উভয়েষাং দেবাসুরাণাং মিথঃ সঙ্ঘর্ষং দর্শয়তি—তে দেবাশ্চেতি। কথং ব্রহ্মাদীনাং স্থাবরা- স্তানাং ভোগস্থানানাং স্পর্দ্ধানিমিত্তত্বমিত্যাশঙ্কঃ তেষাং শাস্ত্রীয়েতরজ্ঞানকৰ্ম্মসাধ্যত্বাৎ তয়োশ্চ দেবানুরজয়াধীনত্বাৎ তস্য চ স্পর্দ্ধাপূর্ব্বকত্বাৎ পরম্পরয়া লোকানাং তন্নিমিত্তত্বমিত্যভিপ্রেত্য বিশিনষ্টি—স্বাভাবিকেতি। কা পুনরেষাং স্পর্দ্ধা নামেত্যাশঙ্ক্যাহ—দেবান’ চেতি। তামেব সফলাং বিবৃণোতি—কদাচিদিত্যাদিনা। অধিকৃতৈরসুরপরাজয়ে দেবজয়ে চ প্রযতিতব্যমিতানু- গ্রহবুদ্ধ্যা জয়ফলমাহ—এবমিতি। ২।

আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমনন্তরবাকামাদায় ব্যাকরোতি—ত এবমিত্যাদিনা। যোহয়ম্ উদগীথে। নাম কৰ্ম্মাঙ্গভূতঃ পদার্থঃ, তৎকর্ত্তু: প্রাণস্য স্বরূপাশ্রয়ণমের কথং সিদ্ধতীত্যাশঙ্ক্যাহ—উদগীথেতি। কিং তৎ কৰ্ম্ম কিং বা জ্ঞানং, তদাহ—কস্মেতি। তদেতানি “অসতো মা সদ্‌ময়”—ইত্যাদীনি যজূংষি জপেদিতি বিধিৎস্যমানমিতি যোজনা। ৩।

‘দ্বয়া হ’-ইত্যাদি ন জ্ঞাননিরূপণপরং, জপবিধিশেষত্বেনার্থবাদত্বাৎ, তৎ কুতোহত্র জ্ঞানস্য নিরূপ্যমাণত্বমিত্যাক্ষিপতি-নন্বিতি। আভিমুখ্যেন আরোহতি দেবভাবমনেনেতাভ্যারোহে! মন্ত্রজপস্তদ্বিধিশেষোর্থবাদঃ ‘দ্বয়া হ’-ইত্যাদিবাকামিত্যর্থঃ। উপাস্তিবিধিশ্রবণাত্তৎপর: বাক্যং ‘ন জপবিধিশেষ ইতি দূষয়তি-নেতি। মা ভূৎ জপবিধিশেষঃ, তথাপি উদ্‌গায়েত্যৌদ্গাত্রস্থ্য কর্ম্মণঃ সন্নিধানে পুরাতনকল্পনাপ্রকারস্য ‘দ্বয়া হ’-ইত্যাদিনা শ্রবণাৎ তদ্বিধিশেষঃ অর্থবাদোহয়- মিতি শঙ্কতে-উদ্‌গীথেতি। নেদং বাকাং জ্ঞানঃ চোদ্গীথবিধিশেষঃ, তৎপ্রকরণস্থত্বাভাবেন

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৯১

সন্নিধ্যভাবাদিতি দূষয়তি—নাপ্রকরণাদিতি। উদ্‌গীথস্তর্হি ক বিধীয়তে? ন খল্ববিহিতমঙ্গং ভবতি, তত্রাহ—উদ্‌গীথস্য চেতি। অন্যত্রেতি কৰ্ম্মকাণ্ডোক্তিঃ। অপোদ্গায়েত্যুদ্‌গীথবিধিরপীহ প্রতীয়তে, তৎকথং সন্নিধিরপোদ্যতে, তত্রাহ—বিদ্যেতি। উদ্‌গীণবিধিরিহ প্রতীয়মানঃ প্রাণস্যোদগাতৃদৃষ্ট্যা উপাসনবিধিঃ, অন্যথা প্রকরণবিরোধাদিত্যর্থঃ।

জপবিধিশেষত্বমুদ্গীথবিধিশেষত্বং বা জ্ঞানস্য নাস্তীত্যুক্তম্; ইদানীং জপবিধিশেষত্বাভাবে যুক্ত্যন্তরমাহ-অভ্যারোহেতি। অনিত্যত্বং সাধয়তি-এবমিতি। প্রাণবিজ্ঞানবতা অনুষ্ঠেয়ো জপো ন তদ্বিজ্ঞানাৎ প্রাগস্তি, তেনাসৌ পশ্চাদ্ভারী প্রাগেব সিদ্ধ’ বিজ্ঞানং প্রযোজয়তীত্যর্থঃ। তস্যাপি প্রাচীনত্বং কথমিত্যাশঙ্ক্যাহ-বিজ্ঞানস্য চেতি। “য এব বিদ্বান্ পৌর্ণমাসীং যজতে” ইতিবৎ য এবং বেদেতি বিজ্ঞানং শ্রুতম্। ন হি প্রযাজাদি পৌর্ণমাসীপ্রযোজকম্। তস্যা এব তৎপ্রযোজকত্বাৎ। তথা প্রাণবিৎপ্রযোজো জপো ন বিজ্ঞানপ্রযোজকঃ। তস্য স্বপ্রযোজক- ত্বেন প্রাগেব সিদ্ধেরাবশ্যকত্বাদিত্যর্থঃ। ফলবত্ত্বাচ্চ প্রাণবিজ্ঞান’ স্বতন্ত্রং বিধিৎসিতমিত্যাহ- তদ্ধেতি। প্রাণোপাস্তের্বিবক্ষিতত্বে হেত্বন্তরমাহ-প্রাণস্যেতি। ‘যদি স্তয়তে তদ্বিধীয়তে’ ইতি ন্যায়মাশ্রিত্যেক্তমেব প্রপঞ্চয়তি-ন হীতি। ইতশ্চ প্রাণোপাস্তিরত্র বিধিৎসিতেত্যাহ- মৃত্যুমিতি। ফলবচনং প্রাণস্যানুপাস্যত্বে নোপপদ্যত ইতি সম্বন্ধঃ। উক্তমেব ব্যনক্তি- প্রাণেতি। মৃত্যুমোক্ষণানন্তরং বাগাদীনাং যদগ্ন্যাদিত্বং ফলং, তদধ্যাত্মপরিচ্ছেদং হিত্বা উপাসিতুরাধিদৈবিক-প্রাণস্বরূপাপত্তেঃ উপপদ্যতে। তস্মাৎ বিধিৎসিতৈবাত্র প্রাণোপাস্তিরিতার্থঃ। ৪।

উক্তন্যায়েন প্রাণোপাস্তিমুপেতা প্রাণদেবতাং শুদ্ধ্যাদিগুণবতীমাক্ষি প্রতি-ভবত্বিতি। যথা প্রাণস্যোপাস্তিঃ শাস্ত্রদৃষ্টত্বাদিষ্টা, তথা অন্য গুণসম্বন্ধঃ শ্রুতত্বাদেষ্টবা, উপাস্তাবুপাস্যে চ গুণবতি প্রাণে প্রামাণিকপ্রাপ্তেরবিশেষাদিতি সিদ্ধান্তী ক্রতে-নন্বিতি। প্রাণস্থ্য উপাস্যত্বে বিশুদ্ধ্যাদি- গুণবাদন্য স্তুতার্থত্বেনার্থবাদত্বসম্ভবাৎ ন যথোক্তা দেবতা স্যাদিতি পূর্ববাদ্যাহ-ন স্যাদিতি। বিশুদ্ধ্যাদিগুণবাদস্যার্থবাদত্বেহপি নাভূতার্থবাদত্বমিতি পরিহরতি-নেতি। বিশুদ্ধ্যাদিগুণ- বিশিষ্টপ্রাণদৃষ্টেরত্র ফলপ্রাপ্তিঃ শ্রুতা, ন সা জ্ঞানস্য মিথ্যার্থত্বে যুক্তা, সম্যজ্ঞানাদেব পুমর্থাপ্তেঃ সম্ভবাৎ; অতঃ স্তুতিরপি যথার্থৈব ইত্যর্থঃ। লোকদৃষ্টান্তং ব্যাচষ্টে-যো হীতি। ইহেতি বেদাখ্যদাষ্টান্তিকোক্তিঃ।

ননু বিশুদ্ধ্যাদিগুণবতীং দেবতাং বদন্তি বাক্যানি উপাসনাবিধ্যর্থত্বাৎ ন স্বার্থে প্রামাণ্যং প্রতিপদ্যন্তে, তত্রাহ-ন চেতি। অন্যপরাণামপি বাক্যানাং মানান্তরসম্বাদবিসংবাদয়োরসতোঃ স্বার্থে প্রামাণ্যমনুভবানুসারিভিরেষ্টব্যমিত্যর্থঃ। ননু প্রাণস্য বিশুদ্ধ্যাদিবাদো ন স্বার্থে মানম্, অন্যপরত্বাৎ, আদিত্য-যুপাদিবাক্যবৎ, অত আহ-ন চেতি। আদিতা-যুপাদিবাক্যার্থজ্ঞানস্য প্রত্যক্ষাদিনা অপবাদবৎ বিশুদ্ধ্যাদিগুণবিজ্ঞানস্য নাপবাদঃ শ্রুতঃ, তস্মাৎ বিশুদ্ধ্যাদিবাদস্য স্বার্থে মানত্বমপ্রত্যুহমিত্যর্থঃ। বিশুদ্ধ্যাদিগুণকপ্রাণবিজ্ঞানাৎ ফলশ্রবণাৎ তদ্বাদস্য যথার্থত্বমেবেত্যুপ- সংহরতি-তত ইতি। লোকবৎ বেদেহপি সম্যগ্‌জ্ঞানাৎ ইষ্টপ্রাপ্তিরনিষ্টপরিহারশ্চ ইত্যন্বয়-- মুখেনোত্তমর্থং ব্যতিরেকমুখেনাপি সমর্থয়তে-বিপর্যয়ে চেত্যাদিনা।

শত্রু অনাধিপতিমিথ্যি শশাং নিরাচষ্টে—ন চেতি। অপৌরুষেয়স্য। গতাভিভ্যর্থঃ।

৯২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্

দোষস্য অশেষপুরুষার্থহেতোঃ শাস্ত্রস্য অনর্থার্থত্বমেষ্টমশকামিত্যর্থঃ। শাস্ত্রস্য যথাভূতার্থত্বং নিগময়তি—তস্মাদিতি। উপাসনার্থং জ্ঞানার্থং চেতি শেষঃ। ৫।

শাস্ত্রাৎ যথার্থপ্রতিপত্তেঃ শ্রেয়ঃপ্রাপ্তিরিতাত্র ব্যভিচারং চোদয়তি-নামাদাবিতি। তদেব স্ফুটয়তি-স্ফুটমিতি। অব্রহ্মাণি ব্রহ্মদৃষ্টিরতস্মিংস্তদ্বুদ্ধিত্বাৎ মিথ্যা ধীঃ, সা চ যাবন্নায়ো গতমিত্যাদিশ্রুতা ফলবতী, ততঃ শাস্ত্রাৎ যথার্থপ্রতিপত্তেরেব ফলমিত্যযুক্তমিতার্থঃ। ভেদাগ্রহ-- পূর্ব্বকোঽন্যস্য অন্যাত্মতাবভাসো মিথ্যাজ্ঞানম্, অত্র তু ভেদে ভাসমানে অন্যত্রান্যদৃষ্টিঃ বিধীয়তে। যথা বিষ্ণোর্ভেদে প্রতিমায়াং গৃহ্যমাণে তত্র বিষ্ণুদৃষ্টিঃ ক্রিয়তে, তন্মেদং মিথ্যাজ্ঞান- মিত্যাহ-নেতি। নঞর্থং স্পষ্টয়তি-নামাদাবিতি। প্রশ্নপূর্ব্বকং হেতুং ব্যাচষ্টে-কম্মাদিতি। প্রতিমায়াং বিষ্ণুদৃষ্টিং প্রত্যালম্বনত্বমের ন বিষ্ণুতাদাত্মাং, নামাদেস্তু ব্রহ্মতাদাত্মাং শ্রুতমিতি বৈষম্যমাশঙ্ক্যাহ-আলম্বনত্বেনেতি। উক্তমর্থং বৈধম্মাদৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি-যথেতি। ৬।

কৰ্ম্মমীমাংসকে। ব্রহ্মবিদ্বেষং প্রকটয়ন্ প্রত্যবতিষ্ঠতে-ব্রহ্মেতি। কেবলা তদ্‌দৃষ্টিরেব নামি চোজ্যতে, চোদনাবশাচ্চ ফলং সেৎস্যতি, ব্রহ্ম তু নাস্তি, মানাভাবাদিত্যর্থঃ। অথ যথা দেবানাং প্রতিমাদিষু উপাস্যমানানামন্যত্র সত্ত্বং, যথা চ বস্বাদ্যাত্মনাং পিতৃণাং ব্রাহ্মণাদিদেহে তপ্যমাণানাম্ অন্যত্র সত্ত্বং, তথা ব্রহ্মণোহপি নামাদাবুপাস্যত্বাৎ অন্যত্র সত্ত্বং ভবিষ্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ-এতেনেতি। নামাদৌ ব্রহ্মদর্শনেনেতি যাবৎ। দৃষ্টান্তাসিদ্ধেন কাপি ব্রহ্মাস্তীতি ভাবঃ। সত্যজ্ঞানাদিলক্ষণ ব্রহ্ম নাস্তি ইত্যযুক্তম্, ‘সদেব সোমোদম্’ ইত্যাদিশ্রুতেরিতাহ-নেতি। কিঞ্চ, ব্রহ্মদৃষ্টিঃ সত্যার্থা, শাস্ত্রীয়দৃষ্টিত্বাৎ, ‘ইয়মেব ঋক্, অগ্নিঃ সাম’ ইতি দৃষ্টিবদিত্যাহ-ঋগাদিধিতি। তদেব স্পষ্টয়তি-বিদ্যমানেতি। তাভিদৃষ্টিভিঃ সামান্যং দৃষ্টিত্বং, তস্মাদিতি যাবৎ। যৎ তু দৃষ্টান্তা- সিদ্ধিরিতি, তত্রাহ-এতেনেতি। ব্রহ্মদৃষ্টেঃ সত্যার্থত্ববচনেনেতি যাবৎ। ব্রহ্মাস্তিত্বে হেত্বন্তর- মাহ-মুখ্যাপেক্ষত্বাদিতি। উক্তমেব বিবৃণোতি-পঞ্চেতি। পঞ্চাগ্নয়ো দুপজ্জন্যপৃথিবী- পুরুষযোষিতঃ। আদিপদং বাগধেম্বাদিগ্রহার্থম্। ৭।

ননু বেদান্তবেদ্যং ব্রহ্ম ইষতে, ন চ তেভাঃ তদ্ধীঃ সিধ্যতি, তেষাং বিধিবৈধুয্যেণ অপ্রামাণ্যৎ: তৎ কুতো ব্রহ্মসিদ্ধিরত আহ-ক্রিয়ার্থৈশ্চেতি। বিমতং স্বার্থে প্রমাণন্ অজ্ঞাতজ্ঞাপকত্বাৎ সম্মতবৎ। অতো বেদান্তশাস্ত্রাদেব ব্রহ্মসিদ্ধিরিতার্থঃ। সিদ্ধসাধ্যার্থভেদেন বৈষম্যাৎ অবিশিষ্ট- ত্বম্ অনিষ্টম্, ইত্যাশঙ্কোক্তং বিবৃণোতি-যথা চেতি। বিশিষ্টত্বং স্বরূপোপকারিত্বং ফলোপ- কারিত্বং চ পঞ্চমোক্তং প্রকারং পরায়ষ্টমেবম্ ইত্যাদিষ্টম্। অলৌকিকত্বং সাধয়তি-প্রত্যক্ষা- দীতি। কিঞ্চ, বেদান্তানামপ্রামাণ্যং বুদ্ধ্যমুৎপত্তের্ব্বা সংশয়াদ্যুৎপত্তের্ব্বা? নাদ্য ইত্যাহ-ন চেতি। ন দ্বিতীয় ইত্যাহ-ন চান্নিশ্চিতেতি। কোটিদ্বয়াস্পর্শিত্বাদবাধাচ্চেত্যর্থঃ। ৮।

ক্রিয়ার্থৈর্ব্বাক্যৈঃ বিদ্যার্থানাং বাক্যানাং সাধর্ম্মমুক্তমাক্ষিপতি-অনুষ্ঠেয়েতি। সাধর্ম্মান্তা- যুক্তত্বমেব ব্যনক্তি-ক্রিয়ার্থৈরিতি। বাক্যোখবুদ্ধের্যথার্থত্বাৎ বিধ্যভাবেহপি বাক্যপ্রামাণ্যম্ অজ্ঞাতজ্ঞাপকত্বেন অবিরুদ্ধমিতি পরিহরতি-ন জ্ঞানস্যেতি। অনুষ্ঠেয়নিষ্ঠত্বমন্তরেণ কুতো বস্তুনি প্রয়োগপ্রত্যয়য়োঃ তথার্থদ্বমিত্যাশঙ্ক্য তয়োর্বিষয়-তথার্থত্বং তদপেক্ষাস্বপ্রামাণ্যার্থত্বং বেতি বিকল্যাদ্যং দূষয়তি-ন হীতি। তদুভয়বিষয়স্য কর্তব্যার্থস্য তথার্থত্বং ন কর্তব্যত্বাপেক্ষং, কিন্তু মানগম্যত্বাৎ; অন্যথা বিপ্রলম্ভকবিধিবাক্যেহপি তথাত্বাপত্তেরিত্যর্থঃ। দ্বিতীয়ং প্রত্যাহ-ন

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৯৩

চেতি। বুদ্ধিগ্রহণং প্রয়োগোপলক্ষণার্থম্। কর্তব্যতার্থবিষয়প্রয়োগাদেঃ নানুষ্ঠেয়বিষয়ত্বাৎ মানত্বা, কিন্তু প্রমাকরণত্বাৎ তজ্জন্যত্বাচ্চ; অন্যথা উক্তাতিপ্রসক্তিতাদবস্থ্যাৎ, অতোহনুষ্ঠেয়নিষ্ঠত্বং মানত্বে অনুপযুক্তানিত্যর্থঃ।

কৃতস্তর্হি কাৰ্য্যাকায্যধিয়ৌ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—বেদেতি। বৈদিকার্থস্য অবাধেন তথার্থত্বে সিদ্ধে সমীহিতসাধনত্ববিশিষ্টং চেৎ বস্তু, তদা কর্ত্তব্যমিতি ধিয়া অনুতিষ্ঠতি। তচ্চেৎ অনিষ্ট- সাধনত্ববিশিষ্টং, তদা ন কার্য্যমিতি ধিয়া নানুতিষ্ঠতি। অতো মানাৎ তস্যানুষ্ঠানাননুষ্ঠানহেতু কাৰ্য্যাকায্যধিয়ৌ ইত্যর্থঃ। তথাপি ব্রহ্মণো বাক্যার্থত্বং পদার্থত্বং বা? নাদ্য ইত্যাহ—অননু- ষ্ঠেয়ত্ব ইতি। তস্য অকায্যত্বেহপি বাক্যার্থত্বং কিং ন স্যাদিত্যশঙ্ক্যাহ—ন হীতি। উভয়- ত্রাসতীতি চ্ছেদঃ। ৯।

দ্বিতীয়ং দূষয়তি-পদার্থত্বে চেতি। ব্রহ্মণঃ শাস্ত্রার্থত্বমেতৎ--ইত্যুচাতে। কাৰ্য্যাস্পৃষ্টে অর্থে বাক্যপ্রামাণ্যং দৃষ্টান্তেন সাধয়তি-নেত্যাদিনা। শুকৃষ্ণলোহিতমিশ্রলক্ষণং বর্ণচতুষ্টয়ং, তদ্বিশিষ্টো মেরুরস্তাত্যাদিপ্রয়োগে মের্ব্বাদৌ অকাযোহপি সমগধদশনাৎ তত্ত্বমসিবাক্যাদপি কাৰ্য্যাস্পৃষ্টে ব্রহ্মণি সমাগ্‌জ্ঞানসিদ্ধিরিতার্থঃ। দৃষ্টান্তেহপি কাযাধারের বাক্যাৎ উদেতীত্যা- শঙ্ক্যাহ-ন চেতি। ননু তত্র ক্রিয়াপদাধীনা পদসংহতিযুক্তা, বেদান্তেষু পুনস্তদভাবাৎ পদ- সংহত্যযোগাৎ কুতো বাক্যপ্রমাণকত্বং ব্রহ্মণঃ সম্ভবতি? তত্রাহ--তথোত।

বিমতমফলং সিদ্ধার্থজ্ঞানত্বাৎ সম্মতবৎ, ইত্যনুমানাত্তত্বমাদেঃ সিদ্ধার্থস্যাযুক্তং মানত্বম্, ইতি শঙ্কতে-মেবাদ’তি। শ্রুতিবিরোধেন অনুমানং ধুনীতে-নেত্যাদিনা। বিদ্বদনুভববিরোধাচ্চ নৈবমিত্যাহ-সংসারেতি। ফলশ্রুতেরর্থবাদত্বেন অমানত্বাৎ অনুমানাবাধকতা, ইত্যাশঙ্ক্যাহ- অনন্যেতি। পর্ণময়ীত্বাধিকরণন্যায়েন জুহ্বাং ফলশ্রুতেরর্থবাদত্ব যুক্তম্। ব্রহ্মাধয়ঃ অন্যশেষত্ব- প্রাপকাভাবাৎ তৎফলশ্রুতেরর্থবাদত্বাসিদ্ধরিতি; অন্যথা শারারকানারন্ত: স্যাদিত্যর্থঃ। ১০।

শ্রুতানুভবাভ্যাং বাক্যোথজ্ঞানস্য ফলবত্বদৃষ্টেযুক্ত, কাযাস্পৃষ্টে অর্থে তত্ত্বমস্যাদেমানতা ইত্যুক্তং, সম্প্রতি শাস্ত্রস্থ্য কায্যপরত্বানিয়মে হেত্বন্তরমাহ-প্রতিষিদ্ধেতি। যদ্যপি কলঞ্জভক্ষণা- দেরধঃপাতস্থ্য চ সম্বন্ধঃ ‘ন কলঞ্জং ভক্ষয়েৎ’ ইত্যাদিবাক্যাৎ প্রত্যয়তে, তথাপি তস্যানুষ্ঠেয়ত্বাৎ বাক্যস্যানুষ্ঠেয়নিষ্ঠত্বসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। সম্বন্ধস্য অভাবার্থহাৎ নানুষ্ঠেয়তা ইত্যর্থঃ। অভক্ষণাদি কাযামিতি বিধিপরত্বমের নিষেধবাকান্য কিং ন স্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। তস্যাপি কায্যার্থত্বে বিধিনিষেধভেদভঙ্গাৎ নঞশ্চ স্বসম্বন্ধাভাবাবোধনে মুখ্যস্যার্থান্তরে বৃত্তৌ লক্ষণাপাতান্নিষিদ্ধবিষয়ে রাগাদিনা প্রবৃত্তক্রিয়াবতো নিষেধশাস্ত্রার্থধীসংস্কৃতস্য নিষেধশ্রুতের- করণাৎ প্রসক্তক্রিয়ানিবৃত্ত্যপলক্ষিতাৎ ঔদাসীন্যাৎ অন্যদনুষ্ঠেয়’ ন প্রতিভাতীতার্থঃ। ভাববিষয়ং কর্তব্যত্বং বিধীনামর্থো ২ভাববিষয়ং তু নিষেধানামিতি বিশেষমাশঙ্ক্যাহ-অকর্তব্যতেতি। অভাবস্থ্য ভাবার্থত্বাভাবাৎ কর্তব্যতাবিষয়ত্বাসিদ্ধিরিতি হি শব্দার্থঃ।

প্রতিষেধজ্ঞানবতোহপি কলঞ্জভক্ষণাদিজ্ঞানদর্শনাৎ তন্নিবৃত্তেনিয়োগাধীনত্বাৎ তন্নিষ্ঠমেব বাক্যমেষ্টব্যমিতি চেৎ, ন, ইত্যাহ-ক্ষুধার্ত্তস্যেতি। বিষলিপ্তবাণহতস্থ্য পশোম্মাসং কলঞ্জং, ব্রহ্মবধাদ্যভিশাপমুক্তস্য চান্নপানাদি, তস্মিন্নভক্ষ্যে অভোজ্যে চ প্রাপ্তে যদ্রমজ্ঞানং ক্ষুৎক্ষামস্ত্যোৎ- পন্নঃ, তন্নিষেধধীসংস্কৃতস্য তদ্ধীস্মৃত্যা বাধ্যমিত্যত্র লৌকিকদৃষ্টান্তমাহ-মৃগতৃষ্ণিকায়ামিতি।

১৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তথাপি প্রবৃত্তাভাবসিদ্ধয়ে বিধিরর্থাতামিতি চেং; ন; ইত্যাহ-তস্মিন্নিতি। তদভাবঃ প্রবৃত্তা- ভাবো ন বিধিজন্যপ্রযত্নসাধ্যো নিমিত্তাভাবেনৈব সিদ্ধেরিত্যর্থঃ। দৃষ্টান্তমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। দাষ্টান্তিকমাহ-তথেতি। ন কেবলং তত্ত্বমস্যাদিবাক্যানাং সিদ্ধবস্তুমাত্রপয্যবসানতা, কিন্তু সর্ব্বকৰ্ম্মনিবর্তকত্বমপি সিধতীত্যাহ-তথেতি। অকর্ত্রভোক্তৃব্রহ্মাহমিতিজ্ঞানসংস্কৃতস্য প্রবৃত্তীনামভাবঃ স্যাদিতি সম্বন্ধঃ। তস্মাৎ ব্রহ্মভাবাদবিপরীতঃ অর্থঃ যস্য কর্তৃত্বাদিজ্ঞানস্য তন্নিমিত্তানাম্ অনর্থার্থত্বেন জ্ঞায়মানত্বাদিতি হেতুঃ। কদা পুনস্তাসামভাবঃ স্যাদত আহ-পরমাত্মাদীতি। ভ্রান্তিপ্রাপ্তভক্ষণাদিনিরাসেন নিবৃত্তিনিষ্ঠতয়া নিষেধবাক্যস্য মানত্ববৎ তত্ত্বমাদেরপি প্রত্যগ্‌জ্ঞানোথকর্তৃত্বাদিনিবর্তকত্বেন মানত্বোপপত্তিরিতি সমুদায়ার্থঃ। ১১।

দৃষ্টান্তদাষ্টান্তিকয়োনৈ সম্যমাশঙ্কতে-নম্বতি। তস্য নিষিদ্ধত্বাদনর্থার্থত্বমেব যদ্বস্তুযাপাত্মা তজ জ্ঞানেন নিষেধে কৃতে তৎসংস্কারদ্বারা সম্পাদিতস্মৃত্যা শাস্ত্রীয়জ্ঞানবিপরীতজ্ঞানে বাধিতে তৎকাৰ্য্যপ্রবৃত্ত্যভাবে: নিমিত্তাভাবে নৈমিত্তিকাভাবন্যায়েন যুক্তঃ, ন তথাহগ্নিহোত্রাদিপ্রবৃত্ত্য- ভাবো যুক্তঃ। ব্রহ্মবিদা অগ্নিহোত্রাদি ন কর্ত্তব্যমিতি নিষেধানুপলম্ভাদিত্যর্থঃ। তত্ত্বমস্যাদি- বাক্যেন অর্থান্নিষিদ্ধমগ্নিহোত্রাদীতি মন্থানঃ সামামাহ-নেত্যাদিনা। শাস্ত্রীয়প্রবৃত্তীনা’ গভ- বাসাদিহেতুত্বাদনর্থার্থত্বমহং কর্ত্তেত্যাদ্যভিমানকৃতত্বেন বিপরীতজ্ঞাননিমিত্তত্বম্। এতদেব দৃষ্টান্তাবষ্টন্তেন স্পষ্টয়তি-কলঞ্জেতি। ১২।

কাম্যানামজ্ঞানহেতুত্বানর্থার্থহাভ্যাং বিদুষস্তেষু প্রবৃত্তভাবো যুক্ত, নিত্যানা তু শাস্ত্রমাত্র- প্রযুক্তানুষ্ঠানত্বান্নাজ্ঞানকৃতত্বং প্রত্যবায়াগ্যানর্থধ্বসিত্বাচ্চ নানর্থকরত্বমতস্তেষু প্রবৃত্ত্যভাবে যুক্তো ন ভবতীতি শঙ্কতে-নম্বিতি। নিত্যানাং শাস্ত্রমাত্রকৃতানুষ্ঠানত্বমসিদ্ধমিতি পরিহরতি- নেত্যাদিনা। তদেব প্রপঞ্চয়তি-যথেতি। অবিদ্যাদীত্যদিশব্দেন অস্মিতাদিক্লেশচতুষ্টয়োক্তিঃ। তৈরবিদ্যাদিভিজ’নিতেষ্টপ্রাপ্তৌ তাদৃগনিষ্টপ্রাপ্তৌ চ ক্রমেণ রাগদ্বেষবতঃ পুরুষস্য ইষ্টপ্রাপ্তি- মনিষ্টপরিহারং চ বাঞ্ছতস্তাভ্যামেব রাগদ্বেষাভ্যামিষ্ট: মে ভূয়াদনিষ্ট’ মা ভূদিতি অবিশেষ- কামনাভিপ্রেরিতাবিশেষপ্রবৃত্তিযুক্তস্য নিত্যানি বিধীয়ন্তে। স্বর্গকামঃ পশুকাম ইতি বিশেষাধিনঃ কাম্যানি। তুল্যং তু উভয়েষা’ কেবলশাস্ত্রানিমিত্তত্বমিত্যর্থঃ।

কিঞ্চ, কাম্যানাং দুষ্টত্বং ক্রবতা নিত্যানামপি তদিষ্টমুৎপত্তিবিনিয়োগপ্রয়োগাধিকারবিধি- রূপে বিশেষাভাবাদিত্যাহ—ন চেতি। কথং তহি কামানিত্যবিভাগস্তত্রাহ--কর্তৃগতেনেতি। স্বর্গকামঃ পশুকামঃ ইতিবিশেষাধিনঃ কামাবিধিরিষ্টং মে স্যাদনিষ্টং মা ভূদিতি অবিশেষকাম- প্রেরিতাবিশেষিতপ্রবৃত্তিমতো। নিত্যবিধিরিত্যুক্তমিত্যর্থঃ। নন্ববিদ্যাদিদোষবতো নিত্যানি কম্মাণীত্যযুক্তং, পরমাত্মজ্ঞানবতোহপি যাবজ্জীবশ্রুতেন্তেষামনুষ্ঠেয়ত্বাৎ, ইত্যাশঙ্কা শ্রুতেরবিরক্ত- বিষয়ত্বাৎ মৈবমিত্যাহ—ন পরমাত্মেতি।

“যোগাভ্যাসং তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে”

ইতি স্মৃতেজ্ঞানপরিপাকে কারণং কর্ম্মোপশম এব প্রতীয়তে, ন ‘তথা কৰ্ম্মবিধিরিত্যর্থঃ। ম কেবলং বিহিতং নোপলভ্যতে, ন সম্ভবতি চেত্যাহ-কৰ্ম্মনিমিত্তেতি। যদা নাসি ত্বং সংসারা, কিন্তু অকর্ত্রভোক্তৃ ব্রহ্মাসীতি শ্রুত্যা জ্ঞাপাতে, তদা দেবতায়াঃ সম্প্রদানত্বং করণত্বং ব্রীহাদেরি- ত্যেতৎ সর্ব্বমুপমৃদিতং ভবতি। তৎকথমকর্ত্রাদিজ্ঞানবতঃ সম্ভবতি কৰ্ম্মবিধিরিত্যর্থঃ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৯৫

উপমৃদিতমপি বাসনাবশাদুদ্ভবিষ্যতি, ততশ্চ বিদুষোহপি কৰ্ম্মবিধিঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। বাসনাবশাদুদ্ভুতস্যাভাসহাৎ আত্মস্মৃত্যা পুনঃপুনর্বাধাচ্চ বিদুষো ন কৰ্ম্মপ্রবৃত্তিরিত্যর্থঃ। কিঞ্চানবচ্ছিন্নং ব্রহ্মাস্মীতি স্মরতস্তদাত্মকস্য দেশাদিসাপেক্ষং কৰ্ম্ম নিরবকাশমিত্যাহ-ন হীতি। বিদুষে। ভিক্ষাটনাদিবৎ কর্মাবসরঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-ভোজনাদীতি। অপরোক্ষজ্ঞানবতো বা পরোক্ষজ্ঞানবতো বা ভোজনাদিপ্রবৃত্তিঃ। নাদ্যঃ, অনভ্যুপগমাৎ তৎপ্রতীতের্ব্বাধিতামুবৃত্তি- মাত্রত্বাৎ, অগ্নিহোত্রাদেরবাধিতাভিমাননিমিত্তস্য তথাত্বানুপপত্তেরিত্যভিপ্রেত্যাহ-নেতি। ন দ্বিতীয়ঃ। পরোক্ষজ্ঞানিনঃ শাস্ত্রানপেক্ষক্ষুৎপিপাসাদিদোষকৃতত্বাৎ তৎপ্রবৃত্তেরিষ্টত্বাদিত্যাহ- অবিদ্যাদাঁতি। অগ্নিহোত্রাদ্যপি তথা স্যাদিতি চেৎ; ন; ইত্যাহ-ন স্থিতি। ভোজনাদি- পবত্তের। বশ্যকত্বানুপপত্তি’ বিবৃণোতি-কেবলেতি। ১৩।

ন তু তথেত্যাদি প্রপঞ্চয়তি-শাস্ত্রনিমিত্তেতি। তর্হি শাস্ত্রবিহিতকালাদ্যপেক্ষত্বাৎ নিত্যা- নামদোষপ্রভবত্বং ভবেদিতাশঙ্ক্যাহ-দোষেতি। এবং দোষকৃতত্বেপি নিত্যানাং শাস্ত্রসাপেক্ষত্বাৎ কালাদ্যপেক্ষত্বমবিরুদ্ধমিত্যাহ-এবমিতি। ভোজনাদেদোষকৃতত্বেহপি---

“চাতুর্ব্বর্ণঃ চরেদ্ ভক্ষ্যং সতীনাস্তু চতুষ্পদঃ”

ইত্যাদিনিয়মবৎ বিদুষোনিহোত্রাদিনিয়মোহপি স্যাদিতি শঙ্কতে-তত্ত্বোজনাদীতি। বিদুষো নাস্তি ভোজনাদিনিয়মঃ, অতিক্রান্তবিধিত্বাৎ। ন চ এতাবতঃ যথেষ্টচেষ্টাপত্তিঃ, অধৰ্মাধীনা অবিবেককৃতা হি সা! ন চ তোঁ বিদুষো বিদ্যতে। অতোহবিদ্যাবস্থায়ামপি অসতী যথেষ্টচেষ্টা বিদ্যাদশায়াং কৃতঃ স্যাৎ। সংস্কারস্যাপ্যভাবাৎ। বাধিতানুবৃত্তেশ্চ। অগ্নিহোত্রাদেস্তনাভাসত্বাৎ ন বাধিতানুবৃত্তিরিত্যাহ-নেতি। কিঞ্চ অবিদুষাং বিবিদিঘুণামেষ নিয়মঃ: তেষাং বিধিনিষেধ- গোচরত্বাৎ। নচ তেষামপোষ জ্ঞানোদয়পরিপন্থী। তস্যান্যনিবৃত্তিরূপস্য স্বয়ংক্রিয়াত্বাভাবাৎ। নাপি সক্রিয়ামাক্ষিপন্ ব্রহ্মবিদ্যাং প্রতিক্ষিপতি। অন্যনিবৃত্ত্যাত্মন: তদাক্ষেপকত্বাসিদ্ধেরিত্যাহ- নিয়মস্যেতি।

কৰ্ম্মসু রাগাদিমতোহধিকারাদ্বিরক্তস্য জ্ঞানাধিকারাজ, জ্ঞানিনো হেত্বভাবাদেব কৰ্মাভাবাৎ তস্য ভোজনাদ্যতুলাত্বাৎ, তত্ত্বমাদেঃ সর্বব্যাপারোপরমাত্মকজ্ঞানহেতোনিবর্তকত্বেন প্রামাণ্যং প্রতিপাদিতমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। তস্য বিধিরুৎপাদকং বাকাম্, তস্য নিষেধবাক্যবৎ তত্ত্ব- জ্ঞানহেতোঃ তদ্বিরোধিমিথ্যাজ্ঞানধ্বংসিত্বাদশেষবাপারনিবত্তকত্বেন কূটস্থবস্তুনিষ্ঠস্য যুক্তং প্রামা- ণ্যম্। মিথ্যাজ্ঞানধ্বংসে হেত্বভাবে ফলাভাবন্যায়েন সর্ব্বকৰ্ম্মনিবৃত্তেরিতার্থঃ। তৎপদোপাত্তং হেতুমেব স্পষ্টয়তি-কৰ্ম্মপ্রবৃত্তাতি। যথা প্রতিষেধ্যে ভক্ষণাদৌ প্রতিষেধশাস্ত্রবশাৎ প্রবৃত্ত্যভাবস্তথা তত্ত্বমস্যাদিবাক্যসামর্থ্যাৎ কৰ্ম্মস্বপি প্রবৃত্ত্যভাবস্থ্য তুলাত্বাৎ প্রামাণ্যমপি তুল্যমিত্যর্থঃ। প্রতিষেধ- শাস্ত্রসাম্যে তত্ত্বমস্যাদিশাস্ত্রস্যোচ্যমানে তথৈব নিবৃত্তিনিষ্ঠত্বং স্যাৎ, ন বস্তুপ্রতিপাদকত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ -তস্মাদিতি। প্রতিষেধে। হি প্রসক্তক্রিয়াং নিবর্ত্তয়ংস্তদুপলক্ষিতৌদাসীন্যাত্মকে বস্তুনি পর্যবস্থ্যতি। তথা তত্ত্বমস্যাদিবাক্যস্যাপি বস্তুপ্রতিপাদকত্বমবিরুদ্ধমিত্যর্থঃ। বেদান্তানাং সিদ্ধে প্রামাণ্যবৎ অর্থবাদানীনামন্যপরাণামপি সংবাদবিসংবাদয়োরভাবে স্বার্থে মানত্বসিদ্ধৌ সিদ্ধা বিশুদ্ধ্যাদিগুণবর্তী প্রাণদেবতেতি চকারার্থঃ ॥ ১০১॥

৯৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যানুবাদ। ‘দ্বয়া’ অর্থ দুই প্রকার। ‘হ’ শব্দ পূর্ব্ববৃত্তান্তসূচক ‘নিপাত’ পদ। বর্তমান কল্পীয় প্রজাপতির পূর্ব্বজন্মে যাহা ঘটিয়াছিল, ‘হ’ শব্দে তাহাই প্রকাশ করিয়া দিতেছে। প্রাজাপত্য অর্থ-প্রজাপতির সন্তানগণ; অর্থাৎ প্রজাপতির জন্মোত্তরকালীন সমুৎপন্ন সন্তানগণ। তাহারা কে কে? দেবতা ও অসুরগণ, অর্থাৎ সেই প্রজাপতিরই বাক্প্রভৃতি প্রাণসমূহ। তাহাদের দেবত্ব ও অসুরত্ব হইল কি প্রকারে? তাহা বলা হইতেছে-প্রাণসমূহ শাস্ত্রোপদিষ্ট জ্ঞান ও কৰ্ম্মানুষ্ঠান-লব্ধ সংস্কারসম্পন্ন হওয়ায় জ্ঞানোৎকর্ষ নিবন্ধন দেবতা-পদবাচ্য হয়, তাহারাই আবার লোকসিদ্ধ প্রত্যক্ষ ও অনুমানের সাহায্যে ঐহিক প্রয়োজনমাত্র- সাধনক্ষম জ্ঞান ও কৰ্ম্মানুষ্ঠান-জনিত সংস্কারবিশিষ্ট হইয়া কেবল নিজ নিজ প্রাণপরি- তৃপ্তিতে রত থাকে বলিয়া, অথবা সুর-দেবতা হইতে ভিন্ন বলিয়া অসুরপদবাচ্য হয়(৩)। যেহেতু অসুরগণ স্বভাবতই ঐহিক প্রয়োজনসাধক কৰ্ম্ম ও জ্ঞানে অনুরক্ত, সেই হেতুই দেবগণ কানীয়স। কানীয়স অর্থ-কনীয়ান্(কনিষ্ঠ) অর্থাৎ অল্পসংখ্যক। ‘কনীয়স্’ শব্দের উত্তর স্বার্থে অণু প্রত্যয়ে বৃদ্ধি করিয়া ‘কানীয়স’ পদ নিষ্পন্ন করা হইয়াছে। আর অসুরগণ জ্যায়স অর্থাৎ অধিক; বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণের শাস্ত্রোপদিষ্ট কৰ্ম্ম ও জ্ঞান-প্রবৃত্তি অপেক্ষা, স্বাভাবিক অনুরাগমূলক ঐহিক কৰ্ম্ম ও জ্ঞানানুষ্ঠানেই সমধিক প্রবৃত্তি হইয়া থাকে; এই জন্য অসুরের সংখ্যা অধিক। শাস্ত্রোপদিষ্ট জ্ঞান ও কৰ্ম্মানুষ্ঠান স্বভাবতই বহু আয়াস-সাধ্য; সুতরাং তদ্বিষয়ে প্রবৃত্তিও অতি অল্প; কাজেই দেবতাগণের সংখ্যায় অল্পতা ঘটিয়াছে। ১।

প্রজাপতির শরীরস্থিত সেই দেবতা ও অসুরগণ এই লোকের নিমিত্ত স্পর্দ্ধা করিয়াছিল, অর্থাৎ অসুরগণ স্বভাবসিদ্ধ অনুরাগমূলক কৰ্ম্ম ও জ্ঞান-সাধ্য বিষয়

(৩) তাৎপর্য্য—এখানে বুঝিতে হইবে যে, সাত্ত্বিক ও রাজসিক বৃত্তিবিশিষ্ট বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ই ক্রমে ‘দেবতা’ ও ‘অসুর’ নামে অভিহিত হইয়াছে। ইন্দ্রিয়গণের সাত্ত্বিক ও রাজসিক বৃত্তিসমূহের মধ্যে পরস্পর বিরোধ চিরকালই আছে; চিরকালই একে অপরকে অভিভূত করিয়া নিজের প্রাধান্য লাভ করিতে চেষ্টা করে। এই সাত্ত্বিক বৃত্তিসমূহ(দেবতাগণ) চাহে—শাস্ত্রের উপদেশানুসারে তত্ত্বজ্ঞানের অনুশীলন ও সৎকর্ম্মের অনুষ্ঠান করিতে, আর রাজস বৃত্তিসমূহ (অসুরগণ) চাহে—লোকসিদ্ধ প্রত্যক্ষ ও অনুমানের সাহায্যে পরিজ্ঞাত ঐহিক সুখসম্ভোগ ও তৎসাধনের অনুষ্ঠান করিতে। প্রজাপতির ন্যায় প্রত্যেক জীবের—বিশেষতঃ মনুষ্যের হৃদয়ে এই দেবাসুর-সংগ্রাম অহরহ চলিতেছে। মনে হয়, শ্রুতির এই দেবাসুর-সংগ্রামের ছায় অবলম্বনেই পুরাণ শাস্ত্রে দেবাসুর-সংগ্রামের সৃষ্টি হইয়াছে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ৯৭

ভোগের জন্য, আর দেবগণ শাস্ত্রোপদেশলব্ধ কৰ্ম্ম ও জ্ঞানসাধ্য বিষয় পাইবার নিমিত্ত পরস্পর স্পর্দ্ধা করিয়াছিলেন। এখানে স্পর্দ্ধা অর্থ-দেবতা ও অসুর- গণের সাময়িক বৃত্তিবিশেষের উদ্ভব ও অভিভব, অর্থাৎ কখনও প্রাণের মধ্যে শাস্ত্রোপদিষ্ট কৰ্ম্ম ও জ্ঞানচিন্তাত্মক বৃত্তি(ব্যাপার) প্রকাশ পাইয়া থাকে। যখন ঐ প্রকার বৃত্তি প্রাদুর্ভূত হয়, তখন সেইসকল প্রাণের প্রত্যক্ষ ও অনুমানলব্ধ ঐহিক প্রয়োজনসাধক জ্ঞান ও কৰ্ম্মভাবনাত্মক আসুরী বৃত্তি পরাজিত হইয়া, যায়; তাহাই হইতেছে দেবগণের জয়, আর অসুরগণের পরাজয়। কখনও বা বিপরীতক্রমে দৈবী বৃত্তি অভিভূত হয়, আর আসুরী বৃত্তি প্রাদুর্ভূত হয়; তাহাই অসুরগণের জয়, আর দেবগণের পরাজয়। এই প্রকারে যখন দেবগণের জয় হয়, তখন ধৰ্ম্মপ্রবৃত্তি বহুলপরিমাণে বৃদ্ধি পায়, এবং তাহার ফলে প্রজা- পতিত্ব লাভপর্যন্ত উৎকর্ষপ্রাপ্তি ঘটে, আবার যখন অসুরগণের প্রাধান্য হয়, তখন অধর্ম্মের বাহুল্য ঘটে, তাহার ফলে স্থাবরত্বপ্রাপ্তি পর্যন্ত অধোগতি হইয়া থাকে; আর যখন উভয়ের সমতা ঘটে, তখন মনুষ্যত্বপ্রাপ্তি হইয়া থাকে। ২।

আধিকা নিবন্ধন অসুরগণ কর্তৃক অল্পসংখ্যক দেবগণ এইরূপে পরাজিত হইয়া কি করিয়াছিলেন, তাহা কথিত হইতেছে—দেবগণ অসুরগণকর্তৃক পরাজিত হইয়া পরস্পরকে বলিয়াছিলেন। তাহা কি প্রকার? ভাল, এখন আমরা এই জ্যোতি- ষ্টোমনামক যজ্ঞে উদ্গীথ দ্বারা, অর্থাৎ উদ্গীথ ক্রিয়ার কর্তৃত্ব গ্রহণ করিয়া অসুর- গণকে পরাজিত করিব,—অসুরগণকে পরাভূত করিয়া শাস্ত্রোপদিষ্ট স্বীয় দেবভাব লাভ করিব, এই কথা পরস্পরকে বলিয়াছিলেন। এখানে বুঝিতে হইবে, উক্ত উদ্গীথ ক্রিয়ার কর্তৃত্বগ্রহণও জ্ঞান ও কর্ম্মের সাহায্যে নিষ্পন্ন হইয়া থাকে। তন্মধ্যে কৰ্ম্ম হইতেছে বক্ষ্যমাণ মন্ত্রজপাত্মক, যাহা “তদেতানি জপেৎ” এইরূপে বিহিতহইবে; আর এখানেই যাহার স্বরূপ নিরূপণ করা হইতেছে, তাহা হইতেছে সেই জ্ঞান। ৩

ভাল কথা, “দ্বয়া হ” ইত্যাদি বাক্যটী ত জ্ঞানবিধিপর নহে, অর্থাৎ উপাসনার বিধায়ক নহে, পরন্তু উহা হইতেছে দেবত্বলাভের উপায়ভূত জপবিধিরই অঙ্গ—অর্থ- বাদ মাত্র(উৎকর্ষবোধক প্রশংসামাত্র),[সুতরাং এখানে জ্ঞান-নিরূপণের কথা বলা হইতেছে, বল কি প্রকারে?] না,—এ আপত্তি সঙ্গত হইতে পারে না। কারণ, “যঃ এবং বেদ” বলিয়া এখানে উপাসনারই বিধান করা হইয়াছে।[আচ্ছা, ইহা জপবিধির প্রশংসাপর অর্থবাদ না হয়, না হউক, কিন্তু] উদ্‌গীথপ্রকরণে “উদগায়ৎ” এইরূপ অতীতকালীন ঘটনার উল্লেখ থাকায় ইহা ত উদ্‌গীথ ক্রিয়ারই বিধায়ক হইতে পারে? না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, প্রথমতঃ, ইহা উদ্‌গীথক্রিয়ার

১৩

৯৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রকরণই নয়; দ্বিতীয়তঃ, অন্যত্রই(কর্মকাণ্ডেই) উদ্গীথের বিধান রহিয়াছে; [একই ক্রিয়ার দুইবার বিধান হইতে পারে না।] তৃতীয়তঃ, এটা বিদ্যারই(উপা- সনারই) প্রকরণ। অভিপ্রায় এই যে, এখানে যে, উদ্গীথের প্রতীতি হইতেছে, তাহা উদ্গীথ-বিদ্যারই বিধায়ক, ক্রিয়া কিংবা জপের বিধায়ক নহে। চতুর্থতঃ, এখানে অভ্যারোহ-জপের নিত্যবিধি বা অবশ্য-কর্তব্যতা নাই, পরন্তু উদ্গীথ- বিজ্ঞান-সম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষেই ইহা প্রযোজ্য;[বিজ্ঞানের পূর্ব্বে ত তাহার বিধান করা সম্ভব হয় না]। পক্ষান্তরে, বিজ্ঞানেরই নিত্যতাবোধক অনুরূপ বিধিশ্রুতি রহিয়াছে; পঞ্চমতঃ, বিজ্ঞানের সম্বন্ধেই “তদ্ধৈতল্লোকজিদেব” ইত্যাদি ফলশ্রুতিও রহিয়াছে; ষষ্ঠতঃ, প্রাণ ও বাগাদির সম্বন্ধে শুദ്ധി ও অশুদ্ধির উল্লেখ রহিয়াছে; [যাহার বিধান হয়, তাহারই প্রশংসা করা আবশ্যক হয়, কিন্তু প্রাণ] যদি উপাস্যই না হইত, তাহা হইলে প্রাণের বিশুদ্ধি বর্ণনা(নিষ্পাপত্ব কথন) কথন, এবং তাহার সহিত একসঙ্গে নিদ্দিষ্ট বাগাদির অশুদ্ধি কথন, আর বাক্প্রভৃতির নিন্দা দ্বারা মুখ্যপ্রাণের প্রশংসা জ্ঞাপন শ্রুতির অভিপ্রেত হইলেও উপপন্ন হইতে পারে না, এবং ‘মৃত্যু অতিক্রম করিয়া দীপ্তি লাভ করে’ ইত্যাদি ফল-কথনও সঙ্গত হইতে পারে না। কেন না, বাক্ প্রভৃতির যে, অগ্ন্যাদিভাবপ্রাপ্তি, তাহা ত প্রাণ-স্বরূপত্ব প্রাপ্তিরই ফল ভিন্ন আর কিছুই নহে,[অথচ বিজ্ঞানের বিধি না পাকিলে প্রাণস্বরূপতা প্রাপ্তি হইতেই পারে না।] ৪

আচ্ছা, প্রাণের উপাসনা বিহিত হয়, হউক; কিন্তু প্রাণের বিশুদ্ধি প্রভৃতি গুণসম্বন্ধ ত কখনও বিহিত হইতে পারে না। না, শ্রুতিতে যখন গুণের উল্লেখ রহিয়াছে, তখন নিশ্চয়ই উহা বিহিত হইতে পারে। না-তাহাও হইতে পারে না; কারণ, প্রাণের উপাস্যত্ব নিবন্ধন তাহার প্রশংসার্থও ঐরূপ গুণের উল্লেখ হইতে পারে। না,-তাহা হইতে পারে না; কারণ, লোকব্যবহারের ন্যায় [শ্রুতিতেও] যথার্থ বস্তুবিজ্ঞান হইতেই প্রকৃত শ্রেয়ঃপ্রাপ্তির কথাই দেখিতে পাওয়া যায়। জগতে যে ব্যক্তি যথার্থ বস্তু গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তিই আপনার অভীষ্ট বিষয় প্রাপ্ত হয়, কিংবা অনিষ্টপ্রাপ্তি হইতে নিবৃত্ত হয়,[কিন্তু ভ্রান্ত বিষয় গ্রহণের ফলে কখনই ঐরূপ হয় না।] ঠিক সেইরূপ, এস্থলেও শ্রুতিবাক্যের যথার্থ অর্থ উপলব্ধি করিলেই তাহা হইতে প্রকৃত শ্রেয়ঃপ্রাপ্তি সঙ্গত হয়, কিন্তু তাহার বিপরীত হইলে হয় না। আর উপাসনাবিধায়ক শ্রুতিবাক্য হইতে যে, জ্ঞান সমুৎ- পন্ন হইয়া থাকে, তদ্বিষয়ীভূত পদার্থের অসত্যতা বিষয়ে যে, কোন প্রকার প্রমাণ আছে, তাহাও নহে। বিশেষতঃ, তাদৃশ জ্ঞানের কোথাও নিন্দা বা অসত্যতাও

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

৯৯

শুনা যাইতেছে না; বরং তাহা হইতে যখন শ্রেয়ঃসিদ্ধির কথা দেখা যায়, তখন তাহার সত্যতাই আমরা বুঝিয়া থাকি; কারণ, বিপর্যয় জ্ঞানে বা ভ্রান্তিবুদ্ধিতে অনর্থলাভই—দুঃখপ্রাপ্তিই দেখা যায়। জগতে যে ব্যক্তি বিপরীত বা অসত্য বিষয় গ্রহণ করে—যেমন মনুষ্যকে স্থাণুরূপে, কিংবা শত্রুকে মিত্ররূপে মনে করে, সে ব্যক্তির অনর্থপ্রাপ্তিই দেখা যায়। বিশেষতঃ, শ্রুতি হইতে পরিজ্ঞাত আত্মা, ঈশ্বর ও দেবতা প্রভৃতি যদি অসত্যই হইবে, তাহা হইলে, নিশ্চয়ই বিপরীতার্থগ্রাহক, শাস্ত্রও লোকব্যবহারের ন্যায় কেবল অনর্থপ্রাপ্তিরই কারণ হইয়া দাঁড়ায়; অথচ কেহই ত তাহা স্বীকার করে না। অতএব বুঝিতে হইবে যে, শাস্ত্র যে, উপাসনার্থ আত্মা, ঈশ্বর ও দেবতাপ্রভৃতি প্রতিপাদন করিয়া থাকে, সে সমুদয়ই সত্য(কোনটাই মিথ্যা বা আরোপিত নহে)। ৫

: কৰ্ম্মমীমা সকের আপত্তি-(১)] যদি বল, অবহ নামপ্রভৃতিতেও ব্রহ্ম- দৃষ্টির বিধান দেখিতে পাওয়া যায়; সুতরাং তোমার উক্ত কথা ত যুক্তিযুক্ত নহে, অর্থাৎ যদি বল, নাম প্রভৃতির যে, অব্রহ্মত্ব, ইহা ত স্পষ্টই বুঝিতে পারা যায়, অথচ স্থাণু প্রভৃতিতে মনুষ্যবুদ্ধির ন্যায় সেই অব্রহ্ম নামাদিতেও শাস্ত্রকে তদ্বিপরীত(অসত্য) ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান করিতে দেখা যায়; অতএব শাস্ত্র হইতে যে, যথার্থ বিষয়েরই জ্ঞান এবং সেই জ্ঞানেই যে, শ্রেরঃপ্রাপ্তি হয়-বলা হইয়াছে, তাহা ত যুক্তিসঙ্গত হয় নাই। না-ইহাও অসঙ্গত হয় না; কারণ, প্রতিমাপ্রভৃতিতে যেমন ভেদপ্রতীতি হইয়া থাকে, তেমনি এখানেও ভেদোপলব্ধি রহিয়াছে। আর শাস্ত্র যে, অব্রহ্ম নামপ্রভৃতিতে ব্রহ্মদৃষ্টির উপদেশ দিয়া থাকেন, তাহা যে, স্থাণু প্রভৃতিতে পুরুষদৃষ্টির ন্যায় অসত্য বলিয়াছ; তাহাও ভাল বল নাই। কারণ? যাহারা নামপ্রভৃতিকে ব্রহ্ম হইতে পৃথক্ বস্তু বলিয়া অবগত আছেন, তাহাদের সম্বন্ধেই নামপ্রভৃতিতে ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান করা হইয়া থাকে-অর্থাৎ প্রতিমাপ্রভৃতিতে যেরূপ ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান করা

(১) তাৎপর্য্য—মীমাংসকের অভিপ্রায় এই যে, যাগাদি ক্রিয়া প্রতিপাদন করাই বেদের একমাত্র উদ্দেশ্য। যেখানে ক্রিয়াবিধি নাই—কেবলই বস্তুবিশেষের স্বরূপ-কথন মাত্র আছে, সেখানে বেদবাক্যের প্রামাণ্য নাই; সুতরাং কেবলই ব্রহ্ম-প্রতিপাদক “সত্যং জ্ঞানমনস্তং ব্রহ্ম” ইত্যাদি বাক্যও অপ্রমাণ, কাজেই এই প্রকার বেদবাক্য দ্বারা ব্রহ্মের অস্তিত্ব সিদ্ধ হয় না; অতএব ব্রহ্ম কেবল কল্পিত পদার্থ মাত্র—অসৎ। সত্য নামাদিতে সেই কল্পিত পদার্থেরই আরোপপূর্ব্বক চিন্তার উপদেশ করা হইয়াছে। ভাষ্যকার এই আপত্তির খণ্ডনার্থ উদাহরণরূপে কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করিয়াছেন।

১০০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

হইয়া থাকে, ইহাও ঠিক তদ্রূপই। আর নামপ্রভৃতিতে যে ব্রহ্মদৃষ্টি, তাহাও ঠিক প্রতিমাপ্রভৃতি আলম্বনে ব্রহ্মদৃষ্টির ন্যায় আলম্বনরূপেই(চিন্তার বিষয়রূপেই) বিহিত হইয়া থাকে; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু নামপ্রভৃতিই ব্রহ্মস্বরূপ নহে। স্থাণুকে (শাখাদিবিহীন বৃক্ষকে) স্থাণু বলিয়া বুঝিতে না পারিলে, তাহাতে যেরূপ তদ্বিপরীত ভ্রমাত্মক মনুষ্যাকারে নিশ্চয়-বুদ্ধি উৎপন্ন হয়, নামপ্রভৃতিতে ব্রহ্মবুদ্ধি কিন্তু তদ্রূপ বিপরীত জ্ঞান বা ভ্রান্তিবুদ্ধি নহে,(তাহা আলম্বনবিষয়ক যথার্থ বুদ্ধিই বটে)(২)। ৬

যদি বল, কথিত স্থলে কেবল ব্রহ্মদৃষ্টিরই বিধান করা হইয়াছে মাত্র, বস্তুতঃ ব্রহ্ম বলিয়া কোনও পদার্থ নাই। ইহা দ্বারা প্রতিমা ও ব্রাহ্মণ প্রভৃতির উপর যে বিষ্ণুত্ব, দেবত্ব ও পিতৃত্বাদি দৃষ্টি, তাহারও তুল্যতা প্রদর্শিত হইল। না, এ কথাও বলিতে পার না; কারণ, ঋক্(মন্ত্র) প্রভৃতিতে যে, পৃথিব্যাদি দৃষ্টির বিধান দেখিতে পাওয়া যায়, সেখানে ঋক্প্রভৃতি বিষয় বিদ্যমানই রহিয়াছে, পৃথিবী প্রভৃতি সত্য বস্তুরই তাহাতে দৃষ্টিমাত্র-আরোপের বিধান দেখিতে পাওয়া যায়, (কিন্তু অসং পদার্থের নহে)। অতএব তাহার সহিত সাম্য থাকায়, নামপ্রভৃতিতে যে, ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান, সেখানেও দৃষ্টির বিষয়ীভূত ব্রহ্মপ্রভৃতি বিষয়ের বিদ্যমানতা বা সত্যতা সিদ্ধ হইতেছে। এই যুক্তি অনুসারে, প্রতিম। ও ব্রাহ্মণ প্রভৃতিতেও বিষ্ণু, দেবতা ও পিতৃত্বাদি দৃষ্টির বিষয়ীভূত বস্তুগুলির সত্যতা সিদ্ধ হইতেছে(৩)। বিশেষতঃ গৌণ বা আরোপজ্ঞান মাত্রই মুখ্যাপেক্ষিত অর্থাৎ সত্য-বস্তু সাপেক্ষ; যেমন ‘পঞ্চাগ্নিবিদ্যা’ প্রভৃতি স্থলে[আরোপিত] অগ্নির

(২) তাৎপর্য্য—জ্ঞানমাত্রেরই একটি বিষয় থাকে, কস্মিন্কালেও নির্বিষয়ক জ্ঞান হইতে পারে না; অথচ নির্গুণ ব্রহ্ম কখনই সাধারণ জ্ঞানের বিষয়ীভূত হন না; এই জন্য ব্রহ্মচিন্তায় প্রথমতঃ কোন একটা স্থূল বিষয় অবলম্বন করিবার প্রয়োজন হয়, নাম প্রভৃতি বিষয়গুলিই ব্রহ্মচিন্তার সেই প্রাথমিক বিষয় বা আলম্বন। অধ্যাত্মশাস্ত্রে প্রধানতঃ ঐরূপ জ্ঞানের বিষয়কেই আলম্বন বলিয়া নির্দেশ করা হইয়া থাকে।

(৩) তাৎপর্য্য--কৰ্ম্ম-মীমাংসক আপত্তি করিয়াছিলেন যে, নামপ্রভৃতি অব্রহ্ম পদার্থে যে, ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান আছে, বুঝিতে হইবে, সেখানে ব্রহ্ম বলিয়া কোনও পদার্থ নাই; কেবল ঐ অসত্য ব্রহ্মরূপে নামাদিরই চিন্তা করিবার বিধান করা হইয়াছে মাত্র। তদুত্তরে ভাষ্যকার বলিতেছেন যে, না, এ কথা ঠিক হইতেছে না; কারণ, যদি ব্রহ্ম বলিয়া কোনও সত্য বস্তু না ‘থাকিত, তাহা হইলে অব্রহ্ম নামাদিতে ব্রহ্মবুদ্ধি করা কখনও কাহারো পক্ষে সম্ভবপর হইত না; সর্প বলিয়া একটা সত্য বস্তু না থাকিলে, কখনই রজ্জুতে সর্পবুদ্ধি হইতে পারিত না। বিশেষতঃ উপনিষদের মধ্যেও অন্যত্র দেখিতে পাওয়া যায় যে, ঋক্ প্রভৃতি বেদভাগকে পৃথিবী

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্।

১০১

গৌণত্ব নিবন্ধন মুখ্য অগ্নির সদ্ভাব সিদ্ধ হইয়া থাকে,(৪) তদ্রূপ এখানেও নামপ্রভৃতিতে ব্রহ্মভাবের গৌণত্ব নিবন্ধন মুখ্য বা সত্য ব্রহ্মেরও সদ্ভাব প্রমাণিত হইতেছে। ৭

অপিচ, যাগাদি ক্রিয়ার ন্যায় বিদ্যাবিষয়ে উপাস্যসম্বন্ধেও কোনও পার্থক্য না থাকায় ব্রহ্মসদ্ভাব সিদ্ধ হইতেছে। যেমন বিশিষ্ট ফলের জন্য বিশিষ্ট কর্তব্যপ্রণালী ও বিশেষ বিশেষ ক্রম-সহকারে বিহিত দর্শ-পৌর্ণমাসাদি বাগের অঙ্গীভূত ফলাদি সমস্তই অলৌকিক অর্থাৎ লৌকিক প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের অগোচর, অথচ একমাত্র বেদবাক্যই সে সমুদয়ের অস্তিত্ব জ্ঞাপন করিয়া থাকে, তেমনি স্থূলত্বাদি-ধৰ্ম্মবিহীন ও অশনারাদিধর্মরহিত পরমাত্মা, ঈশ্বর ও দেবতা প্রভৃতি পদার্থও প্রত্যক্ষাদির অগোচর;[সুতরাং কৰ্ম্মমীমাংসকের অভিমত কর্মফলাদির সহিত] এ সমস্তেরও কিছুমাত্র বৈলক্ষণ্য নাই; এইজন্যই ঐ সমস্ত বিষয় কেবল বেদবাক্য হইতেই বিজ্ঞাত হইয়া থাকে; অতএব অলৌকিকত্ব বশতঃ অর্থাৎ প্রত্যক্ষাদি অন্য কোনও প্রমাণের অধিকার না থাকায় ঐ সমস্ত পদার্থকে সেইরূপই অর্থাৎ বেদ যাহা যে প্রকার জ্ঞাপন করিয়াছে, তাহা ঠিক সেইরূপই-সত্য বলিয়া স্বীকার করা উচিত। আর জ্ঞানোৎপাদনের পক্ষে ক্রিয়াবোধক বাক্যের সহিত জ্ঞানপ্রকাশক বাক্যের যে, কিছুমাত্রও বৈষম্য আছে, তাহাও নহে অর্থাৎ উভয় বাক্য হইতেই যথাযথ অর্থপ্রতীতি সমানভাবেই হইয়া থাকে; বস্তুতঃ পরমাত্ম-বিষয়ে কখনও ভ্রান্ত বা সংশয়িত জ্ঞান সমুৎপন্ন হয় না;। অতএব ক্রিয়াবোধক বাক্যের ন্যায় ব্রহ্মবোধক বাক্যও প্রমাণ এবং তাহার অর্থও নিশ্চয়ই অভ্রান্ত-সত্য। ৮।

প্রভৃতিরূপে চিন্তা করিবার উপদেশ রহিয়াছে। সেখানে ত পৃথিব্যাদি বস্তুগুলি অসত্য নহে, পরন্তু সত্যই বটে; তদনুসারে প্রতিমা প্রভৃতিতেও যে, বিষ্ণুত্বাদি বুদ্ধির উপদেশ, বুঝিতে হইবে, সেই বিষ্ণু প্রভৃতিও নিশ্চয়ই সত্য পদার্থ, নিশ্চয়ই কেবল সে কল্পনামাত্র নহে।

(৪) তাৎপয্য—ছান্দোলা-উপনিষদের মধ্যে ‘পঞ্চাগ্নি-বিদ্যা’ নামে একটা প্রকরণ আছে। সেখানে দ্যুলোক, পজ্জন্য, পৃথিবী, পুরুষ ও স্ত্রী, এই পাঁচটি পদার্থকে অগ্নিরূপে চিন্তা করিবার উপদেশ আছে। বুঝিতে হইবে, সেখানে যেমন, ‘অগ্নি’ বলিয়া একটা পদার্থ লোক- প্রসিদ্ধ আছে বলিয়াই অনগ্নি দ্যুলোক প্রভৃতিতে অগ্নিচিন্তার উপদেশ হইয়াছে, অগ্নি বলিয়া কোন পদার্থ না থাকিলে কখনই ঐরূপ চিন্তার অবসর হইত না, তেমনি এখানেও ব্রহ্ম বলিয়া কোনও সত্য পদার্থ না থাকিলে, নাম প্রভৃতি পদার্থে কখনই ব্রহ্মদৃষ্টির বিধান ও প্রয়োগ সম্ভবপর হইত না। এই জাতীয় বহুতর উদাহরণ দর্শনে প্রমাণিত হইতেছে যে, আরোপমাত্রই তন্মুলাভৃত সত্যবস্তু-সাপেক্ষ; এবং আরোপ হইতেও সত্যবস্তুর অস্তিত্ব অনুমেয় হয়।

১০২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

[মীমাংসকের পুনঃ শঙ্কা-] যদি বল, ব্রহ্মবোধক বাক্যে অনুষ্ঠানযোগ্য কোন প্রকার কর্ম না থাকায় উক্ত সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত হয় না,-অর্থাৎ যদি বল, ক্রিয়া- বোধক বাক্যসমূহ যেরূপ অলৌকিক হইলেও অংশত্রয়সম্পন্ন ভাবনার(স্বর্গাদি ফলোৎপাদক ব্যাপারবিশেষের) অনুষ্ঠেয়তা জ্ঞাপন করিয়া থাকে,(৫) পরমাত্মা ও ঈশ্বরাদিবিষয়ক জ্ঞানে ত সেরূপ কোনও অনুষ্ঠানের বিষয় নাই; অতএব ক্রিয়াবোধক বাক্যের সহিত যে, জ্ঞানবোধক বাক্যের সাম্য বলা হইয়াছে, সে কথা যুক্তিযুক্ত হইতেছে না। না, এ কথাও বলিতে পার না; কেন না, জ্ঞানের বিষয় হইতেছে ‘তথাভূত’ বা সিদ্ধ বস্তু;[সুতরাং, তাহার প্রামাণ্যও স্বাভাবিক বা স্বতঃসিদ্ধ]; কারণ, অংশত্রয়সমন্বিত অনুষ্ঠানেয় ভাবনার যে, অনুষ্ঠানেয়ত্ব-নিবন্ধনই সত্যতা বা প্রামাণ্য হয়, তাহা নহে; পরন্তু প্রমাণলব্ধ বলিয়াই হয়। আর সেই ভাবনাবিষয়ক বুদ্ধিও যে, বিষয়ের অনুষ্ঠেয়তা-নিবন্ধনই সত্যতালাভ করিয়া থাকে, তাহাও নহে; তবে কি? না, বেদবাক্য-জনিত বলিয়াই[সত্যতালাভ করিয়া থাকে]। বেদবাক্যাবগত বিষয়ের সত্যতা অবধারিত হইলে পর, সেই বিষয়টা যদি অনুষ্ঠানযোগ্য হয়, তাহা হইলেই লোকে তাহার অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হয়; আর যদি অনুষ্ঠানযোগ্য না হয়, তাহা হইলে তাহার অনুষ্ঠানে বিরত হয়, এই মাত্র বিশেষ]। আপত্তি হইতে পারে যে, অনুষ্ঠেয় না হইলে, বেদবাক্যের ত প্রামাণ্যই হইতে পারে না; কেন না, প্রতিপাদ্য বিষয়টা অনুষ্ঠানযোগ্য না হইলে, তদুদ্দেশ্যে পদসমূহের অনর্থক সংহতিই(সম্মিলন-বাক্যভাব ধারণাই) সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ, বিষয়টা অনুষ্ঠানযোগ্য হইলেই তন্নিমিত্ত পদসমূহের সম্মিলন সম্ভবপর হইতে পারে। তন্মধ্যে ‘এই কার্য্য এই ব্যক্তির এইরূপে কর্ত্তব্য’, এই প্রকার অনুষ্ঠানোপদেশক বাক্যই প্রমাণ হইয়া থাকে; কিন্তু ‘কুৰ্য্যাৎ, ক্রিয়েত, কর্তব্যং, ভবেৎ, স্যাৎ’ এই পাচটার একটাও না থাকিলে, কেবল বস্তুমাত্রবোধক ‘এই

(৫) তাৎপর্য্য—‘ভাবনা’ অর্থ—“ভবিতুর্ভবনানুকুলো ব্যাপারঃ” অর্থাৎ ভাবী স্বর্গাদির বা তজ্জনক অদৃষ্টোৎপত্তির অনুকূল যে কর্তার ব্যাপার অর্থাৎ প্রযত্ন, তাহার নাম ‘ভাবনা’। ভাবনা দুইপ্রকার;—(১) শাব্দী ও আর্থী। তন্মধ্যে “স্বর্গকামো যজেত”(স্বর্গাভিলাষী ব্যক্তি যাগ করিবে), এইটা শাব্দী ভাবনার উদাহরণ। এই ভাবনার অপেক্ষিত অংশ তিনটা—‘কিং, কেন. ও কথম্’। ‘যজেত’ শুনিলেই জানিতে ইচ্ছা হয়—কিসের জন্য যাগ করিবে? কিসের দ্বারা যাগ করিবে? এবং কিপ্রকারে যাগ করিবে? এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কর্মকাণ্ডে যাগের ফল, সাধন ও ইতিকর্ত্তব্যতা(যে প্রণালীতে যাগ সম্পাদন করিতে হয়, সেই প্রণালী) যথামথরূপে নিরূপিত হইয়াছে,—কিন্তু জ্ঞানকাণ্ডে সেরূপ কোনও ব্যবস্থা দৃষ্ট হয় না।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১০৩

বস্তু এই প্রকার’ এবংবিধ শত শত পদ একত্রিত হইলেও কখনই বাক্যত্ব লাভ করিতে পারে না(৬); অতএব পরমাত্মা ও ঈশ্বরবোধক পদসমূহ প্রমাণভূত বাক্য বলিয়াও গণ্য হইতে পারে না। ৯।

যদি বল, ব্রহ্ম যদি নিশ্চয়ই সত্য পদার্থ হইতেন, তাহা হইলে অবশ্যই তিনি অন্য প্রমাণেরও বিষয় হইতেন; তাহা যখন হন না, তখন নিশ্চয়ই তিনি অসৎ। না-তাহাও বলিতে পার না; কারণ, অনুষ্ঠানবিহীন বিষয়েও ‘চারি প্রকার বর্ণবিশিষ্ট সুমেরুনামে একটা পৰ্ব্বত আছে’ ইত্যাদি বাক্যের প্রয়োগ দেখিতে পাওয়া যায়। ‘সুমেরু পর্ব্বতটা চতুর্বিধ বর্ণবিশিষ্ট’ এইজাতীয় বাক্যশ্রবণের পর, মেরুপ্রভৃতির সম্বন্ধে কাহারো কোন প্রকার অনুষ্ঠেয়ত্ব-বুদ্ধি উপস্থিত হয় না। এই প্রকার, ‘অস্তি’পদ-সমন্বিত(সত্তাবোধক পদযুক্ত) পরমাত্মা ও ঈশ্বরের প্রতি- পাদক বাক্যান্তর্গত পদসমূহেরও বিশেষণ-বিশেষ্যভাবে সম্মিলিত হইতে কে বাধা দিবে? যদি বল, মেরু প্রভৃতির জ্ঞানে যেরূপ সপ্রয়োজনতা আছে, পরমাত্মজ্ঞানে ত সেরূপ কোনও প্রয়োজন নাই? সুতরাং, ঐরূপ বাক্যসঙ্কলনটা যুক্তিযুক্ত হই- তেছে না। না,-সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, ‘ব্রহ্মবিৎ পুরুষ পরম বস্তু লাভ করেন’ ‘[ব্রহ্মবিদের] হৃদয়গ্রন্থি--অহঙ্কারাদি বন্ধন ছিন্ন হয়’ এইরূপ ফল- শ্রুতি, এবং সংসারের বীজভূত অবিদ্যাদি দোষের নিবৃত্তিও দৃষ্ট হয়। বিশেষতঃ ব্রহ্ম- জ্ঞান যখন অন্য কাহারও অঙ্গ নহে-স্বপ্রধান, তখন যজ্ঞীয় জুহর সম্বন্ধে ফলশ্রুতির ন্যায় ব্রহ্মজ্ঞানের ফলশ্রুতিকেও অর্থবাদ কল্পনা করা সম্ভবপর হয় না(৭)। ১০।

(৬) তাৎপর্য্য—“কুয্যাৎ ক্রিয়েত কর্তব্যং ভবেৎ স্যাদিতি পঞ্চমম্। এতৎ স্যাৎ সর্ব্ববেদেষু নিয়তং বিধিলক্ষণম্।” অর্থাৎ ‘করিবে’ ও ‘হইবে’ ইত্যাদি যে পাঁচটী ক্রিয়াপদ লিখিত হইল, সমস্ত বেদে এই পাঁচটা ক্রিয়াপদই বিধির অব্যভিচারী লক্ষণ; সুতরাং ‘অমুক বস্তু এইরূপ’ ‘এই বস্তু এইরূপ’ ইত্যাদি বস্তু-স্বরূপমাত্রবোধক পদগুলি কখনই সম্মিলিত হইয়া বাক্যত্ব লাভ করিয়া প্রমাণরূপে পরিগণিত হইতে পারে না; সুতরাং ব্রহ্মবোধক পদগুলিও ঠিক এই প্রকারেই অপ্রমাণ হইয়া পড়িতেছে।

(৭) তাৎপর্য্য—জুহু একপ্রকার যজ্ঞীয় হবিঃপ্রদানের পাত্র, তাহা পত্র দ্বারাও নির্ম্মিত হইতে পারে, অন্য বস্তু দ্বারাও হইতে পারে। সেইজন্য শ্রুতি বলিয়াছেন “যস্য পর্ণময়ী জুহুর্ববতি, ন স পাপং শ্লোকং শূণোতি” অর্থাৎ যাহার জুহু পাত্রটী পলাশাদি পত্রদ্বারা নির্ম্মিত হয়, সে ব্যক্তি কখনও দুঃখবার্তা শ্রবণ করে না। এখানে জুহু হইতেছে প্রধানভূত যজ্ঞের একটা অঙ্গ: প্রধানের উপকার সাধনই তাহার মুখ্য ফল; সুতরাং অত্রত্য ফলশ্রুতিটীকে প্রশংসাপর অর্থবাদ বলিতে হয়। অর্থবাদ তিন প্রকার;—(১) গুণবাদ(২) অনুবাদ ও ‘ভূতার্থবাদ’। ‘প্রত্যক্ষাদির বিরুদ্ধ কথা ‘গুণবাদ’। যেমন, ‘আদিত্যো যূপঃ’। প্রমাণান্তর-সিদ্ধ বিষয়ের উক্তি ‘অনুবাদ’,

১০৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

আরও এক কথা, নিষিদ্ধ কর্ম্মে যে, অনিষ্ট ফললাভ হয়, ইহাও ত কেবল বেদ হইতেই জানিতে পারা যায়; কিন্তু সেই অনিষ্ট ফল ত অনুষ্ঠেয় ক্রিয়া নহে; আর নিষিদ্ধ বিষয়ের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত ব্যক্তিকে সেই ক্রিয়ানুষ্ঠান হইতে কেবল বিরত করা ভিন্ন আর যে কোন প্রকার অনুষ্ঠেয় আছে, তাহাও নহে। নিষিদ্ধ ব্রহ্ম হত্যাদি কার্য্যের অকর্তব্যতা জ্ঞাপন করাই নিষেধবিধিসমূহের মুখ্য উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি নিষেধবিধিতে অভিজ্ঞ, ক্ষুধার সময়েও তাহার নিকট কলঞ্জ বা পতিতান্ন প্রভৃতি অভক্ষ্য বস্তু উপস্থিত হইলে পর, ‘ইহা খাদ্য, ইহা ভক্ষা’ এবং বিধ জ্ঞান সমুৎপন্ন হইলেও সেই নিষেধ জ্ঞানের স্মৃতিবলে তাহা বাধিত হইয়া যায়। যেমন— মৃগতৃষ্ণায় ভ্রমকল্পিত জলে) পেয়জ্ঞান উপস্থিত হইলেও তদ্বিষয়ক প্রকৃত জ্ঞান দ্বারা তাহা বাধিত হইয়া থাকে, ইহাও তদ্রূপ। উপস্থিত সেই স্বাভাবিক ভ্রমজ্ঞান বাধাপ্রাপ্ত হইলে পর, তদ্বিষয়ে আর অনর্থকর ভোজনপ্রবৃত্তিও হয় না,(আপনা হইতেই তাহা নিবৃত্ত হইয়া যায়)। এ সমস্ত স্থলে কেবল বিপরীত জ্ঞানমূলক প্রবৃত্তিরই নিবৃত্তি হইয়া থাকে, কিন্তু তন্নিবৃত্তির জন্য আর কোন প্রকার যত্ন বা চেষ্টা করিতে হয় না। অতএব বস্তুর যাথাত্মা জ্ঞাপন করা অর্থাৎ নিষিদ্ধ কর্ম্মের অনিষ্টকারিতা জ্ঞাপন করাই নিষেধবিধিসমূহের মুখ্য উদ্দেশ্য, কিন্তু তাহাতে লোককে কোন প্রকার অনুষ্ঠানে প্রবর্ত্তিত করিবার নামগন্ধও নাই। ঠিক নিষেধবিধিসমূহের ন্যায় এখানেও পরমাত্মাপ্রভৃতির যাথাত্ম-বিজ্ঞানবিষয়ক বাক্য সমূহেরও পরমাত্মযাপাত্মা জ্ঞাপন করাই একমাত্র মুখ্য উদ্দেশ্য। সেইরূপ, এই সমস্ত বাক্যার্থ পর্যালোচনার ফলে যাহার জ্ঞান সংস্কারসম্পন্ন হইয়াছে, অর্থাৎ ঐ ভাবে ভাবিত হইয়াছে, তদ্বিপরীত জ্ঞানপ্রণোদিত প্রবৃত্তিসমূহের অনিষ্ট কারিতা বিজ্ঞাত থাকায়, এবং পরমাত্মার যাথার্থ্য জ্ঞান স্মরণ পথে উদিত হওয়ায় স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বাধিত হইয়া যায়, তখন আপনা হইতেই পূর্ব্বোক্ত প্রবৃত্তিসমূহের অভাব ঘটিয়া থাকে। ১১।

ভাল কথা, কলঞ্জপ্রভৃতি নিষিদ্ধ দ্রব্য ভক্ষণের অনিষ্টকারিতা স্মরণ হওয়ায় স্বভাবসিদ্ধ তদ্ক্ষণিকীয়তা-ভ্রান্তি তিরোহিত হইয়া যায়; সুতরাং অনিষ্টকর কলঙ্কাদি ভক্ষণে যেরূপ অপ্রবৃত্তি হওয়া যুক্তিযুক্ত হয়, কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞানে দৃঢ় সংস্কার জন্মিলেও

যেমন ‘অগ্নির্হিমন্য ভেষজম্’। এই উভয়প্রকার হইতে ভিন্ন অর্থবাদের নাম ‘ভূতার্থবাদ’। - যেমন, “ইন্দো বৃত্রায় বজ্রমুদবচ্ছৎ”। অর্থাৎ ইন্দ্র বৃত্রাসুরের উদ্দেশ্যে বজ্র উদ্যত করিয়াছিলেন। কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞানে যে, ব্রহ্মপ্রাপ্তিরূপ ফলশ্রুতি রহিয়াছে, তাহা ত কাহারও অঙ্গ নহে; সুতরাং তাহা অর্থবাদমধ্যে পরিগণিত হইতে পারে না।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১০৫

লোকের যে, শাস্ত্রবিহিত যাগাদি কার্য্যে প্রবৃত্তির অভাব হইবে, ইহা ত যুক্তিযুক্ত’ হইতে পারে না; কারণ, বৈধ যাগাদি ক্রিয়াগুলি ত নিষেধবিধির বিষয় নহে। না, এ আপত্তিও সঙ্গত হয় না; কারণ, বিপরীত জ্ঞানমূলক যে, ইষ্টানিষ্টভাব, তাহা বৈধকর্মের পক্ষেও সমান। অভিপ্রায় এই যে, কলঞ্জাদি ভক্ষণে প্রবৃত্তি যেরূপ ভ্রান্তিজ্ঞানপ্রণোদিত বলিয়া অনর্থ বা অনিষ্টকর, শাস্ত্রবিহিত প্রবৃত্তিসমূহেরও সেইরূপ অজ্ঞানমূলকত্ব ও অনর্থকরত্ব সমান। অতএব পরমাত্মবিষয়ে যাহার যথার্থ জ্ঞান সমুৎপন্ন হইয়াছে, তাহার পক্ষে, শাস্ত্রবিহিত যাগাদি কার্য্যগুলিও ভ্রান্তি- জ্ঞানমূলকত্বে ও ইষ্টানিষ্টসাধনাংশে তুল্য হওয়ায়, পরমাত্ম-জ্ঞান দ্বারা মিথ্যা জ্ঞান উন্ম লিত হইবার পর বৈধকর্মেও প্রবৃত্তি না হওয়া যক্তিসিদ্ধই বটে। ১২।

আচ্ছা, কাম্য নাগাদি কার্য্যে প্রবৃত্তি না হওয়া যুক্তিসঙ্গত হইতে পারে সত্য, কিন্তু নিত্য কৰ্ম্মসমূহ যখন কেবলই শাস্ত্রবিহিত এবং ইষ্টানিষ্টসাধকও নহে, তখন তদ্বিষয়ে প্রবৃত্তির অভাব হওয়া ত যুক্তিসঙ্গত হইতে পারে না। না, তাহা নহে; কারণ, যাহারা অজ্ঞান ও অজ্ঞানমূলক রাগদ্বেষাদি দোষসম্পন্ন, তাহাদের সম্বন্ধেই নিত্যকর্ম্ম বিহিত হইয়াছে,(কিন্তু রাগদ্বেষাদি-দোষরহিতের সম্বন্ধে নহে)। [বুঝিতে হইবে, যেমন স্বর্গকামনাদিরূপ দোষসম্পন্ন পুরুষের জন্য ‘দর্শপৌর্ণ- মাসা‘দি কাম্য কর্ম্মসমূহ বিহিত হইয়াছে, তেমনি যে লোক সর্ব্ববিধ অনর্থের বীজভূত অবিদ্যাদি-দোষে কলুষিত এবং অবিদ্যাপ্রসূত ইষ্টপ্রাপ্তি ও অনিষ্ট-পরি- হারের মূলীভূত রাগদ্বেষাদি দোষেও অভিভূত, তাহার প্রবৃত্তিতেও পূর্ব্ববৎ অবিদ্যাদোষ সন্নিবিষ্ট থাকায়, বুঝিতে হইবে যে, তাদৃশ দোষসম্পন্ন লোকের জন্যই নিত্যকর্ম্মসমূহ বিহিত হইয়া থাকে, কিন্তু কেবল শাস্ত্রের আদেশই উহার একমাত্র প্রযোজক নহে। অগ্নিহোত্র, দর্শপৌর্ণমাস, চাতুর্মাস্য, পশুবন্ধ ও সোমযাগের কাম্যত্ব বা নিত্যত্ব অংশে স্বরূপতঃ যে, কোনপ্রকার বিশেষ আছে, তাহা নহে। কারণ, অনুষ্ঠানকর্তার যদি স্বর্গাদিফলে কামনা থাকে, তাহা হইলেই সেই দোষবলে কাম্যত্ব হইয়া থাকে, আর কর্তা যদি অবিদ্যাদি দোষসম্পন্ন এবং দোষ নিবন্ধন স্বভাবসিদ্ধ অনুরাগাদি দোষে ইষ্টলাভে ও অনিষ্টপরিহারে অভিলাষী হন, তাহা হইলে নিত্যকর্ম্মও তাহার কাম্যফলের সাধক হয়; কারণ, তাহার জন্যই উহা বিহিত হইয়াছে; কিন্তু যে ব্যক্তির পরমাত্মবিষয়ে যথার্থ জ্ঞান উদিত হইয়াছে, তাহার পক্ষে নিবৃত্তির উপায় নির্দেশ ভিন্ন কোথাও কোনরূপ কর্ম্মের বিধান দেখিতে পাওয়া যায় না। কেন না, কর্ম্মের নিমিত্তীভূত যে, দেবতাদি সর্ব্ববিধ সাধন, সে সমুদয়ের অসত্যতা প্রদিপাদনপূর্ব্বকই আত্মজ্ঞান বিহিত হইয়া থাকে; সুতরাং

১৪

১০৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যাহার ক্রিয়া ও কারকাদি বিশেষ জ্ঞান বিমদ্দিত(মিথ্যারূপে নিশ্চিত) হইয়াছে, তাহার পক্ষে ত কৰ্ম্মপ্রবৃত্তি কখনও উৎপন্ন হইতে পারে না; কারণ, ক্রিয়া ও তৎসাধনাদি বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান থাকিলেই লোকের ক্রিয়ানুষ্ঠানে প্রবৃত্তি হইয়া থাকে,(নচেৎ কখনই হয় না)। কারণ, যে ব্যক্তি দেশ ও কালাদি পরিচ্ছেদরহিত ও স্থূলত্বাদিধৰ্ম্মবজিত অদ্বিতীয় ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিয়াছে, তাহার পক্ষে কর্মানুষ্ঠানের অবসরই বা কোথায়? যদি বল, ব্রহ্মবিদ্ ব্যক্তির ভোজনে যেমন প্রবৃত্তি হইয়া থাকে, তেমনি কর্মানুষ্ঠানেও প্রবৃত্তি হইতে পারে; না-তাহাও বলিতে পার না; কারণ, লোকের যে, ভোজনাদি কার্য্যে প্রবৃত্তি হয়, অবিদ্যাই তাহার একমাত্র নিমিত্ত; সুতরাং ভোজনাদি কার্য্যানুষ্ঠানের অবশ্যকর্তব্যতা নাই, অর্থাৎ যখনই অবিদ্যাদোষের উদ্ভব হয়, তখনই ভোজনানুষ্ঠানের আবশ্যক হয়, আবার যে সময় সেই দোষের তিরোধান হয়, সে সময়ে ভোজনেরও আবশ্যক হয় না; কিন্তু নিয়ত বা অবশ্যকর্তব্য নিত্যকর্মের অনুষ্ঠানে-কখনও করা, কখনও বা না করা, এইরূপ অনিয়মিত ব্যবহার কখনই হইতে পারে না। ভোজনাদি ক্রিয়াগুলি কেবলই দোষজন্য বলিয়া এবং সেই দোষের উদ্ভব ও অভিভবের কোনরূপ নিয়ম না থাকায় স্বর্গাদিকামনার ন্যায় ভোজনাদি প্রবৃত্তিও অনিয়ত বা কাদাচিৎক, (কিন্তু নিত্যকর্মের সেরূপ অনিয়ত প্রবৃত্তি হইতে পারে না)(৮)। ১৩।

বিশেষতঃ, শাস্ত্রোক্ত দেশকালাদি নিমিত্তসাপেক্ষ বলিয়াও নিত্যাকর্ম্মের অনিয়তত্ব বা কাদাচিৎকতা হইতে পারে না। কাম্য ‘অগ্নিহোত্র’ যজ্ঞ যেমন শাস্ত্রনির্দেশানুসারে সায়ং ও প্রাতঃকাল-সাপেক্ষ, অর্থাৎ সায়ং ও প্রাতঃকালেই উহার অনুষ্ঠান করিতে হয়, যে কোন সময়ে নহে, ঠিক তেমনি অবিদ্যাদি দোষমূলক নিত্যকর্মসমূহও কালবিশেষসাপেক্ষ। ভাল কথা, জ্ঞানীদিগের ভোজ- নাদি প্রবৃত্তিবিষয়ে যেরূপ কর্তব্যতা নিয়ম আছে, অগ্নিহোত্রাদি ক্রিয়াও ঠিক সেই-

(৮) তাৎপর্য্য—নিত্যকর্ম্মের লক্ষণ এইরূপ—“যদকরণে প্রত্যবায়ঃ, তৎ নিত্যম্” অর্থাৎ যে কার্য্য না করিলে পাপ হয়, তাহার নাম ‘নিত্যকর্ম্ম’। সুতরাং নিত্যকর্ম্মানুষ্ঠানে কাহার স্বাতন্ত্র্য নাই; কর্ত্তার ইচ্ছা থাকুক আর নাই থাকুক, নিত্যকর্ম্ম করিতেই হইবে। ভোজনার্থ কার্য্যগুলি কেবলই দেহাদিতে আত্মাভিমানরূপ অবিদ্যাজনিত; সুতরাং সেই অবিদ্যার দোষটি যখন যাহার যেরূপ প্রবল হয়, তখনই, তাহার সেই প্রবৃত্তিরও সেই পরিমাণে প্রাবল্য ঘটিয়া থাকে, আবার সেই দোষ শিথিল হইয়া গেলে পর, সঙ্গে সঙ্গে ভোজনেচ্ছা রহিত হইয়া যায়; অতএব নিত্যকর্ম্মের সহিত পার্থক্য নাই।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১০৭

রূপই জ্ঞানীদিগেরও অবশ্যকর্তব্য হউক; না, তাহা হইতে পারে না; নিয়ম ত আর কোন ক্রিয়া নহে, এবং ক্রিয়ার প্রযোজকও নহে; সুতরাং তাদৃশ নিয়ম- কল্পনাও জ্ঞানের প্রতিবন্ধক হইতে পারে না। অতএব পরমাত্মবিষয়ে যথার্থ জ্ঞানের বিধিও যখন তদ্বিপরীত স্থূলত্ব ও দ্বৈতভাবের নিবৃত্তি সাধন করে; তখন জ্ঞানবিধিরও সর্বকর্ম-প্রতিষেধকতা উপপন্ন হইতে পারে; কারণ, কর্মপ্রবৃত্তির অভাব বা নিবৃত্তিসাধনরূপ প্রয়োজনটা নিষেধবিধি ও জ্ঞানবিধি— উভয়ের পক্ষেই তুল্য। অতএব নিষেধবিধির ন্যায় জ্ঞানশাস্ত্রেরও কেবলই বস্তুর স্বরূপমাত্র প্রতিপাদন ও তদ্বিষয়েই তাৎপর্যবত্তা সিদ্ধ হইল ॥ ১০ ॥ ১ ॥

তে হ বাচমূচুস্ত্বং ন উদ্গায়েতি, তথেতি, তেভ্যো বাগুদ- গায়ং। যো বাচি ভোগস্তং দেবেভ্য আগায়ং, যৎ কল্যাণং বদতি তদাত্মনে। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্গাত্রাহত্যেয্যন্তীতি তমভি- দ্রুত্য পাপ্মনাহবিধ্যন্, স যঃ স পাপ্মা, যদেবেদমপ্রতিরূপং বদতি স এব স পাপ্মা ॥ ১১ ॥ ২ ॥

সরলার্থঃ।—তে(পূর্ব্বোক্তাঃ)[দেবাঃ প্রাণাদরঃ] হ(ঐতিহ্যে) বাচম্(বাগিন্দ্রিয়ম্) উঁচুঃ(উক্তবন্তঃ)—[হে বাক্,] ত্বং নঃ(অস্মভ্যম্) উদ্গায়(উদ্গীথগানং কুরু) ইতি। বাক্(বাগিন্দ্রিয়-দেবতা) তথা(তথাস্তু) ইতি। প্রতিশ্রুত্য] তেভ্যঃ(প্রাণরূপদেবতাভ্যঃ) উদ্গায়ৎ(উদ্গীথগানং কৃতবতী)। বাচি যঃ ভোগঃ(বাঙ্নিমিত্তঃ য উপকারঃ), তং(ভোগং) দেবেভ্যঃ(সর্ব্বেন্দ্রিয়ের্ভ্যঃ) আগায়ৎ; যৎ[পুনঃ] কল্যাণং(শোভনং) বদতি (বর্ণান্ উচ্চারয়তি বাক্), তৎ(কল্যাণবদনং) আত্মনে(স্বম্মৈ)[আগায়ৎ]। তে(অনুরাঃ—রাজসবৃত্তয়ঃ)[বাচঃ তথাবিধং স্বপক্ষপাতং উপলভ্য] বিদুঃ (বিজ্ঞাতবন্তঃ),[যৎ—] অনেন(উদ্গাত্রা বাগাত্মনা উদ্গীথকর্ত্রা) বৈ নঃ (অস্মান্)[স্বাভাবিকং জ্ঞানং কৰ্ম্ম চ অভিভূয়] অত্যেষ্যন্তি(অতিক্রমিষ্যন্তি পরাভবিষ্যন্তি—দেবাঃ) ইতি(এবং নিশ্চিত্য) তং(বাক্স্বরূপম্ উদ্‌দ্গাতারম্) অভিদ্রুত্য(সর্ব্বতোভাবেন আক্রম্য) পাপ্মনা(স্বকীয়েন ভোগাসক্তিদোষেণ) অবিধ্যন্(সংযোজয়ামাসুঃ), যঃ সঃ(প্রজাপতেঃ পূর্ব্বজন্মনি জাতঃ ভোগাসঙ্গঃ), সঃ[এব] পাপ্মা(পাপং)।[কোহসৌ? ইত্যাহ—] যৎ এব ইদং(অনুভব- গোচরং যথা স্যাৎ তথা) অপ্রতিরূপং(অনুচিতং প্রতিবিদ্ধমপি) বদতি(সর্ব্বো জনঃ), সঃ[অননুরূপবচনম্ এব] সঃ(আসঙ্গফলভূতঃ) পাপ্মা(পাপফলমিত্যর্থঃ)।

১০৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মূলানুবাদ: সেই দেবতাগণ বাগিন্দ্রিয়কে বলিয়াছিলেন— তুমি আমাদের জন্য ‘উদ্‌গীথ’ গান কর; বাগিন্দ্রিয় ‘তথাস্তু’ বলিয়া তাহাদের জন্য উদ্গীথ গান করিতে লাগিলেন; কিন্তু বাক্যগত যে সাধারণ ভোগ, তাহাই দেবতাগণের উদ্দেশ্যে গান করিলেন, আর যাহা কল্যাণময় অতি রমণীয় বাক্যোচ্চারণ, তাহা আপনার নিমিত্ত গান করিলেন। এইরূপ ফলাভিষঙ্গ বা পক্ষপাতরূপ ত্রুটী পাইয়া অসুরগণ বুঝিতে পারিলেন যে, দেবতাগণ এই উদগাতা দ্বারা(উদগীথগানকারী বাগদেবতা দ্বারা) আমাদিগকে অতিক্রম করিবে, অর্থাৎ পরাজিত করিবে। এইরূপ মনে করিয়া তাঁহারা বাগ-দেবতাকে আক্রমণ করিয়া পাপ দ্বারা বিদ্ধ করিলেন। সেই যে, প্রজাপতির পূর্বজন্মজাত আসক্তি বা পক্ষপাত, তাহাই ইহা; [তাহার পরিচয় দিতেছেন—] এই যে, লোকে অনুচিত অর্থাৎ শাস্ত্রনিষিদ্ধ কথা বলিয়া থাকে, তাহাই সেই পাপ, অর্থাৎ পাপের ফল ॥ ১১ ॥ ২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তে দেবা হ এবং বিনিশ্চিত্য বাচ: বাগভিমানিনী- দেবতাম্ উচুঃ উক্তবন্তঃ;—ত্বং নঃ অস্মভ্যম্ উদ্‌গায় ঔদ্গাত্র কর্ম্ম কুরুষ,— বাগ্দেবতানির্ব্বর্ত্যমৌদ্গাত্র কর্ম্ম দৃষ্টবন্তঃ, তামের চ দেবতাং জপমন্ত্রাভিধেয়াম্— “অসতো মা সদ্গময়” ইতি। ১।

অত্র চোপাসনায়াঃ কর্মণশ্চ কর্তৃত্বেন বাগাদয় এব বিবক্ষ্যন্তে। কস্মাৎ? যম্মাৎ পরমার্থতস্তৎকর্তৃকঃ তদ্বিষয় এব চ সর্ব্বো জ্ঞান-কর্মসংব্যবহারঃ। বক্ষ্যতি হি “ধ্যায়তীব লেলায়তীব”ইত্যাত্মকর্তৃকত্বাভাবং বিস্তরতঃ যষ্ঠে। ইহাপি চ অধ্যায়ান্তে উপসংহরিষ্যতি—অব্যাক্তিতাদি ক্রিয়াকারকফলজাতম্—“ত্রয়ং বা ইদং নাম রূপং কৰ্ম্ম” ইত্যবিদ্যাবিষয়ম্। অব্যাকৃতাৎ তু যৎ পরং পরমাত্মাখ্যং বিদ্যাবিষয়ম্ অনামরূপকর্মাাত্মক “নেতি নেতি” ইতি ইতরপ্রত্যাখ্যানেন উপ- সংহরিষ্যতি পৃথক্। যস্তু বাগাদি-সমাহারোপাধি-পরিকল্পিতঃ সংসার্য্যাত্মা, তঞ্চ বাগাদি-সমাহার-পক্ষপাতিনমেব দর্শয়িষ্যতি—“এতেভ্যো ভূতেভ্যঃ সমুখায় তান্যেবানুবিনশ্যতি” ইতি। তম্মাদ যুক্তা বাগাদীনামের জ্ঞান-কর্মকর্তৃত্বফল- প্রাপ্তিবিবক্ষা। ২।

তথেতি তথাস্তিত দেবৈরুক্তা বাক্ তেভ্যঃ অর্থায় উদগায়ৎ উদ্‌গানং কৃতবতী। কঃ পুনরসৌ.দেবেভ্যঃ ‘অর্থায় উদ্‌গানকর্মণা বাচা নির্ব্বর্তিতঃ কার্য্য-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১০৯

বিশেষ ইতি? উচ্যতে, যো বাচি নিমিত্তভূতায়াং বাগাদিসমুদায়স্য য উপ- কারো নিষ্পদ্যতে বদনাদিব্যাপারেণ, স এব। সর্ব্বেষাং হ্যসৌ বাগ্দদনাভি- নিবৃত্তো ভোগঃ ফলম্। তং ভোগং সা ত্রিষু পরমানেযু কৃত্বা, অবশিষ্টেযু নবসু স্তোত্রেযু বাচনিকমার্তিজ্যং ফলম্—যৎ কল্যাণং শোভনং বদতি বর্ণানভি- নির্বর্তয়তি, তদ্ আত্মনে মহমেব। তদ্ধি অসাধারণং বাগ্দেবতায়াঃ কৰ্ম্ম, যৎ সম্যগ্‌বর্ণানামুচ্চারণম্; অতস্তদেব বিশেষ্যতে—‘যৎ কল্যাণং বদতি’ ইতি। যৎ তু বদনকার্য্যং, সর্ব্বসঙ্ঘাতোপকারাত্মকং, তদ্‌ যাজমানমের। ৩।

তত্র কল্যাণবদনাত্মসম্বন্ধাসঙ্গাবসরং দেবতায়া রন্ধ্রং প্রতিলভ্য তে বিদুরসুরাঃ। কথম্? অনেন উদ্‌গাত্রা, নঃ অস্মান্, স্বাভাবিকং জ্ঞানং কৰ্ম্ম চাভিভূয় অতীত্য, শাস্ত্রজনিত-কর্ম্ম-জ্ঞানরূপেণ জ্যোতিষা উদ্‌গাত্রাত্মনা অত্যেষ্যন্তি অতিগমিষ্যন্তি,— ইতোবং বিজ্ঞায়, তম্ উদ্‌গাতারম্ অভিদ্রুত্য অভিগম্য, স্বেন আসঙ্গলক্ষণেন পাপ্নানা অবিধ্যন্ তাড়িতবন্তঃ সংযোজিতবন্ত ইত্যর্থঃ।

স যঃ স পাপ্মা—প্রজাপতেঃ পূর্ব্বজন্মাবস্থস্য বাচি ক্ষিপ্তঃ, স এব প্রত্যক্ষী- ক্রিয়তে। কোহসৌ? যদেবেদম্ অপ্রতিরূপম্ অননুরূপং শাস্ত্রপ্রতিষিদ্ধং বদতি, যেন প্রযুক্তঃ অসভ্য-বীভৎসানৃতাদি অনিচ্ছন্নপি বদতি; অনেন কার্য্যেণ অপ্রতিরূপবদনেন অনুগম্যমানঃ প্রজাপতেঃ কার্য্যভূতাসু প্রজাসু বাচি বর্ত্ততে; স এব অপ্রতিরূপবদনেনানুমিতঃ স প্রজাপতেব্বাচি গতঃ পাপ্মা; কারণানুবিধায়ি হি কার্য্যমিতি ॥ ১১ ॥ ২ ॥

টীকা। জ্ঞানমিহ পরীক্ষ্যমাণমিত্যেতৎ প্রসঙ্গাগতং বিচারঃ পরিসমাপ্য ‘তে হ বাচম্’ ইত্যাদি ব্যাচষ্টে—তে দেবা ইতি। অচেতনায়া বাচো নিযোজ্যত্বং বারয়তি—বাগভিমানিনী- মিতি। নিযোক্তণাং দেবানামভিপ্রায়মাহ—বাগদেবতেতি। ননু ঔদ্গাত্রং কৰ্ম্ম জপমন্ত্রপ্রকাশ্যা! দেবতা নির্ব্বর্ত্তয়িষ্যতি, ন তু বাগদেবতেতি, তত্রাহ—তামেবেতি। “অসতো মা সদাময়” ইতি জপমন্ত্রাভিধেয়াং দৃষ্টবন্ত ইতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ।

বাগাদ্যাশ্রয়ং কর্তৃত্বাদি দর্শয়তঃ অর্থবাদস্য প্রাসঙ্গিকং তাৎপর্য্যমাহ-অত্র চেতি। আত্মা- শ্রয়ে কর্তৃত্বাদৌ অবভাসমানে তস্য বাগাদ্যাশ্রয়ত্বমযুক্তমিত্যাহ-কস্মাদিতি। পরস্য জীবস্য বা কর্তৃত্বাদি বিবক্ষিতমিতি বিকল্প্য আদ্যং দূষয়তি-যম্মাদিতি। বিচারদশায়াং বাগাদিসঙ্ঘাতস্য ক্রিয়াদিশক্তিমত্ত্বাৎ কর্তৃত্বাদিঃ তদাশ্রয়ো যস্মাৎ প্রতীতঃ, তস্মাৎ পরস্যাত্মনঃ স্বতস্তচ্ছক্তিশূন্যন্য ন তদাশ্রয়ত্বমিত্যর্থঃ। কিঞ্চ, অবিদ্যাশ্রয়ঃ সর্ব্বো ব্যবহারো ন তদ্ধীনে পরস্মিন্নবতরতীত্যাহ- তদ্বিষয় ইতি। “কর্তা শাস্ত্রার্থবত্ত্বাৎ” ইতি ন্যায়েন কর্তৃত্বমাত্মনঃ অঙ্গীকর্তব্যম্, ইত্যাশঙ্ক্য “যথা চ তক্ষোভয়থা” ইতি ন্যায়াদৌপাধিকং তস্মিন্ কর্তৃত্বমিত্যভিপ্রেত্যাহ-বক্ষ্যতি হীতি। যদুক্তমবিদ্যাবিষয়ঃ সর্ব্বো ব্যবহার ইতি, তত্র বাক্যশেষমনুকূলয়তি-ইহাপীতি। ইতশ্চ

১১০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্

পরস্মিন্নাত্মনি কর্তৃত্বাদিব্যবহারো নাস্তীত্যাহ-অব্যাকৃতাত্বিতি। অনামরূপকৰ্ম্মাত্মকমিত্যস্মাৎ উপরিষ্টাৎ তৎপদমধ্যাহর্তব্যং, জীবস্তু স্যাদিতি দ্বিতীয়মাশঙ্ক্যাহ-যস্তিতি। জীবশব্দবাচ্যস্য বিশিষ্টস্য কল্পিতত্বাৎ ন তাত্ত্বিকং কর্তৃত্বাদিকং, কিং তু তদ্দ্বারা স্বরূপে সমারোপিতমিতি ভাবঃ। আত্মনি তাত্ত্বিককর্তৃত্বাদ্যভাবে ফলিতমর্থবাদতাৎপর্য্যমুপসংহরতি-তস্মাদিতি।

তাৎপৰ্য্যমর্থবাদস্যোক্ত। নিযুক্তয়া বাগদেবতয়া যৎ কৃতং, তদুপন্যস্যতি-তথেত্যাদিনা। উদ্গতৃত্বং জপমন্ত্রপ্রকাশ্যত্বং চ আত্মনোহঙ্গীকৃত; বাগুদগানে প্রবৃত্তা চেৎ, তয়া কশ্চিদুপকারো দেবানামুদগানেন নির্বর্তনীয়ঃ, সচ নাস্তীতি শঙ্কতে-কঃ পুনরিতি। বদনাদিব্যাপারে সতি যঃ সুখবিশেষ: সঙ্ঘাতস্য নিষ্পদ্যতে, স এব কাৰ্য্যবিশেষঃ, ইত্যাহ-উচ্যত ইতি। যো বাচীতি প্রতীকমাদায় ব্যাখ্যায়তে কথং পুনর্ব্বাচো বচনং, চক্ষুষে। দর্শনমিত্যাদিনা নিষ্পন্নং ফলং সর্ব্ব- সাধারণমিত্যাশঙ্ক্যানুভবমনুসূত্যাহ-সর্ব্বেযামিতি। কিঞ্চ, দেবার্থমুদ্গায়ন্ত্যা বাচঃ স্বার্থমপি কিঞ্চিদুদ্গানমস্তি; তথা চ জ্যোতিষ্টোমে দ্বাদশ স্রোত্রাণি, তত্র ত্রিষু পবমানাখ্যেসু স্তোত্রেযু যাজমানং ফলমুদ্গানেন কৃত্বা, শিষ্টেষু নবসু স্তোত্রেযু যৎ কল্যাণবদনসামর্থ্যং, তদাত্মনে স্বার্থমের আগায়দিত্যাহ-তং ভোগমিতি। ঋদ্বিজাং ক্রীতত্বাৎ ন ফলসম্বন্ধঃ সম্ভবতি, ইত্যাশঙ্ক্যাহ- বাচনিকমিতি। ‘অথাত্মনেহন্নাদ্যমাগায়েৎ’ ইতি শ্রুতমিতার্থঃ। কল্যাণবদনসামর্থ্যস্য স্বার্থত্ব সমর্থয়তে-তদ্ধীতি। কল্যাণবদনং বাচোৎসসাধারণ” চেৎ, কস্তহি যে। বাচীত্যাদেবিষয়, তত্রাহ-যত্নিতি।

বাগদেবতায়াম্ অসুরাণামবকাশং দশয়তি-তত্রেতি। স্বার্থে পরার্থে চোদগানে সতীতি যাবৎ। কল্যাণবদনস্যাত্মনা বাচৈব সম্বন্ধে যঃ অয়ম্ আসঙ্গোহভিনিবেশঃ, স এবাবসরো দেবতায়াঃ, তমবসরং প্রাপ্যেত্যর্থঃ। অবসরমেব ব্যাকরোতি-রন্ধ মিতি। অস্মানতীত্যেতি- সম্বন্ধঃ। কোহসৌ অসুরাত্যয়স্তং ব্যাচষ্টে-স্বাভাবিকমিতি। তত্রোপায়মুপন্যস্থ্যতি-শাস্ত্রেতি। অসুরানভিভুয় কেনাত্মনা দেবাঃ স্থাস্যন্তীতি বিবক্ষায়ামাহ--জ্যোতিষেতি। প্রজাপতেদ্বাচি পাপ্মা ক্ষিপ্তঃ অসুরৈরিতি কুতোহবগম্যতে, তত্রাহ-স যঃ স পাপ্মেতি। প্রতিষিদ্ধবদনমেব পাপ্মেত্যযুক্তমদৃষ্টস্য ক্রিয়াতিরিক্তত্বাঙ্গীকারাৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-যেনেতি। অসভ্যং সভানহং স্ত্রীবর্ণনাদি, বীভৎসং ভয়ানক প্রেতাদিবর্ণনম্, অনৃতম্ অযথাদৃষ্টবচনম্। আদি-শব্দাৎ পিশুনত্বং গৃহ্যতে। কিমত্র প্রজাপতের্বাচি পাপ্সত্ত্বে মানমুক্তং ভবতীত্যাশঙ্ক্য স এব সপাপ্মেতি ব্যাকরোতি-অনেনেতি। প্রাজাপত্যাসু প্রজাসু প্রতিপন্নেন অসত্যবদনাদিনা লিঙ্গেন তদ্বাচি পাপ্মানুমিতঃ, স এব প্রজাপতিবাচি পাপ্যানিং গময়তি; বিমতং কারণপূর্ব্বকং কাৰ্য্যত্বাদঘট- বৎ। ন চ প্রজাগতং দুরিতং প্রাজাপত্যং তদ্বিনা হেত্বন্তরাদেব স্যাৎ, কারণানুবিধায়িত্বাৎ কাৰ্য্যস্থ্য। ন চ তৎকারণেহপি পরস্মিন্ প্রসঙ্গঃ “অপাপবিদ্ধম্” ইতি শ্রুতেঃ। নচ ‘ন হ বৈ দেবান্ পাপং গচ্ছতি’ ইতি শ্রুতেন সূত্রেহপি পাপবেধঃ, তস্য ফলাবস্থস্য অপাপত্বেহপি যজ- মানাবস্থস্য তদ্ভাবাদিতার্থঃ। আদ্যসকারাভ্যাং কারণস্থং পাপ্মানমনুদ্য তস্যৈব কায্যস্থত্ব- মুচ্যতে। উত্তরাভ্যাং তু কার্যস্থং পাপ্মানমনুদ্য তস্যৈব কারণস্থত্বমিতি বিভাগঃ। ১১।২॥

ভাষ্যানুবাদ।—সেই দেবতাগণ এইরূপ নিশ্চয় করিয়া—বাক্কে অর্থাৎ বাগিন্দ্রিয়াভিমানী দেবতাকে বলিয়াছিলেন, তুমি আমাদের জন্য

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১১১

উদ্‌গাতার কর্ম্ম—উদ্‌গীথগান কর; অর্থাৎ বাগ্দেবতার সম্পাদনীয় ঔদ্গাত্র কর্ম্ম এবং “অসতো মা সদ্ গময়”(আমাকে অসং হইতে সতে লইয়া যাও) এই জপ্যমন্ত্রের প্রতিপাদ্য দেবতাকেও দর্শন করিয়াছিলেন। ১।

এখানে বুঝিতে হইবে, বাগাদি দেবতাগণকেই উপাসনা ও কর্মানুষ্ঠানের কর্তারূপে প্রতিপাদন করা শ্রুতির অভিপ্রেত। কি জন্য? যেহেতু, যে কোন- প্রকার জ্ঞান ও কৰ্ম্ম প্রসিদ্ধ আছে, প্রকৃতপক্ষে তাহারাই সেই সমস্তের কর্তা ও বিষয়(আশ্রয়), অর্থাৎ বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে এবং বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়েতেই ঐ সমস্ত ব্যাপার সম্পন্ন হইয়া থাকে। এইজন্যই পরে ষষ্ঠাধ্যায়ে ‘আত্মা যেন ধ্যানই করে, যেন স্পন্দনই করে’ ইত্যাদি বাক্যে আত্মার অকর্তৃত্ব বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করিবেন। আর এখানেও অধ্যায়ের শেষভাগে উপসংহার- স্থলে “ত্রয়ং বা ইদং নাম রূপং কৰ্ম্ম” ইত্যাদি বাক্যে অব্যক্ত প্রকৃতি হইতে আরম্ভ করিয়া ক্রিয়া, কারক ও ফল প্রভৃতি সমস্তই অবিদ্যার বিষয় বা অজ্ঞান- মূলক বলিয়া নির্দেশ করিবেন। আর যিনি অব্যাকৃত, প্রকৃতির অতীত এবং নাম, রূপ ও কর্ম্মের সহিত অসম্বন্ধ, তিনিই বিদ্যার--জ্ঞানের বিষয়, এবং ‘নেতি নেতি’ বলিয়া অপর সর্ব্বপদার্থবিলক্ষণরূপে তাহারই পৃথক্ উপসংহার করি- বেন। আর যিনি বাক্প্রভৃতি উপাধিসমষ্টিবিশিষ্ট সংসারী আত্মা-জীব, তাহাকেও আবার “এতেভ্যঃ ভূতেভ্যঃ সমুখায় তান্যের অনুবিনশ্যতি” ইত্যাদি বাক্যে বাক্প্রভৃতি দেহসংঘাতের অনুগামী বলিয়া প্রদর্শন করিবেন। অতএব বাক্প্রভৃতির সম্বন্ধেই জ্ঞান ও কর্মানুষ্ঠানের ফলপ্রাপ্তি প্রতিপাদন করা সম্ভবপর ও সঙ্গত হয়। ১।

‘তথা’ ইতি। তথা অর্থ—তথাস্ত(সেইরূপই হউক); বাগ্দেবতা অপরাপর দেবতাকর্তৃক অনুরুদ্ধ হইয়া প্রার্থী সেই দেবতাগণের নিমিত্ত উদ্‌গান করিয়াছিলেন(অর্থাৎ উদ্‌গীথ গান করিয়াছিলেন)। বাগ্দেবতা উদ্‌গানকৰ্ম্ম দ্বারা দেবতাগণের জন্য কিপ্রকার কার্য্য সম্পাদন করিয়াছিলেন? বলা হইতেছে;—বাক্যে—বাগিন্দ্রিয়ের সাহায্যে, অর্থাৎ শব্দোচ্চারণাদি ক্রিয়া দ্বারা বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয় সমুদয়ের যে, উপকার সম্পাদিত হয়, তাহাই তাহার সেই কার্য্য। বাক্যোচ্চারণজনিত যে, এইরূপ ফল, তাহা সকলেরই সাধারণ ভোগ্য। সেই বাগ্দেবতা তিনটামাত্র ‘পবমান’ স্তোত্রে উক্তপ্রকার ভোগ বা উপকার সম্পাদন করিয়া, অবশিষ্ট নয়টী স্তোত্র—যাহার পাঠগত ফল ঋত্বিক্গত হয়(পাঠকই লাভ করেন), সেই নয়টী স্তোত্রে বাগদেবতা যে,

১১২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কল্যাণ অর্থাৎ সুন্দর বর্ণোচ্চারণ করিয়া থাকেন, সেই সুন্দর বর্ণোচ্চারণ আপ- নারই উদ্দেশ্যে সম্পন্ন[করিয়াছিলেন](৯)। যথাযথরূপে যে, বর্ণোচ্চারণ করা, তাহাই বাগদেবতার অনন্যসাধারণ কার্য্য; এই জন্যই ‘যৎ কল্যাণং বদতি’ কথায় তাহা বিশেষ ভাবে নির্দেশ করিলেন। কিন্তু দেহসঙ্ঘাতের উপকারসাধক যে, বাক্যোচ্চারণমাত্র কার্য্য, তাহার ফলভাগী হয় যজমান;[আর যথাযথরূপে বাক্যোচ্চারণের ফলভাগী হয় নিজে—বাক্।] ৩।

সেই অসুরগণ বাগদেবতার এইরূপ কল্যাণময় বাক্যোচ্চারণাত্মক স্বার্থ- পরতারূপ ছিদ্র প্রাপ্ত হইয়া বুঝিয়াছিলেন। কি বুঝিয়াছিলেন?—না, দেবগণ এই উদ্‌গাতা দ্বারা আমাদের স্বাভাবিক বা উচ্ছৃঙ্খল জ্ঞান ও কর্ম্মমার্গ পরাজিত করিয়া, শাস্ত্রোপদেশলব্ধ কৰ্ম্ম ও জ্ঞানরূপ উদ্‌গাত্রাত্মক জ্যোতিঃপ্রভাবে(দিব্য জ্ঞানের সাহায্যে) আমাদিগকে অতিক্রম করিবে; ইহা অবগত হইয়া সেই উদ্‌গাতাকে আক্রমণ করিয়া, তাহাকে স্বীয় ভোগাসক্তিরূপ পাপ দ্বারা বিদ্ধ করিয়াছিলেন, অর্থাৎ ঐ পাপে সংযোজিত করিয়াছিলেন। ৪।

সেই যে, সেই পাপ, অর্থাৎ পূর্ব্বজন্মে প্রজাপতির বাগিন্দ্রিয়ে যে পাপ প্রক্ষিপ্ত হইয়াছিল, তাহাই এখানে প্রত্যক্ষবৎ প্রদর্শিত হইতেছে। সেই পাপটা কি? না, তাহা এই যে, লোকে অপ্রতিরূপ—অনুচিত, অর্থাৎ শাস্ত্রনিষিদ্ধ বাক্য উচ্চারণ করিয়া থাকে; যাহার জন্য লোকে অনিচ্ছাপূর্ব্বকও অসভ্য, ঘৃণিত ও মিথ্যা কথা প্রভৃতিও বলিয়া থাকে। সেই অনুচিত বাক্য-ব্যবহারজনিত পাপ অদ্যাপি প্রজাপতির সৃষ্ট প্রাণিগণের বাগিন্দ্রিয়ে বর্তমান রহিয়াছে। ঐরূপ নিষিদ্ধ ভাষণ হইতেই অনুমিত হয় যে, প্রজাপতির বাগিন্দ্রিয়েও এই পাপ সন্নি- বিষ্ট ছিল; কেন না, কার্য্যমাত্রই কারণানুরূপ হইয়া থাকে ॥ ১১ ॥ ২ ॥

(৯) তাৎপর্য্য—জ্যোতিষ্টোম যাগে দ্বাদশটা স্তোত্রগানের ব্যবস্থা আছে। তন্মধ্যে ‘পরমান’ নামক স্তোত্রত্রয়ের গানে যে ফল হয়, যজমান সে ফলে অধিকারী হয়; আর অবশিষ্ট যে, নয়টী স্তোত্র গান করিতে হয়, ঋত্বিক্ তাহার ফলভাগী হয়। স্তোত্রপাঠ বাগি- ন্দ্রিয়েরই নিজস্ব কার্য্য; অথচ বাগদেবতা সর্ব্বেন্দ্রিয়ের প্রতিনিধিরূপে স্তোত্র পাঠকার্য্যে নিয়োজিত হইয়া যজমানদিগের ফলজনক স্তোত্রগুলি সাধারণভাবে পাঠ করিলেন, আর স্বয়ং ঋত্বিকরূপে যে সমস্ত স্তোত্রের ফল পাইবেন, সেই সমস্ত স্তোত্র অতি উত্তমরূপে যথাযথ স্বরব্যঞ্জনাদি বিভাগ অনুসারে গান করিলেন। এই স্বার্থপরতারূপ অপরাধে অসুরগণ তাহাকে আক্রমণ করিবার সুযোগ পাইলেন; এবং স্বীয় পাপ দ্বারা বাগিন্দ্রিয়কে কলুষিত করিলেন। বর্তমান প্রজাপতির পূর্ব্বজন্মে এই ঘটনা ঘটিয়াছিল, তাহার ফলে বর্তমান কল্পেও তাঁহার প্রজামণ্ডলীর বাক্যে সেই দোষ—স্বার্থপরতা পরিলক্ষিত হইতেছে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১১৩.

অথ হ প্রাণমুচুত্ত্বং ন উদ্‌গায়েতি, তথেতি-তেভ্যঃ প্রাণ উদগায়ৎ। যঃ প্রাণে ভোগস্তং দেবেভ্য আগায়ৎ, যৎ কল্যাণং জিঘ্রতি তদাত্মনে। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্‌গাত্রাহত্যেষ্যন্তীতি তমভিদ্রুত্য পাপ্মনাহবিধ্যন্ স যঃ স পাপ্মা যদেবেদমপ্রতিরূপং জিঘ্রতি স এব স পাপ্মা ॥ ১২ ॥ ৩ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(বাচঃ অভিভবানন্তরম্) ত(ঐতিহ্যে) প্রাণম্(ঘ্রাণং) উচুঃ—ত্বং নঃ(অস্মভ্যম্) উদগায়(উদগানং কুরু) ইতি।[এবমুক্তঃ] প্রাণঃ তথা(তথাস্তু) ইতি[কৃত্বা] তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) উদগায়ৎ(উদগীথগানং কৃত- বান্)। প্রাণে যঃ ভোগঃ(সর্ব্বেন্দ্রিয়াণাং সাধারণঃ উপকারঃ), তং(ভোগং) দেবেভ্যঃ আগাৎ(গীতবান্), যৎ[পুনঃ] কল্যাণ(শোভনং) জিঘ্রতি, তৎ আত্মনে(আত্মার্থং স্বার্থমেব)[আগায়ৎ]। তে(অসুরাঃ) বিদুঃ(বিদিত- বন্তঃ),—অনেন(ঘ্রাণরূপেণ) উদগাত্রা(উদগানকারিণা) বৈ(অবধারণে) নঃ (অস্মান্) অত্যেষ্যন্তি(অতিক্রমিষ্যন্তি দেবাঃ), ইতি[এবং নিশ্চিত্য] তম্(ঘ্রাণম্) অভিদ্রত্য(আক্রম্য) পাপ্মনা(আসক্তিলক্ষণেন পাপেন) অবিধ্যন্(সংযো- জিতবন্তঃ)। যঃ সঃ, সঃ পাপ্মাঃ;[কোহসৌ?] যৎ এব ইদং অপ্রতিরূপং (নিন্দিতং) জিঘ্রতি[ঘ্রাণঃ], সঃ এব পাপ্ম্মা ইত্যর্থঃ ॥ ১২ ॥ ৩ ॥

মূলানুবাদ।—অতঃপর ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে বলিলেন,—তুমি আমা- দের জন্য উদ্‌গান কর(উদ্‌গীথ কৰ্ম্ম কর)। ‘তথাস্তু’ বলিয়া ঘ্রাণেন্দ্রিয় তাঁহাদের জন্য উদ্‌গীথগান করিলেন। ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের যাহা সাধারণ ব্যাপার, তাহাই অপর সকলের জন্য গান করিলেন; কিন্তু ঘ্রাণেন্দ্রিয় যে, উত্তম আঘ্রাণ করে, তাহা নিজের জন্য গান করিলেন।[এই ত্রুটিতে] অসুরগণ বুঝিতে পারিল যে, দেবতারা এই উদ্‌গাতা দ্বারা আমাদিগকে পরাভূত করিবে। ইহা জানিয়া তাহারা ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে আক্রমণ করিয়া তাঁহাকে পাপবিদ্ধ করিল। সেই ঘ্রাণেন্দ্রিয় যে, অপ্রিয় গন্ধ আঘ্রাণ করে, ইহাই হইল সেই পাপ্মা(পাপফল) ॥ ১২ ॥ ৩ ॥

অথ হ চক্ষুরূচুত্ত্বং ন উদ্‌গায়েতি, তথেতি—তেভ্যশ্চক্ষুরুদগায়ৎ। যশ্চক্ষুষি ভোগস্তং দেবেভ্য আগায়ৎ, যৎ কল্যাণং পশ্যতি

১৫

১১৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তদাত্মনে। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্গাত্রাত্যেষ্যন্তীতি তমভিদ্রুত্য পাপ্মনাহবিধ্যন্ স যঃ স পাপ্মা যদেবেদমপ্রতিরূপং পশ্যতি, স এব স পাপ্মা ॥ ১৩ ॥ ৪ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(ঘ্রাণানন্তরম্) হ(ঐতিহ্যে) চক্ষুঃ উচুঃ—ত্বং নঃ(অস্ম- ভ্যম্) উদ্গায় ইতি। ‘তথা’ ইতি[কৃত্বা] চক্ষুঃ তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) উদ্গায়ৎ। চক্ষুষি যঃ ভোগঃ(সাধারণঃ উপকারঃ), তৎ দেবেভ্যঃ আগায়ৎ; যৎ[পুনঃ] কল্যাণং পশ্যতি, তৎ আত্মনে[আগায়ৎ]। তে(অসুরাঃ) বিদুঃ—অনেন (চক্ষুরূপেণ) উদ্গাত্রা নঃ(অস্মান্) বৈ অত্যেষ্যন্তি, ইতি(অস্মাৎ হেতোঃ) তম্ (চক্ষুরূপম্ উদ্গাতারম্) অভিদ্রুত্য পাপ্মনা অবিধ্যন্(সংযোজিতবস্তুঃ)। সঃ যঃ, সঃ পাপ্মা;[কোহসৌ?] যৎ এব ইদম্ অপ্রতিরূপং(নিষিদ্ধং) পশ্যতি; সঃ এব সঃ(অসুরাক্ষিপ্তঃ) পাপ্মা। ১৩॥ ৪॥

মূলানুবাদ।—তাহার পর দেবগণ চক্ষুকে বলিলেন—তুমি আমাদের জন্য উদ্‌গীথ গান কর; চক্ষুঃ ‘তথাস্তু’ বলিয়া দেবগণের উদ্দেশে গান করিলেন; কিন্তু চক্ষুর যাহা সাধারণ ভোগ, তাহাই দেব- গণের উদ্দেশ্যে গান করিলেন, আর যাহা কল্যাণময় দর্শন, তাহা আপ- নার জন্য গান করিলেন। অসুরগণ বুঝিতে পারিল যে, দেবতারা এই উদ্‌গাতা দ্বারা আমাদিগকে পরাজিত করিবে; এইজন্য তাহারা যাইয়া তাঁহাকে(চক্ষুদেবতাকে) পাপবিদ্ধ করিল। চক্ষু যে, নিকৃষ্ট রূপ দর্শন করে, তাহাই সেই পাপ॥ ১৩॥ ৪॥

অথ হ শ্রোত্রমুচুস্ত্বং ন উদ্‌গায়েতি, তথেতি—তেভ্যঃ শ্রোত্রমুদগায়ৎ। যঃ শ্রোত্রে ভোগস্তং দেবেভ্য আগায়ৎ, যৎ কল্যাণং শূণোতি তদাত্মনে। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্‌গাত্রাহ- তেষ্যন্তীতি তমভিদ্রুত্য পাপ্মনাহবিধ্যন্ স যঃ স পাপ্মা যদেবে- দমপ্রতিরূপং শূণোতি, স এব স পাপ্মা ॥ ১৪ ॥ ৫ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(অনন্তরং) হ(ঐতিহ্যে) শ্রোত্রম্ উচুঃ—ত্বং নঃ (অস্মভ্যম্) উদ্‌গায় ইতি; শ্রোত্রং ‘তথা’ ইতি[কৃত্বা] তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) উদগায়ৎ; কিন্তু যঃ শ্রোত্রে ভোগঃ, তং দেবেভ্যঃ আগায়ৎ; যৎ[পুনঃ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১১৫

কল্যাণং শূণোতি, তৎ(কল্যাণশ্রবণং) আত্মনে[আগায়ৎ]। তে(অসুরাঃ) বিদুঃ—[দেবাঃ] অনেন(শ্রোত্ররূপেণ) উদ্গাত্রা বৈ নঃ(অস্মান্) অত্যেষ্যন্তি ইতি, তম্(উদ্গাতারম্) অভিদ্রুত্য পাপ্মনা অবিধ্যন্। সঃ যঃ পাপ্মা; [কঃ?] ইদং(শ্রোত্রং) যৎ এব অপ্রতিরূপং শূণোতি, সঃ(অপ্রতিরূপশ্রবণম্) এব স পাপ্মা ॥ ১৪। ৫।

মূলানুবাদ।—অতঃপর দেবগণ শ্রবণেন্দ্রিয়কে বলিলেন— তুমি আমাদের জন্য উদ্‌গীথগান কর। শ্রবণেন্দ্রিয় ‘তথাস্তু’ বলিয়া তাঁহা- দের জন্য গান করিলেন; কিন্তু শ্রবণেন্দ্রিয়ের যাহা সাধারণ ভোগ, তাহাই দেবগণের উদ্দেশ্যে গান করিলেন, আর যাহা কল্যাণময় শ্রবণ, তাহা নিজের জন্য গান করিলেন। অসুরগণ বুঝিতে পারিল যে, দেবতারা এই শ্রোত্ররূপ উদ্‌গাতার সাহায্যে আমাদিগকে অতিক্রম করিবে। ইহা বুঝিয়া তাহারা সত্বর যাইয়া সেই শ্রবণেন্দ্রিয়কে পাপে বিদ্ধ করিল। শ্রবণেন্দ্রিয় যে, অপ্রিয় বিষয় শ্রবণ করিয়া থাকে, ইহাই সেই পাপ বা পাপের ফল ॥ ১৪ ॥ ৫ ॥

অথ হ মন উচুস্ত্বং ন উদ্‌গায়েতি, তথেতি—তেভ্যো মন উদগায়ৎ। যো মনসি ভোগস্তং দেবেভ্য আগায়দ্, যৎ কল্যাণং সঙ্কল্পয়তি তদাত্মনে। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্‌গাত্রাহত্যেষ্যন্তীতি তমভিদ্রুত্য পাপ্মানাহবিধ্যন্ স যঃ স পাপ্মা। যদেবেদমপ্রতিরূপং সঙ্কল্পয়তি, স এব স পাপ্মা। এবমু খল্বেতা দেবতাঃ পাপ্মভিরু- পাসৃজন্নেবমেনাঃ পাপ্মানাহবিধ্যন্ ॥ ১৫ ॥ ৬ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(অনন্তরং) হ(ঐতিহ্যে) মনঃ(অন্তঃকরণম্) উচুঃ ত্বং নঃ(অস্মভ্যম্) উদ্‌গায় ইতি। মনঃ তথা ইতি[কৃত্বা] তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) উদ্গায়ৎ; মনসি যঃ ভোগঃ(সাধারণঃ ব্যাপারঃ); তং দেবেভ্যঃ আগায়ৎ; যৎ পুনঃ] কল্যাণং সঙ্কল্পয়তি(চিন্তয়তি), তৎ(কল্যাণচিন্তনং) আত্মনে আগায়ৎ]। তে(অসুরাঃ) বিদুঃ(বিজ্ঞাতবন্তঃ) যৎ[দেবাঃ] অনেন উদ্- গাত্রা বৈ নঃ(অস্মান্) অত্যেষ্যন্তি ইতি,[এবং নিশ্চিত্য] অভিদ্রত্য তং মনোরূপম্ উদ্‌গাতারম্) পাপমনা অবিধ্যন্; সঃ যঃ, সঃ পাপমা।[কঃ?] ইদং(মনঃ) যদ এব অপ্রতিরূপং সঙ্কল্পয়তি, সঃ এব সঃ পাপমা। এবং

১১৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

(বাগাদিবৎ) উ(এব) এতাঃ(অনুক্তা অপি ত্বগাদ্যাঃ) দেবতাঃ খলু পাপ মভিঃ উপাসৃজন্(পাপম-সম্বন্ধং প্রাপ্তবন্তঃ), এবং(বাগাদিবদেব) এনাঃ(ত্বগাদ্যাঃ দেবতাঃ) পাপমনা অবিধ্যন্[অসুরা ইতি শেষঃ] ॥ ১৫ ॥ ৬।

মূলানুবাদ।—তাহার পর দেবগণ মনকে বলিলেন—তুমি আমাদের জন্য উদ্‌গান কর। মন ‘তথাস্তু’ বলিয়া তাঁহাদের জন্য গান করিলেন; কিন্তু মনের যাহা সাধারণ কার্য্য—চিন্তামাত্র, তাহাই দেব- গণের নিমিত্ত, আর যাহা কল্যাণময় শুভ সঙ্কল্প, তাহা আপনার নিমিত্ত গান করিলেন। এই অপরাধে অসুরগণ বুঝিতে পারিল যে, দেবতারা এই মনোরূপ উদগাতা দ্বারা আমাদিগকে পরাভূত করিবে; তাই তাহারা দ্রুত উপস্থিত হইয়া মনকে পাপে বিদ্ধ করিল। মন যে, অশুভ সঙ্কল্প(চিন্তা) করিয়া থাকে, তাহাই সেই পাপ; মন সেই পাপে সংযুক্ত হইয়াছিল। উক্ত বাক্ প্রভৃতির ন্যায় ত্বপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়-দেবতারাও এইরূপে পাপাসক্ত হইয়াছিলেন, এবং অসুরগণ তাঁহাদিগকে পাপবিদ্ধ করিয়াছিল ॥ ১৫ ॥ ৬ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। -তথৈব ঘ্রাণাদিদেবতা উদ্‌গীথনিব্বর্তকত্বাৎ জপমন্ত্র- প্রকাশ্যা উপাস্যান্থেতি ক্রমেণ পরীক্ষিতবস্তুঃ। দেবানাঞ্চৈতৎ নিশ্চিতমাসীৎ--- বাগাদিদেবতাঃ ক্রমেণ পরীক্ষ্যমাণাঃ কল্যাণবিষয়বিশেষাত্ম-সম্বন্ধাসঙ্গহেতোঃ আসুরপাপ্যসংসর্গাদ উদ্দীথনির্ব্বর্তনাসমর্থাঃ; অতঃ অনভিধেয়াঃ, “অসতো মা সদ্- গময়” ইত্যনুপাস্যাশ্চ; অশুদ্ধত্বাৎ ইতরাব্যাপকত্বাচ্চেতি।

এবমু খলু, অনুক্তা অপি এতাঃ ত্বগাদিদেবতাঃ, কল্যাণাকল্যাণকার্য্যদর্শনাৎ, এবং বাগাদিবদেব, এনাঃ পাপমনা অবিধ্যন্ পাপমনা বিদ্ধবন্ত ইতি যদুক্তম্, তৎ পাপমভিরুপাসৃজন পাপমতিঃ সংসর্গ কৃতবন্ত ইত্যেতৎ৷ ১২-১৫ ॥ ৩-৬ ॥

টীকা। বাগ্দেবতায়া জপমন্ত্রপ্রকাশ্যত্বমুপাস্যত্বং চ নেতি নির্দ্ধার্য্য, অবশিষ্টপয্যায়চতুষ্টয়স্য তাৎপর্য্যমাহ--তথৈবেতি। পরীক্ষাফলনির্ণয়মাহ-দেবানাং চেতি। অনুপাস্যত্বে হেত্বন্তরমাহ- ইতরেতি। ইতরঃ কার্য্যকরণসঞ্জাতঃ তস্মিন্নব্যাপকত্বং পরিচ্ছিন্নত্বম্, অতশ্চানুপাস্যত্ব, জপমন্ত্রাপ্রকাশ্যত্বং চেত্যর্থঃ। উক্তৈরিন্দ্রিয়ৈঃ অনুক্তেন্দ্রিয়াণুপলক্ষণীয়ানীতি বিবক্ষিত্বোপ- সংহরতি-এবমিতি। বাগাদিবৎ ত্বগাদিষু কল্পকাভাবাৎ ন পাপ্যবেধোহস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ- কল্যাণেতি। পাপ্যভিরুপাসৃজন পাপ্যনা অবিধান্নিত্যনয়োরস্তি পৌনরুক্ত্যম্, ইত্যাশঙ্কা ব্যাখ্যানব্যাখ্যেয়ভাবাৎ নৈবমিত্যাহ-ইতি যদুক্তমিতি ॥ ১২-১৫ ॥ ৩-৬ ॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১১৭

ভাষ্যানুবাদ।—বাক্প্রভৃতির ন্যায় ঘ্রাণাদি দেবতাও উদ্‌গীথের সম্পা- দক; সুতরাং তাঁহারাও উপাস্য এবং[“অসতো মা সদ্গময়” এই] জপ্যমন্ত্রেও প্রকাশনযোগ্য; এই জন্য দেবতাগণ ক্রমে তাঁহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছিলেন। তাহার ফলে, দেবতাগণের এইরূপই নিশ্চয় বা স্থিরসিদ্ধান্ত হইয়াছিল যে, যেহেতু ক্রমিক পরীক্ষার ফলে যখন দেখা গেল যে, বাক্ প্রভৃতি দেবতাগণ বিশেষ বিশেষ কল্যাণকর বিষয়ে স্বার্থপরতারূপ আসক্তি-দোষে আসুর পাপে সংসৃষ্ট, সেই হেতুই তাহারা উদগীথ-ক্রিয়া সম্পাদনে অক্ষম; কাজেই “অসতো মা সদ্‌ গময়” এই মন্ত্রের প্রতিপাদ্য নহে, এবং উপাস্যও নহে; বিশেষতঃ, তাহারা পাপসংসর্গবশতঃ অশুদ্ধও বটে এবং অপরাপর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠও নহে।

অনুক্ত ত্বপ্রভৃতি দেবতাও পূর্ব্বোক্ত বাক্প্রভৃতি দেবতারই অনুরূপ; কারণ, তাহাদের মধ্যেও শুভাশুভ কার্য্য দৃষ্ট হয়। পূর্ব্বে যে পাপের কথা বলা হইয়াছে, এই দেবতাগণও সেই পাপে সংসৃষ্ট হইয়াছিলেন, এবং [অসুরগণ কর্তৃক] পাপবিদ্ধ হইয়াছিলেন ॥ ১২—১৫ ॥ ৩—৬ ॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—বাগাদিদেবতা উপাসীনা অপি মৃত্যুতিগমনায়া- শরণাঃ সন্তো দেবাঃ ক্রমেণ—

টাকা।—সম্প্রতি মুখ্যপ্রাণস্য মন্ত্রপ্রকাশ্যত্বমুপাস্যত্বং চ বক্তৃমুত্তরবাক্যনুপাদায় ব্যাকরোতি— বাগাদীতি। ক্রমেণ উপাসীনা ইতি সম্বন্ধঃ।

ভাষ্যানুবাদ।—দেবগণ ক্রমে বাক্ প্রভৃতি দেবতার উপাসনা করিয়াও মৃত্যুভয় অতিক্রম করিতে অসমর্থ হইয়া,[মুখ্যপ্রাণের উপাসনায় প্রবৃত্ত হইলেন]—

অথ হেমমাসন্যং প্রাণমূচুস্ত্বং ন উদ্‌গায়েতি, তথেতি—তেভ্য এষ প্রাণ উদগায়ৎ। তে বিদুরনেন বৈ ন উদ্‌গাত্রাহত্যেষ্যন্তীতি তদভিদ্রুত্য পাপ্মনাহবিব্যুৎসন্ স যথাহশ্মানমৃত্বা লোষ্টো বিধ্বং- সেতৈবং হৈব বিধ্বংসমান। বিষঞ্চো বিনেশুস্ততো দেবা অভবন্ পরাহসুরাঃ, ভবত্যাত্মনা পরাহস্য দ্বিষন্ ভ্রাতৃব্যো ভবতি য এবং বেদ ॥ ১৬ ॥ ৭ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(ততঃ পরং)[দেবাঃ] হ ইমং আসন্যং(আস্যস্থং— মুখবর্ত্তিনং) প্রাণং মুখ্যং প্রাণং) উচুঃ(উক্তবন্তঃ)—ত্বং নঃ(অস্মভ্যম্)

১১৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উদ্‌গায় ইতি। এষঃ(মুখ্যঃ) প্রাণঃ, তথা ইতি[কৃত্বা] তেভ্যঃ(দেবেভ্যঃ) উদগায়ৎ; তে(অসুরাঃ) বিদুঃ(জ্ঞাতবন্তঃ);[যং] অনেন(মুখ্যপ্রাণেন) উদ্‌গাত্রা বৈ নঃ(অম্মান্) অত্যেষ্যন্তি ইতি।[এবং জ্ঞাত্বা, তে অসুরাঃ] অভিদ্রুত্য, তৎ(তৎ মুখ্যং প্রাণম্) পাপ্ননা অবিব্যুৎসন্(বেদুম্ ইষ্টবন্তঃ)। সঃ (অস্মিন্ বিষয়ে দৃষ্টান্তঃ)—যথা)—(যদ্বৎ) লোষ্টঃ(মৃৎপিণ্ডং) অম্মানং(পাষাণং) ঋত্বা(গত্বা প্রাপ্য) বিধ্বংসেত(বিধ্বস্তঃ ভবেৎ), এবং হ এব[অসুরাঃ] বিধ্বংস- মানাঃ বিষঞ্চঃ(ইতস্ততঃ বিস্রস্তাঃ সন্তঃ) বিনেশুঃ(বিনষ্টা বভূবুঃ)। ততঃ (অনন্তরং] দেবাঃ অভবন্(স্বপদপ্রতিষ্ঠা বভূবুঃ); অসুরাঃ[চ] পরা(পরা- জিতাঃ অববন্)। যঃ(জনঃ) এবং[যথোক্তদেবাসুরসংবাদ) বেদ, [সঃ] আত্মনা(স্বয়ং) ভবতি(প্রজাপতিস্বরূপো ভবতীত্যর্থঃ)। অন্য দ্বিষন্ (দ্বেষকারী) ভ্রাতৃবাঃ(শত্রুঃ) পরাভবতি(উপাসকঃ নিঃশত্রুঃ ভবতীতি ভাবঃ)॥ ১৬॥ ৭ ॥

মূলানুবাদ।—অতঃপর দেবতাগণ মুখবর্ত্তী মুখ্য প্রাণকে বলিলেন—তুমি আমাদের জন্য উদ্‌গীথ গান কর। মুখ্যপ্রাণ ‘তথাস্তু’ বলিয়া দেবতাগণের উদ্দেশ্যে উদ্‌গান করিলেন। এবারও অসুরগণ জানিতে পারিল যে, দেবতারা এই প্রাণরূপ উদ্‌গাতার সাহায্যে আমাদিগকে অতিক্রম করিবে। এইরূপ মনে করিয়া তাহারা অবিলম্বে যাইয়া তাঁহাকে স্বীয় পাপে কলুষিত করিতে ইচ্ছা করিল; কিন্তু লোষ্ট(ঢিল) যেমন পাষাণখণ্ডে পতিত হইয়া আপনিই চূর্ণ হইয়া যায়, ঠিক তেমনি সেই অসুরগণও মুখ্য প্রাণকে আক্রমণ করিতে যাইয়া নিজেরাই বিধ্বস্ত ও চতুর্দ্দিকে বিক্ষিপ্ত হইয়া বিনষ্ট হইল। তাহা হইতেই দেবতারা দেব- ভাব প্রাপ্ত হইলেন, আর অসুরগণ পরাভূত হইলেন। অপর কোন লোকও যদি এই তত্ত্ব অবগত হন, তাহা হইলে, তিনিও নিজে প্রজাপতি- স্বরূপ হন, এবং তাঁহারও শত্রু বিনষ্ট হইয়া যায় ॥ ১৬॥ ৭ ॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—অথ অনন্তরম্, হ ইমম্—ইত্যভিনয় প্রদর্শনম্; আসন্যম্ আস্যে ভবমাসন্যং মুখান্তর্ব্বিলস্থং প্রাণম্ উচুঃ—ত্বং ন উদগায়েতি। তথেতি এবং শরণমুপগতেভ্যঃ স এষ প্রাণো মুখ্য উদগায়ৎ ইত্যাদি পূর্ব্ববৎ। পাপ্মনা- অবিব্যুৎসন্ বেধনং কর্তৃমিষ্টবন্তঃ, তে চ দোষাসংসর্গিণং সন্তং মুখ্যং প্রাণং স্বেন আসঙ্গদোষেণ বাগাদিষু লব্ধপ্রসরাঃ তদভ্যাসানুবৃত্ত্যা, সংশ্লিষ্যমাণাঃ বিনেগুঃ বিনষ্টা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১১৯

বিধ্বস্তাঃ। কথমিব? ইতি দৃষ্টান্ত উচ্যত্যে-স যথা, স দৃষ্টান্তো যথা-লোকে অশ্বানং পাষাণম্ ঋত্বা প্রাপ্য লোষ্টঃ পাংশুপিণ্ডঃ পাষাণচূর্ণনায় অশ্মনি নিক্ষিপ্তঃ স্বয়ং বিধ্বংসত বিস্রংসেত বিচূর্ণীভবেৎ; এবং হৈব-যথায়ং দৃষ্টান্তঃ, এবমেব বিধ্বংসমানা বিশেষেণ ধ্বংসমানাঃ, বিষঞ্চঃ নানাগতয়ঃ, বিনেশুঃ বিনষ্টাঃ যতঃ, ততঃ তস্মাদসুরবিনাশাৎ দেবত্বপ্রতিবন্ধভূতেভ্যঃ স্বাভাবিকাসঙ্গ-জনিতপাপ্মভ্যো বিয়োগাৎ, অসংসর্গধৰ্ম্মি-মুখ্যপ্রাণাশ্রয়বলাৎ, দেবা বাগাদয়ঃ প্রকৃতাঃ অভবন্; কিমভবন? স্বং দেবতারূপমগ্যাদ্যাত্মকং বক্ষ্যমাণম্। পূর্ব্বমপি অগ্ন্যাদ্যাত্মান এব সন্তঃ স্বাভাবিকেন পাপ্পনা তিরস্কৃতবিজ্ঞানাঃ পিণ্ডমাত্রাভিমানা আসন্। তে তৎপাপ্পবিয়োগাদ উজ ঝিত্বা পিণ্ডমাত্রাভিমান, শাস্ত্রসমপিত-বাগাদ্যগ্ন্যাত্মাভিমানা বভূবুরিত্যর্থঃ। কিঞ্চ, তে প্রতিপক্ষভূতা অসুরাঃ পরা-অভবন্নিত্যনুবর্ততে; পরাভূতা বিনষ্টা ইত্যর্থঃ।

যথা পুরাকল্পেন বর্ণিতঃ পূর্ব্বজমানোহতিক্রান্তকালিকঃ এতামের আখ্যা- য়িকারূপার শ্রুতিং দৃষ্টা, তেনৈব ক্রমেণ বাগাদিদেবতাঃ পরীক্ষ্য, তাশ্চাপোহ্য আসঙ্গ-পাপ্মাস্পদ-দোববত্বেন, অদোষাস্পদং মুখ্যং প্রাণম্ আত্মত্বেনোপগম্য, বাগাদ্যাধ্যাত্মিক-পিণ্ডমাত্র-পরিচ্ছিন্নাত্মাভিমানং হিত্বা, বৈরাজ-পিণ্ডাভিমানং বাগাদ্যগ্ন্যাদ্যাত্মবিষয়ং বর্তমানপ্রজাপতিত্বং শাস্ত্রপ্রকাশিতং প্রতিপন্নঃ; তথৈবায়ং তেনৈব বিধিনা ভবতি প্রজাপতিস্বরূপেণ আত্মনা; পরা চাস্য প্রজাপতিত্ব-প্রতি- পক্ষভূতঃ পাপ্মা দ্বিষন্ ভ্রাতৃব্যো ভবতি;—যতোহদ্বেষ্টাপি ভবতি কশ্চিৎ ভ্রাতৃব্যো ভরতাদিতুল্যঃ; যস্তু ইন্দ্রিয়বিষয়াসঙ্গজনিতঃ পাপ্মা ভ্রাতৃব্যো দ্বেষ্টা চ, পারমার্থি- কাত্মস্বরূপ-তিরস্করণহেতুত্বাৎ; স চ পরাভবতি বিশীর্য্যতে লোষ্টবৎ, প্রাণপরিঘঙ্গাৎ।

কস্যৈতৎ ফলম্, ইত্যাহ—য এবং বেদ, যথোক্তং প্রাণমাত্মত্বেন প্রতিপদ্যতে, পূর্ব্বযজমানবদিত্যর্থঃ ॥ ১৬ ॥ ৭ ॥

টীকা। বাগাদিষু নৈরাশ্যানস্তর্য্যম্ অথশব্দার্থঃ। বিবক্ষিতার্থ-জ্ঞাপকোঽসাধারণো দেহ- তদবয়ব-ব্যাপারোহভিনয়ঃ। দোষাসংসর্গিণং দোষেণ সংসৃষ্টং কর্তৃমিচ্ছা কুতো জাতা? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—স্বেনেতি। তদভ্যাসানুবৃত্ত্যা তস্য পাপ্সংসর্গকরণস্য অভ্যাসবশাদিতি যাবৎ। উক্তমর্থং দৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি—কথমিত্যাদিনা। অসুরনাশেন আসঙ্গজনিতপাপ্ববিয়োগে তুমাহ—অসংসর্গেতি। বক্ষ্যমাণং “সোহগ্নিরভবৎ” ইত্যাদিনেতি শেষঃ। বাগাদীনাং স্থিতানাং জানাং চ কুতোহগ্ন্যাদিরূপত্বম্, ইত্যাশঙ্ক্যাহ—পূর্ব্বমপীতি। ন তহি তেষাং পরিচ্ছেদাভিমানঃ দিত্যাশঙ্ক্যাহ—স্বাভাবিকেনেতি। পরিচ্ছেদাভিমানাৎ অগ্ন্যাদ্যাত্মাভিমানস্য বলবত্ত্বং তি—শাস্ত্রেতি। ন কেবলমত্রোক্তানামের আসুরাণাম্ অসংসগধৰ্ম্মি-প্রাণাশ্রয়াদ, বিনাশঃ, তৎ-তুল্যজাতীয়ানামপি, ইত্যভিপ্রেত্যাহ—কিঞ্চেতি।

১২০. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বাগাদীনাম্ অগ্ন্যাদিভাবাপত্তিবচনেন তৎসংহতস্য যজমানস্য দেবতাপ্রাপ্তিঃ আসুরপাপ্য- ধ্বংসশ্চ ফলমিত্যুক্তং, তত্র পূর্ব্বকল্পিয়-যজমানস্য অতিশয়শালিত্বাৎ যথোক্তফলবত্বেহপি, ‘ন ইদানীন্তনস্যৈবমিত্যাশঙ্ক্য ভবতীত্যাদিশ্রুতিমবতারয়তি—যথেতি। পূর্ব্বকল্পনাপ্রকারেণ পূর্ব্ব- জন্মস্থো যজমানঃ শাস্ত্রপ্রকাশিতং বর্তমানপ্রজাপতিত্বং প্রতিপন্নো যথেতি সম্বন্ধঃ। পূর্ব্বযজমান ইত্যস্য ব্যাখ্যা অতিক্রান্তকালিক ইতি। পুরাকল্পমেব দর্শয়তি—এতামিতি। তেনেতি শ্রুত্যুক্তেনেত্যেতৎ। তেনৈব বিধিনা শ্রুতিপ্রকাশিতেন ক্রমেণ মুখ্যং প্রাণম্ আত্মত্বেনোপ- ‘গম্যেতি শেষঃ। সপত্নে! ভ্রাতৃব্যঃ, তস্য দ্বিষন্নিতি কুতো বিশেষণম্? অর্থসিদ্ধত্বাদ্দ্বেষস্য, ইত্যাশঙ্ক্যাহ—যত ইতি। তস্য দ্বেষ্টত্বনিয়মে হেতুমাহ—পারমার্ণিকেতি। অপরিচ্ছিন্ন- দেবতাত্বমত্র পারমার্থিকমাত্মস্বরূপং বিবক্ষিতং, তৎতিরস্করণকারণত্বাৎ উক্তপাপ্যনে। বিশেষণ- মর্থবদিতি শেষঃ।

‘যদাগ্নেয়োহষ্টাকপালঃ’ ইতিবৎ য এবং বেদেতি প্রসিদ্ধার্থোপবন্ধেহপি বিধিপরং বাক্যম্, অতশ্চৈবং বিদ্যাদিতি বিবক্ষিতমিত্যাভিপ্রেত্যাহ—যথোক্তমিতি ॥ ১৬ ॥ ৭ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘অথ’ অর্থ—অতঃপর; ‘হ’ শব্দ ঐতিহ্য-দ্যোতক; সাক্ষাৎ-নির্দেশ-সূচনার্থ ‘ইমম্’(‘ইহাকে’) শব্দের প্রয়োগ করা হইয়াছে। ‘আসন্য’ অর্থ—আস্যে বিদ্যমান=আসন্য, অর্থাৎ মুখবিবরে অবস্থিত সেই প্রাণকে বলিলেন— তুমি আমাদের জন্য উদ্‌গান কর। সেই এই মুখ্য প্রাণ তাদৃশ শরণাগত দেবতা- গণের নিমিত্ত ‘তথাস্ত’ বলিয়া উদীথ গান করিলেন, ইত্যাদির ব্যাখ্যা। পূর্ব্ববৎ। সেই অসুরগণ; প্রাণকে পাপবিদ্ধ করিতে ইচ্ছা করিল,—অর্থাৎ অসুরগণ বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ে কৃতকার্য্য হইয়া সেই অভ্যাসদোষে দোষসংস্পর্শবিহীন মুখ্য- প্রাণকেও স্বীয় আসক্তিদোষে লিপ্ত করিতে উদ্যত হইল। সেই অভিপ্রায়ে[তাঁহার সহিত] সংসৃষ্ট অর্থাৎ নিলিত হইবামাত্র বিনষ্ট—বিশেষরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইল; কাহার ন্যায়? এই প্রশ্নোত্তরে দৃষ্টান্ত নির্দেশ করিতেছেন। সেই দৃষ্টান্তটা এই—জগতে পাষাণকে চূর্ণ করিবার অভিপ্রায়ে নিক্ষিপ্ত লোষ্ট অর্থাৎ ধূলিপিণ্ড যেমন সেই অশ্বে—পাষাণে লাগিয়া নিজেই বিধ্বস্ত—চূর্ণীকৃত হইয়া যায়, ঠিক তেমনই প্রকার; অর্থাৎ কথিত দৃষ্টান্তটী যে প্রকার, উহাও ঠিক সেই প্রকারই বিধ্বংসমান—বিশেষরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিষক্ অর্থাৎ নানাদিকে বিক্ষিপ্ত হইয়া বিনষ্ট হইয়াছিল। সেই হেতু—অসুরপক্ষের বিনাশহেতু, অর্থাৎ দেবভাবপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকস্বরূপ বা বাধক স্বভাবসিদ্ধ বিষয়াসক্তি-দোষজনিত পাপের নিবৃত্তি হওয়ায় এবং পাপসংস্পর্শরহিত মুখ্যপ্রাণের আশ্রয়-গ্রহণ করায় বাক্প্রভৃতি দেবগণ স্বাভাবিক অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কিরূপ অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছিলেন? না,’ পরে যাহার কথা বলা হইবে, সেই অগ্ন্যাদি

, প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১২১

দেবভাব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। অভিপ্রায় এই যে, পূর্ব্বেও তাঁহারা অগ্ন্যাদি- স্বরূপই ছিলেন, তথাপি স্বাভাবিক বিষয়াসক্তিদোষে তাঁহাদের সেই বিশেষ জ্ঞান ( দিব্য জ্ঞান) আবৃত থাকায় কেবল দেহপিণ্ডেই আত্মবুদ্ধি স্থাপন করিয়াছিলেন; শেষে সেই আসঙ্গরূপ পাপ অপনীত হইলে পর, দেহমাত্রগত আত্মাভিমান পরি- ত্যাগপূর্ব্বক শাস্ত্রোপদেশানুসারে স্বীয় অগ্ন্যাদি দেবতাভিমান ধারণ করিয়া- ছিলেন। অধিকন্তু, তাঁহাদের প্রতিপক্ষ অসুরগণও পরাভূত—বিনষ্ট হইয়াছিল।

এখানে শ্রৌত আখ্যায়িকায় যেমন পুরাকল্প-ঐতিহাসিকরূপে পূর্ব্বকালীন যজমান(প্রজাপতি) বর্ণিত হইলেন, অর্থাৎ পূর্ব্বকল্লীয় যজমান যেমন যথোক্ত- ক্রমে বাগাদি দেবতাকে পরীক্ষা করিয়া-বিষয়াসক্তিরূপ পাপসঙ্গদোষ বশতঃ তাঁহাদিগকে পরিত্যাগপূর্ব্বক নির্দ্দোষ মুখ্য প্রাণকে আত্মস্বরূপে গ্রহণ করিয়া- ছিলেন, এবং দৈহিক বাপ্রভৃতিতে কেবল দেহমাত্রত্বরূপ পরিচ্ছিন্ন আত্মবুদ্ধি পরি- ত্যাগ করিয়া বিরাটপুরুষরূপে ভাবনা করত শাস্ত্রোপদিষ্ট এই বর্তমান প্রজাপতি- পদ লাভ করিয়াছিলেন। তেমনি বর্তমানকালীন যজমানও পূর্ব্বোক্ত পদ্ধতিক্রমে কার্য্য করিয়া প্রজাপতিস্বরূপ হইতে পারেন; এবং তাহার প্রজাপতিত্বলাভের প্রতি- বন্ধক অনিষ্টকারী শত্রু-পাপও পরাভূত করিতে পারেন(১০)। দশরথপুত্র-- ভরতের ন্যায় বিদ্বেষবিহান হইয়াও ভাতব্য(জন্ম-শত্রু) হইতে পারে; [এইজন্য শ্রুতিতে ‘ভ্রাতৃব্যে’র বিশেষণরূপে ‘দ্বিষন্’ শব্দ দিতে হইয়াছে,] কিন্তু ইন্দ্রিয়ের বিষয়াসক্তিজনিত যে পাপ, তাহা শত্রুও বটে, এবং দ্বেষকারীও বটে; কারণ, উহাই প্রকৃতপক্ষে আত্মস্বরূপের আবরণ সম্পাদন করিয়া থাকে। সেই শত্রুও প্রাণের স্পর্শমাত্রে সাধারণ লোকের ন্যায় পরাভূত-বিশীর্ণ হইয়া যায়। যে ফলের কথা বলা হইল, ইহা কাহার ফল? তদুত্তরে বলিতেছেন-

(১০) তাৎপর্য্য—‘ভ্রাতৃব্য’ অর্থ—শত্রু। শত্রু দুই শ্রেণীতে বিভক্ত—(১) সহজ ও (২) কৃত্রিম। জন্মাধীন যাহাদের সঙ্গে ধন-সম্বন্ধ, তাহারা প্রীতিভাজন হইলেও ‘সহজ-শত্রু’ মধ্যে পরিগণিত। যেমন জ্যেষ্ঠতাত ভাই, খুল্লতাত ভাই প্রভৃতি। আগন্তুক কারণবশতঃ যাহাদের সহিত শত্রুতা হয়, তাহারা ‘কৃত্রিম-শত্রু’-মধ্যে পরিগণিত। ইহার উদাহরণ দেওয়া অনাবশ্যক। শত্রুর ন্যায় মিত্রও সহজ ও কৃত্রিমভেদে দুই প্রকার;—মাতুলভাই প্রভৃতি যাহাদের সঙ্গে জন্মাধীন বন্ধুতা, তাহারা অনিষ্ট করিলেও ‘সহজমিত্র’ শ্রেণীর অন্তর্গত। আর যাহারা কোন প্রকার উপকার করিয়া বন্ধু হয়, তাহারা ‘কৃত্রিম মিত্র’। এই জন্য শ্রুতি কেবল ‘ভ্রাতৃব্য’ শব্দ দিয়া নিশ্চিন্ত হইতে পারেন নাই, ‘দ্বিষন্’ শব্দেরও প্রয়োগ করিয়াছেন।

১৬

১২২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যে ব্যক্তি পূর্ব্বকল্লীয় যজমানের ন্যায় ইহ করে প্রাণকে আত্মস্বরূপে উপলব্ধি করিতে পারে, তাহার এইরূপ ফল ॥ ১৬ ॥ ৭ ॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্। —ফলমুপসংহৃত্য অধুনা আখ্যায়িকারূপমেব আশ্রিত্যাহ —কমাচ্চ হেতোঃ বাগাদীন্ মুক্তা মুখ্য এব প্রাণ আত্মত্বেন আশ্রয়িতব্য ইতি; তদুপপত্তি-নিরূপণায়—যম্মাদয়ং বাগাদীনাং পিণ্ডাদীনাঞ্চ সাধারণ আত্মা— ইত্যেতম্ অর্থম্ আখ্যায়িকয়া দর্শয়ন্ত্যাহ শ্রুতিঃ—

টাকা। ফলবৎপ্রধানোপান্তেরুক্তত্বাৎ তে হোচুরিত্যাদ্যুত্তরবাক্যং গুণোপাস্তিপরম্, ইত্যাহ-ফলমিতি। ফলবস্তুং প্রধানবিধিমুক্ত। সম্প্রত্যাখ্যায়িকামেবাশ্রিত্য গুণবিশিষ্টং প্রাণোপাসনমাহ অনন্তরশ্রুতিরিতার্থঃ। শঙ্কোত্তরত্বেন চ উত্তরগ্রন্থমবতারয়তি-কস্মাচ্চেতি। বিশুদ্ধত্বস্য উক্তত্বাৎ হেত্বন্তরং জিজ্ঞাস্যমিতি দ্যোতয়িতুং চ-শব্দঃ। করণানাং কাৰ্য্যস্য তদবয়বানাং চ প্রাণো যম্মাদাত্মা ব্যাপকঃ, তস্মাৎ স এবাশ্রয়িতব্যঃ, ইত্যুপপত্তিনিরূপণার্থং তস্য ব্যাপকত্ব- মিত্যেতদর্থম্ আখ্যায়িকয়া দর্শয়ন্তী শ্রুতিহেত্বন্তরমাহেতি যোজনা। তচ্ছব্দস্তস্মাদর্থে।

ভাষ্যানুবাদ।—বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়বর্গকে পরিত্যাগ করিয়া মুখ্য প্রাণকেই আত্মারূপে আশ্রয় করিতে হইবে কেন, তাহার কারণ নিরূপণের জন্য শ্রুতি বিদ্যাফলের উপসংহার করিয়া, পুনশ্চ আখ্যায়িকা অবলম্বনেই বলিতে- ছেন;—যেহেতু এক মাত্র মুখ্য প্রাণই বাক্ ও দেহপিণ্ড প্রভৃতির পক্ষে সাধারণ(ব্যক্তিগত পক্ষপাতদোষবিহীন),[সেই হেতুই তাহাকে আত্মারূপে গ্রহণ করিতে হইবে]। শ্রুতি আখ্যায়িকাচ্ছলে এই বিষয়টাই প্রদর্শন করিতেছেন;—

তে হোচুঃ কনু সোহভূদ্ যো ন ইথমসক্তেত্যয়মাস্যেহন্ত- রিতি, সোহয়াস্য আঙ্গিরসোহঙ্গানাং হি রসঃ ॥ ১৭ ॥ ৮ ॥

সরলার্থঃ।—তে(প্রজাপতিপ্রাণাঃ) হ(ঐতিহ্যে) উচুঃ(উক্তবন্তঃ)— যঃ নঃ(অস্মান্) ইথম্(যথোক্তপ্রকারেণ) অসক্ত(সম্যগ্‌জিতবান্— দেবভাবং গমিতবান্), সঃ ক্ব(কুত্র) নু(বিতর্কে) অভূৎ(অসীৎ)? ইতি।[উত্তরম্—] অয়ম্(অস্মদুপকারী প্রাণঃ) আদ্যে অন্তঃ(মুখমধ্যে— মুখগহ্বরে)[অভূৎ], ইতি(অস্মাৎ হেতোঃ) সঃ(প্রাণঃ) অয়াস্যঃ(অয়ং আদ্যে—ইতি ‘অয়াস্যঃ’, অথবা অনায়াসলভ্যত্বাৎ অয়াস্যঃ);[তথা] আঙ্গি- রসঃ(অঙ্গানাং সারঃ—আত্মভূতঃ এবঃ, তস্মাৎ আঙ্গিরস ইতি ভাবঃ) ॥ ১৭ ॥ ৮ ॥

, মুলাসুবাদ?—সেই প্রজাপতির ইন্দ্রিয়সমূহ পরস্পর বলিয়া- ছিল—যিনি আমাদিগকে এইরূপে জয় করিলেন, অর্থাৎ আমাদিগকে দেবভাব লাভ করাইলেন, তিনি কোথায় ছিলেন?[ অনুসন্ধানের পর

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১২৩

বুঝিলেন যে,] সেই মুখ্য প্রাণ আস্যমধ্যে(মুখবিবরে) ছিলেন। এই জন্যই তিনি ‘অয়াস্য’, এবং সমস্ত অঙ্গের রস বা সারভূত বলিয়া ‘আঙ্গিরস’-পদবাচ্য ॥ ১৭। ৮॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—তে প্রজাপতিপ্রাণাঃ মুখ্যেন প্রাণেন পরিপ্রাপিত- দেবস্বরূপাঃ হ উচুঃ উক্তবন্তঃ ফলাবস্থাঃ। কিমিত্যাহ—ক নু ইতি বিতর্কে। ক কস্মিন্ নু সোহভূৎ। কঃ? যঃ নোহস্মান্ ইথমেবম্, অসক্ত সঞ্জিতবান্ দেবভাব- মাত্মত্বেনোপগমিতবান্। স্মরন্তি হি লোকে কেনচিত্রপক্বতা উপকারিণম্; লোকব- দেব স্মরন্তো বিচারয়মাণাঃ কার্য্যকরণসঙ্ঘাতে আত্মন্যেবোপলব্ধবস্তুঃ। কথম্? অরমাস্যে অন্তরিতি—আস্যে মুখে য আকাশঃ, তস্মিন্ অন্তঃ অয়ং প্রত্যক্ষো বর্ত্তত- ইতি। সর্ব্বো হি লোকো বিচার্য্য অধ্যবস্থ্যতি; তথা দেবাঃ।

যম্মাদয়মন্তরাকাশে বাগাদ্যাত্মত্বেন বিশেষমনাশ্রিত্য বর্তমান উপলব্ধো দেবৈঃ, তস্মাৎ-স প্রাণঃ অয়াস্যঃ বিশেষানাশ্রয়াচ্চ অসক্ত সঞ্জিতবান্ বাগাদীন। অত- এবাঙ্গিরসঃ আত্মা কার্যকরণানাম্। কথমাঙ্গিরসঃ? প্রসিদ্ধঃ হোতদঙ্গানাং কার্য্য- করণলক্ষণানাং রসঃ সার আত্মেত্যর্থঃ। কথং পুনরঙ্গরসত্বম্? তদপায়ে শোষ- প্রাপ্তেরিতি বক্ষ্যামঃ। যস্মাচ্চ অরমঙ্গরসত্ত্বাৎ বিশেষানাশ্রিতত্বাচ্চ কার্যকরণানাং সাধারণ আত্মা বিশুদ্ধশ্চ, তস্মাৎ বাগাদীনপাস্থ্য প্রাণ এব আত্মত্বেন আশ্রয়িতব্য ইতি বাক্যার্থঃ। আত্মা হি আত্মত্বেনোপগন্তব্যঃ, অবিপরীতবোধাৎ শ্রেয়ঃপ্রাপ্তেঃ, বিপর্যয়ে চানিষ্টপ্রাপ্তিদর্শনাৎ ॥ ১৭ ॥৮॥

টাকা। প্রাণস্যাত্মহাদি ব্যক্তীকর্ত্তমাখ্যায়িকাশ্রুতিং বিভজতে-তে প্রজাপতীতি। বাগাদয়শ্চেং প্রাণমাশ্রিতা ফলাবস্থাস্তহি কিমিতি প্রাণং স্মরন্তি প্রাপ্তফলত্বাৎ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ- স্মরন্তি হীতি। বিচারফলমুপলব্ধিং কথয়তি-লোকবদিতি। তামেবোপলব্ধিমাকাজ্ঞাদ্বারেণ বিবৃণোতি-কথমিতি। দৃষ্টান্তং স্পষ্টয়তি-সর্ব্বো হীতি। তথা দেবা বিচার্য্য প্রাণম্ আস্যান্তরাকাশস্থং নির্দ্ধারিতবস্তু ইত্যাহ-তথেতি।

কিমনয়া কথয়া সিদ্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যস্মাদিতি। উপলব্ধিসিদ্ধেহর্থে যুক্তিং সমুচ্চিনোতি- বিশেষেতি। সর্ব্বানেব বাগাদীন্ অবিশেষেণাগ্ন্যাদিভাবেন প্রাণ: সঞ্জিতবান্। ন চ অমধ্যস্থঃ সাধারণং কাৰ্য্যং নির্বর্ত্তয়তি। অতো যুক্তিতোহপি অয়মাস্যন্তরাকাশে বর্তমানঃ সিদ্ধ ইত্যর্থঃ। অয়াস্যত্ববদাঙ্গিরসত্বং গুণান্তরং দর্শয়তি-অত এবেতি। সর্ব্বসাধারণত্বাদেবেতি যাবৎ। তথাপি কুতোহস্যাঙ্গিরসত্বং সাধারণেহপি নভসি তদনুপলন্ধেরিত্যাশঙ্ক্য পরিহরতি-কথমিত্যাদিনা। অঙ্গেযু চরমধাতোঃ সারত্বপ্রসিদ্ধের্ন প্রাণস্য তথাত্বমিতি শঙ্কিত্বা সমাধত্তে-কথং পুনরিত্যাদিনা। কমাচ্ছ হেতোরিত্যাদি-চোদ্যপরিহারমুপসংহরতি-যস্মাচ্চেতি। বাক্যার্থং প্রপঞ্চয়তি- আত্মা হীতি ॥ ১৭ ॥ ৮ ॥

১২৪. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যানুবাদ।—মুখ্যপ্রাণ যাহাদের দেবভাব প্রকটিত করিয়াছে, প্রজাপতির সেই প্রাণসমূহ সফলতালাভ করিয়া বলিয়াছিল। কি বলিয়াছিল? ‘নু’ শব্দটা বিতর্কার্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। তিনি কোথায় ছিলেন? তিনি কে? না, বিনি আমাদিগকে এই প্রকার আত্মস্বরূপে দেবভাব প্রাপ্ত করাইয়াছেন, [তিনি কোথায় ছিলেন?]। জগতে কাহারও নিকট উপকার লাভ করিয়া কৃতজ্ঞ ব্যক্তির! সেই উপকারীকে স্মরণ করিয়া থাকেন; কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় প্রজাপতির ইন্দ্রিয়গণও স্মরণ করত অর্থাৎ অনুসন্ধান করিতে করিতে দেহেন্দ্রিয়সমষ্টিরূপ আপনার মধ্যেই তাঁহাকে দেখিতে পাইয়াছিলেন। কি প্রকার? “অয়ম্ আস্যে অন্তঃ ইতি”—আস্যে অর্থাৎ মুখের মধ্যে যে, আকাশ(ফাঁক— মুখবিবর) আছে, তাহার মধ্যে এই প্রাণ প্রত্যক্ষই রহিয়াছেন, অর্থাৎ মুখের মধ্যেই ইঁহাকে দেখিতে পাওয়া যাইতেছে। জগতে সমস্ত লোকই বিচার করিয়া নিশ্চয় করিয়া থাকে, দেবগণও ঠিক সেইরূপই করিয়াছিলেন।

দেবগণ যেহেতু ইহাকে মুখ-বিবররূপ আকাশ মধ্যে দেখিতে পাইয়া বুঝিয়া ছিলেন যে, এই মুখ্য প্রাণ বাগাদিরূপ কোন বিশেষ প্রকার অবস্থ অবলম্বন না করিয়া সাধারণভাবে বর্তমান রহিয়াছে, সেই হেতুই উক্ত প্রাণ ‘অয়াস্য’-পদবাচ্য; এবং যেহেতু স্বগত কোনরূপ বিশেষত্ব অবলম্বন না করিয়াই বাক্ প্রভৃতিকে দেবভাবাপন্ন করিয়াছেন, সেই হেতুই ‘আঙ্গিরস’-পদবাচ্য। ভাল, মুখ্য প্রাণ ‘আঙ্গিরস’ হইল কি প্রকারে? যেহেতু মুখ্য প্রাণই যে, দেহেন্দ্রিয়সমষ্টিভূত অঙ্গ- সমূহের রস—সারভূত আত্মা; ইহা ত লোকপ্রসিদ্ধই আছে। আচ্ছা, প্রাণই বা আঙ্গিরস হয় কি প্রকারে?[উত্তর ---] যেহেতু প্রাণের অভাবে সমস্ত অঙ্গ শুষ্ক হইয়া যায়, এ কথা পরে আমরা বলিব। যেহেতু এই মুখ্য প্রাণই অঙ্গরসত্ব ও নির্বিশেষত্ব হেতু দেহেন্দ্রিয়সমষ্টির আত্মস্বরূপ এবং বিশুদ্ধ অর্থাৎ ভোগাসঙ্গ- দোষরহিত, এই কারণেই বাক্ প্রভৃতিকে পরিত্যাগ করিয়া মুখ্য প্রাণকেই আশ্রয় করা উচিত, ইহাই উক্ত বাক্যের তাৎপর্য্য। যেহেতু বিপর্যয়রহিত যথার্থ জ্ঞানেই শ্রেয়ঃপ্রাপ্তি হইয়া থাকে, আর বিপরীত জ্ঞানে অনিষ্টপ্রাপ্তিই দেখিতে পাওয়া যায়, সেই হেতু আত্মাকে—আত্মস্বরূপ প্রাণকে আত্মারূপেই উপলব্ধি করা উচিত; [সেই কারণেই প্রাণকে আত্মারূপে আশ্রয় করিতে বলা হইয়াছে] ॥ ১৭ ॥৮॥

সা বা এষা দেবতা দূর্নাম, দুরং হাসি মৃত্যুদূ রং হ বা অস্মান্- মৃত্যুর্ভবতি, য এবং বেদ ॥ ১৮ ॥ ৯ ॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্।

১২৫

সরলার্থঃ।—সা(পূর্ব্বোক্তা) এষা(প্রাণাখ্যা) দেবতা বৈ দূর নাম (দূর্নামা প্রসিদ্ধা); হি(যস্মাৎ) মৃত্যুঃ(আসঙ্গলক্ষণ: পাপ্মা, মরণং বা) অস্যাঃ (প্রাণদেবতায়াঃ) দূর:(দূরে)[বর্ত্ততে]; তস্মাৎ যঃ(অন্যোহপি যঃ কশ্চিৎ) এবং(প্রাণস্য দূর্নামত্ব) বেদ(বিজানতি, মৃত্যুঃ) তস্মাৎ(বিদুষঃ) অপি। দূর:(দূরে) ভবতি, হ বৈ(অবধারণে)।

মূলানুবাদ।—পূর্ব্বোক্ত এই প্রাণ-দেবতা ‘দূর’ নামে প্রসিদ্ধ! কেন না, যেহেতু মৃত্যু অর্থাৎ ভোগাসক্তিরূপ পাপ ইহা হইতে দূরে থাকে। যে লোক এই প্রাণদেবতার ‘দূর’ নাম জানে, মৃত্যু তাহার নিকট হইতেও দূরে থাকে ॥ ১৮ ॥ ৯ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। -হ্যান্মতঃ প্রাণস্থ বিশুদ্ধিরসিদ্ধেতি। ননু পরিহৃত- মেতদ বাগাদীনাঃ কল্যাণবদনাদ্যাসঙ্গবৎ প্রাণস্যাসঙ্গাস্পদত্বাভাবেন। বাঢ়ম্; কিন্তু আঙ্গিরসত্বেন বাগাদীনামাত্মত্বোক্ত্যা বাগাদিদ্বারেণ শবস্পৃষ্টি-তৎস্পৃষ্টেরিবাশুদ্ধতা শঙ্কাতে, ইত্যাদি --শুদ্ধ এব প্রাণঃ; কৃতঃ? সা ব’ এষ’ দেবতা দূর্নাম-যং প্রাণং প্রাপ্য অশ্বানমিব লোষ্টবং বিধ্বস্তা অসুরাঃ; ত পরামুশতি-সেতি। সৈবৈষা, যেয়ঃ বর্তমান-সজ্ঞমান-শরীরস্থা দেবৈনিদ্ধারিতা “অয়মাস্থ্যেহন্তঃ” ইতি। দেবতা চ সা স্যাৎ, উপাসনক্রিয়ায়াঃ কৰ্ম্মভাবেন গুণভূতত্ত্বাৎ।

যস্মাৎ সা দুর্নাম দূরিত্যের খ্যাতা; নামশব্দঃ খ্যাপনপর্যায়ঃ। তস্মাৎ প্রসিদ্ধাহস্যা বিশুদ্ধিঃ দূর্নামত্বাৎ। কুতঃ পুনদুর্নামত্বম্? ইত্যাহ-দূরং দূরে, হি যস্মাৎ, অস্যাঃ প্রাণদেবতায়াঃ, মৃত্যুরাসঙ্গলক্ষণঃ পাপমা; অসংশ্লেষধর্মিত্বাৎ প্রাণস্য সমীপস্থস্যাপি দূরতা মৃত্যোঃ; তস্মাদ দূরিত্যের খ্যাতিঃ; এবং প্রাণস্য বিশুদ্ধিজ্ঞাপিতা(ক)। বিদুষঃ ফলমুচ্যতে-দূর হ বা অস্মাৎ মৃত্যুর্ভবতি- অস্মাদেবংবিদঃ, য এব বেদ, তস্মাৎ; এবমিতি প্রকৃত বিশুদ্ধিগুণোপেতং প্রাণমুপান্ত ইত্যর্থঃ। উপাসন: নাম উপাস্যার্থবাদে যথা দেবতাদিস্বরূপ, শ্রুত্যা জ্ঞাপ্যতে, তথা মনসোপগমা আসনঃ চিন্তন লৌকিকপ্রত্যয়াব্যবধানেন, সাবৎ তদ্দেবতাদিস্বরূপাত্মাভিমানাভিব্যক্তিরিতি, লৌকিকাত্মাভিমানবৎ; “দেবো ভূত্বা দেবানপ্যেতি” “কিন্দেবতোহস্যাং প্রাচ্যা দিশ্যসি” ইত্যেবমাদি- শ্রুতিভাঃ ॥ ১৮ ॥ ৯ ॥

টীকা। প্রাণশ্চ শুদ্ধাৎ ব্যাপকশ্চ উপাস্যমুক্তং, তস্য শুদ্ধত্বং বাগাদিবদসিদ্ধম্,

( ক) খাদিভদ্র, প্রাণবন্ত বিবিধিকা’ ইতি ক্বচিৎ পাঠঃ।

১২৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ইত্যাশঙ্কতে-শ্যামতমিতি। শঙ্কামাক্ষিপ্য সমাধত্তে-নন্বিত্যাদিনা। শবেন স্পৃষ্টিস্তস্যাষি, তেন স্পৃষ্টোংপরঃ, তস্যাশুদ্ধতাবৎ অশুদ্ধবাগাদিসম্বন্ধাৎ অশুদ্ধত্বাশঙ্কা প্রাণস্যোন্মিষতীতার্থঃ। তাৎপর্য্যং দর্শয়ন্ উত্তরবাক্যযুত্তরত্বেন অবতারয়তি-আহেতি। নম্বত্র প্রাণো নোচ্যতে স্ত্রীলিঙ্গেন অর্থান্তরোক্তিপ্রতীতেরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যং প্রাণমিতি। তস্যামুর্ত্তস্থ্য পরোক্ষত্বাদপরোক্ষবাচী চ কথমেতচ্ছব্দো যুগাতে, তত্রাহ-সৈবেতি। কথং প্রাণে দেবতাশব্দঃ, ন হি তস্য তচ্ছব্দত্বঃ প্রসিদ্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ-দেবতা চেতি। যাগে হি দেবতা কারকত্বেন গুণভূতা প্রসিদ্ধা, তথা প্রাণোহপি দ্রব্যাদ্যন্যত্বে সতি বিহিতক্রিয়াগুণত্বাৎ দেবতেত্যর্থঃ।

প্রাণোপান্তের্বিবিধং ফলং-পাপহানিদেবতাভাবশ, তত্র পাপহানেরেব প্রধানফলস্যাত্র শ্রবণাৎ দুর্গুণবিশিষ্টপ্রাণোপান্তিরিহ বিবক্ষিতেতি বাক্যার্থমাহ-যস্মীদিতি। ন তাবৎ প্রাণদেবতায়া দুর্নামত্বং মিরূঢ়ং, তত্র তচ্ছব্দপ্রসিদ্ধেরদর্শনাৎ, নাপি যৌগিকং প্রাণস্য প্রত্যগ্‌- বৃত্তেদুরত্বাভাবাৎ, ইত্যাক্ষিপতি-কুতঃ পুনরিতি। পরিহরতি-আহেতি। কথং পাপমসন্নিধৌ বর্তমানস্য ততো দূরত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অসংশ্লেষেতি। উপান্তে সদা ভাবয়তীতি যাবৎ। ব্রহ্ম- জ্ঞানাদিব প্রাণতত্ত্বজ্ঞানাৎ ফলসিদ্ধিসম্ভবে কিং সদা তদ্ভাবনয়া? ইত্যাশঙ্ক্য ভাবনাপর্যায়োপাসন- শব্দার্থমাহ-উপাসনং নামেতি। দীর্ঘকালাদরনৈরন্তর্য্যরূপবিশেষণত্রয়ং বিবক্ষিত্বাহ-লৌকি- কেতি। তস্য মর্য্যাদাং দর্শয়তি-যাবদিতি। মনুষ্যোঽহমিতিবৎ দেবোহহমিতি যস্য জীবত এব অভিমানাভিব্যক্তিঃ, তস্যৈব দেহপাতাদুর্দ্ধং তদ্ভাবঃ ফলতীত্যত্র প্রমাণমাহ-দেবো ভূত্বেতি। কা দেবতা রূপং তবেতি-কিংদেবতোঽসীতি, তদ্ভাবে! ভাতীত্যর্থঃ ॥ ১৮ ॥ ৯ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—মনে হইতে পারে,—প্রাণের যে, বিশুদ্ধি বলা হইয়াছে, তাহা অসিদ্ধ, অর্থাৎ কোন প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয় না; কেন না, বাক্ প্রভৃতির যেরূপ কল্যাণ-কথনাদিবিষয়ে আসক্তি আছে, প্রাণের সেরূপ কোনও আসক্তি নাই; সুতরাং এ কথার মীমাংসা ত পূর্ব্বেই করা হইয়াছে;[ তবে আবার শঙ্কা হয় কেন?] হাঁ, একথা সত্য বটে, কিন্তু আঙ্গিরসত্ব নিবন্ধন প্রাণকে বাক্প্রভৃতির আত্মস্বরূপ বলায়, ‘শবস্পৃষ্টি-তৎস্পৃষ্টি’ ন্যায়ানুসারে(১১) বাগাদির সহিত সম্বন্ধ থাকায়, প্রাণেও বাগাদিগত অশুদ্ধি সংক্রামিত হইতে পারে; এইজন্য বলিতেছেন যে, না—প্রাণ বিশুদ্ধই বটে; কারণ? যেহেতু এই দেবতা(প্রাণ) ‘দূর’ নামে প্রসিদ্ধ। পাষাণে নিক্ষিপ্ত লোষ্টের ন্যায় অসুরগণ যে প্রাণকে আক্রমণ করিয়া বিধ্বস্ত হইয়াছিল, এখানে ‘সা’ পদে সেই প্রাণকে বুঝাইতেছে। ইহা সেই দেবতাই বটে,—বর্তমান যজমানের শরীরগত যে দেবতা, দেবগণকর্তৃক ‘অয়ম্ আস্থ্যে অন্তঃ”

(১১) তাৎপর্য্য—‘শবস্পৃষ্টি’ ন্যায় এইরূপ,—শব(মৃতদেহ) স্বভাবতই অস্পৃশ্য, . শবস্পর্শী ব্যক্তিও অস্পৃশ্য; আবার তাহার স্পৃষ্ট বস্তুও অস্পৃশ্য হইয়া থাকে। এখানেও তদ্রূপই বুঝিতে হইবে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১২৭

বলিয়া নির্দ্ধারিত হইয়াছেন। উপাসনা-ক্রিয়ার কর্মরূপে(উপাস্যরূপে) প্রাণ যখন উপাসনারই অঙ্গস্বরূপ, তখন দেবতাস্বরূপও বটে।

যেহেতু সেই দেবতা(প্রাণ) ‘দূর’ নামে প্রসিদ্ধ; এখানে নামশব্দটা প্রসিদ্ধি- দ্যোতক; সেই হেতুই ইহার বিশুদ্ধতাও প্রসিদ্ধ; ‘দূর’ এই নামই বিশুদ্ধির কারণ। কেন যে, তাহার ‘দূর’ নাম হইল, তাহা বলিতেছেন-যেহেতু মৃত্যু অর্থাৎ বিষয়াসঙ্গরূপ পাপ এই প্রাণদেবতা হইতে দূরে অবস্থিত; আসক্তিরূথ দোষ না থাকায় মৃত্যু তাঁহার সন্নিহিত হইলেও বস্তুতঃ দূরে আছে; এইজন্যই তাঁহার ‘দূর’ নামে প্রসিদ্ধি ঘটিয়াছে। এইরূপে প্রাণের বিশুদ্ধি বিজ্ঞাপিত হইল। এখন বিদ্যার ফল কথিত হইতেছে-ইহা হইতে অর্থাৎ এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট হইতে মৃত্যু অতি দূরে থাকে, যিনি এইতত্ত্ব জানেন, তাঁহার নিকট হইতেও[মৃত্যু দূরে থাকে]। ‘এবং’ শব্দ হইতে বুঝিতে হইবে যে, যে লোক বিশুদ্ধ-গুণসম্পন্ন প্রাণের উপাসনা করেন,-উপাসনা শব্দের অর্থ এই যে, শ্রুতিতে উপাসনা বিধির অর্থবাদবাক্যে(প্রশংসাবাক্যে) দেবতাপ্রভৃতির যেরূপ স্বরূপ বর্ণিত আছে, মনে মনে ঠিক সেই রূপটির নিকট উপস্থিত হইয়া আসন-(উপ+ আসন=উপাসন) চিন্তা করা। বলা আবশ্যক যে, উক্ত চিন্তার মধ্যে জাগতিক অন্য কোনও চিন্তা প্রবিষ্ট থাকিবে না। যতক্ষণ লোকসিদ্ধ অভিমানের ন্যায় সেই উপাস্য দেবতাদির স্বরূপে তাহার আত্মাভিমান অভিব্যক্ত না হয়,[ততকাল ঐরূপ ধ্যান করিতে হইবে]; কেন না, শ্রুতি বলিয়াছেন-‘দেবতা হইয়া দেবতার উপাসনা করিবে’, ‘তুমি এই পূর্ব্বদিকে কোন্ দেবতারূপে বর্তমান আছ?’ ইত্যাদি ॥ ১৮॥ ৯॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—“সা বা এষা দেবতা...দূর হ বা অস্মান্মৃত্যুর্ভবতি” ইত্যুক্তম্। কথং পুনরেবংবিদো দূরং মৃত্যুর্ভবতীতি? উচাতে—এবংবিত্তবিরো- ধাৎ; ইন্দ্রিয়-বিষয়সংসর্গাসঙ্গজো হি পাপ্মা প্রাণাত্মাভিমানিনো হি বিরুধ্যতে, বাগাদিবিশেষাত্মাভিমানহেতুত্বাৎ স্বাভাবিকাজ্ঞানহেতুত্বাচ্চ। শাস্ত্রজনিতো হি প্রাণাত্মাভিমানঃ; তস্মাদেবংবিদঃ পাপ্মা দূরং ভবতীতি যুক্তম্, বিরোধাৎ। তদেতৎ প্রদর্শয়তি—

টীকা। কণ্ডিকান্তরমবতাযা বৃত্তং কীর্তয়তি-সা বা ইতি। নিত্যানুষ্ঠানাৎ পাপ- হানিঃ, ধর্মাৎ পাপক্ষয়শ্রুতে‘। ন চেদমুপাসনং নিত্যং নৈমিত্তিকং বা, দেবতাত্মত্বকামিনো বিধানাৎ, তৎকথঃ প্যপম্ এবংবিদো দূরে ভবতীত্যাক্ষিপতি-কথং পুনরিতি। বিয়োধি- সন্নিপাতে পূর্বধ্বংসমাবশ্যকং মন্থান: সমাধত্তে-উচ্যতে ইতি। উক্তমেব বানক্তি-ইন্দ্রিয়েতি।

১২৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ইন্দ্রিয়াণাং বিষয়েষু সংসগে যোহভিনিবেশস্তেন জনিতঃ পাপ্মা পরিচ্ছেদাভিমানঃ অপরিচ্ছিন্নে প্রাণাত্মনি আত্মাভিমানবতো বিরুধ্যতে, পরিচ্ছেদাপরিচ্ছেদয়োবিরোধস্য প্রসিদ্ধত্বাদিত্যর্থঃ। বিরোধং সাধয়তি—বাগাদীতি। পাপ্মনো বাগাদিবিশেষবত্যাত্মনি বিশিষ্টে অভিমানহেতুত্বাৎ আধিদৈবিকাপরিচ্ছিন্ন্নাভিমানে ধ্বংসো যুজাতে। দৃশ্যতে হি চণ্ডালভাণ্ডাবলম্বিনো জলঙ্গ গঙ্গাদ্যবিশেষভাবাপত্তৌ অপেয়ত্বনিবৃত্তিঃ।

“অশুদ্ধাপি পরঃ প্রাপঃ গঙ্গাং যাতি পবিত্রতম্”

স্মৃতি ন্যায়াদিতার্থঃ। যন্নৈসগিকাজ্ঞানজন্যং তদাগন্তুক প্রমাণজ্ঞানেন নিবর্ত্ততে, যথা রজ্জুসর্পাদি- জ্ঞানং। নৈসর্গিকাজ্ঞানজন্যশ্চ পাপ্মা, তেন প্রামাণিকপ্রাণবিজ্ঞানেন তদধ্বস্তিরিত্যহ - স্বাভাবিকেতি। নম্বভিমানয়োবিরোধাবিশেষাৎ বাধ্যবাধকত্বব্যবস্থাযোগাৎ দ্বয়োরপি মিথো বাধা স্যাৎ, তত্রাহ—শাস্ত্রজনিতোীতি। উক্তমেব পাপধ্ব’সরূপ’ বিদ্যাফল’ প্রপঞ্চরিতুমুত্তরবাক- মিত্যাহ—তদেতদিতি।

ভাষ্যানুবাদ।—(আভাস)। “সা বা এষা দেবতা,...দূরং হ বা অস্মাৎ মৃত্যুর্ভবতি” একথা পূর্ব্বে উক্ত হইয়াছে। এখন জিজ্ঞাস্য হইতেছে যে, এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির মৃত্যু দূরগত হয় কি প্রকারে? বলা হইতেছে,— যেহেতু এবংবিধ জ্ঞানলাভের সঙ্গে মৃত্যুর বিরোধ রহিয়াছে। কেন না, ইন্দ্রিয়- গ্রাহ্য বিষয়সম্পর্কজাত আসক্তি হইতে যে, পাপ উৎপন্ন হয়, তাহা ত প্রাণাত্মা- ভিমানীর সম্বন্ধে সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ; কারণ, বাক্প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ ইন্দ্রিয়ে আত্মাভিমান এবং স্বভাবসিদ্ধ অজ্ঞান বা বিপরীত বুদ্ধিই ঐরূপ পাপোৎপত্তির কারণ; আর প্রাণে যে আত্মাভিমান হয়, তাহার কারণ হইল—শাস্ত্রীয় উপদেশ; কাজেই স্বাভাবিকের সহিত শাস্ত্রজ অভিমানের বিরোধ থাকায় প্রাণা- ত্মবিদের নিকট হইতে দূরে অবস্থান করা পাপের পক্ষে যুক্তিযুক্তই হইতেছে; কেন না, উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট বিরোধ রহিয়াছে; বিরুদ্ধ পদার্থদ্বয়ের এক স্থানে অবস্থিতি কখনই হইতে পারে না। অতঃপর এ বিষয়টিই প্রকাশ করিয়া বলিতেছেন—

সা বা এষা দেবতৈতাসাং দেবতানাং পাপ্মানং মৃত্যুমপহত্য যত্রাসাং দিশামন্তস্তদ্ গময়াঞ্চকার, তদাসাং পাপ্মনে। বিন্যদধাৎ, তস্মান্ন জনমিয়ান্নান্তমিয়ান্নেৎ পাপ্মানং মৃত্যুমন্ববায়ানীতি॥১৯১০॥

সরলার্থঃ।—সা বৈ এষা(প্রাণাখ্যা) দেবতা, এতাসাং(বাগাদীনাং) - পাপ্যানং(পাপলক্ষণং) মৃত্যুম্ অপহত্য(বিচ্ছিন্য), যত্র(যস্মিন্ প্রদেশে) আসাং(পূর্ব্বাদীনাং) দিশাম্ অন্তঃ(অবসানং, যতঃ পরঃ দিগ্‌ব্যবহারো নাস্তি,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১২৯

প্রাকৃতজ্ঞানসম্পন্ন-জনাধ্যুষিতং স্থানং বা), তৎ(তত্র) গময়াঞ্চকার(মৃত্যুং গমিতবান্)। তৎ(তত্র) আসাং(দেবতানাং) পাপানঃ(পাপানি) বিন্যদধাৎ (বিবিধাকারেণ স্থাপিতবর্তী); তস্মাৎ(হেতোঃ) জনং(অন্ত্যজনং) ন ইয়াৎ- (তেন সহ ন সংসর্গং কুৰ্য্যাৎ), তথা অন্তং(দিগন্তশব্দবাচ্যঃ অন্ত্যজনবাসস্থান- মপি) ন ইয়াৎ(ন গচ্ছেৎ)।[‘নেং’ ইতি ভয়সূচকম্ অব্যয়ম্;] তৎসংসর্গে কৃতে হি[অহং] পাপ্যানং মৃত্যুম্ অন্নবায়ানি(অনুগচ্ছেয়ম্, পাপী ভবেয়ম) ; এবং ভীত্যা ন অন্ত্যং জনম্, তৎস্থানং বা ইয়াদিতার্থঃ। ॥ ১৯ ॥ ১০ ॥

মূলানুবাদ। সেই প্রাণদেবতা উক্ত বাক্-প্রভৃতির পাপরূপ মৃত্যুকে তাহাদের নিকট হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া—যেখানে এই পূর্ব্বাদি দিকের অন্ত বা শেষ হইয়াছে, অর্থাৎ যেখানে শাস্ত্রোপদিষ্ট জ্ঞানশূন্য লোকের অবস্থান, সেই স্থানে প্রেরণ করিয়াছিলেন; সেখানেই বাগাদির পাপ-সমূহকে নানাবিধ আকারে স্থাপন করিয়াছিলেন; সেইজন্য ঐ প্রদেশস্থ লোকের সহিত সংসর্গ করিবে না, এবং সেই প্রান্তভূমিতেও যাইবে না। ‘নেৎ’ কথাটা ভীতিসূচক;[ঐরূপ করিলে] আমিও পাপরূপ মৃত্যুর কবলগত হইব,(এই ভয়ে আর অন্ত্যজনের ও ঐ স্থানের সংস্রব করিবে না) ॥ ১৯ ॥ ১০ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সা বা এযা দেবতেত্যুক্তাথম। এতাসাং বাগাদীনাং দেবতানা পাপ্মান মৃত্যুঃ—স্বাভাবিকাজ্ঞানপ্রযুক্তেন্দ্রিয়-বিষয়সংসর্গাসঙ্গজনিতেন হি পাপ্মনা সর্ব্বো ম্রিয়তে, স হাতে মৃত্যুঃ,—ত প্রাণাত্মাভিমানরূপাভ্যো দেবতাভ্যঃ, অপরিচ্ছিদ্য অপহত্য—প্রাণাত্মাভিমানমাত্রতয়ৈব প্রাণোহপহন্ত্যেত্যু- চ্যতে। বিরোধাদের তু পাপ্মা এবংবিদো দূরঃ গতো ভবতি; কিং পুনশ্চকার দেবতানাঃ পাপ্মানং মৃত্যুমপহত্য? ইতি, উচ্যতে যত্র যস্মিন্ আসাং প্রাচ্যা- দীনাং দিশামন্তোহবসানম্, তৎ তত্র গময়াঞ্চকার গমন কৃতবানিত্যেতৎ।

ননু নাস্তি দিশামন্তঃ, কথমন্তং গমিতবানিতি? উচ্যতে-শ্রৌতবিজ্ঞান- বজ্জনাবধিনিমিত্ত-কল্পিতত্বাৎ দিশাম্, তদ্বিরোধিজনাধ্যুষিত এব দেশো দিশামন্তঃ, দেশান্তোহরণ্যমিতি যদ্বৎ, ইত্যদোষঃ।

তৎ তত্র গময়িত্বা আসাং দেবতানাং, পাপ্মন ইতি দ্বিতীয়াবহুবচনম্; বিন্যদধাং বিবিধং ন্যগভাবেনাদধাৎ স্থাপিতবতী প্রাণদেবতা; প্রাণাত্মাভিমান- শূন্যেঘন্ত্যজনেম্বিতি, সামর্থ্যাৎ। ইন্দ্রিয়সংসর্গজো হি সঃ, ইতি প্রাণ্যাশ্রয়তাব-

১৭

১৩০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

গম্যতে। তস্মাৎ তমন্ত্যাং জনং নেয়াৎ ন গচ্ছেৎ-সম্ভাষণদর্শনাদিভিন সংসৃজেৎ; তংসংসর্গে পাপ্পানা সংসর্গঃ কৃতঃ স্যাৎ; পাপ্নাশ্রয়ো হি সঃ; তজ্জননিবাসং চান্তং দিগন্তশব্দবাচ্যং নেয়াৎ-জনশূন্যমপি, জনমপি তদ্দেশবিযুক্তম্ ইত্যভিপ্রায়ঃ। নেদিতি পরিভয়ার্থে নিপাতঃ। ইত্থ জনসংসর্গে পাপ্যানং মৃত্যুম্ অন্ববায়ানীতি- [অনু+অব+অয়ানীতি] অনুগচ্ছেয়মিতি এবং ভীতো ন জনমন্তং চেয়াদিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ ॥ ১৯ ॥ ১০ ॥

টীকা। মৃত্যুমপহত্য যত্রাসাং দিশামন্তঃ, তদ্গময়াঞ্চকারেতি সম্বন্ধঃ। কথং পাপ্মা মৃত্যুরুচ্যতে, তত্রাহ—স্বাভাবিকেতি। অপহতোতাত্র পূর্ব্ববদ্বয়ঃ। প্রাণদেবতা চেৎ পাপ্মান হন্তি, সদৈব কিং ন হন্যাদিত্যশঙ্ক্যাহ—প্রাণাত্মেতি। ভবতু প্রাণো বাগাদীনাং পাপমনোহ- হন্তা, বিদুষস্তু কিমায়াতমিত্যাশঙ্ক্যাহ—বিরোধাদেবেতি।

অনন্তাকাশদেশত্বাৎ দিশামন্তাভাবাদ যত্রাসামিত্যাদ্যযুক্তমিতি শঙ্কতে-নন্বিতি। শাস্ত্রীয়- জ্ঞানকৰ্ম্মসংস্কৃতো জনো মধ্যদেশঃ প্রসিদ্ধঃ, তস্যাপি তদধিষ্ঠিতত্বেন মধ্যদেশত্বাৎ তত্রাপান্ত্যজাধি- ষ্ঠিতদেশস্য পাপীয়স্বীকারাৎ, অতস্তং জনঃ তদধিষ্ঠিতং চ দেশমবধিং কৃত্বা তেনৈব নিমিত্তেন দিশাং কল্পিতত্বাদানন্ত্যাভাবাৎ পূর্ব্বোক্তজনানি তদধিষ্ঠিতদেশস্য চ অন্তহোক্তেষ্মধ্য- দেশাদন্যো দেশো দিশামন্ত ইত্যুক্তে ন কাচিদনুপপত্তিরিতি পরিহরতি-উচ্যত ইতি।

কিমিত্যস্ত্যজনেষু ইত্যধিকাবাদঃ ক্রিয়তে, তত্রাহ-ইতি সামর্থ্যাদিতি। দেশমাত্রে পাপ্মাবস্থানানুপপত্তেরিত্যর্থঃ। তামেবানুপপত্তি: সাধয়তি-ইন্দ্রিয়েতি। ভবতু যথোক্তো দিশামন্তস্তথা চ পাপ্সংসর্গোহস্তু, তথাপি কিমায়াতমিত্যাশঙ্ক্য তস্য শিষ্টৈস্ত্যাজ্যত্বমিত্যাহ- তস্মাদিতি। নিষেধদ্বয়স্য তাৎপর্য্যমাহ-জনশূন্যমপীতি। প্রাণোপাস্তিপ্রকরণে নিষেধ শ্রুতেস্তদুপাসকেনৈবায়ং নিষেধোহনুষ্ঠেয়ো ন সর্ব্বৈরিত্যাশঙ্ক্যাহ-নেদিত্যাদিনা। ইস শ্রুত্যুক্তং নিষেধং ন চেদহং কৃষ্যাং, ততঃ পাপ্মানমনুগচ্ছেয়’ নিষেধাতিক্রমাদিতি সলস্য ভয়ং জায়তে, ন প্রাণোপাসকস্যৈব। অতঃ সর্ব্বোহপি পাপাস্তীতো নোভয়’ গচ্ছেৎ বাকা তি প্রকরণাদ বলবদিত্যর্থঃ ॥ ১৯ ॥ ১০ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘সা বৈ এষা দেবতা’ এ কথার অর্থ পূর্ব্বেই উক্ত হই- য়াছে।[সেই প্রাণ দেবতা] এই বাগাদি দেবতাগণের পাপরূপ মৃত্যুকে,— স্বাভাবিক অজ্ঞানবশতঃ যে, শব্দস্পর্শাদি বিষয়ের সহিত ইন্দ্রিয়সম্বন্ধাধীন আসক্তি, সাধারণতঃ সেই আসক্তিজনিত পাপের ফলেই সমস্ত লোক মৃত্যুমুখে পতিত হইয়া থাকে; এইজন্য সেই পাপই মৃত্যুর হেতু বলিয়া মৃত্যু নামে অভিহিত হইয়াছে। সেই পাপরূপী মৃত্যুকে প্রাণাত্মাভিমানরূপ দেবতাগণের নিকট হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া(পৃথক্ করিয়া), প্রাণে যে আত্মাভিমান স্থাপন, তাহাই এখানে ‘অপহত্য’ কথায় বলা হইয়াছে। ভাল কথা, এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির স্বভাববিরুদ্ধ বলিয়াই ত পাপরূপ মৃত্যু দূরগামী হইয়া থাকে, তবে আর মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন করিয়া

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্।

১৩১

বিশেষ ফল কি হইল? তদুত্তরে বলিতেছেন—এই পূর্ব্বাদি দিক্সমূহের যেখানে অন্ত—অবসান(শেষ) হইয়াছে, সেখানে মৃত্যুকে প্রেরণ করিয়া- ছিলেন।

ভাল, দিক্সমূহের ত কোথাও অন্ত নাই, তবে দিগন্তে প্রেরণ করিলেন কিরূপে? হাঁ- বলা হইতেছে—বেদোপদিষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন বিদ্বজ্জনের বাসভূমির সীমা লইয়াই দিগ্‌বিভাগ কল্পিত হইয়াছে, অর্থাৎ যাঁহারা শ্রৌত জ্ঞান লাভ করিয়া ছেন, সাধারণতঃ তাঁহারাই দিকের ব্যবহার করিয়া থাকেন; সুতরাং যাহারা শ্রৌত জ্ঞানবিহীন, তাহাদের ঐরূপ দিগ্‌ব্যবহার না থাকায়, তাদৃশ জনের আবাস- প্রদেশই এখানে দিগন্তশব্দ-বাচ্য, যেমন দেশান্ত বলিলে ‘অরণ্য’ বুঝায়, ইহাও তদ্রূপ; কাজেই এখানে কোনও দোষ হইতেছে না।

‘পপ্নানঃ’ পদে দ্বিতীয়ার বহুবচন রহিয়াছে; উহা কৰ্ম্মপদ। সেই প্রাণ- দেবতা উক্ত দেবতাগণের সেই পাপরাশিকে সেখানে প্রেরণ করিয়া নানাপ্রকার হীনাবস্থায় স্থাপন করিয়াছিলেন। পাপমাত্রই বিষয়েন্দ্রিয়সম্বন্ধজাত, এবং প্রাণি- গণে আশ্রিত; সুতরাং বুঝা যাইতেছে যে, যাহারা প্রাণাত্মবুদ্ধিবিহীন অন্ত্যজ লোক, তাহাদের উপরই ঐ পাপরাশি স্থাপন করিয়াছিলেন]। অতএব সেই পাপযুক্ত অন্ত্যজ লোকের নিকট গমন করিবে না, অর্থাৎ সম্ভাষণ ও দর্শনাদি দ্বারা তাহাদের সঙ্গে সংসর্গ করিবে না; কারণ, সে নিজে পাপী; সুতরাং তাহার সহিত সংসর্গ করিলেই পাপের সহিত সংসর্গ করা হইবে, এইজন্য তাহার সহিত সম্বন্ধ রাখিবে না এবং অন্ত---দিগন্তশব্দবাচ্য তাদৃশ লোকের বাসভূমিতেও যাইবে না। অভিপ্রায় এই যে, সে দেশ যদি জনশূন্যও হয়, তাহা হইলেও সে দেশে যাইবে না, আর সে দেশের লোক যদি অন্যত্রও থাকে, তাহা হইলেও তাহার সংসর্গ করিবে না। ‘নেৎ’ শব্দটি নিপাত,[যাহা কোন লক্ষণানুসারে নিষ্পন্ন না হয়, সেরূপ শব্দকে ‘নিপাত’ বলে]। ইহার অর্থ--বিশেষ ভয়; যদি এই প্রকার লোকের সংসর্গ করি, তাহা হইলে পাপরূপী মৃত্যুর অনুগত হইব; এইরূপে ভীত হইয়া অন্ত্য-জনের সংসর্গ করিবে না ॥ ১৯ ॥ ১০ ॥

সা বা এষা দেবতৈতাসাং দেবতানাং পাপ্মানং মৃত্যু- মপহত্যাথৈনা মৃত্যুমত্যবহং ॥ ২০ ॥ ১১ ॥

সরলার্থঃ।—সা(পূর্ব্বোক্তা) এষা দেবতা(প্রাণঃ) এতাসাং(বাগাদীনাং) দেবতানাং পাপ্যানং মৃত্যুম্ অপহত্য, অথ(অনন্তরং) এনাঃ(বাগাদ্যাঃ দেবতাঃ)

১৩২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মৃত্যুম্(পাপ্যানম্) অতীত্য(অতিক্রম্য) অবহৎ(স্বং স্বং দেবভাবং প্রাপিতবতীত্যর্থঃ) ॥ ২০॥ ১১ ॥

মুলাসুবাদ।—সেই এই প্রাণদেবতা এই বাগাদি দেবতার পাপরূপ মৃত্যু অপনীত করিয়া, অনন্তর মৃত্যুরহিতরূপে তাহাদিগকে বহন করিয়াছিলেন, অর্থাৎ তাহাদিগকে নিজ নিজ দেবভাবে উপনীত ‘করিয়াছিলেন ॥ ২০ ॥ ১১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সা বা এষা দেবতা—তদেতৎ প্রাণাত্মজ্ঞানকৰ্ম্মফলং বাগাদীনামগ্ন্যাদ্যাত্মত্বমুচ্যতে। অথৈনা মৃত্যুমত্যবহৎ—যস্মাৎ আধ্যাত্মিকপরি- চ্ছেদকরঃ পাপ্মা মৃত্যুঃ প্রাণাত্মবিজ্ঞানেনাপহতঃ, তস্মাৎ স প্রাণোহপহন্তা পাপ্মনো মৃত্যোঃ; তস্মাৎ স এব প্রাণঃ, এনাঃ বাগাদিদেবতাঃ প্রকৃতং পাপ্যান- মৃত্যুমতীত্য অবহৎ প্রাপয়ৎ স্বস্বমপবিচ্ছিন্নমগ্ন্যাদিদেবতাত্মরূপম্ ॥ ১০ ॥ ১১ ॥

টীকা। দ্বিবিধমুপাস্তিফল’ পাপহানির্দেবতাভাবশ্চ। তত্র পাপহানিমুপদিশতা প্রাসঙ্গিকঃ সাধারণো নিষেধো দর্শিতঃ। সম্প্রতি দেবতাভাবং বক্ত মুত্তরবাক্যমিতি প্রত্যেকোপাদানপূর্ব্বক মাহ—সা বা এষেতি। অথশব্দাবদ্যোতিতমর্থং কথয়তি—যস্মাদিতি। পাপমাপহস্তত্বমনুদা অবশিষ্টং ভাগ’ ব্যাচষ্টে—তস্মাৎ স এবেতি ॥ ২০ ॥ ১১ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘স: বা এষা দেবতা’ ইত্যাদি শ্রুতিতে উল্লিখিত প্রাণাত্মবিজ্ঞান ও তদনুষ্ঠানের ফল--বাগাদি ইন্দ্রিয়ের অগ্ন্যাদ্যাত্মকতা কথিত হই তেছে। ‘অথ এনা মৃত্যুম্ অত্যবহৎ’ কথার অর্থ এই যে,—যেহেতু দৈহিক সম্বন্ধ- বিচ্ছেদকারী মৃত্যুরূপ পাপ প্রাণাত্ম-বিজ্ঞান দ্বারা নিবারিত হইয়াছে, সেই হেতুই প্রাণদেবতা মৃত্যুরূপ পাপের অপহন্তা; এবং, সেই হেতুই উক্ত প্রাণদেবতা বাক্- প্রভৃতি দেবতাকে মৃত্যুরূপ পাপ হইতে বিনির্ম্মুক্ত করিয়া বহন করিয়াছিলেন, অর্থাৎ তাহাদিগকে নিজ নিজ অপরিচ্ছিন্ন অগ্ন্যাদিদেবভাব লাভ করাইয়া- ছিলেন ॥ ২০ ॥ ১১ ॥

স বৈ বাচমের প্রথমামত্যবহৎ, সা যদা। মৃত্যুমত্য- মুচ্যত, সোহগ্নিরভবৎ; সোহয়মগ্নিঃ পরেণ মৃত্যুমতিক্রান্তো দীপ্যতে ॥ ২১ ॥ ১২ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ(প্রাণঃ) প্রথমাম্(উদ্‌গীথকর্ম্মণি অপরকরণাপেক্ষয়া প্রধানাং, বাগ্‌নির্ব্বত্যত্বাৎ উদ্গীথকর্ম্মণঃ) অত্যবহৎ(পাপ্যলক্ষণং মৃত্যুমতীতা দেবত্বমগময়ৎ)। সা(বাক্) যদা(যস্মিন্ কালে) মৃত্যুম্ অত্যমুচ্যত(মৃত্যু-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্। ১৩৩

পাশাৎ বিমোচিতা অভবং),[তদা] সঃ(প্রসিদ্ধঃ) অগ্নিঃ অভবৎ। সঃ(প্রকৃতঃ) অয়ম্ অগ্নিঃ মৃত্যুম্ অতিক্রান্তঃ সন্ পরেণ(মৃত্যোরধিকারাৎ পরতঃ) দীপ্যতে (দীপ্তিমান্ ভবতি);[মৃত্যুসমতিক্রমণাৎ প্রাক্ বাচঃ নৈবং দীপ্তিরাসীদিতি, ভাবঃ] ॥ ২: ॥ ১২ ॥

মূলানুবাদ?—সেই প্রাণ[উদ্গীথক্রিয়ার] প্রধান সাধন বাগদেবতাকেই প্রথমে মৃত্যুবিহীন করিয়া দেবত্ব-প্রাপ্ত করিয়াছিলেন। সেই বাগদেবতা যে সময় মৃত্যুপাশ অতিক্রম করিল, অর্থাৎ পাপসম্বন্ধ- বিরহিত হইল, সেই সময়েই সে অগ্নিস্বরূপ হইল; সেই অগ্নিরূপেই মৃত্যুর অধিকার অতিক্রম করিয়া দাপ্তি পাইতে লাগিল।[বুঝিতে হইবে যে, তৎপূর্ব্বে তাহার ঐরূপ দীপ্তি ছিল না।] ॥ ২১ ॥ ১২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। -স বৈ বাচমেব প্রথমামতাবহং! স-প্রাণঃ বাচমেব প্রথমাং প্রধানামিত্যেতৎ-উদ্‌গীথকৰ্ম্মণি ইতরকরণাপেক্ষয়: সাধকতমত্বং প্রাধান্যং তস্যাঃ, তাঃ প্রথমাম্ অত্যবহদ্ বহন কৃতবান্। তস্যাঃ পুনমৃত্যুমতীত্যোঢ়ায়াঃ কি রূপম্? ইতি উচ্যতে-সা বাক্ যদা যস্মিন্ কালে পাপ্যানঃ মৃত্যুমত্যমুচ্যুত- অতীত্যামুচ্যত-মোচিতা স্বয়মের, তদা সঃ অগ্নিরভবৎ,-সা বাক্ পূর্ব্বমপ্য- গ্লিরের সতী মৃত্যুবিয়োগেহপ্যগ্নিরেবাভবৎ। এতাবাস্ত বিশেষঃ মৃত্যুবিয়োগে- সোহয়মতিক্রান্তোহগ্নিঃ পরেণ মৃত্যু-পরস্তাৎ মৃত্যোঃ দীপ্যতে; প্রাম্মোক্ষাৎ মৃত্যুপ্রতিবদ্ধঃ অধ্যাত্মবাগাত্মনা নেদানীমিব দীপ্তিমানাসীৎ; ইদানীং তু মৃত্যু- পরেণ দীপ্যতে মৃত্যুবিয়োগাৎ ॥ ২১ ॥ ১২ ॥

টাকা। সামান্যোক্তমর্থং বিশেষেণ প্রপঞ্চয়তি-স বৈ বাচমিত্যাদিনা। কথং বাচঃ প্রাপমা’, তদাহ-উদ্‌গীপেতি। বাচো মৃত্যুমতিক্রান্তায়া রূপং প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রদর্শয়তি-তস্যা ইতি। অনগ্নেরগ্নিত্ববিরোধং ধুনীতে-সা বাগিতি। পূর্ব্বমপি বাচঃ অগ্নিত্বেনোপাসনালভ্যং তদগ্নিত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ--এতাবানিতি। উক্তং বিশেষং বিশদয়তি-প্রাগিতি ॥ ২১ ॥ ১২ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—“স বৈ বাচমেব প্রথমাম্ অত্যবহৎ” ইত্যাদি। সেই প্রাণ, প্রথমা—প্রধানা বাগদেবতাকে বহন করিয়াছিলেন। উদগীথপাঠকার্য্যে অন্যান্য ইন্দ্রিয়াপেক্ষা সাধকতমত্ব(প্রধান-সাধকতা) তাহারই আছে; এইজন্য এখানে বাকের প্রাধান্য[বুঝিতে হইবে]। মৃত্যু অতিক্রম করিয়া যে, বাগদেব- তাকে বহন করা হইয়াছে, তাহার প্রকৃত স্বরূপ কিরূপ? হাঁ, বলা হইতেছে— সেই বাক্ যখন পাপাত্মক মৃত্যুকে অতিক্রম করিয়া মুক্ত হইল,—নিজেই বিমো- ত হইল, তখন সে প্রসিদ্ধ অগ্নিত্ব প্রাপ্ত, হইল। সেই বাক্ পূর্ব্বেও অগ্নি-

১৩৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

স্বরূপই ছিল, আবার মৃত্যুবিয়োগের পরেও সেই অগ্নিত্বই প্রাপ্ত হইল। এইমাত্র বিশেষ যে, মৃত্যুবিয়োগের পর মৃত্যু অতিক্রান্ত সেই অগ্নিই মৃত্যুর পরে, অর্থাৎ মৃত্যুর অধিকার অতিক্রম করিয়া দীপ্তি পাইতে লাগিল; কিন্তু মৃত্যুপাশচ্ছেদনের পূর্ব্বে মৃত্যুর অধিকারস্থ দেহমধ্যে বাকস্বরূপে অবস্থিত থাকায় বর্তমানের ন্যায় দীপ্তিমান ছিল না; কিন্তু এখন সেই মৃত্যু-বিরহিত হওয়ায় মৃত্যুর বাহিরে, অর্থাৎ নিষ্পাপ অমররূপে দীপ্তি পাইতে লাগিল। ১১৭।১২।

অথ প্রাণমতাবহং, স যদা মৃত্যুমত্যমুচাত, স বায়ুরভবং; সোহয়? বায়ুঃ পরেণ মৃত্যুমতিক্রান্তঃ পরতে ॥ ২২ ॥ ১৩ ॥

সরলার্থঃ। -অথ অনন্তর, সা প্রাণা প্রাণম। প্রাণেন্দ্রিয়ম্ অতা বহং; সঃ, তদ্ ঘাণ যদা মৃত্যুম অতামুচ্যতে, তদা সঃ ঘাণ বায়ুঃ অভবং আধ্যাত্মিকপরিচ্ছেদ হি তা অধিদৈবতভাসম অসংজ্ঞঃ। সঃ অয় প্রকৃতি বায়ুঃ মৃত্যুম অতিক্রয়া সন পরে মৃত্যুঃ পরন্তং পরতে পরিবর্ত্তনা প্রবহতি। ব্যাখ্যা ও অর্থঃ। ১:১:১৩

মুলাসুবাদ।—অতঃ পর প্রাণ ঘ্রাণেন্দ্রিয়-দেবতাকে পাপ- বিনির্ম্মুক্ত করিয়া বহন করিয়াছিলেন। ঘ্রাণেন্দ্রিয়-দেবতা যে সময় মৃত্যু- পাশ হইতে বিনির্ম্মুক্ত হইল, তখন সে বায়ুস্বরূপ হইল; সেই এই বায়ু অতীত হইয়া—মৃত্যুর অধিকারের বাহিরে থাকিয়া পবিত্রভাবে প্রবহমাণ হইতে লাগিল॥ ২২॥ ১৩॥

শাশ্বতভাষ্যম্।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—প্রপঞ্চঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—সমাপকঃ।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—নৃসিংহঃ।—

শ্রীশ্রীদুর্গা সহায়।

ভাব্যানুবাদ। সেই প্রকার, প্রলেপ দ্বারা বরণ করিয়াছিলেন; তাহাই বায়ু হইয়াছিল; সেই বায়ুই মৃত্যু অতিক্রম করতঃ প্রবাহিত হইতেছে। আর সমস্তই পূর্ব্বের মত।...

অথ চক্ষুরত্যবহং, তদনুদ। মৃত্যুমতামুচ্যুত, স আদিত্যোহভবৎ, সোহসাবাদিত্যঃ পরেণ মৃত্যুমতিক্রান্তস্তপতি। ২৩। ১৪॥

সরলার্থঃ। অথ: অতঃপর, সঃ প্রাণঃ, চক্ষুঃ অত্যাবহং। তৎ(চক্ষুঃ) যদা; মৃতাম অত্যুচিত, তদা সঃ প্রসিদ্ধঃ) আদিত্যঃ অভবৎ; সঃ অসৌ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয় ব্রাহ্মণম্। ১৩৫

মাদিত্যঃ মৃত্যুম্ অতিক্রান্তঃ সন্ পরেণ তপতি(জগৎ সন্তপতি)[অন্যৎ সর্ব্বং দ্বাদশশ্রুতিবং] ॥ ২৩ ॥ ১৪ ॥

মুলাসুনাদঃ—অতঃপর প্রাণ চক্ষুকে পাপবিনির্ম্মুক্তভাবে বহন করিয়াছিলেন। চক্ষুঃ যখন মৃত্যু অতিক্রম করিয়াছিল, তখনই সে আদিত্যস্বরূপ হইয়াছিল; সেই এই আদিত্য মৃত্যু অতিক্রম করিয়া—মৃত্যুর বাহিরে থাকিয়া তাপ দিতেছেন॥ ২৩॥ ১৪।

শঙ্করভাষ্যম্।—তৎ সঙ্কলিতোঽধ্যায়ঃ, ১, তত্র। ২৩০৪। তত্র। ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০, ০

ভাষ্যানুবাদ। সেই প্রকার চক্ষুঃ মাতিয়াছেন; তিনিই এখন তাপ দতেছেন। ইহারও ব্যাখ্যা হাশুং, কৃৎকং অনুকম্পঃ ১৩ ১৪॥

অথ শ্রোত্রমত্যবহং, তদ্বদ। মৃত্যুমত্যনচ্যুত, তা দিশোহ- ভব’ স্তা ইমা দিশঃ পরেণ মৃত্যুমতিক্রান্তাঃ ॥ ২৪ ॥ ১৫ ॥

সরলার্থঃ। অপ সঃ প্রাণ শতম অরবহং; তৎ শ্রোত্রং) যদা মৃত্যুম অত্যমুচাত, তং। তং তং তং তং তং দিগ্‌দেবতাঃ অ-বন। ‘হাঃ ইমাঃ দিশা মৃত্যু’ অতিক্রান্তঃ। অন্যৎ সর্ব্বং পূর্ব্ববৎ। ২৬ ১৯

মূলানুবাদ।—অনন্তর প্রাণ শ্রোত্রদেবতাকে মৃত্যু অতিক্রম পূর্ব্বক বহন করিয়াছিলেন; সেই শ্রোত্রে যখন মৃত্যুপাশবিমুক্ত হইল, তখনই প্রসিদ্ধ দিগদেবতাস্বরূপ হইল। সেই এই দিগদেবতাসমূহ মৃত্যুর অধিকার অতিক্রম করিয়া অবস্থান করিতে লাগিল। ২৯ ॥ ১৫ ॥

শাশ্বতভাষ্যম্।—অষ্টমঃ প্রপঞ্চঃ।—প্রপঞ্চবিভাগেন- বর্দ্ধমানঃ। ২৪, ২৫।

श्रीकृष्णाय नमः

ভাষ্যানুবাদ।—সেইরূপ শ্রোত্রও দিকসমূহ হইল; দিশঃ—অর্থ— পূর্ব্বাদি বিভাগক্রমে অবস্থিত প্রসিদ্ধ দিকসমূহ ॥ ২১:১১

অথ মনোহত্যবহৎ, তদ্যদা মৃত্যুমত্যনুচ্যুত, স চন্দ্রমা অভবৎ, সোহসৌ চন্দ্রঃ পরেণ মৃত্যুমতিক্রান্তো ভাত্যেবং হ বা এনমেষা দেবতা মৃত্যুমতিবহতি, য এবং বেদ ॥ ২৫ ॥ ১৬ ॥

১৩৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

টাকা। উপাস্যস্ত প্রাণস্ত কার্য্যকরণ-জঘাতস্ত বিধায়কত্বং নাম গুণান্তরং, বক্ত, মুত্তরবাক্যং, তদাদায় ব্যাকরোতি—অখেত্যাদিনা। কথমুদ্গাতুবিক্রীতস্ত ফলসম্বন্ধস্তত্রাহ—কর্ত্তুরিতি।

অন্নাগানমারিজামিত্যত্র প্রশ্নপূর্ব্বকং বাকাশেয়মনুকূলয়তি-কথমিত্যাদিনা। তমেব হেতু- মাহ-যম্মাদিতি। প্রাণেনৈব তদম্ভত ইতি সম্বন্ধঃ। যম্মাদিত্যন্ত তন্মাদিত্যাদিভান্তেণীয়ঃ। অনিতের্ধাতোরনশব্দশ্চেৎ প্রাণপৰ্য্যায়স্ততি কথা শকটে তচ্ছন্দপ্রয়োগস্তত্রাহ-অনঃশব্দ ইতি।

ইতশ্চ প্রাণস্য স্বার্থমন্নাগানং যুক্তমিত্যাহ--কিঞ্চেতি। প্রাণেন বাগাদিবৎ আত্মার্থমন্নমা- শ্রিতং চেৎ, তহি তস্যাপি পাপুবেধঃ স্যাদিত্যশঙ্ক্যাহ—যদপীতি। ইহারে দেহাকারপরিণতে প্রাণস্তিষ্ঠতি, তদনুসারিণশ্চ বাগাদয়ঃ স্থিতিভাজঃ, অতঃ স্থিতার্থং প্রাণস্থায়মিতি ন পাপুবেধস্তস্মিন্নস্তীতার্থঃ। ২৬। ১৭।

ভাষ্যানুবাদ।—“অথ আয়নে” ইত্যাদি। বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণ যেরূপ আপনার জন্য গান করিয়াছিল, মুখ্য প্রাণও সেইরূপ তিনটি পবমান স্তোত্রে সর্ব্বেন্দ্রিয়সাধারণ প্রাজাপত্য ফলসিদ্ধির অনুকূলভাবে গান করিয়া, অনন্তর অবশিষ্ট নয়টি স্তোত্রে আপনার জন্য অন্নাদ্য গান করিয়াছিলেন। ‘অন্নাদ্য’ অর্থ—যাহা অন্ন, অথচ ভক্ষণযোগ্য। কামসংযোগ অর্থাৎ যজ্ঞে আশংসিত ফলপ্রাপ্তি যে, কর্তারই হইয়া থাকে, ইহা বাচনিক বা শাস্ত্রপ্রাপ্ত; সুতরাং প্রাণের ঐ প্রকার ফলপ্রাপ্তি অসঙ্গত হয় নাই](১)।

ভাল, প্রাণ যে, সেই অম্লান্ত ফলজনক গান আপনার জন্য করিয়াছিলেন, তাহা জানা যায় কি প্রকারে? তদ্বিষয়ে হেতু প্রদর্শন করিতেছেন—‘যৎ কিঞ্চ’ ইতি। ‘যৎ কিঞ্চ’ কথায় এখানে সাধারণতঃ অন্নমাত্রই বুঝাইতেছে। ‘হি’ শব্দটি হেত্বর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। যেহেতু জগতে প্রাণিগণ যাহা কিছু অন্ন ভক্ষণ করিয়া থাকে, তাহাও এই ‘অনে’র সাহায্যেই করিয়া থাকে,

(১) তাৎপর্য্য—শ্রুতিতে আছে, “যৎ কিঞ্চ যজ্ঞে আশাসতে, যজমানায়ৈব তদাশাসতে” ইত্যাদি। অর্থাৎ যজ্ঞে ঋত্বিকগণ যাহা কিছু ফল কামনা করিয়া থাকেন, যজমানের উদ্দেশ্যেই তাহা করিয়া থাকেন। কিন্তু যজমানের জন্য আশাসিত হইলেও “ফলং চ কর্ত্তৃগামি স্যাৎ” এই নিয়মানুসারে সাক্ষাৎকারকর্ত্তা ঋত্বিকগণেরই সেই আশাসিত ফললাভ হইয়া থাকে; পরে যজমান দক্ষিণারূপ মূল্য দ্বারা ঋত্বিকগণের নিকট হইতে সেই ফল ক্রয় করিয়া লন; তাহার পর যজমান সেই যজ্ঞীয় ফলের অধিকারী বা ভোক্তা হন। এই অভিপ্রায়েই উদ্ধৃত শ্রুতিতে “যজমানায়ৈব তদাশাসতে” বলা হইয়াছে। এখন এখানে শঙ্কা হইল যে, উদ্‌ঘাটনা প্রাণ যে অন্যান্য ফলার্থ গান করিয়াছিলেন, তাহা ত বিক্রীত হইয়া যজমানেরই হইবে, তবে আর প্রাণ আত্মার্থে গান করিয়াছিলেন’ কথাটি সঙ্গত হয় কি প্রকারে? সেই শঙ্কা সিরাসার্থ ভাষকার “কথং পুনঃ” ইত্যাদি বাক্যের অবতারণ: করিয়াছেন।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৩৯

অর্থাৎ প্রাণিগণ ‘অন’নামক এই প্রাণের সাহায্যেই অন্ন ভক্ষণ করিয়া থাকে। প্রাণের ‘অন’ নামটি লোকপ্রসিদ্ধ। ‘অন’ শব্দের ন্যায় ‘অনস্’ শব্দও ‘অন্’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে, বিশেষ এই যে, উহা প্রকারান্ত। ‘অনস্’ শব্দের অর্থ—শকট(গাড়ী), আর অকারান্ত ‘অন’ শব্দের অর্থ—প্রসিদ্ধ প্রাণ; সুতরাং ইহা ‘প্রাণ’ শব্দেরই সমানার্থক—পর্যায় শব্দ।

অপি চ, কেবল জীবগণই যে, অন্ন-ভক্ষণে প্রাণের সাহায্য পাইয়া থাকে, তাহা নহে, পরন্তু সেই মুখ্য প্রাণ নিজেও শরীরাকারে পরিণত সেই ভুক্তার্নেই অবস্থান করিয়া থাকে; অতএব প্রাণ যে, আপনার অবস্থিতির জন্যই অন্নাদ্য গান করিয়াছিলেন, তাহা বেশ বুঝা যাইতেছে। আর প্রাণ কর্তৃক যে, অন্ন ভক্ষণ, তাহাও কেবল তাহার অবস্থিতি লাভের নিমিত্তই, কোন প্রকার ভোগার্থ নহে; সুতরাং কল্যাণাসক্তিনিবন্ধন বাক প্রভৃতির যেরূপ পাপ হইয়াছিল, প্রাণের সম্বন্ধে সেরূপ পাপোৎপত্তির সম্ভাবনা নাই॥ ১৬০১৭॥

তে দেবা অক্রবন্নেতাবদ্ধা ইদং সর্ব্বং যদন্নং তদাত্মন- আগাসীরনু নোহস্মিন্নন্ন আভজস্বেতি; তে বৈ মাভিসংবিশ- তেতি; তথেতি তং সমন্তং পরিণ্যবিশন্ত।

তস্মাদ যদনেনান্নমত্তি তেনৈতান্তপ্যন্ত্যেবং হ বা এনং স্বা অভিসংবিশন্তি, ভর্ত্তা স্বানাং শ্রেষ্ঠঃ পুর এতা ভবত্য- ন্নাদোহধিপতির্য এবং বেদ; য উ হৈবম্বিদং স্বেষু প্রতি প্রতিবুভূষতি, ন হৈবালং ভার্য্যেভ্যো ভবত্যথ য এবৈতমনু ভবতি যো বৈ তমনু ভার্য্যান্ বুভূর্ষতি, স হৈবালং ভার্য্যেভ্যো ভবতি ॥ ২৭ ॥ ১৮ ॥

সরলার্থঃ।—তে(বাগাদয়ঃ) দেবাঃ অক্রবন্ উক্তবন্তঃ)[মুখ্যং প্রাণং] —ইদং সর্ব্বং এতাবৎ বৈ(এব)(এতাবদেব, নাতোহধিকমস্তীত্যর্থঃ)।[কিং তৎ? ইত্যাহ—লোকে প্রাণ-স্থিত্যর্থং] যৎ অন্নং অদ্যতে(ভক্ষ্যতে), তৎ (অন্নং) আত্মনে(আত্মার্থং) আগাসীঃ(পূর্ব্বং গীতবান্ অসি), অনু(পশ্চাৎ) নঃ(অস্মাকং গীতবান্ অসি, অথবা তৎ সর্ব্বং আত্মনে গীতবান্ অসি),[বয়ঞ্চ অন্নং বিনা স্থাতুং ন শত্রু মঃ, তস্মাৎ] অনু(পশ্চাৎ) অস্মিন্(তব আত্মার্থে অগ্নে) নঃ(অস্মান্) আতজস্ব(আভাজরস্ব—অন্নভাগিনঃ কুরু) ইতি।[এবং

১৪০। কৃষ্ণদাসকোপনিষদ্।

প্রার্থিতঃ প্রাণ আহ—] তে(প্রকৃতাঃ মূরং) যৈ মা(মাং প্রাণং) ‘অভিসংবিশত (মরি সর্ব্বতঃ প্রবিশত) ইতি;[একমুক্তাঃ বাগাদয়ঃ] তথা(তথান্ত) ইতি [উক্তা] তং(প্রাণং) পরিসমন্তং(পরিতঃ সমস্তাৎ) ন্যুবিশন্ত(নিশ্চয়ে প্রবিষ্টা বভূবুঃ)। ভস্মাৎ(সর্ব্বেন্দ্রিয়াণাং প্রাণে অন্তর্নিবেশাৎ হেতোঃ), অনেন(প্রাণেন) যৎ অন্নং অত্তি(ভক্ষয়তি)[লোকঃ], তেন(অন্ন-ভক্ষণেন) এতাঃ(বাগাদ্যাঃ দেবতাঃ) তৃপান্তি(তৃপ্তিং লভন্তে)। যঃ(অন্যোহপি যঃ কশ্চিৎ) এবং (বাগাদীনামাশ্রয়ভূতং প্রাণং) বেদ(বিজানাতি।, এনং(বিদ্বাৎসম্)[অপি] স্বাঃ(জ্ঞাতয়ঃ) এবং(বাগাদিবৎ) অভিসংবিশন্তি(আশ্রয়ন্তে), স্বানা- (জ্ঞাতীনাং) ভর্তা(ভরণকর্তা—পোষকঃ) ভবতি; তথা শ্রেষ্ঠঃ সন্ পুরঃ(অগ্রে) এভা(গন্তা—অগ্রবর্তী) ভবতি; তথা অন্নাদঃ(অন্নভোক্তা—দীপ্তাগ্নিঃ) অধি- পতিঃ(পালয়িতা চ) ভবতি।

কিঞ্চ, স্বেষু(জ্ঞাতিষু মধ্যে) যঃ(যঃ কশ্চিৎ) এবংবিদং প্রতি প্রতিঃ (প্রতিকূলঃ) বুভূবতি(ভবিতুষিচ্ছতি—প্রতিস্পর্দ্ধী ভবতি),(সঃ প্রতিস্পর্দ্ধী) নহ এব(নৈব) ভার্য্যেভ্যঃ(স্বস্য ভরণীয়েভ্যঃ চ) অলং(পোষণায় সমর্থঃ) ভবতি। অথ(পক্ষান্তরে) যঃ এব এতৎ(প্রাণবিদং প্রতি) অনু(অনুগতঃ) ভবতি, যঃ এব চ তম্ অনু ভার্য্যান্(তদনুগতান্ ভরণীয়ান্) বুভূর্ষতি(ভর্ত্তৃ পোষরিতুম্ ইচ্ছতি), সঃ এব হ(নিশ্চয়ে) ভার্য্যেভ্যঃ(স্বস্য ভরণীয়েভ্যঃ) অল- (শোষণে পর্য্যাপ্তঃ) ভবতি ॥ ২৭ ॥ ১৮ ॥

মূলানুবাদঃ—সেই বাক্প্রভৃতি দেবতাগণ[প্রাণকে] বলিল, এ সমস্তই সত্য,—যাহা অন্ন, তাহা তুমি আপনার জন্য গান করিয়াছ;[আমরাও অন্ন ব্যতীত অবস্থান করিতে সমর্থ হইতেছি না; অতএব] ইহার পর আমাদিগকেও ঐ অন্নের অধিকারী কর।[প্রাণ বলিল--] তোমরা সর্ব্বতোভাবে আমার মধ্যে প্রবেশ কর, অর্থাৎ আমার আশ্রয় গ্রহণ কর। তাহারা ‘তথাস্তু’ বলিয়া সর্ব্বতোভাবে প্রাণের মধ্যে প্রবিষ্ট হইল। যেই হেতু লোকে প্রাণ দ্বারা যে অন্ন ভক্ষণ করে, তাহাতেই এই বাগাদি ইন্দ্রিয়গণও তৃপ্তি লাভ করিয়া থাকে। যে ব্যক্তি রাখাদির আশ্রয়ভূত এই প্রাণতর অবগত হন, জ্ঞাতিগণও তাঁহার আশ্রয় গ্রহণ করে; তিনিও জ্ঞাতিগণের ভরণ-পোষণ করেন, শ্রেষ্ঠ এবং অগ্রণী হন; অন্নভোক্তা(দীপ্তাগ্নি) এবং অধিপতি বা পরিপালক হন। অধিকন্তু

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১৪১

জ্ঞাতিগণের মধ্যে যে ব্যক্তি ইহার প্রতি—প্রতিকূল হইতে ইচ্ছা করে, সে ব্যক্তি নিশ্চয়ই নিজের ভরণীয়গণকে পোষণ করিতে সমর্থ হয় না; পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ইহার প্রতি অনুগত থাকে, এবং ভরণীয় স্বজনগণের ভরণ-পোষণ করিতে ইচ্ছা করে, নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি ভরণীয় স্বজনগণকে ভরণ করিতে সমর্থ হয় ॥ ২৭ ॥ ১৮ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তে দেবাঃ। নম্ববধারণমযুক্তম্—‘প্রাণেনৈব তদদ্যতে ইতি, বাগাদীনামপি অন্ননিমিত্তোপকারদর্শনাৎ। নৈষ দোষঃ; প্রাণদ্বারত্বাৎ তদুপকারস্য। কথং প্রাণদ্বারকোহন্নকৃতো বাগাদীনামুপকার ইতি, এতমর্থং প্রদর্শয়ন্নাহ—১।

তে বাগাদয়ো দেবাঃ স্ববিষয়দ্যোতনাৎ দেবাঃ, অক্রবন্ উক্তবন্তঃ, মুখ্যং প্রাণম্ ‘ইদম্ এতাবং’ নাতোহধিকমস্তি; বা ইতি স্মরণার্থঃ; ইদং তৎ সর্ব্বমেতাব- দেব। কিম্? যদন্তং প্রাণস্থিতিকরমদ্যতে লোকে, তৎ সর্ব্বমাত্মনে আত্মার্থম্ আগাসীঃ আগীতবানসি, আগানেনাত্মসাৎ কৃতমিত্যর্থঃ; বয়ঞ্চ অম্লবস্তরেণ স্থাতুং নোৎসহামহে; অতঃ অনু পশ্চাৎ নোহম্মান্ অস্মিন্ অন্নে আত্মার্থে তবান্নে আভজস্ব আভাজয়স্ব; ণিচোহশ্রবণং ছান্দসম্; অস্মাংশ্চান্নভাগিনঃ কুরু। ২।

ইতর আহ—‘তে যূয়ং যদ্যন্নার্থিনঃ বৈ, মা মাম্ অভিসংবিশত সমস্ততো মাম্ আভিমুখ্যেন নিবিশত’ ইতি, এবমুক্তবতি প্রাণে তথেতি এবমিতি তৎ প্রাণং পরিসমন্তং পরিসমন্তাৎ ন্যবিশন্ত নিশ্চয়েনাবিশন্ত, তং প্রাণং পরিবেষ্ট্য নিবিষ্টবন্ত ইত্যর্থঃ। তথা নিবিষ্টানাং প্রাণানুজ্ঞয়া তেষাং প্রাণেনৈব অন্যমানং প্রাণস্থিতিকরৎ সং অন্নং তৃপ্তিকরং ভবতি; ন স্বাতন্ত্র্যেণান্নসম্বন্ধো বাগাদীনাম্। তস্মাদ্ যুক্তমেবাবধারণম্—“অনেনৈব তদদ্যতে” ইতি। তদেব চাহ—তস্মাৎ,— যস্মাৎ প্রাণাশ্রয়তয়ৈব প্রাণানুজ্ঞয়াভিসন্নিবিষ্টা বাগাদিদেবতাঃ, তস্মাদ যদন্মম্ অনেন প্রাণেনাত্তি লোকঃ, তেনান্নেন এতা বাগাদ্যাঃ তৃপ্যন্তি। ৩।

বাগাদ্যাশ্রয়ং প্রাণং যো বেদ—বাগাদয়শ্চ পঞ্চ প্রাণাশ্রয়া ইতি, তমপি এবম্, এবং হ বৈ, স্বা জ্ঞাতয়ঃ অভিসংবিশন্তি বাগাদয় ইব প্রাণম্; জ্ঞাতীনাম্ আশ্রয়ণীয়ো ভবতীত্যভিপ্রায়ঃ। অভিসন্নিবিষ্টানাং চ স্বানাং প্রাণবদেব বাগাদী- নাম্ স্বাল্লেন ভর্তা ভবতি; তথা শ্রেষ্ঠঃ; পুরোধগ্রত এতা গন্তা ভবতি, বাগাদীনামিব প্রাণঃ; তথা অন্নাদোহনামরাবীত্যর্থঃ। অধিপতিরধিষ্টায় চ

১৪২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পালয়িতা স্বতন্ত্রঃ পতিঃ, প্রাণবদেব বাগাদীনাম্। য এবং প্রাণং বেদ, তস্য এতৎ যথোক্তং ফলং ভবতি। ৪।’

কিঞ্চ, য উহ এবংবিদং প্রাণবিদং প্রতি স্বেষু জ্ঞাতীনাং মধ্যে প্রতিঃ প্রতিকূলঃ বুভূবতি প্রতিস্পর্দ্ধী ভবিতুমিচ্ছতি, সোহসুরা ইব প্রাণপ্রতিস্পন্ধিনো ন হৈবালং ন পর্যাপ্তঃ ভার্য্যেভ্যো ভরণীয়েভ্যো ভবতি ভর্তুমিত্যর্থঃ। অথ পুনর্য এব জ্ঞাতীনাং মধ্যে এতম্ এবংবিদং বাগাদয় ইব প্রাণম্ অনু—অনুগতো ভবতি, যো বৈ এতম্ এবংবিদম্ অন্বেব অনুবর্তয়ন্নেব আত্মীয়ান্ ভার্য্যান্ বভূর্ষতি ভর্তু- মিচ্ছতি, যথৈব বাগাদয়ঃ প্রাণানুবৃত্ত্যা আত্মবুভূর্ষব আসন্; স হৈব অলং পর্যাপ্তঃ ভার্য্যেভ্যো ভরণীয়েভ্যঃ ভর্তুং, নেতরঃ স্বতন্ত্রঃ। সর্ব্বমেতৎ প্রাণগুণবিজ্ঞান- ফলমুক্তম্ ॥ ২৭ ॥ ১৮ ॥

টীকা। ভর্তা শ্রেষ্ঠঃ পুরো গন্তেত্যাদিগুণবিধানার্থং বাক্যান্তরমাদত্তে-তে দেবা ইতি। তস্য বিবক্ষিতমর্থং বক্তুমাদাবাক্ষিপতি-নঙ্কিতি। অযুক্তত্বে হেতুমাহ-বাগাদীনামিতি। অবধারণানুপপত্তিং দূষয়তি-নৈষ দোষ ইতি। যথা প্রাণস্যোপকারোহন্নকৃতো ন বাগাদিদ্বারকঃ, তথা তেষামপি নাসৌ প্রাণদ্বারকঃ, বিশেষাভাবাদিতি শঙ্কতে-কথমিতি। বাক্যেন পরি- হরতি-এতমর্থমিতি। আহ বিশেষমিতি শেষঃ। ১।

তেষাং দেবত্বং সাধয়তি-স্ববিষয়েতি। তত্র প্রসিদ্ধিং প্রমাণয়িতুং বৈশব্দ ইত্যাহ- ব। ইতি স্মরণার্থ ইতি। তৎপ্রসিদ্ধস্যার্থস্যেতি শেষঃ। বাক্যার্থমাহ-ইদং তদিতি। এতাবত্ত্বমেব ব্যাচষ্টে-তৎ সর্ব্বমিতি। কিমিদং প্রাণার্থমন্নাগানং নাম, তদাহ-আগানেনেতি। কা পুনরেতাবতা ভবতাং ক্ষতিঃ, তত্রাহ-বয়ং চেতি। অন্নমন্তরেণ মমাপি স্থাতুমশক্তেৰ্মদর্থং তদাগীতমিতি চেৎ, তত্রাহ-অত ইতি। আভজস্বেতি ক্রয়মাণে কথমন্যথা ব্যাখ্যায়তে, তত্রাহ-ণিচ ইতি। তবৈবান্নস্বামিত্বম্, অস্মাকমপি তত্র প্রবেশমাত্রং স্থিত্যর্থমপেক্ষিতমিতি বাক্যার্থমাহ-অস্মাংশ্চেতি। ২।

বৈশব্দো যদ্যর্থে প্রযুক্তঃ। প্রাণং পরিবেষ্ট্য তদনুজ্ঞয়া বাগাদানামন্নার্থিনামবস্থানং চেৎ, তেষামপি প্রাণবদ অন্নসম্বন্ধঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-তখেতি। ত্যক্তপ্রাণস্য অন্নবলাদ্ বাগাদি- স্থিত্যনুপলঞ্চেরিত্যর্থঃ। বাগাদীনামন্নজন্যোপকারস্য প্রাণদ্বারত্বে সিদ্ধে ফলিতমাহ-তমাদিতি। তেষামন্নকৃতোপকারস্য প্রাণদ্বারকত্রে বাক্যশেষং সংবাদয়তি-তদেবেতি। বিদ্যাফলং দর্শয়ন্ গুণজাতমুপদিশতি-বাগাদীতি। ৩।

বেদনমেব ব্যাচষ্টে—বাগাদয়শ্চেতি। স চ প্রাণোহহমশ্নীতি বেদেতি চকারার্থঃ। অনাময়াবী ব্যাধিরহিতো দীপ্তাগ্নিরিতি যাবৎ। ৪।

সম্প্রতি প্রাণবিদ্যাং স্তোতুং তদ্বিদ্য্যাবদ্বিব্বেষিণো দোষমাহ-কিঞ্চেতি। ইদানীং প্রাণবিদং প্রত্যনুরাগে লাভং দর্শয়তি-অথেত্যাদিনা। তে দেবা অক্রবন্নিত্যাদৌ গুণবিধির্বিবক্ষিতে ন বিশিষ্টবিধিগুণফলস্যৈবাত্র শ্রবণাদিত্যাহ-সর্বমেতদিতি। ২৭। ১৮॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৪৩

ভাষ্যানুবাদ।—“তে দেবাঃ” ইত্যাদি। ভাল, বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়েরও যখন অন্নভক্ষণজনিত উপকার দেখিতে পাওয়া যায়, তখন ‘প্রাণ দ্বারাই অন্ন ভক্ষণ করে’ এইরূপ অবধারণ করা(অপরের উপকার নিষেধ করা) যুক্তিযুক্ত হইতে পারে না; না, ইহা দোষাবহ হয় না; কারণ, বাক্ প্রভৃতির যে, অন্ন দ্বারা উপকার লাভ, তাহাও এই প্রাণের সাহায্যেই হইয়া থাকে,[সুতরাং ঐরূপ অব- ধারণে দোষ হইতেছে না]। প্রাণ দ্বারা বাগাদি অন্নকৃত উপকার ইন্দ্রিয়ের যে প্রকারে সাধিত হয়, তৎপ্রদর্শনার্থ বলিতেছেন—১।

সেই বাক্ প্রভৃতি দেবগণ,—তাঁহারা নিজ নিজ বিজ্ঞের বিষয় প্রকাশ বা প্রদ্যোতিত করেন বলিয়া দেব-শব্দ বাচ্য। ‘বৈ’ শব্দটা স্মরণার্থক, সেই দেবগণ মুখ্য প্রাণকে বলিয়াছিলেন—‘ইহা এই পর্য্যন্তই, এতদপেক্ষা আর অধিক নাই’, অর্থাৎ এই যে, সেই বিষয়, তাহা এই পর্য্যন্তই বটে। ইহা কি? না, জগতে প্রাণিগণ প্রাণরক্ষার জন্য, যে অন্ন ভক্ষণ করে, তুমি সেই সমস্ত অন্ন অর্থাৎ অন্নপ্রদ উদগান আপনার জন্য গান করিয়াছ,—উপযুক্ত গানের দ্বারা [সেই অন্নকে] আত্মসাৎ করিয়াছ, কিন্তু আমরাও ত অন্নের অভাবে থাকিতে সমর্থ হইতেছি না, অতএব অতঃপর তোমার নিজের জন্য পরিকল্পিত অন্নে আমাদিগকেও অংশভাগী কর।[শ্রুতির ‘আভজস্ব’ স্থলে ‘আভাজয়স্ব’ বুঝিতে হইবে], কেবল ছন্দের অনুরোধে ‘ণিচ্’ প্রত্যয়ের ব্যবহার করা হয় নাই। ২।

অপরে(প্রাণ) বলিলেন, সেই তোমরা যদি অন্নার্থী হইয়া থাক, তাহা হইলে আমাতে প্রবেশ কর, অর্থাৎ সর্ব্বতোভাবে আমার মধ্যে প্রবিষ্ট হও। প্রাণ এ কথা বলিলে পর ‘তাহাই হউক-এইরূপই করি,’ এই বলিয়া তাঁহারা স্থিরনিশ্চয়ে সেই প্রাণের মধ্যে সর্ব্বতোভাবে নিবিষ্ট হইলেন, অর্থাৎ সেই প্রাণকে বেষ্টন করিয়া তাহাতে সন্নিবিষ্ট রহিলেন। তাঁহারা সেইরূপ সন্নিবিষ্ট হইলে পর, প্রাণ-ভক্ষিত যে অন্নে প্রাণের স্থিতি সাধিত হয়, সেই অন্নই প্রাণের আজ্ঞাক্রমে তন্মধ্যে প্রবিষ্ট ইন্দ্রিয়গণেরও তৃপ্তিসাধন করিতে লাগিল, কিন্তু স্বতন্ত্র- ভাবে বাগাদি ইন্দ্রিয়ের অন্নসম্বন্ধ নাই। অতএব “অনেনৈব তদদ্যতে” এইরূপ অবধারণ করা যুক্তিসম্মতই হইয়াছে। যেহেতু বাগাদি দেবতাগণ প্রাণের অনু- মতিক্রমে প্রাণের মধ্যে সম্যরূপে সন্নিবিষ্ট ও প্রাণাশ্রিত; সেই হেতুই সাধারণ লোকে ‘অন্ন’ দ্বারা অর্থাৎ প্রাণের সাহায্যে যে অন্ন ভক্ষণ করিয়া থাকে, সেই প্রাণভক্ষিত অন্ন দ্বারা এই বাগাদি ইন্দ্রিয়গণ তৃপ্তি লাভ করিয়া

১৪৪, বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

থাকে; বাক্ প্রভৃতিকে আর স্বতন্ত্রভাবে অন্নভক্ষণ দ্বারা, তৃপ্তিলাভ করিতে হয় না(১)।৩।

যে ব্যক্তি, বাগাদি ইন্দ্রিয়ের আশ্রয়ভূত প্রাণকে জানে, অর্থাৎ বাক্প্রভৃতি পাঁচটা ইন্দ্রিয়ই প্রাণের আশ্রিত, এইরূপ জ্ঞানলাভ করে, তাহাকেও এইরূপই- বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয় যেরূপ প্রাণে সন্নিবিষ্ট হয়, ঠিক সেইরূপই স্বগণ-জ্ঞাতিবর্গ আশ্রয় করে। অভিপ্রায় এই যে, সে ব্যক্তি জ্ঞাতিবর্গের আশ্রয়ণীয় হন; এবং প্রাণ যেমন স্বীয় অন্ন দ্বারা বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের পোষণ করে, তেমনি সেই বিদ্বান্ পুরুষও স্বীয় অন্নদ্বারা আশ্রিত জ্ঞাতিবর্গের ভরণ করিয়া থাকেন, সেই রূপ বাগার্থির মধ্যে প্রাণ যেমন, তেমনি[জ্ঞাতিগণের মধ্যে] শ্রেষ্ঠ ও অগ্রণী হন; এবং অম্লাদ অর্থাৎ ব্যাধিরহিত দীপ্তাগ্নি হন; এবং অধিপতি হন-প্রাণ যেরূপ স্বাধীনভাবে বাগাদির পালক বা স্থিতিহেতু, সে ব্যক্তিও তদ্রূপ স্বয়ং বর্ত্ত- মান থাকিয়া পালক-প্রভু হন। যে ব্যক্তি যথোক্ত প্রকার প্রাণতত্ত্ব জানে, তাহার এইরূপ ফললাভ হইয়া থাকে। ৪।

অপিচ,—স্বগণের অর্থাৎ জ্ঞাতিগণের মধ্যে যে ব্যক্তি এবংবিধ জ্ঞানীর প্রতি প্রতিকূল হইতে ইচ্ছা করে—প্রতিপক্ষরূপে স্পর্দ্ধা করিতে অভিলাষী হয়, নিশ্চয় সে ব্যক্তিও প্রাণস্পর্দ্ধী অসুরগণের ন্যায় নিজের পোষ্যবর্গ পোষণ করিতে অসমর্থ হয়। পক্ষান্তরে, প্রাণের প্রতি বাক্প্রভৃতির ন্যায় জ্ঞাতিগণের মধ্যেও যে ব্যক্তি উক্ত জ্ঞানীর অনুগত থাকে, এবং বাক্ প্রভৃতি যেরূপ প্রাণের আনুগত্য গ্রহণপূর্ব্বক আত্মপোষণে অভিলাষী হইয়াছিল, ঠিক সেইরূপ যে ব্যক্তি সর্ব্বদা উক্ত জ্ঞানীর ইচ্ছানুবর্তী থাকিয়া আত্মীয়গণকে পোষণ করিতে ইচ্ছা করে, সেই ব্যক্তিই ভরণীয় স্বগণের ভরণ পোষণ করিতে সমর্থ হয়; কিন্তু অপর যে লোক স্বতন্ত্র হইয়া থাকে, ইহার আনুগত্য স্বীকার করে না, সে লোক কখনই পোষণে সমর্থ হয় না। এ সমস্তই প্রাণগুণ-বিজ্ঞানের ফল কথিত হইল ॥ ২৭ ॥ ১৮ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—কার্য্যকরণানামাত্মত্বপ্রতিপাদনায় প্রাণাস্যাঙ্গিরসত্ত্ব- মুপন্যস্তম্—“সোঽযাস্য আঙ্গিরসঃ” ইতি। অস্মাদ্ধেতোঃ অয়ং আঙ্গিরসঃ ইত্যাঙ্গিরসত্বে হেতুর্নোক্তঃ, তদ্ধেতুসিদ্ধ্যর্থমারভ্যতে। তদ্ধেতুসিদ্ধ্যায়ত্তৎ হি

(১) তাৎপর্য্য—ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, এই দুইটা প্রাণের ধর্ম্ম; এই জন্যই গুরুতর পরিশ্রমে যখন প্রাণের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়, তখন ক্ষুধা তৃষ্ণাও বৃদ্ধি পায়। গৌড়াচার্য্যের কারিকায় আছে— “স্বপ্নশ্চ জাগরশ্চৈব বুদ্ধেরেব ন সংশয়ঃ। বুভুক্ষা চ পিপাসা চ প্রাণধর্ম্ম ইতি স্মৃতঃ।” ইতি।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৪৫

কার্য্যকরণার্থং প্রাণস্য, অনন্তরঞ্চ বাগাদীনাং প্রাণাধীনতোক্তা; সা চ কথনুপ- পাদনীয়া, ইত্যাহ—

টীকা। উত্তরগ্রন্থস্থ্য ব্যবহিতেন সম্বন্ধং বস্তুং ব্যবহিতমনুবদতি-কার্য্যকরণানামিতি। অনন্তরগ্রন্থমবতারয়তি-অস্মাদিতি। কিমিত্যাঙ্গিরসত্বসাধকো হেতুঃ সাধনীয়স্তত্রাহ- তদ্ধেত্বিতি। সম্প্রত্যব্যবহিতং সম্বন্ধং দর্শয়তি-অনন্তরং চেতি। প্রকারান্তরং বুভুৎস্যমান- মিতি সূচয়িতুং চশব্দঃ।

ভাষ্যানুবাদ।—ইতঃপূর্ব্বে “সোহযাস্য আঙ্গিরসঃ” শ্রুতিতে প্রাণকে দেহেন্দ্রিয়াদি-সংঘাতের আত্মা বলিয়া প্রতিপাদন করিবার উদ্দেশ্যে তাহার আঙ্গি- রসত্ব উল্লেখ করা হইয়াছে, কিন্তু কি কারণে যে, তাহার আঙ্গিরসত্ব হইল, তাহার কোন কারণ বলা হয় নাই; অথচ ঐরূপ হেতুর নির্দেশ ব্যতীত প্রাণের দেহে- ন্দ্রিয়াদি স্বরূপতাই সিদ্ধ হইতে পারে না; এই জন্য সেই হেতুর প্রতিপাদনার্থ পরবর্তী শ্রুতি আরব্ধ হইতেছে। অব্যবহিত পূর্ব্বেই বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয়কে প্রাণের অধীন বলা হইয়াছে; সেই প্রাণাধীনতা যে, কি প্রকারে সমর্থন করা যাইতে পারে, তাহা বলিতেছেন—

সোহযাস্য আঙ্গিরসোহঙ্গানাং হি রসঃ; প্রাণো বা অঙ্গানাং রসঃ, প্রাণো হি বা অঙ্গানাং রসস্তস্মাদ যম্মাৎ কস্মাচ্চাঙ্গাৎ প্রাণ উৎক্রামতি, তদেব তচ্ছুষ্যত্যেষ হি বা অঙ্গানাং রসঃ ॥ ২৮ ॥ ১৯ ॥

সরলার্থঃ।—অথ প্রাণস্য প্রাগুক্তাঙ্গিরসত্বে হেতুমুপন্যস্যতি—“সোহযাস্যঃ” ইত্যাদি। “সঃ অযাস্য আঙ্গিরসঃ, অঙ্গানাংহি রসঃ, প্রাণো বা অঙ্গানাং রসঃ” ইত্যেবমন্তমষ্টমশ্রুতিবাক্যং যথাব্যাখ্যাতমেব স্মরণার্থমিহ পুনরুপন্যস্তম্।

প্রাণঃ(প্রাগুক্তঃ) বৈ(অবধারণে) হি(প্রসিদ্ধৌ) অঙ্গানাং(দেহে- ন্দ্রিয়াদীনাং) রসঃ(সারঃ, আত্মত্বেন প্রসিদ্ধ ইত্যর্থঃ); তস্মাৎ(হেতোঃ) যস্মাৎ কস্মাৎ চ(যতঃ কুতশ্চিদপি) অঙ্গাৎ(শরীরাবয়বাৎ) প্রাণঃ উৎক্রামতি (অপসরতি), তদেব(তত্রৈব) তৎ প্রাণবিযুক্তম্ অঙ্গং) শুষ্যতি(শুষ্কং ভবতি)।[কুতঃ এবম্?] হি(যস্মাৎ) এষঃ(মুখ্যঃ প্রাণঃ) বৈ অঙ্গানাং রসঃ (সার ইত্যর্থঃ) ॥ ২৮॥ ১৯ ॥

মুলাসুবাদ।—ইতঃপূর্ব্বে কেন যে, প্রাণকে ‘আজিরস’ বলা হইয়াছে, তাহার হেতু নির্দেশার্থ প্রথমে অষ্টম শ্রুতির বাক্যাংশ উদ্ধৃত

১৯

১৪৬: বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

করা হইয়াছে। ঐ অংশের ব্যাখ্যা সেখানেই দ্রষ্টব্য। ‘মুখ্য প্রাণই অঙ্গসমূহের—দেহেন্দ্রিয়াদির রস বা সারস্বরূপ আত্মা বলিয়া প্রসিদ্ধ; এই কারণেই যে কোনও দেহাবয়ব হইতে প্রাণ সরিয়া যায়, সেখানেই সেই অঙ্গ শুষ্ক হইয়া যায়; কেন না, মুখ্য প্রাণ হইতেছে অঙ্গসমূহের রস অর্থাৎ সারভূত আত্মা;[অতএব তাহার অভাবে অঙ্গের শুষ্কতা এবং প্রাণের ‘আঙ্গিরস’ নামে প্রসিদ্ধি সঙ্গতই বটে] ॥ ২৮॥ ১৯ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—“সোহযাস্য আঙ্গিরসঃ” ইত্যাদি যথোপন্যস্তমেবো- পাদীয়তে উত্তরার্থম্। “প্রাণো বা অঙ্গানাং রসঃ” ইত্যেবমন্তং বাক্যং যথা- ব্যাখ্যাতার্থমেব পুনঃ স্মারয়তি। কথম্?—প্রাণো বা অঙ্গানাং রস ইতি। প্রাণো হি; হি-শব্দঃ প্রসিদ্ধৌ, অঙ্গানাং রসঃ; প্রসিদ্ধমেতৎ প্রাণস্যাঙ্গরসত্বম্, ন বাগাদী- নাম্; তস্মাদ্ যুক্তং ‘প্রাণো বা’ ইতি স্মরণম্। কথং পুনঃ প্রসিদ্ধত্বম্? ইত্যত আহ—তস্মাচ্ছব্দ উপসংহারার্থ উপরিত্বেন সম্বধ্যতে। যস্মাদ যতোহবয়বাৎ, কম্মাৎ অনুক্তবিশেষাৎ,—যস্মাৎ কম্মাদ যতঃ কুতশ্চিচ্চ অঙ্গাৎ শরীরাবয়বাদবিশেষিতাৎ, প্রাণ উৎক্রামতি অপসর্পতি, তদেব তত্রৈব, তদঙ্গং শুষ্যতি নীরসং ভবতি শোষ- মুপৈতি। তস্মাদেষ হি বা অঙ্গানাং রস ইত্যুপসংহারঃ। অতঃ কার্যকরণানা- মাত্মা প্রাণ ইত্যেতৎ সিদ্ধম্। আত্মাপায়ে হি শোষো মরণং স্যাৎ; তস্মাৎ তেন জীবন্তি প্রাণিনঃ সর্ব্বে। তস্মাদপাস্য বাগাদীন্ প্রাণ এবোপাস্য ইতি সমুদায়ার্থঃ ॥ ২৮ ॥ ১৯ ॥

টীকা। তর্হি যৎ উপপাদনীয়ং, তদুচ্যতাং, কিমিত্যুক্তস্য পুনরুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-উত্তরার্থ- মিতি। প্রতিজ্ঞানুবাদো বক্ষ্যমাণহেতোরুপযোগীত্যর্থঃ। যথোপন্যস্তমেব ইত্যাদি প্রপঞ্চয়তি- প্রাণো বা ইতি। উক্তার্থনির্ণয়হেতুং পৃচ্ছতি-কথমিতি। তত্র প্রসিদ্ধিং হেতুং কুর্ব্বন্ পরি- হরতি-প্রাণো হীতি। প্রসিদ্ধিমেব প্রকটয়তি-প্রসিদ্ধমিতি। স্মরণং প্রসিদ্ধস্য আঙ্গিরসত্ব- স্তেতি শেষঃ। প্রসিদ্ধিরসিদ্ধেতি শঙ্কতে-কথমিতি। তামন্বয়ব্যতিরেকাভ্যাং সাধয়তি-অত আহেতি। পদার্থমুক্ত। বাক্যার্থমাহ-যস্মাৎ কম্মাদিতি। উক্তেন ব্যতিরেকেণানুক্তমন্বয়ং সমুচ্চেতুং চশব্দঃ। তস্মাৎ-শব্দস্য উপরিভাবেন সম্বন্ধমুক্তং স্ফুটয়তি-তম্মাদিতি। অন্বয়- ব্যতিরেকাভ্যামঙ্গরসত্বে প্রাণস্য সিদ্ধে ফলিতমাহ-অত ইতি। উক্তস্যায়াৎ অঙ্গরসত্বে সিদ্ধেহপি কথমাত্মত্বং সিধ্যেদিত্যাশঙ্ক্যাহ-আত্মেতি। অস্তু প্রাণঃ সংঘাতস্য আত্মা, তথাপি কিং স্যাৎ, তদাহ-তস্মাদিতি। ভবতু প্রাণাধীনং সঙ্ঘাতস্য জীবনং, তথাপি কথং তস্যৈব উপাস্যত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-তস্মাদপাস্যেতি। ২৮। ১৯।

ভাষ্যানুবাদ।—ইহার পরে প্রয়োজন আছে বুঝিয়া, এখানে পূর্ব্বের ( অষ্টম শ্রুতির) নির্দেশানুসারেই “সোহযাস্য আঙ্গিরসঃ” ইত্যাদি অংশ গ্রহণ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৪৭

করা‘হইতেছে। “প্রাণো বা অঙ্গানাং রসঃ” এই পর্যন্ত বাক্যটা এখানে ইহার পূর্ব্বপ্রদর্শিত ব্যাখ্যাই স্মরণ করিয়া দিতেছে। তাহা কি প্রকার? না, ‘প্রাণো বা অঙ্গানাং রসঃ’(প্রাণই অঙ্গ সমূহের সারভূত) ইতি। মুখ্য প্রাণই অঙ্গসমূহেয় (ইন্দ্রিয় প্রভৃতির) রস। ‘প্রাণো হি’ এই হি-শব্দটী প্রসিদ্ধি বোধক; সুতরাং অর্থ হইতেছে যে, এই প্রাণেরই অঙ্গরসত্ব প্রসিদ্ধ, কিন্তু বাক্প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের নহে অতএব প্রাণের ‘অঙ্গরসত্ব’ স্মরণ করিয়া দেওয়া যুক্তিযুক্তই হইয়াছে। ঐরূপ প্রসিদ্ধিই বা হইল কেন, তাহা বলিতেছেন,-এস্থানের ‘তস্মাৎ’ শব্দটা প্রস্তাবিত বিষয়ের উপসংহারার্থ প্রযুক্ত হইয়াছে, এবং পরবর্তী বাক্যের সহিত ইহার সম্বন্ধ। ‘যস্মাৎ’ অর্থ যাহা হইতে-যে অবয়ব হইতে; কস্মাৎ অর্থ-সেই অবয়বের সম্বন্ধে কিছুমাত্র বিশেষ-নির্দেশ না থাকা, অর্থাৎ ‘অমুক অঙ্গ’ ইত্যাদিরূপ কোনও বিশেষ না থাকা; যে কোনও অঙ্গ হইতে সাধারণ শরীরাবয়ব হইতে প্রাণ উৎক্রমণ করে-সরিয়া যায়, সেখানেই সেই অঙ্গটি শুষ্ক-নীরস হইয়া পড়ে। অতএব ইহাই(মুখ্য প্রাণই) অঙ্গসমূহের রস, এই অংশটুকু উক্ত বাক্যের উপসংহার- স্বরূপ। এই কারণেই মুখ্যপ্রাণ[দেহেন্দ্রিয়াদির] আত্মা বলিয়া প্রসিদ্ধ; কেন না, আত্মার অপগমে শোষের-মরণের সম্ভাবনা হয়; সেই হেতুই[বুঝিতে হইবে যে,] প্রাণিগণ সেই প্রাণের সাহায্যেই জীবন ধারণ করিয়া থাকে। বাক্যের স্থূলার্থ এই যে, অতএব বাক্ প্রভৃতিকে ত্যাগ করিয়া একমাত্র প্রাণেরই উপাসনা করা উচিত ৷ ২৮ ॥ ১৯৷

শাঙ্করভাষ্যম্।—এষ উ। ন কেবলং কার্য্য-কারণয়োরেবাত্মা প্রাণো রূপ-কর্মভূতয়োঃ; কিং তর্হি? ঋগ্যজুঃসান্নাং নামভূতানামাত্মেতি সর্ব্বাত্মকতয়া প্রাণং স্তুবন্ মহীকরোতি উপাস্যত্বায়—

টীকা।—বৃহস্পত্যাদিধৰ্ম্মকং প্রাণোপাসনং বক্তুং বাক্যাস্তরমবতারয়তি—এষ ইতি। তস্য বিধান্তরেণ তাৎপর্য্যমাহ—ন কেবলমিতি। কাৰ্য্যং স্থূলশরীরং প্রত্যক্ষতো রূপ্যমাণং রূপাত্মকং, করণং চ জ্ঞানক্রিয়াশক্তিমৎ কৰ্ম্মভূতং, তয়োরাত্মা প্রাণ ইত্যুক্ত্বা নামরাশেরপি তথেতি বক্তুং কণ্ডিকাচতুষ্টয়মিত্যর্থঃ। কিমিতি প্রাণস্য আত্মত্বেন সর্ব্বাত্মত্বোক্ত্যা স্তুতিরিত্যাশঙ্ক্যাহ— উপাস্যত্বায়েতি।

ভাষ্যানুবাদ।—[নাম-রূপাত্মক জগতে] প্রাণ যে, কেবল রূপপরিণতিভূত দেহ ও ইন্দ্রিয়গণেরই আত্মা, তাহা নহে, পরন্তু নামভূত(শব্দাত্মক) ঋক্, যজুঃ ও সামবেদেরও[আত্মা], এই বলিয়া “এষ উ” ইত্যাদি শ্রুতি প্রাণের. উপাস্যতা জ্ঞাপনের জন্য সর্ব্বাত্মকভাবে প্রাণের স্তুতি করত উৎকর্ষ খ্যাপন করিতেছেন,—

১৪৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এব উ এব বৃহস্পতির্ব্বাগবৈ বৃহতী তস্যা এব পতিস্তস্মাদু বৃহস্পতিঃ ॥ ২৯ ॥ ২০ ॥

সরলার্থঃ।—এষঃ(যথোক্তঃ প্রাণঃ) উ এব ‘বৃহস্পতিঃ’।[প্রাণস্য কথং বৃহস্পতিত্বম্? ইত্যাহ] বাক্, বৈ(প্রসিদ্ধৌ) বৃহতী(ষট্‌ত্রিংশদক্ষরা বৃহতী নাম ছন্দঃ); এষঃ(প্রাণঃ) তস্যাঃ(ছন্দোরূপায়া বাচঃ প্রাণনির্ব্বর্ত্যত্বাৎ) পতিঃ.(পালকঃ নির্ব্বর্ত্তকঃ); তস্মাৎ(হেতোঃ) উ(প্রসিদ্ধৌ) বৃহস্পতিঃ (বৃহৎ+পতিঃ=‘বৃহস্পতিঃ’ ইতি নাম নির্ব্ববচনম্)॥ ২৯ ॥ ২০ ॥

মুলাসুবাদঃ—এই প্রাণই আবার বৃহস্পতি নামে প্রসিদ্ধ, কেন না, বাক্ হইতেছে ‘বৃহতী’ অর্থাৎ ষট্‌ত্রিংশৎ-অক্ষরাত্মক ‘বৃহতী’ ছন্দঃ, প্রাণ তাহার উচ্চারণ সম্পাদন করে বলিয়া পতি অর্থাৎ পালক বা নির্বাহক; এইজন্য প্রাণ বৃহস্পতিনামে প্রসিদ্ধ ॥ ২৯ ॥ ২০ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—এব উ এব প্রকৃত আঙ্গিরসো বৃহস্পতিঃ। কথং বৃহ- স্পতিঃ? ইতি, উচ্যতে—বাগ্‌ বৈ বৃহতী, বৃহতীচ্ছন্দঃ ষট্‌ত্রিংশদক্ষরা। অনুষ্টপ্ চ বাক্। কথম্? “বাগ্বা অনুষ্টুপ্” ইতি শ্রুতেঃ। সা চ বাক্ অনুষ্টুপ্ বৃহত্যাং ছন্দস্যন্তর্ভবতি; অতো যুক্তং “বাগ্‌বৈ বৃহতী” ইতি প্রসিদ্ধবদ্‌ বক্তুম্। বৃহত্যাঞ্চ সর্ব্বা ঋচোহস্তর্ভবন্তি, প্রাণসংস্তুতত্ত্বাৎ; “প্রাণো বৃহতী, প্রাণ ঋচ ইত্যেব বিদ্যাৎ” ইতি শ্রুত্যন্তরাৎ; বাগাত্মত্বাচ্চ ঋচাং প্রাণেহন্তর্ভাবঃ। তৎ কথং? ইত্যাহ— তস্যা বাচো বৃহত্যা ঋচঃ, এষঃ প্রাণঃ পতিঃ, তস্যা নির্ব্বর্তকত্বাৎ। কৌষ্ঠ্যাগ্নি- প্রেরিতমারুতনির্ব্বর্ত্যা হি ঋক্; পালনাদ্ বা বাচঃ পতিঃ, প্রাণেন হি পাল্যতে বাক্, অপ্রাণস্য শব্দোচ্চারণসামর্থ্যাভাবাৎ; তস্মাদ উ বৃহস্পতিঃ ঋচাং প্রাণ আত্মেত্যর্থঃ ॥ ২০॥ ২০॥

টাকা। উ-শব্দোহপ্যর্থঃ, বৃহস্পতিশব্দাদুপরি সম্বধ্যতে। ‘বৃহস্পতিদেবানাং পুরোহিত আসীৎ‘-ইতি শ্রুতেদেবপুরোহিতো বৃহস্পতিরুচ্যতে, তৎ কথং প্রাণস্য বৃহস্পতিত্বমিতি শঙ্কতে-কথমিতি। দেবপুরোহিতং ব্যাবর্তয়িতুমুত্তরবাক্যেনোত্তরমাহ-উচ্যত ইতি। প্রসিদ্ধ- যচনং কথমিত্যাশঙ্ক্যাহ-বৃহতীছন্দ ইতি। সপ্ত হি গায়্যাদীনি প্রধানানি ছন্দাংসি, তেষাং মধ্যমং ছন্দো বৃহতীত্যুচ্যতে। সা চ বৃহতী ষট্‌ত্রিংশদক্ষরা প্রসিদ্ধেত্যর্থঃ। ভবতু যথোক্তা বৃহতী, তথাপি কথম্ ‘যাম্বে বৃহতী’ ইত্যুক্তং, তত্রাহ-অনুষ্টুপ্ চেতি। দ্বাত্রিংশদক্ষরা তাবদনু- ষ্টুবিষ্টা, সা চাষ্টাক্ষরৈশ্চতুর্ভিঃ পাদৈঃ ষট্‌ত্রিংশদক্ষরায়াং বৃহত্যামস্তর্ভবত্যবান্তরসংখ্যায়া মহাসংখ্যায়ামস্তর্ভাবাদিত্যাহ-সা চেতি। বাগসুষ্টভোরসুষ্টুপ্-বৃহত্যোশ্চোক্তমৈক্যমুপজীষ্য ফলিতমাহ-অত ইতি। ভয়তু বাগাত্মিকা বৃহতী, তথাহপি তৎপতিত্বেন প্রাণস্য কথমৃকপতিত্ব-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৪৯

মিত্যাশঙ্ক্যাহ-বৃহত্যাঞ্চেতি। সর্বাত্মকপ্রাণরূপেণ বৃহত্যাঃ স্তুতত্বাৎ তত্র সর্ব্বাসামূচামস্তর্ভাবঃ সম্ভবতি, তস্মাৎ প্রাণস্য বৃহস্পতিত্বে সিদ্ধমৃকপতিত্বমিত্যর্থঃ। প্রাণরূপেণ শুতা বৃহতীত্যত্র প্রমাণমাহ-প্রাণো বৃহতীতি। তথাহপি প্রাণস্য বিবক্ষিতমৃগাত্মত্বং কথং সিদ্ধ্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ- প্রাণ ইতি। তন্য তদাত্মত্বে হেত্বন্তরমাহ-বাগাত্মত্বাদিতি। তাসাং তদাত্মত্বেহপি কথং প্রাণেহন্তর্ভাবঃ। নহি ঘটো মৃদাত্মা পটেহন্তর্ভবতীতি শঙ্কতে-তৎ কথমিতি। প্রাণস্য বানিষ্পাদকত্বাৎ তদ্ভুতানামুচাং কারণে প্রাণে যুক্তোহন্তর্ভাব ইত্যাহ-আহেত্যাদিনা। প্রাণস্য তন্নির্ব্বর্তকত্বেহপি ন তস্মিন্বাচোহন্তর্ভাবঃ, ন হি ঘটস্য কুলালেহন্তর্ভাব ইত্যাশঙ্ক্যাহ-কৌষ্ঠ্যেতি। কোষ্ঠনিষ্ঠেনাগ্নিনা প্রেরিতস্তদ্গতো বায়ুরুদ্ধং গচ্ছন্ কণ্ঠাদিভিরভিহন্যমানো বর্ণতয়া ব্যজ্যতে, তদাত্মিকা চ বাক্ নির্ণীতা, দেবতাধিকরণ ঋক্ চ বাগাত্মিকোক্তা, তদযুক্ত’ তস্যাঃ প্রাণেহন্তর্ভূতত্ব- মিত্যর্থঃ। ঋগায়ত্বং প্রাণস্য প্রকারাস্তরেণ সাধয়তি-পালনাদ্বেতি। সত্তাপ্রদত্বে সতি স্থাপকত্বং তাদাত্মব্যাপ্তমিত্যভিপ্রেত্যোপসংহরতি-তস্মাদিতি। ২৯॥ ২০॥

ভাষ্যানুবাদ।—প্রস্তাবিত এই ‘আঙ্গিরস’ প্রাণই আবার বৃহস্পতি। প্রাণ যে, বৃহস্পতি কেন, তাহা বলা হইতেছে—বাক্ই বৃহতী, অর্থাৎ ষট্‌ত্রিংশৎ- অক্ষরাত্মক ‘বৃহতী’ চ্ছন্দঃ; ‘বাক্ই অনুষ্টুপ্’ এই শ্রুতি হইতে জানা যায় যে, অনু- ষ্টুপ্ ছন্দও বাক্স্বরূপ; বাক্স্বরূপ অনুষ্টুপ্ ছন্দও আবার বৃহতী ছন্দেরই অন্তর্ভুক্ত; অতএব ‘বাক্ বৈ বৃহতী’ এইরূপ প্রসিদ্ধবৎ কথন সঙ্গতই হইয়াছে; ‘প্রাণকেই বৃহতী এবং প্রাণকেই ঋক্ বলিয়া জানিবে’ এই অপর শ্রুতিতে ‘বৃহতীকে’ প্রাণ- রূপে স্তুতি করায়[বুঝা যাইতেছে যে,] সমস্ত ঋক্ মন্ত্রই বৃহতীর অন্তর্ভূত, আবার ঋক্ মাত্রই বাগাত্মক; এই কারণেও প্রাণের মধ্যে সমস্ত ঋকের অন্তর্ভাব হইয়া থাকে। উক্ত প্রাণ সেই বাগাত্মক বৃহতীর পতি; কারণ কোষ্ঠাশ্রিত অগ্নির দ্বারা প্রেরিত বা চালিত হইয়া প্রাণই ঋকের(বাক্যের) অভিব্যক্তি ঘটায়; সুতরাং প্রাণই বাক্যের নির্ব্বাহক বা অভিব্যঞ্জক; এই কারণে অথবা বাক্যের প্রতিপালক বলিয়া প্রাণই বাক্যের পতি। প্রাণহীনের শব্দোচ্চারণ সামর্থ্য থাকে না; এই জন্য বুঝিতে হইবে যে, প্রাণ দ্বারাই বাক্ রক্ষিত হইয়া থাকে। সেই হেতুই প্রাণ বৃহস্পতি অর্থাৎ ঋক্সমূহের সত্তাপ্রদ পালক—আত্মা ॥ ২৯ ॥ ২০ ॥

এষ উ এব ব্রহ্মণস্পতির্ব্ব্যাথৈ ব্রহ্ম, তস্যা এষ পতিস্তস্মাদু ব্রহ্মণস্পতিঃ ॥ ৩০ ॥ ২১ ॥

সরলার্থঃ।—যজুরুষামপি প্রাণসারত্বমাহ—‘এষ উ’ ইত্যাদিনা। এষঃ (যথোক্তঃ প্রাণঃ) উ এব(নিশ্চয়ে) ব্রহ্মণস্পতিঃ।[কুতঃ? ইত্যাহ—] বাক্ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) ব্রহ্ম, এষঃ(প্রাণঃ) তস্যাঃ(ব্রহ্মরূপারাঃ বাচুঃ) পতিঃ(বাচঃ নির্ব-

১৫০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

র্তকত্বাৎ পালকঃ); তস্মাৎ(হেতোঃ) উ[এষঃ প্রাণঃ] ব্রহ্মণস্পতিঃ(ব্রহ্মণস্প- তিত্বেন প্রসিদ্ধ ইত্যর্থঃ) ॥ ৩০ ॥ ২১ ॥;

মূলানুবাদ।—এইরূপ যজুর্ব্বন্ত্রেরও প্রাণই সারভূত, তাহা প্রদর্শন করিতেছেন—যথোক্ত লক্ষণান্বিত প্রাণই ‘ব্রহ্মণস্পতি’; কারণ, বাক্ই ব্রহ্মরূপে প্রসিদ্ধ; ইনি তাহার পতি অর্থাৎ নির্বাহক ও রক্ষক; অতএব ব্রহ্মণস্পতি নামে প্রসিদ্ধ ॥ ৩০ ॥ ২১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা যজুর্ব্বেদ। কথম্ এযউ এব ব্রহ্মণস্পতিঃ? বাঘৈ ব্রহ্ম। ব্রহ্ম যজুঃ, তচ্চ বাগ্বিশেষ এব। তস্যা বাচো যজুর্ব্বেদ ব্রহ্মণঃ, এষ পতিঃ; তস্মাদু ব্রহ্মণস্পতিঃ পূর্ব্ববৎ।

কথং পুনরেতদবগম্যতে—বৃহতী-ব্রহ্মণোঃ ঋগ্‌যজুষ্টম্, ন পুনরন্যার্থত্বম্? ইতি, উচ্যতে—বাচোহন্তে সাম-সামানাধিকরণ্যনির্দেশাৎ “বাগ্বৈ সাম” ইতি। তথা চ ‘বাগ্বৈ বৃহতী’ ‘বাগ্বৈ ব্রহ্ম’ ইতি চ বাক্-সমানাধিকরণয়োঋগ্‌যজুষ্টং যুক্তম্। পরি- শেষাচ্চ—সাম্যভিহিতে ঋগ্‌যজুরী এব পরিশিষ্টে। বাগ্বিশেষত্বাচ্চ—বাগ্বিশেষৌ হি ঋগ্‌যজুরী; তস্মাৎ তয়োর্ব্বাচা সমানাধিকরণতা যুক্তা। অবিশেষপ্রসঙ্গাচ্চ— ‘সাম’ ‘উদগীথঃ’ ইতি চ স্পষ্টং বিশেষাভিধানত্বম্; তথা বৃহতী-ব্রহ্মশব্দয়োরপি বিশেষাভিধানত্বং যুক্তম্; অন্যথা অনির্দ্ধারিতবিশেষয়োঃ আনর্থক্যাপত্তেশ্চ, বিশেষাভিধানস্য বাঙ্মাত্রত্বে চোভয়ত্র পৌনরুক্ত্যাৎ; ঋগ্‌যজুরীসামোদগীথশব্দানাঞ্চ শ্রুতিঘেবং ক্রমদর্শনাৎ ॥ ৩০ ॥ ২১ ॥

টীকা।—যজুরামাত্মেতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। নিয়তপাদাক্ষরাণামৃচাং প্রাণত্বে কুতস্তদ্- বিপরীতানাং যজুষাং তত্ত্বমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি—কথমিতি। তথাপি কথং প্রাণে। যজুরামাত্মেত্যাশঙ্ক্যাহ—বাগ্বৈ ব্রহ্মেতি। নির্বর্ত্তকত্বং পালয়িতৃত্বং চাত্রাপি তুল্যমিত্যাহ—পূর্ব্ব- বদিতি। রুঢ়িমাশ্রিত্য শঙ্কতে—কথং পুনরিতি। বাক্যশেষবিরোধান্নাত্র রূঢ়িঃ সম্ভবতীতি পরিহরতি—উচ্যত ইতি। বাঘৈ সামেত্যন্তে বাচঃ সামসামানাধিকরণেন নির্দেশান্বেদাধি- কারোহয়ম্ ইতি যোজনা। তথাপি কথমুক্তং যজুষ্টুং বা বৃহতীব্রহ্মণোরিতি, তত্রাই—তথা চেতি। পরিশেষমেব দর্শয়তি—সায়্যাতি। ইতশ্চ বাক্সমানাধিকৃতয়োবৃহতব্রহ্মণোঃ ঋগ্মজুষ্টু মেষ্টব্যমিত্যাহ—বাগ্বিশেষত্বাচ্চেতি। তত্রৈব হেত্বম্ভরমাহ—অবিশেষেতি। প্রসঙ্গমেব ব্যতিরেকমুখেণ বিবৃণোতি—সামেতি। দ্বিতীয়শ্চকারোহবধারণার্থঃ। কিঞ্চ, বাঘৈ বৃহতী, বাঘৈ ব্রহ্মেতি বাক্যাভ্যাং বৃহতীব্রহ্মণোর্ধ্বাগাত্মত্বং সিদ্ধং, ন চ তয়োর্দ্বাত্মাত্রত্বং, বাক্যদ্বয়েহপি বাগৈ বাগিতি পৌনরুক্ত্যপ্রসঙ্গাৎ। তস্মাদ বৃহতীব্রহ্মণোরেষ্টব্যমৃগ্যজুষ্টু মিত্যাহ—বাগ্মাত্রত্বে চেতি। ‘তত্রৈব স্থানমাশ্রিত্য হেত্বন্তরমাহ—ঋগিতি ॥ ৩০ ॥ ২১ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—যক্ষর সম্বন্ধেও সেইরূপ। কি প্রকারে? এই প্রশ্নই

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১৫১

ব্রহ্মণস্পতি; বাক্ ব্রহ্মরূপে প্রসিদ্ধ; ব্রহ্মই যজুঃ; সেই যজুঃ ত শব্দবিশেষ ভিন্ন আর কিছুই নহে; এই প্রাণ সেই বাকের অর্থাৎ যজুঃ স্বরূপ ব্রহ্মের পতি; সেই কারণে ‘ব্রহ্মণস্পতি’(ব্রহ্মণঃ+পর্তিঃ=ব্রহ্মণস্পতিঃ)। ইহার অর্থ পূর্ব্ববৎ।

ভাল, ইহা কিরূপে জানা যাইতেছে যে, ‘বৃহতী’ অর্থ-ঋক্, আর ব্রহ্ম অর্থ- যজুঃ, অন্য অর্থই বা হয় না কেন? হ্যাঁ, বলা যাইতেছে-বাক্যশেষে বাক্যের সহিত সামের অভেদবোধক ‘বাক্ই সামস্বরূপ’ এইরূপ সামানাধিকরণ্য বা অভেদ নির্দেশ আছে, তাহা হইতেই[ঐরূপ অর্থ জানা যাইতেছে]। বাকের যেরূপ সামস্বরূপতা সিদ্ধ হইয়াছে, তদ্রূপ ‘বাক্ক বৃহতী’ ও ‘বাক্ই যজুঃ’ এই বাক্-সমানাধিকরণ বৃহতী ও ব্রহ্মেরও যথাক্রমে ঋক্ ও যজুঃস্বরূপত্ব হওয়াই যুক্তিসিদ্ধ। ‘পরিশেষ’ও(১) ইহার অপর হেতু,-কেন না, সেখানে স্পষ্ট কথায় সামের উল্লেখ হইয়াছে, একমাত্র ঋক্ ও যজুই অবশিষ্ট রহিয়াছে; অতএব এখন[বৃহতী ও ব্রহ্মশব্দে যথাক্রমে অবশিষ্ট সেই ঋক্ ও যজুরই গ্রহণ করা আবশ্যক হইতেছে। বাগ্বিশেষত্বও এ পক্ষে অপর হেতু -ঋক্ ও যজুঃ উভয়ই শব্দবিশেষ; সুতরাং বাক্যের সহিত ঐ উভয়ের সামানধি- করণ্য বা অভেদ নির্দেশ যুক্তিসিদ্ধ হইতেছে। অবিশেষ-প্রসঙ্গও আর একটি হেতু -‘সাম’ ও ‘উদ্‌গীণ’ এই উভয়ই যেমন বাক্যের বিস্পষ্ট বিশেষাভিধান, অর্থাৎ নিঃসংশররূপে শব্দবিশেষাত্মক সামবেদার্থে প্রযুক্ত হইয়াছে, তেমনি ‘বৃহতী’ এবং ‘ব্রহ্ম’শব্দেরও বিশেষার্থে(ঋক্ ও যজুঃ অর্থে) প্রয়োগ হওয়া উচিত,[কেবলই বাক্যরূপ অর্থে প্রয়োগ হওয়া উচিত হয় না]; নচেং ঐ উভয় শব্দের যদি অর্থগত পার্থক্য অবধারিত না হয়, তাহা হইলে ঐরূপ শব্দপ্রয়োগই নিরর্থক হইয়া পড়ে। আর বিশেষার্থক শব্দের উল্লেখ সত্ত্বেও যদি শুধু বাক্যই উহাদের অর্থ হয়, তাহা হইলে ত পুনরুক্তি দোষেরও সম্ভাবনা হইয়া পড়ে। বিশেষতঃ শ্রুতিতেও ঋক্ যজুঃ সাম ও উদ্‌গীথ শব্দের নির্দেশে ঐরূপ ক্রমও দেখিতে পাওয়া যায়।[অতএব বাক্যশেষে স্পষ্টাক্ষরে সামশব্দের উল্লেখ থাকায়, তৎপূর্ববর্তী ‘বৃহতী’ ও ‘ব্রহ্ম’ শব্দের ঋক্ ও যজুঃ অর্থ গ্রহণ করাই যুক্তিসঙ্গত হইতেছে] ॥ ৩০॥ ২১ ॥

(১) তাৎপর্য্য—সাধারণতঃ এক প্রসঙ্গে ঋক্, যজুঃ ও সাম এই বেদত্রয়েরই উল্লেখ হইয়া থাকে। স্থলবিশেষে স্পষ্ট কথায় সামকে বাক্স্বরূপ বলা হইয়াছে, কিন্তু ঋক্ ও যজুর উল্লেখ করা হয় নাই, অথচ উহাদের স্থানে ‘বৃহতী’ ও ‘ব্রহ্ম’ শব্দের উল্লেখ রহিয়াছে; এমন অবস্থায় ‘বৃহতী’ ও ‘ব্রহ্ম’শব্দে ঋক্ ও যজুঃ গ্রহণ করিলে কিছুমাত্র অন্যায় হয় না, বরং তাহাতে বাক্যের অসম্পূর্ণতা দোষই দূর করা হয়। অতএব পরিশেষ ন্যায়ানুসারে এখানে ঋক্ ও যজুর গ্রহণ করাই সমীচীন।

১৫২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এষ উ এব সাম, বাথৈ সামৈষ সা চামশ্চেতি তৎ সাম্নঃ সামত্বম্। যদ্বেব সমঃ প্লুষিণা সমো মশকেন সমো নাগেন সম এভিস্ত্রিভিল্লোকৈঃ সমোহনেন সর্ব্বেণ, তস্মাদ্বেব সামাশ্মুতে সাম্নঃ সাযুজ্যং সালোক্যং( ক), য এবমেতৎ সাম বেদ ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

সরলার্থঃ;—তথা সাম্নামপি, ইত্যাহ—“এষ উ” ইত্যাদি। এষঃ(যথোক্তঃ প্রাণঃ) এব সাম(সামবেদঃ); বাক্ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) সা(স্ত্রীলিঙ্গবস্তুমাত্রবোধকঃ সা-শব্দঃ), তথা এবঃ(প্রাণঃ) অমঃ(সর্ব্বপুংলিঙ্গ-বস্তুবোধকঃ অম-শব্দঃ); [যস্মাৎ] সা চ অমশ্চ ইতি—[বাক্প্রাণাত্মকঃ], তৎ(তস্মাৎ) সায়ঃ (গীতিরূপস্য) সামত্বং[প্রসিদ্ধমিতি শেষঃ]।[যদ্বা,] সাচ অমশ্চ—ইতি, তৎ(তদেব বাক্প্রাণস্বরূপত্বং) সায়ঃ সামত্বং(সামনাম-নির্ব্বচনে হেতুরিত্যর্থঃ) ॥ যৎ(যস্মাৎ) উ এব(নিশ্চয়ে)(এবঃ প্রাণঃ) প্লুষিণা(পুত্তিকয়া) সমঃ (তুল্যঃ), মশকেন সমঃ, নাগেন(হস্তিশরীরেণ) সমঃ,[কিং বহুনা] এভিঃ (প্রসিদ্ধৈঃ) ত্রিভিঃ লোকৈঃ(ত্রিলোকাত্মকেন প্রজাপতি-শরীরেণ চ) সমঃ, অনেন(অনুভূয়মানেন জগদ্রূপেণ চ) সমঃ; তস্মাৎ(সর্ব্বসাম্যাৎ হেতোঃ) এব উ সাম(প্রাণঃ সাম-শব্দবাচ্যঃ),[মহদল্লায়তনদেহেযু সঙ্কোচ-বিকাসিতয়া অব- স্থানাৎ প্রাণস্য সর্ব্বসমানত্বং, সর্ব্বসাম্যাচ্চ সামনামাভিধেয়ত্বং প্রাণস্যেতি ভাবঃ]। যঃ(উপাসকঃ) এতৎ সাম এবং(যথোক্তপ্রকারং) বেদ(বিজানাতি),[সোহপি] সায়ঃ(প্রাণাভিধেরস্য) সাবুজ্যং(সমানদেহেন্দ্রিয়াদিভাবং) মালোক্যং(সমান- লোকতাং চ) অন্নুতে(ব্যাপ্নোতীত্যর্থঃ) ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

মূলানুবাদ?—উক্ত প্রাণ হইতেছে সাম; কারণ, বাক্ই ‘সা’, অর্থাৎ স্ত্রীলিঙ্গ সমস্ত শব্দের স্থানবর্তী, আর এই প্রাণ হইতেছে ‘অম’, অর্থাৎ পুংস্ত্ববোধক সমস্ত শব্দের স্থানপাতী। যেহেতু ‘সা’ হইতেছে—বাক্, আর ‘অম’ হইতেছে—প্রাণ, সেই হেতুই[সা’ ও ‘অম’ শব্দের যোগে] গীতিরূপ পদসমুদায়াত্মক সামের সামত্ব প্রসিদ্ধ হইয়াছে।

বিশেষতঃ, যেহেতু এই প্রাণ, পুত্তিকাশরীরের সমান, মশকশরীরের সমান, হস্তিশরীরের সমান, অধিক কি, এই ত্রিলোকাত্মক প্রজাপতি- শরীরেরও সমান, এবং দৃশ্যমান জগতেরই সমান, সেই হেতুই ইহা সাম-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৫৩

পদবাচ্য। যে ব্যক্তি উক্তপ্রকার সামের সামত্ব অবগত হন, তিনিও সামের—প্রাণের সমান স্বভাব লাভ করেন, এবং সমান লোকে অবস্থিতি করেন ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—এষ উ এব সাম। কথমিত্যাহ—বাগ্বৈ সা, যৎ কিঞ্চিৎ স্ত্রীশব্দাভিষেয, সা বাক্, সর্ব্বস্ত্রীশব্দাভিধেববস্তুবিষযো হি সর্ব্বনাম সা শব্দ। তথা অমঃ এষ প্রাণঃ, সর্ব্বপু শব্দাভিবেষবস্তুবিষযোহম’ শব্দঃ, “কেন মে পৌ স্নানি নামান্যাপ্নোধীতি, প্রাণেনেতি ক্রবাৎ, কেন মে স্ত্রীনামানীতি, বাচা” ইতি শত্যন্তবাৎ। বাক প্রাণাভিধানভূতোহস সামশব্দঃ। তথা প্রাণ- নির্বর্ত্য স্ববাদিসমুদাবমাত্র গীতিঃ সামশব্দেনাভিধাযতে, অতো ন প্রাণবাগ্য- তিবেকেণ সাম নামান্তি কিঞ্চিৎ, স্বববর্ণাদেশ প্রাণনিব্বর্ত্ত, ত্বাৎ প্রাণতন্ত্রত্বাচ্চ। এষ উ এব প্রাণঃ সাম। যস্মাৎ সাম সামেতি ব’বপ্রাণাত্মকম—সা চ অমশ্চেতি, তং তস্মাৎ সামো গীতিরূপস্য স্ববাদিসমুদাযস্য সামত্ব তৎ প্রগীত ভুবি।

যত উ এব সমস্তুল্যঃ সর্ব্বেণ বক্ষ্যমাণেন প্রকাবেণ, তস্মাদ্বা সামেত্যনেন সম্বন্ধঃ। বা’ শব্দঃ সমশব্দলাভনিমিত্ত প্রকারান্তবনিদ্দেশসামর্থ্যলভ্যঃ। কেন পুনঃ পকাবেণ প্রাণস্য তুল্যত্বমিতি, উচাতে-সমঃ প্লুবিণা পুত্তিকাশবীবেণ, সমঃ মশকেন মশকশবাবেণ, সমঃ নাগেন হস্তিশবাবেণ, সম এভিস্ত্রিভির্লোকৈঃ ত্রৈলোক্যশবীবেণ প্রাজাপত্যেন, সমোহনেন জগদ্রূপেণ হৈবণ্যগর্ভেণ। পুত্তি- কাদি শবীবেষু গোত্বাদিবৎ কাৎ স্নেন পবিসমাপ্ত ইতি সমত্ব প্রাণস্য, ন পুনঃ শবীরমাত্রপবিমাণেনৈব, অমুর্তত্বাৎ সব্বগতত্বাচ্চ। নচ ঘটপ্রাসাদাদি-প্রদীপবৎ সঙ্কোচবিকাশিতযা শবীবেষু তাবন্মাত্র সমত্বন। ‘ত এতে সর্ব্ব এব সমাঃ, সর্ব্বেইনন্তা,” ইতি শ্রুতেঃ। সর্ব্বগতস্থ্য তু শবীবেষু শবীবপবিমা-বৃত্তিলাভো ন বিরুধ্যতে। এবং সমত্ত্বাৎ সামাখ্য প্রাণ বেদ যঃ শ্রুতিপ্রকাশিতমহত্ত্বম্, তস্যৈতৎ ফল -অন্নুতে ব্যাপ্নোতি, সায়ং প্রাণস্য সাজ্যং সযগভাব সমানদেহেন্দ্রিয়াভি- মানত্বৎ, সালোক্য, সমানলোকতাং বা ভাবনাবিশেষতঃ, য এবমেতদ যথোক্তং সাম প্রাণং বেদ-আ প্রাণাত্মাভিমানাভিব্যক্তেরুপাস্ত ইত্যর্থঃ ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

টাকা। ঋগ্যজুষ্টং প্রাণস্য প্রতিপাদ্য তস্যৈব সামত্বং সাধযতি-এষ ইত্যাদিনা। তদেব স্পষ্টয়তি-সর্ব্বেতি। সা-শব্দো হি সর্ব্বনাম, তথাচ যঃ স্ত্রীলিঙ্গঃ সব্বঃ শব্দেন্নাভিধেয়ং বস্তু বাগিত্যর্থঃ। অমঃ প্রাণ ইত্যুক্তমুপপাদয়তি-সর্ব্বপুংশকেতি। পুংলিঙ্গেন সর্ব্বেণ শব্দেনাতি এবং বস্তু প্রাণ ইত্যর্থঃ। তত্র শ্রুত্যন্তরং প্রমাণযতি-কেনেতি। আচায্যস্য শিষ্যং প্রতি এতদ্বাক্যম্। পৌংস্নানি পুংসো বাচকানি। তথাপি বন্য সামশব্দবাচ ত্বামত্যাশঙ্ক্য ফলিত্ব

२०

১৫৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মাহ-বাগিতি। বাগুপসর্জনঃ প্রাণঃ সামশব্দাভিধেয় একবচননির্দেশাদিত্যর্থঃ। ননু গীতিষু সামাখ্যেতি ন্যাযাদ্বিশিষ্টা কাচিদ্গীতিঃ সামেত্যুচ্যতে, তৎ কুতো বাগুপসর্জনস্য প্রাণস্য সামত্বমত আহ-তথেতি। প্রাণস্য সামত্বে সতীতি যাবৎ। প্রগীতে মন্ত্রবাক্যে সামশব্দস্য বৃদ্ধৈরিষ্টত্বাদস্তি প্রাণাদিব্যতিরেকেণ সাম, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বরেতি। আদিপদেন পদবাক্যাদিগ্রহং। বাগুপসর্জনে প্রাণে মুখ্যঃ সামশব্দঃ, তৎসম্বন্ধাদিতরত্র গৌণো মঞ্চাদিশব্দবদিত্যর্থঃ। উক্তেহর্থে তৎ সামঃ সামত্বমিতি বাক্যং যোজয়তি-যম্মাদিতি। ইদং সামেদং সামেতি যদ্ব্যবহ্রিয়তে, তদ্বাক্- প্রাণাত্মকমেবোচ্যতে, সা চামশ্চেতি ব্যুৎপত্তেঃ, যম্মাদেবং, তস্মাৎ প্রসিদ্ধস্য সামো যৎ সামত্বং, তৎ মুখ্যসামনির্বর্ত্যত্বাদেগীণমের তদধ্যেতৃব্যবহারে প্রসিদ্ধমিতি যোজনা।

প্রকারান্তরেণ প্রাণস্য সামত্বমুপাসনার্থমুপন্যস্থতি-যদিত্যাদিনা। প্রকারান্তরদ্যোতী বাশব্দোহত্র ন ক্রয়তে, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-বাশব্দ ইতি। নিমিত্তান্তরমেব প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রকটয়তি- কেনেত্যাদিনা। ননু প্রাণস্য তত্তচ্ছরীরপরিমাণত্বে পরিচ্ছিন্নত্বাদানস্ত্যানুপপত্তিস্তৎ কথমস্য বিরুদ্ধেষু শরীরেষু সমত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-পুত্তিকাদীতি। সমশব্দস্য যথাশ্রুতার্থত্বং কিং ন স্যাদিতা- শঙ্ক্যাহ-ন পুনরিতি। আধিদৈবিকেন রূপেণামূর্তত্বং সর্ব্বগতত্বং চ দ্রষ্টব্যম্। ন ঘটে সঙ্কুচতি প্রাসাদে চ বিকসতি, তথা প্রাণোংপি মশকাদিশরীরেষু সঙ্কোচমিভাদিদেহেযু বিকাসং চ আপদ্যতামিতি সমত্বাসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। প্রাণস্য সর্ব্বগতত্বে সমত্ব- শ্রুতিবিরোধমাশঙ্ক্যাহ-সর্ব্বগতস্যেতি। খণ্ডাদিষু গোত্ববচ্ছরীরেষু সর্বত্র স্থিতস্য প্রাণস্য তত্তৎ- শরীরপরিমাণায়। বৃত্তেলাভঃ সম্ভবতি, সর্ব্বগতস্যৈব নভসস্তত্র তত্র কূপকুন্তাদ্যবচ্ছেদ- উপলম্ভাদিত্যর্থঃ। ফলশ্রুতিমবতার্য্য ব্যাকরোতি-এবমিতি। ‘ফলবিকল্পে হেতুমাহ- ভাষনেতি। বেদনং ব্যাকরোতি-আ প্রাণেতি। ইদং চ ফলং মধ্যপ্রদীপন্যায়েনোভয়তঃ সম্বন্ধমবধেয়ম্ ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—ইহাই যে, সামরূপে প্রসিদ্ধ কেন, তাহা বলিতেছেন,— বাক্ হইতেছে ‘সা’, স্ত্রীলিঙ্গ-শব্দের প্রতিপাদ্য যাহা কিছু, তৎসমস্তই ‘সা’-- বাক্; কারণ, সমস্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দে যে অর্থ বুঝায়, সে সমস্তই সর্ব্বনাম ‘সা’ শব্দের (স্ত্রীলিঙ্গ তৎ-শব্দের) বিষয় বা প্রতিপাদ্য। সেইরূপ, এই প্রাণ হইতেছে ‘অম’-সমস্ত পুংলিঙ্গ শব্দে যাহা বুঝায়, সে সমুদয়ই ‘অম’-শব্দের বিষয়; কেন না, অপর শ্রুতিতে আছে—‘তুমি কিরূপে আমার পুংস্ববোধক নামসমূহ প্রাপ্ত হইয়া থাক?’ তদুত্তরে বলিবে—‘প্রাণরূপে’; আর কিরূপে আমার স্ত্রীত্ববোধক নাম সমূহ[লাভ করিয়া থাক]? তদুত্তরে বলিবে—‘বাচা’ অর্থাৎ বাক্যরূপে। এই সাম’ শব্দটিও বাক্ ও প্রাণের বাচক। সেইরূপ প্রাণের সাহায্যে যাহা কিছু নিষ্পন্ন হইয়া থাকে, সাম-শব্দটিও কেবল সেই স্বরলয়াদির সমষ্টিরূপ গীতি মাত্রেরই বোধক। অতএব, সাম-পদার্থটি প্রাণ ও বাক্যের অতিরিক্ত অপর কোনও স্বতন্ত্র বস্তু নহে; কেন না স্বর ও অক্ষর প্রভৃতি সমস্তই প্রাণ দ্বারা সম্পাদনীয় এবং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১৫৫

প্রাণেরই অর্থাধীন; অতএব, এই প্রাণ সামস্বরূপ। যেহেতু ‘সা’ ও ‘অম’ এই পদদ্বয়ের সহযোগে ‘সাম’(সা+অম==সাম) পদ নিষ্পন্ন হইয়াছে, সেই হেতুই জগতে স্বরাদির সমষ্টিভূত গীতিরূপ সামের সামত্ব(সাম নাম) প্রসিদ্ধ হইয়াছে।

অথবা যেহেতু এই প্রাণ বক্ষ্যমাণ বিশেষ বিশেষ সমস্ত বস্তুর সমান, সেই হেতুই সাম, এইরূপ বাক্যযোজনা করিতে হইবে।[শ্রুতিতে বা-শব্দ না থাকিলেও] প্রাণ যে, কেন সাম শব্দ-বাচ্য হইল, তাহার বিভিন্নপ্রকার কারণ প্রদর্শন হইতেই বা-শব্দ প্রাপ্ত হওয়া যায়। কোন্ কোন্ বিশিষ্ট প্রাণীর সহিত প্রাণের তুল্যতা? তাহা বলিতেছেন-[উক্ত প্রাণ] প্লুষির অর্থাৎ পুত্তিকা শরীরের সমান,[পুত্তিকা অর্থ-উইপোকা], মশকের-মশকশরীরের সমান, নাগের-হস্তি-শরীরের সমান, এই ত্রিলোকের অর্থাৎ ত্রৈলোক্যশরীরাত্মক প্রজাপতির সমান, এবং হিরণ্য- গর্ভসম্বন্ধী এই জগদ্রূপের সমান। ‘গোত্ব’ ধর্ম যেরূপ নিখিল গোশরীরে সমাপ্ত অর্থাৎ পরিব্যাপ্ত থাকে, তদ্রূপ প্রাণও যাবতীয় পুত্তিকা প্রভৃতির শরীরে পরিব্যাপ্ত থাকে; এইজন্য প্রাণের সর্ব্বসমত্ব; কিন্তু ঐ সমস্ত শরীরের সমপরিমাণ বলিয়া নহে। কেননা, প্রাণ স্বভাবতই অমূর্ত্ত-মূর্ত্তিহীন এবং সর্ব্বব্যাপী।[অতএব আকাশাদির ন্যায় অমূর্ত্ত ও সর্ব্বব্যাপী প্রাণের পক্ষে দেহবিশেষের সমপরিমাণ হওয়া সম্ভব হইতে পারে না]। আর, একই প্রদীপ-প্রভা যেরূপ ঘটের মধ্যে থাকিলে সঙ্কোচিত হয়, আবার প্রাসাদের মধ্যে থাকিলে বিস্তৃত হয়, তদ্রূপ সংকোচ বিকাসশালিরূপেও প্রাণের সর্ব্বশরীরে সাম্যলাভ সম্ভবপর হয় না; কারণ, ‘ইহারা সকলেই সমান এবং সকলেই অনন্ত’ এইরূপ শ্রুতি রহিয়াছে। কিন্তু সর্ব্বগত আকাশাদির পক্ষে বিভিন্ন শরীরে শরীরপরিমাণ বৃত্তিলাভ করা বিরুদ্ধ হয় না(১)। এবংবিধ সাম্যনিবন্ধন সামসংজ্ঞা প্রাপ্ত এবং শ্রুতিতেও যাহার মহিমা প্রকাশিত আছে, যে ব্যক্তি সামনামক সেই প্রাণতত্ত্ব বিশেষরূপে জানে,

(১) তাৎপর্য্য—সর্ব্বসাম্যনিবন্ধন প্রাণকে ‘সাম’ বলা হইয়াছে। এখন সংশয় হইতেছে যে, প্রাণের এই সাম্যাটা কি প্রকার?—আলোক যেমন যখন যেরূপ পাত্রের মধ্যে থাকে, তখন তদনুরূপই বিস্তার লাভ করে, প্রাণও কি ঠিক সেইরূপই—হস্তিদেহে প্রবিষ্ট হইয়া সেই দেহের সমান—বৃহৎ হয়, আবার পিপীলিকাদেহে প্রবিষ্ট হইয়া সঙ্কোচিত হয়? অত্রত্য সাম্য কি এই প্রকার অথবা অন্য কোনও প্রকার? তদুত্তরে ভাষ্যকার বলিতেছেন—না—এরূপ সাম্য হইতে পারে না; কারণ, শ্রুতি বলিয়াছেন “সর্ব্বে সমাঃ সর্ব্বে অনন্তাঃ,” অর্থাৎ সমস্ত প্রাণই সমান, কাহারো মধ্যে ছোট-বড় ভাব নাই, এবং সকলেই অনন্ত, কোন প্রাণই কোথাও সীমাবদ্ধ নহে। ছোট-বড় দেহভেদে প্রাণের তারতম্য স্বীকার করিলে শ্রুতি-কথিত সর্ব্বাসাম্য

১৫৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাহার কিরূপ ফল হয়, বলিতেছেন—যে ব্যক্তি যথোক্ত প্রকার’ সামাখ্য প্রাণ- তত্ত্ব জানে,—প্রাণাত্মভাব প্রকাশ না পাওয়া পর্য্যন্ত প্রাণের উপাসনা করে, সেই ব্যক্তি সামাখ্য প্রাণের সাযুজ্য—সহযোগিতা অর্থাৎ তৎসমান দেহেন্দ্রিয়াভিমান কিংবা সালোক্য অর্থাৎ তত্তুল্য লোকে বাস—ভাবনা-বিশেষ দ্বারা ভোগ করিয়া থাকে; অর্থাৎ মনেমনে প্রাণের সাযুজ্য ও সালোক্য লাভের তৃপ্তি অনুভব করিয়া থাকে ॥ ৩১ ॥ ২২ ॥

এম উ বা উদ্গীথঃ, প্রাণো বা উৎ, প্রাণেন হাঁদস্য সর্ব্বমুত্ত- ব্ধম্, বাগেব গীথোচ্চ গীথা চেতি স উদ্গীথঃ ॥ ৩২ ॥ ২৩ ॥

সরলার্থঃ।--এবঃ প্রাণঃ উ বৈ, এব) উদ্‌গীথঃ(সামা-শঃ ভক্তি- বিশেষঃ),[প্রাণস্যোদগীথত্ব সম্পাদনিতুমাহ-] প্রাণঃ বৈ উৎ,[কথম্?] হি (যস্মাৎ) ইদং সর্ব্ব,[জগৎ, প্রাণেন উত্তব্ধ(বিধৃতম; তথা] বাক্ এব গীথা(গীতিরূপা, শব্দাত্মকত্বাৎ গতেঃ); উং চ, গীথা চ ইতি-(মিলিত্বা। সঃ উদ্গীথঃ[সম্পদ্যতে] ॥ ৩২ ॥ ২৩॥

মুলাসুবাদ।—উক্ত প্রাণই উদ্‌গীথ;[ এখানে উদ্‌গীথ অর্থ সামবেদের অংশ ভক্তিবিশেষ, কিন্তু উচ্চৈঃস্বরে গান নহে]। প্রাণ হইতেছে—উৎ; কেন না, প্রাণ দ্বারাই এই সমস্ত জগৎ উত্তব্ধ অর্থাৎ বিধৃত রহিয়াছে; আর বাক্ হইতেছে—গীথা—গীতিস্বরূপা; অতএব ‘উৎ’ ও ‘গীথা’ পদ দ্বয়ের যোগে ‘উদ্‌গীথ’ পদ নিষ্পন্ন হইয়াছে, এবং উক্ত প্রাণও ‘উদগীথ’ সংজ্ঞা লাভ করিয়াছে ॥ ৩২ ॥ ২৩ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—এষ উ বা উদগীথঃ। উদগীথো নাম সামাবয়বো ভক্তিবিশেষঃ, নোদ্গানম্; সামাধিকারাৎ। কথমুদগীথঃ প্রাণঃ? প্রাণো বা উৎ, প্রাণেন হি যম্মাদিদং সর্ব্বং; জগৎ উত্তব্ধম্—উর্দ্ধং স্তব্ধং উত্তম্ভিতং বিধৃতমিত্যর্থঃ; উত্তদ্ধার্থাবদ্যোতকোহয়ম্ উচ্ছব্দঃ প্রাণগুণাভিধায়কঃ। তস্মাৎ উৎ প্রাণঃ; বাগেব গীথা; শব্দবিশেষত্বাৎ উদগীথভক্তেঃ; গায়তেঃ শব্দার্থত্বাৎ সা বাগেব। নহি

রক্ষা পায় না, বিশেষতঃ প্রত্যেক দেহ-পরিমাণে পরিচ্ছিন্ন হইলে প্রাণের অনন্তত্বও সিদ্ধ হয় না; কাজেই বলিতে হইবে যে, গোত্ব ও মনুষ্যত্ব প্রভৃতি ধর্মগুলি যেরূপ সমস্ত গোতে ও সমস্ত মনুষ্যতে সমান—ধনী দরিদ্র, শিশু বৃদ্ধ কোথাও তারতম্যযুক্ত নহে, সর্ব্বত্রই একরূপ, প্রাণও তেমনি ছোটবড় সর্ব্বদেহেই সমান, কোথাও তাহার বৈষম্য নাই। এখানে এই প্রকার সাম্যই শ্রুতির অভিপ্রেত।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ঃ ব্রাহ্মণম্।

১৫৭

উদ্গীথভক্তেঃ শব্দব্যতিরেকেণ কিঞ্চিদ্রূপম্ উৎপ্রেক্ষ্যতে, তস্মাদ্ যুক্তমবধারণম্— বাগেব গীথেতি। উৎ চ প্রাণঃ, গীথা চ প্রাণতর। বাক, ইত্যুভয়মেকেন শব্দেনাভিধীয়তে—স উদ্গীথঃ ॥ ৩২ ॥ ২৩ ॥

টাকা। প্রস্ত বাদিশব্দবৎ উদ্গীণশব্দস্যাপি ভক্তিবিশেষে রূচহাৎ উদগীথেনাত্যয়ামেত্যত্র চ ঔদগাত্রে কৰ্ম্মণি প্রযুক্তত্বাৎ কথমুদ্গীথঃ প্রাণঃ। হতাশঙ্কাহ- ‘দ্গীথো নামেতি। নঞ- পদস্যোভয়তঃ সম্বন্ধঃ। সামশব্দিতন্য প্রাণস্থ্য প্রকৃতত্বাদিতি হেতুমাহ -সামাধিকারাদিতি। ন তাবৎ উদ্গীণশব্দস্য প্রাণে রুটিঃ, তস্য তস্মিন্ বৃদ্ধপ্রয়োগাদশ নাৎ, নাপি যোগোৎবযববৃত্তের- দৃষ্টেরিতি শঙ্কতে-কথমিতি। যোগবৃত্তিমুপেত। পবিহবতি-প্রাণ ইতি। উচ্ছব্দো নাস্যার্থস্য বাচক., নিপাতত্বাদিত। শঙ্ক্যাহ- উত্তঙ্কেতি। তথাপি কথ’ পাণে বা উদিত্যুক্ত, তত্রাহ- প্রাণেতি। ‘বাব্ববৈ গৌতম তৎ সুত্রম্’ ইত্যাদিশ্রুতেবিতর্থ। উদ্দীথভক্তেঃ শব্দবিশেষত্বেহপি গীথা বাগিতি কথমুচ্যতে, তত্রাহ-গায়তেবিতি। অথাবধাবণ সাধযতি-ন হীতি। তথাপি কথং প্রাণস্যোদগীথত্বম্। ইত্যাশঙ্ক। বাণ্ডপসজ্জনস্য তস্য তথাত্বং কথয়তি- ডুচ্চেতি। ৩২ ॥ ২৩॥

ভাষ্যানুবাদ!—“এষ উ বা উদ্‌গীথঃ” ইত্যাদি। ‘উদগার্থ’ অর্থ—সামের অবয়ব ভক্তিবিশেষ অ শবিশেষ), কিন্তু উদগান -উচ্চৈ স্বরে গান করা নহে। উদগীথই প্রাণ কি প্রকারে? তদুত্তরে বলিতেছেন – প্রাণ হইতেছে উৎ; যেহেতু এই সমস্ত জগৎ প্রাণ দ্বারা উত্তপ্ত –উদ্ধে বিধৃত বহিয়াছে,[নচেৎ সমস্ত জগৎ গলিয়া যাইত]। এই ‘উং’ শব্দটা উত্তন্তনার্থদ্যোতক এব প্রাণের উল্লিখিত গুণ-সম্ভাব-প্রকাশক, সেই হেতুই উদ্‌গীথ হইতেছে—প্রাণস্বরূপ, আর বাক্ হইতেছে—গাঁথা, কারণ, সামভক্তি ‘উদগীথ’ ত শব্দবিশেষ ভিন্ন আর কিছুই নহে।[গীথার প্রকৃতিভূত] ‘গৈ’ ধাতুর অর্থ যখন শব্দ, তখন নিশ্চয়ই উহা বাক্স্বরূপ; কেন না, উদ্‌গীথনামক ভক্তিটীর শব্দাত্মকতা ছাড়া অন্য কোন প্রকার স্বরূপ ত সম্ভাবনা করা যাইতে পারে না; অতএব বাককে ‘গাঁথা’ বলিয়া অবধারণ করা যুক্তিযুক্তই হইতেছে। উৎ—হইতেছে প্রাণ, আর ‘গাঁথা’ হইতেছে— প্রাণাধীন বাক্; এইজন্য সেই উভয়ই এক ‘উদ্গীথ’ শব্দে অভিহিত হইয়া থাকে— ‘সঃ উদ্‌গীথঃ’ ইতি ॥ ৩২ ॥ ২৩ ॥

শঙ্করভাষ্যম্।—উক্তার্থদার্ঘ্যং আখ্যানিকা আবভাতে—

ভাষ্যানুবাদ!—উক্ত প্রকারে কল্পিত অর্থের দৃঢ়তা সম্পাদনার্থ পুনশ্চ একটা আখ্যায়িকা আরব্ধ হইতেছে—

তদাপি ব্রহ্মাদ্বৈশতিকিতানেয়ো। রাজানং ভক্ষয়ন্ বাচায়ং

১৫৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ত্যস্য রাজা মূর্দ্ধানং বিপাতয়তাদ্ যদিতোহয়াস্য আঙ্গিরসোহন্যে- নোদগায়দিতি। বাচা চ হ্যেব স প্রাণেন চোদগায়দিতি ॥৩৩৷২৪৷৷

সরলার্থঃ।—তং(তত্র উক্তে অর্থে) হ(ঐতিহ্যে) অপি(আখ্যা- রিকাপি)[ক্রয়তে ইতি শেষঃ]।—

চৈকিতানেয়ঃ(চিকিতানস্য অপত্যং-চৈকিতানঃ, তস্য অপত্যং যুবা- চৈকিতানেয়ঃ) ব্রহ্মদত্তঃ(তন্নামকঃ ঋবিঃ) রাজানং(যজ্ঞিয়ং সোমং) ভক্ষয়ন্ উবাচ।[ কিম্] অয়ং(ময়া ভক্ষ্যমাণঃ চমসস্থঃ) রাজা(সোমঃ) তাস্য(তস্য- মম) মূর্দ্ধানং(শিরঃ) বিপাতয়তাৎ(বিস্পষ্টং পাতয়তু), যৎ(যদি) অয়াস্য আঙ্গিরসঃ(উদগাতা, স হি পূর্ব্বর্ষীণাং যজ্ঞে প্রাণবাচকেন অয়াস্যাঙ্গিরস-শব্দেন অভিধীয়তে), ইতঃ(অস্মাৎ বাক্সহিতাৎ প্রাণাৎ) অন্যেন(দেবতান্তরেণ) উদগায়ৎ(উদগানং কৃতবান্ স্যাৎ) ইতি।[অতঃ অনুমীয়তে, যৎ] সঃ(উদ্- গাতা) বাচা(প্রাণাধীনেন বাক্যেন) চ প্রাণেন চ(উক্তলক্ষণেন) হি এব (নিশ্চয়ে) উদগায়ৎ(উদগানং কৃতবান্ ইতি),[এতৎ তু শ্রুতেবচনং মন্তব্য- মিতি ভাবঃ] ॥ ৩৩ ॥ ২৪ ॥

মূলানুবাদ:-কথিত বিষয়ে এইরূপ একটা আখ্যায়িকাও শোনা যায়;-চিকিতাননামক ঋষির পৌত্র ব্রহ্মদত্তনামক ঋষি যজ্ঞে সোমভক্ষণ করিতে করিতে বলিয়াছিলেন-এই রাজা(সোম) নিশ্চয়ই তাহার অর্থাৎ ভক্ষণকারী আমার শিরঃপাত করুক, যদি অয়াস্য আঙ্গিরস অর্থাৎ উদগাতা যদি পূর্ব্বোক্ত বাক্সমন্বিত এই প্রাণ ভিন্ন অপর কোনও দেবতাবিশেষে উদ্‌গান করিয়া থাকেন। এখন শ্রুতি বলিতেছেন-[ ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে,] সেই উদ্‌গাতা নিশ্চয়ই বাক্ ও প্রাণদেবতা যোগেই উদ্‌গান করিয়াছিলেন ॥ ৩৩ ॥ ২৪ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তদ্ধাপি। তৎ তত্র এতস্মিন্নুক্তেহর্থে হ অপি আখ্যায়িকাপি ক্রয়তে হ স্ম। ব্রহ্মদত্তঃ নামতঃ; চিকিতানস্যাপত্যং চৈকিতানঃ, তদপত্যং যুবা—চৈকিতানেরয়ঃ রাজানং যজ্ঞে সোমং ভক্ষয়ন্ উবাচ;—কিম্? অয়ং চমসস্থো ময়া ভক্ষ্যমাণো রাজা ত্যস্য মমানৃতবাদিনো মূর্দ্ধানং শিরঃ বিপা- তয়তাৎ বিস্পষ্টং পাতয়তু। তোঃ অয়ং তাতঙাদেশঃ, আশিষি লোট্—বিপাতয়- তাদিতি; যদ্যহম্ অনূতবাদী স্যামিত্যর্থঃ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৫৯

কথং পুনরনৃতবাদিত্বপ্রাপ্তিরিতি? উচ্যতে-যদ্ যদি ইতোহস্মাৎ প্রকৃতাৎ প্রাণাৎ বাক্সংযুক্তাৎ, অয়াস্যঃ-মুখ্যপ্রাণাভিধায়কেন অয়াস্যাঙ্গিরসশব্দেন অভি- ধীয়তে-বিশ্বসৃজাং পূর্ব্বর্ষীণাং সত্রে উদগাতা,-সঃ অন্যেন দেবতান্তরেণ বাক্- প্রাণব্যতিরিক্তেন উদগায়ৎ উদ্‌গানং কৃতবান; ততোহহম্ অনূতবাদী স্যাম্। তস্য মম দেবতা বিপরীতপ্রতিপতুঃ মূর্দ্ধানং বিপাতয়তু, ইত্যেবং শপথং চকার-ইতি বিজ্ঞানে প্রত্যয়দার্য্য-কর্তব্যতাং দর্শয়তি। তমিমং আখ্যায়িকানির্দ্ধারিতমর্থং স্বেন বচসোপসংহরতি শ্রুতিঃ-বাচা চ প্রাণপ্রধানয়া, প্রাণেন চ স্বস্যাত্মভূতেন সোহয়াস্য আঙ্গিরস উদগাতা উদগাযৎ-ইত্যেযোহর্থো নির্দ্ধারিতঃ শপ- পেন ॥ ৩৩ ॥ ২৪ ॥

টীকা। তদ্ধাপীত্যাদিবাক্যস্য প্রকৃতানুপযোগমাশঙ্ক্যাহ—উক্তার্থেতি। উদ্গীথদেবতা প্রাণঃ, ন বাগাদিরিত্যুক্তার্থঃ। ‘জীবতি তু বংশ্যে যুবা’(পা. সূ০ ৪।১।১৬৩) ইতি স্মরণাৎ পিত্রাদৌ বংশ্যে জীবতি পৌত্রপ্রভৃতের্যদপত্যং, তৎ যুবসংজ্ঞকমিতি দ্রষ্টব্যম্। ক্রিয়াপদনিষ্পত্তি- প্রকারং সূচয়তি—তোরিতি। তুপ্রত্যয়স্য অয়মাশিষি বিষয়ে তাতঙাদেশঃ ‘তুহ্যোস্তাতঙা- ‘শিষ্যন্যতরস্যাম্’(পা. সূ০ ৭।১।৩৫) ইতি স্মরণাৎ ইত্যর্থঃ। মুর্দ্ধপাতপ্রাপকং দর্শয়তি— যদীতি।

অনৃতবাদিত্বস্য প্রাপকাভাবাৎ অপ্রাপ্তিরিতি শঙ্কতে-কথং পুনরিতি। উদ্‌গানস্য বুদ্ধ্যাদিসন্নিধানাৎ তদ্দেবতা প্রাজাপত্যাদিলক্ষণা কিং তস্মিন্ দেবতা? কিং বা বর্ণস্বরাদি- সন্নিধানাৎ তদ্দেবতৈব তত্র দেবতা? ইতি বিপ্রতিপত্তেরনৃতবাদিত্বে শঙ্কিতে ব্রহ্মদত্তঃ শপথেন নির্ণয়ং চকারেত্যাহ-উচ্যত ইতি। প্রাণাদ্বাক্সংযুক্তাৎ অন্যে ায়াস্যে। যদ্যুদগায়দিতি সম্বন্ধঃ। ননু অয়াস্যাঙ্গিরসশব্দবাচ্যো মুখ্যপ্রাণো দেবতাত্বাৎ ন উদ্‌গাতা ভবিতুমুৎসহতে, তত্রাহ- মুখ্যেতি। উক্তার্থদাট্যায়েত্যুক্তমুপসংহরতি-ইতি বিজ্ঞান ইতি। উত্তরীত্যা শপথক্রিয়য়া প্রাণ এবোদগীথদেবতা, ইতাম্মিন্ বিজ্ঞানে প্রত্যয়ো বিশ্বাসস্তস্য যদ্দার্চাং, তস্য কর্তব্যতা- মাখ্যায়িকয়া দর্শয়তি শ্রুতিরিতি যাবৎ। আখ্যায়িকার্থস্যৈব বাচেত্যাদিনোক্তেঃ পৌনরুক্ত্য- মিত্যাশঙ্ক্যাহ-তমিমমিতি। শপথস্য স্বাতন্ত্র্যেণ অপ্রামাণ্যেহপি শ্রুতিমূলতয়া প্রামাণ্যং সিধ্যতীতি ভাবঃ ॥ ৩৩ ॥ ২৪ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘তদ্ধাপি’ ইত্যাদি সেই এই. অব্যবহিত পূর্ব্বোক্ত বিষয়ে একটা আখ্যায়িকাও শোনা যায়,—ব্রহ্মদত্তনামক চৈকিতানের, অর্থাৎ চিকিতানের পুত্র—চৈকিতান, তাহার যুবা পুত্র—চৈকিতানেয় রাজাকে অর্থাৎ যজ্ঞীয় সোমরস ভক্ষণ করিতে করিতে বলিয়াছিলেন। কি[বলিয়াছিলেন?]—এই যে চমসস্থ রাজা(সোম),—যাহা আমি ভক্ষণ করিতেছি; তাহা, তাহার অর্থাৎ মিথ্যাবাদী আমার মূর্চ্ছা—মস্তক নিপাতিত করুক; অর্থাৎ স্পষ্টরূপে শিরঃপাত করুক; যদি আমি মিথ্যাবাদী হইয়া থাকি। এখানে ‘বিপাতয়তাৎ’ পদটীতে আশংসা অর্থে

১৬০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

লোট্(‘তু’ প্রত্যয়) হইয়াছে; শেষে সেই ‘তু’ স্থানে ‘তাতত্ত্ব’(তাৎ) আদেশ হইয়াছে।(বি+পাতয়+তু-তাৎ=বিপাতয়তাৎ)।

ভাল, এখানে মিথ্যাবাদিতার সম্ভাবনা ছিল কিসে? হাঁ, বলা হইতেছে,- অয়াস্য-পূর্ব্বতন ঋষিগণের যজ্ঞে উদ্গাতাই মুখ্যপ্রাণবাচক ‘অয়াস্য আঙ্গিরস’ শব্দে অভিহিত হইয়া থাকেন, সেই অয়াস্য উদগাতা যদি বাক্ ও প্রাণাতিরিক্ত অপর কোনও দেবতাবোধে উদ্গান করিয়া থাকেন, তাহা হইলে নিশ্চয়ই আমি অনূতবাদী হইয়াছি।[‘যদি আমি অনূতবাদী হইয়া থাকি, তাহা হইলে] যজ্ঞ- দেবতা সেই বিপরীতবুদ্ধিসম্পন্ন আমার মস্তক নিপাতিত করুন’, এইরূপ শপথ করিয়াছিলেন। শ্রুতি ইহা দ্বারা বিজ্ঞানবিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ের আবশ্যকতা প্রদর্শন করিতেছেন। আখ্যায়িকা দ্বারা এই বিষয়টা অবধারিত করিয়া শ্রুতি এখন নিজের কথায় উপসংহার করিতেছেন-সেই অয়াস্য আঙ্গিরস- উদ্গাতা যে, প্রাণতন্ত্র বাক্য ও নিজেরই আত্মভূত প্রাণের সাহায্যে উদ্গান করিয়া- ছিলেন, এই সিদ্ধান্তই উদ্গাতার উক্ত শপথ দ্বারা অবধারিত হইল বুঝিতে হইবে ॥ ৩৩ ॥ ২৪ ॥

তস্য হৈতস্য সান্নো যঃ স্বং বেদ, ভবতি হাস্য স্বম্, তস্য বৈ স্বর এব স্বম্, তস্মাদার্বিজ্যং করিষ্যন্ বাচি স্বরমিচ্ছেত, তয়া বাচা স্বরসম্পন্নয়ার্ত্তিজ্যং কুৰ্য্যাৎ, তস্মাদ যজ্ঞে স্বরবন্তং দিদৃক্ষন্ত এব, অথো যস্য স্বং ভবতি; ভবতি হাস্য স্বম্, য এবমেতৎ সান্নঃ স্বং বেদ ॥ ৩৪ ॥ ২৫ ॥

সরলার্থঃ।—যঃ(জনঃ) তস্য(প্রকৃতস্য) এতস্য(প্রত্যক্ষবৎ প্রতিপন্নস্য) সায়ঃ(সাম-শব্দবাচ্যস্য প্রাণস্য) স্বং(ধনং রহস্যং) বেদ(বিজানাতি); অন্য (বিদুষঃ) হ(অবধারণে) স্বং(ধনং) ভবতি। তস্য(সামনায়ঃ প্রাণস্য) বৈ স্বরঃ(উদাত্তাদিরূপঃ) এব স্বং(ধনং)[ভবতি]; তস্মাৎ(হেতোঃ) আর্ত্বিজ্যং(ঋত্বিকর্ম্ম—উদগানং) করিষ্যন্ উদগাতা বাচি(বাক্যবিষয়ে) স্বরম্ ইচ্ছেত(ইচ্ছেৎ, সায়ঃ ধনবত্তাং সম্পাদয়িতুম্ উদগাতা আত্মনঃ স্বরসৌন্দর্য্যং সাধয়েদিতি ভাবঃ)। তয়া স্বরসম্পন্নয়া(সুস্বরযুক্তয়া) বাচা আর্ত্বিজ্যং(উদগানং) কুৰ্য্যাৎ[উদগাতা];[যস্মাৎ যজ্ঞে স্বরস্য ঈদৃশী উপযোগিতা], তস্মাৎ এব যজ্ঞে স্বরবন্তং দিদৃক্ষন্তে(দ্রষ্টুমিচ্ছন্তি)[জনাঃ]। অথো(অপি) যস্য(জনস্য) স্বং(ধনং) ভবতি,[তমপি যথা দিদৃক্ষন্তে, তদ্বদিত্যর্থঃ]।[ইদানীং বিজ্ঞান-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৬১

ফলমুপসংহ্রীয়তে—] অন্য(বিজ্ঞাতুঃ) হ স্বং(ধনমপি) ভবতি; যঃ সাম্যঃ এতৎ স্বম্ এবং(যথোক্তেন প্রকারেণ) বেদ(বেত্তি),[তস্যৈতৎ ফলমিতি ভাবঃ] ॥ ৩৪ ॥ ২৫ ॥

মুলাসুবাদঃ—যিনি পূর্ব্বোক্ত এই প্রাণবাচক সামের স্ব অর্থাৎ ধনস্বরূপ রহস্য জানেন, নিশ্চয়ই তাঁহারও ধনলাভ হইয়া থাকে। স্বরই হইতেছে সেই সামের স্ব—ধন; যিনি আর্দ্বিজ্য—ঋত্বিক্-কার্য্য— উদ্‌গান করিবেন, তিনি অবশ্যই বাক্যে সুস্বর সম্পাদনে যত্নপর হইবেন—সুস্বরসম্পন্ন সেই বাক্য দ্বারা আর্দ্বিজ্য কৰ্ম্ম করিবেন; এই জন্যই সুধীগণ যজ্ঞে সুস্বরসম্পন্ন উদ্‌গাতাকে দেখিতে ইচ্ছা করেন, —জগতে যাহার ধন আছে,[ তাহাকে যেরূপ দেখিতে ইচ্ছা করে,] তদ্রূপ। যে লোক সামের যথোক্তপ্রকার এই স্বরবিজ্ঞান জানেন, তাঁহারও ঐ প্রকার ফললাভ হইয়া থাকে ॥ ৩৪ ॥ ২৫ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তস্য হৈতস্য। তস্যেতি প্রকৃতং, প্রাণমভিসম্বন্নাতি। হ এতস্যেতি মুখ্যঃ ব্যপদিশত্যভিনয়েন। সাম্যঃ সামশব্দবাচ্যস্য প্রাণস্য, যঃ স্বং ধনং বেদ; তস্য হ কিং স্যাৎ? ভবতি হাস্য স্বম্। ফলেন প্রলোভ্য অভিমুখীকৃত্য শুশ্রূষবে আহ—তস্য বৈ সাম্যঃ স্বর এব স্বম্। স্বর ইতি কণ্ঠগতং মাধুর্য্যম্; তদেবাস্য স্বং বিভূষণম্, তেন হি ভূষিতমৃদ্ধিমৎ লক্ষ্যতে উদ্‌গানম্। যম্মাদেবম্, তস্মাদার্বিজ্যৎ ঋত্বিক্-কৰ্ম্ম উদ্‌গানং করিষ্যন্ বাচি বিষয়ে, বাচি বাগাশ্রিতং স্বরমিচ্ছেত ইচ্ছেৎ; সাম্যো ধনবত্তাং স্বরেণ চিকীর্ষুরুদ্গাতা। ইদত্ত প্রাসঙ্গিকং বিধীয়তে; সাম্যঃ সৌস্বর্য্যেণ স্বরবত্ত্বপ্রত্যয়ে কর্তব্যে, ইচ্ছামাত্রেণ সৌস্বর্য্যং ন ভবতীতি দন্তধাবন-তৈলপানাদি সামর্থ্যাৎ কর্তব্যমিত্যর্থঃ। তয়ৈবং সংস্কৃতয়া বাচা স্বরসম্পন্নয়া আর্তিজ্যং কুৰ্য্যাৎ। তস্মাৎ—যস্মাৎ সাম্যঃ স্বভূতঃ স্বরঃ, তেন স্বেন তেন ভূষিতং সাম; অতো যজ্ঞে স্বরবন্তম্ উদগাতার, দিদৃক্ষন্ত এব দ্রষ্টুমিচ্ছন্তি এব—ধনিনমিব লৌকিকাঃ। প্রসিদ্ধং হি লোকে, অথো অপি যস্য স্বং ধনং ভবতি, তং ধনিনং দিদৃক্ষন্তে ইতি। সিদ্ধস্য গুণবিজ্ঞানফলসম্বন্ধস্যোপসংহারঃ ক্রিয়তে,—ভবতি হাস্য স্বম্, য এবমেতৎ সাম্যঃ স্বং বেদেতি ॥ ৩৪ ॥ ২৫ ॥

টাকা। উদ্গীথদেবতা প্রাণ এবেতি নির্দ্ধার্য্য স্বসুবর্ণপ্রতিষ্ঠাগুণবিধানার্থম্ উত্তরকণ্ডিকাত্রয়- মবতারয়তি—তস্যেত্যাদিনা। কিমিত্যাদৌ ফলমভিলপ্যতে, তত্রাহ—ফলেনেতি। সৌস্বৰ্য্যং সায়ে। ভূষণমিত্যত্রানুভবমনুকূলয়তি—তেন হীতি। কথং তর্হি. কণ্ঠগতং মাধুর্য্যং সম্পাদনীয়-

২১

১৬২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মিত্যাশঙ্ক্যাহ-যম্মাদিতি। প্রাণোহহং মমৈব গীতিভাবমাপন্নস্য সৌস্বৰ্য্যং ধনমিতি প্রকৃতে প্রাণবিজ্ঞানে গুণবিধির্বিবক্ষিতশ্চেৎ, কিমিত্যুদ্গাতুরন্তৎ কর্তব্যমুপদিশ্যতে? ইত্যাশঙ্ক্য দৃষ্ট- ফলতয়া, ইত্যাহ-ইদং ত্বিতি। অথেচ্ছায়াং কর্তব্যত্বেন বিহিতায়াং তাবন্মাত্রে সিদ্ধেহপি কথং সৌস্বর্য্যাং সিধ্যেৎ, নহি স্বর্গকামনামাত্রেণ স্বর্গঃ সিধ্যতি, অত আহ-সায় ইতি। তন্য সুস্বরত্বেন তচ্ছন্দিতস্য প্রাণস্যোপাসকাত্মকস্য স্বরবত্ত্বপ্রত্যয়ে কার্য্যে সতি বিহিতেচ্ছামাত্রেণ সায়ঃ সৌস্বর্য্যং ন ভবতি, ইত্যস্মাৎ সামর্থ্যাৎ দন্তধাবনাদি কর্তব্যমিত্যেতৎ অত্র বিধিৎসিতমিতি যোজনা। সৌস্বর্য্যন্ত সামভূষণত্বে গমকমাহ-তস্মাদিতি। দৃষ্টান্তমনন্তরবাক্যাবষ্টন্তেন, স্পষ্টয়তি- প্রসিদ্ধং হীতি। ভবতি হাস্য স্বমিতি প্রাগেবোক্তত্বাৎ অনর্থিকা পুনরুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- সিদ্ধস্যেতি। ৩৪॥ ২৫॥

ভাষ্যানুবাদ।—“তস্য হৈতস্য” ইত্যাদি। প্রস্তাবিত প্রাণের সহিত ‘তস্য’ পদের সম্বন্ধ; ‘এতস্য’ শব্দে মুখ্য প্রাণকে প্রত্যক্ষবৎ নির্দেশ করা হই- য়াছে। ‘সায়ঃ’ অর্থ—সাম-শব্দ-বাচ্য প্রাণের। যে ব্যক্তি[পূর্ব্বোক্ত এই সাম- শব্দবাচ্য প্রাণের] স্ব অর্থাৎ ধন জানেন; তাহার কি হয়?[উত্তর—] নিশ্চয়ই তাহার স্ব(ধন) হয়। এইরূপ ফল কথন দ্বারা লোককে প্রলোভিত ও অভি- মুখীভূত করিয়া(শুশ্রূষু করিয়া) তাহার উদ্দেশ্যে বলিতেছেন—স্বরই হইতেছে পূর্ব্বোক্ত সামের স্ব(ধন)। এখানে ‘স্বর’ অর্থ কণ্ঠগত মাধুর্য্য,(যাহার দরুণ লোককে ‘সুকণ্ঠ’ বলা হয়); তাহাই[শব্দময়] সামের ভূষণ; সেই সুস্বরে ভূষিত হইলেই উদ্‌গানকে ঐশ্বর্য্যবিশিষ্ট বলিয়া মনে করিতে হয়। যেহেতু স্বরই সামের সম্পদ; সেই হেতু আর্তিজ্য—ঋত্বিকের কার্য্য—উদগান করিবার পূর্ব্বে উদগাতা যদি স্বরসম্পদের দ্বারা সামকে ধনী করিতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে, বাক্যবিষয়ে অর্থাৎ বাক্যগত সুস্বর সম্পাদনে যত্ন করিবেন। এই যে, সুস্বরের বিধান, ইহা প্রাসঙ্গিকমাত্র; কেন না, উত্তম স্বর দ্বারা যদি সামকে স্বরসম্পন্ন করিতে হয়, তাহা কেবল ইচ্ছামাত্রে হয় না; পরন্তু তাহার জন্য দন্তধাবন ও তৈলপানাদি কার্য্যের অনুষ্ঠান করিতে হয়।[উদগাতা] এইরূপ সুসংস্কৃত স্বরসম্পন্ন বাক্য দ্বারা আর্তিজ্য(উদগান) করিবেন। সেই হেতু,—যেহেতু স্বরই হইতেছে সামের স্ব—ধনস্বরূপ, এবং তাহা দ্বারাই সাম শোভিত হয়; সেই হেতুই যজ্ঞে ধনীর ন্যায় স্বরসম্পন্ন(সুকণ্ঠ) উদ্‌গাতাকেই সাধারণ লোকে দেখিতে ইচ্ছা করে। জগতে ইহা প্রসিদ্ধই আছে, যাহার ধন থাকে, সেই ধনী ব্যক্তিকে সকলে দেখিতে ইচ্ছা করে। প্রথমেই যে গুণবিজ্ঞানের ফল নিরূপিত ‘হইয়াছে, এখানে সেই ফলপ্রাপ্তিরই উপসংহার করা হইতেছে মাত্র—‘ভবতি হ অন্য স্বং’— তাঁহারও ধনলাভ হয়, যিনি সামের উক্তপ্রকার ‘স্ব’(স্বরসম্পদ) জানেন ॥৩৪॥২৫॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১৬৩

তস্য হৈতস্য সান্নো যঃ সুবর্ণং বেদ, ভবতি হাস্য সুবর্ণম্, তস্য বৈ স্বর এব সু-বর্ণম্, ভবতি হাস্য সু-বর্ণম্, য এবমেতৎ সান্নঃ সু-বর্ণং বেদ ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

সরলার্থঃ।—অথান্যোহপি সাম্নো গুণো বিধীয়তে—তস্যেত্যাদিনা। যঃ(জনঃ) তস্য(পূর্ব্বোক্তস্য) এতস্য(প্রাণাভিধেয়স্য) সাম্নঃ হ সুবর্ণং (বর্ণসৌষ্ঠবং) বেদ, অস্য(বিদুষঃ) হ(অপি) সুবর্ণং(বর্ণোৎকর্ষঃ) ভবতি। তস্য(সায়ঃ) বৈ(প্রসিদ্ধৌ) স্বর এব সুবর্ণম্।[গুণবিজ্ঞানফলমুপসংহ্রীয়তে—] যঃ সাম্নঃ এতৎ সুবর্ণম্ এবং(যথোক্তপ্রকারেণ) বেদ, অস্য(বিদুষঃ) হ সুবর্ণং ভবতি ইত্যর্থঃ ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

মূলাসুবাদ?—এখানে সামের আরও একটা গুণের বিধান করা হইতেছে—যে লোক সেই এই সামের সুবর্ণ( বর্ণগত উৎকর্ষ— স্বরবিশেষ) জানেন, তাঁহারও বর্ণোৎকর্ষ লাভ হয়; স্বরই তাহার সু-বর্ণ। পুনশ্চ বিজ্ঞানফল বলিতেছেন—যে লোক সামের এই যথোক্তপ্রকার সুবর্ণ অবগত হন, তাঁহারও বর্ণোৎকর্ষ লাভ হইয়া থাকে ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—অথান্যো গুণঃ সুবর্ণবত্তালক্ষণো বিধীয়তে। অসাবপি সৌস্বর্য্যমেব। এতাবান্ বিশেষঃ—পূর্ব্বং কণ্ঠগতমাধুর্য্যম্; ইদন্তু লাক্ষণিকং সুবর্ণশব্দবাচ্যম্। তস্য হৈতস্য সাম্নো যঃ সুবর্ণং বেদ, ভবতি হাস্য সুবর্ণম্; সুবর্ণ- শব্দ-সামান্যাৎ স্বরসুবর্ণয়োঃ। লৌকিকমেব সুবর্ণং গুণবিজ্ঞানফলং ভবতীত্যর্থঃ। তস্য বৈ স্বর এব সুবর্ণম্; ভবতি হাস্য সুবর্ণম্, য এবমেতৎ সাম্নঃ সুবর্ণং বেদেতি পূর্ব্ববৎ সর্ব্বম্ ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

টাকা। সামো গুণান্তরমবতারয়তি-অথেতি। তহি পুনরুক্তিঃ স্যাৎ, তত্রাহ-এতা- বানিতি। লাক্ষণিকং-কণ্ঠ্যোহয়ং বর্ণো দন্ত্যোহয়মিতিলক্ষণজ্ঞানপূর্ব্বকং সুষ্ঠু বর্ণোচ্চারণং মমৈব সামশব্দিতপ্রাণভূতস্য ধনমিতি যাবৎ। লাক্ষণিকসৌস্বর্য্যাগুণবৎ-প্রাণবিজ্ঞানবতো যথোক্ত- ফললাভে হেতুমাহ-সুবর্ণশব্দেতি। বাক্যার্থমাহ-লৌকিকমেবেতি। ফলেন প্রলোভ্য অভিমুখীকৃত্য, কিং তৎ সুবর্ণমিতি শুশ্রূষবে ব্রতে-তস্যেতি। গুণবিজ্ঞানফলমুপসংহরতি- ভবতীতি। সামস্তচ্ছন্দবাচ্যস্য প্রাণস্য স্বরূপভূতস্যেতি যাবৎ ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর সামের সুবর্ণশালিত্ব আর একটা গুণ বিহিত হইতেছে। এই সুবর্ণও স্বরগত উৎকর্ষ ভিন্ন আর কিছুই নহে; এইমাত্র বিশেষ যে, পূর্ব্বোক্ত গুণটা কণ্ঠগত মাধুর্য্য, আর এই গুণটা হইতেছে লাক্ষণিক—ইহা

১৬৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দন্ত্য’ ‘ইহা কণ্ঠ্য’ ইত্যাদি লক্ষণানুযায়ী উত্তম শব্দোচ্চারণ মাত্র; ইহাই এখানে ‘সুবর্ণ’ শব্দের অর্থ। যে ব্যক্তি সেই এই সামের সুবর্ণ জানেন, তাঁহারও সুবর্ণ (বর্ণোচ্চারণে পট্টতা অথবা কাঞ্চনপ্রাপ্তি হইয়া থাকে। কারণ, সুবর্ণ শব্দটা যেমন স্বরবোধক, তেমনি কাঞ্চনেরও বাচক, অতএব লোকপ্রসিদ্ধ সুবর্ণলাভই যথোক্ত গুণবিজ্ঞানের ফল। স্বরই তাহার(সামের) সুবর্ণ। যিনি সামের যথোক্ত সুবর্ণতত্ত্ব জানেন, তাঁহারও সুবর্ণলাভ হইয়া থাকে। ইহার অপরাংশের ব্যাখ্যা পূর্ব্ববৎ ॥ ৩৫ ॥ ২৬ ॥

তস্য হৈতস্য সাম্নো যঃ প্রতিষ্ঠা বেদ, প্রতি হ তিষ্ঠতি; তস্য বৈ বাগেব প্রতিষ্ঠা বাচি হি খল্বেষ এতৎ প্রাণঃ প্রতিষ্ঠিতো গীয়তেহন্ন ইত্যু হৈক আহুঃ ॥ ৩৬ ॥ ২৭ ॥

সরলার্থঃ।—যঃ(জন.) তস্য পূর্ব্বোক্তস্য) এতস্য সান্নঃ প্রাণস্য। প্রতিষ্ঠাং(আশ্রয়স্থান,) বেদ,[সঃ বিদ্বান্। হ, কিল। প্রতিষ্ঠিততি, প্রতিষ্ঠা লভতে)।[কাসৌ প্রতিষ্ঠা? ইত্যাদি-, বাক এব তস্য। সামাভিধেয়স্য প্রতিষ্ঠা(প্রতিষ্ঠতি অস্যাম্ ইতি প্রতিষ্ঠা-আশ্রয়ঃ)।[কৃতঃ?] হি, যস্মাৎ, এষঃ প্রাণঃ বাচি খলু(নিশ্চয়ে প্রতিষ্ঠতঃ ‘সন্) এতৎ(গান গীয়তে, একে হ(অন্যে পুনঃ) অন্নে[প্রতিষ্ঠিতো গীযতে। ইতি উ(বিতর্কে) আহুঃ (কথয়ন্তি) ॥ ৩৬ ॥ ২৭ ॥

মুলাসুবাদঃ—যে ব্যক্তি এই সাম-নামক প্রাণের প্রতিষ্ঠা (আশ্রয়স্থান) জানেন, তিনি নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠাবান্ হন। বাক্ই হইতেছে ইহার প্রতিষ্ঠা: কারণ, এই সামান্য প্রাণ বাক্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়াই গীতির আকারে গীত হইয়া থাকে। অপর কেহ কেহ বলেন—অন্নে [প্রতিষ্ঠিত হইয়া গীত হইয়া থাকে] ॥ ৩৬ ॥ ২৭ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তথা প্রতিষ্ঠাগুণ, বিধিৎসন্নাহ—তস্য হৈতস্য সাম্যে। যঃ প্রতিষ্ঠাং বেদ; প্রতিষ্ঠিতত্যস্যামিতি প্রতিষ্ঠা—বাক্; তাং প্রতিষ্ঠাং সামো গুণং যো বেদ, স প্রতিষ্ঠতি হ। “তৎ যথা যথোপাসতে” ইতি শ্রুতেঃ তদ্‌গুণত্বং যুক্তম্।

পূর্ব্ববৎ ফলেন প্রতিলোভিতায় ‘কা প্রতিষ্ঠা’ ইতি শুশ্রূষবে আহ—তস্য বৈ সায়ো বাগেব। বাগিতি জিহ্বামুলাদীনাং স্থানানামাখ্যা; সৈব প্রতিষ্ঠা।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্।

১৬৫

তদাহ—বাচি হি জিহ্বামুলাদিষু হি যস্মাৎ প্রতিষ্ঠিতঃ সন্ এব প্রাণ এতদ্ গানং গীয়তে—গীতিভাবমাপদ্যতে, তস্মাৎ সাম্যঃ প্রতিষ্ঠা বাক্। অন্নে প্রতিষ্ঠিতো গীয়ত ইত্যু হ একে অন্যে আহুঃ; ইহ প্রতিষ্ঠিততীতি যুক্তম্। অনিন্দিতত্বাদ একীয়পক্ষস্য বিকল্পেন প্রতিষ্ঠাগুণবিজ্ঞান কুৰ্য্যাৎ বাগ্‌ বা প্রতিষ্ঠা, অন্নং বেতি ॥ ৩৬ ॥ ২৭ ॥

টীকা। উপাস্যস্থ্য প্রতিষ্ঠাগুণত্বেপি কথনুপাসকস্য তদগুণত্ব, ওত্রাহ—তং যথেতি। আদিপদাৎ উরঃ-শিরঃ-কণ্ঠ-দন্তৌষ্ঠ-নাসিকা-তালুনি গৃহান্ত। কিমিতষ্টৌ স্থানানি ব্লাক্- ইত্যুচান্তে, তত্রাহ—বাচি হীতি। পক্ষান্তরমাহ—অন্নহীত। অন্নশব্দেন তৎপরিণামো দেহো গৃহতে, একীয়পক্ষে যুক্তিমাহ—ইহেতি। কথং তহি প্রতিষ্ঠাগুণস্য প্রাণস্য বিজ্ঞানং কর্ত্তব্যমত আহ—অনিন্দিতত্বাদিতি॥ ৩৬। ২৭॥

ভাষ্যানুবাদ।—সেইরূপ সামাখ্য প্রাণের প্রতিষ্ঠানামক অপর একটা গুণ বিধানের জন্য বলিতেছেন—যে লোক সেই এই সামের প্রতিষ্ঠা জানেন ইত্যাদি। প্রাণ যাহার উপরে প্রতিষ্ঠা(স্থিতি) লাভ করে, তাহার নাম— প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠা অর্থ—বাক্; অর্থাৎ যে লোক সামের সেই প্রতিষ্ঠা গুণ জানেন, তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ‘তাঁহাকে যে যে ভাবে উপাসনা করে, [উপাসক সেই সৈহ ভাবই প্রাপ্ত হয়’], এইরূপ অরণ শ্রুতি অনুসারে উপা- সকের ঐরূপ গুণলাভ যুক্তিসঙ্গতই বটে।

পূর্বের ন্যায় এখানেও গুণশ্রবণে প্রলোভিত উৎসুক এবং ‘প্রতিষ্ঠা’ তত্ত্ব জানিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিতেছেন বাক্ই উক্ত সামের প্রতিষ্ঠা; বাক্ শব্দটা বণোচ্চাবণ-স্থান জিহ্বামলাদির নাম, তাহাই প্রতিষ্ঠা- স্বরূপ। যেহেতু উক্ত প্রাণ জিহ্বামূল প্রভৃতি শব্দোচ্চাবণ-স্থানে আশ্রিত থাকিয়াই লানরূপে গীত হয়, অর্থাৎ গীতিভাব প্রাপ্ত হয়, সেই হেতুই । বুঝিতে হইবে যে, বাকই সামের প্রতিষ্ঠা-স্থান। অপর কেহ কেহ বলেন যে, অন্নে(অন্নময় দেহে প্রতিষ্ঠিত হইয়াই গীতিভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকে; এই কারণে অন্নে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই যক্তিসঙ্গত। যাহা হউক, এই অপর পক্ষও যখন অনিন্দনীয়, অর্থাৎ কোনপ্রকার প্রমাণবিরুদ্ধ নয়, তখন বিকল্প- রূপে প্রতিষ্ঠাগুণের উপাসনা করিবে,—হয় অন্নকেই প্রতিষ্ঠাগুণযুক্তরূপে চিন্তা করিবে, না হয় বাক্কেই প্রতিষ্ঠা-গুণবিশিষ্টরূপে চিন্তা করিবে ॥ ৩৬ ॥ ২৭ ॥

অথাতঃ পবমানানামেবাভ্যারোহঃ, স বৈ খলু প্রস্তোতা সাম প্রস্তৌতি, স যত্র প্রস্তয়াৎ তদেতানি জপেৎ।

১৬৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

“অসতো মা সদগময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়;

মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময়েতি।

স যদাহাসতো মা সদগময়েতি, মৃত্যুর্ব্বা অসৎ, সদমৃতং মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময়ামৃতং মা কুর্ব্বিত্যেবৈতদাহ; তমসো মা জ্যোতির্গময়েতি, মৃত্যুর্ব্বে তমো জ্যোতিরমৃতং মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময়ামৃতং মা কুর্ব্বিত্যেবৈতদাহ; মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময়েতি, নাত্র তিরোহিতমিবাস্তি। অথ যানীতরাণি স্তোত্রাণি, তেষা- ত্মনেহন্নাদ্যমাগায়েৎ, তস্মাদু তেষু বর’ বৃণীত য’ কাম’ কাময়েত তৎ স এষ এবম্বিদুদ্গতাত্মনে বা যজমানায় বা য’ কাম’ কাময়তে তমাগায়তি, তদ্ধৈতল্লোকজিদেব ন হৈবালোক্যতায়। আশান্তি, য এবমেতৎ সাম বেদ ॥ ৩৭ ॥ ২৮ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়স্য তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ॥ ১ ॥ ৩ ॥

সরলার্থঃ।—সাম্প্রত প্রাণবিজ্ঞানবতো জপকৰ্ম্ম বিধীয়তে -‘অথাতঃ’ ইত্যাদিভিঃ। অথ(অনন্তব), অতঃ(অস্মাৎ—যস্মাৎ বিদুবা প্রযোজ্যমান জপকৰ্ম্ম দেবভাবপ্রাপ্তিফলম্, তস্মাৎ হেতোঃ। পবমানানাম পবমান- সংজ্ঞকানা ত্রয়াণা যজুযাম্, অভ্যারোহঃ জপকৰ্ম্ম; অভি—আভিমুখ্যেন আরোহতি দেবভাবম্ অনেন জপকৰ্ম্মণা, ইতি অভ্যারোহঃ; জপকৰ্ম্মণ: সংজ্ঞৈষা [বিধীয়তে]। সঃ(প্রসিদ্ধঃ) প্রস্তোতা, প্রস্তাবাখ্য-স্তোত্রপাঠকঃ) বৈ খলু (নিশ্চয়ে) সাম প্রস্তৌতি(প্রস্তাব, পঠতি); সঃ যত্র(যস্মিন্ কালে) প্রস্তুয়াৎ(স্বকর্তব্য’ সমাচরেৎ), তৎ(তদা) এতানি(বক্ষ্যমাণানি ত্রীণি যজুংষি) জপেৎ—(১) অসতঃ মা(মা’, সং(ব্রহ্ম) গময়;(২) তমসঃ (অজ্ঞানাৎ) মা(মা) জ্যোতি,(স্বপ্রকাশ ব্রহ্ম) গময়;(৩) মৃত্যোঃ [সকাশাৎ] মা(মা), অমৃতং(মুক্তি) গময় ইতি। মন্ত্রাণামর্থম্ অতি- দুর্বোধতয়া শ্রুতিঃ স্বরমেব ব্যক্তীকরোতি—) সঃ(মন্ত্রঃ) যৎ আহ—অসতঃ মা সং গময়—ইতি;(তস্যায়মর্থঃ—)।

মৃত্যুঃ(মরণহেতুভূতে স্বাভাবিকে জ্ঞান-কর্মণী), বৈ(এব) অসৎ,(অসংফলক- ত্বাৎ); তথা অমৃতং(মরণনিবারকে শাস্ত্রীরে জ্ঞান-কর্মণী চ) সৎ,(সম্ভাবহেতু- ত্বাৎ);(ততশ্চ) মা(মা). মৃত্যোঃ(স্বাভাবিকজ্ঞান-কর্মলক্ষণাৎ) অমৃতং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৬৭

(শাস্ত্রীয়-জ্ঞানকর্মণী) গময়(প্রাপয়),—মা(মাং) অমৃতং কুরু ইত্যেব এতৎ (ব্রাহ্মণং) আহ(কথিতবৎ)। তমসঃ মা জ্যোতিঃ গময়—ইতি,[অস্যায়মর্থঃ—] মৃত্যুঃ বৈ(এব) তমঃ(অজ্ঞানং, অজ্ঞানং হি মরণহেতুত্বাৎ মৃত্যুরুচ্যতে,) জ্যোতিঃ (জ্ঞানং) অমৃতং,(অমরণহেতুত্বাৎ জ্যোতিযোহমৃতত্বম্);[ততশ্চ] মৃত্যোঃ (অজ্ঞানলক্ষণাৎ) মা(মাং) অমৃতঃ(প্রকাশলক্ষণং জ্ঞানং) গময়(প্রাপয়),— মাম্ অমৃতং কুরু ইত্যেব এতৎ(ব্রাহ্মণং) আহ। মৃত্যোঃ(উক্তলক্ষণাৎ) মা(মাং) অমৃতং(অমরণভাবং) গময়(প্রাপর)—ইত্যত্র তিরোহিতমিব (অস্পষ্টার্থম্—ব্যাখ্যাযোগ্যং)[কিঞ্চিদপি] নাস্তি,[অতো নৈতৎ ব্যাখ্যায়তে]। অথ(যজমানোদগানানন্তরম্) যানি ইতরাণি(অবশিষ্টানি) স্তোত্রাণি [সত্তি], তেষু অন্নাদ্যং(স্তোত্রং) আত্মনে(আত্মন উপকারার্থম্) আগায়েৎ (প্রাণবিদ্ উদগাতা প্রাণবদেব উদ্‌গানং কুৰ্য্যাৎ)।[যস্মাৎ হেতোঃ,] সঃ এবঃ এবংবিদ্ উদ্‌গাতা আত্মনে বা(আত্মার্থং বা) যজমানায় বা যং কামং কাময়তে (যৎ ফলং সাধয়িতুম্ ইচ্ছতি), তং কামম্ আগায়তি(সম্যক্ গায়তি), তস্মাৎ (হেতোঃ) তেষু(যজমানসম্বন্ধিষু স্তোত্রেযু)[প্রযুজ্যমানেষু] উ[যজমানঃ,] যং কামং(ফলং) কাময়তে(অভিলষতি) তৎ বরং বৃণীত(প্রার্থয়েৎ)। যঃ (যঃ কশ্চিৎ) এতৎ নাম(প্রাণং) এবং(যথোক্তেন প্রকারেণ) বেদ(বিজা- নাতি),[তস্যৈতং ফলমুচ্যতে—] তৎ(যথোক্তং) এতৎ(প্রাণাত্মদর্শনং) হ লোকজিং(প্রাণাত্মলোকসাধনং) এব(নিশ্চয়ে), নৈব হ অলোক্যতায়াঃ (লোকপ্রাপ্ত্যভাবস্থ্য) আশা(আশঙ্কা) অস্তি;(সর্ব্বথাপি লোকপ্রাপ্তি- সাধনমেবৈতৎ প্রাণাত্মবিজ্ঞানমিত্যর্থঃ) ॥ ৩৭ ॥ ২৮ ॥

মূলানুবাদঃ—সম্প্রতি “অথাতঃ” ইত্যাদি শ্রুতিতে প্রাণ- বিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির জপক্রিয়া বিহিত হইতেছে—

অতঃপর পবমানসংজ্ঞক তিনটা মন্ত্রের অভ্যারোহ(দেবত্বপ্রাপক জপকর্ম) কথিত হইতেছে। সেই প্রস্তোতা(প্রস্তাবনামক অংশ- বিশেষের পাঠক) সাম প্রস্তুত করিয়া থাকেন অর্থাৎ প্রস্তাব-নামক সামাংশ পাঠ করিয়া থাকেন। তিনি যখন প্রস্তাব পাঠ করিবেন, তখন এই[তিনটা মন্ত্র] জপ করিবেন,-‘অসতঃ মা সৎ গময়’, ‘তমসঃ মা জ্যোতিঃ গময়’, ‘মৃত্যোঃ মা অমৃতং গময়’ ইতি।[শ্রুতি নিজেই এই মন্ত্রার্থ বলিয়া ‘দিতেছেন-] ‘অসতো মা সৎ গময়’ এই মন্ত্রটী যাহা

১৬৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বলিয়াছেন, তাহাতে এইরূপ অর্থ প্রকাশ করিয়াছেন—‘অসৎ অর্থ— মৃত্যু; আর ‘সৎ’ অর্থ--অমৃত;[সুতরাং, ইহার অর্থ হইতেছে যে,] আমাকে মৃত্যু হইতে অমৃতে লইয়া যাও, অর্থাৎ আমাকে অমৃত(অমর) কর। ‘তমসো মা জ্যোতিঃ গময়, এই মন্ত্রেও এইরূপ অর্থ প্রকাশ করিয়াছেন—‘তমঃ’ অর্থ—অজ্ঞানাত্মক মৃত্যু, আর ‘জ্যোতিঃ’ অর্থ— প্রকাশাত্মক জ্ঞান;[সুতরাং অর্থ হইতেছে যে,] আমাকে অজ্ঞানাত্মক মৃত্যু হইতে জ্যোতিস্বরূপ অমৃতে লইয়া যাও, অর্থাৎ আমাকে অমৃত কর। আর, ‘মৃত্যোঃ মা অমৃতং গময়’ এই মন্ত্রে যাহা বলা হইয়াছে, তাহার কোন অংশই তিরোহিত—অস্পষ্ট নাই;[সুতরাং, ইহার অর্থ প্রকাশ করা শ্রুতির আবশ্যক হয় নাই; ইহার অর্থ হইতেছে—মৃত্যু হইতে আমাকে অমৃতে লইয়া যাও।]

অতঃপর আর যে(ছয়টা) স্তোত্র অবশিষ্ট রহিল, তন্মধ্যে অন্নাদ্য (অন্নভোগ যাহার ফল, সেই) স্তোত্র[প্রাণের ন্যায় প্রস্তোতাও] আপনার জন্য গান করিবেন। যেহেতু, এবংবিধ জ্ঞানসম্পন্ন উদ্‌গাতা আপনার জন্য কিংবা যজমানের জন্য যে ফল কামনা করেন, তাহাই গান করেন, অর্থাৎ গানের দ্বারা সেই সেই ফল সম্পাদন করেন, সেই হেতুই অবশিষ্ট স্তোত্রপাঠের সময় যজমান যে কোনও ফল কামনা করেন, তদ্বিষয়েই বর প্রার্থনা করিবেন। যে ব্যক্তি এই সামসংজ্ঞক প্রাণকে যথোক্ত প্রকারে অবগত হন, তিনি নিশ্চয়ই এই প্রাণাত্ম-লোক (প্রাণাত্মভাব) জয় করেন, কখনই তাহার অলোক্যতার অর্থাৎ প্রাণাত্মভাবপ্রাপ্তির অভাবাশঙ্কা থাকে না।[তিনি নিজেই যখন প্রাণ- স্বরূপ হইয়া যান, তখন তাহার ত আর অপ্রাপ্তির সম্ভাবনা হইতেই পারে না] ॥ ৩৭ ॥ ২৮ ॥

[ ইতি প্রথমাধ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণ ব্যাখ্যা ॥ ১ ॥ ৩ ॥]

শাঙ্করভাষ্যম্।—এবং প্রাণবিজ্ঞানবতো জপকর্ম্ম বিধিৎস্যতে। যদ্বিজ্ঞানবতো জপকর্ম্মণ্যধিকারঃ, তদ্বিজ্ঞানমুক্তম্। অথানন্তরম্, যস্মাচ্চৈবং বিদুষা প্রযুজ্যমানং দেবভাবায় ‘অভ্যারোহফলং জপকর্ম্ম, অতঃ তস্মাৎ তদ্বি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৬৯

ধীয়তে ইহ। তস্য চ উদগীথসম্বন্ধাৎ সর্ব্বত্র প্রাপ্তৌ পবমানানামিতি বচনাৎ, পবমানেষু ত্রিদ্বপি কর্তব্যতায়াং প্রাপ্তায়াং পুনঃ কালসঙ্কোচং করোতি— সবৈ খলু প্রস্তোতা সাম প্রস্তৌতি। স প্রস্তোতা, যত্র যস্মিন্ কালে সাম প্রস্তুয়াৎ প্রারভেত, তস্মিন্ কালে এতানি জপেৎ। অন্য চ জপকৰ্ম্মণ আখ্যা ‘অভ্যারোহঃ’ ইতি। আভিমুখ্যেন আরোহতি অনেন জপকর্মণা এবংবিৎ দেবভাবমাত্মানম্—ইত্যভ্যারোহঃ। এতানীতি বহুবচনাৎ ত্রীণি যজুৎষি। দ্বিতীয়ানির্দেশাদ ব্রাহ্মণোৎপন্নত্বাচ্চ যথাপঠিত এব স্বরঃ প্রযোজ্যব্যঃ, ন মাস্ত্রঃ। যাজমানং জপকৰ্ম্ম। ১

এতানি তানি যজুৎসি—“অসতো মা সদগময়,” “তমসো মা জ্যোতির্গময়,’ “মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময়” ইতি। মন্ত্রাণামর্থস্তিরোহিতে। ভবতীতি স্বরমেব ব্যাচষ্টে ব্রাহ্মণং মন্ত্রার্থম্—স মন্ত্রো যদাহ যদুক্তবান্; কোহসাবর্থঃ? ইত্যুচ্যতে—“অসতো মা সদগময়” ইতি। মৃত্যুর্ব্বে’ অসৎ—স্বাভাবিককৰ্ম্ম-বিজ্ঞানে মৃত্যুরিত্যুচ্যেতে; অসদ্ অত্যন্তাধোভাবহেতুত্বাৎ; সৎ অমৃতম্—সং শাস্ত্রীয়কৰ্ম্মবিজ্ঞানে, অমরণ- হেতুত্বাদমৃতন্। তস্মাৎ অসতঃ অসংকৰ্ম্মণোহজ্ঞানাচ্চ মা মাৎ সৎ শাস্ত্রীয়কৰ্ম্ম- বিজ্ঞানে গময় দেবভাবসাধনাত্মভাবম্ আপাদয়েত্যর্থঃ। তত্র বাক্যার্থমাহ— অমৃতং মা কুরু, ইত্যেবৈতদাহেতি। ২

তথা, “তমসো মা জ্যোতির্গময়” ইতি। মৃত্যুর্বৈ তমঃ, সর্ব্বং হি অজ্ঞানম্ আবরণাত্মকত্বাৎ তমঃ, তদেব চ মরণহেতুত্বাৎ মৃত্যুঃ। জ্যোতিঃ অমৃতং পূর্ব্বোক্তবিপরীতং দৈবং স্বরূপম্। প্রকাশাত্মকত্বাজ জ্ঞানং জ্যোতিঃ, তদেবামৃতম্ অবিনাশাত্মকত্বাৎ; তস্মাৎ তমসো মা জ্যোতির্গময়েতি। পূর্ব্ববৎ মৃত্যোর্মাহমৃতং গময়েত্যাদি; অমৃতং মা কুর্ব্বিত্যেবৈতদাহ—দৈবং প্রাজাপত্যং ফলভাব- মাপাদয়েত্যর্থঃ। ৩

পূর্ব্বো মন্ত্রোহসাধনস্বভাবাৎ সাধনভাবমাপাদয়েতি; দ্বিতীয়স্তু সাধনভাবাদপি অজ্ঞানরূপাৎ সাধ্যভাবমাপাদয়েতি। মৃত্যোর্মাহমৃতং গময়েতি পূর্ব্বয়োরেব মন্ত্রয়োঃ সমুচ্চিতোহর্থঃ তৃতীয়েন মন্ত্রেণোচ্যতে, ইতি প্রসিদ্ধার্থতৈব। নাত্র তৃতীয়ে মন্ত্রে তিরোহিতম্ অন্তর্হিতমিব অর্থরূপং পূর্ব্বয়োরিব মন্ত্রয়োরস্তি, যথাশ্রুত এবার্থঃ। ৪

যাজমানমুদগানং কৃত্বা পবমানেষু ত্রিযু, অথ অনন্তরং যানীতরাণি শিষ্টানি স্তোত্রাণি, তেষাত্মনে অন্নাদ্যমাগায়েৎ-প্রাণবিদুদগাতা প্রাণভূতঃ প্রাণরদেব। যস্মাৎ স এষ উদগাতা এবং প্রাণং যথোক্তং বেত্তি, অতঃ প্রাণবদেব তৎ কামং

১৭০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সাধয়িতুং সমর্থঃ; তস্মাদ্যজমানস্তেষু স্তোত্রেযু প্রযুজ্যমানেষু বরং বৃণীত; যৎ কামং কাময়েত, তং কামং বরং বৃণীত প্রার্থয়েত। যম্মাৎ স এষ এবংবিদুদগাতেতি তস্মাচ্ছব্দাৎ প্রাগেব সম্বধ্যতে। আত্মনে বা যজমানায় বা যং কামং কাময়তে ইচ্ছত্যুদ্গাতা, তমাগায়তি আগানেন সাধয়তি। ৫

এবং তাবজ জ্ঞান-কৰ্ম্মভ্যাং প্রাণাত্মাপত্তিরিত্যুক্তম্; তত্র নাস্ত্যাশঙ্কাসম্ভবঃ; অতঃ কৰ্ম্মাপায়ে প্রাণাপত্তির্ভবতি বা ন বা ইত্যাশঙ্ক্যতে; তদাশঙ্কানিবৃত্ত্যর্থমাহ— তদ্ধৈতল্লোকজিদেবেতি। তৎ হ তদেতৎ প্রাণদর্শনং কর্মবিযুক্তং কেবলমপি লোকজিদেবেতি লোকসাধনমেব। ন হ এব অলোক্যতায়ৈ অলোকার্হত্বায় আশা আশংসনং প্রার্থনং, নৈবাস্তি হ। ন হি প্রাণাত্মনি উৎপন্নাত্মাভিমানস্য তৎ- প্রাপ্ত্যাশংসনং সম্ভবতি। ন হি গ্রামস্থঃ কদা গ্রামং প্রাপ্নুয়ামিত্যরণ্যস্থ ইবাশান্তে। অসন্নিকৃষ্টবিষয়ে হি অনাত্মন্যাশংসনম্, ন তৎ স্বাত্মনি সম্ভবতি; তস্মাৎ ন আশা অস্তি—কদাচিং প্রাণাত্মভাবং ন প্রতিপদ্যেয়ম্ ইতি। ৬

কস্যৈতং? য এবমেতৎ সাম ‘প্রাণং যথোক্তং নির্দ্ধারিত-মহিমানং বেদ- ‘অহমস্মি প্রাণ ইন্দ্রিয়বিষয়াসঙ্গৈরাসুরৈঃ পাপ্যভিঃ অধর্ষণীয়ো বিশুদ্ধঃ; বাগাদি- পঞ্চকং চ মদাশ্রয়ত্বাদ অগ্ন্যাদ্যাত্মস্বরূপঃ স্বাভাবিকবিজ্ঞানোথেন্দ্রিয়বিষয়াসঙ্গ- জনিতাসুরপাপদোষবিমুক্তম্; সর্ব্বভূতেষু চ মদাশ্রয়ান্নাদ্যোপযোগবন্ধনম্; আত্মা চাহং সর্বভূতানাম্ আঙ্গিরসত্বাৎ; ঋগযজুঃসামোদগীথভূতায়াশ্চ বাচ আত্মা, তদ্ব্যাপ্তেস্তন্নিবর্ত্তকত্বাচ্চ; মম সাম্রো গীতভাবমাপদ্যমানস্য বাহ্যং ধনং ভূষণং সৌস্বর্য্যম্; ততোহপ্যান্তরতরং সৌবর্ণ্যং লাক্ষণিকং সৌস্বর্য্যম্; গীতিভাবমাপদ্য- মানস্থ্য মম কণ্ঠাদিস্থানানি প্রতিষ্ঠা; এবংগুণোহহং পুত্তিকাদিশরীরেষু কাৎস্ন্যেন পরিসমাপ্তঃ, অমূর্ত্তত্বাৎ সর্ব্বগতত্ত্বাচ্চ ইতি—আ এবমভিমানাভিব্যক্তেঃ বেদ উপাস্তে ইত্যর্থঃ ॥ ৩৭ ॥ ২৮ ॥

ইতি প্রথমোহধ্যায়ে তৃতীয়ব্রাহ্মণ-ভাষ্যম্ ॥ ১ ॥ ৩ ॥

টীকা। অথাতঃ পবমানানাম্ ইত্যাদিবাক্যমবতারয়তি-এবমিতি। তত্রাণশব্দং ‘ব্যাচষ্টে-যদ্বিজ্ঞানবত ইতি। অতঃশব্দার্থমাহ-যস্মাচ্চেতি। ইহেতি প্রাণবিছুক্তিঃ। কদা তর্হি জপকৰ্ম্ম কর্তব্যং, তত্রাহ-তস্যেতি। উদ্গীথেনাত্যরাম, ত্বং ন উদ্‌গায়েতি চ প্রকরণা- দুদ্গীখেন সম্বন্ধাৎ জপস্থ্য সর্ব্বত্রোদ্গানকালে প্রাপ্তৌ পবমানানামেবেতি বচনাৎ কালনিয়ম- সিদ্ধিরিত্যর্থঃ। স বৈ খন্বিত্যাদিবাক্যতাৎপর্য্যাহ-পবমানেধিতি। মনু কর্ত্তব্যত্বেনাভ্যারোহঃ শ্রয়তে, জপকৰ্ম্ম বিধিৎসিতমিতি চোচ্যতে, কিং কেন সঙ্গতমিত্যাশঙ্ক্যাহ-আভিমুখ্যেনেতি। যজুর্ম্মাক্ষরাণাম্ অনিয়তপাদাক্ষরত্বাৎ “অসতো মা সদ্‌গময়” ইত্যারভ্য একো ধৌ বা মন্ত্রৌ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ-এতানীতি। যদ্যমী যাজুষা ময়াঃ, তর্হি মাত্রেণ স্বরেণ বৈভাষিকপ্রস্থোক্তেন ভাবা-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৭১

মিত্যাশঙ্ক্য আহ-দ্বিত, য়েতি। যত্র স্বরো বিবক্ষিতস্তত্র তৃতীয়ানির্দেশো দৃশ্যতে ‘উচ্চৈ ও চা ক্রিয়তে, উচ্চৈঃ সায়া, উপাংশু যজুষা’ ইতি। প্রকৃতে তু দ্বিতীয়ানিৰ্দেশাজ্জপকৰ্ম্মমাত্রং প্রতীয়তে, মান্বন্ত স্বরো ন প্রতিভাতীত্যর্থঃ। কেন তহি স্বরেণ প্রয়োগো মন্ত্রাণামিতি চেৎ, তত্রাহ-ব্রাহ্মণেতি। ভবতু শাতপথেন স্বরেণ মন্ত্রাণাং প্রয়োগস্তথাপি কিমার্তিজ্যং, কিং বা যাজমানং জপকর্ম্মেতি বীক্ষায়ামাহ-যাজমানমিতি। ১।

ব্যাধিষ্যসিতবভূষাং স্বরূপং দর্শয়তি—এতানীতি। মন্ত্রার্থশব্দেন পদার্থো বাক্যার্থস্তৎফলং চেতি ত্রয়মুচ্যতে। ২

লৌকিকং তমো ব্যাবর্ত্তয়তি—সর্ব্বং হীতি। পূর্ব্বোক্তপদেন ব্যাখ্যাতং তমো গৃহ্যতে। বৈপরীত্যে হেতুমাহ—প্রকাশাত্মকত্বাদিতি। জ্ঞানং তেন সাধামিতি যাবৎ। পদার্থোক্তি- সমাপ্তাবিতিশব্দঃ। উত্তরবাক্যাভ্যাং বাক্যার্থস্তৎফলং চেতি দ্বয়ং ক্রমেণোচ্যতে, ইত্যাহ— পূর্ব্ববদিতি। ফলবাক্যমাদায় পূর্ব্বস্মাদ্বিশেষং দর্শয়তি—অমৃতমিতি। ৩

প্রথমদ্বিতীয়মন্ত্রয়োরর্থভেদাপ্রতীতে: পুনরুক্তিমাশঙ্কা অবান্তরভেদমাহ-পূর্ব্বো মন্ত্র ইতি। তথাপি তৃতীয়ে মন্ত্রে পুনরুক্তিস্তদবস্থা, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-পূর্ব্বয়োরিতি। ৪

বৃত্তমনুদ্যোত্তরবাক্যমবতার্য্য ব্যাচষ্টে-যাজমানমিতি। যথা প্রাণস্ত্রিষু পবমানেষু সাধারণ- মাগানং কৃত্বা শিষ্টেষু স্তোত্রেযু স্বার্থমাগানমকরোৎ, তথেত্যাহ-প্রাণবিদিতি। তদ্বিদোহপি তদ্বদাগানে যোগ্যতামাহ-প্রাণভূত ইতি। হেতুবাক্যমাদৌ যোজয়তি-যম্মাদিতি। প্রতিজ্ঞা- বাক্যং ব্যাচষ্টে-তন্মাদিতি। কিমিতি ব্যত্যাসেন বাক্যদ্বয়ব্যাপ্যানমিত্যাশঙ্ক্যার্থাচ্চেতি ন্যায়েন পাঠক্রমমনাদৃত্য পরিহরতি-যম্মাদিত্যাদিনা। স এষ এবংবিদুদ্গাতা আত্মনে যজমানায় বা যং কামং কাময়তে, তমাগানেন সাধরতি। যম্মাদিতি হেতুগ্রন্থস্তস্মাদিতি প্রতিজ্ঞাগ্রন্থাৎ প্রাগেব সম্বধ্যত ইতি যোজনা। ৫

বৃত্তং কীর্তয়তি-এবং তাবদিতি। তত্র কৰ্ম্মসমুচ্চিতে জ্ঞানে দেবতাপ্তৌ শঙ্কাসম্ভবো নাস্তি, মিথঃ সহকৃতয়োজ্ঞানকৰ্ম্মণোঃ তদাপ্তিহেতুত্বাদিত্যাহ-তত্রেতি। সমনন্তরং বাক্য- মবতারয়তি-অত ইতি। সমুচ্চয়াৎ ফলাপ্তেদুষ্টত্বাদিতি যাবৎ। ন হেত্যাদিনা পদানি চ্ছিন্দন্ বাক্যমাদায় ব্যাকরোতি-অলোকার্হত্বারেতি। তদেব স্ফুটয়তি-ন হীতি। তত্র দৃষ্টান্তমাহ-ন হীতি। দৃশ্যমানমাশংসনং তর্হি কস্মিন্ বিষয়ে স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অসন্নিকৃষ্টেতি। প্রাণাত্মনা ব্যবস্থিতস্য বিদুষস্তদাত্মভাবং কদাচিদহং ন প্রতিপদ্যেয় ইত্যাশংসনং নাস্তীর্তি নিগময়তি-তস্মাদিতি। ৬

কর্মসমুচ্চিতাদুপাসনাৎ কেবলাচ্চ প্রাণাত্মত্বং ফলমুক্তং, তত্র সমুচ্চিতাদুদ্গাতুর্যজমানস্য বা ফলং কেবলাচ্চোপাসনাৎ তয়োরন্যতরস্তান্যস্য বা কস্যচিদিতি জিজ্ঞাসমানঃ শঙ্কতে-কস্যেতি। জ্ঞানকর্ম্মণোরুতয়ত্র সমভাবাদুভয়োরপি বচনাৎ ফলসিদ্ধিঃ। আশ্রমান্তরবিষয়ং তু কেবলজ্ঞানস্য লোকজয়হেতুত্বমিত্যভিপ্রেত্যাহ-য এবমিতি। এবংশব্দস্য প্রকৃতপরামর্শিত্বাৎ পূর্ব্বোক্তং সর্ব্বং বেদ্যস্বরূপং সংক্ষিপ্তপতি-অহমম্মীত্যাদিনা। তস্য বাগাদিভ্যো বিশেষং দর্শয়তি-ইন্দ্রিয়েতি। কিমিদানীং প্রাণস্তৈবোপাস্তৃতয়া বাগাদিপঞ্চকমুপেক্ষিতমিতি, নেত্যাহ-বাগাদীতি। তস্য

১৭২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রাণাশ্রয়ত্বেহপি কুতো দেবতাত্বম্, আসঙ্গপাপ্যবিদ্ধত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বাভাবিকেতি। অন্ন- কৃতোপকারং প্রাণদ্বারা বাগাদৌ স্মারয়তি-সর্ব্বেতি। রূপাত্মকে জগতি প্রাণস্য স্বরূপমনু- সন্ধত্ত-আত্মা চেতি। নামাত্মকে জগতি প্রাণস্য আত্মত্বমুক্তং স্মারয়তি-ঋগিতি। সতি সামত্বে গীতিভাবাবস্থায়াং প্রাণস্যোক্তং বাহ্যমান্তরং চ সৌস্বর্য্যং সৌবর্ণ্যমিতি গুণদ্বয়মনুবদতি- মমেতি। তস্যৈব বৈকল্লিকীং প্রতিষ্ঠামুক্তামনুস্মারয়তি-গীতীতি। যদ্বেবেত্যাদিনোক্তং পরামৃশতি-এবংগুণোহহমিতি। ইত্যেবমভিমানাভিব্যক্তিপর্য্যন্তং যো ধ্যায়তি, তস্তেদং ফলমিত্যুপসংহরতি-ইতীতি ॥ ৩৮ ॥ ২৮ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়ঃ তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্ ॥ ১ ॥ ৩ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—শ্রুতি এখন যথোক্ত প্রকার প্রাণ-বিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য জপকর্ম্ম বিধানের ইচ্ছা করিতেছেন। যদ্বিষয়ক বিজ্ঞানশালী ব্যক্তির জপ- ক্রিয়ায় অধিকার, তাহা পূর্ব্বেই কথিত হইয়াছে। যেহেতু বিদ্বৎপুরুষানুষ্ঠিত এই জপক্রিয়ার ফল হইতেছে—দেবভাবে অভ্যারোহ অর্থাৎ দেবভাবপ্রাপ্তি; সেই হেতু অতঃপর, এখানে তাহাই বিহিত হইতেছে। উদ্গীথপ্রকরণে বিহিত উদ্গীথের সর্ব্বত্রই জপের সম্ভাবনা ছিল; এইজন্য বিশেষ করিয়া ‘পরমানানাম্’ বলা হইয়াছে। তাহার পর, ‘পরমান’ শব্দে(‘পরমানানাম্’) বহুবচন থাকার তিনটি ‘পরমান’ স্তোত্রেরই জপক্রিয়ায় প্রসক্তি ছিল; এই জন্য “স বৈ খলু প্রস্তোতা সাম প্রস্তৌতি” বলিয়া পুনশ্চ তাহার কাল-সঙ্কোচ করিতেছেন,—সেই প্রস্তোতা (প্রস্তাবনামক সামাংশ পাঠকর্ত্তা—ঋত্বিগ্‌বিশেষ) ঠিক সেই সময়ই এই তিনটি মন্ত্র জপ করিবেন। এই জপক্রিয়ার বিশেষ নাম—‘অভ্যারোহ’;[ ইহার যৌগিকার্থ এইরূপ—] প্রাণবিৎ এই জপক্রিয়া দ্বারা দেবভাবে আরোহণ করেন বলিয়া ইহার নাম ‘অভ্যারোহ’। ‘এতানি’ এই বহুবচন থাকায় যজুর তিনটি মন্ত্রই বুঝিতে হইবে। ‘এতানি’ পদে দ্বিতীয়া বিভক্তি থাকায় এবং ব্রাহ্মণভাগের মধ্যে পঠিত হওয়ায় যথাশ্রুত স্বরানুসারেই ইহার প্রয়োগ করিতে হইবে, কিন্তু মন্ত্রভাগোক্ত স্বরানুসারে প্রয়োগ করিতে হইবে না(*)। এই জপক্রিয়াটি যজমানের কর্তব্য(ঋত্বিকের নহে)। ১

(*) তাৎপর্য্য—বেদের সাধারণতঃ দুইটি ভাগ—মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ। আপস্তম্ব বলিয়াছেন— “ময়-ব্রাহ্মণয়োর্বেদনামধেয়ম্”, অর্থাৎ মন্ত্র ও ব্রাহ্মণভাগ, উভয়ের সম্মিলিত নাম ‘বেদ’। মন্ত্র- ভাগের গূঢ় তাৎপর্য্য প্রকাশ করে বলিয়া ‘ব্রাহ্মণ’ নাম প্রদত্ত হইয়াছে। মন্ত্রভাগে প্রধানতঃ ক্রিয়াবিধি ও তদুপযোগী কথাবার্তা আছে, আর ব্রাহ্মণভাগে প্রধানতঃ জ্ঞান ও ইতিহাসাদি বিষয়ও সন্নিবেশিত আছে। আলোচ্য বৃহদারণ্যকোপনিষদ্‌টাও যজুর্ব্বেদে কাশ্যশাখীয় শতপথ- ব্রাহ্মণের অন্তর্গত। ইহা ছাড়া মাধ্যন্দিনী শাপাতেও অনুরূপ উপনিষদ্ আছে। উভয়ের মধ্যে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৭৩

সেই যজুঃ, তিনটি এই-“অসতঃ মা সদ্ গময়, “তমসঃ মা জ্যোতিঃ গময়”, “মৃত্যোঃ মা অমৃতং গময়” ইতি। মন্ত্রগুলির অর্থ তিরোহিত(অস্পষ্ট) আছে; এই জন্য, এই মন্ত্রত্রয়ে যে অর্থ প্রতিপাদিত হইয়াছে, ব্রাহ্মণ(এই শ্রুতি) নিজেই সেই সমুদয় অর্থ প্রকাশ করিয়া বলিতেছেন। সেই অর্থ কিপ্রকার, তাহা বলিতে- ছেন,-‘অসতঃ মা সৎ গময়’ ইতি, মৃত্যুই অসৎ; এখানে ‘মৃত্যু’ শব্দে স্বাভাবিক জ্ঞান ও কৰ্ম্ম অভিহিত হইয়াছে। অত্যন্ত অধঃপতনের কারণ বলিয়া উহাই অসৎ; আর সং হইতেছে অমৃত; শাস্ত্রোপদিষ্ট জ্ঞান ও কৰ্ম্ম মৃত্যুভয় নিবারণের হেতু বলিয়া, তাহারা সং-পদবাচ্য। অতএব[ইহার অর্থ হইতেছে যে,] অসৎ হইতে-অসং কৰ্ম্ম ও জ্ঞান হইতে আমাকে সতে-শাস্ত্রানুযায়ী কৰ্ম্ম ও জ্ঞানের দিকে লইয়া যাও, অর্থাৎ দেবভাব লাভের উপায়ভূত আত্মভাব লাভ করাও। বাক্যের তাৎপর্য্যার্থ বলিতেছেন-আমাকে অমৃত কর; এই অর্থই প্রথম মন্ত্রটা বলিয়াছেন। ২

সেইরূপ, ‘তমসঃ মা জ্যোতিঃ গময়’ এই মন্ত্রেরও অর্থ বলিতেছেন—‘তমঃ’ অর্থ—মৃত্যু; কেন না, অজ্ঞানমাত্রই বোধশক্তির আবরক, আবরক বলিয়াই তমঃ- শব্দবাচ্য; তাহাই আবার মৃত্যুর হেতুভূত বলিয়া মৃত্যুস্বরূপ; আর ‘জ্যোতিঃ’ অর্থ—অমৃত, অর্থাৎ তমের বিপরীত দৈব রূপ। জ্ঞান স্বভাবতই প্রকাশাত্মক, এই কারণে জ্যোতিঃ-শব্দবাচ্য; তাহাই আবার অবিনাশাত্মক বলিয়া অমৃত; সেই তমঃ হইতে আমাকে জ্যোতিতে লইয়া যাও। ‘মৃত্যোঃ মা

বিষয়গত অনেক সাম্য থাকিলেও পাঠগত কিঞ্চিৎ বৈষম্য আছে। যজুর্ব্বেদে ছন্দোহনুযায়ী পাদবিভাগ কিংবা অক্ষর-সংখ্যা নির্দিষ্ট নাই; সুতরাং সন্দেহ হইতে পারে যে, এখানে মন্ত্র কয়টি—মন্ত্রের সংখ্যা কত? সেই সন্দেহ ভঞ্জনার্থ ভাষ্যকার বলিয়াছেন—‘ত্রাণি যজুংষি’ যজুর্বন্ত্র এখানে তিনটি; কমও নহে, বেশীও নহে। পুনশ্চ আশঙ্কা হইল যে, এই তিনটিই যখন মন্ত্র, তখন বৈভাষিক গ্রন্থে মন্ত্রসম্বন্ধে যে সমস্ত স্বরপ্রক্রিয়া কথিত আছে, যেমন— “উচ্চৈঃ ঋচা ক্রিয়তে, উচ্চৈঃ সাম্না, উপাংশু যজুষা” অর্থাৎ ঋক্ ও সামমন্ত্র উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করিবে, আর উপাংশু স্বরে যজুর্বন্ত্র পাঠ করিবে। উপাংশু অর্থ—মৃদু স্বর, যাহা কেবল পাঠকের মাত্র কর্ণগোচর হয়, ইত্যাদি। এখানে সে সমস্ত স্বর গ্রহণ করিতে হইবে কি না, এই আশঙ্কা নিবৃত্তির জন্য ভাষ্যকার বলিলেন—এখানে মন্ত্রোক্ত স্বর গ্রহণ করিতে হইবে না, যথাশ্রুত হ্রস্ব দীর্ঘ অনুসারে পাঠ করিতে হইবে মাত্র। বিশেষতঃ “উচ্চৈঃ ঋচা” ইত্যাদি শ্রুতি অনুসারে জানা যায়, যে, যেখানে স্বরভেদ শ্রুতির অভিপ্রেত থাকে, যেখানে তৃতীয়া বিভক্তির নির্দেশ থাকে, কিন্তু এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি থাকায় বুঝা যায় যে, এখানে স্বরভেদ শ্রুতির অভিপ্রেত নহে।

১৭৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অমৃতং গময়’ ইত্যাদির অর্থও পূর্ব্ববৎ, অর্থাৎ আমাকে অমৃত কর,—দিব্য প্রাজাপত্য( প্রজাপতিত্বরূপ) ফল আমাকে লাভ করাও, ইহাই ঐ মন্ত্রে বলা হইয়াছে। ৩

ইহার মধ্যে প্রথমোক্ত মন্ত্রটির অর্থ হইতেছে এই যে, সাধন-হীন অবস্থা হইতে আমাকে সাধনাবস্থা প্রাপ্ত করাও, আর দ্বিতীয় মন্ত্রটির অর্থ হইতেছে এই যে, অজ্ঞানাত্মক সাধনাবস্থা হইতেও আমাকে ফলীভূত সাধ্যাবস্থা লাভ করাও। প্রথমোক্ত মন্ত্রদ্বয়ের যাহা অর্থ, ‘মৃত্যোঃ মা অমৃতং গময়’ এই তৃতীয় মন্ত্রে আবার তাহাই সমুচ্চিত বা সম্মিলিতভাবে অভিহিত হইয়াছে; সুতরাং ইহার অর্থ প্রসিদ্ধই(স্পষ্টই) আছে। পূর্ব্বোক্ত মন্ত্রদ্বয়ের ন্যায় এই তৃতীয় মন্ত্রে প্রতি- পাদ্যার্থ কিছুমাত্র তিরোহিত অর্থাৎ লুক্কায়িত নাই, যথাশ্রুত অর্থ ই ইহার অর্থ; [ কাজেই শ্রুতি ইহার ব্যাখ্যা করিয়া দেওয়া আবশ্যক মনে করেন নাই[। ৪

অতঃপর, প্রাণবিৎ[অতএব] প্রাণাত্মভাবাপন্ন উদ্দগাতা ঠিক প্রাণের ন্যায় পবমানত্রয়ে যজমানসম্বন্ধী উদগান সম্পাদন করিবার পর অবশিষ্ট যে সমস্ত স্তোত্র আছে, তাহাতে আপনার জন্য অন্নাদ্য গান করিবেন। যেহেতু সেই এই উদ্দগাতা যথোক্ত প্রকারে প্রাণতত্ত্ব জানেন, সেই হেতু প্রাণের ন্যায়ই অভীষ্ট কাম(ফল) সাধন করিতে সমর্থ হন; অতএব যে সময় সেই সমস্ত স্তোত্রপাঠ আরম্ভ হয়, সেই সময় যজমান বর প্রার্থনা করিবে।—সে যে ফল কামনা করে, সেই ফল বিষয়েই বর প্রার্থনা করিবে। ‘তস্মাৎ’ শব্দ থাকায় তাহার অগ্রে ‘যস্মাৎ এবং বিদ্ উদ্দগাতা’ এইরূপ পদ যোজনা করিতে হইবে। যেহেতু এবং বিদ্ উদ্দগাতা নিজের জন্যই হউক, আর যজমানের জন্যই হউক, যে ফল কামনা করেন—ইচ্ছা করেন, তাহাই আগান করেন—যথাবিধি গান দ্বারা সম্পাদন করেন,[‘সেই হেতু’ যজমান বর প্রার্থনা করিবে]। ৫

এইরূপে ত জ্ঞান ও কর্ম্মের দ্বারা প্রাণাত্মভাবপ্রাপ্তির কথা বলা হইল; এ বিষয়ে কোন প্রকার আশঙ্কার সম্ভাবনা নাই; অতএব এখন আশঙ্কার বিষয় হইতেছে যে, অনুষ্ঠেয় কর্ম্মের অপায়ে অর্থাৎ অভাব হইলেও প্রাণাত্মভাব প্রাপ্তি হয় কি না? সেই আশঙ্কা অপনয়নার্থ বলিতেছেন—“তদ্ হ এতল্লোকজিদেব” ইতি। সেই এই প্রাণাত্মদর্শন বা প্রাণবিজ্ঞান যজ্ঞাদি-কর্ম্মবিযুক্ত হইলেও নিশ্চয়ই লোকজিং—অবশ্যই অভীষ্ট লোকপ্রাপ্তির সাধক হয়; নিশ্চয়ই অলোক্য- তার জন্য—অভীষ্টলোকপ্রাপ্তির অযোগ্যতার পক্ষে কখনও ত আশা—প্রার্থনা নাই। গ্রামস্থ লোক কখনই অরণ্যস্থ লোকের ন্যায় প্রার্থনা করিতে পারে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—তৃতীয়ং ব্রাহ্মণম্। ১৭৫

না যে, আমি কবে গ্রাম প্রাপ্ত হইব; কেন না, অসন্নিহিত বা অপ্রাপ্ত অনাত্মবস্তু বিষয়েই আশংসা(প্রাপ্তির ইচ্ছা) হইয়া থাকে, কিন্তু নিত্য প্রাপ্ত স্বীয় আত্মাতে ত আর সেরূপ প্রশংসা হইতে পারে না। অতএব ‘আমি কখনও প্রাণাত্মভাব না পাইতে পারি’ এরূপ সম্ভাবনা তাহার হইতেই পারে না। ৬

উক্ত ফলপ্রাপ্তি কাহার হয়? না, যে ব্যক্তি যথোক্ত মহিমান্বিত এই সাম নামক প্রাণকে জানে,-আমি হইতেছি ইন্দ্রিয়বিষয়ে আসক্তিরূপ আসুর পাপ দ্বারা অধর্ষণীয়-বিশুদ্ধ; এবং বাক্ প্রভৃতি পাঁচটি ইন্দ্রিয়ও আমার আশ্রয়ে থাকিয়াই অগ্ন্যাদাত্মভাবাপন্ন এবং স্বাভাবিক বা অপরিশুদ্ধ-জ্ঞানজাত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে আসক্তিজনিত আসুর পাপবিযুক্ত হয়, অধিকন্তু সর্ব্বভূতে মদাশ্রিত অন্নাদ্যের ভোগ্য বস্তুর উপভোগেও সমর্থ হয়। আঙ্গিরসত্ব-নিবন্ধন আমিই সর্ব্বভূতের আত্মা- স্বরূপ,-ঋক্, যজুঃ, সাম ও উদ্গীথাত্মক বাক্যেরও আমিই আত্মা; কারণ, ঐ সমস্তই আমার অধীন এবং আমার দ্বারা নির্বাহিত হয়; গীতিভাবপ্রাপ্ত সামস্বরূপ আমার বাহ্য ধন-অলঙ্কার হইতেছে স্বরসৌষ্ঠব, তদপেক্ষাও আন্তরতর অর্থাৎ সন্নিকৃষ্ট ভূষণ হইতেছে সৌবর্ণ্য-বর্ণ-সৌষ্ঠব, তাহাও স্বরসৌন্দর্য্যই বটে; গীতিভাবপ্রাপ্ত আমার প্রতিষ্ঠা বা আশ্রয়স্থান হইতেছে-কণ্ঠ-তালু প্রভৃতি স্থান; ঈদৃশগুণসম্পন্ন আমি অমূর্ত্ত-নিদ্দিষ্ট আকৃতিবিহীন, এবং সর্ব্বব্যাপী বলিয়া, পুত্তিকাশরীরেও সম্পূর্ণরূপে অবস্থিত আছি। যতকাল আপনাতে প্রাণাত্মভাব অভিব্যক্ত না হয়, ততকাল যে জানে-উপাসনা করে;[তাহার এইরূপ ফল লাভ হয়] ॥ ৩৭ ॥ ২৮ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে তৃতীয় ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুবাদ ॥ ১ ॥ ৩ ॥

চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

আত্মৈবেদমগ্র আসীৎ পুরুষবিধঃ; সোহনুবীক্ষ্য নান্যদাত্ম- নোহপশ্যৎ; সোহহমস্মীত্যগ্রে ব্যাহরৎ, ততোহহংনামাভবৎ, তস্মাদপ্যেতহ্যামন্ত্রিতোহহময়মিত্যেবাগ্র উক্তাথান্যন্নাম প্রব্রতে— যদস্য ভবতি, স যৎ পূর্ব্বোহস্মাৎ সর্ব্বস্মাৎ সর্ব্বান্ পাপ্মন ঔষৎ, তস্মাৎ পুরুষঃ, ওষতি হ বৈ স তং যোহস্মাৎ পূর্ব্বে। বুভূষতি, য এবং বেদ ॥ ৩৮ ॥ ১ ॥

সরলার্থঃ।—অগ্রে(শরীবান্তবোৎপত্তেঃ প্রাক্) ইদং(অনুভূয়মানং শরীরজাতং) পুরুষবিধঃ(পুরুষাকার-হস্তপদাদিসম্পন্নঃ বিরাট্স্বরূপঃ) আত্মা (প্রজাপতিঃ—প্রথমশবীরী) এব(ইতরব্যবচ্ছেদে) আসীৎ,(নান্যৎ শরীরা- ন্তরমিত্যর্থঃ)। সঃ(প্রথমজঃ প্রজাপতিঃ) অনুবীক্ষা(মনসি আলোচ্য, আত্মনঃ স্বরূপং বিচিন্ত্য)(আত্মনঃ)(স্বস্মাৎ) অন্যৎ(পৃথগ্‌ভূত-বস্তুন্তরং) ন অপশ্যৎ (ন দৃষ্টবান্, আত্মানমেব কেবল দৃষ্টবান্)। সঃ(প্রজাপতিঃ) অগ্রে(প্রথম) অহম্ অস্মি’(সর্বাত্মা অহমস্মি) ইতি ব্যাহবং(উক্তবান্); ততঃ(অহা‘- শব্দোচ্চারণাদেব) ‘অহ’নামা(অহম্ ইতি নাম যস্য, সঃ তথাভূতঃ) অভবৎ; তস্মাৎ(হেতোঃ) এতহি অপি(ইদানীমপি) আমন্বিতঃ(কত্বম্? ইতি পৃষ্টঃ সন্) অগ্রে ‘অহম্ অয়ম্’ ইতি এব উক্ত্বা(কথরিত্বা), অপ(অনন্তরং) অন্যৎ নাম ক্রতে(কথয়তি)—যৎ(নাম) অন্য(আমন্ত্রিতস্য) ভবতি(কৃতসঙ্কেতম্ অস্তি—যজ্ঞদত্ত-দেবদত্ত-প্রভৃতি)। যৎ(যস্মাৎ) সঃ(প্রজাপতিঃ পূর্ব্বঃ (প্রথমোৎপন্নঃ সন্) সর্বান্ পাপ্মনঃ ঔষৎ(প্রাক্তন-জ্ঞানকর্মসংস্কারবলেন দগ্ধবান্), তস্মাৎ পুরুষঃ(পূর্ব্বম্ ঔষৎ ইতি ব্যুৎপত্ত্যা ‘পুরুষ’পদবাচ্যঃ অভবৎ)।[ইদানীং বিদ্যাফলমুচ্যতে—] য এবং(যথোক্তপ্রকারম্) বেদ(বিজানাতি), সঃ[অপি], যঃ(জনঃ) অস্মাৎ(বিদুষঃ) পূর্ব্বঃ(প্রথমঃ অগ্রগণ্যঃ) বুভুষতি(ভবিতু- মিচ্ছতি), তং(জনঃ) হ বৈ(নিশ্চয়ে) ওষতি(দহতি),[এতল্লঙ্ঘনকারী স্বয়মের বিনশ্যতীতি ভাবঃ॥ ৩৮॥ ১॥

মূলানুবাদ?—এই শরীরসমূহ অগ্রে(যখন, অন্য কোনও শরীর প্রাদুর্ভূত হয় নাই, তখন) পুরুষাকৃতিবিশিষ্ট(হস্তপদাদিযুক্ত)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৭৭

আত্মা—বিরাট’ প্রজাপতিই একমাত্র ছিলেন; তিনি বিশেষ আলোচনা করিবার পর—তাঁহার অতিরিক্ত আর কিছু দেখিতে পাইলেন না। তিনিই অগ্রে ‘অহম্ অস্মি’ অর্থাৎ আমি হইতেছি সকলের আত্মা, এইরূপ উক্তি করিয়াছিলেন; সেই হেতুই তিনি ‘অহম্’ নামে পরিচিত হইয়াছেন। সেই কারণেই, এখনও ‘তুমি কে?’ জিজ্ঞাসা করিলে, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি প্রথমে ‘এই আমি’ বলে; পরে, তাহার যাহা নাম, সেই নাম প্রকাশ করিয়া থাকে। যেহেতু তিনি এই সমস্তের পূর্ব্বে সমস্ত পাপ দগ্ধ করিয়াছিলেন, সেই হেতুই ‘পুরুষ’-পদবাচ্য হইয়াছেন। অপরও যে লোক এইপ্রকার জ্ঞান লাভ করেন, তিনিও, যে ব্যক্তি তদপেক্ষা বড় হইতে ইচ্ছা করে, তাহাকে দগ্ধ করেন,[ইহাই বিদ্যার গৌণ ফল] ॥ ৩৮ ॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। আত্মৈবেদমগ্র আসীৎ। জ্ঞান-কৰ্ম্মভ্যাং সমুচ্চিতাভ্যাং প্রজাপতিত্বপ্রাপ্তির্ব্যাখ্যাতা, কেবলপ্রাণদর্শনেন চ -“তদ্ধৈতল্লোকজিদেন” ইত্যাদিনা। প্রজাপতেঃ ফলভূতস্য সৃষ্টিস্থিতিসংহারেষু জগতঃ স্বাতন্ত্র্যাদিবিষ্ণু- ত্যুপবর্ণনেন জ্ঞান-কর্মণোর্বৈদিকয়োঃ ফলোংকর্যো বর্ণয়িতব্যঃ-ইত্যেবমর্থমা- রভ্যতে। তেন চ কর্মকাণ্ডবিহিত-জ্ঞানকৰ্ম্মস্তুতিঃ কৃতা ভবেৎ সামর্থ্যাৎ। বিবক্ষিতং ত্বেতং-সর্ব্বমপ্যেতজ জ্ঞান-কর্মফল: সংসার এব, ভয়ারত্যাদিযুক্তত্ব- শ্রবণাৎ কার্য্যকরণলক্ষণত্বাচ্চ স্থূলব্যক্তানিত্যবিষয়ত্বাচ্চেতি। ব্রহ্মবিদ্যায়াঃ কেবলায়া বক্ষ্যমাণায়া মোক্ষহেতুত্বমিত্যুত্তরার্থঞ্চেতি। ন হি সংসারবিষয়াৎ সাধ্য-সাধনাদি- ভেদলক্ষণাৎ অবিরক্তস্য আত্মৈকত্বজ্ঞানবিষয়েহধিকারঃ, অতৃষিতস্যের পানে। তস্মাজ জ্ঞান-কর্মফলোৎকরোপবর্ণনম্ উত্তরার্থম্। তথাচ বক্ষ্যতি-“তদেতৎ পদনীয়মস্য” “তদেতৎ প্রেয়ঃ পুত্রাং” ইত্যাদি। ১

আত্মৈব,-আত্মেতি প্রজাপতিঃ প্রথমোহণ্ডজঃ শরীর্যভিধীয়তে। বৈদিকজ্ঞান- কৰ্ম্মফলভূতঃ স এব। কিম্? ইদং শরীরভেদজাতং-তেন প্রজাপতিশরীরেণ অবিভ- ক্তম্ আত্মৈবাসীৎ, অগ্রে প্রাক্শরীরান্তরোৎপত্তেঃ। স চ পুরুষবিধঃ পুরুষপ্রকারঃ শিরঃপাণ্যাদিলক্ষণো বিরাট্; স এব প্রথমঃ সম্ভূতঃ অনুবীক্ষ্য অন্বালোচনং কৃত্বা -‘কোহহং কিংলক্ষণো বাস্মি’ ইতি, নান্যদ্বস্তন্তরম্-আত্মনঃ প্রাণপিণ্ডাত্মকাৎ কার্য্যকরণরূপাৎ, নাপশ্যৎ ন দদর্শ। কেবলন্তু আত্মানমেব সর্ব্বাত্মানমপশ্যন্ত, তথা পূর্ব্বজন্ম-শ্রৌতবিজ্ঞানসংস্কৃতঃ ‘সোহহং প্রজাপতিঃ সর্ব্বাত্মাহমস্মি, ইতি অগ্রে ব্যাহরৎ ব্যাহতবান্। ততঃ তস্মাৎ, যতঃ পূর্বজ্ঞানসংস্কারাদাত্মানমেব ‘অহম্’

৭৬

১৭৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ইত্যভ্যধাৎ অগ্রে, তস্মাৎ অহংনামা অভবৎ, তস্যোপনিষদ্-অহমিতি শ্রুতিপ্রদ- র্শিতমেব নাম বক্ষ্যতি। তস্মাৎ,-যস্মাৎ কারণে প্রজাপতৌ এবং বৃত্তম্, তস্মাৎ তৎকার্য্যভূতেষু প্রাণিষু এতর্হি এতস্মিন্নপি কালে আমন্ত্রিতঃ-‘কত্ত্বম্’ইত্যুক্তঃ সন্ ‘অহময়ম্’ ইত্যেবাগ্রে উক্ত। কারণাত্মাভিধানেন আত্মানমভিধায়াগ্রে, পুন- বিশেষনাম-জিজ্ঞাসবে, অথ অনন্তরং বিশেষপিণ্ডাভিধানং ‘দেবদত্তঃ যজ্ঞদত্তঃ’ বেতি প্রব্রূতে কথয়তি-যন্নামাস্য বিশেষপিণ্ডস্য মাতাপিতৃকৃতং ভবতি, তৎ কথয়তি ॥ ২

স চ প্রজাপতিরতিক্রান্তজন্মনি সম্যক্কর্ম-জ্ঞানভাবনানুষ্ঠানৈঃ সাধকাবস্থায়াম, যৎ যস্মাৎ কর্মজ্ঞানভাবনানুষ্ঠানৈঃ প্রজাপতিত্বং প্রতিপিংসুনাং পূর্ব্বঃ প্রথমঃ সন্, অস্মাৎ প্রজাপতিত্ব-প্রতিপিংসুসমুদায়াং সর্ব্বস্মাৎ, আদৌ ঔষৎ অদহৎ। কিম্? আসঙ্গাজ্ঞানলক্ষণান্ সর্ব্বান্ পাপ্নানঃ প্রজাপতিত্বপ্রতিবন্ধকারণভূতান্। ৩

যস্মাদেবম্, তস্মাৎ পুরুষঃ-পূর্ব্বমৌযদিতি পুরুষঃ। যথায়ং প্রজাপতিরোষিত্বা প্রতিবন্ধকান্ পাপ্যনঃ সর্ব্বান্, স পুরুষঃ প্রজাপতিরভবৎ, এবমন্যোহপি জ্ঞানকৰ্ম্ম- ভাবনানুষ্ঠান-বহ্নিনা, কেবলং জ্ঞানবলাদ্বা ওষতি ভস্মীকরোতি হ বৈ সঃ তম্; কম্? যোহম্মাদ্বিদুষঃ পূর্ব্বঃ প্রথমঃ প্রজাপতিঃ বুভূষতি ভবিতুমিচ্ছতি, তমিত্যর্থঃ। তং দর্শয়তি-য এবং বেদেতি; সামর্থ্যাজ জ্ঞানভাবনাপ্রকর্ষবান্।

ননু অনর্থায় প্রাজাপত্যপ্রতিপিৎসা, এবংবিদা চেৎ দহতে? নৈষ দোষঃ; জ্ঞানভাবনোৎকর্ষাভাবাৎ প্রথমং প্রজাপতিত্বপ্রতিপত্ত্যভাবমাত্রত্বাৎ দাহস্য। উৎকৃষ্টসাধনঃ প্রথমং প্রজাপতিত্বং প্রাপ্নুবন্-ন্যূনসাধনো ন প্রাপ্নোতীতি স তং দহতীত্যুচ্যতে; ন পুনঃ প্রত্যক্ষমুৎকৃষ্টসাধনেন ইতরো দহতে। যথা লোকে আজিসৃতাং যঃ প্রথমমাজিমুপসর্পতি, তেনেতরে দগ্ধা ইব অপহৃতসামর্থ্যা ভবন্তি, তদ্বৎ ॥ ৩৮ ॥ ১ ॥

টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমবতার্য্য পূর্ব্বেণ সম্বন্ধং বক্তুং বৃত্তং কীর্তয়তি-আত্মৈবেত্যাদিনা। কেবলপ্রাণদর্শনেন চ প্রজাপতিত্বপ্রাপ্তির্যাখ্যাতেতি সম্বন্ধঃ। ইদানীম্ আত্মেত্যাদেস্তদ্ধেদন্ ইত্যতঃ প্রাক্তনগ্রন্থস্য আপাততস্তাৎপর্য্যমাহ-প্রজাপতেরিতি। আদিপদেন সর্ব্বাত্মত্বাদি গৃহ্যতে। ফলোৎকর্যোপবর্ণনং কুত্রোপযুজ্যতে, তত্রাহ-তেন চেতি। কর্মকাণ্ডপদেন পূর্ব্ব- গ্রন্থোহপি সংগৃহীতঃ। ফলাতিশয়ো হেত্বতিশয়াপেক্ষঃ, অন্যথা আকস্মিকত্বাপাতাৎ। অতো জ্ঞানকৰ্ম্মফলভূতসূত্রবিভূতিরুচ্যমানা জ্ঞানকর্মণোর্মহত্ত্বং দর্শয়তীত্যাহ-সামর্থ্যাদিতি। আপাতিকং তাৎপর্য্যমুক্ত। পরমতাৎপর্য্যমাহ-বিবক্ষিতং স্থিতি। কিঞ্চ, বিমতং সংসারান্তর্ভূতং, কার্য্যকরণাত্মত্বাৎ, অস্মদাদিকাৰ্য্যকরণবদিত্যাহ-কার্য্যেতি। প্রাজাপত্যপদস্ত সংসারান্তর্ভূতয়ে হেত্বন্তরমাহ-স্থলেতি। স্থূলত্বং সাধয়তি-ব্যক্তেতি। অনিত্যত্বাৎ দৃশ্যদ্বাচ্চ প্রজাপতিত্বং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৭৯

সংসারান্তর্গতমিত্যাহ-অনিত্যেতি। ইতিশব্দো বিবক্ষিতার্থসমাপ্ত্যর্থঃ। কিমিত্যেতদ্ বিবক্ষিত- মুপবর্ণাতে, তত্রাহ-ব্রহ্মবিদ্যায়া ইতি। তচ্চেদং বিবক্ষিতার্থবচনম্ একাকিন্যা বিদ্যায়া বক্ষ্যমাণায়া মুক্তিহেতুত্বমিত্যুত্তরার্থামিতি দ্রষ্টব্যম্। যদা হি কৰ্ম্মজ্ঞানফলং প্রজাপতিত্বং সংসার ইত্যুচ্যতে, তদা তৎপর্য্যন্তাৎ সর্বস্মাৎ তস্মাদ্বিরক্তস্য বক্ষ্যমাণবিদ্যায়ামধিকারঃ সেৎস্যতীত্যর্থঃ। অথ যন্য কস্যচিদর্থিতামাত্রেণ তত্রাধিকারসম্ভবাদ্বৈরাগ্যং ন মৃগ্যম্, ইত্যা- শঙ্ক্যাহ-ন হীতি। উভয়ত্রাপি বিষয়শব্দঃ পূর্ব্বেণ সমানাধিকরণঃ। বিবক্ষিতমর্থমুপসংহরতি- তস্মাদিতি। বৈরাগ্যমন্তরেণ জ্ঞানানধিকারাজজ্ঞানাদিফলস্য প্রজাপতিহস্যোৎকর্ষবতঃ সংসারত্ব- বচনং ততো বিরক্তস্য বক্ষ্যমাণবিদ্যায়ামধিকারার্থম্। বিরক্তস্য বিদ্যাধিকারে মোক্ষাদপি বৈরাগ্যং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-তথা চেতি। ননু মোক্ষার্থ বিদ্যায়াং প্রবর্তিতব্যং, মোক্ষশ্চ অপুরুষার্থত্বাৎ ন প্রেক্ষাবতা প্রার্থ্যতে, তত্রাহ-তদেতদিতি। ১

আপাতিকমনাপাতিকং চ তাৎপর্য্যমুক্ত। প্রতীকমাদায়াক্ষরাণি ব্যাকরোতি-আত্মৈবেতি। তস্যাশ্বমেধাধিকারে প্রকৃতত্বং সূচয়তি-অণ্ডজ ইতি। পূর্বস্মিন্নপি ব্রাহ্মণে তস্য প্রস্তুতত্ব- মন্তীতাহ-বৈদিকেতি। স এব আসীদিতি সম্বন্ধঃ! স্থিতাবস্থায়ামপি প্রজাপতিরেব সমষ্টিদেহঃ তত্তদ্বাষ্ট্যাত্মনা তিষ্ঠতীতি বিশেষাসিদ্ধিঃ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-তেনেতি। আত্মশব্দেন পরস্যাপি গ্রহসম্ভবে কিমিতি বিরাড়েবোপাদীয়তে, ইত্যাশঙ্কা বাক্যশেষাদিত্যাহ-স চেতি। বক্ষ্যমাণমম্বালোচনাদি বিরাড়াত্মকর্তৃকমেবেত্যাহ-স এবেতি। স্বরূপধর্মবিষয়ো দ্বৌ বিমশৌ‘। নান্যদিতি বাক্যমাদায় অক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-বস্তুস্তরমিতি। দর্শনশক্ত্যভাবাদেব বস্তুন্তরং প্রজা- পতির্ন দৃষ্টবানিত্যাশঙ্ক্যাহ-কেবলং ত্বিতি। সোহহমিত্যাদি ব্যাচষ্টে-তথেতি। যথা সর্ব্বাত্মা প্রজাপতিরহমিতি পূর্ব্বস্মিন্ জন্মনি শ্রৌতেন বিজ্ঞানেন সংস্তুতে বিরাড়াত্মা, তথেদানীমপি ফলাবস্থঃ সোহহং প্রজাপতিরম্মীতি প্রথমং ব্যহৃতবানিতি যোজনা। ব্যাহরণফলমাহ-তত ইতি। কিমিতি প্রজাপতেরহমিতি নামোচতে, সাধারণং হীদং সর্ব্বেষাম্; ইত্যাশঙ্ক্যো- পাসনার্থমিত্যাহ-তস্যেতি। আধ্যাত্মিকন্য চাক্ষুষস্য পুরুষস্যাহমিতি রহস্যং নামেতি যতো বক্ষ্যতি, অতঃ শ্রুতিসিদ্ধমেবৈতন্নামাস্য ধ্যানার্থমিহোক্তমিত্যর্থঃ। প্রজাপতেরহনংনামত্বে লোক- প্রসিদ্ধিং প্রমাণরিতুমুত্তরং বাক্যমিত্যাহ-তস্মাদিতি। ২

উপাসনার্থং প্রজাপতেরহংনামোক্ত। পুরুষনামনির্বচনং করোতি-স চেত্যাদিনা। পূর্ব্বস্মিন্ জন্মনি সাধকাবস্থায়াং কৰ্মাদ্যনুষ্ঠানৈরমহমিকয়া প্রজাপতিত্বপ্রেপ্সুনাং মধ্যে পূর্ব্বো যঃ সম্যক্ কর্মাদ্যনুষ্ঠানৈঃ সর্ব্বং প্রতিবন্ধকং যম্মাদদহৎ, ‘তস্মাৎ স প্রজাপতিঃ পুরুষ ইতি যোজনা। উক্তমেব স্ফুটয়তি-প্রথমঃ সন্নিতি। সর্ব্বম্মাদস্মাৎ প্রজাপতিত্বপ্রতিপিৎসুসমুদায়াৎ প্রথমঃ সন্নৌবদিতি সম্বন্ধঃ। আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকং দাহ্যং দর্শয়তি-কিমিত্যাদিনা। ৩

পূর্ব্বং প্রজাপতিত্বপ্রতিবন্ধকপ্রধ্বংসিত্বে সিদ্ধমর্থমাহ-যম্মাদিতি। পুরুষগুণোপাসকস্য ফলমাহ-বথেতি। অয়ং প্রজাপতিরিতি ভবিষ্যদ্বৃত্ত্যা সাধকোক্তিঃ, পুরুষঃ প্রজাপতিরিতি ফলাবস্থঃ স কথ্যতে। কোৎসাবোষতীত্যপেক্ষায়ামাহ-তং দর্শয়তীতি। পুরুষগুণঃ প্রজাপতি- রহমস্মীতি যো বিদ্যাৎ, সোহন্যানোষতীতার্থঃ। বিদ্যাসাম্যে কথমেষা ব্যবস্থা, ইত্যাশঙ্ক্যাহ- সামর্থ্যাদিতি। হেতুসাম্যে দাহকত্বানুপপত্তেঃ তৎপ্রকর্ষবানিতরান্ দহতীতার্থঃ। প্রসিদ্ধং

১৮০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দাহমাদায় চোদয়তি-নন্বিতি। তথা চ তৎপ্রেপ্সাযোগাৎ তদুপান্ত্যসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। বিবক্ষিতং দাহং দর্শয়ন্নুত্তরমাহ-নৈষ দোষ ইতি। তদেব স্পষ্টয়তি-উৎকৃষ্টেতি। প্রাপ্নুবন্ ভবতীতি শেষঃ। ঔপচারিকং দাহং দৃষ্টান্তেন সাধয়তি-যথেতি। আজিৰ্ম্মর্য্যাদা, তাং সরন্তি ধাবন্তী- ত্যাজিসৃতঃ, তেষামিতি যাবৎ॥ ৩৮ ॥ ১ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—“আত্মৈব ইদমগ্রে আসীৎ” ইত্যাদি। সমুচ্চিত অর্থাৎ সহানুষ্ঠিত জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা যে, প্রজাপতিত্ব লাভ হয়, এ কথা ইতঃপূর্ব্বেই বর্ণিত হইয়াছে; আর শুদ্ধ প্রাণ-দর্শনেও যে, ঐ পদ লাভ হয়, তাহাও “তদ্ধৈ- তল্লোকজিং এব” ইত্যাদি বাক্যে বর্ণিত হইয়াছে। অতঃপর জ্ঞান ও কর্মের ফল- স্বরূপ প্রজাপতির যে, জাগতিক সৃষ্টি স্থিতি ও সংহারকার্য্যে স্বাতন্ত্র্যাদি বিভূতি বা মহিমা, তদুপবর্ণন দ্বারা জ্ঞান ও কর্মের উৎকর্ষ বর্ণনা করা আবশ্যক, সেই উদ্দে- শ্যেই এই চতুর্থ অধ্যায় আরব্ধ হইতেছে। ইহা দ্বারা কর্মকাণ্ডোক্ত জ্ঞানসহকৃত কর্মেরও স্তুতি সাধিত হইতেছে; কিন্তু ইহার অভিপ্রেত প্রয়োজন হইতেছে এই যে, কর্মকাণ্ডে যত কিছু জ্ঞান-কৰ্ম্ম বিহিত আছে, সংসারই সে সমুদয়ের মুখ্য ফল; কারণ, ঐ সমস্ত ফলে ভয় ও উদ্বেগাদির উল্লেখ আছে, অধিকন্তু তৎসমস্তই কার্য্য- করণভাবাপন্ন(দেহেন্দ্রিয়াত্মক) এবং স্কুল, ব্যক্ত ও অনিত্যতাদোষগ্রস্ত; কেবল বক্ষ্যমাণ ব্রহ্মবিদ্যাই মোক্ষলাভের একমাত্র হেতু; সুতরাং পরবর্তী ব্রহ্মবিদ্যার জন্যও এই চতুর্থ ব্রাহ্মণ আরম্ভ করা আবশ্যক হইয়াছে(১)। তৃষ্ণা না থাকিলে যেমন জলপানে প্রবৃত্তি হয় না, তেমনি নানারকম সাধ্য-সাধনভাবপূর্ণ(কার্য্য-কারণা- ত্মক) এই সংসারে যাহার বিতৃষ্ণা বা বৈরাগ্য না হয়, তাহার কখনই আত্মজ্ঞানে অধিকার ও প্রবৃত্তি জন্মিতে পারে না।[পরবর্তী ব্রহ্মবিদ্যার মোক্ষরূপ ফল দর্শন

(১) তাৎপর্য্য—এই চতুর্থ ব্রাহ্মণ কেন আরব্ধ হইতেছে, এবং পূর্ব্ব ব্রাহ্মণের সহিত ইহার সম্বন্ধই বা কিপ্রকার, ভান্তকার তাহা বলিয়া দিতেছেন। এই চতুর্থ ব্রাহ্মণ আরম্ভ করিবার উদ্দেশ্য দুইটি—প্রথম প্রয়োজন প্রাজাপত্য-পদলাভরূপ উৎকৃষ্ট ফলপ্রদর্শন দ্বারা পূর্ব্বকাণ্ডোক্ত জ্ঞান-কর্ম্মের প্রশংসা করা; কারণ, সাধনের উৎকর্ষ না থাকিলে কখনই ফলোৎকর্ষ হইতে পারে না; কাজেই ফলোৎকর্ষ বর্ণনা দ্বারাই তৎসাধনীভূত জ্ঞান-সহকৃত কর্ম্মেরও স্তুতি সম্পন্ন হইবে। দ্বিতীয় প্রয়োজন—বক্ষ্যমাণ ব্রহ্মবিদ্যার স্তুতি করা; কেন-না, দেখা যাইতেছে যে, পূর্ব্বোক্ত জ্ঞানকর্ম্মের সর্ব্বোৎকৃষ্ট ফল হইতেছে—প্রাজাপত্য অধিকার লাভ; তাহাও যখন স্থূলতা ও অনিত্যতাদিদোষগ্রস্ত সংসারেরই অন্তর্ভূত, অথচ বক্ষ্যমাণ ব্রহ্মবিদ্যার ফল হইতেছে সংসারের অতীত নিত্য নিয়তিশয় আনন্দস্বরূপ মোক্ষ; তখন সহজেই লোকের পূর্ব্বোক্ত জ্ঞানকর্ম্মে বৈরাগ্য জন্মিতে পারে, এবং ব্রহ্মবিদ্যায়ও প্রবৃত্তি হইতে পারে, এইজন্যই ভান্তকার বলিতেছেন—‘উত্তরার্থং চ’। উভয়ের মধ্যে শেষোক্ত উদ্দেশ্যটাই শ্রুতির অভিপ্রেত।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৮১

করিলে সহজেই পূর্ব্বোক্ত ফলে লোকের বৈরাগ্য জন্মিতে পারে]; অতএব জ্ঞানমিশ্রিত কর্মফলের যে, উৎকর্ষ বর্ণনা, তাহা পরবর্তী ব্রহ্মরিদ্যার প্রশংসার্থও বটে। ‘মুমুক্ষু ব্যক্তির ইহাই একমাত্র প্রাপ্য,’ ‘সেই এই আত্মবস্তুটি পুল অপেক্ষাও প্রিয়’ ইত্যাদি শ্রুতিতেও এই অভিপ্রায়ই প্রকটিত করা হইবে। ১

শ্রুতির ‘আত্মৈব’ এই আত্মা অর্থ-প্রজাপতি, যিনি অণ্ড হইতে জাত প্রথম- শরীরী বলিয়া অভিহিত। বেদোক্ত জ্ঞান-কর্মানুষ্ঠানের ফলস্বরূপ একমাত্র তিনিই,-কি? না, এই বিভিন্নজাতীয় অপরাপর শরীরোৎপত্তির পূর্ব্বে সেই প্রজাপতির শরীরের সহিত অবিভক্ত অর্থাৎ তদাত্মক ছিলেন।(প্রজাপতি- স্বরূপই) ছিলেন। সেই আত্মাও(প্রজাপতিও) আবার পুরুষবিধ-পুরুষা- কৃতি হস্ত-মস্তকাদিসম্পন্ন বিরাট্স্বরূপ। সর্ব্বাগ্রে সমুৎপন্ন সেই প্রজাপতিই অনুবীক্ষণ করিয়া ‘আমি কে, এবং আমার লক্ষণ-বিশেষত্বই বা কি’, ইহা আলোচনা করিয়া-প্রাণসমষ্টিভূত এবং দেহেন্দ্রিয়াত্মক আপনা হইতে পৃথগভূত অপর কোনও বস্তু দর্শন করিলেন না(দেখিতে পাইলেন না), পরন্তু সর্বাত্মস্বরূপে কেবল আপনাকেই দর্শন করিলেন। সেই রূপ, পূর্ব্বজন্মোৎপন্ন শ্রৌত-বিজ্ঞান সংস্কারসম্পন্ন তিনি প্রথমে ‘আমি হইতেছি-সেই প্রজাপতি, আমি হইতেছি-সকলের আত্মা’ এইরূপ উক্তি করিয়াছিলেন। যেহেতু প্রজাপতি পূর্ব্বজন্মজাত সংস্কারানুসারে প্রথমেই আপনাকে ‘অহম্’ বলিয়া উল্লেখ করিয়া- ছিলেন, সেই হেতুই তিনি ‘অহং’ নামে পরিচিত হইলেন। ‘অহং’ নামই যে, তাঁহার শ্রুতি প্রদর্শিত উপনিষদ্-গুহ্য নাম, তাহা পরে বলা হইবে। সেই হেতু, যেহেতু সর্ব্বকারণ প্রজাপতিতে এইরূপ ঘটনা হইয়াছিল, সেই হেতু, এখনও- বর্তমান সময়েও প্রজাপতির কার্য্যভূত(প্রজাপতি-সৃষ্ট) প্রাণিগণের মধ্যে কেহ আমন্ত্রিত হইলে ‘তুমি কে’ এইরূপে জিজ্ঞাসিত হইলে, প্রথমেই ‘এই আমি’ (অয়ম্ অহম্’) বলিয়া অর্থাৎ আপনাকে কারণভূত প্রজাপতিরূপে পরিচিত করিয়া, তাহার পর বিশেষ নামজিজ্ঞাসু ব্যক্তিকে আপনার দেহপিণ্ডের পরিচা- য়ক ‘দেবদত্ত’ বা ‘যজ্ঞদত্ত’ প্রভৃতি নাম বলিয়া থাকে,--যে নাম তাহার পিতা-মাতা দেহপিণ্ডের পরিচরার্থ রক্ষা করিয়াছেন, সেই নাম বলিয়া থাকে। ২

সম্প্রতি যাহারা কর্ম ও জ্ঞানভাবনা দ্বারা প্রজাপতিত্বলাভ করিতে ইচ্ছুক, সেই প্রজাপতিই সকলের প্রাজাপত্য-পদাভিলাষী অপর সকলের প্রথমে সমুৎপন্ন হইয়া, পূর্ব্বজন্মের সাধকাবস্থার যথাযথরূপে অনুষ্ঠিত কৰ্ম্ম ও জ্ঞানভাবনা প্রভাবে

১৮২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সর্ব্বপ্রথমে দগ্ধ করিয়াছিলেন; কি দগ্ধ করিয়াছিলেন? না, প্রজাপতিত্বলাভের প্রতিকূলভূত আসক্তি ও অজ্ঞানাত্মক পাপসমূহ[দগ্ধ করিয়াছিলেন]।

যেহেতু এই প্রকার অবস্থা, সেই হেতুই তিনি পুরুষ—অর্থাৎ ‘পূর্ব্বম্ ঔবৎ’ এই কারণে(‘পূর্ব্ব’ শব্দের পূ—পু, আর ‘উষ’ ধাতুর উষ, উভয়ের যোগে নিষ্পন্ন) পুরুষপদবাচ্য হইলেন। এই প্রজাপতি যেরূপ প্রতিবন্ধক পাপরাশি দগ্ধ করিয়া পুরুষ—প্রজাপতি হইয়াছেন, এইরূপ অন্যেও জ্ঞানসহকৃত কর্মানুষ্ঠানরূপ অগ্নি দ্বারা, অথবা কেবলই জ্ঞান দ্বারা তাহাকে ভস্মীভূত করেন। কাহাকে? না, যে ব্যক্তি এবংবিধ জ্ঞানীর অগ্রে প্রজাপতি হইতে ইচ্ছা করেন, তাহাকে[ভস্ম করেন]। ভস্মীকরণের কর্তার নির্দেশ করিতেছেন—যিনি এইরূপ জ্ঞানলাভ করেন, অর্থাৎ জ্ঞানানুশীলনজাত উৎকর্ষসম্পন্ন হন,[তিনি]। ৩

এখন শঙ্কা হইতেছে যে, প্রজাপতি-পদেচ্ছু ব্যক্তিকে যদি জ্ঞানী পুরুষ দগ্ধই করিয়া ফেলেন, তাহা হইলে প্রজাপতিত্ব লাভের অভিলাষ ত কেবল অনর্থেরই কারণ হইয়া পড়ে? না,—ইহা দোষাবহ নহে; এই দাহ অর্থ আর কিছুই নহে, কেবল যাহাদের জ্ঞান-ভাবনা সমুৎকর্ষ লাভ করে নাই, তাহাদের প্রজাপতিত্ব- প্রাপ্তি হইতে না দেওয়াই ঐ দাহ শব্দের অর্থ। উত্তম সাধনসম্পন্ন ব্যক্তিই প্রথমে প্রজাপতি-পদ অধিকার করিয়া থাকে; কাজেই ন্যূনসাধনসম্পন্ন ব্যক্তি সেই পদ লাভ করিতে পারে না, এইজন্যই উত্তমসাধক ব্যক্তি হীনসাধনসম্পন্ন ব্যক্তিকে যেন দগ্ধই করে, বলা হইয়া থাকে; কিন্তু সত্য সত্যই যে, উৎকৃষ্ট-সাধনসম্পন্ন ব্যক্তি হীনসাধন ব্যক্তিকে দগ্ধই করিয়া ফেলে, তাহা নহে। যেমন নির্দিষ্ট সীমান্তে গমনেচ্ছু ব্যক্তিগণের মধ্যে, যে ব্যক্তি প্রথমে সীমান্তস্থানে উপস্থিত হইতে পারে, তাহা দ্বারা অপর গন্তবর্গ অসমর্থরূপে প্রমাণিত হওয়ায় যেন দগ্ধপ্রায়ই হইয়া থাকে, ইহাও তেমনই(১) ॥ ৩৮ ॥ ১॥

(১) তাৎপর্য্য—‘আজি’ অর্থ—নিদ্দিষ্ট সীমা। ‘আজিসূতাং’ অর্থ—যাহারা সেই সীমান্ত স্থানকে লক্ষ্য করিয়া গমন করে। এখনও এইরূপ ব্যবহার দেখিতে পাওয়া যায় যে, কোন একটি স্থান লক্ষ্য করিয়া বলা হয় যে, অমুকস্থান হইতে বাহির হইয়া, যে লোক সর্ব্বপ্রথমে অমুক স্থানে যাইতে পারিবে, সে ব্যক্তি পুরস্কার লাভ করিবে। যে ব্যক্তি প্রথমে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়, সেই ব্যক্তিই নিদ্দিষ্ট পুরস্কার লাভে সমর্থ হয়, অধিকন্তু তাহা দ্বারা অপর গস্তারা পরাভূত হয়, হীনশক্তি বলিয়া বিবেচিত হয়, এবং অপমানেও দগ্ধপ্রায় হয়। এখানেও, যে ব্যক্তির সাধন-সম্পদ উৎকৃষ্ট, তিনিই প্রথমে প্রাজাপত্যপদ লাভ করেন, ‘হীনসাধন ব্যক্তিরা তদর্শনে শোকানলে দগ্ধপ্রায় হন।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৮৩

শাঙ্করভাষ্যম্।—যদিদং তুষ্টুষিতং কর্মকাণ্ডবিহিত-জ্ঞানকর্মফলং প্রাজাপত্যলক্ষণম্, নৈব তৎ সংসারবিষয়মত্যক্রামৎ, ইতীমমর্থং প্রদর্শয়িষ্যন্নাহ—

টীকা।—জ্ঞানকর্ম্মফলং সৌত্রং পদমুৎকৃষ্টত্বান্মুক্তিঃ, তদন্যমুক্ত্যভাবাৎ তদ্ধেতু-সম্যগ্ধীসিন্ধয়ে প্রবৃত্তিরনধিকা, ইত্যাশঙ্ক্য সোহবিভেদিত্যস্য তাৎপর্য্যমাহ—যদিদমিতি। তুষ্টুষিতং স্তোতুমভিপ্রেতমিতি যাবৎ—

ভাষ্যানুবাদ।—এখানে কর্মকাণ্ডোক্ত জ্ঞানও কর্ম্মের ফলস্বরূপ, যে প্রাজাপত্য পদের প্রশংসা করা শ্রুতির অভিপ্রেত, সেই প্রাজাপত্য পদও সংসারের অধিকার অতিক্রম করিতে পারে না, অর্থাৎ তাহাও সংসারেরই অন্তর্গত, ইহা প্রদর্শনের জন্য বলিতেছেন—

সোহবিভেৎ, তস্মাদেকাকী বিভেতি, স হায়মীক্ষাঞ্চক্রে— যন্মদন্যন্নাস্তি কস্মান্নু বিভেমীতি, তত এবাস্য ভয়ং বীয়ায়, কস্মাদ্ধ্যভেষ্যৎ দ্বিতীয়াদ্বৈ ভয়ং ভবতি ॥ ৩৯ ॥ ২ ॥

সরলার্থঃ।—প্রাজাপত্যফলস্যাপি সংসারান্তর্গতত্বং প্রদর্শয়িতুমাহ— “সোহবিভেৎ” ইত্যাদি।

সঃ(কৰ্ম্মজ্ঞানফলভূতঃ প্রজাপতিঃ) অবিভেৎ(অম্মদাদিবৎ ভীতঃ অভবৎ); তস্মাৎ(একাকিনঃ প্রজাপতেঃ ভয়োদগমাদেব হেতোঃ)[ইদানীমপি] একাকী (অসহায়ঃ জনঃ) বিভেতি। সঃ অয়ং(ভীতঃ প্রজাপতিঃ) হ(ঐতিহ্যে) ঈক্ষাংচক্রে(আলোচিতবান্-) যৎ(যস্মাৎ) মদন্যৎ(মদ্ব্যতিরিক্তম্ বস্তুন্তরং) নাস্তি(ন বিদ্যতে),[তস্মাৎ হেতোঃ] নু(বিতর্কে) কস্মাৎ(কারণাৎ) বিভেমি(ভীতো ভবামি) ইতি। ততঃ(তস্মাৎ আলোচনাৎ) এব তস্য ভয়ং বীয়ায়(বিগতমভূৎ)।[অবিদ্যামূলকং হি ভয়ং জ্ঞানোদয়ে ন সম্ভবতীত্যাহ-] কস্মাৎ(হেতোঃ) অভেষ্যৎ[ন কম্মাদপীতিভাবঃ]; হি(যতঃ) দ্বিতীয়াৎ (স্বব্যতিরিক্ত-বস্ত্বন্তরাং) বৈ(এব) ভয়ং ভবতি(উৎপদ্যতে),[সর্ব্বাত্মভাবা- পন্নস্য তস্য তু ভয়ং ন সম্ভবতীতি ভাবঃ ॥ ৩৯ ॥ ২॥

মূলানুবাদ:-প্রাজাপত্য পদটিও যে, সংসারেরই অন্তর্গত, তৎপ্রদর্শনার্থ বলিতেছেন-সেই প্রথমোৎপন্ন প্রজাপতি ভীত হইয়া- ছিলেন; সেইজন্যই লোক একাকী থাকিলে ভয় পায়। তিনি(প্রজাপতি) আলোচনা করিলেন-যখন আমা হইতে আর পৃথক্ বস্তু কিছু নাই, তখন কেনইবা আমি ভীত হইতেছি। তাহার পরই তাঁহার ভয় বিদূরিত

১৮৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

হইল। প্রকৃতপক্ষে, কেনই বা তিনি ভীত হইবেন?—কারণ, দ্বিতীয় হইতেই ত ভয় হইয়া থাকে;[তাহার ত দ্বিতীয় কোন বস্তু নাই], সুতরাং ভয়েরও সম্ভাবনা নাই] ॥ ৩৯ ॥ ২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। -সোহবিভেৎ। সঃ প্রজাপতিঃ, যোহয়ং প্রথম: শরীরী পুরুষবিধো ব্যাখ্যাতঃ, সোহবিভেৎ ভীতবান্ অস্মদাদিবদেবেত্যাহ। যম্মাদরং পুরুষবিধঃ শরীর-করণবান্ আত্মনাশব-বিপরীতদর্শনবত্ত্বাৎ অবিভেৎ। তস্মাৎ তৎসামান্যাৎ অদ্যত্বেহপি একাকী বিভেতি। কিঞ্চ, অস্মদাদিবদেব ভয়হেতু- বিপরীতদর্শনাপনোদকারণং যথাভূতাত্মদর্শনম্। সোহয়ং প্রজাপতিঃ ঈক্ষাম্ ঈক্ষণং চক্রে কৃতবান্ হ। কথম্? ইত্যাহ-যৎ যস্মাৎ মত্তোহন্যৎ আত্মব্যতি- রেকেণ বস্তুন্তরং প্রতিদ্বন্দ্বীভূতং নাস্তি, তস্মিন্নাত্মবিনাশহেত্বভাবে, কস্মাৎ নু বিভে- মীতি। তত এব-যথাভূতাত্মদর্শনাৎ অন্য প্রজাপতেভয়ং বীয়ায় বিস্পষ্টম্ অপ- গতবৎ। তস্য প্রজাপতের্যদ্ভয়ং, তৎ কেবলাবিদ্যানিমিত্তমেব; -পরমার্থদর্শনে অনুপপন্নম্; ইত্যাহ-কস্মাৎ হি অভেষ্যৎ?-কিমিত্যসৌ ভীতবান্? পরমার্থ- নিরূপণায়াং ভয়মনুপপন্নমেব ইত্যভিপ্রায়ঃ। যস্মাৎ দ্বিতীয়াৎ বস্তুন্তরাদ্বৈ ভয়ং ভবতি, দ্বিতীয়ং চ বস্তুন্তরমবিদ্যাপ্রত্যুপস্থাপিতমেব। ন হি অদৃশ্যমানং দ্বিতীয়ং ভরজন্মনো হেতুঃ, “তত্র কো মোহঃ, কঃ শোক একত্বমনুপশ্যতঃ” ইতি মন্ত্রবর্ণাৎ। যচ্চৈকত্বদর্শনেন ভরমপনুনোদ অপনোদিত’ তদ্ যুক্তম্; কস্মাৎ? দ্বিতীয়াং বস্তুন্তরাদ্বৈ ভরং ভবতি, তৎ একত্বদর্শনেন দ্বিতীয়দর্শনমপনীতম্, ইতি নাস্তি যতঃ। ১।

অত্র চোদয়ন্তি—কুতঃ প্রজাপতেরেকত্বদর্শনং জাতম্? কো বা তস্মৈ উপ- দিদেশ? অথানুপদিষ্টমেব প্রাদুরভূৎ; অস্মদাদেরপি তথা প্রসঙ্গঃ। অথ জন্মান্তরকৃত-সংস্কারহেতুকম্? একত্বদর্শনানর্থক্যপ্রসঙ্গঃ। যথা প্রজাপতেরতি- ক্রান্তজন্মাবস্থস্যৈকত্বদর্শনং বিদ্যমানমপি অবিদ্যা-বন্ধকারণং নাপনিন্যে; যতঃ অবিদ্যাসংযুক্ত এবায়ং জাতোহবিভেৎ, এবং সর্ব্বেবামেকত্বদর্শনানর্থক্যং প্রাপ্তোতি। অন্ত্যমের নিবর্ত্তকমিতি চেৎ; ন; পূর্ব্ববৎ পুনঃ প্রসঙ্গেনানৈ- কান্ত্যাৎ; তন্মাদনর্থকমেবৈকত্বদর্শনমিতি। ২

নৈষ দোষঃ। উৎকৃষ্টহেতুস্তবত্বাৎ লোকবৎ; যথা পুণ্যকর্মোদ্ভববৈর্বিবিক্তৈঃ কার্য্যকরণৈঃ সংযুক্তে জন্মনি সতি প্রজ্ঞা-মেধাস্মৃতিবৈশারদ্যং দৃষ্টম্, তথা প্রজা- পতের্ধর্মজ্ঞানবৈরাগ্যেশ্বর্য্যবিপরীতহেতু-সর্ব্বপাপাদাহাদিশুদ্ধৈঃ কার্য্যকরণৈঃ সংযুক্ত-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৮৫

মুৎকৃষ্টং জন্ম, তদুদ্ভবঞ্চ অনুপদিষ্টমেব যুক্তম্ একত্বদর্শনং প্রজাপতেঃ। তথা চ স্মৃতিঃ—

“জ্ঞানমপ্রতিঘঃ, যস্য বৈরাগ্যঞ্চ প্রজাপতেঃ।

ঐশ্বর্য্যৈকধৰ্ম্মশ্চ সহসিদ্ধং, চতুষ্টয়ম্ ॥” ইতি।

সহসিদ্ধত্বে ভয়ানুপপত্তিরিতি চেৎ-ন হি আদিত্যেন সহ তম উদেতি। ন; অন্যানুপদিষ্টার্থত্বাৎ সহসিদ্ধবাক্যস্য। ৩

শ্রদ্ধা-তাৎপর্য্য-প্রণিপাতাদীনাম্ অহেতুত্বমিতি চেং, -স্যান্মতম্-“শ্রদ্ধা- বাল্লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ।” “তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন” ইত্যেবমাদীনাং শ্রুতিস্মৃতিবিহিতানাং জ্ঞানহেতুনামহেতত্বন্-প্রজাপতেরিব জন্মান্তরকৃত-ধৰ্ম্ম- হেতুত্বে জ্ঞানস্যেতি চেং; ন; নিমিত্তবিকল্প-সমুচ্চয় গুণবদ গুণবত্ত্বভেদোপপত্তেঃ। লোকে হি নৈমিত্তিকানাং কাৰ্য্যাণাং নিমিত্তভেদোহনেকধা বিকল্প্যতে, তথা নিমিত্তসমুচ্চয়ঃ। তেবাঞ্চ বিকল্পিতানাঃ সমুচ্চিতানাঞ্চ পুনগুণবদগুণবত্ত্ব- কৃতো ভেদো ভবতি। তদ্যথা-রূপজ্ঞান এব তাবন্নৈমিতিকে কার্য্যে তমসি বিনালোকেন চক্ষু রূপসন্নিকর্ষো নক্তঞ্চরাণাং রূপজ্ঞানে নিমিত্তং ভবতি; মন এব কেবল রূপজ্ঞাননিমিত্তং যোগিনাম্; অমাকন্তু সন্নিকর্ষালোকাভ্যাং সহ তথাদিত্যচন্দ্রাদ্যালোকভেদৈঃ সমুচ্চিতা নিমিত্তভেদা ভবন্তি। তথালোকবিশেষ- গুণবদগুণবত্ত্বেন ভেদাঃ স্যুঃ। এবমেব আত্মৈকত্বজ্ঞানেহপি কচিজ্জন্মান্তরকৃতং কৰ্ম্ম নিমিত্তং ভবতি; যথা প্রজাপতেঃ। ক্বচিৎ তপো নিমিত্তম্; “তপসা ব্রহ্ম বিজিজ্ঞাসস্ব“ইতি শ্রুতেঃ। কচিৎ “আচার্য্যবান্ পুরুষো বেদ”, “শ্রদ্ধাবাল্লভতে জ্ঞানম্”, “তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন”, “আচার্য্যাদ্ধৈব”, “জ্ঞাতব্যো দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্যঃ” ইতি শ্রুতিস্মৃতিভ্য একান্তজ্ঞানলাভনিমিত্তত্বং শ্রদ্ধাপ্রভৃতীনাম্, অধর্মাদিনিমিত্ত- বিয়োগহেতুত্বাৎ; বেদান্তশ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসনানাঞ্চ সাক্ষাজ্জেয়বিষয়ত্বাৎ; পাপাদি-প্রতিবন্ধক্ষয়ে চ আত্মমনসোর্ভুতার্থজ্ঞাননিমিত্ত-স্বাভাব্যাৎ। তম্মাদহেতুত্বং ন জাতু জ্ঞানস্য শ্রদ্ধাপ্রণিপাতাদীনামিতি ॥ ৩৯ ॥ ২ ॥

টীকা। আহ বিবক্ষিতার্থসিদ্ধ্যর্থং হেতুং-ভয়ভাক্ত মিতি শেষঃ। জ্ঞানকৰ্ম্মফলং ত্রৈলোক্যাত্মকসূত্রত্বমুৎকৃষ্টমপি সংসারান্তর্ভূতমেব, ন কৈবল্যমিতি বক্তমুত্তরং বাক্যমিত্যর্থঃ। অহমেকাকী, কোহপি মাং হনিষ্যতীতি আত্মনাশ-বিষয়বিপরীতজ্ঞানবত্ত্বাৎ প্রজাপতিভীত- বানিত্যত্র কিং প্রমাণমিত্যাশঙ্ক্য কাৰ্য্যগতেন ভয়লিঙ্গেন কারণে প্রজাপতৌ তদনুমেয়মিত্যাহ- যম্মাদিতি। তৎসামান্যাদেকাকিত্বাবিশেষাদিতি যাবৎ। প্রজাপতেঃ সংসারান্তর্ভূতত্বে হেত্বন্তর- মাহ-কিঞ্চেতি। যথাস্মদাদিতী রজ্জু-স্থাম্বাদৌ সর্প-পুরুষাদিভ্রমজনিতভয়নিবৃত্তয়ে বিচারেণ ‘তত্ত্বজ্ঞানং সম্পাদ্যতে, তথা প্রজাপতিরপি ভয়স্য তদ্ধেতোশ্চ বিপরীতধিয়ো ধ্বস্তিহেতুং তত্ত্বজ্ঞানং

১৮৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বিচার্য্য সম্পাদিতবানিত্যর্থঃ। পরমার্থদর্শনমেব প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি-কথমিত্যাদিনা। তস্মিন্নিত্যত্র তন্মাদিত্যাদৌ পঠিতব্যম্, মচ্ছন্দোপলক্ষিতং প্রত্যক্চৈতন্যম্ অদ্বিতীয়ব্রহ্মরূপেণ জ্ঞাত্বা সহেতুং ভীতিং প্রজাপতিরক্ষিপদিত্যুক্তম্, ইদানীং তত্ত্বজ্ঞানফলমাহ-তত ইতি। কস্মান্ধী- ত্যাদেরুত্তরস্য পূর্ব্বেণ পৌনরুক্ত্যমিত্যাশঙ্ক্য বিদুষে। হেত্বভাবাৎ ন ভয়মিত্যুক্তসমর্থনার্থত্বাদুত্তরস্য নৈবমিত্যাহ-তস্যেত্যাদিনা। অনুপপত্তৌ হেতুমাহ-যম্মাদিতি। পরমার্থদর্শনেহপি বস্তুন্তরাৎ কিমিতি ভয়ং ন ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ-দ্বিতীয়ং চেতি। অন্বয়ব্যতিরেকাভ্যাং দ্বৈতস্য অবিদ্যা- প্রত্যুপস্থাপিতত্বেহপি কুতস্তদুখদ্বৈতদর্শনং ভয়কারণং ন ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। তত্ত্বজ্ঞামে সতি অজ্ঞানাযোগাৎ তদুখং দ্বৈতং তদ্দর্শনং চাযুক্তমিত্যতো হেত্বভাবাৎ ভয়ানকপত্তিরিত্যর্থঃ। অদ্বৈতজ্ঞানে ভয়নিবৃত্তিরিতাত্র মন্ত্রং সংবাদয়তি-তত্রেতি। বিরাড়ৈক্যদর্শনেনৈব প্রজাপতে- ভয়মপনীতং, ন অদ্বৈতদর্শনেন, ইত্যস্মিন্নর্থেহপি যৎ যদন্যন্নাস্তীত্যাদি শক্যং ব্যাখ্যাতুমিত্যাশঙ্ক। অঙ্গীকুর্ব্বন্নাহ-যচ্চেতি। তদেব প্রশ্নদ্বারা প্রকটয়তি-কম্মাদিত্যাদিনা। ১

প্রথমব্যাখ্যানানুসারেণ চোদ্যমুখাপয়তি-অত্রেতি। প্রজাপতেব্রহ্মাত্মৈক্যজ্ঞানাৎ ভীতি- ধ্বস্তিরুক্তা, ন চ তস্য তজ জ্ঞানং যুক্তং, হেত্বভাবাদিত্যাহ-কুত ইতি। যস্মাৎ অস্মাকমৈক্যধীঃ, তম্মাদেব তস্যাপি স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-কো বেতি। ন হি তস্য শাস্ত্রশ্রবণমাচাৰ্য্যাভাবাৎ, নাপি সন্ন্যাসস্তন্য ত্রৈবর্ণিকবিষয়ত্বাৎ, নাপি শমাদি ঐশ্বয্যাসক্তত্বাৎ, অতোহম্মাসু প্রসিদ্ধশ্রবণাদিবিদ্যা- হেত্বভাবাৎ ন প্রজাপতেরৈক্যধীরযুক্তেত্যর্থঃ। উপদেশানপেক্ষমেব প্রজাপতেরৈক্যজ্ঞানং প্রাদুর্ভূত- মিতি শঙ্কতে-অথেতি। অতিপ্রসক্ত্যা প্রত্যাহ-অমদাদেরিতি। প্রজাপতের্যজমানাবস্থায়াম্ আচার্য্যস্য সত্ত্বাৎ শ্রবণাদ্যাবৃত্তেরৈক্যজ্ঞানোদয়াৎ তৎসংস্কারোখং তথাবিধমেব তজজ্ঞানং ফলাবস্থায়ামপি স্যাদিতি চোদয়তি-অথেতি। দূষয়তি-একত্বেতি। অজ্ঞানধ্বংসিত্বেনার্থ- বস্তুমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যথেতি। তত্র গমকমাহ-যত ইতি। দাষ্টান্তিকমাহ-এবমিতি। নম্বস্মিন্নেব জন্মনি প্রজাপতেরৈক্যধীরনপেক্ষা জায়তে, ‘জ্ঞানমপ্রতিঘং যস্য’ ইতি স্মৃতেঃ। নচ তদুৎপত্য- নন্তরমেব সহেতুং বন্ধং নিরুণন্ধি, ভয়ারত্যাদিফলেন প্রারব্ধকর্মণা প্রতিবন্ধাৎ; অতো মরণ- কালিকং তদজ্ঞানধ্বংসীতি শঙ্কতে-অন্ত্যমেবেতি। প্রবৃত্তফলস্য কৰ্ম্মণঃ স্বোপপাদকাজ্ঞান- লেশাৎ বিজ্ঞানশক্তিপ্রতিবন্ধকত্বেহপি জন্মান্তরাদিসর্বসংসারহেত্বজ্ঞান-ধ্বংসি-জ্ঞানসামর্থ্যপ্রতি- বন্ধকত্বে মানাভাবাৎ মধ্যে জাত’ জ্ঞানমনিবর্তকমিত্যশক্যং বক্তুম্, অন্ত্যস্য চ জ্ঞানস্য নিবর্তকত্বে নাস্ত্যত্বং হেতুঃ। যজমানান্তরস্যান্ত্যে জ্ঞানে তদ্ধংসিত্বাদৃষ্টেরন্ত্যত্বস্য অজ্ঞানধ্বংসিত্বেন অনিয়মাৎ। ন চ যজমানান্তরে প্রজাপতো চান্ত্যং জ্ঞানং জ্ঞানত্বাদজ্ঞানধ্বংসি, পূর্বজ্ঞানেষু বন্ধহেত্বজ্ঞান- ধ্বংসিত্বাদৃষ্টেজ্ঞানত্বহেতোরনৈকান্ত্যাৎ। ন চান্ত্যম্ ঐক্যজ্ঞানম্, ঐক্যজ্ঞানত্বাদজ্ঞানধ্বংসীতি যুক্তম্। উপান্ত্য-তাদৃগ জ্ঞানবদন্ত্যেংপি তদযোগাৎ, উপাস্ত্যে হেভোরনৈকান্ত্যাৎ, ইত্যভিপ্রেতা দূষয়তি-নেত্যাদিনা। কুপ্তকারণাভাবাৎ তদন্তরেণ চ উৎপত্তাবতিপ্রসঙ্গাৎ, সংস্কারাধীনত্বেংপি বিশেষাভাবাৎ অন্ত্যস্য চ জ্ঞানস্য অজ্ঞানধ্বংসিত্বাসিদ্ধেরযুক্তং প্রজাপতেরেকত্বদর্শনম্, ইত্যুপ- সংহরতি-তন্মাদিতি। ২

প্রজাপতেঃ সুপ্ত-প্রতিবুদ্ধবৎ প্রকৃষ্টাদৃষ্টোত্থকাৰ্য্যকরণবদ্বাৎ পূর্ব্বকল্লীয়পদপদার্থবাক্যস্মরণবতঃ স্মৃতিবিপরিবর্ত্তিনো বাক্যাৎ বিচার্য্যমাণাদদৃষ্টসহকৃতাৎ তত্ত্বজ্ঞানং স্যাৎ, লোকে বিশিষ্টাদৃষ্টোত্থ-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৮৭

কার্য্যকরণানাং প্রজ্ঞাদ্যতিশয়দর্শনাৎ; তেন চ জ্ঞানেন জন্মান্তরহেত্ববিদ্যাক্ষয়েহপি আরন্ধং কৰ্ম্ম তজ্জং চ ভয়ারত্যাদি অবিদ্যালেশতো ভবিষ্যতীতি পরিহরতি-নৈষ দোষ ইতি। সংগৃহীতমর্থং সমর্থয়তে-যথেত্যাদিনা। ধর্ম্মাদিচতুষ্টয়াদ্বিপরীতমধৰ্ম্মাদিচতুষ্টয়ং, তত্র হেতোঃ সর্ব্বস্য পাপ্পুনো জ্ঞানাদ্যতিশয়েন নাশাদিতি যাবৎ। উৎকৃষ্টত্বং প্রকৃষ্টজ্ঞানাদিশালিত্বম্। উক্তজন্মফলমাহ- তদুদ্ভবঞ্চেতি। তস্য জ্ঞানাদিবৈশারদ্যে পৌরাণিকীং স্মৃতিমুদাহরতি-তথা চেতি। অপ্রতিঘম- প্রতিবন্ধং নিরঙ্কুশমিত্যেতৎ প্রত্যেকং সম্বধ্যতে। যস্যৈতচ্চতুষ্টয়ং সহসিদ্ধং, স নিরবর্ততেতি সম্বন্ধঃ। সহসিদ্ধত্বস্মৃতে: ‘সোহবিভেৎ’ ইতি শ্রুতিবিরুদ্ধত্বাদপ্রামাণ্যমিতি বিরোধাধিকরণস্যায়েন শঙ্কতে-সহসিদ্ধত্ব ইতি। সত্যেব সহজে জ্ঞানে স্বহেতোর্ভয়মপি স্যাদিতি চেৎ, ন, ইত্যাহ- ন হীতি। অন্যেনাচার্য্যেণানুপদিষ্টমেব প্রজাপতেজ্ঞানমুদেতি, ইত্যেবমর্থপরত্বাৎ সহসিন্ধ- বাকাস্য তজজ্ঞানাৎ প্রাক্ তস্য ভয়মবিরুদ্ধন্ উর্দ্ধং চাজ্ঞানলেশাৎ, অতো ন বিরোধঃ শ্রুতিস্মৃত্যো- রিতি সমাধত্তে-নেত্যাদিনা। ৩ জ্ঞানোৎপত্তেরাচাৰ্য্যাদ্যনপেক্ষত্বে শ্রদ্ধাদি-বিধানানর্থক্যাৎ অনেকশ্রুতিস্মৃতিবিরোধঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-শ্রদ্ধেতি। আদিপদেন শমাদিগ্রহঃ, অস্মদাদিষু তেষাং হেতুত্বমিতি চেৎ, ন, ইত্যাহ- প্রজাপতেরিবেতি। চোদিতং বিরোধং নিরাকরোতি-নেত্যাদিনা। নিমিত্তানাং বিকল্পঃ সনুচ্চয়ো গুণবত্বমগুণবত্ত্বমিত্যেকেন প্রকারেণ কায্যোৎপত্তৌ বিশেষসম্ভবাৎ ন শ্রদ্ধাদিবিধানর্থক্য- মিত্যর্থঃ। সংগ্রহবাক্যং বিবৃণোতি-লোকে হীতি। তদ্ধি সর্ব্বং বিকল্পাদি যথা জ্ঞাতুং শক্যং, তথৈকস্মিন্নেব নৈমিত্তিক রূপজ্ঞানাপ্যকার্য্যে দর্শয়ামীত্যাহ-তদ্যথেতি। তত্র বিকল্প- মুদাহয়তি-তমসীত্যাদিনা। সমুচ্চয়ং দর্শয়তি-অস্মাকং স্থিতি। বিকল্পিতানাং সমুচ্চিতানাং চ নিমিত্তানাং গুণবদগুণবত্ত্বপ্রযুক্তং ভেদং কথয়তি-তথেতি। আলোকবিশেষস্য গুণবত্ত্বং, বহুলত্বমগুণবত্ত্বং মন্দপ্রভত্বং, চক্ষুরাদেগুণবত্ত্বং নির্মূলত্বাদি, তিমিরোপহতত্বাদি চ অগুণবত্ত্বমিতি ভেদঃ। দৃষ্টান্তং প্রতিপাদ্য দাষ্টান্তিকমাহ-এবমিতি। তথান্যস্যাপি প্রজাপতিতুল্যস্থ বামদেবাদেজন্মান্তরীয়সাধনবশাৎ ঈশ্বরানুগ্রহাৎ অস্মিন্ জন্মনি স্মৃতবাক্যাদৈক্যজ্ঞানমুদেতীতি শেষঃ। ভৃগুস্ততুল্যো বাহধিকারী কচিদিত্যুচ্যতে। তপোস্বয়ব্যতিরেকেখ্যমালোচনম্। শ্বেতকেতুপ্রভৃতিষ জ্ঞাননিমিত্তানাং সমুচ্চয়ং দর্শয়তি-কচিদিত্যাদিনা। একান্তং নিয়তমাবশ্যকং জ্ঞানোদয়লাভে নিমিত্তত্বমিতি যাবৎ। অথ প্রণিপাতাদিব্যতিরেকেণ ন প্রজাপতেরপি জ্ঞানং সম্ভবতি, সামগ্র্যাভাষাদত আহ-অধর্মাদীতি। প্রণিপাতাদেঃ জ্ঞানোদয়প্রতিবন্ধকনিবর্তকত্বাৎ প্রজাপতেশ্চ তন্নিবৃত্তেজ্জন্মান্তরীয়সাধনায়ত্তত্বাৎ আধুনিকপ্রণিপাতাদিনা বিনা স্মৃতবাক্যাদেব ঐক্যধী: সম্ভবতীত্যর্থঃ। তর্হি শ্রবণাদিব্যতিরেকেণাপি প্রজাপতেজ্ঞানং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ- বেদান্তেতি। ন তৈধিনা জ্ঞানং কন্যচিদপি স্যাৎ, প্রজাপতেস্ত জন্মান্তরীয়শ্রবণবশাৎ ইদানী- মনুস্মৃতষ্যাক্যাৎ তদুৎপত্তিরিতি শেষঃ। তর্হি শ্রদ্ধাদিকমপি প্রতিবন্ধকনিবর্তকত্বেন প্রজাপতে- রাదరణীয়ং, তন্নিবৃত্তিমন্তরেণ জ্ঞানোৎপত্তানুপপত্তেরিত্যাশঙ্ক্যাহ-পাপাদীতি। আত্ম-মনসোমিথঃ সংযুক্তয়োঃ সম্বন্ধি যৎ পাপং, তৎকাৰ্য্যং চ রাগাদি, তেন জ্ঞানোৎপত্তৌ প্রতিবন্ধস্য পূর্ব্বোক্তেন স্যারেন ক্ষয়ে সতি. প্রজাপতেরীশ্বরানুগ্রহাৎ স্মৃতবাক্যস্য পরমার্থজ্ঞানোৎপত্তৌ কেবলম্ভ নিমিত্তদ্বাৎ, তস্য আধুনিকশ্রদ্ধাব্যতিরেকেণ জ্ঞানোদয়েইপি ন তদ্বিধিবৈর্য্যম্। অস্মাকং

১৮৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তদ্বশাদেব তদুৎপত্তের্বাক্যতাৎপর্য্যাদিজ্ঞানং সর্বেষামেব জ্ঞানসাধনম্, আচাৰ্য্যাদিষু পুনর্বিকল্প- সমুচ্চয়াবিত্যর্থঃ। অধিকারিভেদেন জ্ঞানহেতুযু বিকল্পেহপি তেষামম্মাসু সমুচ্চয়াৎ ন শ্রুতিস্মৃতি- বিরোধোহস্তি, ইত্যুপসংহরতি—তন্মাদিতি ॥ ৩৯ ॥ ২ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—“সোহবিভেৎ” ইত্যাদি। সেই প্রজাপতি—যিনি প্রথম শরীরী পুরুষাকার বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন, তিনি ভীত হইয়াছিলেন,—বলা হইল যে, তিনিও আমাদেরই মত ভয় পাইয়াছিলেন। যেহেতু পুরুষবিধ—দেহে- ন্দ্রিয়বিশিষ্ট প্রজাপতি আপনার বিনাশাদিবিষয়ক বিপরীত দর্শনে অর্থাৎ তাদৃশ ভ্রান্তিজ্ঞানের ফলে ভীত হইয়াছিলেন, সেই হেতু, অদ্যাপি তৎসমানজাতীয়(দেহে- ন্দ্রিয়সম্পন্ন) ব্যক্তি একাকী থাকিতে ভয় পায়। অপিচ, আমাদের ন্যায় তাঁহার পক্ষেও যথার্থ আত্মজ্ঞানই ভয়োৎপাদক ভ্রান্তিজ্ঞানের নিবৃত্তিসাধক। সেই এই প্রজাপতি আলোচনা করিয়াছিলেন; কি প্রকার? তাহা বলিতেছেন—যেহেতু আমা হইতে স্বতন্ত্র অর্থাৎ আমার অতিরিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীভূত অন্য কোনও বস্তু নাই; আমার বিনাশকর তাদৃশ বস্তুর অভাবে আমি কেন ভয় পাইতেছি? সেই কার- ণেই—যথাযথভাবে আত্মার স্বরূপ উপলব্ধির ফলেই প্রজাপতির সেই ভয় সম্পূর্ণরূপে অপগত হইয়াছিল। প্রজাপতির যে, সেই ভয়, তাহা কেবলই অজ্ঞানমূলক; সুতরাং আত্মদর্শন উপস্থিত হইলে তাহা কখনই থাকিতে পারে না; তাই বলি- লেন—‘কস্মাৎ হি অভেদ্যং’?—কি কারণে তিনি ভীত হইবেন? অভিপ্রায় এই যে, পরমার্থতত্ত্বের নিরূপণ হইলে, কখনই ত ভয়ের সম্ভাবনা থাকে না; যেহেতু দ্বিতীয় বস্তু হইতেই ভয় হইয়া থাকে, অথচ দ্বিতীয় বস্তুমাত্রই অবিদ্যা-সমুত্থিত; সুতরাং অপর কোন প্রকার দ্বিতীয় পদার্থ জ্ঞানগোচর না হইয়া কখনই ভয়েৎ- পাদক হয় না; কেন না, শ্রৌত মন্ত্রে আছে যে, ‘যে লোক নিরন্তর একত্ব দর্শন করে, তাহার শোকই বা কি, আর মোহই বা কি?’ ইতি। অতএব তিনি যে, একত্বদর্শনের বলে ভয় নিবারণ করিয়াছিলেন, তাহা যুক্তিযুক্তই বটে। যুক্তিটা কি? যেহেতু দ্বিতীয় হইতেই—অপর বস্তু হইতেই ভয় হইয়া থাকে; একত্ব- দর্শনের বলে তাঁহার সেই দ্বৈতদর্শন অপনীত হইয়াছিল; কাজেই তাহার আর ভয়ের সম্ভাবনা ছিল না। ১

কেহ কেহ এস্থলে আপত্তি উত্থাপন করিয়া বলেন—প্রজাপতির একত্বদর্শন জন্মিল কোথা হইতে? কে-ই বা তাঁহাকে সে উপদেশ দিয়াছিল? যদি বিনা উপদেশেই ঐরূপ জ্ঞান হইয়া থাকে, তবে, আমাদেরও তাহা হইতে পারে; আর যদি বল, জন্মান্তরসঞ্চিত সংস্কারই ঐ একত্বদর্শনের মূল কারণ, তাহা হইলেও

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৮৯

একত্বদর্শনের কোন প্রয়োজন থাকিতেছে না। প্রজাপতির প্রাক্তন জন্মের একত্বদর্শন বিদ্যমান থাকিয়াও যেরূপ[সেই জন্মে] বন্ধ-জনক অবিদ্যার অপনয়নে সমর্থ হয় নাই, তদ্রূপ সকলের পক্ষেই একত্বদর্শন অনর্থক হইয়া পড়িতে পারে। প্রজাপতির যে, পূর্ব্বজন্মে বন্ধন-হেতু অবিদ্যা অপনীত হয় নাই, তাহা তাঁহার এ জন্মে ভয় দর্শনেই অনুমান করা যাইতে পারে। যদি বল, সর্বশেষে একত্বদর্শন হয়, তাহাই অবিদ্যা-নিবারক হয়; না,—তাহাও বলিতে পার না; কারণ, পূর্ব্বজন্মের ন্যায় এ জন্মেও তুল্যাবস্থার সম্ভাবনা রহিয়াছে; অতএব এই একত্বদর্শন অনর্থকই হইতেছে। ২

না,-অনর্থক হইতেছে না; কারণ, লোকপ্রাপ্তির ন্যায়, এখানেও হেতুটির উৎকর্ষ থাকা আবশ্যক হয়। যেমন পুণ্যকর্মসমুদ্ভূত বিশুদ্ধ দেহেন্দ্রিয়াদিবিশিষ্ট জন্মলাভ হইলেই প্রাক্তন জ্ঞানসংস্কারজাত বিমল স্মৃতিশক্তির আবির্ভাব দৃষ্ট হয়; তেমনি প্রজাপতিরও ধৰ্ম্ম, জ্ঞান, বৈরাগ্য ও ঐশ্বর্য্য প্রভৃতির প্রতিকূলভূত পাপের বিনাশ হইলেই বিশুদ্ধ উৎকৃষ্ট জন্ম লাভ সম্ভবপর হয়, এবং সেই জন্মে, স্বগত বিশুদ্ধিবলে বিনা উপদেশেও একত্বদর্শন লাভ করা অযৌক্তিক হইতে পারে না। স্মৃতিশাস্ত্রও বলিতেছেন যে, ‘প্রজাপতির অপ্রতিহত জ্ঞান, বৈরাগ্য, ঐশ্বর্য্য ও ধৰ্ম্ম, এই চারিটিই সহসিদ্ধ বা স্বাভাবিক’ ইতি। ভাল, প্রজাপতির জ্ঞানচতুষ্টয় যদি স্বভাবসিদ্ধই হয়, তাহা হইলে ত কখনই তাঁহার ভর হইতে পারে না,-স্বপ্রকাশ আদিত্যের সঙ্গে ত কখনও অন্ধকারের উদয় সম্ভব হয় না; না,-এ আপত্তিও হইতে পারে না; কারণ, উক্ত বাক্যোপদিষ্ট ‘সহসিদ্ধ’ কথার অর্থ-অন্যের উপদেশ ব্যতিরেকে লব্ধ। অভিপ্রায় এই যে, প্রজাপতির যে, অপ্রতিহত জ্ঞান, বৈরাগ্য, ধর্ম্ম ও ঐশ্বর্য্য, তাহা কাহারও উপদেশ হইতে লব্ধ হয় নাই, পরন্তু স্বীয় শক্তিবলেই লব্ধ হইয়াছে; এইজন্যই উহা ‘সহসিদ্ধ’ বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকে। ৩

ভাল, যদি মনে কর যে, বিনা উপদেশেই প্রজাপতির জ্ঞান লাভ হইয়াছিল, তাহা হইলে ত শ্রদ্ধা, তাৎপর্য্য বা একনিষ্ঠা ও প্রণিপাত প্রভৃতি জ্ঞানলাভের প্রসিদ্ধ হেতুগুলির অহেতুত্ব হইয়া পড়ে?—প্রজাপতির ন্যায় জন্মান্তরসঞ্চিত ধৰ্ম্ম হইতেই যদি জ্ঞানলাভের সম্ভব হয়, তাহা হইলে ত ‘শ্রদ্ধাবান, তৎপর(শ্রুতার্থে নিষ্ঠাবান্) ও সংযতেন্দ্রিয় ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করে’, ‘তুমি গুরুর নিকট যাইয়া প্রণিপাত দ্বারা তাহা অবগত হও’ ইত্যাদি শ্রুতিস্মৃতিবিহিত জ্ঞানহেতুগুলির অহেতুত্ব হইতে পারে, অর্থাৎ কারণতা প্রসিদ্ধিই ব্যাহত হইয়া যায়? না,—অহেতুত্ব

১৯০। সর্ব্বশাস্ত্রোপনিষদ্।

হয় না; কারণ, নিমিত্তসমূহের সমুচ্চয়(একত্র বহু নিমিত্তের উপস্থিতি), বিকল্প (পৃথগভাবে এক একটি নিমিত্তের উপস্থিতি) এবং অধিকারীর গুণবত্ত্ব ও অগুণ- বত্ত্বভেদে এ ‘আপত্তির সমাধান হইতে পারে। জগতে যে সমস্ত কার্য্য-পদার্থ নিমিত্তবিশেষ হইতে সমুৎপন্ন হয়, তাহাদের সেই নিমিত্তভেদ অনেকপ্রকার কল্পনা করা হইয়া থাকে। সেইরূপ, নিমিত্তসমূহের আবার সমুচ্চয় এব বিকল্প ব্যবস্থাও দেখা যায়। সেই বিকল্পিত বা সমুচ্চিত নিমিত্তসমূহের মধ্যেও আবার গুণগত উৎকর্ষ ও অপকর্ষানুসারে বহু প্রভেদ ঘটিয়া থাকে। দৃষ্টান্ত এই যে, সাধারণতঃ চক্ষু’ ও আলোকপ্রভৃতি বহুবিধ নিমিত্তের সাহায্যে শ্বেত-পীতাদি রূপবিষয়ে জ্ঞান সমুৎপন্ন হইয়া থাকে, সুতরাং চাক্ষুষ জ্ঞানটা নৈমিত্তিক; কিন্তু সেই একই রূপজ্ঞান কার্য্য সম্পাদনে, দেখিতে পাওয়া যায়, রাত্রিচর শৃগাল প্রভৃতির সম্বন্ধে অন্ধকারের মধ্যেও আলোক নিরপেক্ষ শুধু চক্ষুঃসংযোগই নিমিত্তকারণ হইয়া থাকে, যোগিগণের পক্ষে মনই রূপজ্ঞানের একমাত্র নিমিত্ত হইয়া থাকে, কিন্তু আমাদের পক্ষে আবার সেই রূপ জ্ঞানেই চক্ষুঃস-যোগ ও আলোক আলোকের মধ্যেও আবার সূর্য্য চন্দ্রাদি বিবিধ আলোকের সহিত সমুচ্চিত বা একত্রিত হইয়া নিমিত্তগত প্রভেদ জন্মাইয়া থাকে; অধিকন্তু সেই বিশেষ বিশেষ আলোকেরও গুণগত উৎকর্ষাপ কর্যানুসারে ‘কার্য্যোৎপাদনে’ বহুপ্রকার প্রভেদ সঘটিত হইয়া থাকে। এই প্রকার আত্মৈকত্বজ্ঞান সম্বন্ধেও কোথাও জন্মান্তরকৃত কর্ম্মই নিমিত্ত হইয়া থাকে, যেমন প্রজাপতিব হইয়াছিল, কোথাও বা কেবল তপস্যাই নিমিত্ত হইয়া থাকে; কারণ, শ্রুতি বলিয়াছেন-‘তপস্যা দ্বারা ব্রহ্মকে বিশেষরূপে অবগত হও’: কোথাও আবার ‘উপযুক্ত আচার্য্যবান্ পুরুষই তাহাকে জানেন’, ‘শ্রদ্ধাবান্ ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করেন’, ‘গুরুব নিকট প্রণিপাত(প্রণতি) দ্বারা সেই তত্ত্ব অবগত হও’, ‘আচার্য্য হইতে লব্ধ বিদ্যাই বীর্য্যবতী হয়’, ‘আত্মাকে শ্রবণ করিবে, দর্শন করিবে, এবং প্রত্যক্ষ করিবে’ ইত্যাদি শ্রুতিস্মৃতি হইতে জানা যায় যে, পাত্র- বিশেষে শ্রদ্ধা প্রভৃতিও জ্ঞানলাভের একান্ত বা অব্যভিচারী নিমিত্ত কারণ; কেন না, শ্রদ্ধা প্রভৃতি দ্বারা জ্ঞানপ্রতিবন্ধক অধর্ম্মাদি দোষগুলি বিদূরিত হইয়া যায়। বেদান্তশাস্ত্রের যে, শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন, সে সমুদয়েরও মুখ্য বিষয় হইতেছে-সাক্ষাৎ বিজ্ঞের ব্রহ্মবস্তু। বিশেষতঃ জ্ঞানপ্রতিবন্ধক পাপাদি দোষগুলি বুদ্ধি ও মন হইতে বিদূরিত হইলে পর, স্বভাবতঃ সত্যগ্রাহী বুদ্ধির পক্ষে একত্বদর্শন সম্পাদন করা ত স্বভাবসিদ্ধই বটে; অতএব, শ্রদ্ধা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৯২।

প্রভৃতি জ্ঞানহেতুগুলির কস্মিন্ কালেও জ্ঞানহেতুত্ব ব্যাহত হইতে পারে না(১) ॥ ৩৯ ॥ ২ ॥ স বৈ নৈব রেমে, তস্মাদেকাকী ন রমতে, স দ্বিতীয়মৈচ্ছৎ। স হৈতাবানাস—যথা স্ত্রীপুমাংসৌ সম্পরিষক্তৌ; স ইমমেবা- ত্মানং দ্বেধাপাতয়ৎ ততঃ পতিশ্চ পত্নী চাভবতাং, তস্মাদিদ- মর্দ্ধবৃগলমিব স্ব ইতি হ স্মাহ যাজ্ঞবল্ক্যস্তস্মাদয়মাকাশঃ স্ত্রিয়া পূর্য্যত এব, তাং সমভবৎ ততো মনুষ্যা অজায়ন্ত ॥ ৪০ ॥ ৩ ॥

সরলার্থঃ।-[প্রজাপতেঃ সংসারান্তর্গতত্বমের সমর্থয়িতুং পুনরাহ-] “স বৈ” ইত্যাদি। সঃ(প্রথমোৎপন্নঃ প্রজাপতি’ বৈ যস্মাৎ একাকী সন্] ন এব(নিশ্চয়ে) রেমে(রতিং ন অনুভূতবান্, তস্মাৎ হেতোঃ)[ইদানীমপি জনঃ] একাকী(দ্বিতীয়রহিতঃ সন্) ন রমতে(বতি ন অনুভবতি)। সঃ(এবম্ অরতিযুক্তঃ প্রজাপতিঃ) দ্বিতীয়ং(আত্মনঃ সহায়ভূত অন্যৎ কিঞ্চিৎ) ঐচ্ছৎ (অভিলষিতবান্)। স. হ[সত্যসঙ্কল্পত্বাৎ] এতাবান্ এতৎপরিমাণঃ) আস (বভুব), -যথা সম্পরিষক্তে।(পরম্পরালিঙ্গিতে,) স্ব’ প্রমা সৌ(স্ত্রী চ পুমান্ চ, তোঁ-স্বাপুমা সে, তথা আত্মানমের স্ত্রীপবিষক্তমিব মেনে ইত্যর্থঃ)। সঃ । এব-ভাবাপন্নঃ প্রজাপতিঃ) ইমম্ আত্মানম্(স্বদেহম এব দ্বেধা(দ্বিপ্রকারেণ -স্ত্রীপুংরূপেণ) অপাতয়ং(বিভক্তম্ অকরোৎ, ততঃ দ্বেধাকরণাৎ) পতিঃ চ

(১) তাৎপয্য--ভাষ্যেক্ত “নিমিত্তবিকল্প-সমুচ্চয়-গুণবদগুণবভেদোপপত্তেঃ” কথার অভিপ্রায় এই যে,-কায। মাত্রেরই কতকগুলি নিমিত্ত থাকে, কিন্তু স্থলভেদে সেই নিমিত্ত- গুলিব অনেকপ্রকার ব্যবস্থা দেখা যায়; কোন স্থানে সমস্ত নিমিত্তগুলিরই আবশ্যক হয়, কোন স্থলে বা কয়েকটির মাত্র অপেক্ষা হয়; আবার একের সম্বন্ধে যে যে নিমিত্ত আবশ্যক হয়, অপরের সম্বন্ধে সে সমুদায়ের অপেক্ষা হয় না। তাহার ডপব আবাব নিদ্দিষ্ট নিমিত্তগুলির এবং কায্যক্ষেত্রের গুণগত উৎকষাপকর্ষও কার্য্যের বৈচিত্রা ঘটাইয় থাকে; যেখানে উৎকৃষ্টগুণ- সম্পন্ন একটিমাত্র নিমিত্ত দ্বারা কাৰ্য্য সম্পন্ন হইতে পারে, সেখানেই অপেক্ষাকৃত হীনগুণসম্পন্ন একাধিক নিমিত্তের প্রয়োজন হইয়া পড়ে. ইত্যাদি বহু কারণে বুঝা যায় যে, কার্য্য বিশেষের জন্য নির্দিষ্ট নিমিত্তগুলির যে, সর্ব্বত্রই সমানভাবে প্রয়োজন হয়, তাহা নহে, পরন্তু যেখানে যতটুকু দরকার, সেখানে ততটুকুমাত্রই গ্রহণ করিতে হয়। কিন্তু তা’ বলিয়া নির্দিষ্ট নিমিত্ত- গুলির নিমিত্তত্ব নষ্ট হইতে পারে না। আলোচ্য স্থলেও প্রজাপতির পক্ষে শ্রদ্ধা প্রণিপাতাদি নিমিত্তের আবশ্যক না থাকিলেও, অন্যের পক্ষে যখন আবশ্যকতা রহিয়াছে, তখন শ্রদ্ধা প্রভৃতির অনিমিত্ততা শঙ্কা হইতেই পাবে না।

১২২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পত্নী চ অভবতাং(পতি-পত্যৌ জাতে); তস্মাৎ--(যস্মাৎ প্রজাপতেঃ শরীরার্দ্ধম্ এব পত্নী অভূৎ, তস্মাৎ হেতোঃ) ইদং স্বঃ(আত্মনঃ শরীরং)) অর্দ্ধবৃগলং (অদ্ধং চ তৎ বৃগলং বিদলং দলাদ্ধমিতি যাবৎ) ইব, —ইতি যাজ্ঞবল্ক্যঃ(তন্নামা ঋষিঃ) আহ স্ম। তস্মাৎ(হেতোঃ) আকাশঃ আকাশবৎ শূন্যপ্রায়ঃ) অয়ং (পুংদেহঃ) স্ত্রিয়া(অদ্ধাঙ্গভূতয়া) পূর্য্যতে পূর্ণঃ ভবতি এব(নিশ্চয়ে)। তাং(শরীরাদ্ধভূতাং শতরূপাখ্যা-স্থিয়) সমভবৎ(মিথুনীভাবেন উপাগচ্ছৎ) [মনুস জ্ঞকঃ প্রজাপতিঃ!; ততঃ তস্মাৎ উপগমনাৎ; মনুষ্যাঃ। মানবাঃ অজায়ন্ত উৎপন্নাঃ।॥ ৪০ ॥ ৩ ॥

মূলানুবাদ।—সেই প্রজাপতি একাকী তৃপ্তিলাভ করিতে পারিলেন না; সেইজন্য এখনও লোকে একাকী থাকিয়া সন্তুষ্ট হয় না: তিনি আপনার দ্বিতীয়(স্ত্রী) কামনা করিলেন; তাহার পর তিনি এইরূপ ভাবাপন্ন হইয়াছিলেন—পরস্পর আলঙ্গিত স্ত্রী-পুরুষ যেরূপ হয়। তিনি এই স্বীয় দেহকেই দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছিলেন; তাহার ফলে পতি ও পত্নী এই দুইটি রূপ উদ্ভূত হইয়াছিল। এইজন্যই যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি[পত্নী- রহিত] এই নিজ দেহকে অর্দ্ধবৃগলের ন্যায়—অর্দ্ধাংশশূন্য শস্যবীজের মত বলিয়াছিলেন; সেই কারণে আকাশ, অর্থাৎ শূন্যপ্রায় এই দেহ নিশ্চয়ই স্ত্রী দ্বারা পূর্ণতা লাভ করিয়া থাকে। সেই প্রজাপতি—যিনি মনু নামে পরিচিত, তিনি সেই শরীরার্দ্ধভূতা স্ত্রীতে—যাঁহার নাম শতরূপা, সেই পত্নীতে মিথুনীভাবে উপগত হইয়াছিলেন; তাহা হইতে মনুষ্যগণ উৎপন্ন হইল ॥ ৪০ ॥ ৩ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—ইতশ্চ স সাববিষয় এব প্রজাপতিত্বম্, যতঃ সঃ প্রজাপতির্ব্বৈ নৈব রেমে রতিং নান্বভবৎ—অরত্যাবিষ্টোহভূদিত্যর্থঃ, অম্মদা- দিবদেব যতঃ; ইদানীমপি তস্মাদেকাকিত্বাদিধৰ্ম্মবত্ত্বাৎ একাকী ন রমতে রতিং নানুভবতি। রতিনামেষ্টার্থসংযোগজা ক্রীড়া, তৎপ্রসঙ্গিন ইষ্টবিয়োগাৎ মনস্যা- কুলীভাবোহরতিরিতুচ্যতে। সঃ তস্যা অরতেরপনোদায় দ্বিতীয়ম্ অরত্যপঘাতসমর্থং স্ত্রীবস্তু ঐচ্ছৎ গৃদ্ধিমকরোৎ। তস্য চৈবং স্ত্রীবিষয়ং গৃদ্ধ্যতঃ স্ত্রিয়া পরিষক্ত- শ্যেবায়নো ভাবো বভূব।

সঃ তেন সত্যেপ্সু ত্বাৎ এতাবান্ এতৎপরিমাণ আস বভূব হ। কিম্পরিমাণঃ? ইত্যাহ—যথা লোকে স্ত্রী-পুমাংসৌ অবত্যপনোদায় সম্পরিষক্তৌ যৎপরিমাণৌ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৯৩

স্যাতাম্, তথা তৎপরিমাণো বভূবেত্যর্থঃ। স তথা তপরিমাণমেব ইমমাত্মানং দ্বেধা দ্বিপ্রকারমপাতয়ৎ পাতিতবান্। ‘ইমমের’ হত্যবধাবণ মূলকারণাদ্বিরাজো বিশেষণার্থম্। ন ক্ষীরস্য সর্ব্বোপমর্দ্দেন দধিভাবাপত্তিবং বিবাট্ সর্ব্বোপমর্দ্দেন এতাবানাস; কি’ তহি? আত্মনা ব্যবস্থিতস্যৈব বিরাজ সত্যসঙ্কল্পত্বাদ্ আত্মব্যতি- রিক্ত, স্ত্রী-পুংসপবিঘক্তপরিমাণ, শরীরান্তর বভূব। ২ এব চ বিরাট্ তথাভূতঃ —‘স হৈতাবানাস’ ইতি সামানাধিকবণ্যাৎ। ততস্তস্মাৎ পাতনাৎ পতিশ্চ পত্নী চাভবতাম্ —ইতি দম্পত্যোনির্বচন লৌকিকযোঃ, অতএব তস্মাদ—যম্মাদাত্মন এবান্ধঃ পৃথগ ভূতঃ -যেয় স্ত্রী, তস্মাৎ হৃদ শরীরমায়োহদ্ব বৃগলম্, অর্দ্ধঞ্চ তদ্‌দ্রগল বিদলঞ্চ -তদন্ধরগল বিদল অদ্ধবিদলামরেণ্যথ, পাক্ স্থ্যদ্বহনাৎ। কস্যাদ্ধরগুলমিত্যুচ্যতে--স্ব আত্মন ইতি। এবমাহ স্ম উক্তবান্ কিল যাজ্ঞবল্ক্যঃ যজ্ঞস্থ্য বঃ। ব-যজ্ঞবন্ধঃ, তস্যাপত্যং যাজ্ঞবন্ধ্যো দৈববাতিবিত্যর্থঃ, বন্ধণো বা অপতাম। যস্মাদয় পুকরাদ্ধ আকাশঃ স্বাদ্ধশন্য’, পুনরুরুহনাৎ তস্মাৎ পর্য্যতে স্বাদেন, পন সম্পাকণেনের বিদলার্দ্ধঃ। তা স প্রজাপতিস্মন্নাখ্যঃ শতরূপাখ্যান আত্মনে। ৮‘০০৮ পত্নীতেন কল্পিতাং সমভবৎ মৈথুনমুপগতবান। ততস্তস্মাৎ তদুপ১০০২ মনুষ্যা অজায়ন্তোৎ- পন্নাঃ ॥ ৪০ ॥ ৩ ॥ টাকা।--প্রজাপতেভযাবিষ্টত্বেন সংসাবান্তভূতত্বমুকম্, তত্রব হেত্বন্তরমাহ— ইতশ্চেতি। অরত্যাবিস্তত্বে প্রজাপতেবেকাকিত্বং হেত্ববঃ। তত্রব হেত্ব। কায্যস্থারতিঃ কারণস্থারতেলিঙ্গমিত্যনুমানং সূচয়তি-হদান মপীতি। তত্রব হেত্বান ভয়াবিষ্টত্বাদিগ্রহঃ। অবতিং প্রতিযোগিনিকক্তিদ্বারা নির্ব্বক্তি-বতিনামেতি। ব তত্রব হেত্ব যথোক্তারতিনিরসন- মিত্যাশঙ্ক্য স দ্বিতীয়মৈচ্ছদিতেত্যদ্বাচষ্টে--স তস্যা ইতি। তত্রব বাকস্য পাতনিকাং করোতি-তস্যেতি। তেন ভাবেনেতি যাবৎ। কপমভিমানমাত্রেণ যথোত্তমামাণত্বম, তত্রাহ—সত্যোতি। নিপাতোহযধারণে। তস্যৈব পুনবনুবাদোহদ্ব্যর্থঃ। পাষাণমের গদ্যপূর্ব্বকং বিবৃণোতি— কিমিতাদিনা। সম্প্রতি স্বাপু‘সয়োকৎপত্তিমাহ—স তথো। ৩। ননু স্বধাভাবো বিরাজো বা সংসক্তস্ত্রপুংসাগতস্য পিণ্ডস্য বা? নাদ্য’, সশব্দেন বিরাডগহাযোগাৎ, তস্য কর্ম্মহাৎ; দ্বিতীয়ে তু আত্মশব্দানুপপত্তিস্তত্রাহ—ইমমিতি। তথা চ সশব্দেন কওয়া এবাডগণমবিরুদ্ধমিত্যর্থঃ। তদেব স্ফুটয়তি--নেত্যাদিনা। কস্য তহি দ্বিধাকরণম্? ২০[শ্লোক]—কিং তহীতি। তচ্চ দ্বিধাকরণকর্ম্মেতি শেষঃ। কথং তহি তত্রাত্মশব্দঃ সম্ভবতীত্যাশয়। স এব চেতি। তথাভূতঃ সংসক্তজায়াপুংপ(স্প)রিমাণোঽভুদিতি যাবৎ। ন কেবল’ মনু, শ-ব-নযোবের দম্পত্যোরিদং নির্বচনং, কিন্তু লোকপ্রসিদ্ধয়োঃ সদ্বয়োরেব তয়োরেতদ্ দম্ভ, সদ্বণ্যাস্য সম্ভবাদিত্যাহ— লৌকিকয়োরিতি। উক্তে নির্বাচনে লোকানুভবমনুকূলয়তি -০আদা০। পাগিতি সহধর্ম্ম-

৭৫

১৯৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

চারিণীসম্বন্ধাৎ পূর্ব্বমিত্যর্থঃ। আকাক্ষাদ্বারা ষষ্ঠীমাদায় অনুভবমবলম্ব্য ব্যাচষ্টে—কস্যেত্যাদিনা। বৃগলশব্দো বিকারার্থঃ।

অনুভবসিদ্ধেহর্থে প্রামাণিকসম্মতিমাহ—এবমিতি। দ্বেধাপাতনে সতি একো ভাগঃ পুরুষঃ, অপরস্তু স্ত্রীতি। অত্রৈবহেত্বন্তরমাহ—যম্মাদিতি। উম্বহনাৎ প্রাগবস্থায়াম্ আকাশঃ পুরুষার্দ্ধঃ স্বার্দ্ধশূন্যো যম্মাদসম্পূর্ণো বর্ত্ততে, তস্মাৎ উদ্বহনেন প্রাপ্তস্ত্র্যর্দ্ধেন পুনরিতরো ভাগঃ পূর্ব্বতে, যথা বিদলার্দ্ধোহসম্পূর্ণঃ সম্পুটীকরণেন পুনঃ সম্পূর্ণঃ ক্রিয়তে, তদ্বদিতি যোজনা। পূর্ব্বমপি স্বাভাবিকযোগ্যতাবশেন সংসর্গোহভূৎ, অনাদিত্বাৎ সংসারস্যেতি সুচয়িতুং পুনরিত্যুক্তম্। পুরুষার্দ্ধস্যেতরার্দ্ধস্য চ মিথঃ সম্বন্ধাৎ মনুষ্যাদিসৃষ্টিরিত্যাহ—তামিত্যাদিনা॥ ৪০॥৩॥

ভাষ্যানুবাদ। -এই কারণেও প্রাজাপত্য পদটি সংসারান্তর্গত; যেহেতু সেই প্রজাপতি নিশ্চয়ই রতি-প্রীতি অনুভব করিতে পারিলেন না; ঠিক আমা- দেরই মত অতৃপ্তিসম্পন্ন হইয়াছিলেন। সেই হেতুই এখনও একাকী অবস্থায় কোন ব্যক্তিই রতি অনুভব করে না। রতি অর্থ-অভীষ্ট বস্তুর প্রাপ্তিজন্য ক্রীড়া বা আমোদ। যে লোক অভীষ্ট বস্তু পাইতে প্রয়াসী, তাহার পক্ষে অভিলষিত বস্তুর বিচ্ছেদ হইলে মনে যে, আকুলতা-অরতি হওয়া, তাহা যুক্তিযুক্তই বটে। তিনি(প্রজাপতি) সেই অরতি অপনোদনের জন্য অরতিনিবারণক্ষম অপর কিছু অর্থাৎ স্ত্রীপদার্থ ইচ্ছা করিয়াছিলেন,-তিনি স্ত্রী-বস্তু পাইতে অভিলাষ করিয়া- ছিলেন। তিনি এইরূপ স্ত্রীলাভের ইচ্ছা করিলে পর, স্ত্রীসংযুক্তের ন্যায় তাঁহার মানসিক ভাব উপস্থিত হইয়াছিল, অর্থাৎ আপনাকে যেন স্ত্রীসংযুক্ত বলিয়া মনে করিতেছিলেন। তিনি সত্যসঙ্কল্প; এইজন্য সেই ইচ্ছার ফলে এতাবান্-এবং- বিধ হইয়াছিলেন। কি প্রকার হইয়াছিলেন, তাহা বলিতেছেন-জগতে স্ত্রী ও পুরুষ যেরূপ নিরানন্দভাব অপনোদনের জন্য পরস্পরে মিলিত হইয়া যে পরি- মাণ হয়, ঠিক সেইরূপ-সেই পরিমাণই হইয়াছিলেন। তিনি ঐরূপ ভাবনানু- সারে আপনার এই দেহকেই দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছিলেন। “ইমমেব দেহং” (এই দেহকেই) এইরূপ বিশেষ করিয়া নির্দেশের অভিপ্রায় এই যে, মূলকারণ হইতে বিরাটদেহের বৈলক্ষণ্য প্রদর্শন করা, অর্থাৎ দুগ্ধ যেরূপ আপনার স্বরূপটি সম্পূর্ণরূপে বিমদ্দিত বা বিকৃত করিয়া পশ্চাৎ দধিভাবে পরিণত হয়, কিন্তু বিরাটপুরুব সেরূপ আপনার স্বরূপটি সম্পূর্ণরূপে বিমদ্দিত করিয়া উক্ত পরিমাণ- বিশিষ্ট হন নাই; পরন্তু তাঁহার স্বরূপ পূর্ব্বে যেরূপ ছিল, সেইরূপই রহিল; আপনার অমোঘ সঙ্কল্পবশে তাঁহা হইতে স্বতন্ত্র, সমালিঙ্গিত স্ত্রীপুরুষাকার একটি মূর্তিতে অভিব্যক্ত হইলেন; কিন্তু সেই বিরাটরূপের কোনও পরিবর্তন হয় নাই। “সহ এতাবান্” এই সামানাধিকরণ্য হইতে অর্থাৎ ‘সঃ’ পদের সহিত

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

১৯৫

‘এতাবান্’ পদের অর্থগত অভেদ নির্দেশ হইতেও এইরূপ অর্থই অবধারিত হইতেছে(১)।

সেইরূপে দুইভাগে পাতন করাতেই-দেহকে দুইভাগে বিভক্ত করাতেই পতি ও পত্নী নাম হইয়াছিল। ইহাই হইল ব্যবহারসিদ্ধ ‘দম্পতি’(পতি ও পত্নী) শব্দের নির্বচন বা ব্যুৎপত্তিপ্রণালী। যেহেতু এই যে, স্ত্রামূর্ত্তি, ইহা আত্মারই পৃথগভাবে অবস্থিতিমাত্র; সেই হেতু আপনার(স্ত্রীবিযুক্ত) শরীরটি ‘অর্দ্ধবৃগল’ অর্দ্ধাংশ, কেবল অর্থাৎ অর্দ্ধ অথচ বৃগল-অন্ধরগল,-দার-পরিগ্রহের পূর্ব্বে যেন অর্দ্ধাংশে খণ্ডিতই থাকে। দারপরিগ্রহের পূর্বে কাহার অর্দ্ধ বৃগল(অর্দ্ধাংশ), তাহা বলিতেছেন,-নিজের, অর্থাৎ আপনারই ‘অন্ধবৃগল’ ছিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি একথা বলিয়াছিলেন। যাজ্ঞবল্ক্য শব্দের অর্থ এইরূপ -বল্ক অর্থ-বক্তা; যজ্ঞের বন্ধ-যজ্ঞবন্ধ; তাহার পুত্র-যাজ্ঞবল্ক্য[তদ্ধিত অন্ প্রতায়], ‘দৈবরাতি’ ইঁহার নামান্তর। অথবা, যজ্ঞবন্ধ অর্থ-ব্রহ্মা, তাঁহার পুত্র--যাজ্ঞবল্ক্য। যেহেতু অর্দ্ধাংশ- রূপ এই পুরুষদেহ আকাশ অর্থাৎ স্ত্রীরূপ অদ্ধাংশশূন্য, সেই হেতুই সংযোজনের পর বিদলিত অদ্ধাশ যেমন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়, তেমনি বিবাহের পরে পুরুষের ঐ শূন্য দেহও অপরাদ্ধ-স্ত্রীদেহ দ্বারা পূর্ণতা লাভ করে। সেই প্রজাপতি,-যাঁহার অপর নাম মনু, তিনি আপনার পত্নীরূপে পরিকল্পিত সেই শতরূপানামী দুহি- তাতে সঙ্গত স্ত্রী-পুরুষভাবে উপগত হইয়াছিলেন। সেই উপগমনের ফলে মনুষ্যগণ জন্মলাভ করিয়াছে-উৎপন্ন হইয়াছে ॥ ৪৭ ॥ ৩॥

সো হেয়মীক্ষাঞ্চক্রে কথং নু মাত্মন এব জনয়িত্বা সম্ভবতি, হন্ত তিরোহসানীতি, সা গৌরভবদূষভ ইতরস্তান্ত সমেবাভবৎ, ততো গাবোহজায়ন্ত, বড়বেতরাভবদশ্ববুন ইতরো গর্দভীতরা গর্দভ ইত-

১৯৬, ব্রহ্মরথাকোপনিষদ্।

রস্তাহ সমেবাভবৎ, তত একশফমজায়তাহজেতরাভবদ্বন্ত ইতরো- হবিরিতরা মেষ ইতরস্তাংসমেবাভবং, ততোহজাবয়োহজায়ন্তৈবমেব যদিদং কিঞ্চ মিথুনমা পিপীলিকাভ্যস্তং সর্ব্বমসৃজত ॥ ৪১ ॥ ৪ ॥

সরলার্থঃ।—সা(পূর্ব্বোক্ত। হয়(শতরূপা), উচ(বিতর্কে) ঈক্ষা চক্রে মনসি আলোচনা কৃতবতী —নু। বিতর্কে। মা। মা) আত্মনঃ এবং জনবিত্বা, উৎপাদ্য) কথ সম্ভবতি উপগচ্ছতি ও হন্ত খেদে তিরোহ সানি অন্তহিতা ভবেরম ইতি। এব নিশ্চিত। সা গৌঃ গোরূপা অভবৎ, [তস্যা, তৎ চেষ্টিত বিদিত্বা। হতঃ মনু অপি ঋষভঃ। বৃষভ সন। তা শোভপ শতরূপামেব) সমভবৎ উ-ওদান, ততঃ তস্মাৎ উপগমনাৎ গাব, অজবস্তু(উৎপন্নাঃ। অনন্তর হতঃ শতরূপা বড়বা(অশ্বী অভবং হতব। মনুশ্চ) অশ্ববন অশ্বপনন হতবা শতরূপা গদ্দভা হতঃ মনু, গদ্দভ, সন ২০ম ন এব সমভবৎ উপগত তত কশন(অবিভক্তগবম অশ্বান০৭৮৬৩ অজানত। হতবা অজ অভনং হতঃ বস্তুঃ অ-২ং ৩০৭ ৩‘ন মোহা ২০বশ মে অ-২ং। এব রূপ মনু, তান ৫৯০০০৩ ০৪২০১ গমা অজানব অজান্ত অববঃ মেবাশ্চ অ-০২ ও দিয়া নাকালা পিলিকাপস। স্তম এবং কিঞ্চ মিথুন শ্রীপ ও বাষ্পর ০২ সরম এব.মব বৃন্দদেব অসুজত উৎপাদযামান মনু.০৫ পৃ.পৃ.০: ৬. ৮

মূলানুবাদ।—সেই শতরূপ চিন্তা করিলেন, ভাল, মনু আমাকে আপনা হইতেই উৎপন্ন করিয়া আমাতেই আবার উপগত হইলেন কি প্রকারে? যাহা হউক, আমি তিরোহিত হই—রূপান্তরে আবৃত হই। এইরূপ চিন্তা করিয়া তিনি গো হইলেন, তদ্দর্শনে মনুও বৃষভরূপী হইয়া তাহাতে উপগত হইলেন, সেই সংসর্গের ফলে গো-জাতির উৎপত্তি হইল; শতরূপা আবার অশ্বরূপা হইলেন, মনু তখন বলবান্ অশ্বরূপ ধারণ করিলেন; শতরূপা গর্দভী হইলেন, মনুও গর্দভ হইলেন; এইরূপে তিনি সেই শতরূপাতে রমণ করিলেন; তাহাতে একশফ— যাহাদের পায়ে একটিমাত্র খুর থাকে, সেই অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভজাতি উৎপন্ন হইল। পুনশ্চ শতরূপা অজা হইলেন, মনুও অজ(ছাগ)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১২৭

হইলেন; শতরূপা আবার মেষরূপ ধারণ করিলেন, মনুও মেষশরীর গ্রহণপূর্ব্বক তাহাতে উপগত হইলেন; তাহার ফলে ছাগ ও মেষজাতি জন্ম লাভ করিল। এইরূপেই পিপীলিকা হইতে আরম্ভ করিয়া যে কিছু স্ত্রীপুংভাবাপন্ন প্রাণী আছে, সে সমুদয় প্রাণী সৃষ্টি করিলেন ॥ ৪১ ॥ ৪ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সা শতরূপা উ ত ইব সেহ দুহিতৃগমনে স্মার্ত্তং প্রতিষেধমনুষ্মরন্তী ঈক্ষাঞ্চক্রে,—‘কথ, নু হদমর তাম, বৎমা মাম্ আত্মন এব জনরিত্বা উৎপাদ্য সম্ভবতি উপগচ্ছতি। যদ্যপ্যব নিরণ, অহ হন্তেদানী, তিরো- হসানি—জাত্যন্তবেণ তিরস্কৃতা ভবানি, ইত্যেবমাহিয়া অসে গৌবভবৎ। উৎ- পাদ্য-প্রাণিকৰ্ম্মভিশ্চোদ্যমানাযা পুন পুন, সৈব মতি তদ্বারা মনোশ্চাভবৎ। ততশ্চ ঋষভ ইতর., তা সমেবাভবদিশ্যাদি পুরুষং ততো গাবোহজায়ন্ত। তথা বড়বা ইতরাভবৎ, অশ্ববৃষ ইতরঃ। তথ গদভা, গদভ ইতরঃ। তত্র বড়বাশ্ববৃযাদানা সঙ্গমাৎ তত একশফ একশফ একশফ ত্রয়মজায়ত। তথা অজেতরাভবৎ, বস্তুশলাগ ইতরঃ। তত্র অনাদি মেধ ইতরঃ। তা সমেবাভবৎ। তত্র তামিতি বাষ্পা, তামজ্য। তত্র সমভবদেবেত্যর্থঃ। ৩৩ অজাশ্চ অবশশ্চ অজারবোহজান্ত। এবেদ বিঞ্চ বং কিঞ্চেদ- মিধন স্বপ্ন সনক্ষণ দ্বন্দম, আ পিপালিবাত। পারিবাত সহ অনেনৈব খ্যাবেন ৩২ সলমসূক্ত জগত সৃষ্টবান ॥ ৪ ॥ ৪ ॥

টাকা। স্ম’ও পাতযো মাত ‘ন গোত্রা’ সমানপ। । ১.৩ত” ইত্যাদিমিতি যাবৎ। অমৃত হদ’ যৎ দুহিতৃগমন’, মাতৃতশ্চাপঞ্চম পরনাং পিতৃশ্চাসপ্তমাদিতি স্মৃতেরিতি মহাহ - কথমিতি। তযোজ্ঞাত্যন্তবমন’ কথাম শব্দ। যদ্যপতি। শতরূপায়াং গোভাসমাপন্নায়ামৃষভাদিভাবো মনোভবতু, শবতা যথোত। শব, ৩যোব্বডবাদিভাবে তু ন কারণমস্ত তাশঙ্কাহ-ডৎপাদ্যে, ও। ততস্তস্য। গোবাদনস্ববামতি যাবৎ। গবাং জন্মার্থ মিথঃসম্ভবনং তত,শব্দার্থঃ। ৩ন তেষানুৎপত্তৌ স০ মাত পরবৎ। বাক্যদ্বয়ে বীপ্সা বিবক্ষিতেত্যাহ-তামিতি। তামেরাভিনযতি-তামজামি ৩। ৭ বড়বা তাং গর্দভীং চেত্যপি দ্রষ্টব্যম্। ততো মিথ সম্ভবনাদ্যখোক্তাদিতি যাবৎ। বিশেষোণামানন্ত্যাৎ প্রত্যেকমুপ- দেশাসম্ভবং মন্থানঃ সংক্ষিপ্তোপসংহবতি-এবমেবেতি। ২.৬.৮.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.২.

ভাষ্যানুবাদ।—সেই পূর্ব্বোক্ত এই শতরূপা মন্ত্রা দুহৃদগমনে স্মৃতি- শাস্ত্রোক্ত দোষ স্মরণপূর্ব্বক চিন্তা করিতে লাগিলেন, এরূপ অকার্য্য কিরূপে সম্ভবপর হয়? যে, আমাকে আপনা হইতেই উৎপাদন করিয়া কন্যা- স্থানীয় সেই আমাকেই সম্ভোগ করিতেছেন! যদিও ইনি(মনু) ঘৃণাশূন্য

১৯৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নির্লজ্জ হউন, তথাপি আমি তিরোহিত হই-ভিন্নজাতীয় শরীর গ্রহণ করিয়া আপনাকে আবৃত করি। শতরূপা এইরূপ বিবেচনা করিয়া গোরূপা হইলেন। স্রষ্টব্য বিভিন্ন প্রাণীর কর্মানুসারে শতরূপার ও তদুৎপাদক মনুর মনে বারং- বার সেই একই ভাবের উদর হইতে লাগিল। শতরূপা গোরূপ ধারণ করিলে পর, মনুও ঋষভ(বৃষ) হইয়া তাঁহাতে(শতরূপাতে) উপগত হইলেন, ইত্যাদি কথার ব্যাখ্যা পূর্ব্ববৎ। সেই সম্ভোগের ফলে গোজাতি জন্মলাভ করিল। শতরূপা বড়যা(ঘোটকী) হইলেন, মনুও অশ্বরূপী হইলেন; পুনরায় শতরূপা হইলেন গর্দভী, আর মনু হইলেন গর্দভ। তন্মধ্যে বড়বা প্রভৃতির সঙ্গে অশ্ববৃষ প্রভৃতির সঙ্গমের ফলে একশক, অর্থাৎ একখুরবিশিষ্ট অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভ, এই তিনটি জাতির জন্ম হইল। এইরূপ শতরূপা আবার হইলেন অজা, আর মনু হইলেন মেব; মনু তাহাতেও উপগত হইলেন;--এখানে ‘তাম্’ পদের বীপ্সা(দ্বিরুক্তি) বুঝিতে হইবে;[সুতরাং অর্থ হইতেছে-] সেই সেই অজা ও মেষাদিরূপ- প্রত্যেকেতেই উপগত হইয়াছিলেন। সেই সঙ্গমের ফলে ছাগ ও মেষজাতির জন্ম হইল। জগতে পিপীলিকা হইতে আরম্ভ করিয়া যত কিছু মিথুন- স্ত্রী-পুরুষভাবাপন্ন প্রাণী, তৎসমস্তই উক্ত প্রকার প্রণালী অনুসারে উৎপাদন করিলেন(১) ॥ ৪১ ॥ ৪ ॥

সোহবেদহং বাব সৃষ্টিরস্ম্যহং হাঁদং সর্ব্বমসৃক্ষীতি, ততঃ সৃষ্টিরভবৎ, সৃষ্ট্যাঙ্ হাস্যৈতস্যাং ভবতি য এবং বেদ ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ(প্রজাপতিঃ)[ইদং জগৎ সৃষ্ট্বা] অবেৎ অমন্যত); যৎ অহং(প্রজাপতিঃ) বাব(এব) সৃষ্টিঃ(সৃজ্যতে ইতি সৃষ্টিঃ—সৃষ্টং বস্তু) অস্মি(ভবামি); হি(যস্মাৎ) ইদং(দৃশ্যমানং) সর্ব্বং অসৃক্ষি(সৃষ্টবান্

(১) তাৎপর্য্য—আদিপুরুষ প্রজাপতি আপনার মানস সঙ্কল্প-প্রভাবে আপনার দেহ হইতেই একটি স্ত্রী ও পুরুষমূর্তিতে বিভক্ত হইলেন। সেই স্ত্রী ও পুরুষমূর্তি দুইটি তাঁহা হইতে বস্তুতঃ পৃথক্ না হইলেও, তাহা দ্বারাই পৃথগভাবে সৃষ্টিকার্য্য সম্পাদন করিতে লাগিলেন। ক্রমে মনুষ্য, গো প্রভৃতি প্রাণিনিবহ সৃষ্টি করিলেন এবং উত্তরোত্তর সেই সৃষ্টির বিকাশেই এই বিশাল প্রাণিজগৎ পরিপূর্ণ হইল। পুরুষটির নাম হইল মনু, আর স্ত্রীটীর নাম হইল শতরূপা।

যাঁহারা বলেন, এই প্রাণিজগতের সৃষ্টি এক সময়ে হয় নাই, প্রকৃতির পরিণাম-বৈচিত্র্যে অথবা ঈশ্বরের ভূয়োদর্শনজাত অভিজ্ঞতার ফলে ক্রমে ক্রমে এই জগৎ বিস্তৃতি লাভ করিয়াছে, তাঁহাদের উক্তি ইহার সম্পূর্ণ বিপরীত ও যুক্তিবিরুদ্ধ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ১৯৯

অস্মি) ইতি। ততঃ(যম্মাৎ প্রজাপতিরেব সৃষ্টিশব্দেন আত্মানং নিদ্দিদেশ, তস্মাৎ) সৃষ্টিঃ(সৃষ্টিনামা) অভবৎ[প্রজাপতিঃ]। যঃ এবং সৃষ্টিতত্ত্বং) বেদ (বিজানাতি),[সঃ] অন্য(প্রজাপতেঃ) এতস্যাং সৃষ্ট্যাং ভবতি(প্রভবতি— স্রষ্টা ভবতি ইত্যর্থঃ) ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

মূলানুবাদ?—সেই প্রজাপতি এই জগৎ সৃষ্টি করিয়া মনে মনে চিন্তা করিলেন—যেহেতু আমিই এই সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করিয়াছি, সেই হেতু আমিই সৃষ্টি, অর্থাৎ আমার সৃষ্ট সমস্ত পদার্থই মৎস্বরূপ। সেই চিন্তার ফলেই তাঁহার সৃষ্টি নাম হইল। যে লোক প্রজাপতির এবং- বিধ সৃষ্টিতত্ত্ব অবগত হন, তিনিও প্রজাপতির সৃষ্ট জগতে স্রষ্টৃত্ব লাভ করেন ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—স প্রজাপতিঃ সর্ব্বমিদং জগৎ সৃষ্ট্বা অবেৎ। কথম্? অহং বাব অহমেব সৃষ্টিঃ—সৃজ্যত ইতি সৃষ্ট, জগদুচ্যতে সৃষ্টিরিতি,—যন্ময়া সৃষ্টং জগৎ মদভেদত্বাৎ অহমেবাস্মি, ন মত্তো ব্যতিরিচ্যতে। কুত এতৎ? অহং হি যস্মাৎ ইদং সর্ব্বং জগদসূক্ষি সৃষ্টবানস্মি, তস্মাদিত্যর্থঃ। যস্মাৎ সৃষ্টিশব্দেন আত্মানমে- বাভ্যধাৎ প্রজাপতিঃ, ততস্তস্মাৎ সৃষ্টিরভবৎ সৃষ্টিনামাভবৎ। সৃষ্ট্যাং জগতি হ অস্য প্রজাপতেঃ এতস্যাম্ এতস্মিন্ জগতি স প্রজাপতিবৎ স্রষ্টা ভবতি, স্বাত্মনো- হনন্যভূতস্য জগতঃ। কঃ? য এবং প্রজাপতিবৎ যথোক্তং স্বাত্মনোহনন্যভূতং জগৎ, সাধ্যাত্মাধিভূতাধিদৈবং জগদহমস্মি ইতি বেদ ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

টীকা। যদ্যপি মম্বাদিসৃষ্টিরেবোক্তা, তথাপি সর্ব্বা সৃষ্টিরুক্তৈবেতি সিদ্ধবৎকৃত্যাহ-স প্রজাপতিরিতি। অবগতিং প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি-কথমিত্যাদিনা। কথং সৃষ্টিরস্মীত্যবধার্য্যতে, কর্তৃক্রিয়য়োঃ একত্বাযোগাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-সৃজ্যত ইতীতি। পদার্থমুক্ত। বাক্যার্থমাহ- যন্ময়েতি। জগচ্ছব্দাদুপরি তচ্ছন্দমধ্যাহৃত্য অহমেব তদস্মীতি সম্বন্ধঃ। তত্র হেতুমাহ- মদভেদত্বাদিতি। এবকারার্থমাহ-নেতি। মদভেদত্বাদিত্যুক্তমাক্ষিপ্য সমাধত্তে-কুত ইত্যাদিনা। ন হি সৃষ্টং স্রষ্টুরর্থান্তরং, তস্যৈব তেন তেন মায়াবিবৎ অবস্থানাদিত্যর্থঃ। ততঃ সৃষ্টিরিত্যাদি ব্যাচষ্টে-যম্মাদিতি। কিমর্থম্ স্রষ্টুরেষা বিভূতিরুপদিষ্টেত্যাশঙ্ক্যাহ-সৃষ্ট্যামিতি। জগতি ভবতীতি সম্বন্ধঃ। বাক্যার্থমাহ-প্রজাপতিবদিতি ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

ভাষ্যানুবাদ।--সেই প্রজাপতি এই বিশাল জগৎ সৃষ্টি করিয়া মনে করিয়াছিলেন। কি প্রকার? আমিই সৃষ্টি, অর্থাৎ আমি যে জগৎ সৃষ্টি করি- য়াছি, তাহা আমা হইতে ভিন্ন বা পৃথক্ বস্তু নহে; সুতরাং আমিই হইতেছি— সৃষ্টিস্বরূপ; সৃষ্টির কোন বস্তুই আমা হইতে অতিরিক্ত নহে। এখানে সৃষ্টি অর্থ

২০০ বৃহদারণ্যকোপনষদ্।

—যাহা সৃষ্ট হয়; সুতরাং সৃষ্টিশব্দে প্রজাপতি-সৃষ্ট সমস্ত জগৎই বুঝাইতেছে। কি কারণে প্রজাপতির সৃষ্টিরূপত্ব সম্ভব হয়? যেহেতু আমিই এই সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করিয়াছি, সেই হেতুই ইহা আমা হইতে অতিরিক্ত নহে। প্রজাপতি যেহেতু আপনাকেই সৃষ্টি শব্দে অভিহিত করিয়াছিলেন, সেই হেতুই প্রজাপতিসৃষ্ট এই জগন্মণ্ডলে সৃষ্টি নাম প্রচলিত হইয়াছে। সে ব্যক্তিও প্রজা- পতির ন্যায় আপনার অনতিরিক্ত জগৎনির্মাণে সমর্থ হয়; কোন্ ব্যক্তি? না, যে ব্যক্তি এই প্রকারে—প্রজাপতির ন্যায় আপনার অনতিরিক্তস্বরূপ এই জগৎকে ‘আমিই হইতেছি—অধ্যাত্ম, অধিদৈব ও অধিভূতাত্মক এই জগৎস্বরূপ’, এইরূপে অবগত হন, তিনি ॥ ৪২ ॥ ৫ ॥

অথেত্যভ্যমন্থৎ স মুখাচ্চ যোনেহস্তাভ্যাঞ্চাগ্নিমসৃজত, তস্মাদেতদুভয়মলোমকমন্তরতো অলোমকা হি যোনিরন্তরতঃ। তদ্যদিদমাহুরমুং যজামুং যজেত্যেকৈকং দেবমেতস্যৈব সা বিসৃষ্টিরেষ উ হ্যেব সর্ব্বে দেবাঃ।

অথ যৎকিঞ্চেদমার্দ্রং তদ্রেতসোহসৃজত, তদু সোমঃ, এতাবদ্বা ইদং সর্ব্বমন্নঞ্চৈবান্নাদশ—সোম এবান্নমগ্নিরন্নাদঃ, সৈযা ব্রহ্মণোহতিসৃষ্টিঃ। যচ্ছেয়সো দেবানসৃজতাথ যন্মর্ত্যঃ সন্নমৃতানসৃজত তস্মাদতিসৃষ্টিরতিসৃষ্ট্যাং হাস্যৈতস্যাং ভবতি য এবং বেদ ॥ ৪৩ ॥ ৬ ॥

সরলার্থঃ।—অথ(স্ত্রী-পুরুষসৃষ্টেরনন্তরং) সঃ(প্রজাপতিঃ) অভ্য- মন্থৎ(মন্থনমকরোৎ);[তদেব প্রপঞ্চয়ন্ আহ—] ইতি(এবংপ্রকারেণ) মুখাৎ যোনেঃ হস্তাভ্যাং চ[করণাভ্যাং](হস্তাভ্যাং মথ্যমানাৎ আত্মনো মুখ- . রূপাদ যোনেরিত্যর্থঃ) অগ্নিম্ অসৃজত(সৃষ্টবান্); তস্মাৎ(মন্থনজাগ্নিযোনিত্বাৎ হেতোঃ] এতৎ উভয়ং(হস্তৌ মুখং চ) অন্তরতঃ(অভ্যন্তরাবচ্ছেদেন) অলো- মকং(লোমবর্জিতং); হি(তথাহি) যোনিঃ(স্ত্রী-চিহ্নমপি) অন্তরতঃ(অভ্য- ন্তরে) অলোমকা(লোমরহিতা এব)। তৎ(তস্মাৎ হেতোঃ)[বাজ্জিকাঃ] দেবম্(অগ্নাদিকম্) একৈকং(স্বরূপতো ভিন্নং)[মন্যমানাঃ] যৎ আহুঃ (বদস্তি)—‘অমুং(অগ্নিং) যজ, অমুং(ইন্দ্রং) যজ’ ইতি,[তৎ ন সমীচীন- মিত্যভিপ্রায়ঃ।] হি(যস্মাৎ) সা-বিসৃষ্টিঃ(সর্ব্বা সৃষ্টিঃ) এতস্য(প্রজাপতেঃ)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২০১

এব। এবঃ(প্রজাপতিঃ) এব সর্ব্বে দেবাঃ(অগ্ন্যাদ্যাত্মকাঃ, অতো দৈবতভেদ- বুদ্ধিঃ ভ্রমরূপা ইত্যর্থঃ)।

[ভোক্তা অগ্নিরুক্তঃ, ইদানীং ভোগ্যমন্নমাহ-] অথ(অগ্নিসৃষ্ট্যনন্তরং) ইদং(অনুভূয়মানম্) যৎ কিঞ্চ(যৎকিঞ্চিৎ) আর্দ্র(দ্রবাত্মকং বস্তু, সোম ইতি যাবৎ), তৎ(সর্ব্বং) রেতসঃ(প্রজাপতেঃ স্বকীয়াৎ বাজাৎ) অসৃজত। তৎ (প্রজাপতিনা সৃষ্ট, দ্রবাত্মকং বস্তু) উ(নিশ্চয়ে) সোমঃ(অদনীয়ঃ সোমঃ)। ইদং সর্ব্বং(জগৎ) এতাবৎ বৈ(এতৎপরিমাণম্)-অন্ন চ এব, অন্নাদঃ চ এব (ভোক্তৃ-ভোগ্যাত্মকমেব)।[তত্র] সোমঃ এব অন্ন(ভক্ষণীয়ং), অগ্নিঃ এব চ অন্নাদঃ(অন্নভোক্তা)। সা এযা(বক্ষ্যমাণা) ব্রহ্মণঃ(প্রজাপতেঃ) অতিসৃষ্টিঃ (আত্মনোহপি অধিকা), যৎ শ্রেয়সঃ(প্রশস্যতরান্) দেবান্ অসৃজত(সৃষ্টবান্)। [কৃত এতৎ? ইত্যাহ-] যৎ[প্রজাপতিঃ স্বয়।] মর্ত্যঃ(মবণধৰ্ম্মা সন্) অমৃ- তান্(মরণশূন্যান-অসৃজত; তস্মাৎ(হেতোঃ)[দেবসৃষ্টিঃ] অতিসৃষ্টিঃ [উচ্যতে]। যঃ এব,(যথোক্তপ্রকার অতিসৃষ্টিতর, বেদ, সঃ অন্য(প্রজা- পতেঃ) অতিসৃষ্ট্যাং ভবতি(প্রভবতীত্যর্থঃ) ॥ ৪৩॥৬॥

মূলানুবাদ।—অতঃপর প্রজাপতি মন্থনক্রিয়া করিয়াছিলেন। [ সেই মন্থন দ্বারা] হস্ত ও মুখরূপ উৎপত্তিস্থান হইতে ভোক্তৃস্বরূপ অগ্নি সৃষ্টি করিলেন; এই কারণেই এই উভয় স্থান(মুখ ও হস্ত) অভ্যন্তরভাগে লোমবিহীন; উৎপত্তি-স্থান স্ত্রীচিহ্নও অভ্যন্তরে লোম- হীনই বটে। অতএব যাজ্ঞিকেরা যে, বলিয়া থাকেন, ‘অমুকের যাগ কর, অমুকের যাগ কর’, তাহাতে তাহারা ঐ সমস্ত দেবতাকে বিভিন্ন বলিয়াই মনে করেন;[ কিন্তু তাহা তাহাদের ভ্রম;] কারণ, ঐ সমস্ত দেবতা এই প্রজাপতিরই সৃষ্টি, এবং ইনিই সে সমস্ত দেবতাস্বরূপ।

অতঃ পর, যাহা কিছু আর্দ্র অর্থাৎ দ্রবময় রসময় বস্তু, তাহা তিনি রেতঃ হইতে(আত্মনিহিত বীজ হইতে) সৃষ্টি করিলেন। সেই আর্দ্র বস্তুটি হইতেছে সোম। এই সমস্ত সৃষ্টিই এতদুভয়াত্মক—অন্ন ও অন্নাদময় (ভোক্তৃ-ভোগ্যাত্মক); তন্মধ্যে সোমই অন্ন, আর অগ্নিই অন্নাদ অর্থাৎ অন্নভোক্তা। তিনি যে, নিজের অপেক্ষাও উৎকৃষ্টতর দেবতাগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন, ইহাই তাঁহার(প্রজাপতির) অতিসৃষ্টি অর্থাৎ উৎকৃষ্ট

२७

২০২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সৃষ্টি; যেহেতু তিনি নিজে মরণশীল(মর্ত্য) হইয়াও অমৃত অর্থাৎ মরণ- বিহীন দেবতাগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন; সেই হেতুই ইহা অতিসৃষ্টি। যে লোক প্রজাপতির এই সৃষ্টিতত্ত্ব যথোক্তপ্রকারে জানেন, তিনি নিজেও প্রজাতির অতিসৃষ্টিতে প্রভুত্ব লাভ করেন ॥ ৪৩ ॥ ৬ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্। - এবং স প্রজাপতির্জগদিদং মিথুনাত্মকং সৃষ্ট্বা ব্রাহ্মণা- দিবর্ণনিয়ন্ত্রীদেবতাঃ সিসৃক্ষুরাদৌ-অথ-ইতি শব্দদ্বয়মভিনয়প্রদর্শনার্থম্-অনেন প্রকারেণ মুখে হস্তৌ প্রক্ষিপ্য অভ্যমন্থৎ আভিমুখ্যেন মন্থনমকরোৎ। স মুখং হস্তাভ্যাং মথিত্বা, মুখাচ্চ যোনেহস্তাভ্যাঞ্চ যোনিভ্যাম্ অগ্নিং ব্রাহ্মণজাতেরনু- গ্রহকর্তারম্ অসৃজত সৃষ্টবান্। যস্মাৎ দাহকস্যাগ্নের্যোনিঃ এতদুভয়ং-হস্তৌ মুখঞ্চ, তস্মাদুভয়মপ্যেতদলোমকং লোমবিবর্জিতম্। কিং সর্ব্বমেব? ন; অন্তরতঃ অভ্য- ন্তরতঃ। অস্তি হি যোন্যা সামান্যমুভয়স্যাস্য। কিম্? অলোমকা হিযোনি- রন্তরতঃ স্ত্রীণাম্। তথা ব্রাহ্মণোহপি মুখাদেব জজ্ঞে প্রজাপতেঃ; তস্মাদেক- যোনিত্বাৎ জ্যেষ্ঠেনেবানুজোহনুগৃহ্যতে অগ্নিনা ব্রাহ্মণঃ। তস্মাদ্রাহ্মণোহগ্নি- দেবত্যো মুখবীর্য্যশ্চেতি শ্রুতিস্মৃতিপ্রসিদ্ধম্। ১

তথা বলাশ্রয়াভ্যাং বাহুভ্যাং বলভিদাদিকং ক্ষত্রিয়জাতি-নিয়ন্তারং ক্ষত্রিয়ঞ্চ। তস্মাদৈন্দ্রং ক্ষত্রং বাহুবীর্য্যঞ্চেতি শ্রুতৌ স্মৃতৌ চাবগতম্। তথা উরুত ঈহা- শ্রয়াদ্ বস্বাদিলক্ষণং বিশো নিয়ন্তারং বিশঞ্চ। তস্মাৎ কৃষ্যাদিপরো বস্বাদি- দেবত্যশ্চ বৈশ্যঃ। তথা পূষণং পৃথ্বীদৈবতং শূদ্রং চ পন্ড্যাং পরিচরণক্ষমম্ অসৃজ- তেতি শ্রুতিস্মৃতিপ্রসিদ্ধেঃ। তত্র ক্ষত্রাদিদেবতাসর্গমিহানুক্তং বক্ষ্যমাণমপি উক্ত- বদুপসংহরতি সৃষ্টিসাকল্যানুকীৰ্ত্ত্যে। যথেয়ং শ্রুতির্ব্যবস্থিতা, তথা প্রজাপ- তিরেব সর্ব্বে দেবা ইতি নিশ্চিতোহর্থঃ, স্রষ্টুরনন্যত্বাৎ সৃষ্টানাম্, প্রজাপতিনৈব সৃষ্টত্বাৎ দেবানাম্। ২

অথৈবং প্রকরণার্থে ব্যবস্থিতে তৎস্তুত্যভিপ্রায়েণ অবিদ্বন্মতান্তরনিন্দ্রোপন্যাসঃ। অন্যনিন্দা অন্যস্তুতয়ে(ক)। তৎ তত্র কৰ্ম্মপ্রকরণে কেবলযাজ্ঞিকা যাগকালে যদিদং বচ আহুঃ—‘অমুমগ্নিং যজ, অমুমিন্দ্ৰং যজ’ ইত্যাদি নাম-শস্ত্র-স্তোত্রকর্মাদি- ভিন্নত্বাৎ ভিন্নমেব অগ্ন্যাদিদেবম্ একৈকং মন্যমানা আহুরিত্যভিপ্রায়ঃ। তৎ ন তথা বিদ্যাৎ; যম্মাদেতস্যৈব প্রজাপতেঃ সা বিসৃষ্টির্দেবভেদঃ সর্ব্বঃ; এষ উ হি এব প্রজাপতিরেব প্রাণঃ সর্ব্বে দেবাঃ। ৩

(ক)—নিশ্লেষ্যপাদ্যনৈবনিশ্চয়নিশ্চিতার্থ, কিন্তু পশ্যতস্য ইতি ক্বচিৎ পাঠঃ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২০৩

অত্র বিপ্রতিপদ্যন্তে—পর এব হিরণ্যগর্ভ ইত্যেকে; সংসারীত্যপরে; পর এব তু মন্ত্রবর্ণাৎ—“ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুঃ” ইতি শ্রুতেঃ; “এয় ব্রহ্মৈব ইন্দ্র এষ প্রজাপতিরেতে সর্ব্বে দেবাঃ” ইতি চ শ্রুতেঃ; স্মৃতেশ্চ—

“এতমেকে বদন্ত্যগ্নিং মনুমন্যে প্রজাপতিম্” ইতি। “যোহসাবতীন্দ্রিয়োহগ্রাহ্যঃ সূক্ষ্মোহব্যক্তঃ সনাতনঃ। সর্ব্বভূতময়োহচিন্ত্যঃ স এব স্বয়মুদ্বভৌ ॥” ইতি চ।

সংসার্য্যেব বা স্যাৎ,-“সর্ব্বান্ পাপ্মন ঔষৎ” ইতি শ্রুতেঃ; ন হ্যসংসারিণঃ পাপ্মদাহপ্রসঙ্গোহস্তি; ভয়ারতি-সংযোগশ্রবণাচ্চ; “অথ যন্মর্ত্যঃ সন্নমৃতান- সৃজত” ইতি চ, “হিরণ্যগর্ভং পশ্যত জায়মানম্” ইতি চ মন্ত্রবর্ণাৎ; স্মৃতেশ্চ কর্মবিপাক প্রক্রিয়ায়াম্—

“ব্রহ্মা বিশ্বসৃজো ধর্ম্মো মহানব্যক্তমেব চ।

উত্তমাঃ, সাত্ত্বিকোমেতাঃ, গতিমাহর্ম্মনিশিনঃ॥” ইতি। ৪

অথৈবঃ বিরুদ্ধার্থানুপপত্তেঃ প্রামাণ্যব্যাঘাত ইতি চেৎ; ন; কল্পনান্ত- রোপপত্তেরবিরোধাৎ উপাধিবিশেষসম্বন্ধাৎ বিশেষকল্পনান্তরমুপপদ্যতে;

“আসীনো দূরং ব্রজতি শয়ানো বাতি সর্ব্বতঃ।

কন্তুং মদামদং দেবং মদন্যো জ্ঞাতুমর্হতি ॥”

ইত্যেবমাদিশ্রুতিভ্যঃ। উপাধিবশাৎ সংসারিত্বম্, ন পরমার্থতঃ; স্বতোহ- সংসার্য্যেব। এবমেকত্বং নানাত্বঞ্চ হিরণ্যগর্ভস্থ্য। তথা সর্ব্বজীবানাম্, “তত্ত্ব- মসি” ইতি শ্রুতেঃ। হিরণ্যগর্ভস্তূপাধিশুদ্ধ্যতিশয়াপেক্ষয়া প্রায়শঃ পর এবেতি শ্রুতিস্মৃতিবাদাঃ প্রবৃত্তাঃ; সংসারিত্বন্তু কচিদেব দর্শয়ন্তি। জীবানাং তু উপাধি- গতাশুদ্ধিবাহুল্যাং সংসারিত্বমেব প্রায়শোহভিলপ্যতে। ব্যাবৃত্তকৃৎস্নোপাধি- ভেদাপেক্ষয়া তু সর্ব্বঃ পরত্বেনাভিধীয়তে শ্রুতিস্মৃতিবাদৈঃ। ৫

তার্কিকৈস্তু পরিত্যক্তাগমবলৈঃ—অস্তি নাস্তি, কর্তা অকর্তা‘ইত্যাদি বিরুদ্ধং বহু তর্কয়ন্তিরাকুলীকৃতঃ শাস্ত্রার্থঃ; তেনার্থনিশ্চয়ো দুর্বভঃ। যে তু কেবল- শাস্ত্রানুসারিণঃ শান্তদর্পাঃ, তেষাং প্রত্যক্ষবিষয় ইব নিশ্চিতঃ শাস্ত্রার্থো দেবতাদি- বিষয়ঃ। ৬

তত্র প্রজাপতেরেকস্য দেবস্যান্নাদি-লক্ষণো ভেদো বিবক্ষিত ইতি—তত্রাগ্নি- রুক্তোহন্নাদঃ, অন্নাদ্যঃ সোম ইদানীমুচ্যতে। অথ যৎকিঞ্চেদং লোকে আর্দ্রং দ্রবাত্ম- কম্, তৎ রেতস্ আত্মনো বীজাদসৃজত; “রেতস আপঃ”ইতি শ্রুতেঃ। দ্রবাত্মকশ্চ সোমঃ; তস্মাৎ যদার্দ্রং প্রজাপতিনা রেতসঃ সৃষ্টম্, তদু সোম এব। এতাবদ্বৈ

২০৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এতাবদেব, নাতোহধিকম্, ইদং সর্ব্বম্। কিং তৎ? অন্নঞ্চৈব ‘সোমো দ্রবাত্ম- কত্বাদাপ্যায়কম্; অন্নাদশাগ্নিঃ, ঔষ্ণ্যাৎ রুক্ষ্মত্বাচ্চ। তত্রৈবমবগ্রিয়তে—সোম এবান্নম্, যদদ্যতে তদেব সোম ইত্যর্থঃ; য এবাত্তা, স এবাগ্নিঃ; অর্থবলাদ্ধি অবধার- ণম্। অরমগ্নিরপি ক্বচিং হয়মানঃ সোমপক্ষস্যৈব; সোমোহপি ইজ্যমানোহ- গ্লিরেব, অত্তৃত্বাৎ। এবমগ্নীষোমাত্মকং জগৎ আত্মত্বেন পশ্যন্ ন কেনচিদ্দোষেণ লিপ্যতে; প্রজাপতিশ্চ ভবতি। সৈষা ব্রহ্মণঃ প্রজাপতেঃ অতিসৃষ্টিরাত্মনোহ- প্যতিশয়া। ৭

কা সা? ইত্যাহ-যৎ শ্রেয়সঃ প্রশস্ত্যতরাদাত্মনঃ সকাশাদ যম্মাদসৃজত দেবান্, তস্মাদ্দেবসৃষ্টিরতিসৃষ্টিঃ। কথং পুনরাত্মনোহতিশয়া সৃষ্টিঃ? ইত্যত আহ-অথ যদ্ যস্মাৎ মর্ত্যঃ সন্ মরণধৰ্ম্মা সন্, অমৃতান্ অমরণধর্মিণো দেবান্, কর্মজ্ঞানবহ্নিনা সর্ব্বানাত্মনঃ পাপুন ওযিত্বা অসৃজত; তন্মাদিয়ম্ অতিসৃষ্টিরুৎ- কৃষ্টজ্ঞানস্য ফলমিত্যর্থঃ। তন্মাদেতামতিসৃষ্টিঃ প্রজাপতেরাত্মভূতাং যো বেদ, স এতস্যামতিসৃষ্ট্যাং প্রজাপতিরিব ভবতি প্রজাপতিবদেব স্রষ্টা ভবতি ॥ ৪৩ ॥ ৬ ॥

টীকা। ননু সর্ব্বা সৃষ্টিরুক্তা, উক্তং চ প্রজাপতের্বিভূতিসঙ্কীর্তনফলং, কিমবশিষ্যতে, যদর্থমুত্তরং বাক্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এবমিতি। আদাবভ্যমন্থদিতি সম্বন্ধঃ। অভিনয়প্রদর্শনমেব বিশদয়তি-অনেনেতি। মুখাদেরগ্নিং প্রতি যোনিত্বে গমকমাহ-যম্মাদিতি। প্রত্যক্ষবিরোধং শঙ্কিত্বা দূষয়তি-কিমিত্যাদিনা। হস্তয়োমুখে চ যোনিশব্দপ্রয়োগে নিমিত্তমাহ--অস্তি হীতি। প্রজাপতেমুখাৎ ইথমগ্নিঃ সৃষ্টোহপি কথং ব্রাহ্মণমনুগৃহ্নাতি, তত্রাহ-তথেতি। উক্তেহর্থে শ্রুতিস্মৃতিসংবাদং-দর্শয়তি-তন্মাদিতি। ‘আগ্নেয়ো বৈ ব্রাহ্মণঃ’ ইত্যাদ্যা শ্রুতিস্তদনুসারিণী চ স্মৃতিদ্রষ্টব্যা। ১

‘অগ্নিমসৃজত’ ইত্যেতদুপলক্ষণার্থমিত্যভিপ্রেতা সৃষ্ট্যন্তরমাহ-তথেতি। বলভিদিন্দ্রঃ। আদিশব্দেন বরুণাদিগৃহতে। ক্ষত্রিয়ং চাসুজত ইতানুবর্ততে। উক্তমর্থং প্রমাণেন দ্রঢ়য়তি- তস্মাদিতি। ‘ঐন্দ্রো রাজন্যঃ’ ইত্যাদ্যা শ্রুতিস্তদনুসারিণী চ স্মৃতিরবধেয়া। বিশং চাসুজতেতি পূর্ব্ববৎ। ঈহাশ্রয়াদুরুতো জাতত্বং বস্বাদেজ্যেষ্ঠত্ব: চ তচ্ছদ্দার্থঃ। ‘পদ্মাং শূদ্রোহজায়ত’ ইত্যাদ্যা শ্রুতিস্তথাবিধা চ স্মৃতিরনুসর্তব্যা। অগ্নিসর্গস্থ বক্ষ্যমাণেন্দ্রাদিসর্গোপলক্ষণত্বে সতি সৃষ্টিসাকল্যাদেব উ এব সর্ব্বে দেবা ইত্যুপসংহারসিদ্ধিরিতি ফলিতমাহ-তত্রেতি। উক্তেন বক্ষ্যমাণোপলক্ষণং সর্ব্বশব্দঃ সূচয়তীতি ভাবঃ। কিঞ্চ সৃষ্টিরত্র ন বিবক্ষিতা, কিন্তু যেন প্রকারেণ সৃষ্টশ্রুতিঃ স্থিতা, তেন প্রকারেণ দেবতাদি সর্ব্বং প্রজাপতিরেবেতি বিবক্ষিত- মিত্যাহ-যথেতি। তত্র হেতুমাহ-প্রষ্টুরিতি। তথাপি কল্পং দেবতাদি সর্ব্বং প্রজাপতিমাত্র- মিত্যাশঙ্ক্যাহ-প্রজাপতিনেতি। ২

তদ্যদিদমিত্যাদিবাক্যস্য তাৎপর্য্যমাহ—অপেতি স্রষ্টা প্রজাপতিরেব সৃষ্টং সর্ব্বং কার্য্যমিতি প্রকরণার্থে পূর্ব্বোক্তপ্রকারেণ ব্যবস্থিতে সত্যনন্তরং তস্যৈব স্তুতিবিবক্ষয়া তদ্বদিদমিত্যাস্ত-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২০৫

বিদ্বন্মতান্তরস্য নিন্দার্থং বচনমিত্যর্থঃ। মতান্তরে নিন্দিতেহপি কথং প্রকরণার্থঃ স্তুতো ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ-অন্যেতি। একৈকং দেবমিত্যস্য তাৎপর্য্যমাহ-নামেতি। কাঠকং কালাপ- কমিতিবৎ নামভেদাৎ ক্রতুযু তত্তদ্দেবতাস্তুতিভেদাদ ঘটশকটাদিবৎ অর্থক্রিয়াভেদাচ্চ প্রত্যেকং দেবানাং ভিন্নত্বাৎ কর্ম্মিণামেতদ্বচনমিত্যর্থঃ। আদিশব্দেন রূপাদিভেদাৎ তদ্ভিন্নত্বং সংগৃহ্লাতি। নম্বত্র কর্ম্মিণাং নিন্দা ন প্রতিভাতি, তন্মতোপন্যাসস্যৈব প্রতীতেরিত্যাশঙ্ক্যাহ-তন্নেতি। একস্যৈব প্রাণস্যানেকবিধো দেবতাপ্রভেদঃ শাকল্যব্রাহ্মণে বক্ষাত ইতি বিবক্ষিত্বা বিশিনষ্টি- প্রাণ ইতি। ৩

অগ্ন্যাদয়ো দেবাঃ সর্বে প্রজাপতিরেবেত্যুক্তং, সম্প্রতি তৎস্বরূপনিদিধারয়িষয়া তত্র বিপ্রতি- পত্তিং দর্শয়তি-অত্রেতি। হিরণ্যগর্ভস্য পরত্বমাদ্যে, দ্বিতীয়ে কল্পে সংসারিত্বং বিধেয়মিতি বিভাগঃ। তত্র পূর্ব্বপক্ষং গৃহ্লাতি-পর এব ত্বিতি। ননু একস্যানেকাত্মকত্বং মন্ত্রবর্ণাদব- গম্যতে, ন তু পরমাত্মত্বং প্রজাপতেরিত্যাশঙ্কা ব্রাহ্মণবাক্যমুদাহরতি-এষ ইতি। ব্রহ্ম- প্রজাপতী সূত্র-বিরাজৌ। এষশব্দঃ পরমাত্মবিষয়ঃ। স্মৃতেশ্চ পর এব হিরণ্যগর্ভ ইতি সম্বন্ধঃ। তত্রৈব বাক্যান্তরং পঠতি-যোহসাবিতি। কর্ম্মেন্দ্রিয়াবিষয়ত্বমর্তাদ্রিয়ত্বম্। অগ্রাহ্যত্বং জ্ঞানেন্দ্রিয়াবিষয়ত্বম্। তত্র হেতুমাহ-সূক্ষ্মোহব্যক্ত ইতি। ন চ তন্যাসত্ত্বং, প্রমাত্রাদিভাবা- ভাবসাক্ষিহেন সদা সত্ত্বাদিত্যাহ-সনাতন ইতি। ইতশ্চ তথ্য নাসত্বং, সর্ব্বেষামাত্মত্বাদিত্যাহ- সর্ব্বেতি। অন্তঃকরণাবিষয়ত্বমাহ-অচিন্ত্য ইতি। যোহসৌ পরমাত্মা যথোক্তবিশেষণঃ, স এব স্বয়ং বিরাড়াত্মনা ভূতবানিত্যাহ-স এবেতি। মন্ত্রব্রাহ্মণস্মৃতিষু পরস্য সর্ব্বদেবতাত্মত্বদৃষ্টেরত্র চ সূত্রস্থ্য তৎপ্রতীতেন্তস্থ্য পরত্বমিত্যুক্তন্; ইদানীং পূর্ব্বপক্ষান্তরমাহ-সংসার্য্যেবেতি। সর্ব্বপাপ্ন- দাহশ্রবণমাত্রেণ কণ: প্রজাপতেঃ সংসারিত্বং, তত্রাহ-ন হীতি। “অন্তস্তদ্ধর্মোপদেশাৎ” ইত্যত্র পরস্যাপি সর্ব্বপাপোদয়াঙ্গীকারাৎ নেদং সংসারে লিঙ্গমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ভয়েতি। অসৃজতেতি চ শ্রবণাদিতি সম্বন্ধঃ। ন কেবলং মর্ত্তাত্বশ্রুতেরেব সংসারিত্বং, কিন্তু জন্মশ্রুতেশ্চেত্যাহ-হিরণ্য- গর্ভমিতি। যথোক্তহেতুনাং সংসার্য্যের স্যাদিতি প্রতিজ্ঞয়াহন্বয়ঃ। কৰ্ম্মফলদর্শনাধিকারে ব্রহ্মেত্যাদ্যায়াঃ স্মৃতেশ তৎফলভূতস্য প্রজাপতেঃ সংসারিত্বমেবেত্যাহ-স্মৃতেশ্চেতি। বিরাড্- ব্রহ্মেত্যুচ্যতে। বিশ্বসৃজো মন্বাদয়ঃ। ধর্মস্তদভিমানিনী দেবতা যমঃ। মহান্ প্রকৃতেরাদ্যো বিকারঃ সূত্রম্। অব্যক্তং প্রকৃতিরিতি ভেদঃ। ৪

অস্ত তর্হি দ্বিবিধবাক্যবশাৎ প্রজাপতেঃ সংসারিত্বমসংসারিত্বং চ, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-অথেতি। তদ্বিবিধবাক্যশ্রবণানন্তয্যমথশব্দার্থঃ। এবংশব্দঃ সংসারিত্বাসংসারিত্বপ্রকারপরামর্শার্থঃ। বিরোধ- কৃতমপ্রামাণ্যং নিরাকয়োতি-নেত্যাদিনা। স্বতোহসংসারিত্ব”, কল্পনয়া চ সংসারিত্বমিতি কল্পনাত্তরসন্তবাৎ দ্বিবিধশ্রুতীনামবিরোধাৎ প্রামাণ্যসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। কল্পনয়া সংসারিত্বমিত্যেতৎ বিশদয়তি-উপাধীতি। ঔপাধিকী পরস্য বিশেষকল্পনেতাত্র প্রমাণমাহ-আসীন ইতি। স্বায়স্থেন কূটস্থোঽপ্যাত্মা মনসঃ শীঘ্রং দূরগমনদর্শনাৎ তদুপাধিকো দূরং ব্রজতি; যথা স্বপ্নে শয়ানোহপি মনসো গতিভ্রান্ত্যা সর্ব্বত্র যাতীব ভাতি, তথা জাগরেহপীত্যর্থঃ। কল্পিতেন হর্ষাদিবিকারেণ স্বাভাবিকেন তদভাবেন চ যুক্তমাত্মানং ন কশ্চিদপি নিশ্চেতুং শক্নোতীত্যাহ- কস্তমিতি। আদিপদেন ধ্যায়তীবেত্যাদিশ্রুতয়ো গৃহ্যন্তে। উদাহৃতশ্রুতীনাং তাৎপর্য্যমাহ-

২০৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

- উপাধীতি। কিং তর্হি পারমার্থিকং? তদাহ-স্বত ইতি। পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। হিরণ্যগর্ভস্য বাস্তবমবাস্তবং চ রূপং নিরূপিতমুপসংহরতি-এবমিতি। তস্যাপ্যম্মদাদিবৎ ন স্বতো ব্রহ্মত্বং, কিন্তু সংসারিত্বমেব স্বাভাবিকমিত্যাশঙ্ক্য দৃষ্টান্তস্য সাধ্যবিকলতামাহ-তথেতি। সর্ব্বজীবানা- মেকত্বং নানাত্বং চেতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। তেষাং স্বতো ব্রহ্মত্বে প্রমাণমাহ-তত্বমিতি। কস্তর্হি হিরণ্যগর্ভে বিশেষঃ, যেনাসৌ অস্মদাদিভিরুপাস্যতে, তত্রাহ-হিরণ্যগর্ভস্থিতি। ননু শ্রুতিস্মৃতি- বাদেষু কচিৎ তস্য সংসারিত্বমপি প্রদর্শ্যতে, সত্যং, তৎ তু কল্পিতমিত্যভিপ্রেত্যাহ-সংসারিত্বং স্থিতি। অস্মদাদিষু তুল্যমেতদিত্যাশঙ্ক্যাহ-জীবানাং স্থিতি। কথং তহি ‘তত্ত্বমসি’ ‘ক্ষেত্রজ্ঞং চাপি মাং বিদ্ধি’ ইত্যাদিশ্রুতিস্মৃতিবাদাঃ সংগচ্ছন্তে, তত্রাহ-ব্যাবৃত্তেতি। ৫

স্বমতে তত্ত্বনিশ্চয়মুক্ত। পরমতে তদভাবমাহ-তার্কিকৈস্থিতি। নম্বেকজীববাদেহপি সর্ব্বব্যবস্থানুপপত্তেস্তত্বনিশ্চয়দৌর্লভাং তুলামিতি চেৎ; নেত্যাহ-যে ত্বিতি। স্বপ্নবৎ প্রবোধাৎ প্রাগশেষব্যবস্থাসম্ভবাদুন্ধং চ তদভাবস্যেষ্টত্বাদেকমেব ব্রহ্মানাদ্যবিদ্যাবশাৎ অশেষব্যবহারাম্পদ- মিতি পক্ষে ন কাচন দোষকলেতি ভাবঃ। ৬

সর্ব্বদেবতাত্মকস্য প্রজাপতেঃ স্বতোহসংসারিত্বং কল্পনয়া বৈপরীত্যমিতি স্থিতে সতি অথেত্যাদ্যুত্তরগ্রন্থস্থ্য তাৎপৰ্য্যমাহ-তত্রেতি। বিবক্ষিত ইত্যুত্তরগ্রন্থপ্রবৃত্তিরিতি শেষঃ। তস্য বিষয়ং পরিশিনষ্টি-তত্রাগ্নিরিতি। অত্রাদ্যয়োনিদ্ধারণার্থা সপ্তমী। সম্প্রতি প্রতীকমাদায়া- ক্ষরাণি ব্যাকরোতি-অথেতি। অতুঃ সগানন্তর্যামথশব্দার্থঃ। রেতসঃ সকাশাদপাং সর্গেহপি সোমশব্দে কিমায়াতমিত্যাশঙ্ক্যাহ-দ্রবাত্মকশ্চেতি। শ্রদ্ধাখ্যাহুতেঃ সোমোৎপত্তিশ্রবণাৎ, তত্র শৈত্যোপলব্ধেশ্চেতি ভাবঃ। সোমন্য দ্রবাত্মকত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। অগ্নীষোময়োর- স্নাদ্যয়োঃ সৃষ্টাবপি জগতি প্রষ্টব্যান্তরমবশিষ্টমস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-এতাবদিতি। আপ্যায়কঃ সোমো দ্রবাত্মকত্বাৎ, অন্নং চাপ্যারকং প্রসিদ্ধং, তম্মাদুপপন্নং সোমস্যান্নত্বমিত্যাহ-দ্রবাত্মকত্বাদিতি। সোম এবান্নমগ্নিরন্নাদ ইত্যবধারণস্থ্য বিবক্ষিতমর্থমাহ-তত্রেতি। যথোক্তং বাক্যং সপ্তমার্থঃ। যথাশ্রুতনবধারণমবধাৰ্য্য কুতো বিধান্তরেণ তদ্ব্যাপ্যানমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অর্থবলান্ধীতি। অন্নাদস্য সংহর্তৃত্বাৎ অগ্নিত্বমন্নস্থ্য চ সংহরণীয়তয়া সোমত্বমবধারয়িতুং যুক্তমিত্যর্থঃ। ননু অন্নস্য সোমত্বেন ন নিয়মোহগ্নেরপি জলাদিনা সংহারাৎ, ন চাত্তরগ্নিত্বেন নিয়ম: সোমস্যাপি কদাচিদিজ্যমানত্বেন অত্ত্বত্বাৎ, তংকুতোংর্থবলমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অগ্নিরপীতি। সোহপি সংহায্যশ্চেৎ সোম এব, সচ সংহর্তা চেদগ্লিরেব, ইত্যবধারণসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। প্রজাপতেঃ সর্ব্বাত্মত্বমুপক্রম্য জগতো দ্বেধা- বিভক্তত্বাভিধানং কুত্রোপযুক্তমিত্যাশঙ্ক্য তস্য সূত্রে পর্যবসানাৎ তস্মিন্নাত্মবুদ্ধ্যোপাসকস্য সর্ব- দোষরাহিত্যং ফলমত্র বিবক্ষিতমিত্যাহ-এবমিতি। অনুগ্রাহকদেবসৃষ্টিমুক্ত। তদুপাসকস্য ফলোক্যর্থমাদৌ দেবসৃষ্টিং স্তৌতি-সৈষেতি। ৭

‘অগ্নিমুদ্ধা’ ইত্যাদিশ্রুতেরগ্ন্যাদয়োহস্যাবয়বাঃ, তৎকথং তৎসৃষ্টিস্ততোহতিশয়বতীত্যা- শঙ্কতে—কণমিতি। প্রজাপতের্যজমানাবস্থাপেক্ষয়া দেবসৃষ্টেরুৎকৃষ্টত্ববচনমবিরুদ্ধমিতি পরি- হরতি—অত আহেতি। দেবসৃষ্টেরতিসৃষ্টিত্বাভাবশঙ্কানুবাদার্থঃ অথশব্দঃ। জ্ঞানস্যেত্যু‘লক্ষণং, কর্ম্মণোৎপীতি দ্রষ্টব্যম্। অতিসৃষ্ট্যামিত্যাদি ব্যাচষ্টে—তস্মাদিতি। দেবাদিস্রষ্টা তদাত্মা প্রজাপতিরহমেব ইত্যুপাসিতুস্তদ্ভাবাপত্ত্যা ‘তৎসৃষ্টত্বং ফলতীত্যর্থঃ। ৪৩।৬।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২০৭

ভাষ্যানুবাদ।—প্রজাপতি এইরূপে স্ত্রী-পুরুষাত্মক এই জগৎ সৃষ্টি করিয়া ব্রাহ্মণাদি বর্ণের নিয়ন্ত্রী(শাসনক্ষম) দেবতাসমূহ সৃষ্টি করিতে ইচ্ছুক হইয়া প্রথমে এই শ্রুতির ‘অথ’ ও ‘ইতি’ শব্দ দুইটি অভিনয় বা অনুকরণ প্রকাশক —এই প্রকারে মুখে হস্তদ্বয় অর্পণ করিয়া অভিমন্থন করিয়াছিলেন, অভীষ্টসিদ্ধির অনুকূলরূপে মন্থন(ঘর্ষণ) করিয়াছিলেন। তিনি দুই হাতে মুখমণ্ডল মন্থন করিয়া, সেই মুখ ও হস্তদ্বয়রূপ যোনি(উৎপত্তিস্থান) হইতে ব্রাহ্মণজাতির অনু- গ্রাহক অগ্নিদেবের সৃষ্টি করিয়াছিলেন। যেহেতু মুখ ও হস্তদ্বয়, উভয়ই দাহ- কারী অগ্নির উৎপত্তিস্থান, সেই হেতুই এই উভয় স্থান অলোমক অর্থাৎ লোম- বর্জিত; তবে কি সমস্ত অংশই[লোমশূন্য]? না,—তাহা নহে, অন্তরে অর্থাৎ কেবল অভ্যন্তরভাগে[লোমশূন্য]; প্রসিদ্ধ জননেন্দ্রিয়ের সহিত এই উভয়স্থানের সাদৃশ্যও আছে। সেই সাদৃশ্যটি কি? না, রমণীগণের জননেন্দ্রিয়ও অভ্যন্তরভাগে লোমশূন্য;(ইহাই উভয়ের মধ্যে সাম্য বা সমানধর্ম)। ব্রাহ্মণজাতিও প্রজাপতির মুখ হইতেই জন্ম ধারণ করিয়াছে; এই কারণে উভয়ই এক-কারণোৎ- পন্ন বলিয়া, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা যেমন কনিষ্ঠের প্রতি অনুগ্রহ করে, তেমনি অগ্নিও ব্রাহ্মণের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করিয়া থাকেন। এই কারণেই শ্রুতি ও স্মৃতি- শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ আছে যে, ব্রাহ্মণগণ অগ্নিদৈবতক ও মুখবীর্য্য, অর্থাৎ অগ্নিই ব্রাহ্ম- ণের অনুগ্রাহক দেবতা এবং তাহাদের বীর্য্য বা শক্তিও মুখমধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে(১)। ১

এইরূপ, বলের অধিষ্ঠান বাহুদ্বয় হইতে ক্ষত্রিয়জাতি এবং তাহাদের নিয়ন্তা (পরিচালক) ইন্দ্রপ্রভৃতি দেবতার[সৃষ্টি করিয়াছিলেন]; এই জন্যই শ্রুতিতে ও স্মৃতিতে ক্ষত্রিয়জাতি ও বাহুবল উভয়ই ইন্দ্রদৈবতক বলিয়া প্রসিদ্ধ। এইরূপ উরু হইতে চেষ্টা ও চেষ্টাশ্রয় বৈশ্যজাতি ও তাহার নিয়ন্তা বসুপ্রভৃতি দেবতার [সৃষ্টি করিয়াছিলেন]; এই কারণেই বৈশ্যজাতি কৃষিকর্ম্মে তৎপর ও বসু প্রভৃতি দেবতা দ্বারা পরিচালিত বলিয়া প্রসিদ্ধ। এইরূপ পৃথিবীদৈবতক পূষা ও

২০৮. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পরিচর্য্যাক্রম শূদ্রজাতিকে পদ হইতে সৃষ্টি করিলেন; কারণ, শ্রুতি-স্মৃতিতে ঐরূপই প্রসিদ্ধি আছে। যদিও এখানে ক্ষত্রিয়াদি দেবতা-সৃষ্টির কথা উক্ত হয় নাই, পরে বলা হইবে; তথাপি এখানে সৃষ্টির প্রসঙ্গ পরিপূর্ণ রাখিবার জন্য সে সমস্ত কথাও শ্রুত্যুক্তির মতই উল্লেখিত হইল। উক্ত শ্রুতি যেরূপ অর্থ প্রতি- পাদন করিতেছেন, তাহাতে এইরূপ অর্থই নিশ্চিত হইতেছে যে, প্রজাপতিই সর্ব্ব দেবাত্মক; কারণ, সৃষ্ট পদার্থমাত্রই স্রষ্টা হইতে অভিন্ন; দেবগণও প্রজাপতিকর্তৃকই সৃষ্ট; সুতরাং তাহারাও প্রজাপতি হইতে ভিন্ন নহে(২)। ২

এইরূপ যখন প্রকরণার্থ অবধাবিত হইল, তখন বুঝিতে হইবে যে, ইহার উৎকর্ষ খ্যাপনের জন্যই অন্যান্য অবিদ্বৎ-সম্মত মত গুলিব উপন্যাস বা উল্লেখ করা হইয়াছে; কারণ, একের যে নিন্দা, তাহাই অপবের প্রশ্ন সাসূচক হইয়া থাকে।[এখন সেই অবিদ্বানের মতগুলি উপন্যস্ত হইতেছে -] লোকপ্রসিদ্ধ কৰ্ম্মপ্রকরণে যাজ্ঞিকগণ, যজ্ঞানুষ্ঠানকালে যে, এই কথা বলিয়া‘থাকেন-’এই অগ্নির অর্চ্চনা কর, অমুক ইন্দ্রের অর্চ্চনা কর’ ইত্যাদি; একথাব অভিপ্রায় এই যে, যজ্ঞীয় দেবতাগণের নাম, স্তোত্র ও কর্মাদির পার্থক্য দেখিয়া তাহারা অগ্ন্যাদি দেবতাকেও স্বরূপতঃ ভিন্ন ভিন্ন বলিয়াই মনে করিয়া ঐরূপ বলিয়া থাকেন; কিন্তু জিজ্ঞাসু ব্যক্তি কখনই দৈবতভাবে ঐরূপে বুঝিবেন না; কেননা, বিভিন্নাকার ঐ সমস্ত দেবতা এই প্রজা- পতিরই বিসৃষ্টি অর্থাৎ সৃষ্ট; এব এই প্রজাপতিই প্রাণিরূপী সর্ব্ব-দেবাত্মক। ৩

এবিষয়ে অনেকে বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করিয়া থাকেন—একশ্রেণীর লোকেরা বলেন,—হিরণ্যগর্ভ পরমাত্মা বা পরব্রহ্মই বটে; অপর সম্প্রদায় বলেন,—তাহা নহে, হিরণ্যগর্ভও সংসারী(কর্মফলভোগা জীব-শ্রেণীরই অন্তর্গত)। কিন্তু মন্ত্রশ্রুতি হইতে জানা যায় যে, তিনি পরব্রহ্মস্বরূপই বটে; কারণ, মন্ত্রে আছে— ‘এই প্রজাপতিকে ইন্দ্র, সূর্য্য, বরুণ ও অগ্নি বলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন,’ এবং

(২) তাৎপয্য—ঘট-স্রষ্টা কুন্তকার ও তৎসৃষ্ট ঘট কখনই এক অভিন্ন পদার্থ নহে; সুতরাং এখানে আপত্তি হইতে পারে যে, স্রষ্টা প্রজাপতি ও তৎসৃষ্ট দেবতা এক হইবে কিরূপে? তদুত্তরে বলা যাইতে পারে যে, এখানে ‘স্রষ্টা’ শব্দে কেবল নিমিত্ত কারণমাত্র বুঝিতে হইবে না, পরন্তু যিনি নিজে নিমিত্তও বটে এবং উপাদানও বটে, এরূপ কারণকেই ‘স্রষ্টা’ বলিয়া বুঝিতে হইবে। যেমন লুতা(মাকড়সা) স্বসৃষ্ট সুতার নিমিত্ত ও উপাদান—উভয় প্রকার কারণ, প্রজাপতিও তেমনি স্বকার্য্য সম্বন্ধে নিমিত্ত ও উপাদান, উভয় কারণাত্মক; এই জন্য তৎসৃষ্ট দেবতাগণ তাঁহা হইতে পৃথক্ বস্তু হইতে পারে না; এই নিয়ম অব্যভিচারী; সুতরাং নির্দোষ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২০৯

অন্য শ্রুতিতে আছে-‘ইনিই ব্রহ্মা, ইনিই ইন্দ্র, ইনিই প্রজাপতি এবং ইনিই সর্ব্বদেবতাত্মক’ ইতি। স্মৃতিতেও আছে--‘এই আদি পুরুষকে(প্রজাপতিকে) কেহ কেহ অগ্নি বলেন, অন্তে আবার মনু বলিয়া নিদ্দেশ করেন’, এবং ‘এই যিনি অতীন্দ্রিয়, বুদ্ধির অগম্য, সূক্ষ্ম, অব্যক্তরূপী চিরন্তন ও সর্ব্বভূতময়, তিনিই প্রথমে স্বয়ং প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন’ ইতি। অথবা, তিনি সসারী-জীবশ্রেণীভুক্তও হইতে পারেন; কেন না, শ্রুতি বলিতেছেন, ‘তিনি সর্ব্ববিধ পাপ দগ্ধ করিয়া- ছিলেন; সংসারী না হইলে ত তাহার পক্ষে কখনই পাপ দাহ করা সম্ভব- পর হইতে পারে না; বিশেষতঃ ভয় ও অবতিসম্বন্ধও তাঁহার সংসারিত্বের অপর কারণ, এবং ‘অতঃপর তিনি নিজে মর্ত্য হইয়াও যে অমর সৃষ্টি করিয়াছিলেন’, ‘জায়মান হিরণ্যগর্ভকে দর্শন কর’ ইত্যাদি মন্থেও তাঁহার সংসারিত্বই শ্রুত হইয়াছে। কৰ্ম্মফল-জ্ঞাপক শ্রুতিতেও ইহাই জানা যাইতেছে-‘ব্রহ্মা(বিরাট্), বিশ্বস্রষ্টৃগণ(মনু প্রভৃতি), ধৰ্ম্ম(যম), মহান(মহত্তত্ব-অর্থাৎ তদুপাধিক সূত্রাত্মা) ও অব্যক্ত(প্রকৃতি), এ সমস্তকে সাত্ত্বিক কর্ম্মেব উৎকৃষ্ট ফল বলিয়া জ্ঞানিগণ ব্যাখ্যা করেন’ ইতি। ৪

ভালকথা, একই বিষয়ে এবংবিধ বিরুদ্ধার্থ-স ঘটন যখন সম্ভবপর হয় না, তখন কোন বাক্যেরই প্রামাণ্য হইতে পারে না। ফলে প্রজাপতির সংসারিত্ব বা অসংসারিত্ব কিছুই সিদ্ধ হইতেছে না: না, এ কথাও হইতে পারে না; কারণ, অন্যপ্রকার কল্পনা দ্বারা উক্ত বিরোধের পরিহার হইতে পারে, অর্থাৎ উপাধি- বিশেষের সম্বন্ধনিবন্ধন এরূপ কল্পনা করা যাইতে পারে,[যাহাতে সংসারিত্ব ও অসংসারিত্ব উভয় কল্পনারই ব্যাঘাত না ঘটে]। ‘যিনি একত্র অবস্থিত হইয়াও দূরে গমন করেন, শয়ান থাকিয়াও সর্ব্বত্র গমন করেন, মদামদ অর্থাৎ মদযুক্ত ও মদ- বিযুক্ত সেই দেবকে(পরমেশ্বরকে) আমি ভিন্ন আর কে জানিতে পারে?’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতেও জানা যায় যে, তাঁহার সংসারিত্ব ধৰ্ম্মটা ঔপাধিক, পারমার্থিক নহে; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু তিনি অসংসারীই বটে। এই প্রকার উপাধিসম্বন্ধনিবন্ধন হিরণ্যগর্ভের একত্ব ও নানাত্ব দুইই সম্ভব হয়। ‘তুমি তৎস্বরূপ’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে জানা যায় যে, অন্যান্য জীবের সম্বন্ধেও ঐরূপই ব্যবস্থা। হিরণ্যগর্ভের উপাধি স্বতই বিশুদ্ধ; এই জন্য শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্রসমূহ তাঁহাকে অধিকাংশস্থলে পরমেশ্বররূপেই নির্দেশ করিয়া থাকেন, অতি অল্প স্থানেই তাঁহার সংসারিত্ব প্রদর্শন করিয়াছেন। পক্ষান্তরে, জীবগণের উপাধি স্বভাবতই অশুদ্ধিবলুল; এই জন্য অধিকাংশস্থলে তাঁহাদের সংসারিত্বই নির্দেশ করিয়াছেন; সর্ব্বোপাধি-

২১০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বিনির্ম্মুক্ত স্বভাবের প্রতি লক্ষ্য করিয়া আবার সমস্ত শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্র জীবের পরমেশ্বরভাবও নির্দেশ করিয়াছেন। ৫

কিন্তু যাঁহারা তার্কিক—আগম-প্রমাণের বলবত্তায় উপেক্ষা করেন, তাঁহারা ‘আত্মা আছে, নাই, কর্তা ও অকর্তা’ ইত্যাদি বহুবিধ বিরুদ্ধ তর্ক করিয়া শাস্ত্রার্থ আকূল(বিকৃত বা অনিশ্চিতরূপ) করিয়া থাকেন; তাহার ফলে শাস্ত্রের প্রকৃত অর্থ নির্ণয় করা অসম্ভব হইয়া পড়ে। পক্ষান্তরে, যাহারা একমাত্র শাস্ত্রানুসারী গর্ব্বহীন, তাঁহাদের নিকট দেবতাদি অপরোক্ষবিষয়ের প্রতিপাদক শাস্ত্রার্থ (শাস্ত্রসিদ্ধান্ত) প্রত্যক্ষবৎ সুনিশ্চিত হইয় থাকে। ৬

এখানে আদিদেব একই প্রজাপতির-অত্তা(ভোক্তা) ও অদনীয়রূপ রূপ- ভেদ বর্ণনা করাই শ্রুতির অভিপ্রেত; তন্মধ্যে-প্রথমে ভোক্তা অগ্নির কথা উক্ত হইয়াছে, এখন অদনীয় সোমের কথা বলা হইতেছে। জগতে যাহা কিছু আর্দ্র- দ্রবময় বস্তু, তাহা রেত হইতে-আত্মীয় বীজ হইতে সৃষ্টি করিলেন; কারণ, শ্রুতি বলিতেছেন-‘রেত হইতে জল(জলীয় দ্রব্য)[প্রাদুর্ভূত হইয়াছে]’; সোমও দ্রবাত্মক; অতএব প্রজাপতি স্বীয় রেত হইতে, যে আর্দ্র বস্তুর সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাহাই সোম। জগতে যাহা কিছু আছে, তৎসমস্ত এতাবৎই-এই পর্যন্তই, ইহার অধিক আর কিছু নাই। ইহা কি? না সোম, সোমই অন্ন, দ্রবাত্মকতানিব- ন্ধন তৃপ্তিসাধক; এবং উষ্ণ ও রুক্ষ্ম বলিয়া অগ্নি হইতেছে-অন্নাদ অর্থাৎ ভোক্তা। এবিষয়ে এইরূপই অবধারণ হইতেছে যে, সোমই অন্ন, অর্থাৎ যাহা ভক্ষণ করা যায়, তাহাই অন্ন; এবং যিনি ভক্ষণকর্তা, তিনিই অগ্নি।[যদিও এখানে অবধারণসূচক কোন শব্দ নাই সত্য, তথাপি] অর্থ-সঙ্গতির অনুরোধে অবধারণই বুঝিতে হইবে। সময়বিশেষে অগ্নিও হুরমান(আহৃতিরূপে অর্পিত) হইলে সোমস্থানীয় অর্থাৎ অন্নমধ্যে পরিগণিত হয়, আবার সোমও সময়বিশেষে ইজ্যমান(অর্চিত) হইয়া অগ্নিস্থানীয় অর্থাৎ ভোক্তা হইয়া থাকে; কারণ, তখন তাঁহার ভোক্তৃত্বই থাকে,(ভোগ্যতা থাকেনা)। যে লোক অগ্নীযোমাত্মক এই জগৎকে আত্মস্বরূপে দর্শন করে, সে লোক কোনপ্রকার দোষে-পুণ্যে বা পাপে লিপ্ত হয় না, অধিকন্তু প্রাজাপত্য পদ লাভেও সমর্থ হয়। ইহা হইতেছে প্রজাপতির অতিসৃষ্টি- প্রজাপতি অপেক্ষাও ইহার গুরুত্ব অধিক। ৭

সেই সৃষ্টিটি কি? এতদুত্তরে বলিতেছেন—যেহেতু তিনি শ্রেয়ান্—আপনার অপেক্ষাও উৎকর্ষসম্পন্ন এই দেবগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই হেতুই দেবসৃষ্টি তাঁহার অতিসৃষ্টি। ভাল, সৃষ্টি আবার আপনা হইতেও অতিশয় হয় কি প্রকারে?

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২১১

তদুত্তরে বলিতেছেন—যেহেতু তিনি নিজে মর্ত্য অর্থাৎ মরণশীল হইয়াও অমৃত— মরণরহিত দেবগণকে জ্ঞান ও কর্ম্মরূপ বহ্নি দ্বারা আপনার সর্ব্ববিধ পাপরাশি দগ্ধ করিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই হেতুই ইহা অতিসৃষ্টি অর্থাৎ উৎকৃষ্ট কর্ম্মের ফল স্বরূপ(১)। অতএব যে লোক প্রজাপতির আত্মস্বরূপ অর্থাৎ তাঁহা হইতে অনতিরিক্ত এই অতিসৃষ্টি জানেন—অনুধ্যান করেন, তিনিও প্রজাপতির ন্যায় এই অতিসৃষ্টিতে প্রভু হন—অর্থাৎ প্রজাপতিরই মত সৃষ্টিকর্তা হন ॥ ৪৩ ॥ ৬ ॥

আভাস-ভাষ্যম্।—“তদ্ধেদং তহ্যব্যাকৃতমাসীৎ।” সর্ব্বং বৈদিকং সাধনং জ্ঞান-কর্ম্মলক্ষণং কর্ত্রান্যনেককারকাপেক্ষং প্রজাপতিত্বফলাবসানং সাধ্যম্ এতাবদেব,—যদেতদ্ ব্যাকৃতং জগৎ সংসারঃ। অথৈতস্যৈব সাধ্যসাধনলক্ষণস্য ব্যাকৃতস্য জগতো ব্যাকরণাৎ প্রাগবীজাবস্থা যা, তাং নিদ্দিদিক্ষতি অঙ্কুরাদি- কাৰ্য্যানুমিতামিব বৃক্ষস্য, কর্ম্মবীজোহবিদ্যাক্ষেত্রো হ্যসৌ সংসারবৃক্ষঃ সমূল উদ্ধর্ত্তব্য- ইতি। তদুদ্ধরণে হি পুরুষার্থপরিসমাপ্তিঃ। তথাচোক্তন্—“উদ্ধমূলোহবাক্শাখঃ” ইতি কাঠকে; গীতাসু চ “ঊর্দ্ধমূলমধঃশাখম্” ইতি; পুরাণে চ “ব্রহ্মবৃক্ষঃ সনা- তনঃ” ইতি।

টাকা। পূর্ব্বোত্তরগ্রন্থয়োঃ সম্বন্ধং বক্তুং প্রতীকমাদায় বৃত্তং কীর্তয়তি-তদ্ধেত্যাদিনা ॥ তস্য আদেরত্বার্থং বৈদিকমিত্যুক্তম্। সাধনমিত্যুক্তে মুক্তিসাধনং পুরঃ স্ফুরতি, তন্নিরস্থতি- জ্ঞানেতি। একরূপস্য মোক্ষস্যানেকরূপং ন সাধনং ভবতীতি ভাবঃ। মুক্তিসাধনং মান- বস্তুতন্ত্রং তত্ত্বজ্ঞানম্, ইদং তু কারকসাধ্যমতোহপি ন তদ্ধেতুরিত্যাহ-কর্ত্রাদীতি। কিং চেদং প্রজাপতিত্বফলাবসানম্, ‘মৃত্যুরস্যাত্মা ভবতি’ ইতি শ্রুতেঃ। ন চ তদেব কৈবল্যং, ভয়ারত্যাদি- শ্রবণাৎ, অতোহপি নেদং মুক্ত্যর্থমিত্যাহ-প্রজাপতিত্বেতি। কিঞ্চ, নিত্যসিদ্ধা মুক্তিঃ, ইদং তু সাধ্যফলম্, অতোহপি ন মুক্তিহেতুরিত্যাহ-সাধ্যমিতি। কিঞ্চ, মুক্তিব্যাকৃতাদর্থান্তরমন্যদেব, “তদ্বিদিতাৎ” ইত্যাদিশ্রুতেঃ; ইদং তু নামরূপং ব্যাকৃতম্, অতোহপি ন তদ্ধেতুরিত্যাহ- এতাবদেবেতি। সম্প্রত্যব্যাকৃতকণ্ডিকামবতারয়ন্ প্রবেশবাক্যাৎ প্রাক্তনস্য তদ্ধেদমিত্যাদে- র্ব্বাক্যস্য তাৎপর্য্যমাহ-অথেতি। জ্ঞানকর্মফলোক্ত্যানন্তর্য্যমথ-শব্দার্থঃ। বীজাবস্থা সাভাসপ্রত্যগ- বিদ্যা, তস্যা নির্দ্দিষ্ট মিষ্টত্বমেব, ন সাক্ষান্নির্দেশ্যত্বমনির্ব্বাচ্যত্বাদিতি বক্তুং নির্দিদিক্ষতীত্যুক্তম্। বৃক্ষস্ত বীজাবস্থাং লোকো নিৰ্দ্দিশতীতি সম্বন্ধঃ। যজজ্ঞানে পুমর্থাপ্তিস্তদেব বাচ্যং, কিমিতি

(১) তাৎপর্য্য—ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে, জন্মকালে স্বয়ং প্রজাপতিও পাপরহিত ছিলেন না, এবং মৃত্যুর অধিকার হইতেও বিমুক্ত ছিলেন না: কিন্তু তিনি জ্ঞান ও কর্ম্মানু- ষ্ঠানের সাহায্যে স্বীয় সমস্ত পাপ বিনষ্ট করিয়া নিষ্পাপ অবস্থায় দেবগণকে সৃষ্টি করার দেবগণ আজন্ম পাপবিমুক্ত; কাজেই প্রজাপতি অপেক্ষাও তাহার কার্য্যের উৎকর্ষ অধিক হইতেছে। এই জন্য দেবসৃষ্টিকে অতিসৃষ্টি বলা হইয়াছে।

২১২. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রত্যগবিদ্যোচ্যতে? তত্রাহ-কর্ম্মেতি। উদ্ধর্তব্য ইতি তমুলনিরূপণমর্থবদিতি শেষঃ। অথ পুরুষার্থমর্থয়মানস্য তদুদ্ধারোহপি কোপযুজ্যতে, তত্রাহ-তদুদ্ধরণে হীতি। ননু সংসারস্থ মূলমেব নাস্তি, স্বভাববাদাৎ। প্রধানাদ্যেব বা তন্মলং, নাজ্ঞাতং ব্রহ্ম; ইত্যাশঙ্ক্য শ্রুতিস্মৃতিভ্যাং পরিহরতি-তথা চেতি। উর্দ্ধমুৎকৃষ্টং কারণং কাৰ্য্যাপেক্ষয়া পরমব্যাকৃতং মূলমন্যেত্যুর্দ্ধমূলো হিরণ্যগর্ভাদয়ঃ, মূলাপেক্ষয়াংবাচ্যঃ শাখা ইত্যবাক্শাখঃ। এবং ‘ঊর্দ্ধমূলমধঃশাখম্’ ইত্যাদি- গীতা অপি নেতব্যাঃ। অস্তি হি সংসারস্য মূলম্, ‘নেদমমূলং ভবিষ্যতি’ ইতি শ্রুতেঃ; তচ্চা- জ্ঞাতং ব্রহ্মৈবেতি শ্রুতিস্মৃতিপ্রসিদ্ধমিতি ভাবঃ।

আভাস-ভাষ্যানুবাদ।—“তদ্ হ ইদং তর্হি অব্যাকৃতম্ আসীৎ” ইত্যাদি। বেদোক্ত জ্ঞান-কর্মাাত্মক যত সাধন(উপায়) আছে, তৎ সমস্তই কর্তা প্রভৃতি বহু কারক-সাপেক্ষ; এবং সে সমুদয়ের শেষ ফল হইতেছে—হিরণ্যগর্ভত্ব- প্রাপ্তি; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু সে সমস্ত উপায় সাধ্য-শ্রেণীরই অন্তর্গত, এবং “এতাবৎ এব” এই পর্য্যন্তই বটে—যাহা এই নাম-রূপাভিব্যক্ত বিশ্বসংসারমণ্ডল। অঙ্কুরাদি কার্য্য-দর্শনে যেমন বৃক্ষের পূর্ব্ববর্তী বীজাবস্থা অনুমিত হয়, তেমনি সাধ্য ও সাধন- ভাবে অভিব্যক্ত এই জগতেরও অভিব্যক্তির পূর্ব্বে যে বীজাবস্থা ছিল, এখন শ্রুতি তাহাই নির্দেশ করিতে ইচ্ছা করিতেছেন। উদ্দেশ্য—কর্ম্মরূপ বীজ হইতে অবিদ্যা- ক্ষেত্রে প্রাদুর্ভূত এই(জন্ম মরণ প্রবাহরূপ) সংসারবৃক্ষকে সমূলে উন্মুলিত করা; কারণ, সংসারের উন্মলনে জীবের সর্ব্বপ্রকার পুরুষার্থ সমাপ্ত হইয়া যায়। এ কথা কঠোপনিষদেও উক্ত আছে—‘উর্দ্ধমূল ও অধঃশাখ(এই সংসার-বৃক্ষ)’; ভগবদ্গীতাতেও আছে—‘উর্দ্ধমূল ও অধঃশাখ’[এই সংসার-বৃক্ষ চ্ছেদন করিয়া], পুরাণ শাস্ত্রেও আছে—‘এই চিরন্তন ব্রহ্মবৃক্ষ’(১) ইত্যাদি।

তদ্ধেদং তহ্য ব্যাকৃতমাসীৎ, তন্নামরূপাভ্যামেব ব্যাক্রিয়তাসৌ- নামায়মিদরূপ ইতি, তদিদমপ্যেতর্হি নামরূপাভ্যামেব ব্যাক্রি- য়তেহসৌনামায়মিদরূপ ইতি, স এষ ইহ প্রবিষ্ট আ নখাগ্রেভ্যেঃ। যথা ক্ষুরঃ ক্ষুরধানেহবহিতঃ স্যাদ্ বিশ্বন্তরো বা বিশ্বম্ভরকুলায়ে,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২১৩

তং ন পশ্যন্তি। অকৃৎস্নো হি সঃ, প্রাণন্নেব প্রাণো নাম ভবতি, বদন্ বাক্ পশ্যশ্চক্ষুঃ শৃণ্বশ্রোত্রং মন্বানো মনস্তান্যস্যৈতানি কৰ্ম্মনামান্যের। স যোহত একৈকমুপাস্তে ন স বেদাকৃৎস্নো হ্যেযোহত একৈকেন ভবতি, আত্মেত্যেবোপাসীতাত্র হ্যেতে সর্ব্ব একং ভবন্তি। তদেতৎ পদনীয়মস্য সর্ব্বস্য, যদয়মাত্মানেন হ্যেতৎ সর্ব্বং বেদ। যথা হ বৈ পদেনানুবিন্দেদেবং কীর্ত্তি শ্লোকং বিন্দতে য এবং বেদ ॥ ৪৪ ॥ ৭ ॥

সরলার্থঃ।—তং(অপ্রত্যক্ষং বীজাবস্থং) ইদং(প্রত্যক্ষং নামরূপাভি- ব্যক্তং জগৎ) তর্হি(তদা—উৎপত্তেঃ প্রাক্) অব্যাকৃতং(নাম-রূপাভ্যাম্ অনভি- ব্যক্তম্) আসীৎ হ। তৎ(বীজরূপেণ স্থিতং জগৎ) নাম-রূপাভ্যাং—অয়ং(পদার্থঃ) অসৌনামা(অদো নাম অস্যেতি অসৌনামা, ছান্দসোহয়ং প্রয়োগঃ), ইদংরূপঃ (ইদং শ্বেতপীতাদি রূপম্ অস্যেতি ইদংরূপঃ) ইতি(এবং) ব্যাক্রিয়ত(স্বয়মেব ব্যাকৃতম্—ব্যবহারযোগ্যং বভূব)।[অতএব] এতহি(ইদানীং) অপি ‘অসৌনামা, ইদংরূপশ্চ অয়ম্’ ইতি নামরূপাভ্যাম্ এব ব্যাক্রিয়তে(ব্যাকৃতং ভবতীত্যর্থঃ) ইতি। যথা ক্ষুরঃ ক্ষুরধানে(ক্ষুরকোশে), অথবা যথা বিশ্বম্ভরঃ (অগ্নিঃ) বিশ্বম্ভরকুলায়ে(কাষ্ঠাদৌ) অবহিতঃ(অন্তনিবিষ্টঃ) স্যাৎ(ভবেৎ), তথা সঃ(জগৎকারণতয়া প্রসিদ্ধঃ) এবঃ(পরমেশ্বরঃ) ইহ(নামরূপাত্মনা ব্যাকৃতে জগতি) আ নখাগ্রেভ্যঃ(নখাগ্রপর্য্যন্তং) প্রবিষ্টঃ(প্রবেশং কৃতবান্)। [তথাপি অজ্ঞাঃ] তং(সর্ব্বানুস্যুতমপি পরমেশ্বরং) ন পশ্যন্তি(পরমেশ্বরত্বেন ন জানন্তীত্যর্থঃ)। হি(যস্মাৎ) সঃ(আ নখাগ্রপ্রবিষ্টঃ আত্মা) অকৃৎস্নঃ(উপাধি- পরিচ্ছন্নতয়া উপলভ্যমানত্বাৎ অপূর্ণঃ);[তথাহি—] সঃ(প্রবিষ্ট আত্মা) প্রাণন্ (প্রাণনাদি-ব্যাপারং কুর্ব্বন্) এব প্রাণঃ নাম(প্রসিদ্ধৌ) ভবতি; বদন্(বচন- ব্যাপারং কুর্ব্বন্) বাক্, পশ্যন্ চক্ষুঃ, শৃণন্ শ্রোত্রং, মন্বানঃ(সঙ্কল্প-বিকল্পলক্ষণং ব্যাপারং কুর্ব্বন্) মনঃ ভবতি। তানি এতানি(যথোক্তানি প্রাণাদীনি) অন্য (আত্মনঃ) কৰ্ম্ম-নামানি এব[দেহপ্রবিষ্ট আত্মা এব তত্তৎকৰ্ম্মানুসারতঃ প্রাণাদি- নামভিঃ পৃথগিব প্রতীয়তে ইতি ভাবঃ]।

অতঃ(অস্মাৎ হেতোঃ) যঃ সঃ(যঃ কশ্চিৎ) একৈকং(প্রাণ ইতি বা, বাগিতি বা—ইত্যেবং) উপান্তে, সঃ(উপাসকঃ) ন বেদ(নৈব আত্মানং বেত্তি); হি(যতঃ) এষঃ(আত্মা) একৈকেন(প্রাণাদ্যেকৈকবিশেষণেন বিশিষ্টঃ সন্)

২১৪. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অকৃৎস্নঃ(অসমন্তঃ) ভবতি; অতঃ ‘আত্মা’ ইত্যেব(বিশেষণভেদান্ পরিত্যজ্য কেবলম্ আত্মস্বরূপেণৈব) উপাসীত; হি(যস্মাৎ) অত্র(আত্মনি) এতে(প্রাগুক্তাঃ প্রাণাদয়ঃ) সর্ব্বে একং ভবন্তি(একরূপতাম্—অভিন্নতাং প্রতিপদ্যন্তে)। তৎ এতৎ অন্য সর্ব্বস্য(জীবনিবহস্থ্য) পদনীরং(প্রাপ্যং)।[কিং তৎ?] যৎ(যঃ) অরং আত্মা ইতি। হি(যস্মাৎ) অনেন(আত্মনা জ্ঞাতেন) এতৎ সর্ব্বং(জগৎ) বেদ(জানাতি ইত্যর্থঃ)। যথা হ বৈ(প্রসিদ্ধৌ) পদেন(চরণেন পদচিহ্ণেন বা) অনুবিন্দেৎ(নষ্টং গবাদিকং লভতে); তথা, যঃ এবং(যথোক্তং তত্ত্বং) বেদ,[সঃ] কীর্ত্তি(লোকপ্রতিষ্ঠাং) শ্লোকং(যশশ্চ) বিন্দতে(লভতে) ইত্যর্থঃ ॥ ৪৪ ॥ ৭ ॥

মূলানুবাদ:-সেই এই দৃশ্যমান জগৎ তৎকালে অর্থাৎ সৃষ্টির পূর্ব্বে অব্যাকৃত-নাম ও রূপাকারে অনভিব্যক্ত ছিল, অর্থাৎ বীজভাবে বর্তমান ছিল। সেই জগৎ নাম ও রূপাকারে অভিব্যক্ত হইল,-‘দেবদত্ত যজ্ঞদত্ত’ প্রভৃতি নাম ও শ্বেতপীতাদি রূপবিশিষ্ট হইয়া প্রকাশ পাইল; এই জন্যই বর্তমান সময়েও বিশেষ বিশেষ নাম ও বিশেষ বিশেষ রূপ লইয়াই এই জগৎ(জাগতিক বস্তু) অভিব্যক্ত হইয়া থাকে। ক্ষুর যেমন ক্ষুরাধারে নিহিত থাকে, অথবা বিশ্বম্ভর(অগ্নি) যেরূপ তদাশয় কাষ্ঠাদির মধ্যে নিহিত থাকে, তদ্রূপ সেই জগৎকারণ পরমেশ্বরও এই অভিব্যক্ত জগতে নখাগ্র হইতে সর্ববাবয়বে অনুপ্রবিষ্ট হইয়া রহিয়াছেন।[কিন্তু তিনি এইরূপে প্রবিষ্ট থাকিলেও অজ্ঞজনেরা] তাঁহাকে দেখিতে পায় না;[কেন না, তাহারা যাহাকে দর্শন করে,] সেই আত্মা হইতেছে-অকৃৎস্ন অর্থাৎ অপূর্ণ-প্রকৃত পূর্ণ আত্মার ঔপাধিক অংশবিশেষ মাত্র।[যেমন] প্রাণনাদি ব্যাপার নিষ্পাদন করেন বলিয়া প্রাণ নামে প্রসিদ্ধ হন, সেইরূপ, বাগিন্দ্রিয়ের ব্যাপার করত শ্রোত্র, এবং মনন বা চিন্তা করত মনঃশব্দ- বাচ্য হন; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু এ সমস্তই তাহার কর্ম্মানুষায়ী নাম মাত্র। অতএব যে লোক তাহাকে উক্ত প্রকার এক একটিমাত্র গুণ-যোগে উপা- সনা করেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি তাঁহাকে জানেন না; কারণ, এক একটিমাত্র গুণবিশিষ্ট আত্মা ত কখনই সম্পূর্ণ হইতে পারে না; অতএব ‘আত্মা’ বলিয়াই তাঁহার উপাসনা করিবে। ইঁহাতেই(এই আত্মাতেই) উক্ত ঔপাধিক গুণসমূহ একীভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এই যে, পরিপূর্ণ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২১৫

আত্মা, ইঁহাই সর্বজীবের একমাত্র পদনীয় বা গন্তব্য স্থল; কারণ, এত- দ্বিজ্ঞানেই সর্ব্ব বস্তু লাভ করা যায়। লোক যেমন পদের সাহায্যে গন্তব্য স্থান লাভ করে, তেমনি যিনি যথাবর্ণিত প্রকারে আত্ম-তত্ত্ব অবগত হন, তিনিও কীর্তি ও প্রশংসা প্রাপ্ত হইয়া থাকেন ॥ ৪৪ ॥ ৭ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তদ্ধেদম্। তদিতি বীজাবস্থং জগৎ প্রাগুৎপত্তেঃ, তর্হি তস্মিন্ কালে, পরোক্ষত্বাৎ সর্ব্বনাম্নাহপ্রত্যক্ষাভিধানেনাভিধীয়তে—ভূতকাল- সম্বন্ধিত্বাদব্যাকৃত-ভাবিনো জগতঃ। সুখগ্রহণার্থ মৈতিহ্যপ্রয়োগো হ-শব্দঃ; ‘এবং হ তদা আসীৎ’—ইত্যুচ্যমানে সুখং তাং পরোক্ষামপি জগতো বীজাবস্থাং প্রতি- পদ্যতে,—যুধিষ্ঠিরো হ কিল রাজাসীদিত্যুক্তে যদ্বৎ। ইদম্-ইতি ব্যাকৃতনামরূপা- ত্মকং সাধ্য-সাধনলক্ষণং যথাবর্ণিতমভিধীয়তে; তদ্‌-ইদংশব্দয়োঃ পরোক্ষ-প্রত্যক্ষা- বস্থ-জগদ্বাচকয়োঃ সামানাধিকরণ্যাদেকত্বমেব পরোক্ষ-প্রত্যক্ষাবস্থস্য জগতো- হবগম্যতে—তদেবেদং, ইদমেব চ তদ্ অব্যাকৃতমাসীদিতি। অথৈবং সতি, নাসত উৎপত্তিন্ সতো বিনাশঃ কার্য্যস্যেত্যবধৃতং ভবতি। ১

টীকা। সম্প্রতি প্রতীকমাদায় পদানি ব্যাচষ্টে-তদ্ধেত্যাদিনা। অপ্রত্যক্ষাভিধানেন তদিতি সর্ব্বনাম্বা বীজাবস্থং জগদভিধীয়তে পরোক্ষত্বাদিতি সম্বন্ধঃ। কথং জগতো বীজাবস্থত্ব- মিত্যাশঙ্কা তহীত্যস্যার্থমাহ-প্রাগিতি। কথং তস্য পরোক্ষত্বং, তত্রাহ-ভূতেতি। নিপাতার্থ- মাহ-সুখেতি। হশব্দার্থমভিনয়তি-কিলেতি। যথাবণিতমিত্যনর্থত্বেন সংসারেৎসারত্বোক্তিঃ। পদদ্বয়সামানাধিকরণ্যলব্ধমর্থমাহ-তদিদমিতি। একত্বমভিনয়েনোদাহরতি-তদেবেতি। একত্বাবগতিফলং কথয়তি-অথেতি। সামানাধিকরণ্যবশাদেকত্বে নিশ্চিতে সত্যনন্তরম্- “নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ।”

ইতি স্মৃতিমানুস্মৃতো ভবতীতি ভাবঃ। ১

তদেবভূতং জগদব্যাকৃতং সং নামরূপাভ্যামেব-নাম্না রূপেণৈব চ ব্যাক্রিয়ত। ব্যাক্রিয়তেতি কৰ্ম্মকর্তৃপ্রয়োগাৎ তৎ স্বয়মেবাম্মৈব ব্যাক্রিয়ত-বি+আ+অক্রি- য়ত-বিস্পষ্টং নামরূপবিশেষাবধারণমর্য্যাদং ব্যক্তীভাবমাপদ্যত-সামর্থ্যাদাক্ষিপ্ত- নিরন্ত-কর্ত্ত-সাধনক্রিয়া-নিমিত্তম্। অসৌনামেতি সর্ব্বনাম্নাহবিশেষাভিধানেন নাম- মাত্রং ব্যপদিশতি; দেবদত্তো যজ্ঞদত্ত ইতি বা নামাস্যেতি অসৌনামা অয়ম্। তথা ইদমিতি শুক্লকৃষ্ণাদীনামবিশেষঃ; ইদং শুক্লমিদং কৃষ্ণং বা রূপমস্যেতি ইদংরূপঃ। তদিদমব্যাকৃতং বস্তু, এতর্হি এতস্মিন্নপি কালে নামরূপাভ্যামেব ব্যক্রিয়তে- অসৌনামায়ম্ ইদংরূপ ইতি। ২

অজ্ঞাতং ব্রহ্ম জগতো মূলমিত্যুক্‌ত্বা তদ্বিবর্ত্তো জগদিতি নিরূপয়তি-তদেবস্তুতমিতি। তৃতীয়ামিখংভাবার্থত্বেন ব্যাচষ্টে-নায়েতি। ক্রিয়াপদপ্রয়োগাভিপ্রায়ং তদনুবাদপূর্ব্বকমাহ-

২১৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ব্যাক্রিয়তেতি। তত্র পদচ্ছেদপূর্ব্বকং তদ্বাচ্যমর্থমাহ-ব্যাক্রিয়তেত্যাদিমা। স্বয়মেবেতি কুতো বিশেষ্যতে, কারণমন্তরেণ কায্যোৎপত্তিরযুক্তেত্যাশঙ্ক্যাহ-সামর্থ্যাদিতি। নির্হেতুকাৰ্য্য- সিদ্ধ্যনুপপত্যাক্ষিপ্তো নিয়ন্তা জনয়িতা কর্তা চোৎপত্তৌ সাধনক্রিয়া-করণব্যাপারস্তন্নিমিত্তং তদপেক্ষ্য ব্যক্তিভাবমাপদ্যতেতি যোজনা। নামসামান্যং দেবদত্তাদিনা বিশেষনায়া সংযোজ্য সামান্যবিশেষবানর্থো নামব্যাকরণবাক্যে বিবক্ষিত ইত্যাহ-অসাবিত্যাদিনা। অসৌ-শব্দঃ শ্রৌতোহব্যয়ত্বেন নেবঃ। রূপসামান্যং শুক্লকৃষ্ণাদিনা বিশেষে সংযোজ্যোচ্যতে রূপব্যাকরণ- বাক্যেনেত্যাহ-তথেত্যাদিনা। অব্যাকৃতমেব ব্যাকৃতায়না ব্যক্তমিত্যেতৎ সুপ্তপ্রবুদ্ধদৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি-তদিদমিতি। ২

যদর্থঃ সর্ব্বশাস্ত্রারম্ভঃ, যস্মিন্নবিদ্যয়া স্বাভাবিক্যা কর্তৃক্রিয়াফলাধ্যারোপণা কৃতা, যঃ কারণ: সর্ব্বস্থ্য জগতঃ, যদাত্মকে নামরূপে সলিলাদিব স্বচ্ছান্মলমিব ফেনম্ অব্যা- কৃতে ব্যক্রিয়েতে, যশ্চ তাভ্যা, নামরূপাভ্যা- বিলক্ষণঃ স্বতো নিত্যশুদ্ধবুদ্ধমুক্ত- স্বভাবঃ, স এষ অব্যাকৃতে আত্মভূতে নাম-রূপে ব্যাকুর্ব্বন, ব্রহ্মাদিস্তম্বপর্যন্তেষু দেহেঘিহ কৰ্ম্মফলাশ্রয়েষু অশনায়াদিমৎসু প্রবিষ্টঃ। ৩

তদ্ধেত্যত্র মূলকারণমুকত্বা তন্নামরূপাত্যামিত্যাদিনা তৎকাৰ্য্যমুক্তম্, ইদানীং প্রবেশবাকাস্থস- শব্দাপেক্ষিতমর্থমাহ-যদর্থ ইতি। কাণ্ডদ্বযাত্মনো বেদস্যারন্তো যস্য পরস্য প্রতিপত্ত্যর্থে। বিজ্ঞাযতে, কল্পকাণ্ড হি স্বার্থানুষ্ঠানাহিতচিত্তশুদ্ধিদ্বাবা তত্ত্বজ্ঞানোপযোগীতে, জ্ঞানকাণ্ডং তু সাক্ষাদেব তত্রোপযুজ্যতে ‘সব্বে বেদা যৎপদমামনন্তি’ ইতি চ ক্রয়তে; স পরোহত্র প্রবিষ্টো দেহাদাবিতি যোজনা। সর্ব্বস্যায়ায়স্থ ব্রহ্মাত্মনি সমন্বয়মুষ্কা তত্র বিরোধসমাধানার্থমাহ- যস্মিন্নিতি। অধ্যাসস্থ্য চতুর্বিধখ্যাত নামন্যতমহ্ব বারয়তি-অবিদ্যয়েতি। তস্তা মিথ্যা- জ্ঞানতেন সাদিত্বাদনাদ্যধ্যাসহেতুত্বাসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বাভাবিক্যেতি। বিদ্যাপ্রাগভাবত্বম- বিদ্যাযা ব্যাবর্তয়তি-কত্রিতি। নহি তদুপাদানত্বমভাবত্বে সম্ভবতি, নচোপাদানান্তরমস্তীতি ভাবঃ। অন্বয়স্ত সর্বত্র যচ্ছবদ্য পূর্ববদদ্রষ্টব্য। আত্মনি কর্তৃত্বাধ্যাসস্তাবিদ্যাকৃতদ্বোক্ত্যা সমন্বয়ে বিরোধঃ সমাহিতঃ, সম্প্রতাধ্যাসকারণস্যোক্তত্বেহপি নিমিত্তোপাদানভেদং সাংখ্যবাদমা- শঙ্ক্যোক্তমেব কারণং তম্ভেদনিরাকরণার্থং কথয়তি-সঃ কারণমিতি। শ্রুতিস্মৃতিবাদেযু পরস্য তৎকারণত্বং প্রসিদ্ধমিতি ভাবঃ। নামরূপাত্মকশ্য দ্বৈতস্যাবিদ্যাবিত্যমানদেহত্বাদ্বিদ্যাপনোদ্যত্বং নিধ্যতীত্যাহ-যদাত্মকে ইতি। ব্যাকতু‘রাত্মনঃ স্বভাবতঃ শুদ্ধত্বে দৃষ্টান্তমাহ-সলিলাদিতি। ব্যাক্রিয়মাণয়োর্নামরূপয়োঃ স্বতোহশুদ্ধত্বে দৃষ্টান্তমাহ-মলমিবেতি। যথা ফেনাদি জলোখ’ তন্মাত্রমেব, তথাজ্ঞাতব্রহ্মোখং জগদ্ ব্রহ্মমাত্রং তজ্ঞানবাধ্যং চেতি ভাবঃ। নিত্যশুদ্ধত্বাদি- লক্ষণমপি বস্তু ন স্বতোহজ্ঞাননিবর্তকং, কেবলন্ত তৎসাধকত্বাৎ, বাক্যোখবুদ্ধিবৃত্তারয়ং তু তখেতি মন্বানো ক্রতে-যশ্চেতি। ‘আকাশো হ বৈ নাম নামরূপয়োর্নিব্বহিতা, তে যদন্তয়া তদ্‌ব্রহ্ম’ ইতি শ্রুতিমাশ্রিত্যাহ-তাভ্যামিতি। নামরূপাত্মকদ্বৈতাসংস্পর্শাদেব নিত্যগুত্ব- মশুদ্ধের্বৈ তসম্বন্ধাধীনত্বাৎ, তত্রাবিদ্যা প্রযোজিকেত্যভিপ্রেত্য তৎসম্বন্ধং, নিষেধতি-যুদ্ধেতি। তম্মাদেব দুঃখাদ্যনর্থাসংস্পর্শিমাহ-যুক্তেতি। বিদ্যাদশায়াং শুদ্ধ্যাদিসম্ভাবেহপি বকাবস্থায়াং

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২১৭

নৈবমিতি চেয়েত্যাহ-স্বভাব ইতি। অব্যাকৃতবাক্যোক্তমজ্ঞাতং পরমাত্মানং পরামৃশতি-স ইতি। তমেব কার্যস্থং প্রত্যঞ্চং নির্দিশতি-এষ ইতি। আত্মা হি স্বতো নিত্যশুদ্ধত্বাদিরূপোৎপি স্বাবিদ্যাবষ্টভান্নামরূপে ব্যাকরোতীতি তৎসর্জনস্যাবিদ্যাময়ত্বং বিবক্ষিত্বাহ-অব্যাকৃতে ইতি। তয়োরাত্মনা ব্যাকৃতত্বে তদতিরেকেণাভাবঃ ফলতীতি মত্বা বিশিনষ্টি-আত্মেতি। জনিমন্মাত্র- মিহ্-শব্দার্থং কথয়তি-ব্রহ্মাদীতি। তত্রৈব দুঃখাদিসম্বন্ধে। নাত্মনীতি মন্বানো বিশিনষ্টি- কর্ম্মেতি। ব্রহ্মাত্মৈক্যে পদদ্বয়সামানাধিকরণ্যাধিগতে হেতুমাহ-প্রবিষ্ট ইতি। ৩

ননু, অব্যাকৃতং স্বয়মেব ব্যাক্রিয়তেত্যুক্তম্; কথমদানীমুচ্যতে-পর এব তু আত্মা অব্যাকৃতং ব্যাকুর্ব্বন্নিহ প্রবিষ্ট ইতি? নৈষ দোষঃ; পরস্যাপাত্মনোহব্যা- কৃতজগদাত্মত্বেন বিবক্ষিতত্বাৎ। আক্ষিপ্তনিয়ন্ত-কর্তৃক্রিয়ানিমত্ত হি জগদব্যাকৃতং ব্যাক্রিয়ত ইত্যবোচাম; ইদং-শব্দসামানাধিকরণ্যাচ্চ অব্যাকৃতশব্দস্য। যথেদং জগৎ নিয়ন্নাদ্যনেককারকনিমিত্তাদিবিশেষবদ্ ব্যাকৃতম্, তথাহপরিত্যক্তান্যতম- বিশেষবদেব তদব্যাকৃতম্; ব্যাকৃতাব্যাকৃতমাত্রন্তু বিশেষঃ। দৃষ্টশ্চ লোকে বিব- ক্ষাতঃ শব্দপ্রয়োগঃ-‘গ্রাম আগতঃ, গ্রামঃ শূন্যঃ’ ইতি, কদাচিদ্ গ্রামশব্দেন নিবাসমাত্রবিবক্ষায়া: ‘গ্রামঃ শূন্যঃ’ ইতি শব্দপ্রয়োগো ভবতি; কদাচিৎ নিবাসি- জনবিবক্ষায়া ‘গ্রাম আগতঃ’ ইতি; কদাচিদুভয়বিবক্ষায়ামপি গ্রাম-শব্দপ্রয়োগো ভবতি-‘গ্রামঞ্চ ন প্রবিশেৎ’ ইতি যথা, তদ্বদিহাপি জগদিদঃ ব্যাকৃতম্ অব্যাকৃতং চেত্যভেদবিবক্ষায়ামাত্মানাত্মনোর্ভবতি ব্যপদেশঃ। তথেদং জগদুৎপত্তিবিনা- শাত্মকমিতি কেবলজগদ্ব্যপদেশঃ। তথা “মহানজ আত্মা” “অস্থুলোহনণুঃ” “স এব নেতি নেতি” ইত্যাদি কেবলাত্মব্যপদেশঃ। ৪

পরমাত্মা স্রষ্টা সৃষ্টে প্রবিষ্টো জগতীত্যাদিষ্টমাক্ষিপতি-নন্বিতি। পূর্ব্বাপরবিরোধং সমাধতে-নেত্যাদিনা। ব্যাক্রিয়তেতি কৰ্ম্মক্ষর্ভূপ্রয়োগাজ্জগৎকর্তুরবিবক্ষিতত্বমুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ- আক্ষিপ্তেতি। মুচাতে বৎসঃ স্বয়মেবেতিবৎ কর্ম্মকর্তরি লকারো ব্যাকরণসৌকর্যাপেক্ষয়া, সতোব কর্তরি নির্ব্বহতীতি ভাবঃ। অব্যাকৃতশব্দস্য নিয়ন্ত্রাদিযুক্তজগদ্বাচিত্বে হেত্বন্তরমাহ- ইদংশব্দেতি।

কথমুক্ত-সামানাধিকরণামাত্রাদব্যাকৃতস্য জগতো নিয়ন্ত্রাদিযুক্তত্বং, তত্রাহ-যথেতি। নিয়স্বাদীত্যাদিশব্দেন কর্ত্তুকরণাদিগ্রহণম্। নিমিত্তাদীত্যাদিপদেনোপাদানমুচ্যতে। বিমতং নিয়স্বাদিসাপেক্ষং কার্য্যত্বাৎ সম্প্রতিপন্নবদিত্যর্থঃ। কস্তহি প্রাগবস্থে সম্প্রতিতনে চ জগতি বিশেষস্তত্রাহ-ব্যাকৃতেতি। কথং পুনরব্যাকৃতশব্দেন জগদ্বাচিনা পরো গৃহ্যতে, একস্য শব্দস্যানেকার্থত্বাযোগাদত আহ-দৃষ্টশ্চেতি। উক্তমেব স্ফুটয়তি-কদাচিদিতি। উভয়- বিবক্ষয়া গ্রামশব্দপ্রয়োগস্য দাষ্টান্তিকমাহ-তদ্বদিতি। ইহেতাব্যাকৃতবাক্যোক্তিঃ। নিবাস- মাত্রবিবক্ষয়া গ্রামশব্দপ্রয়োগস্য দাষ্টান্তিকমাহ-তথেতি। নিবাসিজনবিবক্ষয়া তৎপ্রয়োগস্যাপি দাষ্টান্তিকং কথয়তি-তথা মহানিতি। ৪

২১৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ননু পরেণ ব্যাকত্রা ব্যাকৃতং সর্ব্বতো ব্যাপ্তং সর্ব্বদা জগৎ; স কথমহ প্রবিষ্টঃ পরিকল্প্যতে? অপ্রবিষ্টো হি দেশঃ পরিচ্ছিন্নেন প্রবেষ্টুং শক্যতে, যথা পুরুষেণ গ্রামাদিঃ, নাকাশেন কিঞ্চিৎ, নিত্যপ্রবিষ্টত্বাৎ। পাষাণ-সর্পাদিবৎ ধর্মান্তরেণেতি চেৎ,-অথাপি স্যাৎ-ন পর আত্মা স্বেনৈব রূপেণ প্রবিবেশ; কিং তর্হি? তৎস্থ এব ধর্মান্তরেণোপজায়তে; তেন প্রবিষ্ট ইত্যুপচর্য্যতে; যথা পাষাণে সহজোহস্তম্বঃ সর্পঃ, নারিকেলে বা তোয়ম্। ন, “তৎ সৃষ্ট্বা তদেবানুপ্রাবিশৎ” ইতি শ্রুতেঃ; সঃ স্রষ্টা, স ভাবান্তরমনাপন্ন এব কার্য্যঃ সৃষ্ট্বা পশ্চাৎ প্রাবিশদিতি হি ক্রয়তে। যথা ‘ভুক্তা গচ্ছতি’ ইতি ভুজি-গমিক্রিয়য়োঃ পূর্ব্বাপরকালয়োরিতরেতরবিচ্ছেদঃ, অবিশিষ্টশ্চ কর্তা, তদ্বদিহাপি স্যাৎ; ন তু তৎস্থস্যৈব ভাবান্তরোপজনন এতৎ সম্ভবতি। ন চ স্থানান্তরেণ বিয়জ্য স্থানান্তরসংযোগলক্ষণঃ প্রবেশো নিরবয়বস্যা- পরিচ্ছিন্নস্য দৃষ্টঃ। ৫

অব্যাকৃতবাক্যে। পরস্য প্রকৃতত্বাত্তস্থ্য প্রবেশবাক্যে সশব্দেন পরামৃষ্টস্য সৃষ্টে কার্য্যে প্রবেশ উক্তস্তং চ প্রকারান্তরেণাক্ষিপতি-নম্বিতি। কথমিতিসূচিতামনুপপত্তিমেব স্পষ্টয়তি-অপ্রবিষ্টো হীতি। দৃষ্টান্তাবষ্টন্তেন প্রবেশবাদী শঙ্কতে-পাষাণেতি। তদেব বিবৃণোতি-অথাপীত্যাদিনা। পরস্য পরিপূর্ণস্থ্য কচিৎ প্রবেশাভাবৈঃপীতি যাবৎ। তচ্ছন্দঃ সৃষ্টকার্য্যবিষয়ঃ। ধর্মান্তরং জীবাখ্যম্। দৃষ্টান্তং ব্যাচষ্টে-যথেতি। পাষাণাদ্বাহঃ সর্পাদিস্তত্র প্রবিষ্ট ইতি শঙ্কাপোহার্থ: সহজবিশেষণম্। সর্পাদেরশ্মাদিরূপেণ স্থিতভূতপঞ্চকপরিণামত্বাত্তত্র সহজত্ব, পাষাণাদৌ যানি ভূতানি স্থিতানি, তেষাং পরিণামঃ সর্পাদিঃ, তদ্রূপেণ তত্র ভূতানামনুপ্রবেশবদপরিচ্ছিন্নস্যাপি পরস্য জীবাকারেণ বুদ্ধ্যাদৌ প্রবেশসিদ্ধিরিতার্থঃ। আক্ষেপ্তা ক্রতে-নেতি। তদেব স্পষ্টয়তি- যঃ স্রষ্টেতি।

ননু তক্ষণা নির্মিতে বেশ্মনি ততোহন্যস্যাপি প্রবেশো দৃশ্যতে, তথা পরেণ সৃষ্টে জগতান্যস্য প্রবেশো ভবিষ্যতি, নেত্যাহ-যথেতি। পাষাণসর্পন্যায়েন কার্য্যস্থস্যৈব পরস্য জীবাখ্যে পরিণামে তৎসৃষ্টেত্যাদিশ্রবণমনুপপন্নমিতি ব্যতিরেকং দর্শয়তি-নত্বিতি। অন্ত তর্হি পরস্য মার্জারাদিবৎ পূর্ব্বাবস্থান-ত্যাগেনাবস্থানান্তরসংযোগাত্মা প্রবেশঃ, নেত্যাহ-ন চেতি। নিরবয়বোংপরিচ্ছিন্নশ্চাত্মা, তস্য স্থানান্তরেণ বিয়োগং প্রাপ্য স্থানান্তরেণ সহ সংযোগলক্ষণো যঃ প্রবেশঃ, স সাবরবে পরিচ্ছিন্নে চ মার্জারাদৌ দৃষ্টপ্রবেশসদৃশো ন ভবতীতি যোজনা। বিঘুজ্যেতি পাঠে তু স্ফুটেব যোজনা। ৫

সাবয়ব এব, প্রবেশশ্রবণাদিতি চেৎ; ন; “দিব্যো হ্যমূর্ত্তঃ পুরুষঃ” “নিষ্কলং নিষ্ক্রিয়ম্” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। সর্ব্বব্যপদেশ্য-ধৰ্ম্মবিশেষ-প্রতিষেধশ্রুতিভ্যশ্চ। প্রতিবিম্বপ্রবেশবদিতি চেৎ; ন; বস্তন্তরেণ বিপ্রকর্যানুপপত্তেঃ। দ্রব্যে গুণ- প্রবেশবদিতি চেৎ; ন, অনাশ্রিতত্বাৎ; নিত্যপরতন্ত্রস্যৈবাশ্রিতস্ত গুণস্থ দ্রব্যে প্রবেশ উপচর্য্যতে; ন তু ব্রহ্মণঃ স্বাতন্ত্র্যশ্রবণাৎ তথা প্রবের উপপদ্যতে। ফলে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২১৯

বীজবদিতি চেং; ন; সাবয়বত্ব-বৃদ্ধি-ক্ষয়োৎপত্তি-বিনাশাদিধৰ্ম্মবত্ত্বপ্রসঙ্গাৎ। ন চৈবং ধৰ্ম্মবত্বং ব্রহ্মণঃ, “অজোহজরঃ” ইত্যাদিশ্রুতিন্যায়বিরোধাৎ। অন্য এব সংসারী পরিচ্ছিন্ন ইহ প্রবিষ্ট ইতি চেং; ন; “সেরং দেবতৈক্ষত” ইত্যারভ্য “নাম- রূপে ব্যাকরবাণি” ইতি তস্যা এব প্রবেশ-ব্যাকরণ-কর্তৃত্বশ্রুতেঃ। তথা “তৎ সৃষ্ট্বা তদেবানুপ্রাবিশৎ” “স এতমেব সীমানং বিদার্য্যেতরা দ্বারা প্রাপদ্যত” “সর্ব্বাণি রূপানি বিচিত্য ধীরো নামানি কৃত্বাভিবদন্ যদাস্তে”, “ত্বং কুমার উত বা কুমারী ত্বং জীর্ণো দণ্ডেন বঞ্চসি” “পুরশ্চক্রে দ্বিপদঃ” “রূপং রূপম্” ইতি চ মন্ত্রবর্ণাৎ ন পরাদন্যস্য প্রবেশঃ। প্রবিষ্টানামিতরেতরভেদাৎ পরানেকত্বমিতি চেং; ন; “একো দেবো বহুধা সন্নিবিষ্টঃ” “একঃ সন্ বহুধা বিচার” “ত্বমেকোহসি বহুননুপ্রবিষ্টঃ” “একো দেবঃ সর্ব্বভূতেষু গূঢ়ঃ সর্ব্বব্যাপী সর্বভূতান্তরাত্মা” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। ৬

প্রবেশশ্রুতা নিরবয়বত্বাসিদ্ধিং শঙ্কতে-সাবয়ব ইতি। প্রবেশশ্রুতেরন্যথোপপত্তে- বক্ষ্যমাণত্বান্নৈবমিতি পরিহরতি-নেত্যাদিনা। অমূর্ত্তত্বং নিরবয়বত্বম্। পুরুষত্বং পূর্ণত্বম্। প্রকারান্তরেণ প্রবেশোপপত্তিঃ শঙ্কতে-প্রতিবিম্বেতি। আদিত্যাদৌ জলাদিনা সন্নিকর্ষাদি- সম্ভবাৎ প্রতিবিম্বাখ্যপ্রবেশোপপত্তিঃ; আত্মনি তু পরস্মিন্নসঙ্গেহনবচ্ছিন্নে কেনচিদপি তদভাবান্ন যথোক্তপ্রবেশসিদ্ধিরিত্যাহ-ন বস্তুন্তরেণেতি। প্রকারান্তরেণ প্রবেশং চোদয়তি দ্রব্য ইতি। পরস্যাপি কায্যে প্রবেশ ইতি শেষঃ। গুণাপেক্ষয়া পরস্য বৈলক্ষণং দর্শয়ন পরিহরতি- নেত্যাদিনা। স্বাতন্ত্র্যশ্রবণম্ “এব সর্ব্বেশ্বরঃ” ইত্যাদি।

পনসাদিফলে বীজস্য প্রবেশবৎ কার্য্যে পরস্য প্রবেশ: স্যাদিতি শঙ্কিত্বা দূয়য়তি-ফল- হত্যাদিনা। বিনাশাদীত্যাদিশব্দেনানাত্মহানীশ্বরত্বাদি গৃহ্যতে। প্রসঙ্গস্যেষ্টত্বমাশঙ্ক্য নিরাচষ্টে- ন চেতি। জন্মাদীনাং ধৰ্ম্মাণাং ধর্মিণো ভিন্নত্বাভিন্নত্বাসম্ভবাদিন্যায়ঃ। বীজফলয়োরবয়বাবয়বিত্বং পাষাণসর্পয়োরাধারাধেয়তেত্যপুনরুক্তিঃ। পরস্য সর্ব্বপ্রকারপ্রবেশাসম্ভবে প্রবেশশ্রুতেরালম্বনং বাচ্যমিত্যাশঙ্কা পূর্ব্বপক্ষমুপসংহরতি-অন্য এবেতি। জগতো হি পরঃ স্রষ্টেতি বেদান্তমৰ্য্যাদা, স্রষ্টৈব চ প্রবেষ্টা, প্রবিশ্য ব্যাকরবাণীতি প্রবেশব্যাকরণয়োরেককর্তৃত্বশ্রুতেঃ, তস্মাৎ পরমাদন্যস্য প্রবেশো ন যুক্তিমানিতি সিদ্ধান্তয়তি-নেত্যাদিনা। তত্রৈব তৈত্তিরীয়শ্রুতিং সংবাদয়তি- তথেতি। ঐতরেয়শ্রুতিরপি যথোক্তমর্থমুপোদ্বলয়তীত্যাহ-স এতমেবেতি। শ্রীনারায়ণাখ্যমন্ত্র- মপ্যত্রানুকুলয়তি-সর্ব্বাণীতি। বাক্যান্তরমুদাহরতি-ত্বং কুমার ইতি। অত্রৈব বাক্য- শেষস্যানুগুণ্যং দর্শয়তি-পুর ইতি। উদাহৃতশ্রুতীনাং তাৎপযমাহ-ন পরাদিতি।

পরস্য প্রবেশে প্রবিষ্টানাং মিথো ভেদাত্তদভিন্নস্য তস্যাপি নানাত্বপ্রসক্তিরিতি শঙ্কতে— প্রবিষ্টানামিতি। ন পরস্তানেকত্বমেকত্বশ্রুতিবিরোধাদিতি পরিহরতি—নেত্যাদিনা। ‘বিচার’ বিচচারেতি যাবৎ। ৬

প্রবেশ উপপদ্যতে নোপপদ্যত ইতি-তিষ্ঠতু তাবৎ; প্রবিষ্টানাং সংসারিত্বাৎ তদনন্যত্বাচ্চ পরস্য সংসারিত্বমিতি চেৎ; ন; অশনায়াদাত্যয়শ্রুতেঃ। সুখিত্ব-

২২০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দুঃখিত্বাদিদর্শনাম্নেতি চেং; ন; “ন লিপ্যতে লোকদুঃখেন বাহ্যঃ” ইতি শ্রুতেঃ। প্রত্যক্ষাদিবিরোধাদযুক্তমিতি চেৎ; ন; উপাধ্যাশ্রয়-জনিত-বিশেষবিষয়ত্বাৎ প্রত্যক্ষাদেঃ। “ন দৃষ্টেন্দ্রষ্টারং পশ্যেঃ” “বিজ্ঞাতারমরে কেন বিজানীয়াৎ” “অবি- জ্ঞাতং বিজ্ঞাতৃ” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যো ন আত্মবিষয়ং বিজ্ঞানম্; কিং তর্হি? বুদ্ধ্যাদ্য- পাধ্যাত্মপ্রতিচ্ছায়াবিষয়মেব-‘সুখিতোহহং, দুঃখিতোহহম্’ ইত্যেবমাদিপ্রত্যক্ষ- বিজ্ঞানম্; ‘অয়মহম্’ ইতি বিষয়েণ বিষয়িণঃ সামানাধিকরণ্যোপচারাৎ, “নান্য- দতোহস্তি দ্রষ্টু” ইত্যন্যাত্মপ্রতিষেধাচ্চ। দেহাবয়ববিশেষত্বাচ্চ সুখদুঃখয়োব্বিবর- ধৰ্ম্মত্বম্। ৭

পরস্য প্রবেশে নানাত্মপ্রসঙ্গং প্রত্যাখায় দোষান্তর’ চোদয়তি-প্রবেশ ইতি। তেষাং সংসারিত্বেহপি পরস্য কিমায়াতং, তদাহ-তদনন্যত্বাদিতি! শ্রুত্যবষ্টন্তেন দূষয়তি-নেতি। অনুভবমনুসৃতঃ শঙ্কতে-সুখিত্বেতি। নাস’সারিত্বমিতি শেষঃ। গুঢ়াভিসন্ধিরুত্তরমাহ- নেতি। আগমো হি পরস্যাসংসারিত্বে মান’ ত্বয়োচ্যতে, স চাধ্যক্ষবিরুদ্ধো ন স্বার্থে মান’, ন ৮ বৈপরীত্যং, জ্যেষ্ঠত্বেন বলবত্ত্বাদিতি শঙ্কতে--প্রত্যক্ষাদীতি। শঙ্কিতে পূর্ববাদিনি স্বাশয়মা- বিষ্কৃতবতি সিদ্ধান্তী স্বাভিসন্ধিমাহ-নোপাধীতি। উপাধিরস্তঃকরণ, তদাশ্রয়ত্বেন জনিতো বিশেষশ্চিদাভাসস্তদগতদুঃখাদিবিষয়ত্বাৎ প্রত্যক্ষাদেরাভাসত্বাত্তেনাত্মন্যসংসারিত্বাবগমস্থ্য ন বিরোধোহস্তীত্যর্থঃ। কিঞ্চ, প্রত্যক্ষাদানামনাত্মবিষয়ত্বাদাত্মবিষয়ত্বাচ্চাগমস্য ভিন্নবিষয় ৩য় নানয়োস্মিণো বিরোধোহস্তীতাভিপ্রেত্যাত্মনোংধ্যক্ষাদ্যবিষয়ত্বে শ্রুতীরুদাহরতি-ন দৃষ্টেরিতি। সুখ্যহমিত্যাদিপ্রতিভাসস্য তহি কা গতিরিত্যাশঙ্কা পূর্ব্বোক্তমেব স্মারয়তি-কিং তহীতি। বুদ্ধ্যাদিরুপাধি, তত্রাত্মপ্রতিচ্ছায়া তৎপ্রতিবিশ্বস্তদ্বিষয়মেব সুখাইমিত্যাদি বিজ্ঞাননিতি যোজনা। আত্মনো দুঃখিত্বাভাবে হেত্বন্তরমাহ-অয়মিতি। অয়ং দেহোহহমিতি দৃশ্যেণ দ্রষ্টুস্তাদাত্মাধ্যাসদর্শনাদ দৃশ্যবিশিষ্টস্যৈব প্রত্যক্ষবিষয়ত্বান্ন কেবলস্যাত্মনো দুঃখাদিসংসারে।- হস্তীতার্থঃ। কিঞ্চ, অম্বুলাদিবিশেষণমক্ষর’ প্রক্রম। তস্যৈব প্রত্যগাত্মত্বং দশয়ন্তী শ্রুতিরাত্মনং সংসারিত্বং বারয়তীত্যাহ-নান্যদিতি। কিঞ্চ, পাদয়োদুঃপেং শিরসি দুঃখমিতি দেহাবয়বাবচ্ছিন্ন তেন তৎপ্রতীতেন্ধর্ম্মত্বনিশ্চয়ান্নাত্মনি সংসারিত্ব: প্রামাণিকমিত্যাহ-দেহেতি। ৭

“আত্মনস্ত কামায়” ইত্যাত্মার্থত্বশ্রুতেরযুক্তমিতি চেং; ন; “বত্র বা অন্যদিব স্যাৎ” ইত্যবিদ্যাবিষয়াত্মার্থত্বাভ্যুপগমাৎ, “তং কেন কং পশ্যেৎ” “নেহ নানান্তি কিঞ্চন” “তত্র কো মোহঃ কঃ শোক একত্বমনুপশ্যতঃ” ইত্যাদিনা বিদ্যাবিষয়ে তৎ- প্রতিষেধাচ্চ নামধর্ম্মত্বম্। ৮.

শ্রুতিবশাদাত্মনঃ সংসারিত্বং শঙ্কতে--আত্মনস্থিতি। সুখং ভাবদাত্মাশ্রয়ম্ “আত্মনন্ত কামায়” ইতি সুণসাধনস্যাত্মার্থত্বশ্রুতেঃ, অতস্তদবিনাভূতং দুঃখমপি তত্র, ইত্যাদ্যসংসারিয়মযুক্ত- মিত্যর্থঃ। আবিদ্যক-সংসোরিস্থানুবাদেনাত্মনোহনতিশয়ানন্দত্বপ্রতিপাদকমাত্রসন্তু কামায়েত্যাদি- বাক্যমিতি মহাহ-মেতি। তদ্বাবিদ্যকসংসারানুবাদীত্যত্র গমকমাহ-বত্রেতি। অনেন হি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্। ২২১

বাক্যেন অবিদ্যাবস্থায়ামেবাক্সার্থত্বং সুখাদেরভ্যুপগম্যতে। অতো ন তস্যাত্মধৰ্ম্মত্বমিত্যর্থঃ। আত্মনি সংসারিত্বস্যাপ্রতিপাদ্যত্বেংপি গমকমাহ-তৎ কেনেতি। আত্মনোহসংসারিত্বে বিদ্বদনুভবমনুকূলয়িতুং চ-শব্দঃ। ৮

তাকিকসময়বিরোধাদযুক্তমিতি চেৎ; ন; যুক্ত্যাপ্যাত্মনো দুঃখিত্বানুপপত্তেঃ। ন হি দুঃখেন প্রত্যক্ষবিষয়েণাত্মনো বিশেষ্যত্বম্, প্রত্যক্ষাবিষয়ত্বাৎ। আকাশস্য শব্দগুণবত্ত্ববদাত্মনো দুঃখিত্বমিতি চেৎ; ন; একপ্রত্যয়বিষয়ত্বানুপপত্তেঃ। ন হি সুখগ্রাহকেণ প্রত্যক্ষবিষয়েণ প্রত্যয়েন নিত্যানুমেরস্যাত্মনো বিষয়ীকরণমুপ- পদ্যতে; তস্য চ বিষয়ীকরণে আত্মন একত্বাদ্বিষব্যভাবপ্রসঙ্গঃ। একস্যৈব বিষয়- বিষয়িত্বং দীপবদিতি চেৎ; ন; যুগপদসম্ভবাৎ, আত্মন্যংশানুপপত্তেশ্চ! ৯

তকশাস্ত্রপ্রাপাণ্যাদাত্মনঃ সংসারিত্বমিতি শঙ্কতে-তাকিকেতি। বুদ্ধ্যাদিচতুৰ্দ্দশগুণ- বানাত্মেতি তার্কিকসময়ঃ, তেন বিরোধাত্তস্যাসংসারিত্বমযুগ্ন, তকাবিরুদ্ধো হি সিদ্ধান্তো ভবতি ইত্যর্থঃ। সব্বতকাবিরোধী বা কতিপয় তর্কাবিরোধী বা সিদ্ধান্তঃ! নাদ্যঃ, তার্কিকাদিসিদ্ধান্ত- স্যাপি মিথো বৈদিকতর্কৈশ্চ বিরোধাদসিদ্ধিপ্রসঙ্গাৎ। দ্বিতীয়ে তু শ্রৌততকাবিরোধাদাত্মা- সংসারিত্বাসদ্ধান্তোহপি সিধ্যেদিত্যভিসন্ধায়াহ-ন যুক্ত্যাপীতি। কিষ্ণ, দুঃখাদিরাত্মধর্ম্মো ন ভবতি, বেদ্যত্বাৎ, রূপাদিবদিত্যাহ-ন হীতি। প্রত্যক্ষাবিষয়ত্বোক্তা প্রতীচস্তদ্বিষয়দুঃখা- বিশেষ্যত্বমযুক্তং; প্রত্যক্ষাপ্রত্যক্ষয়োঃ শব্দাকাশয়োরিব দুঃখাত্মনোরপি গুণগুণিত্বসম্ভবাদিতি শঙ্কতে-আকাশস্যেতি। যত্র ধৰ্ম্মধৰ্মিভাবস্তত্রৈকজ্ঞানগমাত্বং দৃষ্টং, যথা শুক্লো ঘট ইতি, তদ্ব্যাপকং ব্যাবর্তমান: দুঃখাত্মনোর্দ্ধর্মধৰ্ম্মিত্বং ব্যাবর্তয়তি, শব্দাকাশয়োরপি গুণগুণিভাবো নাম্মাকং সম্মতঃ, শব্দতন্মাত্রমাকাশমিতি স্থিতেরিত্যাশয়েনাহ-নৈকেতি।

কথং তদনুপপত্তিস্তত্রাহ-ন হীতি। নিত্যানুমেয়স্যেতি জরত্তার্কিকমতানুসারেণ সাংখ্য- সময়ানুসারেণ চোক্তম্। আধুনিকং তার্কিকং প্রত্যাহ-তস্য চেতি। সুখাদিবদাত্মনোহপি প্রত্যক্ষেণ বিষয়ীকরণে সতি একস্মিন্ দেহে তদৈকসম্মতেরাত্মান্তরস্য তত্রাযোগাদেকত্র ভোক্তৃদ্বয়ানিষ্টেঃ পুরুষান্তরস্যান্যং প্রত্যপ্রত্যক্ষত্বাদ দ্রষ্টভাবাদাত্মদৃশ্যত্বাসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। দীপস্য স্বব্যবহারহেতুত্বেন বিষয়বিষয়িত্ববদেকস্যৈবাত্মনো দ্রষ্টদৃশ্যসিদ্ধেদ্রষ্ট্রভাবো নাস্তীতি শঙ্কতে- একস্যৈবেতি। আত্মনে। বিষয়বিষয়িত্বং কাংস্নেনাংশাভ্যাং বা? আদ্যেহপি যুগপৎ ক্রমেণ বা? নাদ্য ইত্যাহ-ন যুগপদিতি। ক্রিয়ায়াং গুণত্বং কর্তৃত্বং, তত্র প্রাধান্যং কৰ্ম্মত্বমতো যুগপদেকক্রিয়াং প্রত্যেকস্য সাকল্যেন গুণপ্রধানত্বাযোগান্নৈবমিত্যর্থঃ। ন দ্বিতীয়ঃ, একভা- বেহস্যাভাবাদিতি মত্বা কল্পান্তরং প্রত্যাহ-আত্মনীতি। এতেন প্রদীপদৃষ্টান্তোহপি প্রতিনী-- তন্তস্যাংশাভ্যাং তদ্ভাবে প্রকৃতানুকূলত্বাৎ। ৯

এতেন বিজ্ঞানস্য গ্রাহ্য-গ্রাহকত্বং প্রত্যুক্তম্; প্রত্যক্ষানুমানবিষয়য়োশ্চ দুঃখাত্মনোগুণগুণিত্বেনানুমানম্। দুঃখস্য নিত্যমের প্রত্যক্ষবিষয়ত্বাদ্রূপাদি- সামানাধিকরণ্যাচ্চ; মনঃসংযোগজত্বেহপ্যাত্মনি দুঃখস্য সাবয়বত্ব-বিক্রিয়াবত্ত্বা- নিত্যত্বপ্রসঙ্গাৎ। ন হবিকৃত্য সংযোগি দ্রব্যং গুণঃ কুশ্চিদুপযন্ অপযন্ বা দৃষ্টঃ

২২২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কচিৎ। ন চ নিরবয়বং বিক্রিয়মাণং দৃষ্টং কচিৎ, অনিত্যগুণাশ্রয়ং বা নিত্যম্। ন চাকাশ আগমবাদিভিনিত্যতয়াবগম্যতে। ন চান্যো দৃষ্টান্তোহস্তি। বিক্রিয়- মাণমপি তৎ-প্রত্যয়ানিবৃত্তের্নিত্যমেবেতি চেৎ; ন; দ্রব্যস্যাবয়বান্যথাত্বব্যতি- রেকেণ বিক্রিয়ানুপপত্তেঃ। সাবয়বত্বেইপি নিত্যত্বমিতি চেৎ; ন, সাবয়বস্যাবয়ব- সংযোগপূর্ব্বকত্বে সতি বিভাগোপপত্তেঃ। বজ্রাদিঘদর্শনাম্নেতি চেৎ; ন; অনু- মেয়ত্বাৎ সংযোগপূর্ব্বত্বস্য। তস্মান্নাত্মনো দুঃখাদ্যনিত্যগুণাশ্রয়ত্বোপপত্তিঃ। ১০

ননু বিজ্ঞানবাদিনো যুগপদেকস্য বিজ্ঞানস্য সাকল্যেন গ্রাহ্যগ্রাহকত্বমুপযন্তি, তথা ত্বদাত্ম- নোহপি স্যাৎ, তত্রাহ—এতেনেতি। একস্তোভয়ত্বনিরাসেনেত্যর্থঃ। মা ভূৎ প্রত্যক্ষমাগমিকং, পারিভাষিকং বাত্মনঃ সংসারিত্বম্: আনুমানিকং তু ভবিষ্যতি, দুঃখাদি কচিদাশ্রিতং গুণত্বাদ রূপাদিবদিত্যাশ্রয়ে সিদ্ধে পরিশেষাদাত্মনস্তদাশ্রয়ত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—প্রত্যক্ষেতি। ন হি মিথো- বিরুদ্ধয়োগুণগুণিত্বমনুমেরং, দুঃখাদেশ সাভাসবুদ্ধিস্থত্বাৎ পারিশেষ্যাসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। সাভাসান্তঃ- করণনিষ্ঠং দুঃখাদীত্যত্র প্রমাণাভাবাৎ কথং সিদ্ধসাধনত্বমিত্যাশঙ্ক্য দুঃখহমিত্যাদিপ্রত্যক্ষস্য তত্র প্রমাণত্বাদুক্তানুমানস্য সিদ্ধসাধ্যতয়া পরিশেষাসিদ্ধিরিত্যাহ—দুঃখস্যেতি। যত্র রূপাদিমতি দেহে দাহচ্ছেদাদি দৃষ্টং, তত্রৈব তৎকৃতদুঃখাদ্যুপলস্তান্নাত্মনস্তদ্বত্বমিতি হেত্বস্তরমাহ— রূপাদীতি।

যত্ত আত্মমনঃসংযোগাদাত্মনি বুদ্ধ্যাদয়ো নব বৈশেষিকা গুণা ভবস্তীতি, তদদূষয়তি-মনঃ- সংযোগজত্বেহপীতি। দুঃখস্যাত্মনি মনঃসংযোগজত্বেহভ্যুপগতেহপি মনোবদাত্মনঃ সংযোগিত্বাৎ সাবরবত্বাদিপ্রসঙ্গাদাত্মত্বমেব ন স্যাদিত্যর্থঃ। তত্র সংযোগিত্বেন সক্রিয়ত্বং সাধয়তি-ন হ্যাঁতি। সম্প্রতি সক্রিয়ত্বেন সাবরবত্বং প্রতিপাদয়তি-ন চেতি। যদ্বা দুঃখাদ্যাত্মনো বিক্রিয়েতি কৈশ্চিদিষ্টত্বাত্তস্য সক্রিয়ত্বমবিরুদ্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। যদ্বা আত্মা ন পরিণামী নিরবয়- বত্বান্নভোবদিতি ভাবঃ। কিঞ্চ, আত্মা ন গুণী নিত্যত্বাৎ, সামান্যবৎ, ইত্যাহ-অনিত্যেতি। নিত্যং পশ্যাম ইতি শেষঃ। বাশব্দো নঞনুকর্ষণার্থঃ।

আকাশে ব্যভিচারমাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। আকাশস্য নিত্যত্বং চেৎ ‘আত্মন আকাশঃ সম্ভূতঃ’ ইত্যাদিশ্রুতিবিরোধঃ স্যাদিতি সূচয়িতুমাগমবাদিভিরিত্যুক্তম্। পরমাত্মাদৌ ব্যভিচারমাশঙ্ক্যাহ- ণ চান্দ্য ইতি। ন তাবদণবঃ সন্তি এ্যণুকেতরসত্ত্বে, মানাভাবাৎ; দিশশ্চাকাশেহন্তর্ভবস্তি, কালস্ত “সর্ব্বে নিমেষা জজ্ঞিরে” ইত্যাদিশ্রুতেরুৎপত্তিমান, মনোৎপ্যন্নময়ং শ্রুতিপ্রসিদ্ধমতো ন কচিদ্ব্যভিচার ইতি ভাবঃ। যস্মিন্ বিক্রিয়মাণে তদেবেদমিতি বুদ্ধির্ন বিহন্যতে, তদপি নিত্যমিতি ন্যায়েন পরিণামবাদী শঙ্কতে-বিক্রিয়মাণমিতি। তৎপ্রত্যয়স্তদেবেদমিতি প্রত্যয়ঃ। বিক্রিয়াং বদতা দ্রব্যস্যাবরবাঞ্ছাত্বং বাচ্যং, তদেব তস্তানিত্যত্বমত্যন্তাভাবস্ত প্রামাণিকরে দুর্ব্বচত্বাদিতি পরিহরতি-ন দ্রব্যস্তেতি।

আত্মনঃ সক্রিয়ত্বং সাবয়বত্বং বাস্ত, তথাপি নানিত্যত্বমিতি স্যাদ্বাদী শঙ্কতে-সাবয়ব- ত্বেহপীতি। যৎ সাবয়বং তদবয়বসংযোগকৃতং, যথা পটাদি, তথা সতি’ সংযোগস্ত বিভাগা- বসানত্বাদবয়ববিভাগে দ্রব্যনাশোহবন্যস্তাবীতি দূষয়তি-ন সাবয়বস্তেতি। যৎ সাবয়বং,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২২৩

তদবয়বসংযোগপূর্ব্বকমিতি ন ব্যাপ্তিঃ। সাবয়বেধের বজ্রাদিঘবয়বসংযোগপূর্ব্বকত্বে প্রমাণা- ভাবাদিতি শঙ্কতে—বজ্রাদিবিতি। বিমতমবয়বসংযোগপূর্ব্বকং সাবয়বত্ত্বাৎ পটবদিত্যনুমানেন পরিহরতি—নানুমேயত্বাদিতি। আত্মনো মনঃসংযোগজন্যদুঃখাদিগুণত্বে সাবয়বত্বসক্রিয়ত্বা- নিত্যত্বাদিপ্রসঙ্গং প্রতিপাদ্য প্রকৃতমুপসংহরতি—তস্মাদিতি। ১০

পরস্যাদুঃখিত্বেহন্যস্য চ দুঃখিনোহভাবে দুঃখোপশমনায় শাস্ত্রারম্ভানর্থক্যমিতি চেৎ; ন; অবিদ্যাধ্যারোপিতদুঃখিত্বভ্রমাপোহাথত্বাৎ-আত্মনি প্রকৃতসঙ্খ্যাপূরণ- ভ্রমাপোহবৎ; কল্পিতদুঃখ্যাত্মাভ্যুপগমাচ্চ। ১১

আত্মনোঽনর্থধ্বংসার্থশাস্ত্রারম্ভান্যধানুপপত্ত্যা। সংসারিতেত্যর্থাপত্যা শঙ্কতে-পরস্যেতি। অবিদ্যাবিদ্যমানমাত্মস্থমনর্থভ্রমং নিরাকর্ত্তুং তদারন্তঃ সম্ভবতীত্যন্যথোপপত্ত্যা। সমাধত্তে- নাবিদ্যেতি। পরস্যৈবাবিদ্যাকৃতসংসারিত্বভ্রান্তিধ্বংসার্থং শাস্ত্রমিত্যেতদৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি- আত্মনীতি। যৎ তু পরস্যাদুঃপিহমন্যস্য চ দুঃখিনোঽসত্বং, তত্রাহ-কল্পিতেতি। ন তাবৎ পরস্মাদন্যো দুঃখী ‘নাদ্যোহতোহস্তি দ্রষ্টা’ ইত্যাদিশ্রুতে। স পুনরনাদ্যনির্ব্বাচ্যাজ্ঞানসম্বন্ধাত্ত- জ্জন্যৈর্বুদ্ধ্যাদিভিরৈক্যাধ্যাসমাপন্নঃ সংসরতি। তথা চ কল্পিতাকারদ্বারা দুঃখিনঃ পরস্যাত্মনোঽ- ঙ্গীকারান্নার্থাপত্তেরুত্থান মিত্যর্থঃ। ১১

জলসূর্য্যাদি-প্রতিবিম্ববদাত্মপ্রবেশশ্চ প্রতিবিম্ববদ ব্যাকৃতে কার্য্যে উপলভ্য- ত্বম্। প্রাগুৎপত্তেরনুপলব্ধ আত্মা পশ্চাৎ কার্য্যে চ সৃষ্টে ব্যাকৃতে বুদ্ধেরন্তরুপ- লভ্যমানঃ সূর্য্যাদিপ্রতিবিম্ববৎ জলাদৌ কার্য্যং সৃষ্ট্বা প্রবিষ্ট ইব লক্ষ্যমাণো নিদ্দি- শ্যতে-“স এষ ইহ প্রবিষ্টঃ” “তৎ সৃষ্ট্বা তদেবানুপ্রাবিশৎ” “স এতমেব সীমানং বিদার্য্যৈতরা দ্বারা প্রাপদ্যত” “সেয়ং দেবতৈক্ষত-হন্তাহমিমাস্তিস্রো দেবতা অনেন জীবেনাত্মনানুপ্রবিশ্য” ইত্যেবমাদিভিঃ। ন তু সর্ব্বগতস্য নিরবয়বন্য দিগ দেশকালান্তরাপক্রমণপ্রাপ্তিলক্ষণঃ প্রবেশঃ কদাচিদপ্যুপপদ্যতে। ন চ পরাদাত্মনোঽন্যোহস্তি দ্রষ্টা, “নান্যদতোহস্তি দ্রষ্টু” “নান্যদতোহস্তি শ্রোতৃ” ইত্যাদিশ্রুতেরিত্যবোচাম। উপলব্ধ্যর্থত্বাচ্চ সৃষ্টিপ্রবেশস্থিতাপ্যয়বাক্যানাম্; উপলব্ধেঃ পুরুষার্থত্বশ্রবণাৎ-“আত্মানমেবাবেৎ” “তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবৎ” “ব্রহ্ম- বিদাপ্নোতি পরম্।” “স যো হ বৈ তৎ পরমং ব্রহ্ম বেদ, ব্রহ্মৈব ভবতি” “আচার্য্য- বান্ পুরুষো বেদ”, “তস্য তাবদেব চিরম্” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ।

“ততো মাং ততো জ্ঞাথ বিশতে তদনন্তরং।”

“তদ্যাগ্রাং সর্ব্ববিঘ্নানাং প্রপাতে হ্যমৃতং ততঃ।”

ইত্যাদিস্মৃতিভ্যশ্চ। ভেদদর্শনাপবাদাচ্চ সৃষ্ট্যাদিবাক্যানামাত্মৈকত্বদর্শনার্থপরত্বো- পপত্তিঃ। তস্মাৎ কার্য্যস্থস্যোপলভ্যত্বমেব প্রবেশ ইত্যুপচর্য্যতে। ১২

পরস্য প্রবেশে ‘প্রাপ্তাং দোষপরম্পরাং পরাকৃত্য তৎপ্রবেশস্বরূপং নিরূপয়তি-জলেতি। যথা জলে সূর্য্যাদেঃ প্রতিবিম্বলক্ষণঃ প্রবেশো দৃশ্যতে, তথাত্মনোহপি সৃষ্টে কার্য্যে কাল্পনিকঃ

২২৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রবেশ ইত্যর্থঃ। অনবচ্ছিন্নাদ্বয়চিদ্ধাতোর্ব্বন্তস্তরেণ সন্নিকর্ষাসম্ভবান্ন প্রতিবিম্বাখ্যপ্রবেশঃ সম্ভবতীত্যাশঙ্কা বস্তুস্তরকল্পনয়া কল্পিতসন্নিকষাদ্যাদায় প্রতিবিশ্বপক্ষং সাধয়তি-আয়েতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-প্রাগুৎপত্তেরিত্যাদিনা।

স্বাভিপ্রেতং প্রবেশং প্রতিপাদ্য পরেষ্টং পরাচষ্টে-ন ত্বিতি। কতশ্চিদ্দিশো দেশাৎ- কালাচ্চাপক্রমণেন দিগন্তরে দেশান্তরে কালান্তরে চ প্রাপ্তিলক্ষণ ইতি যাবৎ। যৎ তু পরম্মাদন্যস্য প্রবেষ্টত্বমিতি, তত্রাহ-ন চেতি। অপেদং প্রবেশাদি বস্তুতো বিদ্যমানমন্ত, কিমিত্যাবিদ্য কল্পাতে, নত্রাহ-উপলব্ধীতি। আত্মজ্ঞানার্থত্বেন প্রবেশাদীনাং কল্পিতত্বাত্ত- দ্বাক্যানাং ন স্বার্থে পয্যবসানমিত্যর্থ। ফলবৎসন্নিধাবফলং তদঙ্গমিতি ন্যায়মাশিত্যোক্তমেব পপঞ্চযা-উপাদেবিদিনা। ৪০শব্দো ভক্তিযোগপবামণী। তদি গ্যায়জ্ঞানমুচ্যতে। অস্যাগ্রত্বং সাধযতি-প্রাপতে হাঁতি। সৃষ্ট্যাদিবাক্যানামেকা জ্ঞানার্থত্বে হেহম্ববসাহ-- ভেদেতি। কল্পিত’ প্রবেশ’ প্রতিপাদিতমুপসংহরতি -তস্মাদিতি। ১২

আ নখাগ্রেভ্যঃ-নখাগ্রমর্য্যাদমাত্মনশ্চৈতন্যমুপলভ্যতে। তত্র কথমিব প্রবিষ্টঃ, ইত্যাহ-যথা লোকে, ক্ষুরধামে-ক্ষুরো ধীয়তেহস্মিন্নিতি ক্ষুরধানং, তস্মিন্ নাপিতোপস্করাধানে ক্ষুরোহন্তঃস্থো যথোপলভ্যতে-অবহিতঃ প্রবেশিতঃ স্যাৎ; যথা বা বিশ্বম্ভরঃ অগ্নিঃ-বিশ্বস্য ভরণাদিশ্বন্তরঃ, কুলায়ে নীডেহগ্নিঃ কাষ্ঠাদে, অবহিতঃ স্যাৎ-ইত্যনুবর্ততে; তত্র হি স মথ্যমান উপলভ্যতে। যথা চ ক্ষুরঃ ক্ষুরধানে একদেশেহবস্থিতঃ, যথা চাগ্নিঃ কাষ্ঠাদে সর্ব্বতো ব্যাপ্যাবস্থিতঃ, এব সামান্যতো বিশেষতশ্চ দেহ’ সাব্যাপ্যাবস্থিত আত্মা। তত্র হি স প্রাণনাদি ক্রিয়াবান্ দর্শনাদিক্রিয়াবা চোপলভ্যতে। তস্মাৎ তত্রৈব প্রবিষ্ট তমাত্মান, প্রাণনাদিক্রিয়াবিশিষ্ট ন পশ্যন্তি নোপলভন্তে। ১৩

কা পুনরস্য প্রবেশস্য ময্যাদেত্যাশঙ্ক্যাহ-আ নপাগ্রেভ্য ইতি। সম্ভবতি মর্য্যাদান্তবে কিমিতি প্রবেশস্থেয়মেব ময্যাদেত্যাশঙ্ক।হ-নখাগ্রেতি। দৃষ্টান্তদ্বয়মাকা ক্ষাপূর্ব্বকমুখাপয়তি- তত্রেতি। প্রবেশাধারো দেহাদিঃ সপ্তমার্থঃ। প্রথমোদাহরণপ্রতীকোপাদানম্-যথেতি। তদ্ব্যাচষ্টে-লোক ইতি। তত্র প্রবেশিতত্বং ক্ষুরস্ত কথং সিদ্ধমত আহ-অন্তঃস্থ’উপলভ্যত ইতি। বিশ্বম্ভরণবদস্যাগ্নিবিষয়ত্বং ব্যুৎপাদয়তি-বিশ্বদ্যেতি। তদ্য, তদ্‌ভর্ত্তৃত্বং মহাভূতত্বা- জাঠরত্বাম্বা দ্রষ্টব্যম্। কাষ্ঠাদাবগ্নেরবহিত্বে যুক্তিমাহ-তত্রেতি। দৃষ্টাস্তম্বয়ে রিবক্ষিতমংশ- মনূদ্য দাষ্টান্তিকমাহ--যথেত্যাদিনা। আত্মনো জাগ্রৎ-স্বপ্নয়োদ্দেহে ঘয়ী বৃত্তিঃ, ‘স্বাপে’ তু সামান্যবৃত্তিরেবেত্যবাস্তরবিভাগমাহ-তত্র হীতি। অবস্থাদ্বয়’ সপ্তম্যর্থঃ। ন কেবলং বিশেষ- বৃত্তিরেব তদোপলব্ধা, কিন্তু সামান্যবৃত্তিশ্চেতি চকারার্থঃ। অবস্থান্তরে সৈবেত্যপি তস্যৈবার্থঃ। বাক্যান্তরমবতারয়িতুং ভূমিকামাহ-তস্মাদিতি। যম্মাদুভরী বৃত্তিরায়নঃ শরীরে দৃশ্যতে, তন্মাত্তত্রৈব জলসূর্য্যবদবিদ্যয়া প্রবিষ্টোহয়মিতি যোজনা। ব্যাকৃতাৎ জগতঃ সকাশাদাত্মানং পৃথকর্তুং তং ন পশ্যত্তীতি বাক্যং, তদ্ব্যাচষ্টে-তমাত্মানমিতি। বিশিষ্টং ‘পদ্যন্তোহপি কেবল- মাত্মান’ ন পশ্যন্তীতি যাবৎ। চাক্ষুষত্বনিষেধস্যেষ্টত্বমাশঙ্কা ব্যাচষ্টে-নোপলভন্ত ইতি। ১৩

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২২৫

ননু অপ্রাপ্তপ্রতিষেধোহয়ম্—‘তং ন পশ্যন্তি’ ইতি, দর্শনস্যাপ্রকৃতত্বাৎ; নৈষ দোষঃ; সৃষ্ট্যাদিবাক্যানামাত্মৈকত্বপ্রতিপত্যর্থপরত্বাৎ প্রকৃতমেব তস্য দর্শনম্। “রূপং রূপং প্রতিরূপো বভূব, তদস্য রূপং প্রতিচক্ষণায়” ইতি-মন্ত্রবর্ণাৎ। তত্র প্রাণনাদিক্রিয়াবিশিষ্টস্য দর্শনে হেতুমাহ—অকৃৎস্নঃ অসমস্তঃ, হি যস্মাৎ সঃ প্রাণ- নাদিক্রিয়াবিশিষ্টঃ। কুতঃ পুনরকৃৎস্নত্বম্? ইতি, উচ্যতে—প্রাণন্নেব প্রাণন- ক্রিয়ামের কুর্ব্বন্ প্রাণো নাম প্রাণসমাখ্যঃ প্রাণাভিধানো ভবতি। প্রাণনক্রিয়া- কর্তৃত্বাদ্ধি প্রাণঃ প্রাণিতীত্যুচ্যতে, নান্যাং ক্রিয়াং কুর্ব্বন্—যথা লাবকঃ, পাচক ইতি। তস্মাৎ ক্রিয়ান্তরবিশিষ্টস্যানুপসংহারাদকংস্মো হি সঃ। ১৪

উরুনিষেধমাক্ষিপতি-নন্বিতি। প্রতিষেধ্যস্য প্রাপ্তি দশয়ন্ পরিহরতি-নেত্যাদিনা। “তন্নামরূপাত্যা” ন এষঃ” ইত্যাদিবাক্যানাং জ্ঞানার্থত্বে মানমাহ-রূপমিতি।

বিশিষ্টস্য দর্শনেহপি পূর্ণস্যাদর্শনে হেতুক্তিরনন্তরবাক্যমিত্যাহ-তত্রেতি। প্রতিজ্ঞাবাক্যার্থে স্থিতে সতীতি যাবৎ। তস্মাত্তদ্দর্শনেহপি পূর্ণস্যাদর্শনমিতি শেষঃ। বিশিষ্টস্যাপি পূর্ণত্বমাত্মত্বাদন্যথা প্রাণনাদিকর্তৃত্বাযোগাদিতি শঙ্কতে-কুত ইতি। প্রাণনাদিক্রিয়াকর্তা প্রাণাদিভিঃ সংহতত্বাৎ পূর্ণো ন ভবতীত্যুত্তরবাক্যেরুত্তরমাহ-উচাতে ইতি। আত্মনি প্রাণশব্দপ্রবৃত্তিমুপপাদয়তি- প্রাণনক্রিয়াকর্তৃত্বাদিতি। তৎকর্তৃত্বাদাত্মা প্রাণ উচ্যতে, প্রাণিতীতি ব্যুৎপত্তেরিতি যোজনা। সদৃষ্টান্তমেবকারার্থমাহ-নান্যামিতি। এবকারার্থমনূদ্য হেত্বর্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। ১৪

তথা বদন্ বদনক্রিয়াং কুর্ব্বন্-বক্তীতি বাক্, পশ্যন্ চক্ষুঃ, চষ্টে ইতি চক্ষুঃ দ্রষ্টা, শৃণন্-শৃণোতীতি শ্রোত্রম্, ‘প্রাণন্নেব প্রাণো বদন্ বাক’ ইত্যাদি্যাং ক্রিয়াশক্ত্য- দ্ভবঃ প্রদর্শিতো ভবতি। ‘পশ্যশ্চক্ষুঃ শৃণন্ শ্রোত্রম্’ ইত্যাভ্যাং বিজ্ঞানশক্ত্যুদভবঃ প্রদর্য্যতে, নামরূপবিষয়ত্বাদ্বিজ্ঞানশক্তেঃ। শ্রোত্র-চক্ষুষী বিজ্ঞানস্য সাধনে, বিজ্ঞানং তু নাম-রূপসাধনম্; নহি নাম-রূপব্যতিরিক্তং বিজ্ঞেয়মস্তি; তয়োশ্চো- পলম্ভে করণং চক্ষুঃশ্রোত্রে। ক্রিয়া চ নাম-রূপসাধ্যা প্রাণসমবায়িনী; তস্যাঃ প্রাণাশ্রয়ায়া অভিব্যক্তৌ বাক্ করণম্; তথা পাণিপাদপায়ুপস্থাখ্যানি; সর্বেষামুপলক্ষণার্থা বাক্। এতদেব হি সর্ব্বং ব্যাকৃতং-“ত্রয়ৎ বা ইদং নাম রূপং কৰ্ম্ম” ইতি হি বক্ষ্যতি। মন্বানো মনঃ-মনুত ইতি; জ্ঞানশক্তিবিকাসানাং সাধারণং করণং মনঃ-মনুতেহনেনেতি; পুরুষস্ত কর্ত্তা সন্ মন্বানো মন ইত্যুচ্যতে। ১৫ স্বাপাবস্থায়াং সমস্তকরণোপসংহারেহপি প্রাণস্য ব্যাপারদর্শনাৎপ্রাধান্যাবমাৎ প্রাণন্নিত্যাদি- বাক্যমাদৌ ব্যাখ্যায় ক্রিয়াশক্তিত্বেন প্রাণসাদৃশ্যাদ্বাচো বদন্নিতেতৎপূর্ব্বকমুত্তরবাক্যানি ব্যাচষ্টে- তথেত্যাদিনা। প্রাণনবদনাভ্যামমুক্তকর্মেন্দ্রিয়ব্যাপারমুপলক্ষ্য বাকাদ্বয়তাৎপর্য্যমাহ-প্রাণন্নে- বেতি। প্রাণবাগাদ্যুপাধিদ্বারেণাত্মনীতিশেষঃ। দৃষ্টিশ্রুতিভ্যামনুক্তজ্ঞানেন্দ্রিয়ব্যাপারোপলক্ষণং

২৯

২২৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কৃত্বাহনন্তরবাক্যয়োস্তাৎপর্য্যমাহ-পশ্যন্নিতি। চক্ষুরাদ্যপাধিদ্বারা আত্মনীতি পূর্ব্ববৎ। উক্ত- বুদ্ধীন্দ্রিয়ব্যাপারাভ্যামমুক্তং তদ্ব্যাপারমুপলক্ষ্যাত্মনঃ প্রষ্টত্বাদিপরিচ্ছেদে। ন সিধ্যতি, সম্বন্ধং বিনোপলক্ষণাযোগাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-নামরূপেত্যাদিনা। প্রকাশ্যপ্রকাশকাতিরিক্তজ্ঞেয়াভাবাত্ত- দুপলন্তে চ চক্ষুঃশ্রোত্রয়োরিব ত্বগাদেরপি করণত্বাদেকার্থত্বরূপসম্বন্ধাদুপলক্ষণসন্তবাদাত্মনঃ স্রষ্টত্বাদিসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। তথাহপ্যুক্তকর্মেন্দ্রিয়ব্যাপারেণানুক্ততদ্ব্যাপারোপলক্ষণাদাত্মনো ন গস্তত্বাদিপরিচ্ছেদঃ সংগচ্ছতে, বিনা সম্বন্ধমুপলক্ষণাসিদ্ধেরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ক্রিয়া চেত্যাদিনা। সর্ব্বা ক্রিয়া নামরূপব্যঙ্গ্যা প্রাণাশ্রয়া চ। তত্র প্রাণাশ্রয়-নামবিষয়োচ্চারণক্রিয়াব্যঞ্জকত্বং বাচঃ, হস্তাদীনাং তদাশ্রয়াদানাদিব্যঞ্জকতা, তস্মাদেকাশ্রয়ক্রিয়া-ব্যঞ্জকত্বযোগাদুপলক্ষণসম্ভবাদাত্মনে। গন্তত্বাদিসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। শক্তিদ্বয়োদ্ভবোক্তা সমস্তসংসারস্য প্রতীচ্যধ্যাসোহত্র বিবক্ষিত ইত্যাদি- এতদেবেতি। উদ্ভুতশক্তিদ্বয়মেতচ্ছব্দার্থঃ। উক্তেহর্থে বাক্যশেষমনুকূলয়তি-এয়মিতি। আত্মা মন্থানঃ সন্ মন ইত্যুচ্যতে, মনুত ইতি ব্যুৎপত্তেরিতি বাকান্তরং ব্যাচষ্টে-মন্থান ইতি। করণে প্রসিদ্ধস্য মনঃশব্দস্য কথমাত্মনি বৃত্তিরিত্যাশঙ্কা বুৎপত্তিভেদমাহ-জ্ঞানশক্তীত্যাদিনা। ১৫

তান্যেতানি প্রাণাদীনি অস্যাত্মনঃ কর্মনামানি-কৰ্ম্মজানি নামানি কৰ্ম্ম- নামান্যের, ন তু বস্তুমাত্রবিষয়াণি; অতো ন কৃৎস্নাত্মবস্তুবদ্যোতকানি-এবং হি অসাবাত্মা প্রাণনাদিক্রিয়রা তত্তৎক্রিয়াজনিত-প্রাণাদিনাম-রূপাভ্যাং ব্যাক্রিয়- মানোহবদ্যোত্যমানোহপি। স যোহতোহস্মাৎ প্রাণনাদিক্রিয়াসমুদায়াৎ একৈকং-প্রাণং চক্ষুরিতি বা বিশিষ্টম্ অনুপসংহৃতেতরবিশিষ্টক্রিয়াত্মকম্, মনসা ‘অয়মাত্মেতি’ উপান্তে চিন্তয়তি, ন স বেদ-ন স জানাতি ব্রহ্ম। কস্মাৎ? অকৃৎস্নোহসমস্তো হি যম্মাদের আত্মা, অস্মাৎ প্রাণনাদিসমুদায়াৎ, অতঃ প্রবি- ভক্তঃ, একৈকেন বিশেষণেন বিশিষ্টঃ, ইতর-ধর্মান্তরানুপসংহারাদ ভবতি। যাবদয়মেবং বেদ-‘পশ্যামি’ ‘শৃণোমি’ ‘স্পৃশামি’ ইতি বা স্বভাবপ্রবৃত্তিবিশিষ্ট বেদ, তাবদঞ্জসা কৃৎস্নমাত্মানং ন বেদ। ১৬

আত্মাদিশব্দেভ্যো বিশেষমাহ-তানীতি। কৃৎস্নাত্মবস্তুবদ্যোতকানি ন ভবন্তীত্যেতদেব স্ফুটয়তি-এবং হাঁতি। প্রাণাদানাং কৰ্ম্মনামত্বে সতীতি যাবৎ। অবদ্যোত্যমানোহপি ন কৃৎস্নো দৃষ্টঃ স্যাদিতি শেষঃ।

অকৃৎস্নদর্শিনোহপ্যাত্মদর্শিত্বমাশঙ্ক্যাহ-স য ইতি। আত্মোপাসিতুরাত্মদর্শনাসত্বমযুক্তমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-কম্মাদিত্যাদিনা। তস্মাদ্বিশিষ্টাত্মদর্শী ন ব্রহ্মাত্মত্বদর্শীতি শেষঃ। উপান্তি- জ্ঞানমুপাস্ত ইতি জানাতি ন স্বভাবাদুপাসনমিত্যুক্তত্বাৎ। তথা চ জানন্ন জানাতীতি ব্যাহতিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যাবদিতি। এবং বেদেত্যেতদেব-বিব্রিয়তে-পশ্যামীত্যাদিনা। ১৬

কথং পুনঃ পশ্যন্ বেদ? ইত্যাহ-আত্মেত্যেব, আত্মা-ইতি প্রাণাদীনি বিশেষণানি যান্যুক্তানি, তানি যস্য, সঃ-আপ্নবন্ তানি আত্মেত্যুচ্যতে। স তথা কৃৎস্নবিশেষোপসংহারী সন্ কৃৎস্নো ভবতি। বস্তুমাত্ররূপেণ হি প্রাণাদ্যপাধি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২২৭

বিশেষক্রিয়াজনিতানি বিশেষণানি ব্যাপ্নোতি। তথাচ বক্ষ্যতি “ধ্যায়তীব লেলায়তীব” ইতি। তন্মাদাত্মেত্যেবোপাসীত। এবং কৃৎস্নো হ্যাসৌ স্বেন বস্তুরূপেণ গৃহ্যমাণো ভবতি। কস্মাৎ কৃৎস্নঃ? ইত্যাশঙ্ক্যাহ—অত্রাস্মিন্ আত্মনি হি যস্মাৎ নিরুপাধিকে জলসূর্য্যপ্রতিবিম্বভেদা ইবাদিত্যে, প্রাণাদ্যপাধিকৃতা বিশেষাঃ প্রাণাদিকৰ্ম্মজ-নামাভিধেয়া যথোক্তা হোতে একমভিন্নতাং ভবন্তি প্রতিপদ্যন্তে। ১৭

আকাঙ্ক্ষাপুব্বকং বিদ্যাসূত্রমবতারয়তি-কপমিতি। তত্র ব্যাখ্যেয়ং পদমাদত্তে-আত্মে- তীতি। তদ্ব্যাচষ্টে-প্রাণাদীনীতি। তস্মিনদৃষ্টে পূর্ব্বোক্তদোষরাহিত্যং দশয়তি-স তথেতি। তত্তদ্বিশেষণব্যাপ্তিদ্বারেণেতি যাবৎ। কথং তত্তদ্বিশেযোপসংহারী তেন তেনাত্মনা তিষ্ঠন্ কুৎস্নঃ স্যাৎ, তত্রাহ-বস্তুমাত্রেতি। স্বতোহস্য প্রাণনাদিসম্বন্ধে সম্ভবতি কিমিত্যুপাধিসম্বন্ধেনেত্যা- শঙ্ক্যাহ-তথা চেতি। আত্মনি সর্ব্বোপসংহারবতি দৃষ্টে পূর্ব্বোক্তদোষাভাবাত্তং পশ্যন্নেবাত্ম- দর্শীতু্যপসংহরতি-তস্মাদিতি। যথোক্তাত্মোপাসনে পূর্ব্বোক্তদোষাভাবে প্রাগুক্তমেব হেতুং স্মারয়তি-এবমিতি। তস্যার্থং স্ফোরয়তি-স্বেনেতি। বামনসাতীতেনাকায্যকারণেন প্রতাগ্ভুতেনেতি যাবৎ। আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুত্তরবাক্যমবতার্য্য বাকরোতি-কস্মাদিত্যাদিনা। তস্মাদ্যথোক্তমাত্মানমেবোপাসীতেতি শেষঃ। অস্যৈব দ্যোতকো দ্বিতীয়ো হিশব্দঃ। ১৭

“আত্মেত্যেবোপাসীত” ইতি নাপূর্ব্ববিধিঃ, পক্ষে প্রাপ্তত্বাৎ। “যৎ সাক্ষাদ- পরোক্ষাদ্রহ্ম”। “কতম আত্মেতি,-যোহয়: বিজ্ঞানময়ঃ” ইত্যেবমাদ্যাত্মপ্রতি- পাদনপরাভিঃ শ্রুতিভিরাত্মবিষয়ং বিজ্ঞানমুৎপাদিতম্; তত্রাত্মস্বরূপবিজ্ঞা- নেনৈব তদ্বিষয়ানাত্মাভিমানবুদ্ধিঃ কারকাদিক্রিয়াফলাধ্যারোপণাত্মিকা অবিদ্যা নিবর্ত্তিতা; তস্যাং নিবর্তিতায়াং কামাদিদোষানুপপত্তেরনাত্মচিন্তানুপপত্তিঃ; পারিশেষ্যাদাত্মচিন্তৈব। তস্মাৎ তদুপাসনমস্মিন্ পক্ষে ন বিধাতব্যম্, প্রাপ্তত্বাৎ। ১৮

বিদ্যাসূত্রং বিধিম্পশং বিনা বিবক্ষিতেহর্থে ব্যাখ্যায়াপূর্ব্ববিধিরয়মিতি পক্ষং প্রত্যাহ- আত্মেতোবেতি। অত্যন্তাপ্রাপ্তার্থো হ্যপূর্ব্ববিধিষথা স্বগকামোগ্নিহোত্রং জুহুয়াদিতি, নায়ং তথা, পক্ষে প্রাপ্তত্বাদাত্মোপাসনস্য, তস্য তৎপ্রাপ্তিশ্চ পুরুষবিশেষাপেক্ষয়া বিচারাবসানে স্পষ্টীভবিষ্য- তীত্যর্থঃ। ইদানীমাত্মজ্ঞানস্যাবিধেয়ত্বখ্যাপনার্থং বস্তুস্বভাবালোচনয়া নিত্যপ্রাপ্তিমাহ-যৎ সাক্ষাদিতি; উৎপাদ্যতামুক্তশ্রুতিভিরাত্মবিজ্ঞানং, কিং তাবতেতাত আহ-তত্রেতি। কারকাদীত্যাদিপদং তদবান্তরভেদবিষয়ম্। নন্ববিদ্যায়ামপনীতায়ামপি রাগদ্বেষাদিসম্ভাবাদ্বৈধী প্রবৃত্তিঃ স্যাৎ, ন হি বিদ্বদবিদুষোর্ব্যবহারে কশ্চিদ্বিশেষঃ, পশ্বাদিভিশ্বাবিশেষাদিতি ন্যায়াদত আহ-তস্মাদিতি। বাধিতানুবৃত্তিমাত্রান্ন বৈধী প্রবৃত্তিরবাধিতাভিমানমন্তরেণ তদযোগাদিতি ভাবঃ। বিদুষঃ সুযুপ্ততুল্যত্বং ব্যাবর্তরতি-পারিশেষ্যাদিতি। শ্রৌতজ্ঞানাৎপূর্ব্বমপি সর্ব্বাসাং চিত্তবৃত্তীনাং জন্মনৈবাস্মচৈতন্যব্যঞ্জকত্বাৎ প্রাপ্তমাত্মজ্ঞানং, শ্রৌতে তু জ্ঞানে নাস্ত্যনাম্সেতি

২২৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ক্ষুরণমাত্মজ্ঞানমেবেতি নিত্যপ্রাপ্তিমভিপ্রেত্যাহ—তস্মাদিতি। অস্মিন্ পক্ষইতি নিত্যপ্রাপ্তত্ব- পক্ষোক্তিঃ। ১৮

তিষ্ঠতু তাবৎ-পাক্ষিক্যাত্মোপাসনপ্রাপ্তিনিত্যা বেতি; অপূর্ব্ববিধিঃ স্যাৎ, জ্ঞানোপাসনয়োরেকত্বে সত্যপ্রাপ্তত্বাৎ; “ন স বেদ” ইতি বিজ্ঞানং প্রস্তুত্য “আত্মেত্যেবোপাসীত” ইত্যভিধানাৎ বেদোপাসনশব্দয়োরেকার্থতাহব- গম্যতে। “অনেন হ্যেতৎ সর্ব্বং বেদ” “আত্মানমেবাবেৎ” ইত্যাদি শ্রুতিভ্যশ্চ বিজ্ঞানমুপাসনম্। তস্য চাপ্রাপ্তত্বাদ্বিধাইত্বম্। ন চ স্বরূপান্বাখ্যানে পুরুষ- প্রবৃত্তিরুপপদ্যতে; তম্মাদপূর্ব্ববিধিরেবায়ম্। কৰ্ম্মবিধিসামান্যাচ্চ-যথা “যজেত, জুহুয়াং” ইত্যাদয়ঃ কর্মবিধয়ঃ, ন তৈরস্য আত্মেত্যেবোপাসীত” “আত্মা বা অরে দ্রষ্টব্যঃ” ইত্যাদ্যাত্মোপাসনবিধের্বিশেষোহবগম্যতে। ১৯

অপূর্ব্ববিধিবাদী শঙ্কতে-তিষ্ঠতু তাবদিতি। সর্বেষাং স্বভাবতো বিষয়প্রবণানীন্দ্রিয়ানি নাত্মজ্ঞানবার্তামপি মৃষ্যন্তে; তদতান্তাপ্রাপ্তত্বাদাত্মজ্ঞানে ভবতাপূর্ব্ববিধিরিতি ভাবঃ। বিশিষ্টস্যাধিকারিণঃ শাব্দজ্ঞানং শব্দাদেব সিদ্ধমিতি কথমপ্রাপ্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-জ্ঞানেতি। ন খলত্র শাব্দজ্ঞানং বিবক্ষিতঃ, কিন্তু উপাসনম্, উপাসনং নাম মানসং কম্ম, ‘তদেব জ্ঞানাবৃত্তিরূপত্বাজ জ্ঞানমিত্যেকত্বে সত্যপ্রাপ্তত্বাদিধেয়মিত্যর্থঃ। তয়োরেকত্ব’ বিবৃণোতি- নেত্যাদিনা। অনেন হীত্যাদৌ বেদশব্দস্যার্থান্তরবিষয়ত্ববৎ ‘ন স বেদ’ ইত্যত্রাপি কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অনেনেতি। উক্তশ্রুতিভ্যো যদ্বিজ্ঞানং শ্রুতং, তদুপাসনমেবেতি যোজনঃ। ‘স যোহত একৈকমুপাস্তে’ ইত্যুপক্রমাৎ ‘আক্সেত্যেবোপাসীত’ ইত্যুপসংহারাচ্চ ‘ন স বেদ’ ইত্যত্র তাবদ্বেদ-শব্দস্যোপাসনার্থত্বমেষ্টব্যম্, অন্যথোপক্রমোপসংহারাৎ। তথা চাদ্ধবৈশসাসম্ভবাদুপাসনমের সর্বত্র বেদনং, তচ্চ সব্বথৈবাপ্রাপ্তমিতি তস্মিন্নপূর্ব্ববিধিঃ স্যাদিতি ভাবঃ।

ইতশ্চ তস্মিন্নেষ্টব্যো বিধিরিত্যাহ-ন চেতি। অতঃ প্রবর্ত্তকো বিধিরুপেয় ইতি শেষঃ। স চাতান্তাপ্রাপ্তবিষয়ত্বান্নিয়মাদিরূপে। ন ভবতীত্যাহ-তস্মাদিতি। আত্মোপাস্তিবিধেয়েত্যত্র হেত্বন্তরমাহ-কর্মবিধীতি। কর্ম্মাত্মজ্ঞানবিধ্যোঃ শব্দানুসারেণাবিশেষমভিদধাতি-যথেত্যা- দিনা। ১৯

মানসক্রিয়াত্বাচ্চ বিজ্ঞানস্য,—যথা “যস্যৈ দেবতারৈ হবিগৃহীতং স্যাৎ, তাং মনসা ধ্যায়েদ্ বষট্করিষ্যন্” ইত্যাদ্য। মানসী ক্রিয়া বিধীয়তে, তথা “আত্মে- ত্যেবোপাসীত” “মন্তব্যো নিদিধ্যাসিতব্যঃ” ইত্যাদ্য। ক্রিয়ৈব বিধীয়তে জ্ঞানা- ত্মিকা। তথাবোচাম—বেদোপাসনশব্দয়োরেকার্থত্বমিতি। ভাবনাংশত্রয়ো- পপত্তেশ্চ,—যথা হি ‘যজেত’ ইত্যস্যাং ভাবনায়াং, কিম্? কেন? কথম্? ইতি ভাব্যাদাকাঙ্ক্ষাপনয়কারণমংশত্রয়মবগম্যতে, তথা “উপাসীত” ইত্য- স্যামপি ভাবনায়াং বিধীয়মানায়াম্, কিমুপাসীত? কেনোপাসীত? কথ-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২২৯

মুপাসীত? ইত্যস্যামাকাঙ্ক্ষায়াম্ ‘আত্মানমুপাসীত, মনসা, ত্যাগব্রহ্মচর্য্যশম- দমোপরম-তিতিক্ষাদীতিকর্তব্যতাসংযুক্তঃ’ ইত্যাদিশাস্ত্রেণৈব সমর্থ্যতে অংশ- ত্রয়ম্। ২০

সংপ্রত্যর্থতোহপ্যবিশেষমাহ—মানসেতি। তদেব দৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি—যথেতি। যদি ক্রিয়া বিধীয়তে, কথং জ্ঞানাত্মিকেতি বিশেষ্যতে, তত্রাহ—তথেতি।

ইতশ্চাত্মোপাসনে বিধিরস্তীত্যাহ-ভাবনেতি। বেদান্তেষু ভাবনাপেক্ষিতাংশত্রয়োপপত্তিঃ বিশদয়িতুং দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। ভাবনায়াং বিধীয়মানত্বে সতীতি শেষঃ। প্রেরণাধৰ্ম্মকঃ শব্দব্যাপারঃ স্বজ্ঞানকরণকঃ স্তত্যাদিজ্ঞানেতিকর্তব্যতাকঃ পুরুষপ্রযত্নভাব্যনিষ্ঠঃ শব্দভাবনোচ্যতে। স্বগং সাগেন প্রযাজাদিভিরুপকৃত্য সাধয়েদিতি পুরুষপ্রবৃত্তিরর্থভাবনেতি বিভাগঃ। দৃষ্টান্তস্থমর্থং দাষ্টান্তিকে যোজয়তি-তথেত্যাদিনা। ত্যাগো নিষিদ্ধকামাবর্জনম্। উপরমো নিত্য- নৈমিত্তিকত্যাগঃ। তিতিক্ষাদাত্যাদিপদং সমাধানাদিসংগ্রহার্থমিত্যংশত্রয়মিতি সম্বন্ধঃ। শাস্ত্রং “শান্তো দান্তঃ” ইত্যাদি। উক্তপ্রকারমংশত্রয়মন্যদপি সুলভমিতি বক্তুমাদিপদম্। ২০

যথা চ কৃৎস্নস্য দর্শপূর্ণমাসাদিপ্রকরণস্থ্য দর্শপূর্ণমাসাদিবিধ্যুদ্দেশত্বেনোপ- যোগঃ, এবমৌপনিষদাত্মোপাসন প্রকরণস্য আত্মোপাসনবিধ্যুদ্দেশত্বেনৈবোপ- যোগঃ; “নেতি নেতি” “অস্থূলম্” “একমেবাদ্বিতীয়ম্” “অশনায়াদ্যতীতঃ” ইত্যেবমাদিবাক্যানাম্ উপাস্যাত্মস্বরূপবিশেষসমর্পণেনোপযোগঃ। ফলঞ্চ— মোক্ষো হবিদ্যানিবৃত্তির্ব্বা। ২১

বিধিযুক্তানাং বেদান্তানাং কার্য্যপরত্বেইপি তদ্ধীনানাং তেষাং বস্তুপরতেত্যাশঙ্ক্যাহ-যথা চেতি। বিধুদ্দেশত্বেন তচ্ছেষত্বেনেতি যাবৎ। অঙ্গুলাদিবাক্যানামারোপিতদ্বৈতনিষেধেনাদ্বয়ং বস্তু সমর্পয়তাং কথমুপাস্তিবিধিশেষত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-নেত্যাদিনা। ‘ব্রহ্ম বেদ ব্রহ্মৈব ভবতি’ ‘তরতি শোকমাত্মবিৎ’ ইত্যাদীনাং ফলার্পকত্বেনোপাস্তিবিধুপযোগমভিপ্রেত্যাহ-ফলং চেতি। মোক্ষো ব্রহ্মপ্রাপ্তিঃ। ২১

অপরে বর্ণয়ন্তি—উপাসনেনাত্মবিষয়ং বিশিষ্টং বিজ্ঞানান্তরং ভাবয়েৎ; তেনাত্মা জ্ঞায়তে, অবিদ্যানিবর্ত্তকঞ্চ তদেব, নাম্ববিষয়ং বেদবাক্যজনিতং বিজ্ঞানমিতি। এতস্মিন্নর্থে বচনান্যপি—“বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাঃ কুব্বীত” “দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্যো মন্তব্যো নিদিধ্যাসিতব্যঃ” “সোহন্নেষ্টব্যঃ স জিজ্ঞাসিতব্যঃ” ইত্যাদীনি। ২২

আত্মোপাসনং বিধেয়মিতি পক্ষমুক্ত। পক্ষান্তরমাহ-অপর ইতি। তস্যানুপযোগ- মাশঙ্ক্যাহ-তেনেতি। শাব্দস্য জ্ঞানস্যাসংসৃষ্টাপরোক্ষাত্মবিষয়ত্বাভাবমিতি-শব্দেন হেতুকরোতি। জ্ঞানান্তরং বেদান্তেযু বিধেয়মিত্যত্র মানমাহ-এতস্মিন্নিতি। ২২

ন, অর্থান্তরাভাবাৎ। ন চ “আত্মেত্যেবোপাসীত” ইত্যপূর্ব্ববিধিঃ। কস্মাৎ? আত্মস্বরূপকথনানাত্মপ্রতিষেধবাক্যজনিত-বিজ্ঞানব্যতিরেকেণার্থান্তরস্য

২৩০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কর্তব্যস্য মানসস্য বাহ্যস্য বা অভাবাৎ। তত্র হি বিধেঃ সাফল্যম্, যত্র বিধিবাক্যশ্রবণমাত্রজনিত-বিজ্ঞানব্যতিরেকেণ পুরুষপ্রবৃত্তির্গম্যতে—যথা, “দশ- পূর্ণমাসাভ্যাং স্বর্গকামো যজেত” ইত্যেবমাদৌ। ন হি দর্শপূর্ণমাসবিধিবাক্য- জনিতবিজ্ঞানমেব দর্শপূর্ণমাসানুষ্ঠানম্। তচ্চাধিকারাদ্যপেক্ষানুভাবি; ন তু “নেতি নেতি” ইত্যাদ্যাত্মপ্রতিপাদক-বাক্যজনিতবিজ্ঞানব্যতিরেকেণ দর্শপূর্ণ- মাসাদিবৎ পুরুষব্যাপারঃ সম্ভবতি। সর্ব্বব্যাপারোপশমহেতুত্বাৎ তদ্বাক্য- জনিতবিজ্ঞানস্য। ন হি উদাসীনবিজ্ঞানং প্রবৃত্তিজনকম্; অব্রহ্মানাত্মবিজ্ঞান- নিবর্ত্তকত্বাচ্চ “একমেবাদ্বিতীয়ম্” “তত্ত্বমসি” ইত্যেবমাদিবাক্যানাম্। ন চ তন্নিবৃত্তৌ প্রবৃত্তিরুপপদ্যতে, বিরোধাৎ। ২৩

পক্ষদ্বয়ে প্রাপ্তে প্রথমপক্ষং প্রত্যাহ—নার্থান্তরাভাবাদিতি। তত্র নঞর্থমেব স্বয়ং ব্যাচষ্টে— ন চেতি। শাব্দজ্ঞানবতো বিষয়াভাবান্ন বিধিঃ সম্ভবতি, অবিদ্যাতৎকায্যনিবৃত্তৌ স্বয়ং ফলাবস্থত্বাচ্চেত্যর্থঃ। হেতুভাগং প্রশ্নপূর্ব্বকং বিবৃণোতি—কুম্মাদিত্যাদিনা। আত্মোপদেশে- নানাত্মনিষেধদ্বারা বাক্যোত্থজ্ঞানাতিরেকেণেতি যাবৎ। কর্ত্তব্যান্তরাভাবেহপি বাক্যজন্য- বিজ্ঞানমের বিধেয়ং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—তত্র হীতি।

দৃষ্টান্তেহপি বাক্যোথজ্ঞানাতিরেকেণ পুরুষপ্রবৃত্তিরসিদ্ধেত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হাঁতি। তদনুষ্ঠানং তর্হি-বাক্যার্থজ্ঞানাধীনমিতি ব্যর্থো বিধিস্তত্রাহ-তচ্চেতি। অধিকারো বিধিপুরুষসম্বন্ধস্তৎ- কৃতজ্ঞানাপেক্ষমনুষ্ঠানমিত্যর্থবান্বিধিরিত্যর্থঃ। তহি প্রকৃতেহপি বাক্যোথজ্ঞানবাতিরেকেণ পুরুষব্যাপারসম্ভবাদ্বিধিসাফল্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-নত্বিতি। অথ বিমতং প্রবর্ত্তকং বৈদিকজ্ঞানত্বা- দ্বিধিবাক্যোথজ্ঞানবদি ত্যাশঙ্কা প্রবর্ত্তকবিষয়ত্বমুপাধিরিত্যাহ-ন হীতি। মিথ্যাজ্ঞানানিবর্ত্তকত্ব- মুপাধ্যন্তরমাহ-অব্রহ্মেতি। বাক্যোথজ্ঞানস্য তন্নিবর্ত্তকত্বেপি প্রবর্ত্তকত্বং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। ২৩

বাক্যজনিতবিজ্ঞানমাত্রাৎ ন ব্রহ্মানাত্মবিজ্ঞাননিবৃত্তিরিতি চেৎ; ন; “তত্ত্ব- মসি” “নেতি নেতি” “আত্মৈবেদম্” “একমেবাদ্বিতীয়ম্” “ব্রহ্মৈবেদমমৃতম্”, “নান্যদতোহস্তি দ্রষ্টু” “তদেব ব্রহ্ম ত্বং বিদ্ধি” ইত্যাদিবাক্যানাং তদ্বাদিত্বাৎ। দ্রষ্টব্যবিধের্বিষয়সমর্পকাণ্যেতানীতি চেৎ; ন; অর্থান্তরাভাবাৎ, ইত্যুক্তোত্তর- ত্বাৎ-আত্মবস্তুস্বরূপসমর্পকৈরেব বাক্যৈঃ “তত্ত্বমসি” ইত্যাদিভিঃ শ্রবণকাল এব তদ্দর্শনস্য কৃতত্বাদ্ দ্রষ্টব্যবিধের্নানুমানান্তরং কর্তব্যমিত্যুক্তোত্তরমেতৎ। ২৪

দ্বিতীয়োপাধেঃ সাধনব্যাপ্তিং শঙ্ক্যতে-বাক্যেতি। ব্রহ্মাক্সৈক্যধীপর-বাক্যোথবিজ্ঞানস্যা- জ্ঞানতৎকার্য্যধ্বংসিত্বগ্রৌব্যান্ন সাধনব্যাপ্তিরিত্যাহ-নেত্যাদিনা। তদ্বাদিত্বাদ বস্তুপরত্বাদিতি যাবৎ। উক্তানাং বাক্যানাং বিধ্যপেক্ষিতার্থসমর্পকত্বেন তচ্ছেষত্বং শঙ্কিতমনুভাষতে-দ্রষ্টব্যোতি। সিদ্ধান্তোপক্রমেণ সমাহিতমেতদিত্যাহ-নেতি। তদেব স্পষ্টয়তি-আয়েতি। ২৪

আশ্বত্থামাধ্যানমাদ্যং শ্মশ্রবণে বিধিমত্তরেণ ন প্রবর্ত্ততে, ইতি চেৎ;

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৩১

ন; আত্মবাদিবাক্যশ্রবণেনাত্মবিজ্ঞানস্য জনিতত্বাৎ-কিং ভোঃ কৃতস্য করণম্। তচ্ছ্রবণেহপি ন প্রবর্ত্তত ইতি চেৎ; ন; অনবস্থাপ্রসঙ্গাৎ,-যথা আত্মবাদিবাক্যার্থ- শ্রবণে বিধিমন্তরেণ ন প্রবর্ত্ততে, তথা বিধিবাক্যার্থশ্রবণেহপি বিধিমন্তরেণ ন প্রবর্ত্তিষ্যতে, ইতি বিধ্যন্তরাপেক্ষা; তথা তদর্থশ্রবণেহপীত্যনবস্থা প্রসজ্যেত। ২৫

পরোক্তমুদ্ভাবয়তি-আত্মস্বরূপেতি। কুত্র তর্হি বিধিঃ?-আত্মজ্ঞানে বা বাক্যশ্রবণে বা তদর্থজ্ঞানস্মৃতিসন্তানে বা চিত্তবৃত্তিনিরোধে বা? নাদ্য ইত্যাহ-নাত্মবাদীতি। দ্বিতীয়ং শঙ্কতে-তচ্ছ বণেহপীতি। অনিষ্টার্থবাদিবাক্যস্যাসত্যাদিলক্ষণস্য বিধিং বিনা শ্রবণাৎ তত্ত্বমাদেরপি তস্মাদৃতে শ্রবণমবিরুদ্ধমিত্যভিসন্ধায় দোষান্তরমাহ-নেত্যাদিনা। তত্ত্বমাদি- শ্রবণপ্রয়োজকো বিধিরাত্মনোইপি প্রযুক্ত শ্রবণমিতি চেৎ, নৈবং, স পল্বধ্যয়নবিধিরন্যো বা? আদ্যে তদপেক্ষয়া শ্রুতস্য তত্ত্বমস্যাদেঃ স্বার্থবোধিত্বং কৰ্ম্মবাক্যবদিতি স্বার্থনিষ্ঠত্বাবিশেষো, দ্বিতীয়ে তস্যা প্রমাণত্বাত্তদীয়স্বপরনির্ব্বাহকত্বং দূরোৎসারিতমিত্যভিপ্রেত্যানবস্থাং বিবৃণোতি- সপেত্যাদিনা। ২৫

বাক্যজনিতাত্মজ্ঞানস্মৃতিসন্ততেঃ শ্রবণবিজ্ঞানমাত্রাদর্থান্তরত্বমিতি চেৎ; ন; অর্থ প্রাপ্তত্বাৎ-যদৈবা আত্মপ্রতিপাদকবাক্য শ্রবণাদাত্মবিষয়, বিজ্ঞানমুৎপদ্যতে, তদৈব তদুৎপদ্যমানং তদ্বিষয়ং মিথ্যাজ্ঞানং নিবর্ত্তয়দেবোৎপদ্যতে। আত্মবিষয়মিথ্যা- জ্ঞাননিবৃত্তৌ চ তৎপ্রভবাঃ স্মৃতয়ো ন ভবন্তি স্বাভাবিক্যোহনাত্মবস্তুভেদবিষয়াঃ। অনর্থত্বাবগতেশ্চ,-আত্মাবগতৌ হি সত্যামন্যদ্বস্থনর্থত্বেনাবগম্যতে, অনিত্যদুঃখা- শুদ্ধ্যাদিবহুদোষবত্ত্বাৎ, আত্মবস্তুনশ্চ তদ্বিলক্ষণত্বাৎ। তস্মাদনাত্মবিজ্ঞানস্মৃতীনামা- ত্মাবগতেরভাবপ্রাপ্তিঃ; পারিশেষ্যাদাত্মৈকত্ববিজ্ঞানস্মৃতিসন্ততেরর্থত এব ভাবাৎ ন বিধেয়ত্বম্। শোকমোহভয়ারাসাদিদুঃখদোষনিবর্তকত্বাচ্চ তৎস্মৃতেঃ-বিপরীত- জ্ঞানপ্রভবো হি শোকমোহাদিদোষঃ; তথা চ “তত্র কো মোহঃ” “বিদ্বান্ নবিভেতি কুতশ্চন” “অভয়ং বৈ জনক প্রাপ্তোহসি” “ভিদ্যতে হৃদয়গ্রন্থিঃ” ইত্যাদিশ্রুতয়ঃ। ২৬

তৃতীয়মাশঙ্কতে-বাকাজনিতেতি। ততঃ সা বিধেয়েতি শেষঃ। তস্যা বিধেয়ত্বং দূষয়তি- নেতি। অর্থপ্রাপ্তিং বিবৃণোতি-যদৈবেতি। অনাত্মস্মৃতিহেত্বজ্ঞানবিতৌ তৎকায্যস্মৃতানুপপত্তেঃ স্বভাববলপ্রাপ্তৈবাত্মস্মৃতিরিত্যুক্তমিদানীমনাত্মস্মৃতেরনর্থত্বস্যান্বয়ব্যতিরেকসিদ্ধত্বাচ্চাত্মস্মৃতিঃ স্বভাব- প্রাপ্তেত্যাহ-অনর্থত্বেতি। অনাত্মনোহনর্থত্বনিশ্চয়াচ্চ তদীয়স্মৃতানুপপত্তাবিতরস্মৃতিরর্থ- প্রাপ্তেত্যাহ-আত্মাবগতাবিতি। আত্মনশ্চ পর মেষ্টত্বাবগমাদর্থপ্রাপ্তা তদীয়স্মৃতিরিত্যাহ- আত্মবস্তুনশ্চেতি।

অর্থপ্রাপ্ত্যা বিধেয়ত্বাভাবমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। অনাত্মস্মৃতিহেত্বজ্ঞানাভাবাদি- স্তচ্ছব্দার্থঃ। অর্থতশ্চিদেকরসাত্মস্বভাববলাদিতি যাবৎ। দৃষ্টফলত্বাচ্চাত্মস্মৃতির্ন বিধেয়েত্যাহ- শোকেতি। মিথ্যাজ্ঞানমেব সা নিবর্ত্তয়তি, ন শোকাদীত্যাশঙ্ক্যাহ-বিপরীতেতি। আত্মস্মৃতেঃ শোকাদিনিবর্তকত্বে মানমাহ-তথা চেতি। ২৬

২৩২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নিরোধস্তর্হি অর্থান্তরমিতি চেৎ-অথাপি স্যাৎ চিত্তবৃত্তিনিরোধস্য বেদবাক্য- জনিতাত্মবিজ্ঞানাদর্থান্তরত্বাৎ তন্ত্রান্তরেষু চ কর্তব্যতয়াবগতত্বাদ্বিধেয়ত্বমিতি চেৎ; ন; মোক্ষসাধনত্বেনানবগমাৎ। ন হি বেদান্তেযু ব্রহ্মাত্মবিজ্ঞানাদন্যৎ পরমপুরুষার্থ- সাধনত্বেনাবগম্যতে-“আত্মানমেবাবেৎ, তস্মাত্তং সর্বমভবৎ”। “ব্রহ্মবিদাপ্নোতি পরম্।” “স যোহ বৈ তৎ পরমং ব্রহ্ম বেদ, ব্রহ্মৈব ভবতি।” “আচার্য্যবান্ পুরুষো বেদ” “তস্য তাবদেব চিরম্” “অভয়ং হি বৈ ব্রহ্ম ভবতি, য এবং বেদ” ইত্যেবমাদিশ্রুতিশতেভ্যঃ। অনন্যসাধনত্বাচ্চ নিরোধসা,-ন হ্যাথ্মবিজ্ঞান-তৎ- স্মৃতিসন্তানব্যতিরেকেণ চিত্তবৃত্তিনিরোধস্য সাধনমস্তি। অভ্যুপগম্যেদমুক্তম্; ন তু ব্রহ্মবিজ্ঞানব্যতিরেকেণান্যন্মোক্ষসাধনমবগম্যতে। ১৭

চতুর্থমুখাপয়তি-নিরোধস্তহীতি। যদি বাক্যোখজ্ঞানাদেরবিধেয়ত্বং, তহি চিত্তবৃত্তি নিরোধো মুক্তিসাধনত্বেন বিধীয়তাং, তস্যোক্তজ্ঞানাদেরর্থান্তরত্বাদিতার্থঃ। চোদ্যমেব বিবৃণোতি- অথাপীতি। অর্থান্তরত্বাত্তস্থ্য বিধেয়তেতি শেষঃ। তস্য মুক্তিহেতুত্বেন বিধেয়ত্বে যোগশাস্ত্রং সংবাদয়তি-তন্ত্রান্তরেধিতি। “অথ যোগানুশাসনম্” ইতি নিঃশ্রেয়সহেতুঃ সমাধিঃ সূত্রিতস্তস্য চ লক্ষণমুক্তং যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধ ইতি। তন্নিরোধাবস্থায়াং চাত্মনঃ স্বরূপপ্রতিষ্ঠত্বং কৈবল্য- মাখ্যাতং “তদা দ্রষ্টুঃ স্বরূপেহবস্থানম্” ইতি, এবং যোগশাস্ত্রে মুক্তিহেতুত্বেনেষ্টো নিরোধবিধি- রিত্যর্থঃ। যোগশাস্ত্রাদপি বলবতীং শ্রুতিমাশ্রিত্যোত্তরমাহ-নেত্যাদিনা।

চিত্তবৃত্তিনিরোধস্য মুক্তিহেতুত্বেপি ন বিধেয়ত্বং, বিধিং বিনা তৎসিদ্ধেরিত্যাহ—অনন্যেতি। ন তাবদ্যথাকথঞ্চিন্নিরোধো বিধেয়ঃ, সর্ব্বস্যাপি তৎসম্ভবাদিধিবৈয়র্থাৎ, নাপি সর্বাত্মনা তন্নিরোধো বিধেয়ো, জ্ঞানাদেব তৎসিদ্ধেবিধানর্থক্যাদিত্যর্থঃ। “নান্যঃ পন্থা বিদ্যতে” “জ্ঞানাদেব তু কৈবলাম্” ইত্যাদিশাস্ত্রমনুসরন্নপেত্যবাদং তাজতি—অভ্যপগম্যেতি। নিরোধস্য মুক্তিহেতুত্বমিদমা পরামৃষ্টম্। যোগশাস্ত্রমপি শ্রুতিস্মৃতিবিরোধে ন প্রমাণম্, “এতেন যোগঃ প্রত্যুক্তঃ” ইতি ন্যায়াদিতি ভাবঃ। ২৭

আকাঙ্ক্ষাভাবাচ্চ ভাবনাভাবঃ। যদুক্তং “যজেত” ইত্যেবমাদৌ, কিং? কেন? কথম্? ইতি ভাবনাকাঙ্ক্ষায়াং ফলসাধনেতিকর্তব্যতাভিরাকাঙ্ক্ষাপ- নয়নং যথা, তদ্বদিহাপ্যাত্মবিজ্ঞানবিধাবপ্যুপপদ্যত ইতি। তদসং; “এক- মেবাদ্বিতীয়ম্” “তত্ত্বমসি” “নেতি নেতি” “অনন্তরমবাহ্যম্” অয়মাত্মা ব্রহ্ম” ইত্যাদিবাক্যার্থবিজ্ঞানসমকালমের সর্ব্বাকাঙ্ক্ষাবিনিবৃত্তেঃ। ন চ বাক্যার্থ- বিজ্ঞানে বিধিপ্রযুক্তঃ প্রবর্ত্ততে। বিধ্যন্তরপ্রযুক্তৌ চানবস্থাদোষমবোচাম। ন চ “একমেবাদ্বিতীয়ং ব্রহ্ম” ইত্যাদিবাক্যেযু বিধিরবগম্যতে, আত্মস্বরূপান্বা- খ্যানেনৈবাবসিতত্বাৎ। ২৮

বেদান্তেষু বিধেয়ভাবোক্তি। বিধিনির্ণয়ঃ, সংপ্রতাংশয়বতী ভাবনা। তেষ্বস্তীত্যুক্তং দূষয়তি—

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৩৩

মাকাঙ্ক্ষেতি। তদেব স্ফুটয়িতুমুক্তমনুবদতি-যদুক্তমিতি। আগমাবষ্টন্তেন নিরাচষ্টে- চদসদিতি। বিধিমস্তরেণ বাক্যার্থজ্ঞানে প্রবৃত্ত্যযোগাদ্বৈধমেব জ্ঞানং সর্ব্বাকাঙ্খানিবর্তক- মত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। যথা কর্মকাণ্ডে স্বাধ্যায়বিধেরর্থাববোধপর্য্যন্তত্বেন জ্যোতিষ্টোমাদি- বিধ্যর্থজ্ঞানে বিধানরং নাপেক্ষতে, তথা জ্ঞানকাণ্ডেইপি স্যাদিত্যর্থঃ। তত্রাপি “বেদঃ কৃৎস্নেোহধিগন্তব্যঃ” ইতি বিধ্যন্তর প্রযুক্তমের বাক্যার্থজ্ঞানমিত্যাশঙ্ক্যাহ-বিধ্যন্তরেতি। শ্রুতহান্য- শ্রুতকল্পনা প্রসঙ্গাচ্চ ন বিধিশেষত্বং বেদান্তানামিত্যাহ-ন চেতি। ১৮

বস্তুস্বরূপান্বাখ্যানমাত্রত্বাদপ্রামাণ্যমিতি চেং—অথাপি স্যাৎ, যথা “সোহরোদীৎ যদরোদীৎ, তদ্রুদ্রস্য রুদ্রত্বম্” ইত্যেবমাদৌ বস্তুস্বরূপান্বাখ্যান- মাত্রত্বাদপ্রামাণ্যম্, এবমাত্মার্থবাক্যানামপীতি চেং; ন; বিশেষাৎ। ন বাক্যস্য বস্তুন্বাখ্যানং ক্রিয়ান্বাখ্যানং বা প্রামাণ্যাপ্রামাণ্যকারণম্; কিন্তুহি? নিশ্চিতফলবদ্বিজ্ঞানোৎপাদকত্বম্। তদ্যত্রান্তি, তৎ প্রমাণং বাক্যম্, যত্র নাস্তি, তদপ্রমাণম্। ২৯

বেদান্তাঃ স্বার্থে ন মানং, সিদ্ধার্থবাক্যত্বাৎ; “সোহরোদীৎ” ইত্যাদিবৎ ইত্যনুমানাত্তেষাং বিধিশেষত্বং প্রামাণ্যার্থমেষ্টব্যমিতি শঙ্কতে-বস্তুস্বরূপেতি। তদেবানুমানং প্রপঞ্চয়তি- অথাপীতি। বিধেরশ্রুতত্বেহপীতি যাবৎ। ‘ফলবন্নিশ্চিতজ্ঞানাজনকত্বমুপাধিরিতি মন্থানঃ সমাধত্তে-ন বিশেষাদিতি। নঞর্থ স্পষ্টয়তি--ন বাকাস্যেতি। বিশেষং ব্যাচষ্টে-কিং তহীতি। তস্য প্রামাণ্যপ্রযোজকত্বমন্বয়ব্যতিরেকাভ্যাং দর্শয়তি-তদযত্রেতি। ২৯

কিঞ্চ, ভোঃ পৃচ্ছামত্ত্বাম্-আত্মস্বরূপান্বাখ্যানপরেষু বাক্যেষু ফলবন্নিশ্চিতং চ বিজ্ঞানমুৎপদ্যতে ন বা? উৎপদ্যতে চেৎ, কথমপ্রামাণ্যমিতি। কিংবা ন পশ্যসি অবিদ্যাশোকমোহভয়াদিসংসারবীজদোষনিবৃত্তিঃ বিজ্ঞানফলম্? ন শূণোষি বা কিং-“তত্র কো মোহঃ কঃ শোক একত্বমনুপশ্যতঃ” “মন্ত্রবিদেবাস্মি নাত্মবিৎ, সোহহই, ভগবঃ শোচামি, তং মা ভগবান্ শোকস্য পরং পারং তারয়তু” ইত্যেবমাদ্য- পনিষদ্বাক্যশতানি, এবং বিদ্যতে কিং “সোহরোদীৎ” ইত্যাদিযু নিশ্চিতং ফলবচ্চ বিজ্ঞানম্? ন চেদ্বিদ্যতে, অন্ত্বপ্রামাণ্যম্; তদপ্রামাণ্যে ফলবন্নিশ্চিতবিজ্ঞানোৎ- পাদকস্য কিমিত্যপ্রামাণ্যং স্যাৎ? তদপ্রামাণ্যে চ দর্শপূর্ণমাসাদিবাক্যেষু কো বিশ্রম্ভঃ। ৩০

সামান্যন্যায়ং প্রকৃততে যোজয়ন্ পৃচ্ছতি-কিঞ্চেতি। কিং তেষু তাদৃজ্ঞানমুৎপদ্যতে ন বেতি প্রশ্নার্থঃ। দ্বিতীয়েহনুভববিরোধঃ স্যাদিতি মত্বা পক্ষান্তরমনূদ্য প্রত্যাহ-উৎপদ্যতে চেদিতি। প্রামাণ্যে হেতুসদ্ভাবান্না প্রামাণ্যমিত্যর্থঃ। নিশ্চিতজ্ঞানজনকত্বেহপি ফলবত্ত্ববিশেষণমসিদ্ধ- মিত্যাশঙ্ক্যাহ--কিং বেতি। বিদ্বদনুভবফলশ্রুতিসিন্ধং বিশেষণমিতি ভাবঃ। দৃষ্টান্তং বিঘটৰিতুং প্রশ্নান্তরং প্রস্তৌতি-এবমিতি। বেদান্তেষিবেতি যাবৎ। কিংবা নেতি শেষঃ। আদ্যে সাধ্যবৈকলাং মত্বা দ্বিতীয়ং দূষয়তি-ন চেদিতি। তর্হি তদদৃষ্টান্তেন তত্ত্বমস্যাদেরপি স্যাদপ্রামাণ্য-

২৩৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মিত্যাশঙ্ক্যাহ—তদপ্রামাণ্য ইতি। বিমতং স্বার্থে মানং, যথোক্তজ্ঞানজনকত্বাৎ, দর্শাদিবাক্য- বদিতি ভাবঃ। বিপক্ষে দোষমাহ—তদপ্রামাণ্যে চেতি। ৩০

ননু দর্শপূর্ণমাসাদিবাক্যানাং পুরুষপ্রবৃত্তিবিজ্ঞানোৎপাদকত্বাৎ প্রামাণ্যম্, আত্মবিজ্ঞানবাক্যেযু তন্নাস্তীতি। সত্যমেবম্; নৈষ দোষঃ, প্রামাণ্য- কারণোপপত্তেঃ। প্রামাণ্যকারণঞ্চ যথোক্তমেব, নান্যং। অলঙ্কারশ্চায়ং, যৎ সর্ব্বপ্রবৃত্তিবীজ-নিরোধফলবদ্বিজ্ঞানোৎপাদকত্বমাত্মপ্রতিপাদকবাক্যানাম্, নাপ্রামা- ণ্যকারণম্। ৩১

প্রবর্তকজ্ঞানজনকত্বমুপাধিরিতি শঙ্কতে-নন্বিতি। সাধনব্যাপ্তিং ধুনীতে-আত্মেতি। প্রবর্তকজ্ঞানজনকত্বং ধৰ্ম্মিণি নাস্তীতাঙ্গীকরোতি-সত্যমিতি। তর্হি যথোক্তোপাধিসদ্ভাবাদনু- মানানুত্থানমিত্যাণঙ্ক্যাহ-নৈষ দোষ ইতি। ন হি প্রবর্তকধীজনকত্বং প্রামাণ্যে কারণ, নিষেধবাক্যেঘপ্রামাণ্যপ্রসঙ্গাৎ। ন চ নিবর্তকধীজনকত্বমপি তথা, বিধাবপ্রামাণ্যপ্রসঙ্গাৎ। নোভয়ং, প্রত্যেকমুভয়কারণত্বাভাবেনাপ্রামাণ্যাদিতি ভাবঃ। বেদান্তেষু প্রবর্তকধীজনকত্বাভাবো ন কেবলমদোষঃ, কিন্তু গুণ ইত্যাহ-অলঙ্কারশ্চেতি। “আত্মানং চেৎ” ইত্যাদিশ্রুতেঃ “এতদ্বুদ্ধা” ইত্যাদিস্মৃতেশ্চাত্মজ্ঞানং কৃতকৃত্যতানিদানম্। ন চ জ্ঞানস্য প্রবর্তকত্বে তদযুক্ত, প্রবৃত্তীনাং ক্লেশাক্ষেপকত্বাৎ; অতোযথোক্তজ্ঞানজনকত্বং বাক্যানাং ভূষণমেবেতার্থঃ। ৩১

যত্তুক্তম্-“বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাং কুব্বীত” ইত্যাদিবচনানাং বাক্যার্থবিজ্ঞানব্যতি- রেকেণোপাসানার্থত্বমিতি; সত্যমেতৎ; কিন্তু নাপূর্ব্ববিধার্থতা; পক্ষে প্রাপ্তস্য নিয়মার্থতৈব। কথং পুনরুপাসনস্য পক্ষপ্রাপ্তিঃ?-যাবতা পারিশেষ্যাদাত্মবিজ্ঞান- স্মৃতিসন্ততিনিত্যৈবেত্যভিহিতম্? বাঢ়ম্-যদ্যপ্যেবম্, শরীরারম্ভকস্য কর্ম্মণো নিয়তফলত্বাৎ, সম্যগজ্ঞানপ্রাপ্তাবপি অবশ্যম্ভাবিনী প্রবৃত্তির্ব্বাত্মনঃকায়ানাম্, লব্ধ- বৃত্তেঃ কৰ্ম্মণো বলীয়ত্ত্বাৎ-মুক্তেষাদিপ্রবৃত্তিবৎ; তেন পক্ষে প্রাপ্তং জ্ঞানপ্রবৃত্তি- দৌর্ব্বল্যম্। তস্মাৎ ত্যাগবৈরাগ্যাদিসাধনবলাবলম্বেনাত্মবিজ্ঞানস্মৃতিসন্ততিনিয়- ন্তব্যা ভবতি; ন ত্বপূর্ব্বা কর্তব্যা, প্রাপ্তত্বাদিত্যবোচাম। তস্মাৎ প্রাপ্তবিজ্ঞান- স্মৃতিসন্তাননিয়মবিধ্যর্থানি “বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাং কুব্বীত” ইত্যাদিবাক্যানি, অন্যার্থাসম্ভবাৎ। ৩২

শব্দোখং জ্ঞানং বিধেয়মিতি প্রতিক্ষিপ্য পূর্ব্বোক্তপক্ষান্তরমনুবদতি-যত্তুক্তমিতি। উপাসনার্থত্বমিত্যাত্মোপাসনেন তৎসাক্ষাৎকারং ভাবয়েদিত্যেবমর্থত্বমিত্যর্থঃ। অভ্যুপগমবাদেন পরিহরতি-সত্যমিতি। যথোক্তেষু বাক্যেধাত্মোপাসন: তৎসাক্ষাৎকারমুদ্দিশ্যবিধীয়তে চেৎ, প্রকৃতেহপি বাক্যে তৎসম্ভবান্নাপূর্ব্ববিধিরিতি প্রক্রমো ভজ্যেত, ইত্যাশঙ্ক্যাহ-কিন্তুিতি। কথং তর্হি বিধ্যঙ্গীকারবাচোযুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-পক্ষেতি। যথা পক্ষে প্রাপ্তস্যাবঘাতস্ত ব্রীহীন- বহন্তীতি নিয়মরূপো বিধিরঙ্গীকৃতঃ, তথা আত্মোপাসনস্যাপি পক্ষে প্রাপ্তস্য তদেব কর্তব্যং নানাক্সোপাসনমিতি যো নিয়মস্তদর্থতা প্রকৃতবাক্যস্যেতি ন প্রক্রমবিরোধোহন্তীতার্থঃ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৩৫

পাক্ষিকীং প্রাপ্তিমুক্তামাক্ষিপতি-কথমিতি। কা পুনরত্রানুপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- যাবতেতি। আত্মনি বাক্যোথে বিজ্ঞানে সত্যনাত্মস্মৃতিহেতুনাং মিথ্যাজ্ঞানাদীনামপনীতত্বাদ্ধেত্ব- ভাবে ফলাভাব ইতিন্যায়েন তাসামসম্ভবাদাত্মস্মতিসন্ততিরেব পুনঃ সদা স্যাৎ, প্রকারান্তরা- যোগাদিতি সিদ্ধান্তিনোক্তত্বান্নাত্মোপাসনস্য পক্ষে প্রাপ্তিরিত্যর্থঃ। তস্য নিত্যপ্রাপ্তিমুক্তামঙ্গী- করোতি-বাঢ়মিতি। তর্হি নিয়মবিধিবাচোযুক্তিরযুক্তেত্যাশঙ্ক্যাহ-যদ্যপীতি। আত্মনি নিত্যাপরোক্ষসংবিদেকতানে স্মরণং বিস্মরণং বা যদ্যপি নোপপদ্যতে, তথাপি তয়োস্তস্মিন্ননুভব- সিদ্ধহন্নিয়মবিধেঃ সাবকাশত্বমিত্যাশয়েনাহ-শরীরেতি। অথারব্ধফলস্যাপি কৰ্ম্মণঃ সম্যগ্- জ্ঞানান্নিবৃত্তে র্ন বিদুষো বাগাদীনাং প্রবৃত্তিরত আহ-লঙ্কেতি। যথা মুক্তস্যেষুপাষাণাদের- প্রতিবন্ধাদ যাবদ্বেগং প্রবৃত্তিরবশ্যম্ভাবিনী, তথা প্রবৃত্তফলস্য কর্ম্মণে। জ্ঞানেনোপজীব্যতয়া ততো বলবত্ত্বাত্তদ্বশাদ্বিদুষোহপি যাবদ্ভোগং বাগাদিপ্রবৃত্তিপ্রৌবামিত্যর্থঃ। আরব্ধকর্মপ্রাবল্যে ফলিত- মাহ--তেনেতি। আরন্ধস্য কর্ম্মণো যথোক্তেন ন্যায়েন প্রাবল্যে তদ্বশাৎ ক্ষুধাদিদোষো যদোদ্ভবতি, তদাত্মনি বিস্মরণাদিসম্ভবাৎ তজজ্ঞানপ্রাপ্তে; পাক্ষিকত্বাদবশ্যম্ভাবিকৰ্ম্মাপেক্ষয়া তদ্দৌর্ব্বলং স্যাদিত্যর্থঃ।

তথাপি নিয়মবিধ্যঙ্গীকারস্য কিমায়াতং? তদাহ-তস্মাদিতি। জ্ঞানস্য পক্ষে প্রাপ্তত্বং তচ্ছব্দার্থঃ। আদিপদং ব্রহ্মচর্য্যশমদমাদিস’গ্রহার্থম্। বিজ্ঞায়েত্যাদিবাক্যানাং নিয়মবিধ্যর্থ- ত্বমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। আদিপদেন প্রকৃতমপি বাকাং সংগৃহাতে। তচ্ছব্দার্থমেব স্পষ্টয়তি-অন্যার্থেতি। ৩২

ননু অনাত্মোপাসনমিদম, ইতি-শব্দপ্রয়োগাৎ; যথা ‘প্রিয়মিত্যেতদুপাসীত’ ইত্যাদৌ ন প্রিয়াদিগুণা এবোপাস্যাঃ, কিং তহি? প্রিয়াদিগুণবৎপ্রাণাদ্যেবো- পাস্যম্; তথা ইহাপি ইতি-পরাত্মশব্দপ্রয়োগাৎ আত্মগুণবদনাত্মবস্তূপাস্যমিতি গম্যতে। আত্মোপাস্যত্ববাক্যবৈলক্ষণ্যাচ্চ—পরেণ চ বক্ষ্যতি—“আত্মানমেব লোকমুপাসীত” ইতি; তত্র চ বাক্যে আত্মৈরোপাস্যত্বেনাভিপ্রেতঃ, দ্বিতীয়া- শ্রবণাৎ ‘আত্মানমেব’ ইতি; ইহ তু ন দ্বিতীয়। শ্রয়তে, ইতি-পরশ্চাত্মশব্দঃ “আত্মেত্যেবোপাসীত” ইতি। অতো নাম্মোপাস্যঃ, আত্মগুণশ্চান্যঃ, ইতি ত্বব- গম্যতে। ন; বাক্যশেষে আত্মন উপাস্যত্বেনাবগমাৎ; অস্যৈব বাক্যস্থ্য শেষে আত্মৈবোপাস্যত্বেনাবগম্যতে—“তদেতৎ পদনীয়মস্য সর্ব্বস্য, যদয়মাত্মা” “অন্তর- তরং, যদয়মাত্মা” আত্মানমেবাবেৎ” ইতি। ৩৩

শাব্দজ্ঞানাদেব পূমর্থসিদ্ধেস্তস্য তদাবৃত্তেস্তৃতীয়জ্ঞানস্য বা বিধেয়ত্বাভাবাদ্বেদান্তাঃ শুদ্ধে সিদ্ধেহর্থে মানমিত্যুক্তম্; ইদানীমিতি-শব্দপ্রযুক্তং চোদ্যমুখাপয়তি-অনাত্মেতি। আত্ম- শব্দাদুর্দ্ধমিতি-শব্দপ্রয়োগাদাত্মশব্দার্থস্যোপাস্যত্বেনাবিবক্ষিতত্বাদাত্মগুণকস্যানাত্মনোহব্যাকৃতশব্দি- তস্য প্রধানস্যোপাসনমস্মিন্বাক্যে বিবক্ষিতমিতার্থঃ। উক্তমেবার্থং দৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি-যথে- ত্যাদিনা। অনাত্মোপাসনমেবাত্র বিধিৎসিতমিত্যত্র হেহন্তরমাহ-আত্মেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-পরেণেতি। ততো বৈলক্ষণ্যং দর্শয়তি-ইহ ত্বিতি। বৈলক্ষণ্যান্তরমাহ-ইতি-

২৩৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পরশ্চেতি। বৈলক্ষণ্যফলমাহ—অত ইতি। নাত্রানাত্মোপাসনং বিবক্ষিতমিতি পরিহরতি— নেত্যাদিনা। হেত্বর্থং স্ফুটয়তি—অস্যৈবেতি। ৩৩

প্রবিষ্টস্য দর্শনপ্রতিষেধানুপাস্যত্বমিতি চেৎ-যস্য আত্মনঃ প্রবেশ উক্তঃ, তস্যৈব দর্শনং বার্য্যতে, “তং ন পশ্যন্তি” ইতি প্রকৃতোপাদানাৎ। তন্মাদাত্মনোহ- নুপাস্যত্বমিতি চেৎ; ন, অকৃৎস্নত্বদোষাৎ; দর্শনপ্রতিষেধোহকৃৎস্নত্বদোষাভিপ্রায়েণ, নাম্মোপাস্যত্বপ্রতিষেধার; প্রাণনাদিক্রিয়াবিশিষ্টত্বেন বিশেষণাৎ। আত্মনশ্চেদু- পাস্যত্বমনভিপ্রেতম্, প্রাণনাদ্যেকৈকক্রিয়াবিশিষ্টস্যাত্মনোহকৃৎস্নত্ববচনমনর্থকং স্যাৎ -“অকৃৎস্নো হ্যেষাহত একৈকেন ভবতি” ইতি। অতোহনেকৈকবিশিষ্টস্বাত্মা কৃৎস্নত্বাদুপাস্য এবেতি সিদ্ধম্। ৩৪

আত্মনশ্চেদুপাস্যত্বং, তদা প্রক্রমবিরোধঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-প্রবিষ্টস্যেতি। আত্মনো দর্শনপ্রতিষেধং প্রকটয়তি-যস্যেতি। তস্যৈবেতি নিয়মে হেতুমাহ-প্রকৃতেতি। তচ্ছব্দস্য প্রকৃতপরামর্শিত্বাৎ প্রবিষ্টস্য চ প্রকৃতত্বাত্তস্য তেনোপাদানাদিতি হেত্বর্থঃ। পূর্বপক্ষং নিগময়তি-তস্মাদিতি। প্রাণনাদিবিশিষ্টস্য পরিচ্ছিন্নত্বাত্তস্য দৃষ্টত্বেহপি পূর্ণস্থ্য ন দৃষ্টতেতি নিষেধশ্রুতিপর্যাবসানান্নোপক্রমবিরোধোহস্তীতি পরিহরতি-নেত্যাদিনা। তদেব বিশদয়তি- দর্শনেতি। কথময়মভিপ্রায়ভেদং শ্রুতেরবগম্যতে, তত্রাহ-প্রাণনাদীতি। প্রাণস্নেবেত্যাদিনা ক্রিয়াবিশেষবিশিষ্টত্বেনাত্মমো বিশেষণাত্তস্য দৃষ্টত্বেহপিনাসৌ পরিপূর্ণো দৃষ্টঃ স্যাদিতি শ্রুতেরাশয়ো লক্ষ্যতে, কেবলস্য তু তস্যোপাস্যত্বমভিসংহিতমকৃৎসত্বদোষাভাবাদিত্যর্থঃ। উক্তমর্থং ব্যতিরেক- মুখেন সাধয়তি-আত্মনশ্চেদিতি। তস্যানুপাস্যত্বার্থং তদ্বচনমর্থবদিত্যাশঙ্ক্য তদুপাস্যত্ব- নিষেধস্যাত্মোপাস্যত্বে পর্যবসানমভিগ্রেত্যাহ-অতোহনেকৈকেতি। ৩৪

যত্ত্বাত্মশব্দস্যেতি-পরঃ প্রয়োগঃ, আত্মশব্দ-প্রত্যয়য়োরাত্মতত্ত্বস্য পরমার্থতোহ- বিষয়ত্বজ্ঞাপনার্থম্; অন্যথা “আত্মানমুপাসীত”ইত্যেবমবক্ষ্যৎ। তথাচার্থাদাত্মনি শব্দ-প্রত্যয়াবনুজ্ঞাতৌ স্যাতাম্; তচ্চানিষ্টম্ “নেতি নেতি” “বিজ্ঞাতারমরে কেন বিজানীয়াৎ” “অবিজ্ঞাতং বিজ্ঞাতৃ” “যতো বাচো নিবর্তন্তে অপ্রাপ্য মনসা সহ”- ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। যতু “আত্মানমেব লোকমুপাসীত”ইতি, তদ্ অনাত্মোপা- সনপ্রসঙ্গনিবৃত্তিপরত্বান্ন বাক্যান্তরম্। ৩৫

উপক্রমোপসংহারাভ্যামুপাস্যত্বমাত্মনো দর্শিতমিদানীমিতি-শব্দপ্রয়োগাদনারোপাসনমিদমি- ত্যুক্তং প্রত্যাহ-যস্তিতি। প্রয়োগশব্দাদুপরিষ্টাৎ সশব্দো দ্রষ্টব্যঃ। ইতিশব্দস্য যথোক্তার্থত্বা- ভাবে দোষমাহ-অন্যথেতি। ন চাত্মনঃ স্বাতন্ত্রোণানুপাস্যত্বার্থমিতি-শব্দোহর্থবান্, পূর্ব্বাপর- বাক্যবিরোধাদিতি দ্রষ্টব্যম্। স্থিতিশব্দমন্তরেণ বাক্যপ্রয়োগে দোষমাহ-তথেতি। তন্য শব্দপ্রত্যয়বিষয়ত্বমিষ্টমেবেতি চেত্তত্রাহ-তচ্চেতি। আত্মোপাস্যত্ববাক্যবৈলক্ষণ্যাদনাত্মোপান- মেতদিত্যুক্তং, তদ্দ বয়তি-যত্নিতি। ৩৫

অনিশ্চয়ং তত্রাপ্যাহুতা। কান্তবর্গোঽপি চ। তত্র কান্তবর্গোঽপি চ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৩৭

যত্ন আস্থীয়তে-“আত্মেত্যেবোপাসীত”ইতি, নেতরবিজ্ঞানে, ইতি। অত্রোচ্যতে -তদেতদেব প্রকৃতং পদনীয়ং গমনীয়ং, নান্যৎ। অন্য সর্ব্বস্যেতি নির্দ্ধারণার্থা ষষ্ঠী; অস্মিন্ সর্ব্বস্মিন্নিত্যর্থঃ। যদয়মাত্মা যদেতদাত্মতত্ত্বম্; কিং ন বিজ্ঞাতব্য- মেবান্যৎ? কিং তর্হি? জ্ঞাতব্যত্বেহপি ন পৃথগজ্ঞানান্তরমপেক্ষতে আত্মজ্ঞানাৎ। কস্মাৎ? অনেনাত্মনা জ্ঞাতেন, হি যম্মাদেতৎ সর্ব্বমনাত্মজাতম্ অন্যৎ যৎ তৎ সর্ব্বং সমস্তং বেদ জানাতি। ননু অন্যজ্ঞানেনান্যৎ ন জ্ঞায়তে? ইতি, অন্য পরিহারং দুন্দুভ্যাদিগ্রন্থেন বক্ষ্যামঃ। ৩৬

অত্মৈব জ্ঞাতব্যো নানাত্মেতি প্রতিজ্ঞায়ামত্রহীত্যাদিন: হেতুরুক্তঃ, সংপ্রতি তদেতৎপদ- নীয়মিত্যাদিবাক্যাপোহাং চোদ্যমুখাপয়তি-অনিজ্ঞাতত্বেতি। উত্তরমাহ-অত্রেতি। নির্ধারণ- মেব ক্ষোরয়তি-অস্মিন্নিতি। নান্যদিত্যুক্তত্বাদনাত্মনে। বিজ্ঞাতব্যত্বাভাবশ্চেদনেন হীত্যাদি- শেষবিরোধঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-কিং নেতি। তস্যাজ্ঞেয়ত্ব নিষেধতি-নেতি। তস্যাপি জ্ঞাতব্যত্বে নান্যদিতি বচনমনবকাশমিত্যাশঙ্ক্যাহ-কি: তহীতি। তস্য সাবকাশত্বং দর্শয়তি- জ্ঞাতব্যত্বেহপীতি। আত্মনঃ সকাশাদনাত্মনোর্থান্তরত্বাত্তস্যাত্মজ্ঞানাজ জ্ঞাতব্যত্বাযোগাজ্জাতব্যত্বে জ্ঞানান্তরমপেক্ষিতব্যমেবেতি শঙ্কতে-কস্মাদিতি। উত্তরবাক্যেনোত্তরমাহ-অনেনেতি। আত্মন্যনাত্মজাতস্য কল্পিতত্বাত্তস্থ্য তদতিরিক্তস্বরূপাভাবাৎ তজজ্ঞানেনৈব জ্ঞাতত্বসিদ্ধের্নাস্তি জ্ঞানান্তরাপেক্ষেতার্থঃ। লোকদৃষ্টিমাশ্রিত্যানেনেত্যাদিবাকার্থমাক্ষিপতি-নন্বিতি। আত্ম- কাৰ্য্যত্বাদনাত্মনস্তম্মিন্ অন্তর্ভাবৎ তজ জ্ঞানেন জ্ঞানমুচিতমিতি পরিহরতি-অস্যেতি। ৩৬

কথং পুনরেতৎ পদনীয়মিতি? উচ্যতে-যথা হ বৈ লোকে, পদেন- গবাদি-খুরাঙ্কিতো দেশঃ পদমিত্যুচ্যতে, তেন পদেন, নষ্ট, বিবিৎসিতং পশুং পদেনান্বিষ্যমাণোহনুবিন্দেং লভেত, এবমাত্মনি লন্ধে সর্বমুপলভত ইত্যর্থঃ। ননু আত্মনি বিজ্ঞাতে সর্ব্বমন্যজ জ্ঞায়ত ইতি জ্ঞানে প্রকৃতে, কথং লাভোহপ্রকৃত উচ্যতে? ইতি; ন; জ্ঞান-লাভয়োরেকার্থত্বস্য বিবক্ষিতত্বাৎ। আত্মনো হ্লাভো- হজ্ঞানমেব; তস্মাজ জ্ঞানমেবাত্মনো লাভঃ, ন অনাত্মলাভবদপ্রাপ্তপ্রাপ্তিলক্ষণ আত্মলাভঃ, লব্ধ-লব্ধব্যয়োর্ভেদাভাবাৎ। যত্র হি আত্মনোহনামা লব্ধব্যো ভবতি, তত্রাত্মা লব্ধা, লব্ধব্যোহনাম্মা। স চাপ্ৰাপ্ত উৎপাদ্যাদিক্রিয়াব্যবহিতঃ, কারক- বিশেষোপাদানেন ক্রিয়াবিশেষমুৎপাদ্য লব্ধব্যঃ। স তু অপ্রাপ্তপ্রাপ্তিলক্ষণোহ- নিত্যঃ, মিথ্যাজ্ঞানজনিতকামক্রিয়াপ্রভবত্বাৎ, স্বপ্নে পুত্রাদিলাভবৎ। অয়ন্তু তদ্বি- পরীত আত্মা। ৩৭

সত্যোপায়াভাবাদাত্মতত্ত্বস্য পদনীয়ত্বাসিদ্ধিরিতি শঙ্কতে-কথমিতি। অসত্যস্যাপি শ্রুত্যাচার্য্যাদেরর্থক্রিয়াকারিত্বসম্ভবাদাত্মতত্ত্বস্য পদনীয়ত্বোপপত্তিরিত্যাহ-উচাত ইতি। বিবিৎ- সিতং লব্ধ মিষ্টম্। অন্বেষণোপায়ত্বং দর্শরিতুং পদেনেতি পুনরুক্তিঃ। অনেনেত্যত্র বেদেতি

২৩৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

জ্ঞানেনোপক্রম্যানুবিন্দেদিতি লাভমুক্ত। কীর্তিমিত্যাদিশ্রুতৌ পুনজ্ঞানার্থেন বিদিনোপ- সংহারাদনুবিন্দেদিতি শ্রুতেরুপক্রমোপসংহারবিরোধঃ স্যাদিতি শঙ্কতে-নন্বিতি। শঙ্কিতং বিরোধং নিরাকরোতি-নেতি। কথং তয়োরৈকার্থাং, গ্রামাদৌ তদেকত্বাপ্রসিদ্ধেরিত্যা- শঙ্ক্যাহ-আত্মন ইতি। গ্রামাদাবপ্রাপ্তে প্রাপ্তিরেব লাভো ন জ্ঞানমাত্রং, তথাত্রাপি কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-নেত্যাদিনা।

জ্ঞানলাভশব্দয়োরর্থভেদস্তর্হি কুত্রেত্যাশঙ্ক্যাহ-যত্র হাঁতি। অনাত্মনি লব্ধলব্ধব্যয়োক্তাতৃ- জ্ঞেয়য়োশ্চ ভেদে ক্রিয়াভেদাৎ ফলভেদসিদ্ধিরিতার্থঃ। নম্বাত্মলাভোহপি জ্ঞানান্তিদ্যতে, লাভত্বা- দনাত্মলাভবদিত্যাশঙ্কা জ্ঞানহেতুমাত্রানধীনত্বমুপাধিরিত্যাহ-স চেতি। অপ্রাপ্তত্বং ব্যক্তী- করোতি-উৎপাদ্যেতি। তদ্ব্যবধানমেব সাধয়তি-কারকেতি। কিঞ্চানাত্মলাভোহবিদ্যা- কল্পিতঃ, কাদাচিৎকত্বাৎ সম্মতবদিত্যাহ-স ত্বিতি। কিঞ্চ, অসাববিদ্যাকল্পিতোহ- প্রামাণিকত্বাৎ সম্প্রতিপন্নবদিত্যাহ-মিথ্যেতি। প্রকৃতে বিশেষং দশয়তি-অয়ং ত্বিতি। ৩৭

আত্মত্বাদেব নোৎপাদ্যাদিক্রিরাব্যবহিতঃ। নিত্যলব্ধস্বরূপত্বেহপি সতি অবিদ্যা- মাত্রং ব্যবধানম্; যথা গৃহ্যমাণায়া অপি শুক্তিকায়া বিপর্যয়েণ রজতাভাসায়া অগ্রহণং বিপরীতজ্ঞানব্যবধানমাত্রম্, তথা গ্রহণম্ জ্ঞানমাত্রমেব, বিপরীতজ্ঞান- ব্যবধানাপোহার্থত্বাজ জ্ঞানস্য; এবমিহাপি আত্মনোহল্যভঃ অবিদ্যামাত্রব্যবধানম্; তস্মাদিদ্যয়া তদপোহনমাত্রমেব লাভঃ নান্যঃ কদাচিদপ্যুপপদ্যতে। তস্মাদাত্মলাভে জ্ঞানাদর্থান্তরসাধনস্যানর্থকাং বক্ষ্যামঃ। তস্মান্নিরাশঙ্কমের জ্ঞান-লাভয়োরেকা- র্থত্বং বিবক্ষন্নাহ—জ্ঞানং প্রকৃত্যানুবিন্দেদিতি; বিন্দতের্ভার্থত্বাৎ। ৩৮

বৈপরীত্যমেব ক্ষোরয়তি-আত্মহাদিতি। আত্মনঃ তহি নিতালব্ধত্বাৎ ন তত্রালব্ধত্ববুদ্ধিঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-নিত্যেতি। আত্মন্যলাভোহজ্ঞানং, লাভস্তু জ্ঞানমিত্যেতদৃষ্টান্তেন স্পষ্টয়তি- যথেত্যাদিনা। শুক্তিকায়াঃ স্বরূপেণ গৃহ্যমাণায়া অপীতি যোজনা। আত্মলাভোহবিদ্যানিবৃত্তি- রেবেত্যত্রোক্তং বক্ষ্যমাণং চ গমকং দর্শয়তি-তস্মাদিতি। অবিরোধমুপসংহরতি-তস্মাদিত্যা- দিনা। তয়োরেকার্থত্বেহপি কথমনুবিন্দেদিতি মধ্যে প্রযুজ্যতে, তত্রাহ-বিন্দতেরিতি। ৩৮

গুণ-বিজ্ঞানফলমিদমুচ্যতে; যথা—অরমাত্মা নামরূপানুপ্রবেশেন খ্যাতিং গতঃ আত্মেত্যাদিনামরূপাভ্যাং, প্রাণাদিসংহতিং চ শ্লোকং প্রাপ্তবান্—ইত্যেবং যো বেদ; স কীর্ত্তিঃ খ্যাতির শ্লোকং চ সঙ্ঘাতমিষ্টৈঃ সহ, বিন্দতে লভতে। যদ্বা, যথোক্তং বস্তু যো বেদ, মুমুক্ষুণামপেক্ষিতং কীর্ত্তিশব্দিতমৈক্যজ্ঞানং, তৎফলং শ্লোকশব্দিতাং মুক্তিমাপ্নোতীতি মুখ্যমের ফলম্ ॥ ৪৪ ॥ ৭

আদিমধ্যাবসানানামবিরোধমুক্ত। কীর্ত্তিমিত্যাদিবাকামবতার্য্য ব্যাকরোতি-গুণেত্যাদিনা। ইতি-শব্দাদুপরিষ্টাদ যথেত্যস্য সম্বন্ধঃ। জ্ঞানস্তুতিশ্চাত্র বিবক্ষিতা, জ্ঞানিনামীদৃক্‌ফলস্থানভিলষি- তত্বাদিতি দ্রষ্টব্যম্। ৪৪। ৭॥

কলাকাননবাদ।—‘তৎক্ষণাৎ’ ইত্যাদি। উৎপত্তির পূর্ব্বে এই জগৎ বীজ-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৩৯

বস্থায়-কারণরূপে অব্যক্তাবস্থায় বিদ্যমান ছিল; এই জন্যই-তৎকালে পরোক্ষ ছিল বলিয়াই অপ্রত্যক্ষবাচক সর্ব্বনাম ‘তৎ’ শব্দে তাহার উল্লেখ করা হইয়াছে। অব্যাকৃত অবস্থার অবস্থিত ভবিষ্যৎ জগৎ তখনও অতীত কালের সহিত সংসৃষ্ট থাকায়[তাহার পরোক্ষত্বাভিধান যুক্তিযুক্তই হইয়াছে]। বিষয়টি যাহাতে অনায়াসে হৃদয়ঙ্গম হইতে পারে, সেই জন্য ঐতিহ্যবোধক(পুরাবৃত্তবোধক) ‘হ’ শব্দের প্রয়োগ করা হইয়াছে। কেন না, ‘যুধিষ্ঠির নামে একজন রাজা ছিলেন’, এই কথা বলিলে যেমন ঐতিহাসিক রূপে সহজেই বুঝিতে পারা যায়, তেমনি ‘তৎকালে এই প্রকার ছিল’ বলিলে, জগতের বীজাবস্থাটী পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষের অগোচর হইলেও তাহা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতে পারা যায়। ‘ইদম্’ শব্দেও যথোক্তপ্রকার সাধ্য-সাধনাত্মক(কার্য্য-কারণভাবাপন্ন) অভিব্যক্ত নাম-রূপাত্মক জগতের নির্দেশ করা হইয়াছে। এখানে জগতের পরোক্ষাবস্থাবোধক ‘তৎ’ শব্দ ও প্রত্যক্ষাবস্থাবোধক(স্থূলাবস্থাবোধক) ‘ইদং’ শব্দের সামানাধিকরণ্য বা অভেদ নির্দেশ থাকায় স্পষ্ট বুঝা যাইতেছে যে, এই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষাত্মক জগৎ ফলতঃ একই বস্তু, ভিন্ন নহে;-যাহা এই ব্যক্তাবস্থায় বর্তমান আছে, তাহাই পূর্ব্বে অব্যক্তাবস্থায় বর্তমান ছিল,(উভয়ের মধ্যে স্বরূপগত পার্থক্য কিছুমাত্র নাই)। ইহা ছাড়া, অসতের উৎপত্তি হয় না, আর সং-বর্তমান কার্য্য বস্তুরও বিনাশ হয় না, এইরূপ সিদ্ধান্তই অবধারিত হইল। ১

এবংবিধ জগৎ অব্যক্তাবস্থায় থাকিয়া[সৃষ্টির প্রারম্ভে] নাম-রূপাকারেই— নাম ও বিশেষ বিশেষ আকৃতিতে ব্যাকৃত হইল(অভিব্যক্ত হইল)। এখানে ‘ব্যাক্রিয়ত’ ক্রিয়াপদটীর কর্ম্ম-কর্তৃবাচ্যে প্রয়োগ(*) থাকায় বুঝিতে হইবে যে,

(*) তাৎপৰ্য্য—সাধারণতঃ কার্য্যমাত্রেরই স্বতন্ত্র কর্তা ও কর্ম্ম থাকে, কর্তা উপযুক্ত সাধনের সাহায্যে ক্রিয়া নিষ্পাদন করিয়া থাকে। কিন্তু যেখানে কার্য্যটাকে অনায়াসসাধ্য বুঝাইবার জন্য কর্ম্মকেই কর্তার স্থানবর্ত্তী করিয়া কর্তারূপে ব্যবহার করা হয়, তাহাকে কর্ম্ম- কর্তৃবাচ্য প্রয়োগ বলে; ফল কথা, যে প্রয়োগে কর্তার স্পষ্ট প্রতীতি থাকে না, কর্ম্মেরই কর্তৃত্ব মনে হয়, তাহাই কর্ম্মকর্তৃ-প্রয়োগ। যেমন ‘ছিদ্যতে বৃক্ষঃ স্বয়মেব’ অর্থাৎ বৃক্ষটি আপনিই যেন কাটা হইতেছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কর্তা ও সাধনাদি না থাকিলে কোথাও কোন ক্রিয়াই হইতে পারে না; জগতের অভিব্যক্তিতেও তাহার ব্যতিক্রম হয় নাই; এই জন্যই ভাষ্যকার ‘সামর্থ্যাৎ নিয়ন্ত’ ইত্যাদি কথা বলিতে বাধ্য হইয়াছেন। পরমেশ্বর জীবগণের প্রাক্তন- কর্ম্মানুসারে অনায়াসে, জগৎসৃষ্টি সম্পন্ন করিয়াছিলেন; এই অভিপ্রায় জ্ঞাপনের জন্য কর্ম্ম- কর্তৃবাচ্যে প্রয়োগ করা হইয়াছে।

২৪০(বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সেই জগৎ নিজেই—আপনিই ব্যক্তীভাব প্রাপ্ত হইয়াছিল,—অর্থাৎ নাম ও রূপ- বিশেষে প্রতীত হইবার উপযুক্ত অবস্থায় স্পষ্টরূপে ব্যক্তীভূত হইয়াছিল। বিনা হেতুতে যখন কার্য্য হইতে পারে না; তখন[উল্লেখ না থাকিলেও] কার্য্য নিয়ামক অধ্যক্ষ) কর্তা, করণব্যাপারাদি আবশ্যকীয় কারণ-সমূহের সম্ভাব ধবিয়’ লইতে হইবে।[এখন অভিব্যক্তির স্বরূপ বলিতেছেন,—] ‘অসৌ-নামা’ ‘ইদ রূপঃ’ অর্থাৎ দেবদত্ত বা যজ্ঞদত্ত প্রভৃতি যাহার নাম এবং এই দৃশ্যমান শুক্ল কৃষ্ণাদি বর্ণ যাহার রূপ, তাদৃশ নাম-রূপবিশিষ্ট; এখানে সাধারণভাবে ‘অসৌ’ এই সম্বন্ধাম শব্দ থাকায় নামমাত্রেরই গ্রহণ করিতে হইবে, আর ‘ইদ’-রূপঃ’ স্থলেও ‘ইদ’ শব্দ থাকায়, জগতে যত রকম রূপ আছে, তৎসমস্তই বুঝিতে হইবে। সেই এই আলোচ্য অব্যাকৃত বস্তটাই বর্তমান সময়েও(আধুনিক সৃষ্টিকালেও) নাম-রূপ দ্বাবাই ব্যাকৃত হইয়া থাকে—ইহা ‘অমক-নামক’ ও ‘অমুক আকৃতিবিশিষ্ট’। ২

যে তত্ত্বপ্রতিপাদনের জন্য সমস্ত অধ্যাত্মশাস্ত্রের আবন্ত, স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যা দ্বারা যাহার উপর কর্তৃত্বাদি ধৰ্ম্ম আরোপিত হইয়াছে, যিনি সমস্ত জগতের কারণ, স্বচ্ছ সলিল হইতে যেরূপ মলস্বরূপ ফেন সমুদগত হয়, তেমনি স্ব-কপভূত নাম ও রূপ হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পদার্থ—নিতা শুদ্ধবুদ্ধমুক্তস্বভাব, সেই তিনিই আত্মভূত নাম ও রূপ প্রকটিত করিয়া কর্ম্মফলাশ্রয় এব ক্ষুধা-পিপাসাদি-সম্পন্ন ব্রহ্মাদি তৃণ পর্য্যন্ত দেহীব অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হইলেন। ৩

প্রশ্ন হইতেছে যে, ভাল, পূর্ব্বে বলা হইয়াছে-‘অব্যাকৃত জগৎ আপনা হইতেই ব্যাকৃত বা অভিব্যক্ত হইয়াছে; এখন আবার এ কথা বলা হইতেছে কি প্রকারে যে, পরমাত্মাই অব্যাকৃত জগৎকে ব্যাকৃত করিয়া তন্মধ্যে প্রবেশ করি- লেন? না-এ কথা দোষাবহ হইতেছে না; কারণ, সেখানে পরমাত্মাকেই অব্যাকৃত জগৎস্বরূপে প্রতিপদান করা শ্রুতির অভিপ্রেত; এইজন্যই[ঐরূপ বলা হইয়াছে] আমরাও পূর্ব্বেই বলিয়া রাখিয়াছি যে, অব্যাকৃত জগৎ যে স্বয়ংই ব্যাকৃত হইয়াছে, তাহাতেও জগতের নিয়ন্তা, কর্তা, ক্রিয়াসাধন প্রভৃতি আবশ্য- কীয় সমস্ত কারণেরই সদ্ভাব স্বীকার করিতে হইবে,(নচেৎ কার্য্যই জন্মিতে পারে না)। বিশেষতঃ ‘ইদং’ শব্দের সহিত ‘অব্যাকৃত’ শব্দের সামানাধিকরণ্যও (অভেদ নির্দেশও) এ সিদ্ধান্তের সমর্থন করিতেছে, অর্থাৎ এই দৃশ্যমান(ব্যক্ত) জগতে যেরূপ নিয়ন্তা(পরিচালক) প্রভৃতি বহুবিধ বিশিষ্ট কারকাদির সম্বন্ধ দৃষ্ট হয়, তদ্রূপ সেই অব্যাকৃত জগৎ-সম্বন্ধেও এ সমস্ত নিমিত্তাদির সদ্ভাব অবশ্যই

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৪১

স্বীকার করিতে হইবে; উভয়ের মধ্যে এইমাত্র বিশেষ যে, একটি ব্যাকৃত(ব্যক্ত), আর অপরটি অব্যাকৃত(অব্যক্ত)। তাহার পর বক্তার ইচ্ছানুসারে এরূপ বিচিত্র ক্রিয়াপদের প্রয়োগ অন্যত্রও দেখিতে পাওয়া যায়, যথা—‘গ্রাম আসি- য়াছে’(গ্রামস্থ লোক আসিয়াছে), এবং ‘গ্রাম শূন্য হইয়াছে’(গ্রামে লোকের বাস নাই), ইত্যাদি স্থলে গ্রাম-শব্দে কখনও কেবল বসতি মাত্র অর্থের বিবক্ষায় অর্থাৎ গ্রামে লোকের বাস নাই, এইরূপ অর্থ প্রতিপাদনের অভিপ্রায়ে ‘গ্রামঃ শূন্যঃ’ এইরূপ শব্দ-ব্যবহার হইয়া থাকে, কখনওবা গ্রামবাসী লোককে লক্ষ্য করিয়া ‘গ্রাম: আগতঃ’ এইরূপ শব্দ-প্রয়োগ করা হইয়া থাকে, কখনও বা গ্রামবাসী লোক ও তাহাদের বসতি, এতদুভয় অর্থকেই লক্ষ্য করিয়া ‘গ্রাম’ শব্দের প্রয়োগ হইয়া থাকে; যথা,—‘গ্রামং চ ন প্রবিশেৎ’ অর্থাৎ ‘এ গ্রামেও প্রবেশ করিবে না’। [ সেখানে যেমন গ্রামে প্রবেশ ও গ্রামবাসী জনের সংসর্গ, উভয়ই নিষিদ্ধ হইয়াছে]; তেমনি এখানেও ব্যাকৃত ও অব্যাকৃত জগতের অভেদবিবক্ষায় আত্মস্বরূপে, আর ভেদবিবক্ষায় অনাত্মরূপেও ব্যবহার হইয়া থাকে; ‘সেই এই জগৎ উৎপত্তি-বিনাশশীল’, এইবাক্যে আবার কেবলই জগতের(জড়ভাবের) নিদ্দেশ হইয়াছে। সেইরূপ, ‘আত্মা মহান্ ও অজ(জন্মরহিত)’, ‘স্কুলও নহে, অণুও নহে’ ‘এই আত্মা বস্তুটি ইহা নহে ইহা নহে’ ইত্যাদি স্থলে শুধু আত্মারই স্বরূপোলেখ হইয়াছে। ৪

এখন আপত্তি হইতেছে যে, পরমাত্মার ইচ্ছায় ব্যাকৃত(ব্যক্তীভাবাপন্ন) এই জগৎ যখন তাঁহা দ্বারা সর্ব্বদা সব্বতোভাবে ব্যাপুই রহিয়াছে, তখন তাঁহাকেই আবার ইহার মধ্যে প্রবিষ্ট বলিয়া কল্পনা করা যাইতে পারে কি প্রকারে? কেননা, অপ্রবিষ্ট স্থানেই কোনও পবিচ্ছিন্ন পদার্থ প্রবেশ করিতে পারে; যেমন লোকে গ্রাম প্রভৃতি স্থানে প্রবেশ করিয়া থাকে; কিন্তু আকাশ ত কখনও কোথাও প্রবেশ করিতে পারে না; কারণ, তাহা সর্ব্বদা সর্বত্র পরিব্যাপ্তই রহিয়াছে। যদি বল, পাষাণমধ্যগত সর্পাদির ন্যায় অন্য কোনরূপেও তাঁহার প্রবেশ হইতে পারে অর্থাৎ যদি বল যে, পরমাত্মা স্বীয় ব্যাপকরূপে প্রবেশ করেন না সত্য; কিন্তু তাহার মধ্যগত থাকিয়াই অন্য কোনও প্রকারে প্রকটিত হইয়া থাকেন; এই জন্যই তাঁহাকে ‘প্রবিষ্ট’ বলিয়া আরোপ মাত্র করা হইয়া থাকে; পাষাণের ভিতরে যেমন পাষাণের সঙ্গেসঙ্গেই সর্পের আবির্ভাব হয়, অথবা নারিকেলের মধ্যে যেমন সঙ্গে সঙ্গেই জল উৎপন্ন হয়, ইহাও ঠিক তেমনই। না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, শ্রুতি বলিতেছেন-‘তাহা সৃষ্টি কবিয়। তন্মধ্যে প্রবেশ করি-

২৪২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

লেন‘। ইহা হইতে জানা যাইতেছে যে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি স্বয়ংই অবিকৃতভাবে অর্থাৎ অন্য কোনও ধর্মান্তর গ্রহণ না করিয়াই জগৎ সৃষ্টি করিয়া, পরে তাহার মধ্যে প্রবেশ করিয়াছেন। যেমন ‘ভোজন করিয়া গমন করিতেছে’ বলিলে পূর্ব্বকালবর্তী ভোজনক্রিয়া ও পরবর্তী গমন-ক্রিয়া এতদুভয়ের পার্থক্য প্রতীত হইলেও ত কর্তার পার্থক্য-প্রতীতি হয় না,(পরন্তু একই কর্তার প্রতীতি হয়), এখানেও ঠিক তদ্রূপ ব্যবস্থাই হওয়া উচিত; কিন্তু প্রবিষ্ট বস্তুর অবস্থা- ন্তরোৎপত্তি স্বীকার করিলে ইহা কখনই সঙ্গত হইতে পারে না। আর নিরবয়ব ও অপরিচ্ছিন্ন কোন পদার্থের যে, এক স্থান পরিত্যাগপূর্ব্বক অন্য স্থানের সহিত সংযোগাত্মক প্রবেশ, তাহাত কোথাও দেখা যায় না;[অতএব নিরবয়বের প্রবেশের কথা কোন মতেই উপপন্ন হইতে পারে না]। ৫

যদি বল, শ্রুতিতে যখন প্রবেশের কথা আছে, তখন তিনি সাবয়বই বটে; না,-তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘পুরুষ দিব্য ও অমূর্ত(নিরবয়ব),’ ‘নিষ্ক্রিয় ও নিরংশ’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে এবং সর্ব্ববিধ ধৰ্ম্ম-প্রতিষেধক অন্য শ্রুতি হইতেও[তাঁহার নিরবয়বত্ব প্রমাণিত হয়]। যদি বল, সূর্য্যাদি-প্রতিবিম্বের যেরূপ জলাদিতে প্রবেশ দৃষ্ট হয়, ইহারও তদ্রূপ প্রবেশ কল্পনা করা যাইতে পারে। না, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, কোন বস্তুর সহিতই তাহার বিপ্র- কর্ষ বা ব্যবধান নাই,[অথচ ব্যবধান না থাকিলে একের মধ্যে অপরের প্রবেশ কখনই সম্ভবপর হইতে পারে না]।[ভাল, ব্যবধান না থাকিলেও] দ্রব্যের মধ্যে যেরূপ গুণের প্রবেশ হয়, সেরূপ প্রবেশ ত ব্রহ্মেরও হইতে পারে? না,-তাহাও হইতে পারে না; কারণ, ব্রহ্ম ত গুণের ন্যায় কোথাও আশ্রিত নহে। গুণ-পদার্থ নিতাই পরাধীন(দ্রব্যের অধীন) ও দ্রব্যাশ্রিত; সুতরাং দ্রব্যের মধ্যে তাহার প্রবেশ-ব্যবহার উপপন্ন হয়, কিন্তু স্বতন্ত্র অর্থাৎ অ-পরাধীন ব্রহ্মের সম্বন্ধে ত সেরূপ প্রবেশ কখনই সঙ্গত হইতে পারে না। আর ফলের মধ্যে বীজ- প্রবেশের ন্যায় যে, প্রবেশ বলিবে; তাহাও নহে; কারণ, তাহা হইলে, ফলের ন্যায় ব্রহ্মেরও সাবয়বত্ব, বৃদ্ধি, হ্রাস, উৎপত্তি ও বিনাশাদি ধর্ম্মের সম্ভাবনা হইতে পারে; প্রকৃতপক্ষে ত ঐ সমস্ত ধর্ম্মের সহিত ব্রহ্মের কস্মিন্কালেও সম্বন্ধ নাই; কারণ, তাহা হইলে তিনি ‘জন্মরহিত ও মরণহীন’ ইত্যাদি শ্রুতি ও যুক্তির সহিত বিরোধ উপস্থিত হয়(১)। আর যদি বল-অন্য কোনও পরিচ্ছিন্ন

(১) তাৎপর্য্য—ব্রহ্মের বৃদ্ধি-ক্ষয়াদি ধৰ্ম্ম স্বীকার করিলে যে, শ্রুতি-বিরোধ উপস্থিত হয়, তাহা “অজঃ অজয়ঃ” ইত্যাদি শ্রুতিতে প্রকাশিত হইয়াছে। যুক্তি-বিরোধ এইরূপ—ব্রহ্ম যদি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৪৩

সংসারী(জীবই) ইহার অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়াছে,(ব্রহ্ম নহে); না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘সেই এই দেবতা(পরমাত্মা) ঈক্ষণ করিলেন’ এই হইতে আরম্ভ করিয়া ‘নাম ও রূপ ব্যাকৃত করিব’ এই পর্যন্ত শ্রুতিতে সেই পরমেশ্বরেরই সৃষ্টিমধ্যে প্রবেশ ও অভিব্যক্তি কার্য্যে কর্তৃত্ব উল্লিখিত আছে। সেইরূপ ‘তিনি জগৎ সৃষ্টি করিয়া তন্মধ্যে প্রবেশ করিলেন,’ ‘তিনি এই সীমা বিদীর্ণ করিয়া, ইহা দ্বারাই প্রাপ্ত হইয়াছিলেন,’ ‘স্থিরস্বভাব ব্রহ্ম সমস্ত রূপ (আকৃতি) নির্মাণ করিয়া এবং পৃথক্ পৃথক্ নামকরণ করিয়া, সেই সেই নামের উল্লেখ করত অবস্থান করেন’, ‘তুমি কুমার, অথবা কুমারী, তুমি জীর্ণ(বৃদ্ধ) হইয়া দণ্ড দ্বারা গমন করিয়া থাক,’ ‘প্রথমে দ্বিপদ সৃষ্টি করিলেন,’ ‘তিনি বিভিন্ন বস্তুতে [ প্রবেশ করিয়া ভিন্ন ভিন্ন আকারে প্রকাশ পাইলেন]’ এই সমস্ত শ্রুতিবাক্য হইতে জানা যায় যে, পরমাত্মা ভিন্ন অপর কাহারো প্রবেশ হয় নাই। আপত্তি হইতে পারে যে, প্রবেশের পাত্রগুলির মধ্যে যখন পরস্পর পার্থক্য বা প্রভেদ রহি- য়াছে, তখন প্রবিষ্ট পরমাত্মার ত বহুত্ব হইয়া পড়ে? তদুত্তরে বলি যে, না, তাহা হয় না; কারণ, ‘একই দেবতা(পরমাত্মা) বহুরূপে প্রবিষ্ট হইয়াছেন’ ‘তিনি এক হইয়াও বহু প্রকারে বিচরণ করিতেছেন’, ‘তুমি বহুতে প্রবেশ করিয়াও একই আছ’ ‘একই দেব(পরমাত্মা) সর্ব্বভূতের মধ্যে প্রচ্ছন্ন আছেন, এবং তিনি সর্ব্ব- ব্যাপী ও সর্ব্বভূতের অন্তরাত্মা’ ইত্যাদি শ্রুতিতে[তাঁহার একত্বই ব্যবস্থিত হইয়াছে]। ৫

আচ্ছা, প্রবেশ উপপন্ন হয়, কি না হয়, সে কথা থাকুক; প্রবিষ্টমাত্রই যখন সংসারী, এবং পরমাত্মাও যখন সেই সমস্ত সংসারী হইতে ভিন্ন নহে, তখন পরমা- ত্মারও নিশ্চয়ই সংসারিত্ব সম্ভাবিত হইতে পারে? এ কথা যদি বল, তদুত্তরে বলিতেছি যে, না—তাহাও হইতে পারে না; কারণ, শ্রুতিতে তাঁহাকে অশনায়াদি (ভোজনেচ্ছা প্রভৃতি) ধৰ্ম্মশূন্য বলা হইয়াছে। যদি বল যে, জীবের যখন সুখ- দুঃখাদি সম্বন্ধ প্রত্যক্ষ হইতেছে, তখন তিনি অশনায়াদির অতীত হইতে পারেন

২৪৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

না; না,-সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, শ্রুতিতে আছে-‘তিনি(আত্মা) লোকদুঃখে(সংসারদুঃখে) লিপ্ত হন না’; ‘তিনি এ সমস্তের অতীত‘। যদি বল, প্রত্যক্ষাদি প্রমাণ-বিরুদ্ধ বলিয়া শ্রুতির কথা যুক্তিসঙ্গত নহে; না, সে কথাও বলা চলে না; কারণ, আত্মার অভিব্যক্তি-ক্ষেত্র বিশেষ বিশেষ উপাধির বৈচিত্র্যই প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের বিষয় হয়,[কিন্তু আত্মা হয় না]; কেন না, ‘দৃষ্টি’র দ্রষ্টাকে (জ্ঞানের প্রকাশককে) দর্শন করিতে পার না‘। ‘অরে মৈত্রেয়ি, বিজ্ঞাতাকে আবার কিসের দ্বারা জানিবে?’, ‘তিনি অন্যের অবিজ্ঞাত, অথচ স্বয়ং বিজ্ঞাতা’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে জানা যায় যে, আত্মা প্রত্যক্ষাদি জ্ঞানের বিষয় নহে, তবে কি? না, বুদ্ধি প্রভৃতি উপাধিতে প্রতিফলিত যে আত্মপ্রতিবিম্ব, তাহাই ‘আমি সুখী, আমি দুঃখী’ ইত্যাদি প্রত্যক্ষজ্ঞানের বিষয় বা বিজ্ঞেয়,(কিন্তু আত্মা তাহার বিষয় নহে); কারণ, ‘অয়ম্ অহম্’(ইহা আমি) ইত্যাদি স্থলে বিষয়ের (অয়ং-পদবাচ্য জ্ঞেয় পদার্থের) সহিত বিষয়ীর(বিজ্ঞাতা আত্মার) সামানা- ধিকরণ্য বা অভেদ ব্যবহার দেখিতে পাওয়া যায়; বিশেষতঃ ‘ইহা ভিন্ন আর দ্রষ্টা নাই’ ইত্যাদি শ্রুতিতে দ্বিতীয় আত্মার নিষেধও রহিয়াছে(১)। বিশেষতঃ হস্তপদাদি দেহাবয়বে সুখ-দুঃখের প্রতীতি হয় বলিয়াও সুখ-দুঃখকে বিষয়ের (অনাত্মগদার্থের) ধর্ম্ম বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে(২)। ৭

যদি বল, ‘আত্মার তৃপ্তিসাধনের জন্যই[ সমস্ত বিষয় প্রিয় হইয়া থাকে]’

(১) তাৎপর্য্য—সাধারণতঃ জ্ঞান হয় বিষয়ী, আর জ্ঞেয় বস্তু হয় বিষয়। বেদান্তমতে জ্ঞানই আত্মা; সুতরাং আত্মাকেই বিষয়ী বলা যায়। ‘অয়ম্ অহম্’ স্থলে, ‘অয়ং’ পদের অর্থ— প্রত্যক্ষযোগ্য অনাত্মবস্তু; সুতরাং তাহা আত্মোপাধিভূত বুদ্ধি-প্রভৃতি ভিন্ন আর কিছুই হইতে পারে না; আর ‘অহং’ পদের অর্থ—আত্মা। জ্ঞান ও জ্ঞেয় এবং আত্মা ও অনাত্মা স্বভাবতই ভিন্ন, কিন্তু তথাপি ব্যবহারক্ষেত্রে অনাত্মা ‘অয়ং’ পদার্থের সহিত বিষয়ীর(আত্মার) অভেদ আরোপ করা হইয়া থাকে। ইহা হইতেই বেশ বুঝা যায় যে, শুদ্ধ আত্মা লৌকিক প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের বিষয় নহে; পরন্তু বুদ্ধিরূপ উপাধিতে প্রতিবিম্বিত যে আত্ম-চৈতন্য, তাহাই উহার বিষয়; কাজেই ‘আমি সুখী দুঃখী’ ইত্যাদি অনুভব দ্বারা বিশুদ্ধ আত্মার সুখ- দুঃখাদি সম্বন্ধ কল্পনা করা যাইতে পারে না।

(২) তাৎপর্য্য—সাধারণতঃ ‘আমার হাতে দুঃখ, পায়ে দুঃখ, কিংবা মস্তকে দুঃখ, অথবা সুখ’ ইত্যাদিরূপে দেহাবয়ব হস্তপদাদিতেই সুখ-দুঃখের প্রতীতি হইয়া থাকে; হস্তপদাদি যে অনায়-বস্তু—বিষয়, সে বিষয়ে কাহারো সন্দেহ নাই; সুতরাং উক্তপ্রকার প্রতীতি হইতেও জানা যায় যে, সুখ-দুঃখাদি ধর্মগুলি আত্মার নহে; পরন্তু অনাত্মা দেহাদিরই বটে, আত্মাতে সে সকলের আরোপ হয় মাত্র।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৪৫

ইত্যাদি শ্রুতিতে যখন আত্মতৃপ্তিকেই একমাত্র উদ্দেশ্য বলা হইয়াছে, তখন আত্মার সুখ-দুঃখ নাই, এ কথাটা যুক্তিযুক্ত হইতেছে না; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘যে সময় অন্যেরই মত হয়, আত্মা হইতে আপনাকে যেন ভিন্ন বলিয়াই মনে করে’ ইত্যাদি শ্রুতিতে অবিদ্যাসমন্বিত আত্মাকেই উল্লিখিত কামনার ক্ষেত্র বলিয়া স্বীকার করা হইয়াছে। বিশেষতঃ ‘যখন ব্রহ্মাত্ম-বোধ উপস্থিত হয়, তখন কিসের দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে?’ ‘এ জগতে নানা(ব্রহ্ম ভিন্ন) কিছুই নাই’ ‘[মুমুক্ষু যখন] সর্বত্র একত্ব দর্শন করেন, তখন তাঁহার শোকই বা কি, আর মোহই বা কি?’ ইত্যাদি শ্রুতিতে জ্ঞানদশায় সুখ-দুঃখাদির সদ্ভাব নিষিদ্ধই হইয়াছে; কাজেই সুখ দুঃখ প্রভৃতিকে আত্মার ধর্ম বলা যায় না। ৮

যদি বল, তর্কশাস্ত্রীয় সিদ্ধান্তের সহিত বিরোধ হয় বলিয়া, ইহা যুক্তিযুক্ত হইতেছে না; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, যুক্তি দ্বারাও আত্মার সুখ- দুঃখাদি-সম্বন্ধ উপপন্ন হইতে পারে না। কেন না, প্রত্যক্ষের অগম্য আত্মা কখনই প্রত্যক্ষের বিষয়ীভূত দুঃখ দ্বারা বিশেষিত(দুঃখের বিশেষ্য) হইতে পারে না; কারণ, আত্মা কখনও লৌকিক প্রত্যক্ষের বিষয় নহে। যদি বল, আকাশ অপ্রত্যক্ষ হইলেও যেমন প্রত্যক্ষ-গ্রাহ্য শব্দ তাহার গুণ বা ধর্ম্ম হয়, তেমনি অপ্রত্যক্ষ আত্মারও প্রত্যক্ষযোগ্য দুঃখ-গুণের সহিত সম্বন্ধ হইতে বাধা কি? না, তাহা বলা যায় না; কারণ, তাহা হইলেও এক বুদ্ধির বিষয় হইতে পারে না; কেন না, প্রত্যক্ষের বিষয়(প্রত্যক্ষযোগ্য) যে সুখগ্রাহক জ্ঞান,[তোমার মতে] নিত্যানুমেয় আত্মা কখনই তাহার বিষয়ীভূত হইতে পারে না। বিশেষতঃ আত্মা যখন এক বৈ দুই নয়, তখন, সেই আত্মাও যদি ঐ জ্ঞানেরই বিষয়ীভূত হয়, তাহা হইলে(সেই আত্মাও বিষয়শ্রেণীতে নিবিষ্ট হইলে) বিষয়ীরই(বিষয়-প্রকাশক—বিষয়গ্রাহকেরই) অভাব হইয়া পড়ে। আর যদি বল, দীপ যেমন নিজেই নিজের বিষয় ও বিষয়ী (প্রকাশ্য ও প্রকাশক) হয়, তেমনি আত্মাও নিজেই নিজের বিষয় ও বিষয়ী (জ্ঞেয় ও জ্ঞাতা) হইবে; না, তাহাও বলিতে পার না, কারণ, একই সময়ে কাহারো বিষয়-বিষয়িভাব হইতে পারে না। বিশেষতঃ আত্মা যখন নিরংশ (নিরবয়ব), তখন অংশভেদেও যে, ঐরূপ বিষয়-বিষয়িভাব কল্পনা করা, তাহাও সঙ্গত হয় না(ক)। ৯

(ক) তাৎপর্য্য—তার্কিকগণ বলিয়া থাকেন যে, আত্মাতে চতুর্দ্দশপ্রকার গুণ আছে— “বুদ্ধ্যাদিষটুকং সংখ্যাদিপঞ্চকং ভাবনা তথা। ধর্ম্মাধর্ম্মৌ গুণা এতে আত্মনঃ স্যশ্চতুর্দ্দশ।”

২৪৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উপরে যে সমস্ত যুক্তি-প্রমাণ প্রদর্শিত হইল, তাহা দ্বারা[বৌদ্ধমতে] বিজ্ঞানের যে, গ্রাহ্য-গ্রাহকভাব, তাহাও খণ্ডিত হইল, এবং প্রত্যক্ষের বিষয়ীভূত দুঃখ, আর অনুমানের বিষয়ীভূত আত্মার যে, গুণ-গুণিভাব-কল্পনা, তাহাও নিরস্ত হইল; কারণ, দুঃখ-পদার্থ নিত্যই প্রত্যক্ষের বিষয়, অধিকন্তু দৈহিক রূপাদির সহিত একাধিকরণে(একই দেহে) প্রতীত হইয়া থাকে;[সুতরাং রূপাদি যেমন আত্মার গুণ নহে, তেমনি দুঃখও আত্মার গুণ হইতে পারে না]। আর আত্মাতে দুঃখ যদি মনঃসংযোগজনিতও হয়, তাহা হইলেও আত্মাতে সাবয়বত্ব, সবিকারত্ব ও অনিত্যত্বাদি দোষ আসিয়া পড়ে; কারণ, কোথাও এমন কোনও গুণ দেখিতে পাওয়া যায় না, যাহা উৎপন্ন বা বিনষ্ট হইবার সময় স্বসম্বদ্ধ সাবয়ব দ্রব্যকে কিছুমাত্র বিকৃত করে না। আর যাহার অবয়ব নাই, সেই নিরবয়ব পদার্থকেও কোথায়ও বিকৃত হইতে, অথবা কোন নিত্য পদার্থকেও অনিত্য গুণ- বিশিষ্ট হইতে দেখা যায় না। বিশেষতঃ যাহারা আগমবাদী অর্থাৎ প্রধানতঃ শাস্ত্রপ্রামাণ্যমাত্রাবলম্বী, তাহারা ত আকাশকেও নিত্য বলিয়া স্বীকার করেন না; অথচ এ বিষয়ে তদ্ভিন্ন আর উপযুক্ত দৃষ্টান্তও দেখা যায় না। আর যদি বল, বিকৃত হইলেও যখন তৎ-প্রত্যয়ের নিবৃত্তি হয় না, অর্থাৎ ‘ইহা সেই বস্তুই বটে’ এইরূপ জ্ঞান বিদ্যমানই থাকে, তখন উহা বিকারী হইলেও নিতাই বটে; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, দ্রব্যের রূপান্তর না ঘটাইয়া কখনও কোন

অর্থাৎ বুদ্ধি(জ্ঞান) সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, যত্ন(চেষ্টা), একত্বাদি সংখ্যা, মহৎ পরিমাণ, পৃথকৃত, সংযোগ, বিভাগ, ‘ভাবনা’ নামক সংস্কার,(যাহার সাহায্যে জ্ঞাত বিষয় পুনঃ স্মৃতিপথে উদিত হয়), ধর্ম ও অধর্ম, এই চতুর্দ্দশটি গুণ আত্মার স্বতঃসিদ্ধ ধৰ্ম্ম। এখন আত্মাতে যদি সুখ-দুঃখের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায়, তাহা হইলে উক্ত তার্কিকসিদ্ধান্ত বিরুদ্ধ হইয়া পড়ে। অতএব আত্মার সুখ-দুঃখাদি ধৰ্ম্মসদ্ভাব স্বীকার করাই উচিত। তদুত্তরে ভাষ্যকার বলিতেছেন—

যুক্তি দ্বারাও যখন আত্মার সুখ-দুঃখাভাব প্রমাণ করা যাইতে পারে, তখন তাঁহাতে সুখ- দুঃখ সম্বন্ধ কখনই স্বীকার করা যাইতে পারে না। একটি যুক্তি এই যে, সুখ-দুঃখগুণ প্রত্যক্ষের বিষয় হয়, আত্মা কিন্তু সাধারণ প্রত্যক্ষের অবিষয়, সুতরাং প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষের মধ্যে কখনও ধৰ্ম্ম-ধর্মিভাব হইতে পারে না। বিশেষতঃ আত্মা জ্ঞানস্বরূপ, সুতরাং তাহা বিষয়ী, আর আত্মগুণ সুখ-দুঃখ হইল তাহার বিষয়; দীপ যেমন কথঞ্চিৎ নিজেই নিজকে প্রকাশিত করে বলিয়া বিষয়ও বটে, এবং বিষয়ীও বটে; আত্মার পক্ষে কিন্তু সেরূপ ব্যবস্থা হইতে পারে না; কারণ, দীপ সাংশ বা সাবরব পদার্থ; তাহার পক্ষে একাংশে প্রকাশকত্ব আর অপরাংশে প্রকাশ্যত্ব হইতেও পারে, কিন্তু আত্মা যখন নিরংশ পদার্থ; তখন তাহার পক্ষে একই সময়ে ঐরূপ বিষয়-বিষয়িভাব হইতে পারে না ইত্যাদি।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৪৭

প্রকার বিকার হইতে পারে না; অর্থাৎ এরূপ কোনও বিকার দেখা যায় না, যাহা দ্বারা বিকৃত দ্রব্যের রূপান্তর ঘটে না, পরন্তু উহাই বিকারের স্বভাব বা স্বরূপ। আর এ কথাও বলিতে পার না যে, হউক না কেন আত্মা সাবয়ব, তথাপি উহা নিত্য; তাহা হইলে অবয়বসমূহের পরস্পর সংযোগই যখন সাবয়ব পদার্থের কারণ, তখন নিশ্চয়ই সেই সমস্ত অবয়বের পুনর্ব্বার বিভাগও অবশ্যম্ভাবী,[অবয়ব- বিভাগই ত সাবয়ব পদার্থের ধ্বংস বা বিনাশ, কাজেই সাবয়ব পদার্থের ধ্বংসও অবশ্যম্ভাবী]। যদি বল, বজ্রপ্রভৃতি কোন কোন সাবয়ব বস্তুতে যখন অবয়ব- সংযোগ দৃষ্ট হয় না, তখন সংযোগপূর্ব্বকত্ব নিয়মটি ঠিক অব্যভিচারী(সার্ব্বত্রিক) নহে; না, সে কথাও সঙ্গত হয় না; কারণ, বজ্রাদিও যে, অবয়বসংযোগ হইতেই উৎপন্ন, তদ্বিষয়ে অনুমান করা যাইতে পারে; অতএব আত্মাতে কখনই দুঃখাদি অনিত্যগুণের সদ্ভাব উপপন্ন হইতে পারে না(১)। ১০

(১) তাৎপর্য্য-এ স্থানে যে সমস্ত তর্কের অবতারণ। করা হইয়াছে, তাহার প্রত্যেকটিই জটিল এবং পৃণভাবে আলোচনার যোগ্য, কিন্তু সেরূপ অবসর কোথায়? তাই দুই একটি বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনার আভাস মাত্র প্রদান করিতেছি-প্রথম কথা হইল, আমরা আত্মাতে যে সুখ-দুঃখ অনুভব করিয়া থাকি, তাহা আত্মার স্বাভাবিক ধৰ্ম্ম নহে; পরন্তু উহা মনের ধর্ম; বিষয়-সম্বদ্ধ মনের সহিত আত্মার সংযোগে উহার উৎপত্তি; সুতরাং, উহা অনিত্য। এ কথার উত্তরে ভাষ্যকার বলিলেন-আচ্ছা, আত্মার সুখ-দুঃখাদি যদি মনঃসংযোগজন্যই হয়, তাহা হইলেও আত্মার ঐ সমস্ত গুণকে উৎপত্তি-বিনাশশীল বলিতে হইবে। দেখিতে পাওয়া যায়, গুণ কখনও সাবয়ব ভিন্ন নিরবয়ব বস্তুতে থাকে না, এবং থাকাও সম্ভব হয় না। অবশ্য, নৈয়ায়িকগণ শব্দ-গুণবিশিষ্ট আকাশকেও নিরবয়ব বলেন; কিন্তু উপনিষৎপ্রভৃতি প্রামাণিক শাস্ত্রে যখন পঞ্চভূতকেই উৎপন্ন(জন্য) পদার্থ বলিয়াছেন; তখন শাস্ত্রপ্রামাণ্যানুসারে আকাশকেও গুণাশ্রয় নিরবয়ব দ্রব্যরূপে দৃষ্টান্ত দেওয়া চলে না। অতএব আত্মাতে সুখ-দুঃখ স্বীকার করিলেই সাবয়বত্বও স্বীকার করিতে হয়; অধিকন্তু, সাবয়ব দ্রব্যে যখনই কোনও গুণ উৎপন্ন হয়, অথবা তাহা হইতে অন্তর্হিত হয়, তখনই তাহার কিছু না কিছু বিকার উৎপন্ন করিয়া থাকে। অতএব আত্মার সুখ-দুঃখ স্বীকার করিলে বিকারিত্বও স্বীকার করিতে হয়; বিকারিত্ব স্বীকার করিলেই তাহার অনিত্যত্বও স্বীকার করিতে হয়। বিকারশীল সাবয়ব বস্তুমাত্রই কতকগুলি অবয়বের সংযোগে সমুৎপন্ন হইয়া থাকে; তাহা হইলেই ‘সংযোগাশ্চ বিয়োগান্তাঃ’ অর্থাৎ সংযোগের শেষ ফল হইতেছে-বিয়োগ; অবয়ব-বিয়োগই সাবয়ব পদার্থের ধ্বংস। বজ্র প্রভৃতি যে সমস্ত সাবয়ব বস্তুকে আপাতদৃষ্টিতে নিত্য বলিয়া এবং অবয়ব- সংযোগজাত নয়, এইরূপ মনে হয়; বস্তুতঃ সাবয়বত্ব নিবন্ধন সে সমস্ত বস্তুকেও সংযোগজ বলিয়া অনুমান করা যাইতে পারে; সুতরাং ঐ সমস্ত বস্তুও ইহার বিরুদ্ধ দৃষ্টান্ত হইতে পারে না।

২৪৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।:

এখন আপত্তি হইতে পারে যে, পরমাত্মাও যদি দুঃখী(দুঃখাশ্রয়) না হইলেন, এবং তদ্ভিন্ন অপর কাহাকেও যখন দুঃখী বলিয়া কল্পনা করা যাইতে পারে না, তখন সেই দুঃখশান্তির জন্য শাস্ত্রারম্ভের ত কিছুমাত্র প্রয়োজন দেখা যাইতেছে না; না, এরূপ আপত্তিও হইতে পারে না; কারণ, অবিদ্যা- বশতঃ আত্মাতে দুঃখিত্বভ্রম অধ্যারোপিত হইয়াছে, তন্নিবৃত্তিই শাস্ত্রারম্ভের উদ্দেশ্য। যেমন[“দশমস্ত্বমসি”স্থলে] অজ্ঞানবশতঃ আত্মাতে কল্পিত দশমত্ব সংখ্যার অপূর্ণতাভ্রমনিবৃত্তির জন্য উপদেশের আবশ্যক হয়,(*) তেমনি এখানেও আত্মাতে কল্পিত দুঃখসম্বন্ধনিবৃত্তির জন্যও শাস্ত্রারম্ভের প্রয়োজন আছে। ১১

জলের মধ্যে যেরূপ সূর্য্যাদির প্রতিবিম্ব দৃষ্ট হইয়া থাকে, তদ্রূপ ব্যাকৃত জগতের মধ্যেও যে, আত্মার প্রতিবিম্ববৎ উপলব্ধি বা প্রতীতি, তাহাই আত্মার প্রবেশ। জগদুৎপত্তির পূর্ব্বে আত্মার উপলব্ধি ছিল না, পশ্চাৎ স্থূল কার্য্য সৃষ্ট হইলে পর, বুদ্ধির অভ্যন্তরে তাহার উপলব্ধি হইল; এই কারণেই জলাদির মধ্যে সূর্য্যাদি-প্রতিবিশ্বের ন্যায় কার্য্যস্বরূপ জগৎসৃষ্টির পর, তিনি তন্মধ্যে প্রবিষ্টবং অনুভূত হন বলিয়া শ্রুতি-নির্দেশ রহিয়াছে,-‘তিনি ইহার মধ্যে প্রবিষ্ট হই- লেন’, ‘তাহা(জগৎ) সৃষ্টি করিয়া তাহারই মধ্যে তিনি প্রবেশ করিলেন’, ‘তিনি এই সীমা বিদীর্ণ করিয়া ইহা দ্বারাই প্রাপ্ত হইলেন’, ‘সেই দেবতা (পরমেশ্বর) আলোচনা করিলেন,-ভাল, আমি এই জীবাত্মরূপে এই তিন দেবতার(তেজঃ, জল ও পৃথিবীর) অভ্যন্তরে প্রবেশপূর্ব্বক[নাম ও রূপ বিস্তার

(*) তাৎপয়া—দশজন লোক বাড়ী হইতে বাহির হইয়া যাইতে যাইতে পথে একটি ক্ষুদ্র নদী পাইল; নদীটা সন্তরণের সাহায্যে পার হইলে পর, তাহাদের মনে সন্দেহ উপস্থিত হইল যে, আমরা ঠিক দশ জনই পার হইতে পারিয়াছি? কিংবা কেহ নদীতে ডুবিয়া গিয়াছে? তখনই গণনা আরম্ভ হইল। সকলেই অদ্ভুত পণ্ডিত। প্রত্যেকেই গণিবার সময় আপনাকে বাদ দিয়া গণিতে আরম্ভ করিল; সুতরাং নয় জনের বেশী আর কিছুতেই হইল না, তখন তাহারা স্থির করিল যে, আমাদের মধ্যে দশম লোকটি নিশ্চয়ই জলে ডুবিয়া মরিয়াছে। সকলেই দশম ব্যক্তির শোকে কাঁদিয়া আকুল। অপর একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাহাদের দুরবস্থা দর্শনে কাতর হইয়া বলিলেন যে, তোমরা পুনর্ব্বার গণনা করিয়া দেখ, দশম মরে নাই; তখন তাহাদের একজন পূর্ব্ববৎ গণনা করিতে করিতে যেই নবম পর্যন্ত গণনা করিল, তখনই সেই অভিজ্ঞ ব্যক্তি অঙ্গুলিনির্দেশ করিয়া বলিলেন যে, ‘দশমন্থমসি’ অর্থাৎ তুমিই সেই দশম। তখন তাহাদের দশম সংখ্যার অপূরণভ্রম বিদূরিত হইল।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৪৯

করিব]’ ইত্যাদি।[প্রবেশ শব্দের যেরূপ অর্থ বলা হইল, সেরূপ না হইলে,] সর্ব্বব্যাপী ও নিরবয়ব আত্মার পক্ষে দিক্, দেশ ও কালের সহিত সংযোগ-বিয়ো- গাত্মক প্রবেশ কখনও উপপন্ন হইতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে পরমাত্মার অতিরিক্ত যে, আর কেহ দ্রষ্টা আছেন, তাহাও নহে; কারণ, শ্রুতি বলিতেছেন-‘ইহার ‘অতিরিক্ত আর কেহ দ্রষ্টা নাই’, ‘ইহার অতিরিক্ত আর কেহ শ্রোতা নাই’ ইত্যাদি; এ সব কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। বিশেষতঃ জগতের সৃষ্টি, স্থিতি, লয় প্রতি- পাদন এব, সৃষ্ট জগতে ব্রহ্মের প্রবেশবোধক যে সমস্ত শতিবাক্য আছে, সে সমস্তের প্রধান উদ্দেশ্য হইতেছে-ব্রহ্মকে উপলব্ধি-গোচর করান। কারণ, শ্রুতিতে ব্রহ্মোপ- লব্ধিই পুরুষার্থ(পুরুষের মুখ্য প্রয়োজন) বলিয়া শত হয়,-‘আত্মাকেই জানিবে,’ ‘সেই ব্রহ্মোপলব্ধির ফলে সর্বাত্মক হইয়াছিলেন’, ‘বন্ধবিৎ পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হন’, ‘সেই যে-কেহ পরমাত্মাকে অবগত হন, তিনি ব্রহ্মই হইয়া যান’, ‘আচার্য্য- বান্ পুরুষ(জিজ্ঞাসু ব্যক্তি) তাঁহাকে জানেন’, ‘তাঁহার(ব্রহ্মদর্শীর) সেই পর্যন্তই বিলম্ব’ ইত্যাদি; এবং ‘তাহার পর আমাকে যথাযথরূপে অবগত হইয়া পশ্চাৎ আমাতে(ব্রহ্মে) প্রবেশ লাভ করেন,’ ‘তাহাই(জ্ঞানই) সর্ববিদ্যার শ্রেষ্ঠ, এবং তাহা হইতেই মুক্তিলাভ হইয়া থাকে’, ইত্যাদি স্মৃতিশাস্ত্র হইতেও [জানা যায় যে, ব্রহ্মোপলব্ধিই প্রধান পুরুষার্থ বা তাহার সাধন]। বিশেষতঃ আত্মৈকত্বজ্ঞান-সমুৎপাদনেই যে, সৃষ্টি প্রতিপাদক বাক্যের তাৎপর্য্য, তাহা ভেদদর্শনের নিন্দা হইতেও প্রতিপন্ন হয়। অতএব, স্বসৃষ্ট জগতে তাঁহার উপলব্ধিই ‘তাঁহার প্রবেশ’ বলিয়া কল্পিত হইয়া থাকে। ১২

‘আ নখাগ্রেভ্যঃ’-নখের অগ্রভাগ পর্যন্ত আত্ম-চৈতন্য অনুভূত হইয়া থাকে। আত্মাইবা সেখানে কি প্রকারে প্রবিষ্ট আছেন? তাহা বলিতেছেন-জগতে ক্ষুর যেমন ক্ষুরধানে--ক্ষুর যাহাতে রাখা হয়, তাহার নাম ক্ষুরধান-নাপিতের যন্ত্রা- ধার। ক্ষুর যেমন সেই ক্ষুরধানের মধ্যে নিবেশিত থাকে, অথবা বিশ্বম্ভর-অগ্নি, জগৎকে ভরণ(পোষণ) করে বলিয়া অগ্নির নাম বিশ্বম্ভর; কুলায় অর্থ-নীড় (বাসস্থান); অর্থাৎ অগ্নি যেরূপ বিশ্বম্ভর-কুলায়ে-কাঠ প্রভৃতির অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট থাকে; তজ্জন্যই কাষ্ঠঘর্ষণ করিলে তন্মধ্য হইতে অগ্নি প্রকাশ পাইয়া থাকে। ক্ষুর যেমন ক্ষুরধানের একাংশে অবস্থান করে, এবং অগ্নি যেমন কাঠকে সর্ব্বতোভাবে ব্যাপিয়া তন্মধ্যে নিহিত থাকে, তেমনি আত্মাও এই দেহকে সামান্য-বিশেষভাবে অর্থাৎ আংশিকভাবে ও সর্ব্বতোভাবে ব্যাপিয়া তন্মধ্যে অবস্থান করে; কিন্তু সেই দেহমধ্যে শ্বাস-প্রাণব্যাপার ও দর্শনাদি ক্রিয়ার সহযোগেই আত্মার উপলব্ধি হইয়া

২৫০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

থাকে; এই জন্যই সেই দেহমধ্যে প্রবিষ্ট প্রাণনাদি-ক্রিয়াবিশিষ্ট সেই আত্মাকে দর্শন করিতে পায় না। ১৩

ভাল, এখানে যখন দর্শনের কোন প্রসঙ্গই নাই, তখন ‘তাহাকে দর্শন করে না’ এই কথাটা ত অপ্রাপ্তপ্রতিষেধ হইল, অর্থাৎ যাহার প্রাপ্তি সম্ভাবনা ছিল না, তাহারই নিষেধ করা হইল? না, ইহা দোষাবহ হয় না; কেন না, সৃষ্টি-প্রভৃতি- প্রতিপাদক বাক্যগুলির প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় হইতেছে-আত্মৈকত্বজ্ঞান সমুৎ- পাদন করা; সুতরাং আত্মদর্শন এখানে অপ্রাসঙ্গিক নহে; এই জন্যই মন্ত্রেতে আছে-‘তিনি প্রত্যেক বস্তুতে প্রবিষ্ট হইয়া তত্তদ্রূপে প্রকাশ পাইয়াছিলেন; লোকের বুদ্ধিগম্য হইবার জন্যই ইহার সেই রূপটি অভিব্যক্ত হইয়াছে’ ইত্যাদি। কেন যে, প্রাণনাদি ক্রিয়াসহযোগে আত্মারই দর্শন হয়, তাহার কারণ প্রদর্শন করিতেছেন-যে হেতু, প্রাণনাদি ক্রিয়াবিশিষ্ট সেই আত্মা অকৃৎস্ন-সমস্ত নয়, [সেই হেতুই অসম্যবুদ্ধির বিষয় হইয়া থাকে]। প্রাণনাদিবিশিষ্ট আত্মা যে, অসম্পূর্ণ কেন, তাহাও বলিতেছেন-আত্মা কেবল প্রাণন অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসাদি ক্রিয়া করে বলিয়াই প্রাণ-নামে অভিহিত হইয়া থাকে।[বুঝিতে হইবে যে,] শুধু প্রাণধারণ কার্য্যের কর্তা বলিয়াই অর্থাৎ আত্মা প্রাণন করে বলিয়াই প্রাণ- নামে অভিহিত হয়, কিন্তু অন্য ক্রিয়ার কর্তৃত্বনিবন্ধন নহে। যেমন, যে ব্যক্তি ছেদন করে, তাহাকে ‘লাবক’(ছেদক) বলে, আর যে লোক পাক করে, তাহাকে ‘পাচক’ বলে; ইহাও তদ্রূপ। অতএব অপরাপর ক্রিয়ার কর্তৃতরূপে আত্মার অনুভূতি হয় না বলিয়াই ঐরূপ আত্মা অকৃৎস্ন বা অসম্পূর্ণ। ১৪

সেইরূপ বদন-ক্রিয়া করে বলিয়া—বাক্যোচ্চারণ করে বলিয়া বাক্; দর্শন করে বলিয়া চক্ষুঃ; চক্ষুঃ অর্থ দর্শনকারী—দ্রষ্টা; ‘শৃণন্’—শ্রবণ করে বলিয়া শ্রোত্র। “প্রাণন্ এব প্রাণঃ,” আর “বদন্ বাক্” এই দুই কথায় আত্মাতে ক্রিয়া- শক্তির অভিব্যক্তি জ্ঞাপিত হইল। আর “পশ্যন্ চক্ষুঃ,” ও “শৃণন্ শ্রোত্রং’ এই দুইটি কথায় জ্ঞানশক্তির আবির্ভাব প্রদর্শন করা হইল; কেন না, নাম ও রূপ, এই দুইটাই জ্ঞানশক্তির বিষয় বা গ্রহণীয়। শ্রবণেন্দ্রিয় ও চক্ষু হইতেছে— বিজ্ঞানোৎপাদনের উপায়, আর বিজ্ঞান হইতেছে নাম ও রূপের সাধন অর্থাৎ শ্রোত্র ও চক্ষুরিন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রথমে অনুভবাত্মক জ্ঞান জন্মে, তাহার পর সেই বিজ্ঞানই আবার নাম ও রূপ, এই দুইটা বিষয় গ্রহণ করে। জগতে নাম ও রূপ ভিন্ন আর কিছু জ্ঞাতব্য পদার্থ নাই। সেই দুইটা বিষয় অনুভব করিতে হইলে চক্ষুঃ ও কর্ণ ভিন্ন আর কোনও সাধন বা উপায় নাই; কাজেই চক্ষুঃ ও কর্ণকে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৫১

নাম-রূপবোধের সাধন বলা হইতেছে। তাহার পর, ক্রিয়ামাত্রই নাম-রূপের সাহায্যে নিষ্পাদিত হয়, এবং প্রাণই সেই ক্রিয়ার আশ্রয়। সেই প্রাণাশ্রিত ক্রিয়ার অভিব্যক্তিতেও(প্রকাশনেও) বাগিন্দ্রিয়ই কারণ; হস্ত, পদ, পায়ু(মল- দ্বার) ও উপস্থ(জননেন্দ্রিয়) সম্বন্ধেও এইরূপ নিয়ম; কেবল উপলক্ষণার্থ অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপে বাগিন্দ্রিয়ের উল্লেখ করা হইয়াছে মাত্র। ইহাই যে ব্যাকৃত সমষ্টি বা সৃষ্টিসমষ্টি, তাহা ‘ত্রয়ং বা ইদং নাম রূপং কৰ্ম্ম’ এই শ্রুতিতেও বলিবেন। এইরূপ ‘মন্থানঃ’-মনন করে-ভালমন্দ চিন্তা করে বলিয়া ‘মনঃ’ নামে অভিহিত হয়। যাহা দ্বারা মনন করা হয়, এইরূপ অর্থানুসারে সর্ব্ববিধ জ্ঞানসাধন অন্তঃ- করণকেও ‘মনঃ’ বলা হইয়া থাকে; কিন্তু পুরুষ সেরূপ অর্থে ‘মনঃ’ শব্দবাচ্য নহে, পরন্তু তিনি নিজে মনন-কার্য্যের কর্তা বলিয়া ‘মনঃ’ শব্দে অভিহিত হইয়া থাকেন। ১৫

[এই যে সমস্ত নাম উল্লিখিত হইল,] সেই প্রাণাদি সমস্ত নামই এই আত্মার কৰ্ম্ম-নাম, অর্থাৎ নিশ্চয়ই কৰ্মানুযায়ী নাম, কিন্তু কোনটাই প্রকৃত শুদ্ধ আত্ম- বস্তুর বোধক নহে। আত্মা যথোক্তপ্রকার প্রাণনাদি ক্রিয়া ও ক্রিয়াজনিত প্রাণাদি নাম এবং তদনুরূপ রূপে অভিব্যক্ত হইলেও—সূচিত হইলেও, ঐ সমস্ত নাম দ্বারা প্রকৃত আত্মবস্তুর যথাযথ স্বরূপটি প্রকাশ পায় না। অতএব, যে লোক উক্ত প্রাণনাদি ক্রিয়াসমষ্টিরূপে গ্রহণ না করিয়া একএকটিকে—শুধু প্রাণ বা চক্ষু ইত্যাদি এক এক অংশ বিশিষ্টকেই ‘ইহাই আত্মা’ বলিয়া মনে মনে উপাসনা করে—চিন্তা করে, কিন্তু সমস্ত ক্রিয়াবিশিষ্টের অনুসন্ধান করে না, বস্তুতঃ সে লোক ব্রহ্মকে জানে না। কারণ? যেহেতু ঐরূপ এক একটি মাত্র গুণযুক্ত আত্মা অকৃৎস্ন অর্থাৎ উক্ত প্রাণনাদি ক্রিয়াসমষ্টি হইতে পৃথক্‌ভূত—এক একটিমাত্র গুণে বিশেষিত আত্মা পূর্ণ আত্মা নহে; কারণ, অপর ক্রিয়াসমুদয়ের চিন্তা না থাকায় উহা আত্মার সম্পূর্ণ স্বরূপ হইতে পারে না। অভিপ্রায় এই যে, উপাসক যে পর্য্যন্ত এইরূপ—‘দর্শনকর্ত্তা, শ্রবণকর্ত্তা ও স্পর্শকর্ত্তা’ ইত্যাদি প্রকার স্বভাবসিদ্ধ বৃত্তি বা ক্রিয়াবিশিষ্টরূপে চিন্তা করেন, তিনি সে পর্য্যন্ত ঠিক যথার্থরূপে সম্পূর্ণ আত্মাকে জানিতে পারে না। ১৬

ভাল, কিরূপে দর্শন করিলে আত্মাকে যথার্থরূপে জানিতে পারে? তদুত্তরে বলিতেছেন—‘আত্মা’-রূপে[অর্থাৎ ব্যাপকরূপে দর্শন করিলেই জানিতে পারে]। ইতঃপূর্ব্বে যাহার সম্বন্ধে প্রাণাদি যে সমস্ত বিশেষণ বা কর্ম্মনাম উক্ত হইয়াছে, তিনিই সেই সমস্ত বিশেষণের ব্যাপক বলিয়া এখানে ‘আত্মা’ নামে অভিহিত

২৫২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

হইতেছেন(১)। সেই আত্মা সমস্ত বিশেষণব্যাপী বলিয়া কৃৎস্ন-পূর্ণ। কেন না, তিনি স্বীয় স্বভাববলেই প্রাণাদি বিশেষ বিশেষ উপাধির ক্রিয়াজনিত সমস্ত বিশেষণ বা বিশেষ বিশেষ অবস্থাগুলিকে ব্যাপিয়া রহিয়াছেন;[কাজেই তিনি কৃৎস্ন বা পূর্ণ]। ইতঃপর ‘যেন ধ্যানই করেন, যেন স্পন্দনই করেন’ ইত্যাদি বাক্যেও এই কথাই বলা হইবে। অতএব, তাঁহাকে আত্মারূপেই উপাসনা করিবে; ঐরূপ উপাসনা করিলেই যথার্থরূপে সম্পূর্ণ আত্মাকে গ্রহণ করা হইয়া থাকে। আশঙ্কা হইতে পারে যে, ঐরূপ চিন্তা করিলেই আত্মার পূর্ণভাব গ্রহণ করা হয় কেন? সেই আশঙ্কা অপনয়নের নিমিত্ত বলিতেছেন-যেহেতু, সর্ব্বোপাধিবর্জিত শুদ্ধ বস্তুভূত এই আত্মাতে-জলে প্রতিফলিত সূর্য্যবিশ্বসমূহ যেরূপ সূর্য্যে মিশিয়া এক হয়, তদ্রূপ প্রাণাদি-উপাধিজনিত কৰ্ম্মজ প্রাণাদি- নাম-বাচ্য যে সমস্ত বিশেষ বা ভেদসমূহ পূর্ব্বে কথিত হইয়াছে, সে সমস্তই এক হইয়া যায়, অর্থাৎ আত্মার সহিত অভিন্নভাব প্রাপ্ত হয়। ১৭

[ লোকে যখন আপন ইচ্ছামত ‘আত্মারূপে’ আত্মার উপাসনা করিতে পারে, তখন আত্মোপাসনারও] পাক্ষিক প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে, অতএব ‘আত্মা ইত্যেব উপাসীত’ এই বাক্যোক্ত উপাসনাবিধিটি ‘অপূর্ব্ববিধি’ হইতে পারে না, অর্থাৎ ইহা লোকের সম্পূর্ণ অবিজ্ঞাত বিষয়ের উপদেশক বিধি হইতে পারে না। ‘যাহা সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষস্বরূপ’ ‘কোনটি আত্মা? না, এই যাহা বিজ্ঞানময়’, আত্মপ্রতি- পাদক এই সমস্ত শ্রুতিতেই আত্মবিষয়ে বিজ্ঞানোপদেশ রহিয়াছে; সুতরাং আত্মার প্রকৃত স্বরূপ বিজ্ঞাত হইলে, সেই বিজ্ঞান দ্বারাই ত অনাত্মাভিমান এবং কারক ও ক্রিয়াফলারোপাত্মক অবিদ্যাও অপনীত হইয়া যাইতে পারে। অবিদ্যা- নিবৃত্তি হইলে আত্মাতে আর কামাদি দোষেরও উৎপত্তি-সম্ভাবনা থাকে না; সুতরাং কামাদি দোষ নিবৃত্তি হইয়া গেলে অনাত্মবিষয়ক চিন্তাও আর আসিতে

(১) তাৎপর্য্য—‘আত্মা’ শব্দটি ‘অত্’ ধাতু হইতে ‘মন্’ প্রত্যয় যোগে নিষ্পন্ন হইয়াছে। ‘অত্’, ধাতুর অর্থ—সতত গমন বা সর্ব্বব্যাপিত্ব; সুতরাং ‘আত্মা’ শব্দের যৌগিক অর্থ হইতেছে—যিনি সর্ব্বগত বা সর্ব্বব্যাপী, তিনিই আত্মা। এইরূপ যোগার্থকে লক্ষ্য করিয়াই ভাষ্যকার বলিয়াছেন যে, ‘প্রাণ’, ‘বাক্’ ও ‘শ্রোত্র’ প্রভৃতি এক একটি কর্ম্ম-নামে আত্মার যেসমস্ত আংশিক ভাব প্রকটিত হয়, এক আত্মারূপে সেই সমস্ত ঔপাধিক বিশেষ বিশেষ অবস্থাগুলি আত্মার ক্রোড়ীকৃত হয়। এই জন্য এক একটি বিশেষ ভাব ধরিয়া উপাসনা করিলে আত্মার ঠিক সম্পূর্ণভাব গ্রহণ করা হয় না; পরন্তু ‘আত্মা’ বলিয়া উপাসনা করিলেই ঐ সমস্ত ক্ষুদ্র ভাবগুলি গ্রহণ করা হয়; কারণ, আত্মা ত ঐ সমস্ত ভাবেরই সমষ্টিবিশিষ্ট।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৫৩

পারে না; কাজেই অবশিষ্ট আত্মবিষয়ক চিন্তাই পাওয়া যায়। অতএব, এই মতে আত্মোপাসনার জন্য আর বিধির আবশ্যক হইতে পারে না; কারণ, উহা প্রমাণান্তর দ্বারাই প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে;[অথচ অপ্রাপ্ত বিষয় ভিন্ন, প্রাপ্তবিষয়ে কখনই অপূর্ব্ববিধি হইতে পারে না](২)। ১৮

[অপূর্ব্ববিধিবাদী পুনশ্চ আশঙ্কা করিয়া বলিতেছেন]-থাকুক,-আত্মো- পাসনার প্রাপ্তি পাক্ষিক বা নিত্য, এ কথা রাখিয়া দাও। এটি কিন্তু অপূর্ব্ববিধিই হওয়া উচিত; কারণ, জ্ঞান ও উপাসনা যখন একই বস্তু, তখন উহা নিশ্চয়ই অপ্রাপ্ত; বিশেষতঃ “ন স বেদ”(সে লোক জানে না), এই কথা বলার পর অর্থাৎ ‘বেদনে’র প্রসঙ্গে যখন “আত্মা ইত্যেব উপাসীত”(আত্মা বলিয়াই উপা- সনা করিবে) বলা হইয়াছে, তখন বেশ বুঝা যাইতেছে যে, ‘বেদন’ ও ‘উপাসনা’ শব্দের একই অর্থ। তাহার পর, ‘ইহা দ্বারা(আত্মবিজ্ঞান দ্বারা) এই সমস্ত জগৎ জানা যায়,’ ‘আত্মাকেই জানিয়াছিলেন’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতেও বিজ্ঞান ও উপাসনার একত্বই প্রতিপন্ন হইতেছে। যথোক্ত বিজ্ঞান যখন অন্য কোনও প্রমাণে প্রাপ্ত হওয়া যায় নাই, তখন তদ্বিষয়ে অবশ্যই বিধি হইতে পারে।[আর[বিধি ব্যতীত] কেবলই বস্তুর স্বরূপ বর্ণনা করিলে, তদ্বিষয়ে কখনই লোকের প্রবৃত্তি জন্মিতে পারে না; অতএব ইহা ‘অপূর্ব্ব-বিধি’ই বটে। বিশেষতঃ কর্ম্মবিধির অনুরূপ বলিয়াও[ইহাকে অপূর্ব্ববিধি’ বলিতে হইবে]। কারণ, ‘যজেত’(যজ্ঞ করিবে), ‘জুহুয়াৎ’(হোম করিবে) ইত্যাদি কৰ্ম্ম-বিধায়ক বাক্যের সঙ্গে আত্মো-

২৫৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পাসনা-বিধায়ক “আত্মেত্যেব উপাসীত” “আত্মা বা অরে দ্রষ্টব্যঃ” ইত্যাদি বিধি- গুলির কিছুমাত্র প্রভেদ বুঝা যাইতেছে না;[অতএব ইহা অপূর্ব্ববিধিই বটে]। ১৯

বিশেষতঃ বিজ্ঞান কথার অর্থ মানস ক্রিয়া, তজ্জন্যও[এখানে অপূর্ব্ববিধিই স্বীকার করিতে হইবে]। যেমন, যে দেবতার উদ্দেশ্যে হবিঃ(যজ্ঞীয় দ্রব্য) গ্রহণ করিতে হয়, বষট্কার করিবার পূর্ব্বেই(‘হবিঃ ত্যাগের অগ্রেই) তাহাকে মনে মনে চিন্তা করিবে’ ইত্যাদি মানসী ক্রিয়ার(শুধু চিন্তাত্মক ক্রিয়ার) বিধান হইয়া থাকে, তেমনি ‘আত্মা-ইত্যেব উপাসীত” “মন্তব্যো নিদিধ্যাসিতব্যঃ” ইত্যাদি স্থলেও জ্ঞানাত্মক ক্রিয়াই বিহিত হইতেছে। আর ‘বেদন’ ও ‘উপাসনা’ শব্দের যে, একই অর্থ, তাহা আমরা পূর্ব্বেই প্রতিপাদন করিয়াছি। বিশেষতঃ অপূর্ব্ববিধির অঙ্গস্বরূপ যে, ‘ভাবনা’ নামক অংশত্রয়, তাহাও এখানে উপপন্ন হইতেছে। দেখ, ‘যজেত’(যজ্ঞ করিবে), এই ভাবনা স্থলে(ভাবনা অর্থ—ফলোৎপত্তির অনুকূল ব্যাপারবিশেষ।) যেমন সাধন ও ফলাদি-বিষয়ে আকাঙ্ক্ষার নিবারক—‘কিং? কেন? ও কথম্?’ অর্থাৎ কি ফল কি উপায়ে এবং কি প্রকারে উৎপাদন করিবে? এই তিনটি অংশের প্রতীতি হইয়া থাকে, ঠিক তেমনি “উপাসীত” এই বিধীয়মান ‘ভাবনা’তেও কাহার উপাসনা করিবে? এবং কি প্রকারে করিবে? এইরূপ আকাঙ্ক্ষা উপস্থিত হইয়া থাকে; সেই আকাঙ্ক্ষা অপনয়নের নিমিত্তই, ‘ব্রহ্মচর্য্য, শম দম, উপরতি ও তিতিক্ষা প্রভৃতি ইতিকর্তব্যতা সমন্বিত’ ও ‘ত্যাগী হইয়া মনের দ্বারা আত্মার উপাসনা করিবে’ ইত্যাদি শাস্ত্রবাক্যে বিধির অপেক্ষিত সেই অংশত্রয় প্রদর্শিত হইতেছে। ২০

[ইহার উদাহরণ রূপে বলা যাইতে পারে যে,] ‘দর্শ পূর্ণমাস’ যাগের সমস্তটা প্রকরণই যেমন দর্শ-পূর্ণমাস যাগের বিধিকে উদ্দেশ্য করিয়া প্রযুক্ত হইয়াছে, ঠিক তেমনি উপনিষদের আত্মোপাসনা-প্রকাশক সমস্ত প্রকরণটাই আত্মো- পাসনার বিধিকে উদ্দেশ্য করিয়া প্রযুক্ত হইয়াছে। আর “নেতি নেতি”(ইহা নহে, ইহা নহে), ‘স্কুল নহে’ ‘নিশ্চয়ই এক ও অদ্বিতীয়’ এবং ‘তিনি অশনায়াদির অতীত’ এই বাক্যগুলিরও কেবল উপাস্য আত্মার স্বরূপ প্রদর্শন করাই প্রধান উদ্দেশ্য; ইহার ফল অবিদ্যানিবৃত্তি অথবা মুক্তিলাভ। ২১

অপর সকলে আবার বলিয়া থাকেন যে,[ ‘আত্মেত্যেবোপাসীত’ এই বাক্যের অর্থ—] উপাসনা দ্বারা আত্মবিষয়ে এক প্রকার স্বতন্ত্র জ্ঞান সমুৎপাদন করিবে। সেই জ্ঞান দ্বারাই আত্মাকে জানা যায়, এবং তাদৃশ জ্ঞানই আত্মবিষয়ক অজ্ঞান বা ভ্রান্তি বিদূরিত করিয়া থাকে; কিন্তু কেবলই বেদবাক্যলব্ধ আত্মবিষয়ক

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৫৫

জ্ঞান অবিদ্যা-নিবারণে কিংবা আত্মার স্বরূপ-প্রকাশনে কখনই সমর্থ হয় না। এ বিষয়ে বেদবাক্যও আছে—‘বিশেষরূপে জানিয়া শেষে প্রজ্ঞা(প্রকৃষ্ট জ্ঞান) লাভ করিবে, আত্মাকে শ্রবণ করিবে, মনন করিবে, এবং নিদিধ্যাসন (“ধ্যান বিশেষ) করিবে, অবশেষে দর্শন করিবে’, ‘আত্মার অনুসন্ধান করিবে, এবং সেই আত্মাকে জানিতে হইবে’ ইত্যাদি। ২১

[ পর পর দুইটি মত উল্লেখ করিয়া, সিদ্ধান্তবাদী এখন প্রথম মতটি খণ্ডন করি- বার জন্য বলিতেছেন(১)—] না,—স্বতন্ত্র কোনও প্রয়োজন না থাকায় প্রথমোক্ত পক্ষটি সঙ্গত হইতেছে না। “আত্মেত্যেবোপাসীত” এটি কখনই ‘অপূর্ব্ববিধি’ নহে। কারণ? যেহেতু, আত্মার স্বরূপপ্রকাশক ও অনাত্ম-প্রতিষেধক বাক্য হইতে যাহা অবগত হওয়া যায়, এখানে তদতিরিক্ত এমন কোনও বিষয় পাওয়া যাইতেছে না, যাহা মানস কিংবা বাহ্যরূপে অনুষ্ঠানযোগ্য হইতে পারে। সেখা- নেই বিধির সার্থকতা হয়, যেখানে বিধিবাক্য শ্রবণের পর, শাব্দজ্ঞান ছাড়া আরও কিছু অনুষ্ঠানযোগ্য প্রতীতিগম্য হয়; যেমন—‘স্বর্গাভিলাষী পুরুষ ‘দর্শ’ ও ‘পূর্ণমাস’নামক দুইটি যাগ করিবে’, ইত্যাদি স্থলে(২)। সেখানে ‘দর্শ’ ও ‘পূর্ণমাস’ যাগের বিধায়ক বাক্য শ্রবণে, যে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, শুধু

(১) তাৎপর্য্য—“আত্মেত্যেব উপাসীত” বাক্যটি লইয়া প্রথমতঃ দুইটি পক্ষ দাঁড়াইল— এক পক্ষ বলিতেছেন—এটা অপূর্ব্ববিধি, আত্মোপাসনাই তাহার বিধেয়; সুতরাং আত্মার উপাসনায় লোককে প্রবৃত্ত করাই এই বাক্যের উদ্দেশ্য। অপর পক্ষ বলিতেছেন যে, না, “আত্মেত্যেবোপাসীত” বাক্যে আত্মোপাসনার বিধান করা হয় নাই, পরন্তু বাক্যজনিত জ্ঞানের অতিরিক্ত একটি স্বতন্ত্র জ্ঞানের বিধান করা হইয়াছে। অপর অভিপ্রায় এই যে, সাক্ষাৎ শ্রুতি- বাক্য হইতে যে জ্ঞানের উৎপত্তি হয়, তাহা পরোক্ষ—শব্দ জ্ঞান, তাহা দ্বারা কাহারো প্রবৃত্তি বা নিবৃত্তি হয় না, এবং আত্মারও স্বরূপ-সাক্ষাৎকার হয় না। পরন্তু সেই সমস্ত বাক্যজন্য জ্ঞান হইতে যে স্বতন্ত্র একপ্রকার জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাহাই আত্ম-সাক্ষাৎকারের কারণ এবং সেই জ্ঞানলাভের জন্যই এখানে অপূর্ব্ববিধির আবশ্যকতা হইতেছে। এ পক্ষের অনুকূলে প্রমাণ এই যে, “বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাং কুব্বীত” প্রভৃতি শ্রুতিবাক্যে ‘বিজ্ঞায়’ শব্দে শব্দজ্ঞানের কথা বলিয়া পুনশ্চ ‘প্রজ্ঞাং’ কথায় প্রকৃত জ্ঞানলাভের উপদেশ করা হইয়াছে।

(২) তাৎপর্য্য—বিধিবাক্যের বিশেষত্ব এই যে, বিধিবাকা শ্রবণের পর শব্দশাস্ত্রের নিয়মানুসারে প্রথমে শ্রোতার হৃদয়ে একটি শাব্দ জ্ঞান(বাক্যার্থ জ্ঞান) উৎপন্ন হয়, তাহার পর সেই বিধিবাক্যটি যে কার্য্যের উপদেশ দিতেছে, সেই বিষয়ে নিজের অধিকার আছে কি না, ইত্যাদি বিষয়ে বিচার উপস্থিত হয়; যদি বুঝিতে পারে যে, অধিকার আছে, তবে বিহিত কার্য্যের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হয়, আর অধিকার না থাকিলে, তদনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হয় না। অতএব

২৫৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সেই জ্ঞানমাত্রই দর্শ-পূর্ণমাস যাগের অনুষ্ঠান নহে, অর্থাৎ কেবল ঐ বিধিবাক্য জানিলেই যে, দর্শপূর্ণমাস-যাগের ফললাভ হয়, তাহা নহে, পরন্তু উহার ফল অনুষ্ঠান-সাপেক্ষ; সেই অনুষ্ঠানও আবার শ্রোতার অধিকারাদি-সাপেক্ষ। আত্মার স্বরূপ-প্রতিপাদক “নেতি নেতি” ইত্যাদি বাক্য শ্রবণে যে জ্ঞান সমুৎপন্ন হইয়া থাকে, সেই জ্ঞানভিন্ন সেখানে ‘দর্শপূর্ণমাসাদি’ যাগের ন্যায় আর কিছুই কর্তব্য আছে বলিয়া প্রতীতি হয় না; কেন না, আত্মার স্বরূপ- প্রকাশক বাকালব্ধ জ্ঞানের ইহাই স্বভাব যে, সে পুরুষকে সর্ব্ববিধ কর্তব্যাধিকার হইতে নিবৃত্ত করিয়া দেয়। আর বিধি-নিষেধরহিত(উদাসীন) বাক্য হইতে কখনই লোকের প্রবৃত্তি বা চেষ্টা জন্মিতে পারে না। বিশেষতঃ অব্রহ্মভাব ও অনাত্ম-বুদ্ধি বিদূরিত করাই “তং ত্বমসি” “একমেব অদ্বিতীয়ম্” প্রভৃতি বাক্যগুলির একমাত্র উদ্দেশ্য; অথচ তাদৃশ অজ্ঞান বা ভ্রান্তিজ্ঞান অপনীত হইলে পর, কখনই লোকের কর্তব্য-চেষ্টা জন্মিতে পারে না; কারণ, উহারা পরস্পর-বিরুদ্ধ স্বভাবাপন্ন;[ কাজেই অবিদ্যানিবৃত্তির পর আর লোকের চেষ্টা আসিতে পারে না]। ২৩

যদি বল, কেবল বাক্যজনিত জ্ঞানেই অব্রহ্মভাব ও অনাত্মবুদ্ধি কখনই অপনীত হইতে পারে না।[তদুত্তরে বলি যে,] না, সে কথাও বলা চলে না; কারণ, ‘তৎ ত্বম্ অসি’(তুমি তৎস্বরূপ), “নেতি নেতি”(ইহা নহে-ইহা নহে), “আত্মৈব ইদম্”(এ সমস্তই আত্মস্বরূপ), “একমের অদ্বিতীয়ম্”(নিশ্চয়ই এক ও অদ্বিতীয়), “ব্রহ্ম বৈ ইদমমৃতং পুরস্তাৎ”(অগ্রে এই জগৎ অমৃত ব্রহ্মস্বরূপ ছিল), “নান্যদতোহস্তি দ্রষ্টু”(এতদতিরিক্ত আর কেহ দ্রষ্টা নাই), “তদেব ব্রহ্ম ত্বং বিদ্ধি”(তুমি তাহাকেই ব্রহ্ম বলিয়া জানিবে), ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যই সে কথা বলিয়া দিতেছেন। যদি বল, এ সমস্ত বাক্যই “দ্রষ্টব্যঃ” এই দৃষ্টিবিধির বিষয়-সমর্পক, অর্থাৎ দর্শনের কর্ম্মপদার্থ নির্দেশক;[তদুত্তরে বলি যে,] না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, পূর্ব্বেই বলিয়াছি যে, ‘দ্রষ্টব্য’ বাক্যে বিধি- কল্পনার স্বতন্ত্র কোনও প্রয়োজন নাই; কেন না, আত্মার স্বরূপজ্ঞাপক ‘তৎ ত্বমসি’

বিধিবাক্য স্থলে কেবল বাক্যার্থ জ্ঞানেই শেষ হয় না, তদনুরূপ ক্রিয়ানুষ্ঠানও শ্রোতার আবশ্যক হয়; কিন্তু যেখানে সেরূপ কোনও কর্তব্যের উপদেশ নাই, কেবল বাক্যার্থ জ্ঞানেই বাক্যের পরিসমাপ্তি হয়, সেখানে বিধিপ্রত্যয়(লিঙ্) থাকিলেও বিধি কল্পনা করা যাইতে পারে না। দর্শ ও পূর্ণমাস প্রভৃতি যাগের বিধিবাক্য দেখিলেই এ বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হইতে পারে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৫৭

প্রভৃতি বাক্য হইতে যখন বাক্যশ্রবণের সঙ্গেসঙ্গেই আত্মবিষয়ে সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হইয়া যায়, তখন ‘দ্রষ্টব্য’ বিধি অনুসারে ত আর কিছুই অনুষ্ঠেয় অবশিষ্ট থাকে না; এই উত্তর পূর্ব্বেই প্রদত্ত হইয়াছে;[সুতরাং এখানে আর অধিক কথা বলা অনাবশ্যক] ॥ ২৪

যদি বল, বিধি ব্যতীত শুদ্ধ আত্মার স্বরূপমাত্র বর্ণনা করিলে তদ্বিষয়ে কখনই লোকের প্রবৃত্তি হইতে পারে না;[অতএব বিধির আবশ্যক হইতেছে];-না, এ কথাও বলা যায় না; কারণ, আত্মার স্বরূপ-প্রকাশক বাক্য-শ্রবণেই যখন আত্মার সম্বন্ধে যথার্থ জ্ঞান সমুৎপন্ন হইতে পারে, তখন বল দেখি, কৃত বিষয়ের পুনর্ব্বার করণ(অনুষ্ঠান) হইতে পারে কি প্রকারে? যদি বল, শুধু আত্মার স্বরূপ- প্রকাশক বাক্য শ্রবণ করিলেও তদ্বিষয়ে লোকের প্রবৃত্তি হইতে পারে না; [সুতরাং লোকপ্রবৃত্তির জন্য বিধির আবশ্যক; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, তাহা হইলে অনবস্থাদোষ উপস্থিত হয়; আত্মবোধক বাক্য শ্রবণেও যেমন বিধির অভাবে তদ্বিষয়ে লোকের প্রবৃত্তি হইতে পারে না, তেমনি স্বতন্ত্র বিধি না থাকিলে বিধিবাক্য শ্রবণেও লোকের প্রবৃত্তি হইতে পারে না; কাজেই তাহার জন্যই আবার পৃথক্ বিধির আবশ্যক; এইরূপ সেই বিধিবাক্যার্থ শ্রবণেও[স্বতন্ত্র বিধিকল্পনার আবশ্যক হয়], এইরূপে অনবস্থাদোষ উপস্থিত হইতে পারে ॥ ২৫

যদি বল, বাক্যার্থ-ভাবনা-জনিত যে স্মৃতিধারা অর্থাৎ উপাসনাত্মক জ্ঞান, তাহা বাক্যশ্রবণজাত জ্ঞান হইলেও বিধির আবশ্যক হয় না; কারণ, আত্মার স্বরূপ-প্রতিপাদক বাক্যশ্রবণে যেই মুহূর্তে আত্ম-বিষয়ে জ্ঞান সমুৎপন্ন হয়, উক্ত জ্ঞানটি ঠিক সেই মুহূর্তেই আত্মবিষয়ক অজ্ঞান বিনষ্ট করিয়াই সমুৎপন্ন হয়; সুতরাং আত্মবিষয়ক মিথ্যাজ্ঞান বিনষ্ট হইয়া গেলে পর, বিভিন্নাকার অনাত্ম- বস্তুবিষয়ে জীবের স্বভাবসিদ্ধ যে’ অজ্ঞানমূলক স্মরণাত্মক জ্ঞান, তাহারও আর উৎপত্তি সম্ভবপর হয় না। অনর্থত্বজ্ঞানও ঐরূপ স্মৃতি-সমুৎপত্তির প্রতিবন্ধক; কেন না, আত্ম-তত্ত্ব বুঝিতে পারিলে অনাত্মবস্তুমাত্রই অনর্থ(জীবের অপ্রার্থনীয়— দুঃখকর) বলিয়া বোধ হইতে থাকে। কারণ, অনাত্ম বস্তুমাত্রই অনিত্য, অশুচি ও দুঃখাদি বহুতর দোষের আকর; পক্ষান্তরে, আত্মা উহার সম্পূর্ণ বিপ- রীত; কাজেই আত্মজ্ঞান উদিত হইলে, পূর্ব্বানুভূত অনাত্মবস্তুগুলি আর স্মৃতিপথে উদিত হইতে পারে না; সুতরাং তখন তাহার পক্ষে কেবল অবশিষ্ট আত্মবিষয়ে স্মৃতিধারার উদয়ই স্বাভাবিক; তজ্জন্য আর বিধিকল্পনার আবশ্যক হয় না। বিশে-

২৫৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যতঃ শোক-মোহাদি দোষনিচয় স্বতই ভ্রান্তিজ্ঞানপ্রসূত; আর আত্ম-বিষয়ক স্মৃতিধারা হইতেছে সেই শোক, মোহ, ভয়, শ্রম ও দুঃখাদি সমস্ত দোষের নিব- র্ত্তক। দেখ, শ্রুতিও সে কথা বলিতেছেন—‘আত্মদর্শন হইলে পর, তাহার আর শোকই বা কি, আর মোহই বা কি?’ আত্মজ্ঞ পুরুষ কোথা হইতেও ভীত হন না’, ‘হে জনক, তুমি অভয়(ব্রহ্ম) লাভ করিয়াছ’, ‘হৃদয়ের গ্রন্থি—কামরা- গাদি-দোষ নষ্ট হইয়া যায়’ ইত্যাদি। ২৬

ভাল, তাহা হইলেও, নিরোধ ত ইহা হইতে অতিরিক্তই বটে,-অর্থাৎ চিত্তের বৃত্তিনিরোধ যখন বেদবাক্যজনিত আত্ম-বিজ্ঞান হইতে পৃথক্ পদার্থ, এবং অপরা- পর শাস্ত্রেও যখন উহার কর্তব্যতা বিজ্ঞাপিত আছে, তখন উহার জন্য ত বিধির আবশ্যক হয়? না, এ কথাও সঙ্গত হয় না; কারণ, চিত্তবৃত্তি-নিরোধের মোক্ষ- সাধনত্ব বোঝা যায় না; কেন না, বেদান্তশাস্ত্রে একমাত্র ব্রহ্মাত্ম-জ্ঞান ভিন্ন আর কিছু যে, পরমপুরুষার্থ-মোক্ষের সাধন আছে বা থাকিতে পারে, তাহা ত দেখা যায় না; কেন না, ‘আত্মাকেই অবগত হইয়াছিলেন, ‘তাহাতেই সর্ব্বাত্মভাব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন’ ‘ব্রহ্মবিৎ পুরুষ ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হন’ ‘সেই যে কেহ পরব্রহ্মকে জানেন, তিনিও ব্রহ্মই হন’, ‘উপযুক্ত আচার্য্যবান্ পুরুষই জ্ঞানলাভ করেন,’ ‘তাহার সেই পরিমাণই বিলম্ব’ ‘যিনি এই তত্ত্ব জানেন, তিনিও অভয় ব্রহ্মস্বরূপ হন’ ইত্যাদি শত শত শ্রুতি হইতে এ কথা জানা যাইতেছে। চিত্তবৃত্তি-নিরোধের অনন্যসাধনত্বও ইহার অপর হেতু,-আত্মজ্ঞান ও তদ্বিষয়ক স্মৃতিধারা(চিন্তাপ্রবাহ) ব্যতীত, চিত্তবৃত্তি-নিরোধের যে, অপর কোনও উপায় আছে, তাহাও নহে;(পরন্তু উহাই চিত্তবৃত্তি-নিরোধের একমাত্র উপায়)। আর চিত্তবৃত্তিনিরোধের যে, মোক্ষ- সাধনতা বলা হইয়াছে, তাহাও কেবল অভ্যুপগম বা স্বীকার করিয়া লওয়া হই- য়াছে মাত্র; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু একমাত্র ব্রহ্মজ্ঞান ব্যতীত আর কিছুই মোক্ষসাধন আছে বলিয়া স্বীকৃত হয় না। ২৭

বিশেষতঃ আকাঙ্ক্ষা না থাকাতেও এখানে ‘ভাবনা’ বা বিধিকল্পনা সম্ভব হইতে পারে না। পূর্ব্বে যে, বলা হইয়াছে,-“যজেত” ইত্যাদি ক্রিয়াবিধিস্থলে যেরূপ ‘কি, কিসের দ্বারা? এবং কি প্রকারে? এই তিনটি বিষয় জানিতে ইচ্ছা হয় বলিয়া, ফল, ফল-সাধন(যাহা দ্বারা ফল লাভ হয়) ও তাহার অনুষ্ঠান- প্রণালীর নির্দেশ দ্বারা সেই আকাঙ্ক্ষার অপনয়ন করা হইয়া থাকে, তেমনি এখানে এই আত্মবিষয়ক বিজ্ঞানবিধিতেও ঐ সমস্ত নিয়মই উপপন্ন হইতে পারে। না,-সে কথাও সঙ্গত হয় না; কেন না, ‘তিনি নিশ্চয়ই এক অদ্বিতীয়’ ‘তুমি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৫৯

তৎস্বরূপ’ ‘ইহা নয়—ইহা নয়’ ‘তিনি বাহ্যাভ্যন্তরবর্জিত’ ‘এই আত্মা ব্রহ্ম’ ইত্যাদি বাক্যার্থবোধের সমকালেই সর্ব্ববিষয়ে আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত হইয়া যায়। আর এ কথাও বলিতে পারা যায় না যে, বিধি দ্বারা প্রেরিত(নিয়োজিত) হইয়াই লোকে বাক্যার্থশ্রবণে প্রবৃত্ত হইয়া থাকে; কারণ, তাহা হইলে বিধির জন্যও আবার অপর বিধির আবশ্যক হইয়া পড়ে; সুতরাং এইরূপে যে অনবস্থা- দোষ উপস্থিত হয়; এ কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। আর “একুম্ এব অদ্বিতীয়ম্” প্রভৃতি বাক্যে যে, কোন বিধি পাওয়া যাইতেছে, তাহাও নয়; কারণ, ঐ সমস্ত বাক্য কেবল আত্মবস্তুর স্বরূপমাত্র নির্দেশ করিয়াই ক্ষান্ত হইয়াছে। ২৮ ভাল, ঐ সমস্ত বাক্য যদি কেবলই বস্তুর স্বরূপমাত্র-প্রকাশক হয়, তাহা হইলে ত ঐ সমস্ত বাক্যের প্রামাণ্যই থাকিতে পারে না, আর যদি এরূপ বাক্যেরও প্রমাণ্য হয়, তাহা হইলে, ‘তিনি(অগ্নি) রোদন করিয়াছিলেন; তিনি, যে রোদন করিয়াছিলেন, তাহাই রুদ্রের রুদ্রত্ব অর্থাৎ রুদ্রসংজ্ঞার কারণ’ ইত্যাদি স্থলে যেমন শুধু বস্তু-স্বরূপমাত্র কথিত হওয়ায় বাক্যের অপ্রামাণ্য হইয়াছে, তেমনি আত্মস্বরূপপ্রকাশক বাক্যগুলিরও অপ্রামাণ্য হইতে পারে? এ কথা যদি বল, তদুত্তরে আমরা বলি যে, না,-অপ্রামাণ্য হইতে পারে না; কারণ, উভয়ের মধ্যে বৈলক্ষণ্য আছে। অভিপ্রায় এই যে, বস্তুর স্বরূপকথন কিংবা ক্রিয়া-কথন কখনই বাক্যের প্রামাণ্য বা অপ্রামাণ্যের কারণ নহে; তবে কি? না, নিশ্চিতফলক বিজ্ঞানোৎপাদকত্বই[বাক্য প্রামাণ্যের কারণ।] যে বাক্য তাদৃশ জ্ঞান জন্মার, তাহা প্রমাণ, আর যে বাক্য তাহা জন্মায় না, তাহাই অপ্রমাণ। ২৯ অপিচ, মহাশয়, তোমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছি যে, যে সমস্ত বাক্যে আত্মার স্বরূপ বর্ণিত আছে, সেই সমস্ত বাক্যে নিশ্চয়াত্মক সফল জ্ঞান সমুৎপন্ন হয় কি না? যদি সফল জ্ঞান সমুৎপন্ন হয়, তাহা হইলে ঐ বাক্যের অপ্রামাণ্য হইবে কেন? আর ঐ সমস্ত বাক্যজাত বিজ্ঞান হইতে যে, সংসারের বীজভূত শোক, মোহ ও ভয় প্রভৃতি দোষনিবৃত্তিরূপ ফল সমুৎপন্ন হইয়া থাকে, তাহা কি দেখিতেছ না? এবং ‘তখন আত্মৈকত্বদর্শীর শোকই বা কি, আর মোহই বা কি?’ ‘হে ভগবন্, আমি কেবল মন্ত্রতত্ত্বই জানি, কিন্তু আত্মতত্ত্ব জানি না, সেই আত্মজ্ঞানবিহীন আমি দুঃখ ভোগ করিতেছি। সেই আমাকে আপনি শোকের পরপারে উত্তীর্ণ করুন’ এই জাতীয় শত শত শ্রুতিবাক্যও কি শুনিতেছ না?[এখন জিজ্ঞাসা করি—] “সোহরোদীৎ”

২৬০, বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ইত্যাদি বাক্যে এবংবিধ সফল বিজ্ঞান আছে কি? যদি না থাকে, তবে অপ্রামাণ্য হউক; ঐ জাতীয় বাক্যের অপ্রামাণ্য হইলেও, যে সকল বাক্য সফল ও অসন্দিগ্ধ বিজ্ঞান সমুৎপাদন করিতেছে, সে সকল বাক্যের অপ্রামাণ্য হইবে কেন? আর যদি সফল ও অসন্দিগ্ধ জ্ঞানোৎপাদক ঐ সমস্ত বাক্যেরও অপ্রামাণ্য হয়, তাহা হইলে দর্শ-পূর্ণমাসাদি-বিধায়ক বাক্যের উপরই বা প্রামাণ্যের বিশ্বাস কি?। ৩০

যদি বল, দর্শ-পূর্ণমাসাদি-বিধায়ক বাক্যগুলি লোকের ক্রিয়াপ্রবৃত্তির অনুকূল জ্ঞান জন্মায়, এইজন্য প্রমাণ, কিন্তু আত্মবিজ্ঞাননিরূপক বাক্যে লোকের প্রবৃত্তি- জনক কোন জ্ঞানের উপদেশ করে না, এই কারণে অপ্রমাণ; হাঁ, এ কথা সত্য; কিন্তু তথাপি উক্ত দোষ এখানে হইতেছে না; কারণ, এখানে প্রামাণ্যের কারণই বিদ্যমান রহিয়াছে। প্রামাণ্যের কারণ, পূর্ব্বে যাহা নির্দেশ করা হইয়াছে, এখানেও তাহাই, তদতিরিক্ত আর কিছুই নহে;[সুতরাং যখন নিশ্চয়াত্মক জ্ঞান জন্মাই- তেছে, এবং তাহার ফলও যখন বিদ্যমান রহিয়াছে, তখন অপ্রামাণ্য হইবে কেন?] বিশেষতঃ আত্ম-প্রতিপাদক বাক্যগুলি যে, সর্ব্ববিধ প্রবৃত্তির বীজভূত অবিদ্যার নিবৃত্তিক্ষম জ্ঞানমাত্র সমুৎপাদন করে, ইহা ত সে সমস্ত বাক্যের অলঙ্কারস্বরূপ; সুতরাং কখনই অপ্রামাণ্যের কারণ হইতে পারে না। ৩১

[এখন দ্বিতীয় বাদীর মত খণ্ডন করিতেছেন—] আরও যে বলা হইয়াছে— “বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাং কুর্বীত” ইত্যাদি বাক্যের কেবল শব্দার্থজ্ঞানই অর্থ নহে, পরন্তু উপাসনা-প্রতিপাদনও উহাদের আর একটি অর্থ। সে কথা সত্য; কিন্তু তাহা হইলেও[বাদীর অভিপ্রেত] অপূর্ব্ববিধি উহার অর্থ নহে; পরন্তু পক্ষে প্রাপ্ত বলিয়া বরং নিয়মার্থতাই(নিয়মবিধি) হইতে পারে, অর্থাৎ “আত্মেত্যেব উপাসীত” বাক্যে উৎপত্তিবিধি না হইয়া বরং নিয়মবিধিই কল্পিত হইতে পারে। ভাল, উপাসনার পাক্ষিক প্রাপ্তি সম্ভবপর হয় কিপ্রকারে? যেহেতু, পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে, আত্মবিষয়ক যে, বিজ্ঞানপ্রবাহ, ‘পারিশেষ্য’ নিয়মানুসারে তাহাত নিত্য-প্রাপ্তই বটে।(১) হাঁ, যদিও একথা সত্য হউক, তথাপি, যে প্রাক্তন কর্ম্মফলে বর্তমান শরীর সমুৎপন্ন হইয়াছে, তাহার ফল ত সুনির্দিষ্ট,

(১) তাৎপর্য্য—পারিশেষ অর্থ—যতগুলি বিষয়ের প্রাপ্তি সম্ভাবনা থাকে, তন্মধ্যে অপর সমস্তগুলির প্রাপ্তি নিষিদ্ধ হইয়া গেলে, যেটা অবশিষ্ট(অনিবন্ধ) থাকে, ফলে ফলে তৎসম্বন্ধেই যে, বিধি-নিষেধাদি পর্য্যবসিত হওয়া, তাহা। এস্থলেও অনাত্মবিষয়ক জ্ঞানের প্রাপ্তি সম্ভাবনা থাকিলেও তাহা যখন আত্মজ্ঞানের বা মুক্তিপথের বিরোধী, তখন তাহা গ্রহণযোগ্য হইতে পারে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্।

২৬১

অর্থাৎ যে দেশে, যে সময়ে ও যে পরিমাণে হইবার নিয়ম বা ব্যবস্থা আছে, কিছুতেই তাহার অন্যথা হয় না; অতএব, নিক্ষিপ্ত বাণ-গতির ন্যায় ফল- প্রদানে প্রবৃত্ত সেই প্রারব্ধ কর্ম্মের বলবত্তা-নিবন্ধন সাধারণতঃ তদনুরূপই লোকের বাচিক, কায়িক ও মানসিক প্রবৃত্তি বা চেষ্টা হইয়া থাকে, সেইজন্য তত্ত্বজ্ঞানবিষয়ে প্রবৃত্তি না হইতেও পারে, কাজেই জ্ঞানপ্রবৃত্তির দৌর্বল্যকে পাক্ষিক(পক্ষে) প্রাপ্ত বলা যায়। এই কারণেই সন্ন্যাস ও বৈরাগ্যাদি সাধনসম্পদ্ অবলম্বন দ্বারা আত্ম- বিষয়ক বিজ্ঞানপ্রবাহকে কেবল নিয়মিত ও সুদৃঢ় মাত্র করিতে হয়, কিন্তু নূতন করিয়া আর উৎপাদন করিতে হয় না; কারণ, উহা ত প্রকারান্তরে প্রাপ্তই আছে; প্রাপ্ত বিষয়ে যে, অপূর্ব্ববিধি হইতে পারে না, সে কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। অতএব[বুঝিতে হইবে যে,] প্রকারান্তরে লব্ধ আত্মবিষয়ক বিজ্ঞান- প্রবাহ যাহাতে বিচ্ছিন্ন না হয়, তাদৃশ নিয়ম করাই “বিজ্ঞায় প্রজ্ঞাৎ কুব্বীত” ইত্যাদি বাক্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য; কারণ, তদ্ভিন্ন অন্য কোনও অর্থ এখানে সম্ভবপর হইতে পারে না। ৩২

ভাল,[“আত্মেত্যেবোপাসীত”, এই শ্রুতিতে যে উপাসনার কথা আছে,] ইহা ত অনাত্মবস্তুর উপাসনা; কারণ, ‘ইতি’ শব্দের প্রয়োগ রহিয়াছে; যেমন ‘প্রিয়’-এই বলিয়াই উপাসনা করিবে’ ইত্যাদি স্থলে প্রিয়াদি গুণই উপাস্য নহে, তবে কি? না, প্রিয়াদি-গুণবিশিষ্ট প্রাণপ্রভৃতিই সেখানে উপাস্য; তেমনি এখানেও আত্ম-শব্দের পর ‘ইতি’ শব্দের প্রয়োগ থাকায় বুঝা যাইতেছে যে, আত্ম- গুণবিশিষ্ট অপর কোনও অনাত্মবস্তুরই উপাসনা করিতে হইবে। বিশেষতঃ যে সমস্ত বাক্যে সত্য সত্যই আত্মোপাসনার কথা আছে, সে সমস্ত বাক্যের সহিত এই বাক্যের বৈলক্ষণ্যও যথেষ্ট রহিয়াছে। ইহার পরেও বলিবেন যে, ‘আত্মরূপ লোকেরই উপাসনা করিবে’ ইতি। সেখানে আত্মশব্দের পর দ্বিতীয়া বিভক্তির নির্দেশ থাকায় আত্মোপাসনাতেই শ্রুতির তাৎপর্য্য; কিন্তু এই “আত্মেতি+এব+উপাসীত” শ্রুতিতে দ্বিতীয়া বিভক্তির উল্লেখ নাই, অথচ আত্মা শব্দের পরেই ‘ইতি’ শব্দের প্রয়োগ রহিয়াছে; অতএব বুঝা যাইতেছে যে, এখানে আত্মা উপাস্য নহে, পরন্তু তাহা হইতে স্বতন্ত্র আত্মগুণই উপাস্য। না,-এ আপত্তি সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ, বাক্যের শেষাংশে আত্মারই উপাস্যত্ব প্রতীত হইতেছে; এই বাক্যেরই শেষভাগে আত্মাই উপাসনীয়রূপে না,-নিষিদ্ধ হইল; সুতরাং কেবল আত্মজ্ঞানই অবশিষ্ট থাকিতেছে, কাজেই তাহাকে নিত্যপ্রাপ্ত বলা যাইতে পারে।

২৬২
বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নির্দিষ্ট হইয়াছে; যথা ‘এই যে, আত্মা, ইনিই সকল উপাসকের পদনীয় (প্রাপ্তব্য)’, ‘এই যে, আত্মা, ইনিই সর্ব্বাপেক্ষা আভ্যন্তরীণ’ ‘আত্মাকেই উপলব্ধি করিয়াছিলেন’ ইতি। ৩৩

যদি বল, ভূতানুপ্রবিষ্ট আত্মার দর্শন যখন প্রতিবিদ্ধ বা নিষিদ্ধ হইয়াছে, তখন তাহার ত আর উপাস্যত্বই হইতে পারে না; অর্থাৎ “তং ন পশ্যন্তি”(তাহাকে দর্শন করে না) ইত্যাদি বাক্যে[‘তং’পদে] আত্মার নির্দেশ করিয়া সেই প্রবিষ্ট আত্মারই দর্শনযোগ্যতা নিষেধ করা হইয়াছে; অতএব কিছুতেই আত্মার উপাস্যত্ব সিদ্ধ হইতে পারে না। না, সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, “তং ন পশ্যন্তি” শ্রুতিতে যে, দর্শনের নিষেধ, তাহা আত্মার উপাস্যত্ব নিবারণের জন্য নহে; পরন্তু উহার অভিপ্রায় এই যে, ঐরূপে যাহারা আত্মার উপাসনা করে, তাহারা সম্পূর্ণ আত্মার উপাসনা করে না; এইজন্যই তাদৃশ অকৃৎস্নভাবে দর্শনের প্রতিষেধ করা হইয়াছে; এবং এইজন্যই প্রাণনপ্রভৃতি ক্রিয়া দ্বারা আত্মাকে বিশ্লেষিত করা হইয়াছে। আর সত্য সত্যই যদি আত্মোপাসনা শ্রুতির অনভিপ্রেত হইত, তাহা হইলে ‘অতএব এক একটি বিশেষণবিশিষ্ট আত্মা অকৃৎস্ন বা অপূর্ণ’ ইত্যাদিরূপে প্রাণাদি এক একটি মাত্র ক্রিয়াবিশিষ্ট আত্মাকে অকৃৎস্ন বলিয়া নির্দেশ করিবার কোনই আবশ্যক হইত না; বরং উহা সম্পূর্ণ নিরর্থক হইয়া পড়িত; অতএব ইহাই নিশ্চিত হইতেছে যে, এক একটি করিয়া এই সমস্ত বিশেষণে বিশেষিত আত্মাই কৃৎস্ন অর্থাৎ পূর্ণস্বভাব; অতএব বুঝা যাইতেছে যে, সেই কৃৎস্ন আত্মাই জীবের অবশ্য উপাসনীয়। ৩৪

আরও যে, বলা হইয়াছে, এই আত্ম-শব্দের পর যে, একটি ‘ইতি’ শব্দের প্রয়োগ করা হইয়াছে, তাহার একমাত্র উদ্দেশ্য এই যে,—যথার্থ আত্মতত্ত্ব কখনই আত্ম-শব্দ ও আত্ম-প্রতীতির বিষয় হয় না, তাহা জ্ঞাপন করা। তাহা না হইলে, শ্রুতি কেবল “আত্মানমুপাসীত” অর্থাৎ আত্মার উপাসনা করিবে, শুধু এই কথা বলিয়াই ক্ষান্ত হইতেন; তাহাতেই ফলে ফলে আত্মার শব্দ- বেদ্যত্ব ও প্রত্যয়গম্যত্ব সিদ্ধ হইতে পারিত,[ ইতি-শব্দ প্রয়োগের কিছুই আবশ্যক হইত না]। অথচ ‘নেতি নেতি’ ‘বিজ্ঞাতাকে আবার কিসের দ্বারা জানিবে’ ‘ব্রহ্ম নিজে অবিজ্ঞাত, অথচ বিজ্ঞাতা’, ‘বাক্য যাঁহাকে না পাইয়া মনের সহিত ফিরিয়া আইসে’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতেও জানা যায় যে, ঐরূপ সিদ্ধান্ত কখনই শ্রুতির অভিপ্রেত নহে। আর “আত্মানমেব উপাসীত” এই যে, ইতি-শব্দ বহি ত আত্মোপাসনার বিধান; বুঝিতে হইবে, অনাত্মোপাসনায়

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৬৩

লোকের আসক্তি নিবারণ করাই তাহার মুখ্য উদ্দেশ্য; সুতরাং ইহা কখনই উপাসনাবিধায়ক স্বতন্ত্র বাক্য নহে,[ইহা সেই পূর্ব্ববাক্যেরই অনুকূল—ভাব- প্রকাশক মাত্র]। ৩৫

আচ্ছা, আত্মাও যেরূপ অবিজ্ঞাত, অনাত্মাও ঠিক সেইরূপই অবিজ্ঞাত; সুতরাং উভয়ই তুল্য; কাজেই আত্মা ও অনাত্মা উভয়ই জ্ঞাতব্য বিষয়; এমত অবস্থায় “আত্মা ইত্যেব উপাসীত” শ্রুতি অনুসারে কেবল আত্মোপাসনাতেই যত্ন করিতে হইবে, অনাত্মোপাসনাতে নহে, ইহার কারণ কি? তদুত্তরে বলা হইতেছে-সেই এই প্রস্তাবিত আত্মাই পদনীয় অর্থাৎ উপাসকের একমাত্র প্রাপ্তব্য; তদ্ভিন্ন আর কিছুই প্রাপ্তব্য নহে। শ্রুতির ‘অন্য সর্ব্বস্য’ শব্দে যে ষষ্ঠী বিভক্তি রহিয়াছে, তাহার অর্থ হইতেছে-নির্ধারণ, অর্থাৎ সমস্ত জগতের মধ্যে। “যৎ অয়ম্ আত্মা” অর্থ-যাহা এই আত্মতত্ত্ব। ভাল, তাহা হইলে, আর কিছুই কি জ্ঞাতব্য নাই? না, সে কথাও নয়; তবে কি না, অপর সমস্ত বস্তু জ্ঞাতব্য হইলেও সে সমুদায়ের জন্য আর স্বতন্ত্র জ্ঞানের আবশ্যক হয় না, এই আত্মবিজ্ঞানেই সে সমস্তও বিজ্ঞাত হইয়া যায়, ইহার কারণ এই যে, আত্মাকে বিশেষভাবে জানিতে পারিলে, তাহা দ্বারাই, এই যে সমস্ত অনাত্মবস্তু আছে, তৎসমস্তই বিশেষরূপে বিজ্ঞাত হইয়া যায়। ভাল, এক বস্তু জানিলে তাহা দ্বারা ত অপর বস্তু কখনও জানা যায় না? হাঁ-জানা যায়, দুন্দুভি প্রভৃতি দৃষ্টান্ত দ্বারা আমরা এ আপত্তির পরিহার করিব। ৩৬

আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি, ইহাই জীবের একমাত্র প্রাপ্তব্য হয় কি প্রকারে? হাঁ, বলা যাইতেছে—জগতে যেমন নষ্ট(হারাণ) পশুকে অনুসন্ধান করিতে যাইয়া তাহার পদ দ্বারা—খুরচিহ্ন দ্বারা তাহাকে লাভ করে, তেমনি আত্মাকে লাভ করিলেই তদ্দ্বারা অপর সমস্ত বস্তুই লাভ করা হইয়া থাকে। এখানে শ্রুতির ‘পদ’ শব্দে গোপ্রভৃতি পশুর খুর-চিহ্নিত স্থানকে লক্ষ্য করা হইয়াছে। ভাল কথা, এখানে আত্মবিজ্ঞানে যে, অপর সমস্ত বিষয়ের বিজ্ঞান, তাহা হইতেছে আলোচ্য বিষয়, তাহার মধ্যে সম্পূর্ণ লাভের কথা ত, অপ্রাসঙ্গিক; অতএব সে কথা বলা হইতেছে কেন? না, এ আপত্তিও হইতে পারে না; কারণ, এখানে জ্ঞান ও লাভ, এই উভয়েরই অর্থ এক, এবং শ্রুতিরও তাহাই অভিপ্রেত। কেন না, আত্মার অলাভ অর্থ—অজ্ঞান ভিন্ন আর কিছুই নহে; সুতরাং বুঝিতে হইবে, আত্মাকে জানাই আত্মার লাভ; কিন্তু অনাত্ম-বস্তুর লাভ যেরূপ অপ্রাপ্তের প্রাপ্তি, আত্ম-লাভ কখনই সেরূপ হইতে পারে না; কারণ,

২৬৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এখানে লব্ধা(লাভকর্ত্তা) ও লব্ধব্যের(প্রাপ্য বস্তুর) কিছুমাত্র ভেদ বা পার্থক্য নাই।

যেখানে আত্মভিন্ন বস্তু লব্ধব্য হয়, সেখানেই আত্মা হয় লব্ধা, আর অনাত্ম- বস্তু হয় লব্ধব্য। সেই অপ্রাপ্ত বস্তুটিও আবার উৎপত্তি প্রভৃতি ক্রিয়া দ্বারা ব্যবহিত থাকে; অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ কারকের(ও ক্রিয়া-সাধনের) সাহায্যে ক্রিয়াবিশেষ উৎপাদন করিলে, তাহার পর সেই লব্ধব্য বস্তুটি লাভ করিতে পারা যায়; অধিকন্তু সেই অপ্রাপ্তির প্রাপ্তিরূপ যে লাভ, তাহাও স্বপ্নকালীন পুল্লাদিলাভের ন্যায় মিথ্যা জ্ঞান-প্রসূত বলিয়া অনিতা, এই আত্মা কিন্তু তাহার সম্পূর্ণ বিপরীত। ৩৭

[এখন অনাত্ম-পদার্থ হইতে আত্মার বৈপবীত্য বিষয়ে যক্তিপ্রমাণ প্রদর্শন করিতেছেন-] আত্মা বলিয়াই, আত্মা উৎপাদনাদি ক্রিয়া দ্বারা ব্যবহিত নয়(১)। কেন না, আত্মা নিত্যই লব্ধ আছে, কেবল অবিদ্যাদ্বারা তাহার ব্যবধান হয় মাত্র; অর্থাৎ কেবল অবিদ্যাদোষেই নিত্যলব্ধ আত্মাকেও অলব্ধ বলিয়া মনে হয় মাত্র; যেমন শুক্তি-(ঝিনুক) দর্শন স্থলেও ভ্রম বশতঃ সেই শুক্তিই বজ্রতখণ্ডরূপে প্রকাশ পায়, সেই কারণে যথার্থ শুক্তির প্রতীতি হয় না। অবিদ্যা বা ভ্রমজ্ঞানই সেখানে শুক্তিকে আবৃত করিয়া রাখে। সেইস্থলে শুক্তির গ্রহণ অর্থও শুক্তিবিষয়ক জ্ঞান ভিন্ন আর কিছুই নহে; কারণ, বিপবাত জ্ঞানরূপ ব্যবধানের অপনয়নকবাই ঐরূপ জ্ঞানের একমাত্র উদ্দেশ্য; সেই প্রকার এখানেও অজ্ঞান দ্বারা ব্যবধানই আত্মার অলাভ; সুতরাং জ্ঞান দ্বারা সেই অজ্ঞানাপসাবণই আত্মার লাভ, অন্যপ্রকার ‘লাভ’ কখনও উপপন্ন হয় না। এই কারণেই আমরা পরে আত্মলাভ বিষয়ে জ্ঞানাতিরিক্ত সাধনের আনর্থক্য প্রতিপাদন করিব। অতএব নিঃশঙ্কভাবে জ্ঞান ও লাভশব্দের একার্থত্ব বলিতে যাইয়া জ্ঞানের প্রকবণে লাভবাচক ‘অনুবিন্দেৎ’ ক্রিয়ার প্রয়োগ করিয়াছেন; কারণ, ‘বিদ্’ ধাতুর প্রকৃত অর্থই লাভ। ৩৮

এখন উক্ত গুণচিন্তার ফল এইরূপ কথিত হইতেছে যে, এই আত্মা যেমন

(১) সাধারণতঃ ক্রিয়ার কর্ম্ম চারি শ্রেণীতে বিভক্ত। যথা,—(১) উৎপাদ্য (২) বিকার্যা,(৩) প্রাপ্য ও(৪) সংসাধ্য। তন্মধ্যে অবিদ্যমান বস্তুর উৎপাদন করিলে হয় ‘উৎপাদ্য’; যেমন ঘট। বিদ্যমান বস্তুর অন্যথা(বিকার) করিলে হয় ‘বিকাধ্য’; যেমন সুবর্ণ-নির্মিত কুণ্ডল। অপ্রাপ্ত বস্তুর প্রাপ্তিতে হয় ‘প্রাপ্য’; যেমন গ্রামাদি। আর কোনও বিদ্যমান বস্তুর দোষাপনয়ন বা গুণাধান করিলে তাহা হয় সংস্কার্য, যেমন ঘর্ষণ দ্বারা দর্পণকে পরিষ্কার করা, কিন্তু নিত্য নির্ব্বিকার আত্মার পক্ষে উক্ত চতুর্বিধের একটি ধর্ম্মও সম্ভবপর হয় না।

২৬৫

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

নাম ও রূপের মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া ‘আত্মা’ প্রভৃতি নাম ও রূপানুসারে প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে, এবং প্রাণাদির সমষ্টিভাবে মহিমাও প্রাপ্ত হইয়াছে; ঠিক তেমনি যে লোক যথোক্ত আত্মতত্ত্ব অবগত হন, তিনিও লোকপ্রতিষ্ঠা এবং অভীষ্ট বস্তুর সহিত সম্বন্ধ লাভ করেন, অথবা যে লোক যথোক্ত আত্মতত্ত্ব জানেন, তিনি মুমুক্ষুগণের অত্যন্ত আবশ্যকীয় কীর্ত্তি-শব্দবাচ্য যে, একত্ব জ্ঞান, তাহারই ফল- স্বরূপ শ্লোকশব্দবাচ্য মুক্তি লাভ করেন; ইহাই উক্ত উপাসনার মুখ্য ফল(২) ॥ ৪৪ ॥ ৭ ॥

তদেতৎ প্রেয়ঃ পুত্রাৎ প্রেয়ো বিত্তাৎ প্রেয়োহন্যস্মাৎ সর্ব্বস্মাদন্তরতরং যদয়মাত্মা।

স যোহন্যমাত্মনঃ প্রিয়ং ব্রুবাণং ক্রয়াৎ প্রিয়ং রোৎস্য- তীতীশ্বরো হ তথৈব স্যাৎ, আত্মানমেব প্রিয়মুপাসীত, স য আত্মানমেব প্রিয়মুপাস্তে, ন হাস্য প্রিয়ং প্রমায়ুকং ভবতি ॥৪৫॥৮৷৷

সরলার্থঃ।—[সম্প্রতি আত্মন এব উপাস্যত্বমুপপাদয়িতুমাহ—“তদেতৎ” ইত্যাদি।] তৎ(পূর্ব্বোক্তং) এতৎ(ব্রহ্মবস্তু) পুত্রাৎ প্রেয়ঃ(পুত্রাপেক্ষয়াপি অতিশয়েন প্রিয়), বিত্তাৎ(ধনরত্নাদেঃ) প্রেয়ঃ, অন্যস্মাৎ(প্রিয়ত্বেনাভিমতাৎ) সর্ব্বস্মাৎ প্রেয়ঃ।[কিং তৎ? ইত্যাহ—] যৎ অয়ং(ইদং) অন্তরতরং(পুত্রাদি- ভ্যোহপি সন্নিহিততরং বস্তু) আত্মা(আত্মতত্ত্বম্)। সঃ যঃ(আত্মজ্ঞঃ) ঈশ্বরঃ (সমর্থঃ সন্) আত্মনঃ অন্যং(পুত্রাদিকং) প্রিয়ং ক্রবাণং ক্রয়াৎ(কথয়েৎ)— [তব] প্রিয়ং(পুত্রাদিকং) রোৎস্যতি(নিরোধং প্রাপ্স্যতি—বিনঙ্ক্ষ্যতি) ইতি হ(প্রসিদ্ধৌ); তথা এব স্যাৎ(তস্য প্রিয়নিরোধো ভবেদেব ইত্যর্থঃ)। [অতঃ] আত্মানং এব প্রিয়ং উপাসীত[নান্যৎ]। সঃ যঃ(যঃ কশ্চিৎ) আত্মা- নম্ এব প্রিয়ম্ উপাস্তে, অন্য(উপাসকস্য) প্রিয়ং ন হ(নৈব) প্রমায়ুকং (মরণশীলং) ভবতি।[যদ্যপি আত্মবিদঃ মরণার্হং প্রিয়মপ্রিয়ং বা কিঞ্চৎ নাস্তি, তথাপি অনুবাদমাত্রমিদং কৃতমিতি ভাবঃ]॥ ৪৫॥৮॥ +

৩৪

২৬৬. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মূলানুবাদ?—[ অন্য বস্তু ত্যাগ করিয়া আত্মারই উপাসনা করিতে হইবে কেন, তাহার কারণ-প্রদর্শনার্থ বলিতেছেন—] সর্ব্বাপেক্ষা অন্তরতর অর্থাৎ অতি সন্নিহিত যে এই আত্মতত্ত্ব, ইহা পুত্র অপেক্ষা অধিক প্রিয়, বিত্ত অপেক্ষাও অধিক প্রিয়; এমন কি, অন্য সমস্ত হইতেই অধিক প্রিয়। আত্মতত্ত্বজ্ঞ লোক ঈশ্বর অর্থাৎ অলৌকিক শক্তিবিশেষ লাভ করিয়া থাকেন; তিনি, অপর যে লোক আত্ম-ভিন্ন পদার্থকে অধিকতর প্রিয় বলে, তাহাকে যদি বলেন যে, ‘তোমার অভিমত প্রিয় বস্তু বিনষ্ট হইবে’, তাহা হইলে ঠিক সেইরূপই হয়। অতএব আত্মাকেই প্রিয়-বুদ্ধিতে উপাসনা করিবে। যে কোন লোক আত্মাকে প্রিয় বলিয়া উপাসনা করেন, তাঁহার প্রিয় বস্তু কখনই বিনাশপ্রাপ্ত হয় না ॥ ৪৫ ॥ ৮ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—কুতশ্চাত্মতত্ত্বমেব জ্ঞেয়ম্ অনাদৃত্যান্যৎ? ইত্যাহ —তদেতৎ আত্মতত্ত্বং প্রেয়ঃ প্রিয়তরং পুত্রাৎ; পুত্রো হি লোকে প্রিয়ঃ প্রসিদ্ধঃ, তস্মাদপি প্রিয়তরম্—ইতি নিরতিশয়প্রিয়ত্বং দর্শয়তি। তথা বিত্তাৎ হিরণ্যরত্নাদেঃ; তথা অন্যস্মাৎ যদ্যল্লোকে প্রিয়ত্বেন প্রসিদ্ধম্, তস্মাৎ সর্ব্বস্মাদিত্যর্থঃ। তৎ কস্মা- দাত্মতত্ত্বমেব প্রিয়তরং, ন প্রাণাদি?—ইতি; উচ্যতে—অন্তরতরম্—বাহ্যাৎ পুত্র- বিত্তাদেঃ, প্রাণপিণ্ডসমুদায়ো হি অন্তরোহভ্যন্তরঃ সন্নিকৃষ্ট আত্মনঃ; তস্মাদপ্য- ন্তরাৎ অন্তরতরম্, যদয়মাত্মা যদেতদাত্মতত্ত্বম্। যো হি লোকে নিরতিশয়প্রিয়ঃ, স সর্ব্বপ্রযত্নেন লব্ধব্যো ভবতি; তথা অয়মাত্মা সর্ব্বলৌকিকপ্রিয়েভ্যঃ প্রিয়তমঃ; তস্মাৎ তল্লাভে মহান্ যত্ন আস্থেয় ইত্যর্থঃ—কর্তব্যতাপ্রাপ্তমপ্যন্যপ্রিয়লাভে যত্ন- মুজ ঝিত্বা।

কস্মাৎ পুনঃ আত্মানাত্মপ্রিয়য়োরন্যতরপ্রিয়হানেন ইতরপ্রিয়োপাদানপ্রাপ্তৌ আত্মপ্রিয়োপাদেনেনৈব ইতরহানং ক্রিয়তে, ন বিপর্যয়ঃ-ইতি? উচ্যতে-স যঃ কশ্চিদন্যম্ অনাত্মবিশেষং পুত্রাদিকং প্রিয়তরমাত্মনঃ সকাশাদ্রবাণং ক্রয়াৎ আত্মপ্রিয়বাদী। কিম্? প্রিয়ং তবাভিমতং পুত্রাদিলক্ষণং রোৎস্যতি আবরণং প্রাণসংরোধং প্রাপ্যতি বিনঙ্ক্ষ্যতীতি। স কম্মাদেরং ব্রবীতি? যম্মাদীশ্বরঃ সমর্থঃ পর্যাপ্তোহসৌ এবং বক্তুং হ যস্মাৎ; তস্মাৎ তথৈব স্যাৎ-যত্তেনোক্তং- ‘প্রাণসংরোধং প্রাপ্যতি’। যথাভূতবাদী হি সঃ, তস্মাৎ স ঈশ্বরো বক্তুম্। ঈশ্বরশব্দঃ ক্ষিপ্রবাচীতি কেচিৎ; ভবেৎ, যদি প্রসিদ্ধিঃ স্যাৎ। তস্মাদুজ্জঝিত্বান্যৎ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৬৭

প্রিয়ম্, আত্মানমেব প্রিয়মুপাসীত। স য আত্মানমেব প্রিয়মুপাস্তে—আত্মৈব প্রিয়ো নান্যোহস্তীতি প্রতিপদ্যতে—অন্যলৌকিক প্রিয়মপ্যপ্রিয়মেবেতি নিশ্চিত্য, উপাস্তে চিন্তয়তি; ন হাস্য এবংবিদঃ প্রিয়ং প্রমায়ুকং প্রমরণশীলং ভবতি। নিত্যানুবাদমাত্রমেতৎ, আত্মবিদোহন্যস্য প্রিয়স্যাপ্রিয়স্য চাভাবাৎ; আত্মপ্রিয়- গ্রহণস্তুত্যর্থং বা, প্রিয়গুণ-ফলবিধানার্থং বা মন্দাত্মদর্শিনঃ, তাচ্ছীল্যপ্রত্যয়ো- পাদানাং ॥ ৪৫ ॥ ৮ ॥

টীকা। আত্মনঃ পদনীয়ত্বে তস্যৈবাজ্ঞাতত্বসম্ভবে হেতুরুক্ত, অধুনা তত্রৈব হেত্বন্তরত্বে- নোত্তরবাক্যমবতারয়তি-কুতশ্চেতি। অন্যদনায়েতি যাবৎ। বিরক্তস্য পুত্রে প্রীত্যভাবাৎ কথমাত্মনস্তস্মাৎ প্রিয়তরত্বপ্রিত্যাশঙ্ক্যাহ-পুত্রো হীতি। প্রিয়তরমাত্মতত্ত্বমিতি শেষঃ। লোক-- দৃষ্টিমেবাবষ্টভ্যাহ-তথেতি। বিত্তপদেন মানুষবিত্তবদ্দৈব” বিত্তমপি গৃহ্যতে। বিশেষাণা- মানন্ত্যাৎ প্রত্যেকং প্রদর্শনমশক্যমিত্যাশয়েনাহ-তথাহন্যস্মাদিতি। পুত্রাদৌ প্রীতিব্যভিচারেহপি প্রাণাদৌ তদব্যভিচারাদাত্মনো ন প্রিয়তমত্বমিতি শঙ্কতে-তৎ কম্মাদিতি। পদান্তরমাদায় ব্যাকুবন্ পরিহরতি-উচ্যত ইত্যাদিনা। অন্তরতরত্বে প্রিয়তমত্বসাধনে হেতুরাত্মত্বম্, ইত্যভিপ্রেতা বিশেষ্যং ব্যপদিশতি-যদয়মিতি। আত্মনো নিরতিশয়প্রেমাস্পদত্বেহপি কুতস্তস্যৈব পদনীয়ত্বমিত্যাশঙ্ক্য বাক্যার্থমাহ-যো হীত্যাদিনা। পুত্রাদিলাভে দারাদীনাং কর্তব্যত্বেন প্রাপ্তপ্রযত্নবিরোধাদাত্মলাভে প্রযত্নঃ সুকরো ন ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ-কর্তব্যতেতি।

আত্মনে। নিরতিশয়প্রেমাস্পদত্বে যুক্তিং পৃচ্ছতি-কস্মাদিতি। আত্মপ্রিয়স্যোপাদান- মনুসন্ধানম্, ইতরস্যানাত্মপ্রিয়স্য হানমননুসন্ধানম্। বিপর্যয়োহনামনি পুত্রাদাবভিনিবেশেনাত্ম- প্রিয়স্যাননুসন্ধানমিতি বিভাগঃ। যুক্তিলেশং দর্শয়িতুমনন্তরবাকমবতারয়তি-উচ্যত ইতি। যঃ কশ্চিদাত্মপ্রিয়বাদী, স তস্মাদন্যং প্রিয়ং ব্রবাণং প্রতিক্রয়াদিতি সম্বন্ধঃ। বক্তব্যং প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রকটয়তি-কিমিত্যাদিনা। আত্মপ্রিয়বাদিন্যেবং বদত্যপি পুত্রাদিনাশস্তদ্বাক্যার্থো নিয়তো ন সিধ্যতীত্যাশঙ্ক্য পরিহরতি-স কম্মাদিত্যাদিনা। হশব্দোবধারণার্থঃ সমর্থপদাদুপরি সম্বধাতে। তম্মাদেবং বক্তীতি শেষঃ। উক্তং সামর্থ্যমনূদ্য ফলিতমাহ-যম্মাদিতি। অথাত্ম- প্রিয়বাদিনা যথোক্তং সামর্থ্যমেব কথং লব্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যথেতি। অতোহন্যদার্তমিত্যনাত্মনো বিনাশিত্বাদ্বিনাশিনশ্চ দুঃখাত্মকত্বাত্তৎপ্রিয়ত্বস্থ্য ভ্রান্তিমাত্রত্বাদাত্ম-স্তদ্বৈপরীত্যামুখ্যা প্রীতিস্তত্রৈব, অনাত্মন্যমুখ্যেতি ভাবঃ। পক্ষান্তরমনুদ্য বৃদ্ধপ্রয়োগাভাবেন দূষয়তি-ঈশ্বরশব্দ ইতি। অনাত্মন্যমুখ্যা প্রীতিরিতি স্থিতে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। উপস্থিতমনুদ্য তৎফলং কথয়তি- স য ইতি। অনুবাদদ্যোতকো হ-শব্দঃ। প্রিয়মাত্মসুখং, তস্যাপি লৌকিকসুখবন্নাশঃ সুখত্বাদিত্যাশঙ্কিতে তন্নিরাসার্থমনুবাদমাত্রমত্র বিবক্ষিতমিত্যাহ-নিতোতি। ফলশ্রুতেগত্যন্তর- মাহ-আত্মপ্রিয়েতি। মহন্ধীদমাত্মপ্রিয়গ্রহণং, যৎ তন্নিষ্ঠস্য প্রিয়ং ন প্রণশ্যতি; তস্মাত্তদনুসন্ধানং কর্তব্যমিতি স্তুতার্থং ফলকীর্তনমিত্যর্থঃ। পক্ষান্তরমাহ-প্রিয়গুণেতি। যো মন্দঃ সন্নাত্মদর্শী, তস্য প্রিয়গুণবিশিষ্টাত্মোপাসনে প্রিয়ং প্রাণাদি নশ্যতীতি ফলং বিধাতুং ফলবচনমিত্যর্থঃ। নম্বাত্মানং প্রিয়মুপাসীনস্য প্রিয়ং প্রাণাদি বিদ্যাসামর্থ্যান্ন নশ্যতি, তথা চ মন্দবিশেষণং মন্দ-

২৬৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মিত্যাশঙ্ক্যাহ—তাচ্ছীল্যেতি। তাচ্ছীলোহর্থে বিহিতস্যোকঞ-প্রত্যয়স্য প্রত্যোপাদানাৎ স্বভাবহানাযোগাচ্চ প্রমরণশীলত্বাভাবেহপি প্রাণাদেরাত্যন্তিকমপ্রমরণমবিবক্ষিতমিত্যর্থঃ ॥৪৫॥৮॥

ভাষ্যানুবাদ।-অন্য সমস্ত বিষয় উপেক্ষা করিয়া কি কারণে যে, কেবল আত্মতত্ত্বেরই চিন্তা করিতে হইবে, তাহার হেতু নির্দেশ করিতেছেন- সেই এই আত্মতত্ত্ব পুত্র অপেক্ষাও প্রেয়ঃ অর্থাৎ সমধিক প্রিয়; জগতে সাধারণতঃ পুত্রই সর্ব্বাপেক্ষা প্রিয় হইয়া থাকে, তদপেক্ষাও প্রিয়তর বলায় আত্মতত্ত্বের সর্ব্বা- ধিক প্রিয়ত্ব সূচনা করা হইল। সেই প্রকার, বিত্ত-সুবর্ণ-রত্নাদি অপেক্ষাও এবং আরও যে সমস্ত বস্তু জগতে প্রিয় বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে, সে সমস্ত অপেক্ষাও [ অধিক প্রিয়]। ভাল কথা, সেই আত্মতত্ত্বই বা সর্ব্বাপেক্ষা অধিক প্রিয় হয় কেন, আর প্রাণাদি বস্তুই বা প্রিয় না হয় কেন? হাঁ, বলিতেছি-সাধারণতঃ পুত্র ও বিত্ত প্রভৃতি বাহ্য পদার্থ অপেক্ষা প্রাণসমষ্টিই অন্তর-অভ্যন্তর অর্থাৎ আত্মার খুব ঘনিষ্ট; সেই অন্তর বা সন্নিহিত প্রাণ অপেক্ষাও ইহা অন্তরতর অর্থাৎ আরও সন্নিহিত,-যাহা এই সেই আত্মা, অর্থাৎ সেই আত্মতত্ত্ব। জগতে যাহা সর্ব্বাপেক্ষা অধিকতর প্রিয়, সর্ব্বতোমুখী চেষ্টায় তাহাকেই লাভ করিতে হয়; এই আত্মাও লোকপ্রসিদ্ধ সমস্ত প্রিয়বস্তু অপেক্ষা প্রিয়তম; অতএব অন্য প্রিয়- প্রাপ্তির জন্য যত্ন করা আবশ্যক হইলেও, তাহা ত্যাগ করিয়া এই আত্মলাভের জন্যই বিশেষ চেষ্টা করা উচিত।

এখানে আশঙ্কা হইতেছে যে, আত্মা ও অনাত্মা, উভয়ই প্রিয়; তন্মধ্যে একটি প্রিয়কে পরিত্যাগ করিয়া অপর প্রিয় বস্তুটিকে গ্রহণ করিতে হইবে; এমত অবস্থায়, কি কারণে আত্মারূপ প্রিয় বস্তুটি গ্রহণ করিয়া, অপর-অনাত্ম-বস্তুগুলি পরিত্যাগ করিতে হইবে? ইহার বৈপরীত্যই বা হয় না কেন? ইহার উত্তরে বলা যাইতেছে-যে ব্যক্তি অন্যকে-পুত্র প্রভৃতি অপর কোনও অনাত্মপদার্থকে আত্মা অপেক্ষাও সমধিক প্রিয় বলিয়া উল্লেখ করে, তাহাকে--সেই যে-কোনও আত্ম-প্রিয়বাদী(যে লোক আত্মাকেই সর্ব্বাধিক প্রিয় বলিয়া থাকেন, তিনি) যদি বলেন-কি? না, প্রিয় বস্তু অর্থাৎ তোমার অভিমত পুত্রাদিরূপ প্রিয় বস্তু রুদ্ধ হইবে-আবরণ-প্রাণ-নিরোধ প্রাপ্ত হইবে, অর্থাৎ বিনষ্ট হইবে। ভাল, তিনি এরূপ কথাইবা বলিবেন কেন?[উত্তর-] যেহেতু, তিনি ঈশ্বর অর্থাৎ ঐরূপ কথা বলিতে সম্পূর্ণ সমর্থ; সেই হেতুই তাহা সেইরূপই হইবে, অর্থাৎ তিনি যে প্রাণ নিরোধের কথা বলিয়াছেন,[তাহা ঠিক সেইরূপই হইবে]। কেননা, তিনি হইতেছেন যথার্থবাদী(সত্যবাদী); সেই জন্যই তিনি ঐরূপ বলিতে সমর্থ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৬৯

কেহ কেহ বলেন—‘ঈশ্বর’ শব্দটি ক্ষিপ্রতাবোধক। যদি প্রসিদ্ধি থাকে, অর্থাৎ ঐরূপ অর্থ যদি অপ্রসিদ্ধ না হয়, তাহা হইলে ঐরূপ অর্থও হইতে পারে। অত- এব অপর প্রিয় বস্তু পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র প্রিয় আত্মারই উপাসনা করিবে। সেই যে লোক একমাত্র প্রিয় বস্তু আত্মারই উপাসনা করে,—আত্মাই একমাত্র প্রিয়, তদ্ভিন্ন কিছুই প্রিয় নাই, এইরূপ বুঝিতে পারে, অর্থাৎ লোকপ্রসিদ্ধ প্রিয়- বস্তুকেও অপ্রিয় বলিয়াই অবধারণ করিয়া[ আত্মার] উপাসনা(চিন্তা) করে; নিশ্চয়ই তাদৃশ বিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির প্রিয় বস্তু মরণশীল হয় না অর্থাৎ বিনষ্ট হয় না। এ কথাটা নিত্যানুবাদ মাত্র অর্থাৎ স্বতই যাহা ঘটিয়া থাকে, তাহারই উল্লেখ মাত্র,[ কিন্তু ইহা প্রকৃত বিদ্যা-ফল নহে]। কেন না, আত্মদর্শীর সম্বন্ধে তদ্ভিন্ন প্রিয় বা অপ্রিয় আর কিছুই সম্ভবপর হয় না। অথবা আত্মারূপ প্রিয়- চিন্তার প্রশংসার্থও এই কথা হইতে পারে; অথবা[ প্রমায়ুক শব্দে] তাচ্ছীল্য- প্রত্যয়ের প্রয়োগ থাকায় এরূপও বলা যাইতে পারে যে, যাহারা যথার্থ আত্ম- জ্ঞানবিহীন মন্দাত্মদর্শী, তাহাদের সম্বন্ধে প্রিয়গুণচিন্তার ফল-প্রকাশনার্থই ঐ প্রকার ফলোল্লেখ করা হইয়াছে ॥ ৪৫ ॥ ৮ ॥

তদাহুর্যদ্বহ্মবিদ্যয়া। সর্ব্বং ভবিষ্যন্তো মনুষ্যা মন্যন্তে। কিমু তদ্ ব্রহ্মাবেদ্ যস্মাত্তৎ সর্বমভবদিতি ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥

সরলার্থঃ।—[ ব্রহ্মজিজ্ঞাসবঃ] তৎ( বক্ষ্যমাণং তত্ত্বং) আহুঃ( কথয়ন্তি) —[ কিম্?] মনুষ্যাঃ যব্রহ্মবিদ্যয়া( যয়া ব্রহ্মবিদ্যয়া) সর্ব্বং ভবিষ্যন্তঃ( যয়া ব্রহ্মবিদ্যয়া বয়ং সর্ব্বাত্মভাবং গমিষ্যামঃ ইতি) মন্যন্তে;[ অত্র অবিশেষেণ প্রবৃত্ত- মপি শাস্ত্রং প্রাধান্যতঃ মনুষ্যানেধিকরোতি, তেষামের ভূয়সা নিঃশ্রেয়সাভ্যুদয়- সাধনেহধিকারাৎ, ইতি মন্তব্যম্]।[ অত্র পৃচ্ছামঃ—] তৎ ব্রহ্ম কিমু( কিং বস্তু) অবেৎ( জ্ঞাতবৎ), যস্মাৎ( বিজ্ঞানাৎ) তৎ( ব্রহ্ম) সর্ব্বং( সর্ব্বাত্মকং) অভবৎ? ইতি ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥

মূলানুবাদ।—ব্রহ্মজিজ্ঞাসুগণ বলিয়া থাকেন—মনুষ্যগণ যে ব্রহ্মবিদ্যা দ্বারা সর্ব্বাত্মক হইব বলিয়া মনে করে;[ জিজ্ঞাসা করি,] সেই ব্রহ্মই বা কি বিষয় জানিয়াছিলেন? যাহার প্রভাবে তিনি সর্ব্বাত্মভাব লাভ করিয়াছেন ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥ শাঙ্করভাষ্যম্।—সূত্রিতা ব্রহ্মবিদ্যা—“আত্মেত্যেবোপাসীত” ইতি, যদর্থোপনিষৎ কৃৎস্নাপি; তস্যৈতস্য সূত্রস্য ব্যাচিখ্যাসুঃ প্রয়োজনাভিধিৎসয়া

২৭০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উপোজ্জিঘাংসতি-তদিতি বক্ষ্যমাণমনন্তরবাক্যেহবদ্যোতাং বস্তু, -আহুঃ- ব্রাহ্মণাঃ ব্রহ্ম বিবিদিষব: জন্মজরামরণপ্রবন্ধচক্র-ভ্রমণকৃতায়াসদুঃখোদকাপার-মহো- দধিপ্লবভূতং গুরুমাসাদ্য তত্তীরমুত্তিতীর্ষবো ধর্মাধর্মসাধন-তৎফললক্ষণাৎ সাধ্য- সাধনরূপাৎ নির্ব্বিন্নাঃ তদ্বিলক্ষণ-নিত্যনিরতিশয়শ্রেয়ঃ প্রতিপিৎসবঃ। কিমাহুরি- ত্যাহ-যদ্ ব্রহ্মবিদ্যয়া; ব্রহ্ম পরমাত্মা, তৎ যয়া বিদ্যতে, সা ব্রহ্মবিদ্যা, তয়া ব্রহ্ম- বিদ্যয়া, সর্ব্বং নিরবশেষং ভবিষ্যন্তঃ ভবিষ্যাম ইত্যেবং মনুষ্যা যৎ মন্যন্তে; মনুষ্য গ্রহণং বিশেষতোহধিকারজ্ঞাপনার্থম্; মনুষ্যা এব হি বিশেষতোহভ্যুদয়-নিঃশ্রেয়স- সাধনেহধিকৃতা ইত্যভিপ্রায়ঃ। যথা কৰ্ম্মবিষয়ে ফলপ্রাপ্তিং ধ্রুবাং কৰ্ম্মভ্যো মন্যন্তে, তথা ব্রহ্মবিদ্যায়াঃ সর্বাত্মভাব-ফলপ্রাপ্তিং ধ্রুবামের মন্যন্তে, বেদপ্রামাণ্যস্যোভয়ত্রা- বিশেষাৎ।

তত্র বিপ্রতিষিদ্ধং বস্তু লক্ষ্যতে; অতঃ পৃচ্ছামঃ-কিমু তদ্‌ব্রহ্ম,-যস্য বিজ্ঞানাৎ সর্ব্বং ভবিষ্যতেো মনুষ্যা মন্যন্তে? তৎ কিমবেদ, যস্মাদ্বিজ্ঞানাৎ তৎ ব্রহ্ম সর্ব্বমভবৎ? ব্রহ্ম চ সর্ব্বমিতি ক্রয়তে, তদ্ যদি অবিজ্ঞায় কিঞ্চিৎ সর্ব্বমভবৎ, তথান্যেযামপ্যস্ত, কিং ব্রহ্মবিদ্যয়া? অথ বিজ্ঞায় সর্ব্বমভবৎ, বিজ্ঞানসাধ্যত্বাৎ কর্মফলেন তুল্যমেবেত্যনিত্যত্বপ্রসঙ্গঃ সর্ব্বভাবস্থ্য ব্রহ্মবিদ্যাফলস্য; অনবস্থা- দোষশ্চ-তদপ্যন্যদ্বিজ্ঞার সর্ব্বমভবৎ, ততঃ পূর্ব্বমপ্যন্যদ্বিজ্ঞায়েতি। ন তাবদ- বিজ্ঞায় সর্ব্বমভবৎ, শাস্ত্রার্থ-বৈরূপ্যদোষাৎ। ফলানিত্যত্বদোষস্তহি। নৈকোহপি দোষঃ, অর্থবিশেষোপপত্তেঃ ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥

টীকা। তদাহরিত্যাদের্গতেন গ্রন্থেন সম্বন্ধং বক্তুং বৃত্তঃ কার্ত্তয়তি-সূত্রিতেতি। তস্যাং প্রমাণমাহ-যদর্থেতি। তহি সূত্রব্যাখ্যানেনৈব সর্ব্বোপনিষদর্থসিদ্ধেঃ তদাহরিত্যাদি বৃথে- ত্যাশঙ্ক্যাহ-তস্যেতি। বিদ্যাসূত্রং ব্যাখ্যাতুমিচ্ছন্তী শ্রুতিঃ সূত্রিতবিদ্যাবিবক্ষিতপ্রয়ো- জনাভিধানায়োপোদ্ঘাতং চিকীর্ষতি। প্রতিপাদ্যমর্থং বুদ্ধৌ সংগৃহ্য তাদর্থ্যে র্থান্তরোপবর্ণনস্য তথাত্বাৎ “চিন্তাং প্রকৃতসিদ্ধ্যর্থানুপোদ্ঘাতং প্রচক্ষতে” ইতি ন্যায়াদিত্যর্থঃ। যদব্রহ্মবিদ্য- য়েত্যাদিবাকাপ্রকাশ্যং চোদ্যং তচ্ছন্দেনোচ্যতে, প্রকৃতসম্বন্ধাসম্ভবাদিত্যাহ-তদিতীতি। ব্রাহ্মণমাত্রস্থ চোদ্যকর্তৃত্বং ব্যাবর্ত্তয়তি-ব্রহ্মেতি। উৎপ্রেক্ষয়া ব্রহ্মবেদনেচ্ছাবত্বং ব্যাবর্ত্তয়িতু তদেব বিশেষণং বিভজতে-জন্মেতি। জন্ম চ জরা চ মরণং চ তেষাং প্রবন্ধে প্রবাহে চক্রবদন- বরতং ভ্রমণেন কৃতং যদায়াসাত্মকং দুঃখং, তদেবোদকং যস্মিন্নপারে সংসারাখ্য মহোদধৌ, তত্র প্লবভূতং তরণসাধনমিতি যাবৎ। তত্তীরং তস্য সংসারসমুদ্রস্ত তীরং পরং ব্রহ্মেত্যর্থঃ। তেষাং বিবিদিষায়াঃ সাফল্যার্থং তৎপ্রত্যনীকে সংসারে বৈরাগ্যং দর্শয়তি-ধর্ম্মেতি নির্ব্বেদন্য নিরঙ্কুশত্বং বারয়তি-তদ্বিলক্ষণেতি। উত্তরবাক্যমবতার্য্য ব্যাচষ্টে-কিমিত্যাদিনা।’ “অথ পরা যয়া তদক্ষরমধির্ম্ম্যতে” ইতি শ্রুত্যন্তরমাশ্রিত্যাহ-তদ্যয়েতি। মনুষ্যা যন্মন্তন্তে, তত্র বিরুদ্ধং বস্তু

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৭৯

ভাতীতি শেষঃ। মনুষ্যগ্রহণস্থ্য কৃত্যমাহ-মনুষ্যেতি। ননু দেবাদীনামপি বিদ্যাধিকারো দেবতাধিকরণন্যায়েন বক্ষ্যতে, তৎ কুতো মনুষ্যাণামেবাধিকারজ্ঞাপনমিত্যত আহ-মনুষ্যা ইতি। বিশেষতঃ সর্ব্বাবিসম্বাদেনেতি যাবৎ। তথাপি কিমিতি তে জ্ঞানান্মুক্তিং সিদ্ধবদ্‌ব্রবন্তীত্যা- শঙ্ক্যাহ-যথেতি। উভয়ত্র কৰ্ম্মব্রহ্মণোরিতি যাবৎ।

উত্তরবাক্যমুপাদত্তে-তত্রেতি। মনুষ্যাণাং মতং তচ্ছদার্থঃ। বস্তুশব্দেন জ্ঞানাৎ ফলমুচ্যতে। আক্ষেপগর্ভস্য চোদ্যস্থ্য প্রবৃত্তৌ বিরোধপ্রতিভাসো হেতুরিত্যতঃশব্দার্থঃ। তদ্‌ব্রহ্ম পরিচ্ছিন্ন- মপরিচ্ছিন্নং বেতি কুতো ব্রহ্মণি চোদ্যতে, তত্রাহ-যস্যেতি। প্রশ্নান্তরং করোতি-তৎ কিমিতি। ব্রহ্ম স্বাত্মানমজ্ঞাসীদতিরিক্তং বেতি প্রশ্নস্য প্রসঙ্গং দর্শয়তি-যস্মাদিতি। সর্ব্বস্য ব্যতিরিক্তবিষয়ে জ্ঞানং প্রসিদ্ধং, তৎ কিং বিচারেণেত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্ম চেতি। “সর্ব্বং খলিদং ব্রহ্ম” ইত্যাদৌ ব্রহ্মণঃ সর্ব্বাত্মত্বশ্রবণাদতিরিক্তবিষয়াভাবাদাত্মানমেবাবেদিতি পক্ষস্য সাবকাশতেত্যর্থঃ। কিংশবদ্য প্রশ্নার্থত্বমুক্তাক্ষেপার্থমাহ-তদনদীতি। ব্রহ্ম হি কিঞ্চিদজ্ঞাত্বা সর্বমভবৎ জ্ঞাত্বা বা? নাদ্যো ব্রহ্মবিদ্যানর্থক্যাদিত্যুক্ত। দ্বিতীয়মনুবদতি-অথেতি। স্বরূপমন্যদ্বা জ্ঞাত্বা ব্রহ্মণঃ সর্ব্বা- পত্তিরিতি বিকল্পোভয়ত্র সাধারণং দূষণমাহ-বিজ্ঞানেতি। দ্বিতীয়ে দোষান্তরমাহ- অনবস্থেতি। বহিরেবাক্ষেপ পরিহরতি-ন ‘তাবদিতি। অজ্ঞাত্বৈব ব্রহ্মণঃ সর্ব্বভাবঃ, অম্মদাদেস্ত জ্ঞানাদিতি শাস্ত্রার্থে বৈরূপ্যম্। ন চাস্মদাদেরপি তদন্তরেণ তদ্ভাবঃ, শাস্ত্রানর্থক্যাৎ। জ্ঞানাদ্‌ব্রহ্মণঃ সর্ব্বভাবপক্ষে স্বোক্তং দোষমাক্ষেপ্তা স্মারয়তি-ফলেতি। স্বতোহপরিচ্ছিন্নং ব্রহ্ম অবিদ্যাতৎকায্যসম্বন্ধাৎ পরিচ্ছিন্নবদ্ভাতি, তন্নিবৃত্ত্যোপাধিকং সর্বভাবস্য সাধ্যত্বং; ন চানবস্থা, জ্ঞেয়ান্তরানঙ্গীকারাৎ, নাপি ক্রিন্নাবিরোধো বিষয়ত্বমন্তরেণ বাকীয়বুদ্ধিবৃত্তৌ স্ফুরণাদিতি পরি- হরতি-নৈকোঽপীতি। এতেন বিদ্যাবৈয়র্থ্যমপি পরিহৃতমিত্যাহ-অর্থেতি। যদ্যপি ব্রহ্মা- পরিচ্ছিন্নং নিত্যসিদ্ধং, তথাপি তত্রাবিদ্যা তৎকায্যধ্বংসরূপস্যার্থবিশেষস্য জ্ঞানাদুপপত্তেন তদ্বৈয়র্থমিত্যর্থঃ ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—যে ব্রহ্মবিদ্যা প্রতিপাদনের জন্য সমস্ত উপনিষৎশাস্ত্রের আরম্ভ, “আত্মেত্যেব উপাসীত” ইত্যাদি বাক্যে সেই ব্রহ্মবিদ্যাই সূত্রাকারে (সংক্ষেপ) উল্লেখিত হইয়াছে মাত্র; এখন শ্রুতি সেই সংক্ষিপ্ত কথাটির ব্যাখ্যা করিতে ইচ্ছুক হইয়া প্রথমতঃ প্রয়োজন নিদ্দেশমানসে উপোদ্ঘাত(সম্বন্ধ) (১) প্রদর্শন করিতে ইচ্ছা করিতেছেন—

(১) তাৎপৰ্য্য—কোন একটি কথা বলিতে হইলেই তাহার সহিত পূর্ব্বকথায় সম্বন্ধ পাকা আবশ্যক; নচেৎ অসম্বন্ধ বাক্য প্রলাপোক্তির ন্যায় উপেক্ষণীয় হয়। ঐরূপ সম্বন্ধ ছয় ভাগে বিভক্ত; তন্মধ্যে একটির নাম ‘উপোদ্ঘাত’: অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিষয়ের সমর্থনানুকূল চিন্তা “চিন্তাং প্রকৃতসিদ্ধ্যর্থাম ‘উপোদ্ঘাতঃ বিদুবুধাঃ” অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিষয়সিদ্ধির অনুকূল চিন্তাকে পণ্ডিতগণ ‘উপোদ্ঘাত’ বলেন। ইতঃপূর্ব্বে আত্মোপাসনার যে সংক্ষেপে উপদেশ করা হইয়াছে, এখন সেই কথারই অনুকূলে—কেন অপরাপর সর্ব্ববস্তু পরিত্যাগ করিয়া

২৭২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

শ্রুতির ‘তৎ’ পদে অব্যবহিত পরবাক্যে যাহার সূচনা করা হইবে, সেই বস্তু বুঝিতে হইবে। যাঁহারা ব্রাহ্মণ-ব্রহ্ম বস্তু জানিতে ইচ্ছুক এবং জন্ম, জরা ও মরণ-প্রবাহরূপ চক্রে ভ্রমণজনিত দুঃখময় জলে পরিপূর্ণ অপার সংসারসাগর পারের ভেলাস্বরূপ গুরু লাভ করিয়া সেই সংসারসাগর উত্তীর্ণ হইতে অভিলাষী, সাধ্য-সাধনাত্মক(কার্য্য-কারণভাবাপন্ন) ধর্মাধর্ম-সাধন ও তাহার ফল হইতে বিরক্ত এবং তদ্বিলক্ষণ-নিত্য নিরতিশয় শ্রেয়োলাভে অভিলাষী, তাঁহারা এই কথা বলিয়া থাকেন। কি বলিয়া থাকেন, তাহা বলিতেছেন-যে ব্রহ্মবিদ্যা দ্বারা, -ব্রহ্ম অর্থ-পরমাত্মা, বিদ্যার সাহায্যে তাঁহাকে জানা যায়, তাহার নাম ব্রহ্ম- বিদ্যা। সেই ব্রহ্ম-বিদ্যা দ্বারা সমস্ত অর্থাৎ যেরূপ হইলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, ঠিক সেইরূপ সর্ব্বাত্মভাব প্রাপ্ত হইব বলিয়া মনুষ্যগণ মনে করে; যেমন কৰ্ম্ম হইতে কর্মফলপ্রাপ্তি ধ্রুব বলিয়া মনে করে, তেমনি ব্রহ্মবিদ্যা হইতেও সর্ব্বাত্ম- ভাব-প্রাপ্তিরূপ ফলকে অবশ্যম্ভাবী বলিয়াই মনে করিয়া থাকে; কারণ, বেদ- প্রামাণ্যের সম্ভাব উভয়ত্রই সমান, অর্থাৎ কর্মফল-সম্বন্ধেও বেদই প্রমাণ, এবং ব্রহ্মবিদ্যার ফল সম্বন্ধেও বেদই প্রমাণ; সুতরাং উভয় ফলই এক প্রমাণ-গম্য বলিয়া উভয়েতেই তুল্য বিশ্বাস হওয়া উচিত। মনুষ্যেরই বিশেষভাবে অধিকার জ্ঞাপ- নের জন্য, এখানে কেবল মনুষ্যের উল্লেখ করা হইয়াছে; অভিপ্রায় এই যে, স্বর্গাদি অভ্যুদয় এবং মুক্তিরূপ নিঃশ্রেয়সসিদ্ধির উপায়সাধনে মনুষ্যগণেরই বিশেষ- ভাবে অধিকার,[অন্যের সেরূপ অধিকার নাই]।

এ বিষয়ে কিঞ্চিৎ বিরুদ্ধভাব লক্ষিত হইতেছে; এইজন্য আমরা জিজ্ঞাসা করিতেছি যে, যাহার বিজ্ঞানে মনুষ্যগণ সর্বাত্মক হইব বলিয়া মনে করিয়া থাকে, সেই ব্রহ্ম নিজে কি বিষয় জানিয়াছিলেন,-যাহা জানিয়া তিনি সর্বাত্মক হইয়া- ছেন? শ্রুতি হইতে জানা যায় যে, ব্রহ্ম সর্বময়; তিনি যদি অপর কোনও বস্তু না জানিয়াই সর্বাত্মক হইয়া থাকেন, তবে অপরের সম্বন্ধেও সেইরূপই হউক, ব্রহ্মবিদ্যার প্রয়োজন কি? আর তিনিও যদি কিছু জানিবার পরই সর্ব্বা- ত্মক হইয়া থাকেন, তাহা হইলে, ব্রহ্মবিজ্ঞানের ফলস্বরূপ সর্বাত্মভাব যখন বিজ্ঞান-সাধ্য অর্থাৎ জ্ঞান হইতে সমুৎপন্ন, তখন তাহাও কর্মফলেরই তুল্য; সুতরাং তাহাও অনিত্য হইতে পারে। দ্বিতীয়তঃ অনবস্থা দোষও হয়,-কেন না, সেই সর্বাত্মক ব্রহ্ম যেরূপ অন্য বস্তু অবগত হইয়া সর্বাত্মক হইয়াছেন, তৎ-

একমাত্র আত্মার উপাসনা করিতে হইবে, তাহার কারণনির্দেশার্থ এই দশম শ্রুতির অবতারণা করা হইতেছে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৭৩

পূর্ব্ববর্তী ব্রহ্মও আবার সেইরূপই অন্য কিছু জানিয়া-[ সর্বাত্মক হইয়াছিলেন; এইরূপে অনবস্থা দোষ আসিয়া পড়ে]। আর তিনি যে, কিছু না জানিয়াই সর্ব্বময় হইয়াছিলেন, তাহাও হইতে পারে না; কারণ, তাহা হইলে শাস্ত্রের তাৎপর্য্য দুইপ্রকার কল্পনা করিতে হয় অর্থাৎ কেবল আমাদের সর্ব্বাত্মভাবেই অন্য বিজ্ঞান আবশ্যক হয়, কিন্তু ব্রহ্মের পক্ষে তাহা হয় না; এই প্রকারে একই শাস্ত্রের দুইপ্রকার অর্থ কল্পনা করিতে হয়। | আর যদি তিনি কিছু জানিয়াই সর্ব্বময় হইয়া থাকেন], তাহা হইলেও বিদ্যাফল সর্ব্বাত্মভাবের অনিত্যত্ব হইতে পারে।[ তদুত্তরে বলিতেছেন যে,] না-এখানে ইহার একটি দোষও হয় না। কারণ, অর্থভেদে ইহার উপপত্তি বা সমাধান হইতে পারে। অভিপ্রায় এই যে, ব্রহ্ম যদিও নিত্য এবং অপরিচ্ছিন্ন, তথাপি অবিদ্যার প্রভাবে তাঁহাতে অনিত্যত্ব ও পরিচ্ছন্নত্বাদি দোষ আরোপিত হয়, সেই অবিদ্যা ও তৎকার্য্যের ধ্বংসসাধনরূপ যে প্রয়োজন, তাহা সেখানেও অব্যাহতই রহিয়াছে, কাজেই বিদ্যার নিষ্ফলত্ব বা অনিত্যফলত্ব দোষ সম্ভাবিত হয় না ॥ ৪৬ ॥ ৯ ॥

ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীত্তদাত্মানমেবাবেৎ। অহং ব্রহ্মাস্মীতি। তস্মাত্তং সর্বমভবৎ, তদ্যো যো দেবানাং প্রত্যবুধ্যত, স এব তদভবৎ, তথষীণাং তথা মনুষ্যাণাং, তদ্ধৈতং পশ্যন্ন র্ষিবামদেবঃ প্রতিপেদেহহং মনুরভবসূর্য্যশ্চেতি।

- তদিদমপ্যেতহি য এবং বেদাহং ব্রহ্মাস্মীতি, স ইদং সর্ব্বং ভবতি, তস্য হ ন দেবাশ্চ নাভূত্যা ঈশতে। আত্মা হ্যেষাং স ভবতি, অথ যোহন্যাং দেবতামুপাস্তেহন্যোসাবন্যোহহমস্মীতি, ন স বেদ; যথা পশুরেবং স দেবানাম্। যথা হ বৈ বহবঃ পশবো মনুষ্যং ভুঞ্জ্যুরেবমেকৈকঃ পুরুষো দেবান্ ভুনক্ত্যে- কস্মিন্নেব পশাবাদীয়মানেহপ্রিয়ং ভবতি কিন্তু বহুযু, তস্মাদেষাং তন্ন প্রিয়ং, যদেতনমনুষ্যা বিদ্যুঃ ॥ ৪৬ ॥ ১০ ॥

সরলার্থঃ।—প্রাগুক্তস্য প্রশ্নস্য প্রতিবচনমুচ্যতে “ব্রহ্ম বা” ইত্যাদিনা।] অগ্রে(সৃষ্টেঃ প্রাক্) ইদং(জগৎ) ব্রহ্ম বৈ(এব) আসীৎ; তৎ(ব্রহ্ম) আত্মানং (স্বমেব রূপং) অবেৎ(বিজ্ঞাতবৎ),—অহং ব্রহ্ম(বৃহত্তমং—সর্ব্বব্যাপি) অগ্নি (ভবামি) ইতি; তস্মাৎ(আত্মবিজ্ঞানাৎ) তৎ(ব্রহ্ম) সর্ব্বং(সর্ব্বাত্মকম্) অভবৎ;

২৭৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

[কিং বহুনা,] দেবানাং মধ্যে যঃ যঃ তৎ(ব্রহ্ম) প্রত্যবুধ্যত(জ্ঞাতবান্, আত্মবিজ্ঞানং লব্ধবান্), সঃ এব তৎ(ব্রহ্ম) অভবৎ; তথা ঋষীণাম্, তথা মনু- য্যাণাং[মধ্যেহপি যঃ যঃ প্রত্যবুধ্যত, স এব তদভবৎ, ইতি সম্বন্ধঃ]। ঋষিঃ বামদেবঃ হ(ঐতিহ্যে) তৎ এতৎ(ব্রহ্ম) পশ্যন্(অনুভবন্) প্রতিপেদে(প্রতি- পন্নঃ বভূব)—অহং মনুঃ সূর্য্যঃ চ(অপি) অভাবম্ ইতি। এতর্হি(ইদানীং) অপি যঃ(জনঃ) এবং(যথোক্তেন প্রকারেণ) তৎ(প্রাগুক্তং) ইদং অহং ব্রহ্ম অস্মি ইতি বেদ(বিজানাতি), সঃ(সোহপি) ইদং(দৃশ্যমানং) সর্ব্বং(সর্বাত্মকং) ভবতি। দেবাঃ চ(অপি) তস্য(সর্ব্বভাবাপন্নস্য) অভূত্যৈ(অকল্যাণায়) ন হ (নৈব) ঈশতে(সমর্থা ভবন্তি);[কুতঃ?] হি(যস্মাৎ) সঃ(বিদ্বান্) এষাং (দেবানাং) আত্মা(অভিন্নরূপঃ) ভবতি।

অথ(পক্ষান্তরে) যঃ(জনঃ) অসৌ(উপাস্যঃ দেবঃ) অন্যঃ(মত্তঃ পৃথক্), অহং(উপাসকঃ) অন্যঃ(উপাস্যাৎ পৃথক্) অস্মি(ভবামি),—ইতি(এবং) অন্যাং (আত্মভিন্নাং) দেবতাম্ উপাস্তে; সঃ(উপাসকঃ) ন বেদ(ব্রহ্ম ন জানাতি); [অতএব মনুষ্যাণাং] যথা পশুঃ(গবাদিঃ—ভোগ্যঃ), সঃ(অব্রহ্মবিৎ) [অপি], দেবানাং এবং(তথা ভোগ্যঃ),[অবিদ্বান্ পুরুষোহপি পশুবৎ দেবানাং ভোগ্যো ভবতীতি ভাবঃ]। যথা(যদ্বৎ) বহবঃ পশবঃ(গো-মেষাদয়ঃ) মনুষ্যং ভুজ্যুঃ(উপভোগং কুর্ব্বন্তি), এবং(তদ্বৎ) একৈকঃ পুরুষঃ(মনুষ্যঃ) দেবান্ ভুনক্তি(তেষাং ভোগং নিষ্পাদয়তি)। একস্মিন্ পশৌ আদীয়মানে(অপহ্রিয়- মাণে সতি) অপ্রিয়ং(দুঃখং) ভবতি, কিমু বহুযু?(বহুযু আদীয়মানেষু সৎসু অপ্রিয়ং ভবতীতি কিমু বাচ্যম্?) তস্মাৎ(হেতোঃ) এষাং(দেবানাং) তৎ ন প্রিয়ম্,[কিং?] যৎ মনুষ্যাঃ এতৎ(সর্ব্বং ব্রহ্ম) বিদ্যুঃ(বিজানীযুঃ) ইতি ॥ ৪৭ ॥ ১০ ॥

মূলানুবাদ?—সৃষ্টির পূর্ব্বে এই জগৎ ব্রহ্মস্বরূপ ছিল; তিনি, ‘আমি হইতেছি ব্রহ্ম’ এইরূপে আত্মাকেই জানিয়াছিলেন; সেই কারণেই তিনি সর্বাত্মক হইয়াছিলেন। দেবতাগণ, ঋষিগণ ও মনুষ্যগণের মধ্যে যে যে ব্যক্তি তাঁহাকে(ব্রহ্মকে) বুঝিয়াছিলেন, তিনিই সেই ব্রহ্ম হইয়াছিলেন। বামদেব ঋষি সেই এই ব্রহ্মতত্ত্ব অবগত হইয়া বুঝিয়াছিলেন যে, আমিই মনু ও সূর্য্য হইয়াছিলাম। বর্তমান সময়েও যে কোন লোক এই প্রকার বুঝিতে পারে যে, ‘আমি হইতেছি—ব্রহ্মস্বরূপ’,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৭৫

তিনিও এই সর্বাত্মভাব প্রাপ্ত হন; দেবগণও তাঁহার অনিষ্টসাধনে সমর্থ হন না। কারণ, তিনি এ সমস্তেরই আত্মা(স্বরূপভূত) হন; পক্ষান্তরে, যে লোক ইহাকে ত্যাগ করিয়া অন্য দেবতার উপাসনা করে,-‘আমি (উপাসক) অন্য, এবং ইনি(উপাস্য) অন্য, এইরূপ ভেদদৃষ্টিতে অপর দেবতার উপাসনা করে, প্রকৃতপক্ষে সে লোক ব্রহ্মকে জানে না। মনুষ্যগণের যেমন পশু, তিনিও দেবগণের নিকট তদ্রূপ, অর্থাৎ পশুর ন্যায় দেবগণের উপভোগ্য হন। বহু পশু যেরূপ মনুষ্যকে ভোগ করে অর্থাৎ মনুষ্যের ভোগ সাধন করে, তেমনি সেই ভেদদর্শী এক একটি লোকও দেবগণের উপভোগ্য হইয়া থাকে। একটি পশুও অপরে লইলে অথবা হস্তচ্যুত হইলে যখন অপ্রিয় বা দুঃখ উপস্থিত হয়, তখন বহু পশু ঐরূপ হইলে ত কথাই নাই; এই কারণেই দেবতাদিগের তাহা প্রিয় নয় যে, মনুষ্যগণ ব্রহ্মতত্ত্ব অবগত হয় ॥ ৪৭ ॥ ১০ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—যদি কিমপি বিজ্ঞায়ৈব তদ্ ব্রহ্ম সব্বমভবৎ, পৃচ্ছামঃ— কিমু তদ্ ব্রহ্ম অবেদ, যস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবদিতি। এবং চোদিতে সর্ব্বদোষানা- গন্ধিতং প্রতিবচনমাহ—

ব্রহ্ম অপরম্, সর্ব্বভাবস্য সাধ্যত্বোপপত্তেঃ; ন হি পরস্য ব্রহ্মণঃ সর্ব্বভাবাপত্তি- র্বিজ্ঞানসাধ্যা; বিজ্ঞানসাধ্যাঞ্চ সর্ব্বভাবাপত্তিমাহ—‘তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবৎ’ ইতি। তস্মাদ “ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” ইতি অপরং ব্রহ্মেহ ভবিতুমর্হতি। ১

টীকা।—ইদানীং প্রশ্নমনুদ্য তদুত্তরত্বেন ব্রহ্মেত্যাদিশ্রুতিমবতারয়তি—যদীত্যাদিনা। তত্র বৃত্তিকৃতাং মতানুসারেণ ব্রহ্মশব্দার্থমাহ—ব্রহ্মেতি। তস্য পরিচ্ছিন্নত্বাজ্‌জ্ঞানেন সর্ব্বভাবস্য সাধ্যত্বসম্ভবাদিতি হেতুমাহ—সর্ব্বভাবস্যেতি। সিদ্ধান্তে যথোক্তহেত্বনুপপত্তিং দোষমাহ—ন হীতি। সা তর্হি বিজ্ঞানসাধ্যা মা ভূদিত্যত আহ—বিজ্ঞানেতি। ১

মনুষ্যাধিকারাদ্বা তদ্ভাবী ব্রাহ্মণঃ স্যাৎ; “সর্ব্বং ভবিষ্যন্তো মনুষ্যা মন্যন্তে” ইতি হি মনুষ্যাঃ প্রকৃতাঃ; তেষাং চাভ্যুদয়নিঃশ্রেয়সসাধনে বিশেষতোহধিকার ইত্যুক্তম্, ন পরস্য ব্রহ্মণো নাপ্যপরস্য প্রজাপতেঃ। অতো দ্বৈতৈকত্বাপরব্রহ্মবিদ্যয়া কৰ্ম্ম- সহিতয়া অপরব্রহ্মভাবমুপসম্পন্নো ভোজ্যাদপাবৃত্তঃ সর্ব্বপ্রাপ্ত্যা উচ্ছিন্নকামকর্মবন্ধনঃ পরব্রহ্মভাবী ব্রহ্মবিদ্যাহেতোব্রহ্মেত্যভিধীয়তে। দৃষ্টশ্চ লোকেহপি ভাবিনীং বৃত্তিমাশ্রিত্য শব্দপ্রয়োগঃ—যথা ‘ওদনং পচতি’, ইতি; শাস্ত্রে চ—“পরিব্রাজকঃ

২৭৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সর্ব্বভূতাভয়দক্ষিণাম্” ইত্যাদিঃ; তথা ইহ-ইতি। কেচিং-ব্রহ্মভাবী পুরুষো ব্রাহ্মণ ইতি ব্যাচক্ষতে। ২

হিরণ্যগর্ভস্য নোপদেশজন্যজ্ঞানাদব্রহ্মভাবঃ, ‘সহসিদ্ধং চতুষ্টয়ম্’ ইতি স্মৃতেঃ স্বাভাবিক- জ্ঞানবত্ত্বাৎ, তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবদিতি চোপদেশাধীনধীসাধ্যোহসৌ শ্রুতঃ। ন চাসীদিত্যতীত- কালাবচ্ছেদন্ত্রিকালে তস্মিন্ যুজ্যতে। সমবর্ততেতি চ জন্মমাত্রং ক্রয়তে। কালাত্মকে তৎ- সম্বন্ধস্থ্য ‘স্বাশ্রয়পরাহতত্বাৎ মনুষ্যাণাং প্রকৃতত্বাচ্চ নাপরং ব্রহ্মেহ ব্রহ্মশব্দমিত্যপরিতোষাদ বৃত্তিকারমতং হিত্বা ব্রহ্মেতি ব্রহ্মভাবী পুরুষো নির্দিশ্যত ইতি ভর্তৃপ্রপঞ্চোক্তিমাশ্রিত্য তন্মতমাহ-মনুষ্যেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-সর্ব্বমিত্যাদিনা। দ্বৈতৈকত্বং সর্ব্বজগদাত্মকমপরং হিরণ্যগর্ভাখ্যং ব্রহ্ম, তস্মিন্ বিদ্যা হিরণ্যগর্ভোহহমিত্যহংগ্রহোপাস্তিঃ, তয়া সমুচ্চিতয়া তদ্ভাব- মিহৈবোপগতঃ, হিরণ্যগর্ভপদে যস্তোজ্যং ততোহপি দোষদর্শনাদ্বিরক্তঃ, সর্ব্বকৰ্ম্মফলপ্রাপ্ত্যা নিবৃত্ত- “কামাদিনিগড়ঃ সাধ্যান্তরাভাবাদিদ্যামেবার্থয়মানস্তদ্বশাদ ব্রহ্মভাবী জীবোহস্মিন্ বাক্যে ব্রহ্মশব্দার্থ ইতি ফলিতমাহ-অত ইতি। কথ: ব্রহ্মভাবিনি জীবে ব্রহ্মশব্দস্য প্রবৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- দৃষ্টশ্চেতি। আদিশব্দেন ‘গৃহস্থঃ সদৃশীং ভাৰ্য্যাং বিন্দেত’ ইত্যাদি গৃহ্যতে। ইহেতি প্রকৃত- বাক্যকথনম্। ২

তন্ন; সর্ব্বভাবোপপত্তেরনিত্যত্বদোষাৎ। নহি সোহস্তি লোকে পরমার্থতঃ, যো নিমিত্তবশাস্তাবান্তরমাপদ্যতে নিত্যশ্চেতি। তথা ব্রহ্মবিজ্ঞান-নিমিত্তকৃতা চেৎ সর্ব্বভাবাপত্তিঃ, নিত্যা চেতি বিরুদ্ধম্। অনিত্যত্বে চ কৰ্ম্মফলতুল্যতেত্যুক্তো দোষঃ। ৩

ভর্তৃপ্রপঞ্চব্যাব্যানং দূষয়তি—তন্নেতি। ব্রহ্মশব্দেন পরমাদর্থান্তরস্য গ্রহে তস্য সর্ব্বভাবাপত্তেঃ সাধ্যত্বাদনিত্যত্বাপত্তের্ন তন্মতমুচিতমিত্যর্থঃ। সাধ্যস্যাপি মোক্ষস্য নিত্যত্বমাশঙ্কা, যৎ কৃতকং তদনিত্যমিতি ন্যায়মাশ্রিত্যাহ—ন হীতি। সামান্যন্যায়ং প্রকৃতে যোজয়তি—তথেতি। ভবতু সর্ব্বভাবাপত্তেরনিত্যত্বং, কা হানিস্তত্রাহ—অনিত্যত্বে চেতি। ৩

অবিদ্যাকৃতাসর্ব্বত্বনিবৃত্তিং চেৎ সর্ব্বভাবাপত্তিং ব্রহ্মবিদ্যাফলং মন্যসে, ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনা ব্যর্থা স্যাৎ। প্রাগব্রহ্মবিজ্ঞানাদপি সর্ব্বো জন্তুব্রহ্মত্বাৎ নিত্যমেব সর্ব্বভাবাপন্নঃ পরমার্থতঃ; অবিদ্যয়া তু অব্রহ্মত্বমসর্ব্বত্বঞ্চাধ্যারোপিতম্- যথা শুক্তিকায়াং রজতম্, ব্যোয়ি বা তলমলবস্থাদি; তথেহ ব্রহ্মণি অধ্যারোপিত- মবিদ্যয়া অব্রহ্মত্বমসর্ব্বত্বঞ্চ ব্রহ্মবিদ্যয়া নিবর্ততে, ইতি মন্যসে যদি, তদা যুক্তম্- যৎ পরমার্থত আসীৎ পরং ব্রহ্ম ব্রহ্মশব্দস্য মুখ্যার্থভূতং “ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” ইত্যস্মিন্ বাক্য উচ্যতে-ইতি বক্তুম্; যথাভূতার্থবাদিত্বাদ বেদস্য। ন ত্বিয়ং কল্পনা যুক্ত-ব্রহ্মশব্দার্থবিপরীতো ব্রহ্মভাবী পুরুষো ব্রক্ষেতুচ্যত ইতি, শ্রুতহান্য- শ্রুতকল্পনায়া অন্যায্যস্বাৎ-মহত্তরে প্রয়োজনান্তরেৎসতি। ৪. “কিন্তু, কোষ্ঠশূলের কফপিত্তজ্বর, পিত্তজ্বর, যকৃৎজ্বর, যক্ষ্মা-রোগ—অবিদ্য।”

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৭৭

কৃতেতি। তত্রানুবাদভাগং বিভজতে-প্রাগিত্যাদিনা। ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনা ব্যর্থেত্যুক্তং ব্যক্তীকরোতি-তদেতি। তস্মিন্ পক্ষে যদ্‌ব্রহ্মজ্ঞানাৎ পূর্বমপি পরমার্থতঃ পরং ব্রহ্মাসীৎ, তদেব প্রকৃতে বাক্যে ব্রহ্মশব্দেনোচ্যুত ইতি যুক্তং বক্তং, তদ্ধি ব্রহ্মশব্দস্তু মুখ্যমালম্বনমিতি যোজনা। গৌর্ব্বাহীক ইতিবদমুখ্যার্থোহপি ব্রহ্মশব্দে। নির্ব্বহতীত্যাশঙ্ক্যাহ-যথেতি। নিরতিশয়মহত্ত্ব- সম্পন্নং বস্তু ব্রহ্মশব্দেন শ্রুতম্, অশ্রুতস্তু ব্রহ্মভাবী পুরুষঃ, শ্রুতহান্যা অশ্রুতকল্পনা ন ন্যায়বতী, তস্মাত্তৎকল্পনা ন যুক্তেতি ব্যাবর্ত্ত্যমাহ-ন ত্বিতি।

অগ্নিরধীতেহনুবাকমিত্যাদৌ শ্রুতহান্যা অশ্রুতোপাদানঃ দৃষ্টমিত্যাশঙ্ক্যাহ—মহত্তর ইতি। তত্রাগ্নিশব্দস্য মুখ্যার্থত্বে সত্যন্বিতাভিধানানুপপত্যা বাক্যার্থাসিদ্ধেস্তজজ্ঞানে প্রয়োজনে শ্রুতমপি হিত্বা অশ্রুতং গৃহ্যেত, প্রকৃত্তে ত্বসতি প্রয়োজনবিশেষে শ্রুতহান্যাদিন যুক্তিমতীত্যর্থঃ। মনুষ্যাধি- কারং নির্ব্বোঢ়ং ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনেত্যাশঙ্কা মহত্তরবিশেষণম্। যদ্রহ্মবিদ্যয়েতি পরস্যাপি তুল্যমধিকৃতত্বং, তস্য চাবিদ্যাদ্বারাহধিকারিত্বমবিরুদ্ধমিতাগ্নে স্ফুটাভবিষ্যতীতি ভাবঃ। ৪

অবিদ্যাকৃতব্যতিরেকেণাব্রহ্মত্বমসর্ব্বত্বঞ্চ বিদ্যত এবেতি চেৎ; ন; তস্য ব্রহ্ম- বিদ্যয়া অপোহানুপপত্তেঃ। ন হি কচিং সাক্ষাদস্তুধৰ্ম্মস্যাপোচী দৃষ্টা কর্ত্রী বা ব্রহ্মবিদ্যা; অবিদ্যায়ান্ত সর্ব্বত্রৈব নিবর্ত্তিকা দৃশ্যতে; তথা ইহাপি অব্রহ্মত্বমসর্ব্ব- ত্বঞ্চাবিদ্যাকৃতমেব নিবর্ত্যতাং ব্রহ্মবিদ্যয়া; নতু পারমাণিকং বস্তু কর্তৃং নিবর্ত্ত- রিতুং বা অর্হতি ব্রহ্মবিদ্যা। তস্মাদ্ব্যর্থৈব শ্রুতহান্যশ্রুতকল্পনা। ৫

দ্বিতীয়ং কল্পমুখাপয়তি-অবিদ্যেতি। ব্রহ্মবিদ্যাবৈয়র্থ প্রসঙ্গামৈবমিতি দূষয়তি-ন তস্যেতি। অনুপপত্তিমেব সাধয়তি-নহীতি। সাক্ষাদারোপমন্তরেণেতি যাবৎ। বস্তুধৰ্ম্মস্য পরমার্থভূতস্য পদার্থস্যেত্যর্থঃ। বিদ্যায়াস্তর্হি কথমর্থবর, তত্রাহ-অবিদ্যায়াস্থিতি। সর্ব্বত্র শুক্ত্যাদাবিতি যাবৎ। বিমতমবিদ্যাত্মকং বিদ্যানিবত্তত্বাৎ রজতাদিবদিতাভিপ্রেত্য দাষ্টান্তিক- মাহ-তথেতি। বিমতং ন কারকং বিদ্যাত্বাৎ শুক্তিবিদ্যাবদিত্যাশয়েনাহ-নত্বিতি। অব্রহ্মত্বা- দেব্বান্তবত্বাযোগাদযুক্তা ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনেত্যুপসংহরতি-তস্মাদিতি। ৫

ব্রহ্মণ্যবিদ্যানুপপত্তিরিতি চেৎ; ন; ব্রহ্মণি বিদ্যাবিধানাৎ। ন হি শুক্তি- কায়াং রজতাধ্যারোপণেহসতি শুক্তিকাত্বং জ্ঞাপ্যতে-চক্ষুর্গোচরাপন্নায়াম্ ‘ইয়ং শুক্তিকা, ন রজতম্’ ইতি। তথা ‘সদেবেদঃ সদ্বং, ব্রহ্মৈবেদং সর্ব্বম্, আত্মৈবেদং সর্ব্বং, নেদং দ্বৈতমস্তি অব্রহ্ম’ ইতি ব্রহ্মণ্যেকত্ববিজ্ঞান, ন বিধাতব্যম্, ব্রহ্মণ্যবিদ্যা- ধ্যারোপণায়ামসত্যাম্। ন ক্রমঃ-শুক্তিকায়ামিব ব্রহ্মণ্যতদ্ধর্মাধ্যারোপণা নাস্তীতি; কিং তর্হি? ন ব্রহ্ম স্বাত্মন্যতদ্ধম্মাধ্যারোপনিমিত্তম্ অবিদ্যাকর্তৃ চেতি। ভবত্বেবং-নাবিদ্যাকর্তৃ ভ্রান্তঞ্চ ব্রহ্ম; কিন্তু নৈব অব্রহ্মাবিদ্যাকর্তা চেতনো ভ্রান্তোহন্য ইষ্যতে-“নান্যোহতোহস্তি বিজ্ঞাতা”, “নান্যদতোহস্তি বিজ্ঞাতৃ”, “তত্ত্বমসি”, “আত্মানমেবাবেৎ”, “অহং ব্রহ্মাস্নি”, অন্যোহসাবন্যোহহমস্তীতি ন স বেদ” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। স্মৃতিভ্যশ্চ-“সমং সর্ব্বেযু ভূতেষু”, “অহমাত্মা গুড়া-

২৭৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

কেশ”, “শুনি চৈব শ্বপাকে চ”, “যস্ত সর্ব্বাণি ভূতানি”, “যস্মিন্ সর্ব্বাণি ভূতানি” ইতি চ মন্ত্রবর্ণাৎ। ৬

ব্রহ্মণ্যবিদ্যানিবৃত্তির্বিদ্যাফলমিত্যত্র চোদয়তি-ব্রহ্মণীতি। ন হি সর্বজ্ঞে প্রকাশৈকরসে ব্রহ্মণ্যজ্ঞানমাদিত্যে তমোবদুপ-ন্নমিতি ভাবঃ। তস্যাজ্ঞাতত্বমজ্ঞত্বং বাক্ষিপ্যতে? নাদ্যঃ, ইত্যাহ-ন ব্রহ্মণীতি। ন হি তত্ত্বমসীতি বিদ্যাবিধানং বিজ্ঞাতে ব্রহ্মণি যুক্তং, পিষ্টপিষ্টিপ্রসঙ্গাৎ। অতস্তদজ্ঞাতমেষ্টব্যমিত্যর্থঃ। ব্রহ্মাત્મৈক্যমজ্ঞাতং শাস্ত্রেণ জ্ঞাপ্যতে, তদ্বিষয়ং চ শ্রবণাদি বিধীয়তে, তেন তস্মিন্নজ্ঞাতত্বমেষ্টব্যমিত্যুক্তমর্থং দৃষ্টান্তেন সাধয়তি-ন হীতি। মিথ্যাজ্ঞানস্যাজ্ঞান ব্যতিরেকাদ্‌ব্রহ্মণাবিদ্যাধ্যারোপণায়াং শুক্তৌ রূপারোপণং দৃষ্টান্তিতমিতি দ্রষ্টব্যম্। কল্পান্তর- মালম্বতে-ন ক্রম ইতি।

ব্রহ্মাবিদ্যাকর্তৃ ন ভবতীত্যস্য যথাশ্রুতো বা অর্থঃ? তদন্যস্তদাশ্রয়োহস্তীতি বা? তত্রাদ্যমঙ্গী- করোতি—ভবত্বিতি। অনাদিত্বাদবিদ্যায়াঃ কর্ত্তপেক্ষাভাবাদিনা চ দ্বারং ব্রহ্মণি ভ্রান্তানভ্যুপ- গমাদিত্যর্থঃ। দ্বিতীয়ং প্রত্যাহ—কিন্তুিতি। ব্রহ্মণোহন্যশ্চেতনো নাস্তীতাত্র শ্রুতিস্মৃতীরুদা- হরতি—নান্যোহতোহস্তীত্যাদিনা। ব্রহ্মণোহন্যোহচেতনোহপি নাস্তীতাত্র মন্ত্রদ্বয়ং পঠতি— যস্তিতি। ৬

নন্বেবং শাস্ত্রোপদেশানর্থক্যমিতি; বাঢ়ম্, এবমবগতে অন্ত্বেবানর্থক্যম্। অবগমানর্থক্যমপীতি চেৎ; ন; অনবগমনিবৃত্তেদৃষ্টত্বাৎ। তন্নিবৃত্তেরপ্যনুপ- পত্তিরেকত্বে ইতি চেৎ; ন, দৃষ্টবিরোধাৎ; দৃশ্যতে হি একত্ববিজ্ঞানাদেবানব- গমনিবৃত্তিঃ; দৃশ্যমানমপ্যনুপপন্নমিতি ধ্রুবতো দৃষ্টবিরোধঃ স্যাৎ। ন চ দৃষ্টবিরোধঃ কেনচিদপ্যভ্যুপগম্যতে; ন চ দৃষ্টেইনুপপন্নং নাম, দৃষ্টত্বাদেব। দর্শনানুপপত্তি- রিতি চেৎ; তত্রাপ্যেষৈব যুক্তিঃ। ৭

ব্রহ্মণোহন্যস্যাজ্ঞস্যাভাবে দোষমাশঙ্কতে-নন্বিতি। কিমিদমানর্থক্যমবগতেহনবগতে বা চোদ্যতে? তত্রাদ্যমঙ্গীকরোতি-বাঢ়মিতি। দ্বিতীয়ে, নোপদেশানর্থক্যমবগমার্থত্বাদিতি দ্রষ্টব্যম্। উপদেশবদবগমস্যাপি স্বপ্রকাশে বস্তুনি নোপযোগোহস্তীতি শঙ্কতে-অবগমেতি। অনুভবমনুসৃত্য পরিহরতি-নানবগমেতি। সা বস্তুনো ভিন্না চেদদ্বৈতহানিঃ, অভিন্না চেজ জ্ঞানাধীনত্বাসিদ্ধিরিতি শঙ্কতে-তন্নিবৃত্তেরিতি। অনবগমনিবৃত্তেদৃশ্যমানতয়া স্বরূপাপ- লাপাযোগাৎ প্রকারান্তরাসম্ভবাচ্চ পঞ্চমপ্রকারত্বমেষ্টব্যমিতি মহাহ-ন দৃষ্টেতি। দৃষ্টমপি যুক্তিবিরোধে ত্যাজ্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-দৃশ্যমানমিতি। দৃষ্টবিরুদ্ধমপি কুতো নেক্সুতে, তত্রাহ-ন চেতি। অনুপপন্নত্বমঙ্গীকৃত্যোক্তং, তদেব নাস্তীত্যাহ-ন চেতি। যুক্তিবিরোধে দৃষ্টিরাভাসী- ভবতীতি শঙ্কতে-দর্শনেতি। দৃষ্টিবিরোধে যুক্তেরেবাভাসত্বং স্যাদিতি পরিহরতি-তত্রাপীতি। অনুপপন্নত্বং হি সর্ব্বস্য দৃষ্টিবলাদিষ্টং, দৃষ্টস্য ত্বনুপপন্নত্বে ন কিঞ্চিরিমিত্তমস্তীত্যর্থঃ। ৭

“পুণ্যো বৈ পুণ্যেন কর্ম্মণা ভবতি।” “তং বিদ্যাকর্ম্মণী সমন্বারতেতে।” “মস্তা বোদ্ধা কর্তা বিজ্ঞানাত্মা পুরুষঃ” ইত্যেবমাদিশ্রুতিস্মৃতিন্যায়েভ্যঃ পর- স্মাদ্বিলক্ষণোহন্যঃ সংসারী অবগম্যতে; তদ্বিলক্ষণশ্চ পরঃ “স এব নেতি নেতি”

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৭৯

“অশনায়াদ্যত্যেতি” “য আত্মাপহতপাপ্মা বিজরো বিমৃত্যুঃ” “এতস্য বা অক্ষরস্য প্রশাসনে” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যঃ। কণাদাক্ষপাদাদিতর্কশাস্ত্রেষু চ সংসারিবিলক্ষণ ঈশ্বর উপপত্তিতঃ সাধ্যতে; সংসারদুঃখাপনয়ার্থিত্বপ্রবৃত্তিদর্শনাৎ স্ফুটমন্যত্বমীশ্বরাৎ সংসারিণোহবগম্যতে; “অবাক্যনাদরঃ” “ন মে পার্থাস্তি” ইতি শ্রুতিস্মৃতিভ্যঃ; “সোহন্মেষ্টব্যঃ স বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ” “তং বিদিত্বা ন লিপ্যতে” “ব্রহ্মবিদাপ্নোতি পরম্” “একধৈবানুদ্রষ্টব্যমেতৎ” “ষো বা এতদক্ষরং গার্গ্যবিদিত্বা” “তমেব ধীরো বিজ্ঞায়” “প্রণবো ধনুঃ, শরো হ্যাত্মা, ব্রহ্ম তল্লক্ষ্যমুচ্যতে” ইত্যাদিকর্মকর্তৃনিদে- শাচ্চ। মুমুক্ষোশ্চ গতি-মার্গবিশেষদেশোপদেশাৎ; অসতি ভেদে কস্য কুতো গতিঃ স্যাৎ? তদভাবে চ দক্ষিণোত্তরমার্গবিশেষানুপপত্তির্গন্তব্যদেশানুপপত্তিশ্চেতি; ভিন্নস্থ্য তু পরম্মাদাত্মনঃ সর্ব্বমেতদুপপন্নম্। ৮

ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনাং নিরাকৃত্য স্বপক্ষে শাস্ত্রস্যার্থবত্বমুক্তং, সম্প্রতি প্রকারান্তরেণ পূর্ব্ব- পক্ষয়তি-পুণ্য ইতি। আদিশব্দেন ‘যোহয়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু’ ইত্যাদ্যা শ্রুতিগৃহাতে। ‘কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বম্’ ইত্যাদি স্মৃতিঃ। ন্যায়ো মিথোবিরুদ্ধয়োরেকত্বাযোগঃ। বিলক্ষণত্বমন্যত্বে হেতুঃ। জীবস্য পরম্মাদন্যত্বেইপি ন তস্য ততোহন্যত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-তদ্বিলক্ষণশ্চেতি। পরস্য তদ্বিলক্ষণত্বং শ্রুতিতো দর্শয়িত্বা তত্রৈবোপপত্তিমাহ-কণাদেতি। ক্ষিত্যাদিকমুপলব্ধিমৎকর্তৃকং কার্যাত্বাদ ঘটবদিত্যাদ্যোপপত্তিঃ। তয়োমিথো ভেদে হেত্বন্তরমাহ-সংসারেতি। জীবস্য স্বগতদুঃখধ্বংসে দুঃখং মে মা ভূদিত্যর্থিত্বেন প্রবৃত্তিদৃষ্টা, নেশস্য সাহস্তি, দুঃখাভাবাৎ; অতো ভেদস্তয়োরিত্যর্থঃ। ইতশ্চেশ্বরস্য ন প্রবৃত্তির্হেতুফলয়োরভাবাদিত্যাহ-অবাকীতি। মিথো ভেদে শ্রৌতং লিঙ্গান্তরমাহ-সোহন্বেষ্টব্য ইতি। ৮

কৰ্ম্ম-জ্ঞানসাধনোপদেশাচ্চ, -ভিন্নশ্চেদ্ব হ্মণঃ সংসারী স্যাৎ, যুক্তস্তং প্রত্যভ্যু- দয়নিঃশ্রেয়সসাধনয়োঃ কৰ্ম্ম-জ্ঞানয়োরুপদেশঃ, নেশ্বরস্য, আপ্তকামত্বাৎ; তস্মাদ যুক্তং ব্রহ্মেতি ব্রহ্মভাবী পুরুষ উচ্যত ইতি চেৎ;-ন, ব্রহ্মোপদেশানর্থক্যপ্রস- ঙ্গাৎ,-সংসারী চেৎ ব্রহ্মভাবী অব্রহ্ম সন্ বিদিত্বাত্মানমেব-অহং ব্রহ্মাস্মীতি সর্ব্বমভবৎ; তস্য সংসার্য্যাত্মবিজ্ঞানাদেব সর্ব্বাত্মভাবস্থ্য ফলস্য সিদ্ধত্বাৎ, পরব্রহ্মো- পদেশস্য ধ্রুবমানর্থক্যং প্রাপ্তম্ ॥ ৯

তত্রৈব লিঙ্গান্তরমাহ-মুমুক্ষুশ্চেতি। গতিৰ্দ্দেবযানাদ্যা, তস্যা মার্গবিশেষোহর্চিরাদিঃ, দেশো গন্তব্যং ব্রহ্ম, তেষামুপদেশাস্তেহর্চিবমভিসম্ভবস্তীত্যাদয়ঃ, তথাপি কথং ভেদসিদ্ধিস্তত্রাহ- অসতীতি। মা ভূদগতিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-তদভাবে চেতি। কথং তহি গত্যাদিকমুপপদ্যতে, তত্রাহ -ভিন্নস্যেতি। জীবেশ্বরয়োমিথো ভেদে হেত্বন্তরমাহ-কর্মেতি। ভেদে সত্যুপপন্না ভবস্তীতি শেষঃ। তদেব স্ফুটয়তি-ভিন্নশ্চেদিতি। তত্ত্বেদে প্রামাণিকেহপি কথং ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনেত্যা- শঙ্ক্যোপসংহরতি-তস্মাদিতি। ব্রহ্মভাবিনো জীবস্ত ব্রহ্মশব্দবাচ্যত্বে ব্রহ্মোপদেশস্তানর্থক্য- প্রসঙ্গাৎ নৈবমিতি দূষয়তি-নেত্যাদিনা। প্রসঙ্গমেব প্রকটয়তি-সংসারী চেদিতি। ৯

২৮০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তদ্বিজ্ঞানস্য কচিৎ পুরুষার্থসাধনেহবিনিয়োগাৎ সংসারিণ এব-অহং ব্রহ্মা- স্মীতি ব্রহ্মত্বসম্পাদনার্থ উপদেশ ইতি চেৎ; অনিজ্ঞাতে হি ব্রহ্মস্বরূপে কিং সম্পাদয়েৎ-অহং ব্রহ্মাস্মীতি? নির্জ্ঞাতলক্ষণে হি ব্রহ্মণি শক্যা সম্পং কর্তুম্। ন; “অয়মাত্মা ব্রহ্ম” “যৎ সাক্ষাদপরোক্ষাদ্ব্রহ্ম।” “য আত্মা” “তৎ সত্যং স আত্মা” “ব্রহ্মবিদাপ্নোতি পরম্” ইতি প্রকৃত্য “তস্মাদ্বা এতম্মাদাত্মনঃ” ইতি সহস্রশো ব্রহ্মাত্মশব্দয়োঃ সামানাধিকরণ্যাদেকার্থত্বমেবেত্যবগম্যতে। অন্যন্য হি অন্যত্র সম্পৎ ক্রিয়তে, নৈকত্বে; “ইদং সর্ব্বং যদয়মাত্মা” ইতি চ প্রকৃতস্যৈব দ্রষ্টব্যস্যাত্মন একত্বং দর্শয়তি। তস্মান্নাত্মনো ব্রহ্মত্বসম্পদুপ- পত্তিঃ। ১০

বিধিশেষত্বেন ব্রহ্মোপদেশোহর্থবানিতি চেৎ, তত্র কিং কৰ্ম্মবিধিশেষত্বেনোপাস্তিবিধিশেষত্বেন বা তদর্থবত্তমিতি বিকল্প্যাদ্যং দুষয়তি-তদ্বিজ্ঞানস্থেতি। অবিনিয়োগাদ্বিনিযোজকশ্রুত্যাদ্য- ভাবাদিতি শেষঃ। কল্পান্তরমাদত্তে-সংসারিণ ইতি। উপদেশস্য জ্ঞানার্থস্বাত্তদনপেক্ষত্বাচ্চ সম্পত্তেস্তস্য কথং তাদর্থমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অনিজ্ঞাতে হীতি। ব্যতিরেকমুক্তাহন্বয়মাচষ্টে- নিজ্ঞাতেতি। পদয়োঃ সামানাধিকরণ্যেন জীবব্রহ্মণোরভেদাবগমান্ন সম্পৎপক্ষঃ সম্ভবতীতি সমাধত্তে-নেত্যাদিনা। কথমেকত্বে গম্যমানেইপি সম্পদোৎসুপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অন্যন্য হীতি। একত্বে হেত্বন্তরমাহ-ইদমিতি। একত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। ১০

ন চাপ্যন্যৎ প্রয়োজনং ব্রহ্মোপদেশস্য গম্যতে; “ব্রহ্ম বেদ ব্রহ্মৈব ভবতি” “অভয়ং বৈ জনক প্রাপ্তোহসি” “অভয়ং হি বৈ ব্রহ্ম ভবতি” ইতি চ তদাপত্তি- শ্রবণাৎ। সম্পত্তিশ্চেৎ, তদাপত্তিন স্যাৎ। ন হন্যস্যান্যভাব উপপদ্যতে। বচনাৎ সম্পত্তিরপি তদ্ভাবাপত্তিঃ স্যাদিতি চেৎ; ন; সম্পত্তেঃ প্রত্যয়মাত্রত্বাৎ বিজ্ঞানস্থ্য চ মিথ্যাজ্ঞাননিবর্তকত্বব্যতিরেকেণাকারকত্বমিত্যবোচাম। ন চ বচনং বস্তুনঃ সামর্থ্যজনকম্। জ্ঞাপকং হি শাস্ত্রং ন কারকমিতি স্থিতিঃ। “স এষ ইহ প্রবিষ্টঃ” ইত্যাদিবাক্যেযু চ পরস্যৈব প্রবেশ ইতি স্থিতম্। তস্মাদ্‌ব্রহ্মেতি ন ব্রহ্মভাবি-পুরুষকল্পনা সাধ্বী। ১১

কিঞ্চ, সম্পত্তিপক্ষে তদাপত্তিঃ ফলমন্যদ্বেতি বিকল্প্য দ্বিতীয়ং প্রত্যাহ-ন চেতি। আদ্যং দুষয়তি-সম্পত্তিশ্চেদিতি। তং যথাযথেত্যাদিবাক্যমাশ্রিত্য শঙ্কতে-বচনাদিতি। সম্পত্তির- মানস্বার তদ্বলাদন্যস্যান্বত্বমিত্যাহ-নেতি। তস্যা মানদ্বেহপ্যেবং, মানস্তাকারকত্বাৎ। ন চ সূত্রাদ্যুপাসনাদপ্যন্ত্যান্তত্বং, স্থিতস্য নষ্টস্য বানুপপতেঃ। শ্রুতিশ্চ ন পূর্ব্বসিদ্ধসূত্রাদিভাবাতি- ধায়িনী, তৎসাদৃশ্যাপ্ত্যা তদ্ভাবোপচারাৎ; অতো ব্রহ্মভাবঃ স্বতঃ সিদ্ধো ন সাম্পাদিক ইত্যাহ-বিজ্ঞানস্তেতি। অথান্তস্তান্যভাবে যথোক্তং বচনমেব শক্ত্যাধায়কমিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। ব্রহ্মোপদেশানর্থক্যপ্রসঙ্গায় ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনেত্যুক্ত। তত্রৈব হেদ্বন্তরমাহ-স এব

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৮১

ইষ্টার্থবাধনাচ্চ-সৈন্ধবঘনবদনন্তরমবাহ্যমেকরসং ব্রহ্মেতি বিজ্ঞানং সর্ব্ব- স্যামুপনিষদি প্রতিপিপাদয়িষিতোহর্থঃ-কাণ্ডদ্বয়েপ্যন্তেহবধারণাদবগম্যতে- “ইত্যনুশাসনম্” “এতাবদরে খল্বমৃতত্বম্” ইতি; তথা সর্ব্বশাখোপনিষৎসু চ ব্রহ্মৈকত্ববিজ্ঞানং নিশ্চিতোহর্থঃ। তত্র যদি সংসারী ব্রহ্মণোহন্য আত্মানমে- বাবেৎ-ইতি কল্যেত, ইষ্টস্যার্থস্থ্য বাধনং স্যাৎ; তথা চ শাস্ত্রমুপক্রমোপসংহার- রোবিরোধাদসমঞ্জসং কল্পিতং স্যাৎ। ব্যপদেশানুপপত্তেশ-যদি চ “আত্মান- মেবাবেৎ” ইতি সংসারী কল্যেত, ‘ব্রহ্মবিদ্যা’ ইতি ব্যপদেশো ন স্যাৎ “আত্মান- মেবাবেৎ” ইতি; সংসারিণ এব বেদ্যত্বোপপতেঃ। ১১

ব্রহ্মোপদেশস্য সম্পচ্ছেদত্বে দোষান্তরমাহ-ইষ্টার্থোতি। তদেব বিবৃদ্বন্নিষ্টমর্থমাচষ্টে-সৈন্ধ- বেতি। যথোক্তং বস্তু তাৎপর্য্যগম্যমস্যামুপনিষদীত্যত্র হেতুমাহ-কাণ্ডদ্বয়েহপীতি। মধু- কাণ্ডাবসানগতমবধারণং দর্শয়তি-ইত্যনুশাসনমিতি। মুনিকাণ্ডান্তে ব্যবস্থিতমুদাহরতি- এতাবদিতি। ন কেবলমুপদেশস্থ্য সম্পচ্ছেদত্বে বৃহদারণ্যকবিরোধঃ, কিং তু সর্ব্বোপনিষদ্বি- রোধোহস্তীত্যাহ-তথেতি। ইষ্টমর্থমিখমুক্ত। তদ্বাধনং নিগময়তি-তত্রেতি। ননু বৃহদারণ্যকে ব্রহ্মকণ্ডিকায়াং জীবপরয়োর্ভেদোহভিপ্রেতঃ, উপসংহারে ত্বভেদ ইতি ব্যবস্থায়াং তদ্বিরোধঃ শক্যঃ সমাধাতুমিত্যত আহ-তথাচেতি। ব্রহ্মভাবিপুরুষকল্পনায়ামুপদেশানর্থক্যমিষ্টার্থবাধশ্চেত্যুক্তম্, ইদানীং ব্রহ্মেত্যাদিবাক্যে ব্রহ্মশব্দেন পরস্যাগ্রহণে তদ্বিদ্যায়! ব্রহ্মবিদ্যেতি সংজ্ঞানুপপত্তিং দোষাস্তরমাহ-ব্যপদেশানুপপত্তেশ্চেতি। ১২

আত্মেতি বেদিতুরন্যদুচ্যত ইতি চেৎ; ন; “অহং ব্রহ্মাস্মি” ইতি বিশেষণাৎ; অন্যশ্চেদ্বেদ্যঃ স্যাৎ, ‘অয়মসৌ’ইতি বা বিশেষ্যেত, ন তু ‘অহমস্মি’ ইতি। ‘অহমস্মি’ইতি বিশেষণাৎ ‘আত্মানমেবাবেৎ’ ইতি চাবধারণাৎ নিশ্চিতম্ আত্মৈব ব্রহ্মেত্যবগম্যতে; তথা চ সত্যুপপন্নো ব্রহ্মবিদ্যাব্যপদেশঃ, নান্যথা; সংসারিবিদ্যা হি অন্যথা স্যাৎ। ন চ ব্রহ্মত্বাব্রহ্মত্বে হ্যেকস্যোপপন্নে পরমার্থতঃ, তমঃপ্রকাশাবিব ভানোর্বিরুদ্ধত্বাৎ। ১৩ অত্রোক্তব্রহ্মশব্দার্থাদ্ধেতুজীবাদন্যস্তদাত্মানমিত্যত্রাত্মশব্দেন পরো গৃহ্যতে, তদ্বিদ্যা চ ব্রহ্ম- বিদ্যেতি সংজ্ঞাসিদ্ধিরিতি শঙ্কতে-আত্মেতীতি। বাক্যশেষবিরোধান্নৈবমিত্যাহ-নাহমিতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-অন্যশ্চেদিতি। যথোক্তাবগমে-ফলিতমাহ-তথা চ সতীতি। অত্যন্তভেদে ব্যপদেশানুপপত্তিং বিশদয়তি-সংসারীতি। জীবব্রহ্মণোভেদাভেদোপগমাদভেদেন ব্রহ্মবিদ্যেতি ব্যপদেশঃ সেৎস্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। ১৩ ন চোভয়নিমিত্তত্বে ব্রহ্মবিদ্যেতি নিশ্চিতো ব্যপদেশো যুক্তঃ, তদা ব্রহ্মবিদ্যা সংসারিবিদ্যা চ স্যাৎ; ন চ বস্তুনোঽর্জজরতীয়ত্বং কল্পয়িতুং যুক্তম্ তত্ত্বজ্ঞানবিব- ক্ষায়াম্, শ্রোতুঃ সংশয়ো হি তথা স্যাৎ; নিশ্চিতং চ জ্ঞানং পুরুষার্থসাধনমিষ্মতে

২৮২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

—“যস্য স্যাদদ্ধা ন বিচিকিৎসান্তি” “সংশয়াত্মা বিনশ্যতি” ইতি শ্রুতিস্মৃতিভ্যাম্। অতো ন সংশয়িতো বাক্যার্থো বাচ্যঃ পরহিতার্থিনা। ১৪

স্যাতাং বা ব্রহ্মাত্মনোর্ভেদাভেদৌ, তথাপি ভিন্নাভিন্নবিদ্যায়াং ব্রহ্মবিদ্যেতি নিয়তো ব্যপদেশো ন স্যাদিত্যাহ-ন চেতি। নিমিত্তং বিষয়ঃ। ভিন্নাভিন্নবিষয়া বিদ্যা ব্রহ্মবিষয়াপি ভবত্যেবেতি ব্যপদেশসিদ্ধিমাশঙ্ক্যাহ-তদেতি। উভয়াত্মকত্বাদ্বস্তুনস্তদ্বিদ্যাপি তথেতি বিকল্পোপপত্তিমা- শঙ্ক্যাহ-ন চেতি। অস্তু তহি বস্তু ব্রহ্ম বাহব্রহ্ম বা বৈকল্পিকমিত্যাশঙ্ক্যাহ-শ্রোতুরিতি। সংশয়িতমপি জ্ঞানং বাক্যাদুৎপদ্যতে চেত্তাবতৈব পুরুষার্থঃ শ্রোতুঃ সিধ্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ-নিশ্চিতং চেতি। শ্রোতুনিশ্চিতজানস্য ফলবত্ত্বেহপি বক্তঃ সংশয়িতমর্থং বদতো ন কাচন হানিরিত্যা- শঙ্ক্যাহ-অত ইতি। নিশ্চিতস্যৈব জ্ঞানস্য পুমর্থসাধনত্বং ন সংশয়িতস্যেতি অতঃশব্দার্থঃ। ১৪

ব্রহ্মণি সাধকত্বকল্পনা অস্মদাদিঘিব অপেশলা-“তদাত্মানমেবাবেৎ, তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবৎ” ইতি চেং, ন; শাস্ত্রোপালম্ভাৎ; ন হ্যম্মৎকল্পনেয়ম্, শাস্ত্রকৃতা তু; তস্মাচ্ছান্ত্রস্যায়মুপালম্ভঃ; ন চ ব্রহ্মণ ইষ্টং চিকীর্ষুণা শাস্ত্রার্থবিপরীতকল্পনয়া স্বার্থপরিত্যাগঃ কার্য্যঃ। ন চৈতাবত্যেবাক্ষমা যুক্তা ভবতঃ; সর্ব্বং হি নানাত্বং ব্রহ্মণি কল্পিতমেব “একধৈবানুদ্রষ্টব্যম্” “নেহ নানাস্তি কিঞ্চন” “যত্র হি দ্বৈতমিব ভবতি” “একমেবাদ্বিতীয়ং” ইত্যাদিবাক্যশতেভ্যঃ, সর্ব্বো হি লোকব্যবহারো ব্রহ্মণ্যেব কল্পিতো ন পরমার্থঃ সন্, ইত্যল্পমিদমুচ্যতে-ইয়মেব কল্পনা অপেশলেতি। ১৫

জীবপরয়োরত্যন্তভেদস্ত ভেদাভেদয়োশ্চাযোগাৎ পরমেব ব্রহ্ম ব্রহ্মশব্দবাচ্যং, ন জীব- স্তদ্ভাবীত্যুক্তং, সম্প্রত্যত্যন্তাভেদপক্ষে দোষমাশঙ্কতে-ব্রহ্মণীতি। তদাত্মানমেবাবেদিতি জ্ঞাতৃত্বং ব্রহ্মণ্যুচ্যতে, তদযুক্তং, তস্য জ্ঞানমূর্তিত্বাৎ; অত এব ন তৎকর্মত্বমপি। ন চ স্বকর্তৃকৰ্ম্মকজ্ঞানান্ মুক্তিঃ, পরস্য ক্রিয়াকারকফলবিলক্ষণস্বাদতো ন পরং ব্রহ্ম ব্রহ্মশব্দিতমিত্যর্থঃ। শাস্ত্রং ব্রহ্মণি সাধকত্বাদি দর্শয়তি, তচ্চাপৌরুষেরমদোষান্নোপলন্তার্হং, তথা চ তস্মিন্নাবিদ্যং সাধকত্বাদ্যবিরুদ্ধ- মিতি-সমাধত্তে-ন শাস্ত্রেতি। স চাযুক্তস্তস্যাপৌরুষেরত্বেনাসম্ভাবিতদোষত্বাদিতি শেষঃ। ননু ব্রহ্মণো নিত্যমুক্তত্বপরীক্ষণার্থং শাস্ত্রমপ্যুপালভ্যতে, নেত্যাহ-ন চেতি। শাস্ত্রাদ্ধি ব্রহ্মণো নিত্যমুক্তত্বং গম্যতে, সাধকত্বাদি চ তস্য তেনৈবোচ্যতে, ন চার্দ্ধজরতীয়মুচিতং; তথা চ বাস্তবং নিত্যমুক্তত্বং, কল্পিতমিতরদিত্যান্থেয়ম্। যদি তস্য নিত্যমুক্তস্বার্থং সর্ব্বথৈব সাধকত্বাদি নেস্তুতে, তদা স্বার্থপরিত্যাগঃ স্যাৎ, সাধকত্বাদিনা বিনাহত্যুদয়নিঃশ্রেয়সয়োরসম্ভবাৎ। ন চ ব্রহ্মণোহন্ত- শ্চেতনোহচেতনো বাহস্তি ‘মান্যোহতোহস্তি দ্রষ্টা’ ‘ব্রহ্মৈবেদং সর্ব্বম্’ ইত্যাদিশ্রুতেঃ: তস্মাৎ যথোক্তা ব্যবস্থাস্থেরেত্যর্থঃ।

কিঞ্চ, সর্ব্বস্যাপি সংসারস্য ব্রহ্মণ্যবিদ্যয়াধ্যাসাত্তদন্তর্ভূতম্ সাধকদ্বাদ্যপি তত্রাধ্যস্তমিত্যভ্যুপ- গমে কাহনুপপত্তিরিত্যাহ—ন চেতি। তস্য ভস্মিন্ করিতত্বং কুতোহবগতমিত্যাশঙ্ক্যাহ— একথেতি। উক্তশ্রুতিতাৎপর্য্যং সঙ্কলয়তি—সর্ব্বো হীতি। সর্ব্বস্য দ্বৈতব্যবহারস্য ব্রহ্মণি কল্পিতত্বে প্রকৃতচোভস্তাতাসত্বং ফলতীত্যাহ—ইত্যরলিতি। ১৫

১৮৩

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

তস্মাৎ-যৎ প্রবিষ্টং স্রষ্ট, ব্রহ্ম তদ্ ব্রহ্ম; বৈ-শব্দোহবধারণার্থঃ; ইদং শরীরস্থং যৎ গৃহ্যতে, অগ্রে প্রাক্ প্রতিবোধদপি ব্রহ্মৈবাসীৎ সর্ব্বঞ্চেদম্; কিন্তু-অপ্রতিবোধাৎ ‘অব্রহ্মাস্মি অসর্ব্বং চ ইত্যাত্মন্যধ্যারোপাৎ ‘কর্তাহং ক্রিয়াবান, ফলনাঞ্চ ভোক্তা, সুখী দুঃখী সংসারী’ ইতি চাধ্যারোপয়তি; পরমার্থতত্ত্ব ব্রহ্মৈব তদ্বিলক্ষণং সর্ব্বঞ্চ; তৎ কথঞ্চিদাচার্য্যেণ দয়ালুনা প্রতিবোধিতং ‘নাসি সংসারী’ইতি আত্মানমে- বাবেৎ স্বাভাবিকম্, অবিদ্যাধ্যারোপিতবিশেষবর্জিতমিত্যের-শব্দস্যার্থঃ] ১৬

পরপক্ষং নিরাকৃত্য স্বপক্ষং দর্শয়তি-তন্মাদিতি। তদ্ব্যাতিরেকেণ জগন্নাস্তীতি সূচরতি- বৈশব্দ ইতি। তৎপদার্থমুক্ত। ত্বং-পদার্থং কথয়তি-ইদমিতি। তয়োর্ব্বস্তুতো ভেদং শঙ্কিত্বা পদান্তরং ব্যাচষ্টে-প্রাগিতি। তস্যাপরিচ্ছিন্নত্বমাহ-সর্ব্বং চেতি। কথং নর্হি বিপরীতধী- রিত্যাশঙ্ক্যাহ-কিন্তিতি। যথাপ্রতিতাসং কর্তৃত্বাদেব্যস্তবত্বমাশঙ্কা শাস্ত্রবিরোধাৎ মৈবমিত্যাহ- পরমার্থতস্থিতি। তদ্বিলক্ষণমধ্যস্তসমস্তসংসাররহিতমিতি যাবৎ। কিমু তদ্রহ্মেতি চোদ্যং পরিহতা কিং তদবেদিতি চোদ্যান্তরং প্রত্যাহ-তৎ কথঞ্চিদিতি। পূর্ববাক্যোক্তমবিদ্যাবিশিষ্ট- মধিকারিত্বেন ব্যবস্থিতং ব্রহ্ম নাসি সংসারীত্যাচার্য্যেণ দয়াবতা কথঞ্চিদ্বোধিতমাত্মানমেবাবেদিতি সম্বন্ধঃ। আত্মৈব প্রমেয়স্তজ জ্ঞানমেব প্রমাণমিত্যেবমর্থত্বমেবকারস্য বিবক্ষন্নাহ- অবিদ্যেতি। ১৬

ক্রহি কোহসাবাত্মা স্বাভাবিকঃ, যমাত্মান বিদিতবদ্ ব্রহ্ম। ননু ন স্মর- স্যাত্মানম্; দর্শিতো হৃসৌ—য ইহ প্রবিশ্য প্রাণিত্যপানিতি ব্যানিতি উদানিতি সমানিতীতি। ননু ‘অসৌ গৌঃ, অসাবশ্বঃ’ ইত্যেবমসৌ ব্যপদিশ্যতে ভবতা, নাত্মানং প্রত্যক্ষং দর্শয়সি; এবং তর্হি দ্রষ্টা শ্রোতা মন্তা বিজ্ঞাতা স আত্মেতি। নম্বত্রাপি দর্শনাদিক্রিয়াকর্তুঃ স্বরূপং ন প্রত্যক্ষং দর্শয়সি; ন হি গমিরেব গন্ত্বঃ স্বরূপম্, ছিদিব্বা ছেতুঃ; এবং তর্হি দৃষ্টের্ডষ্টা, শ্রুতেঃ শ্রোতা, মতেৰ্ম্মন্তা, বিজ্ঞাতে- র্বিজ্ঞাতা, স আত্মেতি। ১৭

প্রকৃতমাত্মশব্দার্থং বিবিচ্য বক্তুং পৃচ্ছতি-ক্রহাঁতি। স এষ ইহ প্রবিষ্ট ইত্যত্রাত্মনো দর্শিতত্বাৎ প্রাণনাদিলিঙ্গস্য তস্য ত্বয়ৈবানুসন্ধাতুং শক্যত্বান্নাস্তি বক্তব্যমিত্যাহ-নন্বিতি। আত্মানং প্রত্যক্ষয়িতুং পৃচ্ছতস্তৎপরোক্ষবচনমনুত্তরমিতি শঙ্কতে-নন্বসাবিতি। আত্মানং চেৎ প্রত্যক্ষয়িতুমিচ্ছসি, তর্হি প্রত্যক্ষমেব তং দর্শয়ামীত্যাহ-এবং তহীতি।

নেদং প্রতিজ্ঞানুরূপং প্রতিবচনমিতি চোদয়তি-নম্বত্রেতি। প্রত্যক্ষত্বাদ্দর্শনাদিক্রিয়ায়াস্তৎ- কর্ত্তুঃ স্বরূপমপি তথেত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। যদি দর্শনাদিক্রিয়াকর্ত্তৃস্বরূপোক্তিমাত্রেণ জিজ্ঞাসা নোপশাম্যতি, তর্হি দৃষ্ট্যাদিসাক্ষিত্বেনাত্মোক্ত্য। তুষ্যতু ভবানিত্যাহ-এবং তর্হি দৃষ্টেরিতি। ১৭ ননু অত্র কো বিশেষো দ্রষ্টরি? যদি দৃষ্টের্জষ্টা, যদি বা ঘটস্য দ্রষ্টা, সর্ব্বথাপি দ্রষ্টৈব; দ্রষ্টব্য এব তু ভবান্ বিশেষমাহ—দৃষ্টের্জষ্টেতি; দ্রষ্টা তু যদি দৃষ্টেঃ, যদি

২৮৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বা ঘটস্য, দ্রষ্টা দ্রষ্টৈব। ন, বিশেষোপপত্তেঃ—অস্ত্যত্র বিশেষঃ, যো দৃষ্টের্ডষ্টা, স দৃষ্টিশ্চেম্ভবতি, নিত্যমেব পশ্যতি দৃষ্টিম্, ন কদাচিদপি দৃষ্টির্ন দৃশ্যতে দ্রষ্টা; তত্র দ্রষ্টুদৃষ্ট্যা নিত্যয়া ভবিতব্যম্; অনিত্যা চেৎ দ্রষ্টুদৃষ্টিঃ, তত্র দৃশ্যা যা দৃষ্টিঃ, সা কদাচিন্ন দৃশ্যেতাপি—যথা অনিত্যয়া দৃষ্ট্যা ঘটাদি বস্তু। ন চ তদ্বৎ দৃষ্টের্ডষ্টা কদাচিদপি ন পশ্যতি দৃষ্টিম্। ১৮

পূর্ব্বস্মাৎ প্রতিবচনাদস্মিন্ প্রতিবচনে দ্রষ্টবিষয়ো বিশেষো নাস্তীতি শঙ্কতে-নম্বতি। বিশেষাভাবং বিশদয়তি--যদীত্যাদিনা। ঘটস্য দ্রষ্টা দৃষ্টের্ডষ্টেতি বিশেষে প্রতীয়মানে তদভাবোক্তিব্যাহতেত্যাশঙ্ক্যাহ-দ্রষ্টব্য এবেতি। তথা দ্রষ্টর্য্যপি বিশেষো ভবিষ্যতীত্যাশঙ্ক্যাহ- দ্রষ্টা ত্বিতি। বৃত্তিমদন্তঃকরণাবচ্ছিন্নং সবিকারো ঘটদ্রষ্টা কূটস্থচিন্মাত্রস্বভাবঃ সন্নিধিসত্তামাত্রেণ বুদ্ধিতদ্বৃত্তীনাং দ্রষ্টেতি বিশেষমঙ্গীকৃত্য পরিহরতি-নেত্যাদিনা। এতদেব স্ফুটয়তি- অস্তীতি। সপ্তমী দ্রষ্টারমধিকরোতি দৃষ্টের্ডষ্ট স্তাবদন্বয়বাতিরেকাভ্যাং বিশেষং বিশদয়তি-যো দৃষ্টেরিতি। ভবতু দৃষ্টিসম্ভাবে দ্রষ্টুঃ সদা তদ্‌দ্রষ্টত্বং, তথাপি কথং কূটস্থদৃষ্টিত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ- তত্রেতি। নিত্যত্বমুপপাদয়তি-অনিত্যা চেদিতি। উক্তপক্ষপরামর্শ্থা সপ্তমী। কাদাচিৎকে দ্রষ্ট দৃশ্যত্বে দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। ঘটাদিবদৃষ্টিরপি কদাচিদেব দ্রষ্ট্রা দৃশ্যতে, ন সর্ব্বদা, ইত্য- নিষ্টাপত্ত্যভাবমাশঙ্ক্যাহ-ন চেতি। বিকাসিণশ্চিত্তস্যাদ্রষ্টত্বং ক্রমদ্রষ্টত্বমন্যথা দুইত্বং চ দৃষ্টঃ তৎসাক্ষিণো ব্যাবর্তমানং তস্য নির্বিকারত্বং সময়তীতি ভাবঃ। ১৮

কিং দ্বে দৃষ্টী দ্রষ্টুঃ-নিত্যা অদৃশ্যা, অন্যা অনিত্যা দৃশ্যেতি? বাঢ়ম; প্রসিদ্ধা তাবদনিত্যা দৃষ্টিঃ, অন্ধানন্ধত্বদর্শনাৎ; নিত্যৈব চেং, সর্ব্বোহনন্ধ এব স্যাৎ; দ্রষ্টুস্ত নিত্যা দৃষ্টি:-“ন হি দ্রষ্টুদ্দৃষ্টেবিপরিলোপো বিদ্যতে” ইতি শ্রুতেঃ; অনুমানাচ্চ -অন্ধস্যাপি ঘটাদ্যাভাসবিষয়া স্বপ্নে দৃষ্টিরুপলভ্যতে; সা তর্হি ইতরদৃষ্টিনাশে ন নশ্যতি; সা দ্রষ্টুৰ্দ্দৃষ্টিঃ, তয়া অবিপরিলুপ্তয়া নিত্যয়া দৃষ্ট্যা স্বরূপভূতয়া স্বয়ং- জ্যোতিঃসমাখ্যরা ইতরামনিত্যাং দৃষ্টিং স্বপ্নবুদ্ধান্তয়োর্ব্বাসনাপ্রত্যয়রূপাৎ নিত্য- মেব পশ্যন্ দৃষ্টেন্দ্রষ্টা ভবতি। এবঞ্চ সতি দৃষ্টিরেব স্বরূপমস্য অগ্নৌষ্ণবৎ, ন কাণাদানামিব দৃষ্টিব্যতিরিক্তোহন্যশ্চেতনো দ্রষ্টা। ১৯

দৃষ্টিদ্বয়ং প্রমাণাভাবাদস্পষ্টমিতি শঙ্কতে-কিমিতি। তদুভয়মঙ্গীকরোতি-বাঢ়মিতি। তত্রানিত্যাং দৃষ্টিমনুভবেন সাধয়তি-প্রসিদ্ধেতি। উক্তমর্থঃ যুক্ত্য। ব্যক্তীকরোতি-নিত্যৈবেতি। সম্প্রতি নিত্যাং দৃষ্টিং শ্রুত্যা সমর্থরতে-দ্রষ্টুরিতি। তত্রৈযোপপত্তিমাহ-অনুমানাচ্চেতি। তদেব বিবৃণোতি-অন্ধস্তাপীতি। জাগরিতে চক্ষুরাদিহীনস্তাপি পুংসঃ স্বপ্নে বাসনাময়ঘটাদি- বিষয়া দৃষ্টিরুপলব্ধা, যা চ সা ‘তস্মিন্ কালে চক্ষুরাদিজনিতদৃষ্ট্যভাবেহপি স্বয়মবিনস্ত্যন্তানুভূয়তে, সা দ্রষ্টুঃ স্বভাবভূতার্থদৃষ্টিনিত্যৈষ্টব্যা: বিমতং নিত্যমব্যভিচারিত্বাৎ পরেষ্টাত্মবদিতি প্রয়োগোপপত্তে- রিত্যর্থঃ। নদ্বাত্মা দৃষ্টিস্তদভাবশ্চেৎ কথং দৃষ্টেন্দ্র ষ্টেত্যুক্তমত আহ-তবেতি। নিত্যত্বে হেতুঃ- অবিপরিলপ্তয়েতি। নিত্যদ্বয়ং পরিহর্তুং স্বরূপভূতয়েত্যুক্ষস্। তজ্ঞা দৃষ্ট্যতরাপেক্ষাং যায়য়তি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৮৫

স্বরমিতি। উক্তমবিপরিলুপ্তত্বং ব্যনক্তি-ইতয়ামিতি। আত্মা দৃষ্টেন্দ্রষ্টেতি স্থিতে ফলিতমাহ- এবং চেতি। অন্যশ্চেতনোহচেতনো বেতি শেষঃ। ১৯

তৎ ব্রহ্ম আত্মানমেব নিত্যদৃগ রূপম্ অধ্যারোপিতানিত্যদৃষ্ট্যাদিবর্জিতমেব অবেৎ বিদিতবৎ। ননু বিপ্রতিষিদ্ধং-“ন বিজ্ঞাতেব্বিজ্ঞাতারং বিজানীয়াঃ” ইতি শ্রুতেঃ-বিজ্ঞাতুর্বিজ্ঞানম্। ন; এবং বিজ্ঞানান্ন বিপ্রতিষেধঃ; এবং দৃষ্টের্ডষ্টা ইতি বিজ্ঞায়তঃ এব; অন্যজ্ঞানানপেক্ষত্বাচ্চ-নচ দ্রষ্টু নিত্যৈব দৃষ্টিরিত্যেবং বিজ্ঞাতে দৃষ্ট, বিষয়াং দৃষ্টিমন্যামাকাক্ষতে; নিবর্ত্ততে হি দ্রষ্ট বিষয়দৃষ্ট্যাকাজ্ঞা, তদসম্ভাবাদেব; ন হ্যবিদ্যমানে বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা কস্যচিদুপজায়তে; ন চ দৃশ্যা দৃষ্টিদ্রষ্টারং বিষয়ীকর্ত্তুমুৎসহতে, যতস্তামাকাঙ্ক্ষেত। ন চ স্বরূপবিষয়াকাঙ্ক্ষা স্বস্যৈব; তস্মাদজ্ঞানাধ্যারোপণনিবৃত্তিরেব “আত্মানমেবাবেৎ” ইত্যুক্তম্, নাত্মনো বিষয়ীকরণম্। ২০

নিত্যদৃষ্টিস্বভাবমাত্মপদার্থং পরিশোধ্য শ্রুত্যক্ষরাণি যোজয়তি-তদ্রহ্মেতি। বাক্যশেষ- বিরোধং চোদয়তি-নন্বিতি। কিং কৰ্ম্মত্বেনাত্মনো জ্ঞানং বিরুধ্যতে, কিং বা সাক্ষিত্বেনেতি বাচ্যং, নাদ্যোহনভ্যুপগমাদিত্যাহ-নেতি। ন দ্বিতীয় ইত্যাহ-এবমিতি। তদেব স্পষ্টয়তি- এবং দৃষ্টেরিতি। তর্হি তদ্বিষয়ং জ্ঞানান্তরমপেক্ষিতব্যমিতি কুতো বিরোধো ন প্রসরতাত্যা- শঙ্ক্যাহ-অন্যজ্ঞানেতি। ন বিপ্রতিষেধ ইতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। সংগৃহীতমর্থং বিবৃণোতি-ন চেতি। নিত্যৈব স্বরূপভূতেতি শেষঃ। বিজ্ঞাতত্বং বাক্যায়বুদ্ধিবৃত্তিব্যাপ্যত্বম্। অন্যাং দৃষ্টিং স্ফুরণলক্ষণাম্। আত্মবিষয়স্ফুরণাকাঙ্ক্ষাভাবং প্রতিপাদয়তি-নিবর্ত্ততে হীতি। আত্মনি- স্ফুরণরূপে স্ফুরণস্যান্যস্যাসম্ভবেহপি কুতস্তদাকাঙ্ক্ষোপশান্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-ন হীতি। কিং চ, দ্রষ্টরি দৃশ্যাংদৃশ্যা বা দৃষ্টিরপেক্ষ্যতে? নাদ্যঃ, ইত্যাহ-ন চেতি। আদিত্যপ্রকাশ্যস্য রূপাদেস্তৎ- প্রকাশকত্বাভাবাদিতি ভাবঃ। ন দ্বিতীয় ইত্যাহ-ন চেতি। আত্মনো বৃত্তিব্যাপ্যত্বেহপি স্ফুরণব্যাপ্যত্বানঙ্গীকরণান্ন বাক্যশেষবিরোধোহস্তীত্যুপসংহরতি-তন্মাদিতি। ২০

তৎ কথমবেদিত্যাহ-অহং দৃষ্টেন্দ্রষ্টা আত্মা ব্রহ্মাস্মি ভবামীতি। ব্রহ্মেতি- -যৎ সাক্ষাদপরোক্ষাৎ সর্ব্বান্তর আত্মা অশনায়াদ্যতীতো নেতি নেত্যস্থূলমনন্বিত্যে- বমাদিলক্ষণম্, তদেবাহমস্মি, নান্যঃ সংসারী, যথা ভবানাহ-ইতি। তস্মাদেবং- বিজ্ঞানাৎ তৎ ব্রহ্ম সর্ব্বমভবৎ-অব্রহ্মাধ্যারোপণাপগমাৎ তৎকার্য্যস্যাসর্ব্বত্বস্য নিবৃত্ত্যা সর্ব্বমভবৎ। তস্মাদ্ যুক্তমেব মনুষ্যা মন্যন্তে-যৎ ব্রহ্মবিদ্যয়া সর্ব্বং ভবি- ষ্যাম ইতি। যৎ পৃষ্টম্-কিমু তৎ ব্রহ্মাবেৎ, যস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবদিতি, তন্নির্ণীতং “ব্রহ্ম বা ইদমগ্রআসীৎ, তদাত্মানমেবাবেৎ-অহং ব্রহ্মাস্মীতি, তস্মাৎ তৎ সর্ব্ব- মভবদিতি। ২১ বাক্যান্তরমাকাঙ্ক্ষাপূর্বকমাদত্তে-তৎ কথমিতি। তদক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-দৃষ্টেরিতি। ইতি- পদমবেদিত্যনেন সম্বধ্যতে। ব্রহ্মশব্দং ব্যাচষ্টে-ব্রহ্মেতীতি। ব্রহ্মাহংপদার্থয়োমিথো বিশেষণ-

২৮৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বিশেষ্যভাবমভিপ্রেত্য বাক্যার্থমাহ-তদেবেতি। আচার্য্যোপদিষ্টেহর্থে স্বস্য নিশ্চয়ং দর্শয়তি- যথেতি। ইতি-শব্দো বাক্যার্থজ্ঞানসমাপ্ত্যর্থঃ। ইদানীং ফলবাক্যং ব্যাচষ্টে-তন্মাদিতি। সর্ব্বভাবমেব ব্যাকরোতি-অব্রহ্মেতি। ব্রহ্মৈবাবিদ্যয়া সংসরতি বিদ্যয়া চ মুচ্যুত ইতি পক্ষস্য নির্দোষত্বমুপসংহরতি-তম্মাদযুক্তমিতি। বৃত্তং কীর্ত্তয়তি-যৎ পৃষ্টমিতি। ২১

তৎ তত্র যো যো দেবানাং মধ্যে প্রত্যবুধ্যত প্রতিবুদ্ধবান্ আত্মানং যথোক্তেন বিধিনা, স এব প্রতিবাদ আত্মা তদ্‌ব্রহ্ম অভবৎ; তথা ঋবীণাম্, তথা মনুষ্যাণাং চ মধ্যে! দেবানামিত্যাদি লোকদৃষ্ট্যপেক্ষয়া, ন ব্রহ্মত্ববুদ্ধ্যোচ্যতে; “পূরঃ পুরুষ আবিশং” ইতি সর্ব্বত্র ব্রহ্মৈবানুপ্রবিষ্টমিত্যবোচাম। অতঃ শরীরাদ্য- পাধিজনিত-লোকদৃষ্ট্যপেক্ষয়া দেবানামিত্যাদ্যচ্যতে; পরমার্থতস্তু তত্র তত্র ব্রহ্মৈ- বাগ্র আসীৎ প্রাক্ প্রতিবাদাৎ দেবাদিশরীরেঘন্যথৈব বিভাব্যমানম্, তদাত্মান- মেবাবেৎ, তথৈব চ সর্ব্বমভবৎ। ২২

যথাগ্নিহোত্রাদি মনুষ্যত্বাদিজাতিমস্তমর্ণিত্বাদিবিশেষবস্তুং চাধিকারিণমপেক্ষতে, ন তথা জ্ঞানমিতি বক্তং তদ্যো যো দেবানামিত্যাদিবাক্যং তদক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-তত্তত্রেতি। যথোক্তেন বিধিনাহন্বয়াদিকৃতপদার্থপরিশোধনাদিনেত্যর্থঃ। জ্ঞানাদেব মুক্তির্ন সাধনান্তরাদিত্যেবকারার্থঃ। বিবক্ষিতমধিকার্য্যনিয়মং প্রকটয়তি-তথেত্যাঙ্গিনা। যো যঃ প্রত্যবুধ্যত, স এব তদভবদিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধঃ। ব্রহ্মৈবাবিদ্যয়া সংসরতি, মুচ্যতে চ বিদ্যয়া, ইত্যুক্তত্বাদ্দেবাদীনা: বিদ্যাবিদ্যাভ্যাং বন্ধমোক্ষোক্তিস্তদ্বিরুদ্ধেত্যাশঙ্ক্যাহ-দেবানামিত্যাদীতি। তত্ত্বদৃষ্ট্যের ভেদবচনে কা হানিরিত্যা- শঙ্ক্যাহ-পুর ইতি। আবিদ্যকং ভেদমনূদ্য তত্তদাত্মন। স্থিতব্রহ্মচৈতন্যস্যৈব বিদ্যাবিদ্যাভ্যাং বন্ধমোক্ষোক্তে র্ন পূর্ব্বাপরবিরোধোহস্তীতি ফলিতমাহ-অত ইতি।’ অবিদ্যাদৃষ্টিমনুদ্য তত্ত্বদৃষ্টি- মন্থাচষ্টে-পরমার্থতস্থিতি। প্রবোধাৎ প্রাগপি তত্র তত্র দেবাদিশরীরেষু পরমার্থতো ব্রহ্মৈ- বাসীচ্চেৎ, ঔপদেশিকং জ্ঞানমনর্থকমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অন্যথৈবেতি। নানাজীববাদন্য তু নাবকাশঃ প্রক্রমবিরোধাদিত্যাশয়েনাহ-তদিতি। তথৈবেত্যুৎপন্নজ্ঞানানুসারিত্বপরামর্শঃ। ২২

অস্যা ব্রহ্ম-বিদ্যায়াঃ সর্ব্বভাবাপত্তিঃ ফলমিত্যেতস্যার্থস্থ্য দ্রঢ়িয়ে মন্ত্রানুদাহরতি শ্রুতিঃ। কথম্?—তদ্‌ব্রহ্ম এতদাত্মানমেব অহমস্মীতি পশ্যন্ এতম্মাদেব ব্রহ্মণো দর্শনাদ্ ঋষির্ব্বামদেবাখ্যঃ প্রতিপেদে হ প্রতিপন্নবান্ কিল। স এতস্মিম্ ব্রহ্মা- স্মদর্শনেহবস্থিত এতান্ মন্ত্রান্ দদর্শ—অহং মনুরভবং সূর্য্যশ্চেত্যাদীন। তদেতদ্ধ্রহ্ম পশ্যন্নিতি ব্রহ্মবিদ্যা পরামৃশ্যতে; অহং মনুরভবং সূর্য্যশ্চেত্যাদিনা সর্ব্বভাবাপত্তিং ব্রহ্ম-বিদ্যাফলং পরামৃশতি; পশ্যন্ সর্ব্বাত্মভাবং ফলং প্রতিপেদে, ইত্যস্মাৎ প্রয়োগাদ ব্রহ্মবিদ্যাসহারসাধনসাধ্যং মোক্ষং দর্শয়তি—তুঙ্গানস্তূপ্যতীতি যদ্বৎ। ২৩

তদ্বৈতদিত্যাদিবাক্যমবতার্য্য ব্যাকরোতি-অস্তা ইতি। মন্ত্রোদাহরণশ্রুতিমেব প্রশ্নদ্বারা ব্যাচষ্টে-কথমিত্যাদিনা। জ্ঞানাম্ মুক্তিরিত্যার্থবাদোহরমিতি তোতরিতুং কিলেত্যুক্তম্। আদিপদং সমস্তবামদেবসুক্তগ্রহণার্থম্। তত্রাবান্তরবিভাগমাহ-তদেদিতি। শম্ভুপ্রত্যয়-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।
২৮৭

প্রয়োগপ্রাপ্তমর্থং কথয়তি-পশ্যন্নিতি। “লক্ষণহেত্বোঃ ক্রিয়ায়াঃ”(পাং সূ০ ৩।২।১২৬) ইতি হেতৌ শতৃপ্রত্যয়বিধানান্নৈরন্তর্য্যে চ সতি হেতুত্বসম্ভবাৎ প্রকৃততে চ প্রত্যয়বলাব্রহ্ম-বিদ্যা- মোক্ষয়োর্নৈরন্তর্য্যপ্রতীতেস্তয়া সাধনান্তরানপেক্ষয়া লভ্যং মোক্ষং দর্শয়তি শ্রুতিরিত্যর্থঃ। অত্রোদাহরণমাহ-ভুঞ্জান ইতি। ভুজিক্রিয়ামাত্রসাধ্যা হি তৃপ্তিরত্র প্রতীয়তে, তথা পশ্যন্নি- ত্যাদাবপি ব্রহ্মবিদ্যামাত্রসাধ্যা মুক্তির্ভাতীত্যর্থঃ! ২৩

সেয়ং ব্রহ্ম-বিদ্যয়া সর্ব্বভাবাপত্তিরাসীন্মহতাং দেবাদীনাং বীর্য্যাতিশয়াৎ, নেদানী- মৈদংযুগীনানাম্, বিশেষতো মনুষ্যাণাম্, অল্পবীর্য্যত্বাৎ; ইতি স্যাৎ কস্যচিদ্বুদ্ধিঃ, তদ্ব্যুত্থাপনায়াহ—তদিদং প্রকৃতং ব্রহ্ম যৎ সর্ব্বভূতানুপ্রবিষ্টং দৃষ্টিক্রিয়াদিলিঙ্গম্, এতর্হি এতস্মিন্নপি বর্তমানকালে, যঃ কশ্চিদ্বাবৃত্তবাহৌৎসুক্য আত্মানমেব এবং বেদ অহং ব্রহ্মাস্মীতি—অপোহ্যোগাধিজনিতভ্রান্তিবিজ্ঞানাধ্যারোপিতান্ বিশেষান্ সংসারধর্মানাগন্ধিতমনন্তরমবাহ্যং ব্রহ্মৈবাহমস্মি কেবলমিতি, সঃ অবিদ্যাকৃতা- সর্ব্বত্বনিবৃত্তেঃ ব্রহ্মবিজ্ঞানাদিদং সর্ব্বং ভবতি। ন মহাবীর্য্যেষু বামদেবাদিষু হীনবীর্য্যেষু বা বার্তমানিকেষু মনুষ্যেষু ব্রহ্মণো বিশেষঃ তদ্বিজ্ঞানস্য বাস্তি। বার্ত- মানিকেষু পুরুষেষু তু ব্রহ্মবিদ্যাফলেহনৈকান্তিকতা শঙ্ক্যতে, ইত্যত আহ—তস্য হ ব্রহ্মবিজ্ঞাতুর্যথোক্তেন বিধিনা, দেবা মহাবীর্যান অপি, অভূত্যৈ অবনায় ব্রহ্ম-সর্ব্বভাবস্য নেশতে ন পর্যাপ্তাঃ; কিমুতান্যে। ২৪

তদ্ধৈতদিত্যাদি ব্যাখ্যায় তদিদমিত্যাদ্যবতারয়িতুং শঙ্কতে-সেয়মিতি। ঐদংযুগীনানাং কলিকালবর্তিনামিতি যাবৎ। উত্তরবাক্যমুত্তরত্বেনাবতাৰ্য্য ব্যাকরোতি-তদব্যুতাপনায়েতি। তস্য তাটস্থ্যং বারয়তি-যৎ সর্ব্বভূতেতি। প্রবিষ্টে প্রমাণমুক্তং স্মারয়তি-দৃষ্টীতি। ব্যাবৃত্তং বাহ্নেষু বিষয়েষুৎসুকং সাভিলাষং মনো যস্য স তথোক্তঃ। এবংশব্দার্থমেবাহ-অহমিতি। তদেব জ্ঞানং বিবৃণোতি-অপোহ্যেতি। যদ্বা মনুষ্যোঽহমিত্যাদিজ্ঞানে পরিপন্থিনি কথং ব্রহ্মাহমিতি জ্ঞানমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অপোহ্যেতি। অহমিত্যাত্মজ্ঞানং সদা সিদ্ধমিতি ন তদর্থং প্রযতিতব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-সংসারেতি। কেবলমিত্যদ্বিতীয়ত্বমুচ্যতে। জ্ঞানমুক্ত। তৎফলমাহ- সোহবিদ্যেতি। যৎ তু দেবাদীনাং মহাবীৰ্য্যত্বাদব্রহ্মবিদ্যয়া মুক্তিঃ সিধ্যতি, নাম্মদাদীনামল্পবীৰ্য্য- ত্বাদিতি, তত্রাহ-নহীতি।

শ্রেয়াংসি বহুবিঘ্নানীতি প্রসিদ্ধিমাশ্রিত্য শঙ্কতে-বার্তমানিকেধিতি। শঙ্কোত্তরত্বেনোত্তর- বাক্যমাদায় ব্যাকরোতি-অত আহেত্যাদিনা। যথোক্তেনান্বয়াদিনা প্রকারেণ ব্রহ্মবিজ্ঞাতু- রিতি সম্বন্ধঃ। অপিশব্দার্থং কথয়তি-কিমুতেতি। অল্পবীর্যাস্তত্র বিঘ্নকরণে পর্যাপ্তা নেতি কিমুত বাচ্যমিতি যোজনা। ২৪ ব্রহ্মবিদ্যাফলপ্রাপ্তৌ বিঘ্নকরণে দেবাদয় ঈশত ইতি কা শঙ্কা? ইতি, উচ্যতে —দেবাদীন্ প্রতি ঋণবত্ত্বাৎ মর্ত্যানাম্; “ব্রহ্মচর্য্যেণ ঋষিভ্যঃ, যজ্ঞেন দেবেভ্যঃ, প্রজয়া পিতৃভ্যঃ” ইতি হি জায়মানমেব ঋণবস্তুং পুরুষং দর্শয়তি শ্রুতিঃ। পশু-

২৮৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নিদর্শনাচ্চ—“অথো অয়ং বা...” ইত্যাদিলোকশ্রুতেশ্চ আত্মনো বৃত্তিপরিপিপাল- য়িষয়া অধমর্ণানিব দেবাঃ পরতন্ত্রান্ মনুষ্যান্ প্রতি অমৃতত্বপ্রাপ্তিং প্রতি বিঘ্নং কুর্য্যরিতি ন্যায্যৈবৈষা শঙ্কা। ২৫

অপ্রাপ্তপ্রতিষেধাযোগমভিপ্রেত্য চোদয়তি-ব্রহ্মবিদ্যতি। শঙ্কানিমিত্তং দর্শয়ন্ উত্তরমাহ- উচ্যত ইতি। অধমর্ণানিবোত্তমর্ণা দেবাদয়ো মর্ত্যান্ প্রতি বিঘ্নং কুর্ব্বন্তীতি শেষঃ। কথং দেবাদীন্ প্রতি মর্ত্যানামৃণিত্বং, তত্রাহ-ব্রহ্মচর্য্যেণেতি। যথা পশুরেবং স দেবানামিতি মনুষ্যাণাং পশুসাদৃশ্যশ্রবণাচ্চ তেষাং পারতন্ত্র্যাদ্দেবাদয়স্তান্ প্রতি বিঘ্নং কুর্ব্বন্তীত্যাহ-পন্থিতি। ‘অথো অয়ং বা আত্মা সর্ব্বেষাং ভূতানাং লোকঃ’ ইতি চ তেষাং সর্ব্বপ্রাণিভোগ্যত্বশ্রুতেশ্চ সর্ব্বে তদ্বিঘ্ন- করা ভবন্তীত্যাহ-অথো ইতি। লোকশ্রুতাভিপ্রেতমর্থং প্রকটয়তি-আত্মন ইতি। যথাহধর্ম্মান্ প্রত্যুত্তমর্ণা বিঘ্নমাচরস্তি, তথা দেবাদয়ঃ স্বস্থিতিপরিরক্ষণার্থং পরতন্ত্রান্ কর্মিণঃ প্রত্যমৃতত্বপ্রাপ্তিমুদ্দিশ্য বিঘ্নং কুর্ব্বন্তীতি তেষাং তান্ প্রতি বিঘ্নকর্তৃত্বশঙ্কা সাবকাশৈবেত্যর্থঃ। ২৫

স্বপশূন্ স্বশরীরাণীব চ রক্ষন্তি দেবাঃ; মহত্তরাং হি বৃত্তিং কৰ্ম্মাধীনাং দর্শয়ি- ষ্যতি দেবাদীনাম্—বহুপশুসমতৈকস্য পুরুষস্থ্য; “তস্মাদেষাং তন্ন প্রিয়ম্, যদেতৎ মনুষ্যা বিদ্যুঃ” ইতি হি বক্ষ্যতি; “যথা হ বৈ স্বায় লোকায়ারিষ্টিমিচ্ছেদেবং হৈবং- বিদে সর্ব্বাণি ভূতান্যরিষ্টিমিচ্ছন্তি” ইতি চ; ব্রহ্মবিত্ত্বে পারার্থ্যনিবৃত্তেন স্বলোকত্বং পশুত্বঞ্চেত্যভিপ্রায়োহপ্রিয়ারিষ্টিবচনাভ্যামবগম্যতে; তস্মাদ্রবিদো ব্রহ্মবিদ্যাফল- প্রাপ্তিং প্রতি কুৰ্য্যুরেব বিঘ্নং দেবাঃ, প্রভাববস্তশ্চ হি তে। ২৬

পশুনিদর্শনেন বিবক্ষিতমর্থং বিবৃণোতি-স্বপশুনিতি। পশুস্থানীয়ানাং মনুষ্যাণাং দেবাদিভী রক্ষ্যত্বে হেতুমাহ-মহত্তরামিতি। ‘ইতশ্চ দেবাদীনাং মনুষ্যান্ প্রতি বিঘ্নকর্তৃত্বমমৃতত্বপ্রাপ্তৌ সম্ভাবিতমিত্যাহ-তস্মাদিতি। ততশ্চ তেষাং তান্ প্রতি বিঘ্নকর্তৃত্বং ভাতীত্যাহ-যথৈতি। স্বলোকো দেহঃ। এবংবিত্ত্বং সর্ব্বভূতভোজ্যোহহমিতি কল্পনাবত্বম্। ক্রিয়াপদানুষঙ্গার্থশ্চকারঃ। ব্রহ্মবিদ্বেৎপি মনুস্তাণাং দেবাদিপারতন্ত্রাবিঘাতাৎ কিমিতি তে বিঘ্নমাচরস্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্ম- বিত্ব ইতি। দেবাদীনাং মনুস্তান্ প্রতি বিঘ্নকর্তৃত্বে শঙ্কামুপপাদিতামুপসংহরতি-তস্মাদিতি। ন কেবলমুক্তহেতুবলাদেব, কিং তু সামর্থ্যাচ্চেত্যাহ-প্রভাববস্তশ্চেতি। ২৬

নম্বেবং সতি অন্যাস্বপি কৰ্ম্মফলপ্রাপ্তিষু দেবানাং বিঘ্নকরণং পেয়-পানসমম্; হস্ত তর্হি অবিস্রম্ভোহভ্যুদয়নিঃশ্রেয়স-সাধনানুষ্ঠানেষু; তথা ঈশ্বরস্যাচিন্ত্যশক্তিত্বাৎ বিঘ্নকরণে প্রভুত্বম্; তথা কালকৰ্ম্মময়ৌষধিতপসাম্; এবাং হি ফলসম্পত্তি-বিপত্তি- হেতুত্বং শাস্ত্রে লোকে চ প্রসিদ্ধম্; অতোহপ্যনাশ্বাসঃ শাস্ত্রার্থানুষ্ঠানে। ম; সর্ব্ব- পদার্থানাং নিয়তনিমিত্তোপাদানাৎ, জগদ্বৈচিত্র্যদর্শনাচ্চ, স্বভাবপক্ষে চ তদুভয়ানু- পপত্তেঃ, সুখদুঃখাদিফলনিমিত্তং কর্ম্মেত্যেতস্মিন্ পক্ষে স্থিতে বেদস্মৃতি-ভার- লোকপরিগৃহীতে, দেবেশ্বরকালাস্তাবৎ ন কৰ্ম্মফলবিপর্য্যাসকর্তারঃ, কর্মণাৎ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৮৯

কাঙ্ক্ষিতকারকত্বাৎ—কর্ম্ম হি শুভাশুভং পুরুষাণা দেব-কালেশ্বরাদিকারকয়নপেক্ষ্য নাত্মানং প্রতিলভতে, লব্ধাত্মকমপি ফলদানেহসমর্থম্, ক্রিয়ায়া হি কারকাদ্য- নেকনিমত্তোপাদানস্বাভাব্যাৎ; তস্মাৎ ক্রিয়ানুগুণা হি দেবেশ্বরাদয় ইতি কর্ম্মসু তাবন্ন ফলপ্রাপ্তিং প্রত্যবিস্রম্ভঃ। ২৭

সামর্থ্যাচ্চেদ্বিদ্যাসফলপ্রাপ্তৌ তেষাং বিঘ্নকরণং, তহি কৰ্ম্মফলপ্রাপ্তাবপি স্যাদিত্যতিপ্রসঙ্গং শঙ্কতে-নন্বিতি। ভবতু তেষাং সর্ব্বত্র বিঘ্নাচবণমিত্যত আহ-হন্তেতি। অবিস্রন্তো বিশ্বাসাভাবঃ। সামর্থ্যাদ্বিঘ্নকর্তৃত্বেহতিপ্রসক্ত্যস্তবমাহ-তথেতি। অতিপ্রসঙ্গান্তরমাহ-তথা কালেতি। বিঘ্নকরণে প্রভুত্বমিতি পূর্ব্বেণ সম্বন্ধ‘। স্বশ্ববাদীনাং যথোক্তকার্য্যকরত্বে প্রমাণ- মাহ-এষাং হীতি। “এষ হ্যেব সাধু কৰ্ম্ম কারযতি।” ‘কৰ্ম্ম হেব তদূচতুঃ” ইত্যাদিবাক্যং শাস্ত্রশব্দার্থঃ। দেবাদীনাং বিঘ্নকর্তৃত্ববদীশ্বরাদীনামপি তৎসম্ভবাদ্বেদার্থানুষ্ঠানে বিশ্বাসাভাবাত্তদ- প্রামাণ্যং প্রাপ্তমিতি ফলিতমাহ-অতোহপীতি।

কিমিদমবৈদিকস্য চোদ্যং। কি’ বা বৈদিকস্য। ইতি বিকল্প্যাদ্যং দূষয়তি-নেত্যাদিনা। দধ্যাদুৎপিপাদয়িষয়া দুগ্ধাদ্যাদানদর্শনাৎ প্রাণিনাং সুখদু খাদিতাবতমাদৃষ্টে স্বভাববাদে চ নিয়ত- নিমিত্তাদানবৈচিত্র্যদর্শনয়োরনুপপত্তেস্তদযোগাৎ কৰ্ম্মফল জগদেষ্টব্যামিত্যর্থ‘। দ্বিতীয়ং প্রত্যাহ- সুখেতি। ‘কৰ্ম্ম হৈব’ ইত্যাদ্যা শ্রুতিঃ। ‘কর্মণা বধ্যতে ও স্তু’ ইত্যাদ্যা স্মৃতিঃ। জগদ্বৈচিত্র্যানুপ- পত্তিশ্চ ন্যায়ঃ। কণমেতাবতা দেবাদীনাং কম্মফলে বিঘ্নকড়হাভাবস্তত্রাহ-কৰ্ম্মণামিতি। কথং হেতুসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্য কর্মণঃ স্বোৎপত্তৌ দেবাদ্যপেক্ষাং বাতিবেকমুখেন(ণ) দর্শয়তি-কৰ্ম্ম ভীতি। স্বফলেহপি তস্য তৎসাপেক্ষত্বমস্তীত্যাহ-লন্ধেতি। নিপন্নমপি কম্ম পূর্ব্বোক্তং কারক- মনপেক্ষ্য স্বফলদানে শক্তং ন ভবতীত্যর্থঃ। কম্মণ’ স্বোৎপত্তৌ স্বফলে চ কারকসাপেক্ষত্বে হেতুমাহ-ক্রিয়ায়া হীতি। কারকাদীনামনেকেষাং নিমিত্তানামুপাদানেন স্বভাবো নিষ্পদ্যতে যস্যাঃ, সা তথোক্তা, তস্যা ভাবঃ কারকাদ্যনেকনিমিত্তোপাদানস্বাভাবাং, তস্মাদুভয়ত্র পরতন্ত্রং কর্ম্মেত্যর্থঃ। দেবাদীনাং কৰ্ম্মাপেক্ষিতকারকত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। ২৭

কর্মণামপ্যেষাং বশানুগত্বং কচিৎ, স্বসামর্থ্যস্যাপ্রণোদ্যত্বাৎ। কর্মকাল-দৈব- দ্রব্যাদিস্বভাবানাং গুণপ্রধানভাবস্থনিয়তো দুব্বিজ্ঞেয়শ্চেতি তৎকৃতো মোহো লোকস্য।—কর্মৈব কারকং নান্যৎ ফলপ্রাপ্তাবিতি কেচিৎ; দৈবমেবেত্যপরে; কাল ইত্যেকে; দ্রব্যাদিস্বভাব ইতি কেচিং; সব্ব এতে সংহতা এবেত্যপরে। তত্র কৰ্ম্মণঃ প্রাধান্যমঙ্গীকৃত্য বেদস্মৃতিবাদাঃ “পুণ্যো বৈ পুণ্যেন কৰ্মণা ভবতি, পাপঃ পাপেন” ইত্যাদয়ঃ। যদ্যপ্যেষাং স্ববিষয়ে কস্যচিৎ প্রাধান্যোদ্ভবঃ, ইতরেষাং তৎকালীনপ্রাধান্যশক্তিস্তম্ভঃ, তথাপি ন কৰ্ম্মণঃ ফলপ্রাপ্তি, প্রতি অনৈকান্তি- কত্বম্, শাস্ত্রন্যায়নিদ্ধারিতত্ত্বাৎ কৰ্ম্মপ্রাধান্যস্য। ২৮

ইতোহপি কর্মফলে নাবিপ্রস্তোহস্তীত্যাহ-কর্মণামিতি। এষাং দেবাদীনাং কচিদবিঘ্নলক্ষণে কার্য্যে কর্মণাং বশবত্তিত্বমেষ্টব্যং, প্রাণিকর্ম্মাপেক্ষামস্তরেণ বিঘ্নবরণেহতি প্রসঙ্গাৎ, অতোহঙ্কত্রাপি

৩৭

২৯০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সর্ব্বত্র তেষাং তদপেক্ষা বাচ্যেতার্থঃ। তত্র তেষাং কৰ্ম্মবশবর্তিত্বে হেত্বন্তরমাহ-স্বসামর্থ্যস্তেতি। বিঘ্নলক্ষণং হি কার্য্যং দুঃখমুৎপাদয়তি। ন চ দুঃখমৃতে পাপাদুপপদ্যতে, দুঃখবিষয়ে পাপসামর্থ্যস্য শাস্ত্রাধিগতস্যাপ্রত্যাখ্যেয়ত্বাৎ, তস্মাৎ প্রাণিনামদৃষ্টবশাদেব দেবাদয়ো বিঘ্নকারণমিত্যর্থঃ। দেবাদীনাং কৰ্ম্মপারতন্ত্র্যে কৰ্ম্ম তৎপরতন্ত্রং ন স্যাৎ, প্রধানগুণভাববৈপরীত্যাযোগাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-কর্মেতি। ইতশ্চ নামীষাং নিয়তো গুণপ্রধানভাবোহস্তীত্যাহ-দুর্বিজ্ঞেয়শ্চেতি। ইতি-শব্দো হেত্বর্থঃ। যতো গুণপ্রধানকৃতো মতিবিভ্রমো লোকস্যোপলভ্যতে, তন্মাদসৌ দুর্বিজ্ঞেয়ো ন নিয়তোহস্তীতি যোজনা। মতিবিভ্রমে বাদিবিপ্রতিপত্তিং হেতুমাহ-কর্ম্মৈবেত্যা- দিনা। কথং তর্হি নিশ্চয়স্তত্রাহ-তত্রেতি। বেদবাদানুদাহরতি-পুণ্যো বা ইতি। আদি- পদেন ‘ধৰ্ম্মরজ্জা ব্রজেদুর্দ্ধম্’ ইত্যাদয়ঃ স্মৃতিবাদা গৃহ্যন্তে। সূর্যোদয় দাহ-সেনাদৌ কাল-জ্বলন- সলিলাদেঃ প্রাধান্যপ্রসিদ্ধের্ন কর্ম্মৈব প্রধানমিত্যাশঙ্ক্যাহ-যদ্যপীতি। অনৈকান্তিকত্বমপ্রধান- ত্বম্। তত্র হেতুমাহ-শাস্ত্রেতি। শ্রুতিস্মৃতিলক্ষণং শাস্ত্রমুদাহৃতম্। জগদ্বৈচিত্র্যানুপ- পত্তির্যায়ঃ। ২৮

ন; অবিদ্যাপগমমাত্রত্বাদ ব্রহ্মপ্রাপ্তিফলস্য, —যদুক্তং ব্রহ্মপ্রাপ্তিফলং প্রতি দেবা বিঘ্নং কুর্য্যুরিতি, তত্র ন দেবানাং বিঘ্নকরণে সামর্থ্যম্; কস্মাৎ? বিদ্যাকালানন্ত- রিতত্বাদ্ ব্রহ্মপ্রাপ্তিফলস্য; কথম্; যথা লোকে দ্রষ্টুশ্চক্ষুষ আলোকেন সংযোগো যৎকালঃ, তৎকাল এব রূপাভিব্যক্তিঃ, এবমাত্মবিষয়ং বিজ্ঞানং যৎকালম্, তৎকাল এব তদ্বিষয়াজ্ঞানতিরোভাবঃ স্যাৎ; অতো ব্রহ্মবিদ্যায়াং সত্যামবিদ্যাকার্য্যানু- পপত্তেঃ, প্রদীপ ইব তমঃকার্য্যস্য; তৎ কেন কস্য বিঘ্নং কুর্য্যুদেবাঃ—যত্রাত্মত্বমেব দেবানাং ব্রহ্মবিদঃ ২৯

কৰ্ম্মফলে দেবাদীনাং বিঘ্নকর্তৃত্বং প্রসঙ্গাগতং নিরাকৃত্য বিদ্যাফলে তেষাং তদাশঙ্কিতং নিরাকরোতি-নাবিদ্যেতি। তত্র নঞর্থমুক্তানুবাদপূর্ব্বকং বিশদয়তি-যদুক্তমিতি। তত্র প্রশ্নপূর্ব্বকং পূর্ব্বোক্তং হেতুং স্ফুটয়তি-কম্মাদিতি। আত্মনো ব্রহ্মত্বপ্রাপ্তিরূপায়া মুক্তেরজ্ঞান- ধ্বস্তিমাত্রদ্বাত্তস্যাশ্চ জ্ঞানেন তুল্যকালত্বাত্তস্মিন্ সতি তস্য ফলস্যাবশ্যকত্বাদ্দেবাদীনাং বিঘ্নাচরণে নাবকাশোহস্তীত্যর্থঃ। উক্তমেবার্থমাকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকং দৃষ্টান্তেন সমর্থয়তে-কথমিত্যাদিনা। ব্রহ্মবিদ্যাতৎফলয়োঃ সমানকালত্বে ফলিতমাহ-অত ইতি। দেবাদীনাং ব্রহ্মবিদ্যাফলে বিঘ্ন কর্তৃত্বাভাবে হেত্বন্তরমাহ-যত্রেতি। যস্যাং বিদ্যায়াং সত্যাং ব্রহ্মবিদো দেবাদীনামাত্মত্বমেব, তস্যাং সত্যাং কথং তে তস্য বিঘ্নমাচরেয়ুঃ, স্ববিষয়ে তেষাং প্রাতিকুল্যাচরণানুপপত্তে- রিত্যর্থঃ। ২৯

তদেতদাহ--আত্মা স্বরূপং ধ্যেয়ম্ যত্তৎ সর্ব্বশাস্ত্রৈবিজ্ঞেয়ং ব্রহ্ম, হি যস্মাৎ এষাং দেবানাং স ব্রহ্মবিদ ভবতি-ব্রহ্মবিদ্যাসমকালমেবাবিদ্যামাত্রব্যবধানাপগমাৎ শুক্তিকায়া ইব রজতাভাসায়াঃ শুক্তিকাত্বমিত্যবোচাম। অতো নাত্মনঃ প্রতি- কুলত্বে দেবানাং প্রযত্নঃ সম্ভবতি। যস্য হি অনাত্মভূতং ফলং দেশকালনিমিত্তা-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

২৯১

ন্তরিতম্, তত্রানাত্মবিষয়ে সফলঃ প্রযত্নো বিঘ্নাচরণায় দেবানাম্; ন ত্বিহ বিদ্যা- সমকাল আত্মভূতে দেশকালনিমিত্তানন্তরিতে, অবসরানুপপত্তেঃ। ৩০ উত্তেহর্থে সমনন্তরবাক্যমুখাপ্য ব্যাচষ্টে-তদেতদাহেতি। কথং ব্রহ্মবিদ্যাসমকালমেব ব্রহ্মবিদ্দেবাদীনামাত্মা ভবতি, তত্রাহ-অবিদ্যামাত্রেতি। যপেদং রজতমিতি রজতাকারায়াঃ শুক্তিকায়াঃ শুক্তিকাত্বমবিদ্যামাত্রব্যবহিতং, তথ! ব্রহ্মবিদোহপি সর্ব্বাত্মত্বে তন্মাত্রব্যবধানাত্তস্যাশ্চ বিদ্যোদয়ে নান্তরীয়কত্বেন নিবৃত্তেযুক্তং বিদ্যাতৎফলয়োঃ সমানকালত্বম্। উক্তং চৈতৎ প্রতি- বচনদশায়ামিত্যর্থঃ। উক্তস্য হেতোরপেক্ষিতং বদন্ ব্রহ্মবিদো দেবাদ্যাত্মত্বে ফলিতমাহ-অত ইতি। কৈবলো তেষাং বিঘ্নাকর্তৃত্বে কুত্র তৎকর্তৃতেত্যাশঙ্ক্যাহ-যস্য হীতি। তেষাং নিরঙ্কুশ- প্রসরত্বং বারয়তি-ন ত্বিতি। সফলঃ প্রযত্ন ইতি পূর্ব্বেণ সম্বদ্ধঃ। তস্য নিরবকাশত্বাদিতি হেতুমাহ-অবসরেতি। ৩০ এবং তর্হি বিদ্যাপ্রত্যয়সন্তত্যভাবাৎ বিপরীতপ্রত্যয়-তৎকার্য্যয়োশ্চ দর্শনাদন্ত্য এবাঘপ্রত্যয়োহবিদ্যানিবর্তকঃ, ন তু পূর্ব্ব ইতি। ন; প্রথমেনানৈকান্তিকত্বাৎ- যদি হি প্রথম আত্মবিষয়ঃ প্রত্যয়োহবিদ্যাং ন নিবর্তয়তি, তথান্ত্যোহপি, তুল্য- বিষয়ত্বাৎ। এবং তর্হি সন্ততোহবিদ্যানিবর্তকঃ, ন বিচ্ছিন্ন ইতি। ন; জীব- নাদৌ সতি সন্তত্যনুপপত্তেঃ-ন হি জীবনাদিহেতুকে প্রত্যয়ে সতি বিদ্যাপ্রত্যয়- সন্ততিরুপপদ্যতে, বিরোধাৎ। অথ জীবনাদিপ্রত্যয়তিরস্করণেনৈব আ মরণান্তাৎ বিদ্যাসন্ততিরিতি চেৎ; ন; প্রত্যয়েয়ত্তাসন্তানানবধারণাৎ শাস্ত্রার্থানবধারণদোষাৎ -ইয়তাং প্রত্যয়ানাং সন্ততিরবিদ্যায়া নিবর্তিকেত্যনবধারণাৎ শাস্ত্রার্থো নাবত্রি- য়েত; তচ্চানিষ্টম্। সন্ততিমাত্রত্বেহবধারিত এবেতি চেৎ, ন আদ্যন্তয়োরবিশে- যাৎ-প্রথমা বিদ্যা-প্রত্যয়সন্ততিঃ মরণকালান্তা বেতি বিশেষাভাবাৎ, আদ্য- ন্তয়োঃ প্রত্যয়য়োঃ পূর্ব্বোক্তৌ দোষৌ প্রসজ্যেয়াতাম্। এবং তর্হি অনিবর্তক এবেতি চেৎ, ন; “তস্মাত্তৎ সর্ব্বমভবৎ” ইতি শ্রুতেঃ, “ভিদ্যতে হৃদয়গ্রন্থিঃ” “তত্র কো মোহঃ” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যশ্চ। ৩১ জ্ঞানস্যানন্তরফলত্বাত্তৎফলে দেবাদীনাং ন বিঘ্নকর্তৃতেত্যুক্তমুপেত্য স্বযুখ্যঃ শঙ্কতে-এবং তহীতি। জ্ঞানস্যানন্তরফলত্বে ন তদজ্ঞানং নিবর্তয়েদজ্ঞানামিব তত্ত্বজ্ঞানামপি, ব্রহ্মাস্মীতি জ্ঞানসন্তত্যভাবাৎ। ন চাদ্যমেব জ্ঞানমজ্ঞানধ্বংসি, প্রাগিবোর্দ্ধমপি রাগাদেস্তৎকার্য্যস্য চ দৃষ্টত্বাৎ। অতো দেহপাতকালীনং জ্ঞানমজ্ঞানং নিবর্তয়তীতি কুতো জীবন্মুক্তিরিত্যর্থঃ। অন্ত্যজ্ঞানস্যা- জ্ঞাননিবর্তকত্বং তৎসন্ততের্ব্বা? প্রথমে তস্যাস্ত্যত্বাদাত্মবিষয়ত্বাদ্বা তধ্বংসিতা? ইতি বিকল্প্যোভয়ত্র দৃষ্টান্তাভাবং মত্বা দ্বিতীয়ে দোষান্তরমাহ-ন প্রথমেনেতি। তদেবানুমানেন স্ফোরয়তি-যদি হীতি। কল্পান্তরং শঙ্করতি-এবং তহীতি। অবিচ্ছিন্না জ্ঞানসন্ততিরজ্ঞানং নিবর্ত্তয়তীত্যেতদ্- দূষয়তি-নেত্যাদিনা। জীবনাদিহেতুকঃ প্রত্যয়ো বুভুক্ষিতোহহং ভোক্ষ্যেহহমিত্যাদিলক্ষণঃ।

২৯২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তস্য বুভুক্ষাদ্যপন্ন তস্য ব্রহ্মাস্মীত্যবিচ্ছিন্নপ্রত্যয়সস্ততেশ্চ বিরুদ্ধতয়া যৌগপদ্যাযোগে হেতুমাহ- বিরোধাদিতি। প্রত্যয়সন্ততিমুপপাদয়ন্নাশঙ্কতে-অণেতি। উক্তরীত্যা প্রত্যয়সন্ততিমুপেত্য দূষয়তি-নেত্যাদিনা। তমেব দোষং বিশদয়তি-ইয়তামিতি। শাস্ত্রার্থো জ্ঞানসন্ততিরজ্ঞানং নিবর্ত্তয়তীত্যেবমাত্মকঃ।

আত্মেত্যেবোপাসীতেতি শ্রুতেরাত্মজ্ঞান-সন্ততিমাত্রসদ্ভাবে ততো বিদ্যাদ্বারাহবিদ্যাধ্বস্তি- রিতি শাস্ত্রার্থনিশ্চয়সিদ্ধিরিত্যাহ-সন্ততীতি। আত্মধীসস্ততেঃ সত্ত্বেহপি ন সাত্মবিষয়ত্বাদ্বিদ্যা- দ্বারাংবিদ্যাং নিবর্ত্তয়তি। আদ্যদ্বিত্রিক্ষণস্যাত্মধীসন্ততৌ ব্যভিচারাদিতি পরিহরতি-নাদ্যস্তয়ো- রিতি। পূর্বস্মিন্ প্রত্যয়ে নাবিস্য্যানিবর্তকত্বম্, অন্ত্যে তু তথেত্যুক্তে তস্যান্ত্যত্বাত্তথাত্বং চেদ দৃষ্টান্তাভাবঃ; আত্মবিষয়ত্বাত্তথাত্বে প্রথমপ্রতায়-ব্যভিচারঃ স্যাদিত্যুক্তৌ দোষৌ। আদ্যা সন্ততির্নাবিদ্যাধ্বংসিনী; অন্ত্যা তু তথেত্যঙ্গীকারেহপি, বিশেষাভাবাদস্ত্যত্বাত্তস্থ্য। নিবর্তকত্বে দৃষ্টান্তাভাবঃ। আত্মবিষয়ত্বাত্তভাবে ত্বনৈকান্তিকত্বমিত্যেতাবের দোষৌ স্যাতামিত্যুক্তং বিবৃণোতি-প্রথমেতি। অন্ত্যপ্রত্যয়স্য তৎসন্ততেশ্চাবিদ্যানিবর্তকত্বাসম্ভবে প্রথমস্যাপি রাগাদ্যনুবৃত্ত্যা তদযোগাজজ্ঞানমজ্ঞানানিবর্তকমেবেতি চোদয়তি-এবং তহীতি। শ্রুতি- বিরোধেন পরিহরতি-ন তন্মাদিতি। ৩১

অর্থবাদ ইতি চেং; ন; সর্ব্বশাখোপনিষদামর্থবাদত্বপ্রসঙ্গাৎ; এতা- বন্মাত্রার্থত্বোপক্ষীণা হি সর্ব্বশাখোপনিষদঃ। প্রত্যক্ষপ্রমিতাত্মবিষয়ত্বাদত্ত্বেবেতি চেৎ; ন; উক্তপরিহারত্বাৎ—অবিদ্যাশোকমোহভয়াদিদোষনিবৃত্তেঃ প্রত্যক্ষত্বাদিতি চোক্তঃ পরিহারঃ। তস্মাদাদ্যঃ অন্ত্যঃ সন্ততঃ অসন্ততশ্চ—ইত্যচোদ্যমেতৎ; অবিদ্যাদিদোষনিবৃত্তিফলাবসানত্বাবিদ্যায়াঃ—য এবাবিদ্যাদিদোষনিবৃত্তিফলকৃৎ প্রত্যয়ঃ—আদ্যঃ অন্ত্যঃ সন্ততঃ অসন্ততো বা, স এব বিদ্যেত্যভ্যুপগমাৎ ন চোদ্যস্যা বতারগন্ধোহপ্যন্তি। ৩২

তাসামর্থবাদত্বেনাবিবক্ষিতত্বং শঙ্কতে-অর্থবাদ ইতি চেদিতি। অতিপ্রসঙ্গেন দূষয়তি- ন সর্ব্বেতি। যথোক্তশ্রুতীনামর্থবাদত্বেহপি কথং সর্ব্বশাখোপনিষদাং তত্ত্বপ্রসক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- এতাবদিতি। এতাবন্মাত্রার্থত্বমাত্মজ্ঞানাত্তদজ্ঞাননিবৃত্তিরিত্যেতাবন্মাত্রস্থার্থস্য সম্ভাবঃ। অহংধী- গম্যে প্রতীচি তাসাং প্রবৃত্তেঃ সংবাদবিসংবাদাভ্যাং মানত্বাযোগাদস্ত্যেবার্থবাদতেতি প্রসঙ্গষ্টেষ্টত্বং শঙ্কতে-প্রত্যক্ষেতি। প্রমাতুরহংধীগম্যতা, নাত্মনস্তৎসাক্ষিণঃ; তস্য বেদান্তা ব্রহ্মত্বং বোধয়ন্তীতি ন ‘সংবাদাদিশঙ্কেত্যাহ-নোক্তেতি। বিদ্বদনুভবমাশ্রিত্যাপি ফলশ্রুতেরর্থবাদত্বং সমাহিত- মিত্যাহ-অবিদ্যেতি। আত্মজ্ঞানস্য তদজ্ঞাননিবর্তকত্বে স্থিতে পরমতস্য নিরবকাশত্বং ফলতী- ত্যাহ-তস্মাদিতি। চোদ্যস্তানবকাশত্বমেব বিশদয়তি-অবিদ্যাদীতি। ৩২

যত্তুক্তং বিপরীতপ্রত্যয়-তৎকার্যয়োশ্চ দর্শনাদিতি; ন; তচ্ছেষস্থিতিহেতু- ত্বাৎ—যেন কর্মণা শরীরমারব্ধং তদ্বিপরীতপ্রত্যয়দোষনিমিত্তত্বাত্তস্য তথাভূত- স্থৈব বিপরীতপ্রত্যয়দোষসংযুক্তস্য ফলদানে সামর্থ্যম্, ইতি যাবচ্ছরীরপাতঃ, তাবৎ ফলোপভোগাঙ্গতয়া বিপরীতপ্রত্যয়ং রাগাদিদোষঞ্চ তাবন্মাত্রমাক্ষিপত্যেব—

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৯৩

মুক্তেষুবৎ প্রবৃত্তফলত্বাত্তদ্ধেতুকস্য কর্ম্মণঃ। তেন ন তস্য নিবর্ত্তিকা বিদ্যা, অবিরো- ধাৎ; কি; তর্হি? স্বাশ্রয়াদেব স্বাত্মবিরোধি অবিদ্যাকার্য্যং যদুৎপিংসু, তন্নিরুণদ্ধি, অনাগতত্ত্বাৎ; অতীতং হি ইতরৎ। ৩৩

জ্ঞানসপ্ততেরন্ত্যজ্ঞানস্য বাহজ্ঞানধ্বংসিত্বাসিদ্ধেরাদ্যমেব জ্ঞানং তথেত্যুক্তং, সম্প্রতি পরোক্ত- মনুবদতি-যত্তক্তমিতি। দর্শনান্নাদ্যং জ্ঞানমজ্ঞানধ্ব’সীতি শেষঃ। প্রারব্ধকৰ্ম্মশেষস্য বিদ্বদ্দেহ- স্থিতিহেতুত্বাদ্বিদুষোহপি যাবদারন্ধক্ষয়ং রাগাদ্যাভাসাবিরোধাত্তৎক্ষয়ে চ দেহাভাসজগদা- ভাসরোরভাবান্নাদ্যজ্ঞানস্যাজ্ঞাননিবর্তকত্বানুপপত্তিরিত্যুত্তরমাহ-ন তচ্ছেযেতি। তদেব প্রপঞ্চ- য়তি-যেনেত্যাদিনা। যচ্ছব্দস্যাক্ষিপতীত্যনেন সম্বন্ধঃ। আক্ষেপকত্বনিয়মং সাধয়তি- বিপরীতেতি-মিথ্যাজ্ঞানেন রাগাদিদোষেণ চ নিমিত্তেন প্রবৃত্তত্বাদিতি যাবৎ। তথাভূতস্থ্যেতাস্থ্য বিবরণং বিপরীতপ্রত্যয়েত্যাদি। কর্ম্মৈব ষষ্ঠ্যা বিশেষ্যতে। তাবন্মাত্র: প্রতিভাসমাত্রশরীরম্। প্রারব্ধকর্ম্মণোৎপজ্ঞানজন্যত্বেন জ্ঞাননিবর্ত্যত্বান্ন জ্ঞানিনস্ততো দেহাভাসীদি সম্ভবতীত্যাশঙ্ক্যাহ- মুক্তেষুবদিতি। যথা প্রবৃত্তবেগস্যেধাদের্ব্বেগক্ষয়াদেবাপ্রতিবদ্ধস্য ক্ষয়স্তথা ভোগাদেবারন্ধক্ষয়ঃ, ‘ভোগেন ত্বিতরে ক্ষপয়িত্বা সম্পদ্যতে’ ইতি ন্যায়াৎ, ন জ্ঞানাদিতার্থঃ। তদ্ধেতুকস্য বিপরীত- প্রত্যয়াদিপ্রতিভাসকার্য্যজনকস্যেতি যাবৎ।

ননু জ্ঞানমনারন্ধকৰ্ম্মবদারন্ধমপি কৰ্ম্ম কৰ্ম্মত্বাবিশেষান্নিবর্তয়িষ্যতি, নেত্যাহ-তেনেতি। অবিদ্যালেশেন সহারন্ধস্য কর্মণে। বিদ্যা নিবর্তিকা ন ভবর্তী তাত্র হেতুমাহ--অবিরোধাদিতি। ন হি জ্ঞানাদারন্ধং কৰ্ম্ম ক্ষীয়তে তদবিরোধিত্বাদবিদ্যালেশাচ্চ নদবস্থিতেরন্যথা জীবন্মুক্তিশাস্ত- বিরোধাদিতি ভাবঃ। আরন্ধস্য কৰ্ম্মণো জ্ঞানানিবর্ত্তত্বে জ্ঞানং কৰ্ম্মনিবর্ত্তকমিতি কথং প্রসিদ্ধি- রিত্যাহ-কিং তহীতি। প্রসিদ্ধিবিষয়মাহ-স্বাশ্রয়াদিতি। জ্ঞানবিরোধী যদজ্ঞানকাৰ্য্যমনারন্ধং কৰ্ম্ম জ্ঞানাশ্রয়-প্রমাত্রাদ্যাশ্রয়াদজ্ঞানাৎ ফলাত্মনা জন্মাভিমুখ’, তন্নিবর্ত্তকং জ্ঞানমিতি প্রসিদ্ধির- বিরুদ্ধেত্যর্থঃ। বিমতং ন জ্ঞাননিবর্ত্যং কৰ্ম্মত্বাদারন্ধকম্মবদিত্যানুমানাদনারন্ধমপি কৰ্ম্ম ন জ্ঞাননিরস্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অনাগতত্বাদিতি। অনারন্ধং কৰ্ম্ম ফলরূপেণাপ্রবৃত্তত্বাৎ প্রবৃত্তেন জ্ঞানেন নিবর্ত্যম্। আরন্ধং তু কৰ্ম্ম ফলরূপেণ জাতত্বাত্তদ্ভোগাদৃতে ন নিবৃত্তিমর্হতি। অনুমানং ত্বাগমাপবাধিতমপ্রমাণমিত্যর্থঃ। ৩৩

কিঞ্চ, নচ বিপরীতপ্রত্যয়ো বিদ্যাবত উৎপদ্যতে, নির্বিষয়ত্বাৎ—অনবধৃত- বিষয়বিশেষস্বরূপং হি সামান্যমাত্রমাশ্রিত্য বিপরীতপ্রত্যয় উৎপদ্যমান উৎপদ্যতে, যথা—শুক্তিকায়াং রজতমিতি। স চ বিষয়বিশেষাবধারণবতোহশেষবিপরীত- প্রত্যয়াশয়স্যোপমদ্দিতত্বাৎ ন পূর্ব্ববৎ সম্ভবতি, শুক্তিকাদৌ সম্যক্প্রত্যয়োৎপত্তৌ পুনরদর্শনাৎ। ৩৪

নম্বনারন্ধকৰ্ম্মনিবৃত্তাবপি বিদুষশ্চেদারন্ধকৰ্ম্ম ন নিবর্ততে, তথাচ যথাপূর্ব্বং বিপরীতপ্রত্যয়াদি- প্রবৃত্তের্ব্বিদদ্বিদ্বদ্বিশেষো ন স্যাদত আহ-কিঞ্চেতি। হেতুসিদ্ধ্যর্থং বিপরীতপ্রত্যয়বিষয়ং বিশদয়তি-অনবধূতেতি। সম্প্রতি বিদ্বদ্বিষয়ে বিষয়াভাবাদ্বিপরীতপ্রত্যয়স্যানুৎপত্তিমুপন্যস্যতি- স চেতি। আশয়স্যাগৃহীতবিশেষস্য সামান্তমাত্রস্থালম্বনস্যেতি যাবৎ। আশ্রয়স্তেতি পাঠেই-

২৯৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পায়মেবার্থঃ। বিদুষো বিপরীতপ্রত্যয়াদিপ্রতিভাসেহপি ন যথাপূর্ব্বং তৎসত্ত্বং, যস্য তু যথাপূর্ব্বং সংসারিত্বমিত্যাদিন্যায়বিরোধাদিতি মত্বোক্তম্-ন পূর্ব্ববদিতি। তত্রানুভবং প্রমাণয়তি- শুক্তিকাদাবিতি। ৩৪

কচিৎ তু বিদ্যায়াঃ পূর্ব্বোৎপন্নবিপরীতপ্রত্যয়জনিতসংস্কারেভ্যো বিপরীত- প্রত্যয়াবভাসাঃ স্মৃতয়ো জায়মানা বিপরীতপ্রত্যয়ভ্রান্তিমকস্মাৎ কুর্ব্বন্তি; যথা— বিজ্ঞাতদিগ্বিভাগস্যাপি অকস্মাদ্দিগ্বিপর্য্যয়বিভ্রমঃ। সম্যজ্ঞানবতোহপি চেং পূর্ব্ববদ্বিপরীতপ্রত্যয় উৎপদ্যতে, সম্যজ্ঞানেহপ্যবিস্রম্ভাৎ শাস্ত্রার্থবিজ্ঞানাদৌ প্রবৃত্তিরসমঞ্জসা স্যাৎ, সর্ব্বঞ্চ প্রমাণমপ্রমাণং সম্পদ্যেত; প্রমাণাপ্রমাণয়োর্বিশে- যানুপপত্তেঃ। এতেন সম্যজ্ঞানানন্তরমেব শরীরপাতাভাবঃ কস্মাৎ?—ইত্যেতৎ পরিহৃতম্। ৩৫

যথাজ্ঞানবতো বিপরীতপ্রত্যয়ভাবোহনুভূয়তে, তথা তদ্বতোহপি কচিদ্বিপরীতপ্রত্যয়ো দৃশ্যতে, তথা চ কথং তবানুভববিরোধো ন প্রসরেদিত্যাশঙ্কা পরোক্ষজ্ঞানবতি বিপরীতপ্রত্যয়- সত্ত্বেহপি নাপরোক্ষজ্ঞানবতি তদ্দার্চামিত্যভিপ্রেত্যাহ—কচিত্তিত্তি। পরোক্ষজ্ঞানাধারঃ সপ্তমার্থঃ। পঞ্চমী ত্বপরোক্ষজ্ঞানার্থা। অকস্মাদিতাজ্ঞানাতিরিক্তক-প্রসামগ্র্যভাবোক্তিঃ।

বিদুষো মিথ্যাজ্ঞানাভাবমুক্ত। বিপক্ষে দোষমাহ-সমাগিতি। তৎপূর্ব্বকমনুষ্ঠানমাদি- শব্দার্থঃ। সম্যগজ্ঞানাবিস্রন্তে দোষান্তরমাহ-সর্ব্বং চৈতি। জ্ঞানাদজ্ঞানধ্বংসে তদুখমিথ্যা- জ্ঞানস্য সবিষয়স্য বাধিতত্বান্ন বিদুষো রাগাদিরিত্যুপপাদ্য জ্ঞানাত্মোক্ষে তজ্জন্মমাত্রেণ শরীরং স্থিতিহেত্বভাবাৎ পতেদিতি সদ্যোমুক্তিপক্ষং প্রত্যাহ-এতেনেতি। প্রবৃত্তফলস্য কর্ম্মণো ভোগাদৃতে ক্ষয়ে। নাস্তীত্যুক্তেন ন্যায়েনেতি যাবৎ। ৩৫

জ্ঞানোৎপত্তেঃ প্রাগৃদ্ধং তৎকাল-জন্মান্তরসঞ্চিতানাঞ্চ কর্মণামপ্রবৃত্তফলানাং বিনাশঃ সিদ্ধো ভবতি, ফলপ্রাপ্তিবিঘ্ননিষেধশ্রুতেরেব; “ক্ষীয়ন্তে চাস্য কৰ্ম্মাণি”, “তস্য তাবদেব চিরম্,” “সর্ব্বে পাপ্যানঃ প্রদূরন্তে,” “তং বিদিত্বা ন লিপ্যতে কর্মণা পাপকেন” “এতমু হৈবৈতে ন তরতঃ”, “নৈনং কৃতাকৃতে তপতঃ,” “এতৎ হ বাব ন তপতি,” “ন বিভেতি কুতশ্চন” ইত্যাদিশ্রুতিভ্যশ্চ; “জ্ঞানাগ্নিঃ সর্ব্ব- কর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে” ইত্যাদিস্মৃতিভ্যশ্চ। ৩৬

আরন্ধকৰ্ম্মণ্য দেহস্থিতিমুক্তে তরেযাং জ্ঞাননিবর্ত্ত্যত্বমুপসংহরতি-জ্ঞানোৎপত্তেরিতি। তস্য হন দেবাশ্চনেতি বিদুষো বিদ্যাফলপ্রাপ্তৌ বিঘ্ননিষেধশ্রুত্যনুপপত্যা যথোক্তোহর্থো ভাতীত্যর্থঃ। ন কেবলং শ্রুতার্থাপত্যা যথোক্তার্থসিদ্ধিঃ, কিন্তু শ্রুতিস্মৃতিভ্যামপীত্যাহ--ক্ষীয়ন্তে চেত্যা- দিনা। ৩৬

যতু ঋণৈঃ প্রতিবধ্যত ইতি, তন্ন, অবিদ্যাবিষয়ত্বাৎ,-অবিদ্যাবান্ হি ঋণী, তস্য কর্তৃত্বাদ্যপপত্তেঃ, “যত্র বাদ্যদিব স্যাত্তত্রান্যোহন্যৎ পশ্যেৎ” ইতি হি বক্ষ্যতি। অনন্যৎ সদ্বস্তু আত্মাখ্যম্, যত্রাবিদ্যায়াং সত্যামন্যদিব স্যাৎ, তিমিরকৃতদ্বিতীয়চন্দ্রবৎ,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৯৫

তত্রাবিদ্যাকৃতানেককারকাপেক্ষং দর্শনাদি কৰ্ম্ম তংকৃতা, ফলঞ্চ দর্শয়তি-তত্রান্যো- হন্যৎ পণ্যেদিত্যাদিনা। যত্র পুনর্বিবিদ্যায়াং সত্যামবিদ্যাকৃতানেকত্বভ্রমপ্রহাণম্, “তৎ কেন কং পণ্য্যেৎ” ইতি কর্মাসম্ভবং দশযতি। তম্মাদবিদ্যাবদ্বিষয় এব ঋণিত্বম্, কৰ্ম্মসম্ভবাৎ, নেতরত্র। এতচ্চোত্তবত্র ব্যাচিখ্যাসিষ্যমাণৈরেব বাক্যৈ- র্বিস্তরেণ প্রদর্শয়িষ্যামঃ। ৩৭

জীবন্মুক্তিং সাধযতা জ্ঞানফলে প্রতিবন্ধাভাব উক্ত, ইদান পূবোক্ত শঙ্কাবীজনুবদতি- যত্নিতি। ঋণিত্বং হি বিদুষোহবিদুষো বেতি বিকল্প্যাদ্য দুষযন্দিতীয়মঙ্গীকবোতি-তন্নেত্যা- দিনা। ঋণিত্বস্যেতি শেষঃ। তদেব স্ফুটযতি-অবিদ্যাবানিনি। অবিদুষোহস্তি কর্তৃত্বাদীত্যত্র মানমাহ-যত্রেতি। বক্ষ্যমাণবাক্যার্থং প্রকৃতোপযোগিত্বেন কথযতি-অনন্যদিতি। ঋণিত্বং বিদুষো নেত্যুক্তং ব্যক্তীকর্ত্তু তস্য নাস্তি কর্তৃত্বাদাত্যত্রাপি প্রমাণমাহ-যত্র পুনবিতি। বিদ্যায়াং সত্যামবিদ্যাযাস্তৎকৃতানেকত্বভ্রমস্য চ প্রহাণং যত্র সম্পদ্যতে, তত্র তস্মাদেব কারণাৎ তৎ কেনেত্যাদিনা কর্ম্মাদেবসম্ভবং দর্শযতীতি যোজনা। প্রমাণসিদ্ধমর্থং নিগমযতি-তস্মাদিতি। ৩৭

তদ্যথেহৈব তাবৎ-অথ যঃ কশ্চিদব্রহ্মবিং অন্যাম আত্মনো ব্যতিরিক্তাং যাং কাঞ্চিদ্দেবতাম্ উপাস্তে-স্তুতিনমস্কাবযাগবল্যপহাবপ্রণিধানধ্যানাদিনা উপ আস্তে-তস্যা গুণভাবমুপগম্য আস্তে-অন্যোহসাবনাত্ম’ মত্তঃ পৃথক্, অন্যোহহ- মম্ম্যধিকৃতঃ, ময়াস্মৈ ঋণিবং প্রতিকর্তব্যম্-ইত্যেব পত্যষঃ সন্ উপাস্তে, ন স ইখংপ্রত্যয়ঃ বেদ বিজানাতি তত্ত্বম্। ন স কেবলমেবস্তুতোহ বিদ্বান্ অবিদ্যাদি- দোযবানেব, কিং তর্হি, যথা পশুর্গবাদিঃ বাহনদোহনাদ্যপকাবৈকপভুজ্যতে, এবং স ইজ্যাদ্যনেকোপকাবৈকপভোক্তব্যত্বাৎ একৈকেন দেবাদীনাম; অতঃ পশুরিব সর্ব্বার্থেষু কৰ্ম্মস্বধিকৃত ইত্যর্থঃ। ৩৮

অবিদ্যাবিষয়মৃণিত্বমিত্যেতৎ প্রপঞ্চয়ন্নবিদ্যাসূত্রমব তাবযতি-এ তচ্চেতি। তদৃণিত্বমবিদ্যা- বিষয়ং যথা স্ফুটং ভবতি, তথা “অথ যোহন্যাম্” ইত্যাদাবনন্তবগ্রন্থ এব কথ্যতে প্রথমমিত্যর্থঃ। তদক্ষরাণি ব্যাকরোতি-অথেত্যাদিনা। বিদ্যাসূত্রানন্তযমবিদ্যাসূত্রস্যা(স্থা)থশব্দার্থঃ। যাগো গন্ধপুষ্পাদিনা পূজা। বল্যুপহাবো নৈবেদ্যসমর্পণম্। প্রণিধানমৈকাগ্র্যাম্। ধ্যানং ‘তত্রৈ- বানন্তরিতপ্রত্যয়প্রবাহকরণম্। আদিপদং প্রদক্ষিণাদিগ্রহণার্থম্। ভেদদর্শনমত্রোপাসনং ন শাস্ত্রীয়মিত্যভিপ্রেত্যৈতদেব বিবৃণোতি-অন্যোহসাবিতি। তস্য মূলমাহ-ন স ইতি। বাক্যাস্তরমবতার্য্য ব্যাচষ্টে-ন স কেবলমিতি। সোহবিদ্বানেবমুক্তদৃষ্টান্তবশাৎ পশুরিব দেবানাং ভবতি। তেষাং মধ্যে তস্যৈকৈকেন বহুভিরুপকারৈর্ভোগ্যত্বাদিতি যোজনা। পশুসাম্যে সিদ্ধমর্থং কথয়তি-অত ইতি। ৩৮

এতস্য হি অবিদুযো বর্ণাশ্রমাদিপ্রবিভাগবতোহধিকৃতস্য কৰ্ম্মণো বিদ্যাসহিতস্য কেবলস্য চ শাস্ত্রোক্তস্য কার্য্যং মনুষ্যত্বাদিকো ব্রহ্মান্ত উৎকর্ষঃ; শাস্ত্রোক্তবিপ- রীতস্য চ স্বাভাবিকস্য কার্য্যং মনুষ্যত্বাদিক এব স্থাববাস্তোহপকর্ষঃ; যথা চৈতৎ,

২৯৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তথা “অথ ত্রয়ো বাব লোকাঃ” ইত্যাদিনা বক্ষ্যামঃ কৃৎস্নেনৈবাধ্যায়শেষেণ। বিদ্যায়াশ্চ কার্য্যং সর্ব্বাত্মভাবাপত্তিরিত্যেতৎ সংক্ষেপতো দর্শিতম্। সর্ব্বা হীয়মুপ- নিষবিদ্যাবিভাগপ্রদর্শনেনৈবোপক্ষীণা। যথা চৈষোহর্থঃ কৃৎস্নস্য শাস্ত্রস্য, তথা প্রদর্শয়িষ্যামঃ। ৩৯

অথানেনাবিদ্যাসূত্রেণ কিং কৃত’ ভবতীত্যপেক্ষায়ামবিদ্যাযাঃ সংসারহেতুত্বং সূত্রিতমিতি বক্তুমবিদ্যাকাযাং কৰ্ম্মফলং সঙ্ক্ষিপতি-এতস্থ্যেত্যাদিনা। কৰ্ম্মসহায়ভূতা বিদ্যা দেবতা- ধানাত্মিকা। শাস্ত্রীযবৎ স্বাভাবিককস্মণোহপি দ্বৈবিধাং সুচয়িতুং চ শব্দঃ। তত্র তু সহকারিণী বিদ্যা নগ্নস্ত্রীদশনাদিরূপেতি ভেদঃ। কথং যথোক্তং কর্ম্মফলমবিদ্যাবতঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-যথা চেতি। সূত্রদ্বেবিধাসিদ্ধার্থ বিদ্যান্দ্রার্থমনুকামতি-বিদ্যায়শ্চেতি। সূত্রান্তবাশঙ্কাং বাবয়তি- সর্ব্বা হাতি। কথমেতদবগম্যতে, তত্রাহ-যথেতি। ৩৯

যম্মাদেবম্, তস্মাদবিদ্যাবন্তং পুরুষং প্রতি দেবা ঈশতে এব বিঘ্ন, কর্ত্তুম্ অনুগ্রহঞ্চ, ইত্যেতদ্দর্শয়তি—যথা হ বৈ লোকে বহবো গোহশ্বাদয়ঃ পশবঃ মনুষ্য, স্বামিনমাত্মনঃ অধিষ্ঠাতারং ভুঞ্জ্যুঃ পালয়েয়ুঃ, এবং বহুপশুস্থানীয় একৈকো- হবিদ্বান্ পুরুষো দেবান্,—দেবানিতি পিত্রাদ্যপলক্ষণার্থম্,—ভুনক্তি পালয়তীতি— ইমে ইন্দ্রাদয়ঃ অন্যে মত্তঃ মমেশিতারঃ, ভৃত্য ইবাহমেষাং স্তুতিনমস্কারেজ্যাদিনা- বাধনং কৃত্বাভ্যুদয়ং নিঃশ্রেয়সঞ্চ তৎপ্রস্তু ফলং প্রাপ্স্যামীত্যেবমভিসন্ধিঃ। ৪০

মনুষ্যাণামবিদ্যাবতা দেবপশুত্বে স্থিতে ফলি তমাহ-যম্মাদিতি। ৩এ প্রমাণত্বেনোত্তর বাক্যমুখাপয়তি-এতদিতি। কিমিদমবিদ্যাবতে, দেবাদিপালনমিত্যাশঙ্ক। বাক্যতাৎপশ্যমাহ- ইম ইন্দ্রাদয় ইতি। অভিসন্ধিরবিদ্যাবতঃ পুরুষস্যেতি শেন। ৪০

তত্র লোকে বহুপশুমতো যথা একস্মিন্নেব পশাবাদীয়মানে ব্যাঘ্রাদিনা অপহ্রিয়মাণে মহদপ্রিয়, ভবতি; তথা বহুপশুস্থানীয়ে একস্মিন্ পুরুষে পশুভাবাৎ বৃত্তিষ্ঠতি অপ্রিয়ং ভবর্তীতি কিং চিত্র’ দেবানাম্, বহুপশ্বপহরণ ইব কুটুম্বিনঃ। তস্মাদেযাং দেবানাং তন্ন প্রিয়ম্; কিং তৎ? যদেতদ্ ব্রহ্মাত্মতত্ত্বং কথঞ্চন মনুষ্যা বিদ্যুঃ বিজানীযুঃ। তথা চ স্মরণমনুগীতাসু ভগবতো ব্যাসস্য—

“ক্রিয়াবস্তিহি কৌস্তুভ দেবলোকঃ সমাবৃতঃ।

ন চৈবদিষ্টং দেবানাং মর্ত্ত্যরূপি বর্ত্তনম্ ॥” ইতি।

অতো দেবাঃ পশুনিব ব্যাঘ্রাদিভ্যঃ, ব্রহ্মবিজ্ঞানাদ বিঘ্নমাচিকীর্ষন্তি— অস্মদুপভোগ্যত্বাৎ মা ব্যুতিষ্ঠেয়ুরিতি। যং তু মুমোচয়িষ্যন্তি, তং শ্রদ্ধাদিভির্যো- ক্ষ্যন্তি, বিপরীতমশ্রদ্ধাদিভিঃ। তস্মানুমুক্ষুদেবারাধনপরঃ শ্রদ্ধাভক্তিপরঃ প্রণেয়ো- হপ্রমাদী স্যাৎ বিদ্যাপ্রাপ্তিং প্রতি বিদ্যাং প্রতীতি বা, কাকৈতৎ প্রদর্শিতং ভবতি দেবাগ্রিণাং ॥ ৪৭ ॥ ১০ ॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ২৯৭

একস্মিন্নেবেত্যাদিবাক্যমাদায় ব্যাচষ্টে-তত্রেতি। মনুষ্যাণাং পশুভাবাব্যুত্থানমপ্রিয়ং দেবানামিতি স্থিতে তদুপায়মপি তত্ত্বজ্ঞানং তেষাং দেবা বিদ্বিষন্তীত্যাহ-তন্মাদিতি। তত্ত্ববিদ্যায় দৌর্লভ্যং কথঞ্চনেত্যুক্তম্। মনুষ্যাণামুৎকর্ষং দেবা ন মৃষ্যন্তীত্যত্র প্রমাণমাহ-তথা চেতি। তেষাং ব্রহ্মবিদ্যয়া কৈবল্যপ্রাপ্তিঃ সুতরামনিষ্টেতি ভাবঃ।

দেবাদীনাং মনুষ্যেষু ব্রহ্মজ্ঞানস্যাপ্রিয়ত্বেহপি কিং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—অত ইতি। তেষাং বিঘ্নমাচরতামভিপ্রায়মাহ—অম্মাদিতি। তর্হি দেবাদিভিরুপহতানাং মনুষ্যাণাং মুমুক্ষৈব ন ন সম্পদ্যেতেত্যাশঙ্ক্যাহ—যং ত্বিতি। উক্তং হি—

“ন দেবা দণ্ডমাদায় রক্ষন্তি পশুপালবৎ।

বং হি রক্ষিতুমিচ্ছন্তি বুদ্ধ্যা সংযোজয়ন্তি তম্” ॥ ইতি ॥

তর্হি কিমিতি সর্ব্বানেব দেবা নানুগৃহন্তীত্যাশঙ্ক্যাহ-বিপরীতমিতি। দেবতাপরাঙ্মুখম- নুমোচয়িষিতমিতি যাবৎ। সম্প্রতি দেবতাপ্রিয়বাক্যেন ধ্বনিতমর্থমাহ-তস্মাদিতি। অবিদ্বৎসু মনুষ্যেষু দেবাদীনাং স্বাতন্ত্রাং তচ্ছব্দার্থঃ। শ্রদ্ধাদিপ্রধানস্তদারাধনপরঃ সন্ দেবাদীনাংপ্রিয়ঃ স্যাত্তদ্বিপক্ষস্য মুমুক্ষাবৈফল্যাদিত্যর্থঃ। তৎশ্রীতিবিষয়শ্চ তৎপ্রসাদাসাদিতবৈরাগ্যঃ সর্ব্বাণি কর্মাণি সংন্যস্থ্য বিদ্যাপ্রাপকশ্রবণাদিকং প্রতি একাগ্র মনাঃ স্যাদিত্যাহ-অপ্রমাদীতি। শ্রবণাদিকমনুতিষ্ঠন্নপি বর্ণাশ্রমাচারপরো ভবেৎ, অন্যথা বিদ্যালক্ষণে ফলে প্রতিবন্ধসম্ভবাদি- ত্যাশয়েনাহ-বিদ্যাং প্রতীতি। ভয়াদিনিমিত্তা ধ্বনেবিকৃতিঃ কাকুরুচ্যতে, যথাহ-‘কাকুঃ স্ত্রিয়াং বিকারো যঃ শোকভীত্যাদিভিধ্বনেঃ’ ইতি। তয়া কাক্কা কাণশ্রুতেঃ স্বরকম্পেন(ণ) ভয়- মুপলক্ষ্য দেবাদিভজনে কল্পাতে তাৎপর্যমিত্যাহ-কাকেতি ॥ ৪৭ ॥ ১০ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—এখানে ব্রহ্ম অর্থ—অপর ব্রহ্ম(কার্য্য ব্রহ্ম); কেন না, সর্ব্বাত্মভাবপ্রাপ্তি যখন ক্রিয়াসাধ্য, তখন তাঁহার সম্বন্ধেই ঐরূপ ফল-প্রাপ্তির কথা উপপন্ন হয়, কিন্তু পরব্রহ্মের যে সর্ব্বাত্মভাব, তাহা কোনও ক্রিয়া দ্বারা নিষ্পন্ন নয়, তাহা তাঁহার স্বাভাবিক; অথচ “তস্মাৎ তৎ সর্ব্বম্ অভবৎ” এই শ্রুতি অত্রত্য সর্ব্বভাবাপত্তিকে বিজ্ঞানের ফল বলিয়া নির্দেশ করিতেছেন। অতএব “এখানে ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” এই ব্রহ্ম-শব্দের অপর ব্রহ্ম অর্থ হওয়াই উচিত। ১

অথবা মনুষ্যাধিকারের প্রসঙ্গে যখন এই কথা বলা হইতেছে, তখন, যে ব্রাহ্মণ বিদ্যাবলে সর্ব্বভাবাপন্ন হইবার যোগ্যতা লাভ করিয়াছেন, তাদৃশ উপযুক্ত ব্রাহ্মণও এখানে ব্রহ্ম-শব্দে অভিহিত হইতে পারেন। কেন না, এখানে “সর্ব্বং ভবিষ্যন্তো মনুষ্যা মন্যন্তে” এই শ্রুতিতে মনুষ্যগণেরই উল্লেখ রহিয়াছে; আর অভ্যুদয় ও নিঃশ্রেয়সের উপায়ানুষ্ঠানে যে, মনুষ্যগণেরই বিশেষাধিকার আছে, এ কথা পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে। কিন্তু পরব্রহ্ম বা অপর ব্রহ্ম প্রজাপতি কাহারো তাহাতে অধিকার নাই। অতএব বুঝিতে হইবে যে, কর্মসহকৃত ও দ্বৈতসম্বন্ধসমন্বিত অপর-ব্রহ্মবিদ্যার অনুশীলনে যিনি অপর ব্রহ্মভাব

২৯৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রাপ্ত হইয়াছেন, এবং সর্ব্বপ্রকার ভোগ্য সামগ্রী হইতে বিরত ও সর্ব্বভাবপ্রাপ্তি নিবন্ধন যাঁহার কাম-কৰ্ম্ম-বন্ধন ছিন্ন হইয়া গিয়াছে, এবং ভবিষ্যতেও পরব্রহ্মভাব লাভ করিতে সমর্থ, ব্রহ্মবিদ্যার সম্বন্ধ নিবন্ধন ব্রহ্মভাবী তাদৃশ জীবই এখানে ব্রহ্মশব্দে অভিহিত হইতেছে। ব্যবহারক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বৃত্তি বা অবস্থা ধরিয়াও শব্দ প্রয়োগ করিতে দেখা যায়, যথা—‘ওদনং পচতি’(ভাত পাক করিতেছে), প্রকৃত পক্ষে কিন্তু চাউলই পাক করে, ভাত পাক করে না; কারণ, চাউল পাক করিলে যাহা হয়, তাহারই নাম ভাত(ওদন); সুতরাং বলিতে হইবে যে, সেখানে চাউলের ভবিষ্যৎ অবস্থাকে লক্ষ্য করিয়া ঐরূপ শব্দ প্রয়োগ করা হইয়া থাকে। শাস্ত্রেও ঐরূপ ব্যবহার দেখা যায়; যথা—“পরিব্রাজকঃ সর্ব্বভূতাভয়দক্ষিণাম্”(পরিব্রাজক, দক্ষিণারূপে, সর্ব্বভূতে অভয়প্রদান করিবে)। সর্ব্বভূতে অভয় দান হইতেছে পারিব্রাজ্য-গ্রহণের(পরিব্রাজক হইবার প্রধান) অঙ্গ;(এখানে কিন্তু অগ্রেই সেই ভবিষ্যৎ পারিব্রাজ্যকে সিদ্ধবৎ গ্রহণ করা হইয়াছে); এখানেও তদ্রূপ। এইরূপ যুক্তি অনুসারে কেহ কেহ ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন যে, ব্রহ্মভাবী—ব্রহ্মনিষ্ঠ জীবই এখানে ব্রহ্মশব্দের অর্থ, অপর কিছু নহে। ২

না, এরূপ ব্যাখ্যা সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ, তাহা হইলে সর্ব্বভাবাপত্তি- রূপ ফলের অনিত্যতা-দোষ আসিতে পারে। জগতে এরূপ কোনও সত্য পদার্থ নাই, যাহা নিত্য, অথচ কারণবিশেষের সহযোগে অবস্থান্তর প্রাপ্ত হয়। এইরূপ সর্ব্বভাবাপত্তি ফল যদি ব্রহ্মবিজ্ঞানরূপ কারণ হইতেই সমুৎপন্ন হয়, তাহা হইলে তাহার নিত্যতাবাদ নিশ্চয়ই বিরুদ্ধ হয়। আর যদি উহা অনিত্যই হয়, তাহা হইলেও উহা যে, কর্মফলেরই তুল্য হইয়া পড়ে, এ দোষ পূর্ব্বেই কথিত হইয়াছে। ৩

আর যদি মনে কর, ব্রহ্মবিদ্যার ফল যে, সর্ব্বভাবাপত্তি, তাহার অর্থ— অবিদ্যাকৃত অসর্ব্বভাবনিবৃত্তি মাত্র, তদ্ভিন্ন আর কিছুই নহে; তাহা হইলেও ব্রহ্ম- শব্দে ব্রহ্মভাবী পুরুষের কল্পনা করা বিফল হইয়া যায়; অর্থাৎ যদি তুমি মনে কর যে, প্রকৃত পক্ষে ব্রহ্মজ্ঞানের পূর্ব্বেও সমস্ত জীবই ব্রহ্মস্বরূপ, এবং ব্রহ্মস্বরূপ বলিয়া চিরকালই ব্রহ্মভাবাপন্ন; কেবল অবিদ্যাবশে যেমন শুক্তিতে রজতের আরোপ হইয়া থাকে; অথবা নভোমণ্ডলে যেমন তল-মলিনাদিভাবের আরোপ হইয়া থাকে, তেমনি এই ব্রহ্মেও অবিদ্যার প্রভাবে অসর্ব্বত্ব ও অব্রহ্মভাব আরোপিত হইয়াছে; ব্রহ্মবিদ্যা তাহারই নিবৃত্তিসাধন করিয়া থাকে; তাহা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

১৯৯

হইলে প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মশব্দের মুখ্যার্থস্বরূপ যে পরব্রহ্ম, সৃষ্টির পূর্ব্বেও যিনি বিদ্যমান ছিলেন, “ব্রহ্ম বা ইদমগ্রে আসীৎ” বাক্যে সেই ব্রহ্মই অভিহিত হইতেছেন, একথা বলাই যুক্তিযুক্ত হয়। কেন না, যথার্থ তত্ত্ব প্রতিপাদন করাই বেদের স্বভাব, কিন্তু যে লোক ভবিষ্যতে ব্রহ্মভাব লাভ করিবে, অগ্রেই তাহাকে ব্রহ্ম বলিয়া কল্পনা করা কখনই যুক্তিযুক্ত হয় না; কারণ, ঐরূপ অর্থ—ব্রহ্ম-শব্দের যাহা মুখ্যার্থ, তাহার বিপরীত; অধিকন্তু, বিশেষ প্রয়োজন না থাকিলে যথাশ্রুত অর্থ পরিত্যাগ করিয়া যে, অশ্রুতার্থের কল্পনা করা, তাহাও যুক্তিবিরুদ্ধ। ৪

আর যদি বল, অবিদ্যাকৃত অব্রহ্মত্ব ও অসর্ব্বভাব ভিন্নও স্বতন্ত্র অসর্ব্বত্ব ও অব্রহ্মভাব নিশ্চয়ই আছে। না;[যদি ঐরূপ থাকে, তাহা হইলে] ব্রহ্মবিদ্যায় তাহার নিবৃত্তি হইতে পারে না; কেন না, বিদ্যা যে, সাক্ষাৎ সম্বন্ধে কোনও সত্য বস্তুর অপলাপ বা উৎপাদন করিতে পারে, ইহা কোথাও দেখা যায় না; পরন্তু সর্ব্বত্রই অবিদ্যামাত্র নিবারণ করিতে দেখা যায়। তদ্রূপ এখানেও ব্রহ্ম- বিদ্যা কেবল অবিদ্যাকৃত অব্রহ্মত্ব ও অসর্ব্বত্বই নিবারণ করিতে পারে, কিন্তু কখনও কোনও পারমার্থিক বস্তু জন্মাইতে বা নিবারণ করিতে পারে না(১)। অতএব যথাশ্রুত অর্থ পরিত্যাগ করিয়া যে, অশ্রুত অর্থের কল্পনা করা, তাহার কিছুমাত্র প্রয়োজন নাই। ৫

বদি বল, ব্রহ্মেতে অবিদ্যা থাকা কখনই সম্ভব হয় না; না, সে কথাও সঙ্গত হয় না; কারণ? যেহেতু[শাস্ত্রে] ব্রহ্ম-জ্ঞানের বিধি রহিয়াছে। শুক্তিতে যদি রজতের অধ্যারোপ না থাকে, তাহা হইলে, শুক্তি চক্ষুর গোচর হইলে পর ‘ইহা শুক্তি—রজত নহে,’ এরূপ উপদেশের কখনও আবশ্যক হয় না; এইরূপ, ব্রহ্মেতে যদি অবিদ্যার আরোপ না থাকিত, তাহা হইলে কখনই ‘এ সমস্তই সৎ, এ সমস্তই ব্রহ্ম, এ সমস্তই আত্মা’ ‘ব্রহ্মাতিরিক্ত এই দ্বৈতের সত্তা নাই।’ ইত্যাদি বাক্যে ব্রহ্মবিষয়ে একত্ববিজ্ঞানের বিধান আবশ্যক হইত না।[পক্ষান্তরে যদি বল যে,] শুক্তিকার ন্যায় ব্রহ্মেও অতদ্ধর্ম্মের(অব্রহ্মভাবের) আরোপ যে আদৌ নাই, এ কথা আমরা বলিতেছি না; তবে কি না, ব্রহ্ম নিজেই আপনাতে অধ্যস্ত অব্রহ্মধর্ম আরোপের নিমিত্ত বা কারণ নহে, এবং তিনি তাহার কর্তাও নহে।

(১) তাৎপর্য্য—জ্ঞানের সঙ্গে সাধারণতঃ অজ্ঞানেরই বিরোধ; সেই কারণে জ্ঞানোদয়ে অজ্ঞানের ধ্বংস হইয়া থাকে; কিন্তু যাহা অজ্ঞান বা অজ্ঞানের ফল নহে, তাহা কখনই জ্ঞান দ্বারা বিনষ্ট হয় না: কাজেই অব্রহ্মত্ব ও অসর্ব্বত্ব যদি অবিদ্যাজনিত না হইয়া সত্য পদার্থই হয়, তাহা হইলে ব্রহ্মজ্ঞান জন্মিলেও সেই অসর্ব্বভাব ও অব্রহ্মভাব বিধ্বস্ত হইতে পারে না।

৩০০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

[হাঁ, এরূপ বলিলে,] ব্রহ্ম অবিদ্যার কর্তা বা ভ্রান্তিযুক্ত হন না সত্য, কিন্তু ব্রহ্মভিন্ন আর কোনও চেতনপদার্থ যে অবিদ্যার কর্তা কিংবা ভ্রান্তিযুক্ত, তাহাও ত তোমার অভিপ্রেত নহে। বিশেষতঃ ‘ব্রহ্মাতিরিক্ত অন্য কোনও বিজ্ঞাতা নাই’, ‘এতদতিরিক্ত অপর বিজ্ঞাতা নাই’ ‘তুমি সেই ব্রহ্মস্বরূপ’, ‘আত্মাকেই অবগত হইয়াছিলেন’, ‘আমি ব্রহ্মস্বরূপ’ ‘[ যিনি মনে করেন] ইনি অন্য এবং আমি অন্য, বস্তুতঃ তিনি জানেন না’ ইত্যাদি বহু শ্রুতি হইতে, এবং ‘সর্ব্বভূতে সমান,’ ‘হে জিতনিদ্র অর্জুন, আমিই আত্মা’ ‘কুকুরে ও চণ্ডালে’ ‘যিনি সর্ব্বভূতকে’ ইত্যাদি স্মৃতিশাস্ত্র হইতে, এবং ‘যাঁহাতে সমস্ত ভূত বর্তমান’ এই মন্ত্র হইতেও যথোক্ত অভিপ্রায়ই জানা যায়। ৬

ভাল কথা,[ব্রহ্মাতিরিক্ত কোন বিজ্ঞাতা না থাকাই যদি সত্য হয়, তাহা হইলে ত] শাস্ত্রোপদেশের কোনই আবশ্যকতা হয় না; সুতরাং ব্রহ্মবিদ্যাসম্বন্ধে প্রদত্ত শাস্ত্রোপদেশও নিরর্থক হয়। হাঁ, এ কথা সত্যই বটে, ব্রহ্মাবগতির পর, শাস্ত্রোপদেশ অনর্থক হয় হউক;(তাহাতে ক্ষতি কি?] যদি বল, ব্রহ্মাবগতিও অনর্থক বা নিষ্প্রয়োজন হইয়া পড়ে? না, সেকথা বলিতে পার না; কারণ, অব- গতি দ্বারা যে, ব্রহ্মবিষয়ক অনবগতি বা অজ্ঞানের নিবৃত্তি হয়, ইহা ত প্রত্যক্ষ- সিদ্ধ। যদি বল, একত্বপক্ষে, সেই অজ্ঞাননিবৃত্তিও সম্ভব হয় না; না;-সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, ইহা প্রত্যক্ষ-বিরুদ্ধ কথা; একত্ববিজ্ঞানে যে, অজ্ঞাননিবৃত্তি হয়, ইহা ত প্রত্যক্ষতই দেখিতে পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদৃশ্য বিষয়কেও অসঙ্গত বা অযৌক্তিক বলিলে, তাহাও দৃষ্টবিরুদ্ধ কথা হইয়া পড়ে; আর প্রত্যক্ষবিরুদ্ধ কথা কেহ স্বীকারও করে না; বিশেষতঃ প্রত্যক্ষসিদ্ধ বলিয়াই দৃষ্টবিষয়ে অনুপপত্তি বা অসঙ্গতি হইতে পারে না। যদি বল, প্রত্যক্ষ- দর্শনেও যে অনুপপত্তি বা অসঙ্গতি হয়, সে সম্বন্ধেও ইহাই যুক্তি, অর্থাৎ অনুভবসিদ্ধ দর্শনে বাচনিক অসঙ্গতি কখনই বাধক হইতে পারে না। ৭

তাহার পর, ‘পুণ্যকৰ্ম্ম দ্বারা পুণ্যবান, আর পাপ দ্বারা পাপী হয়’, ‘বিদ্যা (জ্ঞান) ও কৰ্ম্ম তাহার অনুগামী হয়’, ‘পুরুষ(জীবাত্মা) মনন, অবধারণ ও ক্রিয়ার কর্তা’ ইত্যাদি শ্রুতি, স্মৃতি ও যুক্তি হইতে পরমাত্মার বিপরীতস্বভাব- সম্পন্ন স্বতন্ত্র সংসারী আত্মার অস্তিত্ব জানা যাইতেছে, আর ‘সেই এই আত্মা (পরব্রহ্ম) ইহা নহে ইহা নহে’ ‘অশনায়াদি(ক্ষুধা পিপাসা প্রভৃতি) অতিক্রম করে’, ‘যে আত্মা নিষ্পাপ এবং জরামরণবর্জিত’, ‘এই অক্ষরের(ব্রহ্মের) শাসনে’ ইত্যাদি শ্রুতি হইতে জীববিলক্ষণ পরযাত্মার সম্ভাব অবগত হওয়া

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩০১

যায়; এবং কণাদ ও গোতম প্রভৃতিকর্তৃক প্রণীত তর্কশাস্ত্রে যুক্তি দ্বারাও সংসারী জীবের বিপরীতস্বভাবাপন্ন ঈশ্বরের অস্তিত্ব সাধিত হইয়াছে। বিশেষতঃ জীবের সাংসারিক দুঃখজ্বালা নিবৃত্তির চেষ্টাদর্শনেও বুঝা যায় যে, সংসারী জীব নিশ্চয়ই ঈশ্বর হইতে পৃথক্ পদার্থ, ‘তিনি বাগিন্দ্রিয়রহিত ও আদররহিত’ ‘হে পার্থ(অর্জুন,) ত্রিজগতে আমার কিছুই কর্তব্য নাই’ ইত্যাদি শ্রুতি ও স্মৃতি- শাস্ত্রও উক্ত অভিপ্রায়ই সমর্থন করিতেছে। তাহার পর, ‘তাঁহাকে অন্বেষণ করিবে, তাঁহাকেই জানিবে’ ‘তাঁহাকে জানিলেই আর লিপ্ত হয় না’, ‘ব্রহ্মবিৎ পরমপুরুষ আত্মাকে লাভ করেন’ ‘একইরূপ দর্শন করিবে’ ‘হে গার্গি, যে ব্যক্তি এই অক্ষর—পরব্রহ্মকে না জানিয়া’ ‘ধীর পুরুষ তাঁহাকেই অবগত হইয়া’ ‘প্রণবকে ধনুঃ, আত্মাকে শর, আর ব্রহ্মকে তাহার লক্ষ্য বা বেধ্য বলা ‘হইয়া থাকে’ ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যে[জীব ও ব্রহ্মের] কর্তা ও কর্মরূপে নির্দেশ হইতেও[জীব ও পর- মায়ার ভেদ সমর্থিত হইতেছে]।

তাহার পর, মুমুক্ষু ব্যক্তির দেহত্যাগের পর গমনোপযোগী মার্গবিশেষের উপদেশ হইতেও[উক্ত সিদ্ধান্তই প্রমাণিত হয়]; কারণ, জীব ও পরমাত্মার যদি ভেদ না থাকে, তাহা হইলে, কাহার কোথা হইতে গতি হইবে? আর গমনা- ভাবে তদুপযোগী দক্ষিণায়ণ ও উত্তরায়ণ, এই দ্বিবিধ মার্গোপদেশও উপপন্ন হয় না, এবং গন্তব্য স্থানের উল্লেখও উপপন্ন হয় না; পক্ষান্তরে, জীব পরমাত্মা হইতে ভিন্ন হইলে তাহার(পরিচ্ছিন্ন জীবের) পক্ষে উক্ত সমস্ত কথাই সুসঙ্গত হইতে পারে। ৮

কর্ম ও জ্ঞানসাধনের উপদেশও ইহার অপর কারণ; কেননা, সংসারী জীব যদি ব্রহ্ম হইতে স্বতন্ত্র হয়, তাহা হইলেই তাহার সম্বন্ধে মুক্তির জন্য জ্ঞানোপদেশ ও অভ্যুদয়ের স্বর্গাদিফলের জন্য কর্মোপদেশ আবশ্যক হইতে পারে; কিন্তু ঈশ্বরের সম্বন্ধে সেরূপ উপদেশ কখনই সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ, তিনি আপ্তকাম, অর্থাৎ তাঁহার অপ্রাপ্ত এমন কোনও কাম্যবস্তু নাই, যাহা তাঁহাকে পাইতে হইবে। অতএব ব্রহ্ম-শব্দে যে, ব্রহ্মভাবী পুরুষ অভিহিত হইতেছেন, ইহাই যুক্তিযুক্ত; এ কথা যদি বল, তদুত্তরে আমরা বলি যে, না, তাহাও যুক্তি- যুক্ত হইতে পারে না; কারণ, তাহা হইলে ব্রহ্মোপদেশের আনর্থক্য হইতে পারে,-ব্রহ্মভাবী পুরুষ যদি ব্রহ্ম না হইয়াও কেবল ‘আমি ব্রহ্ম’ এই প্রকারে আত্মস্বরূপ অবগত হইয়াই সর্ব্বাত্মভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকেন, তাহা হইলে, সংসারী- আত্মার বিজ্ঞানেই তাহার সেই সর্ব্বাত্মভাবরূপ বিজ্ঞানফলের সিদ্ধি সম্ভাবনা থাকার, নিশ্চয়ই পরব্রহ্মোপদেশ নিরর্থক হইয়া পড়ে। ৯

৩০২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পুনশ্চ যদি বল, কোনরূপ পুরুষার্থসিদ্ধির উপায়রূপে আত্মবিজ্ঞানের বিনিয়োগ বা প্রয়োগ না থাকার বুঝা যাইতেছে যে, সংসারীর ব্রহ্মত্ব- সম্পাদনের নিমিত্তই “অহং ব্রহ্মাস্মি” এই উপদেশ; কেন না, ব্রহ্মের স্বরূপ জানা না থাকিলে ‘আমি ব্রহ্ম’ বলিয়া কিসের সম্পাদন করিবে?(১) কারণ, ব্রহ্মলক্ষণ যথাযথরূপে বিজ্ঞাত থাকিলেই আত্মাতে তদ্ভাব সম্পাদন করা যাইতে পারে, নচেৎ নহে। না, এ কথাও হইতে পারে না; কারণ, ‘এই আত্মা ব্রহ্ম- স্বরূপ’, ‘যাহা সাক্ষাৎ অপরোক্ষ ব্রহ্ম’ ‘যে আত্মা’ ‘তিনিই সত্য, তিনিই আত্মা’ এই প্রকরণে ‘সেই এই আত্মা হইতে’ ইত্যাদি সহস্র সহস্র শ্রুতিতে ব্রহ্ম ও আত্ম- শব্দের সামাধিকরণ্য নির্দেশ হইতে ব্রহ্ম ও আত্মাশব্দের একার্থত্ব প্রতীত হই- তেছে। অন্য পদার্থকেই অন্য পদার্থরূপে সম্পাদন(আরোপ) করা হইয়া থাকে, কিন্তু অভিন্ন পদার্থকে কখনই আরোপ করা যাইতে পারে না। বিশেষতঃ ‘এই সমস্তই সেই আত্মা’ এই শ্রুতিও প্রস্তাবিত দ্রষ্টব্য আত্মারই একত্ব প্রদর্শন করিতেছে। অতএব এখানে কিছুতেই আত্মার ব্রহ্মত্ব সম্পাদন করা(আরোপ করা) উপপন্ন হইতে পারে না। ১০

ব্রহ্মোপদেশের এতদ্ভিন্ন যে অন্য কোন প্রকার প্রয়োজন আছে, তাহাও জানা যাইতেছে না; কারণ, ‘ব্রহ্মবিৎ ব্রহ্মই হন’ ‘হে জনক, তুমি অভয় ব্রহ্মস্বরূপ প্রাপ্ত হইয়াছ’, এবং ‘নিশ্চয়ই ব্রহ্ম বস্তু অভয়’ ইত্যাদি শ্রুতিতে কেবল ব্রহ্মভাবাপত্তিই একমাত্র প্রয়োজন শ্রুত হইতেছে। ‘অহং ব্রহ্মাস্নি’ চিন্তা যদি সম্পদ হয়, তাহা হইলে কখনই ব্রহ্মভাবাপত্তি ফল সিদ্ধ হইতে পারে না; কারণ, এক পদার্থ কখনই অপর পদার্থ হইয়া যাইতে পারে না। যদি বল, বচনের(শ্রুতিবাক্যের) বলে সম্পদুপাসনার ফলেও তদ্ভাবাপত্তি হইবে; আমরা বলি, না, তাহা হইতে পারে না; কেন না, ‘সম্পদ’ উপাসনা ত জ্ঞান বা চিন্তা ভিন্ন আর কিছুই নহে; আর জ্ঞান যে, একমাত্র মিথ্যাজ্ঞান বা ভ্রমনিবৃত্তি ছাড়া আর কিছুমাত্র করিতে পারে না, এ কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। বিশেষতঃ শুধু শাস্ত্রীয় বচন ত কখনও

(১) তাৎপর্য্য—উপাসনা অনেক প্রকার—‘সম্পদ উপাসনা’ তাহারই অন্যতম। সম্পদ অর্থ—অপেক্ষাকৃত অপকৃষ্ট কোন এক বস্তুকে উৎকৃষ্ট বস্তুর সহিত অভিন্নভাবে চিন্তা করা। এখানেও সংসারী জীব ব্রহ্মাপেক্ষা অপকৃষ্ট, তাই তাহার আপনাতে ব্রহ্মভাব সম্পাদন করা আবশ্যক হইতেছে; অথচ যে বস্তু জানা শুনা নাই, সেরূপ বস্তুতে তদ্ভাব সম্পাদন করা কোন- রূপেই সম্ভবপর হয় না; এইজন্য সংসারী জীবের পক্ষে ব্রহ্মবিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক হইতেছে। শ্রুতি “অহং ব্রহ্মাস্মি” কথায় সেই অপেক্ষিত বিষয়টির নির্দেশ করিয়াছেন মাত্র।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩০৩

কোনও বস্তুর শক্তিবিশেষ সমুৎপাদনে সমর্থ নহে, শাস্ত্রমাত্রই জ্ঞাপক অর্থাৎ অবিজ্ঞাত বস্তুকে জ্ঞানগোচর করিয়া দেওয়াই শাস্ত্রের প্রধান কার্য্য, কিন্তু কোন বস্তুর শক্তিবিশেষ উৎপাদন বা অপনয়ন করা তাহার কার্য্য নহে; ইহা সর্ব্বসম্মত সিদ্ধান্ত। ‘সেই এই পরমেশ্বর ইহার মধ্যে প্রবিষ্ট’ ইত্যাদি বাক্যে পরব্রহ্মেরই প্রবেশ সিদ্ধান্তিত হইয়াছে। অতএব, এখানে ব্রহ্ম-শব্দে ব্রহ্মতাবী পুরুষের অর্থাৎ যে পুরুষ ব্রহ্মভাব লাভ করিবেন, তাঁহার গ্রহণ করা সমীচীন হইতেছে না। ১১

বিশেষতঃ এরূপ অর্থ করিলে অভীষ্ট অর্থেরও ব্যাঘাত হইয়া পড়ে-ব্রহ্ম বস্তুটি সৈন্ধবপিণ্ডের ন্যায় ভিতরে বাহিরে-সর্ব্বত্রই একরস অর্থাৎ একরূপ, এই- রূপ বিজ্ঞান সমুৎপাদন করাই যে, এই সমগ্র উপনিষদের অভিমত প্রতিপাদ্য বিষয়, তাহা এই উপনিষদেরই মধুকান্ড ও মুনিকাণ্ডের অন্তে অবধারণবাক্য হইতে জানা যাইতেছে।[মধUKAণ্ডের শেষে আছে-] “ইত্যনুশাসনম্”(ইহাই অনুশাসন), আর[মুনিকান্ডের শেশে আছে-] “এতাবদ্ অরে খলু অমৃতত্বম্” অর্থাৎ ইহাই নিশ্চিত অমৃতত্ব। এইরূপ, সর্ব্বশাখীয় উপনিষৎ-সমূহেরও ব্রহ্মৈকত্ব- বিজ্ঞানই একমাত্র অর্থ বা প্রতিপাদ্য বিষয় বলিয়া অবধারিত হইয়াছে। এমত অবস্থায়, ‘আত্মানম্ এব অবেৎ’ বাক্যে যদি ব্রহ্ম হইতে পৃথরূপে সংসারী আত্মা কল্পিত হয়, তাহা হইলে শ্রুতির অভীষ্ট একত্ববিজ্ঞান বাধিত হইয়া যায়; তাহার ফলে উপক্রম ও উপসংহারের বিরোধ ঘটায় শাস্ত্রেরই অসামঞ্জস্য কল্পনা করিতে হয়। ঐরূপ নির্দেশের অনুপপত্তিও অপর কারণ,-“আত্মানম্ এব অবেৎ” বাক্যে যদি সংসারী আত্মারই কল্পনা করা হয়, তাহা হইলে “আত্মানমেব অবেৎ” বাক্যটি ব্রহ্ম-বিদ্যা নামে অভিহিত হইতে পারিত না; কেন না, এই পক্ষে সংসারী আত্মারই বেদ্যত্ব(বিজ্ঞেয়ত্ব) হইয়া পড়ে(কিন্তু পরব্রহ্মের নহে)। ১২ যদি বল, ‘আত্মা’ শব্দে বেত্তা-উপাসকের অতিরিক্ত অন্য বস্তুর কথা বলা হইয়াছে; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’(‘আমি ব্রহ্ম- স্বরূপ’) এইরূপে বিশেষিত করা হইয়াছে। অন্য পদার্থই যদি বেদ্য হইত, তাহা হইলে ‘অয়ম্ অসৌ’ অর্থাৎ ‘ইনি অমুকস্বরূপ’ এইরূপই নির্দেশ করা উচিত হইত; কিন্তু কখনই ‘অহম্ অস্মি’ বলা সঙ্গত হইত না। এখানে বিশেষ করিয়া ‘অহম্ অস্মি’ বলায় এবং “আত্মানমেব অবেৎ” এইরূপ অবধারণ থাকায় নিঃসং- শয়ে বুঝা যাইতেছে যে, অত্রত্য আত্মা অর্থ কখনই ব্রহ্মভিন্ন সংসারী হইতে পারে না। আর এইরূপ অর্থ হইলেই “আত্মানমেবাবেৎ” বাক্যের “ব্রহ্মবিদ্যা” নামে

৩০৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অভিধান করাও সঙ্গত হইতে পারে, নচেৎ নহে; পক্ষান্তরে এরূপ অর্থ না হইলে ইহা ‘সংসারি-বিদ্যা’ নামে অভিহিত হওয়াই উচিত ছিল। সূর্য্যের সম্বন্ধে আলোক ও অন্ধকারের ন্যায়, একই পদার্থের সম্বন্ধে ব্রহ্মত্ব ও অব্রহ্মত্বরূপ বিরুদ্ধ ধর্মদ্বয় উপপন্ন হইতে পারে না; কারণ, একই সূর্য্যের আলোক ও অন্ধকারের সহিত সম্বন্ধলাভ যেরূপ বিরুদ্ধ, ইহাও তদ্রূপ বিরুদ্ধ;[সুতরাং একই বস্তুর উক্ত উভয়বিধ ভাব কখনই সম্ভবপর হইতে পারে না]। ১৩

আর যদি ঐ উভয়কেই ইহার নিমিত্তরূপে স্বীকার করা হয়, তাহা হইলেও ইহার কেবল ‘ব্রহ্মবিদ্যা’ নামকরণ সঙ্গত হয় না; বরং তাহা হইলে ‘ব্রহ্মবিদ্যা’ ও ‘সংসারিবিদ্যা’, এই উভয় নামে ব্যবহার করাই সঙ্গত হয়; কিন্তু তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ করাই যদি বিবক্ষিত হয়, অর্থাৎ শ্রুতির অভিপ্রেত হয়, তাহা হইলে কখনই ওরূপ অর্দ্ধজরতীয়ভাব কল্পনা করা সঙ্গত হইতে পারে না(১); কারণ, তাহা হইলে উপদিষ্ট বিষয়ে শ্রোতার সংশয় উপস্থিত হইতে পারে। অথচ ‘যাহার নিশ্চিত বুদ্ধি হয়, কোনরূপ সংশয় না থাকে’ এবং ‘সংশয়াত্মক লোক বিনষ্ট হয়’ ইত্যাদি শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্র হইতে জানা যায় যে, নিশ্চয়াত্মক জ্ঞানই পরমপুরুষার্থ মুক্তির সাধন; অতএব পরহিতার্থী ব্যক্তির পক্ষে সংশয়াত্মক বাক্যার্থ কল্পনা করা কখনই উচিত হয় না। ১৪

আর যদি বল, “তদাত্মানমেবাবেৎ” ইত্যাদি শ্রুতি অনুসারে আমাদের ন্যায় ব্রহ্মেতেও যে, সাধকত্ব-কল্পনা, তাহা সঙ্গত নহে; না, এরূপ আপত্তিও করিতে পার না; কারণ, তাহা হইলে শাস্ত্রবাক্যের প্রতি তিরস্কার বা অনুযোগ করিতে হয়; কারণ, ইহা ত আর আমাদের কল্পনা নয়, পরন্তু শাস্ত্রই ঐরূপ কল্পনা করি- য়াছেন; সুতরাং এই উপালম্ভ বা অনুযোগ শাস্ত্রের উপরই প্রযোজ্য,(আমা- দের উপরে নহে); অথচ ব্রহ্মের প্রিয়-সাধনের ইচ্ছায় প্রকৃতার্থের বিপরীত কল্পনা দ্বারা কখনই শাস্ত্রার্থ পরিত্যাগ করা উচিত হয় না। আরও এক কথা, শুধু এই সাধকত্ব-কল্পনাতেই তোমার অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করা সঙ্গত হয় না; কারণ, জাগ- তিক নানাত্ব বা বিভাগমাত্রই ত ব্রহ্মেতে পরিকল্পিত ভিন্ন আর কিছুই নহে; ইহা—‘তাঁহাকে এক প্রকারেই দর্শন করিবে’ ‘এজগতে নানা—ব্রহ্মভিন্ন কিছুই

(১) তাৎপর্য্য—‘অর্দ্ধজরতীয়’ ন্যায়টি এরূপ—একই ব্যক্তির অর্ধাংশে যৌবন, আর অর্দ্ধাংশে জরা(বার্ধক্য)। যৌবনাংশে যুবকসুলভ ভোগ, আর জরাভারাক্রান্ত অংশে প্রাচীনসুলভ জ্ঞানধ্যানাদি করিতে পারে; এরূপ ব্যবস্থা যেমন সম্ভবপর হয় না, তেমনি একই বিদ্যাতে ‘ব্রহ্মবিদ্যা’ ও ‘সংসারিবিদ্যা’ এই উভয়ভাব কল্পনা করা হইতে পারে না।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩০৫

নাই’ ‘যে অবস্থায় দ্বৈতের ন্যায় হয়’, ‘নিশ্চয়ই তিনি এক ও অদ্বিতীয়’ ইত্যাদি বাক্যশেষ হইতে প্রতিপন্ন হয়। বিশেষতঃ যখন সর্ব্বপ্রকার লৌকিক ব্যবহারই একমাত্র ব্রহ্মেতে পরিকল্পিত, প্রকৃতপক্ষে কোনটিই সৎ নহে, তখন, ব্রহ্মের কেবল সাধকত্ব-কল্পনাতেই যে, অশোভনত্ব বলা, ইহা অতি সামান্য কথা(উপেক্ষার যোগ্য)। ১৫

অতএব, স্রষ্টারূপে, যে ব্রহ্ম প্রবেশ করিয়াছেন, এখানে তিনিই ব্রহ্ম-শব্দের অর্থ; শ্রুতির ‘বৈ’ শব্দের অর্থ—অবধারণ; ‘ইদ’ অর্থ—শরীরমধ্যস্থরূপে যাহা গৃহীত হয়; অগ্রে অর্থাৎ জ্ঞানোদয়ের পূর্ব্বে, সে সময়েও এ সমস্ত ব্রহ্মস্বরূপই ছিল; কিন্তু প্রতিবোধ বা সম্যক্ জ্ঞানের অভাবে অবহ্মভাব ও অসব্বত্ব অধ্যারোপিত হওয়ায়—‘আমি কর্তা, ক্রিয়াসম্পন্ন এবং স্বকৃত ক্রিয়াফলের ভোক্তা, সুখী, দুঃখী ও স.সারী’ ইত্যাদি ভাবনিচয় আত্মাতে অধ্যাবোপিত করিয়া থাকে; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু তৎকালেও কর্তৃত্বভোক্তৃত্বাদির বিপরীত ব্রহ্মস্বরূপই এবং সর্ব্বাত্মকই ছিল। দয়ালু আচার্য্য কোন রকমে বুঝাইয়া দিলেন যে, ‘তুমি সংসারী নহে’; শিষ্য সেই প্রতিবোধের ফলে স্বাভাবিক আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করিয়া- ছিলেন। শ্রুতিব ‘এব’শব্দের অভিপ্রায় এই যে,[তিনি যাহা জানিয়া- ছিলেন, তাহাতে। কোন প্রকার অবিদ্যাসমারোপিত বিশেষ ধর্ম্মের সম্বন্ধ ছিল না। ১৬

এখন জিজ্ঞাসা করি, এই স্বাভাবিক আত্মাটা কে?—যাহাকে স্বয়ং ব্রহ্মও অবগত হইয়াছিলেন? কেন, আত্মাব কথা কি স্মরণ কবিতেছ না?—‘যিনি ইহার অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট হইয়া প্রাণ, অপান, ব্যান, উদান ও সমান-ব্যাপার করিতেছেন’ এইরূপে ত অগ্রেই এই আত্মার স্বরূপ প্রদর্শন করা হইয়াছে।[আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি,] লোকে যেমন এটি গো, এটি অশ্ব’ ইত্যাদি নির্দেশ করিয়া থাকে, তুমিও তেমনি পরোক্ষভাবেই আত্মার নির্দেশ করিতেছ, কিন্তু প্রত্যক্ষ ত দেখাইতে পারিতেছ না? ভাল কথা, এরূপ নির্দেশই যদি আবশ্যক মনে কর, তাহা হইলে বলিতেছি—সেই আত্মা হইতেছেন দ্রষ্টা(দর্শনের কর্তা), শ্রোতা(বাক্য- শ্রবণের কর্তা), মন্তা(সদসৎ চিন্তার কর্তা) ও বিজ্ঞাতা(নিশ্চয়াত্মক জ্ঞানের কর্তা); সুতরাং শ্রবণাদি ক্রিয়ার সহযোগে আত্মা ত প্রত্যক্ষবৎই প্রদর্শিত হইল। ভাল কথা, এরূপেও আত্মাকে দর্শনাদি ক্রিয়ার কর্তা বলাতে তাঁহার স্বরূপ এ প্রত্যক্ষতঃ প্রদর্শন করান হইতেছে না; কেননা, গমনক্রিয়া আর গন্তার স্বরূপ ‘এক নহে, ছেদনই ত ছেদনকর্তার স্বরূপ নয়। আচ্ছা, তাহা হইলে বলিতেও

৩৯

৩০৬: বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

-যিনি দৃষ্টির দ্রষ্টা, শ্রবণের শ্রোতা, মননের কর্তা ও বিজ্ঞানেরও বিজ্ঞাতা, তিনিই সেই আত্মা। ১৭

আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি, তোমার এই শেষ উত্তরেও দ্রষ্টার সম্বন্ধে পূর্ব্বাপেক্ষা কি বিশেষ বলা হইল? আত্মা দৃষ্টিরই(জ্ঞানেরই) দ্রষ্টা হউক, বা ঘটেরই দ্রষ্টা হউক, সর্ব্বত্রই দ্রষ্টা ভিন্ন আর কিছুই নহে। তুমি ‘দৃষ্টির দ্রষ্টা’ বলিয়া কেবল দ্রষ্টব্য বিষয় সম্বন্ধেই কিঞ্চিৎ বিশেষ বলিতেছ; কিন্তু দ্রষ্টা যদি দৃষ্টির কিংবা ঘটের দর্শনকর্তা হয়, তাহা হইলেও তিনি দ্রষ্টাই, তদ্ভিন্ন আর কিছুই নহে। না, তাহা নহে; কারণ, এখানেও বিশেষত্বের উপপত্তি হয়-এখানেও বিশেষ আছে -যিনি দৃষ্টির দ্রষ্টা, তিনিও যদি দৃষ্টিস্বরূপই হন, তাহা হইলে দৃষ্টি(জ্ঞান) সর্ব্বদাই তাঁহার দর্শনগোচর হইতে পারে, কখনই দ্রষ্টার অবিজ্ঞাত থাকিতে পারে না। দ্রষ্টার দৃষ্টি(জ্ঞানস্বভাব) নিত্য হওয়া আবশ্যক, আর দ্রষ্টার দৃষ্টি বা প্রকাশশক্তি যদি অনিত্য(সাময়িক) হয়, তাহা হইলে, যে দৃষ্টিটি তাহার দৃশ্য অর্থাৎ প্রকাশনীয়, সময়বিশেষে হয় ত সেই দৃষ্টিটি দর্শনের বিষয় না হইতেও পারে; যেমন অনিত্য লোকদৃষ্টি, দ্বারা দৃশ্য ঘটাদি বস্তু সময়ে দৃষ্ট হয়, আবার সময়ে অদৃষ্ট থাকে]। দৃষ্টির দ্রষ্টা কিন্তু তদ্রূপ কখনও দৃষ্টিকে প্রকাশ না করিয়া থাকে না, অর্থাৎ বুদ্ধিতে যখনই যেরূপ বৃত্তির উদয় হয়, স্বতঃ প্রকাশশীল দ্রষ্টা (আত্মা) তৎক্ষণাৎ সেই বুদ্ধিবিজ্ঞানকে প্রকাশিত করিয়া থাকে; জ্ঞান কখনও আত্মার অবিজ্ঞাত থাকে না; কাজেই আত্মার দৃষ্টিকে নিত্য বলিয়া স্বীকার করিতে হয়। ১৮

ভাল, তবে কি দ্রষ্টার দৃষ্টি দুইটা?—একটি নিত্য অথচ অদৃশ্য, আর অপরটা অনিত্য অথচ দৃশ্য? হাঁ, দ্রষ্টার অনিত্য দৃষ্টি ত(ঘটপটাদিবিষয়ক জ্ঞান ত) প্রসিদ্ধই আছে; কেননা, জগতে অন্ধ ও অনন্ধ দুই প্রকারই লোক দেখিতে পাওয়া যায়। দৃষ্টি যদি কেবল নিত্যই হইত, তাহা হইলে কেহই আর অন্ধ থাকিত না; দ্রষ্টার দৃষ্টি কিন্তু নিত্য অর্থাৎ সর্ব্বদাই বিদ্যমান; কারণ, শ্রুতি বলিতেছেন—‘দ্রষ্টার দৃষ্টি বিলুপ্ত হয় না’; অনুমান দ্বারাও ইহা সমথিত হইতে পারে—দেখিতে পাওয়া যায়, অন্ধ ব্যক্তিও স্বপ্নসময়ে প্রাতিভাসিক ঘটাদিবিষয়ক দৃষ্টি লাভ করিয়া থাকে, অর্থাৎ অন্ধ ব্যক্তিকেও স্বপ্নসময়ে ঘটাদি বিষয় দর্শন করিতে দেখা যায়, তবেই হইল যে, বাহ্য দৃষ্টি বিলুপ্ত হইলেও সেই নিত্য দৃষ্টিটি কখনও বিলুপ্ত হয় না; তাহাই দ্রষ্টার প্রকৃত দৃষ্টি। দ্রষ্টা আপনার স্বরূপভূত স্বয়ং প্রকাশ-নামক সেই অবিলুপ্ত নিত্য দৃষ্টি দ্বারা—স্বপ্ন ও জাগ্রৎসময়ে বাসনাময় ও বুদ্ধি-বৃত্তিরূপ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩০৭

অপর দৃষ্টিটিকে সর্ব্বদা দর্শন করেন; এইজন্যই তাহাকে দৃষ্টির দ্রষ্টা বলা হইয়া থাকে। এইরূপই যদি সিদ্ধান্ত হইল, তাহা হইলে বুঝিতে হইবে, অগ্নির উষ্ণতা যেরূপ স্বাভাবিক, তদ্রূপ এই নিত্য দৃষ্টিই আত্মার প্রকৃত স্বরূপ, কিন্তু কণাদমতে যেরূপ দৃষ্টির(জ্ঞানের) অতিরিক্ত চেতন আত্মা একটি পৃথক্ পদার্থ, বেদান্তের আত্মা সেরূপ পৃথক্ বস্তু নহে। ১৯

সেই ব্রহ্ম আপনাকে অধ্যারোপিত অনিত্যাদিদৃষ্টিবজ্জিত স্ব-স্বরূপকেই জানি- য়াছিলেন। এখন আপত্তি হইতেছে যে, ‘বিজ্ঞাতার বিজ্ঞান’-কথা ত শ্রুতিবিরুদ্ধ; কারণ, শ্রুতি বলিতেছেন-‘বিজ্ঞানের বিজ্ঞাতাকে জানিবে না’ ইত্যাদি। না, এবংবিধ বিজ্ঞানে কিছুমাত্র বিরোধ হয় না, কেন না, আত্মা যে দৃষ্টিরও দ্রষ্টা, অর্থাৎ সব্বজ্ঞানের প্রকাশক, ইহা ত নিশ্চয়ই জানা যাঁইতেছে। বিশেষতঃ আত্মাকে সাধারণতঃ জ্ঞানান্তর-নিরপেক্ষও বলিতে হইবে, কেননা, দ্রষ্টীর নিত্য- বিজ্ঞান-সম্বন্ধ বিজ্ঞাত থাকিলে, দ্রষ্টার সম্বন্ধে আর অন্য বিজ্ঞানের আকাঙ্ক্ষাও হয় না, অর্থাৎ দ্রষ্টা অপব জ্ঞানের সাহায্যে আপনাকে জানিয়া থাকে-এরূপ জানিতে কাহারও ইচ্ছা হয় না। দ্রষ্টার অতিরিক্ত বিজ্ঞানসম্বন্ধ থাকা সম্ভবপর হয় না বলিয়াই, দ্রষ্টৃবিষয়ে অন্য দৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা আপনা হইতেই নিবৃত্ত হইয়া যায়; কেন না, যে বিষয় বিদ্যমান নাই-নিতান্ত অসত্য, তাহা জানিবার জন্য কাহারো আগ্রহ হয় না বা হইতে পারে না। আব দশ্য-দৃষ্টি অর্থাৎ আত্ম-প্রকাশ্য বুদ্ধিবৃত্তিও কখনই দ্রষ্টাকে(আত্মাকে) প্রকাশ করিতে সমর্থ হয় না; সুতরাং তাহা জানিবাব জন্য জ্ঞানাকাঙ্ক্ষাও উপস্থিত হয় না, তা‘ছাড়া, আপনার বিষয়ে আপনার আকাঙ্ক্ষা হওয়া সম্ভবপরও হয় না। অতএব, “আত্মানম্ এব অবেৎ’ কথার অর্থ -অজ্ঞানকৃত কর্তৃত্বাদি আরোপনিবৃত্তিমাত্র, কিন্তু আত্মাকে প্রকাশিত করা নহে(১) ১০

তিনি কিপ্রকার জানিয়াছিলেন, তাহা বলিতেছেন—‘আমি হইতেছি দৃষ্টির

(১) তাৎপর্য্য—আপত্তি হইয়াছিল, আত্মা যখন স্বপ্রকাশ, আর জ্ঞান বা জানা অর্থ যখন বিষয়কে প্রকাশকরা; অথচ স্বপ্রকাশকে প্রকাশ করাও যখন অসম্ভব, তখন উক্ত শ্রুতির অর্থ সঙ্গত হয় কিরূপে? ভাষ্যকার তদুত্তরে বলিতেছেন যে, এখানে ‘অবেৎ’(জানিয়াছিলেন) কথার অর্থ—প্রকাশ করা নহে, কিন্তু অজ্ঞানের মহিমায় আত্মাতে যে, কর্তৃত্ব ভোজৃত্বাদি জড়ধৰ্ম্ম আরোপিত হইয়াছিল, কেবল তাহার নিবৃত্তি করাই এখানে “অবেৎ” কথার অর্থ; কেননা, “স্বয়ং প্রকাশমানত্বাৎ নাভাস উপযুজ্যতে।” অর্থাৎ স্বয়ং প্রকাশমান পদার্থকে প্রকাশ করা কখনও সম্ভবপর হয় না।

৩০৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

দ্রষ্টা(বুদ্ধিবৃত্তির প্রকাশক) আত্মা—ব্রহ্মস্বরূপ,’[ এই প্রকার জানিয়াছিলেন]। এখানে ব্রহ্ম অর্থ—যাহা সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষস্বরূপ সর্ব্বান্তর অশনায়াদির অতীত “নেতি নেতি” শ্রুতিপ্রতিপাদ্য এবং অস্থূল ও অনণু ইত্যাদিপ্রকারে সর্ব্বজগৎ- বিলক্ষণ; সেই ব্রহ্মই আমি, কিন্তু আপনি যেরূপ বলিতেছেন, আমি বস্তুতঃ সেরূপ ব্রহ্মাতিরিক্ত স্বতন্ত্র সংসারী নহি। অতএব, এবংবিধ জ্ঞানের প্রভাবে সেই ব্রহ্ম সর্বাত্মক হইয়াছিলেন, অর্থাৎ আরোপিত অব্রহ্মভাব ও অসর্ব্বভাব নিবৃত্তি করিয়া সর্ব্বাত্মভাবাপন্ন হইয়াছিলেন। অতএব মনুষ্যেরা যে, ব্রহ্মবিদ্যা দ্বারা সর্ব্বভাবাপন্ন হইব বলিয়া মনে করে, তাহা যুক্তিযুক্তই বটে। পূর্ব্বে যে প্রশ্ন করা হইয়াছিল—‘সেই ব্রহ্ম আবার কাহাকে জানিয়াছিলেন? যাহাকে জানিয়া তিনি সর্ব্বাত্মক হইয়াছেন’? “ব্রহ্ম বা ইদমগ্রে আসীৎ” ইত্যাদি বাক্যে তাহারই উত্তর নিরূপিত হইল। ২১.

এই জগতে দেবগণের মধ্যে যিনি যিনি প্রতিবুদ্ধ হইয়াছিলেন অর্থাৎ যথোক্ত বিধানে আত্মস্বরূপ জানিয়াছিলেন, প্রতিবুদ্ধ সেই সেই আত্মাই ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন; এইরূপ ঋষিগণের মধ্যে এবং সেইরূপ মনুষ্যগণের মধ্যেও হইয়া- ছিল। এখানে যে, দেবমনুষ্যাদি বিভাগের উক্তি করা হইতেছে, তাহা কেবল লৌকিক ব্যবহারানুষায়িমাত্র, কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞানানুসারী নহে; কেননা, “পুরঃ পুরুষ আবিশৎ” এই সকল শ্রুতি অনুসারে, ব্রহ্মই যে, সর্বত্র অনুসৃত আছেন, একথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। অতএব বুঝিতে হইবে, শ্রুতিতে যে, ‘দেবানাম্’ ইত্যাদি ভেদোল্লেখ করা হইয়াছে, তাহা কেবল শরীরাদি-উপাধিকৃত লোকপ্রতী- তির অনুযায়িমাত্র; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু বিজ্ঞানলাভের পূর্ব্বেও, সেই সমস্ত দেবাদি শরীরেও ব্রহ্ম বিদ্যমানই ছিলেন, কেবল বুদ্ধিদোষে অন্যপ্রকার প্রতীতি হইত মাত্র। পরে তিনি আত্মাকে উপলব্ধি করিয়াছিলেন, সেই জ্ঞানপ্রভাবেই সর্বাত্মভাব লাভ করিয়াছিলেন। ২২

এই ব্রহ্ম-বিদ্যা হইতে যে, সর্ব্বভাবপ্রাপ্তিরূপ ফল লাভ হয়, এ কথার দৃঢ়তা সম্পাদনার্থ শ্রুতি নিজেই মন্ত্রসমূহের উল্লেখ করিতেছেন। তাহা কি প্রকার? না, বামদেবনামক ঋষি—‘আমি হইতেছি এই ব্রহ্ম-স্বরূপ’ এই প্রকার আত্ম-দর্শন লাভ করত, অর্থাৎ এইরূপ ব্রহ্মদর্শনের ফলে তৎক্ষণেই আপনার সর্ব্বাত্মভাব বুঝিয়াছিলেন, অর্থাৎ তিনি উক্ত ব্রহ্মদর্শনে অবস্থিত হইয়া এই সমস্ত মন্ত্রার্থ দর্শন করিয়াছিলেন—‘আমিই মনু ও সূর্য্য হইয়াছিলাম’ ইত্যাদি। “তদেতৎ ব্রহ্ম পশ্যন” কথাটি ব্রহ্মবিদ্যার সহিত সম্বন্ধ প্রকাশক। ‘আমি মনু ও সূর্য্য

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্।

৩০৯

হইয়াছিলাম’ এই বাক্যে সর্ব্বভাবাপত্তিরূপ ব্রহ্মবিদ্যার ফলও প্রকাশ করা হইতেছে। ‘ভোজন করিতে করিতে তৃপ্তিলাভ করে’ বলিলে যেমন ভোজন- কেই তৃপ্তিকলের কারণ বলিয়া নির্দেশ করা হয়, তেমনি ‘দর্শন করত সর্ব্বাত্ম- ভাবরূপ ফললাভ করিয়াছিলেন’ এই প্রয়োগেও বুঝাইতেছেন যে, ব্রহ্মবিদ্যা- সহকত সাধনই মুক্তিরূপ ফলসিদ্ধির কারণ। ২৩

ভাল কথা, ব্রহ্মবিদ্যার ফলস্বরূপ যে সর্ব্বভাবাপত্তি, ইহা মহাবীর্য্যশালী দেবতা- প্রভৃতির সম্বন্ধেই সম্ভবপর হইয়াছিল, কিন্তু এখন বর্তমান যুগের লোকদিগের- বিশেষতঃ মনুষ্যদিগের পক্ষে তাহা কখনই সম্ভবপর হইতে পারে না; কারণ, ইহারা অতিশয় অল্পশক্তিসম্পন্ন, এইরূপ আশঙ্কা কাহারও মনে হইতে পারে; তদপনো- দনের নিমিত্ত বলিতেছেন-দর্শনাদি ক্রিয়ানুমিত এই যে সর্বভূতানুপ্রবিষ্ট ব্রহ্মের কথা বলা হইল, তাহা এখনও-বর্তমান সময়েও, যে কোন লোক বাহ্যবিষয়ে আসক্তি পরিত্যাগপূর্ব্বক ‘আমি উক্ত ব্রহ্মস্বরূপ’ এই বলিয়া আত্মাকে জানেন- উপাধিসম্বন্ধজনিত ভ্রান্তিজ্ঞানের ফলে যে সমুদয় বিশেষধৰ্ম্ম আরোপিত হইয়াছিল, সে সমস্ত অপনীত করিয়া, আমি নিশ্চয়ই সংসারধর্ম্মে অসংস্পৃষ্ট এবং বাহ্যাভ্যন্তর- ভাবরহিত ব্রহ্মস্বরূপ, এইরূপে আত্মার উপলব্ধি করেন; ব্রহ্মবিজ্ঞানে অবিদ্যাকৃত অসর্ব্বত্বভ্রান্তি নিবৃত্ত হইয়া যাওয়ায় তিনিও উক্ত সর্ব্বভাবাপন্ন হইতে পারেন। কারণ, মহাশক্তিসম্পন্ন বামদেবপ্রভৃতিতে কিংবা বর্তমানকালীন হীনবীর্য্য মনুষ্যেতে ব্রহ্ম বা ব্রহ্মবিজ্ঞানের কিঞ্চিন্মাত্রও তারতম্য ঘটে নাই, অর্থাৎ ব্রহ্ম ও ব্রহ্মবিদ্যা সকলের পক্ষেই চিরদিন সমান আছে। বর্তমানকালীন লোকদিগের ব্রহ্মবিদ্যা- ফললাভে অনৈকান্তিকতার(অনিশ্চয়তার) আশঙ্কা হইতে পারে, তদুত্তরে বলিতেছেন-যে ব্যক্তি যথোক্ত বিধানে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে, মহাবীর্য্য দেবগণও তাহার অকল্যাণ বা সর্ব্বভাবাপত্তিরূপ ফললাভে বাধা ঘটাইতে সমর্থ হন না, অন্যের আর কথা কি?। ২৪

ভাল, জিজ্ঞাসা করি, ব্রহ্মবিদ্যার ফলপ্রাপ্তিতে দেবগণ যে, বিঘ্নোৎপাদন করিয়া থাকেন, এরূপ আশঙ্কা করিবার কারণ কি? হাঁ, বলা হইতেছে-যেহেতু, মর্ত্যগণ দেবগণের নিকট ঋণগ্রস্ত, সেই কারণে[ঐরূপ আশঙ্কা হইতে পারে]। ‘ব্রহ্মচর্য্য দ্বারা ঋবিগণের, যজ্ঞ দ্বারা দেবগণের এবং সন্তান দ্বারা পিতৃগণের নিকট হইতে[ঋণমুক্ত হইবে]’, এই শ্রুতিবাক্য জন্মকাল হইতেই মনুষ্যের ঋণসম্বন্ধ প্রতিপাদন করিতেছে। প্রত্যুক্ত পশু-দৃষ্টান্ত হইতেও ইহা অবগত হওয়া যায়- “অথো অয়ং বা” ইত্যাদি শ্রুতি হইতেও জানা যার যে, মনুষ্যগণ যখন দেবতাদিগের

৩১০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নিকট অধমর্ণ বা ঋণগ্রস্তের তুল্য, তখন দেবগণ আপনাদের বৃত্তিরক্ষার জন্য ঋণগ্রস্ত মনুষ্যগণের মুক্তিলাভে অবশ্যই বিঘ্নাচরণ করিতে পারেন; অতএব উক্তপ্রকার আশঙ্কা ন্যায়সঙ্গতই বটে। ২৫

দেবগণ নিজ নিজ পশুগণকে স্বীয় শরীরের মত রক্ষা করিয়া থাকেন। অতঃপর স্বয়ং শ্রুতিও—এক একটি পুরুষকে দেবতাপ্রভৃতির বহুপশুস্থানীয় বলিয়া, মনুষ্যদিগকে কর্মাধীন(ভোগসাধন বলিয়া) প্রদর্শন করিবেন—‘মনুষ্যগণ যে, এই আত্মতত্ত্ব অবগত হয়, ইহা দেবতাদিগের প্রিয় নহে।’ এবং ‘মনুষ্য যেমন আত্মীয় লোকের অরিষ্টি(অকল্যাণ-নিবৃত্তি) ইচ্ছা করে, তেমনি ভূতগণও এবংবিধ জ্ঞানীর কল্যাণ কামনা করিয়া থাকে’। এই ‘অরিষ্টি’ ও ‘অপ্রিয়’ কথা হইতে জানা যায় যে, ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হইলে তাহার পরাধীনভাব নিবৃত্ত হইয়া যায়; সুতরাং স্বজনত্ব বা প্রিয়ত্ব কিছুই তখন থাকে না; অতএব, ব্রহ্মবিদের ব্রহ্মবিদ্যা- ফললাভে দেবগণ অবশ্যই বিঘ্নাচরণ করিতে পারেন; কারণ, তাঁহারা মহাপ্রভাব- সম্পন্ন। ২৬

ভাল, তাহা হইলে ত অন্যান্য কৰ্ম্মফলপ্রাপ্তিতেও বিঘ্নাচরণ করা, দেবগণের পক্ষে পেয়-পানের তুল্য অর্থাৎ জলযোগের মত অতি সহজ; অহো! তাহা হইলে ত অভ্যুদয় ও মুক্তির জন্য সাধন-কর্মানুষ্ঠানেও লোকের কিছুমাত্র আস্থা বা বিশ্বাস থাকিতে পারে না। এইরূপ অচিন্ত্যশক্তিসম্পন্ন ঈশ্বরেরও বিঘ্নাচরণে যথেষ্ট ক্ষমতা আছে, এবং কাল, কৰ্ম্ম, মন্ত্র, ওষধি ও তপস্যারও বিঘ্নোৎপাদনে প্রভুত্ব রহিয়াছে; কারণ, ইহারা সকলেই যে, ফলসম্বন্ধে সিদ্ধি ও অসিদ্ধির হেতুভূত, ইহা শাস্ত্রে ও সমাজে প্রসিদ্ধ আছে; সেই কারণেও শাস্ত্রোপদিষ্ট কর্মানুষ্ঠানে লোকের বিশ্বাস থাকিতে পারে না। না, এরূপ আপত্তি হইতে পারে না; কারণ, প্রত্যেক কার্য্যের জন্য পৃথক্ পৃথক্ নিমিত্ত-গ্রহণের ব্যবস্থা রহিয়াছে, এবং জগতে তদনুরূপ বৈচিত্র্যও দেখিতে পাওয়া যায়। কিন্তু যাঁহারা স্বভাবকে কারণ বলেন, তাঁহাদের মতে উক্ত উভয় কথাই উপপন্ন হইতে পারে না। কৰ্ম্মই যে, সুখদুঃখ- ফলের প্রযোজক, ইহা বেদ, স্মৃতি, যুক্তি ও লোকব্যবহারের অনুমোদিত। এই পক্ষটি গ্রহণ করিলে বুঝা যায় যে, দেবতা, ঈশ্বর ও কাল, ইহারা কেহই কর্মফলের বৈপরীত্যকারী নহেন; কেন না, কৰ্ম্মসমূহ যাহা প্রদান করিতে চাহে, উহারা তাহাই সম্পাদন করিয়া থাকেন মাত্র; কারণ, জীবগণের শুভাশুত কর্মসমূহ কখনই সহায়ভূত দেবতা, কাল ও ঈশ্বরাদি কারকনিচয়ের সাহায্য না লইয়া আত্মলাভে সমর্থ হয় না, আর কথঞ্চিৎ আত্মলাভ করিলেও ফলপ্রদানে সমর্থ হয় না; কারণ,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩১১

বহু কারকের সাহায্যে ফল প্রদান করাই ক্রিয়ার স্বভাব; সুতরাং বলিতে হইবে যে, দেবতা ও ঈশ্বর প্রভৃতি সকলেই ক্রিয়াফলের অনুকূল বা সহায়মাত্র; কাজেই কর্মফল-প্রাপ্তিতে কাহারও অনাশ্বাস বা নৈরাশ্যের সম্ভাবনা নাই। ২৭

স্থলবিশেষে দেবতাগণও কর্মপরিচালিত হইয়া দুঃখ সমুৎপাদন করিয়া থাকেন; কারণ, তাঁহারা কর্মের দুঃখদায়িকাশক্তিকে নিবারণ করিতে সমর্থ হন না। তাহার পর, কৰ্ম্ম, কাল, দৈব(অদৃষ্ট) ও বস্তুস্বভাবের যে গুণ-প্রধান-ভাব, অর্থাৎ কোথাও কৰ্ম্ম হয় প্রধান, কাল প্রভৃতি হয় তাহার অধীন, আবার কোথাও কালাদি হয় প্রধান, আর কৰ্মাদি হয় তাহার অধীন, ইত্যাদি প্রকারে যে অঙ্গাঙ্গিভাব, ইহা অনিয়ত ও দুর্ব্বিজ্ঞেয়, অর্থাৎ কোথায় কোন্টি প্রধান, আর কোন্টি অপ্রধান হইবে; ইহার স্থিরতা নাই, এবং চিন্তা দ্বারাও ইহা নিশ্চয় করা সহজ নহে; এই কারণেই এ সম্বন্ধে লোকের নানাপ্রকার ভ্রান্তি উপস্থিত হইয়া থাকে,-কেহ কেহ বলেন-কৰ্ম্মই ফলপ্রাপ্তির একমাত্র কারণ, অন্য কিছু নহে; অপরে বলেন, দৈবই ফলপ্রদানের কারণ; অন্যেরা বলেন-কালই কর্মফল প্রদান করিয়া থাকে; কেহ কেহ বলেন-দ্রব্য ও দেশাদির বিশেষ বিশেষ স্বভাবই ফল প্রদান করিয়া থাকে; আবার অপর এক দল লোক বলিয়া থাকেন-কৰ্ম্ম ও কালপ্রভৃতি কারণনিচয় সম্মিলিত হইয়াই ফলপ্রদানের কারণ হইয়া থাকে। তন্মধ্যে কর্মের প্রাধান্য স্বীকার করিয়া ‘পুণ্য কর্মের ফলে পুণ্য লোকপ্রাপ্ত হয়, আর পাপকর্মের ফলে দুঃখময় লোক প্রাপ্ত হয়’ ইত্যাদি বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র-সমূহ [ কৰ্ম্মকেই ফলপ্রদ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন]। যদিও স্বাধিকার সম্পাদনসময়ে ইহাদের মধ্যেও কর্মবিশেষের প্রাধান্য অভিব্যক্ত হয়, এবং অপর কর্মগুলির প্রাধান্যশক্তি নিরুদ্ধ হইয়া থাকে সত্য, তথাপি কর্মের উপযুক্ত ফলপ্রাপ্তি সম্বন্ধে কিছুমাত্র ব্যতিক্রমের সম্ভাবনা নাই; কারণ, ফল-প্রদানে যে, কর্মেরই প্রাধান্য, ইহা শাস্ত্র ও যুক্তি দ্বারা(১) অবধারিত হইয়াছে। ২৮

না, দেবগণও বিদ্যাফলে বিঘ্নাচরণ করিতে পারে না; কারণ, বিদ্যার ফল ব্রহ্মপ্রাপ্তি, তাহা ত অবিদ্যার অপসারণ ভিন্ন আর কিছুই নহে(২)। অভিপ্রায়

(১) তাৎপর্য্য—কর্ম্মের প্রাধান্যজ্ঞাপক শাস্ত্র—“পুণ্যো বৈ পুণ্যেন ভবতি, পাপঃ পাপেন” ইত্যাদি শ্রুতি এবং “ধর্মরজ্জা ব্রজেদুর্দ্ধম্” ইত্যাদি স্মৃতি। ন্যায় বা যুক্তি এই—প্রাক্তন কর্ম্মসত্তা স্বীকার না করিলে পূর্ব্বোক্ত জগদ্বৈচিত্র্যের অনুপপত্তি ও অসঙ্গতি প্রভৃতি।

(২) বিদ্যার ফল মুক্তি। মুক্তিলাভে দেবগণের বিঘ্নাচরণাশঙ্কার প্রসঙ্গে কর্মফল প্রাপ্তি- তেও দেবগণের প্রতিকূলতাচরণ আশঙ্কিত হইয়াছিল, তন্মধ্যে প্রথমতঃ কর্মফলে দেবগণের

৩১২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এই যে, তোমরা যে বলিয়াছ—বিদ্যার ফল ব্রহ্মপ্রাপ্তিতেও দেবগণ বিঘ্নাচরণ করিতে পারেন।[তদুত্তরে বলিতেছি—] না, তাহাতে বিঘ্নসমুৎপাদন করিবার সামর্থ্য দেবগণেরও নাই। কেন? যেহেতু, ব্রহ্মপ্রাপ্তিরূপ যে বিদ্যাফল, তাহা বিদ্যাকালের অনন্তরিত, অর্থাৎ যেই মুহূর্তে বিদ্যার উদয় হয়, ব্রহ্মপ্রাপ্তিরূপ বিদ্যাফলও ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রাদুর্ভূত হয়, কিছুমাত্র কালব্যবধান থাকে না। কি প্রকার? যেমন দ্রষ্টার চক্ষুর সহিত যেই মুহূর্তে আলোক-সংযোগ হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই রূপের প্রত্যক্ষ হয়, তেমনি আত্মবিষয়ক বিজ্ঞান যে সময়ে সমুৎপন্ন হয়, ঠিক সেই সময়েই আত্মবিষয়ক অজ্ঞানও অন্তর্হিত হইয়া যায়; কাষেই ব্রহ্মবিদ্যা উৎপন্ন হইলে পর, অবিদ্যার কোনরূপ কার্য্য হইবারই আর অবসর থাকে না।— যেমন প্রদীপ প্রকাশ হইলে পর অন্ধকারের[আর কার্য্য করিবার অবসর থাকে না, তেমন।] অতএব যে অবস্থায় ব্রহ্মবিৎ পুরুষ দেবগণের আত্মস্বরূপই হইয়া যান, সে অবস্থায় দেবগণ কিরূপে তাহার বিঘ্নাচরণ করিবেন? ২৯

অতঃপর সেই কথাই বলিতেছেন—যেহেতু সেই ব্রহ্মবিৎ পুরুষের ব্রহ্মবিদ্যা- লাভের সমকালেই অবিদ্যামাত্ররূপী ব্যবধানের বা অব্রহ্মভাবের অপগম হইয়া যায়, তখন রজতাকারে প্রতিভাসমান শুক্তিতে যেমন শুক্তিধর্ম্মের আবির্ভাব হয়, তেমনি তিনিও এই দেবগণের আত্মস্বরূপ হইয়া যান, অর্থাৎ সর্ব্বশাস্ত্রপ্রতিপাদ্য সেই স্বরূপভূত ধ্যেয় ব্রহ্মস্বরূপ হন, এ কথা আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি। এই কারণেই তখন দেবগণেরও আপনারই প্রতিকুলাচরণে চেষ্টা করা সম্ভব হয় না। পক্ষান্তরে, যাহার ফল অনাত্মস্বরূপ—দেশ ও কালাদি দ্বারা ব্যবহিত, অর্থাৎ যে ফল বিভিন্ন দেশে ও সময়ে উৎপত্তিশীল; তাদৃশ অনাত্মভূত ফলবিষয়ে বিঘ্নাচরণেই দেবগণ সমর্থ হন, কিন্তু বিদ্যার সমকালীন এবং দেশকালাদি ব্যবধানরহিত আত্মস্বরূপ বিদ্যাফলে বিঘ্নাচরণ করিতে তাহারা সমর্থ হন না; কারণ, এখানে বিঘ্ন উৎপাদন করিবার আর অবসর কোথায়?[ যদি ব্রহ্মবিদ্যালাভের পরে কোনও কালে কোনও স্থানে বিদ্যার ফল উৎপন্ন হইত, তাহা হইলেই সেই সময়ে বিঘ্ন জন্মান তাঁহাদের পক্ষে সম্ভবপর হইত]। ৩০

ভাল, জ্ঞানফল যদি অব্যবহিত পরবর্তী বা সমকালীনই হয়, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, তৎকালে অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানধারা বর্তমান না থাকায় এবং জ্ঞানোদয়ের পরেও বিপরীত জ্ঞান(ভ্রান্তি) ও তৎকার্য্য দৃষ্ট হওয়ার অনুমিত হয় যে, তৎকালে বিম্নাচরণাশঙ্কা খণ্ডন করিয়া এখন বিদ্যাফলে দেবগণকর্তৃক বিম্নাচরণাশঙ্কার সমাধান করিবার উদ্দেশ্যে ‘ন’ ইত্যাদি বাক্যের অবতারণা করিতেছেন।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩১৩

জল-প্রবাহের ন্যায় জ্ঞানের ধারা অবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যমান নাই, পক্ষান্তরে বিপরীত জ্ঞান এবং তৎকাৰ্য্যও যখন ঐ সঙ্গে দৃষ্ট হইয়া-থাকে, তখন অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে যে, অন্তিম জ্ঞানেই অবিদ্যানিবৃত্তি হয়, আদ্য জ্ঞানে হয় না; না, এরূপ ব্যবস্থাও হইতে পারে না; কারণ, তাহা হইলে প্রথম জ্ঞানের ন্যায় অন্তিম জ্ঞানও অনৈকান্তিক বা ব্যভিচারী হইয়া পড়ে। কেন না, আত্ম- বিষয়ক প্রথমোৎপন্ন জ্ঞানে যদি অবিদ্যার নিবৃত্তি সাধন করিতে না পারে, তাহা হইলে অন্তিম জ্ঞানে যে, নিবৃত্তি হইবে, তাহার বিশ্বাস কি? কারণ, উভয়েরই অধিকার তুল্য। আচ্ছা, তাহা হইলে বলিব যে, সম্ভত অর্থাৎ অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবর্তিত বিজ্ঞানেই অবিদ্যার নিবৃত্তি হয়, বিচ্ছিন্ন বিজ্ঞানে হয় না; না, এ কথাও সঙ্গত হয় না; কারণ, জীবদ্দশায় কখনই অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানপ্রবাই হইতে পারে না; কারণ, অন্ততঃ জীবন-ধারণের জন্যও তদনুকূল চিন্তা করা আবশ্যক হয়; সুতরাং তৎকালে প্রবাহাকারে বিদ্যা-প্রত্যয় হইতেই পারে না; যেহেতু, উহারা পরস্পর- বিরুদ্ধ। আর যদি বল, জীবনাদির চিন্তা নিবৃত্তি করিয়া মরণকাল পর্যন্ত এই বিদ্যাপ্রত্যয়ই প্রবহমাণ হইয়া থাকে; না, তাহাও বলিতে পার না; কারণ, বিদ্যাপ্রত্যয়ের সংখ্যাবিশেষ অবধারিত না থাকায়, অর্থাৎ কতবার প্রত্যয়ানুশীলন করিতে হইবে, ইহার নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকার শাস্ত্রার্থেরই অবধারণ হইতে পারে না। অভিপ্রায় এই যে, এতগুলি প্রত্যয়ধারায় অবিদ্যার নিবৃত্তি হইবে, এরূপ কোনও ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃত পক্ষে শাস্ত্রের উদ্দেশ্যই স্থির করা যাইতে পারে না; ইহা অবশ্যই দোষাবহ; সুতরাং কখনই স্বীকার্য্য হইতে পারে না। না, এ কথাও বলা যাইতে পারে না; কারণ, আদ্য ও অন্তিম প্রত্যয়ের মধ্যে কিছুমাত্র বিশেষত্ব নাই, অর্থাৎ প্রথমোৎপন্ন বিদ্যা-প্রত্যয়-ধারা অথবা মরণকাল পর্যন্ত প্রবহমাণ বিদ্যা-প্রত্যয়ধারা অবিদ্যা-নিবর্তক হইবে, এরূপ বিশেষ করিয়া বলিবার কোনও প্রয়োজন নাই; আদি ও অন্ত্য প্রত্যয় সম্বন্ধে পূর্ব্বে যে দুইটা দোষ কথিত হইয়াছে, এখানেও সেই দুইটী দোষেরই সম্ভাবনা আছে। ভাল কথা, এইরূপই যদি হয়, তাহা হইলে বলিব, জ্ঞান অবিদ্যার নিবর্তকই নয়। না,-সে কথাও বলা যায় না; কারণ, ‘তিনি সেই বিজ্ঞানের প্রভাবে সর্ব্বাত্মক হইয়াছিলেন’, ‘হৃদয়ের অবিদ্যাগ্রন্থি ছিন্ন হইয়া যায়’, ‘সে অবস্থায় আবার মোহই বা কি?’ ইত্যাদি শ্রুতিই এ বিষয়ে প্রমাণ। ৩১

যদি বল, “তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবৎ” ইত্যাদি: শ্রুতি কেবল ‘অর্থবাদ’ মাত্র, অর্থাৎ ব্রহ্মবিদ্যার প্রশংসাত্মকমাত্র, কিন্তু প্রকৃত সত্যার্থপ্রকাশক নহে; না,

৪০

৩১৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাহা হইলে সর্ব্বশাখীয় সমস্ত উপনিষদেরই অর্থবাদত্ব হইতে পারে। কারণ, সর্ব্বশাখীয় সমস্ত উপনিষদই কেবল এইরূপ তত্ত্ব প্রতিপাদন করিয়াই বিশ্রাম লাভ করিয়াছে। যদি বল, ঐ সমস্ত উপনিষদের প্রতিপাদ্য আত্মা যখন প্রত্যক্ষগম্য, তখন অর্থবাদ হয় হউক, ক্ষতি কি? না, সে কথাও বলিতে পার না; কারণ, এ কথার মীমাংসা পূর্ব্বেই কথিত হইয়াছে, অর্থাৎ বিদ্যাপ্রভাবে যে, অবিদ্যা- জনিত শোক-মোহ-ভয়াদির নিবৃত্তি হয়, ইহা প্রত্যক্ষ সিদ্ধ, অর্থাৎ বিদ্বদনুভবসিদ্ধ; সুতরাং এ বিষয়ে শ্রুতির অর্থবাদত্ব কল্পনা করা সঙ্গত হয় না; এ কথা পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে। অতএব, অবিদ্যাদি-দোষনিবৃত্তিরূপ ফলোৎপাদনেই যখন বিদ্যার পরিসমাপ্তি, তখন জ্ঞান সম্বন্ধে আদ্য, অন্ত্য, সন্তত বা অসন্তত ইত্যাদি পরিকল্পনার অবসরই নাই। কারণ, যে প্রত্যয়ে অবিদ্যাদি দোষ-নিচয় নিবারিত হয়, তাহাকেই বিদ্যা বলিয়া স্বীকার করা হয়, এখন তাহা আদ্যই হউক, বা অন্ত্যই হউক, সন্ততই হউক, আর অসন্ততই হউক, সে সম্বন্ধে কোনও কথা নাই; সুতরাং এ বিষয়ে আপত্তিরও অবসর নাই। ৩২

আর যে, বিপরীত বুদ্ধি ও তদনুরূপ কার্য্যদর্শনরূপ অপর হেতু প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহাও সঙ্গত হয় নাই; কারণ, প্রারব্ধ কর্মশেষই ঐরূপ ব্যবহারের প্রবর্তক, অর্থাৎ যে কৰ্ম্মানুসারে উপস্থিত দেহ আরন্ধ বা উৎপন্ন হইয়াছে, সেই কৰ্ম্মই ঐরূপ বিপরীত বুদ্ধি-দোষের সমুৎপাদক। বিপরীত বুদ্ধিসংযুক্ত তাদৃশ কর্মেরই তদনুরূপ ফলপ্রদানে সামর্থ্য; এই কারণে, যে পর্যন্ত বর্তমান শরীরের পতন না হয়, সেই পর্যন্ত কৰ্ম্মফলভোগেরই, অঙ্গরূপে অর্থাৎ কৰ্ম্মফল- ভোগের জন্য যে পরিমাণ দরকার, ঠিক সেই পরিমাণ ভ্রান্তিপ্রত্যয় ও রাগ- দ্বেষাদি দোষেরও উদ্ভাবন করিয়া থাকে; কারণ, ভোগের হেতুভূত কর্মগুলি তখনও ফল দিয়া বিরত হয় নাই; সুতরাং ধনুমুক্ত বাণের ন্যায় প্রারব্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাহার বিরাম হইতে পারে না। এই জন্য, বিরুদ্ধ নয় বলিয়াই সমুৎপন্ন ব্রহ্মবিদ্যা তাদৃশ বিপরীত প্রত্যয়ের নিবারণ করে না,[বিরুদ্ধ স্থলেই বিদ্যা দ্বারা অবিদ্যা বাধিত হইয়া, থাকে, অবিরুদ্ধ স্থলে নহে]; তবে, ভবিষ্যৎ- কালে জ্ঞানবিরোধী যে সমস্ত অবিদ্যা-কার্য্য সমুৎপন্ন হইবে, বিরুদ্ধস্বভাব বলিয়া কেবল সেই সমস্ত অজ্ঞানকাৰ্য্যকেই নিরুদ্ধ করিয়া থাকে; কারণ, তাহা তখনও অনাগত; আর প্রারব্ধ হইল লুব্ধোদয়;[সুতরাং তাহার আর নিবারণ করা সম্ভবপর হয় না](১)। ৩৩

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩১৫

আরও এক কথা, যথার্থ বিদ্যাসম্পন্ন ব্যক্তির বিপরীত বুদ্ধি হওয়া সম্ভবপরও হয় না; কেন না, সে সময় ঐরূপ জ্ঞানের কোনরূপ বিজ্ঞেয়-বিষয়ও বর্তমান থাকে না। সাধারণতঃ যে বস্তু বিশিষ্টরূপে অবধারিত না হইয়া সামান্যাকারে পরিদৃষ্ট হয়, তাদৃশ বস্তুবিশেষকে অবলম্বন করিয়াই বিপরীত জ্ঞান সমুৎপন্ন হইয়া থাকে; যেমন—শুক্তিতে রজতজ্ঞান। এই কারণেই, যে ব্যক্তি বস্তুগত বিশেষ ধৰ্ম্ম অবধারণ করিতে সমর্থ হন,—বিপরীত জ্ঞানের সর্ব্বপ্রকার সংস্কার বিমদ্দিত করিতে পারেন, তাঁহার নিকট পূর্ব্ববৎ ভ্রান্তিজ্ঞান সমুৎপন্ন হওয়া কখনই সম্ভবপর হয় না; কেন না, শুক্তিজ্ঞানের পর তদ্বিষয়ে পুনর্ব্বার ভ্রান্তিজ্ঞান জন্মিতে দেখা যায় না;[সুতরাং বস্তুতত্ত্ববিৎ ব্যক্তির পক্ষে পুনর্ব্বার ভ্রান্তিসমুৎপত্তি অসম্ভব]। ৩৪

কোথাও বা, বিদ্যা-প্রাদুর্ভাবের পূর্ব্ববর্তী বিপরীত-প্রতীতি হইতে সমুৎপন্ন সংস্কারসমূহ হইতেও বিপরীত-জ্ঞানাভাস(যাহা আপাততঃ বিপরীত জ্ঞান বলিয়া মনে হয়, বাস্তবিক পক্ষে কিন্তু সেগুলি স্মরণ মাত্র, সেই সমস্ত স্মরণাত্মক জ্ঞান) উৎপন্ন হইয়া হঠাৎ বিপরীত বুদ্ধি-ভ্রম জন্মাইয়া থাকে; যেমন, যে লোক পূর্ব্বাদি দিগ্বিভাগ জানে, তাহারই দিক্সম্বন্ধে ভ্রমাত্মক বিপরীত বুদ্ধি ঘটিয়া থাকে, [ইহাও তেমনি]। আর যদি যথার্থ তত্ত্বজ্ঞ লোকেরও পূর্ব্ববৎ বুদ্ধিবিভ্রম উৎপন্ন হয় বল, তাহা হইলে ত তত্ত্বজ্ঞানের উপরেই লোকের অবিশ্বাস উপস্থিত হইতে পারে! তাহার ফলে শাস্ত্রার্থজ্ঞানে লোক-প্রবৃত্তিরই ব্যাঘাত ঘটিতে পারে। বিশেষতঃ কোন্টি প্রমাণ, আর কোন্টি অপ্রমাণ, ইহা নিশ্চয় করিবার বিশেষ কোন উপায় না থাকায় সমস্ত প্রমাণই অপ্রমাণমধ্যে পরিগণিত হইতে পারে। এই কথা দ্বারা ‘তত্ত্বজ্ঞানলাভের পরক্ষণেই শরীরপাত হয় না কেন?’ এই আপত্তিও খণ্ডিত হইল। ৩৫

নিবৃত্তি করিতে সমর্থ হয় না, তখন অনারব্ধ কর্মেরও নিবৃত্তি করিতে পারে না; তদুত্তরে বলিতেছেন যে, যেখানে জ্ঞানের প্রতিকূলভাবে কৰ্ম্ম ও কর্মফল উৎপন্ন হইবার সম্ভাবনা থাকে, জ্ঞান কেবল তাদৃশ ভবিষ্যৎকর্ম ও কর্মফলেরই বাধা ঘটাইয়া থাকে, কিন্তু যেখানে কৰ্ম্ম ও তৎফল জ্ঞানের অবিরোধী, অথচ পূর্ব্বোৎপন্ন, সেখানে জ্ঞান উৎপন্ন হইয়াও সে সমুদায়ের নিবৃত্তি করিতে পারে না। প্রারব্ধ কর্মগুলি জ্ঞানোদয়ের পূর্ব্বেই ফল দিতে প্রবৃত্ত হইয়াছে, অথচ জ্ঞানের পরিপন্থীও নয়; সুতরাং ব্রহ্মজ্ঞান উৎপন্ন হইয়াও সেগুলির বাধা দিতে পারে না, পক্ষান্তরে, যে সমস্ত কৰ্ম্ম তখনও ফল দিতে আরম্ভ করে নাই, তাহাদের ফল জ্ঞানের বিরোধী, এই কারণে সেগুলিই জ্ঞান দ্বারা নিরুদ্ধ হয়।

৩১৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

‘জ্ঞানীর ফলপ্রাপ্তি সম্বন্ধে কোন প্রকার বিঘ্নের সম্ভাবনা নাই’, শ্রুতির এই কথা হইতে ইহাও প্রমাণিত হইতেছে যে, তত্ত্বজ্ঞানোদয়ের পূর্ব্বে, পরে ও তৎ- সমকালে জাত এবং জন্মান্তরসঞ্চিত যে সমস্ত কৰ্ম্ম তখনও ফল দিতে আরম্ভ করে নাই, সে সমুদয় কর্মও বিনষ্ট হইয়া যায়। শ্রুতি বলিতেছেন—‘ইহার(জ্ঞানীর) সমস্ত কৰ্ম্ম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়’, ‘প্রারব্ধ কৰ্ম্ম ক্ষয় না হওয়া পর্য্যন্তই তাহার বিলম্ব’, ‘সমস্ত পাপ দগ্ধ হইয়া যায়’, তাঁহাকে জানিলে পর আর পাপকর্ম দ্বারা লিপ্ত হয় না’, ‘কেবল ইহাকেই পুণ্য ও পাপ আক্রমণ করিতে পারে না’, ‘পুণ্য ও পাপ তাহাকে তাপ দেয় না’, ‘ইহাকেই কেবল তাপ দেয় না’, ‘কোথা হইতেও ভীত হন না’ ইত্যাদি। আর স্মৃতিশাস্ত্রও বলিতেছেন—‘হে অর্জুন, জ্ঞানরূপ অগ্নি সমস্ত কৰ্ম্ম ভস্মীভূত করে’ ইত্যাদি ॥ ৩৬

আর যে, জ্ঞানীরাও ঋণে আবদ্ধ থাকেন বলা হইয়াছে, তাহাও সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ, ঋণশ্রুতির বিষয় হইতেছে-অবিদ্বান্ পুরুষ; কারণ, কর্তৃত্বাদি ধৰ্ম্ম তাহার সম্বন্ধেই উপপন্ন হয়। বিশেষতঃ এই উপনিষদেই পরে বলা হইবে যে, ‘যে অবস্থায় ব্রহ্ম-বস্তু জীব হইতে পৃথভাবাপনের ন্যায় হয়, তখনই একে অপরকে দর্শন করে‘। ইহার অভিপ্রায় এই যে, যে অবিদ্যা বিদ্যমান থাকিলে জীব হইতে অনন্য বা অপৃথগভূত আত্মানামক সদ্বস্তটিকে পৃথক্ পদার্থের ন্যায় বোধ হয়,-যেমন তিমিররোগগ্রস্ত ব্যক্তির নিকট এক চন্দ্রও সদ্বিতীয়বৎ প্রতি- ভাত হয়; সেই অবস্থায়ই অবিদ্যাকৃত অনেক কারক-সাপেক্ষ দর্শনাদি ক্রিয়াও ‘তজ্জনিত ফলের সম্ভাব-“তত্র অন্যোহন্যৎ পশ্যেৎ” ইত্যাদি বাক্যে প্রদর্শন করিতেছে; পক্ষান্তরে, যখন বিদ্যার উদয় হয়, তখন অবিদ্যাকৃত অনেকত্বভ্রম নিবারিত হইয়া যায়, তদ্বিষয়েই ‘কিসের দ্বারা কাহাকে দর্শন করিবে’ এই বাক্যে ক্রিয়ার অসম্ভাবনা প্রদর্শন করিতেছে। অতএব, কর্মাদির অনুষ্ঠান সম্ভবপর হয় বলিয়াই বুঝিতে হইবে যে, অবিদ্যাযুক্ত পুরুষই ঋণী, অপরে নহে। ৩৭

‘তদ্যথা ইহৈব তাবৎ’ ইত্যাদি। যে কোনও অব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ অন্য—আত্ম- ভিন্ন, যে কোনও দেবতার উপাসনা করে, অর্থাৎ স্তুতি, নমস্কার, যাগ(গন্ধ- পুষ্পাদি দ্বারা পূজা), বলি-উপহার(নৈবেদ্য সমর্পণ), প্রণিধান(চিত্তের একাগ্রতা) ও ধ্যান প্রভৃতি দ্বারা নিকটে থাকে—সেই দেবতার গুণভাব বা অধীনতা অবলম্বনপূর্ব্বক বর্তমান থাকে, অর্থাৎ আমার উপাস্য এই অনাত্মবস্তুটি আমা হইতে পৃথক্, উপাসনায় অধিকারী আমি হইতেছি—ইহা হইতে পৃথক্,

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্। ৩১৭

এবং আমাকে অধমর্ণের ন্যায় ইহার আরাধনা করিতে হইবে, এইরূপ বিশ্বাস সহকারে উপাসনা করে, ঈদৃশ জ্ঞানসম্পন্ন সেই উপাসক কিন্তু প্রকৃত তত্ত্ব জানে না। সেই ব্যক্তি যে, কেবল এবংবিধ অবিদ্যা-দোষেই কলুষিত, তাহা নহে; তবে কি? না, গবাদি পশু যেরূপ বাহন ও দোহনাদিরূপ উপকার সাধন করিয়া [ গৃহস্থের] উপভুক্ত হইয়া থাকে, ঠিক সেইরূপ সেই উপাসকও যজ্ঞাদি কার্য্য দ্বারা এক এক দেবতার ভোগ সম্পাদন করিয়া থাকে; এই জন্য তাদৃশ পুরুষও পশুর ন্যায়ই সর্ব্বপ্রকার কর্ম্মে অধিকার লাভ করিয়া থাকে। ৩৮

বর্ণাশ্রমাদি-বিভাগসম্পন্ন কম্মাধিকারী উক্ত অবিদ্বান পুরুষ শাস্ত্রোক্ত যে সমস্ত কর্মের অনুষ্ঠান করেন, সে সমস্ত কৰ্ম্ম উপাসনাসহকৃতই হউক, আর তদ্বিযুক্তই হউক, তাহার উৎকৃষ্ট ফল হইতেছে- মনুষ্যত্ব হইতে আরম্ভ করিয়া ব্রহ্মত্বলাভ পর্যন্ত; আর শাস্ত্রোক্তের বিপবাত(অশাস্ত্রীয়) স্বাভাবিক কর্মের অপকৃষ্ট ফল হইতেছে--মনুষ্যত্ব হইতে আরম্ভ করিয়া স্থাবরভাবপ্রাপ্তি পর্যন্ত। যাহাতে এই কথা প্রমাণিত হইতে পারে, তাহা এই অধ্যায়ের শেষাংশে “অথ ত্রয়ো বাব লোকাঃ” ইত্যাদি বাক্যে আমরা প্রতিপাদন করিব। বিদ্যার ফল যে, সব্বাত্মভাবপ্রাপ্তি, তাহাও সংক্ষেপে প্রদর্শিত হইয়াছে; এই সম্পূর্ণ বৃহদারণ্যকোপনিষদটি বিদ্যা ও অবিদ্যার বিভাগপ্রদর্শনেই পরিসমাপ্ত হইয়াছে। যাহাতে ইহা সমগ্র শাস্ত্রের প্রতিপাদ্যার্থরূপে প্রমাণিত হইতে পারে, আমরা তাহা প্রদর্শন করিব। ৩৯

যেহেতু, এইরূপই শাস্ত্রার্থ নির্ণীত হইল, সেই হেতু দেবগণ অবিদ্বান্ পুরুষের প্রতি বিঘ্নাচরণ বা অনুগ্রহপ্রদর্শন করিতে অবশ্যই সমর্থ হন; ইহা প্রদর্শন করিবার উদ্দেশ্যে বলিতেছেন—জগতে গো, অশ্ব প্রভৃতি বহু পশু যেরূপ নিজের প্রভু বা রক্ষক মনুষ্যকে ভোগ করিয়া থাকে—পালন করিয়া থাকে, তদ্রূপ বহুপশু- স্থানীয় একএকটি অবিদ্বান্ পুরুষও দেবগণকে ভোগ করে অর্থাৎ পোষণ করে— এই ইন্দ্রাদি দেবগণ আমা হইতে পৃথক্, আমার প্রভু, আমি ভৃত্যের ন্যায় স্তুতি, নমস্কার ও যাগাদি কার্য্য দ্বারা ইঁহাদের আরাধনা করিয়া ইহাদেরই অনুগ্রহপ্রদত্ত অভ্যুদয়(স্বর্গাদি) ও নিঃশ্রেয়স(মুক্তি) ফল লাভ করিব, এইরূপ মনে করিয়া থাকে। এখানে “দেবানাং” এই দেবতাশব্দটি পিতৃগণপ্রভৃতিরও বোধক; [সুতরাং মনুষ্যগণ যেমন দেবতার ভোগ্য, তেমনি পিত্রাদিরও ভোগ্য]। ৪০ জগতে যাহার বহু পশু আছে, তাহার একটি পশু গৃহীত হইলেও অর্থাৎ ব্যাঘ্রাদিকর্তৃক অপহৃত বা নিহত হইবার মত হইলেও যেমন অত্যন্ত অপ্রিয়(দুঃখ)

৩১৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

উপস্থিত হয়, তেমনি বহুপশুস্থানীয় একটি পুরুষ পশুভাব হইতে অর্থাৎ অবিদ্যাবস্থা হইতে উত্থান করিবার উদ্যোগ করিতে থাকিলে, বহু পশু অপহরণে গৃহস্থের যেমন দুঃখ হয়, তেমনি দেবগণেরও যে, মহা দুঃখ(অপ্রিয়) হইবে, ইহা আর বিচিত্র কি? সেই হেতু ইহাদের তাহা প্রিয় নয়; তাহা কি? না, মনুষ্যগণ যে, কোন প্রকারেও এই ব্রহ্মাত্ম-তত্ত্ব জানিতে পারে;[ইহা দেবগণের প্রিয় নহে]। অনুগীতাগ্রন্থে ভগবান্ বেদব্যাসও এইরূপই স্মরণ(১) করিয়াছেন,-‘হে কৌন্তেয় (অর্জুন), ক্রিয়াধিকৃত পুরুষ দ্বারা দেবলোক পরিপূর্ণ হইয়া রহিয়াছে; মরণশীল মানবগণ যে, দেবগণেরও উপরে থাকে, ইহা তাঁহাদের অভিপ্রেত নহে’; অতএব, পশুগণকে যেরূপ ব্যাঘ্রাদির নিকট হইতে রক্ষা করিয়া থাকে, তদ্রূপ মনুষ্যগণ আমাদের উপভোগ্যভাব হইতে মুক্ত না হউক, এই মনে করিয়া দেবগণও তাহাদের ব্রহ্মবিজ্ঞানে বিঘ্নাচরণ করিয়া থাকেন; আবার যাহাকে বিমুক্ত করিতে ইচ্ছা করেন, তাহাকে শ্রদ্ধাদিসাধনের সহিত সংযোজিত করেন, অপরকে অশ্রদ্ধাদির সহিত সংযোজিত করেন। এই ‘দেবাপ্রিয়’ শ্রুতিবাক্যে কাকু দ্বারা(ভঙ্গিক্রমে) (২) ইহাই জ্ঞাপন করিলেন যে, অতএব মুমুক্ষু ব্যক্তি দেবতার আরাধনায় তৎপর, শ্রদ্ধাভক্তিসম্পন্ন, বিনীত ও প্রমাদহীন(সাবধান) হইবেন,(কখনও তদ্বিপরীত হইবেন না) ॥ ৪৭ ॥ ১০ ॥

আভাস-ভাষ্যম্।—সূত্রিতঃ শাস্ত্রার্থঃ—“আত্মেত্যেবোপাসীত” ইতি; তস্য চ ব্যাচিখ্যাসিতস্য সার্থবাদেন “তদাহুর্যদ্রহ্মবিদ্যয়া” ইত্যাদিনা সম্বন্ধ-প্রয়ো- জনে অভিহিততে; অবিদ্যায়াশ্চ সংসারাধিকারকারণত্বমুক্তম্—“অথ যোহন্যাঃ

(১) তাৎপর্য্য—এখানে ‘স্মরণ’ বলিবার অভিপ্রায় এই যে, যাহা দেখিলে বেদার্থ স্মরণ হয়, অথবা বেদার্থ স্মরণপূর্ব্বক যাহা রচিত হইয়াছে, তাহার নাম ‘স্মৃতি’-শাস্ত্র। ঋষিগণ জটিল বেদার্থকে সরল করিয়া বুঝাইবার নিমিত্ত স্মৃতিশাস্ত্র রচনা করিয়াছেন; সুতরাং স্মৃতিশাস্ত্রের উপদেশ দেখিলেই তদনুরূপ বেদবাক্যের স্মরণ হইয়া থাকে; এইজন্য ‘স্মরণ’ ‘কথাটাও স্মৃতিশাস্ত্রকেই বুঝায়। আলোচ্যস্থলে ব্যাসের স্মরণ বলিবার উদ্দেশ্য এই যে, ব্যাসদেব যখন স্বরচিত স্মৃতিশাস্ত্রের মধ্যে “ক্রিয়াবক্তিঃ” ইত্যাদি বাক্য বিশ্যস্ত করিয়াছেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই শ্রুতি হইতেই ঐ ভাব সংগ্রহ করিয়াছেন, এরূপ অনুমান করা যাইতে পারে; সুতরাং তাঁহার কথাতেও এই শ্রুতির ঐরূপ অর্থই পরিস্ফুট হইতেছে বুঝিতে হইবে।

(২) তাৎপর্য্য—‘কাকু’ অর্থ—স্বরবিকৃতি; ‘কাকুঃ স্ত্রিয়াং বিকারো যঃ শোকতীত্যাদি- ভিধ্বনেঃ।”(অমরঃ)। অর্থাৎ শোকিতয়াদি কারণে যে, ধ্বনির(কণ্ঠস্বরের) বিকৃতি, তাহার নাম কাকু। শ্রুতি যদিও স্পষ্ট কথায় মুমুক্ষুর পক্ষে শ্রদ্ধাভক্তিসাধনার কথা বলেন নাই ঘটে; কিন্তু তাঁহার বাক্যভঙ্গীতে ঐরূপ অভিপ্রায়ই বুঝা যাইতেছে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্। ৩১৯

দেবতামুপাস্তে” ইত্যাদিনা। ‘তত্রাবিদ্বান্ ঋণী পশুবদ্দেবাদিকৰ্ম্মকর্তব্যতয়া পরতন্ত্র ইত্যুক্তম্। কিং পুনর্দেবাদিকৰ্ম্মকর্তব্যত্বে নিমিত্তম্? বর্ণা আশ্রমাশ্চ; তত্র কে বর্ণাঃ? ইত্যত ইদমারভ্যতে-যন্নিমিত্ত-সম্বদ্ধেষু কৰ্ম্মসু অয়ং পরতন্ত্র এবাধি- কৃতঃ সংসরতি। এতস্যৈবার্থস্থ্য প্রদর্শনায় অগ্নিসর্গানন্তরমিন্দ্রাদিসর্গো নোক্তঃ; অগ্নেস্ত সর্গঃ প্রজাপতেঃ সৃষ্টিপরিপূরণায় প্রদর্শিতঃ। অয়ঞ্চেন্দ্রাদিসর্গস্তত্রৈব দ্রষ্টব্যঃ, তচ্ছেষত্বাৎ; ইহ তু স এবাভিধীয়তে অবিদুষঃ কর্মাধিকারহেতু- প্রদর্শনায়।

টীকা। সঙ্গতিমুক্ত। বাকামাদায় য্যাচেষ্টে-ব্রহ্মেতি। অগ্রে ক্ষত্রাদিসর্গাৎ পূর্বমিতি যাবৎ। বৈ-শব্দস্যাবধারণার্থত্বং বদন্ বাক্যার্থোক্তিপূর্ব্বকমেকমিত্যস্যার্থমাহ-ইদমিতি।

আভাস ভাষ্যানুবাদ।—উপনিষৎ-শাস্ত্রের যাহা প্রকৃত অর্থ, তাহা- “আত্মেত্যেবোপাসীত” শ্রুতিতে সংক্ষেপে উক্ত হইয়াছে; তাহারই ব্যাখ্যা করিবার অভিপ্রায়ে অর্থবাদযুক্ত “তদাহুঃ যদ্রহ্মবিদ্যয়া” ইত্যাদি বাক্যে সম্বন্ধ ও প্রয়োজন অভিহিত হইয়াছে। তাহার পর, অবিদ্যাই যে, সংসারপ্রাপ্তির মূল কারণ, তাহাও “অথ যোহন্যাং দেবতামুপাস্তে” ইত্যাদি শ্রুতিতে কথিত হইয়াছে। সেখানে এ কথাও বলা হইয়াছে যে, অবিদ্বান্ পুরুষ ঋণগ্রস্ত—দেবাদির কার্য্যসম্পাদনে বাধ্য বলিয়া পশুর ন্যায় পরাধীন। এখন জিজ্ঞাস্য হইতেছে যে, দেবাদির কর্ম্ম যে অবশ্যই করিতে হইবে, তাহার কারণ কি? কারণ—বর্ণ ও আশ্রম। তন্মধ্যে এই অবিদ্বান্ পুরুষ যেই ব্রাহ্মণাদি বর্ণরূপ নিমিত্তের সহিত সংসৃষ্ট কর্ম্মে অধিকার প্রাপ্ত হইয়া পরাধীনভাবে সংসারী হইয়া থাকে; সেই বর্ণ কি কি, তাহা নিরূপণের নিমিত্ত এই পরবর্তী বাক্য আরব্ধ হইতেছে। আর এই বিষয়টি পৃথগ্ভাবে প্রদর্শন করিবেন বলিয়াই পূর্ব্বে অগ্নিসৃষ্টির পর, ইন্দ্রাদি দেবসৃষ্টির কথা বর্ণনা করেন নাই; সেখানে কেবল প্রজাপতির সৃষ্টিক্রম পরিপূরণের জন্য অগ্নি- সৃষ্টির কথামাত্র বলিয়াছেন। অত্রত্য ইন্দ্রাদিসৃষ্টিও সেখানেই(প্রজাপতির সৃষ্টিমধ্যেই সন্নিবিষ্ট) বুঝিতে হইবে; কারণ, ইহা হইতেছে—তাহারই শেষ বা অবশিষ্ট অংশ; এখানে কেবল অবিদ্বানের কর্ম্মাধিকারের নিমিত্ত-প্রদর্শনার্থ পৃথগ্ভাবে অভিহিত হইতেছে মাত্র।

ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীদেকমের, তদেকং সন্ন ব্যভবৎ। তচ্ছেয়োরূপমত্যসৃজত ক্ষত্রম্—যান্যেতানি দেবত্রা ক্ষত্রাণীন্দ্রো বরুণঃ সোমো রুদ্রঃ পর্জন্যো যমে। মৃত্যুরীশান ইতি। তস্মাৎ

৩২০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ক্ষত্রাৎ পরং নাস্তি, তস্মাদ্‌ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়মধস্তাদুপাস্তে রাজ- সূয়ে, ক্ষত্র এব তদ্যশো দধাতি, সৈষা ক্ষত্রস্য যোনিৰ্যদ্ ব্রহ্ম।

তস্মাদ্ যদ্যপি রাজা পরমতাং গচ্ছতি ব্রহ্মৈবান্তত উপনি- শ্রয়তি স্বাং যোনিম্, য উ এন হিনস্তি স্বাং স যোনিমৃচ্ছতি, স পাপীয়ান্ ভবতি, যথা শ্রেয়াংসহ হিংসিত্বা ॥ ৪৮ ॥ ১১ ॥

সরলার্থঃ।—অগ্রে(সৃষ্টেঃ প্রাক্) ইদং(ক্ষত্রাদি-ভেদজাতম্) একং ব্রহ্ম এব বৈ(প্রসিদ্ধৌ) আসীৎ। তৎ(ব্রহ্ম) একং(অসহায়ং সৎ) ন ব্যভবৎ [ আত্মনঃ কর্তব্যং সম্পাদয়িতুং](অসমর্থমভবৎ)। তৎ(তস্মাৎ) শ্রেয়োরূপং (প্রকৃষ্টং শ্রেয়স্করং) ক্ষত্রং(ক্ষত্রিয়জ্বাতিং) অত্যসৃজত(সৃষ্টবৎ);[কিং তৎ ক্ষত্রম্? ইত্যাহ—] যানি এতানি(অনন্তরোক্তানি) দেবত্রা(দেবেষু প্রসিদ্ধানি) ক্ষত্রাণি—ইন্দ্রঃ(দেবরাজঃ), বরুণঃ(জলাধিপতিঃ), সোমঃ (ব্রাহ্মণানাং রাজা), রুদ্রঃ(পশূনাং রাজা), পর্জন্যঃ(বিদ্যুদাদীনাং রাজা), যমঃ(পিতৃণাং রাজা), মৃত্যুঃ(রোগাদীনাং রাজা), ঈশানঃ(জ্যোতিষাং রাজা) ইতি(এতানি)। তস্মাৎ(প্রথমমেব ক্ষত্রসর্জনাৎ হেতোঃ) ক্ষত্রাং (ক্ষত্রজাতেঃ) পরং(উৎকৃষ্টং) নাস্তি; তস্মাৎ(ক্ষত্রজাতেঃ পরমোৎকর্ষাদেব) ব্রাহ্মণঃ[বর্ণশ্রেষ্ঠোহপি সন্! রাজসূয়ে(তন্নামকে যজ্ঞে) অধস্তাৎ(ক্ষত্রিয়া- সনাৎ নিম্নদেশে বর্তমানঃ সন্) ক্ষত্রিয়ম্ উপাস্তে(স্তত্যা আরাধয়তি); ক্ষত্রঃ এব তৎ(স্বকীয়ঃ) যশঃ(ব্রহ্মেতি খ্যাতিরূপম্) দধাতি,[রাজসূয়ে অভিষিক্তেন রাজ্ঞা ব্রহ্মন্নিতি আমন্ত্রিত ঋত্বিক্ পুনস্তং প্রতিবদতি—রাজন্ ত্বং ব্রহ্মাসীতি; এতদেব যশআধানমিতি ভাবঃ]। সা এযা(প্রকৃতা) ক্ষত্রস্য যোনিঃ(কারণং)—যৎ ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণঃ); তস্মাৎ(ক্ষত্রিয়স্য ব্রাহ্মণযোনিত্বাদেব হেতোঃ) রাজা(ক্ষত্রিয়ঃ) যদ্যপি(সম্ভাবনায়াম্) পরমতাং(রাজসূয়ে পরমোৎকর্ষং) গচ্ছতি;[তথাপি] অন্ততঃ(অন্তে—রাজসূয়কর্মসমাপ্তেঃ পরম্), স্বাং(স্বকীয়াং) যোনিং(কারণরূপং) ব্রহ্ম এব উপনিশ্রয়তি(আশ্রয়তি— পুরোহিতম্ অগ্রে স্থাপয়তীতি যাবৎ)। যঃ উ(যঃ পুনঃ) স্বাং যোনিং এনং (ব্রাহ্মণং) হিনস্তি(অবজানাতি), সঃ(হিংসাকারী জনঃ) স্বাং যোনিম্ এব ঋচ্ছতি(স্বকারণমেব বিনাশয়তি); সঃ(হিংসাকারী জনঃ) পাপীয়ান্(অতি- শয়েন পাপী ভবতি), যথা শ্রেয়াংসং(অন্যমুৎকৃষ্টং) হিংসিস্বাহা[ভবতি, তথা ইত্যর্থঃ]॥ ৪৮ ॥ ১১ ॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩২১

মূলানুবাদ?—সৃষ্টির পূর্ব্বে এই জগৎ একমাত্র ব্রহ্মস্বরূপ ছিল। তিনি একাকী[কর্মসম্পাদন করিতে] সমর্থ হইলেন না; তিনি উত্তম শ্রেয়স্কর ক্ষত্রিয়-জাতি সৃষ্টি করিলেন—যাহারা দেবগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ ক্ষত্রিয়—এই ইন্দ্র, বরুণ, সোম, রুদ্র, পর্জন্য, যম, মৃত্যু ও ঈশান। অতএব ক্ষত্রিয় অপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠ নাই; এই কারণেই ‘রাজসূয়’ যজ্ঞে ব্রাহ্মণ নিজে নীচে বসিয়া উপরিস্থিত ক্ষত্রিয়ের আরাধনা করিয়া থাকেন; ক্ষত্রিয়ই সেই যশঃ(ব্রাহ্মণত্বখ্যাতি) প্রদান করেন: ইহাই সেই ক্ষত্রিয়ের যোনি, অর্থাৎ যশঃপ্রাপ্তির কারণ,—যাহা ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণ জাতি)। অতএব ক্ষত্রিয় জাতি যদি[রাজসূয়ে] পরমোৎকর্ষ প্রাপ্ত হন, তথাপি অন্তে অর্থাৎ যজ্ঞ-সমাপ্তির পর পুনর্ব্বার স্বযোনি ব্রাহ্মণকেই আশ্রয় করেন,—অগ্রে স্থাপন করেন। যে লোক এই ব্রাহ্মণের হিংসা বা অবমাননা করেন, ফলতঃ তিনি স্বকারণেরই উচ্ছেদসাধন করেন; এবং তজ্জন্য তিনি অতিশয় পাপী হন—যেমন অন্যান্য শ্রেষ্ঠ বস্তু হিংসা করিয়া হইয়া থাকে,[তেমনি] ॥ ৪৮ ॥ ১১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ—যদগ্নিং সৃষ্টাগ্নিরূপাপন্নং ব্রহ্ম—ব্রাহ্মণজাত্যভিমানাদ ব্রহ্মেত্যভিধীয়তে—বৈ, ইদং ক্ষত্রাদিজাতং ব্রহ্মৈব, অভিন্নমাসীদ্, একমেব—নাসীৎ ক্ষত্রাদিভেদঃ। তৎ ব্রহ্ম এক, ক্ষত্রাদি-পরিপাল- য়িত্রাদিশূন্যং সৎ, ন ব্যভবৎ ন বিভূতবৎ কৰ্ম্মণে নালমাসীদিত্যর্থঃ। ততস্তদ্ ব্রহ্ম—ব্রাহ্মণোহস্মি, মমেখং কর্তব্যম্’ ইতি ব্রাহ্মণজাতিনিমিত্তং কৰ্ম্ম চিকীর্ষুঃ আত্মনঃ কৰ্ম্মকর্তৃত্ববিভূত্যৈ, শ্রেয়োরূপং প্রশস্তরূপম্ অত্যসৃজত অতিশয়েন অসূ- জত সৃষ্টবৎ। কিং পুনস্তৎ, যৎ সৃষ্টম্? ক্ষত্রং ক্ষত্রিয়জাতিঃ তদ্ব্যক্তিভেদেন— যান্যেতানি প্রসিদ্ধানি লোকে, দেবত্রা দেবেষু ক্ষত্রাণীতি—জাত্যাখ্যায়াং পক্ষে বহুবচনস্মরণাৎ ব্যক্তিবহুত্বাদ্বা ভেদোপচারেণ। ১

কানি পুনস্তানীত্যাহ—তত্রাভিষিক্তা এব বিশেষতো নিৰ্দ্দিশ্যন্তে—ইন্দ্রো দেবানাং রাজা, বরুণো যাদসাম্, সোমো ব্রাহ্মণানাম্, রুদ্রঃ পশূনাম্, পর্জন্যো বিদ্যদাদীনাম্, যমঃ পিতৃণাম্, মৃত্যুঃ রোগাদীনাম্, ঈশানো ভাসাম্, ইত্যেবমাদীনি দেবেষু ক্ষত্রাণি। তদনু ইন্দ্রাদিক্ষত্রদেবতাধিষ্ঠিতানি মনুষ্যক্ষত্রাণি সোম-সূর্য্য- বংশ্যানি পুরূরবঃপ্রভৃতীনি সৃষ্টান্যেব দ্রষ্টব্যানি; তদর্থ এব হি দেবক্ষত্রসর্গঃ প্রস্তুতঃ। ২

৪১

৩২২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যম্মাদ ব্রহ্মণা অতিশয়েন সৃষ্টং ক্ষত্রম্, তস্মাৎ ক্ষত্রাৎ পরং নাস্তি-ব্রাহ্মণ- জাতেরপি নিয়ন্ত; তস্মাদ ব্রাহ্মণঃ কারণভূতোহপি ক্ষত্রিয়স্থ্য, ক্ষত্রিয়ম্ অধস্তাৎ ব্যবস্থিতঃ সন্ উপরিস্থিতমুপাস্তে,-ক? রাজসূয়ে। ক্ষত্র এব তদাত্মীয়ং যশঃ খ্যাতিরূপং-ব্রহ্মেতি দধাতি স্থাপয়তি। রাজসুয়াভিষিক্তেন আসন্দ্যাং স্থিতেন রাজ্ঞা আমন্ত্রিতঃ-ব্রহন্নিতি ঋত্বিক্ পুনস্তৎ প্রত্যাহ-ত্বং রাজন্ ব্রহ্মাসীতি। তদেতদভিধীয়তে-ক্ষত্র এব তদ্যশো দধাতীতি। ৩

সৈষা প্রকৃতা ক্ষত্রস্য যোনিরেব, যদ্ ব্রহ্ম। তস্মাদ যদ্যপি রাজা পরমতাং রাজসূয়াভিষেকগুণং গচ্ছতি আপ্নোতি, ব্রহ্মৈব ব্রাহ্মণজাতিমেব অন্ততঃ অন্তে কর্মপরিসমাপ্তৌ, উপনিশ্রয়তি আশ্রয়তি স্বাং যোনিং-পুরোহিতং পুরো নিধত্ত- ইত্যর্থঃ। যস্তু পুনর্ব্বলাভিমানাৎ স্বাং যোনিং ব্রাহ্মণজাতিং ব্রাহ্মণং য উ এনং হিনস্তি ন্যগ ভাবেন পশ্যতি, স্বামাত্মীয়ামের স যোনিমৃচ্ছতি-স্বং প্রসবং বিচ্ছি- নত্তি বিনাশতি। স এতৎ কৃত্বা পাপীয়ান্ পাপতরো ভবতি; পূর্ব্বমপি ক্ষত্রিয়ঃ পাপ এব ক্রুরত্বাৎ, আত্মপ্রসবহিংসয়া সুতরাম্; যথা লোকে শ্রেয়াংসং প্রশস্ততরং হিংসিত্বা পরিভূয় পাপতরো ভবতি, তদ্বৎ ॥ ৪৪। ১১ ॥

টীকা। দ্বিতীয়মেবকারং ব্যাচষ্টে-নাসীদিতি। কথং তর্হি তস্য কৰ্ম্মানুষ্ঠানসামর্থ্যসিদ্ধি- রিত্যাশঙ্ক্য সমনন্তরবাক্যং ব্যাচষ্টে-তত ইতি। তদেব সৃষ্টমাকাঙ্ক্ষাদ্বারা স্পষ্টয়তি-কিং পুনরিতি। একা চেৎ ক্ষত্রজাতিঃ সৃষ্টা, কথং তর্হি যান্যেতানীতি বহুক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-তদ্বক্তি- ভেদেনেতি। ক্ষত্রজাতেরেকত্বাৎ কথং ক্ষত্রাণীতি বহুবচনমিত্যাশঙ্ক্য ‘জাত্যাখ্যায়ামেকস্মিন্ বহুবচনমন্যতরস্যাম্’(পা০ সূ০ ১।২।৫৮) ইতি স্মৃতিমাশ্রিত্যাহ-জাতীতি। বহুক্তের্গত্যন্তরমাহ- ব্যক্তীতি। তাসাং বহুত্বাজ্জাতেশ্চ তদভেদাৎ তত্রাপি ভেদমুপচর্য্য বহুক্তিরিত্যর্থঃ। ক্ষত্রাণীতি বহুবচনমিতি সম্বন্ধঃ। ১

তেষাং বিশেষতো গ্রহণং ক্ষত্রস্থোত্তমত্বং প্যপরিতুমিতি মন্থানঃ সন্নাহ-কানি পুনরিত্যা- দিনা। ননু কিমিতি দেবেষু ক্ষত্রসৃষ্টিরুচ্যতে? ব্রাহ্মণস্য কর্মানুষ্ঠানসামর্থ্যসিদ্ধ্যর্থ: মনুষ্যেঘেব তৎসৃষ্টিরুপদেষ্টব্যেত্যাশঙ্ক্যাহ-তদন্বিতি। তথাপি বিবক্ষিতা সৃষ্টিমৃণতো বক্তব্যেত্যাশঙ্ক্যো- পোদ্যাতোহয়মিত্যাহ-তদর্থ ইতি। ২

তস্মাদিত্যাদি ব্যাচষ্টে—যম্মাদিতি। ক্ষত্রস্য নিয়ন্তত্ববদুৎকর্ষে হেত্বম্ভরমাহ—তস্মাদিতি। ব্রহ্মেতি প্রসিদ্ধং ব্রাহ্মণ্যাখামিতি যাবৎ। উক্তমেব প্রপঞ্চয়তি—রাজসূয়েতি। আসন্দ্যাং মঞ্চিকায়াম্।

ক্ষত্রে স্বকীয়ং যশঃ সমর্পয়তো ব্রাহ্মণস্য নিষ্কর্ষমাশঙ্ক্যাহ-সৈযেতি। তয়োব্রাহ্মণত্বস্থ্য তুল্যদ্বাৎ কুতোহযান্তরভেদঃ ক্ষত্রমপি ক্রতুকালে ব্রাহ্মণ্যং প্রাপ্নোতীত্যাশঙ্ক্যাহ-তন্মাদিতি। ক্ষত্রস্ত ব্রহ্মাভিভবে দোষশ্রবণাচ্চ তস্য তদপেক্ষয়া তদ্গুণত্বমিত্যাহ-যস্থিতি। প্রমাদাদপীতি বক্তুং ‘উ’শব্দঃ। য উ এনং হিনস্তীতি প্রতীকগ্রহণং, বস্তু পুনরিত্যাদি ব্যাখ্যানমিতি ভেদঃ।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩২৩

ঈষৎস্থনস্তবর্থস্য প্রয়োগে হেতুমাহ—পূর্ব্বমপীতি। ব্রাহ্মণাভিভবে পাপীয়স্তমিত্যেতদুদাহরণেন বুদ্ধাবারোপয়তি—যথেতি॥ ৪৮॥ ১১॥

ভাষ্যানুবাদ।—“ব্রহ্ম বা ইদমগ্র আসীৎ” ইত্যাদি। যে ব্রহ্ম অগ্নি- সৃষ্টির পর অগ্নিভাবাপন্ন এবং ব্রাহ্মণ-জাত্যভিমান নিবন্ধন ব্রহ্ম-নামে অভিহিত এই ক্ষত্রিয়াদি জাতিসমূহ[অগ্রে] একমাত্র সেই ব্রহ্মই—ব্রহ্মের সহিত অভিন্ন- রূপই ছিল,—ক্ষত্রিয়াদি বিভাগ ছিল না। সেই ব্রহ্ম একাকী—পরিপালনক্ষম ক্ষত্রিয়াদিরহিত হইয়া থাকিতে সমর্থ হইলেন না, অর্থাৎ কর্মসম্পাদনে সমর্থ হইলেন না। সেই কারণে, সেই ব্রহ্ম—‘আমি ব্রাহ্মণ, আমার পক্ষে এইরূপ কৰ্ম্ম করা আবশ্যক’ এইরূপ চিন্তার পর ব্রাহ্মণজাত্যুচিত কৰ্ম্ম করিতে ইচ্ছুক হইয়া, আপনার কর্তব্য কর্ম্মে কর্তৃত্ব রক্ষার নিমিত্ত শ্রেয়োরূপ—একটা সুপ্রশস্ত জাতি উত্তমরূপে সৃষ্টি করিলেন। তিনি যাহা সৃষ্টি করিলেন, সেই শ্রেয়োরূপ বস্তুটি কি? না, ক্ষত্র—ক্ষত্রিয়জাতি; তাহাই বিভিন্ন ব্যক্তিক্রমে দেখাইতেছেন—জগতে এই যে, দেবগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ ক্ষত্রিয়গণ। জাতিনির্দেশস্থলে একেতেও বৈকল্পিক বহুবচন হইবার বিধান থাকায়, অথবা ব্যক্তিভেদে একেতেও ভেদ আরোপ করায় ‘ক্ষত্রাণি’ শব্দে বহুবচন হইয়াছে। অভিপ্রায় এই যে, ইন্দ্রাদি-বরুণাদির ব্যক্তি- গত বহুত্বের সহিত তদীয় ক্ষত্রিয়জাতিরও অভিন্নত্ব আরোপ করায় এখানে বহুবচনের ব্যবহার অনুচিত হয় নাই। ১

তাহারা কে কে? এই আকাঙ্ক্ষায়, তাহাদের মধ্যে যাহারা অভিষিক্ত ক্ষত্রিয়, বিশেষভাবে তাহাদিগকেই নির্দেশ করিতেছেন-দেবগণের রাজা- ইন্দ্র, জলজন্তুর রাজা-বরুণ, ব্রাহ্মণগণের রাজা-সোম, পশুগণের রাজা-রুদ্র, বিদ্যুৎপ্রভৃতির রাজা-পর্জন্য, পিতৃগণের রাজা-যম, রোগাদির রাজা-মৃত্যু ও জ্যোতিঃসমূহের রাজা-ঈশান, ইত্যাদি দেবক্ষত্রিয়গণকে[সৃষ্টি করিয়াছিলেন]। বুঝিতে হইবে, এই দেবক্ষত্রিয়সৃষ্টির পরে, ইন্দ্রপ্রভৃতি ক্ষত্রিয়দেবতাধিষ্ঠিত চন্দ্র- সূর্য্যবংশীয় পুরূরবাপ্রভৃতি মনুষ্য-ক্ষত্রিয়ের সৃষ্টি হইয়াছে এবং ইহার জন্যই এখানে দেবক্ষত্রিয়সৃষ্টির অবতারণা করা হইয়াছে।

যেহেতু, ব্রহ্ম বিশেষ গুণযোগে ক্ষত্রিয়ের সৃষ্টি করিয়াছিলেন, সেই হেতু ক্ষত্রিয় ভিন্ন আর কেহই ব্রাহ্মণ-জাতিরও নিয়ন্তা বা পরিচালক নাই; এই কারণেই ব্রাহ্মণগণ ক্ষত্রিয়জাতির কারণ-স্বরূপ হইয়াও ক্ষত্রিয়ের নীচে অবস্থান করত উপরি- স্থিত ক্ষত্রিয়ের উপাসনা করিয়া থাকেন; কোথায়?—রাজসূয়নামক যজ্ঞে। ক্ষত্রিয়ই আপনার যশঃ অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যখ্যাতি স্থাপন করেন,—রাজসূয় যজ্ঞে অভি-

৩২৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যিক্ত রাজা মঞ্চোপরি উপবিষ্ট হইয়া ঋত্বিক্কে(পুরোহিতকে) ‘ব্রহ্মন্’ বলিয়া সম্বোধন করেন; তদুত্তরে ঋত্বিক্ আবার রাজাকে বলেন যে, ‘রাজন্ ত্বং ব্রহ্ম অসি’ অর্থাৎ হে রাজন, তুমি হইতেছ—ব্রহ্ম; এই অভিপ্রায়েই “ক্ষত্র এব তদ্যশো দধাতি” বাক্য অভিহিত হইতেছে। ৩

এই যে ব্রহ্ম, ইহাই ক্ষত্রিয়ের যোনি(উৎপত্তির কারণ); সেই হেতু রাজা যদিও পরমতা—রাজসূয়াভিষেকজাত পরম উৎকর্ষ প্রাপ্ত হউক, তথাপি অন্তে অর্থাৎ রাজসূয় যজ্ঞসমাপ্তির পরে কিন্তু স্ব-যোনি ব্রহ্মকেই—ব্রাহ্মণজাতিকেই আশ্রয় করেন, অর্থাৎ সেই পুরোহিতকেই আবার অগ্রভাগে স্থাপন করিয়া থাকেন। পক্ষান্তরে, যে লোক আপনার বলদর্পে এই স্বযোনি ব্রাহ্মণজাতিকেই হিংসা করে, অর্থাৎ অবজ্ঞার ভাবে দর্শন করে, সে লোক স্বীয় যোনিকে—নিজের উৎপত্তিকারণকেই বিচ্ছিন্ন করে—বিনষ্ট করে। সেই ব্যক্তি এইরূপ কার্য্য করিয়া পাপীয়ান্—অতিশয় পাপগ্রস্ত হয়। ক্ষত্রিয়জাতি ক্রুরস্বভাব বলিয়া পূর্ব্বেও নিশ্চয়ই পাপী ছিল, পরে আপনার উৎপত্তিকারণ ব্রাহ্মণের প্রতি হিংসা করায় আরও অধিক পাপী হয়। জগতে কোনও শ্রেষ্ঠ বা প্রশংসিত ব্যক্তিকে হিংসা করিয়া—অভিভূত করিয়া লোক মধ্যে যেরূপ অধিকতর পাপী হইয়া থাকে, ইহাও তদ্রূপ ॥ ৮৷৷১৯

স নৈব ব্যভবৎ, স বিশমসৃজত—যান্যেতানি দেবজাতানি গণশ আখ্যায়ন্তে—বসবো রুদ্রা আদিত্যা বিশ্বে দেবা মরুত ইতি ॥ ৪৯ ॥ ১২ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ(ব্রাহ্মণঃ) ন এব ব্যভবৎ(ক্ষত্রসৃষ্টাবপি স্বকর্ম্মণে সমর্থো নৈব বভূব);[অতঃ] সঃ বিশং(বিতোপার্জনক্ষমাং বৈশ্যজাতিং) অসৃজত— যানি এতানি দেবজাতানি(যে এতে দেবজাতিবিশেষাঃ) গণশঃ(সংঘক্রমেণ) আখ্যায়ন্তে(কথ্যন্তে)—বসবঃ(অষ্টসংখ্যকঃ বসুগণঃ), রুদ্রাঃ(একাদশ- সংখ্যকাঃ), আদিত্যাঃ(দ্বাদশসংখ্যকাঃ), বিশ্বে দেবাঃ(বিশ্বায়া অপত্যানি ত্রয়োদশ, সর্ব্বে বা দেবাঃ), মরুতঃ(বায়বঃ সপ্তসপ্তগণাঃ) ইতি ॥ ৩৯৷৷১২ ॥

মূলানুবাদক?—ক্ষত্রিয় সৃষ্টির পরও তিনি(ব্রহ্ম) নিজের কর্ম্ম সম্পাদনে সমর্থ হইলেন না; তজ্জন্য তিনি বিত্তোপার্জনক্ষম বৈশ্য- জাতি সৃষ্টি করিলেন, যাঁহারা এই এক একটি গণ বা সংঘাভরূপে কথিত হইয়া থাকেন। যেমন—অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩২৫

আদিত্য, ত্রয়োদশ বিশ্বেদেব, এবং উনপঞ্চাশৎ মরুৎ অর্থাৎ বায়ুসংঘাত ইতি ॥ ৪৯ ॥ ১২ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—ক্ষত্রে সৃষ্টেইপি স নৈব ব্যভবৎ—কর্ম্মণে ব্রহ্ম তথা ন ব্যভবৎ বিত্তোপার্জ্জরিতুরভাবাৎ। স বিশমসৃজত কর্ম্মসাধনবিত্তোপার্জনায়। কঃ পুনরসৌ বিট্? যান্যেতানি দেবজাতানি—স্বার্থে নিষ্ঠা, য এতে দেব- জাতিভেদা ইত্যর্থঃ। গণশঃ গণং গণম্ আখ্যায়ন্তে কথ্যন্তে—গণপ্রায়া হি বিশঃ; প্রায়েণ সংহতা হি বিত্তোপার্জ্জনে সমর্থাঃ, নৈকৈকশঃ। বসবঃ অষ্টসঙ্খ্যো গণঃ, তথৈকাদশ রুদ্রাঃ; দ্বাদশ আদিত্যাঃ; বিশ্বে দেবাঃ ত্রয়োদশ—বিশ্বায়া অপত্যানি, সর্ব্বে বা দেবাঃ; মরুতঃ সপ্তসপ্ত গণাঃ ॥ ৪৯ ॥১২ ॥

টীকা। কর্ত্তুব্রাহ্মণস্য নিয়ন্তশ্চ ক্ষত্রিয়স্য সৃষ্টত্বাৎ কিমুত্তরেণেত্যাশঙ্ক্যাহ—ক্ষত্রইতি। তদ্ব্যাচষ্টে—কর্ম্মণ ইতি। ব্রহ্ম ব্রাহ্মণোহম্মীত্যভিমানী পুরুষঃ। তথা ক্ষত্রসর্গাৎ পূর্ব্বমিবেতি যাবৎ। কথং তর্হি লৌকিকসামর্থ্যসম্পাদনদ্বারা কর্ম্মানুষ্ঠানম্, অত আহ—স বিশমিতি। দেবজাতানীতাত্র তকারো নিষ্ঠা। গণং গণং কৃত্বা কিমিত্যাখ্যানং বিশামিত্যাশঙ্ক্যাহ—গণেতি। বিশাং সমুদায়প্রধানত্বমদ্যাপি প্রত্যক্ষমিত্যাহ—প্রায়েণেতি ॥ ৪৯ ॥ ১২ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—ক্ষত্রিয়-সৃষ্টির পরেও তিনি নিশ্চয়ই সমর্থ হইলেন না, অর্থাৎ বিত্তোপার্জনক্ষম লোকের অভাবে সেই ব্রহ্ম উপযুক্তরূপে নিজের কর্ম্ম সম্পাদন করিতে সমর্থ হইলেন না; তখন কর্ম্ম-সাধনের উপযোগী বিত্ত-উপা- র্জ্জনের নিমিত্ত বৈশ্যজাতি সৃষ্টি করিলেন। এই বৈশ্যজাতি কে?—যাহারা এই দেবজাতিবিশেষ এক একটি গণক্রমে অর্থাৎ সংঘরূপে অভিহিত হইয়া থাকেন; কেননা, বৈশ্যজাতি প্রায়ই দলবদ্ধ; দেখিতে পাওয়া যায়—অধিকাংশ স্থলে দলবদ্ধ ব্যক্তিরাই ধন উপার্জ্জনে সমর্থ হয়; কিন্তু এক এক ব্যক্তি সমর্থ হয় না; বসু— অষ্টসংখ্যক গণ; সেইরূপ রুদ্র—একাদশ, আদিত্য—দ্বাদশ, বিশ্বেদেব—ত্রয়োদশ, বিশ্বেদেব অর্থ—বিশ্বানায়ী স্ত্রীর সন্তান, অথবা সমস্ত দেবতা, আর মরুদ্গণ— সপ্তসপ্ত—উনপঞ্চাশৎসংখ্যক(বায়ুসমষ্টি),[ইহাদের সৃষ্টি করিয়াছিলেন]॥ ৪৯

স নৈব ব্যভবৎ, স শৌদ্রং বর্ণমসৃজত পূষণম্—ইয়ং বৈ পূষেয়ং হীদং সর্ব্বং পুষ্যতি যদিদং কিঞ্চ ॥ ৫০ ॥ ১৩ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ[পুনশ্চ] নৈব ব্যভবৎ;[অতঃ] সঃ শৌদ্রং বর্ণং (শূদ্রজাতিং) পূষণম্ অসৃজত। ইয়ং(দৃশ্যমানা পৃথিবী) বৈ(প্রসিদ্ধৌ) পূষা; হি(যস্মাৎ) ইয়ং(পৃথিবী) ইদং সর্ব্বং—যৎ ইদং কিঞ্চ(যৎ কিঞ্চিদপি, তৎ) পুষ্যতি(পুষ্ণাতি)॥ ৪০॥ ১৩॥

৩২৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

মুলাসুবাদঃ—তিনি তখনও সমর্থ হইলেন না; তখন তিনি শূদ্রজাতি পৃষার সৃষ্টি করিলেন। এই পৃথিবীই ‘পূষা’ নামে প্রসিদ্ধ; কারণ, এই যাহা কিছু দৃশ্যমান বস্তু, এই পৃথিবীই তৎসমস্তকে পোষণ করিয়া থাকে ॥ ৫০ ॥ ১৩ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সঃ পরিচারকাভাবাৎ পুনরপি নৈব ব্যভবৎ; স শৌদ্রং বর্ণমসৃজত। শূদ্র এব শৌদ্রঃ, স্বার্থেহণি বৃদ্ধিঃ। কঃ পুনরসৌ শৌদ্রো বর্ণঃ, যঃ সৃষ্টঃ? পূষণং—পুষ্যতীতি পূষা। কঃ পুনরসৌ পূষা? ইতি বিশেষতস্তন্নিদ্দি- শতি—ইয়ং পৃথিবী পূষা। স্বয়মেব নির্ব্বচনমাহ—ইয়ং হি ইদং সর্ব্বং পুষ্যতি যদিদং কিঞ্চ ॥ ৫০। ১৩॥

টীকা। কর্তৃপক্ষয়িতৃধনার্জয়িতৃণাং সৃষ্টিত্বাৎ কৃতং বর্ণান্তরসৃষ্ট্যেত্যাশঙ্ক্যাহ-স পরি- চারকেতি। শৌদ্রং বর্ণমসৃজতেত্যত্রোকারো বৃদ্ধিঃ। পুষ্যতীতি পুষেত্যুক্তত্বাৎপ্রশ্নস্যানবকাশত্ব- মাশঙ্ক্যাহ-বিশেষত ইতি। পূষশব্দস্যার্থান্তরে প্রসিদ্ধত্বাৎ কথং পৃথিব্যাং বৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- স্বয়মেবেতি। ৫০। ১৩।

ভাষ্যানুবাদ। তিনি পরিচারকের অভাবে পুনশ্চ অসমর্থই রহি- লেন; তিনি শৌদ্রবর্ণ সৃষ্টি করিলেন। এখানে শৌদ্র অর্থ—শূদ্র; স্বার্থে তদ্ধিত প্রত্যয় হওয়ায় উকারবৃদ্ধি—ঔকার হইয়াছে। তিনি যাহাকে সৃষ্টি করিলেন, সেই শূদ্রবর্ণটী কে? তাহা পূষন্—যিনি পোষণ করেন, তিনি পূষা; এই পূষা যে, কে, তাহা বিশেষ করিয়া নির্দেশ করিতেছেন—এই পৃথিবী হইতেছে পুষা। নিজেই ইহার যৌগিকার্থ প্রদর্শন করিতেছেন—যেহেতু এই পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে, পৃথিবীই তাহা পোষণ করিয়া থাকে,[সেই হেতু পৃথিবীর নাম পূবা ॥৫০ ॥১৩॥

স নৈব ব্যভবত্তচ্ছেয়োরূপমত্যসৃজত ধৰ্ম্মম্, তদেতৎ ক্ষত্রস্য ক্ষত্রং যদ্ধর্মস্তস্মাদ্ধর্মাৎ পরং নাস্ত্যথো অবলীয়ান্ বলায়াংস- মাশংসতে ধর্ম্মেণ—যথা রাজৈবম্, যো বৈ স ধর্মঃ সত্যং বৈ তৎ, তস্মাৎ সত্যং বদন্তমাহুর্দ্ধৰ্ম্মং বদতীতি, ধৰ্ম্মং বা বদন্ত সত্যং বদতীত্যেতদ্ধ্যেবৈতদুভয়ং ভবতি ॥ ৫১ ॥ ১৪ ॥

সরলার্থঃ।—সঃ[এবং চতুরো বর্ণান্ সৃষ্টাপি] ন এব ব্যভবৎ; তৎ (তস্মাৎ) শ্রেয়োরূপং(প্রকৃষ্টং শ্রেয়াংসং) ধর্ম্মং অত্যসূজত(অতিশয়েন সৃষ্ট- বান্)। তৎ(পূর্ব্বোক্তং) এতৎ(শ্রেয়োরূপম্) ক্ষত্রস্য(ক্ষত্রিয়জাতেঃ)

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩২৭

ক্ষত্রং(রক্ষকং-নিয়ামকং);[কিং তৎ? ইত্যাহ-] যৎ(যঃ) ধৰ্ম্মঃ; তস্মাৎ (ক্ষত্রিয়স্যাপি নিয়ন্তৃত্বাৎ হেতোঃ) ধর্মাৎ পরং(অধিকং-উৎকৃষ্টং) ন অস্তি। অথ অবলীয়ান্(অতিশয়েন বলহীনোহপি) বলীয়াংসং(তদপেক্ষয়া বলাধিকং জনং) যথা রাজ্ঞা(রাজবলেন), এবং(তথা) ধর্ম্মেণ(ধৰ্ম্মবলেন) আশংসতে (জেতুমিচ্ছতি)। যঃ বৈ(এব) সঃ ধৰ্ম্মঃ, তৎ বৈ(স এব) সত্যং(অবিতথ- রূপং); তস্মাৎ(ধৰ্ম্মস্য সত্যপরত্বাৎ হেতোঃ) সত্যং বদন্তং(সত্যবাদিনং জনং) আহুঃ(কথয়ন্তি)[জনাঃ]-ধৰ্ম্মং বদতি ইতি; তথা ধৰ্ম্মং বদন্তং[আহু:-] সত্যং বদতি ইতি; এতৎ(যথোক্তং) উভয়ং হি(নিশ্চয়ে) এতৎ(এষ ধর্ম্মঃ) এব ভবতি,[নহি একম্ অন্যতঃ অতিরিচ্যতে ইতি ভাবঃ] ॥ ৫১ ॥ ১৪ ॥

মূলানুবাদ:-তিনি চারিবর্ণ সৃষ্টি করিয়াও সমর্থ হইলেন না। তজ্জন্য ধৰ্ম্মনামক অপর একটা শ্রেয়োরূপ সৃষ্টি করিলেন। ইহাই ক্ষত্রিয়েরও ক্ষত্র অর্থাৎ নিয়ামক বা শাসনকর্তা-যাহার নাম ধৰ্ম্ম। অতএব সেই ধৰ্ম্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কিছু নাই। এই ধৰ্ম্ম বলে অতিশয় দুর্বল লোকও অতিশয় বলবানকে জয় করিবার জন্য আহ্বান করিয়া থাকে-যেমন লোকে রাজার সাহায্যে করে। যাহা ধৰ্ম্ম, তাহাই সত্য, সেই কারণে সত্যবাদীকে বলে-এ লোক ধৰ্ম্ম বলিতেছে, আবার ধৰ্ম্মবাদীকেও বলে-এ লোক সত্য বলিতেছে, এই শ্রেয়োরূপটিই এই উভয়রূপ অর্থাৎ ধৰ্ম্ম ও সত্য স্বরূপ ॥ ৫১ ॥ ১৪ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—সঃ চতুরঃ সৃষ্টাপি বর্ণান্ নৈব ব্যভবৎ, উগ্রত্বাৎ ক্ষত্রস্যানিয়তাশঙ্কয়া তৎ শ্রেয়োরূপম্ অত্যসৃজত। কিং তৎ? ধর্ম্মম্; তদেতৎ শ্রেয়োরূপং সৃষ্টং ক্ষত্রস্য ক্ষত্রং ক্ষত্রস্যাপি নিয়ন্ত, উগ্রাদপ্যুগ্রং—যদ্ধর্ম্মঃ যো ধর্ম্মঃ; তস্মাৎ ক্ষত্রস্যাপি নিয়ন্ত ত্বাৎ ধর্মাৎ পরং নাস্তি, তেন হি নিয়ম্যন্তে সর্ব্বে। তৎ কথম্—ইত্যুচ্যতে—অথো অপি অবলীয়ান্ দুর্ব্বলতরঃ বলীয়াংসম্ আত্মনো বল- বত্তরমপি আশংসতে কাময়তে জেতুং ধর্ম্মেণ বলেন,—যথা লোকে রাজ্ঞা সর্ব্ববল- বত্তমেনাপি কুটুম্বিকঃ, এবম্ তস্মাৎ সিদ্ধং ধর্ম্মস্য, সর্ব্ববলবত্তরত্বাৎ সর্ব্বনিয়ন্ত ত্বম্।

যো বৈ স ধর্ম্মো ব্যবহারলক্ষণো লৌকিকৈর্ব্যবহ্রিয়মাণঃ, সত্যং বৈ তৎ; সত্যমিতি যথাশাস্ত্রার্থতা। স এবানুষ্ঠীয়মানো ধৰ্ম্মনামা ভবতি; শাস্ত্রার্থত্বেন জ্ঞায়- মানস্তু সত্যং ভবতি। যম্মাদেবম্, তস্মাৎ,-সত্যং যথাশাস্ত্রং বদন্তং ব্যবহার- কালে, আহুঃ সমীপস্থা উভয়বিবেকজ্ঞাঃ-ধৰ্ম্মং বদতীতি-প্রসিদ্ধং লৌকিকং ন্যায়ং

৩২৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বদতীতি; তথা বিপর্যয়েণ ধৰ্ম্মং বা লৌকিকং ব্যবহারং বদস্তমাহুঃ-সতাং বদতি, শাস্ত্রাদনপেতং বদতীতি। এতৎ যদুক্তম্ উভয়ং জ্ঞায়মানমনুষ্ঠীয়মানঞ্চ, এতৎ ধর্ম এব ভবতি, তস্মাৎ স ধর্মো জ্ঞানানুষ্ঠানলক্ষণঃ শাস্ত্রজ্ঞান্ ইতোরাংশ্চ সর্ব্বা- নেব নিয়ময়তি; তস্মাৎ স ক্ষত্রস্যাপি ক্ষভ্রম্; অতস্তদভিমানোহবিদ্বাংস্তদ্বিশেষানু- ষ্ঠানাদ ব্রহ্মক্ষত্রবিট্‌শূদ্রনিমিত্তবিশেষমভিমন্যতে; তানি চ নিসর্গত এব কৰ্মা- ধিকারনিমিত্তানি ॥ ৫১ ॥৫১ ॥১৪ ॥

টীক‘। ননু চাতুর্ব্বর্ণ্যে সৃষ্টে তাবতৈব কৰ্ম্মানুষ্ঠানসিদ্ধেরলং ধৰ্ম্মসৃষ্ট্যেতাত আহ-স চতুর ইতি। অনিয়তাশঙ্কযা নিযামকাভাবে তস্যানিয়তত্বসম্ভাবনয়েতি যাবৎ। তচ্ছব্দ’ স্রষ্টব্রহ্ম- বিষয়ঃ। কুতো ধম্মস্থ্য সর্বনিষস্তত্ব’, ক্ষত্রস্যৈব তৎপ্রসিদ্ধেবিত্যাহ-তৎ কথমিতি। অনুভব- মনুসৃত্য পরিহরতি-উচাত ইত্যাদিনা। তদেবোদাহরতি-যথেতি। বাজ্ঞা স্পর্দ্ধমান ইতি শেষঃ। ধর্মস্যোৎকৃষ্টত্বেন নিয়ন্তত্বে সত্যাদভিন্নত্ব’ হেত্বন্তবমাহ-যো বা ইতি। কথ’ ধৰ্ম্মন্য সত্যত্বং, স হি পুরুষধর্ম্মো বচনধৰ্ম্মঃ সত্যত্বমিত্যবাস্তবভেদাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-স এবেতি। যথোক্তে বিবেকে লোকপ্রসিদ্ধিং প্রমাণয়তি-যন্মাদিতি। উভষশব্দো ধৰ্ম্মসত্যবিষয়, ধৰ্ম্মং বদতীত্যেতদেব বিভজতে-প্রসিদ্ধমিতি। যথা শাস্ত্রানুসাবেণ বদন্তং ‘ধৰ্ম্মং বদতি’ ইতি বদন্তি, তথা পূর্ব্বোক্ত- বদনবৈপরীত্যেন ধৰ্ম্ম’ বদন্তং সত্যং বদতীত্যাহুরিতি যোজনা। ধর্মমেব ব্যাচষ্টে-লৌকিক- মিতি। সত্যং বদতীত্যেতদেব স্ফুটয়তি-শাস্ত্রাদিতি। কার্যকারণভাবেনানয়োরেকত্বমুপ- সংহরতি-এতদিতি। শাস্ত্রার্থসংশযে শিষ্টব্যবহারান্নিশ্চয়ঃ, যথা যব-ববাহাদিশব্দেষু। ধর্মসংশযে তু শাস্ত্রার্থবশান্নির্ণয়:, যথা চৈতাবন্দনাদিব্যুদাসেনাগ্নিহোত্রাদৌ। অতো হেতুহেতুমদ্ভাব। দুভয়োরৈকামিতি ভাব‘। ধৰ্ম্মস্য সত্যাদভেদে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। তথ্য সর্বনিয়ন্ত,ত্বেপি প্রকৃতে কিমায়াত, তদাহ-তস্মাৎ স ইতি। তহি যথোক্তধৰ্ম্মবশাদেব কর্মানুষ্ঠানসিদ্ধের্বর্ণা- শ্রমাভিমানস্যাকিঞ্চিৎকরত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-অত ইতি। ধার্মিকত্বাদ্যভিমানো ব্রাহ্মণাদ্যভি- মানং পুরোধায়ানুষ্ঠাপকশ্চেত্তদভিমানোহপি তথৈবাভিমানান্তরং পুরস্কৃত্যানুষ্ঠাপরেদি ত্যা- শঙ্ক্যাহ-তানি চেতি। ন খম্ববিদুষো ধার্মিকস্য ব্রাহ্মণ্যাদিষ নিমিত্তেষু সৎসু কৰ্ম্মপ্রবৃত্তৌ নিমিত্তান্তরমপেক্ষ্যতে প্রমাণাভাবাদিত্যর্থঃ। ৫১। ১৪।

ভাষ্যানুবাদ।—তিনি চারিবর্ণ সৃষ্টি করিয়াও ক্ষত্রিয়জাতির উগ্রস্বভাব নিবন্ধন অবাধ্যতা শঙ্কায়[স্বকার্য্যে] নিশ্চয়ই সমর্থ হইলেন না; সেই জন্য তিনি আর একটা কল্যাণকর উৎকৃষ্ট বস্তু উত্তমরূপে সৃষ্টি করিলেন। তাহা কি? তাহা ধর্ম্ম; সৃষ্ট সেই এই উৎকৃষ্ট শ্রেয়ঃপদার্থটী ক্ষত্রেরও ক্ষত্র অর্থাৎ ক্ষত্রিয়- জাতিরও নিয়ন্তা(শাসনকারী) এবং উগ্র অপেক্ষাও উগ্র, যাহার নাম— ধর্ম্ম। অতএব ক্ষত্রিয়ের নিয়ন্তা বলিয়া ধর্ম্মাপেক্ষা আর শ্রেষ্ঠ কিছু নাই; কারণ, জগজ্জীব তাহা দ্বারা নিয়মিত—নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত হইয়া থাকে। সেই নিয়ন্তৃত্ব কি প্রকার উৎকৃষ্ট, তাহা বলা হইতেছে,—অবলীয়ান্ অতিশয়

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩২৯

দুর্ব্বল ব্যক্তিও বলীয়ানকে-আপনার অপেক্ষা অধিকতর বলবান্ পুরুষকেও ধর্মবলে আশংসা করে অর্থাৎ জয় করিতে ইচ্ছা করে,-জগতে গৃহস্থ লোক যেরূপ সর্বাধিক ক্ষমতাপন্ন রাজার সাহায্যে[জয়েচ্ছু হইয়া থাকে], তদ্রূপ; অতএব সর্ব্বাপেক্ষা অধিক বলশালী বলিয়া ধর্ম্মের ক্ষত্রিয়নিয়ন্তৃত্ব সিদ্ধ হইতেছে। লোকে যাহার ব্যবহার বা অনুষ্ঠান করিয়া থাকে, -যাহা সেই ব্যবহারাত্মক ধৰ্ম্ম, তাহাই প্রসিদ্ধ সত্য। সত্য অর্থ-শাস্ত্রপ্রতিপাদ্য অর্থের যাথার্থবোধ; তাহাই লোককর্তৃক অনুষ্ঠিত হইয়া ধৰ্ম্ম নামে পরিচিত হইয়া থাকে, যখন তাহাই আবার শাস্ত্রার্থরূপে জ্ঞানগোচর হয়, তখন ‘সত্য’ নামে অভিহিত হয়। যেহেতু, এইরূপই ব্যবস্থা, সেই হেতু ব্যবহারসময়ে, যে ব্যক্তি যথাশাস্ত্র কথা বলে, সত্য ও ধর্ম্মের স্বরূপাভিজ্ঞ সমীপন্থ লোকেরা তাহাকে বলিয়া থাকেন যে, এ ব্যক্তি ধৰ্ম্ম বলিতেছে-লোকপ্রসিদ্ধ ন্যায্য(ধৰ্ম্ম) বলিতেছে; সেইরূপ যে ব্যক্তি এতদ্বিপরীতভাবে ধৰ্ম্ম কিংবা লৌকিক বিষয় বলিয়া থাকে, তাহাকে বলা হয় যে, এ ব্যক্তি ধৰ্ম্ম বলিতেছে অর্থাৎ শাস্ত্রসম্মত কথা বলিতেছে। ইহা-জ্ঞানয়মান ও অনুষ্ঠীয়মানরূপে যে উভয় তত্ত্ব(ধৰ্ম্ম ও সত্য) বলা হইল, প্রকৃতপক্ষে ইহা ধৰ্ম্মই,(ধর্ম্মের অতিরিক্ত নহে)। অতএব জ্ঞানা- ত্মক ও অনুষ্ঠানাত্মক সেই ধর্মই শাস্ত্রজ্ঞ ও শাস্ত্রানভিজ্ঞ সকলকেই সমানভাবে নিয়মিত করিয়া রাখে; সেই জন্যই উহা ক্ষত্রিয়েরও ক্ষত্র-দমনকারী। অতএব ধর্মাভিমানী অবিদ্বান্ পুরুষ ধর্মবিশেষের অনুষ্ঠানার্থ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্ররূপ বর্ণ-বিশেষে আত্মাভিমান করিয়া থাকে; কেন না, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র ত স্বভাবতই কর্মাধিকারের নিমিত্তস্বরূপ অর্থাৎ ঐ সমস্ত বর্ণই পৃথক্ পৃথক্ কর্মাধিকারের প্রয়োজক ॥৫১৪৷৷

তদেতদ্ ব্রহ্ম ক্ষত্রং বিট্ শূদ্রঃ, তদগ্নিনৈব দেবেষু ব্রহ্মা- ভবদ্ ব্রাহ্মণো মনুষ্যেষু ক্ষত্রিয়েণ ক্ষত্রিয়ো বৈশ্যেন বৈশ্যঃ শূদ্রেণ শূদ্রস্তস্মাদগ্নের দেবেষু লোকমিচ্ছন্তে ব্রাহ্মণে মনুষ্যে- শ্বেতাভ্যাং হি রূপাভ্যাং ব্রহ্মাভবৎ।

অথ যো হ বা অস্মাল্লোকাৎ স্বং লোকমদৃষ্ট। প্রৈতি স এনমবিদিতো ন ভুনক্তি, যথা বেদো বাহননূক্তোহন্যদ্বা কৰ্ম্মাকৃতম্, যদিহ বা অপ্যনেবংবিদ্ মহৎ পুণ্যং কৰ্ম্ম করোতি

৪২

৩৩০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তদ্ধাস্যান্ততঃ ক্ষীয়ত এব, আত্মানমেব লোকমুপাসীত, স য আত্মান- মেব লোকমুপাস্তে ন হাস্য কৰ্ম্ম ক্ষীয়তে। অস্মাদ্ধ্যেবাত্মনো যদ্ যৎ কাময়তে তত্তৎ সৃজতে ॥ ৫২ ॥ ১৫ ॥

সরলার্থঃ।—তং(পূর্ব্বোক্তং) এতৎ(বর্ণচতুষ্টরং) ব্রহ্ম, ক্ষত্রং, বিট্ (বৈশ্যঃ), শূদ্রঃ[সৃষ্ট ইতি শেষঃ]। তং(স্রষ্টু ব্রহ্ম) দেবেষু মধ্যে অগ্নিনা এব (অগ্নিস্বরূপেণৈব) ব্রহ্ম(ব্রাহ্মণঃ) অভবৎ, মনুষ্যেষু ব্রাহ্মণঃ(ব্রাহ্মণস্বরূপেণ ব্রহ্ম) ক্ষত্রিয়েণ(ইন্দ্রাদিনা দেবক্ষত্রিয়েণ)[অধিষ্ঠিতঃ] ক্ষত্রিয়ঃ[অভবৎ], বৈশ্যেন (বসুপ্রভৃতিনা অধিষ্ঠিতঃ) বৈশ্যঃ(অভবৎ), শূদ্রেণ(পূষালক্ষণেন অধিষ্ঠিতঃ) শূদ্রঃ [অভবৎ]। তস্মাৎ(হেতোঃ), দেবেষু(দেবানাং মধ্যে)[কৰ্ম্মফলেচ্ছায়াং সত্যায়] অগ্নৌ এব(অগ্নিসম্বদ্ধং কৰ্ম্ম কৃত্বা) লোকং(কর্মফলং) ইচ্ছন্তে(প্রার্থরন্তে) [কর্মিণঃ]; তথা মনুষ্যেষু(মনুষ্যাণাং মধ্যে)[কৰ্ম্মফলেচ্ছায়াং] ব্রাহ্মণে এব (ব্রাহ্মণজাতিলাভেন এব)[লোকং ইচ্ছন্তি]; হি(যস্মাৎ) ব্রহ্ম(সৃষ্টিকর্তৃ) এতাভ্যাং(ব্রাহ্মণাগ্নিভ্যাং—কৰ্ম্মকর্ত্র ধিকরণরূপাভ্যাম্) অভবৎ(এতদুভয়- রূপেণ অবিব্যক্তম্ অভবদিত্যর্থঃ)।

অথ(পক্ষান্তরে) যঃ হবৈ(নিশ্চয়ে) স্বং(আত্মানং) লোকং(অবশ্য- দ্রষ্টব্যং) অদৃষ্টা(অহং ব্রহ্মাস্মীতি প্রত্যক্ষম্ অকৃত্বা) অস্মাৎ লোকাৎ(বর্তমান- দেহগ্রহণরূপাৎ) প্রৈতি(গচ্ছতি-ম্রিয়তে), সঃ(আত্মা) অবিদিতঃ(অবি- জ্ঞাতঃ সন্) এনং(প্রেতং) ন ভুনক্তি(ন পালয়তি, স ন মুচ্যতে ইত্যর্থঃ)। [অত্র দৃষ্টান্তদ্বয়মাহ-] যথা[লোকে] বেদঃ অননূক্তঃ(অনধীতঃ), কৰ্ম্ম (কৃষ্যাদি) বা অকৃতং(অনিষ্পাদিতং সৎ)[ন পালয়তি, তদ্বৎ]। যৎ(যদি) ইহ(সংসারে) বৈ অনেবংবিৎ(আত্মজ্ঞানরহিতঃ) মহৎ পুণ্যং কৰ্ম্ম অপি (সম্ভাবনায়াং) করোতি(নিষ্পাদয়তি), অন্য(কর্মিণঃ) তৎ(স্বনুষ্ঠিতং কৰ্ম্ম) হ(নিশ্চয়ে) অন্ততঃ(অন্তে-অবসানে) ক্ষীয়তে(নশ্যতি) এব,[যৎ কৃতকং, তদনিত্যমিতি ভাবঃ]।[অতঃ] আত্মানম্ এব লোকম্ উপাসীত(জানীত)। সঃ যঃ(যঃ কশ্চিৎ) আত্মানম্ এব লোকম্ উপাস্তে, অন্য(উপাসিতুঃ) কৰ্ম্ম ন হ(নৈব) ক্ষীয়তে;[কর্মাভাবাদেব, ইতি নিত্যানুবাদোহয়ং]।[উপাসকঃ] যৎ যৎ(অভীষ্টং) কাময়তে, অস্মাৎ আত্মনঃ এব হি(নিশ্চয়ে) তৎ তৎ সৃজতে (আত্মলাভাদেব তস্য সর্ব্বার্থঃ সম্পদ্যতে ইতি ভাবঃ) ॥৫২৷১৫৷

মূল্যমান।—এইরূপে সেই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৩১

সৃষ্ট হইল; অতএব দেবগণের মধ্যে[ফলকামনা থাকিলে] অগ্নিতেই সেই ফল ইচ্ছা করিবে, অর্থাৎ অগ্নিসাধ্য র্যাগাদি কৰ্ম্ম দ্বারা সেই ফল লাভ করিবে, আর মনুষ্যের মধ্যে[ফলেচ্ছা থাকিলে] ব্রাহ্মণে প্রার্থনা করিবে, অর্থাৎ ব্রাহ্মণলাভে যত্নপর হইবে; কারণ, স্রষ্টা ব্রহ্ম এই উভয়েতেই—কর্ম্মের কর্তারূপে ব্রাহ্মণে, আর কর্ম্মের অধিকরণরূপে অগ্নিতে অবিকৃতভাবে প্রকটিত হইয়াছেন।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি স্বলোককে—দর্শনীয় আত্মাকে দর্শন না করিয়া অর্থাৎ আত্মবিজ্ঞান লাভ না করিয়া ইহলোক হইতে প্রয়াণ করে, সেই ব্যক্তি অবিদিত—আত্মজ্ঞানবিহীন হওয়ায় এই আত্মলোক ভোগ করিতে সমর্থ হয় না; যেমন বেদ অপঠিত থাকিয়া—অথবা যেমন কৃষিকৰ্ম্ম প্রভৃতি অসম্পাদিত অবস্থায়[ কাহাকেও পালন করে না], ইহাও তদ্রূপ। জগতে এবংবিধ জ্ঞানবিহীন কোন লোক যদি মহৎ পুণ্য কৰ্ম্মও করেন, তাঁহার অনুষ্ঠিত সেই কৰ্ম্ম পরিণামে নিশ্চয়ই ক্ষয় প্রাপ্ত হইয়া থাকে, অতএব আত্মস্বরূপ লোকেরই উপাসনা করিবে। সেই যে ব্যক্তি আত্ম- লোকের উপাসনা করে, তাহার কৰ্ম্ম ক্ষীণ হয় না, অর্থাৎ কৰ্ম্ম না থাকায় তাহার আর কর্মক্ষয়ের ভয় থাকে না; সেই ব্যক্তি যাহা যাহা কামনা করে, এই আত্মা হইতেই তৎসমস্ত পাইয়া থাকে ॥ ৫২ ॥ ১৫ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—তদেতচ্চাতুর্ব্বণ্যং সৃষ্টম্—ব্রহ্ম ক্ষত্রং বিট্ শূদ্র ইতি; উত্তরার্থ উপসংহারঃ। যত্তৎ স্রষ্টু ব্রহ্ম, তদগ্নিনৈব, নান্যেন রূপেণ, দেবেষু ব্রহ্ম ব্রাহ্মণজাতিঃ অভবৎ; ব্রাহ্মণো ব্রাহ্মণস্বরূপেণ মনুষ্যেষু ব্রহ্মাভবৎ; ইতরেষু বর্ণেষু বিকারান্তরং প্রাপ্য; ক্ষত্রিয়েণ ক্ষত্রিয়োহভবৎ—ইন্দ্রাদিদেবতাধিষ্ঠিতঃ, বৈশ্যেন বৈশ্যঃ, শূদ্রেণ শূদ্রঃ। যস্মাৎ ক্ষত্রাদিষু বিকারাপন্নম্, অগ্নৌ ব্রাহ্মণ এব চাবিকৃতং স্রষ্টু ব্রহ্ম, তস্মাদগ্নাবেব দেবেষু দেবানাং মধ্যে লোকং কৰ্ম্মফলমিচ্ছন্তি, অগ্নিসম্বন্ধং কৰ্ম্ম কৃত্বেত্যর্থঃ; তদর্থমেব হি তদ্‌ব্রহ্ম কর্মাধিকরণত্বেনাগ্নিরূপেণ ব্যবস্থিতম্; তস্মাত্তস্মিন্নগ্নৌ কৰ্ম্ম কৃত্বা তৎফলং প্রার্থয়ন্ত ইত্যেতদুপপন্নম্। ১ ব্রাহ্মণে মনুষ্যেষু--মনুষ্যাণাং পুনঃ মধ্যে কর্মফলেচ্ছায়াং নাগ্ন্যাদিনিমিত্ত- ক্রিয়াপেক্ষা, কিং তর্হি, জাতিমাত্রস্বরূপপ্রতিলন্তেনৈব পুরুষার্থসিদ্ধিঃ। যত্র তু দেবাধীনা পুরুষার্থসিদ্ধিঃ, তত্রৈরাগ্ন্যাদিসম্বন্ধক্রিয়াপেক্ষা; স্মতেশ্চ—

৩৩২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

“জপ্যেন তু সংসিধ্যোঽব্রাহ্মণো নাত্র সংশয়ঃ।

কুর্য্যাদন্য বা কুর্য্যাট্মৈত্রো ব্রাহ্মণ উচ্যতে।” ইতি। পারিব্রাজ্যদর্শনাচ্চ। তস্মাদ্‌ব্রাহ্মণত্ব এব মনুষ্যেযু লোকং কৰ্ম্মফলমিচ্ছন্তি। যম্মাদেতাভ্যাং হি ব্রাহ্মণাগ্নিরূপাভ্যাং কর্মকর্তধিকরণরূপাভ্যাং যৎ স্রষ্টু ব্রহ্ম সাক্ষাদভবৎ। ২

অত্র তু পরমাত্মলোকমগ্নৌ ব্রাহ্মণে চেচ্ছন্তীতি কেচিৎ। তদসৎ, অবি- দ্যাধিকারে কর্মাধিকারার্থং বর্ণবিভাগস্য প্রস্তুতত্বাৎ, পরেণ চ বিশেষণাৎ। যদি হৃত্র লোকশব্দেন পর এবাত্মোচ্যেত, পরেণ বিশেষণমনর্থকং স্যাৎ—“স্বং লোকম- দৃষ্টা” ইতি; স্বলোকব্যতিরিক্তশ্চেদগ্ন্যধীনতয়া প্রার্থ্যমানঃ প্রকৃতো লোকঃ, ততঃ স্বম্—ইতি যুক্তং বিশেষণম্, প্রকৃতপরলোকনিবৃত্ত্যর্থত্বাৎ; স্বত্বেন চাব্যভিচারাৎ পরমাত্মলোকস্য; অবিদ্যাকৃতানাঞ্চ স্বত্বব্যভিচারাৎ; ব্রবীতি চ কৰ্ম্মকৃতানাং ব্যভিচারং “ক্ষীয়ত এব” ইতি। ৩

ব্রহ্মণা সৃষ্টা বর্ণাঃ কর্মার্থম্; তচ্চ কৰ্ম্ম ধৰ্ম্মাখ্যং সর্ব্বানেব কর্তব্যতয়া নিয়ন্ত পুরুষার্থসাধনং চ; তন্মাত্তেনৈব চেৎ কৰ্ম্মণা স্বো লোকঃ পরমাত্মাখ্যোহবিদিতোহপি প্রাপ্যতে, কিং তস্যৈব পদনীয়ত্বেন ক্রিয়তে? ইত্যত আহ-অথেতি-পূর্ব্বপক্ষবি- নিবৃত্ত্যর্থঃ। যঃ কশ্চিৎ হ বা অস্মাৎ সাংসারিকাৎ পিণ্ডগ্রহণলক্ষণাদবিদ্যাকাম- কৰ্ম্মহেতুকাৎ অগ্ন্যধীনকর্মাভিমানতয়া বা ব্রাহ্মণজাতিমাত্রকৰ্ম্মাভিমানতয়া বা আগন্তুকাদস্বরূপভূতাং লোকাৎ স্বং লোকমাত্মাখ্যম্ আত্মত্বেনাব্যভিচারিত্বাৎ, অদৃষ্ট্বা-অহং ব্রহ্মাশ্মীতি, প্রৈতি ম্রিয়তে; স যদ্যপি স্বো লোকঃ অবিদিতঃ অবিদ্যয়া ব্যবহিতোহস্ব ইবাজ্ঞাতঃ; এনং-সঙ্খ্যাহপূরণ ইব লৌকিকঃ, আত্মানং -ন ভুনক্তি ন পালয়তি ন শোকমোহভয়াদিদোযাপনরেন; যথা চ লোকে বেদো- হননুক্তঃ অনধীতঃ কৰ্ম্মাদ্যববোধকত্বেন ন ভুনক্তি; অন্যদ্বা লৌকিকং কৃষ্যাদিকৰ্ম্ম অকৃতং স্বাত্মনা অনভিব্যঞ্জিতম্ আত্মীয়ফলপ্রদানেন ন ভুনক্তি, এবমাত্মা স্বো লোকঃ স্বেনৈব নিত্যাত্মস্বরূপেণানভিব্যঞ্জিতোহবিদ্যাদিপ্রহাণেন ন ভুনক্ত্যেব। ৪

ননু কিং স্বলোকদর্শননিমিত্ত-পরিপালনেন?—কর্মণঃ ফলপ্রাপ্তিধ্রৌব্যাৎ, ইষ্টফলনিমিত্তস্য চ কর্ম্মণো বাহুল্যাৎ, তন্নিমিত্তং পালনমক্ষয়ং ভবিষ্যতি? তন্ন; কৃতস্য ক্ষরবত্ত্বাৎ, ইত্যেতদাহ—যৎ ইহ বৈ সংসারেহদ্ভুতবৎ কশ্চিন্মহাত্মাপি অনেবংবিৎ স্বং লোকং যথোক্তেন বিধিনা অবিদ্বান্ মহৎ বহু অশ্বমেধাদি পুণ্যং কৰ্ম্ম ইষ্টফলমের নৈরন্তর্য্যেণ করোতি—অনেনৈবানস্ত্যং মম ভবিষ্যতীতি, তৎ কৰ্ম্ম হ অস্যাবিদ্যাবতঃ অবিদ্যাজনিতকামহেতুত্বাৎ স্বপ্নদর্শনবিভ্রমোদ্ভূত-বিভূতিবৎ

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৩৩

অন্ততঃ অন্তে ফলোপভোগস্থ্য ক্ষীয়ত এব; তৎকারণয়োরবিদ্যা-কাময়োশ্চলত্বাৎ কৃতক্ষয়ধ্রৌব্যোপপত্তিঃ। তস্মান্ন পুণ্যকর্মফলপালনানন্ত্যাশা অস্ত্যেব। অত আত্মানমেব স্বং লোকম্—আত্মানমিতি স্বং লোকমিত্যস্মিন্নর্থে, স্বং লোকমিতি প্রকৃতত্বাদিহ চ স্বশব্দস্যাপ্রয়োগাদুপাসীত। ৫

স য আত্মানমেব লোকমুপান্তে, তস্য কিম্?—ইত্যুচ্যতে—ন হাস্য কৰ্ম্ম ক্ষীয়তে, কর্ম্মাভাবাদেব—ইতি নিত্যানুবাদঃ। যথা অবিদুষঃ কৰ্ম্মক্ষয়লক্ষণং সংসারদুঃখং সন্ততমেব; ন তথা তদস্য বিদ্যত ইত্যর্থঃ; “মিথিলায়াং প্রদীপ্তায়াং ন মে দহ্যতি কিঞ্চন” ইতি যদ্বৎ।”

স্বাত্মলোকোপাসকস্য বিদুষো বিদ্যাসংযোগাৎ কর্ম্মৈব ন ক্ষীয়তে ইত্যপরে বর্ণয়ন্তি; লোকশব্দার্থঞ্চ কৰ্ম্মসমবায়িনং দ্বিধা পরিকল্পয়ন্তি কিল,-একো ব্যাকৃতা- বস্থঃ কৰ্ম্মাশ্রয়ো লোকো হৈরণ্যগর্ভাখ্যঃ, তং কৰ্ম্মসমবায়িনং লোকং ব্যাকৃতং পরিচ্ছিন্নং য উপাস্তে, তস্য কিল পরিচ্ছিন্নকর্ম্মাত্মদর্শিনঃ কৰ্ম্ম ক্ষীয়তে। তমেব কৰ্ম্মসমবায়িনং লোকমব্যাকৃতাবস্থং কারণরূপমাপাদ্য যস্তুপাস্তে, তস্যাপরিচ্ছিন্ন- কৰ্ম্মাত্মদর্শিত্বাৎ তস্য চ কৰ্ম্ম ন ক্ষীয়ত ইতি ॥ ৭

ভবতীয়ং শোভনা কল্পনা, ন তু শ্রৌতী, স্বলোকশব্দেন প্রকৃতস্য পরমাত্মনো- হভিহিতত্বাৎ, স্বং লোকমিতি প্রস্তুত্য স্বশব্দং বিহায়াত্মশব্দপ্রক্ষেপেণ পুনস্তস্যৈব প্রতিনিৰ্দ্দেশাৎ—আত্মানমেব লোকমুপাসীতেতি; তত্র কর্মসমবায়িলোককল্পনায়া অনবসর এব। ৮

পরেণ চ কেবলবিদ্যাবিষয়েণ বিশেষণাৎ—“কিং প্রজয়া করিষ্যাম, যেযাং নোহয়মাত্মায়ং লোকঃ” ইতি। পুত্রকর্মাপরবিদ্যাকৃতেভ্যো হি লোকেভ্যো বিশিনষ্টি—অয়মাত্মা নো লোক ইতি। “ন হাস্য কেনচন কৰ্ম্মণা লোকো মীয়তে, এযোহস্য পরমো লোকঃ” ইতি চ। তৈঃ সবিশেষণৈরস্যৈকবাক্যতা যুক্তা; ইহাপি স্বং লোকমিতি বিশেষণদর্শনাৎ। ৯

অস্মাৎ কাময়ত ইত্যযুক্তমিতি চেৎ; ইহ স্বো লোকঃ পরমাত্মা, তদুপাসনাৎ স এব ভবতীতি স্থিতে, যদ্ যৎ কাময়তে, তত্তদম্মাদাত্মনঃ সৃজতে ইতি তদাত্ম- প্রাপ্তিব্যতিরেকেণ ফলবচনমযুক্তমিতি চেৎ; ন; স্বলোকোপাসনস্তুতিপরত্বাৎ। স্বম্মাদেব লোকাৎ সর্ব্বমিষ্টং সম্পদ্যত ইত্যর্থঃ, নান্যদতঃ প্রার্থনীয়ম্, আপ্তকামত্বাৎ। “আত্মতঃ প্রাণ আত্মত আশা” ইত্যাদিশ্রুত্যন্তরে যথা; সর্ব্বাত্মভাবপ্রদর্শনার্থো বা পূর্ব্ববৎ। ১০

যদি হি পর এবাত্মা সম্পদ্যতে, তদা যুক্তঃ “অস্মাদ্ব্যেবাত্মনঃ” ইত্যাদি।

৩৩৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রয়োগঃ—স্বম্মাদেব প্রকৃতাদাত্মনো লোকাদিত্যেবমর্থঃ; অন্যথা অব্যাকৃতা- বস্থাৎ কর্ম্মণো লোকাদিতি সবিশেষণমবক্ষ্যৎ, প্রকৃতপরমাত্মলোকব্যাবৃত্তয়ে ব্যাক্বতাবস্থাব্যাবৃত্তয়ে চ। ন হাস্মিন্ প্রকৃতে বিশেষিতে অশ্রুতান্তরালাবস্থা প্রতিপত্তুং শক্যতে ॥৫২॥১৫৷৷

টীকা। পুনরুক্তিবৈয়র্থমাশঙ্ক্যোক্তম্-উত্তরার্থ ইতি। পূর্ব্বত্র দেবেষু দর্শিতস্য বর্ণবিভাগস্থ্য মনুষ্যেযুত্তরগ্রন্থেন যোজনার্থ ইতি যাবৎ। সৃষ্টবর্ণচতুষ্টয়নিবিষ্টমবান্তরবিভাগমভিধাতুমারভতে- যৎ তদিতি। নান্যেন দেবান্তররূপেণ ক্ষত্রাদিবিকারমন্তরেণেতি যাবৎ। বিকারান্তরমগ্নি- ব্রাহ্মণলক্ষণম্। ক্ষত্রিয়েণেত্যত্র বিবক্ষিতমর্থমাহ-ইন্দ্রাদিদেবতাধিষ্ঠিত ইতি। বৈশ্যেনেতি বস্বাদ্যধিষ্ঠিতত্বমুচ্যতে। শূদ্রেণেতি পূষাধিষ্ঠিতত্বম্। অগ্ন্যাদিভাবমাপন্নস্য ক্ষত্রাদিভাবো ন তু ক্ষত্রাদিভাবমাপন্নস্যাগ্ন্যাদিভাবঃ, ইত্যেতাবন্মাত্রেণ ব্রহ্মণো বিকৃতত্বাবিকৃতত্বমগ্নিব্রাহ্মণস্তুত্যর্থ- মুক্তমিত্যভিপ্রেতা তন্মাদিত্যাদি ব্যাচষ্টে-যম্মাদিতি। যথোক্তপ্রার্থনায়া স্যাযত্বং সাধয়তি- তদর্থমেবেতি। কৰ্ম্মফলদানার্থমিতি যাবৎ। ১

মনুষ্যাণাং মধ্যে কমপি মনুষ্যমবলম্ব্য কৰ্ম্মফলভোগাপেক্ষায়ামধিকরণসম্প্রদানভাবেনাব- স্থিতান্নীন্দ্রাদিনিমিত্তক্রিয়াপেক্ষা নাস্তি, কিন্তু ব্রাহ্মণজাতিপ্রাপ্তিমাত্রেণ তৎসম্বন্ধং জপ্যাদি- কৰ্ম্মাবশ্যম্ভাবীতি তন্মাত্রেণ পুরুষার্থঃ সিধ্যতীতি প্রতীকগ্রহণপূর্বকমাহ-মনুষ্যাণামিতি। কুত্র তর্হি যথোক্তক্রিয়াপেক্ষেতি, তত্রাহ-যত্র স্থিতি। দেবানাং মধ্যেইগ্নিসংবন্ধমেব কৰ্ম্ম কৃত্বা পুরুষার্থলাভঃ, মনুষ্যাণাং মধ্যে তু ব্রাহ্মণ্যপ্রযুক্তজপ্যাদিমাত্রেণ তৎপ্রাপ্তিরিত্যত্র প্রমাণমাহ- স্মৃতেশ্চেতি। জপ্যগ্রহণং জাতিমাত্রপ্রযুক্তকর্মোপলক্ষণার্থম্। অন্যদগ্নিসংবদ্ধং কৰ্ম্ম। কোহয়ং ব্রাহ্মণো নাম? তত্রাহ-মৈত্র ইতি। সর্বেষু ভূতেধভয়প্রদো বিশিষ্টজাতিমানিতি যাবৎ। ননু যথোক্তস্মৃতেরাক্ষ্ণ্যপ্রতিলস্তমাত্রাদভুদয়লাভেংপি কুতস্ততো নিঃশ্রেয়সসিদ্ধিস্তত্রাহ- পারিব্রাজ্যেতি। ব্রাহ্মণা ব্যুখায়াথ ভিক্ষাচর্য্যং চরস্তীতি ব্রাহ্মণস্য পারিব্রাজ্যং ক্রয়তে, তচ্চ সংস্যাসাদ্রহ্মণঃ স্থানমিতি ব্রহ্মলোকসাধনং গম্যতে। অতশ্চ ব্রাহ্মণজাতিনিমিত্তং লোকমিচ্ছস্তীতি যুক্তমিত্যর্থঃ। ব্রাহ্মণে মনুষ্যেষিত্যার্থমুপসংহরতি-তস্মাদিতি। হেতুবাক্যমাদায় ব্যাচষ্টে- যম্মাদিতি। হিশব্দার্থো যম্মাদিত্যুক্তং, যৎ স্রষ্টু ব্রহ্ম, তদেতাহ্যাং যস্মাৎ সাক্ষাদভবৎ, তস্মাদগ্না- বেবেত্যাদি যুক্তমিতি যোজনা। ২

অগ্নৌ হত্বা ব্রাহ্মণে চ দত্ত্বা পরমাত্মলক্ষণং লোকমাপ্তুমিচ্ছস্তীতি ভর্তৃপ্রপঞ্চব্যাখ্যানমনু- বদতি-অত্রেতি। সপ্তমী তন্মাদিত্যাদিবাক্যবিষয়া। প্রক্রমালোচনায়াং কৰ্ম্মফলমিহ লোক- শব্দার্থো ন পরমাত্মা, প্রক্রমভঙ্গপ্রসঙ্গাদিতি দূষয়তি-তদসদিতি। কর্মাধিকারার্থং কৰ্ম্মসু প্রবৃত্তিসিদ্ধ্যর্থমিতি যাবৎ। বাক্যশেষগতবিশেষণবশাদপি কৰ্ম্মফলন্যৈবাত্র লোকশব্দবাচ্যত্ব- মিত্যাহ-পরেণ চেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-যদি হীতি। পরপক্ষে স্বমিতি বিশেষণং ব্যাবর্ত্যাভাবান্ন ঘটতে চেৎ, ত্বৎপক্ষেহপি কথং তদুপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-স্বলোকেতি। পর- শব্দোহনাম্ববিষয়ঃ। ননু প্রকৃতে বাক্যে লোকশব্দেন পরমাত্মা নোচ্যতে চেৎ, উত্তরবাক্যেংপি তেৰ নাসাবুচ্যেত, বিশেষাতাবাদিত্যাশঙ্কা বিশেষণসামর্থ্যান্নৈবনিত্যাহ-স্বত্বেন চেতি। কৰ্ম্ম-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৩৫

ফলবিষয়ত্বেনাপি বিশেষণস্য নেতুং শক্যত্বান্ন বিশেষসিদ্ধিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-অবিদ্যেতি। তেষাং স্বরূপব্যভিচারে বাক্যশেষং প্রমাণয়তি-ব্রবীতি চেতি। ৩

উত্তরবাক্যব্যাবর্ত্যং পূর্ব্বপক্ষমাহ-ব্রহ্মণেতি। তৎপুনরচেতনমকিঞ্চিৎকরমিত্যাশঙ্ক্যাহ- তচ্চেতি। সর্ব্বৈরেব বর্ণৈঃ স্বস্য কর্তব্যতয়া তান্ প্রতি নিয়ন্ত, ভূত্বেতি যোজনা। তস্য পুমর্থোপায়ত্বপ্রসিদ্ধিমাদায় ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। অবিদিতোৎপীতি চ্ছেদঃ। দেবতাগুণকৰ্ম্ম মুক্তিহেতুরিতি পক্ষং প্রতিক্ষেপ্ত মুত্তরং বাক্যমুখাপয়তি-অত আহেতি। জ্ঞানাদেব মুক্তির্ন কর্মণেত্যাগমপ্রসিদ্ধমিতি নিপাতয়োরর্থঃ। তত্র নিমিত্তনুপাদানং চেতি দ্বয়ং সংক্ষিপ্তপতি- অবিদ্যেতি। নিমিত্তং বিবৃণোতি-অগ্ন্যধীনেতি। আত্মাখ্যস্য লোকস্য সত্ত্বে হেতুমাহ- আত্মত্বেনেতি। অহং ব্রহ্মাস্মীতাদৃষ্টেতি সম্বন্ধঃ। যঃ পরমাত্মানমবিদিদ্বৈব ম্রিয়তে, তমেনং পরমাত্মা ন পালয়তীতি যোজনা। পরমাত্মনঃ স্বরূপত্বাদবিদিতস্যাপি-পালয়িতৃত্বং স্যাদিত্যা- শঙ্ক্যাহ-স যদ্যপীতি। লোকশব্দাদুপরিষ্টাত্তথাপীতি দ্রষ্টব্যম্। অবিদিত ইত্যস্য ব্যাখ্যানম- বিদ্যয়েত্যাদি। পরমাত্মাখ্যো লোকো নাজ্ঞাতো ভুনত্তীতাত্র কৰ্ম্মফলভূতং লোকং বৈধর্ম্য- দৃষ্টান্ততয়া দর্শয়তি-অস্ব ইবেতি। অজ্ঞাতস্যাপালয়িত্বে সাধর্ম্যদৃষ্টান্তমাহ-সংখ্যেতি। যথা লৌকিকো দশমো দশমোহ্মীত্যজ্ঞাতো ন শোকাদিনিবর্তনেনাত্মানং ভুনক্তি, তথা পরমাত্মাহ- পীত্যর্থঃ। তত্রৈব শ্রুত্যুক্তং দৃষ্টান্তদ্বয়ং ব্যাচষ্টে-যথা চেত্যাদিনা। অবিদ্যাদীত্যাদিশব্দেন তদুখং সর্ব্বং সংগৃহ্যতে। ৪

যদিহেত্যাদিবাক্যাপোহ্যং চোদ্যমুখাপয়তি-নন্বিতি। নম্বনিষ্টফলনিমিত্তস্যাপি কৰ্ম্মণঃ ফলপ্রাপ্তিগ্রৌব্যাৎ কথং কৰ্ম্মণা মোক্ষঃ সেৎস্যতি, তত্রাহ-ইষ্টেতি। বাহুল্যমশ্বমেধাদিকৰ্ম্মণে। মহত্তরত্বং, তদ্ধি দুরিতমভিভূয় মোক্ষমেব সম্পাদয়িষ্যতীতার্থঃ। যৎ কৃতকং তদনিত্যমিতি ন্যায়মাশ্রিত্য পরিহরতি-তন্নেত্যাদিনা। সপ্তম্যর্থঃ সংসার ইতি নিপাতার্থঃ সূচয়তি-অদ্ভুত- বদিতি। অনেবম্বিত্বং ব্যাকরোতি-স্বং লোকমিতি। যথোক্তো বিধিরন্বয়ব্যতিরেকাদিঃ। পুণ্যকৰ্ম্মচ্ছিদ্রেযু দুরিতপ্রসক্তিং নিবারয়তি-নৈরন্তর্য্যেণেতি। তথা পুণ্যং সঞ্চিন্বতোহভিপ্রায়- মাহ-অনেনেতি। প্রক্রান্তযচ্ছব্দাপেক্ষিতং কথয়তি-তৎ কর্ম্মেতি। প্রাগুক্তন্যায়দ্যোতী হেতি নিপাতঃ। কারণরূপেণ কার্য্যস্য ধ্রুবত্বমাশঙ্ক্যাহ-তৎকারণয়োরিতি।

মুক্তেরনিত্যত্বদোষসমাধিস্তর্হি কেন প্রকারেণ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অত ইতি। আত্মশব্দার্থ- মাহ-স্বং লোকমিতি। তদেব স্ফুটয়তি-আত্মানমিতীতি। আত্মশব্দস্য প্রকৃতস্বলোক- বিষয়ত্বে হেত্বন্তরমাহ-ইহ চেতি। প্রয়োগে তু পুনরুক্তিভয়াদর্থান্তরবিষয়ত্বমপি স্যাদিত্যর্থঃ। ৫

বিদ্যাফলমাকাঙ্ক্ষাদ্বারা নিক্ষিপতি-স য ইতি। কৰ্ম্মফলস্য ক্ষয়িত্বমুক্ত। কর্ম্মণোহক্ষয়ত্বং বদতো ব্যাহতিমাশঙ্ক্যাহ-কৰ্ম্মেতি। বাক্যস্য বিবক্ষিতমর্থং বৈধর্ম্যদৃষ্টান্তেন ব্যাচষ্টে-যথেতি। অবিদুষ ইতি চ্ছেদঃ। কৰ্ম্মক্ষয়েহপি বা বিদুষো দুঃখাভাবে দৃষ্টান্তমাহ-মিথিলায়ামিতি। ৬

আত্মানমিত্যাদি কেবলজ্ঞানাম্মুক্তিরিত্যেবংপরতয়া ব্যাখ্যাতং, সম্প্রতি তত্র ভর্তৃপ্রপঞ্চ- ব্যাখ্যামুখাপয়তি—স্বাত্মেতি। আত্মলোকোপাসকস্য কৰ্ম্মাভারে কথং তদক্ষয়বাচোযুক্তি- রিত্যাশঙ্ক্য কৰ্ম্মাভাবস্যাসিদ্ধিমভিসন্ধায় কর্মসাধ্যং লোকং ব্যাকৃতাব্যাকৃতরূপেণ ভিনত্তি— লোকশব্দার্থং চেতি। ঔৎপ্রেক্ষিকী কল্পনা, ন তু শ্রৌতীতি বক্তুং কিলেত্যুক্তম্। তত্রাদ্যং

৩৩৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

লোকশব্দার্থমনুদ্য তদুপাসকস্য দোষমাহ-এক ইতি। পরিচ্ছিন্নঃ কর্মাত্মা, তৎসাধ্যো ব্যাকৃতা- বস্থো লোকস্তস্মিন্নহংগ্রহোপাসকস্যেতি যাবৎ। কিলশব্দন্তু পূর্ব্ববৎ। দ্বিতীয়ং লোকশব্দার্থমনুদ্য তদুপাসকস্য লাভং দর্শয়তি-তমেবেতি। যথা কুণ্ডলাদেরস্তর্ব্বহিরল্লেষণে সুবর্ণ্যতিরিক্তরূপানু- পলম্ভাত্তরূপেণাস্য নিত্যত্বং, তথা কৰ্ম্মসাধ্যং হিরণ্যগর্ভাদিলোকং কার্য্যত্বাদব্যাকৃতং কারণ- মেবেত্যঙ্গীকৃত্য যস্তস্মিন্নহংবুদ্ধ্যোপান্তে, তস্যাপরিচ্ছিন্নকর্মসাধ্যলোকাত্মোপাসকত্বাদ্রহ্মবিত্তং কর্মিত্বং চ ঘটতে, তস্য খল্বাত্মৈব কৰ্ম্ম, তেন তস্য তন্ন ক্ষীয়তে। যঃ পুনরদ্বৈতাবস্থামুপাস্তে, তস্যাত্মৈব কৰ্ম্ম ভবতীতি হি ভর্তৃপ্রপঞ্চৈরুক্তমিত্যর্থঃ। ৭

আত্মানমিত্যাদিসমুচ্চয়পরমিতি প্রাপ্তং পক্ষং প্রত্যাহ-ভবতীতি। শ্রৌতত্বাভাবে হেতু- মাহ-স্বলোকেতি। স্বং লোকমদৃষ্টে ত্যত্র স্বলোকশব্দেন পরস্য প্রকৃতস্যাত্মানমেবেত্যত্র প্রকৃত- হানাপ্রকৃতপ্রক্রিয়াপরিহারার্থমুক্তত্বান্নাত্র লোকদ্বৈবিধ্যকল্পনা যুক্তেত্যর্থঃ। লোকশব্দেনাত্র পরমাত্মপরিগ্রহে হেহস্তরমাহ-স্বং লোকমিতীতি। যথা লোকস্য স্বশব্দার্থো বিশেষণং, তথাত্মানমিত্যত্র স্বশব্দপর্য্যায়াত্মশব্দার্থস্তস্য বিশেষণং দৃশ্যতে, ন চ কৰ্ম্মফলস্য মুখ্যমাত্মত্বমতে। লোকশব্দোহত্র পরমাত্মৈবেতার্থঃ। প্রকরণাদ্বিশেষণাচ্চ সিন্ধমর্থং দর্শয়তি-তত্রেতি। ৮

পরস্যৈব লোকশব্দার্থত্বে হেত্বন্তরমাহ-পরেণেতি। উক্তমেব প্রপঞ্চয়তি-পুত্রেতি। অপ পরেষু বাক্যেযু পরমাত্মা লোকশব্দার্থঃ,-প্রকৃতে তু কৰ্ম্মফলমিতি ব্যবস্থেতি চেৎ, নৈষমেক- বাক্যত্বসন্তবে তত্ত্বেদস্তান্যায্যত্বাদিত্যাহ-তৈরিতি। একবাক্যত্বসম্ভাবৰ্ম্মামের দর্শয়তি- ইহাপীতি। যতোত্তরত্রাত্মাদিশব্দেন লোকে। বিশেষিতস্তথাত্মানমিত্যত্রাপ্যাত্মশব্দেন বিশেষ্যতে। পূর্ব্ববাক্যে চ স্বং লোকমদৃষ্টেতি স্বশব্দেনাত্মবাচিনা তস্য বিশেষণং দৃশ্যতে। তথা চ পূর্ব্বাপরা- লোচনায়ামেকবাক্যত্বসিদ্ধিরিত্যর্থঃ। ৯

প্রকরণেন পরস্য লোকশব্দার্থত্বমযুক্তং লিঙ্গবিরোধাদিতি চোদয়তি-অস্মাদিতি। তদেব বিবৃণোতি-ইহেত্যাদিনা। অর্থবাদস্থং লিঙ্গং ন প্রকরণাদ্বলবদিতি মত্বা সমাধত্তে-নেত্যাদিনা। স্তুতিমেব স্পষ্টয়তি-স্বম্মাদেবেতি। লোকাৎ জ্ঞাতাদিতি শেষঃ। যথা ছান্দোগ্যে স্বতার্থ- মাত্মনঃ স্রষ্টত্বমুচ্যতে, তথাত্রাপাত্মলোকং স্তোতুমেতৎ ফলবচনমিত্যাহ-আত্মত ইতি। ভবতু বা, মা বা ভূৎ; অস্মান্ধ্যেবেত্যাদিরর্থবাদঃ, তথাপি তস্য সর্ব্বাত্মত্বপ্রদর্শনার্থত্বাদযুক্তমত্র লোক- শব্দেন পরমাত্মগ্রহণমিত্যাহ-সর্ব্বাত্মেতি। তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবদিতি বাক্যং দৃষ্টান্তয়তি- পূর্ব্ববদিতি। ১০

কিঞ্চ, আত্মশব্দস্য ত্রিধাপরিচ্ছেদশূণ্যার্থবাচিতায়া যচ্চাপ্নোতীত্যাদিস্তায়েন সিদ্ধত্বাত্তংসমা- নাধিকরণ-লোকশব্দস্যাপি তদর্থস্থাৎ পরস্যৈবাত্র লোকত্বমিত্যাহ—যদি হীতি। কিং চ, যদি লোকশব্দেন পরং হিত্বার্থান্তরমুচ্যতে, তদা সবিশেষণং বাক্যং স্থাৎ অন্যথা স্বং লোকমিতি প্রকৃতপরমাত্মলোকস্য ত্বৎপক্ষেহনন্তরোক্তব্রহ্মলোকস্য চ ব্যাবৃত্ত্যযোগাৎ। ন চাত্র সবিশেষণং বাক্যং দৃষ্টম্, অতঃ স্বং লোকমিতি প্রকৃতঃ পরমাত্মৈবাত্রাপি লোক ইত্যাহ—অন্যখেতি। বিশেষণং বিনৈষাত্মাদিত্যত্র ‘পরাপরাভ্যামর্থান্তরং কিং ন স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ—ন হীতি। স্বং লোকমিতি প্রকৃতে পরমাত্মস্যাত্মানমেবেতি বিশেষিতে চাব্যাকৃতাখ্যা পরাপরাভ্যামন্ত্ররালাবস্থা ন প্রতিপন্নং শক্যতে, তস্যাঃ শ্রুতত্বাভাবাদিত্যর্থঃ। ১৫। ৫২।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৩৭

ভাষ্যানুবাদ।—এইরূপে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও-শূদ্র, এই চাতুর্ব্বর্ণ্য সৃষ্ট হইল; মনুষ্যের মধ্যেও এই বর্ণ-বিভাগের প্রয়োজন হইবে; এই জন্য পূর্ব্বোক্ত সৃষ্টির এখানে উপসংহার বা পুনরুল্লেখ করা হইল। সেই যে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্ম, তিনি দেবগণের মধ্যে অগ্নিরূপেই ব্রহ্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণজাতি হইয়াছিলেন, অন্য কোনরূপে নহে; মনুষ্যগণের মধ্যে ব্রাহ্মণরূপেই ব্রাহ্মণ হইয়াছিলেন; অপরাপর বর্ণের মধ্যে তিনি রূপান্তর অবলম্বন করিয়া প্রকটিত হইয়াছিলেন(১)।

ক্ষত্রিয়রূপে অর্থাৎ ইন্দ্রপ্রভৃতি দৈব ক্ষত্রিয়ে অধিষ্ঠিত হইয়া ক্ষত্রিয় এবং দৈব- বৈশ্যাধিষ্ঠিতরূপে বৈশ্য এবং শূদ্র-পুষাধিষ্ঠিত হইয়া শূদ্ররূপে অভিব্যক্ত হইয়াছিলেন। যেহেতু, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্ম ক্ষত্রিয়াদি বর্ণত্রয়ে বিকারাপন্ন, কেবল অগ্নি ও ব্রাহ্মণেই অবিকৃত; সেই হেতু দেবগণের মধ্যে কর্মফল পাইতে হইলে অগ্নিতেই তাহা ইচ্ছা করিয়া থাকেন;[বুঝিতে হইবে,] অগ্নিসম্পর্কিত যজ্ঞাদি কৰ্ম্ম করিয়া [ ফল পাইতে ইচ্ছা করেন]; কারণ, ইহার জন্যই ব্রহ্ম যজ্ঞাদি কর্মের অধিকরণ- স্বরূপ অগ্নিরূপে অবস্থিত হইয়াছেন; অতএব সেই অগ্নিতে কর্মসম্পাদন করিয়া যে, কর্মের উপযুক্ত ফল পাইতে ইচ্ছা করিয়া থাকে, ইহা সঙ্গতই বটে। ১

আবার মনুষ্যের মধ্যে কর্মফললাভের অভিলাষ থাকিলে ব্রাহ্মণেই তাহা প্রার্থনা করিয়া থাকেন, সেখানে আর অগ্নিপ্রভৃতি সাধনসাপেক্ষ ক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না; পরন্তু, কেবল জাতিমাত্রলাভেই(ব্রাহ্মণ্যলাভেই) পুরুষের অভীষ্টসিদ্ধি হইয়া থাকে; আর যেখানে পুরুষার্থসিদ্ধি অর্থাৎ পুরুষের অভীষ্টফলপ্রাপ্তি দেব- তার অধীন,-দেবতার অনুগ্রহে পাইতে হয়, কেবল সেখানেই অগ্নিপ্রভৃতির অধীন ক্রিয়ার অপেক্ষা,(অন্যত্র নহে)। যেহেতু, স্মৃতিশাস্ত্রও বলিয়া- ছেন-‘ব্রাহ্মণ একমাত্র জপের দ্বারাই(স্বজাত্যুচিত কৰ্ম্ম দ্বারাই) সম্যক্ সিদ্ধিলাভ করিতে পারেন, ইহাতে আর সংশয় নাই; অন্য(অগ্নিসম্বদ্ধ যজ্ঞাদি) কৰ্ম্ম করুক আর না-ই করুক, যিনি মৈত্র-সর্ব্বভূতের হিতেরত-অভয়প্রদ, তিনিই

৪৩

৩৩৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ব্রাহ্মণ নামে অভিহিত হইয়া থাকেন’ ইতি। পারিব্রাজ্যদর্শনও ইহার অন্য কারণ(২)। যেহেতু, স্রষ্টা ব্রহ্ম, কর্ম্মের কর্তা ব্রাহ্মণ ও কর্ম্মের অধিকরণ অগ্নি, এই উভয়রূপেই প্রকটিত হইয়াছেন; সেই হেতু মনুষ্যগণের মধ্যে ব্রাহ্মণের দ্বারাই অভীষ্ট লোক অর্থাৎ কৰ্ম্মফল পাইতে ইচ্ছা করিয়া থাকেন। ২

এ স্থলে কেহ কেহ ব্যাখ্যা করেন যে, ‘লোক’ অর্থ পরমাত্মা;—অগ্নিতে ও ব্রাহ্মণে সেই পরমাত্ম-লোক লাভ করিতে ইচ্ছা করিয়া থাকেন। কিন্তু সে রূপ ব্যাখ্যা সঙ্গত হয় না; কেন না, যতদিন জীব অবিদ্যার অধিকারে থাকে, ততদিনই তাহার কর্ম্মেতে অধিকার। বর্ণবিভাগ সেই কর্ম্মানুষ্ঠানেরই উপযোগী; এই জন্যই এখানে বর্ণবিভাগ বর্ণিত হইয়াছে; পরবর্তী বাক্যেও এই বিষয় বিশেষ করিয়া বলিয়া দিয়াছেন। এখানে ‘লোক’ শব্দে যদি পরমাত্মাই উক্ত হইত, তাহা হইলে নিশ্চয়ই ‘স্বং লোকম্ অদৃষ্ট্বা’ এইরূপে বিশেষ করিয়া বলিবার কোনই আবশ্যক হইত না। পক্ষান্তরে, এখানে যদি স্ব-লোকাতিরিক্ত অন্য কোনও প্রার্থনীয় লোকের প্রস্তাব থাকিত—যাহা অগ্নির অধীন, তাহা হইলেই সেই প্রস্তাবিত ‘লোকে’র ব্যাবৃত্তির জন্য এখানে ‘স্ব’-বিশেষণের সার্থকতা হইতে পারিত;[কিন্তু সেরূপ ত কোনও প্রসঙ্গ নাই!]; কারণ, পরমাত্মা যে, সকলেরই ‘স্ব’, এ কথার কোথাও ব্যভিচার নাই; আর অবিদ্যাকৃত বস্তুমাত্রেতেই স্বত্বের (আত্মভাবের) ব্যভিচার রহিয়াছে, অর্থাৎ আবিদ্যক কোন বস্তুই ‘স্ব’(আত্মা) হইতে পারে না; বিশেষতঃ শ্রুতি নিজেই কৰ্ম্মজন্য বস্তুমাত্রের স্বত্ব নিষেধ করিয়া বলিবেন, যথা—“ক্ষীয়তে এব”(নিশ্চয়ই ক্ষরপ্রাপ্ত হয়) ইতি। ৩

ব্রহ্ম যে কর্মসম্পাদনের জন্য চারিবর্ণের সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই কর্ম্মের নাম ধর্ম; কর্তব্যরূপে বিহিত সেই কৰ্ম্ম সর্ব্ববর্ণেরই নিয়ন্তা এবং পুরুষার্থসিদ্ধিরও উপায়। যদি স্ব-লোক পরমাত্মাকে না জানিলেও কৰ্ম্ম দ্বারাই সেই পরমাকে পাওয়া যায়,

(২) তাৎপর্য্য—এখানে আশঙ্কা হইয়াছিল এই যে, ভাল, ব্রাহ্মণ্যলাভই যদি মানুষের প্রধান প্রার্থনীয় হয়, তাহা হইলেও উহা হইতে কেবল অভ্যুদয় স্বর্গাদি ফলপ্রাপ্তি মাত্র হইতে পারে, কিন্তু জীবের প্রকৃত লক্ষ্য যে নিঃশ্রেয়স—মুক্তি, তাহা সিদ্ধ হইবে কিসে? তদুত্তরে বলিতেছেন—“ব্রাহ্মণা যুথায় অথ ভিক্ষাচর্য্যং চরন্তি” অর্থাৎ ব্রাহ্মণ সংসারাশ্রম হইতে উত্থিত হইয়া ভিক্ষাচর্য্য(সন্ন্যাস) অবলম্বন করিবেন’, এই শ্রুতিতে ব্রাহ্মণের পারিব্রাজ্য বা সন্ন্যাস গ্রহণের বিধান রহিয়াছে; সন্ন্যাসীশ্রম ব্রহ্মলাভেরই উপযুক্ত স্থান। কাজেই ব্রাহ্মণ্যকেও ব্রহ্মলাভের সাধন বলিতে পারা যায়; সুতরাং ব্রাহ্মণ্যকেই জীবের চরম লক্ষ্য মুক্তিলাভের প্রধানতম উপায় বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩৩৯

তাহা হইলে, তাহাকে জানিয়া ফল কি? এই আশঙ্কায় বলিতেছেন-‘অথ’ ইত্যাদি। উক্ত পূর্ব্বপক্ষ নিরাসার্থ ‘অথ’ শব্দ প্রযুক্ত হইয়াছে। যে কোন ব্যক্তি, স্বলোককে-আত্মারূপে অব্যভিচারী পরমাত্মাকে ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’রূপে না জানিয়া অবিদ্যা ও তমূলক কাম ও কৰ্ম্মপ্রসূত অগ্নিসাধ্য কর্মাধীন বলিয়াই হউক, আর শুদ্ধ ব্রাহ্মণ-জ্যাত্যুচিত কৰ্মাভিমানমূলক বলিয়াই হউক নিশ্চয়ই আগন্তুক[অতএব] অনাত্মভূত এই সাংসারিক দেহধারণাত্মক লোক হইতে(জন্ম- মরণ-প্রবাহাত্মক সংসার হইতে) প্রয়াণ করে-মৃত হয়, সে ব্যক্তি যদিও বস্তুগত্যা স্ব-লোকই বটে, তথাপি অবিদিত অর্থাৎ অবিদ্যা দ্বারা আবৃত থাকায় দশমত্ব- সংখ্যার অপরিপূরণ ভ্রমে সাধারণ লোকের ন্যায়(১) যেন অ-স্বর মত হইয়া পড়ে; সুতরাং অবিজ্ঞাত থাকায় এই আত্মাকে ভোগ করে না, অর্থাৎ শোকমোহভয়াদি দোষ অপনীত করিয়া আত্মবোধে সমর্থ হয় না, জগতে অননুক্ত-অনধীত বেদ যেমন বেদোক্ত কৰ্ম্মাদি বিষয়ে বোধোৎপাদন করত উপকার করে না, অথবা লোকপ্রসিদ্ধ অন্যান্য কৃষ্যাদি-কর্ম যেরূপ নিজে অসম্পাদিত হইলে স্বীয় ফল প্রদান দ্বারা পালন করে না; তদ্রূপ আত্মা প্রকৃতপক্ষে স্বলোক হইলেও, তাহাকে নিত্য আত্মস্বরূপে প্রকটিত করিতে না পারিলে নিশ্চয়ই অবিদ্যাদি দোষাপনয়ন দ্বারা রক্ষা করে না। ৪

এখন জিজ্ঞাসা করি, স্ব-লোকদর্শনে এই পরিপালনের প্রয়োজন কি? কৰ্ম্ম হইতেই যখন উপযুক্ত ফলপ্রাপ্তি ধ্রুব, এবং অভীষ্টফলসাধন কৰ্ম্মও যখন প্রভূত পরিমাণে বিদ্যমান আছে, তখন তদনুষ্ঠানের ফলেই আত্মার অক্ষয়ত্ব-পালন সম্ভবপর হইবে? জ্ঞানের আর প্রয়োজন কি? না,-তাহা হইতে পারে না; কারণ, জন্য পদার্থমাত্রেরই ক্ষয় অবশ্যম্ভাবী; এই কথাই বিশেষ করিয়া বলিতেছেন যে, এই সংসারে যদি কোন অদ্ভুতকর্মা পুরুব ‘স্ব’-লোক আত্মাকে না জানিয়া, এবংবিধ-জ্ঞানহীন অবস্থায় শাস্ত্রোক্ত বিধানানুসারে অবিচ্ছেদে ইষ্টফলসাধক বহু অশ্বমেধাদি পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠানও করে,-ইহার সাহায্যেই আমার অক্ষয় ফললাভ হইবে-মনে করিয়া নিরন্তর কর্মানুষ্ঠান

(১) তাৎপর্য্য—সংখ্যার অপরিপূরণ কথার ভাবার্থ এইরূপ—“দশমঃ ত্বমসি” এইরূপ লৌকিক একটা বাক্য আছে। সেখানে যেমন অজ্ঞানদোষে নিজে দশম হইয়াও সংখ্যার পরিপূরণ না হওয়ার আপনাকে ‘দশম’ বলিয়া বুঝিতে পারে নাই, এখানেও তদ্রূপ নিজে সর্ব্বদাই ‘স্ব’(আত্মা) হইয়াও অজ্ঞান দোষে তাহা বুঝিতে না পারিয়া আপনাকে ‘স্ব’ হইতে ভিন্ন (অ-স্ব) বলিয়া মনে করিয়া থাকে।

৩৪। বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

করে, অবিদ্বানের সেই কর্মগুলি অবিদ্যা-মূলক কামনার বশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভ্রান্তিময় স্বপ্নদর্শনোত্থিত ঐশ্বর্য্যের ন্যায় ফলোপভোগের অন্তে অর্থাৎ তদুপযুক্ত ফলভোগ শেষ হইয়া গেলে পর, নিশ্চয়ই তাহা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়; কারণ, সেই কর্মানুষ্ঠানের মূলীভূত কারণ অবিদ্যা ও কামনা, উভয়ই চঞ্চল অর্থাৎ অচির- স্থায়ী; কাজেই কৰ্ম্মজনিত ফলের অনিত্যতাসিদ্ধান্তই উপপন্ন হইতেছে; অতএব নিশ্চয়ই পুণ্যকর্ম্মের ফলে অনন্তকাল পরিপালনের আশা কখনও হইতে পারে না (১)। অতএব আত্মকেরই—স্বলোকেরই উপাসনা করিবে; প্রথমে ‘স্ব’- লোকের প্রস্তাব থাকায় এখানে ‘স্ব’ শব্দ না থাকিলেও ‘আত্মানম্’ পদেরই স্বলোক অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। ৫

সেই যে লোক আত্মারই উপাসনা করে, তাহার কি ফল হয়, তাহা বলিতে- ছেন—নিশ্চয়ই তাহার কর্ম্ম ক্ষয় প্রাপ্ত হয় না; কারণ, তাহার এমন কোন কর্ম্ম অবশিষ্ট থাকে না, যাহার ক্ষয় হইবে; ‘কর্ম্ম ক্ষয় হয় না’ কথাটি সিদ্ধ পদার্থেরই অনুবাদ বা পুনরুল্লেখমাত্র। অবিশ্বানের সম্বন্ধে কর্ম্মের ফল ক্ষয়ারাত্মক সংসার- দুঃখ যেরূপ অবিচ্ছিন্নভাবে থাকে, ইহার(বিদ্বানের) সম্বন্ধে সেরূপ দুঃখ কখনও থাকে না(সম্ভবপরও হয় না); যেমন[জনক বলিয়াছিলেন—] ‘মিথিলা দেশ ভস্মীভূত হইলেও আমার কিছু দগ্ধ হয় না’, ইহাও তেমনি। ৬

অপর সম্প্রদায় বলিয়া থাকেন যে, স্বাত্ম-লোকোপাসক বিদ্বানের বিদ্যা- প্রভাবে তদনুষ্টিত কোন কর্ম্মেরই ক্ষয় হয় না; আর উপাসনার ফলস্বরূপ ‘লোক’ শব্দেরও তাহারা দুই প্রকার অর্থ কল্পনা করিয়া থাকেন,—একটা অর্থ হইতেছে— কর্মফলের ভোগভূমির অভিব্যক্তাবস্থ(ব্যাকৃতাবস্থ) পূর্ণ হৈরণ্যগর্ভের লোক (হিরণ্যগর্ভের অধিষ্ঠিত স্থান)। যিনি সেই পরিচ্ছিন্ন অনাত্মলোকের উপসনা করেন, কেবল সেই পরিচ্ছিন্নাত্মদর্শীর অনুষ্টিত কৰ্ম্মই ক্ষয় প্রাপ্ত হয়।[অপর অর্থ হইতেছে এই যে] যে ব্যক্তি কর্মফলাত্মক সেই হিরণ্যগর্ভের লোককেই অব্যাকৃতা-

(১) তাৎপর্য্য—বেদান্তশারে এইরূপ একটি নিয়ম আছে যে, ‘যৎ কৃতকং, তদনিত্যম্’ অর্থাৎ যাহা ক্রিয়াজন্য—কোন প্রকার ক্রিয়া হইতে উৎপন্ন, তাহা যত বড়ই হউক, বা যত দীর্ঘকালস্থায়ই হউক না কেন, নির্দিষ্ট সময় অতীত হইলে তাহাকে ক্ষয় পাইতেই হইবে। এ নিয়মের কোথাও ব্যতিক্রম নাই। বিশেষতঃ যে যে বস্তু অবিদ্যা দ্বারা সাক্ষাৎ বা পরস্পরা সম্বন্ধেও উৎপাদিত, কস্মিন্কালেও তাহার নিত্যতা হইতে পারে না, যেমন স্বপ্নদৃষ্ট বিবিধ পদার্থ। এখানেও পুণ্যফল যখন ক্রিয়াজন্য, বিশেষতঃ মোহময় অবিদ্যা ও অবিদ্যামূলক কামনার ফল, তখন তাহার বিনাশও অবশ্যম্ভাবী।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৪১

বস্থ কারণরূপে পরিকল্পিত করিয়া উপাসনা করে; অপরিচ্ছিন্ন কর্মফলে আত্মবুদ্ধি করায় সেই বিদ্বানের অনুষ্ঠিত কৰ্ম্ম কখনই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। ৭

হাঁ, এরূপ কল্পনা শুনিতে সুন্দর বটে, কিন্তু শ্রুত্যনুসারিণী হইতেছে না; যেহেতু, এখানে ‘স্ব-লোক’ শব্দে পরমাত্মাই অভিহিত হইয়াছেন; কারণ, প্রথমে “স্বং লোকম্” এইরূপ প্রস্তাব করিয়া তাহারই প্রতিনির্দেশ স্থলে ‘স্ব’শব্দ পরিত্যাগপূর্ব্বক আত্ম-শব্দ যোগ করিয়া ‘আত্মানম্ এব লোকম্ উপাসীত’ বলা হইয়াছে; সুতরাং এখানে কর্মসম্পর্কিত লোককল্পনার অবসরই নাই। ৮

বিশেষতঃ পরবর্তী শুদ্ধ বিদ্যাবিষয়ক—‘আমরা সন্তান দ্বারা কি করিব, যাহা দ্বারা আমাদের এই আত্ম-লোক লাভ হইবে না’, এই বাক্যে বিশেষভাবে নির্দেশ করাতেও[ঐরূপ কল্পনা সঙ্গত হইতে পারে না; কারণ,] এখানে “অয়মাত্মা নো লোকঃ” এই বাক্যে পুত্র, কর্ম্ম ও অপরবিদ্যালব্ধ লোক সমূহ হইতে এই আত্ম- লোকের বিশেষত্ব জ্ঞাপন করা হইয়াছে; তাহার পর ‘কোন কর্ম্ম দ্বারাই ইহার পরম লোক অর্থাৎ সর্ব্বোৎকৃষ্ট গন্তব্য স্থান’; এখানেও সেইরূপ অর্থেই ‘লোক’ শব্দের ব্যবহার করা হইয়াছে। অতএব এখানেও ‘স্বং লোকম্’ এইরূপ বিশেষণ সন্নিবিষ্ট থাকায় পূর্ব্বোক্ত বিশেষণযুক্ত বাক্যগুলির সহিত ইহার একবাক্যতা করাই সমীচীন। ৯

যদি বল, তাহা হইলেও “অস্মাৎ কাময়তে” এইরূপ ফলনির্দেশ করা সঙ্গত হয় না; কারণ, এখানে ‘স্ব-লোক’ অর্থ পরমাত্মা; তাহার উপাসনায় তৎস্বরূপ-প্রাপ্তি যখন শাস্ত্র-সম্মত সিদ্ধান্ত, তখন ‘যাহা যাহা কামনা করেন, তৎসমস্ত এই আত্মা হইতেই সম্পন্ন হয়’ এইরূপে সেই উপাসিত আত্মার অতিরিক্ত স্বতন্ত্র ফলের প্রাপ্তি- বর্ণনা কখনও যুক্তিসঙ্গত হয় না। না, এ আপত্তিও সঙ্গত হয় না; যেহেতু, ইহা স্ব-লোকোপাসনার স্তুতিপ্রকাশক মাত্র,(প্রকৃত-ফলপ্রকাশক নহে)। ইহার অর্থ হইতেছে এই যে, তাহার যাহা কিছু অভীষ্ট, তৎসমস্ত স্ব-লোক হইতেই নিষ্পন্ন হইয়া থাকে, এতদতিরিক্ত আর কিছুই তাহার প্রার্থনীয় থাকে না; কারণ, তিনি আপ্তকাম;[সুতরাং অন্যত্র তাঁহার কিছুই প্রার্থনীয় থাকিতে পারে না], কারণ, শ্রুতিতে আছে—‘আত্মা হইতে প্রাণ, আত্মা হইতে দিক্সমূহ’ ইত্যাদি। অথবা পূর্ব্বে যেমন সর্ব্বাত্মভাবজ্ঞাপনের জন্য “তস্মাৎ তৎ সর্ব্বমভবৎ” বলা হইয়াছে, তেমনি এখানেও সর্ব্বাত্মভাবপ্রদর্শনের জন্যই ঐরূপ ফলের উল্লেখ করা হইয়াছে। ১০

প্রকৃতপক্ষে উপাসক যদি পরমাত্মাই হইয়া যান, তাহা হইলে “অগ্নিদি এবং”

৩৪২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এই বাক্যে ‘প্রস্তাবিত স্বস্বরূপ আত্ম-লোক ‘হইতে’ এইরূপ অর্থলাভের জন্য এখানে ‘আত্ম’-শব্দের প্রয়োগ করা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হইতে পারে; নচেৎ পরমাত্ম-লোকের নিষেধার্থ এবং ব্যক্তাবস্থার ব্যাবৃত্তির জন্য, ‘অব্যাকৃতাবস্থ— যাহা এখনও অভিব্যক্ত হয় নাই, সেই অব্যক্ত কর্ম্মলোক হইতে’ এইরূপেই বিশেষ করিয়া বলা আবশ্যক হইত; কিন্তু তাহা করা হয় নাই; পরন্তু এখানে প্রস্তাবিত বিষয়টাই বিশেষভাবে নির্দেশ করিয়াছেন; সুতরাং উভয়ের মধ্যবর্তী একটা অশ্রুত অবস্থা অবধারণ করা যাইতে পারে না ॥ ৫২ ॥ ১৫।

আভাষ-ভাষ্যম্।—অথো অরং বা আত্মা। অত্রাবিদ্বান্ বর্ণাশ্রমাদ্যভি- মানী ধর্ম্মেণ নিয়ম্যমানো দেবাদিকর্মকর্তব্যতয়া পশুবৎ পরতন্ত্র ইত্যুক্তম্। কানি পুনস্তানি কর্মাণি?—যৎকর্তব্যতয়া পশুবৎ পরতন্ত্রো ভবতি; কে বা তে দেবা- দয়ঃ?—যেষাং কৰ্ম্মভিঃ পশুবদুপকরোতি—ইতি, তদুভয়ং প্রপঞ্চয়তি—

আভাষ-ভাষ্যানুবাদ।—“অথো অয়ং বা আত্মা” ইত্যাদি। বর্ণা- শ্রমাদিকৃত অভিমানসম্পন্ন অবিদ্বান্ পুরুষ ধৰ্ম্ম দ্বারা নিয়মিত হইয়া দেবতা প্রভৃতির ভোগানুকূল কর্মসম্পাদনে পরাধীন’(বাধ্য) থাকেন, এইজন্য পশুর ন্যায় পরতন্ত্র; এ কথা পূর্ব্বে বলা হইয়াছে। সেই সমস্ত কৰ্ম্ম কি কি, যাহার অনুষ্ঠানের জন্য অবিদ্বান্ পুরুষ পশুবৎ পরাধীন হইয়া থাকেন; আর এই দেবাদিই বা কে কে, অবিদ্বানেরা বিবিধ কৰ্ম্ম দ্বারা যাহাদের উপকার সাধন করিয়া থাকেন। এখন এই উভয় বিষয় বিস্তৃতভাবে বলিতেছেন—

অথো অয়ং বা আত্মা সর্বেষাং ভূতনাং লোকঃ, স যজ্জু- হোতি যদ্যজতে তেন দেবানাং লোকোহথ যদনুক্রতে তেন ঋষীণামথ যৎ পিতৃভ্যো নিপূণাতি যৎ প্রজামিচ্ছতে তেন পিতৃণামথ যন্মনুষ্যান্ বাসয়তে যদেভ্যোহশনং দদাতি তেন মনুষ্যাণাং অথ যৎ পশুভ্যস্তৃণোদকং বিন্দতি তেন পশূনাং যদস্য গৃহেয় শ্বাপদা বয়াৎস্যাপিপীলিকাভ্য উপজী- বন্তি তেন তেষাং লোকো যথাহ বৈ স্বায় লোকায়ারিষ্টি- মিচ্ছেদেবং হৈবংবিদে সর্বাণি ভূতান্যরিষ্টিমিচ্ছন্তি, তথা এতদ্বিদিতং মীমাংসিতম্ ॥ ৫৩॥ ১৬॥

সরলার্থঃ।—অগো(বাক্যরসে) অসং(প্রকৃত) আত্মা(কর্ম্মাধি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩৪৩

কৃতঃ অবিদ্বান্ পুরুষঃ) সর্ব্বেবাং ভূতানাং দেবাদি-পিপীলিক্যন্তানাং) লোকঃ (লোক্যতে ভুজ্যতে ইতি লোকঃ---ভোগ্যঃ)। সঃ(অবিদ্বান্) যৎ জুহোতি (হোমং করোতি), যৎ যজতে, তেন(হোম-যাগলক্ষণেন-কর্মণা) দেবানাং লোকঃ(ভোগ্যঃ); অথ যৎ অনুক্রতে(অহরহঃ বেদাদীন্ পঠতি), তেন ঋষীণাং লোকঃ(ভোগ্যঃ); অথ যৎ পিতৃভ্যঃ নিপূণাতি(পিণ্ডোদকাদি প্রযচ্ছতি), যচ্চ প্রজান্ ইচ্ছতে(অপত্যমুৎপাদয়তি), তেন(কর্মণা) পিতৃণাং[লোক:], অথ যৎ মনুষ্যান্ বাসয়তে(স্থানাসনজলাদিদানেন গৃহে স্থাপয়তি), যৎ চ এভ্যঃ (মনুষ্যেভ্যঃ) অশনং(অন্নং) দদাতি, তেন(কর্মণা) মনুষ্যাণাং[লোক:]; অথ যৎ পশুভ্যঃ তৃণোদকং বিন্দতি,(পশূন্ তৃণোদকং গ্রাহয়তি), তেন পশূনাং [লোক:]; অন্য(অবিদুষঃ) গৃহেষু যৎ আ পিপীলিকাভ্যঃ(পিপীলিকাপর্য্যন্তং) শ্বাপদাঃ(জন্তবঃ) বয়াংসি(পক্ষিণঃ) চ উপজীবন্তি, তেন তেষাং লোকঃ; যথা স্বায়(স্বকীয়ায়) লোকায়(শরীরায়) অরিষ্টিং(অবিনাশং) ইচ্ছেৎ (কাময়েৎ)[জনঃ], এবং(পূর্ব্ববদেব) হ(নিশ্চয়ে) এবংবিদে(যথোক্তজ্ঞান- শালিনে) সর্ব্বাণি ভূতানি অরিষ্টিং(অবিনাশং) ইচ্ছতি(কাময়ন্তে); তৎ এতৎ (আত্মতত্ত্বং) বিদিতং(বিশেষেণ জ্ঞাতং সৎ) মীমাংসিতং(কর্তব্যতয়া বিচা- রিতং)[ভবতীতি শেষঃ]। ৫৩॥ ১৬॥

মূলানুবাদ।-কর্মাধিকারী এই আত্মা(অবিদ্বান্ পুরুষ) সর্বভূতের(দেবাদিপ্রাণীর) লোক অর্থাৎ ভোগ্য; সেই অবিদ্বান্ যে হোম করে, এবং যাগ করে, তাহা দ্বারা সে দেবগণের ভোগ্য হয়, আর সে যে, অহরহঃ অধ্যয়ন করে, তাহা দ্বারা ঋষিগণের, আর সে যে, পিতৃগণের উদ্দেশ্যে জলপিণ্ড প্রদান করে, তাহা দ্বারা পিতৃগণের, এবং সে যে, [অভ্যাগত] মনুষ্যগণকে বাস করায় ও অন্নদান কবে, তাহা দ্বারা মনুষ্য- গণের, এবং পশুগণকে যে, তৃণ ও জল প্রদান করে, তাহা দ্বারা পশুগণের, আর গৃহে যে, পিপীলিকা হইতে আরম্ভ করিয়া শাপদ ও পক্ষিগণ জীবিকা লাভ করিয়া থাকে, তাহা দ্বারা তাহাদের লোক(ভোগ্য) হয়। জগতে স্বীয় শরীরের জন্য যেমন অ-রিষ্টি(অনিষ্টাভাব বা অবিনাশ) ইচ্ছা করিয়া থাকে, তেমনি দেবতা প্রভৃতিও, যে লোক আপনাকে দেবাদির ঋণগ্রস্ত বলিয়া মনে করে, তাহারও অরিষ্টি কামনা করিয়া থাকেন; সেই এই বিষয়টা[পঞ্চমহাযজ্ঞপ্রকরণে] বিদিত

৩৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

(বিহিত) এবং[অবদান প্রকরণে] মীমাংসিতও(বিচারিতও) হইয়াছে ॥ ৫৩ ॥ ১৬ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—অথো ইত্যয়ং বাক্যোপন্যাসার্থঃ। অয়ং যঃ প্রকৃতো গৃহী কর্ম্মাধিকৃতোহবিদ্বান্ শরীরেন্দ্রিয়সঙ্ঘাতাদিবিশিষ্টঃ পিণ্ড আত্মেত্যুচ্যতে সর্ব্বেবাং দেবাদীনাং পিপীলিকান্তানাং ভূতানাং লোকো ভোগ্য, আত্মেত্যর্থঃ, সর্ব্বেষাং বর্ণাশ্রমাদিবিহিতৈঃ কৰ্ম্মভিরুপকারিত্বাৎ। কৈঃ পুনঃ কৰ্ম্মবিশেষৈরুপ- কুর্ব্বন্ কেষাং ভূতবিশেষাণাঃ লোকঃ—ইত্যুচ্যতে—স গৃহী যৎ জুহোতি যৎ যজতে, —যাগো দেবতামুদ্দিশ্য স্বত্বপরিত্যাগঃ, স এবাসেচনাবধিকো হোমঃ, তেন হোম- যাগলক্ষণেন কৰ্ম্মণাবশ্যকর্তব্যত্বেন দেবানাং পশুবৎ পরতন্ত্রত্বেন প্রতিবন্ধ ইতি লোকঃ। অথ যদনুক্রতে স্বাধ্যায়মধীতে অহরহঃ, তেন ঋষীণাং লোকঃ; অথ যৎ পিতৃভ্যো নিপূণাতি প্রযচ্ছতি পিণ্ডোদকাদি; যচ্চ প্রজামিচ্ছতে প্রজার্থমুদ্যমঃ করোতি—ইচ্ছা চোৎপত্যুশলক্ষণার্থা, প্রজাঞ্চোৎপাদয়তীত্যর্থঃ, তেন কর্ম্মণাবশ্য- কর্তব্যত্বেন পিতৃণাং লোকঃ পিতৃণাং ভোগ্যত্বেন পরতন্ত্রো লোকঃ; অথ যৎ মনু- ধ্যান্ বাসয়তে ভূম্যুদকাদিদানেন গৃহে, যচ্চ তেভ্যো বসন্তোহবসন্তো বা অভি্যো- হশনং দদাতি, তেন মনুষ্যাণাম্; অথ যৎ পশুভ্যস্তৃণোদকং বিন্দতি লম্ভয়তি, তেন পশূনাম্; যদ্য গৃহেষু শ্বাপদা বয়াসি চ পিপীলিকাভিঃ সহ কণবলিভাণ্ড- ক্ষালনাদি উপজীবন্তি, তেন তেষাং লোকঃ। ১

যম্মাদয়মেতানি কর্মাণি কুর্ব্বন্ন পকরোতি দেবাদিভ্যঃ, তস্মাদ্ যথা হ বৈ লোকে স্বায় লোকায় স্বম্মৈ দেহায় অরিষ্টিমবিনাশং স্বত্বভাবাপ্রচ্যুতিমিচ্ছেৎ-স্বভাবা- প্রচ্যুতিভয়াৎ পোষণরক্ষণাদিভিঃ সর্ব্বতঃ পরিপালয়েৎ; এবং হ এবংবিদে-সর্ব্ব- ভূতভোগ্যোহহম্, অনেন প্রকারেণ ময়াবশ্যম্ ঋণিবৎ প্রতিকর্তব্যম্-ইত্যেবমা- মানং পরিকল্পিতবতে, সর্ব্বাণি ভূতানি দেবাদীনি যথোক্তানি, অরিষ্টিমবিনাশ- মিচ্ছন্তি স্বত্বাপ্রচ্যুত্যে সর্ব্বতঃ সংরক্ষন্তি-কুটুম্বিন ইব পশুন্-“তন্মাদেযাং তর প্রিয়ম্” ইত্যুক্তম্। তদ্বৈ এতৎ তদেতদ্ যথোক্তানাং কৰ্ম্মণামৃণবদবশ্যকর্তব্যত্বং পঞ্চমহাযজ্ঞ প্রকরণে বিদিতং কর্তব্যতয়া মীমাংসিতং বিচারিতঞ্চ অবদান- প্রকরণে ॥ ৫৩ ॥ ১৬ ॥

টীকা। কণ্ডিকান্তরমবতার্য্য বৃত্তমনুভাকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকং তাৎপর্য্যমাহ-অথো ইত্যাদিনা। অত্রেত্যবিদ্যাযস্থা পূর্ব্বগ্রন্থে বা গৃহতে। অপি-পধ্যায়স্যাখো-শব্দস্তাসঙ্গতিমাশঙ্কা ব্যাকরোতি- অথো ইতীতি। পরস্যাপি প্রকৃতয়াত্ততো বিশিনষ্টি-গৃহীতি। গৃহিত্বে হেতুরবিদ্বানিত্যাদি। ইতর- পর্য্যদাসার্থং কর্ম্মাধিকৃত্ ইত্যুক্তম্। কথমুক্তসাত্মনা সর্ব্বভোগাতেত্যাশঙ্ক্যাহ-সর্ব্বেবামিতি।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্। ৩৪৫

তদেব প্রশ্নদ্বারা প্রকটয়তি-কৈঃ পুনরিতি। যজতিজুহোত্যোস্ত্যাগার্থত্বেনাবিশেষাৎ পুনরুক্তিমাশঙ্কা যজতি-চোদনা দ্রব্যদেবতাক্রিয়াসমুদায়ে কৃতার্থত্বাদিতি ন্যায়েনাহ-যাগ ইতি। আসেচনং প্রক্ষেপঃ। উক্তঞ্চ জুহোতিরাসেচনাবধিকঃ স্যাদিতি। ১

যথোক্ত হোমাদিভিদেবাদান প্রত্যুপকুর্বতো গৃহিণো বিদ্যয়া প্রতিবন্ধসম্ভবাত্তদুপকারিত্ব- ব্যাবৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-যম্মাদিতি। পূর্বেষামথশব্দানামভিপ্রেতমর্থমনুদ্য সমনন্তরবাক্যমবতার্য্য তদর্থমাহ-তস্মাদিতি। দেবাদীনাং কর্ম্মাধিকারিণি কর্তৃত্বাদিপরিপালনমেব পরিরক্ষণমিতি বিবক্ষিত্বা পূর্ব্বোক্তং স্মারয়তি-তস্মাদিতি। যথোক্তং কৰ্ম্ম কুর্ব্বন্ যদ্যপি দেবাদীন প্রত্যুপ- করোতি, তথাপি ন তৎকর্তৃত্বমাবশ্যকং, মানাভাবাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-তদ্বা ইতি। ভূতযজ্ঞো মনুষ্যযজ্ঞঃ পিতৃযজ্ঞো দেবযজ্ঞো ব্রহ্মযজ্ঞশ্চেতোবং পঞ্চ মহাযজ্ঞাঃ। ননু শ্রুতমপি বিচারং বিনা নানুষ্ঠেয়ং, ন হি রুদ্ররোদনাদি শ্রুতমিত্যেবানুষ্ঠীয়তে, তত্রাহ-মীমাংসিতমিতি। তদেতদবদয়তে যদ্ যজতে, স যদগ্নৌ জুহোতীত্যাদ্যবদানপ্রকরণম্। ঋণং হ বাব জায়তে জায়মানো যোহস্তী- ত্যাদিনার্থবাদেনেতি শেষঃ ॥ ৫৩॥ ১৬॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘অথো’ শব্দ বাক্যারম্ভসূচক। গৃহাশ্রমস্থ কর্মাধিকারী শরীরেন্দ্রিয়াদিসমষ্টিভূত যে অবিদ্যাযুক্ত দেহপিণ্ড ‘আত্মা’ শব্দে অভিহিত হয়, সেই আত্মাই দেবতা হইতে পিপীলিকা পর্য্যন্ত সর্ব্বভূতের লোক অর্থাৎ ভোগ্য; কারণ, তাহার বর্ণাশ্রমবিহিত কৰ্ম্ম দ্বারা সর্ব্বভূতেরই উপকার সাধিত হইয়া থাকে। কি কি বিশেষ কৰ্ম্ম দ্বারা উপকার সাধন করিয়া কোন কোন ভূতবিশেষের লোক(ভোগ্য) হর, তাহা বলিতেছেন—সেই গৃহস্থ যে, হোম করিয়া থাকে, এবং যাগ করিয়া থাকে, সেই হোম ও যাগাত্মক কৰ্ম্ম তাহার অবশ্য-কর্তব্য। গৃহী ঐ কৰ্ম্ম দ্বারাই দেবগণের নিকট পশুর ন্যায় পরাধীনভাবে আবদ্ধ থাকে; এই জন্য সে দেবগণের লোক (ভোগ্য) হয়। যাগ অর্থ—দেবতার উদ্দেশ্যে স্বত্বত্যাগ(দেবতাকে উদ্দেশ্য করিয়া স্বীয় স্বত্ব-ত্যাগপূর্ব্বক দ্রব্য ত্যাগ করা)। যখনই সেই কর্ম্মে আসেচনের(জলীয় দ্রব্যভাগের) আধিক্য থাকে, তখন তাহার নাম হয়—হোম।[গৃহস্থ] নিরন্তর যে, পাঠ করে—প্রত্যহ যে, বেদাদি শাস্ত্র অধ্যয়ন করে, তাহা দ্বারা সে ঋষিগণের লোক জয় করে; আর যে, পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে জলপিণ্ডাদি প্রদান করে, এবং সন্তানলাভের ইচ্ছা করে, অর্থাৎ সন্তানলাভের জন্য চেষ্টা করে,—এখানে ‘ইচ্ছা’ পদে উৎপাদন পর্য্যন্ত বুঝিতে হইবে,[সুতরাং অর্থ হইতেছে—] সন্তান উৎপাদন করে। সন্তানোৎপাদন গৃহীর অবশ্যকর্তব্য; এইজন্য ইহা দ্বারা পিতৃগণের লোক জয় করে, অর্থাৎ পিতৃগণের ভোগ্যরূপ পরতন্ত্র(পরাধীন) থাকে; আর যে, মনুষ্যগণকে উপযুক্ত স্থান ও জলাদি প্রদানপূর্ব্বক গৃহে বাস করায়, এবং গৃহে বাস করুক বা না করুক, প্রার্থনাকারী মনুষ্যগণকে যে, অন্ন প্রদান করে,

88.

৩৪৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তাহা দ্বারা মনুষ্যগণের[লোক] হয়; আর যে, পশুগণকে ঘাস জল দিয়া থাকে, তদ্দ্বারা পশুগণের[লোক] হয়; এবং ইহার(গৃহীর) গৃহে শ্বাপদ ও পক্ষিগণ যে, পিপীলিকাপ্রভৃতির সঙ্গে অন্নকণা, বলি(১) ও ভাণ্ডপ্রক্ষালন- জলাদি ভোগ করিয়া থাকে, তাহা দ্বারা তাহাদেরও লোক(ভোগ্য) হয়। ১

যেহেতু, এই অবিদ্বান্ গৃহস্থ কর্মাচরণ দ্বারা দেবতাপ্রভৃতির উপকারসাধন করিয়া থাকে, সেই হেতু জগতে যেমন স্বলোকের জন্য-স্বীয় দেহের অ-রিষ্টি-অবিনাশ অর্থাৎ অস্তিত্বরক্ষার ইচ্ছা করিয়া থাকে, অস্তিত্ব বিলোপের ভয়ে, রক্ষা ও পোষণাদি দ্বারা সর্ব্বতোভাবে দেহের পরিপালন করিয়া থাকে, তেমনি যিনি উক্তপ্রকার জ্ঞানবান্-আমি সর্ব্বভূতের ভোগ্য, ঋণীর ন্যায় আমাকেও এই সমস্ত কর্তব্য-কৰ্ম্ম সম্পাদন দ্বারা ঋণপরিশোধ করিতে হইবে’, এইরূপে আপনাকে ঋণগ্রস্ত মনে করে; পূর্ব্বকপিত দেবাদি সমস্ত ভূতই তাঁহার অরিষ্টি-অবিনাশ ইচ্ছা করিয়া থাকে, ‘অর্থাৎ গৃহস্থগণ যেরূপ পশুরক্ষা করিয়া থাকে, ঠিক তেমনি দেবগণও তাহার অস্তিত্ববিলোপ-নিবৃত্তির জন্য সর্ব্বতোভাবে রক্ষা করিয়া থাকে; এই জন্যই বলা হইয়াছে যে, সেই হেতু দেবগণের ইহা প্রিয় নয়[যে, মানবগণ মুক্তিলাভ করে]। সেই এই বিষয়টি অর্থাৎ ঋণ-পরিশোধের ন্যায় যথোক্তপ্রকার কৰ্ম্মসমূহের অবশ্যকর্তব্যতা ‘পঞ্চমহাযজ্ঞ’-প্রকরণে বিজ্ঞাত হইয়াছে, এবং অবদানপ্রকরণে মীমাংসিত(২) অর্থাৎ অবশ্যকর্তব্যরূপে বিচারিত বা সিদ্ধান্তিত হইয়াছে ৷ ৫৩৷ ১৬৷

(১) তাৎপর্য্য—এখানে ‘বলি’ অর্থে—পঞ্চমহাযজ্ঞের অন্তর্গত ‘ভূতযজ্ঞ’ বুঝিতে হইবে। ইহার বিস্তৃত বিবরণ ‘পঞ্চমহাযজ্ঞ’ কথার টীপ্পনীতে দেখিতে হইবে।

(২) তাৎপর্য্য—‘পঞ্চমহাযজ্ঞ’ ও ‘অবদানপ্রকরণে’র বিবরণ এইরূপ—“পাঠো হোমশ্চাতি- পীনাং সপৰ্য্যা তর্পণং বলিঃ। এতে পঞ্চ মহাযজ্ঞা ব্রহ্মযজ্ঞাদিনামকাঃ।” “অধ্যয়নং ব্রহ্মযজ্ঞঃ পিতৃযজ্ঞস্তু তর্পণম্। হোমো দৈবো বলিভৌতো নৃযজ্ঞোঽতিথিপূজনম্॥(মনু)।

অর্থাৎ(১) বেদাদি শাস্ত্রপাঠ-ব্রহ্মযজ্ঞ,(২) হোম-দেবতা উদ্দেশ্যে দ্রব্যত্যাগ-দৈবযজ্ঞ, (৩) ভূতবলি-ভূতযজ্ঞ,(৪) পিতৃগণ উদ্দেশ্যে জলপিণ্ডাদিদান-পিতৃযজ্ঞ, আর (৫) অতিথিপূজার নাম-নৃযজ্ঞ। ‘পঞ্চমহাযজ্ঞ’ নামে প্রসিদ্ধ এই যজ্ঞগুলি গৃহস্থের প্রত্যহ পালনীয়। তন্মধ্যে বিশেষ এই যে, ভূতযজ্ঞকে ভূতবলি ও বৈশ্বদেবযাগও বলা হয়। ইহার লক্ষণ এইরূপ-‘আপ্যায়নায় ভূতানাং কুৰ্য্যাদুৎসর্গমাদরাৎ। স্বভ্যশ্চ স্বপচেভ্যশ্চ বয়োত্য- শ্চাষপেদ্ ভূবি। বৈশ্বদেবং হি নামৈতৎ সায়ং প্রাতরুদাহৃতম্।’ ইহার মর্মার্থ এই যে, গৃহস্থ মধ্যাহ্নে ও রাত্রিতে আহারের পূর্ব্বে প্রথমে দেবতা উদ্দেশ্যে এবং কুকুর, চণ্ডাল ও পক্ষীপ্রভৃতির উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্যের অগ্রভাগ ভূমিতে দান করিয়া অবশেষে আপনি ভোজন করিবে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৪৭

আভাসভাষ্যম্!—আত্মৈবেদমগ্র আসীৎ। ব্রহ্ম বিদ্বাংশ্চেৎ তস্মাৎ পশুভাবাৎ কর্তব্যতাবন্ধনরূপাৎ প্রতিমুচ্যতে, কেনায় কারিতঃ কৰ্ম্মবন্ধনাধি- কারেহবশ ইব প্রবর্ত্ততে, ন পুনস্তদ্বিমোক্ষণোপায়ে বিদ্যাধিকার ইতি। ননুক্তম্ দেবা রক্ষন্তীতি। বাঢ়ম্; কর্মাধিকার-স্বগোচরারূঢ়ানের তেহপি রক্ষস্তি, অন্যথা অকৃতাভ্যাগম-কৃতনাশপ্রসঙ্গাৎ; নতু সামান্য পুরুষমাত্রং বিশিষ্টাধিকারানা- রূঢ়ম্; তস্মাত্তবিতব্যং তেন, যেন প্রেরিতোহবশ এব বহির্মুখো ভবতি স্বম্মা- ল্লোকাৎ। ২

ননু অবিদ্যা সা; অবিদ্যাবান্ হি বহির্মুখীভূতঃ প্রবর্ততে। সাপি নৈব প্রব- র্ত্তিকা; বস্তুস্বরূপাবরণাত্মিকা হি সা, প্রবর্তকবীজত্বন্তু প্রতিপদ্যতে অন্ধত্বমিব গর্ত্তা- দি-পতনপ্রবৃত্তিহেতুঃ। এবং তর্হি উচ্যতাঃ—কিং তৎ, যৎ প্রবৃত্তিহেতুরিতি। তদিহাভিধীয়তে—এষণা কামঃ সঃ, “স্বাভাবিক্যামবিদ্যায়াং বর্তমানা বালাঃ পরাচঃ কামাননুষন্তি”—ইতি কাঠকশ্রুতৌ, স্মৃতৌ চ—“কাম এষ ক্রোধ এষঃ” ইত্যাদি, মানবে চ—“সর্ব্বা প্রবৃত্তিঃ কামহেতুক্যেব” ইতি; স এবোহর্থঃ সবিস্তরঃ প্রদর্শ্যত ইহ আ অধ্যায়পরিসমাপ্তেঃ।

টাকা। বাক্যান্তরমাদায় ব্যাখ্যাতুং পাতনিকাং করোতি--আত্মৈবেত্যাদিনা। কর্ম্মৈব বন্ধনং, তত্রাধিকারোহনুষ্ঠানং, তস্মিন্নিতি যাবৎ। বিদ্যাধিকারস্তদুপায়ে শ্রবণাদৌ প্রবৃত্তি- স্তত্রেত্যর্থঃ। যথোক্তাধিকারিণো দেবাদিভী রক্ষণং প্রবৃত্তিমাগে নিয়মেন প্রবর্তকমিতি শঙ্কতে- নন্বিতি। উক্তমঙ্গীকরোতি-বাঢ়মিতি। তহি প্রবর্ত্তকান্তরং ন বক্তব্যং, তত্রাহ-কর্মাধি- কারেতি। কৰ্ম্মস্বধিকারেণ স্বগোচরত্বং প্রাপ্তানেব দেবাদয়োহপি রক্ষন্তি, ন সর্ব্বাশ্রমসাধারণং ব্রহ্মচারিণম্, অতোহস্য কৰ্ম্মমার্গে প্রবৃত্তৌ দেবাদিরক্ষণস্যাহেতুত্বাদ ব্রহ্মচারিণে। নিবৃত্তিং ত্যক্ত্বা প্রবৃত্তিপক্ষপাতে কারণং বাচ্যমিত্যর্থঃ। মনুষ্যমাত্রং কৰ্ম্মণ্যেব তে বলাৎ প্রবর্তয়ন্তি, তেষাম- চিন্ত্যশক্তিত্বাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-অন্যপেতি। স্বগোচরায়ূঢ়ানেবেত্যেবকারস্য ব্যাবর্ত্যং কীর্তয়তি- ন ত্বিতি। বিশিষ্টাধিকারো গৃহস্থানুষ্ঠেয়কৰ্ম্মসু গৃহস্থত্বেন স্বামিত্বঃ, তেন দেবগোচরতামপ্রাপ্ত- মিত্যর্থঃ। দেবাদিরক্ষণস্যাকারণত্বে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি।

প্রত্যগবিদ্যা যথোক্তাধিকারিণো নিয়মেন প্রবৃত্ত্যনুরাগে হেতুরিতি শঙ্কতে-নম্বিতি। তদেব স্ফুটরতি। অবিদ্যাবানিতি। তস্যাঃ স্বরূপেণ প্রবর্তকত্বং দূষয়তি-সাপীতি। অবিদ্যায়ান্তর্হি প্রবৃত্ত্যদ্বয়ব্যতিরেকৌ কথমিত্যাশঙ্ক্য কারণকারণত্বেনেত্যাহ-প্রবর্তকেতি। সত্যস্যস্মিন্ কারণেহকারণমেবাবিদ্যা প্রবৃত্তেরিতি চেত্তত্রাহ-এবং তহীতি। উত্তরবাক্যমুত্তরত্বেনাবতার্য্য তস্মিদ্বিবক্ষিতং প্রবর্তকং সঙ্ক্ষিপতি-তদিহাভিধীয়ত ইতি। তত্রার্থতঃ শ্রুত্যন্তরং সংবাদয়তি- স্বাভাবিক্যামিতি। তত্রৈব ভগবতঃ সম্মতিমাহ-স্মৃতৌ চেতি। ‘অথ কেন প্রযুক্তোহয়ম্’ ইত্যাদিপ্রশ্নস্তোত্তরম্ “কাম এবং ক্রোধ এবং রজোষ্ণামনুববঃ” ইত্যাদি।

৩৪৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

“অকামতঃ ক্রিয়া কাচিদ্ দৃশ্যতে নেহ কস্যচিৎ।

যদবধি কুরুতে জঘন্যং কামস্য চেষ্টিতম্।”

ইতি বাক্যমাশ্রিত্যাহ-মানবে চেতি। দর্শিতমিতি শেষঃ। উক্তেহর্থে তৃতীয়াধ্যায়শেষমপি প্রমাণয়তি-স এষোহর্থ ইতি।

আভাস-ভাষ্যানুবাদ।—“আত্মৈবেদম্ অগ্র আসীৎ” ইত্যাদি। ব্রহ্ম- বিৎ ব্যক্তি যদি কর্তব্যতাবন্ধনস্বরূপ পূর্ব্বোক্ত পশুভাব হইতে বিমুক্ত হইতে পারেন তাহা হইলে, তিনি কেন কাহার প্রেরণার প্রেরিত হইয়া যেন অবশেরই মত কৰ্ম্ম- বন্ধনাধিকারে আবদ্ধ থাকেন? এবং কেনই বা আত্মবিমোক্ষের জন্য তদুপায় বিদ্যা- ধিকারে প্রবৃত্ত না হন? ভাল, এখন আবার এ আপত্তি কেন? পূর্ব্বেই ত বলা হইয়াছে যে, দেবতারা তাহাদিগকে রক্ষা করেন; হাঁ, এ কথা বলা হইয়াছে সত্য, কিন্তু যাহারা দেবতাদিগের অধিকারভুক্ত কর্ম্মাধিকারে অবস্থিত, দেবতারা কেবল তাহাদিগকেই রক্ষা করিয়া থাকেন, কিন্তু যাহারা কর্ম্মে বিশিষ্টাধিকার লাভ করে নাই, তাদৃশ সাধারণ পুরুষদিগকে ত আর তাঁহারা রক্ষা করেন না; ইহা না বলিলে, কৃতনাশ ও অকৃতাভ্যাগমনামক দুইটি দোষ উপস্থিত হয়(১)। অতএব অবশ্যই সেরূপ কিছু আছে, যাহার প্রেরণায় পুরুর অবশ হইয়াই যেন স্ব-লোক হইতে(আত্মা হইতে) বহির্মুখ হইয়া থাকে। ১

ভাল, সে পদার্থটী ত অবিদ্যা; কেন না, অবিদ্যাসম্পন্ন পুরুষই বহির্মুখ হইয়া কৰ্ম্মমার্গে প্রবৃত্ত হইয়া থাকে; প্রকৃতপক্ষে কিন্তু অবিদ্যা ও প্রবৃত্তির মূল কারণ নহে; পরন্তু তাহা কেবল বস্তুর স্বরূপটি মাত্র আবরণ করিয়া রাখে, যেমন অন্ধত্ব-ধৰ্ম্ম গর্ত্ত- প্রভৃতিতে পতনের কারণ বলিয়া পরিগণিত হয়, ইহাও তেমনি। তাহা হইলে, বল—প্রবৃত্তির মূলকারণভূত সেই বস্তুটি কি? হাঁ, তাহা বলা হইতেছে—সেই বস্তুটি হইতেছে এবণা—কাম। কঠোপনিষদে আছে—‘স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যাধিকারে বর্তমান বালকগণ, অর্থাৎ বালকের ন্যায় বিবেকবিহীন পুরুষগণ বাহ্য বিষয়ের অনু- সরণ করিয়া থাকে; স্মৃতিতেও(ভগবদ্গীতাতেও) আছে—‘ইহা হইতেছে—

(১) তাৎপর্য্য—‘কৃতনাশ’ ও ‘অকৃতাভ্যাগম’ দুই প্রকার দোষ। কৃতনাশ অর্থ—যাহা করা হয়, অথচ ফল না দিয়াই নষ্ট হইয়া যায়, অর্থাৎ অনুষ্ঠিত কর্ম্মের ফলভোগ না হওয়া; আর অকৃতাভ্যাগম অর্থ—যাহা করা হয় নাই, তাহার প্রাপ্তি অর্থাৎ কর্ম্মানুষ্ঠান না করিয়াও আকস্মিক-ভাবে ফলপ্রাপ্তি। কৃতকর্ম্মের নাশ হইলে লোকের কর্ম্মানুষ্ঠানে উৎসাহ থাকে না; আর অকৃতাভ্যাগম হইলে জগতের বৈচিত্র্য লোপ পায়, এবং কর্ম্মফলেও অনিচ্ছা জন্মিতে পারে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩৪২

কাম এবং ইহাই ক্রোধ’(২) ইত্যাদি। মনুসংহিতাতেও আছে—‘কামই সর্ব্বপ্রবৃ- ত্তির হেতু বা প্রয়োজক’ ইতি। এখানেও অধ্যায়ের শেষ পর্য্যন্ত সেই বিষয়ই বিস্তৃতভাবে প্রদর্শন করা হইতেছে।

আত্মৈবেদমগ্র আসীদেক এব, সোহকাময়ত—জায়া মে স্যাদথ প্রজায়েয়াথ বিত্তং মে স্যাদথ কৰ্ম্ম কুব্বীয়ে- ত্যেতাবান্ বৈ কামো নেচ্ছশ্চনাতো ভূয়ো বিন্দেৎ, তস্মাদপ্যেতহে কাকী কাময়তে—জায়া। মে স্যাদথ প্রজায়ে- য়াথ বিত্তং মে স্যাদথ কৰ্ম্ম কুব্বীয়েতি, স যাবদপ্যেতেষা- মেকৈকং ন প্রাপ্নোত্যকৃৎস্ন এব তাবন্মন্যতে, তস্যো কৃৎ- স্নতা—মন এবাস্যাত্মা বাগ্ জায়া প্রাণঃ প্রজা চক্ষুর্মানুষং বিত্তং চক্ষুষা হিতদ্বিদতে শ্রোত্রং দৈবং শ্রোত্রেণ হি তচ্ছূণোত্যা- ত্মৈবাস্য কর্মাত্মনা হি কৰ্ম্ম করোতি, স এষ পাঙ্ক্তো যজ্ঞঃ পাঙ্ক্তঃ পশুঃ পাঙ্ক্তঃ পুরুষঃ পাঙ্ক্তমিদং সর্ব্বং যদিদং কিঞ্চ, তদিদং সর্ব্বমাপ্নোতি য এবং বেদ ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়স্য চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥

সরলার্থঃ।—অগ্রে(পত্নীপরিগ্রহাৎ পূর্ব্বং) ইদং(অয়ং দেহেন্দ্রিয়াদি- বিশিষ্টঃ) আত্মা(পুরুষঃ) একঃ(অসহায়ঃ) এব আসীৎ,(নান্যৎ জায়াদিকং কিঞ্চিৎ); সঃ[একাকী সন্] অকাময়ত(কামিতবান্)—মে(মম) জায়া(পত্নী) স্যাৎ, অথ(জায়াসম্বন্ধানন্তরম্) প্রজায়েয়(পৈত্র-ঋণ-শোধনার্থং প্রজারূপেণ উৎপন্নো ভবেয়ম্); অথ(অনন্তরং) বিত্তং(ধনং) মে স্যাৎ, অথ(বিত্তলাভানন্তরং) [দৈব-ঋণশোধনার্থং] কৰ্ম্ম ধর্ম্মাদিসাধনং) কুব্বীয়(কুৰ্য্যাম্) ইতি। এতাবান্

৩৫০ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

(এতৎপরিমাণঃ-পুত্র-বিত্ত-লোকরূপঃ) এব(অবধারণে নাতো ন্যূনঃ, নাপ্য- ধিকঃ), কামঃ বৈ(প্রসিদ্ধৌ)। ইচ্ছন্(অভিলষন্) চন(অপি)[জনঃ] অতঃ(যথোক্তলক্ষণাং কামাৎ) ভূয়ঃ(অধিকং) ন বিন্দেৎ(ন লভেত); তস্মাৎ(সৃষ্টিরক্ষায়া এবমেব ব্যবস্থাতঃ হেতোঃ) এতর্হি(ইদানীং) অপি একাকী(অসহায়ঃ জনঃ) কাময়তে-জায়া মে স্যাৎ, অথ প্রজায়েয়; অপি বিত্তং মে স্যাৎ, অথ কৰ্ম্ম কুব্বীর ইতি। সঃ(একাকী পুরুষঃ) যাবৎ এতেষাং(যথো- জ্ঞানাং কামানাং) একৈকং(অন্যতম) অপি ন প্রাপ্নোতি, তাবৎ অকৃৎস্নঃ (অপূর্ণঃ) এব[অহমম্মীতি] মন্যতে;[অর্থাৎ যথোক্ত-সর্ব্বসম্পত্তৌ তস্য কৃৎস্নতা ভবতীতি মন্তব্যম্]।[যথোক্তকামসম্পত্যা কৃৎস্নতাং সম্পাদরিতুমক্ষমস্যাপি প্রকারান্তরেণ কার্য্যকরণসংঘাতমেব তথা প্রবিভজ্য কৃৎস্নতাং সম্পাদরিতুম্ আহ-] তস্য[অকৃৎস্নত্বাভিমানিনঃ) উ(বিতর্কে) কৃৎস্নতা[উচ্যতে-] মনঃ(অন্তঃ- করণং) এব অন্য(অকৃৎস্নত্বাভিমানিনঃ) আত্মা(আত্মা ইব), বাক্(শব্দঃ) জায়া (পত্নী), প্রাণঃ(পঞ্চবৃত্তিঃ) প্রজা(সন্ততিঃ), চক্ষুঃ মানুষং বিত্তং, হি(যস্মাৎ) চক্ষুষা(করণেন) তৎ(বিত্তং) বিন্দতে; শ্রোত্রং দৈবং(দিব্যং বিত্তং), হি (যস্মাৎ) শ্রোত্রেণ)(শ্রবণেন্দ্রিয়ের) তৎ(দৈবং বিত্তং) শৃণোতি, আত্মা (স্বশরীরং) এব অন্য কৰ্ম্ম; হি(যস্মাৎ) আত্মনা(শরীরেণ) কৰ্ম্ম করোতি (সম্পাদয়তি)। সঃ এবঃ যজ্ঞঃ পাঙক্তঃ(পঞ্চভিঃ নিবৃত্তঃ); পশুঃ(যজ্ঞীয়ঃ বলি- রূপঃ) পাঙক্তঃ, পুরুষঃ(যজ্ঞকর্তা) পাঙক্তঃ, ইদং(দৃশ্যমানং) সর্ব্বং পাঙক্তং- যৎ ইদং কিঞ্চ(যৎকিঞ্চিদিদং)। যঃ এবং বেদ(বেত্তি),[সঃ] ইদং সর্ব্বং আপ্নোতি(প্রাপ্নোতি)[বিদ্যাফলমেতদিতি জ্ঞেয়ম্] ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥ ইতি প্রথমাধ্যায়স্য চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥ . ইতি প্রথমাধ্যায়স্য চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ৪ ॥

মুলাসুবাদ:-অগ্রে(পত্নীগ্রহণের পূর্ব্বে) এই আত্মা (দেহাভিমানী পুরুষ) একই ছিলেন; তিনি কামনা করিলেন-আমার জায়া(পত্নী) হউক, আমি সন্তানরূপে প্রাদুর্ভূত হইব; আমার বিত্ত হউক, আমি কৰ্ম্ম(ধর্ম্মাদিসাধন ক্রিয়া) করিব ইতি। জগতে এতৎ- পরিমাণ কামই প্রসিদ্ধ, অর্থাৎ এতদতিরিক্ত আর কোনরূপ কাম্য বিষয় নাই; ইচ্ছা করিলেও কেহ ইহার অধিক কিছু লাভ করিতে পারে না; সেইহেতু বর্তমান সময়েও একাকী(অসহায়) লোক কামনা করিয়া থাকে- আমার জায়া হউক, আমি সন্তানরূপে জন্মিব; আমার বিত্ত হউক, আমি

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৫১

ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম করিব ইতি। সে যতক্ষণ উক্ত কাম্যবিষয়ের মধ্যে একটিও প্রাপ্ত না হয়, ততক্ষণ সে নিশ্চয়ই আপনাকে অকৃৎস্ন(অপূর্ণ) বলিয়া মনে করে।[বুঝিতে হইবে যে, উক্ত কাম-প্রাপ্তিতেই আপনার পূর্ণতা বোধ করে]; তাহার পূর্ণতা[প্রকারান্তরেও সম্ভাবিত হয়—] সর্বার্থবিচারক্ষম মনই ইহার আত্মা, বাক্(শব্দ) জায়া, প্রাণ প্রজা(সন্তান) এবং চক্ষু মানুষ সম্পদ; কারণ, চক্ষু দ্বারা মানুষবিত্ত সম্পাদিত হইয়া থাকে; শ্রবণেন্দ্রিয় তাহার দৈব সম্পদ, কারণ, শ্রবণে- ন্দ্রিয়ের সাহায্যেই দৈব সম্পদের তত্ত্ব শ্রবণ করিয়া থাকে; ইহার দেহই কৰ্ম্ম(কর্মসাধন), কেন না, দেহ দ্বারাই কৰ্ম্ম সম্পাদন করিয়া থাকে। সেই এই যজ্ঞ কার্য্যটী পাঙ্ক্ত; অর্থাৎ মনঃ ও চক্ষুঃ প্রভৃতি পঞ্চপদার্থে নিষ্পন্ন, যজ্ঞীয় পশুও পাঙ্ক্ত, যজ্ঞকর্তা পুরুষও পাঙ্ক্ত; অধিক কি, এই যাহা কিছু, তৎসমস্তই পাঙ্ক্ত(মন- প্রভৃতি পঞ্চাবয়সম্পন্ন)। যে ব্যক্তি এই পাঙ্ক্ত তত্ত্ব জানেন, তিনি ইহার এসমস্তই প্রাপ্ত হন ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে চতুর্থব্রাহ্মণব্যাখ্যা ॥ ১ ॥ ৪ ॥

শাঙ্করভ্যষ্যম্।—আত্মৈবেদমগ্র আসীৎ। আত্মৈব—স্বাভাবিকো- হবিদ্বান্ কার্য্যকরণসংঘাতলক্ষণো বর্ণী অগ্রে প্রাক্ দারসম্বন্ধাৎ আত্মেত্যভিধীয়তে; তস্মাদাত্মনঃ পৃথগ ভূতং কাম্যমানং জায়াদিভেদরূপং নাসীৎ; স এবৈক আসীৎ— জায়াদ্যেষণাবীজভূতাবিদ্যাবানেক এবাসীৎ। স্বাভাবিক্যা স্বাত্মনি কর্ত্তাদিকার- কক্রিয়াফলাত্মকতাধ্যারোপলক্ষণয়াহবিদ্যাবাসনয়া বাসিতঃ সঃ অকাময়ত কামিত- বান্। কথম্? জায়া কর্ম্মাধিকারহেতুভূতা, মে মম কর্ত্তুঃ স্যাৎ; তয়া বিনা অহমন- ধিকৃত এব কর্ম্মণি; অতঃ কর্ম্মাধিকারসম্পত্তয়ে ভবেজ্জায়া; অথাহং প্রজায়েয়— প্রজারূপেণাহমেবোৎপদ্যেয়, অথ বিত্তং মে স্যাৎ—কর্ম্মসাধনং গবাদিলক্ষণম্; অথাহমভ্যুদয়-নিঃশ্রেয়স-সাধনং কৰ্ম্ম কুব্বীয়, যেনাহমনূণী ভূত্বা দেবাদীনাং লোকান্ প্রাপ্তয়াম্, তৎ কৰ্ম্ম কুব্বীয়, কাম্যানি চ পুত্রবিত্তস্বর্গাদিসাধনানি। ১

এতাবান্ বৈ কাম এতাবদ্বিষয়পরিচ্ছিন্ন ইত্যর্থ; এতাবানেব হি কামরিতব্যো বিষয়ঃ—যহুত জায়াপুভ্রবিত্তকৰ্ম্মাণি সাধনলক্ষণৈষণা, লোকাশ্চ ত্রয়ঃ—মনুষ্যলোকঃ পিতৃলোকো দেবলোক ইতি—ফলভূতাঃ সাধনৈষণায়াশ্চাস্যাঃ; তদর্থা হি জারা-

৩৫২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

পুত্রবিত্তকর্মলক্ষণা সাধনৈষণা; তস্মাৎ সা একৈব এষণা যা লোকৈষণা; সা একৈব সতী এষণা সাধনাপেক্ষেতি দ্বিধা; অতোহবধারয়িষ্যতি “উভে হোতে এষণে এব” ইতি। ২

ফলার্থত্বাৎ সর্ব্বারম্ভস্য লোকৈষণা অর্থপ্রাপ্তা উক্তৈবেতি-এতাবান্ বৈ এতা- বানের কাম ইত্যবধ্রিয়তে। ভোজনেহভিহিতে তৃপ্তির্নাহি পৃথগভিধেয়া, তদর্থত্বান্তোজনস্য। তে এতে এষণে সাধ্য-সাধনলক্ষণে কামঃ, যেন প্রযুক্তোহবিদ্বান্ অবশ এব কোশকারবদাত্মানং বেষ্টয়তি-কর্মমার্গ এবাত্মানং প্রণিদধদ্ বহির্মুখী- ভূতো ন স্বং লোকং প্রতিজানাতি। তথা চ তৈত্তিরীয়কে-“অগ্নিমুগ্ধো হৈব ধুমতান্তঃ স্বং লোকং ন প্রতিজানাতি” ইতি। ৩

কথং পুনরেতাবত্ত্বমবধার্য্যতে কামানাম্, অনন্তত্বাদ, অনন্তা হি কামাঃ- ইত্যেতদাশঙ্ক্য হেতুমাহ-যস্মাৎ ন ইচ্ছুক-চন-ইচ্ছন্নপি অতঃ অস্মাৎ ফলসাধন- লক্ষণাৎ ভূয়ঃ অধিকতরং ন বিন্দেং ন লভেত; ন হি লোকে ফলসাধন-ব্যতিরিক্তং দৃষ্টমদৃষ্টং বা লব্ধব্যমস্তি। লব্ধব্যবিষয়ো হি কামঃ, তস্য চৈতন্ব্যতিরেকেণাভাবাদ যুক্তং বক্তুম্-এতাবান্ বৈ কাম ইতি। এতদুক্তং ভবতি-দৃষ্টার্থমদৃষ্টার্থং বা সাধ্যসাধনলক্ষণমবিদ্যাবৎপুরুষাধিকারবিষয়ম্ এবণাদ্বয়ং কামঃ; অতোহস্মাদ্বিদুষা ব্যুত্থাতব্যমিতি। ৪

যম্মাদেবমবিদ্বান্ আত্মকামী পূর্ব্বং কাময়ামাস, তথা পূর্ব্বতরোহপি। এযা লোকস্থিতিঃ। প্রজাপতেশ্চৈবমেষ সর্গ আসীৎ-সোহবিভেদবিদ্যয়া, ততঃ কাম- প্রযুক্ত একাক্যরমমাণঃ অরত্যুপঘাতায় স্ত্রিয়মৈচ্ছৎ, তাং সমভবৎ, ততঃ সর্গোহয়- মাসীদিতি হ্যুক্তম্; তস্মাৎ তৎসৃষ্টৌ এতর্হি এতস্মিন্নপি কালে একাকী সন্ প্রাক্- দারক্রিয়াতঃ কামরতে-জায়া মে স্যাৎ অথ প্রজায়েয়; অথ বিত্তং মে স্যাৎ, অপ কৰ্ম্ম কুব্বীয়-ইত্যুক্তার্থং বাক্যম্। সঃ-এবং কাময়মানঃ সম্পাদয়ংশ জায়াদীন্, যাবৎ সঃ এতেষাং যথোক্তানাং জায়াদীনাং একৈকমপি ন প্রাপ্নোতি, অকৃৎস্নঃ অসম্পূর্ণোহহমিত্যেব তাবদাত্মানং মন্যতে; পারিশেষ্যাৎ সমস্তানেবৈতান্ সম্পা- দয়তি যদা, তদা তস্য কৃৎস্নতা। ৫

যদা তু ন শক্লোতি কৃৎস্নতাং সম্পাদয়িতুম্ তদা অন্য কৃৎস্নত্বসম্পাদনারাহ- তস্য উ তস্য অকৃৎস্নত্বাভিমানিনঃ কৃৎস্নতেয়মেবং ভবতি। কথম্? অয়ং কার্য্য- করণসঙ্ঘাতঃ প্রবিভজ্যতে-তত্র মনোহনুবৃত্তি হি ইতরং সর্ব্বং কার্য্যকরণজাত- মিতি মনঃ প্রধানস্বাদায়ের আত্মা,-যথা জায়াদীনাং কুটুষপতিরাত্মেন, তদনু- কারিত্বাজ্জায়াদিচতুষ্টয়স্য; এবমিহাপি মন আত্মা পরিকল্পাতে কৃৎস্নতায়ৈ। তথা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।. ৩৫৩

বাক্ জায়া, মনোহনুবৃত্তিত্বসামান্যাদ্বাচঃ। বাগিতি শব্দশ্চোদনাদিলক্ষণো মনসা শ্রোত্রদ্বারেণ গৃহ্যতেহবধার্য্যতে প্রযুজ্যতে চেতি মনসো জায়েব বাক্। ৬

তাভ্যাঞ্চ বাষ্মনসাভ্যাং জায়াপতিস্থানীয়াভ্যাং প্রসূয়তে প্রাণঃ কর্মার্থম্- ইতি প্রাণঃ প্রজেব। তত্র প্রাণচেষ্টাদিলক্ষণং কৰ্ম্ম চক্ষুদুষ্টবিত্তসাধ্যং ভবতীতি চক্ষুর্মানুষং বিত্তম্। তৎ দ্বিবিধং বিত্তং-মানুষম্ ইতরচ্চ; অতো বিশিনষ্টি ইতরবিত্তনিবৃত্ত্যর্থং মানুষমিতি। গবাদি হি মনুষ্যসম্বন্ধি বিত্তং চক্ষুগ্রাহ্যং, কৰ্ম্ম- সাধনম্, তস্মাৎ তৎস্থানীয়ম্; তেন সম্বন্ধাচ্চক্ষুৰ্মানুষং বিত্তম্। চক্ষুষা হি যস্মাৎ তন্মানুষং বিত্তং বিন্দতে গবাদ্যপলভত ইত্যর্থঃ। কিং পুনরিতরদ্বিত্তম্? শ্রোত্রং দৈবম্-দেববিষয়ত্বাবিজ্ঞানস্য, বিজ্ঞানং দৈবং বিত্তম্; তদিহ শ্রোত্রমেব সম্পত্তি- বিষয়ম্; কস্মাৎ? শ্রোত্রেণ হি যস্মাৎ তদৈবং বিত্তং বিজ্ঞানং শৃণোতি; অতঃ শ্রোত্রাধীনত্বাবিজ্ঞানস্য শ্রোত্রমেব তদিতি। ৭

কিং পুনরেতৈরাত্মাদিবিত্তান্তৈরিহ নির্ব্বর্ত্যং কর্ম্ম? ইত্যুচ্যতে—আত্মৈব— আত্মেতি শরীরমুচ্যতে। কথং পুনরাত্মা কৰ্ম্মস্থানীয়ঃ? অন্য কর্ম্মহেতুত্বাৎ। কথং কর্ম্মহেতুত্বম্? আত্মনা হি শরীরেণ যতঃ কৰ্ম্ম করোতি। তস্য অকৃৎস্নত্বাভি- মানিনঃ এবং কৃৎস্নতা সম্পন্না—যথা বাহ্যা জায়াদিলক্ষণা, এবম্। তস্মাৎ স এষ পাঙ্ক্তঃ পঞ্চভিনির্বৃত্তঃ পাঙ্ক্তঃ যজ্ঞঃ দর্শনমাত্রনিবৃত্তোহকর্ম্মিণোহপি। ৮

কথং পুনরস্য পঞ্চত্বসম্পত্তিমাত্রেণ যজ্ঞত্বম্? উচ্যতে-যম্মাদ্বাহ্যোহপি যজ্ঞঃ পশুপুরুযসাধ্যঃ, সচ পশুঃ পুরুষশ্চ পাঙক্ত এব, যথোক্তমনআদিপঞ্চত্বযোগাৎ; তদাহ-পাঙক্তঃ পশুর্গবাদিঃ; পাঙক্তঃ পুরুষঃ, পশুত্বেহপ্যধিকৃতত্বেনাস্য বিশেষঃ পুরুষস্যেতি পৃথক্পুরুষগ্রহণম্। কিং বহুনা, পাঙক্তমিদং সর্ব্বং কৰ্ম্মসাধনং ফলঞ্চ, যদিদং কিঞ্চ যৎকিঞ্চিদিদং সর্ব্বম্। এবং পাঙক্তং যজ্ঞমাত্মানং যঃ সম্পাদয়তি, স তদিদং সর্ব্বং জগদাত্মত্বেনাপ্নোতি য এবং বেদ ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥

ইতি প্রথমোঽধ্যায়শ্চ চতুর্থ-ব্রাহ্মণভ্যঃ ॥ ১ ॥ ৪ ॥

টীকা। এবং তাৎপর্য্যমুক্ত। প্রতীকমাদায় পদানি ব্যাকরোতি—আত্মৈবেত্যাদিনা। বর্ণী দ্বিজত্বদ্যোতকো ব্রহ্মচারীতি যাবৎ। কথং তর্হি হেত্বভাবে তথ্য কামিত্বমপি স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ— জায়াদীতি। সশব্দং ব্যাকুর্ব্বন্নুত্তরবাক্যমাদায়াবশিষ্টং ব্যাচষ্টে—স্বাভাবিক্যেতি।

কামনাপ্রকারং প্রশ্নপূর্ব্বকং প্রকটয়তি-কথমিতি। কর্মাধিকারহেতুত্বং তস্যাঃ সাধয়তি- তথেতি। প্রজাং প্রতি জায়ায়া হেতুত্বদ্যোতকোৎথশব্দঃ। প্রজায়া মানুষবিত্তান্তর্ভাবমভ্যুপেত্য দ্বিতীয়োহথশব্দঃ। তৃতীয়স্তু বিত্তস্য কৰ্ম্মানুষ্ঠানহেতুত্ববিবক্ষয়েতি বিভাগঃ। কৰ্ম্মানুষ্ঠানফলমাহ- যেনেতি। ১

৮৫

৩৫৪. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তৎ কিং নিত্যনৈমিত্তিককৰ্ম্মণামেবানুষ্ঠানং, নেত্যাহ-কাম্যানি চেতি। ক্রিয়াপদমনুক্রষ্টুং চশব্দঃ। কামশব্দস্য যথাশ্রুতমর্থং গৃহীত্বৈতাবানিত্যাদিবাক্যস্যাভিপ্রায়মাহ-সাধনলক্ষণেতি। অন্যাঃ সাধনৈষণায়াঃ ফলভূতা ইতি সম্বন্ধঃ। দ্বয়োরেষণাত্বমুক্ত। লোকৈষণাং পরিশিনষ্টি- তদর্থা হীতি। কণং তহি সাধনৈষণোক্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-সৈবৈকেতি। এতেন বাক্যশেষোহ- প্যনুগুণীভবতীত্যাহ-অত ইতি। ২

সাধনবৎ ফলমপি কামমাত্রং চেৎ, কথং তহি শ্রুত্যা সাধনমাত্রমভিধায়ৈতাবানবথ্রিয়তে, তত্রাহ-ফলার্থত্বাদিতি। উক্তে সাধনে সাধ্যমার্থিকমিত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-ভোজন ইতি। সাধনোক্তৌ সাধ্যস্থার্থাদুক্তেরেতাবানিতি দ্বয়োরনুবাদেহপি কথমেষণাত্বে কামশব্দস্তত্র প্রযোজ্যতে, ন হিতৌ পর্যায়ো, ন চ তদবাচ্যত্বে তয়োরনর্থকতেত্যাশঙ্ক্য পর্যায়মেষণাকামশব্দয়োরূপেত্যাহ- তে এতে ইতি। বেষ্টনমের স্পষ্টয়তি-কর্মমার্গ ইতি। অগ্নিমুগ্ধোহগ্নিরেব হোমাদিদ্বারেণ মম শ্রেয়ঃসাধনং নাম্নজ্ঞানমিত্যভিমানবান, ধূমতান্তো ধূমেন গ্লানিমাপন্নে। ধূমতা বা মমান্তে দেহাবসানে ভবতীতি মন্যমানঃ তে ধূমমভিসম্ভবস্তীতি শ্রুতেঃ। স্বং লোক- মাত্মানম্। ৩

বাক্যান্তরমুখাপ্য ব্যাচষ্টে-কণমিত্যাদিনা। তস্মাদেতাবত্বমবধার্য্যতে তেষামিতি শেষঃ। উক্তমেবার্থং লোকদৃষ্টিমবষ্টভ্য স্পষ্টয়তি-ন হীতি। লব্ধব্যান্তরাভাবেহপি কাময়িতব্যান্তরং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-লব্ধব্যেতি। এতদ্ব্যতিরেকেন সাধ্যসাধনাতিরেকেণেতি যাবৎ। তয়োর্থয়ো- রপি কামত্ববিধায়িশ্রুতেরভিপ্রায়মাহ-এতদুক্তমিতি। কামস্যানর্থহাৎ সাধ্যসাধনয়োশ্চ তাবন্মাত্রত্বাৎ সর্গাদৌ পুমর্থতাবিশ্বাসং ত্যক্ত। স্বপ্নলাভতুল্যাভ্যস্তিসুভ্যোৎপেষণাভ্যো ব্যুত্থানং সংস্যাসাত্মকং কৃত্বা কাঙ্ক্ষিতমোক্ষহেতুং জ্ঞানমুদ্দিশ্য শ্রবণাদ্যাবর্তয়েদিত্যর্থঃ। ৪

তস্মাদপীত্যাদি ব্যাচষ্টে-যম্মাদিতি। প্রাকৃতস্থিতিরেষা ন বুদ্ধিপূর্ব্বকারিণামিদং বৃত্তমিত্যা- শঙ্ক্যাহ-প্রজাপতেশ্চেতি। তত্র হেতুত্বেন পূর্ব্বোক্তং স্মারয়তি-সোহবিভেদিত্যাদিনা। তত্রৈব কার্য্যলিঙ্গকমনুমানং সূচয়তি-তস্মাদিতি। স যাবদিত্যাদিবাক্যমাদায় ব্যাচষ্টে-স এবমিতি। পূর্ব্বং স শব্দো বাক্যপ্রদর্শনার্থঃ। দ্বিতীয়স্তু ব্যাখ্যানমধ্যপাতীত্যবিরোধঃ। অর্থসিদ্ধমর্থমাহ- পারিশেষাদিতি। ৫

তস্যো কৃৎস্নতেত্যেতদবতার্য্য ব্যাবরোতি-যদেত্যাদিনা। অকৃৎস্নাভিমানিনো বিরুদ্ধং কৃষ্ণত্বমিত্যাহ-কথমিতি। বিরোধমস্তরেণ কার্ত্তস্মার্থং বিভাগং দর্শয়তি-অয়মিতি। বিভাগে প্রস্তুতে মনসো যজমানত্বকল্পনায়াং নিমিত্তমাহ-তত্রেতি। উক্তমেব ব্যনক্তি-যথেতি। তথা মনসো যজমানত্বকল্পনাবদিত্যর্থঃ। বাচি জায়ারকল্পনায়াং নিমিত্তমাহ-মন ইতি। বাচো মনোহসুবৃত্তিত্বং স্বরূপকথনপুরঃসরং ক্ষোরয়তি-বাগিতীতি। ৬

প্রাণস্ত প্রজাত্বকল্পনাং সাধয়তি-তাভ্যাং চেতি। কথং পুনশ্চক্ষুর্মানুষং বিত্তমিত্যুচ্যতে, পশুহিরণ্যাদি তথা ইত্যাশঙ্ক্যাহ-তত্রেতি। আত্মাদিত্রয়ে সিন্ধে সতীতি যাবৎ। আদিপদেন কায়চেষ্টা গৃহতে। মানুষমিতি বিশেষণস্যার্থবত্বং সমর্থরতে-তদ্বিষ্যমিতি। সম্প্রতি চক্ষুবো মানুষবিত্তত্বং প্রপঞ্চয়তি-গবাদীতি। তৎপদপরাদৃষ্টমেবার্থং ব্যাচষ্টে-তেন সম্বন্ধাদিতি। তৎস্থানীয়ং মানুষবিত্তস্থানীয়ং, তেন মানুষেণ বিত্তেনেত্যেতৎ। সম্বন্ধমের সাধয়তি-চক্ষুবা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্।

৩৫৫

হীতি। তস্মাচ্চক্ষুর্মানুষং বিত্তমিতি। আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুত্তরবাক্যমুপাদত্তে-কিং পুনরিতি। তদ্ব্যাচষ্টে-দেবেতি। তত্র হেতুমাহ-কস্মাদিত্যাদিনা। ৭

যজমানাদিনির্ব্বর্ত্যং কৰ্ম্ম প্রশ্নপূর্ব্বকং বিশদয়তি-কিং পুনরিত্যাদিনা। ইহেতি সম্পত্তি- পক্ষোক্তিঃ। শরীরস্য কর্মত্বমপ্রসিদ্ধমিতি শঙ্কিত্বা পরিহরতি-কথং পুনরিতি। অন্যেতি যজমানোক্তিঃ। হিশব্দার্থো যত ইত্যনুদ্যতে। তস্যো কৃৎস্নতেত্যুক্তমুপসংহরতি-তস্যেতি। উক্তরীত্যা। কৃৎস্নত্বে সিন্ধে ফলিতমাহ-তস্মাদিতি। ৮

অস্যেতি দর্শনোক্তিঃ। পশোঃ পুরুষস্থ্য চ পাঙ্ক্তত্বং তচ্ছব্দার্থঃ। পুরুষস্থ্য পশুত্বাবিশেষাৎ পৃথগগ্রহণমযুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ-পশুত্বেহপীতি। ন কেবল’ পশুপুরুষয়োরের পাঙ্ক্তত্বং, কিং তু সর্ব্বস্থ্যেত্যাহ-কিং বহুনেতি। তস্মাদাধ্যাত্মিকস্য দর্শনস্থ্য যজ্ঞত্বং পঞ্চত্বযোগাদবিরুদ্ধ- মিতি শেষঃ। সম্পত্তিফলং ব্যাকরোতি-এবমিতি। ব্যাখ্যাতার্থং বাক্যমনুবদন্ ব্রাহ্মণমুপ- সংহরতি-য এবং বেদেতি। সাধ্যং সাধনং চ পাঙ্ক্তং সূত্রাত্মানং জ্ঞাত্বা তচ্চাত্মত্বেনানুসন্দধানস্থ্য তদাপ্তিরেব ফলং, তৎক্রতুন্ন্যায়াদিত্যর্থঃ ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥

ইতি বৃহদারণ্যকভাষটীকায়াং প্রথম্যাধ্যায়ঃ চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্ ॥ ১৬ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—“আত্মৈব ইদমগ্র আসীৎ” ইত্যাদি। আত্মাই— স্বভাবসিদ্ধ অবিদ্যাসম্পন্ন দেহেন্দ্রিয়াদি-সংঘাতবিশিষ্ট ব্রাহ্মণাদি বর্ণই অগ্রে— পত্নীগ্রহণের পূর্ব্বে আত্মা নামে অভিহিত হইয়া থাকে; অতএব বুঝিতে হইবে যে, আত্মা হইতে পৃথভূত কাম্যমান অর্থাৎ প্রার্থনাযোগ্য জায়াদি অপর কোনও পদার্থই ছিল না; কেবল এক মাত্র আত্মাই ছিল—জায়াদি-কামনার বীজস্বরূপ অবিদ্যাসম্পন্ন একই বস্তু ছিল। যাহা দ্বারা কর্তৃত্বপ্রভৃতি কারক এবং ক্রিয়া ও ক্রিয়াফলের আরোপ হইয়া থাকে, সেই স্বাভাবিক অবিদ্যাসংস্কারে বাসিত অর্থাৎ দৃঢ়তর অবিদ্যাসংস্কারাপন্ন তিনি কামনা করিয়াছিলেন,—কি প্রকার? আমি কর্তা, আমার কর্মাধিকারপ্রযোজক জায়া(পত্নী) হউক; তাহার অভাবে কোন বৈধ কর্মেই আমার অধিকার নাই; অতএব কর্মাধিকার লাভার্থ আমার জায়া হউক;(১) আমি তাহাতে সন্তান রূপে জন্মিব, অর্থাৎ আমিই সন্তানরূপে উৎপন্ন হইব। অতঃপর আমার বিত্ত—কর্মনিষ্পাদনের উপায়ভূত

(১) তাৎপর্য্য—“অনাশ্রমী ন তিষ্ঠেৎ তু ক্ষণমাত্রমপি দ্বিজঃ। আশ্রমেণ বিনা তিষ্ঠন্ পুনঃ সংস্কারমর্হতি।” এই শাস্ত্রবাক্যানুসারে জানা যায় যে, মনুষ্যকে অবশ্যই কোন একটি আশ্রম গ্রহণ করিয়া থাকিতে হইবে। তন্মধ্যে কেহ যদি ব্রহ্মচর্য্যের সময় অতীত হইবার পর—আটচল্লিশ বৎসর বয়সের মধ্যে পত্নীরহিত হইয়া গার্হস্থ্যাশ্রমে থাকেন, তাহা হইলে তাহাকে ‘রঙাশ্রমী’ বলে; তাহার কোনও বৈদিক কর্ম্মে অধিকার থাকে না; সেই অধিকার সূচনার জন্যই আমি- পুরুষ “জায়া মে স্যাৎ—কর্ম্ম কুব্বীয়” এইরূপ প্রার্থনা করিয়াছিলেন।

৩৫৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

গবাদি পশু হউক, অনন্তর আমি অভ্যুদয়(স্বর্গাদি) ও মুক্তির উপায়স্বরূপ কর্ম্ম করিব, যাহা দ্বারা আমি ঋণবিমুক্ত হইয়া দেবতা প্রভৃতির লোক(বাসস্থান) লাভ করিতে পারি, আমি সেইরূপ কর্ম্ম করিব, এবং পুত্র বিত্ত ও স্বর্গাদিলাভের উপায় স্বরূপ কাম্য কর্ম্মেরও অনুষ্ঠান করিব। ১

কাম অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় এতাবৎই—এইপর্যন্তই অর্থাৎ এ সমস্তই পরিচ্ছিন্ন বা সীমাবদ্ধ; এইপরিমাণ বিষয়ই কাময়িতব্য বা প্রার্থনীয়—জায়া, পুত্র, বিত্ত এবং বিত্তসাধ্য কৰ্ম্ম, সাধ্য-সাধনাত্মক এই ত্রিবিধ এষণা(কামনা), এব পূর্ব্বোক্ত সাধনৈষণার ফলস্বরূপ ত্রিবিধ লোক--মনুষ্যলোক, পিতৃলোক ও দেব লোক; এই ত্রিবিধ লোকপ্রাপ্তিই জায়া, পুত্র, বিত্ত ও কর্ম্মস্বরূপ সাধনৈষণার উদ্দেশ্য। অতএব সেই যে লোকৈষণা, একমাত্র তাহাই প্রকৃত এষণা। এবণা একই বটে, কেবল সাধন বা সিদ্ধির উপায়ানুসারে তাহার দ্বৈবিধ্য কল্পিত হইয়া থাকে মাত্র। এই জন্যই পরে অবধাবণ করিয়া বলিবেন যে, ‘এই উভয় এষণাই [এক]’ ইতি।

আরম্ভমাত্রই ফলাথক, অর্থাৎ ফলোদ্দেশ্যেই কার্য্যারম্ভ হইয়া থাকে; সুতরাং লোকৈষণাও ফলেফলে উক্তই হইয়াছে; কাজেই অবধারণ করা হইতেছে যে, ‘কাম এই পরিমাণই বটে’। ভোজনের কথা বলিলে যেমন তৃপ্তির কথা আর পৃথক্ করিয়া বলিতে হয় না; কারণ, তৃপ্তিলাভই ভোজনের উদ্দেশ্য,[তেমনি এখানেও পুত্রৈষণা ও বিত্তৈষণার কথা বলাতেই লোকৈষণার কথাও বুঝিয়া লইতে হইবে।(২) সাধ্য ও সাধনাত্মক এই উভয় প্রকার এষণাই কাম, অবিদ্বান্ পুরুষ ইহা দ্বারা প্রেরিত হইয়াই যেন অবশভাবে কোশকার কীটের ন্যায় আপনাকে বেষ্টিত(আবদ্ধ) করিয়া থাকে—কেবলই কর্ম্মমার্গে মনোনিবেশ করত বহির্মুখ হইয়া স্ব-লোক—আত্মাকে জানে ন‘। তৈত্তিরীয় শ্রুতিতেও এইরূপ কথাই আছে—‘অগ্নি দ্বারা বিমোহিত এবং ধূম দ্বারা ক্লান্ত হইয়া[অবিদ্বান্ পুরুষ] স্বলোক-পদবাচ্য আত্মাকে দেখিতে পায় না’ ইতি। ৩

(২) তাৎপর্য্য—জগতে তিন প্রকার কামনা দেখিতে পাওয়া যায়,—এক পুত্রৈষণা, দ্বিতীয় বিভৈষণা, তৃতীয় লোকৈষণা —পুত্রকামনা, বিত্তকামনা এবং ঐহিক ও পারলৌকিক সম্পদকামনা। এখানে শ্রুতির মধ্যে কেবল পুত্রৈষণা ও বিভৈষণা, এই দ্বিবিধ এষণারই উল্লেখ রহিয়াছে, কিন্তু লোকৈষণার উল্লেখ নাই; এই জন্য ভাষ্যকার বলিলেন যে, লোকৈষণা যখন কর্মানুষ্ঠানেরই ফল, ফলোদ্দেশ ব্যতীত যখন আদৌ কর্ম্ম প্রবৃত্তিই হইতে পারে না, তখন এই দ্বিবিধ এবা দ্বারাই লোকৈষণাও তৎফলরূপে প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থং ব্রাহ্মণম্। ৩৫৭

[আচ্ছা, জিজ্ঞাসা করি,] কামনার বিষয় যখন অনন্ত, তখন কামনাও নিশ্চয়ই অনন্ত; সুতরাং এষণার(কামের) ‘এতাবত্ত্ব’(নির্দিষ্ট পরিমাণ) অবধারিত হইতেছে কি প্রকারে? এইরূপ আশঙ্কা করিয়া তাহার উত্তরে বলিতে- ছেন—যেহেতু, ইচ্ছা করিলেও ইহার অধিক—ফল ও সাধনাত্মক কামের অধিক- তর কোনও কাম লাভ করিতে পারা যায় না; কেন না, জগতে ঐহিক বা পার- লৌকিক যে কোনপ্রকার লব্ধব্য(প্রাপ্য) বিষয় আছে, তাহার কিছুই ফল ও সাধনের অতিরিক্ত নহে; কাম দ্বারা লব্ধব্য ফল ও সাধন ব্যতীত অপর কোন বিষয়ের অস্তিত্বই যখন অসিদ্ধ, তখন “এতাবান্ বৈ কামঃ” এইরূপ নির্দ্ধারণ করা যুক্তিযুক্তই হইয়াছে। এই কথা বলা হইতেছে যে, অবিদ্বান পুরুষের অধিকারভুক্ত সাধ্য(ফল) ও সাধনাত্মক যে দ্বিবিধ এবণা(কামনা), তাহার নাম কাম; ইহার প্রয়োজন ঐহিকও হইতে পারে, পারলৌকিকও হইতে পারে। ইহা হইতে— উক্ত দ্বিবিধ এষণাত্মক কাম হইতে ব্যুত্থান করিতে হইবে অর্থাৎ উক্ত দ্বিবিধ কামনা পরিত্যাগ করিতে হইবে। ৪

যেহেতু, এবংবিধ আত্মকামী প্রথমোৎপন্ন অবিদ্বান্ পুরুষ যেরূপ কামনা করিয়া- ছিলেন, তৎপূর্ব্ববর্তী পুরুষও সেইরূপই[করিয়াছিলেন]; কারণ, ইহাই হইতেছে লোকরক্ষার উপায় বা ব্যবস্থা। পূর্ব্বোক্ত প্রজাপতির সৃষ্টিও ঠিক এইরূপই হইয়া- ছিল; যথা—তিনি অবিদ্যা বা অজ্ঞান বশতঃ ভীত হইলেন; তাহার পর কামযুক্ত বা ভোগাভিলাষী হইয়া একাকী অবস্থায় প্রীতিলাভ করিতে না পারিয়া সেই অপ্রীতি অপনয়নের ইচ্ছায় স্ত্রী পাইতে ইচ্ছা করিলেন, সেই স্ত্রীতে উপগত হইলেন; তাহা হইতেই এই সৃষ্টি হইল; এ কথা পূর্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। সেই কারণেই তাঁহার সৃষ্ট এই জগতে এখনও—বর্তমান সময়েও দারপরিগ্রহের পূর্ব্বে একাকী থাকিয়া লোকে কামনা করিয়া থাকে—‘আমার জায়া হউক, আমি ধৰ্ম্ম-কর্ম্ম করিব’, ইহার অর্থ পূর্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। সেই পুরুষ এইরূপ কামনা করিয়া এবং জায়া-প্রভৃতি সমস্ত কাম্য বিষয় সম্পাদন করিতে যাইয়া যতক্ষণ উক্ত জায়াদির একটা বিষয়ও প্রাপ্ত না হয়, ততক্ষণ সে আপনাকে অকৃৎস্নই —‘আমি অসম্পূর্ণ আছি’ এইরূপই মনে করিয়া থাকে। ইহা হইতেই বুঝা যাইতেছে যে, যখন সে ইহার সমস্তগুলি সম্পাদন করিতে পারে, তখনই তাহার পূর্ণতা হয়। ৫ যখন কিছুতেই আর কৃৎস্নতা(পূর্ণতা) সম্পাদন করিতে সমর্থ হয় না, সেই অবস্থায় তাহার পূর্ণতা-সম্পাদনার্থ বলিতেছেন—অকৃৎস্নত্বাভিমানী সেই পুরুষের

৩৫৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

এই প্রকারে কৃৎস্নতা লাভ হইয়া থাকে। কি প্রকারে?[তাহার পূর্ণতা সম্পা- দনের জন্য] এই দেহেন্দ্রিয়াদি-সমষ্টকেই বিভক্ত করা হইয়া থাকে। তন্মধ্যে দৈহিক সমস্ত অংশই মনের অনুগত, এই কারণে মনই তাহাদের মধ্যে প্রধান; প্রধানত্ব নিবন্ধন মন হইতেছে আত্মা—আত্মারই মত,—গৃহস্বামী যেরূপ জায়া পুত্রাদির আত্মতুল্য, কারণ, জায়া-পুত্রাদি সকলেই যেরূপ তাহার অনুসরণ করিয়া থাকে, তদ্রূপ এখানেও পূর্ণতা-সম্পাদনের নিমিত্ত মনকে আত্মারূপে কল্পনা করা হইয়া থাকে। বাক্য সাধারণতঃ মনেবই অনুগামী, এই জন্য বাক্য হইতেছে জায়ার তুল্য। এখানে বাক্ অর্থ—বিধিনিষেধাত্মক শব্দ, মন শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা তাহা গ্রহণ করে, অবধারণ করে, এব প্রয়োগও করে, এই কারণে বাক্ মনের জায়াস্থানীয়। ৬

জারা-পতিস্থানীয় সেই বাক্ ও মন দ্বারা কর্ম্মের জন্য প্রাণ প্রেরিত হইয়া থাকে; এই জন্য প্রাণ হইতেছে প্রজাস্থানীয়। সেই প্রাণের চেষ্টা বা ব্যাপাবা- ত্মক কর্ম্ম সাধারণতঃ চক্ষু গ্রাহ্য বিত্ত দ্বারা নিষ্পাদিত হইয়া থাকে; এই জন্য চক্ষু হইতেছে মানুষ বিত্ত; তাহা আবার দ্বিবিধ,--মানুষ-সম্বন্ধী ও তদ্ভিন্ন, এই জন্য অপর বিত্তের নিষেধার্থ বিশেষ করিয়া বলিতেছেন--‘মানুষ বিত্ত’ ইতি। কারণ, মনুষ্যসম্বন্ধী গবাদি বিত্তই চক্ষুগ্রাহ্য এবং কর্ম্মনিষ্পাদনের উপায়স্বরূপ, সেই হেতু গবাদি বিত্তের সহিত সম্বন্ধ থাকায় চক্ষু হইতেছে --গবাদিস্থানপাতী মানুষ বিত্ত; কারণ, চক্ষুর সাহায্যেই মনুষ্য বিত্ত গবাদি পশুর উপলব্ধি হইয়া থাকে। ভাল, অপর বিত্তটি কি? ‘বলিতেছি--] শ্রোত্র হইতেছে--দৈব বিত্ত; কারণ, দেবতাই প্রধানতঃ শ্রোত্রবিজ্ঞানের বিষয়; এই জন্য ঐ বিজ্ঞান হইতেছে--দৈব বিত্ত। জগতে শ্রোত্রই সম্পত্তি বিষয়ে প্রধান; কারণ? যেহেতু, শ্রোত্র দ্বারাই সেই দৈব বিত্ত শ্রবণ করিয়া থাকে; অতএব দেবতা-বিজ্ঞান শ্রোত্রাধীন বলিয়া শ্রোত্রই সেই দৈব বিত্ত। ৭

এই আত্মা হইতে আরম্ভ করিয়া বিতপর্যন্ত যাহা উক্ত হইল, ইহা দ্বারা এখানে কোন্ কর্ম্ম নিষ্পাদন করিতে হইবে? তাহা বলিতেছেন—আয়াই— এখানে ‘আত্মা’ শব্দে শরীর অভিহিত হইয়াছে। আত্মা কর্ম্মস্থানীয় হয় কি প্রকারে? যেহেতু, এই আত্মাই কর্ম্মনিষ্পত্তির হেতু; কর্ম্মনিষ্পত্তিরই বা হেতু হয় কি প্রকারে? যেহেতু আত্মা শরীর দ্বারা কর্ম্ম করিয়া থাকে। বাহ্য জগতে কারাদি দ্বারা যেরূপ কৃৎস্নতা সম্পাদিত হইয়া থাকে, তদ্রূপ এই অকৃৎস্নতাভি- মানী পুরুষেরও এরূপেই কৃৎস্নতা সম্পন্ন হয়। অতএব ইহা হইতেছে—

প্রথমোহধ্যায়ঃ—চতুর্থঃ ব্রাহ্মণম্।

৩৫৯

কর্মানুষ্ঠানরহিত পুরুষেরও কেবল জ্ঞানমাত্র-সম্পাদিত পাঙ্ক্ত কর্ম্ম—উক্ত পাঁচটি বিষয় দ্বারা সম্পাদিত বলিয়া পাঙ্ক্ত যজ্ঞ। ৮

ভাল কথা, কেবল পঞ্চত্বসম্পাদন দ্বারাই ইহার যজ্ঞত্ব সম্পন্ন হয় কি প্রকারে? হাঁ, বলা হইতেছে—যেহেতু, লোক প্রসিদ্ধ যজ্ঞকার্য্য, যে পশু ও পুরুষ দ্বারা নিষ্পাদন করিতে হয়, সেই পশু ও পুরুষ ত নিশ্চয়ই পাঙক্ত; কারণ, উক্ত মনঃপ্রভৃতি পাঁচটি পদার্থের সহিত উহাদের ঘনিষ্ট সম্বন্ধ রহিয়াছে। তাহাই বলিয়া দিতেছেন যে, গবাদি পশুও পাঙক্ত(উক্ত পঞ্চাবয়সম্পন্ন) এবং পুরুষও পাঙক্ত। পুরুষে পশুত্ব ধর্ম্ম থাকিলেও তাহার কর্মাধিকাররূপ বিশেষত্ব আছে; এই জন্য পৃথক্ভাবে পুরুষের উল্লেখ করা হইয়াছে। অধিক কি, কর্মসাধন ও কর্মফল সমস্তই—এই যাহা কিছু আছে, তৎসমস্তই পাঙক্ত। যে ব্যক্তি এইরূপ জানে—আপনাতে এই পাঙক্ত যজ্ঞ সম্পাদন করে, সে দৃশ্যমান সমস্ত জগৎকেই আত্মস্বরূপে লাভ করিতে পারে ॥ ৫৪ ॥ ১৭ ॥

ইতি প্রথমাধ্যায়ে চতুর্থ ব্রাহ্মণের ভাষ্যানুবাদ ॥ ১ ॥ ৪ ॥

পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

-

যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসাজনয়ং পিতা। একমস্য সাধারণং দ্বে দেবানভাজয়ং ত্রীণ্যাত্মনেহকুরুত পশুভ্য একং প্রাযচ্ছৎ। তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতং যচ্চ প্রাণিতি যচ্চ ন। কস্মাত্তানি ন ক্ষীয়ন্তেহদ্যমানানি সর্বদা। যো বৈতামক্ষিতিং বেদ সোহন্ন- মত্তি প্রতীকেন। স দেবানপিগচ্ছতি স ঊর্জমুপজীবতীতি শ্লোকাঃ ॥ ৫৫ ॥ ১ ॥

সরলার্থঃ। পিতা(জগৎকারণম্ ঈশ্বরঃ) মেধয়া(জ্ঞানেন) তপসা (কর্মণা) যং(যানি) সপ্ত অম্লানি(জীবভোগ্যানি) অজনয়ৎ; অন্য(অন্নসংঘস্য) একং(অন্নং) সাধারণং(সর্ব্বভোগ্যং), দ্বে(অন্নে) দেবান্ অভাজয়ৎ (প্রাপিতবান্), ত্রীণি(অম্লানি) আত্মনে(স্বম্মৈ) অকুরুত(কৃতবান্), এক-(অন্নং) পশুভ্যঃ প্রাযচ্ছৎ(দত্তবান্); তস্মিন্(একস্মিন্ অন্নে) সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিত(স্থিতং)।[কিঃ তৎ সর্ব্বম্? ইত্যাহ-] যং চ(অপি) প্রাণিতি (প্রাণান্ ধারয়তি), যং চ ন(প্রাণান্ন ধারণয়তি) তানি(অম্লানি) সর্ব্বদা অদ্যমানানি(ভোজ্যমানানি)[অপি] কস্মাৎ(হেতোঃ) ন ক্ষীয়ন্তে(ন ক্ষয়ং যান্তি)? যো বা এতাং অক্ষিতি(অম্লানামক্ষয়ং) বেদ(জানাতি), সঃ(বেত্তা) প্রতীকেন(উপাসনাবিশেষেণ) অম্লং অত্তি(ভক্ষয়তি); সঃ দেবান্ অপ্যেতি(প্রাপ্নোতি), সঃ উজ্জং(উৎকর্ষং) উপজীবতি, ইতি(অস্মিন্ বিষয়ে) শ্লোকাঃ(বক্ষ্যমাণা মন্ত্রাঃ)[সন্তীত্যর্থঃ]। ৫৫ ॥ ১ ॥

মুলাসুবাদঃ—পিতা অর্থাৎ আদিকর্তা, মেধা ও তপস্যা দ্বারা প্রথমে যে সপ্তবিধ অন্ন সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাহার একটা অন্ন সর্বসাধারণের জন্য দিয়াছিলেন, দুইটা অন্ন দেবগণের জন্য দিয়াছিলেন, তিনটা অন্ন নিজের ভোগ্য করিয়াছিলেন, আর পশুগণের উদ্দেশ্যে একটা অন্ন দিয়াছিলেন। যাহারা প্রাণধারণ করে, আর যাহারা করে না, অর্থাৎ যাহারা চেতন ও যাহারা অচেতন সকলেই সেই অন্নে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৬১

প্রতিষ্ঠিত, অর্থাৎ অন্নাশ্রিত। সর্বদা জীবভক্ষ্য হইয়াও সেই সমুদয় অন্ন ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না কেন, যে ব্যক্তি এই অক্ষয়-রহস্য জানেন, তিনি অংশ- ক্রমে অন্ন ভোগ করিয়া থাকেন; তিনি দেবত্ব লাত করেন, তিনি তেজস্বি-জীবন প্রাপ্ত হন; এ বিষয়ে এই সমস্ত শ্লোক অর্থাৎ সংক্ষিপ্তা- র্থক মন্ত্র আছে ॥ ৫৫ ॥ ১ ॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া। অবিদ্যা প্রস্তুতা; তত্রাবিদ্বান্ অন্যাং দেবতামুপান্তে—অন্যোহসাবন্যোহহমম্মীতি; স বর্ণাশ্রমা- ভিমানঃ কৰ্ম্মকর্তব্যতয়া নিয়তো জুহোত্যাদিকৰ্ম্মভিঃ কামপ্রযুক্তো দেবাদীনা- মুপকুর্ব্বন্ সর্ব্বেযাং ভূতানাং লোক ইত্যুক্তম্। যথা চ স্বকর্মভিরেকৈকেন সব্বৈভূতৈরসৌ লোকো ভোজ্যত্বেন সৃষ্টঃ, এবমসাবপি জুহোত্যাদি-পাঙক্ত- কৰ্ম্মভিঃ সর্ব্বাণি ভূতানি সর্ব্বঞ্চ জগৎ আত্মভোজ্যত্বেনাসৃজত। এবমেকৈকঃ স্বকৰ্ম্ম-বিদ্যানুরূপ্যেণ সর্ব্বস্য জগতো ভোক্তা ভোজ্যঞ্চ, সর্ব্বস্য সর্ব্বঃ কর্তা কার্য্যঞ্চেত্যর্থঃ। এতদেব চ বিদ্যাপ্রকরণে মধুবিদ্যায়াং বক্ষ্যামঃ,—সর্ব্বং সর্ব্বস্য কাৰ্য্যং মধ্বিতি আত্মৈকত্ববিজ্ঞানার্থম্। যদসৌ জুহোতীত্যাদিনা পাঙক্তেন কাম্যেন কৰ্ম্মণা আত্মভোজ্যত্বেন জগদসৃজত বিজ্ঞানেন চ তৎ জগৎ সর্ব্বং সপ্তধা প্রবিভজ্যমানং কার্য্য-কারণত্বেন সপ্তান্নান্যুচ্যন্তে, ভোজ্যত্বাৎ; তেনাসৌ পিতা তেষামন্নানাম্। এতেষামন্নানাং সবিনিয়োগানাং সূত্রভূতাঃ সঙ্ক্ষেপতঃ প্রকাশকত্বাদিমে মন্ত্রাঃ ॥ ৬৫ ॥ ১ ॥

টীকা। ব্রাহ্মণান্তরমবতায্য সঙ্গতিং বক্তুং বৃত্তং কীর্তয়তি-যৎ সপ্তান্নানীত্যাদিনা। তত্রেত্যতিক্রান্তব্রাহ্মণোক্তিঃ। উপাস্তিশন্দিতং ভেদদর্শনমবিদ্যাকার্য্যমনেনানূদ্য ন স বেদেতি তদ্ধেতুরবিদ্যা পূর্ব্বত্র প্রস্তুতেতি যোজনা। অথো অয়মিত্যত্রোক্তমনুবদতি-স বর্ণাশ্রমাভিমান ইতি। আত্মৈবেদমগ্র আসীদিত্যাদাবুক্তং স্মারয়তি-কামপ্রযুক্ত ইতি। বৃত্তমনুদ্যোত্তরগ্রন্থ- মবতারয়িতুমপেক্ষিতং পূরয়তি-যথা চেতি। গৃহিণো জগতশ্চ পরস্পরং স্বকর্মোপার্জিতত্ব- মেষ্টব্যম্, অন্যথাহন্যোন্যমুপকারকত্বাযোগাদিত্যর্থঃ। ননু সূত্রস্যৈব জগৎকর্তৃত্বং জ্ঞানক্রিয়াতি- শয়বত্ত্বাৎ, নেতরেষাম্, তদভাবাৎ; অত আহ-এবমিতি। পূর্ব্বকল্লীয়বিহিতপ্রতিবিদ্ধজ্ঞান- কর্মানুষ্ঠাতা সর্ব্বো জন্তুরুত্তরসর্গস্থ্য পিতৃত্বেনাত্র বিবক্ষিতঃ, ন তু প্রজাপতিরেবেত্যুক্তমর্থং সঞ্চিপ্যাহ-সর্ব্বস্যেতি। সর্ব্বস্য মিথোহেতুহেতুমত্ত্বে প্রমাণমাহ-এতদেবেতি। সর্ব্বস্যান্যোন্ত- কার্য্যকারণত্বোক্ত্যা কল্পিতত্ববচনং কুত্রোপযুজ্যতে, তত্রাহ-আত্মৈকত্বেতি। এবং ভূমিকাং কৃত্বোত্তরব্রাহ্মণতাৎপর্য্যমাহ-যদসাবিতি। উচ্যন্তে ধ্যানার্থমিতি শেষঃ। অন্নত্বে হেতুঃ- ভোজ্যত্বাদিতি। তেন জ্ঞানকৰ্ম্মভ্যাং জনকত্বেনেতি যাবৎ। ব্রাহ্মণমবতার্য্য মন্ত্রমবতারয়তি- এতেযাসিতি ॥ ৫৫ ॥ ১ ॥

৩৬২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভাষ্যানুবাদ।—“যৎ সপ্ত অন্ন্যানি মেধয়া” ইত্যাদি। অবিদ্যার কথা বলা হইয়াছে; তাহাতে বলা হইয়াছে যে, অবিদ্বান্ পুরুষ ‘আমি অন্য, এবং আমার উপাস্য অন্য’ ইত্যাকারে আত্মাতিরিক্ত দেবতার উপাসনা করিয়া থাকে; বর্ণাশ্রমাভিমানী এবং কর্তব্যবুদ্ধিতে কর্মনিরত ও কামনাবান্ সেই অবিদ্বান্ পুরুষ হোমাদি কৰ্ম্ম দ্বারা দেবগণের উপকার সাধন করত সর্ব্বভূতের ভোগ্য হয়। সমস্ত ভূতবর্গ এক একটা করিয়া নিজ নিজ কৰ্ম্ম দ্বারা এই লোককে যেমন ভোজ্যরূপে সৃষ্টি করিয়াছে, তেমনি তিনি নিজে ও আবার পূর্ব্বোক্ত হোমাদি পাঙ্ক্ত কৰ্ম্ম দ্বারা সমস্ত ভূত ও সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন। এইরূপে প্রত্যেকেই স্বীয় বিদ্যা ও কৰ্মানুসারে সর্ব্বজগতের ভোক্তাও বটে, ভোজ্যও বটে, এবং কর্ত্তাও বটে, কার্য্যও বটে। বিদ্যাপ্রকরণে মধুবিদ্যার প্রসঙ্গে(২য় অধ্যায়ে, ৫ম ব্রাহ্মণে) আমরা বলিব যে, কার্য্যমাত্রই কারণের মধুস্বরূপ; কারণ, তাহা দ্বারা আত্মৈকত্বজ্ঞানের সুবিধা হইতে পারে। তিনি পাকৃক্ত(পঞ্চাত্মক) হোমাদি কাম্যকৰ্ম্ম ও বিজ্ঞান দ্বারা আপনার ভোজ্যরূপে যে জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই সমস্ত জগৎও কার্য্য-কারণভাবে বিভক্ত হইয়া সপ্ত অন্ন নামে অভিহিত হইয়া থাকে; কারণ, ইহাও জীবের ভোজ্য বা ভোগাই। এইরূপে বিভাগ করাতেই তিনি সেই অন্ন সমূহের পিতা নামে কথিত হন। সূত্রাকারে সংক্ষেপতঃ উক্ত অন্নসমূহ ও তাহাদের বিনিয়োগ প্রকাশ করিতেছে বলিয়া উক্ত বাক্যগুলি শ্লোক অর্থাৎ মন্ত্রপদবাচ্য ॥ ৫৫ ॥ ১ ॥

যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসাজনয়ৎ পিতেতি, মেধয়া হি তপসাজনয়ৎ পিতা। একমস্য সাধারণমিতীদমেবাস্য তৎ সাধারণ- মন্নং যদিদমদ্যতে। স য এতদুপাস্তেন স পাপ্মনো ব্যাবর্ত্ততে, মিশ্রং হ্যেতৎ।

দ্বে দেবানভাজয়দিতি হুতঞ্চ প্রহুতঞ্চ, তস্মা- দেবেভ্যো জুহ্বতি চ প্র চ জুহ্বত্যথো আহুর্দর্শপূর্ণমাসাবিতি। তস্মান্নেষ্টিযাজুকঃ স্যাৎ, পশুভ্য একং প্রায়চ্ছদিতি তৎ পয়ঃ। পয়ো হোবাগ্রে মনুষ্যাশ্চ পশবশ্চোপজীবন্তি, তস্মাৎ কুমারং জাতং ঘৃতং বৈ বাগ্রে প্রতিলেহয়ন্তি স্তনং বানু- ধাপয়ন্ত্যথ বৎসং জাতমাহুরতৃণাদ ইতি, তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৩৩

ষ্ঠিতম্—যচ্চ প্রাণিতি যচ্চ নেতি, পয়সি হীদং সর্ব্বং প্রতি- ষ্ঠিতং যচ্চ প্রাণিতি যচ্চ ন।

তদ্যদিদমাহুঃ সংবৎসরং পয়সা জুহৃদপ পুনর্মৃত্যুং জয়তীতি, ন তথা বিদ্যাদ্যদহরেব জুহোতি তদহঃ পুনর্মৃত্যুমপজয়ত্যেবং বিদ্বান্ সর্ব্বং হি দেবেভ্যোহন্নাদ্যং প্রযচ্ছতি।.

কস্মাৎ তানি ন ক্ষীয়ন্তেহদ্যমানানি সর্ব্বদেতি; পুরুষো বা অক্ষিতিঃ, স হীদমন্নং পুনঃপুনর্জ্জনয়তে।

যো বৈতামক্ষিতিং বেদেতি, পুরুষো বা অক্ষিতিঃ, স হীদমন্নং ধিয়া ধিয়া জনয়তে কৰ্ম্মভির্যদ্ধৈতন্ন কুৰ্য্যাৎ ক্ষীয়েত হ; সোহন্নমত্তি প্রতীকেনেতি, মুখং প্রতীকং মুখেনেত্যেতৎ। স দেবানপিগচ্ছতি স উর্জ্জমুপজীবতীতি প্রশংসা ৫৬ ॥ ২॥

সরলার্থঃ।—[মন্ত্রার্থস্য দুর্বিজ্ঞেরত্বাৎ শ্রুতিঃ স্বয়মেব তদর্থমাহ— ‘যৎ’ ইত্যাদি। ‘যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসাজনয়ৎ পিতা-ইতি’ ইতি প্রতীকম্। [অস্যায়মর্থঃ—হি-শব্দঃ প্রসিদ্ধিসূচকঃ;] পিতা মেধয়া(জ্ঞানেন) তপসা (কর্মণা চ) যৎ অজনয়ৎ(সৃষ্টবান্)[সপ্ত অন্ন্যানি ইতি] হি প্রসিদ্ধম্। ‘একম্ অন্য সাধারণম্ ইতি’ ইতি;[অস্যায়মর্থঃ—] অন্য(পিতুঃ) ইদং (বক্ষ্যমাণম্) এব তৎ সাধারণম্(সর্ব্বভোজ্যং) অন্নম্,—যৎ ইদং(লোক- প্রসিদ্ধং অন্নম্) অদ্যতে(ভুজ্যতে)[সর্ব্বৈঃ জনৈঃ]; সঃ যঃ(জনঃ) এতৎ (সাধারণম্ অন্নম্) উপাস্তে(অন্নভোগপরায়ণঃ ভবতি), সঃ পাপ্নানঃ (পাপাৎ) ন ব্যাবর্ত্ততে(ন মুচ্যতে); হি(যস্মাৎ) এতৎ(অন্নম্) মিশ্রং (পুণ্য-পাপ সমন্বিতম্)। ‘দ্বে দেবান্ অভাজয়ৎ ইতি’ ইতি;[কিং তৎ দ্বয়ম্? ইত্যাহ—] হুতং(অগ্নৌ প্রক্ষিপ্তং) চ, প্রহুতং(হোমানন্তরবলিসযর্পণং) চ; তস্মাৎ(যস্মাৎ পিত্রা এব তদন্নদ্বয়ং দেবেভ্যঃ প্রদত্তং, তস্মাৎ হেতোঃ) দেবেভ্যঃ জুহ্বতি(হোমং কুর্ব্বন্তি), প্রজুহ্বতি(বলিম্ অর্পয়ন্তি) চ। অন্যে আহুঃ(কথয়ন্তি)—দর্শ-পূর্ণমাসৌ(দর্শঃ পূর্ণমাসশ্চ যাগৌ দ্বে অন্নে) ইতি; তস্মাৎ(হেতোঃ) ইষ্টিষাজুকঃ(কাম্যযাগশীলঃ) ন স্যাৎ (ন ভবেৎ),[অপিতু দর্শপূর্ণমাসপর এব স্যাদিতি ভাবঃ]। ‘পশুভ্যঃ

৩৬৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

(দুগ্ধং); হি(যস্মাৎ) মনুষ্যাঃ চ পশবঃ চ অগ্রে(প্রথমং) পরঃ এব উপ- জীবন্তি(পিবন্তি),[নতু অন্যৎ]; তস্মাৎ(হেতোঃ) জাতং।(ভূমিষ্ঠং) কুমারং(শিশুং) অগ্রে ঘৃতং বা(বিকরে) প্রতিলেহয়ন্তি, স্তনং অনু- ধাপয়ন্তি(পায়য়ন্তি); অথ(তস্মাৎ) জাতৎ বৎসং(শিশুং) অতৃণাদঃ) ন তৃণভোক্তা) ইতি আহুঃ(কথয়ন্তি)[জনাঃ]। ‘তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতং যচ্চ প্রাণিতি, যচ্চ ন ইতি’ ইতি-হি[যস্মাৎ) যৎ চ প্রাণিতি(প্রাণধারণং করোতি), যৎ চ(অপি) ন[প্রাণিতি], ইদং সর্ব্বং পয়সি(দুগ্ধে) প্রতিষ্ঠিতম্; তৎ(তস্মাৎ) যৎ ইদং আহুঃ-সংবৎসরং[ব্যাপ্য] পয়সা(দুগ্ধেন) জুহ্বৎ(হোমং কুর্ব্বন্) পুনর্মৃত্যুং(পুনর্মরণং) অপজয়তি(মৃত্যুম্ অতিক্রামতী- ত্যর্থঃ) ইতি; তথা ন বিদ্যাৎ(জানীয়াৎ)-যদহঃ(যস্মিন্ অহনি) এব জুহোতি, তদহঃ(তস্মিন্ অহনি-সদ্য এব) মৃত্যুং পুনঃ অপজয়তি-এবং বিদ্বান্ (জানন্) হি(নিশ্চয়ে) দেবেভ্যঃ সর্ব্বং অন্নাদ্যং(অদনীয়ম্ অন্নং প্রযচ্ছতি : দদাতি, যথোক্তবিজ্ঞানমেব দেবেভ্যঃ সর্ব্বান্নদানমিতি ভাবঃ)। ‘কস্মাৎ তানি ন ক্ষীয়ন্তে অদ্যমানানি সর্ব্বদা-ইতি’ ইতি? পুরুষঃ(আত্মা) বৈ(প্রসিদ্ধৌ) অক্ষিতিঃ(অক্ষয়হেতুঃ), সঃ(পুরুষঃ) হি(নিশ্চয়ে) ইদম্ অন্নং পুনঃ পুনঃ জনয়তি(উৎপাদয়তি),[তস্মাৎ ন ক্ষীরতে ইতি ভাবঃ]। ‘যো বা এতাম্ অক্ষিতিং বেদ-ইতি‘-পুরুষো বা অক্ষিতিঃ; সঃ(পুরুষঃ) হি ধিয়া ধিয়া (জ্ঞানেন) কৰ্ম্মভিঃ ইদং অন্নং জনয়তে; যৎ(যদি) হ(প্রসিদ্ধৌ) এতং (জ্ঞান-কর্মানুষ্ঠানং) ন কুৰ্য্যাৎ,[তদা] ক্ষীয়েত[অন্নম্], হ-শব্দঃ(অবধারাণর্থঃ)। ‘সঃ অন্নম্ অত্তি প্রতীকেন-ইতি’ ইতি-মুখং(প্রধানং) প্রতীকং(প্রতীক-শব্দার্থঃ, তেন) মুখেন[অন্নম্ অত্তি] ইত্যেতং। সঃ দেবান্ অপিগচ্ছতি, সঃ উর্জ্জম্ উপজীবতি’ ইতি(এতৎ) প্রশংসা(অন্নবিজ্ঞানস্য স্তুতিরিত্যর্থঃ) ॥৫৬॥ ২॥

মুলাসুবাদ:-[পূর্ব্বোক্ত মন্ত্রের প্রকৃত অর্থ লোকের হৃদয়ঙ্গম না হইতে পারে, এই আশঙ্কায় শ্রুতি নিজেই তাহার অর্থ প্রকাশ করিয়া বলিতেছেন-] “যৎ + + + পিতা-ইতি।” ইহার অর্থ এই— পিতা আদিকর্তা মেধা দ্বারা(বিজ্ঞানের সাহায্যে) এবং তপস্যা দ্বারা অর্থাৎ বিহিত কৰ্ম্ম দ্বারা সপ্তপ্রকার অন্ন উৎপাদন করিয়াছিলেন। ‘একম্ + + + ইতি’ ইহার অর্থ—তাঁহার সৃষ্ট অন্নের মধ্যে একটা সাধারণ— সর্বভোজ্য অন্ন,—যাহা সাধারণতঃ লোকে ভক্ষণ করিয়া থাকে; যে

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৬৫

ব্যক্তি এই সাধারণ অন্নের উপাসনা করে, অর্থাৎ ইহাতেই অনুরক্ত থাকে, সে ব্যক্তি কখনই পাপ হইতে বিমুক্ত হইতে পাবে না; কারণ, ঐ অন্ন হইতেছে পাপমিশ্রিত। “দ্বে + + + অভাজয়দিতি’ ইহার অর্থ-হুত ও প্রহত,[এই দুইটা অন্ন দেবগণকে দিয়াছিলেন। হুত অর্থ-অগ্নিতে ঘৃতাদি ত্যাগ করা, আর প্রহৃত অর্থ-হোমের পর বলি প্রভৃতি উপহার প্রদান করা]; সেই কারণেই দেবতা উদ্দেশ্যে হোমও করিয়া থাকে, এবং প্রহোম(হোমের পরবর্তী বলিসমর্পণও) করিয়া থাকে। এখানে কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, ঐ দুইটী অন্ন-দর্শ ও পূর্ণমাস নামক দুইটি যাগ; সেইহেতু কাম্যকর্ম্মের অনুষ্ঠানবিষয়ে তৎপর হইবে না,(পরন্তু নিত্যকর্মেই মন দিবে)। ‘পশুভ্যঃ + + + প্রাযচ্ছৎ ইতি’ ইহার অর্থ-লোকপ্রসিদ্ধ দুগ্ধ; কারণ, অন্যান্য দ্রব্য ভক্ষণ করিবার অগ্রে[শিশু] মনুষ্য ও পশুগণ দুগ্ধই পান করিয়া থাকে; এইজন্য নবশিশু জন্মিলে পর প্রথমেই ঘৃত পান করায়, অনন্তর স্তন্যপান করায়; এই কারণেই নবজাত গবাদি বৎসকে ‘অতৃণাদ’(তৃণভোক্তা নয়) বলা হইয়া থাকে। ‘তস্মিন্ + + + যচ্চ নেতি’, ইহার অর্থ-যাহারা প্রাণন-শ্বাসপ্রশ্বাস ত্যাগ করে, আর যাহারা শ্বাসপ্রশ্বাস ত্যাগ করে না (স্থাবর পদার্থ), সে সমুদয়ই এই দুগ্ধরূপ অন্নে প্রতিষ্ঠিত; অতএব, কেহ কেহ যে বলিয়া থাকেন, একবৎসর কাল দুগ্ধ দ্বারা হোম করিলে পুনর্মৃত্যু জয় করে, অর্থাৎ সে দেবত্ব লাভ করে, তাহা এরূপ বুঝিবে না যে, যেই দিন হোম করে, ঠিক সেই দিনই পুনর্মরণ জয় করে,[তাহাকে আর সংবৎসর অপেক্ষা করিতে হয় না]। যিনি এইরূপ জানেন, তিনি সমস্ত অল্পই দেবগণের উদ্দেশ্যে প্রদান করেন। “কস্মাৎ + + + সর্বদেতি”।[ইহার উত্তর-] পুরুষ(ভোক্তা) হইতেছে -অক্ষিতি-ক্ষয় না হইবার কারণ; কেন না, পুরুষই জ্ঞান দ্বারা পুনঃ পুনঃ এই অন্ন উৎপাদন করিয়া থাকে। “যো বা + + + বেদেতি”, ইহার অর্থ-এই যে, পুরুষই অক্ষিতি অর্থাৎ অক্ষয়ের হেতু; কারণ, পুরুষই জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা পুনঃ পুনঃ এই অন্ন সমুৎপাদন করিয়া থাকে। পুরুষ যদি এইরূপ না করিত, তাহা হইলে নিশ্চয়ই অন্ন ক্ষয় হইয়া

৩৬৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যাইত। “সঃ + + + প্রতীকেনেতি”—মুখই প্রতীক(প্রধান); সেই মুখ দ্বারা(অন্ন ভোজন করিয়া থাকেন)। “সঃ + + + জীবতীতি”, ইহা বিদ্যার প্রশংসা মাত্র ॥ ৫৬॥ ২॥

শাঙ্করভাষ্যম্।—যৎ সপ্তান্নানি—যৎ অজনয়দিতি-ক্রিয়াবিশেষণম্; মেধয়া প্রজ্ঞয়া বিজ্ঞানেন তপসা চ কর্মণা; জ্ঞানকর্মণী এব হি. মেধাতপঃ-শব্দ- বাচ্যে, তয়োঃ প্রকৃতত্বাৎ; নেতরে মেধা-তপসী, অপ্রকরণাৎ। পাঙক্তং হি কৰ্ম্ম জায়াদিসাধনম্; “য এবং বেদ”ইতি চানন্তরমেব জ্ঞানং প্রকৃতম্; তস্মান্ন প্রসিদ্ধ- য়োর্ম্মেধাতপসোরাশঙ্কা কার্য্যা; অতো যানি সপ্তান্নানি জ্ঞানকৰ্ম্মভ্যাং জনিতবান্ পিতা, তানি প্রকাশয়িষ্যাম ইতি বাক্যশেষঃ। তত্র মন্ত্রাণামর্থস্তিরোহিতত্বাৎ প্রায়েণ দুর্ব্বিজ্ঞেয়ো ভবতীতি তদর্থব্যাখ্যানার ব্রাহ্মণং প্রবর্ত্ততে। তত্র যৎ, সপ্তা- ন্নানি মেধয়া তপসাজনয়ৎ পিতেতি, অন্য কোহর্থঃ? উচ্যতে—ইতি, হি-শব্দেনৈব ব্যাচষ্টে প্রসিদ্ধার্থাবদ্যোতকেন; প্রসিদ্ধো হাস্য মন্ত্রস্যার্থ ইত্যর্থঃ। যদজনয়দিতি চ অনুবাদস্বরূপেণ মন্ত্রেণ প্রসিদ্ধার্থতৈব প্রকাশিতা; অতো ব্রাহ্মণমবিশঙ্কয়ৈবাহ— মেধয়া হি তপসাজনয়ৎ পিতেতি। ১

টীকা। তত্রাদ্যমন্ত্রভাগমাদায় ব্যাচষ্টে-যৎ সপ্তান্নানাতি। অজনয়দিতি ক্রিয়ায়া বিশেষণং -যদিতি পদম্। তথা চ তদযুক্তঃ পিতৃত্বাদিতি শেষঃ। গ্রন্থার্থধারণশক্তির্ম্মেধা, কুচ্ছচন্দ্রায়ণাদি তপঃ, তে কম্মাদত্র ন গৃহ্যেতে, তত্রাহ-জ্ঞানকৰ্ম্মণী ইতি। তয়োঃ প্রকৃতত্বং প্রকটরতি- পাঙক্তং হীতি। ইতরয়োর প্রকৃতত্বং হেতুকৃতমনদ্য ফলিতমাহ-তন্মাদিতি। জ্ঞানকর্মণোঃ প্রকৃতত্বমুক্তং হেতুমাদায় বাক্যং পূরয়তি-অত ইতি। যৎসপ্তান্নানীত্যাদিমন্ত্রভাগং ব্যাখ্যায় ব্রাহ্মণবাক্যসমুদায়তাৎপর্য্যমাহ-তত্রেতি। মন্ত্রব্রাহ্মণাত্মকে। গ্রন্থঃ সপ্তম্যর্থঃ। মেধয়া হীত্যাদি- ব্রাহ্মণমাকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুখাপয়তি--তত্র যদিতি। প্রকৃতমন্ত্রসমুদায়ঃ সপ্তম্যা পরামৃশ্যতে। ব্যাখ্যানমেব সংগৃহ্নাতি-প্রসিদ্ধো হীতি। ন কেবলং হিশব্দাৎ মন্ত্রস্ত প্রসিদ্ধার্থত্বং, কিং তু মন্ত্র- স্বরূপালোচনায়ামপি তৎ সিধ্যতীত্যাহ-সদিতি। মন্ত্রার্থস্য প্রসিদ্ধত্বে মন্ত্রস্যানুগুণত্বং হেতুকৃত্য ফলিতমাহ-অত ইতি। ১

ননু কথং প্রসিদ্ধতা অস্যার্থস্তেতি? উচ্যতে—জায়াদিকৰ্ম্মান্তানাং লোকফল- সাধনানাং পিতৃত্বং তাবৎ প্রত্যক্ষমেব; অভিহিতঞ্চ—“জায়া মে স্যাৎ” ইত্যা- দিনা। তত্র চ দৈবং বিত্তং বিদ্যা কৰ্ম্ম পুত্রশ্চ ফলভূতানাং লোকানাং সাধনং স্রষ্টৃত্বং প্রতীত্যভিহিতম্; বক্ষ্যমাণঞ্চ প্রসিদ্ধমেব। তন্মাদ যুক্তং বক্তুং— মেধয়েত্যাদি। ২

তৎপ্রসিদ্ধিমুপপাদয়িতুং পৃচ্ছতি-নম্বিতি। সাধ্যসাধনাত্মকে জগাত যৎ পিতৃত্বমবিদ্যাবতো ভাবি, তৎপ্রত্যক্ষত্বাৎ প্রসিদ্ধম্ অনুভূয়তে হি জায়াদি সম্পাদয়ন্নবিধানিত্যাহ-উচ্যত ইতি।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৬৭

শ্রুত্যা চ প্রাগুক্তত্বাৎ প্রসিদ্ধমেতদিত্যাহ-অভিহিতং চেতি। যচ্চ মেধাতপোভ্যাং স্রষ্টৃত্বং মন্ত্র- ব্রাহ্মণয়োরুক্তং, তদপি প্রসিদ্ধমেব, বিদ্যাকৰ্ম্মপুত্রাণামভাবে লোকত্রয়োৎপত্ত্যনুপপত্তেরিত্যাহ- তত্র চেতি। পূর্বোত্তরগ্রন্থঃ সপ্তম্যর্থঃ। পুত্রেণৈবায়ং লোকে। জয্য ইত্যাদৌ বক্ষ্যমাণত্বাচ্চাস্যার্থস্য প্রসিদ্ধতেত্যাহ-বক্ষ্যমাণং চেতি। মন্ত্রার্থস্যেখ’ প্রসিদ্ধত্বে মন্ত্রস্থ্য প্রসিদ্ধার্থবিষয়ং ব্রাহ্মণমুপপন্ন- মিত্যুপসংহরতি-তস্মাদিতি। ২

এষণা হি ফলবিষয়া প্রসিদ্ধৈব চ লোকে; এষণা চ জায়াদীত্যুক্তম্ “এতাবান্ বৈ কামঃ” ইত্যনেন; ব্রহ্মবিদ্যাবিষয়ে চ সর্ব্বৈকত্বাৎ কামানুপপত্তেঃ। এতেন অশাস্ত্রীয়প্রজ্ঞা-তপোভ্যাং স্বাভাবিকাভ্যাং জগৎস্রষ্টৃত্বমুক্তমেব ভবতি; স্থাবরা- ন্তস্য চানিষ্টফলস্য কর্মবিজ্ঞাননিমিত্তত্বাৎ। বিবক্ষিতস্তু শাস্ত্রীয় এব সাধ্য-সাধন- ভাবঃ, ব্রহ্মবিদ্যাবিধিৎসয়া তদ্বৈরাগ্যস্য বিবক্ষিতত্বাৎ—সর্ব্বো হ্যায়ং ব্যক্তাব্যক্ত- লক্ষণঃ সংসারোহশুদ্ধোহনিত্যঃ সাধ্যসাধনরূপো দুঃখোহবিদ্যাবিষয় ইত্যেতস্মা- দ্বিরক্তস্য ব্রহ্মবিদ্যারব্ধব্যেতি। ৩

প্রকারান্তরেণ মন্থার্থস্য প্রসিদ্ধত্বমাহ-এষণ। হীতি। ফলবিষত্বং তস্যাঃ স্বানুভবসিদ্ধমিতি বক্তুং হি-শব্দঃ। তস্যা লোকপ্রসিদ্ধত্বেহপি কথং মন্থার্থস্থ্য প্রসিদ্ধত্বমত আহ-এষণা চেতি। জায়াদ্যাত্মকস্য কামস্য সংসারারম্ভকত্ববন্মোক্ষেপি কামঃ সংসারমারভেত, কামত্বাবিশেষা- দিতাতিপ্রসঙ্গমাশঙ্ক্যাহ-ব্রহ্মবিদ্যেতি। তস্যা বিষয়ে মোক্ষঃ। তস্মিন্নদ্বিতীয়ত্বাদ্রাগাদিপরি- পন্থিনি কামাপরপর্যায়ে। রাগো নাবকল্পতে। নহি মিথ্যাজ্ঞাননিদানো রাগঃ সমাগ জ্ঞানাধি- গম্যে মোক্ষে সম্ভবতি। শ্রদ্ধা তু তত্র ভবতি তত্ত্ববোধাধীনতয়া সংসারবিরোধী, তন্ন সংসারানুষক্তিমুক্তাবিত্যর্থঃ। শাস্ত্রীয়স্য জায়াদেঃ সংসারহেতুত্বে কর্মাদেরশাস্ত্রীয়স্য কথং তদ্ধেতুত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এতেনেতি। অবিদ্যোখ্য কামস্য সংসারহেতুত্বোপদর্শনেনেতি যাবৎ। স্বাভাবিকাভ্যামবিদ্যাধীনকামপ্রযুক্তাভ্যামিত্যর্থঃ।

ইতশ্চ তয়োর্জগৎসৃষ্টিপ্রযোজকত্বমেষ্টব্যমিত্যাহ-স্থাবরান্তস্যেতি। যৎ সপ্তান্নানীত্যাদিমন্ত্র- পদস্য মেধয়া হীত্যাদিব্রাহ্মণস্য চাক্ষরোত্থমর্থমুক্ত। তাৎপর্য্যমাহ-বিবক্ষিতস্থিতি। শাস্ত্রপরবশ্যস্য শাস্ত্রবশাদেব সাধ্যসাধনভাবাদশাস্ত্রীয়াদ্বৈমুখ্যসম্ভবান্ন তস্যাত্র বিবক্ষিতত্বমিত্যর্থঃ। শাস্ত্রীয়স্য সাধ্যসাধনভাবস্য বিবক্ষিতত্বে হেতুমাহ-ব্রহ্মেতি। তদেব প্রপঞ্চয়তি-সর্ব্বো হীতি। দুঃখয়তীতি দুঃখস্তদ্ধেতুরিতি যাবৎ। প্রকৃতমন্ত্রব্রাহ্মণব্যাখ্যা সমাপ্তাবিতিশব্দে। বিবক্ষিতার্থ- প্রদর্শনসমাপ্তৌ বা। ৩

তত্রান্নানাং বিভাগেন বিনিয়োগ উচ্যতে-একমস্য সাধারণমিতি মন্ত্রপদম্। তস্য ব্যাখ্যানম্-ইদমেবাস্য তৎ, সাধারণমন্নমিত্যুক্তম্; অন্য ভোক্তৃসমুদায়স্য। কিং তৎ? যদিদমদ্যতে ভুজ্যতে সর্ব্বৈঃ প্রাণিভিরহন্যহনি, তৎ সাধারণং সর্ব্ব- ভোক্ত্র র্থমকল্পয়ৎ পিতা সৃষ্টা অন্নম্। স য এতৎ সাধারণং সর্ব্বপ্রাণভূৎস্থিতিকরং ভুজ্যমানময়ম্ উপাস্তে-তৎপরো ভবতীত্যর্থঃ; উপাসনং হি নাম তাৎপর্য্যং দৃষ্টং

৩৬৮. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

লোকে—‘গুরুমুপান্তে’ ‘রাজানমুপান্তে’ ইত্যাদৌ, তস্মাচ্ছরীরস্থিত্যর্থান্নোপ- ভোগপ্রধানঃ, নাদৃষ্টার্থকৰ্ম্মপ্রধান ইত্যর্থঃ। স এবস্তুতো ন পাপ্মনোহধৰ্ম্মাদ্ ব্যাব- র্ততে ন বিমুচ্যত ইত্যেতৎ। তথাচ মন্ত্রবর্ণঃ—“মোঘমন্নং বিন্দতে” ইত্যাদিঃ; স্মৃতিরপি—“নাম্মার্থং পাচয়েদন্নম্।” “অপ্রদায়ৈভ্যো যো ভুক্তে স্তেন এব সঃ।” “অন্নাদে ভ্রূণহা মাষ্টি” ইত্যাদিঃ। ৪

মন্ত্রব্রাহ্মণয়োঃ শ্রুত্যর্থাভ্যামর্থমুক্ত। সমনন্তরগ্রন্থমবতারয়তি-তত্রেতি। সপ্তবিধেহন্নে সৃষ্টে সতীতি যাবৎ। ব্যাখ্যানমেব বিবৃণোতি-অস্যেত্যাদিনা।

সাধারণমন্নমসাধারণিকুর্ব্বতো দোষং দশয়তি-স য ইতি। তৎপরে। ভবতীত্যুক্তং বিবৃণোতি-উপাসনং হীতি। ব্রাহ্মণোক্তেহর্থে মন্ত্রং প্রমাণয়তি-তথা চেতি। মোঘং বিফলং দেবাদ্যনুপভোগ্যমন্নং যদি জ্ঞানদুর্ব্বলো লভতে, তদা স বধ এব ‘তস্যেতি সাধারণান্নস্যাসাধারণী- করণং নিন্দিতমিত্যর্থঃ। তত্রৈব স্মৃতীরুদাইরতি-স্মৃতিরপীতি। ‘ন বৃথা ঘাতয়েৎ পশুম্। ন চৈকঃ স্বয়মশ্নীয়ান্বিধিবর্জ্জং ন নির্ব্বপেৎ’ ইতি পাদত্রয়ঃ দ্রষ্টব্যম্। ‘ইষ্টান্ ভোগান্ হি যো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ। তৈদ্দত্তান্’ ইতি শেষঃ। ‘অনেনা অভিশংসতি। স্তেনঃ প্রমুখো রাজনি যাবন্নানৃতসঙ্করঃ’ ইত্যুত্তরং পাদত্রয়ম্। তত্রাদ্যপাদস্যার্থো ভ্রূণহা শ্রেষ্ঠব্রাহ্মণঘাতকঃ। যপাহঃ-‘বরিষ্ঠব্রহ্মহা চৈব ভ্রূণহেত্যভিধীয়তে’ ইতি। স্বস্যারভক্ষকে স্বপাপং মাষ্টি শোধয়- তীতান্নদাতুঃ পাপক্ষয়োক্তেরিতরস্যাসাধারণীকৃতঃ ভুঞ্জানস্য পাপিতেতি।

“অদত্বা তু য এতেভাঃ পূর্ব্বং ভূক্তেহবিচক্ষণঃ। স ভৃঞ্জানে; ন জানাতি স্বগৃহৈর্জ্জদ্ধিমাত্মনঃ।” ইত্যাদিবাক্যমাদিশব্দার্থঃ। ৪

তস্মাৎ পুনঃ পাপ্যনো ন ব্যাবর্ততে। মিশ্রং হেতৎ—সর্ব্বেষাং হি স্বং তদ- প্রবিভক্তং, যং প্রাণিভির্ভুজ্যতে, সর্ব্বভোজ্যত্বাদেব যো মুখে প্রক্ষিপ্যমাণোহপি গ্রাসঃ পরস্য পীড়াকরো দৃশ্যতে—মমেদং স্যাদিতি হি সর্ব্বেষাং তত্রাশা প্রতিবন্ধা; তস্মান্ন পরম্ অপীড়য়িত্বা গ্রসিতুমপি শক্যতে; “দুষ্কৃতং হি মনুষ্যাণাম্” ইত্যাদি স্মরণাচ্চ। ৫

আকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকং হেতুমবতার্য্য ব্যাকরোতি-কস্মাদিত্যাদিনা। সর্বভোজ্যত্বং সাধয়তি- যো মুখ ইতি। পরস্য স্বমার্জারাদেরিতি যাবৎ। পীড়াকরত্বে হেতুমাহ-মমেদমিতি। প্রাগুক্ত- দৃষ্টিফলমাচষ্টে-তন্মাদিতি। সাধারণমন্নমসাধারণিকুর্ব্বাণস্থ পাপানিবৃত্তিরিত্যত্র হেত্বরমাহ- দুষ্কৃতঃ হীতি। যদা হি মনুস্তাণাঃ দুষ্কৃতমন্নমাশ্রিত্য তিষ্ঠতি, তদা তদসাধারণীকুর্ব্বতো মহত্তরং পাপ: ভবতীত্যর্থঃ। ৫

গৃহিণা বৈশ্বদেবাখ্যমন্নং যদহন্যহনি নিরূপ্যত ইতি কেচিং। তন্ন, সর্ব্বভোক্ত- সাধারণত্বং বৈশ্বদেবাখ্যস্তায়ন্ত ন সর্ব্বপ্রাণভূজ্যমানায়বৎ প্রত্যক্ষম্, নাপি ‘যদি- দমদ্যতে’ ইতি তদ্বিষয়ং বচনমনুকূলম্। সর্ব্বপ্রাণভূজ্যমানান্নান্তঃপাতিত্বাচ্চ বৈশ্ব-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৬৯

দেবাখ্যস্য যুক্তং শ্বচাণ্ডালাদ্যাদ্যস্য অন্নস্য গ্রহণম্, বৈশ্বদেবব্যতিরেকেণাপি শ্বচাণ্ডালা- দ্যাদ্যান্নদর্শনাৎ তত্র যুক্তং যদিদমদ্যত ইতি বচনম্। ৬

একমস্যেত্যাদিমন্ত্রব্রাহ্মণয়োঃ স্বপক্ষার্থমুক্ত। ভর্তৃপ্রপঞ্চপক্ষমাহ-গৃহিণেতি। যদন্নং গৃহিণা প্রত্যহমগ্নৌ বৈশ্বদেবাখ্যং নির্বর্ত্যতে, তৎ সাধারণমিতি ভর্তৃপ্রপঞ্চৈরুক্তমিত্যর্থঃ। সাধারণ- পদানুপপত্তেন যুক্তমিদং ব্যাখ্যানমিতি দুষয়তি-তন্নেতি। বৈশ্বদেবস্য সাধারণত্বমপ্রামাণিক- মিত্যুক্তম্, ইদানীং তস্যাপ্রত্যক্ষত্বাদিদমা পরামর্শশ্চ ন যুক্তিমানিত্যাহ-নাপীতি। ইতশ্চ সাধারণশব্দেন সর্ব্বপ্রাণ্যন্নং গ্রাহ্যমিত্যাহ-সর্ব্বেতি। বৈশ্বদেবগ্রহেহপীতরগ্রহঃ স্যাদিতি চেন্নেত্যাহ-বৈশ্বদেবেতি। যতু পরপক্ষে যদিদমদ্যত ইতি বচো নানুকূলমিতি, তন্নাস্মৎপক্ষে- হস্তীত্যাহ-তত্রেতি। প্রত্যক্ষং সাধারণান্নং সপ্তমার্থঃ। ৬

যদি হি তন্ন গৃহ্যেত, সাধারণশব্দেন পিত্রা অসৃষ্টত্বাবিনিযুক্তত্বে তস্য প্রসজ্যে- য়াতাম্। ইষ্যতে হি তৎস্রষ্টৃত্বং তদ্বিনিযুক্তত্বঞ্চ সর্ব্বস্যান্নজাতস্য। ন চ বৈশ্বদে- বাখ্যং শাস্ত্রোক্তং কৰ্ম্ম কুর্ব্বতঃ পাপ্মুনোহবিনিবৃত্তিযুক্তা; ন চ তস্য প্রতিষেধো- হস্তি। ন চ মৎস্যবন্ধনাদিকৰ্ম্মবৎ স্বভাবজুগুপ্সিতমেতৎ, শিষ্টনির্বর্ত্যত্বাৎ অকরণে চ প্রত্যবায়শ্রবণাৎ; ইতরত্র চ প্রত্যবায়োপপত্তেঃ; “অহমন্নমন্নমদন্তমদ্মি” ইতি মন্ত্রবর্ণাৎ। ৭

বিপক্ষে দোষমাহ—যদি হীতি। প্রসঙ্গস্যেষ্টত্বং নিরাচষ্টে—ইষ্যতে হীতি। পরপক্ষে বাক্যশেষবিরোধং দোষান্তরমাহ—ন চেতি। শ্যেনাদিতুল্যত্বং তস্য ব্যাবর্ত্তয়তি—ন চ তস্যেতি। অনিষিদ্ধস্যাপি তস্য স্বভাবজুগুপ্সিতত্বাত্তদনুষ্ঠায়িনঃ পাপানিবৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ—ন চেতি।

‘অবশ্যং যাতি তির্য্যক্তঃ জগদ্ধ্বা চৈবাহুতং হবিঃ।’”

ইত্যকরণে বৈশ্বদেবস্য প্রত্যবায়শ্রবণাচ্চ তদনুষ্ঠায়িনো ন পাপুলেশোহস্তীত্যাহ-অকরণে চেতি। সর্ব্বসাধারণান্নগ্রহে তু তৎপরস্য নিন্দাবচনমুপপদ্যতে, তেন তদেব গ্রাহ্যমিত্যাহ- ইতরত্রেতি। তত্রৈব শ্রুত্যন্তরং সংবাদয়তি-অহমিতি। অর্থিভ্যোহবিভজ্যান্নমদত্ত্বা স্বয়মেব ভুঞ্জানং নরমহমন্নমেব ভক্ষয়ামি তমনর্থভাজং করোমীত্যর্থঃ। ৭

দ্বে দেবানভাজয়দিতি মন্ত্রপদম্। যে দ্বে অন্নে সৃষ্ট্বা দেবানভাজয়ৎ, কে তে দ্বে? ইতি, উচ্যতে,-হুতঞ্চ প্রহুতঞ্চ। হুতমিত্যগ্নৌ হবনম্, প্রহুতং হুত্বা বলিহরণম্। যস্মাৎ দ্বে এতে অন্নে হুত-প্রহুতে দেবানভাজয়ৎ পিতা, তন্মাদেতর্হি অপি গৃহিণঃ কালে দেবেভ্যো জুহ্বতি, দেবেভ্য ইদমন্নমসমাভিদ্দীয়মানমিতি মন্থানাঃ জুব্বতি, প্রজুহ্বতি চ-হুত্বা বলিহরণঞ্চ কুর্ব্বত ইত্যর্থঃ। অথো অপ্যন্য আহুঃ- দ্বে অন্নে পিত্রা দেবেভ্যঃ প্রত্তে, ন হুত-প্রহুতে, কিং তর্হি? দর্শপূর্ণমাসাবিতি। দ্বিতিত্বশ্রবণাবিশেষাদত্যন্তপ্রসিদ্ধত্বাচ্চ হুত-প্রহুতে ইতি প্রথমঃ পক্ষঃ। ৮

মন্ত্রান্তরমাদায়াকাঙ্ক্ষাদ্বারা ব্রাহ্মণমুখাপ্য ব্যাচষ্টে-দ্বে দেবানিত্যাদিনা। হতপ্রহতরো- দেবারত্বে সম্প্রতিতনমনুষ্ঠানমনুকুলয়তি-যন্মাদিতি। পক্ষান্তরমুপন্যস্থ্য ব্যাকরোতি-অথো

89.

৩৭০। বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ইতি। যদি দর্শপূর্ব্বমাসৌ দেবান্নে, কথং তহি হতপ্রহতে ইতি পক্ষস্য প্রাপ্তিস্তত্রাহ— দ্বিত্বেতি। ৮

যদ্যপি দ্বিত্বং হুতপ্রহুতয়োঃ সম্ভবতি, তথাপি শ্রৌতয়োরেব তু দর্শপূর্ণ- মাসয়োদ্দেবান্নত্বং প্রসিদ্ধতরম্, মন্ত্রপ্রকাশিতত্বাৎ। গুণপ্রধানপ্রাপ্তৌ চ প্রধানে প্রথমতরাবগতিঃ; দর্শপূর্ণমাসয়োশ্চ প্রাধান্যং হত-প্রহতাপেক্ষয়া; তস্মাৎ তয়ো- রেব গ্রহণং যুক্তম্—দ্বে দেবানভাজয়দিতি। যম্মাদ্দেবার্থমেতে পিত্রা প্রকৃপ্তে দর্শপূর্ণমাসাপ্থ্যে অন্নে, তস্মাৎ তয়োদ্দেবার্থত্বাবিঘাতায় ন ইষ্টিযাজুক: ইষ্টিযজন- শীলঃ। ইষ্টিশব্দেন কিল কাম্যা ইষ্টয়ঃ; শাতপথী ইয়ং প্রসিদ্ধিঃ; তাচ্ছীল্য- প্রত্যর প্রয়োগাৎ কাম্যেষ্টিষজন প্রধানো ন স্যাদিত্যর্থঃ। ৯

তর্হি যে দেবানিতি শ্রুতদ্বিত্বস্য হৃতপ্রহুতয়োরপি সম্ভবান্ন প্রথমপক্ষস্থ্য পূর্ব্বপক্ষত্বমত আহ- যদ্যপীতি। প্রসিদ্ধতরত্বে হেতুমাহ-মন্ত্রেতি। ‘অগ্নয়ে জুষ্টং নির্ব্বপাম্যগ্নিরিদং হবিরজুষত’ ইত্যাদি- মন্ত্রেষু দর্শপূর্ণমাসয়োদ্দেবান্নত্বস্থ্য প্রতিপন্নত্বাদিতি যাবৎ। ইতশ্চ দর্শপূর্ণমাসয়োরেব দেবার্নত্ব- মিতি বক্তুং সামান্যন্যায়মাহ-গুণেতি। গুণপ্রধানয়োরেকত্র সাধারণশব্দাৎ প্রাপ্তৌ সত্যাং প্রথমতরা প্রধানে ভবত্যবগতিগৌণমুখ্যয়োমুখো কাৰ্য্যসংপ্রত্যয় ইতি ন্যায়াদিত্যর্থঃ। অন্তেবং, প্রস্তুতে কিং জাতং, তদাহ-দর্শপূর্ণমাসয়োশ্চেতি। তয়োর্নিরপেক্ষশ্রুতিদৃষ্টতয়া সাপেক্ষস্মৃতি- সিদ্ধ-হতাদ্যপেক্ষয়া প্রাধান্যং সিদ্ধং, তথা চ প্রধানয়োস্তয়োরিতরয়োশ্চ গুণয়োরেকত্র প্রাপ্তৌ প্রধানয়োরেব যে দেবানিতি মন্ত্রেন গ্রহো যুক্তিমানিত্যর্থঃ।

দর্শপূর্ণমাসয়োর্দেবান্নত্বে সমনন্তরনিষেধবাক্যমনুকূলয়তি-যন্মাদিতি। ইষ্টিযজনশীলো ন স্যাদিতি সম্বন্ধঃ। ননু তদ্যজনশীলস্থাভাবে কুতো দর্শপূর্ণমাসয়োদ্দেবার্থত্বং, ন হি তাবন্নিষ্পন্নৌ তদর্থাবিত্যাশঙ্ক্যাহ-ইষ্টিশব্দেনেতি। কিং পুনরস্মিন্ বাক্যে। কাম্যেষ্টিবিষয়ত্বমিষ্টিশব্দস্যেতাত্র নিয়ামকং, তত্র কিলশব্দসূচিতাং পাঠক প্রসিদ্ধিমাহ-শাতপথীতি। কাম্যেষ্টানামনুষ্ঠাননিষেধে স্বর্গকামবাক্যবিরোধঃ স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-তাচ্ছীল্যেতি। তত্র বিহিতস্যোকঞ-প্রত্যয়স্যাত্র প্রয়োগাৎ কামোষ্টিযজনপ্রধানত্বমিহ রিবিধ্যতে, তচ্চ দেবপ্রধানয়োর্দর্শপূর্ণমাসয়োরবশ্যানুষ্ঠেরত্ব- সিদ্ধার্থং, ন তু তাঃ স্বতো নিবিধ্যন্তে, তন্ন স্বর্গকামবাক্যবিরোধোহস্তীত্যর্থঃ। ৯

পশুভ্য একং প্রাযচ্ছদিতি—যৎ পশুভ্য একং প্রাযচ্ছৎ পিতা, কিং পুন- স্তদন্নম্? তৎ পরঃ। কথং পুনরবগম্যতে পশবোঽস্যায়স্য স্বামিনঃ? ইতি, অত আহ—পয়ো হি অগ্রে প্রথমং যস্মাৎ মনুষ্যাশ্চ পশবশ্চ পর এবোপজীবন্তীতি, উচিতং হি তেবাং তদন্নম্, অন্যথা কথং তদেবাগ্রে নিয়মেনোপজীবেষুঃ। ১০

পন্বয়বিষয়ং মন্ত্রপদমাদায় প্রশ্নপূর্ব্বকং তদর্থং কথয়তি-পশুভ্য ইতি। পশুনাং পয়োহন্ন- মিত্যেতদুপপাদরিতুং পৃচ্ছতি-কয়ং পুনরিতি। পয়ো হীতি প্রতীকমুপাদায় ব্যাকরোতি- অগ্রইতি। ‘পণবো দ্বিপাদশ্চতুষ্পাদশ্চ’ ইতি শ্রুতিমাত্রিত্য মনুস্ত্যাশ্চেত্যুক্তম্। উচিতং হীত্যত্র হিশবদন্তম্মাদর্থে, যস্মাদিত্যুপদ্রমাৎ। ঔচিত্যং ব্যতিরেকদ্বারা সাধরতি-অরথেতি। ১০

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৭১

কথমগ্রে তদেবোপজীবন্তীত্যুচ্যতে-মনুষ্যাশ্চ পশবশ যস্মাৎ তেনৈবান্নেন বর্তন্তে অদ্যত্বেহপি, যথা পিত্রা আদৌ বিনিয়োগঃ কৃতঃ; তস্মাৎ কুমারং বালং জাতং ঘৃতং বা ত্রৈবর্ণিকা জাতকর্মণি জাতরূপসংযুক্তং প্রতিলেহয়ন্তি প্ৰাশ- য়ন্তি, স্তনং বা অনুধাপয়ন্তি পশ্চাৎ পায়য়ন্তি যথাসম্ভবমন্যেষাম্; স্তনমেবাগ্রে ধাপ- য়ন্তি মনুষ্যেভ্যোহন্যেষাং পশুনাম্। অথ বৎসং জাতমাহুঃ-কিয়ৎপ্রমাণো বৎসইতি?-এবং পৃষ্ঠাঃ সন্তঃ-অতৃণাদ ইতি-নাদ্যাপি তৃণমত্তি, অতীব বালঃ পয়সৈবাদ্যাপি বর্তত ইত্যর্থঃ। ১১

নিয়মেন প্রথমং পশূনাং তদুপজীবনমসম্প্রতিপন্নমিতি শঙ্কতে-কপমিতি-মনুষ্যবিষয়ে বা প্রশ্নস্তদিতরপশুবিষয়ে বেতি পৃচ্ছতি-উচ্যত ইতি। তত্রাদ্যমনুভাবষ্টস্তেন প্রত্যাচষ্টে- মনুষ্যাশ্চেতি। চকারো মনুষ্যমাত্রসংগ্রহার্থঃ। তেনৈব পয়সৈবেতি যাবৎ। ঘৃতং বেতি বাশব্দো বক্ষ্যমাণবিকল্পদ্যোতকঃ। জাতরূপং হেম, ত্রৈবর্ণিকেভ্যোহন্যেষাং জাতকর্মাভাবাদ যোগ্যতামনতিক্রম্য স্তনমেব জাতং কুমারং প্রথমং পায়য়ন্তীত্যাহ-যথাসম্ভবমিতি। যদ্বা তেষাং জাতকর্মানধিকৃতানাং জাতং কুমারং ঘৃতং বা স্তনং বা প্রথমং পায়য়ন্তীতি যাবৎ। পশুবিষয়ং শ্রগ্নং পশবশ্চেতি সূচিতসমাধানং প্রত্যাহ-স্তনমেবেতি। পশূনাং জাতং বৎসমিতি সম্বন্ধঃ। পশূনাং পয়োহন্নমিত্যত্র লোকপ্রসিদ্ধিং প্রমাণয়তি-অথেতি। দ্বিপাৎপশ্বধিকারবিচ্ছেদার্থোহণ- শব্দঃ। প্রতিবচনং ব্যাচষ্টে-নাদ্যাপীতি। ১১

যচ্চাগ্রে জাতকৰ্ম্মাদৌ ঘৃতমুপজীবন্তি, যচ্চেতরে পর এব, তৎ সর্ব্বথাপি পয় এবোপজীবন্তি; ঘৃতস্যাপি পয়োবিকারত্বাৎ পরত্ত্বমেব। কস্মাৎ পুনঃ সপ্তমং সৎ পশ্বন্নং চতুর্থত্বেন ব্যাখ্যায়তে? কৰ্ম্মসাধনত্বাৎ; কৰ্ম্ম হি পরঃসাধনাশ্ররমগ্নি- হোত্রাদি; তচ্চ কৰ্ম্মসাধনং বিত্তসাধ্যং বক্ষ্যমাণস্যান্নত্রয়স্য সাধ্যস্য, যথা দর্শপূর্ণ- মাসৌ পূর্ব্বোক্তাবন্নে; অতঃ কৰ্ম্মপক্ষত্বাৎ কৰ্মণা সহ পিণ্ডীকৃত্যোপদেশঃ; সাধনত্বাবিশেষাদর্থসম্বন্ধাদানন্তর্য্যমকারণমিতি চ। ব্যাখ্যানে প্রতিপত্তি- সৌকর্যাচ্চ—সুখং হি নৈরন্তর্য্যেণ ব্যাখ্যাতুং শক্যন্তেহন্নানি, ব্যাখ্যাতানি চ সুখং প্রতীয়ন্তে। ১২

ননু যেষামগ্রে ঘৃতোপজীবিত্বমুপলভ্যতে, পয়স্তে নোপজীবন্তি, ঘৃতপয়সোর্ভেদাৎ, অতঃ পশ্বন্নত্বং পরসো ভাগাসিন্ধমত আহ-যচ্চেতি। মনু ঘৃতমুপজীবস্তোহপি পর এবোপজীবস্তীত্যযুক্তং, তত্তেদস্যোক্তত্বাৎ, তত্রাহ-ঘৃতশ্যাপীতি। মন্ত্রপাঠক্রমমতিক্রম্য পশ্বন্নে ব্যাখ্যাতে প্রত্যবতিষ্ঠতে- কস্মাদিতি। দ্বে দেবানভাজয়দিতি ব্যাখ্যাতে সাধনে সাধনত্বাবিশেষাৎ পয়োহপি বুদ্ধিস্থমিত্যর্থ- ক্রমমাশ্রিত্য পরিহরতি-কর্ম্মেতি। তদেব স্পষ্টয়তি-কর্ম হীতি। যদ্যপি পয়োরূপং সাধন- মাশ্রিত্য কর্ম্ম প্রবৃত্তং, তথাপি দর্শপূর্ণমাসানন্তর্য্যাং কথং পয়সঃ সিধ্যাতি, তত্রাহ-তচ্চেতি। বিতেন পয়সা সাধ্যং কৰ্ম্মান্নত্রয়স্য সাধনমিত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-যথেতি। পূর্ব্বোক্তৌ দর্শপূর্ণমাসৌ

৩৭২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যে দেবান্নে বক্ষ্যমাণস্যান্নত্রয়স্য যথা সাধনং, তথা পয়সোঽপ্যগ্নিহোত্রাদি দ্বারা তৎসাধনত্বাৎ কর্ম্মকোটিনিবিষ্টত্বাত্তদ্ব্যাখ্যানানন্তর্য্যং পয়োব্যাখ্যানস্য যুক্তমিত্যর্থঃ।

পাঠক্রমস্তহি কথমিত্যাশঙ্ক্যার্থক্রমেণ তদ্বাধমভিপ্রেত্যাহ-সাধনত্বেতি। আনন্তর্য্যং পাঠক্রমঃ। অকারণত্বমবিবক্ষিতত্বম্। পাঠক্রমাদর্থক্রমস্য বলীয়স্বাৎ, তেনেতরস্থ্য বাধ্যত্বমিত্যেতৎ প্রথমে তন্ত্রে স্থিতমিত্যভিপ্রেত্যাহ-ইতি চেতি। পশ্বন্নস্য চতুর্থত্বেন ব্যাখ্যানে হেত্বন্তরমাহ-ব্যাখ্যান ইতি। ব্যাখ্যানসৌকর্য্যং সাধয়তি-সুখং হীতি। প্রতিপত্তিসৌকৰ্য্যং প্রকটয়তি-ব্যাখ্যাতানীতি। চত্বারি সাধনানি, ত্রীণি সাধ্যানীতি বিভজ্যোক্তৌ বক্তশ্রোত্রোঃ সৌকৰ্য্যেণ ধীর্ভবতি, ততশ্চ পাঠক্রমাতিক্রমঃ শ্রেয়ানিত্যর্থঃ। ১২

‘তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতং যচ্চ প্রাণিতি যচ্চ ন’ ইতি, অন্য কোহর্থ ইত্যুচ্যতে- তস্মিন্ পশ্বন্নে পয়সি, সর্ব্বমধ্যাত্মাধিভূতাধিদৈবলক্ষণং কৃৎস্নং জগৎ প্রতিষ্ঠিতম্- যচ্চ প্রাণিতি প্রাণচেষ্টাবৎ, যচ্চ ন-স্থাবরং শৈলাদি। তত্র হি-শব্দেনৈব প্রসিদ্ধাবদ্যোতকেন ব্যাখ্যাতম্। কথং পয়োদব্যস্য সর্ব্বপ্রতিষ্ঠাত্বম্? কারণত্বো- পপত্তেঃ; কারণত্বঞ্চ অগ্নিহোত্রাদিকৰ্ম্মসমবায়িত্বম্; অগ্নিহোত্রাদ্যাহুতিবিপরি- ণামাত্মকঞ্চ জগৎ কৃৎস্নমিতি শ্রুতিস্মৃতিবাদাঃ শতশো ব্যবস্থিতাঃ; অতো যুক্তমেব হি-শব্দেন ব্যাখ্যানম্ ॥ ১৩

পশ্বন্নস্য সর্ব্বাধিষ্ঠানবিষয়ং মন্ত্রমবতায্য প্রশ্নপূর্ব্বকং তদীয়ং ব্রাহ্মণং ব্যাচষ্টে-তস্মিন্নিত্যাদিনা। মন্ত্রাস্তেদো ব্রাহ্মণে ন প্রতিভাতীত্যাশঙ্ক্যাহ-তত্রেতি। পয়সি হীতি ব্রাহ্মণে হি-শব্দস্য প্রসিদ্ধাবদ্যোতকত্বমস্তি। তেন চ হেতুনা হি-শব্দেন তস্মিন্নিত্যাদিকং মন্ত্রপদং ব্যাখ্যাতমিতি যোজনা।

মন্থার্থস্ত লোক প্রসিদ্ধাভাবান্ন প্রসিদ্ধাবদ্যোতিনা হিশব্দেন ব্যাখ্যানং যুক্তমিতি শঙ্কতে- কথমিতি। কাৰ্য্যং কারণে প্রতিষ্ঠিতস্মৃতি ন্যায়েন বৈদিকীং প্রসিদ্ধিমাদায় সমাধত্তে- কারণত্বেতি! পয়সো দ্রবদ্রব্যমাত্রস্থ কুতঃ সর্ব্বজগৎকারণত্বমিত্যাশঙ্ক্যাহ-কারণত্বং চেতি। ‘তৎসমবায়িত্বেহপি কুতো জগতঃ কারণতেত্যাশঙ্ক্যাহ-অগ্নিহোত্রাদীতি। ‘তে বা এতে আহতী হতে উৎক্রামতস্তে অন্তরিক্ষমাবিশতঃ’ ইত্যাদয়ঃ শ্রুতিবাদা দ্যুপর্জন্যত্রীহাদিক্রমেণাগ্নি- হোত্রাহত্যোগর্ভাকারপ্রাপ্তিং দর্শয়ন্তি।--

“যদ্যপি প্রাগ্বাহ্যং সমাগাদিসৎপাপীভবেৎ।

আদিভ্যাজ্যমৃতং বৃষভৈঃ ততঃ প্রজাঃ। ১”

ইত্যাদয়ঃ স্মৃতিবাদাঃ। পরসি হীত্যাদি ব্রাহ্মণমুপসংহরতি-অত ইতি। পয়সঃ সর্ব্বজগদা- ধারত্বস্থ্য শ্রুতিস্মৃতিপ্রসিদ্ধবাদিতি যাবৎ। ১৩

যত্তব্রাহ্মণান্তরেবিদমাহুঃ-সংবৎসরং পয়সা জুহ্বদপ পুনমৃত্যুৎ জয়তীতি; সংবৎসরেণ কিল ত্রীণি যষ্টিশতান্যাহুতীনাং সপ্ত চ শতানি বিংশতিশ্চেতি যাজুষ্মতীরিষ্টকা অভিসম্পদ্যমানাঃ সংবৎসরস্য চাহোরাত্রাণি, সংবৎসরমগ্নিং প্রজা-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৭৩

পতিমাপ্নুবন্তি; এবং কৃত্বা সংবৎসরং জুহ্বদপজয়তি পুনর্মৃত্যুম্—ইতঃ প্রেত্য দেবেষু সম্ভূতঃ পুনর্নম্রিয়তে ইত্যর্থঃ—ইত্যেবং ব্রাহ্মণবাদা আহুঃ। ১৪

সর্ব্বং পয়সি প্রতিষ্ঠিতমিতি বিধিৎসিতদর্শনস্তুতয়ে শাখান্তরীয়মতং নিন্দিতুমুদ্ভাবয়তি- যত্তদিতি। ন কেবলেন কৰ্ম্মণা মৃত্যুজয়ঃ কিন্তু দর্শনসহিতেনেতি দর্শয়িতুমগ্নিহোত্রাহুতিষু সংখ্যাং কথয়তি-সংবৎসরেণেতি। উক্তাহুতিসংখ্যায়াং সম্বৎসরাবচ্ছিন্নায়ামগ্নিহোত্রবিদাং সম্প্রতিপত্যর্থং কিলেত্যুক্তম্। ননু প্রত্যহং সায়ং প্রাতশ্চেত্যাহতী যে বিদ্যেতে, তৎ কথমা- হুতীনাং যষ্ট্যধিকানি ত্রীণি শতানি সম্বৎসরেণ ভবন্তি, তত্রাহ-সপ্ত চেতি। প্রত্যেকমহোরাত্রা- বচ্ছিন্নাহুতিপ্রয়োগাণামেকস্মিন্ সম্বৎসরে পূর্ব্বোক্তা সংখ্যা, তত্রৈব প্রয়োগার্দ্ধানাং বিংশত্যধিকা সপ্তশতরূপা সংখ্যেতি সিদ্ধমিত্যর্থঃ। আহতীনাং সংখ্যামুক্ত। তামু যাজুষ্তীনামিষ্টকানাং দৃষ্টিমাহ-যাজুষ্মতীরিতি। তাসামপি ষষ্ট্যধিকানি ত্রীণি শতানি সংখ্যয়া ভবন্তি, তথা চ প্রত্যহমাহুতীরভিনিষ্পদ্যমানাঃ সংখ্যাসামান্যেন যাজুষ্মতীরিষ্টকাশ্চিন্তয়েদিত্যর্থঃ। আহুতি- ময়ীনামিষ্টকানাং সম্বৎসরাবয়বাহোরাত্রেযু সংখ্যাসামান্যেদৈব দৃষ্টিমম্বাচষ্টে-সংবৎসরস্যেতি। তান্যপি ষষ্ট্যধিকানি ত্রীণি শতানি প্রসিদ্ধানি, তথা চতেষু যথোক্তেধিষ্টকাদৃষ্টিঃ শ্লিষ্টেত্যর্থঃ। চিত্যেংগ্নৌ সম্বৎসরাত্মপ্রজাপতিদৃষ্টিমাহ-সংবৎসরমিতি। যঃ সংবৎসরঃ প্রজাপতিস্তং চিত্যমগ্নিং বিদ্বাংসঃ সম্পাদয়ন্তি। অহোরাত্রেষ্টকাদ্বারা তয়োঃ সংখ্যাসামান্যাদিত্যর্থঃ।

দৃষ্টিমনুদ্য ফলং দর্শয়তি-এবমিতি। উক্তসংখ্যাসামান্যেনাগ্নিহোত্রাহুতীরগ্যবয়বভূতযাজুষ্মতী- সংজ্ঞকেষ্টকাঃ সম্পাদ্য তদ্রূপেণাহুতীধ্যায়ন্নাহুতিময়ীশ্চেষ্টকাঃ সংবৎসরাবয়বাহোরাত্রাণি তেনৈব সম্পাদ্য পুরুষনাড়াস্থসংখ্যাসামান্যেন তন্নাড়ীস্তান্যেবাহোরাত্রাণ্যাপাদ্য তদ্রূপেণাহুতীরিষ্টকা নাড়ীশ্চানুসন্দধানো নাড্যহোত্রযাজুমতীদ্বারা পুরুষসম্বৎসরচিত্যানাং সমত্বমাপাদ্যহমগ্নিঃ সম্বৎসরাত্মা প্রজাপতিরেবেতি ধ্যায়ন্নগ্নিহোত্রং পয়সা সম্বৎসরং জুহ্বদ্বিদ্যয়া সহিতহোমবশাৎ প্রজাপতিং সম্বৎরাত্মকং প্রাপ্য মৃত্যুমপজয়তীত্যর্থঃ। ১৪

ন তথা বিদ্যাৎ ন তথা দ্রষ্টব্যম্; যদহরের জুহোতি, তদহঃ পুনমৃত্যুমপজয়তি, ন সংবৎসরাভ্যাসমপেক্ষতে। এবং বিদ্বান্ সন্-যদুক্তং-পয়সি হীদং সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতং পয় আহুতিবিপরিণামাত্মকত্বাৎ সর্ব্বস্যেতি; তৎ-একেনৈবাহ্না জগদাত্মত্বং প্রতিপদ্যতে, তদুচ্যতে-অপজয়তি পুনমৃত্যুং পুনর্ম্মরণম্ সকৃৎ মৃত্বা বিদ্বান্ শরীরেণ বিষুজ্য সর্ব্বাত্মা ভবতি, ন পুনর্ম্মরণায় পরিচ্ছিন্নং শরীরং গৃহ্নাতীত্যর্থঃ। ১৫

একীয়মতমুপসংহৃত্য তন্নিন্দাপূর্ব্বকং মতান্তরমাহ—ইত্যেবমিত্যাদিনা। এবং বিদ্বানিত্যুক্তং ব্যক্তীকরোতি—যদুক্তমিতি। তত্তথৈব বিদ্বানেকাহোরাত্রাবচ্ছিন্নাহুতিমাত্রেণ জগদ্রূপং প্রজাপতিং প্রাপ্য মৃত্যুমপজয়তীত্যাহ—তদেকেনেতি। উক্তেহর্থে শ্রুতিমবতার্য্য ব্যাচষ্টে— তদুচ্যত ইতি। ১৫

কঃ পুনর্হেতুঃ, সর্ব্বাত্মাপ্ত্যা মৃত্যুমপজয়তীতি? উচ্যতে-সর্ব্বং সমস্তং হি যস্মাৎ দেবেতাঃ সর্ব্বেভ্যোহন্নাদ্যমন্নমেব তদাদ্যঞ্চ সায়ং প্রাতরাহুতিপ্রক্ষেপেণ

৩৭৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

প্রযচ্ছতি; তদ্যুক্তং সর্ব্বমাহুতিময়মাত্মানং কৃত্বা সর্ব্বদেবান্নরূপেণ সর্ব্বৈর্দেবৈ রেকাত্মভাবং গত্বা সর্ব্বদেবময়ো ভূত্বা পুনর্ন ম্রিয়ত ইতি। অথৈতদপ্যুক্তং ব্রাহ্মণেন-“ব্রহ্ম বৈ স্বয়ম্ভুস্তপোহতপ্যত, তদৈক্ষত, ন বৈ তপস্যানন্ত্যমস্তি, হন্তাহং ভূতেষাত্মানং জুহবানি ভূতানি চাত্মনীতি, তৎ সর্ব্বেষু ভূতেষাত্মানং হুত্বা ভূতানি চাত্মনি সর্ব্বেষাং ভূতানাং শ্রৈষ্ঠ্যং স্বারাজ্যমাধিপত্যং পর্য্যেৎ” ইতি ॥ ১৬

সর্ব্বং হীত্যাদিহেতুবাক্যমাকাঙ্ক্ষাপূর্ব্বকমুখাপ্য ব্যাকরোতি-কঃ পুনরিত্যাদিনা। যথোক্ত- দর্শনবশাদেকয়ৈবাহুত্যা মৃত্যুমপজয়তীত্যত্র ব্রাহ্মণান্তরং সংবাদয়তি-অপেতি। যথা সংবৎসর- মিত্যাদ্যুক্তং, তথা যদহরেবেত্যাদ্যপি ব্রাহ্মণান্তরে সূচিতমিত্যর্থঃ। ব্রহ্ম হিরণ্যগর্ভভাষী জীবঃ স্বয়ম্ভুঃ, পরস্যৈব তদাত্মনাবস্থানাত্তপোতপাত কর্ম্মাণ্যতিষ্ঠৎ। যৎ কৃতকং তদনিত্যমিতি ন্যায়েন কর্ম্মনিন্দাপ্রকারমাহ-তদৈক্ষতেতি। কর্ম্মসহায়কতামুপাসনামুপদিশতি-হন্তেতি। উপাসনা- মনূদ্য সমুচ্চয়ফলং কথয়তি-তৎ সর্ব্বেধিভি। শ্রেষ্ঠত্বেংপি রাজকুমারবদস্বাতন্ত্র্যমাশঙ্ক্যাহ- স্বারাজ্যমিতি। অধিষ্ঠায় পালয়িতৃত্বমাধিপত্যম্। ১৬

কস্মাত্তানি ন ক্ষীয়ন্তেহদ্যমানানি সর্ব্বদেতি। যদা পিত্রান্নানি সৃষ্ট্বা সপ্ত পৃথক্ পৃথগভোক্তৃভ্যঃ প্রত্তানি, তদাপ্রভৃত্যের তৈর্ভোক্তৃভিরদ্যমানানি তন্নিমিত্তত্বা- ত্তেষাং স্থিতেঃ—সর্ব্বদা নৈরন্তর্য্যেণ; কৃতক্ষয়োপপত্তেশ যুক্তস্তেষাৎ ক্ষয়ঃ; ন চ তানি ক্ষীয়মাণানি, জগতোহবিভ্রষ্টরূপেণৈবাবস্থানদর্শনাৎ; ভবিতব্যঞ্চাক্ষয়- কারণেন; তস্মাৎ কস্মাৎ পুনস্তানি ন ক্ষীয়ন্তে ইতি প্রশ্নঃ। ১৭

পন্বন্নে ব্যাখ্যাতে প্রশ্নরূপং মন্ত্রপদমাদত্তে-কম্মাদিতি। ননু চত্বার্য্যন্নানি ব্যাখ্যাতানি, ত্রীণি ব্যাচিখ্যাসিতানি, তেষব্যাখ্যাতেষু কস্মাদিত্যাদিপ্রশ্নঃ কস্মাদিত্যাশঙ্ক্য সাধনেষুক্তেসু সাধ্যানামপি তেষামর্থাদুক্তত্বমস্তীতাভিপ্রেত্য প্রশ্নপ্রবৃত্তিং মন্বানো ব্যাচষ্টে-বদেতি। সর্ব্বদেত্যস্য ব্যাখ্যা নৈরন্তর্য্যেণেতি। অম্লানাং যদা তোক্তভিরদ্যমানত্বে হেতুমাহ-তন্নিমিত্তত্বাদিতি। ভোক্তৃশাং স্থিতেরন্ননিমিত্তত্বাত্তৈঃ সদাদ্যমানানি তানি যবপূর্ণকুসুলবস্তবন্তি ক্ষীণানীত্যর্থঃ। কিঞ্চ জ্ঞানকর্মফলত্বাদন্নানাং যৎ কৃতকং তদনিতামিতি ন্যায়েন ক্ষয়ঃ সম্ভবতীত্যাহ-কৃতেতি। অস্ত তর্হি তেষাং ক্ষয়ঃ নেত্যাহ-ন চেতি। ভবতু তর্হি স্বভাবাদেব সপ্তান্নাত্মকন্য জগতোংক্ষীণত্বং, নেত্যাহ-ভবিতব্যং চেতি। স্বভাববাদস্যাতিপ্রসঙ্গিত্বাদিত্যর্থঃ। প্রশ্নং নিগময়তি-তস্মা- দিতি। ১৭।

তস্যেদং প্রতিবচনম্—পুরুষো বা অক্ষিতিঃ। যথাসৌ পূর্ব্বমন্নানাং স্রষ্টাসীৎ পিতা মেধয়া জায়াদিসম্বন্ধেন চ পাঃক্তকর্মণা ভোক্তা চ, তথা যেভ্যো দত্তান্যন্নানি, তেহপি তেষামন্নানাং ভোক্তারোহপি সন্তঃ পিতর এব—মেধয়া তপসা চ যতো জনয়ন্তি তান্যন্নানি। তদেতদভিধীয়তে—পুরুষো বৈ যোহন্নানাং ভোক্তা, সঃ অক্ষিতিরক্ষয়হেতুঃ। কথমস্যাক্ষিতিত্বমিত্যুচ্যতে—স হি যম্মাদিদং ভুজ্যমানং সপ্তবিধং কার্য্যকরণলক্ষণং ক্রিয়াফলাত্মকং পুনঃ পুনর্ভূয়োভূয়ো জনয়তে উৎপাদ-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৭৫

য়তি, ধিয়া ধিয়া তত্তৎকালভাবিন্যা তয়া তয়া প্রজ্ঞয়া, কৰ্ম্মভিশ্চ বাাত্মনঃকায়- চেষ্টিতৈঃ; যদ্ যদি হ—যদ্যেতং সপ্তবিধমন্নমুক্তং ক্ষণমাত্রমপি ন কুৰ্য্যাৎ প্রজ্ঞয়া কৰ্ম্মভিশ্চ, ততো বিচ্ছিদ্যেত ভুজ্যমানত্বাৎ সাতত্যেন ক্ষীয়েত হ। তস্মাদ্যথৈবায়ং পুরুষো ভোক্তা অন্নানাং নৈরন্তর্য্যেণ যথাপ্রজ্ঞং যথাকৰ্ম্ম চ করোত্যপি; তস্মাৎ পুরুষোহক্ষিতিঃ, সাতত্যেন কর্তৃত্বাৎ; তস্মাদুজ্যমানান্যপি অন্নানি ন ক্ষীয়ন্ত- ইতার্থঃ ॥ ১৮

প্রতিবচনমাদায় ব্যাচষ্টে-তস্যেতাদিনা। তেষাং পিতৃত্বে হেতুমাহ-,মেধয়েতি। ভোগ-- কালেংপি বিহিতপ্রতিষিদ্ধজ্ঞানকৰ্ম্মসম্ভবাৎ প্রবাহরূপেণান্নাক্ষয়ঃ সম্ভবতীত্যর্থঃ। তত্র প্রতিজ্ঞা- ভাগমুপাদায়াক্ষরাণি ব্যাচষ্টে-তদেতদিতি। হেতুভাগমুখাপ্য বিভজতে-কথমিত্যাদিনা। তস্মাত্তদক্ষয়ঃ সম্ভবতি প্রবাহাত্মনেতি শেষঃ। উক্তহেতুং ব্যতিরেকদ্বারোপপাদয়িতুং যদ্ধৈত- দিত্যাদি বাক্যং, তদ্ব্যাচষ্টে-যদিতি। অন্বয়ব্যতিরেকসিদ্ধং হেতুং নিগময়তি-তস্মাদিতি। তথা যথা প্রজ্ঞমিতি পঠিতব্যম্। সাধ্যং নিগময়তি-তস্মাদিতি। অক্ষয়হেতো সিদ্ধে ফলিত- মাহ-তস্মাদভুজ্যমানানীতি। ১৮

অতঃ প্রজ্ঞাক্রিয়ালক্ষণপ্রবন্ধারূঢ়ঃ সর্ব্বো লোকঃ সাধ্যসাধনলক্ষণ: ক্রিয়াফলা- ত্মকঃ সংহতানেকপ্রাণিকৰ্ম্মবাসনাসন্তানাবষ্টব্ধত্বাৎ ক্ষণিকোহশুদ্ধোহসারো নদী- স্রোতঃ-প্রদীপসন্তানকল্পঃ কদলীস্তম্ভবদসারঃ ফেনমায়ামরীচ্যন্তঃ-স্বপ্নাদিসমঃ তদাত্ম- গতদৃষ্টীনামবিকীর্য্যমাণোহনিত্যঃ সারবানিব লক্ষ্যতে; তদেতদ্বৈরাগ্যার্থমুচ্যতে— বিয়া ধিয়া জনয়তে কৰ্ম্মভিঃ, যদ্ হৈতন্ন কুৰ্য্যাৎ, ক্ষীয়েত হেতি—বিরক্তানাং হি অস্মাদ্ ব্রহ্মবিদ্যা আরন্ধব্যা চতুর্থপ্রমুখেনেতি ॥ ১৯

ধিয়া ধিয়েত্যাদিশ্রুতেঃ স হীদমিত্যত্রোক্তং পরিহারং প্রপঞ্চয়ন্ত্যাঃ সপ্তবিধান্নস্য কার্য্যত্বাৎ প্রতিক্ষণধ্বংসিত্বেহপি পুনঃ পুনঃ ক্রিয়মাণত্বাৎ প্রবাহাত্মনা তদচলং মন্দাঃ পশ্যন্তীত্যস্মিন্নর্থে তাৎপর্য্যমাহ-অত ইতি। প্রজ্ঞাক্রিয়াভ্যাং হেতুভ্যাং লক্ষ্যতে ব্যাবর্ত্তাতে-নিষ্পাদ্যতে যঃ প্রবন্ধঃ সমুদায়স্তদারূঢ়স্তদাত্মকঃ সর্ব্বো লোকশ্চেতনাচেতনাত্মকো দ্বৈতপ্রপঞ্চঃ সাধ্যত্বেন সাধনত্বেন চ বর্তমানো জ্ঞানকৰ্ম্মফলভূতঃ ক্ষণিকোহপি নিত্য ইব লক্ষ্যতে। তত্র হেতুঃ- সংহতেতি। সংহতানাং মিথঃ সহায়ত্বেন স্থিতানামনেকেষাং প্রাণিনামনন্তানি কর্মাণি বাসনাশ্চ, তৎসসন্তানেনাবষ্টব্ধত্বাদদৃঢ়ীকৃতত্বাদিতি যাবৎ। প্রাতীতিকমেব সংসারস্থ স্থৈর্য্যং ন তাত্ত্বিকমিতি বক্তুং বিশিনষ্টি-নদীতি। অসারোহপি সারবস্তাতীত্যত্র দৃষ্টান্তমাহ-কদলীতি। অশুদ্ধোৎপি শুদ্ধ- বদ্ভাতীত্যত্রোদাহরণমাহ-মায়েত্যাদিনা। অনেকোদাহরণং সংসারস্যানেকরূপত্বদ্যোতনার্থম্। কেষাং পুনরেষ সংসারোহন্যথা ভাতীত্যপেক্ষায়াং সংসারায় পরাগদৃশামিতি ন্যায়েনাহ- তদাদ্মেতি। কিমিতি প্রতিক্ষণপ্রধ্বংসি জগদিতি শ্রুত্যোচ্যতে, তত্রাহ-তদেতদিতি। বৈরাগ্যমপি কুত্রোপযুজ্যতে, তত্রাহ-বিরক্তানাং হীতি। ইতি বৈরাগ্যমর্থবদিতি শেষঃ। ১৯ যো বৈ তারক্ষিতিং বেদেতি। বক্ষ্যমাণান্যপি ত্রীণ্যন্নান্যস্মিন্নবসরে ব্যাখ্যা-

৩৭৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

তান্ত্যেবেতি কৃত্বা তেষাং বাথাত্ম্যবিজ্ঞানফলমুপসংহ্রিয়তে-যো বৈ এতামক্ষিতি- মক্ষয়হেতুং যথোক্তং বেদ-পুরুষো বা অক্ষিতিঃ, স হীদমন্নং ধিয়া ধিয়া জনয়তে কৰ্ম্মভিঃ, যদ্ধৈতন্ন কুৰ্য্যাৎ, ক্ষীয়েত হেতি-সোহন্নমত্তি প্রতীকেনেত্যস্যার্থ উচ্যতে-মুখং মুখ্যত্বং প্রাধান্যমিত্যেতৎ, প্রাধান্যেরেনবান্নানাং পিতুঃ পুরুষস্যা- ক্ষিতিত্বং যো বেদ, সোহন্নমত্তি, নান্নং প্রতি গুণভূতঃ সন্, যথা অজ্ঞঃ, ন তথা বিদ্বান্, অম্লানামাত্মভূতো ভোক্তৈব ভবতি, ন ভোজ্যতামাপদ্যতে। স দেবান্ অপিগচ্ছতি স উর্জমুপজীবতি-দেবানপিগচ্ছতি দেবাত্মভাবং প্রতিপদ্যতে, উর্জমমৃতঞ্চোপজীবতীতি যদুক্তং, সা প্রশংসা, নাপূর্ব্বার্থোহন্যোহস্তি ॥ ৫৬ ॥ ২ ॥

পুরুষোহন্নানামক্ষয়হেতুরিত্যুপপাদ্য তজ জ্ঞানমনুদ্য তৎফলমাহ-যো বৈতামিত্যাদিনা। যথোক্তমনুবদতি-পুরুষ ইতি। ফলবিষয়ং মন্ত্রপদমুপাদায় তদীয়ং ব্রাহ্মণমবতার্য্য ব্যাকরোতি- সোহন্নমিত্যাদিনা। যথোক্তোপাসনবতো যথোক্তং ফলম্। প্রাধান্যেনৈব সোহন্নমত্তীতি সম্বন্ধঃ। বিদুষোহন্নং প্রতি গুণত্বাভাবে হেতুমাহ-অন্নানামিতি। উক্তমর্থং প্রতিগৃহ্নাতি-ভোক্তৈবেতি। প্রশস্তিসিদ্ধয়ে প্রপঞ্চয়তি-স দেবানিত্যাদিনা। ৫৬। ২॥

ভাষ্যানুবাদ।—‘যৎ সপ্ত অন্ন্যানি’ ইত্যাদি। ‘যৎ’পদটি ‘অজনয়ৎ’ ক্রিয়ার বিশেষণ; ‘মেধা’ অর্থ—জ্ঞান, এবং ‘তপঃ’ অর্থ—কৰ্ম্ম; এখানে জ্ঞান ও কর্মেরই প্রসঙ্গ চলিতেছে; এইজন্য জ্ঞান ও কৰ্ম্মই মেধা ও তপঃ শব্দের অর্থ; কিন্তু অন্যপ্রকার মেধা ও তপস্যা! অর্থ নহে; কারণ, এখানে তাহাদের কোনই প্রসঙ্গ নাই। জায়াদি-লাভের উপায়স্বরূপ পাঙ্ক্ত কৰ্ম্ম[পূর্ব্বে বর্ণিত হইয়াছে], এবং পরেও “য এবং বেদ” বলিয়া জ্ঞানের প্রসঙ্গ করা হইয়াছে; অতএব এখানে লোকপ্রসিদ্ধ মেধা ও তপস্যার আশঙ্কা করা উচিত হয় না। অতএব, পিতা জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা যে সপ্তপ্রকার অন্ন উৎপাদন করিয়াছেন, ‘সে সমুদয় প্রকাশ করিব’ এইরূপ বাক্যশেষ পূরণ করিয়া লইতে হইবে।

উক্ত মন্ত্রসমূহের অর্থ প্রচ্ছন্ন থাকায়; সহজে সাধারণের বুদ্ধিগম্য হয় না; এই কারণে ব্রাহ্মণ(উপনিযদ্ভাগ) দয়া করিয়া নিজেই সেই মন্ত্রার্থ-প্রকাশে প্রবৃত্ত হইতেছেন(১)।

(১) বেদ সাধারণতঃ দুই ভাগে বিভক্ত;—(১) মন্ত্র, ও(২) ব্রাহ্মণ। মন্ত্রভাগের অধিকাংশই কর্ম্মবিধায়ক ও কর্ম্মে বিনিযুক্ত; আর ব্রাহ্মণভাগের অধিকাংশই মন্থার্থপ্রকাশনে ও জ্ঞানোপদেশে প্রযুক্ত। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই মন্ত্রের ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন; এইজন্য বেদেরও, যে অংশ মন্ত্রের রহস্য প্রকাশ করিয়াছে, সে অংশকে ‘ব্রাহ্মণ’ নামে অভিহিত করা হইয়াছে। এখানেও এই দ্বিতীয় শ্রুতিতে প্রথমোক্ত মন্ত্রগুলির ব্যাখ্যা রহিয়াছে; এইজন্য ভাষ্যকার ইহাকে ‘ব্রাহ্মণ’ শব্দে উল্লিখিত করিয়াছেন।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৭৭

তন্মধ্যে “যৎ সপ্তান্নানি মেধয়া তপসাহজনয়ৎ পিতা” এই মন্ত্রের অর্থ কি? বলা হইতেছে—প্রসিদ্ধার্থ-প্রতিপাদক হি-শব্দেই উত্তর-প্রদানের কথা বলিয়া দিতেছে; অভিপ্রায় এই যে, উক্ত মন্ত্র-সমূহের অর্থ ত প্রসিদ্ধই আছে। আর “যৎ অজনয়ৎ”(তিনি যে উৎপাদন করিয়াছিলেন,) এই বাক্যটিও অনুবাদাকারে প্রযুক্ত হইয়াছে;[প্রসিদ্ধের পুনরুল্লেখকে অনুবাদ বলে।] সুতরাং তাহা দ্বারাও ইহার প্রসিদ্ধত্বই প্রকাশ করা হইয়াছে(১); এই কারণে উক্ত ব্রাহ্মণ- শ্রুতি নিঃশঙ্কভাবেই বলিয়াছেন—“মেধয়া হি তপসা অজনয়ৎ পিতা” ইতি। ১

ভাল, জিজ্ঞাসা করি, এ কথাটী প্রসিদ্ধার্থক কিসে? হাঁ, বলা হইতেছে— জায়া হইতে কর্ম্মপর্য্যন্ত যে সমস্ত লোক-ফলের সাধন উক্ত হইয়াছে, পুরুষই সে সমুদায়ের প্রত্যক্ষসিদ্ধ পিতা, “আমার জায়া হউক” ইত্যাদি বাক্যেও সে কথাই অভিহিত হইয়াছে; আর দৈব বিত্ত বিদ্যা, কৰ্ম্ম ও পুত্র, এই তিনটি যে, ফলস্বরূপ লোকসমূহের সৃষ্টি-সাধন, এ কথাও বলা হইয়াছে; এবং পরেও যাহা বলা হইবে, তাহাও প্রসিদ্ধ আছে; অতএব “মেধয়া” ইত্যাদি কথা অবশ্যই বলা যাইতে পারে। ২

ফলের উদ্দেশ্যেই যে, এষণা বা কামনার প্রবৃত্তি হইয়া থাকে, ইহাও জগতে সুপ্রসিদ্ধ; আর জায়া প্রভৃতি বিষয়ই যে, এষণা বা এষণার বিষয়, এ কথাও “এতা- বান্ বৈ কামঃ” এই বাক্যেই অভিহিত হইয়াছে, কেননা, ব্রহ্মবিদ্যালাভে সর্ব্বত্র একত্ব দর্শনলাভ অর্থাৎ একাত্মভাব দর্শন হইয়া থাকে; সুতরাং সেখানে আর কোন প্রকার কামনা হইতে পারে না; ইহা দ্বারা এ কথাও বলা হইল যে, স্বভাবসিদ্ধ আশಾಸ್ತ್ರীয় জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা জগৎসৃষ্টি হইয়া থাকে; কেননা, স্থাবরত্বপ্রাপ্তি পর্য্যন্ত যে সকল অনিষ্ট ফল, কৰ্ম্ম-বিজ্ঞানই তাহার নিদান। প্রকৃতপক্ষে কিন্তু শাস্ত্রোক্ত সাধ্য- সাধনভাবই অর্থাৎ শাস্ত্রেতে যে যে কৰ্ম্ম ও বিজ্ঞানকে যে যে ফলের হেতু বলিয়া নির্দেশ করিয়াছে, সেইরূপ কার্য্য-কারণভাবই শ্রুতির অভিপ্রেত,(কিন্তু অশাস্ত্রীয় সাধ্যসাধনভাব নহে); কারণ, ব্রহ্মবিদ্যার বিধান করাই যখন শ্রুতির অভিপ্রেত, তখন ‘অশাস্ত্রীয় বিষয়ে বৈরাগ্য-সমুৎপাদন করাও তাহার অবশ্যই অভিপ্রেত; অতএব বুঝিতে হইবে যে, ব্যক্তাব্যক্তময় এই সমস্ত সংসারই অশুদ্ধ, অনিত্য,

(২) তাৎপর্য্য—প্রসিদ্ধ বিষয়ের প্রকাশক বাক্যকে ‘অনুবাদ’ বলে। আলোচ্য স্থলে কেবল সপ্তপ্রকার অন্নের উৎপাদন মাত্র উল্লেখ করা হইয়াছে, কিন্তু কি প্রকারে বা কখন হইয়াছে, সে সম্বন্ধে বিশেষ কোন কথাই নাই; কাজেই ইহাকে একপ্রকার সিদ্ধবৎ নির্দেশ বলা যাইতে পারে; এই জন্যই ভাষ্যকার এই কথাটাকে অনুবাদের তুল্য বলিয়াছেন।

৪৮

৩৭৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সাধ্য-সাধনভাবাপন্ন দুঃখময় এবং অবিদ্যার অধিকারভুক্ত; এইরূপ জ্ঞানবশতঃ যাহার হৃদয়ে বৈরাগ্যের সঞ্চার হইয়াছে, তাহার জন্য ব্রহ্মবিদ্যা নিরূপণ করা আবশ্যক;[কাজেই বলিতে হইবে যে, ব্রহ্মবিদ্যার জন্য বৈরাগ্য সমুৎপাদন করাই শ্রুতির অভিপ্রেত]। ৩

তন্মধ্যে এখন প্রথমতঃ অন্নসমূহের বিভাগক্রমে বিনিয়োগ বলা হইতেছে,- “একমন্য সাধারণম্” এইটুকু হইল মন্ত্র-পদ(মন্ত্রাক্ষর), তাহার ব্যাখ্যা এইরূপ- এই মন্ত্রে ‘ইহাই সামান্যতঃ ভোক্তৃগণের সাধারণ অন্ন’ এইরূপ অর্থ কথিত হই- য়াছে। ভাল, জিজ্ঞাসা করি, সেই অন্নটা কি?[উত্তর-] সমস্ত প্রাণীরা প্রত্যহ এই যাহা ভক্ষণ করে, পিতা অন্ন সৃষ্টির পর ইহাকেই সাধারণ--সর্ব্ব- ভোক্তার ভোজ্যরূপে নিরূপিত করিয়াছিলেন। যে ব্যক্তি, সর্ব্বপ্রাণীর স্থিতির হেতুভূত এই সাধারণ অন্নের উপাসনা করে, অর্থাৎ এই অন্নেই একনিষ্ঠ হয়, এবংভূত সেই লোক পাপ-অধৰ্ম্ম হইতে ব্যাবৃত্ত হয় না-পাপমুক্ত হয় না। জগতে তৎপরতা বা একনিষ্ঠা অর্থেও ‘উপাসনা’ শব্দের প্রয়োগ দেখিতে পাওয়া যায়; যেমন-‘গুরুর উপাসনা করে’ ‘রাজার উপাসনা করে’ ইত্যাদি। অতএব বুঝিতে হইবে যে, শরীর-পোষণ করাই যাহার অন্নভক্ষণের উদ্দেশ্য, কিন্তু অদৃষ্টজনক (পুণ্যোৎপাদক) কর্মানুষ্ঠানে মনোযোগ নাই, এতাদৃশ লোক পাপ-বিমুক্ত হয় না]। এতদনুরূপ মন্ত্রও আছে-‘মোঘ-বিফল অন্ন লাভ করে’ ইত্যাদি। স্মৃতি শাস্ত্রেও আছে-‘কেবল আপনার জন্য অন্ন পাক করাইবে না’, ‘যে লোক ইহাদের(দেবগণের) উদ্দেশ্যে দান না করিয়া ভোজন করে, সে ব্যক্তি নিশ্চয়ই চোর‘। ‘ভ্রূণহা অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণঘাতক(১) ব্যক্তিও তদীয় অন্নভক্ষক লাভ করিয়া পাপ হইতে বিশুদ্ধি লাভ করে’ ইত্যাদি। ৪

ভাল, পাপবিমুক্ত হয় না কেন? যেহেতু, ইহা হইতেছে পাপমিশ্রিত; কারণ, প্রাণিগণ যাহা ভোজন করিয়া থাকে, প্রকৃতপক্ষে তাহা সর্ব্বসাধারণের অবিভক্ত সম্পত্তি; সেই কারণেই ইহা মিশ্র বা অবিভক্ত ধন। দেখিতে পাওয়া যায়, যখনই কেহ একটি গ্রাস মুখমধ্যে নিক্ষেপ করে, তখনই তাহা অপরের পীড়াজনক হইয়া থাকে; কারণ, ঐ গ্রাসটি হইতেছে সর্ব্বভোজ্য অর্থাৎ সকলেরই ভোজনের যোগ্য; সেই গ্রাসের উপর সকলেই ‘ইহা আমার হউক’

‘(১) তাৎপর্য্য—এখানে ‘ভ্রূণহা’ শব্দে শ্রেষ্ঠব্রাহ্মণহত্যাকারী বুঝিতে হইবে; শাস্ত্র বলিতেছেন—“বরিষ্ঠ-ব্রহ্মহা চৈব ভ্রূণহেত্যভিধীয়তে” অর্থাৎ যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকে হত্যা করে, সে ‘ভ্রূণহা’ বলিয়া আখ্যাত হয়।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৭৯

এইরূপ আশা করিয়া থাকে; অতএব পরপীড়া সমুৎপাদন না করিয়া একটা গ্রাসও গলাধঃকরণ করা যায় না। স্মৃতিশাস্ত্রেও আছে—‘মনুষ্যগণের পাপ[অন্নাশ্রিত]’ ইত্যাদি। ৫

কেহ কেহ ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন যে, গৃহস্থগণ প্রত্যহ যে, বৈশ্বদেব যাগে অন্ন প্রদান করিয়া থাকে;[ইহা হইতেছে সেই অন্ন]। বস্তুতঃ সে অর্থ ঠিক নহে; কারণ, ‘বৈশ্বদেব’ যজ্ঞে যে অন্ন প্রদত্ত হইয়া থাকে, সর্ব্বপ্রাণিভোজ্য অন্নের ন্যায় তাহাতেও যে, সমস্ত ভোক্তার সাধারণ স্বত্ব আছে, ইহা ত প্রত্যক্ষতঃ পাওয়া যায় না; তাহার পর “যৎ ইদম্ অদ্যতে” বাক্যটিও ঐরূপ অর্থের পক্ষে অনুকূল হইতেছে না(২)। বিশেষতঃ বৈশ্বদেব-যজ্ঞীয় অন্নও যখন সর্ব্বপ্রাণীর ভুজ্যমান অন্নেরই অন্তর্গত, তখন কুকুর ও চাণ্ডালাদির ভক্ষণযোগ্য অন্নেরই গ্রহণ করা উচিত; পক্ষান্তরে, বৈশ্বদেবযজ্ঞাঙ্গ অন্ন ছাড়াও কুকুর ও চণ্ডালাদির ভক্ষণীয় অন্নের সদ্ভাব দেখিতে পাওয়া যায়; সুতরাং তদ্বিষয়ে প্রত্যক্ষবোধক ‘ইদম্’ শব্দের প্রয়োগ যুক্তিযুক্তই হয়। ৬

পক্ষান্তরে, এখানে সাধারণ অন্নবোধক অন্ন-শব্দে যদি সর্বপ্রাণিভোজ্য অন্ন গ্রহণ না করা হয়, তাহা হইলে ইহার অর্থ হয় এই যে, পিতা ইহার সৃষ্টিও করেন নাই, এবং কাহারো জন্য বিনিয়োগও করেন নাই; অথচ অন্নমাত্রই যে, তাহার সৃষ্ট এবং প্রাণিবিশেষের জন্য নির্দিষ্ট, ইহা সকলেরই অনুমোদিত। বিশে- ষতঃ শাস্ত্রোক্ত বৈশ্বদেবনামক কর্মানুষ্ঠাতার পাপস্পর্শ হওয়াও যুক্তিসঙ্গত হয় না। আর বৈশ্বদেব যাগের যে, কোথাও নিষেধ আছে, তাহাও নহে; এবং মৎস্য- হিংসাদি কার্য্যের ন্যায় ইহা যে, স্বভাবতই নিন্দিত, তাহাও নহে; কারণ, শিষ্ট লোকেরা ইহার অনুষ্ঠান করিয়া থাকেন; পক্ষান্তরে, বৈশ্বদেব-যাগের অকরণে প্রত্যবায়েরও উল্লেখ আছে; অথচ অন্নশব্দের সর্ব্বসাধারণ অন্ন অর্থ করিলে ‘যে লোক অর্থিগণকে অন্ন না দিয়া নিজে অন্ন ভক্ষণ করে, আমি তাহাকে ভক্ষণ করি’ এই মন্ত্রবচনানুসারে অত্রত্য প্রত্যবায়োক্তিও সুসঙ্গত হয়; অতএব অন্ন শব্দের সাধারণ অন্ন অর্থ গ্রহণ করাই সমীচীন। ৭

‘যে দেবান অভাজয়ৎ’ ইতি মন্ত্র,—যে দুইটি অন্ন সৃষ্টি করিয়া দেবগণের

(২) তাৎপর্য্য—‘ইদম্’ শব্দে সাধারণতঃ প্রত্যক্ষগম্য বিষয় বুঝাইয়া থাকে, কিন্তু বৈশ্বদেব যজ্ঞে যে, সকল প্রাণীই অন্ন ভক্ষণ করে, ইহা ত প্রত্যক্ষ হয় না; কাজেই শ্রুতির “যৎ ইদম্ অন্ততে” এই ‘ইদম্’ শব্দের অর্থ সঙ্গত হয় না, এই জন্য ভাষ্যকার বলিলেন যে, এ পক্ষে “যদিদমদ্যতে” বাক্যটিও অনুকূল হইতেছে না।

৩৮০. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ভোগে বিনিযুক্ত করিয়াছিলেন, সেই দুইটি অন্ন কি কি, তাহা বলা হইতেছে— তাহা হুত ও প্রহুত; হুত অর্থ—অগ্নিতে হোম করা, আর প্রহুত অর্থ—হোমা- নন্তর বলি বা উপহার প্রদান করা। যেহেতু, পিতা এই দুইটি অন্নদান করিয়া- ছিলেন; সেই হেতু এখনও গৃহস্থগণ উপযুক্ত সময়ে দেবগণের উদ্দেশ্যে হোম করিয়া থাকে,—‘আমরা এই অন্ন দেবগণের উদ্দেশ্যে প্রদান করিতেছি’ মনে করিয়া আহুতি দিয়া থাকে, এবং হোমশেষে বলিপ্রদান করিয়া থাকে। অপরে বলেন, পিতা যে, দেবগণের উদ্দেশে দুইটি অন্ন দিয়াছিলেন, তাহা হুত ও প্রহুত নহে, তবে কি? না, সে দুইটি হইতেছে দর্শ ও পূর্ণমাস নামক দুইটি যাগ।[দ্বে অন্নে এই] দ্বিত্ব-শ্রুতির কিছুমাত্র বিশেষ না থাকায়ও[বুঝিতে হইবে,] হুত ও প্রহুতের উল্লেখ প্রাথমিক অর্থাৎ আপাত উত্তরমাত্র,(কিন্তু উহা প্রকৃত উত্তর নহে)।৮

যদিও হুত-প্রহুত সম্বন্ধেও দ্বিত্বশ্রুতির উপপত্তি সম্ভবপর হয় সত্য, তথাপি শ্রুতিপ্রসিদ্ধ দর্শ ও পূর্ণমাস যাগেরই দেবান্নত্ব অপেক্ষাকৃত প্রসিদ্ধ; কারণ, মন্ত্রেই ঐরূপ অর্থ প্রকাশিত আছে। আর মুখ্য ও গৌণ, উভয়ের প্রাপ্তিসম্ভাবনাস্থলে প্রথমেই মুখ্যার্থের প্রতীতি হইয়া থাকে; এবং হত ও প্রহুত অপেক্ষা দর্শ ও পূর্ণমাস যাগের প্রাধান্যও আছে; অতএব “দ্বে দেবান্ অভাজয়ং” মন্ত্রে তদুভয়েরই গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত হয়। যেহেতু, পিতা এই দর্শ-পূর্ণমাসনামক অন্ন দুইটি দেবতা- গণের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছেন, সেই হেতু যাহাতে সেই দুইটি অন্নের দেবভোগ্যত্ব ব্যাহত না হয়, তজ্জন্য লোকে ইষ্টিযাজুক অর্থাৎ কাম্যযাগানুষ্ঠানে তৎপর হইবে না।—ইষ্টি শব্দের অর্থ কাম্য(ফলাভিলাষে অনুষ্ঠেয়) যাগ; শতপথ ব্রাহ্মণে এইরূপই প্রসিদ্ধি আছে। যজ ধাতুর উত্তর ‘তাচ্ছীল্য’ প্রত্যয় (‘উকঞ’) থাকায় বুঝিতে হইবে যে, যজ্ঞানুষ্ঠানকে প্রধান কর্তব্য মনে করিবে না। ৯

“পশুভ্য এবং প্রাবচ্ছৎ” ইতি।—পিতা পশুগণের উদ্দেশ্যে যে অন্ন প্রদান করিয়াছিলেন, সেই অন্নটি কি? সেই অন্ন—পরস্(দুগ্ধ)। ভাল, পশুগণ যে, এই অন্নের স্বামী বা অধিকারী, ইহা কিসে জানা যায়? তদুত্তরে বলিতেছেন— যেহেতু, মনুষ্য ও পশুগণ অগ্রে—ভূমিষ্ঠ হইবার পর প্রথমেই দুগ্ধ ভক্ষণ করিয়া থাকে; এই দুগ্ধরূপ অন্নই তাহাদের অভ্যস্ত বা ন্যায্য, নচেৎ প্রথমেই সকলে তাহা উপজীব্য(ভক্ষণীয়) করিবে কেন?। ১০

অপেক্ষা যে, তাহাই, তখন করে কেন, তাহা বলা হইতেছে—যেহেতু, পিতা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্। ৩৮১

প্রথমে যেরূপ নিদ্দিষ্ট করিয়া দিয়াছিলেন, মনুষ্য ও পশুগণ আজও ঠিক সেই রূপেই সেই অন্ন দ্বারাই জীবন ধারণ করিতেছে; সেই হেতু ত্রৈবর্ণিকগণ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য) জাতকর্মের সময়(১) নবজাত বালককে সুবর্ণসংযুক্ত ঘৃত লেহন করাইয়া থাকে—ভক্ষণ করাইয়া থাকে; যাহাদের জাতকর্মে অধিকার নাই, তাহারাও যথাসম্ভব ঘৃত-প্রাশনের পরে বা অগ্রে স্তন্যপান করাইয়া থাকে; মনুষ্যেতর প্রাণিগণ অগ্রেই স্তন্যপান করাইয়া থাকে। এই কারণেই নবজাত পশুবৎসকে লক্ষ্য করিয়া—‘এই বৎসটির বয়স কত?’ জিজ্ঞাসা করিলে, তদুত্তরে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বলিয়া থাকে যে, এটি ‘অতৃণাদ’ ‘এখনও তৃণ ভক্ষণ করে না, অর্থাৎ অতীব শিশু—কেবল দুগ্ধ দ্বারাই জীবন ধারণ করিতেছে’। ১১

প্রথমে যে, জাতকৰ্ম্ম-সময়ে ঘৃত ভক্ষণ করে, এবং অপর সকলে যে, দুগ্ধ পান করে, ইহা দ্বারা তাহারা সর্ব্বতোভাবে দুগ্ধসেবনই করিয়া থাকে; কারণ, ঘৃত ত দুগ্ধেরই বিকার বা পরিণতি; সুতরাং উহাও দুগ্ধেরই অন্তর্ভূত। ভাল, পশুর অন্ন হইতেছে সপ্তম, তবে তাহাকে চতুর্থরূপে ব্যাখ্যা করা হইতেছে কেন? [উত্তর-] যেহেতু, ইহা কৰ্ম্মসাধন অর্থাৎ কৰ্ম্মনিষ্পত্তির সহায়; অগ্নি-হোত্রাদি কৰ্ম্মগুলি সাধারণতঃ দুগ্ধরূপ সাধনসাপেক্ষ এবং বিত্তসাধ্য, সেই কৰ্ম্মই আবার পরবর্তী ত্রিবিধ অন্নের সাধন, অর্থাৎ বিত্ত দ্বারা কৰ্ম্ম সম্পাদন করিতে হয়, এবং সেই কৰ্ম্ম দ্বারা আবার বক্ষ্যমাণ তিন প্রকার অন্ন সমুৎপাদন করিতে হয়। পূর্ব্বোক্ত দশ-পূর্ণমাস নামক দুইটি অন্ন ইহার উদাহরণ। অতএব কর্মের সহিত সম্বন্ধ থাকায় কর্মের সঙ্গে মিলাইয়া একত্রে উপদেশ করা হইয়াছে; বিশেষতঃ ঘৃত ও দুগ্ধের কৰ্ম্মসাধনত্ব যখন তুল্য, কিছুমাত্র বিশেষ নাই, অতএব অর্থগত সান্নিধ্য অপেক্ষা পাঠলব্ধ আনন্তয্য বা সান্নিধ্য অনুপযোগী অর্থাৎ উপেক্ষণীয়। ব্যাখ্যা-সৌকর্য্যও ঐরূপ ক্রমলঙ্ঘনের অপর কারণ,-যাহার সঙ্গে যাহার পৌর্ব্বাপর্য্য আছে, পৌর্ব্বাপর্য্যক্রমে সে সমুদয়ের ব্যাখ্যা করিতেও সুবিধা হয়, কোন কষ্ট হয় না, এবং ঐরূপে ব্যাখ্যা করিলে বুঝিবার পক্ষেও বিশেষ সাহায্য হয়। ১২

“তস্মিন্ সর্ব্বং প্রতিষ্ঠিতং যচ্চ প্রাণিতি, যচ্চ ন” এই অংশের অর্থ কি, তাহা

(১) তাৎপর্য্য—‘জাতকর্ম্ম’ দশবিধসংস্কারের অন্যতম সংস্কার। পুত্র-সন্তান হইবামাত্র, পিতাকে এই সংস্কার সম্পাদন করিতে হয়। এই সংস্কারে সদ্যোজাত শিশুকে প্রথমেই স্বর্ণপাত্রস্থ ঘৃত লেহন করাইতে হয়, পরে স্তন্যপান করাইতে হয়, ঘৃত ভোজনের পূর্ব্বে শিশুকে আর কিছুই খাইতে দিবে না।

৩৮২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

বলা হইতেছে—যাহা প্রাণধারণ করে অর্থাৎ শ্বাসপ্রশ্বাসাদি প্রাণ-চেষ্টা করে, এবং যাহা প্রাণ ধারণের চেষ্টা করে না—স্থাবরপদার্থ—পর্ব্বতপ্রভৃতি, অধ্যাত্ম, অধিভূত ও অধিদৈবতাত্মক সেই নিখিল জগৎই তাহাতে—দুগ্ধে প্রতিষ্ঠিত বা আশ্রিত। যাহা বলা হইল, তাহা যে লোকপ্রসিদ্ধ, তাহা প্রসিদ্ধিজ্ঞাপক হি-শব্দে সূচিত হইয়াছে। ভাল, পয়ঃ-দ্রব্যটি সর্ব্বজগতের আশ্রয় হয় কিরূপে? হাঁ, যে হেতু উহা কারণ; এখানে কারণ অর্থ অগ্নিহোত্রাদি কৰ্ম্মনিষ্পাদক; এই নিখিল জগৎই যে, অগ্নিহোত্রাদি কর্ম্মে প্রদত্ত আহুতির পরিণাম বা ফলস্বরূপ, ইহা শত শত শ্রুতি ও স্মৃতিশাস্ত্রের স্থিরতর সিদ্ধান্ত। অতএব হি-শব্দ দ্বারা উক্ত- প্রকার প্রসিদ্ধিখ্যাপন করা যুক্তিসঙ্গতই হইয়াছে। ১৩

অপরাপর ব্রাহ্মণেও এই কথাই বলিয়াছেন—সংবৎসরকাল দুগ্ধ দ্বারা হোম করিলে পুনর্মরণ জয় করে। অভিপ্রায় এই যে, এক বৎসরে অগ্নিহোত্রবাগের আহুতি হয়—তিন শত ষাট্,[ আবার সায়ংকালের আহুতি ধরিলে সমষ্টি সংখ্যা হয়—] সাত শত কুড়ি।[ যাজুষ্মতী যাগের আহুতিসংখ্যাও এতভুল্য; সুতরাং] সংবৎসরের দিন ও রাত্রি মিলিত. হইয়া যাজুষ্মতী ইষ্টিস্বরূপ(যাগস্থানীয়) নিষ্পন্ন হয়; তাহারা সংবৎসরাত্মক অগ্নিসংজ্ঞক প্রজাপতিত্ব প্রাপ্ত হয়; এই প্রকার চিন্তাপূর্ব্বক এক বৎসর হোম করিলে পুনমৃত্যুকে জয় করে, অর্থাৎ ইহলোক হইতে প্রস্থান করিয়া দেবলোকে জন্ম ধারণ করিয়া—পুনর্ব্বার আর মরে না, বেদের ব্রাহ্মণসমূহ এই প্রকার বলিয়া থাকেন। ১৪

কিন্তু এরূপ বুঝিবে না, অর্থাৎ এরূপ মনে করিবে না যে, যে দিনে হোম করে, ঠিক সেই দিনই পুনর্মরণ জয় করে, আর সংবৎসরব্যাপী হোমের অপেক্ষা করে না। এইরূপ জ্ঞানলাভ করিয়া জ্ঞানবান্ পুরুষ পুনর্মরণ জয় করে। পূর্ব্বে যে বলা হইয়াছে, এই সমস্ত জগৎই আহুতির পরিণামস্বরূপ; সুতরাং সমস্ত জগৎই আহুতি-সাধন পয়োহবস্থিত(দুগ্ধাশ্রিত); অতএব এক দিনেই অর্থাৎ একদিনমাত্র হোমেই সর্ব্বজগদাত্মভাব লাভ করিয়া থাকে, ‘পুনর্মরণ জয় করে’ কথায় তাহাই বলা হইতেছে; অর্থাৎ বিদ্বান্ পুরুষ একবার মরিয়া—শরীরবিযুক্ত হইয়া সর্ব্বাত্মভাব প্রাপ্ত হইয়া পুনর্ব্বার মৃত্যু লাভ করিবার জন্য আর পরিচ্ছিন্ন(মনুষ্যাদি শরীর) গ্রহণ করে না। ১৫

সর্ব্বাত্মভাবপ্রাপ্তিতে যে, মৃত্যুকে জয় করা যায়, তাহার হেতু কি? বলিতেছি —যেহেতু, সে লোক সায়ং ও প্রাতঃকালীন আহুতি-সমর্পণ দ্বারা সমস্ত দেবতার উদ্দেশ্যে সমস্ত অন্নাদ্য অর্থাৎ ভক্ষণীয় দ্রব্য প্রদান করে; অতএব ইহা যুক্তিযুক্তই

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৮৩

বটে যে, সমস্ত দেবতার অন্নরূপে আপনাকে আহুতিময় করিয়া—সমস্ত দেবতার সঙ্গে একাত্মভাব বা অভিন্নভাব প্রাপ্ত হইয়া—নিজে সর্ব্বদেবময় হইয়া যান, কাজেই পুনর্ব্বার আর মৃত্যু লাভ করে না। স্বয়ং ব্রাহ্মণও এ কথা বলিয়াছেন— ‘স্বয়ম্ভু ব্রহ্মা তপস্যা করিয়াছিলেন; তিনি বুঝিতে পারিয়াছিলেন যে, তপস্যাতে অনন্ত ফল লাভ হয় না; আমি ভূতগণের উদ্দেশ্যে আপনাকে এবং ভূতসমূহকেও আমাতে আহুতি প্রদান করিব। এইরূপে আপনাকে সর্ব্বভূতে এবং সর্ব্বভূতকে আপনাতে আহুত করিয়া সর্ব্বভূতের শ্রেষ্ঠত্বরূপ স্বারাজ্য আধিপত্য লাভ করিব’ ইত্যাদি। ১৬

‘সর্ব্বদা ভক্ষিত হইয়াও সেই অন্নসমূহ ক্ষয় প্রাপ্ত হয় না কেন?’ এ কথার অর্থ এইরূপ—পিতা যে সময়ে সপ্তপ্রকার অন্ন সৃষ্টি করিয়া বিভিন্ন প্রাণীর উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন অন্ন প্রদান করিলেন, সেই সময় হইতেই সেই সমস্ত ভোক্তৃগণ- কর্তৃক অন্নসমূহ নিরন্তর ভক্ষিত হইতেছে; অতএব ক্ষয়ের কারণ বিদ্যমান থাকায় সে সমুদায়ের ক্ষয় হওয়াই উচিত; অথচ সে সমস্ত অন্ন আজও ক্ষয় প্রাপ্ত হইতেছে না; কারণ, আজও অন্ন-জগতের অক্ষুণ্ণরূপে অবস্থিতি দেখা যাইতেছে; অতএব, ইহা ক্ষয় না হইবার নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে; এইজন্য জিজ্ঞাসা হইতেছে যে, কি কারণে সে সমুদয় অন্নের ক্ষয় হইতেছে না? ১৭

ইহার প্রত্যুত্তর এই-“পুরুষঃ অক্ষিতিঃ”,-এই পিতা প্রথমে যেমন জ্ঞান ও পত্নীসাপেক্ষ পাঙক্ত কৰ্ম্ম দ্বারা উক্ত অন্ন সমূহের সৃষ্টি ও ভোগ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন, তেমনি তিনি যাহাদের উদ্দেশ্যে অন্নপ্রদান করিয়াছিলেন, তাহারাও নিশ্চয়ই সেই সমুদয় অন্নের ভোক্তা ও পিতা(স্রষ্টা) বটে; কারণ, তাহারাও স্বীয় জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা সেই সমুদয় অন্ন উৎপাদন করিতেছে। সেই এই কথাই বলা হইতেছে যে, পুরুষ-যিনি অন্ন ভোজন করিয়া থাকেন, সেই ভোক্তাই অক্ষিতি অর্থাৎ অন্নক্ষয় না হইবার কারণ। ভাল কথা, এই পুরুষই অক্ষয়ের হেতু হয় কি প্রকারে? তদুত্তরে বলিতেছেন-যেহেতু, এই পুরুষ(জীবগণ) কর্মের ফলস্বরূপ কার্য্যকরণাত্মক এই দৃশ্যমান সপ্তপ্রকার অন্ন ভোজন করত সেই পুরুষই আবার বিবিধ বুদ্ধি দ্বারা-সময়োচিত বিশেষ বিশেষ জ্ঞান দ্বারা, এবং কৰ্ম্ম দ্বারা অর্থাৎ বাক্য, মন ও শারীর চেষ্টার সাহায্যে বারংবার উৎ- পাদন করিয়া থাকে। জ্ঞান ও কর্মের সাহায্যে যদি ক্ষণকালও যথোক্ত এই সপ্তপ্রকার অন্ন সমুৎপাদন না করিত, তাহা হইলে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন হইত,

৩৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অর্থাৎ নিরন্তর ভক্ষিত হইয়া নিশ্চয়ই ক্ষয় প্রাপ্ত হইত। অতএব বুঝিতে হইবে যে, এই পুরুষ(প্রাণিগণ) যেমন সর্ব্বদা অন্ন ভক্ষণ করে, তেমনি যথাযোগ্য জ্ঞান ও কর্ম্ম দ্বারা ইহার সৃষ্টিও করে; সেই জন্যই পুরুষ ‘অক্ষিতি’ অর্থাৎ নিরন্তর অন্ন সমুৎপাদন করে, ইহাই অন্নক্ষয় না হইবার কারণ; এই হেতুই সর্ব্বদা ভক্ষিত হইয়াও অন্নসমূহ ক্ষয় প্রাপ্ত হইতেছে না। ১৮

অতএব বুঝিতে হইবে যে, জ্ঞান ও ক্রিয়াপ্রবাহানুগত কার্য্য-কারণাত্মক ও ক্রিয়াফলস্বরূপ এবং সমষ্টিভূত বহুপ্রাণীর কর্মজন্য বাসনা হইতে সমুৎপন্ন বলিয়াই ইহা ক্ষণিক অশুদ্ধ অনিত্য নদী-স্রোতঃ ও জলপ্রবাহের তুল্য, কদলীস্তম্ভের ন্যায় অসার(সত্যতারহিত) জলের ফেনা, মায়াময় মরীচিকা ও স্বপ্নাদির সদৃশ, কিন্তু * তথাপি, সংসারাসক্ত ভ্রান্ত লোকদিগের নিকট অবিকৃতভাবে অবস্থিত নিত্য সারবানের ন্যায় প্রতীত হইয়া থাকে; লোকের হৃদয়ে বৈরাগ্যসমুৎপাদনার্থ “ধিয়া ধিয়া জনয়তে” কথায় এই তত্ত্বই জ্ঞাপন করা হইতেছে। এইরূপে বিষয়-বিরক্ত লোকদিগের জন্য চতুর্থ অন্ন হইতেই ব্রহ্মবিদ্যার প্রস্তাবনা আরম্ভ করা সঙ্গত হইয়াছে। ১৯

“বো বা এতামক্ষিতিং বেদ” ইতি। যথোক্ত ব্যাখ্যা দ্বারাই অপর অন্ন- ত্রয়েরও ব্যাখ্যা সিদ্ধ হইয়া গিয়াছে; এইরূপ মনে করিয়া শ্রুতি সেই অন্নত্রয়ের তত্ত্ববিজ্ঞানের কথা না বলিয়া কেবল মাত্র ফলের উপসংহার করিয়া নিবৃত্ত হইয়া- ছেন,-যে ব্যক্তি এই অক্ষিতি অর্থাৎ অন্নক্ষয় না হইবার যথোক্ত কারণ অবগত হন, পুরুষই এই অন্নসমুহের অক্ষিতি, পুরুষই স্বীয় জ্ঞান ও কৰ্ম্ম দ্বারা পুনঃ পুনঃ এই অন্নসৃষ্টি করিয়া থাকে; পুরুষ যদি সৃষ্টি না করিত, তাহা হইলে নিশ্চয়ই অন্নের ক্ষয় হইয়া যাইত-এই রহস্য জানেন, তিনি প্রতীক দ্বারা অন্নভক্ষণ করেন। এ কথার অর্থ বলা হইতেছে-মুখ অর্থ-মুখ্য-প্রধান; যে লোক অন্নস্রষ্টা পুরুষকেই অ-ক্ষয়ের প্রধান হেতু বলিয়া জানেন, তিনি অন্ন ভোগ করেন, কখনই অন্নের অধীন হন না, অর্থাৎ যথোক্ত বিদ্যাসম্পন্ন পুরুষ অন্ন- সমূহের আত্মভূত হইয়া অন্নসমূহের ভোক্তাই হন, কিন্তু কখনও অন্য লোকের ন্যায় ভোজ্যতা প্রাপ্ত হন না। ‘তিনি দেবতাগণকে প্রাপ্ত হন এবং উত্তম জীবিকা লাভ করেন’, একথার অর্থ-দেবতাগণকে প্রাপ্ত হন-দেবভাব প্রাপ্ত হন; উর্জ-অমৃত ভোগ করেন; ইহা কেবল প্রশংসামাত্র; কারণ, তাহার পক্ষে কিছুই অপূর্ব্ব-অভিনব ভোগ্য বা প্রাপ্য থাকে না। ৫৬। ২॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্।

৩৮৫

ত্রীণ্যাত্মনেহকুরুতেতি মনো বাচং প্রাণং তান্যাত্মনেহকুরু- তান্যভ্রমনা অভুরং নাদর্শমন্যভ্রমনা। অভুবং নাশ্রৌষমিতি মনসা হ্যেব পশ্যতি মনসা শৃণোতি।

কামঃ সঙ্কল্পো বিচিকিৎসা শ্রদ্ধাহশ্রদ্ধা ধৃতিরধৃতিহ্রীধী- ভীরিত্যেতং সর্ব্বং মম এব, তস্মাদপি পৃষ্ঠত উপস্পৃষ্টো মনসা বিজানাতি, যঃ কশ্চ শব্দো বাগেব সা।

এষা হন্তমায়ত্তৈষা হি ন, প্রাণোইপানো ব্যান উদানঃ সমানোহন ইত্যেতৎ সর্ব্বং প্রাণ এবৈতন্ময়ো বা অয়মাত্মা বাঙ্ময়ো মনোময়ঃ প্রাণময়ঃ ॥ ৫৭ ॥ ৩ ॥

‘সরলার্থঃ।—“ত্রীনি আত্মনে অকুরুত” ইতি,[ইদং প্রতীকমাদায় ব্যাচষ্টে-] মনঃ বাচর প্রাণং-তানি(ত্রীনি অম্লানি) আত্মার্থং(আত্মনঃ ভোগায়) অকরুত(অজনয়ৎ)[পিতা ইতি শেষঃ]।[মনসোহস্তিত্বে লিঙ্গমাহ] অন্যত্রমনাঃ(বিষয়ান্তরাসক্তচেতাঃ) অভূবম,[অতএব] ন অদর্শং(ন দৃষ্টবান্ অশ্মি); অন্যত্রমনা অভূবং, ন অশ্রৌযং(ন শ্রুতবান্ অস্মি)।[কত এতৎ?] হি(যস্মাৎ) মনসা এব পশ্যতি, মনসা এব শৃণোতি।[মনসঃ স্বরূপমাহ] কামঃ(স্ত্রীসম্ভোগাদ্যভিলাষঃ), সংকল্পঃ(নীল- পীতাদিভেদবিকল্পনম্), বিচিকিৎসা(সংশয়জ্ঞান), শ্রদ্ধা(শাস্ত্রোক্তকর্মাদিযু আস্তিক্যবুদ্ধিঃ), অশ্রদ্ধা(তত্রাসত্যতাবুদ্ধিঃ), ধৃতিঃ(দেহাদীনামবসাদে উত্তন্তনং ধারণমিতি যাবৎ), অধৃতিঃ(তদ্বিপর্যয়ঃ), হ্রীঃ(লজ্জা), ধীঃ (জ্ঞানং), ভীঃ(ভয়ং), এতৎ সর্ব্বং মন এব(মনসঃ অন্তঃকরণস্য এতে ধৰ্ম্মা ইত্যর্থঃ)। তস্মাৎ(মনসঃ সত্ত্বাৎ হেতোঃ) পৃষ্ঠতঃ(চক্ষুরগোচরে) উপস্পৃষ্টঃ(অপি সন্) বিজানাতি(বিশেষেণ অবগচ্ছতি-যস্যায়ং স্পর্শ ইতি)। বাচঃ সম্ভাবং প্রমাণয়তি-] যঃ কশ্চ(যঃ কশ্চিং) শব্দঃ(ধ্বনিঃ), সা(সঃ) বাক্ এব;[অতঃ বাচঃ কার্য্যম্ উচ্যতে-] এষা(বাক্) হি(এব) অন্তং (বাচ্যাভিধাননির্ণয়ং) আয়ত্তা(অনুগতা-বক্তব্যপ্রকাশিকা), হি(যস্মাৎ) এষা (বাক্ পুনঃ) ন[অন্য প্রকাশ্যা]।[অথেদানীং প্রাণসদ্ভাবং সাধয়তি-] প্রাণঃ (মুখনাসিকাদিস্থানবর্তী বায়ুবিশেষঃ) অপানঃ(অধোগামী), ব্যানঃ(সর্ব্বদেহ- বর্তী), উদানঃ(উৎক্রমণহেতুঃ), সমানঃ(রসরুধিরাদি পরিণামহেতুঃ), অনঃ

৪৯

৩৮৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

(প্রাণানাং চেষ্টাসামান্যং), ইতি এতৎ সর্ব্বং প্রাণ এব,(ন প্রাণাদতিরিচ্যতে ইতি ভাবঃ)। অয়ং(দৃশ্যমানঃ) আত্মা(দেহপিণ্ডঃ) এতন্ময়ঃ(এভিঃ অম্নে- রারব্ধঃ)—বাঙ্ময়ঃ, মনোময়ঃ প্রাণময় ইত্যর্থঃ ॥ ৫৭ ॥ ৩ ॥ মূলানুবাদ:-“ত্রীণি আত্মনে অকুরুত” এই বাক্যের অর্থ বলিতেছেন[আদিকর্তা] মনঃ, বাক্ ও প্রাণ, এই তিনটী অন্ন আত্মার জন্য সৃষ্টি করিয়াছিলেন।[লোকে বলিয়া থাকে-] ‘আমার মন অন্য বিয়য়ে ছিল, তাই শুনিতে পাই নাই’,[ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে,] মন দ্বারাই দর্শন করে, এবং মন দ্বারাই শ্রবণ করে। তাহার পর, কাম(ভোগাভিলাষ), সঙ্কল্প(ভাল মন্দ চিন্তা) বিচিকিৎসা(সংশয়), শ্রদ্ধা(শাস্ত্রে ও আচার্য্য-বাক্যে দৃঢ় বিশ্বাস), অশ্রদ্ধা(শ্রদ্ধার বিপরীত). ধৃতি(ধৈর্য্য), অধৃতি(ধৈর্য্যের বিপরীত), হ্রী(লজ্জা), ধী(বুদ্ধিবৃত্তি) ও ভী(ভয়), এ সমস্ত মনই(মনেরই ধৰ্ম্ম); সেই কারণেই পশ্চান্তাগে কেহ স্পর্শ করিলেও বুঝিতে পারা যায় যে,[ইহা- অমুকের স্পর্শ]। যে কোনও রকম শব্দ হউক, সে সমস্ত বাক-ই(বাক্যের অতিরিক্ত নহে), এই বাক্ অন্তের অর্থাৎ বক্তব্য বিষয়ের প্রকাশনে পর্যাপ্ত, কিন্তু ইহা অপরের প্রকাশ্য নহে। তাহার পর, প্রাণ, অপান, ব্যান, উদান, সমান ও অন—এ সমস্তও প্রাণই; আত্মাও এতন্ময়, বাঙ্ময়, মনোময় ও প্রাণময় অর্থাৎ বাক্ মন ও প্রাণই তাহার বিশিষ্টতা- সাধন ॥ ৫৭ ॥ ৩ ॥ শাঙ্করভাষ্যম্।—পাঙ্ক্তস্য কর্ম্মণঃ ফলভূতানি যানি ত্রীণ্যন্নান্যুপক্ষিপ্তানি, তানি কার্য্যত্বাৎ বিস্তীর্ণবিষয়ত্বাচ্চ পূর্ব্বেভ্যোহন্নেভ্যঃ পৃণগুৎকৃষ্টানি; তেষাং ব্যাখ্যানার্থ উত্তরো গ্রন্থ আ ব্রাহ্মণপরিসমাপ্তেঃ। ত্রীণ্যাত্মনেহকুরুতেতি। কোহস্যার্থঃ? ইত্যুচ্যতে—মনঃ বাক্ প্রাণঃ, এতানি ত্রীণ্যন্নানি; তানি মনো বাচং প্রাণঞ্চ আত্মনে আত্মার্থমকুরুত কৃতবান্ সৃষ্ট্বা আদৌ পিতা। ১

তেষাং মনসোহস্তিত্বং স্বরূপঞ্চ প্রতি সংশয় ইত্যত আহ-অস্তি তাবৎ মনঃ শ্রোত্রাদিবাহ্যকরণব্যতিরিক্তম্; যত এবং প্রসিদ্ধম্-বাহ্যকরণবিষয়াত্মসম্বন্ধে সত্যপি অভিমুখীভূতং বিষয়ং ন গৃহ্লাতি, কিং দৃষ্টবানসীদং রূপম্? ইত্যুক্তো বদতি-অন্যত্র যে গতং মন আসীৎ, সোহহমস্তক্রমনা আসং নাদর্শম্, তথেদং শ্রুতবানসি মদীয়ং বচঃ? ইত্যুক্তঃ অন্যতমনা অভূবং নাশ্রৌষং ন শ্রুতবানস্মীতি।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্। ৩৮৭

তস্মাদ যস্যাসন্নিধৌ রূপাদিগ্রহণসমর্থস্যাপি সতশ্চক্ষুরাদেঃ স্বস্ববিষয়সম্বন্ধে রূপ- শব্দাদিজ্ঞানং ন ভবতি, যস্য চ ভাবে ভবতি, তদন্যদন্তি মনো নামান্তঃকরণং সর্ব্বকরণবিষয়োপযোগীত্যবগম্যতে। তস্মাৎ সর্ব্বো হি লোকো মনসা হ্যেব পশ্যতি মনসা শূণোতি, তদ্ব্যগ্রত্বে দর্শনাদ্যভাবাৎ। ২

অস্তিত্বে সিদ্ধে মনসঃ স্বরূপার্থমিদমুচ্যতে-কামঃ স্ত্রীব্যতিকরাভিলাষাদিঃ, সঙ্কল্পঃ প্রত্যুপস্থিতবিষয়বিকল্পনং শুক্লনীলাদিভেদেন, বিচিকিৎসা সংশয়জ্ঞানম্, শ্রদ্ধা অদৃষ্টার্থেযু কৰ্ম্মসু আস্তিক্যবুদ্ধির্দেবতাদিযু চ, অশ্রদ্ধা তদ্বিপরীতা বুদ্ধিঃ, ধৃতিঃ ধারণং-দেহাদ্যবসাদে উত্তন্তনম্, অধৃতিঃ তদ্বিপর্যয়ঃ, হ্রীঃ লজ্জা, ধীঃ প্রজ্ঞা, ভীঃ ভয়ম্, ইত্যেতৎ এবমাদিক: সর্ব্ব মন এব-মনসোহন্তকরণস্য রূপাণ্যেতানি। মনোহস্তিত্বঃ প্রত্যন্যচ্চ কারণমুচ্যতে-তস্মান্মনে: নামান্ত্যন্তঃকরণম্, যস্মাৎ চক্ষুষো হাগোচরে পৃষ্ঠতোহপ্যুপস্পৃষ্টঃ কেনচিৎ, হস্তস্যায় স্পশঃ জানোরয়মিতি বিবেকেন প্রতিপদ্যতে; যদি বিবেককৃন্মনো নাম নাস্তি, তহি ত্বম্মাত্রেণ কুতো বিবেকপ্রতি- পত্তিঃ স্যাৎ; যত্তদ্বিবেক প্রতিপত্তিকারণন্, তন্মনঃ। ৩

অস্তি তাবন্মনঃ, স্বরূপঞ্চ তস্যাধিগতম্। ত্রীণ্যন্নানীহ ফলভূতানি কৰ্ম্মণাং মনোবাক্প্রাণাখ্যানি অধ্যাত্মমধিভূতমধিদৈবঞ্চ ব্যাচিখ্যাসিতানি। তত্রাধ্যাস্মি- কানাং বাষ্মনঃপ্রাণানাং মনো ব্যাখ্যাতম্। অথেদানীং বাগ্বক্তব্যেত্যারম্ভঃ—যঃ কশ্চিল্লোকে শব্দো ধ্বনিস্তাব্বাদিব্যঙ্গ্যঃ প্রাণিভির্ব্বর্ণাদিলক্ষণঃ, ইতরো বা বাদিত্র- মেঘাদিনিমিত্তঃ, সর্ব্বো ধ্বনির্ব্বাগেব সা। ইদং তাবদ্বাচঃ স্বরূপমুক্তম্। ৪

অথ তস্যাঃ কার্য্যমুচ্যতে--এষা বাক্ হি যম্মাদ অন্তমভিধেয়াবসানমভিধেয়- নির্ণয়ম্ আয়ত্তা অনুগতা, এষা পুনঃ স্বয়ন্নাভিধেয়বং প্রকাশ্যা অভিধেয়প্রকা- শিকৈব প্রকাশাত্মকত্বাৎ প্রদীপাদিবৎ; ন হি প্রদীপাদিপ্রকাশঃ প্রকাশান্তরেণ প্রকাশ্যতে, তত্ত্বদ্বাক্ প্রকাশিকৈব স্বয়ং, ন প্রকাশ্যা-ইত্যনবস্থাং শ্রুতিঃ পরিহরতি এষা হি ন প্রকাশ্যা, প্রকাশকত্বমেব বাচঃ কার্য্যমিত্যর্থঃ। ৫

অথ প্রাণ উচ্যতে-প্রাণো মুখনাসিকাসঞ্চাৰ্য্যা হৃদয়বৃত্তিঃ, প্রণয়নাৎ প্রাণঃ; অপনয়নাম্মুত্রপুরীষাদেরপানোহধোবৃত্তিঃ আ নাভিস্থানঃ; ব্যানো ব্যায়ামনকৰ্ম্মা ব্যানঃ-প্রাণাপানয়োঃ সন্ধিবীর্য্যবৎকর্মহেতুশ্চ; উদানঃ উৎকর্ষোর্দ্ধগমনাদি- হেতুরাপাদতলমস্তকস্থান উদ্ধবৃত্তিঃ; সমানঃ সমং নয়নাদ্ভুক্তস্য পীতস্য চ কোষ্ঠস্থা- নোহন্নপক্তা। অন ইত্যেষাং বৃত্তিবিশেষাণাং সামান্যভূতা সামান্যদেহচেষ্টাসম্বন্ধিনী বৃত্তিঃ, এবং যথোক্তং প্রাণাদিবৃত্তিজাতমেতৎ সর্ব্বং প্রাণ এব। প্রাণ ইতি বৃত্তি- মান্ অধ্যাত্মিকোহন উক্তঃ; কৰ্ম্ম চাস্য বৃত্তিভেদপ্রদর্শনেনৈব ব্যাখ্যাতম্। ৬

৩৮৮. বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

ব্যাখ্যাতান্যাধ্যাত্মিকানি মনোবাক্প্রাণাখ্যান্যন্নানি; এতন্ময় এতদ্বিকারঃ প্রাজাপত্যেরেতৈর্ব্বামনঃ প্রাণৈরারব্ধঃ। কোহসাবয়ং কার্য্যকারণসঙ্ঘাতঃ? আত্মা পিণ্ড আত্মস্বরূপত্বেনাভিমতোহবিবেকিভিঃ অবিশেষেণৈতন্ময় ইত্যুক্তস্য বিশেষেণ বাঙ্ময়ো মনোময়ঃ প্রাণময় ইতি স্ফুটীকরণম্ ॥৫৭৷৩৷

টাকা। সাধনাত্মকমন্নচতুষ্টয়মন্নাক্ষয়কারণমক্ষিতিত্বগুণপ্রক্ষেপেণ পুরুষোপাসনস্য ফলঃ চোক্তমিদানীমা ব্রাহ্মণসমাপ্তেরুত্তরগ্রন্থস্য তাৎপর্য্যমাহ—পাঙ্ক্তস্যেত্যাদিনা। ব্রাহ্মণশেষস্য তাৎপৰ্য্যমুক্ত। মন্ত্রভেদমনূদ্যাকাঙ্ক্ষাদ্বারা ব্রাহ্মণমুখাপ্য ব্যাচষ্টে—ত্রীণীত্যাদিনা। জ্ঞানকৰ্ম্মভ্যাং সপ্তান্নানি সৃষ্ট্বা চত্বারি ভোক্তৃভ্যো বিভজ। ত্রীণ্যাত্মার্থং কল্পাদৌ পিতা কল্পিতবানিত্যর্থঃ। ১

অন্যত্রেত্যাদি বাক্যমুপাদত্তে-তেষামিতি। ষষ্ঠী নির্দ্ধারণার্থা। তত্র মনসোহস্তিত্বমাদৌ সাধয়তি-অস্তি তাবদিতি। আত্মেন্দ্রিয়ার্থসান্নিধ্যে সত্যপি কদাচিদেবার্থধীর্জায়মানা হেত্বন্তর মাক্ষিপতি। ন চাদৃষ্টাদি তদিতি যুক্তং, তস্য দৃষ্টসম্পাদিৎ, তন্মাদর্থাদিসান্নিধ্যে জ্ঞানকাদাচিৎ- কত্বানুপপত্তিৰ্ম্মনঃসাধিকেতার্থঃ। লোকপ্রসিদ্ধিরপি তত্র প্রমাণমিত্যাহ-যত ইতি। অতোহস্তি বাহ্যকরণাদ্যতিরিক্তং বিষয়গ্রাহি করণমিতি শেষঃ। তামেব প্রসিদ্ধিমুদাহরণনিষ্ঠতয়োদাহরতি- দৃষ্টবানিত্যাদিনা। তত্রৈবান্বয়ব্যতিরেকাবুপন্যস্থ্যতি-তস্মাদিতি। যথোক্তার্থাপত্তিলোক- প্রসিদ্ধিবণাদিতি যাবৎ। বিমতমাত্মাদ্যতিরিক্তাপেক্ষং, তস্মিন্ সত্যপি কাদাচিৎকত্বাদ ঘট- বদিত্যনুমান’ তচ্ছন্দার্থঃ। তস্মাদনুমানাদন্যদন্তি মনো নামেতি সম্বন্ধঃ। রূপাদিগ্রহণসমর্থস্তাপি সত ইতি প্রমাতোচ্যতে। অন্তঃকরণস্য চক্ষুরাদিভ্যো বৈলক্ষণমাহ-সর্ব্বেতি। সমনন্তরবাক্য ফলিতার্থবিষয়ত্বেনাদত্তে-তস্মাদিতি! তচ্ছন্দেোক্ত’ হেতু স্পষ্টয়তি-তদ্ব্যগ্রত্ব ইতি। ২

কামাদিবাক্যনবতাযং ব্যাকুলন্ মনসঃ স্বরূপং প্রতি সংশয়ং নিরস্তুতি-অস্তিত্ব ইতি। অশ্রদ্ধাদিবদকামাদিরপি বিবক্ষিতোহত্রেতি যত্ন। মনোবুদ্ধ্যোরেকত্বমুপেত্যোপসংহরতি- ইত্যেতদিতি। দ্বৈতপ্রবৃত্ত্যমুখং মনো ভোকৃকৰ্ম্মবশান্নানার্থাকারেণ বিবর্ত্তত ইত্যভিপ্রেত্যানন্তর- বাক্যমবতারয়তি-মনোহস্তিত্বমিতি। তদেবাঞ্ছৎকারণঃ ক্ষোরয়তি-যস্মাদিতি। ‘রস্মাদস্তি বিবেককারণমস্তঃকরণমিতি সম্বন্ধঃ। চক্ষুরসম্প্রয়োগাত্তেন স্পশবিশেষাদর্শনেহপি সম্প্রযুক্তয়া ত্বচা বিনাপি মনে: বিশেষদর্শনং স্যাদিত্যাশঙ্ক্যাহ-বদীতি। ত্বক্সাত্রস্য স্পর্শমাত্রগ্রাহিত্বেন বিবেচকত্বাযোগাদিত্যর্থঃ। বিবেচকে কারণান্তরে সত্যপি কৃতো মনঃসিদ্ধিপত্রাহ-যত্তদিতি। ৩

বৃত্তং কীর্তয়তি—অন্তি তাবদিতি। উত্তরগ্রন্থমবতারয়িতুং ভূমিকাং করোতি—ত্রীণীতি। এবং ভূমিকামারচয্যাধ্যাত্মিকবাগব্যাখ্যানার্থং যঃ কশ্চেত্যাদি বাক্যমাদায় ব্যাকরোতি— অথেত্যাদিনা। শব্দপর্যায়ো ধ্বনিদ্বিবিধো বর্ণাত্মকোহবর্ণাত্মকশ্চ। তত্রাত্মো ব্যবহর্তৃভিন্তাস্বাদি- স্থানব্যঙ্গঃ, দ্বিতীয়ো মেঘাদিকৃতঃ। স সর্ব্বোহপি প্রকৃত্য বাগেবেত্যর্থঃ। প্রকাশকমাত্রং বাগিত্যুক্ত্বা তত্র প্রমাণমাহ—ইদং তাবদিতি। তস্মাদভিষেয়নির্ণায়কত্বান্নাসাবপলাপার্হেতি শেষঃ। ৪

বাচোহপি প্রকাশ্যত্বাৎ কথং প্রকাশকমাত্রং বাগিত্যুক্তমিত্যাশঙ্ক্যাহ-এযেতি। দৃষ্টান্তং সমর্থরতে-ন হীতি। প্রকাশান্তরেণ সজাতীয়েনেতি শেষঃ। প্রকাশিকাপি বাক্যপ্রকাশ্যা

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমঃ ব্রাহ্মণম্। ৩৮৯

চেৎ, তত্রাপি প্রকাশকান্তরমেষ্টব্যমিত্যনবস্থা স্যাৎ, তন্নিরাসার্থমেষা হি নেতি শ্রুতিঃ প্রকাশক- মাত্রং বাগিত্যাহ। স্বপরনির্ব্বাহকস্তুশব্দঃ। তস্মাৎ প্রকাশকত্বং কাৰ্য্যং যত্র দৃশ্যতে, তত্র বাচঃ স্বরূপমনুগতমে বেত্যাহ—তদ্বদিত্যাদিনা। ৫

আধ্যাত্মিকপ্রাণবিষয়ং বাক্যমবতার্য্য ব্যাকরোতি—অপেতি। মুখাদৌ সঞ্চার্য্যা সঞ্চরণাহা হৃদয়সম্বন্ধিনী যা বায়ুবৃত্তিঃ, তত্র প্রাণশব্দপ্রবৃত্তৌ নিমিত্তমাহ—প্রণয়নাদিতি। পুরতো নিঃসরণা- দিতি যাবৎ। হৃদয়াদধোদেশে বৃত্তিরস্যেত্যধোবৃত্তিরানাভিস্থানো হৃদয়াদারভ্য নাভিপর্য্যন্তং বর্তমান ইতি যাবৎ। ব্যায়ামনং প্রাণাপানয়োনিয়মনং কর্ম্মাস্যেতি তথোক্তঃ। বীর্য্যবৎ- কৰ্ম্ম অরণ্যামগ্নুৎপাদনাদি। উৎকর্ষো দেহে পুষ্টিঃ। আদিপদেনোৎক্রান্তিরুক্তা। প্রাণশব্দেনান- শব্দস্য পুনরুক্তিমাশঙ্ক্যাহ—অন ইত্যেষামিতি।

তথাপি তৃতীয়স্য প্রাণশব্দস্য তাভ্যাং পুনরুক্তিরিতাশঙ্ক্যাহ—প্রাণইতীতি। সাধারণাসাধারণ- বৃত্তিমান্ প্রাণ ইত্যপৌনরুদ্ধমিত্যর্থঃ। মনসো দশনাদিবদ্বাচোহভিধেয়প্রকাশনবচ্চ প্রাণস্যাপি কায্যং বক্তব্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ—কর্ম্ম চেতি। ৬

এতন্ময় ইত্যত্র ময়টো বিকারার্থত্বং বৃত্তসঙ্কীর্ত্তনপূর্ব্বক কথয়তি-ব্যাখ্যাতানীতি। আধ্যাত্মি- কানা’ বাগাদীনামনারম্ভকত্বং বারয়তি-প্রজাপতৈরিতি। আরন্ধস্বরূপং প্রশ্নপূর্ব্বকমনন্তর- বাকোন নির্দ্ধারয়তি-কোৎসাবিতি। কার্য্যকরণসঙ্ঘাতে কথমাত্মশব্দপ্রবৃত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ- আত্মস্বরূপহেনেতি। বাঘ্নয় ইত্যাদিবাকাস্য পূর্ব্বেণ পৌনরুক্ত্যমাশঙ্ক্যাহ-অবিশে- ষেণেতি ॥ ৫৭ ॥ ৩ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—পূর্ব্বে পাঙ্ক্ত কর্ম্মে। ফলস্বরূপ যে তিনটি অন্ন উল্লি- খিত হইয়াছে, সেগুলি নিজে কৰ্ম্মজন্য এবং তাহাদের বিষয়ও(কার্য্যও) বিস্তীর্ণ (বহু), এইজন্য পূর্ববর্তী অন্নসমূহ অপেক্ষা স্বতন্ত্র ও উৎকৃষ্ট; সেই অন্নত্রয়ের ব্যাখ্যার জন্য পরবর্তী সমগ্র ব্রাহ্মণ আরব্ধ হইতেছে।

“ত্রীণি আত্মনে অকুরুত” এই শ্রুতির অর্থ কি, তাহা বলা হইতেছে—মনঃ, বাক্ ও প্রাণ, এই তিনটি অন্ন; পিতা প্রথমে মনঃ, বাক্ ও প্রাণ এই তিনটি অন্ন সৃষ্টি করিয়া আপনার জন্য নির্দিষ্ট রাখিলেন। ১

তন্মধ্যে মনের অস্তিত্ব ও স্বরূপ বিষয়ে লোকের সংশয় আছে; এইজন্য বলিতেছেন—শ্রোত্রাদি বহিরিন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত মন-নামে একটি বস্তু নিশ্চয়ই আছে; যেহেতু, এইরূপ লোকপ্রসিদ্ধি আছে যে, বহিরিন্দ্রিয় ও বাহ্য বিষয়ের সহিত আত্মার সম্বন্ধ সংঘটিত হইলেও ইন্দ্রিয়গণ সে বিষয় গ্রহণ করে না; যেমন—‘তুমি কি এই রূপটি দর্শন করিয়াছ?’ এই প্রকার জিজ্ঞাসিত হইয়া লোকে বলিয়া থাকে যে, আমার মন অন্য বিষয়ে সন্নিবিষ্ট ছিল, বিবয়ান্তরে নিবিষ্টচিত্ত থাকায় আমি ইহা দেখি নাই; সেইরূপ, ‘তুমি কি আমার উচ্চারিত এই শব্দ শুনিয়াছ?‘—জিজ্ঞাসা করিলে লোকে বলিয়া থাকে,—’আমার মন

৩৯০। কৃষ্ণদাসকোশনিবন্ধ।

অন্য বিষয়ে ছিল, তাই[তোমার শব্দ] শুনিতে পাই নাই।’ অতএব বুঝাইতেছে যে, চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়নিচর রূপপ্রভৃতি বাহ্য বিষয়গ্রহণে সমর্থ হইলেও এবং নিজ নিজ বিষয়ের সহিত উপযুক্ত সম্বন্ধ লাভ করিলেও, যাহার অসন্নিধানে রূপ ও শব্দাদি বিষয়ে জ্ঞান হয় না; অথচ যাহার সন্নিধান থাকিলে রূপ ও শব্দাদি বিষয়ে জ্ঞান হয়, চক্ষুঃপ্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের অতিরিক্ত এবং সমস্ত ইন্দ্রিয়ের বিষয়গ্রাহিকাশক্তির সহায়ভূত মনঃ নামে একটি স্বতন্ত্র অন্তঃকরণ আছে। অতএব, মনের ব্যগ্রতা বস্থায় যখন দর্শনাদি ব্যাপার নিষ্পন্ন হয় না, তখন মনের সাহায্যেই যে, সকল লোকে দর্শন ও শ্রবণ করিয়া থাকে, ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। ২

এইরূপে মনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হইল, এখন তাহার স্বরূপবিজ্ঞানার্থ এই কথা বলা হইতেছে-কাম-স্ত্রীসমালিঙ্গনাদির অভিলাষ, স কল্প-সম্মুখে উপস্থিত বিষয়-বিষয়ে বিকল্পনা অর্থাৎ ইহা শুক্ল ব’নীল ইত্যাদি বিতর্ক, বিচিকিৎসা-- সংশয়াত্মক জ্ঞান, শ্রদ্ধা-অদৃষ্টার্থ-পুণ্যপাপাত্মক কর্ম্মে এব দেবতা প্রভৃতি বিষয়ে আস্তিক্যবুদ্ধি(সত্যতাজ্ঞান-বিশ্বাস), অশ্রদ্ধা-শ্রদ্ধার বিশরীত, ধৃতি-- ধারণ করা অর্থাৎ দেহাদির অবসন্নতাদশায় উত্তন্তন-উত্তেজনা করা; অধৃতি-- ধৃতির বিপরীত, হ্রী-লজ্জা, ধী-প্রজ্ঞা অর্থাৎ বোধশক্তি, ভী-ভয়, এ সমস্ত মনই, অর্থাৎ এ সমস্তই অন্তঃকরণ মনের স্বরূপ। মনের অস্তিত্ববিষয়ে আরও কারণ বলা হইতেছে-যেহেতু চক্ষুর অগোচরে অর্থাৎ যে স্থান চক্ষু দ্বারা দেখিতে পাওয়া যায় না, সেরূপ স্থানও যদি কেহ স্পর্শ করে, তাহা হইলেও কেবল মনের সাহায্যেই বিস্পষ্ট রূপে বুঝিতে পারা যায় যে, এটি হস্তের স্পশ, কি-বা এটি জানুদেশের স্পর্শ। ইহা হইতেও মনোনামক অন্তঃকরণের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। যদি অনুভবগত পার্থক্য-বোধের উপায়স্বরূপ মন না থাকিত, তাহা হইলে শুধু ত্বগিন্দিয়ের সাহায্যে কখনই ঐরূপ বিবেকবোধ অর্থাৎ স্পর্শগত পার্থক্যজ্ঞান হইত না; অতএব বুঝিতে হইবে যে, বাহ’ দ্বার’ ঐরূপ স্পর্শবিবেক নিষ্পন্ন হইয়া থাকে, তাহাই মন। ৩

এইরূপে মনের অস্তিত্ব সাধিত হইল, এবং তাহার স্বরূপও নিরূপিত হইল; অতঃপর কর্ম্মের ফলস্বরূপ অধ্যাত্ম, অধিভূত ও অবিদৈবাত্মক মনঃ, বাক্ ও প্রাণ- নামক অন্নত্রয়ের ব্যাখ্যা করিতে হইবে। তন্মধ্যে আধ্যাত্মিক বাক্, মনঃ ও প্রাণ- নামক অন্নত্রয়ের মধ্যে মনের স্বরূপ ব্যাখ্যাত হইয়াছে, ইহার পর এখন বাক্-নামক অন্নের স্বরূপাদি বলা আবশ্যক; এতদর্থে পরবর্তী বাক্যের অবতারণা করা হই- তেছে।—জগতে যে কোন প্রকার শব্দ—প্রাণিগণের কণ্ঠ ও তালুপ্রভৃতি স্থানে

প্রথমাহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৯১

অভিব্যঙ্গ্য অকারাদি বর্ণাত্মক ধ্বনি, অথবা বাদ্যযন্ত্র ও মেঘাদি-সমুত্থিত অন্য প্রকার ধ্বনি,(১) সে সমস্ত ধ্বনি বাকই অর্থাৎ বাক্ হইতে পৃথক্ পদার্থ নহে। ৪

অতঃপর তাহার কার্য্য বলা হইতেছে—যেহেতু এই বাক্ অভি ধেয়ার্থ- সমাপ্তির অর্থাৎ বাচ্যার্থ নির্ণয়ের অনুগত;—অভিধেয় বা বাচ্যার্থ যেমন বাক্যের প্রকাশ্য, এই বাক্ কিন্তু সেরূপ কাহাবো প্রকাশ্য নহে, পরন্তু বাক্যার্থেরই প্রকাশিকা; কারণ, বাক্ হইতেছে—প্রদীপাদিব ন্যায় প্রকাশ-স্বভাব; প্রদীপ প্রভৃতি প্রকাশ বা আলোকপদার্থ যেমন কখনও অপর কোনও প্রকাশ দ্বারা প্রকাশিত হয় না, তেমনি এই বাক্ও অপবের প্রকাশকই হয়, কিন্তু নিজে কাহারও প্রকাশ্য হয় না। এইরূপে শ্রুতি নিজেই আশঙ্কিত ‘অনবস্থা’ দোষের পরিহার করিয়া বলিতেছেন—নিশ্চয়ই এই বাক প্রকাশ্য নহে; পরকে প্রকাশিত করাই ইহার স্বাভাবিক কার্য্য(২)। ৫

অতঃপর প্রাণের কথা বলা হইতেছে—প্রাণ অর্থ—মুখ ও নাসিকা-প্রদেশ সঞ্চবণশীল হৃদয়ন্ত বায়ুবৃত্তি বা বায়ুর ব্যাপারবিশেষ; সম্মুখদিকে নিঃসরণ করে বলিয়া—প্রাণনামে অভিহিত হয়। অপান অথ - অধোদেশগামী বায়ুবৃত্তিবিশেষ; মলমূত্রাদি অপনয়ন করে বলিয়া উহা অপান নামে অভিহিত হয়; হৃদয় হইতে

(১) তাৎপয- শব্দ সাধারণতঃ দুইপ্রকার, বণ ও ধ্বনি, তন্মবে। বর্ণাত্মক শব্দগুলি কণ্ঠ ও তালুপ্রভৃতি স্থানে আভ্যন্তরীণ বায়ুব প্রেবণ; দ্বাবা অভিব্যক্ত হইযা থাকে। যে বর্ণ যে স্থানের স্পশে প্রকাশ পাইয়া থাকে, তাহাকে সেই নামে অভিহিত করা হয়; যেমন— ‘অ’, কবগ, ‘হ’ ও বিসগ, ইহাব। কণ্ঠের সাহায্যে অভিব্যক্ত হয বলিযা কণ্ঠ্যবর্ণ। বর্ণ উচ্চা- রণের স্থান আটটি, যথা,—“অষ্টৌ স্থানানি বর্ণানামুব ঞ্চণ্ঠ’ শিবস্তথা। জিহ্বামুলঞ্চ দন্তাশ্চ নাসিকৌষ্ঠঞ্চ তালুকা।” এতদতিরিক্ত আর একপ্রকার শব্দ আছে, তাহাব নাম ধ্বনি। ধ্বনি- শব্দ সাধারণতঃ আগাতমাত্রের ফল; মৃদঙ্গাদি বাদ্যযয় ও অন্যান্য বস্তুব পবস্পব আঘাতে এই ধ্বনির সৃষ্টি হইয়া থাকে। তাই বিশ্বনাথ বলিয়াছেন—“শব্দো ধ্বনিশ্চ বর্ণশ্চ, মৃঙ্গাদিভবো ধ্বনিঃ” ইত্যাদি।

(২) তাৎপদ্য—শব্দসম্বন্ধে অনবস্থাদোষের আশঙ্কা এইরূপে হইয়াছিল—শব্দ যদি স্বপ্রকাশ না হইত, তাহা হইলে শব্দ যেরূপ অর্থ প্রকাশ করে, তদ্রূপ শব্দপ্রকাশের জন্যও অপর প্রকাশকের(শব্দের) আবশ্যক হইত; আবার সেই তৃতীয় প্রকাশকের প্রকাশের জন্যও অপর প্রকাশকের আবশ্যক হইত, এইরূপে চিরকাল প্রকাশকের অপেক্ষা থাকিয়া যাইত, ফলে কোন শব্দই অর্থপ্রকাশনে সমর্থ হইত না, এইজন্য শব্দকে স্বপ্রকাশ বলিয়া স্বীকার করা আব- শ্যক হইয়াছে। তাই ভান্তকার বলিয়া দিলেন যে, ‘থাক্ প্রকাশিকৈব, স্বযং ন প্রকাশ্যা’ ইতি।

৩৯২ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

নাভিদেশ পর্য্যন্ত ইহার প্রচারস্থান। শরীরস্থ যন্ত্রসমূহকে বিশেষরূপে সংযমন করা যাহার কার্য্য, তাহার নাম ব্যান; ব্যান বায়ু প্রাণ ও অপানের সন্ধি- স্থানীয় এবং বীর্য্যসাধ্য কর্ম্মের নিষ্পাদক। উদান—উত্তমরূপে উদ্ধগমনাদি কার্য্য নিষ্পাদনের হেতুস্বরূপ—উদ্ধগামী বায়ু, পাদতল হইতে মস্তক পর্য্যন্ত ইহার অবস্থিতির স্থান। সমান—ভুক্ত ও পীত অন্নবসাদির সমীকরণ করে, ইহা কোষ্ঠে(জঠরে) অবস্থান করে, এব ভুক্ত বস্তুব পরিপাক সাধন করে। অন অর্থ—বায়ুর বৃত্তিবিশেষ, উক্ত প্রাণ প্রভৃতিব যে, সর্ব্বপ্রকার দৈহিক চেষ্টা- সম্পর্কিত সাধারণ ব্যাপার, তাহার নাম অন। এই যে সমস্ত প্রাণাদি বৃত্তির কথা বলা হইল, ফলতঃ এ সমস্ত প্রাণই ‘প্রাণাতিবিক্তনহে’। প্রাণ শব্দে প্রাণনাদি বৃত্তিবিশিষ্ট আধ্যাত্মিক অন অর্থাৎ সাধারণ বায়ুবৃত্তি উক্ত হইল; এবং প্রাণনাদি বিশেষ বিশেষ বৃত্তিপ্রদর্শনে ইহার কার্য্যও প্রদর্শিত হইল(১।৬

এইরূপ মন, বাক ও প্রাণ-নামক অন্নত্রয় বর্ণিত হইল। ‘এতন্ময়’ অর্থ— প্রজাপতিসম্পর্কিত এই সমস্ত বাক্, মন ও প্রাণ দ্বারা ইহা নির্ম্মিত; এই দেহে- ন্দ্রিয় সমষ্টিভূত সেই বস্তুটি কি? তাহা আত্মা; এখানে আত্মা অর্থ দেহপিণ্ড; অবিবেকী লোকের’ অজ্ঞানবশতঃ এই দেহপিণ্ডকেই আত্মা বলিয়া মনে করে;

(১) তাৎপর্য্য—প্রাণ পদার্থটি যে কি, এ সম্বন্ধে বিস্তর মতভেদ দৃষ্ট হয়, তন্মধ্যে, যে দুইটি প্রধান ও বিচারসহ, তাহারই উল্লেখ করিতেছি—সাংখ্যাচায়গণ বলেন—“সামান্যকরণবৃত্তি” প্রাণাদ্য। বায়য়ঃ পঞ্চ” অর্থাৎ প্রাণ, অপান, ব্যান, সমান ও উদান, এই যে পঞ্চ প্রাণ ইহারা স্বতন্ত্র পদার্থ নহে, পরন্তু মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার প্রভৃতি আভ্যন্তরীণ করণনিচয়ের সাধারণ ব্যাপার মাত্র। অভিপ্রায় এই যে, অন্তঃকরণ প্রভৃতি প্রতিনিয়তই নিজ নিজ কায্য সম্পাদন করিয়া, থাকে, তাহাদের সেই বিশেষ বিশেষ কার্য্যের সাধারণ ফল হইতেছে—এই প্রাণ। যেমন একটা খাঁচার মধ্যে কতকগুলি পাখী থাকিলে, সেই পাখীগুলি নিজেদের প্রয়োজনীয় কায্য করিতে থাকিলে, স্বতই খাঁচাটি নড়িতে থাকে, কিন্তু কোন পাখীই-খাঁচা নাড়িবার জন্য স্বতন্ত্র ভাবে যত্ন করে না, ইহাও তেমনই বটে। বৈদান্তিকগণ এ কথায় সম্মত হন না; তাঁহারা বলেন—প্রাণ একটি স্বতন্ত্র পদার্থ; ইহা পঞ্চভূতের সমষ্টীকৃত রজোভাগ হইতে উৎপন্ন। “পঞ্চবৃত্তিরমনোবৎ বাপদিশ্যতে”(ব্রহ্মসূত্র ২।৪।১১), অর্থাৎ অন্তঃকরণ যেমন স্বরূপতঃ এক হইলেও বৃত্তি বা ব্যাপারভেদে তিনপ্রকার—মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার নামে অভিহিত হইয়া থাকে, তেমনই প্রাণ বস্তুতঃ এক হইলেও কার্য্যভেদে পাঁচপ্রকারে বিভক্ত হয় মাত্র। ভায়কার এখানে ‘ব্যান’ বায়কে বীর্য্যসাধা কার্য্য নিষ্পাদনের সহায় এবং প্রাণ ও অপান- বায়র সন্ধিস্বরূপ বলিয়াছেন। এ কথা ছান্দোগ্যোপনিষদে আরও স্পষ্টাক্ষরে কথিত হইয়াছে। যশ—“অথ যঃ প্রাণাপানয়ো সধ্যিঃ স ধ্যানঃ “ইত্যাদি(ছান্দোগ্য ১।৩।৪—৫) সেখানে দ্রষ্টব্য।

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৯৩

এইজন্য ইহাকে ‘আত্মা’ বলা হইল। ‘এতন্ময়’ শব্দে যাহার সামান্যাকারে উল্লেখ করা হইয়াছে, ‘বাত্ময়’, ‘মনোময়’ ও ‘প্রাণময়’ শব্দে তাহাকেই বিশেষভাবে নির্দেশ করিয়া পরিস্ফুট করা হইল ॥ ৩৭ ॥ ৩ ॥

আভাসভাষ্যম্।—তেবামের প্রাজাপত্যানামন্নানামাধিভৌতিকো বিস্তারোহভিধীয়তে—

আভাসভাষ্যানুবাদ।—অতঃপর উক্ত পাজাপত্য অন্নসমূহের আধি- ভৌতিক বিস্তার বর্ণিত হইতেছে—

ত্রয়ো লোক। এত এব, বাগেবায়ং লোকো মনোহন্তরিক্ষ- লোকঃ প্রাণোহসৌ লোকঃ ॥ ৫৮ ॥ ৪ ॥

সরলার্থঃ।—এতে(বাঙ্মনঃ-প্রাণাঃ) এব ত্রয়ঃ লোকাঃ(ভূর্ভুবঃ- স্বর্নামানঃ), নৈতেভ্যো ব্যতিরিক্তান্তে ইতি ভাবঃ)।[তত্র বিশেষমাহ—] বাক্ এব অয়ং(দৃশ্যমানঃ) লোকঃ(ভূঃ), মনঃ অন্তরিক্ষলোকঃ, তথা প্রাণঃ অসৌ লোকঃ(স্বর্লোকঃ)।[উক্তমন্নত্রয়মেবং চিন্তনীয়ম্ ইতি ভাবঃ] ॥৫৮৷৷৪৷৷

মূলানুবাদ।—এই যে, অন্নত্রয় উক্ত হইল, ইহারাই ত্রিলোকস্বরূপ; বাক্ই এই ভূলোক, মনই অন্তরিক্ষলোক(ভূবর্লোক), আর প্রাণ হইতেছে—স্বর্লোক, অর্থাৎ এই ত্রিলোকই উক্ত ত্রিবিধ অন্নময় ॥ ৫৮ ॥ ৪ ॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।--ত্রয়ো লোকাঃ ভূর্ভূবঃস্ববিত্যাখ্যাঃ; এত এব বাষ্মনঃ- প্রাণাঃ। তত্র বিশেষঃ-বাগেবায়, লোকঃ, মনঃ-অন্তরিক্ষলোকঃ, প্রাণোহসৌ লোকঃ ॥ ৫৮ ॥ ৪ ॥

টীকা। বাগাদীনামাধ্যাত্মিকবিভূতিপ্রদর্শনানন্তবমাধিভৌতিকবিভূতিপ্রদর্শনার্থমুত্তরগ্রন্থনব- তারয়তি-তেসামেবেতি। তত্রেত্যুক্তং সামান্যং পরামৃশতি। ৫৮। ৪।

ভাষ্যানুবাদ।—ভূঃ, ভূবঃ ও স্বঃ, এই লোকত্রয়ও এতৎস্বরূপই—বাক্, মনঃ ও প্রাণস্বরূপই; তন্মধ্যে বিশেষ এই যে, বাক্ হইতেছে—এই পৃথিবীলোক, মন হইতেছে—অন্তরিক্ষলোক, আর প্রাণ হইতেছে—স্বর্লোক ॥ ৬৮ ॥ ৪ ॥

ত্রয়ো বেদা এত এব, বাগেবর্থে দে। মনে। যজুর্ব্বেদঃ প্রাণঃ সামবেদঃ ॥ ৯॥ ৫ ॥

সরলার্থঃ।—এতে(বাঙ্মনঃপ্রাণাঃ) এব ত্রয়ঃ বেদাঃ(ঋগ্‌যজুঃ- সামাখ্যাঃ)।[তত্রায়ং বিশেষঃ—] বাক্ এব ঋগ্বেদঃ, মনঃ যজুর্ব্বেদঃ, প্রাণঃ

৩৯৪ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

সামবেদঃ;[অথর্ববেদস্য বেদত্রযান্তর্গতত্ত্বাৎ বেদস্য ত্রিত্বমিতি ভাবঃ] ॥ ৫৯ ॥ ৫ ॥ মূলানুবাদ:-ইহারাই বেদত্রয়, তন্মধ্যে বিশেষ এই যে, বাক্ই ঋগ্বেদস্বরূপ, মনই যজুর্ব্বেদস্বরূপ, এবং প্রাণই সামবেদ- স্বরূপ ॥ ৫৯ ॥ ৫ ॥ দেবাঃ পিতরো মনুষ্যা এত এব; বাগেব দেবা মনঃ পিতরঃ প্রাণো মনুষ্যাঃ ॥ ৬০ ॥ ৬ সরলার্থঃ।-এতে এব দেবাঃ পিতবঃ মনুষ্যাঃ।[তত্র] বাক্ এব দেবাঃ, মনঃ পিতবঃ, প্রাণঃ মনুষ্যা ইতি ॥ ৬০ ॥ ৬ ॥ মূলানুবাদ:-এই অন্নত্রয়ই দেবগণ, পিতৃগণ ও মনুষ্যগণ, তন্মধ্যে বাক্ দেবগণস্বরূপ, মন পিতৃগণস্বরূপ এবং প্রাণ মনুষ্যগণস্বরূপ ॥ ৬০ ॥ ৬ ॥ শাঙ্কর-ভাষ্যম্!-০॥ ৬০।৬॥ টাকা।০।৬০।৬। ভাষ্যানুবাদ।- ০॥ ৬০ ॥ ৬ ॥ পিতা মাতা প্রজৈত এব, মন এব পিতা বাঙ মাতা, প্রাণঃ প্রজা ॥ ৬১॥ ৭ ॥ সরলার্থঃ।-এতে এব পিতা, মাতা, প্রজা(সন্ততিশ্চ)।[তত্র] মনঃ এব পিতা, বাক্ মাতা, প্রাণ’ প্রজা ইতি। ৬১ ॥ ৭ ॥ মূলানুবাদ?-এই অন্নত্রয়ই পিতা, মাতা ও সন্তানস্বরূপ, তন্মধ্যে মনই পিতা, বাক্ই মাতা, এবং প্রাণই সন্তানস্বরূপ ॥ ৬১ ॥ ৭ ॥ শাঙ্করভাষ্যম্।-তথা ত্রয়ো বেদা ইত্যাদীনি বীক্যানি ঋমর্থানি ॥ ৫৯-৬১ ॥ ৫-৭ ॥ টীকা। ত্রিলোকীবাক্যবহত্তর বাক্যং বিজ্ঞাতাদিবাক্যাৎ প্রাক্তনং নেতব্যমিত্যাহ- তণেতি। ৫৯-৬১।৫-৭। ভাষ্যানুবাদ।-বেদত্রয়ও সেইরূপ। এই “ত্রয়ো বেদাঃ” ইত্যাদি তিনটা শ্রুতির অর্থ সরল;[সুতরাং ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই] ॥ ৫৯-৬১ ॥ ৫-৭ ॥ বিজ্ঞাতং বিজিজ্ঞাস্যমবিজ্ঞাতমেত এব, যৎ কিঞ্চ বিজ্ঞাতং বাচস্তদ্রূপম্, বাগ্‌হি বিজ্ঞাতা, বাগেনং তদ্‌ভূত্বাবতি ॥ ৬২ ॥ ৮ ॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৯৫

সরলার্থঃ।—তথা এতে এব বিজ্ঞাতং(বিশেষেণ জ্ঞাতং), বিজিজ্ঞাস্যং, অবি- জ্ঞাতং(চ);[তত্রায়ং বিশেষঃ—] যৎ কিঞ্চ বিজ্ঞাতং, তৎ বাচঃ(বচনস্য) রূপম্; হি(যস্মাৎ) বাক্ বিজ্ঞাতা(প্রকাশকরূপত্বাদিত্যাশয়ঃ)।[বাগ্‌বিজ্ঞানফলমুচ্যতে] বাক্ তৎ(বিজ্ঞাতং) ভূত্বা এনং(বাগ্‌বিভূতিবিদং) অবতি(পালয়তি) ॥ ৬২ ॥ ৮ ॥

মূলানুবাদঃ—বিজ্ঞাত, বিজিজ্ঞাস্য এবং অবিজ্ঞাতও ইহারাই। যাহা কিছু বিজ্ঞাত, তৎসমস্তই বাক্যের রূপ; কারণ, বাক্ নিজেই বিজ্ঞাতা: যাহা[যে লোক বাক্যের এইরূপ বিভূতি জানেন,] বাক্ নিজেই সেই বিজ্ঞাতস্বরূপ হইয়া তাহাকে পালন করিয়া থাকে ॥ ৬২ ॥ ৮ ॥

শাঙ্করভাভ্যম্।—বিজ্ঞাতং বিজিজ্ঞাস্যমবিজ্ঞাতমেত এব; তত্র বিশেষঃ —যৎকিঞ্চ বিজ্ঞাতং বিশ্লিষ্টং জ্ঞাতং, বাচস্তদ্রূপং; তত্র স্বয়মের হেতুমাহ—বাগ্‌ হি বিজ্ঞাতা, প্রকাশাত্মকত্বাৎ কথমবিজ্ঞাতা ভবেৎ, যা অন্যানপি বিজ্ঞাপয়তি; বাচৈব সম্রাড় বন্ধুঃ প্রজ্ঞায়ত ইতি হি বক্ষ্যতি। বাগ্বিশেষবিদ ইদং ফলমুচ্যতে —বাগেবৈনং যথোক্তবাগ্বিভূতিবিদং তদ্বিজ্ঞাতং ভূত্বা অবতি পালয়তি। বিজ্ঞাত- রূপেণৈবাস্যান্নং ভোজ্যতাং প্রতিপদ্যত ইত্যর্থঃ ॥ ৬২ ॥ ৮ ॥

টীকা। বিজ্ঞাতাদিবাক্যমাদায় তদা তং বিশেষং দর্শয়তি—বিজ্ঞাতমিতি। বিজ্ঞাতং সর্ব্বং বাচো রূপমিতি প্রতিজ্ঞাতোঽর্থঃ সপ্তম্যর্থঃ। প্রকাশকত্বেঽপি কথং বাচো বিজ্ঞাতত্বমিত্যা- শঙ্ক্যাহ—কথমিতি। প্রকাশাত্মকত্বমেব কুতো বাচঃ সিদ্ধমিত্যাশঙ্ক্যাহ—বাচেতি। বাগ্- বিশেষস্তদ্বিভূতিঃ॥ ৬২॥৮॥

ভাষ্যানুবাদ।—আর যে, বিজ্ঞাত, বিজিজ্ঞাস্য ও অবিজ্ঞাত, তাহাও এই অন্নত্রয়ই বটে। তাহাতে বিশেষ এই যে, যাহা কিছু বিজ্ঞাত, অর্থাৎ বেশ উত্তম- রূপে জ্ঞাত, তাহা সমস্তই বাক্যের রূপ। শ্রুতি নিজেই সে সম্বন্ধে হেতু প্রদর্শন করিতেছেন—যেহেতু বাক্ই বিজ্ঞাতা; কারণ, বাক্ নিজেই প্রকাশাত্মক; যাহা অন্য পদার্থ বিজ্ঞাপিত করিয়া দেয়, সে নিজে অবিজ্ঞাত থাকিবে কিরূপে? অভি- প্রায় এই যে, যে বাক্(শব্দ) নিজে অবিজ্ঞাত থাকে, সে কখনই অপরকে বিজ্ঞা- পিত বা প্রকাশিত করিতে পারে না। ইহার পরেও বলিবেন যে, ‘হে সম্রাট্, বাক্যেই বন্ধু জানা যায়’ ইতি। যথোক্ত প্রকার বাক্যমহিমাভিজ্ঞ ব্যক্তির এইরূপ ফল বলা হইতেছে—বাক্ নিজেই স্বীয় বিভূতিস্বরূপ হইয়া উক্তপ্রকার বাগ্‌বিভূ- তিজ্ঞ লোককে রক্ষা করিয়া থাকেন,—অন্ন ইহার পরিজ্ঞাতভাবে ভোজনীয় হইয়া থাকে। অভিপ্রায় এই যে, যে যে অন্ন-ভোজন করিতে হইবে, তাহা তিনি পূর্ব্বেই জানিতে পারেন॥ ৬২॥৮॥

৩৯৬ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

যৎ কিঞ্চ বিজিজ্ঞাস্যং মনসস্তদ্রূপং, মনো হি বিজিজ্ঞাস্যং, মন এনং তদ্‌ভূত্বাবতি ॥ ৬৩ ॥ ৯ ॥

সরলার্থঃ।—যৎ কিঞ্চ বিজিজ্ঞাস্যং, তৎ মনসঃ রূপম্; হি(যস্মাৎ) মনঃ বিজিজ্ঞাস্যং(জিজ্ঞাসা মনোধর্ম্ম ইত্যর্থঃ), ততশ্চ মনঃ তৎ(বিজিজ্ঞাস্যং) ভূত্বা এনং(মনোবিভূতিবিদং) অবতি(রক্ষতি) ॥ ৬৩॥ ৯॥

মূলানুবাদ।—যাহা কিছু বিশেষরূপে জিজ্ঞাস্য, তাহা মনেরই রূপ; যেহেতু, মনই বিজিজ্ঞাস্য; মনই বিজিজ্ঞাস্যরূপ ধারণ করিয়া ইহাকে(মনের মহিমাভিজ্ঞকে) রক্ষা করেন ॥ ৬৩॥ ৯॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—তথা যৎ কিঞ্চ বিজিজ্ঞাস্যং, বিশ্পষ্টং জ্ঞাতুমিষ্টং বিজিজ্ঞাস্যম্, তং সর্ব্বং মনসো রূপম্; মনঃ হি যস্মাৎ সন্দিহ্যমানাকারত্বাদ্বিজি- জ্ঞাস্যম্ পূর্ব্ববন্মনোবিভূতিবিদঃ ফলং—মন এনং তদ্বিজিজ্ঞাস্যং ভূত্বাবতি বিজিজ্ঞাস্য-স্বরূপেণৈবান্নত্বমাপদ্যতে ॥ ৬৩॥ ৯॥

টীকা। সন্দিহ্যমানাকারত্বাৎ সঙ্কলবিকরাত্মকত্বাদিতি যাবৎ; তস্মাৎ সর্ব্বং বিজিজ্ঞাস্য: মনোরূপমিতি সম্বন্ধঃ। পূর্ব্ববদ্বাগ্বিভূতিবিদো যথা ফলমুক্তং, তদ্বদিতি যাবৎ। ৬৩।৯।

ভাষ্যানুবাদ।—সেইরূপ যাহা কিছু বিজিজ্ঞাস্য—বিস্পষ্টরূপে জানিতে অভীষ্ট, সে সমস্তই মনের রূপ; কেননা, সন্দিহমান আকারেই মন প্রকটিত হয়, অর্থাৎ সংশয় করাই মনের স্বাভাবিক ধৰ্ম্ম; এই জন্য মনই বিজিজ্ঞাস্যরূপে পরিগৃহীত। পূর্ব্বের ন্যায়, মনের বিভূতিজ্ঞ ব্যক্তিরও ফল এই যে, মন নিজেই সেই বিজিজ্ঞাস্য বস্তুস্বরূপ হইয়া ইহাকে(মনের বিভূতিজ্ঞকে) রক্ষা করিয়া থাকে, অর্থাৎ বিজিজ্ঞাস্যরূপেই তাহার অন্নভাব প্রাপ্ত হইয়া থাকে॥ ৬৩॥ ৯॥

যৎ কিঞ্চাবিজ্ঞাতং প্রাণস্য তদ্রূপং, প্রাণো হ্যবিজ্ঞাতঃ; প্রাণ এনং তদ্‌ভূত্বাহবতি ॥ ৬৪ ॥ ১০ ॥

সরলার্থঃ।—যৎ কিঞ্চ অবিজ্ঞাতং(জ্ঞানাবিষয়ীভূতম্), তৎ(তৎ সর্ব্বং) প্রাণস্তু রূপম্; হি(যতঃ) প্রাণঃ অবিজ্ঞাতঃ। প্রাণঃ তৎ(অবিজ্ঞাতং) ভূত্বা এনং(প্রাণবিভূতিবিদং) অবতি(রক্ষতি)। ৬৪॥ ০০॥

মূলানুবাদঃ—যাহা কিছু অবিজ্ঞাত বস্তু, তৎসমস্তই প্রাণের রূপ; যেহেতু, প্রাণই স্বরূপতঃ অবিজ্ঞাত। প্রাণই সেই অবিজ্ঞাত রূপ ধারণ করিয়া প্রাণবিভূতিজ্ঞ লোককে রক্ষা করিয়া থাকে। ৬৪। ১০॥

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্। ৩৯৭

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—তথা যৎ কিঞ্চ অবিজ্ঞাতং বিজ্ঞানাগোচরং, ন চ সন্দিহ্যমানং, প্রাণস্য তদ্রূপং, প্রাণো হ্যবিজ্ঞাতঃ; অবিজ্ঞাতরূপো হি যস্মাৎ প্রাণো- হনিরুক্তশ্রুতেঃ। বিজ্ঞাত-বিজিজ্ঞাস্যাবিজ্ঞাতভেদেন বাষ্মনঃপ্রাণবিভাগে স্থিতে ত্রয়ো লোকা ইত্যাদয়ো বাচনিকা এব। সর্ব্বত্র বিজ্ঞাতাদিরূপদর্শনাদ্বচনাদেব তস্য নিয়মঃ স্মর্তব্যঃ। প্রাণ এনং তদ্‌ভূত্বা অবতি—অবিজ্ঞাতরূপেণৈবাস্য প্রাণো- হন্নং ভবতীত্যর্থঃ। শিষ্যপুত্রাদিভিঃ সন্দিহ্যমানাবিজ্ঞাতোপকারকা আচার্য্য- পিত্রাদয়ো দৃশ্যন্তে; তথা মনঃপ্রাণয়োরপি সন্দিহ্যমানাবিজ্ঞাতয়োরন্নত্বোপ- পত্তিঃ ॥ ৬৪ ॥ ১০ ॥

টীকা। অনিরুক্তশ্রুতেরবিজ্ঞাতরূপে। যস্মাৎ প্রাণস্তম্মাদবিজ্ঞাতং সবং প্রাণস্য রূপমিতি যোজনা। বিজ্ঞাতাদিরূপাতিরেকেণ লোকবেদাদ্যভাবাদ্বিজ્ઞাতাদিরূপত্বাভিধানেনৈব বাগাদীনাং লোকাদ্যাত্মত্বে সিদ্ধে কিমর্থং ত্রয়ো লোকা ইত্যাদিবাক্যমিত্যাশঙ্ক্য তথৈব ধ্যানার্থমিত্যাহ- বিজ্ঞাতেতি। ভূরাদিধেকৈকত্র বিজ্ঞাতাদিত্রয়দৃষ্টেব্বাগাদেশ ব্যবস্থিতত্বাৎ কুতো বিজ্ঞাতা- দেব্বামাদ্যাত্মকত্বং নিয়ন্তং শক্যমিত্যাশঙ্ক্যাহ-সবত্রেতি। প্রাণবিভূতিবিদঃ সম্প্রতি ফলং কথয়তি-প্রাণ ইতি। লোকে বিজ্ঞাতস্যৈব ভোজ্যত্বোপলন্তাদবিজ্ঞাতাদিরূপেণ প্রাণাদেন ভোজ্যত্বোপপত্তিরিত্যাশঙ্ক্যাহ-শিষ্যেতি। শিষ্যেরবিবেকিভিঃ সন্দিহ্যমানোপকারা অপি গুরব- স্তেষাং ভোজ্যতামাপদ্যমানা দৃশ্যন্তে, পুত্রাদিভিশ্চাতিবালৈরবিজ্ঞাতোপকারাঃ পিত্রাদয়স্তেষাং ভোজ্যত্বমাপদ্যন্তে, তথা প্রকৃতেহপি সম্ভবতীত্যর্থঃ। ৬৪। ১০॥

ভাষ্যানুবাদ।—সেইপ্রকার, যাহা কিছু অবিজ্ঞাত অর্থাৎ বিজ্ঞানের অগোচর অথচ সন্দেহাস্পদও নহে, তাহাই প্রাণের রূপ; কারণ, শ্রুতিতে প্রাণকে অনিরুক্ত বলায়[বুঝা যাইতেছে যে,] প্রাণ স্বরূপতঃ অবিজ্ঞাতই বটে। বাক্ মন ও প্রাণের যথাক্রমে বিজ্ঞাত, বিজিজ্ঞাস্য ও অবিজ্ঞাতভেদে বিভাগ স্থিরতর থাকিতেও যে, আবার “ত্রয়ো লোকাঃ” ইত্যাদি বিভাগ, তাহা কেবল বাচনিক অর্থাৎ লোকাদিরূপে ধ্যানের প্রয়োজন আছে বলিয়াই স্বয়ং শ্রুতি ঐরূপ উপদেশ করিয়াছেন। পূর্ব্বোক্ত সকল স্থলে বিজ্ঞাতাদিভাব স্বাভাবিক দেখিতে পাওয়া যায়; অতএব এই শ্রুতিবাক্যানুসারেই লোকাদি-দৃষ্টিতেও ধ্যানের অবশ্যকর্তব্যতা বুঝিতে হইবে। ‘প্রাণ তাহা হইয়া ইহাকে রক্ষা করে’ কথার অর্থ এই—প্রাণ যে, বিদ্বানের অন্নস্বরূপ হইয়া থাকে, তাহা তাহার বিজ্ঞাতরূপ নহে; পরন্তু সম্পূর্ণ অবিজ্ঞাত, অর্থাৎ প্রাণ যে, তাহার পোষণ করিতেছে, ইহা তাহার অবিজ্ঞাত বা জ্ঞানগম্য নহে। অনেক সময় দেখিতে পাওয়া যায় যে, আচার্য্য ও পিতা প্রভৃতি হিতৈষী লোকেরা যে উপকারসাধন করেন, শিষ্য ও পুত্র প্রভৃতি সে উপকার বুঝিতে পারে না, অথবা তদ্বিষয়ে সম্পূর্ণ সন্দিহান থাকে; সেইরূপ মন ও প্রাণ

৩৯৮ বৃহদারণ্যকোপনিষদ্।

অবিজ্ঞাত বা সন্দেহাস্পদ থাকিয়াও তাহাদের অন্নভাবপ্রাপ্ত হয়, ইহা বিরুদ্ধ হইতে পারে না ॥ ৬৪ ॥ ১০ ॥

আভাষ-ভাষ্যম্।—ব্যাখ্যাতো বাঘনঃপ্রাণানামাধিভৌতিকো বিস্তারঃ, অথায়মাধিদৈবিকার্থ আরম্ভঃ—

আভাষ-ভাষ্যানুবাদ।—বাক্, মন ও প্রাণের আধিভৌতিক বিস্তার বা মহিমা বর্ণিত হইল, অতঃপর আধিদৈবিক বিস্তারপ্রদর্শনার্থ পরবর্তী শ্রুতি আরব্ধ হইতেছে—

তস্যৈ বাচঃ পৃথিবী শরীরং জ্যোতীরূপময়মগ্নিস্তদ্যাবত্যেব বাক্ তাবতী পৃথিবী তাবানয়মগ্নিঃ ॥ ৬৫ ॥ ১১ ॥

সরলার্থঃ।—তস্যৈ(তস্যাঃ প্রজাপতেরন্নভূতায়াঃ) বাচঃ[ইয়ং অপ্রকা- শাত্মিকা] পৃথিবী শরীরং(বাহ্যভূতঃ আধারঃ), অয়ম্ অগ্নিঃ জ্যোতীরূপং (প্রকাশাত্মকং করণস্বরূপং চ শরীরং), তৎ(তস্মাৎ হেতোঃ) বাক্ যাবতী (যৎপরিমাণা), পৃথিবী[অপি] তাবতী এব, অয়ং অগ্নিশ্চ তাবান্।[দ্বিরূপা হি প্রজাপতেঃ বাক্—কার্য্যং করণঞ্চ; তত্র কার্য্যং আধারঃ অপ্রকাশাত্মকঃ, করণঞ্চ আশ্রিতং প্রকাশাত্মকঞ্চেতি ভাবঃ] ॥ ৬৫ ॥ ১১ ॥

মুলাসুবাদ।—পূর্ব্বোক্ত বাকের আশ্রয়ভূত শরীর হইতেছে পৃথিবী, আর জ্যোতির্ম্ময় করণস্বরূপ শরীর হইতেছে—এই অগ্নি; অত- এব বাক্ যে পরিমাণ, পৃথিবীও সেই পরিমাণ, এবং অগ্নিও তত্তুল্য- পরিমাণ ॥ ৬৫ ॥ ১১ ॥

শাঙ্কর-ভাষ্যম্।—তস্যৈতস্যা বাচঃ প্রজাপতেরন্নত্বেন প্রস্তুতায়াঃ পৃথিবী শরীরং বাহ্য আধারঃ, জ্যোতীরূপং প্রকাশাত্মকং করণং পৃথিব্যা আধেয়- ভূতম্ অরং পাথিবোহগ্নিঃ। দ্বিরূপা হি প্রজাপতের্ব্বাক্ কার্য্যমাধারোহপ্রকাশঃ, করণঞ্চাধেরং প্রকাশঃ, তদুভয়ং পৃথিব্যগ্নী বাগেব প্রজাপতেঃ। তৎ তত্র যাবৎ পরিমাণৈবাধ্যাত্মাধিভূতভেদভিরা সতী বাগ্‌ভবতি, তত্র সর্ব্বত্রাধারত্বেন পৃথিবী ব্যবস্থিতা তাবত্যেব ভবতি কাৰ্য্যভূতা; তাবানয়মগ্নিরাধেরঃ করণরূপঃ—জ্যোতী- রূপেণ পৃথিবীমনুপ্রবিষ্টঃ তাবানেব ভবতি; সমানমুত্তরম্ ॥ ৬৫ ॥ ১১ ॥

টীকা। বৃত্তমনুভ তস্যৈ বাচঃ পৃথিবীত্যাদ্যবতারয়তি-ব্যাখ্যাত ইতি। আধিদৈবিকার্থস্ত- দ্বিভূতিপ্রদর্শনার্থ ইতি যাবৎ। সমনন্তরসন্দর্ভস্ত তাৎপর্য্যমুক্ত। বাক্যাক্ষরাণি যোজয়তি-তস্যা ইতি। কথমাধারাধেয়ভাবো বাচো নির্দিষ্টতে, তত্রাহ-বিরূপা হীতি। উত্তমর্থং সংক্ষিপা নিগময়তি-তদুভয়মিতি। অধ্যাত্মমধিভূতং চ বা বাক্যপরিচ্ছিয়া, তস্যাঙ্গুল্যপরিমাণত্বমাধি-

প্রথমোহধ্যায়ঃ—পঞ্চমং ব্রাহ্মণম্।

৩৯৯

দৈবিকবাগংশত্বাদংশিনাশ্চ তাদাত্ম্যাত্তয়া সহ দর্শয়তি-তত্তত্রেতি। তাবানয়মগ্নিরিতি প্রতীকমাদায় ব্যাকবোত্তি-আধের ইতি। সমানমুত্তরমিত্যস্যায়মর্থোহধ্যাত্মমধিভূতং চ মনঃ- প্রাণয়োরাধিদৈবিকমনঃপ্রাণাংশত্বাত্তাদাত্ম্যাভিপ্রায়েণ তুল্যপবিমাণত্বমুচ্যতে। তথা চ বাচা সমানং প্রাণাদাবুত্তরবাক্যে কথ্যমানং সমানপরিমাণত্বমিতি। ৬৫ ॥ ১১ ॥

ভাষ্যানুবাদ।—সেই প্রজাপতির অন্নরূপে যাহার বর্ণনা করা হইল, এই পৃথিবী হইতেছে সেই বাকের শরীর—বাহিরের আশ্রয়; আর জ্যোতীরূপে অর্থাৎ পৃথিবীতে আশ্রিত প্রকাশাত্মক করণস্বরূপ হইতেছে—এই পার্থিব অগ্নি। প্রজা- পতির বাক্ সাধারণতঃ দুইপ্রকার—একটা কার্য্যস্বরূপ, অপরটি করণস্বরূপ; তন্মধ্যে কার্য্যরূপটি হইতেছে আধার বা আশ্রয় এবং অপ্রকাত্মক, আর করণ- রূপটি হইতেছে আধেয় বা আশ্রিত এবং প্রকাশাত্মক, সেই পৃথিবী ও অগ্নি উভয়ই প্রজাপতির বাক্ ভিন্ন আর কিছু নহে। তাহাতেও আবার, বাক্ অধ্যাত্ম ও অধিভূতভাবভেদে বিভিন্নাকার প্রাপ্ত হইয়া যে পরিমাণ হয়, সেই সকল স্থানে আধাররূপে অবস্থিত কার্য্যরূপা পৃথিবীও সেই পরিমাণই বটে; এবং আধেয় অর্থাৎ জ্যোতিঃস্বরূপে পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট এই অগ্নিও সেই পরিমাণই বটে। অন্যান্য অংশের অর্থ পূর্ব্বের মত ॥ ৬৫ ॥ ১১ ॥

অথৈতস্য মনসো দ্যৌঃ শরীরং জ্যোতীরূপমসাবাদিত্যস্তদ্যাব- দেব মনস্তাবতী দ্যোস্তাবানসাবাদিত্যস্তৌ মিথুনং সমৈতাং ততঃ প্রাণোহজায়ত, স ইন্দ্রঃ স এযোহসপত্নো দ্বিতীয়ো বৈ সপত্নো নাস্য সপত্নো ভবতি য এবং বেদ ॥ ৬৬ ॥ ১২ ॥

সরলার্থঃ।—অথ এতস্য(প্রজাপতেরন্নত্বেন কল্পিতস্য) মনসঃ দ্যৌঃ (দ্যুলোকঃ) শরীরং(কার্য্যভূতম্); অসৌ আদিত্যঃ জ্যোতীরূপং(প্রকাশা- ত্মকং করণভূতম্)। তৎ(তস্মাৎ হেতোঃ) যাবৎ(যৎপরিমাণঃ) এব মনঃ, দ্যৌঃ (দ্যুলোকঃ)[অপি] তাবতী(তাদৃশপরিমাণবিশিষ্টা এব); অসৌ আদি- ত্যশ্চ তাবান্(তাদৃশপরিমাণঃ); তৌ(দিবাদিত্যৌ) মিথুনং(পরস্পরসম্বন্ধং) সমৈতাং(প্রাপ্তবন্তৌ); ততঃ(তাভ্যাং মাতাপিতৃরূপাভ্যাং দিবাদিত্যাভ্যাং) প্রাণঃ অজায়ত(উৎপন্নঃ); সঃ(প্রাণঃ) ইন্দ্রঃ(প্রধানঃ); সঃ এষঃ অসপত্নঃ (শত্রুরহিতঃ অদ্বিতীয় ইতি যাবৎ); বৈ(যতঃ) দ্বিতীয়ঃ সপত্নঃ(প্রতিপক্ষঃ) [ভবতি]; যঃ এবং বেদ(জানাতি—উপান্তে), অন্য(বিদুষঃ) সপত্নঃ(শত্রুঃ) ন হ নৈব ভবতি॥ ৬৬॥ ১২॥

b 3471 ad

*